পরিচ্ছেদঃ ১. আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা সর্বোত্তম আমল
২৪২৯. আবদুল্লাহ ইবনু সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী একবার এক সঙ্গে বসে বিভিন্ন বিষয়ে পরস্পর আলোচনা করলাম। আমরা বললাম আল্লাহ তা’আলার কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল কোনটি তা যদি জানতে পারতাম তবে তা আমরা করতাম। তখন আল্লাহ তা’য়ালা নাযিল করেন:
“আকাশমণ্ডলি ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়। হে মু’মিনগন তোমরা যা করো না, তা তোমরা বলো কেন? (সূরা সাফফ ৬১: ১-৩) ... এ সুরার শেষ পর্যন্ত।আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সর্বশেষ আয়াত পর্যন্ত তা আমাদের পাঠ করে শুনান। আবু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আবদুল্লাহ ইবন সালাম রাদিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন। ইয়াহইয়া (রহঃ) বলেন আবু সালামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, ইয়াহইয়া আমাদেরকে পাঠ করে শুনিয়েছেন, আওযাঈ (রহঃ) আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন, আর মুহাম্মদ আমাদেরকে তা পাঠ করে শুনিয়েছেন।[1]
بَاب الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ الْأَعْمَالِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ قَالَ قَعَدْنَا نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَذَاكَرْنَا فَقُلْنَا لَوْ نَعْلَمُ أَيَّ الْأَعْمَالِ أَحَبَّ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى لَعَمِلْنَاهُ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى سَبَّحَ لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لَا تَفْعَلُونَ كَبُرَ مَقْتًا حَتَّى خَتَمَهَا قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى خَتَمَهَا قَالَ أَبُو سَلَمَةَ فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا ابْنُ سَلَامٍ قَالَ يَحْيَى فَقَرَأَهَا عَلَيْنَا أَبُو سَلَمَةَ وَقَرَأَهَا عَلَيْنَا يَحْيَى وَقَرَأَهَا عَلَيْنَا الْأَوْزَاعِيُّ وَقَرَأَهَا عَلَيْنَا مُحَمَّدٌ
তাখরীজ: তিরমিযী, তাফসীর ৩৩০৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৪৯৭, ৭৪৯৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৫৯৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. জিহাদের ফযীলত
২৪৩০. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ “যে ব্যক্তিকে তার ঘর হতে বের হয়, যদি শুধু আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা এবং আল্লাহ্র কালিমার প্রতি ঈমানই তাকে বের করে থাকে, তবে আল্লাহ্ তা’আলা তাকে জান্নাতে দাখিল করবেন, অথবা যেখান থেকে সে বের হয়েছিল, তাকে সেই ঘরে তার (পূর্ণ) সাওয়াব বা গনীমত সহ ফিরিয়ে আনবেন।”[1]
بَاب فَضْلِ الْجِهَادِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَكَفَّلَ اللَّهُ لِمَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ لَا يُخْرِجُهُ إِلَّا جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَتَصْدِيقُ كَلِمَاتِهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ أَوْ يَرُدَّهُ إِلَى مَسْكَنِهِ الَّذِي خَرَجَ مِنْهُ مَعَ مَا نَالَ مِنْ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ২৬; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৭৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬১০ ও ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১১৮,১১১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কোন্ প্রকার জিহাদ সর্বোত্তম
২৪৩১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন্ জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে যুদ্ধে মুজাহিদের ঘোড়াকে হত্যা করা হয় এবং তার নিজেরও রক্ত প্রবাহিত হয় (নিহত হয়)।[1]
بَاب أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ مِغْوَلٍ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيُّ الْجِهَادِ أَفْضَلُ قَالَ مَنْ عُقِرَ جَوَادُهُ وَأُهْرِيقَ دَمُهُ
পরিচ্ছেদঃ ৪. কোন্ আমল সর্বোত্তম?
২৪৩২. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ’কোন্ আমলটি উত্তম?’ তিনি বললেনঃ ’আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের ওপর ঈমান আনা।’ তিনি বলেন, আবার প্রশ্ন করা হল, ’তারপর কোনটি?’ তিনি বললেনঃ ’এরপর আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদ করা।’ প্রশ্ন করা হল, ’তারপর কোনটি।’ তিনি বললেনঃ ’উত্তম হজ্জ।’[1]
بَاب أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْأَعْمَالِ أَفْضَلُ قَالَ إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ قَالَ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ثُمَّ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قِيلَ ثُمَّ مَاذَا قَالَ ثُمَّ حَجٌّ مَبْرُورٌ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ২৬; মুসলিম, ঈমান ৮৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫১, ৪৫৯৮। আরও দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ হা/২০০-২১১।
পরিচ্ছেদঃ ৫. যে ব্যক্তি উটের দুগ্ধদোহনের বিরতিকাল পরিমাণ সময় আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে
২৪৩৩. মুআয ইবন জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছেনঃ যে ব্যক্তি একটি উটের দু’বেলা দুধ দোহানের মধ্যবর্তী বিরতির সময়টুকুও আল্লাহ রাস্তায় যুদ্ধে ব্যয় করে, তার জন্য আন্নাত অবধারিত হয়ে যায়।”[1] সেই সময়টুকু হলো (দুইবার দুধদোহনের মধ্যবর্তী সময়) যা তাতে দোহনকারীর জন্য প্রচুর দুধ প্রবাহিত করে।
بَاب مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ بَحِيرٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ مَالِكِ بْنِ يَخَامِرَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فُوَاقَ نَاقَةٍ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَهُوَ قَدْرُ مَا تَدُرُّ حَلَبَهَا لِمَنْ حَلَبَهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬১৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৯৬ তে। ((আবূ দাউদ, জিহাদ নং ২৫৪১; নাসাঈ, জিহাদ ৬/২৫-- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব টীকা নং ২৩৯৪।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৬. লোকদের মাঝে সর্বোত্তম সেই ব্যক্তি যে (জিহাদের জন্য) সর্বদা তার ঘোড়া প্রস্তুত রাখে
২৪৩৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তারা বসে ছিলেন এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের নিকট বেরিয়ে এলেন। তখন তিনি বললেন: “আমি কি তোমাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদাশীল ব্যক্তি সম্পর্কে অবগত করাব না?” আমরা বললাম, কেন নয়? (নিশ্চয়ই) ইয়া রাসূলুল্লাহ্! তিনি বললেন: “সে ঐ ব্যক্তি, যে মহান মহিয়ান আল্লাহর রাস্তায় তাঁর ঘোড়ার মাথা ধরে প্রস্তুত থাকে।” অথবা তিনি বলেন, বের হয়ে যায় এবং মৃত্যুবরণ করে বা শহীদ হয়ে যায়। তার পরবর্তী পর্যায়ের লোকের সংবাদও তোমাদেরকে দেব কি ? আমরা বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলুল্লাহ্! তিনি বললেন, সে হল ঐ ব্যক্তি যে নির্জনে কোন গুহায় থাকে, সেখানে সে সালাত আদায় করে, যাকাত আদায় করে এবং লোকদের অনিষ্ট থেকে দূরে সরে থাকে।” এরপর তিনি বললেন, “তোমাদেরকে কি নিকৃষ্ট লোক সম্পর্কে অবহিত করব?” আমরা বললাম, হ্যাঁ; ইয়া রাসূলুল্লাহ্! (অবহিত করুন)। তিনি বললেন, “সে হল ঐ ব্যক্তি যার কাছে কেউ আল্লাহ তা’আলার নামে (সাহায্য) চায় কিন্তু সে তাকে দান করে না।”[1]
بَاب أَفْضَلُ النَّاسِ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِرَأْسِ فَرَسِهِ
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ وَهُمْ جُلُوسٌ فَقَالَ أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِخَيْرِ النَّاسِ مَنْزِلَةً قُلْنَا بَلَى قَالَ رَجُلٌ مُمْسِكٌ بِرَأْسِ فَرَسِهِ أَوْ قَالَ فَرَسٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَتَّى يَمُوتَ أَوْ يُقْتَلَ قَالَ فَأُخْبِرُكُمْ بِالَّذِي يَلِيهِ فَقُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ امْرُؤٌ مُعْتَزِلٌ فِي شِعْبٍ يُقِيمُ الصَّلَاةَ وَيُؤْتِي الزَّكَاةَ وَيَعْتَزِلُ شُرُورَ النَّاسِ قَالَ فَأُخْبِرُكُمْ بِشَرِّ النَّاسِ مَنْزِلَةً فَقُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ الَّذِي يُسْأَلُ بِاللَّهِ وَلَا يُعْطِي بِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬০৪, ৬০৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৯৩, ১৫৯৪ তে। এছাড়াও, সাঈদ ইবনু মানসূর নং ২৪৩৪। ((মালিক, মুয়াত্তা, জিহাদ ১, মুরসাল হিসেবে; তিরমিযী, ফাযাইলুল্ জিহাদ ১৬৫২; নাসাঈ, যাকাত ৫/৮৩-- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব টীকা নং ২৩৯৫।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৭. আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) অবস্থান করার মর্যাদা
