পরিচ্ছেদঃ ১. বিবাহে উৎসাহ দান
২২০৩. আবী নাজীহ রাহি: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি বিবাহ করার সামর্থ থাকা সত্ত্বেও বিবাহ করেনা, সে আমাদের দলভূক্ত নয়।”[1]
بَاب الْحَثِّ عَلَى التَّزْوِيجِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الْمُغَلِّسِ عَنْ أَبِي نَجِيحٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَدَرَ عَلَى أَنْ يَنْكِحَ فَلَمْ يَنْكِحْ فَلَيْسَ مِنَّا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছ মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭৩৯৬ তে। আরও দেখুন, মাতালিবুল আলিয়াহ নং ১৫৭৯ ও আবু দাউদের মারাসীল নং ২০২।
পরিচ্ছেদঃ ২. যে সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে
২২০৪. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমরা কয়েক জন যুবক থাকতাম। আমাদের কোনো ধন-সম্পদ ছিল না। তখন তিনি বলেন: “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, তা দৃষ্টিকে অধিক অবনতকারী এবং যৌনাঙ্গকে সর্বাধিক সংরক্ষণকারী। আর যে তাতে সক্ষম নয়, সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা, সওম তার প্রবৃত্তিকে দমনকারী।”[1]
بَاب مَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَوْلٌ فَلْيَتَزَوَّجْ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ عُمَارَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَبَابٌ لَيْسَ لَنَا شَيْءٌ فَقَالَ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯০৫; মুসলিম, নিকাহ ১৪০০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১১০, ৫১৯২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. যে সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে
২২০৫. আলকামাহ থেকে বর্ণিত, আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, উছমান তার সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং আমি তার সাথে ছিলাম। তিনি তাকে বললেন, হে আবু আব্দুর রহমান! আপনার স্মরণ করানোর মতো এমন কোনো কুমারী দাসী আছে কি? এরপর তিনি বললেন, নিশ্চয়ই আপনি সেটা বলবেন, আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতে শুনেছি: “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ রাখে, সে যেন বিয়ে করে। কেননা, তা দৃষ্টিকে অধিক অবনতকারী এবং যৌনাঙ্গকে সর্বাধিক সংরক্ষণকারী। আর যে তাতে সক্ষম নয়, সে যেন সিয়াম পালন করে। কেননা, সওম তার প্রবৃত্তিকে দমনকারী।”[1]
بَاب مَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَوْلٌ فَلْيَتَزَوَّجْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَقِيَهُ عُثْمَانُ وَأَنَا مَعَهُ فَقَالَ لَهُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ هَلْ لَكَ فِي جَارِيَةٍ بِكْرٍ تُذَكِّرُكَ فَقَالَ لَئِنْ قُلْتَ ذَاكَ فَقَدْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنْ كَانَ يَسْتَطِيعُ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَلْيَصُمْ فَإِنَّ الصَّوْمَ لَهُ وِجَاءٌ
তাখরীজ: নাসাঈ, আল কুবরা নং ৫৩১৬; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩. বিয়ে না করা বা স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগ করা নিষিদ্ধ
২২০৬. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’উসমান ইবনু মায’উন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বিয়ে করা থেকে বিরত থাকতে নিষেধ করেছেন। তিনি যদি তাঁকে খাসি থাকার অনুমতি দিতেন, তাহলে আমরাও খাসি হয়ে যেতাম।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ التَّبَتُّلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ سَمِعَ سَعْدَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ يَقُولُ لَقَدْ رَدَّ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى عُثْمَانَ وَلَوْ أَجَازَ لَهُ التَّبَتُّلَ لَاخْتَصَيْنَا
নারীর বিয়ে পরিত্যাগ করা হলো: পুরুষদের সংসর্গ সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা, যাতে তাদের প্রতি তার কোনো চাহিদা না থাকে। মরিয়ম আলাইহিস সালাম কে এ নামে ডাকা হয়েছে।
আর ফাতিমাহ’র ব্যাপারে এর অর্থ হলো, তার যুগের নারীদের চেয়ে ফযীলত, দীনদারী ও সাওয়াবের ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার জন্য।
এর আরেক অর্থ: দুনিয়া বিমুখ হওয়া ও আল্লাহমুখী হওয়া।
-
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫০৭৩; মুসলিম, নিকাহ ১৪০২;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৮৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০২৭ তে। এটি সম্মুখেও সংক্ষিপ্ত আকারে আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. বিয়ে না করা বা স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগ করা নিষিদ্ধ
২২০৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিয়ে না করা বা স্ত্রী সংসর্গ পরিত্যাগ করা থেকে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ التَّبَتُّلِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ مَسْعَدَةَ حَدَّثَنَا الْأَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ التَّبَتُّلِ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৭, ৬/১৫৭, ২৫৩; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ৬/২৫৩; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৩২১, ৫৩২২; ইবনু আবী শাইবা ৪/১২৮; তিরমিযী, নিকাহ ১০৮২; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৪৯, এ হাদীসটি বিচ্ছিন্নতার কারণে যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ ৩. বিয়ে না করা বা স্ত্রী সংসর্গ ত্যাগ করা নিষিদ্ধ
২২০৮. সা’দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন উসমান ইবনু মাযউন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর স্ত্রী সংসর্গ পরিত্যাগের বিষয়টি (জানতে পারার পর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট লোক পাঠিয়ে ডেকে আনলেন। তখন তিনি বললেন: “হে উসমান! আমাকে ’রাহবানিয়্যাত’ বা বৈরাগ্যের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তুমি কি আমার সুন্নাতকে অপছন্দ করছো?”
তিনি বললেন, না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তিনি বললেন: “আমি (রাতে) সালাত আদায় করি, আবার ঘুমায়। আমি সিয়াম পালন করি, আবার আহার করি (তথা সিয়াম পরিত্যাগ করি); আমি বিবাহ করি, আবার তালাক দিই।–(এ সবই) আমার সুন্নাত। অতএব, যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে অপছন্দ করবে, সে আমার দলভূক্ত নয়। হে উসমান! তোমার উপর তোমার পরিবারের হক্ব (অধিকার) রয়েছে, অনুরূপ তোমার উপর তোমার নিজের নফসের ও হক্ব (অধিকার) রয়েছে।”সা’দ বলেন, আল্লাহর কসম! মুসলিমদের বেশকিছু লোক এ ব্যাপারে একজোট হয়েছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বিষয়টি সমর্থন দেন, তবে আমরা খাসী হয়ে যাবো এবং বিয়ে বা নারী সংসর্গ পরিত্যাগ করবো।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ التَّبَتُّلِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنِي ابْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ قَالَ لَمَّا كَانَ مِنْ أَمْرِ عُثْمَانَ بْنِ مَظْعُونٍ الَّذِي كَانَ مِنْ تَرْكِ النِّسَاءِ بَعَثَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا عُثْمَانُ إِنِّي لَمْ أُومَرْ بِالرَّهْبَانِيَّةِ أَرَغِبْتَ عَنْ سُنَّتِي قَالَ لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّ مِنْ سُنَّتِي أَنْ أُصَلِّيَ وَأَنَامَ وَأَصُومَ وَأَطْعَمَ وَأَنْكِحَ وَأُطَلِّقَ فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي يَا عُثْمَانُ إِنَّ لِأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا وَلِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا قَالَ سَعْدٌ فَوَاللَّهِ لَقَدْ كَانَ أَجْمَعَ رِجَالٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ عَلَى أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ هُوَ أَقَرَّ عُثْمَانَ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ أَنْ نَخْتَصِيَ فَنَتَبَتَّلَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের ২২০৩ নং হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. স্ত্রী লোকের চারটি বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করা হয়
২২০৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নারীদেরকে চারটি বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করা হয়: দীনদারী, সৌন্দর্য্য, ধন-সম্পদ ও বংশ মর্যাদা। তোমার হাত ধুলায় ধুসরিত হোক! তোমার কর্তব্য হলো, দীনদারকে অগ্রাধিকার দেয়া।”[1]
بَاب تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى أَرْبَعٍ
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تُنْكَحُ النِّسَاءُ لِأَرْبَعٍ لِلدِّينِ وَالْجَمَالِ وَالْمَالِ وَالْحَسَبِ فَعَلَيْكَ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫০৯০; মুসলিম, রিদা’আ’ ১৪৬৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৫৭৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৩৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. স্ত্রী লোকের চারটি বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করা হয়
২২১০. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب تُنْكَحُ الْمَرْأَةُ عَلَى أَرْبَعٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: আমরা এর সকল বর্ণনা একত্রিত করেছি এবং পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯৩, ১৮৫০, ১৮৯৮, ২১১৭, ২১২৪, ২১২৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭১৭, ৬৫১৭, ৬৫১৮, ৬৫১৯, ৬৬৮৩, ৬৭৩৮ তে। আরও দেখুন, মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬১।
পরিচ্ছেদঃ ৫. বাগদানের সময় স্ত্রীলোককে দেখার অনুমতি
২২১১. মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি এক আনসারী মহিলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, “তুমি গিয়ে তাকে দেখে নাও। কেননা তা তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও সহমর্মিতা অব্যাহত রাখতে অধিক সহায়ক হবে।”[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي النَّظَرِ إِلَى الْمَرْأَةِ عِنْدَ الْخِطْبَةِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَاصِمٍ الْأَحْوَلِ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُزَنِيِّ عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ أَنَّهُ خَطَبَ امْرَأَةً مِنْ الْأَنْصَارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اذْهَبْ فَانْظُرْ إِلَيْهَا فَإِنَّهُ أَجْدَرُ أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭৪১৮; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৪৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩৬ তে।
এর শাহিদ রয়েছে আবূ হুরাইরাহ’র হাদীস মুসলিম, নিকাহ ১৪২৪।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কোনো লোক যখন বিয়ে করে, তখন তাকে যা বলা (দু’আ করা) হবে
২২১২. আকীল ইবনু আবূ ত্বলিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি বসরায় এসে বনু জুশম গোত্রের এক মহিলাকে বিবাহ করলে লোকেরা (মুবারকবাদ দিয়ে) বললো, ’সুখী হও এবং অধিক সন্তান হোক।’ তিনি বলেন, তোমরা এরূপ বলো না। বরং রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ বলতে নিষেধ করেছেন এবং আমাদেরকে আদেশ করেছেন যেন, আমরা বলি: ’বারাকাল্লাহ লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা।’ (অর্থ: তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমার উপর বরকত নাযিল করুন।)[1]
