পরিচ্ছেদঃ ১. আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন
২৭৪৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দীনের জ্ঞান দান করেন।”[1]
وَمِنْ كِتَابِ الرِّقَاقِ بَاب مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ يُرِدْ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩০৬; তিরমিযী, ইলম ২৬৪৭; তাবারাণী, কাবীর ১১/৩৯২ নং ১০৭৮৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৩২; তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ’। এটি গত হয়েছে ২৩১ নং তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৮১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৯ তে। এটি গত হয়েছে ২৩০ নং এ্।
এর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. সুস্থতা ও অবসর সম্পর্কে
২৭৪৫. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এমন দু’টি নিয়ামত আছে, যে দু’টোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর।”[1]
باب فِي الصِّحَّةِ وَالْفَرَاغِ
أَخْبَرَنَا الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَاهُ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الصِّحَّةَ وَالْفَرَاغَ نِعْمَتَانِ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنْ النَّاسِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৫৮, ৩৪৪; খতীব, আলমুত্তাফাকু ওয়াল মুফতারিক্বু ২/৮৭; বুখারী, রিক্কাক্ব ৬৪১২; হাকিম ৪/৩০৬; ইবনু আবী শাইবা ১৩/২৪৩ নং ১৬২০৪; আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক, যুহদ ১; তিরমিযী, যুহদ ২৩০৫; বাইহাকী, জানাইয ৩/৩৭০; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৮/১৭৪; ইবনু মাজাহ, আদাব ৪১৭০; তাবারাণী, কাবীর ১০/৩৯২ নং ১০৭৮৭; ইবনু আদী, আল কামিল ৬/২০৭১, ২২৪৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩. শ্রবণেন্দ্রিয়কে সংরক্ষণ করা
২৭৪৬. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, যে লোক কোন এক দলের কথার দিকে কান লাগাল। অথচ তারা এটা পছন্দ করে না, কিয়ামতের দিন তার উভয় কানে সীসা ঢেলে দেয়া হবে।”[1]
باب فِي حِفْظِ السَّمْعِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْآنُكُ
তাখরীজ: বুখারী, তা’বীর ৭০৪২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৮৫, ৫৬৮৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৪১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. শ্রবণেন্দ্রিয়কে সংরক্ষণ করা
২৭৪৭. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেন, “তোমার প্রথম দৃষ্টিপাতকে (বেগানা স্ত্রীলোকের প্রতি) তোমার দ্বিতীয় দৃষ্টি (যা ইচ্ছাকৃত) যেন অনুসরণ না করে। কেননা, প্রথমবার দৃষ্টিপাত তোমার জন্য (জায়িয),আর দ্বিতীয়বার (ইচ্ছাকৃতভাবে) দৃষ্টিপাত করা তোমার বিপক্ষে (যা বৈধ নয়)।”[1]
باب فِي حِفْظِ السَّمْعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ عَلِيٍّ قَالَ لِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُتْبِعْ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ فَإِنَّ الْأُولَى لَكَ وَالْآخِرَةَ عَلَيْكَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৭০ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৪/৩২৬। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১১/২৫; তারগীব ওয়াত তারহীব ৩/৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ৪. জিহ্বাকে সংযত রাখা সম্পর্কে
২৭৪৮. সুফইয়ান ইবনু আবদুল্লাহ ছাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন একটি বিষয়ের কথা আমাকে বলুন যা আপনার পরে আর কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না।
তিনি বললেনঃ “তুমি আল্লাহকে ভয় করো, তারপর এতে দৃঢ় হয়ে থেকো।”
আমি বললাম, এরপর কোন কাজটি? তিনি তার জিহ্বার দিকে ইশারা করলেন।[1]
باب فِي حِفْظِ اللِّسَانِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ فِي الْإِسْلَامِ لَا أَسْأَلُ عَنْهُ أَحَدًا قَالَ اتَّقِ اللَّهَ ثُمَّ اسْتَقِمْ قَالَ قُلْتُ ثُمَّ أَيُّ شَيْءٍ قَالَ فَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৯৮ ও ৫৬৯৯, ৫৭০০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নরং ২৫৪৩, ২৫৪৪, ২৫৪৫ তে।
এটি রয়েছে মুসলিম, ঈমান ৩৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯৪২ তে। আর দেখুন, ফাতহুল বারী ১১/৩০৯।
সংযোজনী: ইবনু আবীদ দুনিয়া, কিতাবুস ছামতু ১।
পরিচ্ছেদঃ ৪. জিহ্বাকে সংযত রাখা সম্পর্কে
২৭৪৯. (অপর সনদে) সুফইয়ান ইবন আবদুল্লাহ ছাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এমন একটি বিষয়ের কথা আমাকে বলুন যা আমি দৃঢ়ভাবে ধারণ করতে পারি।
তিনি বললেনঃ “তুমি বল, আমার রব হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ, তারপর এতে দৃঢ় হয়ে থেকো।”
রাবী বলেন আমি বললামঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ, আমার ব্যাপারে সবচে বেশী কোন্ বিষয়টির আপনি আশংকা করেন? তিনি বলেন, এরপর আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বা ধরলেন এরপর বললেনঃ “এটির।”[1]
باب فِي حِفْظِ اللِّسَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ يَعْنِي ابْنَ إِسْمَعِيلَ بْنِ مُجَمِّعٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِأَمْرٍ أَعْتَصِمُ بِهِ قَالَ قُلْ رَبِّيَ اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقِمْ قَالَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ مَا أَكْثَرُ مَا تَخَوَّفُ عَلَيَّ قَالَ فَأَخَذَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلِسَانِهِ ثُمَّ قَالَ هَذَا
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪. জিহ্বাকে সংযত রাখা সম্পর্কে
২৭৫০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ ইসলাম সর্বোত্তম? তিনি বললেন, “যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।”[1]
باب فِي حِفْظِ اللِّسَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْإِسْلَامِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ৪১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২৭৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৭ তে। এটি বিগত ২৪৩৭ এর অংশ।
পরিচ্ছেদঃ ৫. মৌনতা অবলম্বন করা বা চুপ থাকা প্রসঙ্গে
২৭৫১. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি চুপ থাকলো, সে মুক্তি পেলো।”[1]
باب فِي الصَّمْتِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُقْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَمَتَ نَجَا
তাখরীজ: আহমাদ ২/১৫৯, ১৭৭; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৫০৩; কুদায়ী, মুসনাদুশ শিহাব নং ৩৩৪; ইবনু আবীদ দুনিয়া, কিতাবুস ছামতু ১০; আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক, যুহদ ৩৮৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪১২৯; ইবনু হাজার ফাতহ ১১/৩০৯ এ বলেন, এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন আর এর রাবীগণ বিশ্বস্ত।’
সাখাবী মাকাসিদুল হাসানাহ নং ১১৪১ তে বলেন, ‘এর অনেকগুলি শাহিদ রয়েছে, যার মধ্যে একটি রয়েছে তাবারাণীতে জাইয়্যেদ সনদে।’
ইরাকী বলেন, এটি রয়েছে তাবারাণীতে জাইয়্যেদ সনদে।’
দরবেশ হুত তার আসনাল মাতালিব নং ১৪২৮ তে বলেন, এতে ইবনু লাহিয়াহ রয়েছে সে যয়ীফ। তবে তাবারাণীতে রয়েছে জাইয়্যেদ সনদে, ফলে এটি হাসান হবে।’
তবে আমাদের বক্তব্য হলো: তাবারাণী, আওসাত নং ১৯৫৪ তে ইবনু লাহিয়াহ সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন । আর ইবনু লাহিয়াহ’র মুতাবিয়াত বা অনুসরণকারী বর্ণনা করেছেন আমর ইবনুল হারিছ, এর সনদ যদি ঠিক থাকে , তবে এটি জাইয়্যেদ হয়। তাবারাণী’কে অভিযুক্ত করেছেন ইবনুল জাওযী; এবং এর সনদের অজ্ঞাত পরিচয় (জাহালাত) এর কথা বলেছেন যাহাবী।
আমরা বলি: এর অনেক শাহিদ রয়েছে যা একে শক্তিশালী করে। দেখুন, ইবনু আবীদ দুনিয়া, কিতাবুস ছামতু; মুনযিরী, তারগীব ৩/৫৩৬; ফাতহুল বারী ৭/১৫১।
পরিচ্ছেদঃ ৬. গীবত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
২৭৫২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলা হলো, গীবত কি? তিনি বললেন: “তোমার ভাইয়ের প্রসঙ্গে তোমার এমন ধরনের কথা-বার্তা বলা, যা সে অপছন্দ করে।” প্রশ্নকারী বলল, আমি যে কথাগুলো বলি, তা প্রকৃতপক্ষেই তার মধ্যে নিহিত থাকলে (সেটাও কি গীবত)? তিনি বললেন: “(তুমি যে কথাগুলো বল), তা প্রকৃতই তার মধ্যে নিহিত থাকলে তবেই তো তুমি তার গীবত করলে। (তুমি যা বল), যদি সেগুলো তার মধ্যে না থাকে তাহলে তো তুমি তাকে মিথ্যা অপবাদ দিলে।”[1]
باب فِي الْغِيبَةِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قِيلَ لَهُ مَا الْغِيبَةُ قَالَ ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ قِيلَ وَإِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ فَإِنْ كَانَ فِيهِ فَقَدْ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৮৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৯৩, ৬৫২৮, ৬৫৩২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৮, ৫৭৫৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. মিথ্যা সম্পর্কে
২৭৫৩. আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “সবচেয়ে নিকৃষ্ট বর্ণনাকারী হলো মিথ্যা বর্ণনাকারী। অন্তর থেকে (তথা প্রকৃত) হোক কিংবা হাসি-ঠাট্টা-রসিকতা করেই হোক, মিথ্যা বলা ঠিক নয়। এমনকি কোনো লোক যেন নিজ সন্তানের সাথেও এমন ওয়াদা না করে, যা সে পূরণ করবে না। নিশ্চয় সত্যবাদীতা (মানুষকে) পুণ্যের পথে চালিত করে এবং পুণ্য জান্নাতের দিকে চালিত করে। পক্ষান্তরে মিথ্যাচার (মানুষকে) পাপাচারের দিকে চালিত করে এবং পাপাচার জাহান্নামের দিকে চালিত করে। আর সত্যবাদী ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়, সে সত্য বলেছে ও পুণ্যের কাজ করেছে।
বিপরীতে মিথ্যবাদী সম্পর্কে বলা হয়, সে মিথ্যা বলেছে ও পাপাচার করেছে। কোন ব্যক্তি সত্য কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর নিকট ’সিদ্দীক’ বা সত্যবাদী হিসাবে লিপিবদ্ধ হয়ে যায়। অপর দিকে কোন ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর নিকট ’কাযযাব’ বা মিথ্যাবাদী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়।”তিনি আমাদেরকে বলেন: “আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব না, ’আযহ’ বা চোগলখুরী কী? তা হচ্ছে কুৎসা রটনা করা, যা মানুষের মাঝে বৈরিতার সৃষ্টি করে।”[1]
باب فِي الْكَذِبِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ إِدْرِيسَ الْأَوْدِيِّ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ يَرْفَعُ الْحَدِيثَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ شَرَّ الرَّوَايَا رَوَايَا الْكَذِبِ وَلَا يَصْلُحُ مِنْ الْكَذِبِ جِدٌّ وَلَا هَزْلٌ وَلَا يَعِدُ الرَّجُلُ ابْنَهُ ثُمَّ لَا يُنْجِزُ لَهُ إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى الْبِرِّ وَإِنَّ الْبِرَّ يَهْدِي إِلَى الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْكَذِبَ يَهْدِي إِلَى الْفُجُورِ وَإِنَّ الْفُجُورَ يَهْدِي إِلَى النَّارِ وَإِنَّهُ يُقَالُ لِلصَّادِقِ صَدَقَ وَبَرَّ وَيُقَالُ لِلْكَاذِبِ كَذَبَ وَفَجَرَ وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ صِدِّيقًا وَيَكْذِبُ حَتَّى يُكْتَبَ عِنْدَ اللَّهِ كَذَّابًا وَإِنَّهُ قَالَ لَنَا هَلْ أُنَبِّئُكُمْ مَا الْعَضْهُ وَإِنَّ الْعَضْهَ هِيَ النَّمِيمَةُ الَّتِي تُفْسِدُ بَيْنَ النَّاسِ
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৮৫ তে।
তাখরীজ: হাকিম ৪/৩০৬; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দামা ৪৬।
আর ‘সত্যবাদীতা ও মিথ্যাবাদীতা সম্পর্কে এবং ‘সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদীর পরিণতি সম্পর্কে বুখারী ও মুসলিমে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৩, ২৭৪ তে মারফু’ হিসেবে।
আবার ‘আযহ’ বা চোগলখুরী’র অংশটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ ১/৪৩৭ ও মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৬০৬ তে মারফু’ হিসেবে।
হাকিম বলেন, এ হাদীসের সনদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।…’ আর যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।
আমাদের বক্তব্য: এর সনদ মারফু’ হিসেবে সহীহ, আর তা শাইখাইন বা বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।… আল্লাহ ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮. হাতকে হেফাজত করা সম্পর্কে
২৭৫৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু ’আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুসলিম হলো ঐ ব্যক্তি যার জবান ও হাত থেকে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।”[1]
باب فِي حِفْظِ الْيَدِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ الشَّعْبِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১০; মুসলিম, ঈমান ৪০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৯৬, ২৩০, ৩৯৯, ৪০০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬০৬, ৬০৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. হালাল-পবিত্র খাদ্য খাওয়া সম্পর্কে
২৭৫৫. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে লোক সকল! নিশ্চয় আল্লাহ্ পবিত্র আর পবিত্র জিনিস ছাড়া তিনি কিছু গ্রহণ করেন না। আল্লাহ্ তা’আলা তার রাসূলগণকে যে বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন মু’মিনদেরও সে বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন:
অর্থ: ’’হে রাসূলগণ, তোমরা পবিত্র বস্ত্তু থেকে আহার করো এবং সৎকর্ম করো। তোমরা যা করো সেসম্বন্ধে আমি সবিশেষ অবহিত।” (মু’মিনূন ২৩: ৫১)।
তিনি আরও বলেন,
“হে মু’মিনগণ, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি তা থেকে আহার কর, আর আল্লাহরই শোকর করো, যদি তোমরা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করে থাকো।” (বাক্বারাহ ২:১৭২)
তিনি (আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তিনি এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, দীর্ঘ সফরে তার অবস্থা এলোমেলো চুল, ধূলি মলিন অবস্থায় আসমানের দিকে হাত উঠিয়ে (বলে): ’হে রব!, হে রব!’ কিন্তু খাদ্য তার হারাম, পোষাক-পরিচ্ছদ তার হারাম, পানীয় তার হারাম। আর তার লালিত-পালিত হয়েছে হারাম (মাল) দিয়ে। সুতরাং কেমন করে তার (দু’আ) কবূল করা হবে?”[1]
باب فِي أَكْلِ الطَّيِّبِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ لَا يَقْبَلُ إِلَّا الطَّيِّبَ إِنَّ اللَّهَ أَمَرَ الْمُؤْمِنِينَ بِمَا أَمَرَ بِهِ الْمُرْسَلِينَ قَالَ يَا أَيُّهَا الرُّسُلُ كُلُوا مِنْ الطَّيِّبَاتِ وَاعْمَلُوا صَالِحًا إِنِّي بِمَا تَعْمَلُونَ عَلِيمٌ وَقَالَ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُلُوا مِنْ طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ قَالَ ثُمَّ ذَكَرَ الرَّجُلَ يُطِيلُ السَّفَرَ أَشْعَثَ أَغْبَرَ يَمُدُّ يَدَيْهِ إِلَى السَّمَاءِ يَا رَبِّ يَا رَبِّ وَمَطْعَمُهُ حَرَامٌ وَمَلْبَسُهُ حَرَامٌ وَمَشْرَبُهُ حَرَامٌ وَغُذِّيَ بِالْحَرَامِ فَأَنَّى يُسْتَجَابُ لِذَلِكَ
তাখরীজ: তিরমিযী, তাফসীর ২৯৯২; আহমাদ ২/৩২৮; মুসলিম, যাকাত ১০১৫; বাইহাকী, সালাতুল ইসতিস্কা ৩/৩৪৬; আব্দুর রাযযাক, নং ৮৮৩৯; ইবনু আদী, আল কামিল ১/২৬৪। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৯/৫১৮; তালখীসুল হাবীর ২/৯৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০. দুনিয়ার যে সকল বস্তু থাকা কারো জন্য যথেষ্ট
২৭৫৬. বুরাইদাহ আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একজন খাদেম এবং একটি বাহনই দুনিয়াতে (সম্পদের ক্ষেত্রে) তোমাদের কারো জন্য যথেষ্ট।”[1]
باب مَا يَكْفِي مِنْ الدُّنْيَا
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوَلَةَ عَنْ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَكْفِي أَحَدَكُمْ مِنْ الدُّنْيَا خَادِمٌ وَمَرْكَبٌ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩৬০; ইবনু আবী শাইবা ১৩/২৪৫; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২০৬।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হাশিম ইবনু উতবাহ হতে, আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৭৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে ইবনু সা’দ ৮/৫২-৫৩; তিরমিযী, লিবাস ১৭৮১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ; এ সনদের সালিহ ইবনুল হাসান মাতরুকুল হাদীন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে খাব্বাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. নেককার ব্যক্তিদের মৃত্যুবরণ করা
২৭৫৭. মিরদাস আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “পূর্ববর্তী নেককার ব্যক্তিরা একে একে চলে যাবেন। আর যবের খোসা (সদৃশ লোকেরা) অবশিষ্ট থাকবে।”[1]
باب فِي ذَهَابِ الصَّالِحِينَ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ بَيَانٍ هُوَ ابْنُ بِشْرٍ الْأَحْمَسِيُّ عَنْ قَيْسٍ عَنْ مِرْدَاسٍ الْأَسْلَمِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْهَبُ الصَّالِحُونَ أَسْلَافًا وَيَبْقَى حُثَالَةٌ كَحُثَالَةِ الشَّعِيرِ
তাখরীজ: বুখারী, রিক্কাক্ব ৬৪৩৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৮৫২ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, হাকিম ৪/৪০১; বুখারী, কাবীর ৭/৪৩৪; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ১২. সিয়ামের হেফাজত করা সম্পর্কে
২৭৫৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কত রোযাদার আছে যাদের রোযার বিনিময়ে ক্ষুধা-পিপাসা ছাড়া আর কিছুই জোটে না। কত (তাহাজ্জুদ) সালাত আদায়কারী আছে যাদের রাত্রি জাগরণ ছাড়া আর কিছুই জোটে না।”[1]
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى الصَّوْمِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَمْ مِنْ صَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ صِيَامِهِ إِلَّا الظَّمَأُ وَكَمْ مِنْ قَائِمٍ لَيْسَ لَهُ مِنْ قِيَامِهِ إِلَّا السَّهَرُ
তাখরীজ: আামরা এর তাখরীজ দিয়েছি আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৫১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৫৪ তে। ((ইবনু মাজাহ, সাওম ১৬৯০; আহমাদ ২/৩৭৩; ইবনু খুযাইমা ১৯৯৭; হাকিম, ১/৪৩১; তিনি একে বুখারী শর্তানুযায়ী বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।– ফাতহুল মান্নান হা/২৮৮৫ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৩. সালাতের হেফাজত করা সম্পর্কে
২৭৫৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন সালাতের কথা উল্লেখ করে বলেন: “যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে, কিয়ামত দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম হতে মুক্তি (এর উপায়) হবে। আর যে ব্যক্তি তা (সালাত) হেফাজত করবে না, কিয়ামত দিবসে তা তার জন্য নূর, দলীল-প্রমাণ ও জাহান্নাম হতে মুক্তি (এর উপায়) হবে না। আর এ ব্যক্তি কিয়ামত দিবসে ক্বারুন, ফিরআউন ও হামান ও উবাই ইবনু খালফ-এর সাথে থাকবে।”[1]
باب فِي الْمُحَافَظَةِ عَلَى الصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي كَعْبُ بْنُ عَلْقَمَةَ عَنْ عِيسَى بْنِ هِلَالٍ الصَّدَفِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ ذَكَرَ الصَّلَاةَ يَوْمًا فَقَالَ مَنْ حَافَظَ عَلَيْهَا كَانَتْ لَهُ نُورًا وَبُرْهَانًا وَنَجَاةً مِنْ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ لَمْ يُحَافِظْ عَلَيْهَا لَمْ تَكُنْ لَهُ نُورًا وَلَا نَجَاةً وَلَا بُرْهَانًا وَكَانَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَعَ قَارُونَ وَفِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَأُبَيِّ بْنِ خَلَفٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৬৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫৪ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ১৬৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কিয়ামুল্লাইল সম্পর্কে
২৭৬০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিয়ামুল লাইল (রাতের সালাত)-এর ব্যাপারে উৎসাহিত করতেন। এমনকি তিনি বলতেন: “এক রাকাত হলেও (আদায় করো)।”[1]
باب فِي قِيَامِ اللَّيْلِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ عَجْلَانَ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَرْغَبُ فِي قِيَامِ اللَّيْلِ حَتَّى قَالَ وَلَوْ رَكْعَةً
তাখরীজ: আামরা এর তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদসমূহ উল্লেখ করেছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৫৬৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা সম্পর্কে