২৪৩৫. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদের সারিতে কোনো ব্যক্তির সামান্য সময় অবস্থান করা (ঘরে বসে) সত্তর বছর ইবাদত করার চাইতেও উত্তম।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ مَقَامِ الرَّجُلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَقَامُ الرَّجُلِ فِي الصَّفِّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ الرَّجُلِ سِتِّينَ سَنَةً
তাখরীজ: বাযযার নং ১৬৬৬, ১৬৬৭; তাবারাণী, কাবীর নং ১৮/১৬৮ নং ৩৭৭, ৩৯৫, ৪১৭; আওসাত ২/২৫২; মাজমাউল বাহরাইন নং ২৭১৩; হাকিম, ২/৬৮; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৬১; উকাইলী, আয যু’আফা ১/৮৬।
তবে এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ হতে আহমাদ ২৫২৪; তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৫০; হাকিম, ২/৬৮; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৬০ হাসান সনদে; অপর শাহিদ রয়েছে আবী উমামাহ হতে আহমাদ ৫/২৬৬ তে যয়ীফ সনদে।
অপর শাহিদ রয়েছে উছমান ইবনু আফ্ফান হতে ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১০৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. আল্লাহর রাস্তায় ধুলিমলিন হওয়ার ফযীলত
২৪৩৬. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির পদদ্বয় আল্লাহর পথে ধুলি-ধুসরিত হলো আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্য হারাম করে দেবেন।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْغُبَارِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَيْحٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سُلَيْمَانَ أَنَّ مَالِكَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ مَرَّ عَلَى حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ أَوْ حَبِيبٌ مَرَّ عَلَى مَالِكٍ وَهُوَ يَقُودُ فَرَسًا يَمْشِي فَقَالَ ارْكَبْ حَمَلَكَ اللَّهُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ اغْبَرَّتْ قَدَمَاهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৭৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬০৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫৮৮ তে। এছাড়াও, আহমাদ ৫/২২৫; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ তরজমাহ ১০০৩ সহীহ সনদে; দেখুন, আসদুল গাবাহ ৫/৩১-৩৩; আল ইসাবাহ ৯/৫৪-৫৫। ((তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৩২; নাসাঈ, জিহাদ ৬/১৪-- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব টীকা নং ২৩৯৭।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯. মহামহিম আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল বা এক বিকাল (অবস্থান করা)-এর ফযীলত
২৪৩৭. সাহল ইবনু সা’দ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহর রাস্তায় এক সকাল কিংবা এক বিকাল অবশ্যই দুনিয়া ও এর মধ্যেকার সব কিছু থেকে উত্তম।”[1]
بَاب الْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِنْ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৭৯৪; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৮১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১৪, ৭৫৩১, ৭৫৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন সিয়াম পালন করে
২৪৩৮. আবূ সাঈদ আল খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আল্লাহর রাস্তায় একদিন সাওম পালন করবে, আল্লাহ তা’আলা তার থেকে জাহান্নাম-কে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দিবেন।”[1]
بَاب مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ عَبْدٍ يَصُومُ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ إِلَّا بَاعَدَ اللَّهُ بَيْنَ وَجْهِهِ وَبَيْنَ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৪০; মুসলিম, সিয়াম ১১৫৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১২৫৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪১৭ তে। এছাড়াও, সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৪২৩।
পরিচ্ছেদঃ ১১. আল্লাহর পথে পাহারা দানে বিনিদ্র রজনী যাপন করা সম্পর্কে
২৪৩৯. আবী রাইহানাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কোনো এক যুদ্ধে শরীক ছিলেন। তিনি এক রাতে তাঁকে বলতে শুনেছেন: “সেই চক্ষুর জন্য জাহান্নামকে হারাম করা হয়েছে যে চোখ আল্লাহর পথে পাহারা দানে বিনিদ্র রজনী যাপন করে এবং সেই চক্ষুর জন্যও জাহান্নামকে হারাম করা হয়েছে যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে আর।” তিনি বলেন, তিনি তৃতীয় আরেকটি বিষয়ও বলেছিলেন, যা আমি ভূলে গেছি। বর্ণনাকারী আবী শুরাইহ বলেন, যে ব্যক্তি বলেছেন, আমি তাকে বলতে শুনেছি এ তৃতীয় বিষয়টি (হলো): “সেই চক্ষুর জন্য জাহান্নামকে হারাম করা হয়েছে যে চোখ আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়াবলী থেকে ফিরে থাকে অথবা, সেই চক্ষুর জন্যও জাহান্নামকে হারাম করা হয়েছে যা আল্লাহর রাস্তায় (জিহাদে) উপড়ে ফেলা হয়।”[1]
بَاب فِي الَّذِي يَسْهَرُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَارِسًا
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَيْحٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الصَّبَّاحِ مُحَمَّدِ بْنِ سُمَيْرٍ عَنْ أَبِي عَلِيٍّ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ أَبِي رَيْحَانَةَ أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي غَزْوَةٍ فَسَمِعَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ وَهُوَ يَقُولُ حُرِّمَتْ النَّارُ عَلَى عَيْنٍ سَهِرَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَحُرِّمَتْ النَّارُ عَلَى عَيْنٍ دَمَعَتْ مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ قَالَ وَقَالَ الثَّالِثَةَ فَنَسِيتُهَا قَالَ أَبُو شُرَيْحٍ سَمِعْتُ مَنْ يَقُولُ ذَاكَ حُرِّمَتْ النَّارُ عَلَى عَيْنٍ غَضَّتْ عَنْ مَحَارِمِ اللَّهِ أَوْ عَيْنٍ فُقِئَتْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৩৪; ইবনু আবী শাইবা ৫/৩৫০; নাসাঈ, কুবরা ৪৩২৫; হাকিম, ২/৮৩; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৪৯; বুখারী, কাবীর নং ৪/২৬৪; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ২/২৮; হাকিম এর সনদকে সহীহ বলেছেন, যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে হাকিম ইবনু মু’আবিয়া যার তাখরীজ দিয়েছি মাউসিলী, মু’জামুশ শুয়ূখ নং ২১৫। এর অপর একটি শাহিদ রয়েছে আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. আল্লাহর পথে পাহারা দানে বিনিদ্র রজনী যাপন করা সম্পর্কে
২৪৪০. উকবা ইবনে আমের আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তা’আলা নিরাপত্তামূলক পাহারাদানকারীদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।”[1] আব্দুল্লাহ আদ দারিমী বলেন, বর্ণনাকারী উমার ইবনু আব্দুল আযীয উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাক্ষাৎ লাভ করেননি।
بَاب فِي الَّذِي يَسْهَرُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ حَارِسًا
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا ابْنُ الدَّرَاوَرْدِيِّ عَنْ صَالِحِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ زَائِدَةَ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَحِمَ اللَّهُ حَارِسَ الْحَرَسِ قَالَ عَبْد اللَّهِ وَعُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَمْ يَلْقَ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৫০ তে। এছাড়াও, সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৪১৬; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৪৯, ১৫০ মুরসাল যয়ীফ; আরও দেখুন, মিসবাহুয যুজাজাহ ২/৩৯৪।