بَاب إِذَا تَزَوَّجَ الرَّجُلُ مَا يُقَالُ لَهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ الْعَبْدِيُّ الْبَصْرِيُّ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ سَمِعْتُهُ يَقُولُ قَدِمَ عَقِيلُ بْنُ أَبِي طَالِبٍ الْبَصْرَةَ فَتَزَوَّجَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي جُشَمٍ فَقَالُوا لَهُ بِالرِّفَاءِ وَالْبَنِينَ فَقَالَ لَا تَقُولُوا ذَلِكَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا عَنْ ذَلِكَ وَأَمَرَنَا أَنْ نَقُولَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ
তাখরীজ: বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৪৮; ইবনুল আ’রাবী, আল মু’জাম নং ২৫৪; আবুশ শাইখ, তাবাকাতুল মুহাদ্দিসীন বিআসবাহান নং ২৩৮; আহমাদ ১/২০১,৩/৪৫১; ইবনুল কানী’, মু’জামুস সাহাবাহ তরজমাহ নং ৮২৩; তাবারাণী, কাবীর ১৭/১৯৩ নং ৫১৪, ৫১৬; নাসাঈ, কুবরা নং ১০০৯২; ইবনু মাজাহ, নিকাহ নং ১৯০৬; আব্দুর রাযযাক নং ১০৪৫৭।
পরবর্তী হাদীসটি এর শাহিদ।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কোনো লোক যখন বিয়ে করে, তখন তাকে যা বলা (দু’আ করা) হবে
২২১৩. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের বিয়ের পরে দু’আ করার সময় বলতেন: “বারাকাল্লাহ লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা। ওয়া জামা’আ বাইনাকুমা ফী খইর।”[1] (অর্থ: তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমার উপর বরকত নাযিল করুন। আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে মিলিত করুন।)
بَاب إِذَا تَزَوَّجَ الرَّجُلُ مَا يُقَالُ لَهُ
حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ إِذَا رَفَّأَ لِإِنْسَانٍ قَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাউসিলী, মু’জামুশ শুয়ুখ নং ৩২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৫২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৮৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. এক (মুসলিম) ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপর জনের প্রস্তাব দেয়া নিষেধ
২২১৪. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক (মুসলিম) ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের অপর ব্যক্তির প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ خِطْبَةِ الرَّجُلِ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُهَيْلِ بْنِ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ نَهَى عَنْ أَنْ يَخْطُبَ الرَّجُلُ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৪০; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৪৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৫৬, ১০৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. এক (মুসলিম) ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপর জনের প্রস্তাব দেয়া নিষেধ
২২১৫. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক মুসলিম ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের ওপরে অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে এবং এক ভাই দরদাম করলে অন্যকে তার দরদাম করতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তাকে অনুমতি দেবে।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ خِطْبَةِ الرَّجُلِ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَخْطُبُ أَحَدُكُمْ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ وَلَا يَبِيعُ عَلَى بَيْعِ أَخِيهِ حَتَّى يَأْذَنَ لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২১৩৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪১২;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮০১, ৫৮০৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৪৭, ৪০৫১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. এক (মুসলিম) ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর অপর জনের প্রস্তাব দেয়া নিষেধ
২২১৬. ফাতিমা বিনত কায়স রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি কুরাইশ গোত্রের বনী মাখযুম উপগোত্রের এক ব্যক্তির (আবূ আমর ইবন হাফসের) সাথে বিবাহাধীন ছিলেন। আর তিনি তাকে তিন তালাক বায়েন প্রদান করেন। এরপর তিনি তার উকিল মারফত তার নিকট খোরপোশ দাবী করেন। তখন তিনি বলেন, আল্লার শপথ! তোমার জন্য কোনো খোরপোশ প্রাপ্য নেই। এ খবরটি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কে অবহিত করা হলে তিনি বলেন, “তার নিকট তোমার কিছুই পাওনা নেই। আর তোমার উপর ইদ্দত পালন ওয়াজিব। আর তুমি উম্মু শারীকের ঘরে চলে যাও (অবস্থান করো) এবং তোমার নিজের (নফসের) দ্বারা আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না।”
এরপর তিনি বলেন, “উম্মু শারীক এমন এক মহিলা, যার ঘরে তার মুহাজির ভাইয়েরা যাতায়াত করে। তুমি বরং উম্মে মাখতুমের ঘরে যাও (অবস্থান কর)। কেননা, সে হল একজন অন্ধ লোক, কাজেই তুমি তোমার কাপড় খুলে রাখলে সে কিছুই দেখতে পাবে না। আর তোমার নিজের (নফসের) দ্বারা আমাদেরকে ফিতনায় ফেলো না।” এরপর তিনি উম্মু মাকতুমের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিলেন। এবং যখন তিনি হালাল হলেন (ইদ্দত পূর্ণ করলেন), তখন তিনি উল্লেখ করলেন যে, মু’আবিয়া ও আবূ জাহাম উভয়ে তার নিকট বিবাহের উদ্দেশ্যে পয়গাম পাঠান। তখন রাসূলূল্লাহ্ (সাঃ) বলেন, “মু’আবিয়া - সে তো ফকীর। আর আবূ জাহাম তো তার কাঁধ হতে লাঠিই সরায় না ( অর্থাৎ অধিক মারধরকারী)। এবং তার কোন মাল নেই। উসামার ব্যাপারে তোমার মত কি?” তার পরিবারের লোকদের নিকট তা অপছন্দনীয় মনে হলো। অত:পর সে বললো, আল্লাহর কসম! রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমারকে যার সাথে বিয়ে দিবেন, তাকে ছাড়া আমি বিয়েই করব না। এরপর তিনি উসামাকে বিবাহ করেন।
বর্ণনাকারী মুহাম্মদ ইবনু আমির (রহঃ) বলে, মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, হে ফাতিমাহ! আল্লাহকে ভয় করো। তুমি জানো তো যে এটি কোন্ বিষয়ে ছিল।
তিনি বলেন, আর ইবনু আব্বাস বলেছেন: আল্লাহ তা’আলা বলেন, “হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর তবে তাদেরকে তালাক দিয়ো ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেকে, ইদ্দতের হিসাব রেখো এবং তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করো; তোমরা তাদেরকে তাদের বাসগৃহ হতে বের করে দিও না এবং তারাও যেন বের না হয়, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়।” (সুরা তালাক: ১) আর ফাহিশাহ (অশ্লীল কাজ)এর মধ্যে এও শামিল রয়েছে যে, সে তার পরিবারকে কষ্ট দেবে; সে একাজ করলে তাদের জন্য তাকে বের করে দেওয়া হালাল হয়ে যাবে।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ خِطْبَةِ الرَّجُلِ عَلَى خِطْبَةِ أَخِيهِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ أَنَّهَا حَدَّثَتْهُ وَكَتَبَهُ مِنْهَا كِتَابًا أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ قُرَيْشٍ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَطَلَّقَهَا الْبَتَّةَ فَأَرْسَلَتْ إِلَى أَهْلِهِ تَبْتَغِي مِنْهُمْ النَّفَقَةَ فَقَالُوا لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ فَبَلَغَ ذَلِكَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ وَعَلَيْكِ الْعِدَّةُ وَانْتَقِلِي إِلَى بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ وَلَا تُفَوِّتِينَا بِنَفْسِكِ ثُمَّ قَالَ إِنَّ أُمَّ شَرِيكٍ امْرَأَةٌ يَدْخُلُ عَلَيْهَا إِخْوَانُهَا مِنْ الْمُهَاجِرِينَ وَلَكِنْ انْتَقِلِي إِلَى بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى إِنْ وَضَعْتِ ثِيَابَكِ لَمْ يَرَ شَيْئًا وَلَا تُفَوِّتِينَا بِنَفْسِكِ فَانْطَلَقَتْ إِلَى بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَلَمَّا حَلَّتْ ذَكَرَتْ أَنَّ مُعَاوِيَةَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَاهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَّا مُعَاوِيَةُ فَرَجُلٌ لَا مَالَ لَهُ وَأَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ فَأَيْنَ أَنْتُمْ مِنْ أُسَامَةَ فَكَأَنَّ أَهْلَهَا كَرِهُوا ذَلِكَ فَقَالَتْ وَاللَّهِ لَا أَنْكِحُ إِلَّا الَّذِي قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَكَحَتْ أُسَامَةَ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ يَا فَاطِمَةُ اتَّقِي اللَّهَ فَقَدْ عَلِمْتِ فِي أَيِّ شَيْءٍ كَانَ هَذَا قَالَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى لَا تُخْرِجُوهُنَّ مِنْ بُيُوتِهِنَّ وَلَا يَخْرُجْنَ إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ وَالْفَاحِشَةُ أَنْ تَبْذُوَ عَلَى أَهْلِهَا فَإِذَا فَعَلَتْ ذَلِكَ فَقَدْ حَلَّ لَهُمْ أَنْ يُخْرِجُوهَا
তাখরীজ: মুসলিম, তালাক ১৪৮০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৪৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৬৭ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবী হুরাইরাহ হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. যে অবস্থায় কোনো লোকের জন্য বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া জায়েয হয়
২২১৭. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো নারী ও তার ফুফুকে (একত্রে) বা ফুফু ও তার ভাতিজীকে (একত্রে) এবং কোনো নারী ও তার খালাকে (একত্রে) কিংবা খালা ও তার বোনঝিকে একত্রে, এবং ছোট বোন ও বড় বোনকে একত্রে কিংবা বড় ও ছোট বোনকে একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب الْحَالِ الَّتِي يَجُوزُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْطُبَ فِيهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي هِنْدٍ حَدَّثَنَا عَامِرٌ حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ تُنْكَحَ الْمَرْأَةُ عَلَى عَمَّتِهَا وَالْعَمَّةُ عَلَى ابْنَةِ أَخِيهَا أَوْ الْمَرْأَةُ عَلَى خَالَتِهَا أَوْ الْخَالَةُ عَلَى بِنْتِ أُخْتِهَا وَلَا تُنْكَحُ الصُّغْرَى عَلَى الْكُبْرَى وَلَا الْكُبْرَى عَلَى الصُّغْرَى
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১০৯, ৫১১০; মুসলিম, নিকাহ ১৪০৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬৪১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬৮, ৪১১৩, ৪১১৫, ৪১১৭, ৪১১৮ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮. যে অবস্থায় কোনো লোকের জন্য বিবাহের প্রস্তাব দেওয়া জায়েয হয়
২২১৮. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে একসঙ্গে কোনো নারী ও তার ফুফুকে একত্রে এবং কোনো নারী ও তার খালাকে একত্রে বিয়ে করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب الْحَالِ الَّتِي يَجُوزُ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْطُبَ فِيهَا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الْمَرْأَةِ وَعَمَّتِهَا وَالْمَرْأَةِ وَخَالَتِهَا
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ২০; তার সূত্রে বুখারী, নিকাহ ৫১০৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪০৮; আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯. শিগার’ বা আপন বোন বা নিকটস্থ কোনো মেয়েকে মাহর ছাড়া একে অপরের নিকট বিবাহ দেয়ার নিষেধাজ্ঞা
২২১৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিগার’ (বা আপন বোন বা নিকটস্থ কোনো মেয়েকে মাহর ছাড়া একে অপরের নিকট বিবাহ দেয়া) থেকে নিষেধ করেছেন।