২৭৬১. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার পরিবারের উপর জিহ্বা ছিল খুবই ধারালো (তথা তাদেরকে খুব বকা-ঝকা করতাম)। তবে সেটি তাদেরকে অতিক্রম করে অন্যদের পর্যন্ত যেত না। এরপর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি বললেন: “তুমি তোমার ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা থেকে কোথায় আছ? আমি দৈনিক একশতবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি।”[1]
আবূ ইসহাক বলেন, আমি আবী মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দু’ছেলে আবূ বুরদাহ ও আবূ বকরের নিকট বর্ণনা এ হাদীস করলাম, তখন তারা বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি দৈনিক একশতবার আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তাওবা করি।”[2]
باب فِي الِاسْتِغْفَارِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عَمْرٍو أَبِي الْمُغِيرَةِ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ كَانَ فِي لِسَانِي ذَرَبٌ عَلَى أَهْلِي وَلَمْ يَكُنْ يَعْدُهُمْ إِلَى غَيْرِهِمْ فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيْنَ أَنْتَ عَنْ الِاسْتِغْفَارِ إِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ قَالَ أَبُو إِسْحَقَ فَحَدَّثْتُ أَبَا بُرْدَةَ وَأَبَا بَكْرٍ ابْنَيْ أَبِي مُوسَى قَالَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/৪৬৩ নং ১৬৯২৬; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৭৬; ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইলাহ নং ৩৬২; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ ১/২৫১ নং ১২৩৯।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৬ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৩৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯২৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৫৭ তে।
[2] তাহক্বীক্ব: এ মুরসাল হাদীসটির সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
তাখরীজ: আর এটি মাওসুল ও মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ৪/৪১০; নাসাঈ, আমলুল ইয়ামু ওয়াল লাইলাহ নং ৪৪০; তাহাবী, শারহু মাআনিল আছার ৪/২৮৯ তে। আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. আল্লাহর ভয় (তাক্বওয়া) সম্পর্কে
২৭৬২. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াত পাঠ করলেন (أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ) (অনুবাদ): ’’একমাত্র তিনিই ভয়ের যোগ্য এবং তিনিই ক্ষমা করার অধিকারী’’ (সূরা মুদ্দাসসিরঃ ৫৬), অতঃপর বলেনঃ তোমাদের রব বলেছেন, ’আমিই উপযুক্ত যে, কেবল আমাকেই ভয় করতে হবে। অতএব যে আমাকে ভয় করবে, তবে আমি তাকে ক্ষমা করার যোগ্য।”[1]
باب فِي تَقْوَى اللَّهِ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ سَلْمِ بْنِ قُتَيْبَةَ عَنْ سُهَيْلٍ الْقُطَعِيِّ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَرَأَ أَهْلُ التَّقْوَى وَأَهْلُ الْمَغْفِرَةِ قَالَ قَالَ رَبُّكُمْ أَنَا أَهْلٌ أَنْ أُتَّقَى فَمَنْ اتَّقَانِي فَأَنَا أَهْلٌ أَنْ أَغْفِرَ لَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. আল্লাহর ভয় (তাক্বওয়া) সম্পর্কে
২৭৬৩. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি এমন একটি বাক্য বা আয়াত জানি, সকলেই যদি তা গ্রহণ করতো তবে অবশ্যই তা-ই তাদের জন্য যথেষ্ট হতো। (তা হলো:) (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجاً) (অনুবাদ): ’’যে কেউ আল্লাহকে ভয় করলে তিনি তার জন্য নিস্কৃতির পথ করে দেন।’’[1] (সূরা তালাকঃ ২)।
باب فِي تَقْوَى اللَّهِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ عَنْ كَهْمَسِ بْنِ الْحَسَنِ عَنْ أَبِي السَّلِيلِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَأَعْلَمُ آيَةً لَوْ أَخَذَ بِهَا النَّاسُ لَكَفَتْهُمْ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৬৮, ৬৬৬৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৪৭, ১৫৪৮ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আহমাদ, যুহদ পৃ: ১৪৬; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/৪১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. অবজ্ঞা বা তুচ্ছজ্ঞান করা সম্পর্কে
২৭৬৪. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “হে আয়েশা! কোনো পাপকে ছোট মনে করা থেকে সাবধান হও। কারণ তার জন্যও আল্লাহর নিকট জবাবদিহি করতে হবে।”[1]
باب فِي الْمُحَقَّرَاتِ
أَخْبَرَنَا مَنْصُورُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ مُسْلِمِ بْنِ بَانَكَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ عَوْفِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا عَائِشُ إِيَّاكِ وَمُحَقَّرَاتِ الذُّنُوبِ فَإِنَّ لَهَا مِنْ اللَّهِ طَالِبًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৯৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আহমাদ, যুহদ পৃ: ১৪।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. তাওবা সম্পর্কে
২৭৬৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক আদম সন্তানই পাপী। আর গুনাহগারদের মধ্যে তওবাকারীগণ উত্তম।”[1]
باب فِي التَّوْبَةِ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَسْعَدَةَ الْبَاهِلِيُّ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ بَنِي آدَمَ خَطَّاءٌ وَخَيْرُ الْخَطَّائِينَ التَّوَّابُونَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯২২ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/১৮৭ নং ১৬০৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. বান্দার তাওবায় মহান আল্লাহ সর্বাধিক খুশী হন
২৭৬৬. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো এক লোক কোনো এক বিজন মরুভূমিতে সফর করলো; অত:পর সে (ক্লান্ত হয়ে) সেখানে একটি গাছের নীচে ঘুমিয়ে পড়লো। তার সাথে ছিল তার সাওয়ারী, তার সাওয়ারিটি তার থেকে হারিয়ে গেল। আর তার উপর ছিল তার খাদ্য ও মালপত্র। এরপর সে ঘুম থেকে জেগে উঠে দেখলো যে, তার সাওয়ারীটি হারিয়ে গেছে। এরপর (তার খোঁজে) সে একটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলো না। সে পুনরায় একটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলোনা। সে আরেকটি উঁচুস্থানে আরোহন করলো, কিন্তু (এবারও) সে কিছুই দেখতে পেলো না। তিনি বলেন, এমতাবস্হায় সে হঠাৎ পিছনে ফিরেই (দেখতে পেলো) সাওয়ারীটি লাগাম টানতে টানতে আসছে। ঐ ব্যক্তি তা পেয়ে যে পরিমাণ আনন্দিত হয়, বান্দা যখন আল্লাহর নিকট তাওবা করে তখন তিনি তার থেকেও অধিক খুশী হন।”[1]
باب لَلَّهُ أَفْرَحُ بِتَوْبَةِ الْعَبْدِ
أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ النُّعْمَانِ هُوَ ابْنُ بَشِيرٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَافَرَ رَجُلٌ فِي أَرْضٍ تَنُوفَةٍ فَقَالَ تَحْتَ شَجَرَةٍ وَمَعَهُ رَاحِلَتُهُ عَلَيْهَا زَادُهُ وَطَعَامُهُ فَاسْتَيْقَظَ وَقَدْ ذَهَبَتْ رَاحِلَتُهُ فَعَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ عَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا ثُمَّ عَلَا شَرَفًا فَلَمْ يَرَ شَيْئًا قَالَ فَالْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِهَا تَجُرُّ خِطَامَهَا فَمَا هُوَ بِأَشَدَّ فَرَحًا بِهَا مِنْ اللَّهِ بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ إِذَا تَابَ إِلَيْهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/২৭৩; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৪৫।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬২১ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১০০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৮ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে বারা’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭০৪ ও খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩০২ তে।
এর পঞ্চম শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. আশা-আকাঙ্ক্ষা ও মৃত্যু সম্পর্কে
২৭৬৭. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বর্গাকৃতির চতুর্ভুজ আঁকলেন, এর মধ্যভাগে একটি সরল রেখা টানলেন, অতঃপর (চতুর্ভুজের মধ্যবর্তী) এ রেখার চতুর্দিকে অনেকগুলো ক্ষুদ্র রেখা টানলেন, অতঃপর চতুর্ভুজের বাইরে একটি সরল রেখা টানলেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ “এই মধ্যবর্তী রেখাটি হলো মানুষ। এই (বর্গক্ষেত্র) টি হলো তার জীবনকালের সীমা, যা তাকে বেষ্টন করে রেখেছে। আর ঐ (সরল রেখার) পার্শ্ববর্তী রেখাগুলো হলো বিপদাপদ। সে একটি বিপদ থেকে মুক্তি পেলে আরেকটি বিপদ তাকে দংশন করে। আর (বর্গক্ষেত্র ভেদ করে) বাইরে আসা রেখাটি হলো তার কামনা-বাসনা।[1]
باب فِي الْأَمَلِ وَالْأَجَلِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي يَعْلَى عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ خَطَّ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطًّا مُرَبَّعًا ثُمَّ خَطَّ وَسَطَهُ خَطًّا ثُمَّ خَطَّ حَوْلَهُ خُطُوطًا وَخَطَّ خَطًّا خَارِجًا مِنْ الْخَطِّ فَقَالَ هَذَا الْإِنْسَانُ لِلْخَطِّ الْأَوْسَطِ وَهَذَا الْأَجَلُ مُحِيطٌ بِهِ وَهَذِهِ الْأَعْرَاضُ لِلْخُطُوطِ فَإِذَا أَخْطَأَهُ وَاحِدٌ نَهَشَهُ الْآخَرُ وَهَذَا الْأَمَلُ لِلْخَطِّ الْخَارِجِ
তাখরীজ: আহমাদ ১৩/৩৮৫; বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৪১৭; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৩১; রমহারমুযী, আমছালুল হাদীস নং ৭২ তে।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৪৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. যে জিনিস যেন দু’টি ক্ষুধার্ত নেকড়ে
২৭৬৮. ইবন কা’ব ইবন মালিক আনসারী তার পিতা কা’ব ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ“দুটো ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘকে বকরীর পালে ছেড়ে দিলেও তারা এতটুকু ক্ষতি করতে পারে না, কোনো ব্যক্তির অর্থ ও মর্যাদা-সম্মান-আভিজাত্যের মোহ তার দীনের যতটুকু ক্ষতি করতে পারে।”[1]
باب مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ زَكَرِيَّا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ عَنْ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا ذِئْبَانِ جَائِعَانِ أُرْسِلَا فِي غَنَمٍ بِأَفْسَدَ لَهَا مِنْ حِرْصِ الْمَرْءِ عَلَى الْمَالِ وَالشَّرَفِ لِدِينِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২২৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৭২ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা উল্লেখ করেছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৭২ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৯/৯৬ নং ১৮৯।
ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে হিলইয়া ৭/৬৯ ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৬৫।
আবার জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস রয়েছে, আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারিল আসবাহান ও বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৬৮, ১০২৬৯ তে।
আবার আসিম ইবনু আদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস রয়েছে বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১০২৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. আল্লাহর প্রতি সু-ধারণা পোষণ
২৭৬৯. ওয়সিলা ইবনুল আসক্বা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তাবারক ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ ’আমার প্রতি আমার বান্দার ধারণা অনুযায়ী আমি তার সঙ্গে থাকি। সুতরাং সে আমার সম্পর্কে যেমন ইচ্ছা ধারণা রাখুক।”[1]
باب فِي حُسْنِ الظَّنِّ بِاللَّهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ الْغَازِ عَنْ حَيَّانَ أَبِي النَّضْرِ عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي فَلْيَظُنَّ بِي مَا شَاءَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩৩, ৬৩৪, ৬৩৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭১৭, ২৩৯৩, ২৪৬৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. তোমার নিকটাত্মীয়দেরকে ভয় প্রদর্শন কর
২৭৭০. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্ তা’আলা কুরআনের এই আয়াতটি নাযিল করলেন, ’’আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন’’ (শু’আরাঃ ২১৪)। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়ালেন এবং বললেন, “হে কুরায়শ সম্প্রদায়! তোমরা আত্মরক্ষা কর। আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমাদের কোন উপকার করতে পারব না। হে ’আব্বাস ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ফুফু, আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। হে মুহাম্মদ এর মেয়ে ফাতিমাহ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আল্লাহর মোকাবেলায় আমি তোমার কোন উপকার করতে পারব না। [1]
باب وأنذر عشيرتك الأقربين
حدثنا الحكم بن نافع عن شعيب عن الزهري قال أخبرني سعيد بن المسيب وأبو سلمة بن عبد الرحمن أن أبا هريرة قال قام النبي صلى الله عليه وسلم حين أنزل الله تعالى وأنذر عشيرتك الأقربين فقال يا معشر قريش اشتروا أنفسكم من الله لا أغني عنكم من الله شيئا يا بني عبد مناف لا أغني عنكم من الله شيئا يا عباس بن عبد المطلب لا أغني عنك من الله شيئا يا صفية عمة رسول الله لا أغني عنك من الله شيئا يا فاطمة بنت محمد سليني ما شئت لا أغني عنك من الله شيئا
তাখরীজ: বুখারী, ওয়াসা’আ ২৭৫৩; মুসলিম, ঈমান ২০৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. তোমাদের কারো আমল তাকে মুক্তি দিতে পারবে না
২৭৭১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নিকটবর্তী হও এবং তোমরা মধ্যম পন্থা অবলম্বন করো। আর জেনে রাখ যে, তোমাদের কারো আমলই তাকে নাজাত দিতে পারবেনা। তারা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনিও কি নন? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমিও নই। তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর রহমত ও ফযল দ্বারা আমাকে আবৃত করে নেন।”[1]
باب لَا يُنْجِي أَحَدَكُمْ عَمَلُهُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَارِبُوا وَسَدِّدُوا وَاعْلَمُوا أَنَّ أَحَدًا مِنْكُمْ لَنْ يُنْجِيَهُ عَمَلُهُ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَا أَنْتَ قَالَ وَلَا أَنَا إِلَّا أَنْ يَتَغَمَّدَنِيَ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَفَضْلٍ
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৮১৭।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. তোমাদের প্রত্যেকের নিকট একজন জ্বিন সঙ্গী রয়েছে
২৭৭২. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির সাথেই একজন সহচর জ্বিন (শয়তান) ও একজন সহচর ফিরিশতা নির্ধারিত আছে। তারা প্রশ্ন করলেন, আপনার সাথেও কি? তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমার সাথেও। কিন্তু তার মুকাবিলায় আল্লাহ আমাকে সহযোগিতা করেছেন। ফলে সে আত্মসমর্পণ করেছে।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, লোকেরা বলেন, ’সে আত্মসমর্পণ করেছে’-এর অর্থ: সে অনুগত হয়েছে। কেউ বলেন: বশ্যতা স্বীকার করেছে।
باب مَا مِنْكُمْ أَحَدٌ إِلَّا وَمَعَهُ قَرِينُهُ مِنْ الْجِنِّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَمَعَهُ قَرِينُهُ مِنْ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنْ الْمَلَائِكَةِ قَالُوا وَإِيَّاكَ قَالَ نَعَمْ وَإِيَّايَ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْ النَّاسِ مَنْ يَقُولُ أَسْلَمَ اسْتَسْلَمَ يَقُولُ ذَلَّ
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৮১৪।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪১৭ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নুবুওয়াত নং ১২৭।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে
২৭৭৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমি যা জানি তা যদি তোমরা জানতে তবে তোমরা খুব কমই হাসতে এবং অধিক হারে কাঁদতে।”[1]
باب لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُوسَى بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৬২১; মুসলিম, ফাযাইল ২৩৫৯।
আামরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে
২৭৭৪. (অপর সনদে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [1]
باب لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِثْلِ هَذَا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. আল্লাহর নিকট দুনিয়ার তুচ্ছতা বা হীনতা
২৭৭৫. আবী হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খোশ-পাঁচড়ায় আক্রান্ত একটি বকরীর বাচ্চার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যাকে এর মালিক বাইরে নিক্ষেপ করেছিল। তিনি বললেনঃ “তোমরা কি মনে কর, এই বাচ্চাটি তার মালিকের নিকট তুচ্ছ (বা নিকৃষ্ট)?” তারা বললেনঃ হাঁ।তিনি বললেন: আল্লাহর কসম! এটি তার মালিকদের নিকট যতটুকু নিকৃষ্ট আল্লাহর নিকট দুনিয়াটা এর চেয়েও বেশী নিকৃষ্ট।”[1]
باب فِي هَوَانِ الدُّنْيَا عَلَى اللَّهِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَزِّمِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِسَخْلَةٍ جَرْبَاءَ قَدْ أَخْرَجَهَا أَهْلُهَا قَالَ تُرَوْنَ هَذِهِ هَيِّنَةً عَلَى أَهْلِهَا قَالُوا نَعَمْ قَالَ وَاللَّهِ لَلدُّنْيَا أَهْوَنُ عَلَى اللَّهِ مِنْ هَذِهِ عَلَى أَهْلِهَا
তাখরীজ: আহমেদ ২/৩৩৮।
এর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসলিম ২৯৫৭;
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আামরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৯৩ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, যুহদ ২৩২১; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪১১১; আহমাদ ৪/২৩০, ২৩৬।
এর অপর শাহিদ হাদীসটি রয়েছে সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪১১০; হাকিম ৪/৩০৬।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. কোন্ আমল উত্তম
২৭৭৬. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করল, ’কোন্ ’আমল উত্তম?’ তিনি বললেন, “আল্লাহর প্রতি ঈমান এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা।”[1]
باب أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الْمُرَاوِحِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَجِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
তাখরীজ: বুখারী, ইতক্ব ২৫১৮; মুসলিম, ঈমান ৮৪।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫২, ৪৩১০, ৪৫৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. কোন্ আমল উত্তম
২৭৭৭. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহর নিকট উত্তম আমল হলো সন্দেহমুক্ত ঈমান।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, আবূ জাফর হলেন আনসারী এক লোক।
باب أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي جَعْفَرٍ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ عِنْدَ اللَّهِ إِيمَانٌ لَا شَكَّ فِيهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَبُو جَعْفَرٍ رَجُلٌ مِنْ الْأَنْصَارِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৯৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে
২৭৭৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ (প্রকৃত) মু’মিন হবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে।”[1]
باب لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৩; মুসলিম, ঈমান ৪৫।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৮৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৩৪, ২৩৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হবে না, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে
২৭৭৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ ততক্ষন পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষন আমি তার কাছে তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি ও সকল লোকদের চাইতে অধিক প্রিয় না হব।”[1]
باب لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَهَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ১৫; মুসলিম, ঈমান ৪৪।
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০৪৯, ৩২৫৮, ৩৮৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. কোন্ মু’মিন উত্তম
২৭৮০. আবূ বকরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সবচেয়ে উত্তম লোক কে?