পরিচ্ছেদঃ ১২. আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়ের ফযীলত
২৪৪১. আবু মাসউদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাকে রশি যুক্ত একটি উটনী নিয়ে এসে বলল, এটি আল্লাহর রাস্তায় (দান করলাম)। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “কিয়ামতের দিন এর বিনিময়ে তোমার জন্য থাকবে নাকে রশিযুক্ত সাতশ’টি উটনী।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ النَّفَقَةِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي عَمْرٍو الشَّيْبَانِيِّ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ بِنَاقَةٍ مَخْطُومَةٍ فَقَالَ هَذِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَ بِهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سَبْعُ مِائَةِ نَاقَةٍ كُلُّهَا مَخْطُومَةٌ
তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৮৯২; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২২৯ নং ৬৩৩, ৬৩৪, ৬৩৫, ৬৩৬; হাকিম, ২/৯০; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৪৮; আহমাদ ৪/১২১, ৫/২৭৪; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৮/১১৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. যে ব্যক্তি তার সম্পদ হতে মহামহিম আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া দান করে
২৪৪২. ছা’ছা’আ ইবনু মুয়াবিয়া (রহঃ) বলেন, আবু যর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি উট চরাচ্ছিলেন অথবা, তা চালিয়ে নিচ্ছিলেন, তাঁর কাঁধে ছিল পানির একটি মশক। আমি বললাম : ইয়া আবূ যার! আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: ’আমার জন্য আমার কাজ।’ আবার আমি বললাম: আপনার কী হয়েছে? তিনিও বললেন: ’আমার জন্য আমার কাজ।’ আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করুন, যা আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছেন। তখন তিনি বললেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “যে মুসলিম বান্দা আল্লাহর রাস্তায় তার মাল-সম্পদ হতে জোড়া-জোড়া দান করবে, জান্নাতের দ্বাররক্ষী তাকে নিয়ে দ্রুত (এগিয়ে) যাবে।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, তা হলো দু’ দু’টি করে দিরহাম, অথবা, দু’ দু’টি দাসী অথবা, দু’ দু’টি দাস অথবা, দু’ দু’টি করে পশু।
بَاب مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ مَالٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ صَعْصَعَةَ بْنِ مُعَاوِيَةَ قَالَ لَقِيتُ أَبَا ذَرٍّ وَهُوَ يَسُوقُ جَمَلًا أَوْ يَقُودُهُ فِي عُنُقِهِ قِرْبَةٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا ذَرٍّ مَا مَالُكَ قَالَ لِي عَمَلِي فَقُلْتُ مَا مَالُكَ قَالَ لِي عَمَلِي قُلْتُ حَدِّثْنِي حَدِيثًا سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَا مِنْ مُسْلِمٍ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ مِنْ مَالٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا ابْتَدَرَتْهُ حَجَبَةُ الْجَنَّةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هُوَ دِرْهَمَيْنِ أَوْ أَمَتَيْنِ أَوْ عَبْدَيْنِ أَوْ دَابَّتَيْنِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৪০, ৪৬৪৩ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ৫/৩৪৮-৩৪৯; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৭/১৮৬; হাকিম, ২/৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. তীর নিক্ষেপের ফযীলত ও এর নির্দেশ
২৪৪৩. উকবা ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: (“তাদের বিরুদ্ধে তোমরা সাধ্যমত শক্তি সঞ্চয় কর।”: সুরা আনফাল: ৬০)এরপরে তিনি তিনবার বললেন: “জেনে রাখ, নিশ্চয়ই ’শক্তি’ হলো ’তীর নিক্ষেপ’।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الرَّمْيِ وَالْأَمْرِ بِهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي الْخَيْرِ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّهُ تَلَا هَذِهِ الْآيَةَ وَأَعِدُّوا لَهُمْ مَا اسْتَطَعْتُمْ مِنْ قُوَّةٍ أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْيُ
তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৯১৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৪৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭০৯ তে। এছাড়াও, সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৪৪৯; তায়ালিসী ১/২৪১ নং ১১৮২ অন্ধকারাচ্ছন্ন সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. তীর নিক্ষেপের ফযীলত ও এর নির্দেশ
২৪৪৪. উকবা ইবনে ’আমের আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ একটি তীরের উপলক্ষে তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেনঃ (১) তীর নির্মাতা যে তা নির্মাণকালে কল্যাণের আশা করে, (২) (জিহাদে) যে এতে (নিক্ষেপে) সাহায্য করে এবং (৩) এই তীর নিক্ষেপকারী।”
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ “তোমরা তীরন্দাজী করো এবং ঘোড়দৌড় শিক্ষা করো। তবে তোমাদের ঘোড়দৌড় শেখার তুলনায় তীরন্দাজী শিক্ষা করা আমার কাছে অধিক প্রিয়।”
তিনি আরও বলেন: “কোনো মুসলিম ব্যক্তির সকল ক্রীড়া-কৌতুকই বৃথা। তবে তার ধনুক দ্বারা তীর নিক্ষেপ, তার ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দান এবং তার স্ত্রীর সাথে তার ক্রীড়া-কৌতুক বৃথা নয়। কারণ এগুলো উপকারী ও বিধিসম্মত।তিনি আরও বলেন: “যে ব্যক্তি তীরন্দাজী শিক্ষা করার পর তা ত্যাগ করলো, তাকে যে তাকে শিক্ষা দিয়েছে, তার (শিক্ষার) সাথে সে নাফরমানী করলো।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الرَّمْيِ وَالْأَمْرِ بِهِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَّامٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ الْأَزْرَقِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يُدْخِلُ الثَّلَاثَةَ بِالسَّهْمِ الْوَاحِدِ الْجَنَّةَ صَانِعَهُ يَحْتَسِبُ فِي صَنْعَتِهِ الْخَيْرَ وَالْمُمِدَّ بِهِ وَالرَّامِيَ بِهِ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ارْمُوا وَارْكَبُوا وَلَأَنْ تَرْمُوا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ تَرْكَبُوا وَقَالَ كُلُّ شَيْءٍ يَلْهُو بِهِ الرَّجُلُ بَاطِلٌ إِلَّا رَمْيَ الرَّجُلِ بِقَوْسِهِ وَتَأْدِيبَهُ فَرَسَهُ وَمُلَاعَبَتَهُ أَهْلَهُ فَإِنَّهُنَّ مِنْ الْحَقِّ وَقَالَ مَنْ تَرَكَ الرَّمْيَ بَعْدَمَا عُلِّمَهُ فَقَدْ كَفَرَ الَّذِي عُلِّمَهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৪৪, ১৪৬, ১৪৮; ইবনু আবী শাইবা ৫/৩২০,৩৪৯, ৯/২৩ নং ৬৩৭৫; ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৮১১; ; তায়ালিসী ১/২৪১, ২৪২ নং ১১৭৯; বাইহাকী, সাবাক্বা ওয়ার রমিয়াহ ১০/১৩; তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৩৭; তাবারাণী, কাবীর ১৭/২৪১ নং ৯৪১; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৫১৩; নাসাঈ, জিহাদ ৬/২৮; সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৪৫০; ফাসাওয়ী, আল মা’রিফাতুত তারীখ ২/৫০১, ৫০২; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/৩৬৮; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ১০৬২; খতীব, মাওযিহ ১/১১৪; মিযযী, তাহযীবুল কামাল ৮/৭৫, ৭৬ বিচ্ছিন্ন সনদে; আব্দুর রাযযাক, জামি’ মা’মার নং ২১০১০ জাইয়্যেদ সনদে; এর শেষাংশ বর্ণনা করেছেন মুসলিম , ইমরাহ ১৯১৯।
আর এর প্রথম অংশের শাহিদ আবী হুরাইরা হতে রয়েছে হাকিম ২/৯৫ খতীব ৩/১২৮, ৬/৩৬৭ এ সনদ দু’টিই যয়ীফ।
আর এর দ্বিতীয় অংশের শাহিদ জাবির হতে রয়েছে নাসাঈ, কুবরা ৮৯৩৮, ৮৯৩৯, ৮৯৪০; দ্বিতীয় অংশের সনদ সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোনো আঘাত পেল
২৪৪৫. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর পথে আহত ব্যক্তিকে মহামহিম আল্লাহ কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উঠাবেন যে, তার ক্ষতস্থান হতে রক্ত ঝরতে থাকবে, তার ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর মত সুগন্ধে ভরপুর, আর তার রং হবে রক্তিম বর্ণ।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ مَنْ جُرِحَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ جُرْحًا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَمِّي مُوسَى بْنُ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ مَجْرُوحٍ يُجْرَحُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا بَعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَجُرْحُهُ يَدْمَى الرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ وَاللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ
তাখরীজ: বুখারী, ওযু ২৩৭; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৭৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৬৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৫২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১২৩ তে। এছাড়াও, সাঈদ ইবনু মানসুর নং ২৫৭১।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট শাহাদাত প্রার্থনা করে
২৪৪৬. সাহল ইবন হুনায়ফ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে শাহাদাত প্রার্থনা করে, আল্লাহ তা’আলা তাকে শহীদদের মর্যাদায় পৌছে দিবেন, যদি সে তার বিছানায়ও মারা যায়।”[1]
بَاب فِيمَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ
أَخْبَرَنَا الْقَاسِمُ بْنُ كَثِيرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ شُرَيْحٍ يُحَدِّثُ أَنَّهُ سَمِعَ سَهْلَ بْنَ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ سَأَلَ اللَّهَ الشَّهَادَةَ صَادِقًا مِنْ قَلْبِهِ بَلَّغَهُ اللَّهُ مَنَازِلَ الشُّهَدَاءِ وَإِنْ مَاتَ عَلَى فِرَاشِهِ
তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৯০৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬/১০৭ আনাসের হাদীসের শাহিদ হিসেবে; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. শহীদের মর্যাদা সম্পর্কে
২৪৪৭. আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কাউকে একবার চিমটি কাটায় যতটুকু ব্যাথা পাও, শহীদ তার কতলের সময় ততটুকুই কষ্ট পায়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الشَّهِيدِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عِيسَى عَنْ ابْنِ عَجْلَانَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَجِدُ الشَّهِيدُ مِنْ أَلَمِ الْقَتْلِ إِلَّا كَمَا يَجِدُ أَحَدُكُمْ مِنْ أَلَمِ الْقَرْصَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৫৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬১৩ তে। ((তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৬৮; নাসাঈ, জিহাদ ৬/৩৬- -- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব টীকা নং ২৪০৮।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৮. শহীদগণ দুনিয়ায় ফিরে আসার আকাংখা করবে
২৪৪৮. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর জান্নাতে প্রবেশ করবে, দুনিয়া এবং তাতে যা কিছু আছে সব কিছু তাকে দিলেও সে আর দুনিয়াতে ফিরে আসা পছন্দ করবে না। কিন্তু শহীদের কথা ভিন্ন। কেননা, সে যখন দেখবে শহীদ হওয়ার কত ফযীলত তখন (সে দুনিয়াতে ফিরে আসতে ভালবাসবে), যেন সে এভাবে আল্লাহর পথে আবার কতল হতে পারে।”[1]
بَاب مَا يَتَمَنَّى الشَّهِيدُ مِنْ الرَّجْعَةِ إِلَى الدُّنْيَا
أَخْبَرَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ نَفْسٍ تَمُوتُ فَتَدْخُلُ الْجَنَّةَ فَتَوَدُّ أَنَّهَا رَجَعَتْ إِلَيْكُمْ وَلَهَا الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا إِلَّا الشَّهِيدَ فَإِنَّهُ وَدَّ أَنَّهُ قُتِلَ كَذَا مَرَّةً لِمَا رَأَى مِنْ الثَّوَابِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৭৯৫; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৭৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৭৯, ৩০১৯, ৩০২০, ৩০৫৬, ৩২২৪, ৩২৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. শহীদগণের রূহসমূহ
২৪৪৯. মাসরুক (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ্ ইবন মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে শহীদদের রূহগুলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, যদিও তিনি আমাদেরকে কাউকে কোনো হাদীস বর্ণনা করতেন না। তিনি বললেন: শহীদদের রূহগুলি কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকটবর্তী স্থানে সবুজ পাখির পেটের ভিতর অবস্থান করবে, যাদের জন্য আরশের সাথে ঝুলন্ত অনেকগুলো বাতি থাকবে। সে পাখি যেকোনো জান্নাতে ইচ্ছামত উড়ে বেড়াবে এবং তারা (আরশের সঙ্গে লটকানো) ঝাড়ে ফিরে আসবে। তাদের রব একবার তাদের সম্মুখে আবির্ভূত হয়ে বলবেন: “তোমাদের আরো কোন প্রয়োজন আছে কি? তোমরা কি কোনো কিছুর আকাংখা কর?” তখন তারা বলবে: না। তবে আমরা দুনিয়ায় ফিরে যেতে চাই অত:পর আবার (আপনার পথে) নিহত হই।’[1]
باب في أرواح الشهداء
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ مَسْرُوقٍ قَالَ سَأَلْنَا عَبْدَ اللَّهِ عَنْ أَرْوَاحِ الشُّهَدَاءِ وَلَوْلَا عَبْدُ اللَّهِ لَمْ يُحَدِّثْنَا أَحَدٌ قَالَ أَرْوَاحُ الشُّهَدَاءِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي حَوَاصِلِ طَيْرٍ خُضْرٍ لَهَا قَنَادِيلُ مُعَلَّقَةٌ بِالْعَرْشِ تَسْرَحُ فِي أَيِّ الْجَنَّةِ شَاءُوا ثُمَّ تَرْجِعُ إِلَى قَنَادِيلِهَا فَيُشْرِفُ عَلَيْهِمْ رَبُّهُمْ فَيَقُولُ أَلَكُمْ حَاجَةٌ تُرِيدُونَ شَيْئًا فَيَقُولُونَ لَا إِلَّا أَنْ نَرْجِعَ إِلَى الدُّنْيَا فَنُقْتَلَ مَرَّةً أُخْرَى
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২৩৫ নং ১১৪৩; ইবনু আবী শাইবা ৫/৩০৮; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৮৭; ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৮০১; বাইহাকী, সিয়ার ৯/১৬৩;
তিরমিযী, তাফসীর ৩০১১।
পরিচ্ছেদঃ ২০. আল্লাহর রাস্তায় মৃত শহীদদের বৈশিষ্ট্য
২৪৫০. উতবাহ ইবনু আবদ আস সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “শহীদ হলো তিন প্রকার, মুমিন ব্যক্তি যে তার জান-মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ (লড়াই) করে, আর যখন সে শত্রুর সম্মুখীন হয়, তখন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত নিহত হয়।” এ ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “এ হলো পরীক্ষিত শহীদ যে আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থিত আল্লাহ তা’আলার (রহমত, সন্তুষ্টি ও নিরাপত্তার) শামিয়ানার মধ্যে থাকবে। আর নবীগণ এদের থেকে শ্রেষ্ঠ হবেন কেবল নবুয়াতের মর্যাদার কারণে।
আরেক মুমিন ব্যক্তি যে নিজের মধ্যে কিছু নেক আমল এবং কিছু বদ আমলের সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। সে ব্যক্তি তার জান-মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ (লড়াই) করে, আর যখন সে শত্রুর সম্মুখীন হয়, তখন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত নিহত হয়।” এ ব্যক্তি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “পবিত্র; তা (শাহাদাত) তার গুনাহসমূহ ও ভুল-ত্রুটিগুলিকে মোচন করে দিয়েছে। (কেননা,) নিশ্চয়ই তরবারী হলো সকল অপরাধ মোচনকারী। আর সে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা জান্নাতে প্রবেশ করবে।
“আর এক মুনাফিক যে তার জান-মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ (লড়াই) করে, আর যখন সে শত্রুর সম্মুখীন হয়, তখন লড়াই করে শেষ পর্যন্ত নিহত হয়। এ ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে। (কেননা,) নিশ্চয়ই তরবারী নিফাক (কপটতা-অন্তরের ঈমানহীনতা)-কে মোচন করতে পারে না।”[1]
আব্দুল্লাহ (দারেমী) বলেন, যখন কাপড়কে ধোয়া হয়, সেই কাপড়কে ’مُصْمِصَ’ বলা হয়।
بَاب فِي صِفَةِ الْقَتْلَى فِي سَبِيلِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ يَحْيَى هُوَ الصَّدَفِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْأُمْلُوكِيِّ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقَتْلَى ثَلَاثَةٌ مُؤْمِنٌ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ فَذَلِكَ الشَّهِيدُ الْمُمْتَحَنُ فِي خَيْمَةِ اللَّهِ تَحْتَ عَرْشِهِ لَا يَفْضُلُهُ النَّبِيُّونَ إِلَّا بِدَرَجَةِ النُّبُوَّةِ وَمُؤْمِنٌ خَلَطَ عَمَلًا صَالِحًا وَآخَرَ سَيِّئًا جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِ مُمَصْمِصَةٌ مَحَتْ ذُنُوبَهُ وَخَطَايَاهُ إِنَّ السَّيْفَ مَحَّاءٌ لِلْخَطَايَا وَأُدْخِلَ الْجَنَّةَ مِنْ أَيِّ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ شَاءَ وَمُنَافِقٌ جَاهَدَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَإِذَا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَاتَلَ حَتَّى يُقْتَلَ فَذَاكَ فِي النَّارِ إِنَّ السَّيْفَ لَا يَمْحُو النِّفَاقَ قَالَ عَبْد اللَّهِ يُقَالُ لِلثَّوْبِ إِذَا غُسِلَ مُصْمِصَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৬৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. যে ব্যক্তি সাওয়াবের আশায় ধৈর্য্যের সাথে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে
২৪৫১. আর কাতাদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে কথা বলতে আরম্ভ করলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ হামদ ও ছানা বর্ণনা করলেন, এরপর (আল্লাহর রাস্তায়) জিহাদের সম্পর্কে আলোচনা করলেন। আর আল্লাহর নির্ধারিত ফরযসমূহ ব্যতীত অন্য সকল কিছুর চেয়ে জিহাদকে উত্তম ইবাদত বলে জানালেন। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো: ইয়া রাসুলল্লাহ! দেখুন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়, তাহলে কি তা তার সব পাপ মোচন কর দেবে? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ। যদি সে ধৈর্য সহকারে সওয়াবের আশায় সামনে অগ্রসর হয়ে পিছু না হটে যুদ্ধ করে, তবে ঋণ ব্যতীত। কেননা, তা আদায় করা হবে- জিবরীল (আঃ) আমাকে এরুপ জানিয়েছের।”[1]
بَاب فِيمَنْ قَاتَلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ صَابِرًا مُحْتَسِبًا
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ فَخَطَبَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ ذَكَرَ الْجِهَادَ فَلَمْ يَدَعْ شَيْئًا أَفْضَلَ مِنْهُ إِلَّا الْفَرَائِضَ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ مَنْ قُتِلَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَهَلْ ذَلِكَ مُكَفِّرٌ عَنْهُ خَطَايَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ إِذَا قُتِلَ صَابِرًا مُحْتَسِبًا مُقْبِلًا غَيْرَ مُدْبِرٍ إِلَّا الدَّيْنَ فَإِنَّهُ مَأْخُوذٌ بِهِ كَمَا زَعَمَ لِي جِبْرِيلُ
তাখরীজ: মুসলিম, ইমারাহ ১৮৮৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৯ তে।
এর শাহিদ রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যেসকল মৃত্যুকে শাহাদত হিসেবে গণ্য করা হবে
২৪৫২. সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ; যে ব্যক্তি (নদী ইত্যাদিতে) ড়ূবে মরেছে-সে শহীদ, (আল্লাহর রাস্তায়) অভিযানে মৃত ব্যক্তি শহীদ;পেটের পীড়ায় মৃত ব্যক্তি শহীদ; আর যে মহিলা নেফাসকালীন সময়ে মৃত্যু বরণ করে-সেও শহীদ।”[1]
بَاب مَا يُعَدُّ مِنْ الشُّهَدَاءِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ التَّيْمِيُّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ عَامِرِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الطَّاعُونُ شَهَادَةٌ وَالْغَرَقُ شَهَادَةٌ وَالْغَزْوُ شَهَادَةٌ وَالْبَطْنُ وَالنُّفَسَاءُ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪০০, ৪০১, ৪৬৬; ইবনু আবী শাইবা ৫/৩৩৩; তাবারাণী, কাবীর ৮/৫৬ নং ৭৩২৮, ৭৩২৯, ৭৩৩০; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ তারজমাহ নং ৪৫১; বুখারী, কাবীর ৬/৪৫২; নাসাঈ, কুবরা ২১৮১।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যেসকল মৃত্যুকে শাহাদত হিসেবে গণ্য করা হবে
২৪৫৩. উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহর রাস্তায় নিহত ব্যক্তি শহীদ, যে ব্যক্তি প্লেগ বা তাউন রোগে মারা যায়-সে শহীদ;যে পেটের পীড়ায় মরেছে-সে শহীদ; যে স্ত্রীলোক সন্তান ধারণের কারণে পেটের সন্তানসহ মৃত্যু বরণ করে-সেও শহীদ।”[1]
بَاب مَا يُعَدُّ مِنْ الشُّهَدَاءِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَفْصٍ عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ السِّمْطِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقَتْلُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ شَهَادَةٌ وَالطَّاعُونُ شَهَادَةٌ وَالْبَطْنُ شَهَادَةٌ وَالْمَرْأَةُ يَقْتُلُهَا وَلَدُهَا جُمْعًا شَهَادَةٌ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৩১৫ (সহীহ সনদে), ৩১৭, ৩২৩; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ৫/৩২৮-৩২৯; বাযযার, কাশফুল আসতার ২/২৮৬ নং ১৭১৮ হাসান সনদে, নং ১৭১৭; তাবারাণী, আল আওসাত ৯৩১০।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যুদ্ধাভিযানে নাবী (ﷺ) এর সাহাবীগণের উপর যে সকল কঠিন বিপদাপদ আপতিত হয়েছে
২৪৫৪. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সংগে থেকে যুদ্ধ করেছি। তখন ’সামুর’ ও ’হুবলা’ (নামক দু’ প্রকার) গাছের পাতা ব্যতীত আমাদের কোন আহার্য ছিল না। এমনকি আমাদেরকে (কোষ্ঠকাঠিন্য হেতু) উট অথবা ছাগলের ন্যায় বড়ির মত মল ত্যাগ করতে হত। আর এখন কি-না (এ অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে,) বনু আসাদ আমাকে (ইসলামের ব্যাপারে) তিরস্কার করছে! তাহলে তো আমি অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গিয়েছি এবং আমার আমলসমূহ বৃথাই গেছে।’[1]
بَاب مَا أَصَابَ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَغَازِيهِمْ مِنْ الشِّدَّةِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ قَيْسٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ كُنَّا نَغْزُو مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لَنَا طَعَامٌ إِلَّا السَّمُرُ وَوَرَقُ الْحُبْلَةِ حَتَّى إِنَّ أَحَدَنَا لَيَضَعُ كَمَا تَضَعُ الشَّاةُ مَا لَهُ خِلْطٌ ثُمَّ أَصْبَحَتْ بَنُو أَسَدٍ يُعَزِّرُونِي لَقَدْ خِبْتُ إِذَنْ وَضَلَّ عَمَلِيَهْ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুস সাহাবাহ ৩৭২৮; মুসলিম, যুহদ ২৯৬৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮ তে।
আহমাদ ২/১৮৯, ২১৫; ইবনু মাজাহ, দিয়াত ২৬৫৫; বাইহাকী, দিয়াত ৮/৮১; আবূ দাউদ, দিয়াত, ৪৫৬৬; নাসাঈ, কাসামাহ ৮/৫৭ তিরমিযী, দিয়াত ১৩৯০; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৭৮১।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. যে ব্যক্তি যে নিয়তে জিহাদ করে, তা-ই সে প্রাপ্ত হবে (সাওয়াব পাবে না)
২৪৫৫. উবাদা ইবন সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করলো এবং উটের রশি ব্যতীত তার আর কিছুর নিয়্যত থাকলো না; সে যা-নিয়্যত করলো, তাই তার প্রাপ্য হবে (কোন সাওয়াব সে পাবে না)।[1]
بَاب مَنْ غَزَا يَنْوِي شَيْئًا فَلَهُ مَا نَوَى
أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا جَبَلَةُ بْنُ عَطِيَّةَ عَنْ يَحْيَى بْنِ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ غَزَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَهُوَ لَا يَنْوِي فِي غَزَاتِهِ إِلَّا عِقَالًا فَلَهُ مَا نَوَى
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৩৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬০৫ এ। ((নাসাঈ, জিহাদ ৬/২৪, ২৫; আহমাদ ও হাকিম।- – ফাওয়ায আহমাদের দারেমী হা/২৪১৬ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৫. যুদ্ধ দু’ প্রকার
২৪৫৬. মু’আয ইবনু জাবাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যুদ্ধ দু’প্রকার: যে ব্যক্তি (জিহাদের মাধ্যমে) আল্লাহ সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করে এবং ইমামের অনুগত থাকে, নিজের উৎকৃষ্ট সম্পদ (যুদ্ধে) ব্যয় করে, সঙ্গীদের সাথে কোমল আচরণ করে, ঝগড়া-ফ্যাসাদ ও অপকর্ম হতে বেঁচে থাকে। তার নিদ্রা ও জাগ্রতহয়। পূণ্যে পরিণত কিছুই অবস্থার সব আর যে ব্যক্তি অহংকার, লোক দেখানো ও খ্যাতি-সুনামের জন্য যুদ্ধ করে এবং ইমামের বা নেতার অবাধ্য হয় এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে বেড়ায়, সে সামান্য পরিমাণ পুণ্য নিয়েও বাড়ি ফিরতে পারবে না।”[1]
بَاب الْغَزْوِ غَزْوَانِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ عَنْ بَحِيرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي بَحْرِيَّةَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْغَزْوُ غَزْوَانِ فَأَمَّا مَنْ غَزَا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَأَطَاعَ الْإِمَامَ وَأَنْفَقَ الْكَرِيمَةَ وَيَاسَرَ الشَّرِيكَ وَاجْتَنَبَ الْفَسَادَ فَإِنَّ نَوْمَهُ وَنُبْهَهُ أَجْرٌ كُلُّهُ وَأَمَّا مَنْ غَزَا فَخْرًا وَرِيَاءً وَسُمْعَةً وَعَصَى الْإِمَامَ وَأَفْسَدَ فِي الْأَرْضِ فَإِنَّهُ لَا يَرْجِعُ بِالْكَفَافِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/ ২৩৪; আবূ দাউদ, জিহাদ, ২৫১৫; নাসাঈ, কুবরা ৮৭৩০; আব্দু ইবনু হুমাইদ নং ১০৯; তাবারাণী, কাবীর ২০/৯১-৯২ নং ১৭৬; মুসনাদুশ শামিয়্যিন ১১৫৭; হাইছাম ইবনু কুলাইব, আল মুসনাদ ১৩৯৪; হাকিম ২/৮৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৪২৬৫; সিয়ার ৯/৬৮; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৫/২২০; সহীহ সনদে; হাকিম একে সহীহ বলেছেন, এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।; ইবনু মানসূর নং ২৩২৩ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল, অথচ জিহাদ করেনি