মালিক (রহঃ) বলেন: শিগার হলো কোনো লোক তার মেয়েকে অপর ব্যক্তির সাথে বিবাহ দেয়া এ শর্তে যে, সে তার মেয়েকে বিবাহ দেবে কোনো মোহরানা ব্যতীত।[1] আবূ মুহাম্মদ কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি মনে করেন তাদের মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন হয়? তিনি বলেন, না, তা আমাকে বিস্মিত করে।
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الشِّغَارِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الشِّغَارِ قَالَ مَالِكٌ وَالشِّغَارُ أَنْ يُزَوِّجَ الرَّجُلُ الْآخَرَ ابْنَتَهُ عَلَى أَنْ يُزَوِّجَهُ الْآخَرُ ابْنَتَهُ بِغَيْرِ صَدَاقٍ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ تَرَى بَيْنَهُمَا نِكَاحًا قَالَ لَا يُعْجِبُنِي
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ২৪; তার সূত্রে বুখারী, নিকাহ ৫১১২; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৫; আগের হাদীসটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি ও (হাদীসটির সনদের ব্যাপারে) হাসান-এর দিকে মতামত প্রত্যাবর্তন করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৯৫, ৫৮১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. নেককার পুরুষের সাথে নেককার স্ত্রীলোকের বিবাহ সম্পর্কে
২২২০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা নেককার পুরুষের সাথে নেককার স্ত্রীলোকের বিবাহ দাও।”আবূ মুহাম্মদ বলেন, এ হাদীসের কিছু অংশ আমার থেকে বাদ পড়ে গেছে, তা হলো: “ফলে পরবর্তী প্রজন্মও নেককার বা উত্তম হবে।”[1]
بَاب فِي نِكَاحِ الصَّالِحِينَ وَالصَّالِحَاتِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُمَرَ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ وَهْبِ بْنِ أَبِي مُغِيثٍ حَدَّثَتْنِي أَسْمَاءُ بِنْتُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَنْكِحُوا الصَّالِحِينَ وَالصَّالِحَاتِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد وَسَقَطَ عَلَيَّ مِنْ الْحَدِيثِ فَمَا تَبِعَهُمْ بَعْدُ فَحَسَنٌ
তাখরীজ: সুয়ূতী, দুররে মানসূর ৫/৪৪ এ একে ইবনু মারদুবিয়ার প্রতি সম্বন্ধিত করেছেন। এছাড়া আর কোথাও আমি পাইনি।
পরিচ্ছেদঃ ১১. ওলী (অভিভাক) ব্যতীত বিয়ে নিষিদ্ধ
২২২১. আবী বুরদাহ তার পিতা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ওলী (শরী’আ সম্মত অভিভাবক) ব্যতীত বিয়ে নেই।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النِّكَاحِ بِغَيْرِ وَلِيٍّ
أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৭৭, ৪০৭৮, ৪০৮৩, ৪০৯০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৪৩, ১২৪৪, ১২৪৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. ওলী (অভিভাক) ব্যতীত বিয়ে নিষিদ্ধ
২২২২. আবী মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “ওলী (শরী’আ সম্মত অভিভাবক) ব্যতীত বিয়ে নেই।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النِّكَاحِ بِغَيْرِ وَلِيٍّ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا نِكَاحَ إِلَّا بِوَلِيٍّ
তাখরীজ: হাদীসটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১. ওলী (অভিভাক) ব্যতীত বিয়ে নিষিদ্ধ
২২২৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে কোন মহিলা তার ওলীর অনুমতি ব্যতিরেকে বিয়ে করবে,তার বিবাহ বাতিল, তার বিবাহ বাতিল,তার বিবাহ বাতিল।” বর্ণনাকারী আবূ আসিম বলেন, তিনি আরেকবার বলেন, “তারা দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলে, শাসকই হবে তার ওলী,যার ওলী নেই। যদি এরপর স্বামী তার সাথে সঙ্গত হয় তবে স্ত্রী মোহরানার হকদার হবে। যেহেতু তার স্বামী তার লজ্জাস্থানকে হালাল মনে করে ভোগ করেছে।”আবূ আসিম বলেন, হাদীসটি আমার দ্বারা লেখানো হয় ১৪৬ (হিজরী) সালে।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النِّكَاحِ بِغَيْرِ وَلِيٍّ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ مُوسَى عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ نُكِحَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ وَلِيِّهَا فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَنِكَاحُهَا بَاطِلٌ فَإِنْ اشْتَجَرُوا قَالَ أَبُو عَاصِمٍ وَقَالَ مَرَّةً فَإِنْ تَشَاجَرُوا فَالسُّلْطَانُ وَلِيُّ مَنْ لَا وَلِيَّ لَهُ فَإِنْ أَصَابَهَا فَلَهَا الْمَهْرُ بِمَا اسْتَحَلَّ مِنْ فَرْجِهَا قَالَ أَبُو عَاصِمٍ أَمْلَاهُ عَلَيَّ سَنَةَ سِتٍّ وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫০৭, ২৫০৮, ৪৬৮২, ৪৬৯২, ৪৭৪৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৭৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৪৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩০ তে, যেখানে বাড়তিভাবে লেখা হয়েছে : ‘এর সনদ সহীহ’। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৮৩; তিরমিযী, নিকাহ ১১০৮; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৭৯।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী, হা/২১৮৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১২. ইয়াতীম মেয়ের বিয়ে প্রসঙ্গে
২২২৪. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমরা ইয়াতীম মেয়েদেরকে বিয়ে করার জন্য তাদের নিকট থেকে সম্মতি গ্রহণ করো। যদি তারা চুপ থাকে, তবে সে অনুমতি দিল (বলে গণ্য হবে)। আর যদি সে অস্বীকার করে, তবে তাকে বাধ্য করা যাবে না।”[1]
بَاب فِي الْيَتِيمَةِ تُزَوِّجُ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَقَ حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسْتَأْمَرُ الْيَتِيمَةُ فِي نَفْسِهَا فَإِنْ سَكَتَتْ فَقَدْ أَذِنَتْ وَإِنْ أَبَتْ لَمْ تُكْرَهْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৮৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩৮ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৯৩।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী ও অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) মেয়েদের থেকে সম্মতি গ্রহণ
২২২৫. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “অকুমারী মেয়েদেরকে তাদের সম্মতি না পাওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না। আবার কুমারী মেয়েদেরকেও তাদের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত বিয়ে দেওয়া যাবে না। আর চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।”[1]
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُنْكَحُ الثَّيِّبُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ وَلَا تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ وَإِذْنُهَا الصُّمُوتُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০১৯, ৭৩২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৭৯, ৪০৮৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩৯ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী ও অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) মেয়েদের থেকে সম্মতি গ্রহণ
২২২৬. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ হাদীস বর্ণিত আছে।[1]
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ حَدَّثَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৩৬; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৯; আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী ও অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) মেয়েদের থেকে সম্মতি গ্রহণ
২২২৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বিধবা নারী তার নিজের (বিয়ের) ব্যাপারে তার ওলীর চেয়ে অধিক কর্তৃত্বশীল। আর কুমারী মেয়ে থেকেও তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করা কর্তব্য। আর তার চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।”[1]
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْذَنُ فِي نَفْسِهَا وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ৪; মুসলিম, নিকাহ ১৪২১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৮৪, ৪০৮৭, ৪০৮৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৭ তে। এছাড়া, সাঈদ ইবনু মানসূর নং ৫৫৬; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১১, ৪/৩৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী ও অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) মেয়েদের থেকে সম্মতি গ্রহণ
২২২৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কুমারী মেয়ে থেকে তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করা হবে। আর তার চুপ থাকাই তার অনুমতি প্রদান।”[1]
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنِي مَالِكٌ أَوَّلُ شَيْءٍ سَأَلْتُهُ عَنْهُ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْفَضْلِ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُسْتَأْذَنُ الْبِكْرُ وَإِذْنُهَا صُمَاتُهَا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. কুমারী ও অকুমারী (বিধবা বা তালাকপ্রাপ্তা) মেয়েদের থেকে সম্মতি গ্রহণ
২২২৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “বিধবা নারী তার নিজের (বিয়ের) বিষয়ে তার ওলীর চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। আর কুমারী মেয়ে থেকেও তার (বিয়ের) ব্যাপারে অনুমতি গ্রহণ করতে হবে। আর তার চুপ থাকাই তার স্বীকারোক্তি।”[1]
بَاب اسْتِئْمَارِ الْبِكْرِ وَالثَّيِّبِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَوْهَبٍ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْأَيِّمُ أَمْلَكُ بِأَمْرِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا وَصَمْتُهَا إِقْرَارُهَا
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৭৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৩/১১, ৪/৩৬৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. অকুমারী (বিধবা বা বিপত্নীক) নারীকে তার অপছন্দ মতে তার ওলী বিয়ে দিলে
২২৩০. ’আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মি’উ ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। খিযাম নামক এক ব্যক্তি তার মেয়েকে বিয়ে দেন। সে তার পিতার দেয়া এই বিয়ে অপছন্দ করে। এরপর মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তাঁকে অবহিত করে। ফলে তিনি তার পিতার দেয়া তার এই বিবাহ বাতিল করে দেন। পরে সেই মেয়ে আবূ লুবাবা ইবনু ’আবদুল মুনযির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বিয়ে করে। ইয়াহ্ইয়া (রহ.) বলেন যে, তার নিকট এ খবর পৌঁছেছে যে, সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)।[1]
بَاب الثَّيِّبِ يُزَوِّجُهَا أَبُوهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنَّهُ سَمِعَ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَزِيدَ وَمُجَمِّعَ بْنَ يَزِيدَ الْأَنْصَارِيَّيْنِ حَدَّثَاهُ أَنَّ رَجُلًا مِنْهُمْ مِنْ الْأَنْصَارِ يُدْعَى خِذَامًا أَنْكَحَ بِنْتًا لَهُ فَكَرِهَتْ نِكَاحَ أَبِيهَا فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَرَدَّ عَنْهَا نِكَاحَ أَبِيهَا فَنَكَحَتْ أَبَا لُبَابَةَ بْنَ عَبْدِ الْمُنْذِرِ فَذَكَرَ يَحْيَى أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّهَا كَانَتْ ثَيِّبًا
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৭৩; আহমাদ ৬/৩২৮; বুখারী, নিকাহ ৫১৩৯, হিয়াল ৬৯৬৯; সাঈদ ইবনু মানসূর নং ৫৭৬;
পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. অকুমারী (বিধবা বা বিপত্নীক) নারীকে তার অপছন্দ মতে তার ওলী বিয়ে দিলে