তিনি বললেনঃ “যার জীবনকাল দীর্ঘ এবং আমল উত্তম হয়।”
লোকটি বললঃ সবচেয়ে মন্দ লোক কে? তিনি বললেনঃ “যার জীবনকাল দীর্ঘ এবং আমল মন্দ হয়।”[1]
باب أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ خَيْرٌ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِي بَكْرَةَ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ قَالَ مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَحَسُنَ عَمَلُهُ قَالَ فَأَيُّ النَّاسِ شَرٌّ قَالَ مَنْ طَالَ عُمُرُهُ وَسَاءَ عَمَلُهُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/২৫৬ নং ১৬২৭১; আহমাদ ৫/৪০, ৪৩, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০; তিরমিযী, যুহদ ২৩৩১; তাবারাণী, সগীর ২/২০; হাকিম ১/৩৩৯; বাইহাকী, জানাইয ৩/১৭১।
আমরা বলছি: এ সনদটি সহীহ;
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার সনদগুলি উল্লেখ করেছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৯ ও ২৪৬৫।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার পুর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৯ ও ২৪৬৫।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাকিম ১/৩৩৯; বাইহাকী, জানাইয ৩/৩৭১;
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার পুর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪৯৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. কোন্ মু’মিন উত্তম
২৭৮১. আলী ইবনু যাইদের সনদেও অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
باب أَيُّ الْمُؤْمِنِينَ خَيْرٌ
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ بِإِسْنَادِهِ مِثْلَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. এ উম্মতের শেষ অংশের (যামানার) ফযীলত
২৭৮২. মুহাইরিয (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবী জুমু’আহ- যিনি সাহাবীগণের মধ্যেকার একজন-তাকে বললাম, আপনি আমাদেরকে এমন একটি হাদীস শুনান যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন।
তিনি বললেন: আচ্ছা, আমি তোমাদেরকে একটি উত্তম হাদীস শুনাচ্ছি। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে সকালের খাবার খেলাম, তখন্ আমাদের সাথে আবী উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। তখন তিনি বললেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের চেয়েও উত্তম কেউ আছে? যেখানে আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আপনার সাথে থেকে জিহাদ করেছি? তিনি বললেন: হাঁ। তারা হবে সেই সকল লোক, যারা তোমাদের পরে আসবে; তারা আমার প্রতি ঈমান আনবে, অথচ তারা আমাকে দেখেনি।”[1]
باب فِي فَضْلِ آخِرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ قَالَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا أَسِيدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ خَالِدِ بْنِ دُرَيْكٍ عَنْ ابْنِ مُحَيْرِيزٍ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي جُمُعَةَ رَجُلٍ مِنْ الصَّحَابَةِ حَدِّثْنَا حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ أُحَدِّثُكَ حَدِيثًا جَيِّدًا تَغَدَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَحَدٌ خَيْرٌ مِنَّا أَسْلَمْنَا وَجَاهَدْنَا مَعَكَ قَالَ نَعَمْ قَوْمٌ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِكُمْ يُؤْمِنُونَ بِي وَلَمْ يَرَوْنِي
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৫৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ৪/২২ নং ৩৫৩৮, ৩৫৩৯, ৩৫৪০; ইবনু আবী আসীম, আহাদ ওয়াল মাছানী ২১৩৫; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২১১; আহমাদ ৪/১৬০; বুখারী, কাবীর ২/৩১০, ৩১১; হাকিম ৪/৮৫।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. কুর’আন সংরক্ষণ করো
২৭৮৩. আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা খুবই খারাপ কথা যে, তোমাদের মধ্যে কেউ বলবে, আমি কুরআনের অমুক অমুক আয়াত ভুলে গেছি; বরং তাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, তোমরা কুরআন মুখস্ত করতে থাক কেননা, জতুষ্পদ জন্তু তার বন্ধন খুলে বের হয়ে যাওয়ার চেয়েও মানুষের অন্তর থেকে কুরআন দ্রুত গতিতে পলায়নপর।”[1]
باب فِي تَعَاهُدِ الْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مَنْصُورٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بِئْسَمَا لِأَحَدِكُمْ أَنْ يَقُولَ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ فَاسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ أَسْرَعُ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنْ النَّعَمِ مِنْ عُقُلِهَا
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুল কুরআন ৫০৩২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৯০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৬১, ৭৬২, ৭৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ১৯৬৪; আবূল ফাযল আব্দুর রহমান বিন আহমাদ বিন হাসান, ফাযাইলুল কুরআন ৩; সাঈদ বিন মানসূর, নং ১৭০১৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. একথা বলা কারো জন্য উচিত নয় যে, আমি ইউসূফ ইবনু মাত্তা হতে উত্তম
২৭৮৪. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কেউ যেন একথা না বলে: ’আমি ইউনূস ইবনু মাত্তা হতে উত্তম।’[1]
باب لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَقُولَ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعْيَمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ أَنَا خَيْرٌ مِنْ يُونُسَ بْنِ مَتَّى
তাখরীজ: বুখারী, আম্বিয়া ৩৪১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৭৮।
এর এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, তাফসীর ৪৬৩১; মুসলিম, ফাযাইল ২৩৭৬, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬২৩৮ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, আম্বিয়া ৩৪১৩; মুসলিম, ফাযাইল ২৩৭৭, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৪৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬২৪১।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৯৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. প্রত্যেক মুসলিমের উপর সাদাকাহ (যাকাত) রয়েছে
২৭৮৫. আবূ মূসা আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ প্রতিটি মুসলিমের সাদাকা করা আবশ্যক। সাহাবীগণ আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কেউ যদি তা করতে সক্ষম না হয় কিংবা না করে? তিনি (উত্তরে) বললেনঃ সে ব্যক্তি তার নিজ হাতে কাজ করবে এবং নিজেও তা থেকে খাবে, সাদাকাও করবে।” তাঁরা বললেন, ধরুন, যদি এর সে ক্ষমতাও না থাকে? তিনি বললেনঃ “সে কোনো দুঃখক্লিষ্ট অভাবী ব্যক্তিকে সাহায্য করবে।” তাঁরা বললেন, আপনার কি ধারণা, যদি এতটুকুরও সামর্থ্য তার না থাকে? তিনি বললেনঃ “এ অবস্থায় সে যেন সৎ কাজের আদেশ করে।” তাঁরা বললেন, আপনার কি ধারণা, যদি এতটুকুরও সামর্থ্য তার না থাকে? তিনি বললেনঃ “তবে সে যেন অল্যাণকর কাজ হতে বিরত থাকে। এটা তার জন্য সাদাকা বলে গণ্য হবে।”[1]
باب عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَائِنِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ صَدَقَةٌ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ أَوْ لَمْ يَفْعَلْ قَالَ يَعْتَمِلُ بِيَدَيْهِ فَيَأْكُلُ مِنْهُ وَيَتَصَدَّقُ قَالُوا أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ قَالَ يُعِينُ ذَا الْحَاجَةِ الْمَلْهُوفَ قَالُوا أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ قَالَ يَأْمُرُ بِالْخَيْرِ قَالُوا أَفَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ يَفْعَلْ قَالَ يُمْسِكُ عَنْ الشَّرِّ فَإِنَّهَا لَهُ صَدَقَةٌ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৯৫, ৪১১; বুখারী, যাকাত ১৪৪৫; আদাব ৬০২২; আদাবুল মুফরাদ নং ২২৫, ৩০৬; বাইহাকী, যাকাত ৫/১৮৮; ইবনু আবী শাইবা ৯/১০৮ নং ৬৭০০; মুসলিম, যাকাত ১০০৮; নাসাঈ, কুবরা নং ২৩১৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৬৪৩; তায়ালিসী ১/১৮০ নং ৮৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. যে ব্যক্তি (লোককে) দেখানোর উদ্দেশ্যে (আমল) করে, আল্লাহও তাকে (লোকদেরকে) দেখিয়ে দেবেন
২৭৮৬. আবী হিন্দ আদদারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “যে ব্যক্তি প্রদর্শনেচ্ছা ও সুনামের উদ্দেশ্যে কোনো স্থানে (সালাত) দণ্ডায়মান হয়, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিবসে তার সাথেও লোক দেখানো ও শুনানোর আচরণ করবেন।”[1]
باب مَنْ رَاءَى رَاءَى اللَّهُ بِهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ مَكْحُولًا يَقُولُ حَدَّثَنِي أَبُو هِنْدٍ الدَّارِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ قَامَ مَقَامَ رِيَاءٍ وَسُمْعَةٍ رَاءَى اللَّهُ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَسَمَّعَ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/২৭০; তাবারাণী, কাবীর ২২/৩১৯ নং ৮০৩, ৮০৪; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/৬০; বাযযার, কাশফুল আস্তার ২/৪২৮ নং ২০২৬; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ; ফাসাওয়ী, মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/৪৪০ যয়ীফ সনদে।
মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৬৫ তে বলেন, ‘এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ জাইয়্যেদ সনদে ও বাইহাকী, তাবারাণী...।”
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. মুমিনের দৃষ্টান্ত চারা গাছের মতো
২৭৮৭. কা’ব ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মু’মিন ব্যক্তির উদাহরণ হল শস্যক্ষেতের নরম চারা গাছের মত, যাকে বাতাস এসে ডানে-বামে আন্দোলিত করে: একবার সোজা করে দেয়, আরেকবার শুইয়ে ফেলে- এভাবে একসময় মৃত্যু চলে আসে। আর কাফিরের দৃষ্টান্ত হলো, মুলের উপর দৃঢ়ভাবে স্থাপিত বৃক্ষ, যাকে কিছুতেই নোয়ানো যায় না। শেষে এক ঝটকায় মূলসহ তা উপড়ে যায়।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’الْخَامَةُ’ অর্থ ’দুর্বল’।
باب مَثَلُ الْمُؤْمِنِ كَمَثَلِ الزَّرْعِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبٍ عَنْ أَبِيهِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَثَلُ الْمُؤْمِنِ مَثَلُ الْخَامَةِ مِنْ الزَّرْعِ تُفَيِّئُهَا الرِّيَاحُ تُعَدِّلُهَا مَرَّةً وَتُضْجِعُهَا أُخْرَى حَتَّى يَأْتِيَهُ الْمَوْتُ وَمَثَلُ الْكَافِرِ كَمَثَلِ الْأَرْزَةِ الْمُجْذِيَةِ عَلَى أَصْلِهَا لَا يُصِيبُهَا شَيْءٌ حَتَّى يَكُونَ انْجِعَافُهَا مَرَّةً وَاحِدَةً قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْخَامَةُ الضَّعِيفُ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪৫৪, ৬/৩৮৬; বুখারী, আশরিবাহ ৫৬৪৩; মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৮১০(৬০); রমহারমুযী, আমছালুল হাদীস পৃ: ১২২ নং ২৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ১৩/১৭৩; ইবনু আবী শাইবা ১১/২১ নং ১০৩৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. দুনিয়াটা সবুজ-শ্যামল সুমিষ্ট
২৭৮৮. হাকীম ইবনু হিযাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট কিছু চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন, আবার চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর আবার চাইলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “হে হাকীম! এই সম্পদ শ্যামল- সুস্বাদু। যে ব্যক্তি প্রশস্ত অন্তরে (লোভ ব্যতীত) তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্তরের লোভসহ তা গ্রহণ করে তার জন্য তা বরকতময় করা হয় না। যেন সে এমন ব্যক্তির মত, যে খায় কিন্তু তার ক্ষুধা মেটে না। উপরের হাত নিচের হাত হতে উত্তম।”[1]
باب الدُّنْيَا خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَعُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّ حَكِيمَ بْنَ حِزَامٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرٌ حُلْوٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِسَخَاوَةِ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنْ الْيَدِ السُّفْلَى
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪৭২; মুসলিম, যাকাত ১০৩৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২২০, ৩৪০২, ৩৪০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৬৩ তে। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী ১১/৪৮৭, ৪৮৮। এছাড়াও, ইবনুল মুবারক, যুহদ নং ৫০৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. তোমাদের বিতর্ক করাকে আল্লাহ অপছন্দ করেন
২৭৮৯. মুগীরা ইবনু শু’বাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুথেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করতেন কন্যাদেরকে জীবন্ত প্রোথিত করা, মাতাপিতার অবাধ্যতা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি থেকে বাধা দান, অনর্থক কথা নিয়ে বাদানুবাদ করা, অধিক প্রশ্ন করা এবং মালের অপচয় করা হতে।[1]
باب إِنَّ اللَّهَ كَرِهَ لَكُمْ قِيلَ وَقَالَ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ وَرَّادٍ مَوْلَى الْمُغِيرَةِ عَنْ الْمُغِيرَةِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ وَأْدِ الْبَنَاتِ وَعُقُوقِ الْأُمَّهَاتِ وَعَنْ مَنْعٍ وَهَاتِ وَعَنْ قِيلَ وَقَالَ وَكَثْرَةِ السُّؤَالِ وَإِضَاعَةِ الْمَالِ
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত ১৪৭৭, রিক্বাক্ব ৬৪৭৩, ই’তিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ৭২৯২; মুসলিম, আকযিয়াহ ৫৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৫৫, ৫৫৫৬, ৫৭১৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. পথভ্রষ্ট নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে
২৭৯০. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি আমার উম্মাতের উপর পথভ্রষ্ট-বিভ্রান্ত নেতৃবৃন্দের আশংকাবোধ করি।” [1]
باب فِي الْأَئِمَّةِ الْمُضِلِّينَ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّمَا أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي الْأَئِمَّةَ الْمُضِلِّينَ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ২১৫ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. তোমার ভাইকে সাহায্য করো- সে যালিম হোক কিংবা মাযলুম হোক
২৭৯১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মানুষ যেন তার ভাইকে সাহায্য করে- যালিম হোক কিংবা মাযলুম হোক। যদি সে যালিম হয়, তবে সে যেন তাকে (যুলুম করা) হতে বিরত রাখবে, আর এটিই হলো তাকে সাহায্য। আর যদি সে মাযলুম হয়, তবে সে তাকে (যুলুম থেকে বাঁচতে) সহায়তা করবে।” [1]
باب انْصُرْ أَخَاكَ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِيَنْصُرْ الرَّجُلُ أَخَاهُ ظَالِمًا أَوْ مَظْلُومًا فَإِنْ كَانَ ظَالِمًا فَلْيَنْهَهُ فَإِنَّهُ لَهُ نُصْرَةٌ وَإِنْ كَانَ مَظْلُومًا فَلْيَنْصُرْهُ
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৮৪; বাইহাকী, আদাবুল কাযী ১০/১৩৭;
আমরা এর অংশবিশেষের তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮২৪, ১৯৫৭ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, মুযালিম ২৪৫৩ তে; আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৮৩৭ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৬৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৮৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. দীন হলো কল্যাণ কামনা
২৭৯২. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “দীন হলো নসীহত (কল্যাণ কামনা। তিনি বলেন, তখন আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন কোন ব্যক্তিদের জন্য? জবাবে তিনি বলেনঃ “আল্লাহর জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, তাঁর কিতাবের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমস্ত মুসলিমের জন্য।” [1]
باب الدِّينُ النَّصِيحَةُ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ وَنَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدِّينُ النَّصِيحَةُ قَالَ قُلْنَا لِمَنْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ وَلِكِتَابِهِ وَلِأَئِمَّةِ الْمُسْلِمِينَ وَعَامَّتِهِمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৯৩ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৭২ তে।
এর অপর শাহিদ তামীম দারী হতে নং ৭১৬৪ তে। এ দুস্থানে আমাদের টীকা দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. ইসলাম শুরু হয়েছে অপরিচিত হিসেবে
২৭৯৩. আব্দুল্লাহ ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ “ইসলাম শুরুতে অপরিচিত ছিল, অচিরেই তা আবার শুরুর মত অপরিচিত হয়ে যাবে।” আমার মনে হয় হাফস এও বলেছেন, "সূতরাং গুরাবাদের (অচেনা, অপরিচিতদের) জন্য সুসংবাদ"। জিজ্ঞেস করা হলো, ’গুরাবা’ কারা? তিনি বলেন: “বিভিন্ন গোত্র হতে বের করে দেওয়া লোকেরা।” [1]
باب الْإِسْلَامُ بَدَأَ غَرِيبًا
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الْإِسْلَامَ بَدَأَ غَرِيبًا وَسَيَعُودُ غَرِيبًا أَظُنُّ حَفْصًا قَالَ فَطُوبَى لِلْغُرَبَاءِ قِيلَ وَمَنْ الْغُرَبَاءُ قَالَ النُّزَّاعُ مِنْ الْقَبَائِلِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯৭৫ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসলিম, ঈমান ১৪৫ তে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৯০ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ১৩/২৩৬ নং ১৬২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. আল্লাহর সাক্ষাতকে পছন্দ করা সম্পর্কে
২৭৯৪. ’উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহ্ও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহ্ও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” তখন আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা অথবা তাঁর অন্য কোন স্ত্রী বললেন, আমরাও তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে, যখন মুমিনের মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার সম্মানিত হবার খোশ খবর শোনানো হয়। তখন তার সামনের খোশ খবরের চেয়ে তার নিকট অধিক পছন্দনীয় কিছুই থাকে না। কাজেই সে তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করাকেই ভালবাসে, আর আল্লাহ্ও তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন। আর কাফিরের যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর ’আযাব ও গজবের সুসংবাদ দেয়া হয়। তখন তার সামনে যা থাকে তার চেয়ে তার কাছে অধিক অপছন্দনীয় আর কিছুই থাকে না। সুতরাং সে তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আর আল্লাহ্ও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।” [1]
باب فِي حُبِّ لِقَاءِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَأَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَكَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ وَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ
তাখরীজ: বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৫০৭; মুসলিম, যিকির ওয়াদ দু’আ ২৬৮৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২৩৫, ৩২৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. আল্লাহ উদ্দেশ্যে একজন অপরজনকে ভালবাসা সম্পর্কে
২৭৯৫. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, ’আমার মহত্ত্বের নিমিত্তে পরস্পর ভালবাসা স্হাপনকারীরা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার বিশেষ ছায়ায় ছায়া দান করব। আজ এমন দিন যে দিন আমার ছায়া ব্যতীত অন্য কোন ছায়া নেই।”[1]
باب فِي الْمُتَحَابِّينَ فِي اللَّهِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَبِي الْحُبَابِ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ الْمُتَحَابُّونَ بِجَلَالِ الْيَوْمَ أُظِلُّهُمْ فِي ظِلِّي يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلِّي
তাখরীজ: মালিক, আশ শি’র ১৩; আহমাদ ২/২৩৭, ৩৭০, ৫৩৫; মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৫৬৬; বাইহাকী, শাহাদাত ১০/২৩৩।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে
২৭৯৬. আবূ হুরাইরাহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “তোমাদের মধ্যে কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কেননা, সে ভাল লোক হলে (বয়স দ্বারা) তার নেক ’আমল বৃদ্ধি হতে পারে। আর খারাপ লোক হলে সে তওবা করার সুযোগ পাবে।” [1]
باب لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمْ الْمَوْتَ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنِي شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا يَتَمَنَّى أَحَدُكُمْ الْمَوْتَ إِمَّا مُحْسِنًا فَلَعَلَّهُ أَنْ يَزْدَادَ إِحْسَانًا وَإِمَّا مُسِيئًا فَلَعَلَّهُ أَنْ يَسْتَعْتِبَ
তাখরীজ: বুখারী, আলমারদ্বা ৫৬৭৩; মুসলিম, যিকির ওয়াদ দু’আ ২৬৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩০০০, ৩০১৫ তে। সংযোজনী: এছাড়াও, আব্দুর রাযযাক ২০৬৩৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ আমাকে ও কিয়ামতকে এ দু’টির মতো (নিকটবর্তী) করে পাঠানো হয়েছে
২৭৯৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আমাকে ও কিয়ামতকে এ দু’টির মতো (নিকটবর্তী) করে পাঠানো হয়েছে। একথা বলে তিনি তর্জনী ও মধ্যমা অঙ্গুলির প্রতি ইশারা করলেন।[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ وَأَشَارَ وَهْبٌ بِالسَّبَّاحَةِ وَالْوُسْطَى
তাখরীজ: বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৫০৪; মুসলিম, ফিতান ২৯৫১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯২৫, ২৯৯৯, ৩১৪৬, ৩২৬৩, ৩২৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৬০ তে।
এর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১১১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ তোমরা সর্বশেষ উম্মত
২৭৯৮. বাহয ইবনে হাকীম থেকে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “নিশ্চয়ই তোমরা উম্মাতের সংখ্যা সত্তর পূর্ণ করেছো। এদের মধ্যে তোমরাই সর্বশেষ এবং আল্লাহর নিকট সর্বাধিক মর্যাদাবান।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْتُمْ آخِرُ الْأُمَمِ
أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّكُمْ وَفَّيْتُمْ سَبْعِينَ أُمَّةً أَنْتُمْ آخِرُهَا وَأَكْرَمُهَا عَلَى اللَّهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩, ৫; আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৪০৯; তিরমিযী, তাফসীর ৩০০৪; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৮৭, ৪২৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের ফযীলত সম্পর্কে
২৭৯৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: অমুক কোথায়?” তখন তাদের মধ্যে থেকে এক লোক তার সম্পর্কে বললো, সে এই, সে এই (করে)- এভাবে সে তার নামে কুৎসা রটাতে থাকলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: সে কি বদরের যুদ্ধে উপস্থিত ছিল না? তারা বললেন: জি-হাঁ। তিনি বললেন: আল্লাহ্ তা’আলা বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী সাহাবীদের এরূপ সুসংবাদ জানিয়ে দিয়েছেন যে, তোমরা তোমাদের খুশীমত আমল কর, আমি তোমাদের মাফ করে দিয়েছি ।”[1]
باب فِي فَضْلِ أَهْلِ بَدْرٍ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيْنَ فُلَانٌ فَغَمَزَهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ فَقَالَ إِنَّهُ وَإِنَّهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَيْسَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا قَالُوا بَلَى قَالَ فَلَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ اعْمَلُوا مَا شِئْتُمْ فَقَدْ غَفَرْتُ لَكُمْ
তাখরীজ: আহমাদ ২/২৯৫-২৯৬; আবু দাউদ, সুন্নাহ ৪৬৫৪;
এর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৯৯, ৭১১৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২২২০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. অমুক অমুক তারকার প্রভাবে আমরা বৃষ্টি দান করা হয়েছে - এরূপ কথা বলা নিষিদ্ধ
২৮০০. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা যদি দশ বছর আমার উম্মাতের থেকে বৃষ্টি বন্ধ রাখেন তারপর তা পাঠান তাহলে আমার উম্মাতের একদল মানুষ কাফির হয়ে যাবে। তার বলবে, মিজদাহ্ নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।”[1]