২৪৫৭. আবূ উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেন। তিনি ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি যুদ্ধের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যুদ্ধ করল না অথবা কোন যোদ্ধাকে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ করল না বা যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের কোন সাহায্য সহযোগীতা করল না, তাকে আল্লাহ্ তা’আলা কিয়ামতের পূর্বে’ তার উপর কোন আকস্মিক দুর্ঘটনা আপতিত করবেন।”[1]
بَاب فِيمَنْ مَاتَ وَلَمْ يَغْزُ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ عَنْ الْقَاسِمِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَغْزُ أَوْ يُجَهِّزْ غَازِيًا أَوْ يَخْلُفْ غَازِيًا فِي أَهْلِهِ بِخَيْرٍ أَصَابَهُ اللَّهُ بِقَارِعَةٍ قَبْلَ يَوْمِ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, জিহাদ, ২৫০৩; বাইহাকী, সিয়ার ৯/৪৮; ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৭৬২; তাবারাণী, কাবীর ৮/২১১ নং ৭৭৪৭।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরা হতে সহীহ মুসলিম, ইমারাহ ১৯১০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. কোনো যোদ্ধাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করার ফযীলত
২৪৫৮. যাইদ ইবনু খালিদ জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় কোন যোদ্ধাকে আসবাব পত্র সরবরাহ করে কিংবা, কোন যোদ্ধার জিহাদে গমনের পর তার পরিবার পরিজনের দেখা শোনা করে, তবে তার জন্যও যোদ্ধার সম পরিমাণ সাওয়াব লেখা হয়, কিন্তু যোদ্ধার সাওয়াব থেকে কিছুই কম করা হয় না।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ جَهَّزَ غَازِيًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ خَلَفَ فِي أَهْلِهِ كَتَبَ اللَّهُ لَهُ مِثْلَ أَجْرِهِ إِلَّا أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الْغَازِي شَيْئًا
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৪৩; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৯৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৩০, ৪৬৩১, ৪৬৩২, ৪৬৩৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৩৭ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬১৯ ও মাউসিলী, মু’জামুশ শুয়ূখ নং ৩১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. জিহাদ থেকে পিছিয়ে থাকার ওযর
২৪৫৯. বারা’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াতটি: “মুমিনদের মধ্যে যারা (জিহাদে না গিয়ে) বসে থাকে, তারা সমান নয়।” (সুরা নিসাঃ ৯৫) নাযিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যায়দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে ডেকে নিলেন। তিনি কোন জন্তুর কাঁধের চওড়া হাড় নিয়ে আসেন এবং তাতে উক্ত আয়াতটি লিখে রাখেন। ইবনু উম্মু মাকতুম তাঁর দৃষ্টিহীনতার ব্যাপারে অভিযোগ করলে নাযিল হয়: “মুমিনদের মধ্যে যারা (জিহাদে না গিয়ে) বসে থাকে, তারা সমান নয়, তবে ওযরগ্রস্ত ব্যক্তি ব্যতীত.......।” (সুরা নিসাঃ ৯৫)।[1]
بَاب الْعُذْرِ فِي التَّخَلُّفِ عَنْ الْجِهَادِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ يَقُولُ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا فَجَاءَ بِكَتِفٍ فَكَتَبَهَا وَشَكَا ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ ضَرَارَتَهُ فَنَزَلَتْ لَا يَسْتَوِي الْقَاعِدُونَ مِنْ الْمُؤْمِنِينَ غَيْرُ أُولِي الضَّرَرِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৩১, ২৮৩২; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. সমুদ্র অভিযানের ফযীলত
২৪৬০. উম্মে হারাম বিনতে মিলহান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ঘরে দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। এরপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি হাসছেন কেন? তিনি বললেন, “আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমাকে দেখানো হলো যারা এই নীল সমুদ্রের পৃষ্ঠে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে।”
আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন: “তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত।” এরপর তিনি দ্বিতীয়বার নিদ্রা গেলেন এবং এরপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি হাসছেন কেন? তিনি বললেন, “আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমাকে দেখানো হলো যারা এই নীল সমুদ্রের পৃষ্ঠে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে।”
আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন: “তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত।”
এরপর তিনি পুনরায় নিদ্রা গেলেন এবং এরপর জেগে উঠে মুচকি হাসতে লাগলেন। আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি হাসছেন কেন? তিনি বললেন, “আমার উম্মাতের এমন কিছু লোককে আমাকে দেখানো হলো যারা এই নীল সমুদ্রের পৃষ্ঠে আরোহণ করছে, যেমন বাদশাহ সিংহাসনে আরোহণ করে।”
আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভূক্ত করেন। তিনি বললেন: “তুমি তাদের প্রথমদিকের অন্তর্ভূক্ত।”রাবী বলেন, এরপর উবাদাহ ইবনু সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বিয়ে করেন এবং (মুআবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর সাথে যখন মুসলিমরা প্রথম সমুদ্র পথে অভিযানে বের হয় তখন) তিনি সস্ত্রীক সমুদ্র অভিযানে বের হন। যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে তাকে (উম্মে হারামকে) আরোহণের জন্য একটি খচ্চর সওয়ারী হিসেবে দেওয়া হয়, সেটি তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এতে তার ঘাড় মটকে যায় এবং তিনি মারা যান।[1]
بَاب فِي فَضْلِ غُزَاةِ الْبَحْرِ
أخبرنا سليمان بن حرب حدثنا حماد بن زيد عن يحيى بن سعيد عن محمد بن يحيى بن حبان عن أنس بن مالك قال حدثتني أم حرام بنت ملحان أن النبي صلى الله عليه وسلم قال في بيتها يوما فاستيقظ وهو يضحك فقلت يا رسول الله ما أضحكك قال أريت قوما من أمتي يركبون ظهر هذا البحر كالملوك على الأسرة قلت يا رسول الله ادع الله أن يجعلني منهم قال أنت منهم ثم نام أيضا فاستيقظ وهو يضحك فقلت يا رسول الله ما أضحكك قال أريت قوما من أمتي يركبون هذا البحر كالملوك على الأسرة قلت يا رسول الله ادع الله أن يجعلني منهم قال أنت من الأولين قال فتزوجها عبادة بن الصامت فغزا في البحر فحملها معه فلما قدموا قربت لها بغلة لتركبها فصرعتها فدقت عنقها فماتت
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৭৮৮; মুসলিম, ইমারাহ ১৯১২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৭৫, ৩৬৭৬ আনাস এর হাদীসের তাখরীজে ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬০৮, ৭১৮৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যুদ্ধে পুরুষদের সাথে নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
২৪৬১. উম্মু আতিয়্যা আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাদের আহতদের চিকিৎসা করতাম, তাদের খাবার তৈরী করতাম এবং তাদের সাওয়ারী ও মালপত্রের (রক্ষণাবেক্ষণের জন্য) পশ্চাতে থাকতাম।[1]
بَاب فِي النِّسَاءِ يَغْزُونَ مَعَ الرِّجَالِ
أَخْبَرَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَقَ الْفَزَارِيُّ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ قَالَتْ غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْعَ غَزَوَاتٍ أُدَاوِي الْجَرِيحَ أَوْ الْجَرْحَى وَأَصْنَعُ لَهُمْ الطَّعَامَ وَأَخْلُفُهُمْ فِي رِحَالِهِمْ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১২/৫২৫ নং ১৫৪৯৭; মুসলিম, সিয়ার ১৮১২; ইবনু মাজাহ ২৮৫৬; আহমাদ ৫/৮৪, ৬/৪০৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে তাঁর কোনো কোনো স্ত্রীর যুদ্ধে গমণ প্রসঙ্গে