২২৩১. ’আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ ও মুজাম্মি’উ ইবনু ইয়াযীদ আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। খিযামের মেয়ে খানসাকে তার পিতা বিয়ে দেন। সে ছিল সায়্যিবা (বিধবা)। আর সে একে (পিতার দেয়া এই বিয়েকে) অপছন্দ করে। এরপর মেয়েটি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি তার (পিতার দেয়া) এই বিয়ে বাতিল করে দেন।[1]
بَاب الثَّيِّبِ يُزَوِّجُهَا أَبُوهَا وَهِيَ كَارِهَةٌ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ وُمُجَمِّعٍ ابْنَيْ يَزِيدَ ابْنِ جَارِيَةَ أَنَّ خَنْسَاءَ بِنْتَ خِذَامٍ زَوَّجَهَا أَبُوهَا وَهِيَ ثَيِّبٌ فَكَرِهَتْ ذَلِكَ فَأَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّ نِكَاحَهَا
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ২৫; তার সূত্রে আহমাদ ৬/৩২৮; বুখারী, নিকাহ ৫১৩৮, ইকরাহ ৬৯৪৫; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০১; নাসাঈ, নিকাহ ৬/৮৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. কোনো নারীকে দুই জন অভিভাবক বিয়ে দিলে
২২৩২. উক্ববাহ ইবনু আমির অথবা সামুরাহ ইবনু জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন মহিলাকে যদি (সমপর্যায়ের) দুই ওলী বিয়ে দেয় তবে তাদের প্রথম জনের দেয়া বিয়েই কার্যকর হবে। আর কেউ যদি দুইজনের কাছে কোন জিনিস বিক্রি করে তবে তা এদের মধ্যে প্রথম জনই পাবে।”[1]
بَاب الْمَرْأَةِ يُزَوِّجُهَا الْوَلِيَّانِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ أَوْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا امْرَأَةٍ زَوَّجَهَا وَلِيَّانِ لَهَا فَهِيَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا وَأَيُّمَا رَجُلٍ بَاعَ بَيْعًا مِنْ رَجُلَيْنِ فَهُوَ لِلْأَوَّلِ مِنْهُمَا
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১১০,; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০১; নাসাঈ, বুয়ূ ৭/৩১৪; কুবরা নং ৬২৭৯; ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৯; ইবনু মাজাহ, ২য় অংশ সংক্ষিপ্ত আকারে, তিজারাহ ২১৯০; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৪২;
উকবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আহমাদ ৪/১৪৯; ইবনু আবী শাইবা, ৪/১৩৯; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৩৯। সামুরাহ’র হাদীসটি হলো পরবর্তী হাদীস।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. কোনো নারীকে দুই জন অভিভাবক বিয়ে দিলে
২২৩৩. সামুরাহ ইবনু জুনদুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে (পূর্বোক্ত হাদীসের) অনুরূপ।”[1]
بَاب الْمَرْأَةِ يُزَوِّجُهَا الْوَلِيَّانِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৮৮; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৩৯, ৬৮৪১, ৬৮৪৩; তায়ালিসী, ১/৩০৫ নং ১৫৫৫; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৩৯; আহমাদ ৫/১১, ১২,১৮; ইবনুল জারুদ নং ৬২২; হাকিম ২/৩৫, ১৭৪, ১৭৫; ইবনু মাজাহ, তিজারাহ ২১৯১। দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৩/১৬৫।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. নারীদের সাথে মুত’আহ বিয়ে করা নিষিদ্ধ
২২৩৪. রাবী ইবনু সাবরা (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তাঁর পিতা বিদায় হাজ্জে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন । তিনি বললেন: “তোমরা এ নারীদের সাথে মুতআ (বিয়ে) করো।” আর মুত’আ করা আমাদের নিকট বিয়ে হিসেবেই গণ্য ছিল। ফলে আমরা নারীদেরকে এর প্রস্তাব দিলে তারা আমাদের ও তাদের মাঝে একটি মেয়াদ নির্ধারিত না করলে তারা মানতে রাজি হচ্ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তোমরা (তা-ই) করো।” তখন আমিও আমার চাচাতো ভাই বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাদর ছিল। আমার চাদরটির চেয়ে আমার চাচাতো ভাইয়ের চাদরটি ছিল উৎকৃষ্ট। তবে আমি তার তুলনায় বয়সে অধিক তরুণ ছিলাম।
অবশেষে আমরা একটি যুবতী মেয়ের নিকট এলাম। আমার তারুণ্য তাকে মুগ্ধ করলো, আবার তার চাদরও তার পছন্দ হলো। ফলে সে বলতে লাগলো, চাদর তো চাদরের মতোই (চাদরে কী যায় আসে)। অতঃপর আমি তকে মুতআ বিবাহ করলাম দশদিনের মেয়াদে। এরপর আমি তার নিকট সেই রাত অতিবাহিত করলাম, এরপর সকাল হলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকনে ইয়ামানী ও বাবের মাঝে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলেন: “হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুতআ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তা হারাম করেছেন। অতএব, যার নিকট এই ধরনের (বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক) আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা থেকে কিছুই কেড়ে রেখে দিও না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حِجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ اسْتَمْتِعُوا مِنْ هَذِهِ النِّسَاءِ وَالِاسْتِمْتَاعُ عِنْدَنَا التَّزْوِيجُ فَعَرَضْنَا ذَلِكَ عَلَى النِّسَاءِ فَأَبَيْنَ أَنْ لَا نَضْرِبَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُنَّ أَجَلًا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ افْعَلُوا فَخَرَجْتُ أَنَا وَابْنُ عَمٍّ لِي مَعَهُ بُرْدٌ وَمَعِي بُرْدٌ وَبُرْدُهُ أَجْوَدُ مِنْ بُرْدِي وَأَنَا أَشَبُّ مِنْهُ فَأَتَيْنَا عَلَى امْرَأَةٍ فَأَعْجَبَهَا شَبَابِي وَأَعْجَبَهَا بُرْدُهُ فَقَالَتْ بُرْدٌ كَبُرْدٍ وَكَانَ الْأَجَلُ بَيْنِي وَبَيْنَهَا عَشْرًا فَبِتُّ عِنْدَهَا تِلْكَ اللَّيْلَةَ ثُمَّ غَدَوْتُ فَإِذَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَائِمٌ بَيْنَ الرُّكْنِ وَالْبَابِ فَقَالَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي قَدْ كُنْتُ أَذِنْتُ لَكُمْ فِي الِاسْتِمْتَاعِ مِنْ النِّسَاءِ أَلَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ حَرَّمَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ فَمَنْ كَانَ عِنْدَهُ مِنْهُنَّ شَيْءٌ فَلْيُخَلِّ سَبِيلَهَا وَلَا تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৬; বাইহাকী, নিকাহ ৭/২০২, ২০৩, ২০৪; এছাড়াও আহমাদ ৩/৪০৪-৪০৬; আব্দুর রাযযাক ৭/৪৯৬-৫০৬; ইবনু আবী শাইবা, ৪/২৯২; তাবারাণী, কাবীর ৭/২০৩ নং ৬৮৩৯; তামহীদ ১০/১০২-১০৯ তে এর অনেকগুলি সূত্র রয়েছে।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৩৮, ৯৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৪৪, ৪১৪৬, ৪১৪৭, ৪১৪৮, ৪১৫০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭০ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. নারীদের সাথে মুত’আহ বিয়ে করা নিষিদ্ধ
২২৩৫. রবী’ ইবনু সাবরা আল জুহানী ((রহঃ)) থেকে তাঁর পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে মুতঁআ বিয়ে নিষিদ্ধ করেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الرَّبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ الْجُهَنِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِكَاحِ الْمُتْعَةِ عَامَ الْفَتْحِ
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৬; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৯। এটি পূর্বের হাদীসটির সংক্ষিপ্তসার; সুতরাং পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. নারীদের সাথে মুত’আহ বিয়ে করা নিষিদ্ধ
২২৩৬. হাসান ও আব্দুল্লাহ হতে তাদের উভয়ের পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে লক্ষ্য করে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছি: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের ষুদ্ধের বছরে মুত’আ: তখা নারীদের সাথে মুত’আ বিয়ে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস নিষিদ্ধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ حَدَّثَنِي ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْحَسَنِ وَعَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِمَا قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا يَقُولُ لِابْنِ عَبَّاسٍ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُتْعَةِ مُتْعَةِ النِّسَاءِ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ عَامَ خَيْبَرَ
তাখরীজ: এটির তাখরীজ ২০৩৩ (অনুবাদে সম্ভবত: ২০২৩) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. মুহরিম ব্যাক্তির বিবাহ
২২৩৭. উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মুহরিম (হাজ্জের ইহরামরত) ব্যক্তি বিয়ে করবে না এবং (কাউকে) বিয়ে দিবেও না।”[1]
بَاب فِي نِكَاحِ الْمُحْرِمِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ عُثْمَانَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُحْرِمُ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২৩, ৪১২৪, ৪১২৫, ৪১২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৩ তে। আরও দেখুন, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৭৪ এর টীকা।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. নাবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণের এবং তাঁর কন্যাগণের মোহর কেমন ছিলো
২২৩৮. আবূ সালামা হতেবর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকেজিজ্ঞাসা করলাম যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদেরমোহরানা কেমন ছিলো? তিনি বলেন, তাঁর স্ত্রীদেরমোহরানার পরিমাণ ছিল বারো উকিয়াএবং এক’নাশ’। আবারতিনিজিজ্ঞাসাকরেন, ’নাশ’কী তা তুমি জানো? তিনি বলেন,আমি বললাম, না। তখন তিনি বললেন, তাহলঅর্ধ –উকিয়া। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদেরজন্য এ মোহরানাই ধার্য্য করেছিলেন।[1]
بَاب كَمْ كَانَتْ مُهُورُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَنَاتِهِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ أَزْوَاجِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لِأَزْوَاجِهِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا وَقَالَتْ أَتَدْرِي مَا النَّشُّ قَالَ قُلْتُ لَا قَالَتْ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ فَهَذَا صَدَاقُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَزْوَاجِهِ
তাখরীজ: শাফিঈ, আল মুসনাদ পৃ: ২৪৬; তার সূত্রে আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/১৬১; সহীহ সনদে। আহমাদ ৬/৯৩-৯৪; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৬; নাসাঈ, নিকাহ ৬/১১৬-১১৭; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১০৫; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৮৬; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/১১৫ যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. নাবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণের এবং তাঁর কন্যাগণের মোহর কেমন ছিলো
২২৩৯. আবীল আজফা’আ আস সুলামী (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে খুতবা দান কালে বলতে শুনেছি, প্রথমে তিনি আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ করেন অতঃপর বলেন, মহিলাদের মাহরের ব্যাপারে তোমরা বাড়াবাড়ি করো না। কেননা তা যদি পার্থিব জীবনে সম্মানের বস্তু অথবা আল্লাহর কাছে তাক্ওয়ার প্রতীক হতো, তাহলে তোমাদের চেয়ে মুহাম্মাদ রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে অধিকতর যোগ্য ও অগ্রগণ্য হতেন। তিনি তাঁর স্ত্রী ও কন্যাদের মাহর বারো উকিয়ার বেশি ধার্য করেননি। জেনে রাখো, তোমাদের কেউ কেউ তার স্ত্রীর মোহরের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করে। তখন স্ত্রীর প্রতি স্বামীর মনে শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এমনকি সে বলতে থাকে, আমি তোমার জন্য পানির মশক টানতে টানতে নিজেকে মলিন করেছি অথবা ঘর্মাক্ত হয়ে পড়েছি।”[1]