আবু মুহাম্মদ বলেন, মিজদাহ’ হলো নক্ষত্রের নাম, যার পেছনের দিকে দু’টি অংশ রয়েছে।
باب النَّهْيِ أَنْ يَقُولَ مُطِرْنَا بِنَوْءِ كَذَا وَكَذَا
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ قَالَ أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ عَتَّابِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَوْ حَبَسَ اللَّهُ الْقَطْرَ عَنْ أُمَّتِي عَشْرَ سِنِينَ ثُمَّ أُنْزِلَ لَأَصْبَحَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي بِهَا كَافِرِينَ يَقُولُونَ هُوَ بِنَوْءِ مِجْدَحٍ قَالَ الْمِجْدَحُ كَوْكَبٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩১২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৩০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে খালিদ আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৮, ৬১৩২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৩২ তে, সেখানে টীকাসহ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. কোনো নেককর্মের সাওয়াব দশগুণ
২৮০১. ইয়ায ইবনু গুতাইফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর অসুস্থ্যতার সময় তাকে দেখতে গেলাম। তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি: “কোনো নেককর্মের সাওয়াব দশগুণ ।”[1]
باب الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ بَشَّارِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ غُطَيْفٍ قَالَ أَتَيْنَا أَبَا عُبَيْدَةَ بْنَ الْجَرَّاحِ نَعُودُهُ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৩০ তে।
মুনাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফাইযুল কাদীর ৬/২০৯ তে বলেন, “হাফিজ ইরাকী বলেন, এর সনদ হাসান’.... বুখারী তার আদাবুল মুফরাদে এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন।’’
পরিচ্ছেদঃ ৫১. দ্বিমুখী (চোগলখোর) লোকের সম্পর্কে যা বলা হয়েছে
২৮০২.আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “দুনিয়াতে যে ব্যক্তি দু’মুখ বিশিষ্ট (মুনাফিক) হবে, কিয়ামতের দিন তার আগুনের দু’টি মুখ হবে।”[1]
باب مَا قِيلَ فِي ذِي الْوَجْهَيْنِ
أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ الرُّكَيْنِ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ حَنْظَلَةَ قَالَ شَرِيكٌ وَرُبَّمَا قَالَ النُّعْمَانِ بْنِ حَنْظَلَةَ عَنْ عَمَّارٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ ذَا وَجْهَيْنِ فِي الدُّنْيَا كَانَ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لِسَانَانِ مِنْ نَارٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৭৯ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৬৫ এবং সেখানে টীকায় এর আমরা ‘হাসান’ হওয়ার প্রতিই প্রত্যাবর্তন করেছি, অনুরূপ এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৭৫৪, ৫৭৫৫, ৫৭৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ যে কোন যাকে আমি লা’নত বা গালি দিয়েছি - এ সম্পর্কে
২৮০৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ দু’আ করতে শুনেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি তো একজন মানুষ মাত্র। ফলে যদি আমি কোন মুসলিম লোককে লা’নত করি, কিংবা অভিশাপ বা গালি দেয়, অথবা খারাপ বলে থাকি, তবে আপনি সেটাকে কিয়ামতের দিন তার জন্য দু’আ, রহমত ও আপনার নৈকট্য অর্জনের উপায় বানিয়ে দিন।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا رَجُلٍ لَعَنْتُهُ أَوْ سَبَبْتُهُ
حَدَّثَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ لَعَنْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ أَوْ جَلَدْتُهُ فَاجْعَلْهَا لَهُ صَلَاةً وَرَحْمَةً وَقُرْبَةً تُقَرِّبُهُ بِهَا إِلَيْكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৩৯ নং ৯৬০০; মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৬০১; আহমাদ ২/২৯০, ৪৯৩ এবং ৩/৪০০; বুখারী, দাওয়াত ৬৩৬১।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ যে কোন যাকে আমি লা’নত বা গালি দিয়েছি - এ সম্পর্কে
২৮০৪. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে তাতে রয়েছে: “(তা) পবিত্রতা ও রহমত (বানিয়ে দিন)।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا رَجُلٍ لَعَنْتُهُ أَوْ سَبَبْتُهُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ إِلَّا أَنَّ فِيهِ زَكَاةً وَرَحْمَةً
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৬০২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২৭১ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১০/৩৩৯ নং ৯৬০১।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ আমার জন্য ওহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ন হলেও
২৮০৫. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমি পছন্দ করি না যে, এই পাহাড়টি আমার জন্য সোনায় পরিণত করা হোক এবং আমার মৃত্যু সময়ে এর মধ্য হতে একটি দীনার- কিংবা অর্ধ দীনারও (স্বর্ণ মুদ্রা) আমার নিকট রয়ে যাক, তবে ঋণ আদায়ের জন্য (যতটুকু প্রয়োজন, সেই পরিমাণ) ব্যতীত।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ أَنَّ لِي مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ قَالَ سَمِعْتُ سُوَيْدَ بْنَ الْحَارِثِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ جَبَلَ أُحُدٍ لِي ذَهَبًا أَمُوتُ يَوْمَ أَمُوتُ عِنْدِي دِينَارٌ أَوْ نِصْفُ دِينَارٍ إِلَّا لِغَرِيمٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৪৮-১৪৯, ১৬০-১৬১, ১৭৬।
আর এটি সহীহ হাদীসের অংশবিশেষ, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬৯, ১৭০, ৩৩২৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০ তে, যার সনদ সহীহ। আরও দেখুন, বুখারী, যাকাত ১৪০৮। (( বুখারী, ইসতিকরায ২৩৮৮, ইসতিয়াযান ৬২৬৮, রিকাক ৬৪৪৩, ৬৪৪৪ এবং বাদাউল খালক ৩২২২; মুসলিম, যাকাত ২/৬৮৭-৬৮৮।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৩ এর টীকা।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. ধ্বংসকারী বিষয়াবলী সম্পর্কে
২৮০৬. উবাদাহ ইবনু কুরত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমরা এমন সব কাজ করে থাক, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও সুক্ষ্ণ। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী বিষয় বলে গণ্য করতাম।[1] এরপর এটি মুহাম্মদ অর্থাৎ ইবনু সীরীন (রহঃ) নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, তিনি সত্য বলেছেন। আর আমি মনে করি এসবের মধ্যে রয়েছে ইযার বা লুঙ্গি (টাখনুর নিচে) ছেঁচড়ে চলা।”
باب فِي الْمُوبِقَاتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ قُرْطٍ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ أُمُورًا هِيَ أَدَقُّ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعْرِ كُنَّا نَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْمُوبِقَاتِ فَذُكِرَ لِمُحَمَّدٍ يَعْنِي ابْنَ سِيرِينَ فَقَالَ صَدَقَ فَأَرَى جَرَّ الْإِزَارِ مِنْ ذَلِكَ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৭৯; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৩/১৬২; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ ৬৯০।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৪০৪ তে, যার সনদ সহীহ। ((শাহিদ আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী, রিকাক ৬৪৯২।– মাজমাউয যাওয়াইদ হা/৪০৪ এ মুহাক্কিক্বের টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ হতে
২৮০৭. রাফি ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জ্বরের উত্পত্তি হয় জাহান্নামের ভীষণ উত্তাপ বা উন্মত্ততা হতে। অতএব তোমরা একে পানি দ্বারা ঠান্ডা কর।”[1]
باب الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحُمَّى مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ أَوْ مِنْ فَوْرِ جَهَنَّمَ فَأَبْرِدُوهَا بِالْمَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, বাদাউল খালক ৩২৬২, তিব্ব ৫৭২৬; মুসলিম, সালাম ২২১২ (৮৪); তিরমিযী, তিব্ব ২০৭৪; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/৩৪৬; ইবনু মাজাহ, তিব্ব ৩৪৭৩; ইবনু আবী শাইবা ৭/৪৩৮ নং ৩৭২২; তাবারাণী, কাবীর ৪/২৭৪ নং ৪৩৯৭, ৪৩৯৮; আহমাদ ৪/১৪১।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০৬৬, ৬০৬৭ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে, যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. রোগ-অসুস্থতা কাফ্ফারা স্বরুপ
২৮০৮. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “প্রত্যেক মুসলিমের শরীরে যখন কোনো রোগ-বালাই আপতিত হয়, তখন নিশ্চয়ই (আমল) সংরক্ষণকারী ফিরিশতাদেরকে আল্লাহ নির্দেশ দিয়ে বলেন: ’(অসুস্থতার পুর্বে) সে যেরূপ নেক আমল করতো, সে আমার শৃংখলে আবদ্ধ (অসুস্থ) থাকা পর্যন্ত তোমরা প্রতি দিনে-রাতে আমার বান্দার জন্য অনুরূপ (নেক আমলের সাওয়াব) লিখতে থাকো।”[1]
باب الْمَرَضُ كَفَّارَةٌ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَحَدٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ يُصَابُ بِبَلَاءٍ فِي جَسَدِهِ إِلَّا أَمَرَ اللَّهُ الْحَفَظَةَ الَّذِينَ يَحْفَظُونَهُ فَقَالَ اكْتُبُوا لِعَبْدِي فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ مِثْلَ مَا كَانَ يَعْمَلُ مِنْ الْخَيْرِ مَا كَانَ مَحْبُوسًا فِي وِثَاقِي
তাখরীজ: আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৫১, ৩৮৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. অসুস্থতার সাওয়াব
২৮০৯. আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অসুস্থ অবস্থায় তাঁর কাছে গেলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে আমি তাঁর গায়ে আমার হাত রাখলাম। আমি বললামঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! নিশ্চয়ই আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত। তিনি বললেন: “আমি তোমাদের দু’জনের সমান জ্বরে আক্রান্ত হই।” তিনি বলেন, আমি বললাম যে, এটা এজন্য যে, আপনার জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ। কোন মুসলিম যখন কোনো কষ্ট কিংবা রোগ ও অন্যান্য বিপদে নিপতিত হয়, তার থেকে গুনাহসমূহ এভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে তার পাতাগুলো ঝরে যায়।”[1]
باب أجر المريض
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُوعَكُ فَوَضَعْتُ يَدِي عَلَيْهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ لَتُوعَكُ وَعْكًا شَدِيدًا فَقَالَ إِنِّي أُوعَكُ كَمَا يُوعَكُ رَجُلَانِ مِنْكُمْ قَالَ قُلْتُ ذَلِكَ بِأَنَّ لَكَ أَجْرَيْنِ قَالَ أَجَلْ وَمَا مِنْ مُسْلِمٍ يُصِيبُهُ أَذًى مَرَضٌ فَمَا سِوَاهُ إِلَّا حُطَّ عَنْهُ مِنْ سَيِّئَاتِهِ كَمَا تَحُطُّ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا
তাখরীজ: বুখারী, মারদা ৫৬৪৭; মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৭১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৬৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. নাবী (ﷺ) এর উপর একবার সালাত (দরুদ) পড়ার ফযীলত
২৮১০. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার সালাত পাঠ করবে, আল্লাহ তা’আলা তার উপর দশবার রহমত করবেন।”[1]
باب فِي فَضْلِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ الْمَدَنِيُّ عَنْ الْعَلَاءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلَاةً وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
তাখরীজ: মুসলিম, সালাত ৪০৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪৯৫, ৬৫২৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯০৫, ৯০৬ তে। ((আবূ দাউদ, সালাত ১৫৩০; তিরমিযী, সালাত ৪৮৫; নাসাঈ, সাহু, ১২৯৬; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ।– ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
সংযোজনী: ইবনু আবী আসিম, আস সালাত আলান্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ৫৩, ৫৪। আরও দেখুন, সাখাবী, কওলুল বাদী’ পৃ: ১৬৫।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. নাবী (ﷺ) এর উপর একবার সালাত (দরুদ) পড়ার ফযীলত
২৮১১. আবু তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন (আমাদের কাছে) আগমন করলেন। তখন তার চেহারায় প্রফুল্লতা দৃষ্টি গোচর হচ্ছিল। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনার চেহারায় খুশী লক্ষ্য করছি, যা আগে কখনো দেখিনি। তিনি বললেন, “হাঁ। একজন ফিরিশতা (জিবরীল) আমার কাছে এসে বললেন, ইয়া মুহাম্মাদ! আপনার রব আপনার উদ্দেশ্যে বলেছেন: ’আপনাকে কি এই সংবাদ খুশি করে না যে, আপনার উম্মাতের মধ্য থেকে যদি কোন ব্যক্তি আপনার উপর একবার সালাত (দরুদ) পাঠ করে আমি তাকে দশবার রহমত করব, আর কেউ যদি আপনাকে একবার সালাম পাঠায় আমি তার প্রতি দশবার সালাম পাঠাব।’ তিনি বলেন, “আমি বললাম, হাঁ।”[1]
باب فِي فَضْلِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ سُلَيْمَانَ مَوْلَى الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا وَهُوَ يُرَى الْبِشْرُ فِي وَجْهِهِ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرَى فِي وَجْهِكَ بِشْرًا لَمْ نَكُنْ نَرَاهُ قَالَ أَجَلْ إِنَّ مَلَكًا أَتَانِي فَقَالَ لِي يَا مُحَمَّدُ إِنَّ رَبَّكَ يَقُولُ لَكَ أَمَا يُرْضِيكَ أَنْ لَا يُصَلِّيَ عَلَيْكَ أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِكَ إِلَّا صَلَّيْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا وَلَا يُسَلِّمَ عَلَيْكَ إِلَّا سَلَّمْتُ عَلَيْهِ عَشْرًا قَالَ قُلْتُ بَلَى
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৯১ তে। ((নাসাঈ, সাহু, ফাযলুত তাসলীম আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ১২৮৩ ও ফাযলুস সালাত আলান নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নং ১২৯৫।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৩৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
আরও দেখুন, সাখাবী, কওলুল বাদী’ পৃ: ১৬১-১৬৩।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. নাবী (ﷺ) এর উপর একবার সালাত (দরুদ) পড়ার ফযীলত
২৮১২. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তাঁআলার কতক ফেরেশতা এমন রয়েছে, যারা পৃথিবীতে বিচরণ করে বেড়ায়, তাঁরা আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছিয়ে থাকেন।”[1]
باب فِي فَضْلِ الصَّلَاةِ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَاذَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلَّهِ مَلَائِكَةً سَيَّاحِينَ فِي الْأَرْضِ يُبَلِّغُونِي عَنْ أُمَّتِي السَّلَامَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৯১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৯২ তে। ((নাসাঈ, সাহু ১২৮২; আহমাদ ১/৩৮৭, ৪৪১, ৪৫২; হাকিম ২/৪২১।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৪০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. নাবী (ﷺ) এর নামসমূহ
২৯১৩. যুবাইর ইবনু মুত’ইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “আমার অনেকগুলো নাম আছে। আমি মুহাম্মাদ, আমি আহমাদ এবং আমি ’মাহী’- আমার দ্বারা আল্লাহ্ তা’আলা সমস্ত কুফরী দূর করবেন। আমি ’হাশির’, আমার পেছনে সমস্ত মানুষকে একত্রিত করা হবে এবং আমি ’আকিব’, সকলের শেষে আগমনকারী, যার পরে কেউ নেই।”[1]
باب فِي أَسْمَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ لِي أَسْمَاءً أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَنَا أَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللَّهُ بِيَ الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلَى قَدَمِي وَأَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِي لَيْسَ بَعْدَهُ أَحَدٌ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিব ৩৫৩২; মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৩৫৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩১৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৬৫ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৬/৫৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. হারাম (উপার্জন) খাওয়া সম্পর্কে
২৮১৪. কা’ব ইবনু উজরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ “হে কা’ব ইবনু উজরা! হারাম (পন্থায় উপার্জিত সম্পদ) দ্বারা সৃষ্ট ও পরিপুষ্ট মাংস (দেহ) কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না।”[1]
باب فِي أَكْلِ السُّحْتِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا كَعْبُ بْنَ عُجْرَةَ إِنَّهُ لَنْ يَدْخُلَ الْجَنَّةَ لَحْمٌ نَبَتَ مِنْ سُحْتٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯৯৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৭২৩, ৪৫১৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৬৯ তে। ((তিরমিযী, ফিতান ২২৫৯; নাসাঈ, বাই’আহ নং ৪২০৮; হাকিম ১/৭৮, ৭৯।- ফাতহুল মান্নান, হা/২৯৪২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৬১. মুমিন সকল কাজেই সাওয়াব লাভ করে
২৮১৫. সুহাইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। এ সময় তিনি হেসে বললেন, “তোমরা কি জান, আমি হাসছি কেন?” তারা বললেন, কোন্ বিষয়টি আপনাকে হাসাচ্ছে? তখন তিনি বললেন: “মুমিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। যদি তার পছন্দ কিছু ঘটে তবে সেজন্য সে আল্লাহর প্রশংসা করে, ফলে সেটি হয় তার জন্য কল্যাণকর; আবার যদি তার উপর অপছন্দনীয় কিছু (দুঃখ-মুসীবত) আসে, তবে সে সবর করে। ফলে সেটিও হয় তার জন্য কল্যাণকর। তাই প্রত্যেকটি কাজ কেবল মুমিনের জন্যই কল্যাণকর হয়ে থাকে।”[1]
باب الْمُؤْمِنِ يُؤْجَرُ فِي كُلِّ شَيْءٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ الْبَصْرِيُّ هُوَ رَوْحُ بِنُ أَسْلَمَ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا ثَابِتٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ صُهَيْبٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَالِسٌ إِذْ ضَحِكَ فَقَالَ أَلَا تَسْأَلُونِي مِمَّا أَضْحَكُ فَقَالُوا مِمَّ تَضْحَكُ قَالَ عَجَبًا مِنْ أَمْرِ الْمُؤْمِنِ كُلُّهُ لَهُ خَيْرٌ إِنْ أَصَابَهُ مَا يُحِبُّ حَمِدَ اللَّهَ عَلَيْهِ فَكَانَ لَهُ خَيْرٌ وَإِنْ أَصَابَهُ مَا يَكْرَهُ فَصَبَرَ كَانَ لَهُ خَيْرٌ وَلَيْسَ كُلُّ أَحَدٍ أَمْرُهُ لَهُ خَيْرٌ إِلَّا الْمُؤْمِنَ
তাখরীজ: মুসলিম, যুহদ ২৯৯৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৮৯৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ১০/১০৯।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০১৯, ৪২১৭, ৪২১৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. আদম সন্তানের জন্য যদি সম্পদে পরিপূর্ণ দু’টি উপত্যকাও থাকে
২৮১৬. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমি জানি না সেটি তাঁর উপর নাযিল হয়েছিল, নাকি তিনি নিজের থেকেই তা বলেছেন। তিনি বলেনঃ “যদি বানী আদমের স্বর্ণ ভরা দু’টি উপত্যকা থাকে, তথাপি সে এ দু’টির সাথে তৃতীয় উপত্যকা থাকার কামনা করবে। আর আদম সন্তানের পেট মাটি ব্যতীত অন্য কিছুতেই ভরবে না। তবে যে ব্যক্তি তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন।”[1]
باب لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَا أَدْرِي أَشَيْءٌ أُنْزِلَ عَلَيْهِ أَمْ شَيْءٌ يَقُولُهُ وَهُوَ يَقُولُ لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى إِلَيْهِمَا ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৩৯; মুসলিম, যাকাত ১০৪৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৪৯, ২৮৫৮, ২৯৫১, ৩০৬৩, ৩১৪৩, ৩২৬৬, ৩২৬৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩৫, ৩২৩৬ তে।
এর শাহিদ রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৯৯, ২৩০৩, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩২, ৩২৩৩, ৩২৩৪ তে।
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৩ আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৩১ তে।
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে হাদীস রয়েছে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. কিচ্ছা-কাহিনী বলা নিষেধ হওয়া সম্পর্কে
২৮১৭. আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) থেকে তার পিতা থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “শাসক অথবা তার নির্ধারিত কর্মচারী অথবা রিয়াকার (লৌকিকতাকারী) ব্যক্তি মানুষের মধ্যে কিচ্ছা-কাহিনী বলে বেড়ায়।”[1] আমি আমর ইবনু শুয়াইব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললাম, আমরা তো শুনেছি, ’ভানকারী’। তখন তিনি বলেন, আমি তো এরকমই (তথা ’রিয়াকারী’) শুনেছি।
باب فِي النَّهْيِ عَنْ الْقَصَصِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَامِرٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَقُصُّ إِلَّا أَمِيرٌ أَوْ مَأْمُورٌ أَوْ مُرَاءٍ قُلْتُ لِعَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ إِنَّا كُنَّا نَسْمَعُ مُتَكَلِّفٌ فَقَالَ هَذَا مَا سَمِعْتُ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৮৩; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৭৫৩।
আব্দুল্লাহ এ বর্ণনায় একাকী নন। তার মুতাবিয়াত বর্ণনা রয়েছে আব্দুর রহমান ইবনু হারমালাহ থেকে আহমাদ ২/১৭৮ তে হাসান সনদে।
আর এর শাহিদ হাদীসসমূহ রয়েছে আওফ ইবনু মালিক, কা’ব ইবনু ইয়ায, উবাদাহ ইবনু সামিত- এর প্রত্যেকটির তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদে যথাক্রমে ৯২১, ৯২২, ৯২৩ তে। ফলে এ হাদীসের সনদকে এটি সহীহ তে উন্নীত করে। আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. গল্প-কাহিনী বর্ণনার অনুমতি প্রসঙ্গে
২৮১৮. আব্দুল মালিক ইবনু মাইসারাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুর্দুস নামক একজন গল্পকার-কাহিনীকারকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, একজন বাদরী সাহাবী আমাকে বলেছেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “এ রকম মজলিসে বসা আমার নিকট চারটি গোলাম মুক্ত করার চেয়েও অধিক প্রিয়।”
তিনি (রাবী) বলেন: আমি বললাম, এ দ্বারা তিনি কোন্ মাজলিসের কথা বুঝিয়েছেন? তিনি বললেন, সে সময় তিনি তখন গল্প-কাহিনী বর্ণনা করছিলেন। আবূ মুহাম্মদ বলেন, একজন বদরী সাহাবী’, তিনি হলেন: আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু।[1]
باب في الرخصة في القصص
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ قَالَ سَمِعْتُ كُرْدُوسًا وَكَانَ قَاصًّا يَقُولُ أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ بَدْرٍ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَأَنْ أَقْعُدَ فِي مِثْلِ هَذَا الْمَجْلِسِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَ رِقَابٍ قَالَ قُلْتُ أَنَا أَيَّ مَجْلِسٍ يَعْنِي قَالَ كَانَ حِينَئِذٍ يَقُصُّ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الرَّجُلُ مِنْ أَصْحَابِ بَدْرٍ هُوَ عَلِيٌّ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদে নং ৭৪৬, ৯২৪, ৯২৫, ৯২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. একই গর্তে মু’মিন ব্যক্তি দু’বার দংশিত হয় না
২৮১৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মু’মিন একই গর্ত থেকে দু’বার দংশিত হয় না।”[1]
باب لَا يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ مَرَّتَيْنِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنَا عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يُلْدَغُ الْمُؤْمِنُ مِنْ جُحْرٍ وَاحِدٍ مَرَّتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬১৩৩; মুসলিম, যুহদ ওয়ার রাকাইক ২৯৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৬৩ তে।
সংযোজনী: বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ১২৭৮; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১৯৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/২১৯।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. শয়তান আদম সন্তানের রক্ত স্রোতে চলমান রয়েছে
২৮২০. জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যার স্বামী অনুপস্থিত, এমন স্ত্রীলোকের কাছে তোমরা প্রবেশ করোনা। কেননা, শয়তান বনী আদমের মাঝে রক্ত স্রোতের মতো চলমান রয়েছে।” তারা বললেন, আপনার মধ্যেও? তিনি বললেন, “হাঁ, (আমার মাঝেও)। তবে আল্লাহ তা’আলা আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করেছেন। ফলে সে অনুগত হয়ে গেছে।”[1]