২৪৬২. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন (কোনো যুদ্ধে) গমণ করতেন, তখন তিনি তাঁর স্ত্রীদের মাঝে লটারী করতেন। একদা লটারীতে আয়িশা ও হাফসার নাম উঠলে তারা উভয়ে একসাথে তাঁর সাথে বের হন।[1]
بَاب فِي خُرُوجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ بَعْضِ نِسَائِهِ فِي الْغَزْوِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَطَارَتْ الْقُرْعَةُ عَلَى عَائِشَةَ وَحَفْصَةَ فَخَرَجَتَا مَعَهُ جَمِيعًا
তাখরীজ: এটি ২২৫৪ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. যে ব্যক্তি একদিন ও একরাত্রি (আল্লাহর রাস্তায়) প্রহরায় রত থাকে, তার মর্যাদা
২৪৬৩. উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর আযাদকৃত দাস আবূ সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে মিম্বারে আরোহন করে বলতে শুনেছি, তোমরা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আশংকায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রুত একটি হাদীস আমি তোমাদের থেকে গোপন রেখেছিলাম। পরে আমার খেয়াল হলো যে তা তোমাদের কাছে বর্ণণা করি যাতে প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিবেচনা মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “আল্লাহর পথে একদিন (সীমান্ত) পাহারা দেওয়া অন্য কোন স্থানে এক হাজার দিন অতিবাহিত করার চেয়েও উত্তম।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ رَابَطَ يَوْمًا وَلَيْلَةً
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَقِيلٍ زُهْرَةُ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ مَوْلَى عُثْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عُثْمَانَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُولُ إِنِّي كُنْتُ كَتَمْتُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَرَاهِيَةَ تَفَرُّقِكُمْ عَنِّي ثُمَّ بَدَا لِي أَنْ أُحَدِّثَكُمُوهُ لِيَخْتَارَ امْرُؤٌ لِنَفْسِهِ مَا بَدَا لَهُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ يَوْمٍ فِيمَا سِوَاهُ مِنْ الْمَنَازِلِ
তাখরীজ: বাইহাকী, ৯/৩৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬০৯ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৫৯২ তে। ((তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৬৭; নাসাঈ, জিহাদ ৬/৪০- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/২৪২৪ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. (সীমান্ত) প্রহরারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করার ফযীলত
২৪৬৪. উক্ববা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “প্রত্যেক ব্যক্তির মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার আমল শেষ হয়ে যায়, কেবল আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দানকারী ব্যতীত। পুনুরুত্থান দিবস পর্যন্ত তার জন্য আমল চালু থাকে।”[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ مَاتَ مُرَابِطًا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ مِشْرَحٍ قَالَ سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الْمُرَابِطَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يُجْرَى لَهُ عَمَلُهُ حَتَّى يُبْعَثَ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৫০; তাবারাণী, কাবীর ১৭/৩০৮ নং ৪৪৮; হাকিম ২/১৪৪।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ফুযালাহ ইবনু উবাইদ থেকে ((আবূ দাউদ, জিহাদ নং ২৫০০- অনুবাদক)), আমরা যার পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬২৪ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬২৪ তে। ((এর অপর শাহিদ রয়েছে সালমান ফারসী হতে তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ নং ১৬৬৫ এবং তে বর্ণনা করেছেন যাতে রয়েছে: ‘কিয়ামত পর্যন্ত তার আমল বৃদ্ধি পেতে থাকে।” তিরমিযী একে হাসান গারীব এবং আলবানী একে সহীহ (আবূ দাউদ এর তাহক্বীক্বে ও সহীহুল জামি’ তে) বলেছেন।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া’র ফযীলত
২৪৬৫. উরওয়াহ আল বারিকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বেঁধে দিয়েছেন: তা হলো সাওয়াব ও গণীমাত।”[1]
بَاب فَضْلِ الْخَيْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا عَنْ عَامِرٍ عَنْ عُرْوَةَ الْبَارِقِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৫০; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৭৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮২৮ তে। সেখানে আমরা এর কিছু শাহিদ হাদীসও উল্লেখ করেছি। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/৪৮০ নং ১৫৩৩১, ১৫৩৩৭; সাঈদ ইবনু মানসূর, নং ২৪২৮, ২৮২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. আল্লাহর রাস্তায় ঘোড়া’র ফযীলত
২৪৬৬. (অপর সনদে) উরওয়াহ আল বারিকী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বেঁধে দিয়েছেন: তা হলো সাওয়াব ও গণীমাত।”[1]
بَاب فَضْلِ الْخَيْلِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حُصَيْنٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عُرْوَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْخَيْلُ مَعْقُودٌ فِي نَوَاصِيهَا الْخَيْرُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الْأَجْرُ وَالْمَغْنَمُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. যে সকল ঘোড়া পছন্দনীয় এবং যে সকল ঘোড়া অপছন্দনীয়
২৪৬৭. আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একটি ঘোড়া ক্রয়ের ইচ্ছা করেছি। এখন আমি কোন্ প্রকারের ঘোড়া কিনব? তিনি বললেন: “তুমি ক্রয় করবে কালো বর্ণের ঘোড়া, যার নাক ও উপরের ওষ্ঠটি সাদা; আরোহনের স্থান থেকে নিচের দিকে পায়ের গিরার মধ্যবর্তী স্থান সাদা; ডান পায়ের অংশবিশেষ সাদা; অথবা, (কালো বর্ণের ঘোড়া যদি না হয় তবে) লাল-কালো রঙের মিশ্রণে এভাবে সজ্জিত ঘোড়া। (এর মাধ্যমে) তুমি লাভ করবে গণিমাত এবং নিরাপত্তা।”[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ الْخَيْلِ وَمَا يُكْرَهُ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عُلَيِّ بْنِ رَبَاحٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَشْتَرِيَ فَرَسًا فَأَيُّهَا أَشْتَرِي قَالَ اشْتَرِ أَدْهَمَ أَرْثَمَ مُحَجَّلَ طَلْقَ الْيَدِ الْيُمْنَى أَوْ مِنْ الْكُمْتِ عَلَى هَذِهِ الشِّيَةِ تَغْنَمْ وَتَسْلَمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৭৬ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬৩৩ তে। ((তিরমিযী, ফাযাইলুল জিহাদ ১৬৯৭; ইবনু মাজাহ, জিহাদ ২৭৮৯; আহমাদ ২২০৫৫।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. ঘোড় দৌড় প্রতিযোগীতা
২৪৬৮. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধের জন্যে তৈরী ঘোড়াকে ’হাফইয়া’ (নামক স্থান) থেকে ’সানিয়া’ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর যে ঘোড়া যুদ্ধের জন্য তৈরী নয়, সে ঘোড়াকে ’সানিয়া’ থেকে যুরাইক গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত দৌড় প্রতিযোগিতা করিয়েছিলেন। আর এই প্রতিযোগিতায় আব্দুল্লাহ ইবনু উমার অগ্রগামী ছিলেন।[1]
بَاب فِي السَّبْقِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسَابِقُ بَيْنَ الْخَيْلِ الْمُضَمَّرَةِ مِنْ الْحَفْيَا إِلَى الثَّنِيَّةِ وَالَّتِي لَمْ تُضَمَّرْ مِنْ الثَّنِيَّةِ إِلَى مَسْجِدِ بَنِي زُرَيْقٍ وَأَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ فِيمَنْ سَابَقَ بِهَا
তাখরীজ: মালিক, জিহাদ ৪৫; বুখারী, জিহাদ ৪২০; মুসলিম, ইমারাহ ১৮৭০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬৮৬, ৪৬৮৭, ৪৬৯২ তে। এছাড়াও, তাবারাণী, আওসাত ৮৯৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. ঘোড়া বাজি ধরা প্রসঙ্গে
২৪৬৯. আবী লাবীদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আমি ও হাকাম ইবনু আইয়্যুব হাজ্জাজের শাসনামলে বসরাহ’তে ঘোড়া চালাতাম। এরপর (একবার) আমরা বাজির নিকট এলাম। যখন ঘোড়ার (উপর বাজি ধরার) প্রসঙ্গ এলো, তখন আমরা বললাম, আমরা যদি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে পেতাম, তবে তাকে জিজ্ঞাসা করতাম, আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বাজি ধরতেন?