بَاب كَمْ كَانَتْ مُهُورُ أَزْوَاجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَنَاتِهِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي الْعَجْفَاءِ السُّلَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ خَطَبَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ أَلَا لَا تُغَالُوا فِي صُدُقِ النِّسَاءِ فَإِنَّهَا لَوْ كَانَتْ مَكْرُمَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ تَقْوَى عِنْدَ اللَّهِ كَانَ أَوْلَاكُمْ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَصْدَقَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ وَلَا أُصْدِقَتْ امْرَأَةٌ مِنْ بَنَاتِهِ فَوْقَ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً أَلَا وَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَيُغَالِي بِصَدَاقِ امْرَأَتِهِ حَتَّى يَبْقَى لَهَا فِي نَفْسِهِ عَدَاوَةٌ حَتَّى يَقُولَ كَلِفْتُ إِلَيْكِ عَلَقَ الْقِرْبَةِ أَوْ عَرَقَ الْقِرْبَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৬২০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৫৯ তে। ((তিরমিযী, নিকাহ ১১১৪; আবূ দাউদ, নিকাহ ১৮৩৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৮৭- অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ১৯. কোন কোন জিনিস মোহরানা হিসেবে জায়েয হতে পারে
২২৪০. সাহল ইবন সা’দ সাঈদী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে জনৈকা মহিলা এসে বলল যে, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য তার নিজেকে হেবা করল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “আমার কোনো নারীর প্রয়োজন নেই।” তখন এক ব্যক্তি বলল, এই মহিলাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দিন। তিনি বললেন, “একে (মোহরানা হিসেবে) একটি কাপড় দাও।” লোকটি বলল, আমার কাছে কিছুই নাই। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, একটি লোহার আংটি হলেও তাকে দাও।”বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি বেশ দু:খিত হয়ে পড়লো। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তোমার কাছে কোরানের কী পরিমাণ (মুখস্ত) আছে?” লোকটি বলল: অমুক সূরা অমুক সূরা। তিনি বললেন, “তোমার কাছে কোরানের যা আছে তার বিনিময়ে এই মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিয়ে দিলাম।”[1]
بَاب مَا يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ مَهْرًا
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ أَتَتْ امْرَأَةٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنَّهَا وَهَبَتْ نَفْسَهَا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لِي فِي النِّسَاءِ مِنْ حَاجَةٍ فَقَالَ رَجُلٌ زَوِّجْنِيهَا فَقَالَ أَعْطِهَا ثَوْبًا فَقَالَ لَا أَجِدُ قَالَ أَعْطِهَا وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ فَاعْتَلَّ لَهُ فَقَالَ مَا مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ قَالَ كَذَا وَكَذَا قَالَ فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا عَلَى مَا مَعَكَ مِنْ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: বুখারী, ওয়াকালাত ২৩১০; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫২১, ৭৫২২, ৭৫৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৯৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. বিয়ের খুতবাহ
২২৪১. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’উদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রয়োজনের (বিবাহের) খুতবা শিক্ষা দিয়েছেন (এভাবে):
’’সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। অথবা, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের প্রবৃত্তির অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ্ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোন পথপ্রদর্শক নাই। আমি সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, এবং আমি আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রসূল।’’
এরপর সে (খুতবার সাথে কুরআনের) এ তিনটি আয়াত পাঠ করবে:
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلاَ تَمُوتُنَّ إِلاَّ وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ)
(يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِى خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا)
(يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً)
১. ’’হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে যেরূপ ভয় করা উচিত, তোমরা তাঁকে তদ্রূপ ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’’ (সূরা আল ইমরান : ১০২)।
’’হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি তার থেকে তার সঙ্গিণীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের দু’জন থেকে অসংখ্য পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করে থাকো এবং জ্ঞাতিদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয় আল্লাহ্ তোমাদের উপর পর্যবেক্ষক’’ (সূরা নিসা : ১)।
’’হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের কার্যাবলি সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। যে কেউ আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করে সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে’’ (সূরা আহযাব : ৭০-৭১)।” এরপর সে তার প্রয়োজনীয় কথা বলবে।”[1]
بَاب فِي خُطْبَةِ النِّكَاحِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عُبَيْدَةَ يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ الْحَمْدُ لِلَّهِ أَوْ إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ ثُمَّ يَقْرَأُ ثَلَاثَ آيَاتٍ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمْ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعْ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا ثُمَّ يَتَكَلَّمُ بِحَاجَتِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫২৩৩, ৫২৩৪ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২১১৮; তিরমিযী, নিকাহ ১১০৫; নাসাঈ ৩/১০৫; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৮৯২- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০২।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২১. বিবাহে শর্ত দেওয়া
২২৪২. ’উক্ববাহ ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সকল শর্তের চেয়ে বিয়ের শর্ত পালন করা তোমাদের অধিক কর্তব্য, যার মাধ্যমে তোমাদের জন্য স্ত্রী অঙ্গ ভোগ করা হালাল করা হয়েছে।”[1]
بَاب الشَّرْطِ فِي النِّكَاحِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ مَرْثَدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَحَقَّ الشُّرُوطِ أَنْ تُوفُوا بِهِ مَا اسْتَحْلَلْتُمْ بِهِ الْفُرُوجَ
তাখরীজ: বুখারী, শুরুত্ব ২৭২১, নিকাহ ৫১৫১; মুসলিম, নিকাহ ১৪১৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৫৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. ওয়ালীমাহ সম্পর্কে
২২৪৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুর রহমান ইবনু ’আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শরীরে হলুদ রং দেখতে পেলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: “এ হলুদ রং কিসের?” তখন সে বললো, আমি একজন (আনসারী) মহিলাকে খেজুরের আঁটির পরিমাণ স্বর্ণ (মোহরাণা) দিয়ে বিয়ে করেছি। তিনি বললেন: “আল্লাহ্ তোমাকে বারকাত দান করুন। একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওয়ালীমাহ কর।”[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأَى عَلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ صُفْرَةً فَقَالَ مَا هَذِهِ الصُّفْرَةُ قَالَ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً عَلَى وَزْنِ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ قَالَ بَارَكَ اللَّهُ لَكَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৪৯, নিকাহ ৫১৬৭; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২০৫, ৩৩৪৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬০, ৪০৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. ওয়ালীর দাওয়াত কবুল করা প্রসঙ্গে
২২৪৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কাউকে ওয়ালীমা (ভোজ)-এর দাওয়াত দিলে সে যেন তা কবুল করে।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, দাওয়াত কবুল করা উচিত, তবে তাতে খাওয়া-দাওয়া করা ওয়াজিব নয়।
بَاب فِي إِجَابَةِ الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى وَلِيمَةٍ فَلْيُجِبْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَنْبَغِي أَنْ يُجِيبَ وَلَيْسَ الْأَكْلُ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৭৩; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৯৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. স্ত্রীগণের মাঝে সমতা বিধান করা
২২৪৫. আবী হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যার দু’জন স্ত্রী আছে, আর সে তাদের একজনের চেয়ে অপরজনের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে, তবে সে কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার (দেহের) এক পার্শ্ব কাত হয়ে থাকবে।”[1]
بَاب فِي الْعَدْلِ بَيْنَ النِّسَاءِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَتْ لَهُ امْرَأَتَانِ فَمَالَ إِلَى إِحْدَاهُمَا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَشِقُّهُ مَائِلٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০৭ তে। ((আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৩৩; তিরমিযী, নিকাহ ১১৪১; নাসাঈ, নিকাহ ৭/৬৩; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৬৯; আহমাদ ২/৩৪৭-৪৭১।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০৬ এর টীকা।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৫. স্ত্রীগণের মাঝে পালা বন্টন
২২৪৬. আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন স্ত্রীদের মধ্যে ন্যায়পরায়নতার সাথে সমানভাবে বণ্টন করতেন, অতঃপর বলতেন : “হে আল্লাহ্! এ হলো আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমার বন্টন। যে বিষয় তোমার ক্ষমতাধীন আছে, আমার সাধ্যাতীত, সে বিষয়ে আমাকে তিরস্কার করো না।”[1]
بَاب فِي الْقِسْمَةِ بَيْنَ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ الْخَطْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْسِمُ فَيَعْدِلُ وَيَقُولُ اللَّهُمَّ هَذِهِ قِسْمَتِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلَا تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلَا أَمْلِكُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩০৫ তে। এছাড়াও, ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ২/২/২৮ ও ৮/১২১ মুরসাল হিসেবে। আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৩৪; তিরমিযী, নিকাহ ১১৪০; নাসাঈ, নিকাহ ৭/৬৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৭১; আহমাদ, ইবনু হিব্বান ও হাকিম। হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর তাহক্বীক্ব নং ২২০৬ এর টীকা।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে ব্যক্তির নিকট (সর্বদা) কোনো একজন স্ত্রী বিদ্যমান থাকে