باب الشَّيْطَانِ يَجْرِي من بن آدم مَجْرَى الدَّمِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ وَرُبَّمَا سَكَتَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَدْخُلُوا عَلَى الْمُغِيبَاتِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنْ ابْنِ آدَمَ كَمَجْرَى الدَّمِ قَالُوا وَمِنْكَ قَالَ نَعَمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمُ
তাখরীজ: আহমাদ ও তাঁর ছেলের যাওয়াইদুল মুসনাদ ৩/৩৯৭; তিরমিযী, রিদা’আ ১১৭২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/৩০।
আমাদের বক্তব্য: এর ১ম অংশের শাহিদ রয়েছে আমর ইবনু আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৪৮ তে।
এর বাকী অংশের শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪৭০ তে।
এবং (অপর শাহিদ) সাফিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. সবচেয়ে কঠিন বিপদ-মুসীবতে পতিত মানুষ
২৮২১. সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, সর্বাপেক্ষা কঠিন মুসীবতের সম্মুখীন হয় কোন্ মানুষ? তিনি বললেনঃ নবীগণ, এরপর তাদের অনুরূপ যারা, এরপর তাদের অনুরূপ যারা। একজন লোক তার দীনদারীর অনুপাতে পরীক্ষায় নিপতিত হয়। যদি সে তার দীনে মজবুত হয় তবে তার পরীক্ষাও তুলনামূলকভাবে কঠোরতর হয়; আর সে যদি দীনের ক্ষেত্রে দুর্বল হয়, তবে সে তার পরীক্ষাও হালকা করা হয়। আর এভাবে বান্দা বিপদ-আপদে পড়তেই থাকে শেষ পর্যন্ত সে জমিনের উপর এমনভাবে বিচরণ করতে থাকে যে তার আর কোন গুনাহ অবশিষ্ট থাকে না।”[1]
باب فِي أَشَدِّ النَّاسِ بَلَاءً
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدٍ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ النَّاسِ أَشَدُّ بَلَاءً قَالَ الْأَنْبِيَاءُ ثُمَّ الْأَمْثَلُ فَالْأَمْثَلُ يُبْتَلَى الرَّجُلُ عَلَى حَسَبِ دِينِهِ فَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ صَلَابَةٌ زِيدَ صَلَابَةً وَإِنْ كَانَ فِي دِينِهِ رِقَّةٌ خُفِّفَ عَنْهُ وَلَا يَزَالُ الْبَلَاءُ بِالْعَبْدِ حَتَّى يَمْشِيَ عَلَى الْأَرْضِ مَا لَهُ خَطِيئَةٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯০০, ২৯০১, ২৯২০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬৯৮, ৬৯৯, ৭০০ তে।
সংযোজনী: তায়ালিসী ২/৪৪ নং ২০৯১; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/৬১; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৯৭৭৫; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ১/৩৬৮।
এর শাহিদ হাদীস ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে গত হয়েছে ২৮১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ তোমরা আমার প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করো না
২৮২২. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-বলেন, “তোমরা আমার প্রশংসা করতে গিয়ে বাড়াবাড়ি করো না, যেমন ’ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) সম্পর্কে খ্রিস্টানরা বাড়াবাড়ি করেছিল। বরং তোমরা বলবে, ’আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল’।[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُطْرُونِي
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُطْرُونِي كَمَا تُطْرِي النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ وَلَكِنْ قُولُوا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ
তাখরীজ: বুখারী, আহাদীসুল আম্বিয়া ৩৪৪৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৩, ৪১৪, ৬২৩৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. আল্লাহর নিকট একশতটি 'রহমত' রয়েছে
২৮২৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ রহমতকে একশত ভাগে বিভক্ত করেছেন। তার মধ্যে নিরানব্বই ভাগ তিনি নিজের কাছে সংরক্ষিত রেখেছেন। আর পৃথিবীতে একভাগ পাঠিয়েছেন। ঐ এক ভাগ পাওয়ার কারণেই সৃষ্ট জগত পরস্পরের প্রতি দয়া করে। এমনকি ঘোড়া তার বাচ্চার উপর থেকে পা উঠিয়ে নেয় এই আশঙ্কায় যে, তা একে আঘাত করতে পারে।”[1]
باب إِنَّ لِلَّهِ مِائَةَ رَحْمَةٍ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ جَعَلَ اللَّهُ الرَّحْمَةَ مِائَةَ جُزْءٍ فَأَمْسَكَ عِنْدَهُ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ وَأَنْزَلَ فِي الْأَرْضِ جُزْءًا وَاحِدًا فَمِنْ ذَلِكَ الْجُزْءِ يَتَرَاحَمُ الْخَلْقُ حَتَّى تَرْفَعَ الْفَرَسُ حَافِرَهَا عَنْ وَلَدِهَا خَشْيَةَ أَنْ تُصِيبَهُ
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৬৯; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৫২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৭২, ৬৫০৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬১৪৭, ৬১৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭০. যে ব্যক্তি কোনো একটি নেককাজ করতে মনস্থ করে
২৮২৪. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা হতে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ্ দয়াবান। যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছা করল, কিন্তু তা করল না, তার জন্য একটি পূর্ণ সাওয়াব লিখা হয়। আর যদি সে সেটি করে, তবে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অধিক সাওযাব লিখে দেওয়া হয়। আর যে কোন মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, কিন্তু তা সম্পাদন করে না, তার জন্য একটি পূর্ণ সাওয়াব লিখবেন। আর যদি সে মন্দ কাজের ইচ্ছা করে, এবং মন্দ কাজটি করেও ফেলে, তবে তার জন্য মাত্র একটা গুনাহ লিখা হয়, কিংবা তিনি সেটি ক্ষমা করে দেন। আর ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত আল্লাহর কারণে কেউ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় না।”[1]
باب مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ حَدَّثَنَا الْجَعْدُ أَبُو عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا رَجَاءٍ الْعُطَارِدِيَّ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَإِنَّ رَبَّكُمْ رَحِيمٌ مَنْ هَمَّ بِحَسَنَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ عَشْرًا إِلَى سَبْعِ مِائَةٍ إِلَى أَضْعَافٍ كَثِيرَةٍ وَمَنْ هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْهَا كُتِبَتْ لَهُ حَسَنَةً فَإِنْ عَمِلَهَا كُتِبَتْ وَاحِدَةً أَوْ يَمْحُوهَا وَلَا يَهْلِكُ عَلَى اللَّهِ إِلَّا هَالِكٌ
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩৬০-৩৬১, ২৭৯; তাবারাণী, কাবীর ১২/১৬১ নং ১২৬৭০; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৯/৪১৫; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৯২; বুখারী, রিকাক্ব ৬৪৯১; মুসলিম, ঈমান ১৩১।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. যে লোক যাকে ভালবাসে সে তার সাথে থাকবে
২৮২৫. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি একদিন বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এক ব্যক্তি কোন লোকদেরকে ভালবাসে, কিন্তু তাদের আমলের অনুরূপ আমল করতে পারে না। তখন তিনি বলেনঃ “হে আবূ যার! তুমি তাদের সাথী হবে, যাদের সাথে তুমি মহব্বত রাখবে। তখন আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আমি তো আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ “তুমি তাঁর সাথী হবে, যাকে তুমি ভালবাস।”[1]
باب الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ يُحِبُّ الْقَوْمَ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِمْ قَالَ أَنْتَ يَا أَبَا ذَرٍّ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ قُلْتُ فَإِنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫০৬ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সাফওয়ান ইবনু আসাল আলমুরাদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫০৭ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৭৫৮, ২৭৭৭, ২৮৮৮, ৩২৮০ তে।
আর ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসটিও বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. বান্দা যখন আল্লাহর নিকটবর্তী হয়
২৮২৬. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব্বের পক্ষ হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: “হে আদম সন্তান, তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট করুণার আশা করবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করব, তুমি যা-ই কর না কেন। হে আদম সন্তান, যদি তোমার পাপ আসমান স্পর্শ করে, আর তুমি যদি আমার সাথে কোনোকিছুকে শরীক না করো, তবে আমিও সমপরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব। হে আদম সন্তান, যদি তোমার পাপ আসমানের প্রান্ত স্পর্শ করে- এই পরিমাণ পাপও যদি তুমি করো, এরপরও তুমি আমার নিকট ইস্তিগফার কর বা ক্ষমা চাও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, কোনো পরোয়া করব না।[1]
باب إِذَا تَقَرَّبَ الْعَبْدُ إِلَى اللَّهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا مَهْدِيٌّ حَدَّثَنَا غَيْلَانُ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ مَعْدِي كَرِبَ عَنْ أَبِي ذَرٍّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ قَالَ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ مَا كَانَ فِيكَ ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ إِنْ تَلْقَانِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا لَقِيتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً بَعْدَ أَنْ لَا تُشْرِكَ بِي شَيْئًا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ إِنْ تُذْنِبْ حَتَّى يَبْلُغَ ذَنْبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ تَسْتَغْفِرُنِي أَغْفِرْ لَكَ وَلَا أُبَالِي
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৬৭, ১৭২, ৫/১৪৮, ১৫৩, ১৮০ (সহীহ সনদে) ৫/১৫৪ (হাসান সনদে); মুসলিম (দু’আ ২৬৮৭) আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দাবলি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ জালা শানূহু ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি একটি নেক কাজ করবে তার জন্য রয়েছে দশগুন পূরস্কার; আর আমি তাকে আরও বাড়িয়ে দেব । অ্যর যে ব্যক্তি একটি মন্দ কাজ করবে তার প্রতিফল সেই কাজের অনুরুপ কিংবা আমি তাকে ক্ষমা করে দেব । যে ব্যক্তি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে একহাত এগিয়ে আসি । আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি একহাত অগ্রসর হয় আমি তার দিকে এক গজ এগিয়ে আসি । যে ব্যক্তি আমার কাছে হেঁটে আসে আমি তার দিকে দৌড়িয়ে আসি । যে ব্যক্তি আমার কাছে পৃথিবী সমান গোনাহ করে এবং আমার সংগে কাউকে শরীক করেনি আমি তার সংগে অনুরুপ তুল্য মাগফিরাত নিয়ে মিলিত হই।”
এর অপর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে তিরমিযী, দাওয়াত ৩৫৩৪ জাইয়্যেদ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. নেককাজ ও পাপ সম্পর্কে
২৮২৭. নাওওয়াস ইবনু সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নেক কাজ এবং পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ “নেক কর্ম হল সদাচার আর পাপ হল তোমার মনে যা দ্বিধা সৃষ্টি করে এবং মানুষ সেটা জেনে যাক, তা তুমি অপছন্দ কর।”[1]
باب فِي الْبِرِّ وَالْإِثْمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ هُوَ ابْنُ عَمْرٍو قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ جَابِرٍ الْقَاضِي عَنْ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْبِرِّ وَالْإِثْمِ فَقَالَ الْبِرُّ حُسْنُ الْخُلُقِ وَالْإِثْمُ مَا حَاكَ فِي نَفْسِكَ وَكَرِهْتَ أَنْ يَعْلَمَهُ النَّاسُ
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৫৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৭ তে। এছাড়াও, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১১৩৮; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতু ওয়াত তারীখ ২/৩৩৯।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. নেককাজ ও পাপ সম্পর্কে
২৮২৮. (অপর সনদে) নাওওয়াস ইবনু সাম’আন রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। অত:পর তিনি এর অনুরূপ উল্লেখ করেছেন।[1]
باب فِي الْبِرِّ وَالْإِثْمِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى عَنْ مَعْنِ بْنِ عِيسَى عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّوَّاسِ بْنِ سَمْعَانَ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. উত্তম চরিত্র সম্পর্কে
২৮২৯. আবূ যারর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তুমি যেখানে থাক না কেন, আল্লাহকে ভয় করবে; মন্দ কাজ হয়ে গেলে এর পরপরই কোন নেককাজ করবে; আর মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরন করবে।”[1]
باب فِي حُسْنِ الْخُلُقِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اتَّقِ اللَّهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعْ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ وَخَالِقْ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৫৩, ১৫৮, ১৭৭; তাবারাণী, মাকারিমুল আখলাক নং ১৩, কাবীর ২০/১৪৫ নং ২৯৭, ২৯৮; ইবনু কুলাইব, আল মুসনাদ নং ১৩৬৭ (কুলাইব); আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৪/৩৭৮; তিরমিযী, বিরর ওয়াস সুলহ ১৯৮৮; হাকিম ১/৫৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৬/২৪৬ নং ৮০২৩, ৮০২৪, ৮০২৬; কুযায়ী, মুসনাদুশ শিহাব ১৩৭৯ নং ৬৫২। তিরমিযী বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।’ হাকিম বলেন, এ হাদীসটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ, যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ আর যাহাবীও তাকে সমর্থন করেছেন। তবে এর অবস্থা তাঁরা দুজন যেমন বলেছেন তেমন নয়।
((এখানে মুহাক্কিক্ব রাবী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত ও অপর কিছু সনদের উল্লেখ করে এর রাবী সম্পর্কে মুহাদ্দিসদের দুর্বল, মুনকার আখ্যা দেওয়া ও মুয়ায রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অপর একটি শাহিদ হাদীস উল্লেখ করে এর দুর্বলতার লম্বা আলোচনা করেছেন। পরিশেষে তিনি একে মুরসাল বলে আখ্যায়িত করেছেন।-অনুবাদক))
এর কয়েকটি শাহিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং১৯২২ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. উত্তম চরিত্র সম্পর্কে
২৮৩০. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মুমিনদের মাঝে ঈমানে সেই পরিপূর্ণ, তাদের মাঝে যার চরিত্র সুন্দরতম।”[1]
باب فِي حُسْنِ الْخُلُقِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدٌ هُوَ ابْنُ أَبِي أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلَانَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِينَ إِيمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং১৯২৬ তে। ((তিরযিমী, রিদা’আ ১১৬২; আবূ দাউদ, সুন্নাহ ৪৬৮২-অনুবাদক।))
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৮/৫১৬ নং ৫৩৭৩।
আমাদের বক্তব্য: এর অনেক গুলি শাহিদ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, আবী দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯২০, ১৯২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. বিনয়-নম্রতা সম্পর্কে
২৮৩১. আব্দুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “আল্লাহ হলেন রফীক (কোমল-দয়াদ্র), তিনি নম্রতা পছন্দ করেন। তিনি নম্র-দয়ালু লোকদেরকে যা দান করেন, কঠোর আচরণকারীকে তদ্রূপ দান করেন না।”[1]
باب فِي الرِّفْقِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ سَلَمَةَ عَنْ يُونُسَ وَحُمَيْدٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ رَفِيقٌ يُحِبُّ الرِّفْقَ وَيُعْطِي عَلَيْهِ مَا لَا يُعْطِي عَلَى الْعُنْفِ
তাখরীজ: আব্দ ইবনু হুমাইদ নং ৫০৪; ইবনু আবী শাইবা ৮/৫১২ নং ৫৩৬৩; আহমাদ ৪/৮৭; আবূ দাউদ, আদাব ৪৮০৭; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ নং ৪৭২।
এর শাহিদ রয়েছে পরবর্তী হাদীসটি এবং আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯১৪ তে।
এর অপর একটি শাহিদ আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৯০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. বিনয়-নম্রতা সম্পর্কে
২৮৩২. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহ প্রতিটি কাজে নম্রতা ও দয়ার্দ্রতা প্রদর্শন পছন্দ করেন।”[1]
باب فِي الرِّفْقِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الرِّفْقَ فِي الْأَمْرِ كُلِّهِ
তাখরীজ: বুখারী, আদাব ৬০২৪; মুসলিম, সালাম ২১৬৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৫০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. যে ব্যক্তির চোখের দৃষ্টি নষ্ট হয়ে গিয়েছে আর সে সবর করেছে
২৮৩৩. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁর রব থেকে) বলেন, “যার দুই প্রিয় বস্তু (চোখ) আমি নিয়ে নেই, আর সে যদি তাতে সবর করে এবং ছওয়াবের আশা রাখে, তবে এর বিনিময়ে তাকে জান্নাত প্রদান ছাড়া আর কিছুতে আমি সন্তুষ্ট হব না।”[1]
باب فِيمَنْ ذَهَبَ بَصَرُهُ فَصَبَرَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْكَرْمَانِيُّ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَذْهَبْتُ حَبِيبَتَيْهِ فَصَبَرَ وَاحْتَسَبَ لَمْ أَرْضَ لَهُ بِثَوَابٍ دُونَ الْجَنَّةِ
তাখরীজ: আহমাদ ২/২৬৫; তিরমিযী, যুহদ ২৪০১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহহি ইবনু হিব্বান নং ২৯৩২।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বুখারী,মারদআ ৫৬৫৩ তে। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৭১১, ৪২১১, ৪২৮৫ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৬৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০৫ ও মু’জামুশ শুয়ূখ লি আবী ইয়ালা নং ৩৩১, ৩৩৫ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইরবায ইবনু সারিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৩১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার বা নিরপেক্ষতা রক্ষা করা সম্পর্কে
২৮৩৪. হাসান বাসরী (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উবাইদুল্লাহ্ ইবনু যিয়াদ মা’কিল ইবনু ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কাছে তার মৃত্যুকালীন রোগে সেবা-শুশ্রূষার জন্য এলেন। তখন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করে শোনাব, যা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি যদি জানতাম যে, আমি জীবিত থাকব, তবে আমি তোমাকে এ হাদীস বলতাম না। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আল্লাহ কোন বান্দাকে (মুসলিম জনসাধারণের) দায়িত্ব প্রদান করলেন এবং তার মৃত্যু হল এ অবস্থায় যে, সে ছিল তার দায়িত্বের খিয়ানাতকারী, তাহলে আল্লাহ্ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।”[1]
باب فِي الْعَدْلِ بَيْنَ الرَّعِيَّةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو الْأَشْهَبِ عَنْ الْحَسَنِ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ زِيَادٍ عَادَ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ فَقَالَ لَهُ مَعْقِلٌ إِنِّي مُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ عَلِمْتُ أَنَّ بِي حَيَاةً مَا حَدَّثْتُكَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ عَبْدٍ يَسْتَرْعِيهِ اللَّهُ رَعِيَّةً يَمُوتُ يَوْمَ يَمُوتُ وَهُوَ غَاشٌّ لِرَعِيَّتِهِ إِلَّا حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: বুখারী, আহকাম ৭১৫০; মুসলিম, ঈমান ১৪২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৪৯৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. রাষ্ট্রীয় আনুগত্য করা ও তা থেকে বিচ্ছিন্ন না থাকা সম্পর্কে
২৮৩৫. আওফ ইবনু মালিক আল-আশজায়ী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছিঃ “তোমাদের উত্তম শাসক হচ্ছে- যাদের তোমরা ভালোবাসো এবং তারাও তোমাদের ভালোবাসে। তোমরা তাদের জন্য দোয়া কর এবং তারাও তোমাদের জন্য দোয়া করে। তোমাদের দুষ্ট শাসক হচ্ছে, যাদের তোমরা ঘৃণা কর এবং তারাও তোমাদের ঘৃণা করে। তোমরা তাদের অভিশাপ দাও, আর তারাও তোমাদের অভিশাপ দেয়।” আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এমন অবস্থার উদ্ভব হলে আমরা কি তাদের ক্ষমতাচ্যুত (বিরোধিতা) করব না? তিনি বললেনঃ “না, যতদিন তারা তোমাদের মাঝে সালাত কায়েম করে।
জেনে রাখ, যদি তোমাদের কেউ কারো ওপর শাসক নিযুক্ত হয় এবং সে তাকে আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত দেখে তাহলে সে যেন তাদের আল্লাহর নাফরমানীমূলক কাজের নিন্দা করে। কিন্তু সে যেন আনুগত্যের হাত (শপথ) তার থেকে তুলে না নেয়।”[1] ইবনে জাবির বলেন, আমি তাকে বললাম, “হে আবুল মিকদাম! আল্লাহর শপথ, আপনার এ হাদীসটি কি আপনি মুসলিম ইবনে কারাযাকে বর্ণনা করতে শুনেছেন? বর্ণনাকারী বলেন, আমার কথা শুনে তিনি হাঁটু গেড়ে কিবলার দিকে মুখ করে বসে আমাকে উত্তর দিলেনঃ আল্লাহর শপথ! আমি এ হাদীস মুসলিম ইবনু কারাযাকে বলতে শুনেছি, (তিনি বলেছেন) আমি আমার চাচা আউফ ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এটি বলতে শুনেছি।
باب فِي الطَّاعَةِ وَلُزُومِ الْجَمَاعَةِ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي زُرَيْقُ بْنُ حَيَّانَ مَوْلَى بَنِي فَزَارَةَ أَنَّهُ سَمِعَ مُسْلِمَ بْنَ قَرَظَةَ الْأَشْجَعِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ الْأَشْجَعِيَّ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ خِيَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُحِبُّونَهُمْ وَيُحِبُّونَكُمْ وَتُصَلُّونَ عَلَيْهِمْ وَيُصَلُّونَ عَلَيْكُمْ وَشِرَارُ أَئِمَّتِكُمْ الَّذِينَ تُبْغِضُونَهُمْ وَيُبْغِضُونَكُمْ وَتَلْعَنُونَهُمْ وَيَلْعَنُونَكُمْ قُلْنَا أَفَلَا نُنَابِذُهُمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدَ ذَلِكَ قَالَ لَا مَا أَقَامُوا فِيكُمْ الصَّلَاةَ أَلَا مَنْ وُلِّيَ عَلَيْهِ وَالٍ فَرَآهُ يَأْتِي شَيْئًا مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ فَلْيَكْرَهْ مَا يَأْتِي مِنْ مَعْصِيَةِ اللَّهِ وَلَا يَنْزِعَنَّ يَدًا مِنْ طَاعَةٍ قَالَ ابْنُ جَابِرٍ فَقُلْتُ آللَّهِ يَا أَبَا الْمِقْدَامِ أَسَمِعْتَ هَذَا مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ فَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ وَجَثَا عَلَى رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ آللَّهِ لَسَمِعْتُ هَذَا مِنْ مُسْلِمِ بْنِ قَرَظَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَمِّي عَوْفَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُهُ
তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৮৫৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৮৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তাবারাণী, কাবীর ১৮/৬২, ৬৩ নং ১১৫, ১১৬,১১৭; মুসনাদুশ শামিয়্যীন নং ৫৮৬, ৫৮৭, ৬৩৭, ১৯৩৮; বুখারী, কাবীর ৭/২৭০-২৭১।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেওয়া প্রসঙ্গে
২৮৩৬. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে শিঙ্গা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বললেনঃ “একটি শিং যাতে ফুঁত্কার দেওয়া হবে।”[1]
باب فِي نَفْخِ الصُّورِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَسْلَمَ الْعِجْلِيِّ عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الصُّورِ فَقَالَ قَرْنٌ يُنْفَخُ فِيهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫৭০ তে। ((আবূ দাউদ, আস সুন্নাহ ৪৭৪২; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৩০, তাফসীর ৩২৪৪; নাসাঈ, কুবরা ১১৩১২, ১১১৩৮১, ১১৪৫৬।– ফাতহুল মান্নান হা/২৯৬৪ এর টীকা।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮০. কিয়ামতের অবস্থা ও সর্বোচ্চ মহান প্রতিপালকের 'নুযুল' (নাযিল হওয়া)
২৮৩৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্ কিয়ামতের দিন পৃথিবী আপন মুষ্টিতে ধারণ করবেন এবং আসমান তাঁর ডান হাতে জড়িয়ে নিয়ে বলবেন: ’আমিই একমাত্র অধিপতি। পৃথিবীর অধিপতিরা কোথায়?”[1]
باب فِي شَأْنِ السَّاعَةِ وَنُزُولِ الرَّبِّ تَعَالَى