তিনি বলেন, এরপর আমরা তাঁর নিকট গেলাম, আর তখন তিনি ’যাবিয়াহ’ নামক স্থানে তাঁর আপন প্রাসাদে অবস্থান করছিলেন। এরপর আমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তাঁকে বললাম, ইয়া আবূ হামযাহ! আপনারা কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে বাজি ধরতেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বাজি ধরতেন? তিনি বললেন: হাঁ। আল্লাহর কসম! তিনি ’সাবহাহ’ নামক ঘোড়ার উপর বাজি ধরেছেন। এরপর একটি লোক (দৌড় প্রতিযোগীতায়) এগিয়ে গেল, ফলে (তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য) তিনি আনন্দিত হয়ে দ্রুত সেদিকে এগিয়ে গেলেন। আর এটি যেন তাঁকে মুগ্ধ করলো।[1]
بَاب فِي رِهَانِ الْخَيْلِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ حَدَّثَنِي الزُّبَيْرُ بْنُ الْخِرِّيتِ عَنْ أَبِي لَبِيدٍ قَالَ أُجْرِيَتْ الْخَيْلُ فِي زَمَنِ الْحَجَّاجِ وَالْحَكَمُ بْنُ أَيُّوبَ عَلَى الْبَصْرَةِ فَأَتَيْنَا الرِّهَانَ فَلَمَّا جَاءَتْ الْخَيْلُ قَالَ قُلْنَا لَوْ مِلْنَا إِلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَسَأَلْنَاهُ أَكَانُوا يُرَاهِنُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَتَيْنَاهُ وَهُوَ فِي قَصْرِهِ فِي الزَّاوِيَةِ فَسَأَلْنَاهُ فَقُلْنَا يَا أَبَا حَمْزَةَ أَكُنْتُمْ تُرَاهِنُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُرَاهِنُ قَالَ نَعَمْ لَقَدْ رَاهَنَ عَلَى فَرَسٍ لَهُ يُقَالُ لَهُ سَبْحَةُ فَسَبَقَ النَّاسَ فَانْهَشَّ لِذَلِكَ وَأَعْجَبَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد انْهَشَّ يَعْنِي أَعْجَبَهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/১৬০, ২৫৬; তাবারাণী, আওসাত নং ৮৮৪৫; বাইহাকী, সাবাক্বা ওয়ার রমিয়া ১০/২১।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. মুশরিকদের সাথে জিহ্বা ও হাত দিয়ে জিহাদ করা প্রসঙ্গে
২৪৭০. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা তোমাদের জান- মাল দিয়ে এবং জিহ্বা (তথা কথা বা লেখনির) দ্বারা মুশরিকদের বিরদ্ধে যুদ্ধ কর।”[1]
بَاب فِي جِهَادِ الْمُشْرِكِينَ بِاللِّسَانِ وَالْيَدِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ جَاهِدُوا الْمُشْرِكِينَ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ وَأَلْسِنَتِكُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৮৭৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৭০৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১৬১৮ তে। ((আবু দাউদ, জিহাদ ২৫০৪; নাসাঈ, জিহাদ ৬/৭; আহমাদ ৩/১২৪, ১৫৩, ২৫১; হাকিম ২/৮১ - ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/২৪৩১ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. এ উম্মতের একদল লোক সর্বদাই হাক্বের পক্ষে জিহাদ করতে থাকবে
২৪৭১. মুগীরা ইবনু শুবা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার উম্মতের একটি দল সর্বদাই লোকদের উপর বিজয়ী থাকবে, এমনকি আল্লাহর হুকুম অর্থাৎ কিয়ামত এসে যাবে, আর তখনও তাঁরা বিজয়ীই থাকবে।”[1]
بَاب لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى النَّاسِ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ ظَاهِرُونَ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৪৪, ২৪৮, ২৫২; বুখারী, মানাকিব ৩৬৪০, ই’তিসাম বিল কিতাব ওয়াস সুন্নাহ ৭৩১১, তাওহীদ ৭৪৫৯; মুসলিম, ইমারাহ ১৯২১।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. এ উম্মতের একদল লোক সর্বদাই হাক্বের পক্ষে জিহাদ করতে থাকবে
২৪৭২. উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমার উম্মতের একদল লোক সর্বদাই হাক্বের পক্ষে বিজয়ী থাকবে।”[1]
بَاب لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ هَذِهِ الْأُمَّةِ يُقَاتِلُونَ عَلَى الْحَقِّ
أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ نَاسٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ
তাখরীজ: তায়ালিসী, মানহাতুল মা’বুদ ২/১৯৭ নং ২৬৯৬; যিয়া আল মাকদিসী, আল মুখতারাহ নং ১২০, ১২১; বুখারী, কাবীর ৪/১২; কুযায়ী, মুসনাদুশ শিহাব নং ৯১৩; হাকিম ৪/৫৫০; হাকিম বলেন, এটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ; যাহাবী বলেন, এটি বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী। এটিই ঠিক।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. খারিজিদের সাথে যুদ্ধ করা প্রসঙ্গে
২৪৭৩. আবু যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমার পর আমার উম্মাত থেকে এমন একটি দল আবির্ভুত হবে - যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু কুরআন তাদের কন্ঠনালী অতিক্রম করবে না। তারা দীন থেকে বেরিয়ে যাবে যেমন বেরিয়ে যায় তীর তার লক্ষ্যস্হল ভেদ করে। এরপর তারা আর এতে (দীনে) ফিরে আসবে না। তারা হলো জগতের সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক এবং সবচেয়ে নিকৃষ্ট সৃষ্টি।”রাবী সুলাইমান বলেন, হুমাইদ বলেছেন, আব্দুল্লাহ ইবনু সামিত বলেন, হাকাম ইবনু আমর গিফারীর ভাই রাফিঁর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সাথে সাক্ষাৎ করলাম। এরপর তার নিকট আমি হাদীসটি উল্লেখ করলাম। তখন রাফি’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, এ হাদীস আমিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি।[1]
بَاب فِي قِتَالِ الْخَوَارِجِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ بْنِ قَعْنَبٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ هُوَ ابْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلَالٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ بَعْدِي مِنْ أُمَّتِي قَوْمًا يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لَا يُجَاوِزُ حَلَاقِيمَهُمْ يَخْرُجُونَ مِنْ الدِّينِ كَمَا يَخْرُجُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ ثُمَّ لَا يَعُودُونَ فِيهِ هُمْ شَرُّ الْخَلْقِ وَالْخَلِيقَةِ قَالَ سُلَيْمَانُ قَالَ حُمَيْدٌ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الصَّامِتِ فَلَقِيتُ رَافِعًا أَخَا الْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ فَحَدَّثْتُهُ هَذَا الْحَدِيثَ قَالَ رَافِعٌ وَأَنَا أَيْضًا سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: মুসলিম, যাকাত ১০৬৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৭৩৮ তে।