২২৪৭. আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে রওয়ানা হলে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে (কে তাঁর সাথে যাবেন তা নির্ধারণের জন্য) লটারির ব্যবস্থা করতেন। তাদের মধ্যে যার পালা লটারীতে উঠতো, তিনি তাঁর সাথে যেতেন।”[1]
بَاب الرَّجُلِ يَكُونُ عِنْدَهُ النِّسْوَةُ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ أَقْرَعَ بَيْنَ نِسَائِهِ فَأَيَّتُهُنَّ خَرَجَ سَهْمُهَا خَرَجَ بِهَا مَعَهُ
তাখরীজ: বুখারী, হিবাহ ২৫৯৩; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৭০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯৭, ৪৯২৭, ৪৯২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১২, ৭০৯৯ তে। ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৮/১২১।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. ছাইয়্যেব (অকুমারী) ও কুমারী মেয়ের সাথে বিয়ের পরে অবস্থান (এর পরিমাণ)
২২৪৮. আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “(অন্য স্ত্রী থাকা অবস্থায়) কুমারী মহিলা (বিয়ে করলেতার) নিকট লাগাতার সাত দিন অবস্থান করবে আর অকুমারী মহিলা (কে বিয়ে করলে তার) নিকট সে লাগাতার তিন দিন অবস্থান করবে।”[1]
بَاب الْإِقَامَةِ عِنْدَ الثَّيِّبِ وَالْبِكْرِ إِذَا بَنَى بِهَا
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِلْبِكْرِ سَبْعٌ وَلِلثَّيِّبِ ثَلَاثٌ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫২১৩; মুসলিম, রিদা’আ ১৪৬১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮২৩, ৩৭৮৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২০৮, ৪২০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. ছাইয়্যেব (অকুমারী) ও কুমারী মেয়ের সাথে বিয়ের পরে অবস্থান (এর পরিমাণ)
২২৪৯. উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে বিবাহ করেন, তখন তাঁর নিকট তিন রাত অবস্থান করেন। এরপর তিনি বলেন, “এটা তোমার জন্য তোমার পরিবারের উপর কোনো অপমান নয়। অবশ্য যদি তুমি চাও তবে আমি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করব। আর আমি যদি তোমার সাথে সাত রাত অবস্থান করি, তখন আমার অন্যান্য স্ত্রীদের সাথেও আমাকে (সমতা রক্ষার্থে) সাত রাত অতিবাহিত করতে হবে।”[1]
بَاب الْإِقَامَةِ عِنْدَ الثَّيِّبِ وَالْبِكْرِ إِذَا بَنَى بِهَا
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا تَزَوَّجَ أُمَّ سَلَمَةَ أَقَامَ عِنْدَهَا ثَلَاثًا وَقَالَ إِنَّهُ لَيْسَ بِكِ عَلَى أَهْلِكِ هَوَانٌ إِنْ شِئْتِ سَبَّعْتُ لَكِ وَإِنْ سَبَّعْتُ لَكِ سَبَّعْتُ لِسَائِرِ نِسَائِي
তাখরীজ: মুসলিম, রিদা’আ ১৪৬০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৯৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. যে ব্যক্তি শাওয়াল মাসে তাঁর স্ত্রীর সাথে বাসর যাপন করেন
২২৫০. আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে শাওয়াল মাসে বিবাহ করেনএবং শাওয়াল মাসেই তাঁর সঙ্গে আমার বাসর হয়। আর তাঁর কোন্ স্ত্রী তাঁর নিকট আমার চেয়ে অধিক মর্যাদাবান? তিনি (আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) (তাঁর পরিবারের) মেয়েদের জন্য শাওয়াল মাসে বাসর হওয়া পছন্দ করতেন।[1]
بَاب بِنَاءِ الرَّجُلِ بِأَهْلِهِ فِي شَوَّالٍ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ إِسْمَعِيلَ بْنِ أُمَيَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي شَوَّالٍ وَأُدْخِلْتُ عَلَيْهِ فِي شَوَّالٍ فَأَيُّ نِسَائِهِ كَانَ أَحْظَى عِنْدَهُ مِنِّي قَالَ وَكَانَتْ تَسْتَحِبُّ أَنْ تُدْخِلَ عَلَى النِّسَاءِ فِي شَوَّالٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৫৪, ২০৬; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৩; ইবনু মাজাহ ১৯৯০; তিরমিযী, নিকাহ ১০৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৫৮ তে। আরও দেখুন, ইবনু আদী, আল কামিল ৫/১৮৮১।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. সহবাসের সময় (দু’আয়) যা বলতে হয়
২২৫১. ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনিবলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর সাথে মিলনের সময় যেন একথা বলতে অক্ষম না হয়: যে: ’’হে আল্লাহ্! আমাকে শয়তান থেকে দূরে রাখো এবং যে সন্তান আমাদের দান করবে তাকেও শয়তান থেকে দূরো রাখো।’’ অতঃপর যদি আল্লাহ (তাদের সেই মিলনের দ্বারা) কোন সন্তান স্থির করেন, তবে শয়তান তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”[1]
بَاب الْقَوْلِ عِنْدَ الْجِمَاعِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ أَنْ يَقُولَ حِينَ يُجَامِعُ أَهْلَهُ بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا فَإِنْ قَضَى اللَّهُ وَلَدًا لَمْ يَضُرَّهُ الشَّيْطَانُ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৪/৩১১; বুখারী, উযূ ১৪১, বাদাউল খালক ৩২৭১, ৩২৮৩, নিকাহ, ৫১৬১, দাওয়াত ৬৩৮৮, তাওহীদ ৭৩৯৬;; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৪; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৬১; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯১৯; আহমাদ ১/২২০, ২৮৩; তিরমিযী, নিকাহ ১০৯২; তায়ালিসী ১/৩১১ নং ১৫৮৭; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১৪৯; ইবনুস সুন্নী, নং ৬০৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. নারীদের পশ্চাদ্দারে গমণ করা নিষিদ্ধ
২২৫২. খুযাইমা ইবনু সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা হাক্ক প্রকাশে লজ্জা বোধ করেন না। তোমরা নারীদের পশ্চাদ্দারে গমণ করবে না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَعْجَازِهِنَّ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ كَثِيرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحُصَيْنِ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْخَطْمِيِّ عَنْ هَرَمِيِّ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ سَمِعْتُ خُزَيْمَةَ بْنَ ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي مِنْ الْحَقِّ لَا تَأْتُوا النِّسَاءَ فِي أَعْجَازِهِنَّ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯৮, ৪২০০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৯৯, ১৩০০ তে। ((ইবনু মাজাহ, ১৯২৪)) এটি গত হয়েছে ১১৮৩ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. নারীদের পশ্চাদ্দারে গমণ করা নিষিদ্ধ
২২৫৩. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহুদীরা মুসলিমদেরকে বলত যে, কোন লোক তার স্ত্রীর পিছন দিক থেকে (তার যোনি দ্বারে) সংগম করলে এতে সন্তান টেরা চক্ষু বিশিষ্ট হবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন: অর্থাৎ “স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র অতএব, তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করতে পার।”[1] (সূরা বাকারাঃ ২২৩)
بَاب النَّهْيِ عَنْ إِتْيَانِ النِّسَاءِ فِي أَعْجَازِهِنَّ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ الْيَهُودَ قَالُوا لِلْمُسْلِمِينَ مَنْ أَتَى امْرَأَتَهُ وَهِيَ مُدْبِرَةٌ جَاءَ وَلَدُهُ أَحْوَلَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ
তাখরীজ: এটি গত হয়েছে ১১৭২ নং এ। (( বুখারী, তাফসীর, ৪৫২৮; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৫))
পরিচ্ছেদঃ ৩১. যে ব্যক্তি কোনো মহিলাকে দেখে নিজের (নফসের) ব্যাপারে আশংকা বোধ করে
২২৫৪. আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক স্ত্রীলোককে দেখলেন। আর সে তাঁকে মুগ্ধ করল। তখন তিনি তাঁর স্ত্রী সাওদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-এর নিকট আসলেন। তিনি তখন সুগন্ধি প্রস্তুত করছিলেন এবং তার নিকট অন্যান্য স্ত্রীলোকও ছিল। এরপর তিনি তাঁর সাথে নিভৃতে চলে গেলেন এবং তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিজের প্রয়োজন পূরণ করলেন। অতঃপর তিনি বললেন:“যখন কোনো লোক কোন স্ত্রীলোককে দেখে এবং সে তাকে মুগ্ধ করে তখন সে যেন তার স্ত্রীর নিকট যায়। কেননা, এর নিকট যা রয়েছে, তার স্ত্রী’র নিকটও অনুরূপ রয়েছে।”[1]
بَاب الرَّجُلِ يَرَى الْمَرْأَةَ فَيَخَافُ عَلَى نَفْسِهِ
أَخْبَرَنَا قَبِيصَةُ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَلَّامٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ امْرَأَةً فَأَعْجَبَتْهُ فَأَتَى سَوْدَةَ وَهِيَ تَصْنَعُ طِيبًا وَعِنْدَهَا نِسَاءٌ فَأَخْلَيْنَهُ فَقَضَى حَاجَتَهُ ثُمَّ قَالَ أَيُّمَا رَجُلٍ رَأَى امْرَأَةً تُعْجِبُهُ فَلْيَقُمْ إِلَى أَهْلِهِ فَإِنَّ مَعَهَا مِثْلَ الَّذِي مَعَهَا
তাখরীজ: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৪৩৫, ৫৪৩৬;
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে সহীহ মুসলিম, নিকাহ ১৪০৩ তে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৭২, ৫৫৭৩ এ।
আবার এর অপর শাহিদ রয়েছে আবী কাবশা হতে আহমাদ ৪/২৩১ তে যার সনদ জাইয়্যেদ বা উত্তম।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. কুমারী মেয়েদের বিয়ে করা প্রসঙ্গে
২২৫৫. জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। এরপর যখন আমরা ফিরে আসছিলাম, তখন আমি তাড়াতাড়ি চলছিলাম। এমন সময় আমি এক আরোহীর সাক্ষাৎ পেলাম।
তিনি বলেন, এরপর আমি ফিরে দেখি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রয়েছি। তখন তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন, “হে জাবির, তোমার এত তাড়াতাড়ি করার কারণ কী?” আমি উত্তর দিলাম, আমি নতুন বিয়ে করেছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, “তুমি কি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে, না বিধবা?” আমি উত্তর দিলাম, বিধবা। তিনি বললেন, “তুমি কুমারী মেয়ে বিয়ে করলে না কেন? যার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করতে পারতে আর সেও তোমার সঙ্গে খেলা-কৌতুক করত।”
এরপর তিনি আমাকে বললেন, “যখন তুমি পৌঁছবে, তখন তুমি মিলিত হবে, তুমি মিলিত হবে।”তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, এরপর তিনি আমাকে বললেন, যখন আমরা (মদিনায়) পৌঁছলাম, এবং আমরা (বাড়িতে) প্রবেশ করব, এমন সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি রাতে প্রবেশ করা থেকে অপেক্ষা কর, যেন (অনুপস্থিত স্বামীর স্ত্রী) নিজের অবিন্যস্ত কেশরাশি বিন্যাস করতে পারে এবং (গোপনাঙ্গের) লোম পরিষ্কার করতে পারে।”[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الْأَبْكَارِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُطِيعٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ أَخْبَرَنَا سَيَّارٌ عَنْ الشَّعْبِيِّ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَلَمَّا قَفَلْنَا تَعَجَّلْتُ فَلَحِقَنِي رَاكِبٌ قَالَ فَالْتَفَتُّ فَإِذَا أَنَا بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لِي مَا أَعْجَلَكَ يَا جَابِرُ قَالَ إِنِّي حَدِيثُ عَهْدٍ بِعُرْسٍ قَالَ أَفَبِكْرًا تَزَوَّجْتَهَا أَمْ ثَيِّبًا قَالَ قُلْتُ بَلْ ثَيِّبًا قَالَ فَهَلَّا بِكْرًا تُلَاعِبُهَا وَتُلَاعِبُكَ قَالَ ثُمَّ قَالَ لِي إِذَا قَدِمْتَ فَالْكَيْسَ الْكَيْسَ قَالَ فَلَمَّا قَدِمْنَا ذَهَبْنَا نَدْخُلُ قَالَ أَمْهِلُوا حَتَّى نَدْخُلَ لَيْلًا أَيْ عِشَاءً لِكَيْ تَمْتَشِطَ الشَّعِثَةُ وَتَسْتَحِدَّ الْمُغِيبَةُ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী, ৪০৫২, নিকাহ ৫০৭৯; মুসলিম, রাদা’আ ৭১৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯৩, ১৮৫০, ১৮৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭১৭, ৬৬৮৩, ৭১৩৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. ‘গীলাহ’ বা দুগ্ধ পোষ্য শিশুর মায়ের (সাথে মিলিত হওয়া) সম্পর্কে