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَلَمَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَقْبِضُ اللَّهُ الْأَرْضَ وَيَطْوِي السَّمَوَاتِ بِيَمِينِهِ ثُمَّ يَقُولُ أَنَا الْمَلِكُ أَيْنَ مُلُوكُ الْأَرْضِ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর সুরাতুল যুমার ৪৮১২; মুসলিম, সিফাতুল মুনাফিকীন ২৭৮৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫০ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, আসমা ওয়াস সিফাত পৃ: ২১৫-২১৬।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যা বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৫৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. কিয়ামতের অবস্থা ও সর্বোচ্চ মহান প্রতিপালকের 'নুযুল' (নাযিল হওয়া)
২৮৩৮. ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, মাকামে মাহমূদ কী? উত্তরে তিনি বলেন: “এটা ঐ সময় যখন আল্লাহ তা’আলা তাঁর আপন ’কুরসী’তে ’নাযিল’ হবেন, তখন সংকীর্ণতার ফলে (আরোহী’র উপরের) নতুন জিন (গদী) যেমন (কড়মড়) শব্দ করতে থাকে, তেমনিভাবে তাঁর কারণে সেটি (কড়মড়) শব্দ করতে থাকবে। অথচ তার প্রশস্ততা হবে আসমান ও যমীনের মাঝের দূরত্বের সমান। আর তোমাদেরকে খালি পায়ে ও উলঙ্গ দেহে খতনাবিহীন অবস্থায় আনয়ন করা হবে। সর্বপ্রথম ইবরাহীম (আ.) কে কাপড় পরানো হবে। আল্লাহ তা’আলা বলবেন: ’আমার খলীল (দোস্ত)-কে কাপড় পরিয়ে দাও।’ তখন জান্নাত থেকে আনিত সাদা রং এর দু’টি নরম-কোমল চাদর পরানো হবে। তারপর আমাকে পোশাক পরানো হবে। আমি তাঁর ডানদিকে এমন স্থানে দাঁড়াবো যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত লোক তা দেখে ঈর্ষা করবে।”[1]
باب فِي شَأْنِ السَّاعَةِ وَنُزُولِ الرَّبِّ تَعَالَى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا الصَّعْقُ بْنُ حَزْنٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ قِيلَ لَهُ مَا الْمَقَامُ الْمَحْمُودُ قَالَ ذَاكَ يَوْمٌ يَنْزِلُ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى كُرْسِيِّهِ يَئِطُّ كَمَا يَئِطُّ الرَّحْلُ الْجَدِيدُ مِنْ تَضَايُقِهِ بِهِ وَهُوَ كَسَعَةِ مَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَيُجَاءُ بِكُمْ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا فَيَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُكْسَى إِبْرَاهِيمُ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى اكْسُوا خَلِيلِي فَيُؤْتَى بِرَيْطَتَيْنِ بَيْضَاوَيْنِ مِنْ رِيَاطِ الْجَنَّةِ ثُمَّ أُكْسَى عَلَى إِثْرِهِ ثُمَّ أَقُومُ عَنْ يَمِينِ اللَّهِ مَقَامًا يَغْبِطُنِي الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১০/৯৯ নং ১০০১৮; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৬/২৩৯; ; বুখারী, কাবীর ৪/১৩৭ তা’লীক হিসেবে; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ২২৭; হাকিম ২/৩৬৪-৩৬৫; আহমাদ নং ৩৭৮৬ (নাশর: মাকতাবুল ইসলামী); তার সূত্রে ইবনু কাছীর, তাফসীর ৫/১০৪-১০৫।
“আর তোমাদেরকে খালি পায়ে ও উলঙ্গ দেহে খতনাবিহীন অবস্থায় আনয়ন করা হবে।” এ অংশটুকুর শাহিদ সহীহ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৬ তে, সেটিই হলো পরবর্তী হাদীসটি। এছাড়াও, পোশাক পরানোর অংশটুকুর শাহিদ রয়েছে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৬ তে। আরও দেখুন, ফাতহুল বারী, ১১/৩৮৪-৩৮৫।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. মহান আল্লাহর দীদার বা দর্শন
২৮৩৯. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কয়েকজন লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলল, কিয়ামতের দিন আমরা কি আমাদের প্রতিপালককে দেখতে পাব? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “পূর্ণিমা রাতে চাঁদের নিচে কোনো মেঘের আড়াল না থাকে, তবে তা (দেখার ব্যাপারে) কি তোমাদের সন্দেহ থাকে? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ সূর্যের নিচে যখন কোন মেঘ না থাকে তখন তা (দেখার ব্যাপারে) কি তোমাদের কোনো সন্দেহ থাকে? তারা বলল, না! তিনি বললেনঃ “তোমরা অবশ্যই কিয়ামতের দিন আল্লাহকে ঐরূপ দেখতে পাবে।”[1]
باب النَّظَرِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ وَعَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ أَخْبَرَهُمَا أَنَّ النَّاسَ قَالُوا لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تُمَارُونَ فِي الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ لَيْسَ دُونَهُ سَحَابٌ قَالُوا لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ فَهَلْ تُمَارُونَ فِي الشَّمْسِ لَيْسَ دُونَهَا سَحَابٌ قَالُوا لَا قَالَ فَإِنَّكُمْ تَرَوْنَهُ كَذَلِكَ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০, ৬৬৮৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।
আল্লাহ তা’আলাকে দেখার ব্যাপারে তিনটি মতামত রয়েছে:
১. সাহাবা, তাবিঈন ও মুসলিম আইম্মাগণের মতামত হলো এই যে, আল্লাহ তআলাকে আখিরাতে সচক্ষে দেখা যাবে। আর দুনিয়াতে চক্ষু দ্বারা মহান আল্লাহকে দেখা সম্ভব নয়। তবে স্বপ্নে দেখতে পারে।
২. একদল লোক বলেন: দুনিয়া আখিরাতে কোথাওই আল্লাহ তা’আলাকে দেখা যাবে না।
৩. তৃতীয় দলের লোকের মত হলো, দুনিয়াতে এবং আখিরাতে উভয় স্থানেই আল্লাহকে দেখা যাবে।
মুলত: সাহাবাগণ, তাবিঈগণ ও মুসলিম আইম্মাগণই সঠিক (১ম মতটি)। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
পরিচ্ছেদঃ ৮২. হাশরের বৈশিষ্ট্য বা বর্ণনা
২৮৪০. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে এই বলে খুতবা দিতে শুনেছি: “হে লোকসকল! নিশ্চয়ই তোমাদেরকে আল্লাহ তা’আলার সামনে একত্রিত করা হবে নগ্ন পদ, নগ্ন দেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায়।” এ বলে তিনি তিলাওয়াত করলেন: “যেভাবে আমি সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই পুনরায় সৃষ্টি করব; প্রতিশ্রুতি পালন আমার কর্তব্য, আমি এটা পালন করবই।” (সূরা আম্বিয়া: ১০৪)[1]
باب فِي صِفَةِ الْحَشْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ بْنُ النُّعْمَانِ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّكُمْ مَحْشُورُونَ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا ثُمَّ قَرَأَ كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَاعِلِينَ
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫২৪, ৬৫২৫; মুসলিম, সিফাতুল জান্নাহ ২৮৬০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩১৮, ৭৩২১, ৭৩৪৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. কিয়ামত দিবসে মু’মিনগণের সাজদা করা প্রসঙ্গে
২৮৪১. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: মহান আল্লাহ যখন বান্দাদেরকে একত্রিত করবেন একটি ভূমিতে, তখন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন: যারা যে জিনিসের ’ইবাদাত করতো, তারা যেন সে জিনিসের কাছে গমন করে। এরপর যারা যার ইবাদত করতো, সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। লোকেরা তাদের নিজ নিজ অবস্থার উপর থেকে যাবে। অবশেষে তিনি এসে বলবেন: লোকদের কী হলো, সকলেই চলে গেলো, আর তোমরা এখানে থেকে গেলে যে? তারা বলবে, আমরা অপেক্ষা করছি আমাদের রবের। তখন তিনি বলবেন: তোমরা কি তাঁকে চিনতে পারবে? উত্তরে তারা বলবে: তিনি যখন আমাদের কাছে পরিচয় দেবেন, তখন আমরা তাকে চিনতে পারব। এরপর তাদের সামনে তিনি তাঁর ’সাক্ব’ (পায়ের নলা) উন্মুক্ত করবেন, তখন তারা সিজদায় পড়ে যাবে। এটিই হলো, আল্লাহর বাণীঃ “সেইদিন যেদিন ’সাক্ব’ (পায়ের নিম্নাংশ) উন্মোচিত করা হবে,এবং তাদেরকে আহ্বান করা হবে সাজদা করার জন্য; কিন্তু তারা তা করতে সক্ষম হবে না।” (আল ক্বলম: ৪২) তবে অবশিষ্ট থেকে যাবে কেবল সকল মুনাফিক, কিন্তু তারা সিজদা করতে সক্ষম হবে না। এরপর লোকদেরকে জান্নাতের দিকে পথ প্রদর্শন করা হবে।”[1]
باب فِي سُجُودِ الْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ عَنْ يُونُسَ بْنِ بُكَيْرٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ إِسْحَقَ قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ يَسَارٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْعِبَادَ فِي صَعِيدٍ وَاحِدٍ نَادَى مُنَادٍ لِيَلْحَقْ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ فَيَلْحَقُ كُلُّ قَوْمٍ بِمَا كَانُوا يَعْبُدُونَ وَيَبْقَى النَّاسُ عَلَى حَالِهِمْ فَيَأْتِيهِمْ فَيَقُولُ مَا بَالُ النَّاسِ ذَهَبُوا وَأَنْتُمْ هَا هُنَا فَيَقُولُونَ نَنْتَظِرُ إِلَهَنَا فَيَقُولُ هَلْ تَعْرِفُونَهُ فَيَقُولُونَ إِذَا تَعَرَّفَ إِلَيْنَا عَرَفْنَاهُ فَيَكْشِفُ لَهُمْ عَنْ سَاقِهِ فَيَقَعُونَ سُجُودًا فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ وَيُدْعَوْنَ إِلَى السُّجُودِ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ يَبْقَى كُلُّ مُنَافِقٍ فَلَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْجُدَ ثُمَّ يَقُودُهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. শাফা’আত সম্পর্কে
২৮৪২. উক্ববা ইবনু আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ পূর্বাপর সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। এরপর তিনি তাদের মাঝে ফায়সালা করবেন; যখন তিনি বিচার ফায়সালা শেষ করবেন, তখন মুমিনগণ বলবে, আমাদের রব তো আমাদের মাঝে ফায়সালা করে দিয়েছেন। আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করবে কে? অত:পর তারা বলবেন, চলো, আদম (আ.) এর কাছে যাই, কেননা, তাঁকে আল্লাহ্ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন ও তাঁর সাথে কথা বলেছেন। ফলে তারা সকলেই আদম (আ.)-এর কাছে এসে বলবে, আপনি উঠুন, আমাদের জন্য আমাদের প্রতিপালকের কাছে শাফাআত করুন।
আদম (আ.) বলবেনঃ তোমরা নূহ (আ.) এর কাছে চলে যাও। তখন তারা নূহ (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে ইব্রাহীম (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা ইবরাহীম (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি তাদেরকে মূসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। তখন তারা মূসা (আ.) এর কাছে আসবে। তিনিও ঈসা (আ.)-কে দেখিয়ে দেবেন। এরপর তারা ঈসা (আ.) এর কাছে আসবে। তখন তিনি বলবেন: আমি তোমাদেরকে উম্মী নবীকে দেখিয়ে দিচ্ছি।” তিনি বলেন, “তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমার প্রতিপালক আমাকে তাঁর সামনে দাঁড়ানোর অনুমতি দান করবেন। তখন আমার মাজলিস সবচেয়ে সুগন্ধময় হয়ে উঠবে। যখন আমি আমার প্রতিপালকের নিকট যাব, তখন তিনি আমাকে শাফা’আত করার অনুমতি দেবেন এবং তিনি আমার মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত নূর বানিয়ে দেবেন।
এ সময় ইবলিসকে কাফির বলবে, ’মুমিনগণ তাদের জন্য শাফা’আতকারীকে পেয়ে গেছে। ফলে তুমি উঠে আমার জন্য তোমার রবের নিকট শাফা’আত কর। কারণ, তুমিই তো আমাদের পথভ্রষ্ট করেছিলে। তিনি বলেন, এরপর সে দাঁড়িয়ে যাবে, তখন তার মাজলিস ভীষণ দুর্গন্ধময় হয়ে উঠবে। তখন তাদের কান্না ব্যাপক আকার ধারণ করবে। ফলে তখন সে বলবে: যখন সবকিছুর মীমাংসা হয়ে যাবে, তখন শয়তান বলবে: আল্লাহ তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সত্য প্রতিশ্রুতি, আমিও তোমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম; কিন্তু আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা করি নাই। (সূরা ইবরাহীম: ২২)[1]
باب فِي الشَّفَاعَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ حَدَّثَنَا دُخَيْنٌ الْحَجْرِيُّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِذَا جَمَعَ اللَّهُ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ فَقَضَى بَيْنَهُمْ وَفَرَغَ مِنْ الْقَضَاءِ قَالَ الْمُؤْمِنُونَ قَدْ قَضَى بَيْنَنَا رَبُّنَا فَمَنْ يَشْفَعُ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُونَ انْطَلِقُوا إِلَى آدَمَ فَإِنَّ اللَّهَ خَلَقَهُ بِيَدِهِ وَكَلَّمَهُ فَيَأْتُونَهُ فَيَقُولُونَ قُمْ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّنَا فَيَقُولُ آدَمُ عَلَيْكُمْ بِنُوحٍ فَيَأْتُونَ نُوحًا فَيَدُلُّهُمْ عَلَى إِبْرَاهِيمَ فَيَأْتُونَ إِبْرَاهِيمَ فَيَدُلُّهُمْ عَلَى مُوسَى فَيَأْتُونَ مُوسَى فَيَدُلُّهُمْ عَلَى عِيسَى فَيَأْتُونَ عِيسَى فَيَقُولُ أَدُلُّكُمْ عَلَى النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ قَالَ فَيَأْتُونِي فَيَأْذَنُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِي أَنْ أَقُومَ إِلَيْهِ فَيَثُورُ مَجْلِسِي أَطْيَبَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ حَتَّى آتِيَ رَبِّي فَيُشَفِّعَنِي وَيَجْعَلَ لِي نُورًا مِنْ شَعْرِ رَأْسِي إِلَى ظُفْرِ قَدَمِي فَيَقُولُ الْكَافِرُونَ عِنْدَ ذَلِكَ لِإِبْلِيسَ قَدْ وَجَدَ الْمُؤْمِنُونَ مَنْ يَشْفَعُ لَهُمْ فَقُمْ أَنْتَ فَاشْفَعْ لَنَا إِلَى رَبِّكَ فَإِنَّكَ أَنْتَ أَضْلَلْتَنَا قَالَ فَيَقُومُ فَيَثُورُ مَجْلِسُهُ أَنْتَنَ رِيحٍ شَمَّهَا أَحَدٌ قَطُّ ثُمَّ يَعْظُمُ لِجَهَنَّمَ فَيَقُولُ عِنْدَ ذَلِكَ وَقَالَ الشَّيْطَانُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ إِلَى آخِرِ الْآيَةِ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩২০ নং ৮৮৭; নুয়াইম বিন হাম্মাদ, যাওয়াইদ আলা যুহদ লিইবনুল মুবারক নং ৩৭৪; তাবারী, তাফসীর ১৩/২০১; ইবনু কাছীর, তাফসীর ৫/৪০৯; সুয়ূতী, দুররে মানছুর ৪/৭৪ তে বলেন, এটি যয়ীফ সনদে ইবনু মুবারক তার যুহদে, ইবনু জারীর, ইবনু আবী হাতিম, তাবারাণী, ইবনু মারদুবিয়া, ইবনু আসাকীর বর্ণনা করেছেন।
((এর প্রথম অংশ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোকদেরকে পাঠাবেন ঈসা আ: আর তিনি মানুষদের জন্য শাফা’আত করার অনুমতি লাভ করবেন- এ ঘটনা পর্যন্ত সহীহ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন, সহীহ বুখারী, রিক্বাক্ব ৬৫৬৫।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. প্রত্যেক নাবীর একটি দু’আ রয়েছে
২৮৪৩. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “প্রত্যেক নবীর এমন একটি দু’আ থাকে, (যা আল্লাহর নিকট কবুল হয়)। আর আমার ইচ্ছা, ইনশা আল্লাহু তা’আলা, আমি আমার সে দু’আটি আখিরাতে আমার উম্মাতের শাফায়াতের জন্য গোপন করে রাখি।”[1]
باب إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةً
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ وَأُرِيدُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ أَخْتَبِئَ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: বুখারী, দা’ওয়াত ৬৩০৪; মুসলিম, ঈমান ১৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. প্রত্যেক নাবীর একটি দু’আ রয়েছে
২৮৪৪. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
باب إِنَّ لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةً
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي سُفْيَانَ بْنِ أَسِيدِ بْنِ جَارِيَةَ مِثْلَ ذَلِكَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে
২৮৪৫. আবূ হুরাইরাহ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার উম্মাতের মধ্য থেকে সত্তর হাযারের একটি দল বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ’উক্কাশাহ (ইবনু মিহসান) বললেন: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু’আ করুন, যেন তিনি আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি দু’আ করলেন। তারপর অপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার জন্যও আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন। তিনি বললেনঃ “উক্কাশাহ এ ব্যাপারে তোমার অগ্রগামী হয়েছে।”[1]
باب يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ أُمَّتِي بِغَيْرِ حِسَابٍ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنْ أُمَّتِي بِغَيْرِ حِسَابٍ فَقَالَ عُكَّاشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَدَعَا فَقَالَ آخَرُ ادْعُ اللَّهَ لِي فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ
তাখরীজ: বুখারী, লিবাস ৫৮১১; মুসলিম, ঈমান ২১৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭২৪৪ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আবী আওয়ানা ১/১৪০।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস, জাবির, ইবনু আব্বাস ও ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে। এ সকল হাদীসগুলির তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলীতে যথাক্রমে নং ২৮৪২, ২২৩৭, ২৩২৮, ৫৩৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. আমার উম্মাতের মধ্য থেকে এক ব্যক্তির শাফা’আতের মাধ্যমে সত্তর হাযার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে
২৮৪৬. আবদুল্লাহ ইবনে আবুল জাদ’আ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী (সাঃ) কে বলতে শুনেছেনঃ “আমার উম্মাতের এক ব্যক্তির শাফাআতে তামীম গোত্রের জনসংখ্যার চেয়েও অধিক লোক জান্নাতে যাবে।” তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। সেই ব্যক্তি কি আপনি ব্যতীত অন্য কেউ? তিনি বলেনঃ “আমি ছাড়াও।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ خَالِدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي الْجَدْعَاءِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَيَدْخُلَنَّ الْجَنَّةَ بِشَفَاعَةِ رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَكْثَرُ مِنْ بَنِي تَمِيمٍ قَالُوا سِوَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ سِوَايَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৬৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৭৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৫৯৮ তে। ((আহমাদ ৩/৪৬৯, ৪৭০, ৫/৩৬৬; তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৩৮; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩১৬; ইবনু খুযাইমা, তাওহীদ /৩১৩; হাকিম ১/৭০, ৭১, ৩/৪০৮।–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৪ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. আল্লাহ তা’আলার বাণীঃ এই পৃথিবী ছাড়াই পৃথিবীকে পরিবর্তন করা হবে
২৮৪৭. মাসরূক (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বললাম, আপনার কি মতামত, মহান আল্লাহর এ বাণীঃ “যেদিন এই পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবী হবে এবং আকাশমন্ডলীও এবং মানুষ উপস্থিত হবে আল্লাহর সামনে, যিনি একক পরাক্রমশালী।’’ (সূরা ইবরাহীমঃ ৪৮) শীর্ষক আয়াত সম্পর্কে? সেদিন মানুষ কোথায় থাকবে? তিনি বলেনঃ আমিও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বললেন: “পুলসিরাতের উপর।”[1]
باب قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ دَاوُدَ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ قُلْتُ لِعَائِشَةَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ أَرَأَيْتِ قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ أَيْنَ النَّاسُ يَوْمَئِذٍ قَالَتْ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ عَلَى الصِّرَاطِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল কিয়ামাহ ওয়াল জান্নাতু ওয়ান নার, ২৭৯১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৭৬ তে। ((আহমাদ৬/৩৫; তিরমিযী, তাফসীর ৩১২১; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৭৯; হাকিম ২/৩৫২..। ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৫ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. জাহান্নামে উপনীত হওয়া সম্পর্কে
২৮৪৮. সুদ্দী (রহঃ) আল্লাহর এ বাণীঃ এবং তোমাদের প্রত্যেকেই ওটা অতিক্রম করবে; এটা তোমার প্রতিপালকের অমোঘ নিয়ম।” (সুরা মারইয়াম: ৭১)-সম্পর্কে মুররাহ (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ্ ইবন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “সকল লোকই জাহান্নামের কাছে উপস্থিত হবে। এরপর তা থেকে তারা তাদের আমল অনুযায়ী চলে যেতে থাকবে। তাঁদের প্রথম দল বিদুৎ চমকের ন্যায় দ্রুত, পরের দল বাতাসের ন্যায়, পরের দল ঘোড়ার গতিতে, পরের দল উষ্ট্রারোহীর ন্যায়, এর পরের দল মানুষের দৌড়ের ন্যায়, এর পরের দল পায়ে হেঁটে প্রস্থান করবে।”[1]
باب فِي وُرُودِ النَّارِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ السُّدِّيِّ قَالَ سَأَلْتُ مُرَّةَ عَنْ قَوْلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا فَحَدَّثَنِي أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ حَدَّثَهُمْ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرِدُ النَّاسُ النَّارَ ثُمَّ يَصْدُرُونَ عَنْهَا بِأَعْمَالِهِمْ فَأَوَّلُهُمْ كَلَمْحِ الْبَرْقِ ثُمَّ كَالرِّيحِ ثُمَّ كَحُضْرِ الْفَرَسِ ثُمَّ كَالرَّاكِبِ فِي رَحْلِهِ ثُمَّ كَشَدِّ الرَّجُلِ ثُمَّ كَمَشْيِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৮৯ তে। ((তিরমিযী, তাফসীর ৩১৫৯; আহমাদ ১/৪৩৫; হাকিম ২/৩৭৫, ৪/৫৮৬-৫৮৭।–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯০. মৃত্যুকে যবেহ করে দেওয়া সম্পর্কে
২৮৪৯. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “মৃত্যুকে উপস্থিত করা হবে ধুসর বর্ণের একটি মেষের আকৃতিতে এবং একে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্য স্থানে দাঁড় করানো হবে। এরপর বলা হবে, হে জান্নাতবাসীগণ! তারা মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। আবার বলা হবেঃ হে জাহান্নামীগণ! তখন তারাও মাথা উঁচু করে দেখতে থাকবে। আর তারা ধারণা করবে, হয়তো তাদের কষ্টের উপশম এসে গেছে। তখন একে যবেহ করে দেয়া হবে, অতঃপর (জান্নাতাবাসী ও জাহান্নামবাসীদের) বলা হবে, (তোমরা উভয় দল স্ব স্ব স্থানে) স্থায়ীভাবে অবস্থান করো। আর কখনো মৃত্যু নেই।”[1]
باب فِي ذَبْحِ الْمَوْتِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُؤْتَى بِالْمَوْتِ بِكَبْشٍ أَغْبَرَ فَيُوقَفُ بَيْنَ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَيُقَالُ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيُقَالُ يَا أَهْلَ النَّارِ فَيَشْرَئِبُّونَ وَيَنْظُرُونَ وَيَرَوْنَ أَنْ قَدْ جَاءَ الْفَرَجُ فَيُذْبَحُ وَيُقَالُ خُلُودٌ لَا مَوْتَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬১৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৫০ তে। ((ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৭; আহমাদ ২/২৬১, ৩৭৭, ৫১৩; হাকিম ১/৮৩; তিরমিযী,সিফাতুল জান্নাত ২৫৫৭; বুখারী, রিকাক ৬৫৪৫...–ফাতহুল মান্নান হা/২৯৭৭ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৭৫ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৯৮ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী, রিকাক ৬৫৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯১. জাহান্নাম থেকে ভয় প্রদর্শন সম্পর্কে
২৮৫০. নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুৎবা দান কালে বলেছেনঃ “আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি। আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি। আমি তোমাদেরকে আগুন থেকে ভয় প্রদর্শন করছি।” এ কথাটি তিনি বলতেই থাকলেন, এমনকি তিনি যদি আমার এই অবস্থানে হতেন, তবে বাজারের লোকেরাও তাঁর কথা শুনতে পেতো এবং এমনকি তাঁর গায়ের কাপড়টি পায়ের কাছে পড়ে গেলো (সেদিকেও খেয়াল নেই)।”[1]
باب فِي تَحْذِيرِ النَّارِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ فَقَالَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ أَنْذَرْتُكُمْ النَّارَ فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى لَوْ كَانَ فِي مَقَامِي هَذَا لَسَمِعَهُ أَهْلُ السُّوقِ حَتَّى سَقَطَتْ خَمِيصَةٌ كَانَتْ عَلَيْهِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৪৪, ৬৬৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৪৯০ ও মাজমাউয যাওয়াইদ ৩১৬৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বুদ নং ৬৯৩; বাইহাকী, জুম’আহ ৩/২০৭;
পরিচ্ছেদঃ ৯২. যে ব্যক্তি বলেন: আমি মৃত্যু বরণ করলে তোমরা আমার দেহটাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলবে
২৮৫১. বাহায ইবনু হাকীম তার পিতা হতে, তার দাদা সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “(তোমাদের পূর্বের উম্মাতের) আল্লাহর বান্দাদের মধ্যেকার এক বান্দা ছিল, যে আল্লাহর দীনের আনুগত্য করত না। এভাবে সে জীবন যাপন করতে থাকলো, এমনকি তার জীবনের কিছু অংশ অতিবাহিত হয়ে গেলো আর কিছু অংশ অবশিষ্ট রইল। এসময় সে বুঝতে পারলো যে, সে (তার আখিরাতের জীবনের জন্য) আল্লাহর নিকট কোন নেককাজই সঞ্চয় করেনি। সে তার ছেলেদের ডেকে বলল, পিতা হিসেবে তোমরা আমাকে কেমন জানো? তারা বললো, হে আমাদের পিতা, ভাল (বলেই জানি)। সে বললো, অবশ্যই আমার নির্দেশ মতো তোমরা কাজ করবে, তা না হলে তোমাদের নিকট থেকে আমার সকল মাল-সম্পদ আমি কেড়ে নেব।