২২৫৬. জুদামা বিনতু ওয়াহাব আসাদিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমি স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সংগম নিষিদ্ধ ঘোষণা করার ইচ্ছে করলাম। এরপর আমার নিকট আলোচনা করা হল যে, রোম ও পারস্যবাসী লোকেরাও তা করে থাকে, অথচ তাতে তাদের সন্তানদের কোন ক্ষতি হয় না।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’গীলাহ’ হলো স্তন্যদায়িনী স্ত্রীর সাথে সংগম করা।
بَاب فِي الْغِيلَةِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ نَوْفَلٍ الْأَسَدِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ جُدَامَةَ بِنْتِ وَهْبٍ الْأَسَدِيَّةِ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أَنْهَى عَنْ الْغِيلَةِ حَتَّى ذَكَرْتُ أَنَّ فَارِسَ وَالرُّومَ يَصْنَعُونَ ذَلِكَ فَلَا يَضُرُّ أَوْلَادَهُمْ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْغِيلَةُ أَنْ يُجَامِعَهَا وَهِيَ تُرْضِعُ
তাখরীজ: মালিক, রা’দ্বা’আ ১৬ সহীহ সনদে; মুসলিম, নিকাহ ১৪৪২; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৭/৪৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. স্ত্রীদেরকে প্রহার করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
২২৫৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো তাঁর কোনো খাদিমকে প্রহার করেননি; আর তিনি নিজ হাতে কোনো কিছুকেই হত্যা করেননি। তবে তিনি আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র রাস্তায় জিহাদ করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ ضَرْبِ النِّسَاءِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَادِمًا قَطُّ وَلَا ضَرَبَ بِيَدِهِ شَيْئًا قَطُّ إِلَّا أَنْ يُجَاهِدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
তাখরীজ: মুসলিম, ফাযাইল ২৩২৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭৫, এতে বাড়তি অংশও রয়েছে; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৮, ৬৪৪৪; এ বাড়তি অংশটুকু বর্ণনা করেছেন বুখারী, মানাকিব ৩৫৬০ তে এবং আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. স্ত্রীদেরকে প্রহার করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
২২৫৮. ইয়াস ইবনু ’আবদুল্লাহ্ ইবনু আবূ যুবাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আল্লাহর দাসীদের প্রহার করো না।” অতঃপর ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলেন : নারীরা তো তাদের স্বামীদের অবাধ্যাচরণ করছে। অতঃপর তিনি তাদেরকে মারার অনুমতি দিলেন (এবং তারা প্রহৃত হলো।) ফলে অনেক নারী তাদের নিজ নিজ স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাড়িতে আসা-যাওয়া করলো। তখন (সকাল বেলায়) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ’’আজ রাতে মুহাম্মাদের পরিবারে অনেক মহিলা এসে তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এসকল (মারপিটকারীরা) তোমাদের মধ্যে উত্তম লোক নয়।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ ضَرْبِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ إِيَاسِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ فَجَاءَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ قَدْ ذَئِرْنَ عَلَى أَزْوَاجِهِنَّ فَرَخَّصَ فِي ضَرْبِهِنَّ فَأَطَافَ بِآلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَدْ طَافَ بِآلِ مُحَمَّدٍ نِسَاءٌ كَثِيرٌ يَشْكُونَ أَزْوَاجَهُنَّ لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৮৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩১৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০০ তে।
((আব্দুর রাযযাক, আল মুছান্নাফ ১৭৯৪৫; তাবারাণী ৭৮৪; বাইহাকী ৭/৩০৪; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৮৫; আবূ দাউদ, নিকাহ ২১৪৬; নাসাঈ, কুবরা; শাফিঈ ২/২৮; হাকিম ২/১৮৮, ১৯১; বাগাবী, ২৩৪৬; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।– মুহাক্বিক্বের সহীহ ইবনু হিব্বান হা/৪১৮৯ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. স্ত্রীদেরকে প্রহার করার নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে
২২৫৯. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু যামআহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন লোকদের মাঝে খুতবাহ দিলেন। এ খুতবায় তিনি নারীদের ব্যাপারে লোকদেরকে উপদেশ দিলেন। তিনি বলেন, “সেই লোকের অবস্থা কী, যে তার স্ত্রীকে ক্রীতদাসের মত মারপিট করে; কিন্তু ঐ দিনের শেষেই সে আবার তার সঙ্গে (এক বিছানায়) মিলিত হয়?!”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ ضَرْبِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمَعَةَ قَالَ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ النَّاسَ يَوْمًا فَوَعَظَهُمْ فِي النِّسَاءِ فَقَالَ مَا بَالُ الرَّجُلِ يَجْلِدُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ وَلَعَلَّهُ يُضَاجِعُهَا فِي آخِرِ يَوْمِهِ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর, ৪৯৪২; মুসলিম, জান্নাত ওয়া সিফাতু নাঈমুহা ২৮৫৫। এছাড়াও, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ নং ৬০২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কোমল আচরণ করা
২২৬০. আবী যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :“নারীকে পাজরের (বাঁকা) হাড় হতে সৃষ্টি করা হয়েছে। ফলে তুমি যদি তাকে সোজা করতে যাও, তবে তাকে ভেঙ্গে ফেলবে; ফলে তুমি তার সাথে কোমল আচরণ করো। কেননা, তার মাঝে যেমন বক্রতা/ কষ্ট আছে তেমনি প্রাচুর্য/ পূর্ণতাও রয়েছে।”[1]
بَاب فِي مُدَارَاةِ الرَّجُلِ أَهْلَهُ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ عَنْ نُعَيْمِ بْنِ قَعْنَبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ الْمَرْأَةَ خُلِقَتْ مِنْ ضِلَعٍ فَإِنْ تُقِمْهَا كَسَرْتَهَا فَدَارِهَا فَإِنَّ فِيهَا أَوَدًا وَبُلْغَةً
তাখরীজ: বাযযার, কাশফুল আসতার নং ১৪৭৮; আহমাদ ৫/১৫১; নাসাঈ, আশারাতুন নিসা নং ২৭০ সহীহ সনদে; আর এর শাহিদ পরবর্তী হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. স্ত্রীর প্রতি স্বামীর কোমল আচরণ করা
২২৬১. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে পাঁজরের হাড়ের ন্যায়। যদি একেবারে সোজা করতে চাও, তাহলে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং, যদি তোমরা তাদের থেকে উপকার লাভ করতে চাও, তাহলে ঐ বাঁকা অবস্থাতেই লাভ করতে হবে।”[1]
بَاب فِي مُدَارَاةِ الرَّجُلِ أَهْلَهُ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا الْمَرْأَةُ كَالضِّلَعِ إِنْ تُقِمْهَا تَكْسِرْهَا وَإِنْ تَسْتَمْتِعْ تَسْتَمْتِعْ وَفِيهَا عِوَجٌ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ, ৫১৮৪; মুসলিম, রাদা’আ ১৪৬৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২১৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭৯, ৪১৮০ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. আযল সম্পর্কে
২২৬২. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে ’আযল করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: “তোমরা কি তা করো নাকি? তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ আল্লাহ তাআলা যে প্রাণ (সৃষ্টি) হওয়ার ফায়সালা করে রেখেছেন, তা অবশ্যই হবে।”[1]
بَاب فِي الْعَزْلِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ سَأَلَ رَجُلٌ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْعَزْلِ فَقَالَ أَوَ تَفْعَلُونَ ذَلِكَ فَلَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ نَسَمَةٍ قَضَى اللَّهُ تَعَالَى أَنْ تَكُونَ إِلَّا كَانَتْ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ, ২২২৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৫০, ১২৫০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৯১, ৪১৯৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬৪ তে। পরবর্তীটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. আযল সম্পর্কে
২২৬৩. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোনো লোকের বন্দী দাসী রয়েছে, যার সাথে সে সঙ্গত হয়। কিন্তু সে গর্ভবতী হোক- তা সে চায় না। এমতাবস্থায় সে তার সাথে আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) করবে কি? আবার কোনো লোকের দুগ্ধদায়িনী স্ত্রী রয়েছে, যার সাথে সে সঙ্গত হয়। কিন্তু সে চায় না যে, সে গর্ভবতী হোক। এমতাবস্থায় সে তার সাথে আযল- (নিরুদ্ধ সঙ্গম করা) করবে কি? তিনি বললেন, তোমরা যদি তা (আযল) না কর তাতে তোমাদের কোন ক্ষতি নেই। কারণ তা হলো (আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত) তাকদীর।”[1]
ইবনু আউন বলেন, এরপর আমি এটি হাসান (রহঃ) এর নিকট উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, এটাই হলো নিষেধাজ্ঞা বা ধমক স্বরূপ! আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, এটাই হলো নিষেধাজ্ঞা বা ধমক স্বরূপ!
بَاب فِي الْعَزْلِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ بِشْرٍ يَرُدُّ الْحَدِيثَ إِلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ الرَّجُلُ تَكُونُ لَهُ الْجَارِيَةُ فَيُصِيبُ مِنْهَا وَيَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ أَفَيَعْزِلُ عَنْهَا وَتَكُونُ عِنْدَهُ الْمَرْأَةُ تُرْضِعُ فَيُصِيبُ مِنْهَا وَيَكْرَهُ أَنْ تَحْمِلَ فَيَعْزِلُ عَنْهَا قَالَ لَا عَلَيْكُمْ أَنْ لَا تَفْعَلُوا فَإِنَّمَا هُوَ الْقَدَرُ قَالَ ابْنُ عَوْنٍ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِلْحَسَنِ فَقَالَ وَاللَّهِ لَكَأَنَّ هَذَا زَجْرًا وَاللَّهِ لَكَأَنَّ هَذَا زَجْرًا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূর্ণরূপ। আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩০৬ এবং পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. আত্মসম্মানবোধ সম্পর্কে
২২৬৪. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাশীল কেউ নেই এবং এ কারণেই তিনি সকল অশ্লীল কাজ হারাম করেছেন। আর আল্লাহর চেয়ে অধিক প্রশংসাপ্রিয় আর কেউ নেই।”[1]
بَاب فِي الْغَيْرَةِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ شَقِيقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ أَحَدٌ أَغْيَرَ مِنْ اللَّهِ لِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ وَلَيْسَ أَحَدٌ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللَّهِ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ, ৫২২০; মুসলিম, তাওবাহ ২৭৬০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১২৩, ৫১৬৯, ৫১৭৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. আত্মসম্মানবোধ সম্পর্কে
২২৬৫. জাবির ইবনু আতীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, “গীরাত (আত্মমর্যাদাবোধ) (দু’ধরণের; একটি হলো-) যা আল্লাহ্ পছন্দ করেন এবং (অপরটি)- যা আল্লাহ্ অপছন্দ করেন। যে ’গীরাত’ মহান আল্লাহ্ পছন্দ করেন, তা হলো- সন্দেহের ক্ষেত্রে গীরাতের প্রদর্শন। আর যে ’গীরাত’ আল্লাহ্ অপছন্দ করেন, তা হলো- যেখানে কোনরূপ সন্দেহের অবকাশ নেই, সে বিষয়ে গীরাত দেখানো।”[1]