তিনি বলেন, আমার রবের শপথ, এভাবে সে তাদের নিকট থেকে প্রতিশ্রুতি নিল। সে বলল: আমি মারা গেলে তখন তোমরা আমাকে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে আমার মৃতদেহ ছাইয়ের গুঁড়ায় পরিণত করবে। অতঃপর আমার ছাই বাতাসে ছড়িয়ে দেবে।
তিনি বলেন, “মুহাম্মদের রবের কসম, সে যখন মারা গেল, তখন তারা তা-ই করলো। অতঃপর (আলমে বারযাখে) তাকে পূর্বের চেয়েও সুন্দর আকৃতিতে নিয়ে আসা হলো এবং তার রবের সামনে পেশ করা হলো। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমাকে আগুনে (পোড়ানোর) ব্যাপারে কিসে প্ররোচিত করল? সে বললো, হে রব, একমাত্র আপনার ভয়ই (আমাকে এ কাজ করতে প্ররোচিত করেছে)। তিনি বললেনঃ আমি তোমাকে ’ভীত’ (শঙ্কিত)’ ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করলাম।’ তিনি বলেন, তখন তাকে মাফ করে দেওয়া হলো।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন: يَبْتَئِر অর্থ: সঞ্চয় করা।
باب فِيمَنْ قَالَ إِذَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي بِالنَّارِ
أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كَانَ عَبْدٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ وَكَانَ لَا يَدِينُ لِلَّهِ دِينًا وَإِنَّهُ لَبِثَ حَتَّى ذَهَبَ مِنْهُ عُمُرٌ وَبَقِيَ عُمُرٌ فَعَلِمَ أَنَّهُ لَمْ يَبْتَئِرْ عِنْدَ اللَّهِ خَيْرًا فَدَعَا بَنِيهِ فَقَالَ أَيُّ أَبٍ تَعْلَمُونِي قَالُوا خَيْرُهُ يَا أَبَانَا قَالَ فَإِنِّي لَا أَدَعُ عِنْدَ أَحَدٍ مِنْكُمْ مَالًا هُوَ مِنِّي إِلَّا أَخَذْتُهُ مِنْكُمْ أَوْ لَتَفْعَلُنَّ مَا آمُرُكُمْ قَالَ فَأَخَذَ مِنْهُمْ مِيثَاقًا وَرَبِّي قَالَ أَمَّا أَنَا إِذَا مُتُّ فَخُذُونِي فَأَحْرِقُونِي بِالنَّارِ حَتَّى إِذَا كُنْتُ حُمَمًا فَدُقُّونِي ثُمَّ اذْرُونِي فِي الرِّيحِ قَالَ فَفَعَلُوا ذَلِكَ بِهِ وَرَبِّ مُحَمَّدٍ حِينَ مَاتَ فَجِيءَ بِهِ أَحْسَنَ مَا كَانَ قَطُّ فَعُرِضَ عَلَى رَبِّهِ فَقَالَ مَا حَمَلَكَ عَلَى النَّارِ قَالَ خَشْيَتُكَ يَا رَبِّ قَالَ إِنِّي أَسْمَعُكَ لَرَاهِبًا قَالَ فَتِيبَ عَلَيْهِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَبْتَئِرُ يَدَّخِرُ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৩ (সনদ সহীহ) ৫/৫; তাবারাণী, কাবীর ১৯/৪২৩ নং ১০৭৬, ১০৭৭।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন। আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৪৭, ১০৯৮, ৫০৫৫ তে।
এর অপর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০০২, ৫০৫৬, ৫১০৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৩. একটি বিড়ালের কারণে এক মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করবে
২৮৫২. আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “একটি বিড়ালের কারণে এক মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করেছিলো। তাকে বলা হয়েছিল: “বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তা হলে সে জমিনের পোকা-কামড় খেয়ে (বেঁচে) থাকত।”[1]
باب دَخَلَتْ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَتْ امْرَأَةٌ النَّارَ فِي هِرَّةٍ فَقِيلَ لَا أَنْتِ أَطْعَمْتِيهَا وَسَقَيْتِيهَا وَلَا أَنْتِ أَرْسَلْتِيهَا فَتَأْكُلَ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ
তাখরীজ: বুখারী, মাসাকাত ২৩৬৫, বাদাউল খালক ৩৩১৮, আহাদীসুল আম্বিয়া ৩৪৮২ ; মুসলিম, সালাম ২২৪২, বিরর ওয়াস সুলহ ২২৪২ (১৩৩) (১৩৪); বাইহাকী, নাফাকাত ৮/১৩; আহমাদ ২/১৫৯, ১৮৮ (সহীহ সনদে)।
পরিচ্ছেদঃ ৯৪. জাহান্নামের কঠিন আযাব সম্পর্কে
২৮৫৩. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “কাফির ব্যক্তির কবরে তার উপর নিরানব্বইটি বিরাট সাপ নিযুক্ত করে দেওয়া হয়। কিয়ামত অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ সাপগুলি তাকে কামড়াতে থাকবে এবং খামচাতে থাকবে। এর একটিও যদি দুনিয়ায় নিঃশ্বাস ছাড়ে তবে দুনিয়াতে আর কখনো কোনো সবুজ বৃক্ষ-লতা জন্মাবে না।”[1]
باب فِي شِدَّةِ عَذَابِ أَهْلِ النَّارِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ بْنِ مِقْلَاصٍ مَوْلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَكُنْيَتُهُ أَبُو يَحْيَى قَالَ سَمِعْتُ دَرَّاجًا أَبَا السَّمْحِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا الْهَيْثَمِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَلَّطُ عَلَى الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا تَنْهَشُهُ وَتَلْدَغُهُ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ وَلَوْ أَنَّ تِنِّينًا مِنْهَا نَفَخَ فِي الْأَرْضِ مَا نَبَتَتْ خَضْرَاءُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩২৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৭৮৩ ও মাজমাউয যাওয়াইদ ৪৩৪৫ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬৪৪ তে। (তিরমিযী, সিফাতুল কিয়ামাহ ২৪৬০; আহমাদ ৩/৩৮।–অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ৯৫. জাহান্নামের উপত্যকাসমুহের বর্ণনা
২৮৫৪. মুহাম্মদ ইবনু ওয়াসি’ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বিলাল ইবনু আবী বুরদাহ’র নিকট গিয়ে বললাম, তোমার পিতা তার পিতা হতে আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই জাহান্নামে একটি উপত্যকা রয়েছে যার নাম ’হাবহাব’। প্রত্যেক স্বেচ্ছাচারী-অহংকারী ব্যক্তি হবে সেখানকার অধিবাসী।” সুতরাং তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া থেকে বেঁচে থাকবে।[1]
باب فِي أَوْدِيَةِ جَهَنَّمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَزْهَرُ بْنُ سِنَانٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ وَاسِعٍ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى بِلَالِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ فَقُلْتُ إِنَّ أَبَاكَ حَدَّثَنِي عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي جَهَنَّمَ وَادِيًا يُقَالُ لَهُ هَبْهَبُ يَسْكُنُهُ كُلُّ جَبَّارٍ فَإِيَّاكَ أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৪৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, ইবনু আদী, আলকামিল ১/৪২০; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ২/২৫৬; হাকিম ৪/৫৯৬-৫৯৭; তাবারাণী, আওসাত নং ৩৩৭২; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশুর নং ৪৭৯; ইবনুল জাউযী, আল মাওযু’আত ৩/২৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৯৬. মহান আল্লাহ তাঁর নিজ রহমতে কত জনকে জাহান্নাম থেকে বের করবেন
২৮৫৫. আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ জাহান্নামের অধিবাসীরা (মুশরিক ও কাফিররা) জাহান্নামের (চিরস্থায়ী) অধিবাসী। জাহান্নামে তারা মরবে না। কিন্তু লোকদের মধ্যকার কিছু সংখ্যক লোককে নিজেদের পাপ অনুসারে আগুন আক্রমন করবে, তাদেরকে সেখানে জ্বালানো হবে, এমনকি তারা পুড়ে কয়লায় পরিণত হয়ে যাবে। অতঃপর তাদের জন্যে সুফারিশ করার অনুমতি দেয়া হবে। এরপর তাদেরকে পৃথকভাবে দলে দলে জাহান্নাম থেকে বের করে আনা হবে এবং জান্নাতের নহরের মধ্যে ছেড়ে দেয়া হবে। তারপর জান্নাতবাসীগণকে বলা হবে, ’এদের ওপর পানি ঢেলে দাও। তিনি বলেন, অতঃপর তাদের উপর পানি ঢেলে দেওয়া হবে, ফলে তাদের দেহের মাংসগুলি এমনভাবে তরতাজা গজিয়ে ওঠবে, যেভাবে প্রবাহমান স্রোতের ধারে বীজ অঙ্কুরিত হয়ে ওঠে।”[1]
باب مَا يُخْرِجُ اللَّهُ مِنْ النَّارِ بِرَحْمَتِهِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَزِيدَ أَبِي مَسْلَمَةَ عَنْ أَبِي نَضْرَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا أَهْلُ النَّارِ الَّذِينَ هُمْ أَهْلُ النَّارِ فَإِنَّهُمْ لَا يَمُوتُونَ فِي النَّارِ وَأَمَّا نَاسٌ مِنْ النَّاسِ فَإِنَّ النَّارَ تُصِيبُهُمْ عَلَى قَدْرِ ذُنُوبِهِمْ فَيُحْرَقُونَ فِيهَا حَتَّى إِذَا صَارُوا فَحْمًا أُذِنَ فِي الشَّفَاعَةِ فَيَخْرُجُونَ مِنْ النَّارِ ضَبَائِرَ ضَبَائِرَ فَيُنْثَرُونَ عَلَى أَنْهَارِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ يُفِيضُوا عَلَيْهِمْ مِنْ الْمَاءِ قَالَ فَيُفِيضُونَ عَلَيْهِمْ فَتَنْبُتُ لُحُومُهُمْ كَمَا تَنْبُتُ الْحِبَّةُ فِي حَمِيلِ السَّيْلِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ২২; মুসলিম, ঈমান ১৮৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৯৭, ১২১৯, ১২৫৩, ১২৫৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৪, ৭৩৭৯, ৭৪৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯৭. জান্নাতের দরজাসমূহ সম্পর্কে
২৮৫৬. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে।”[1]
باب فِي أَبْوَابِ الْجَنَّةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ عَنْ أَبِي صَادِقٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِلْجَنَّةِ ثَمَانِيَةُ أَبْوَابٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদ হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০১২ তে।
সংযোজনী: তাবারাণী, কাবীর ১০/২৫৪ নং ১০৪৭৯; মুনযিরী, তারগীব ওয়াত তারহীব ৪/৮৯ তে এটি উল্লেখ করে বলেন, এটি আবী ইয়া’লা ও তাবারাণী বর্ণনা করেছেন জাইয়্যেদ বা উত্তম সনদে।” ((হাইছামীও মাজমাউয যাওয়াইদে ১০/১৯৮ তে এর সনদকে জাইয়্যেদ বলে উল্লেখ করেছেন।–ফাতহুল মান্নান, হা/ ২৯৮৪ এর টীকা। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৮. জান্নাতে প্রবেশকারী ব্যক্তির কোনো দু:খ-কষ্ট থাকবে না
২৮৫৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে সে নিয়ামত ও সুখ ভোগ করবে, কষ্ট-যাতনা পাবে না। তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন হবেনা, আর জান্নাতে তাদের যৌবনকখনও শেষ হবে না। তার জন্য জান্নাতে যা রয়েছে, তা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরের কল্পনা তার ধারণাও করতে পারেনি।”[1]
باب مَنْ يَدْخُلْ الْجَنَّةَ لَا يَبْؤُسُ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي رَافِعٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ دَخَلَ الْجَنَّةَ يَنْعَمُ لَا يَبْؤُسُ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُ فِي الْجَنَّةِ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৪২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২১ তে। দেখুন, সামনে ২৮৬৫ নং হাদীসটিও।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশুর নং ২৯৪; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৯৬, ৯৭, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০১, ১০৯, ১২১ । ((মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৬; তিরমিযী, সিফাতুল জা্ন্নাত ২৫২৬; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৮।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮১৯।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯৯. জান্নাতে তোমাদের কারো চাবুক পরিমাণ জায়গাও দুনিয়া ও দুনিয়াতে যা কিছু আছে তার সবকিছু থেকে উত্তম
২৮৫৮. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে ধনুক পরিমাণ স্থান, তা থেকে উত্তম যার উপর সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত হয়। তোমরা ইচ্ছা হলে পড়ো: “সকল জীবই মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদ গ্রহণকারী এবং নিশ্চয়িই উত্থান দিবসে তোমাদেরকে পূর্ণ প্রতিদান দেয়া হবে; অতএব, যে কেউ অগ্নি হতে বিমুক্ত হয়েছে ও জান্নাতে প্রবিষ্ট হয়েছে, ফলত: নিশ্চয়ই সে সফলকাম; আর পার্থিব জীবন প্রতারণার সম্পদ ছাড়া কিছুই নয়।” (সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)[1]
باب لَمَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَمَوْضِعُ سَوْطٍ فِي الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَمَنْ زُحْزِحَ عَنْ النَّارِ وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ فَقَدْ فَازَ الْآيَةَ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৭৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪১৭, ৭৪১৮ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে সাহল ইবনু সাদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন; আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১৪ তে।
অপর শাহিদ আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩১৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০০. জান্নাতের প্রাসাদসমূহ সম্পর্কে
২৮৫৯. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমরা বললাম: জান্নাতের নির্মাণ কি দিয়ে? তিনি বললেন: “এর একটি ইট হল সোনার আর একটি হল রূপার। এর গাঁথুনী হল সুগন্ধময় মিশকের। এর নুড়িগুলো হল ইয়াকুতের ও মোতির, মাটি হল জাফরানের। যে ব্যক্তি এতে প্রবেশ করবে, এখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে। সে নিয়ামত ও সুখ ভোগ করবে, কোনো দু:খ-কষ্ট পাবে না। তাদের যৌবনকখনও শেষ হবে না, আর তাদের পরিচ্ছদ কখনও পুরাতন ও জীর্ণ হবেনা।”[1]
باب فِي بِنَاءِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ سَعْدَانَ الْجُهَنِيِّ عَنْ أَبِي مُجَاهِدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُدِلَّةَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الْجَنَّةُ مَا بِنَاؤُهَا قَالَ لَبِنَةٌ مِنْ ذَهَبٍ وَلَبِنَةٌ مِنْ فِضَّةٍ مِلَاطُهَا الْمِسْكُ الْأَذْفَرُ وَحَصْبَاؤُهَا الْيَاقُوتُ وَاللُّؤْلُؤُ وَتُرَابُهَا الزَّعْفَرَانُ مَنْ يَدْخُلْهَا يَخْلُدْ فِيهَا يَنْعَمُ لَا يَبْؤُسُ لَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ وَلَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৮৪ তে। ((আহমাদ ২/৩০৪-৩০৫, ৩০৫, ৪৪৫; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫২৬।- –ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮২১।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০১. জান্নাতুল ফিরদাউস সম্পর্কে
২৮৬০. ’আবদুল্লাহ ইবনু কায়স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতুল ফিরদাউস হলো চারটি: “এ দু’টি হবে সোনার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু (সোনার তৈরী হবে)। এবং আরো দু’টি থাকবে রূপার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু (রৌপ্য নির্মিত হবে)। জান্নাতু আদনে এর অধিবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর (কিবরিয়াই) বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না। এ নহর সমূহ জান্নাতু আদন এর একটি ফাটল থেকে উত্সারিত হয় এরপর সেগুলি পরবর্তীতে নহর হিসেবে প্রবাহিত হয়।”[1] আব্দুল্লাহ বলেন: ’জাওবাহ’ অর্থ: পৃথিবী যেখান থেকে আবর্তিত হয়।
باب فِي جَنَّاتِ الْفِرْدَوْسِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَبُو قُدَامَةَ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ أَرْبَعٌ ثِنْتَانِ مِنْ ذَهَبٍ حِلْيَتُهُمَا وَآنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا وَثِنْتَانِ مِنْ فِضَّةٍ حِلْيَتُهُمَا وَآنِيَتُهُمَا وَمَا فِيهِمَا وَلَيْسَ بَيْنَ الْقَوْمِ وَبَيْنَ أَنْ يَنْظُرُوا إِلَى رَبِّهِمْ إِلَّا رِدَاءُ الْكِبْرِيَاءِ عَلَى وَجْهِهِ فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ وَهَذِهِ الْأَنْهَارُ تَشْخُبُ مِنْ جَنَّاتِ عَدْنٍ فِي جَوْبَةٍ ثُمَّ تَصْعَدُ بَعْدُ أَنْهَارًا قَالَ عَبْد اللَّهِ جَوْبَةٌ مَا يُجَابُ عَنْهُ الْأَرْضُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/১৪৮ নং ১৫৯৫৬; আহমাদ ৪/৪১৬; আব্দ ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ৫৪৫; আবূ আউয়ানা ১/১৫৭; আবূ নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ১৪১; হিলইয়া ২/৩১৬-৩১৭; তায়ালিসী ২/২৪৩ নং ২৮৩৯; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশূর নং ২১৭; আসলাম ইবনু সাহল, তারীখ ওয়াসীত পৃ: ১৯১।
আর এটি মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে: “দু’টি হবে সোনার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং এর ভিতরে সকল বস্তু (সোনার তৈরী হবে)। এবং আরো দু’টি থাকবে রূপার: এ দু’টির সকল ভূষণ, পাত্র এবং ভিতরের সকল বস্তু (রৌপ্য নির্মিত হবে)। জান্নাতু আদনে এর অধিবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের দর্শনের মাঝে আল্লাহর সত্তার ওপর জড়ানো তাঁর (কিবরিয়াই) বিরাটত্বের চাদর ছাড়া আর কোন জিনিস থাকবে না।”
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৩৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০২. যে দলটি সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে
২৮৬১. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার উম্মতের প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা পূর্ণিমার চাঁদের মত উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা আসমানের অতি উজ্জ্বল তারকার ন্যায় আকৃতি ধারণ করবে।”
তখন উকাশা দাঁড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তখন তিনি দু’আ করেন: “হে আল্লাহ! তাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করুন।”
এরপর অপর এক ব্যক্তি উঠে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করুন, আল্লাহ যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন।তখন তিনি বললেন: “এ ব্যাপারে উক্কাশা তোমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে।”[1]
باب فِي أَوَّلِ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ عَلَى أَحْسَنِ كَوْكَبٍ إِضَاءَةً فِي السَّمَاءِ فَقَامَ عُكَّاشَةُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৫, ৩২৪৬; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮৪, ৬৪৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২০, ৭৪৩৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৭৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৩. জান্নাতীদের জান্নাতে প্রবেশের সময় যা বলা হবে
২৮৬২. আবূ হুরাইরা ও আবী সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ আয়াত): “আর তাদেরকে আহবান করা হবে যে, এ হলো তোমাদের জান্নাত, তোমাদেরকে যার অধিকারী করা হয়েছে তোমাদের কর্মফলস্বরূপ (আ’রাফ ৭: ৪৩)।” –এ সম্পর্কে বলেছেন: “তাদেরকে আহবান করে বলা হবে, ’তোমরা সদা সুস্থ থাকবে, কখনও অসুস্থ হবে না। তোমরা সদা সুখ-স্বাচ্ছন্দে থাকবে, কখনও দু:খ-কষ্টে পতিত হবে না। তোমরা সদা তরুণ থাকবে, কখনও বৃদ্ধ হবে না। তোমরা সদা জীবিত থাকবে, কখনও মরবে না।”[1]
باب مَا يُقَالُ لِأَهْلِ الْجَنَّةِ إِذَا دَخَلُوهَا
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ عَنْ حَمْزَةَ بْنِ حَبِيبٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْأَغَرِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنُودُوا أَنْ تِلْكُمْ الْجَنَّةُ قَالَ نُودُوا صِحُّوا فَلَا تَسْقَمُوا وَانْعَمُوا فَلَا تَبْؤُسُوا وَشِبُّوا فَلَا تَهْرَمُوا وَاخْلُدُوا فَلَا تَمُوتُوا
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩১৯ ৩/৩৮, ৯৫; নাসাঈ, কুবরা নং ১১১৮৪; আবূ নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৮৭, ২৯০; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৭; তিরমিযী, তাফসীর ৩২৪১ (৩২৪৬ -অনুবাদক); ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ৯৪২; বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ২৪০, ৪৪৩; এ সনদটি সহীহ।; তাবারী, তাফসীর ৮/১৮৫ অত্যন্ত যয়ীফ সনদে; ইবনুল মুবারক, যুহদ নং ৪২৮।
তিরমিযী বলেছেন: “এ হাদীসটি ইবনুল মুবারক ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন ছাওরী থেকে, তিনি এটি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম r হতে) মারফু’ করেননি।’
আমাদের বক্তব্য: এখানে মাওকুফ বর্ণনাটি এর কোনো ক্ষতি করেনা। কারণ, এখানে মারফু’ করাটা অতিরিক্তি (যিয়াদাহ)। আর ছিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবীর অতিরিক্ত (যিয়াদাহ) মাকবুল (গ্রহণযোগ্য)। আর অনেকেই এটি ছিকাহ বা বিশ্বস্ত রাবী হতে মারফু’ রূপে বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. জান্নাতের অধিবাসী ও এর নিয়ামতসমূহের বর্ণনা
২৮৬৩. যাইদ ইবনু আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতের অধিবাসীদের একজন লোককে পানাহার, সহবাস ও কামশক্তি ইত্যাদির ক্ষেত্রে একশত পুরুষের শক্তি প্রদান করা হবে।” তখন এক ইয়াহুদী বললো, যারা পানাহার করবে, এজন্য তাদের তো প্রাকৃতিক প্রয়োজন পূরণ (তথা পেশাব-পায়খানা) করতে হবে। তিনি বললেন: “তাদের গাত্র চামড়া হতে ঘাম বের হবে, তখন তাদের পেট আবার সংকুচিত হয়ে যাবে।”[1]
باب فِي أَهْلِ الْجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عُقْبَةَ الْمُحَلِّمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الرَّجُلَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ لَيُعْطَى قُوَّةَ مِائَةِ رَجُلٍ فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ وَالْجِمَاعِ وَالشَّهْوَةِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ الْيَهُودِ إِنَّ الَّذِي يَأْكُلُ وَيَشْرَبُ تَكُونُ مِنْهُ الْحَاجَةُ قَالَ يَفِيضُ مِنْ جِلْدِهِ عَرَقٌ فَإِذَا بَطْنُهُ قَدْ ضَمَرَ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/৩৭১; ইবনু আবী শাইবা ১৩/১০৮ নং ১৫৮৪১; তাবারাণী, কাবীর ৫/১৭৮ নং ৫০০৪, ৫০০৫, ৫০০৬, ৫০০৭, ৫০০৮, ৫০০৯; হুসাইন মারওয়াযী, যাওয়াইদ আলা যুহদি ইবনুল মুবারক নং ১৪৫৯; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩২৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. জান্নাতের অধিবাসী ও এর নিয়ামতসমূহের বর্ণনা
২৮৬৪. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুলস্নাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: জান্নাতের অধিবাসীগণ যুবক, লোমহীন- দাড়ি-গোঁফহীন এবং সুরমা লাগানো চোখ বিশিষ্ট হবেন। তাদের পোষাক-পরিচ্ছেদ কখনও পুরাতন ও জীর্ণ হবে না এবং তাঁদের যৌবন কখনও শেষ হবে না।”[1]
باب فِي أَهْلِ الْجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ حَدَّثَنَا مُعَاذٌ يْعَنِي ابْنَ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ شَهْرِ بْنِ حَوْشَبٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَهْلُ الْجَنَّةِ شَبَابٌ جُرْدٌ مُرْدٌ كُحْلٌ لَا تَبْلَى ثِيَابُهُمْ وَلَا يَفْنَى شَبَابُهُمْ
তাখরীজ: তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৪২।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে: আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩২৯; তাবারাণী, সগীর ৫/১৭৮; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৮৪; বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৪১৮; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৩/৫৬, এ সনদটি সহীহ যদি হারুণ ইবনু রিয়ার আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শ্রবণ করে থাকেন। (এর পূর্বে তিনি এ ব্যক্তির আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে হাদীস শ্রবণ করা সম্পর্কে মুহাদ্দিসগণের মতভেদ উল্লেখ করেছেন।–অনুবাদক))
এর অপর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে: আহমাদ ২/২৯৫, ৩৪৩, ৫১৫; ইবনু আবী শাইবা ১৩/১১৪ নং ১৫৮৫৩; তাবারাণী, সগীর ২/১৭; আওসাত নং ৫৪১৮; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৯৬; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ২৫৫; ইবনু আবী দাউদ, বা’আছ নং ৬৩; বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৪১৯, ৪২০; ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৪২; তবে এ সনদে আলী ইবনু যাইদ ইবনু জুদ’আন রয়েছে আর সে যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ১০৪. জান্নাতের অধিবাসী ও এর নিয়ামতসমূহের বর্ণনা
২৮৬৫. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ জান্নাতী লোকেরা তথায় পানাহার করবে। তবে তারা তথায় পেশাব করবেনা, নাকও ঝাড়বেনা, আবার পায়খানা করবে না। তাদের ঐগুলি হবে ঢেকুর আকারে। তারা আহার করবে, পান করবে, আর তাসবীহ-তাহলীলের যোগ্যতা তাদের অন্তকরণে ইলহাম করা হবে যেমনি ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস তাদের মাঝে ইলহাম করা হয়।”[1]
باب فِي أَهْلِ الْجَنَّةِ وَنَعِيمِهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرًا قِيلَ لِأَبِي عَاصِمٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ أَهْلُ الْجَنَّةِ لَا يَبُولُونَ وَلَا يَمْتَخِطُونَ وَلَا يَتَغَوَّطُونَ وَيَكُونُ ذَلِكَ مِنْهُمْ جُشَاءً يَأْكُلُونَ وَيَشْرَبُونَ وَيُلْهَمُونَ التَّسْبِيحَ وَالْحَمْدَ كَمَا يُلْهَمُونَ النَّفَسَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৩৫ তে।
সংযোজনী: খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ১৩/১৯৭; আব্দ ইবনু হুমাইদ, মুনতাখাব নং ১০৩০; আবীশ শাইখ, আল আযিমাহ নং ৫৮৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০৫. আল্লাহ তাঁর সালিহীন (নেককার) বান্দাদের জন্য যে নে’আমত প্রস্তুত করে রেখেছেন
২৮৬৬. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “আল্লাহ বলেন, আমি আমার সালিহীন (নেককার) বান্দাদের জন্য যে নে’আমত প্রস্তুত করে রেখেছি, তা কোন চোখ কখনও দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং কোন মানুষের অন্তরের কল্পনা তার ধারণাও করতে পারেনি।’ তোমরা ইচ্ছা করলে পাঠ কর: কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর কি লুকায়িত রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের পুরস্কার স্বরূপ। [1] (সুরা সিজদা ৩২: ১৭)
باب مَا أَعَدَّ اللَّهُ لِعِبَادِهِ الصَّالِحِينَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَعْدَدْتُ لِعِبَادِي الصَّالِحِينَ مَا لَا عَيْنٌ رَأَتْ وَلَا أُذُنٌ سَمِعَتْ وَلَا خَطَرَ عَلَى قَلْبِ بَشَرٍ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৪; মুসলিম, জান্নাত ২৮২৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৯ তে।
সংযোজনী: এছাড়াও, বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশুর নং ৩৮৯; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ১০৯-১১৫; হিলইয়া ৯/২৬; হুমাম ইবনু মামবাহ, তার সহীহফাতে নং ৩১। ((আহমাদ ২/৩১৩, ৩৭০, ৪১৬, ৪৩৮, ৪৬২, ৪৯৫, ৫০৬; তিরমিযী, তাফসীর ৩২৯২; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩২৮।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর টীকা হা/২৮২৮।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১০৬. সবচেয়ে নিম্নস্তরের জান্নাতী লোকের অবস্থানস্থল সম্পর্কে
২৮৬৭. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতবাসীদের মধ্যে যে কোনো ব্যক্তিকে সবচেয়ে নিম্নস্তরের বাসস্থান দেয়া হবে, যে আল্লাহর নিকট কামনা করবে। তখন তাকে বলা হবে: “(যা কামনা করেছো) তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে অনুরুপ পারিমাণও (দেওয়া হলো)।” এছাড়াও, তাকে আরও শিখিয়ে দেওয়া হবে যে, (তুমি) এরূপ এরূপ (চাও)।
তখন তাকে বলা হবে: “তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে অনুরুপ পারিমাণও (দেওয়া হলো)।”আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তখন তাকে বলা হবে: (যা কামনা করেছো) তাতো তোমার জন্য দেওয়াই হলো, এবং তার সাথে আরও দশ গুণ পারিমাণ (দেওয়া হলো)।”[1]
باب فِي أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلًا مَنْ يَتَمَنَّى عَلَى اللَّهِ فَيُقَالُ لَهُ لَكَ ذَاكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ إِلَّا أَنَّهُ يُلَقَّى سِوَى كَذَا وَكَذَا فَيُقَالُ لَهُ ذَاكَ لَكَ وَمِثْلُهُ مَعَهُ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُقَالُ لَهُ ذَاكَ وَعَشْرَةُ أَمْثَالِهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১৩/১১০-১১১ নং ১৫৮৪৬; আহমাদ ২/৪৫০; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৪৪৬, ৪৪৭; মুসলিম, ঈমান ১৮২ (৩০১); বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪৩৭০; হুমাম ইবনু মামবাহ, তার সহীহফাতে নং ৫৬। আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৩৯ তে।
এ হাদীসটি দীর্ঘাকারে বর্ণিত হয়েছে, বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনায়: বুখারী, আযান ৮০৬; মুসলিম, ঈমান ১৮২ তে, আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬০, ৬৩৬১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৪২, ৭৪২৯, ৭৪৪৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২১২ তে।
এছাড়াও, নুয়াইম ইবনু হাম্মাদ, যাওয়াইদ আলা যুহদি ইবনুল মুবারক নং ২৮৪; বাইহাকী, বায়াছ ওয়ান নুশুর নং ৯৪, ৪২৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. জান্নাতের কক্ষসমূহের বর্ণনা
২৮৬৮. সাহল ইবনু সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাতীরা জান্নাতে বালাখানার মালিকদেরকে পরস্পর দেখতে পাবে, যেমন তোমরা আকাশে উজ্জ্বল তারকাগুলো দেখতে পাও।”[1]
باب فِي غُرَفِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا أَبُو حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ أَهْلَ الْجَنَّةِ لَيَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ فِي الْجَنَّةِ كَمَا تَرَوْنَ الْكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ فِي السَّمَاءِ
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫৫৫; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫২৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৯, ৭৩৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৭. জান্নাতের কক্ষসমূহের বর্ণনা
২৮৬৯. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আকাশে উজ্জ্বল তারকারাজি হলো পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্তের (তারকারাজি)।[1]
باب فِي غُرَفِ الْجَنَّةِ
قَالَ أَبُو حَازِمٍ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ النُّعْمَانَ بْنَ أَبِي عَيَّاشٍ فَحَدَّثَنِي عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ قَالَ الْكَوْكَبُ الدُّرِّيُّ فِي السَّمَاءِ الشَّرْقِيُّ وَالْغَرْبِيُّ
তাখরীজ: বুখারী, রিকাক ৬৫৫৬; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৩০, ১১৭৮, ১২৭৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৯৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০৮. আয়তলোচনা হুরদের গুণ-বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে
২৮৭০. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতবাসীদের প্রত্যেকের জন্য এমন দু’জন স্ত্রী থাকবে (যাদের সৌন্দর্যের কারণে) তাদের সত্তরটি কাপড় ভেদ করেও পায়ের নলার হাড়ের মজ্জা দেখা যাবে। আর সেখানে সঙ্গীন (স্ত্রীহীন) কেউ থাকবে না।”[1]
باب فِي صِفَةِ الْحُورِ الْعِينِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمِنْهَالِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الْقُرْدُوسِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا فِي الْجَنَّةِ أَحَدٌ إِلَّا لَهُ زَوْجَتَانِ إِنَّهُ لَيَرَى مُخَّ سَاقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ سَبْعِينَ حُلَّةً مَا فِيهَا مِنْ عَزَبٍ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৩, তাফসীর ৪৮৭৯; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৩২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৩৯৫ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১৩/১০৫-১০৬ নং ১৫৮৩১।
পরিচ্ছেদঃ ১০৯. জান্নাতের তাবুর বর্ণনা
২৮৭১. আবূ বাকার ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু কায়স তার পিতা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতের মধ্যে মোতির নির্মিত শূণ্যগর্ভ একটি তাঁবু থাকবে। আসমানের দিকে এর উচ্চতা হবে ষাট মাইল। এর প্রতিটি কোণে থাকবে এক একজন মুমিনের পরিবার। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না।”[1]
باب فِي خِيَامِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا أَبُو عِمْرَانَ الْجَوْنِيُّ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخَيْمَةُ دُرَّةٌ مُجَوَّفَةٌ طُولُهَا فِي السَّمَاءِ سِتُّونَ مِيلًا فِي كُلِّ زَاوِيَةٍ مِنْهَا أَهْلٌ لِلْمُؤْمِنِ لَا يَرَاهُمْ الْآخَرُونَ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৪৫, ৩২৪৬; মুসলিম, জান্নাত ২৮৩৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮৪, ৬৪৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২০, ৭৪৩৬, ৭৪৩৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১০. জান্নাতবাসীদের সন্তান-সন্তুতির বর্ণনা
২৮৭২. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মুমিন যদি জান্নাতে সন্তান কামনা করে, তবে তার কামনা অনুসারে সন্তানের গর্ভ, জন্ম ও বয়সের পূর্ণতা প্রাপ্তি সবকিছু এক মুহূর্তেই সংঘটিত হবে।”[1]
باب فِي وَلَدِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ وَالْقَوَارِيرِيُّ عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَامِرٍ الْأَحْوَلِ عَنْ أَبِي الصِّدِّيقِ النَّاجِيِّ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا اشْتَهَى الْوَلَدَ فِي الْجَنَّةِ كَانَ حَمْلُهُ وَوَضْعُهُ وَسِنُّهُ فِي سَاعَةٍ كَمَا اشْتَهَى
তাখরীজ: বাইহাকী, বা’আছ ওয়ান নুশূর নং ৫৮৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৫১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪০৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৬ তে। ((আহমাদ ৯/৩, ৮০; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৬৩, তিনি বলেন, হাসান-গারীব; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩৩৮।– ফাতহুল মান্নান, হা/৩০০২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১১. জান্নাতবাসীদের কাতারসমূহের বর্ণনা
২৮৭৩. বুরায়দা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “জান্নাতীদের একশত বিশটি কাতার হবে। তন্মধ্যে আশিটি কাতার হবে আমার উম্মাতের এবং চল্লিশটি হবে অন্যান্য লোকদের।”[1]
باب فِي صُفُوفِ أَهْلِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ قَالَ أُرَاهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهْلُ الْجَنَّةِ عِشْرُونَ وَمِائَةُ صَفٍّ ثَمَانُونَ مِنْهَا أُمَّتِي وَأَرْبَعُونَ سَائِرُ النَّاسِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৫৯, ৭৪৬০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬৩৮, ২৬৩৯ তে। ((আহমাদ ৫/২৪৭-২৫৫; তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৪৬, তিনি বলেন, হাসান; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪২৮৯; হাকিম ১/৮২, তিনি বলেন, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী, যাহাবী তাকে সমর্থন করেন।– ফাতহুল মান্নান, হা/৩০০৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
এর শাহিদ রয়েছে ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৩৫৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১২. জান্নাতের নহর সমূহের বর্ণনা
২৮৭৪. হাকিম ইবনু মুআবিয়া হতে তার পিতার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “জান্নাতে দুধের সাগর, মধুর সাগর ও শরাবের সাগর রয়েছে। এ থেকে অনেক নদীর শাখা-প্রশাখা বের হবে।”[1]
باب فِي أَنْهَارِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ قَالَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ حَكِيمِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَحْرَ اللَّبَنِ وَبَحْرَ الْعَسَلِ وَبَحْرَ الْخَمْرِ ثُمَّ تَشَقَّقُ مِنْهُ الْأَنْهَارُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪০৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬২৩ তে। এছাড়াও, আবূ দাউদ, আল বায়াছ নং ৭০; আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৩০৭। ((তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৭১, তিনি একে হাসান-সহীহ’ বলেছেন; আহমাদ ৫/৫।–ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/২৮৩৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১৩. (হাউযে) কাওছার সম্পর্কে
২৮৭৫. আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন “নিশ্চয়ই আমি তোমাকে ’আল কাওছার’ দান করেছি।” (সূরা আল কাওছার: ১) এ সূরাটি নাযিল হলো তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তা (কাওছার) হল জান্নাতের একটা নহর। এর দুই তীর হল স্বর্ণের, আর মোতি ও ইয়াকুতের উপর দিয়ে তা প্রবাহিত হয়। এর মাটি মিশকের সুগন্ধি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধময়। এটি খেতে মধু অপেক্ষাও মিষ্টি এবং এর পানি তুষার থেকে শুভ্র।”[1]
باب فِي الْكَوْثَرِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ نَهْرٌ فِي الْجَنَّةِ حَافَّتَاهُ مِنْ ذَهَبٍ يَجْرِي عَلَى الدُّرِّ وَالْيَاقُوتِ تُرْبَتُهُ أَطْيَبُ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَطَعْمُهُ أَحْلَى مِنْ الْعَسَلِ وَمَاؤُهُ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنْ الثَّلْجِ
তাখরীজ: আহমাদ ২/১১২; হাকিম ৩/৫২৪, তিনি বলেন, এর সনদ সহীহ, যাহাবী চুপ থেকেছেন; তিরমিযী, তাফসীর ৩৩৫৮; তিনি বলেন, ‘হাদীসটি হাসান সহীহ’; ইবনু মাজাহ, যুহদ ৪৩৩৪ সহীহ সনদে।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৭৬, ৩১৮৬, ৩২৯০, ৩৫২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. জান্নাতের বৃক্ষরাজির বর্ণনা সম্পর্কে
২৮৭৬. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলবে, তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না। আর তোমরা ইচ্ছা করলে তিলাওয়াত করতে পার (وَظِلٍّ مَمْدُوْدٍ) (অর্থ: “এবং দীর্ঘ ছায়া”) (সূরা ওয়াকিয়া)।[1]
باب فِي أَشْجَارِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ وَظِلٍّ مَمْدُودٍ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৫২; মুসলিম, জান্নাত ২৮২৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪১১, ৭৪১২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৫ তে। এছাড়াও, ইবনু তাহমান, মাশাইখাতুহ ১৩০; ইবনু আবী দাউদ, আল বায়াছ নং ৬৬; ইবনুল জাউযী, মাশাইখাতুহ, তারজমাহ শাইখ সাবি’ ওয়াস সাবিঈন পৃ: ১৮২-১৮৩।
এর শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যেটি বুখারী, বাদউল খালক ৩২৫১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৯১ তে। আবার, খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস দেখুন, মাউসিলী নং ১৩৭৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৪. জান্নাতের বৃক্ষরাজির বর্ণনা সম্পর্কে
২৮৭৭. (অপর সনদে) আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে যার ছায়ায় কোন আরোহী শত বছর পর্যন্ত চলবে, তবুও তা অতিক্রম করতে পারবে না। আর এটি হলো ’শাজারাতুল খুলদ’(’স্থায়ী বৃক্ষ’)।”[1]
باب فِي أَشْجَارِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي الضَّحَّاكِ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ شَجَرَةً يَسِيرُ الرَّاكِبُ فِي ظِلِّهَا مِائَةَ عَامٍ لَا يَقْطَعُهَا هِيَ شَجَرَةُ الْخُلْدِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১১৫. আজওয়া (উৎকৃষ্ট জাতের) খেুজর সম্পর্কে
২৮৭৮. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আজওয়া হলো জান্নাতী খেজুর। এটি সকল বিষের প্রতিষেধক।”[1]
باب فِي الْعَجْوَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ قَالَ سَمِعْتُ شَهْرَ بْنَ حَوْشَبٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعَجْوَةُ مِنْ الْجَنَّةِ وَهِيَ شِفَاءٌ مِنْ السُّمِّ
তাখরীজ: আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৯৭, ৬৪০০, ৬৪০৭ তে।
সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা নং ৫৩২৯; তায়ালিসী, ১/৩৪৫ নং ১৭৬১; আহমাদ ২/৩০১, ৩০৫, ৩২৫, ৪১২, ৫/৫১১; নাসাঈ, কুবরা নং ৬৭১৯, ৬৭২০, ৬৭২১; ইবনু মাজাহ, তিব্ব ৩৪৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৮৯৮।
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
২৮৭৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “নিশ্চয় জান্নাতে একটি বাজার থাকবে।” তারা বললেন, সেটি আবার কি? তিনি বললেন: “মিশক দিয়ে নির্মিত বালির টিলাসমূহ, যার উদ্দেশ্যে জান্নাতবাসীরা বের হবে, এরপর তারা সেখানে একত্রিত হবে, অতঃপর আল্লাহ তাদের উপর একটি বায়ু প্রবাহিত করবেন। (ধুলি-বালি তাদের চেহারায় লাগবে আর এতে তাদের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পাবে।) অতঃপর তারা তাদের ঘরে (নিজ পরিবারের নিকট) ফিরে আসবে। তখন তাদের পরিবারের লোকেরা তাদেরকে বলবে, আমাদের নিকট হতে যাবার পর তোমাদের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরে তারাও তাদের পরিবারের লোকদেরকে এরূপ বলবে।”[1]
باب فِي سُوقِ الْجَنَّةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ لَسُوقًا قَالُوا وَمَا هِيَ قَالَ كُثْبَانٌ مِنْ مِسْكٍ يَخْرُجُونَ إِلَيْهَا فَيَجْتَمِعُونَ فِيهَا فَيَبْعَثُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ رِيحًا فَتُدْخِلُهُمْ بُيُوتَهُمْ فَيَقُولُ لَهُمْ أَهْلُوهُمْ لَقَدْ ازْدَدْتُمْ بَعْدَنَا حُسْنًا وَيَقُولُونَ لِأَهْلِيهِمْ مِثْلَ ذَلِكَ
তাখরীজ: পরবর্তী হাদীসটি দেখুন। ((মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮৩৩- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ১১৬. জান্নাতের বাজারের বর্ণনা
২৮৮০. (অপর সনদে) আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
باب فِي سُوقِ الْجَنَّةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮৩৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৪৩৮৯; আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৭. জান্নাতকে ঘিরে রাখা হয়েছে অপছন্দনীয় বস্তু দ্বারা
২৮৮১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জান্নাতকে অপছন্দনীয়-কষ্টকর বস্তু দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে আর জাহান্নামকে প্রবৃত্তি-(কামনা-বাসনা) দ্বারা বেষ্টন করা হয়েছে।”[1]
باب حُفَّتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُفَّتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ وَحُفَّتْ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিফাতুল জান্নাত ২৮২২। ((তিরমিযী, সিফাতুল জান্নাত ২৫৫৯))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১৬, ৭১৮ তে। এছাড়াও, আবী নুয়াইম, সিফাতুল জান্নাত নং ৪২।
পরিচ্ছেদঃ ১১৮. সম্পদশালীদের পূর্বে দরিদ্রদের জান্নাতে প্রবেশ
২৮৮২. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি মসজিদে একস্থানে বসে ছিলাম, আবার দরিদ্র মুহাজিরগণও একটি হালকায় (বৃত্তাকারে) বসে ছিলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে প্রবেশ করে তাদের নিকট গিয়ে বসলেন। ফলে আমিও উঠে তাদের নিকট গেলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের উদ্দেশ্যে বললেন: “দরিদ্র মুহাজিরগণ যেন সুসংবাদ গ্রহণ করে যা তাদেরকে চেহারাগুলিকে উত্ফুল্ল করবে। কেননা, তারা সম্পদশালীদের চল্লিশ বছর পুর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে।”
তিনি বলেন, আমি দেখলাম তাদের চেহারাগুলির রং (আনন্দে) আলোকিত হয়ে উঠলো।
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এমনকি আমি আকাংখা করতে থাকলাম যে, আমি যদি তাদের সাথী হতাম!’[1]
باب فِي دُخُولِ الْفُقَرَاءِ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ قَالَ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ جُبَيْرٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ بَيْنَا أَنَا قَاعِدٌ فِي الْمَسْجِدِ وَحَلْقَةٌ مِنْ فُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ قُعُودٌ إِذْ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَعَدَ إِلَيْهِمْ فَقُمْتُ إِلَيْهِمْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُمْ لِيُبْشِرْ فُقَرَاءُ الْمُهَاجِرِينَ بِمَا يَسُرُّ وُجُوهَهُمْ فَإِنَّهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ قَبْلَ الْأَغْنِيَاءِ بِأَرْبَعِينَ عَامًا قَالَ فَلَقَدْ رَأَيْتُ أَلْوَانَهُمْ أَسْفَرَتْ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ مَعَهُمْ
তাখরীজ: আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/১৩৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭৭ (ইবনু ওয়াহহাব সূত্রে) এ সনদটি সহীহ; মুসলিম, যুহদ ২৯৭৯।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৯. জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়ার বর্ণনা
২৮৮৩. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জাহান্নাম তার রবের নিকট অভিযোগ করে বলেছে, হে রব! আমার এক অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলেছে। তখন তিনি তাকে দু’টি নিঃশ্বাস ফেলার অনুমতি প্রদান করেন। একটি নিঃশ্বাস শীতকালে আর একটি নিঃশ্বাস গ্রীষ্মকালে। ফলে তোমরা গরমের তীব্রতা এবং শীতের তীব্রতা অনুভব করে থাক।”[1]
باب فِي نَفَسِ جَهَنَّمَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَكَتْ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنْ الْحَرِّ وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنْ الزَّمْهَرِيرِ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩২৬০; মুসলিম, মাসাজিদ ৬১৭ (১৮৫, ১৮৭)
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৬৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১৯. জাহান্নামের শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়ার বর্ণনা
২৮৮৪. (অপর সনদে) আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [1]
باب فِي نَفَسِ جَهَنَّمَ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَاصِمِ بْنِ بَهْدَلَةَ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: আর হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১২০. নাবী (ﷺ) এর বাণীঃ তোমাদের এ আগুন জাহান্নামের ঐ আগুনের এত ভাগ
২৮৮৫. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের এ আগুণ জাহান্নামের আগুণের সত্তর ভাগের একভাগ।”[1]
باب فِي قَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَارُكُمْ هَذِهِ جُزْءٌ مِنْ كَذَا جُزْءًا
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا الْهَجَرِيُّ عَنْ أَبِي عِيَاضٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ نَارَكُمْ هَذِهِ جُزْءٌ مِنْ سَبْعِينَ جُزْءًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, বাদাইল খালক ৩২৬৫; মুসলিম, জান্নাত ২৮৪৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৬২, ৭৪৬৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬০৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২১. জাহান্নামের অধিবাসীদের সর্বনিম্ন আযাবভোগকারীর বর্ণনা
২৮৮৬. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “(জাহান্নামে) সবচেয়ে হালকা আযাবভোগকারী ব্যক্তি হবে এমন যে, তার পায়ে একজোড়া আগুণের জুতা থাকবে, যার কারণে তার মস্তিষ্ক টগবগ করে ফুটতে থাকবে।”[1]
باب فِي أَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَهْوَنُ النَّاسِ عَذَابًا مَنْ لَهُ نَعْلَانِ يَغْلِي مِنْهُمَا دِمَاغُهُ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৪৩২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৭২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৬১৭ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আবী শাইবা ১৩/১৫৭ নং ১৫৯৭৯ নু’মান ইবনু বাশীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ সনদে; সহীহ মুসলিম, ঈমান ২১৩; আবী আওয়ানা ১/৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ১২২. আল্লাহর বাণীঃ আরও আছে কি?
২৮৮৭. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছন: “যখন জাহান্নামের অধিবাসীদের তাতে নিক্ষেপ করা হবে, তখন জাহান্নাম বলবে, আরো আছে কি? আরো আছে কি? একথা তিনবার বলবে। তখন এর রব আল্লাহ্ তা’আলা নিজ পা তাতে রাখবেন। তখন জাহান্নাম গুটিয়ে গিয়ে বলবে, আর নয়, আর নয়, আর নয়।”[1]
باب قَوْلِهِ تَعَالَى هَلْ مِنْ مَزِيدٍ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَمَّارِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يُلْقَى فِي النَّارِ أَهْلُهَا وَتَقُولُ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ هَلْ مِنْ مَزِيدٍ ثَلَاثًا حَتَّى يَأْتِيَهَا رَبُّهَا فَيَضَعَ قَدَمَهُ عَلَيْهَا فَتُزْوَى وَتَقُولُ قَطْ قَطْ قَطْ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৮৪৯, ৪৮৫০; মুসলিম, জান্নাত ২৮৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭৪৪৭, ৭৪৭৬, ৭৪৭৭ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস যেটি বুখারী ও মুসলিম সম্মিলিতভাবে বর্ণনা করেছেন, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩১৪০ তে।