بَاب فِي الْغَيْرَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي ابْنُ جَابِرِ بْنِ عَتِيكٍ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مِنْ الْغَيْرَةِ مَا يُحِبُّ اللَّهُ وَمِنْهَا مَا يُبْغِضُ اللَّهُ فَالْغَيْرَةُ الَّتِي يُحِبُّ اللَّهُ الْغَيْرَةُ فِي الرِّيبَةِ وَالْغَيْرَةُ الَّتِي يُبْغِضُ اللَّهُ الْغَيْرَةُ فِي غَيْرِ رِيبَةٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৯৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. আত্মসম্মানবোধ সম্পর্কে
২২৬৬. মুগীরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, সা’দ ইবনু ’উবাদাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে অন্য কোন পুরুষকে যদি দেখি, তাকে সরাসরি খোলা তরবারি দিয়ে হত্যা করব। এ কথা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ “তোমরা কি সা’দের আত্মমর্যাদাবোধ দেখে বিস্মিত হচ্ছ? আমি তার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আর আল্লাহ্ আমার চেয়েও অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন। আল্লাহ্ আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন হবার কারণে প্রকাশ্য ও গোপনীয় (যাবতীয়) অশ্লীলতাকে হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহর চেয়ে অধিক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন কেউই নেই। অক্ষমতা প্রকাশকে আল্লাহর চেয়ে অধিক পছন্দ করেন এমন কেউই নেই। আর এজন্য তিনি নবী, ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতাদেরকে পাঠিয়েছেন। প্রশংসা আল্লাহর চেয়ে আর কারো কাছে অধিক প্রিয় নয়। তাই তিনি জান্নাতের ওয়াদা দিয়েছেন।”[1]
بَاب فِي الْغَيْرَةِ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ وَرَّادٍ مَوْلَى الْمُغِيرَةِ عَنْ الْمُغِيرَةِ قَالَ بَلَغَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ سَعْدَ بْنَ عُبَادَةَ يَقُولُ لَوْ وَجَدْتُ مَعَهَا رَجُلًا لَضَرَبْتُهَا بِالسَّيْفِ غَيْرَ مُصْفَحٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَعْجَبُونَ مِنْ غَيْرَةِ سَعْدٍ أَنَا أَغَيْرُ مِنْ سَعْدٍ وَاللَّهُ أَغَيْرُ مِنِّي وَلِذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلَا شَخْصَ أَغَيْرُ مِنْ اللَّهِ وَلَا أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ الْمَعَاذِرِ وَلِذَلِكَ بَعَثَ النَّبِيِّينَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ وَلَا شَخْصَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنْ اللَّهِ وَلِذَلِكَ وَعَدَ الْجَنَّةَ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/২৪৮; বুখারী, তাওহীদ, ৭৪১৬; মুসলিম, লি’আন ১৪৯৯। হাকিম ৪/৩৫৮; ইবনু আবী শাইবা, ৪/৪১৯; ইবনু আবী আসিম, আস সুন্নাহ নং ৫২২, ৫২৩।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. স্ত্রীলোকের উপর তার স্বামীর হক (অধিকার) সম্পর্কে
২২৬৭. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কোন স্ত্রীলোক যদি স্বামীর বিছানা পরিত্যাগ করত: (অন্যত্র) রাত্রি যাপন করে, তাহলে ফেরেশ্তাগণ এমন স্ত্রীর উপর লা’নত দিতে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে (স্বামীর বিছানায়) ফিরে না আসে।”[1]
بَاب فِي حَقِّ الزَّوْجِ عَلَى الْمَرْأَةِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ زُرَارَةَ بْنِ أَوْفَى الْعَامِرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا بَاتَتْ الْمَرْأَةُ هَاجِرَةً لِفِرَاشِ زَوْجِهَا لَعَنَتْهَا الْمَلَائِكَةُ حَتَّى تَرْجِعَ
তাখরীজ: বুখারী, বাদাউল খালক, ৩২৩৭; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৯৬, ৬২১৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৭২, ৪১৭৩, ৪১৭৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. লি’আন করা সম্পর্কে
২২৬৮. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, ’উওয়াইমির’ আজলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! যদি কেউ তার স্ত্রীর সঙ্গে পরপুরুষকে (ব্যভিচার-রত) দেখতে পায়, আর তাকে হত্যা করে ফেলে, তবে আপনারা কি তাকে হত্যা করবেন? অথবা,(যদি সে স্বামী হত্যা না করে), তবে সে কী করবে? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তুমি ও তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং তুমি গিয়ে তাঁকে (তোমার স্ত্রীকে) নিয়ে আস।” সাহল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এরপর তারা দু’জনে লি’আন (পরস্পরকে অভিশাপ দিতে আরম্ভ) করলো। আমি সে সময় (অন্যান্য) লোকের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। উভয়ের লি’আন করা শেষ হয়ে গেলে তিনি (উওয়াইমির) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এখন যদি আমি তাকে (স্ত্রী হিসেবে) ধরে রাখি তবে এটা তার উপর মিথ্যারোপ করা হবে। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে আদেশ দেয়ার পূর্বেই তিনি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিলেন।
ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন, এটাই লি’আনকারীদ্বয়ের ব্যাপারে সুন্নাত হয়ে দাঁড়াল।[1]
بَاب فِي اللِّعَانِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ عُوَيْمِرًا الْعَجْلَانِيَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ رَجُلًا وَجَدَ مَعَ امْرَأَتِهِ رَجُلًا أَيَقْتُلُهُ فَيَقْتُلُونَهُ أَمْ كَيْفَ يَفْعَلُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَنْزَلَ اللَّهُ فِيكَ وَفِي صَاحِبَتِكَ فَاذْهَبْ فَأْتِ بِهَا قَالَ سَهْلٌ فَتَلَاعَنَا وَأَنَا مَعَ النَّاسِ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ تَلَاعُنِهِمَا قَالَ كَذَبْتُ عَلَيْهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ أَمْسَكْتُهَا فَطَلَّقَهَا ثَلَاثًا قَبْلَ أَنْ يَأْمُرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانَتْ تِلْكَ بَعْدُ سُنَّةَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, তালাক, ৫২৫৯; মুসলিম, লি’আন ১৪৯২। এছাড়াও, বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৩৬৬; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ৬/১৮৩-১৮৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১৫৫-১৫৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৮৪, ৪২৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. লি’আন করা সম্পর্কে
২২৬৯. সাহল ইবনু সা’দ সা’ঈদী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, ’উওয়াইমির’ আজলানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ’আসেম ইবনু ’আদী আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট আসলেন, যিনি ছিলেন বনী আজলান গোত্রের নেতা।’ এরপর তিনি (সাহল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন তবে সেখানে ’’তিনি তাকে তিনবার তালাক দিলেন’-এ কথা উল্লেখ করেননি।[1]
بَاب فِي اللِّعَانِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ عُوَيْمِرًا أَتَى عَاصِمَ بْنَ عَدِيٍّ وَكَانَ سَيِّدَ بَنِي عَجْلَانَ فَذَكَرَ مِثْلَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ طَلَّقَهَا ثَلَاثًا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. লি’আন করা সম্পর্কে
২২৬০. সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, মুসআব ইবনু জুবাইর যখন (ইরাক অঞ্চলের) আমীর তখন লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু এই বিষয়ে কি বলব তা আমার জানা ছিল না। তাই আমি আমার ঘর থেকে উঠে আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর বাড়িতে গেলাম এবং তার গোলামকে বললাম, ’তাঁর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাও।’ সে বলল যে, তিনি দুপুরের বিশ্রাম নিচ্ছেন। ফলে আপনি তার কাছে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই সময় ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (নিজে ভিতর থেকে) আমার কণ্ঠ শুনে বললেন, ইবনু জুবাইর, ভিতরে এসো। কোন প্রয়োজন ছাড়াঅন্য কিছু তোমাকে এখানে নিয়ে আসেনি।
ইবনু জুবাইর বলেন, আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। দেখলাম তিনি কনুইকে বালিশ বানিয়ে কিংবা, আব্দুল্লাহ’র সন্দেহ, আঁশ বা তুলা ভরা একটি বালিশে মাথা রেখে উটের পিঠে ব্যবহৃত আসনের একটি গদিতে শুয়ে আছেন। আমি বললাম, হে আবূ আবদুর রহমান, লিআনকারী স্বামী-স্ত্রীর একজনকে আরেকজন থেকে কি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে?
তিনি বললেন, সুবহানাল্লাহ্ , হ্যাঁ। এই বিষয়ে অমুক সর্বপ্রথম জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্, কি বলেন, আমাদের কেউ যদি তার স্ত্রীকে অপকর্মে লিপ্ত দেখতে পায় তবে সে কি করবে? আর সে যদি চুপ থাকে, তাহলে তো সে মারাত্মক এক বিষয়ে চুপ রইল। আবার যদি সে এই বিষয়ে কথা বলে তবুও অনুরূপ (ভীষণ এক বিষয়ে সে কথা বলল)।
ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (এই কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করে রইলেন, তাকে কোন জবাব দিলেন না।
এই এই ঘটনার পর ঐ সাহাবী আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। বললেন, যে বিষয়ে আপনাকে প্রশ্ন করেছিলাম সে বিষয়ে আমিই নিপতিত। তখন আল্লাহ্ তা’আলা সূরা নূরের এই আয়াত নাযিল করেন:
“আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের প্রতি অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ব্যতীত তাদের কোন সাক্ষী নাই।
পঞ্চমবার বলবে, সে মিথ্যাবাদী হলে তার উপর নেমে আসবে আল্লাহর লা’নত।
আর স্ত্রীর শাস্তি রহিত হবে যদি সে চারবার আল্লাহর নামে কসম করে সাক্ষ্য দেয় যে তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী। এবং পঞ্চমবারে বলে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের উপর নেমে আসবে আল্লাহর গযব।”... আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [সূরা নূর ২৪ : ৬-৯]
অনন্তর তিনি ঐ ব্যক্তিকে ডাকলেন এবং আয়াতগুলো তাকে তিলাওয়াত করে শোনালেন, তাকে নছীহত করে বুঝালেন এবং জানালেন যে, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর।
সে বলল, আমি আমার স্ত্রী সম্পর্কে মিথ্যা বলিনি।
এরপর তিনি মহিলাটির ডাকলেন এবং তাকে নসীহত করলেন ও উপদেশ দিলেন। আর তাকে জানালেন, দুনিয়ার শাস্তি আখিরাতের আযাবের তুলনায় সহজতর।
মহিলাটি বলল, ঐ সত্তার কসম যিনি আপনাকে সত্য সহ প্রেরণ করেছেন। সে নিশ্চয়ই মিথ্যাবাদী।
রাবী বলেন অতঃপর তিনি পুরুষটিকেডাকলেন। অতঃপর সে চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে সে বলল, সে যদিমিথ্যাবাদী হয় তবে তার উপর আল্লাহর লা’নত। এরপর তিনি মহিলাটিকে নিয়ে আসা হলো। এরপর মহিলাটিও চারবার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিল যে, পুরুষটি মিথ্যা বলেছে। পঞ্চমবারে সে বলল, পুরুষটি যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তবে তার নিজের উপর আল্লাহর গযব নেমে আসবে। অতঃপর তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।[1]
بَاب فِي اللِّعَانِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَقُولُ سُئِلْتُ عَنْ الْمُتَلَاعِنَيْنِ فِي إِمَارَةِ مُصْعَبِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا فَمَا دَرَيْتُ مَا أَقُولُ قَالَ فَقُمْتُ حَتَّى أَتَيْتُ مَنْزِلَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَقُلْتُ لِلْغُلَامِ اسْتَأْذِنْ لِي عَلَيْهِ فَقَالَ إِنَّهُ قَائِلٌ لَا تَسْتَطِيعُ أَنْ تَدْخُلَ عَلَيْهِ قَالَ فَسَمِعَ ابْنُ عُمَرَ صَوْتِي فَقَالَ ابْنُ جُبَيْرٍ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ ادْخُلْ فَمَا جَاءَ بِكَ هَذِهِ السَّاعَةَ إِلَّا حَاجَةٌ قَالَ فَدَخَلْتُ عَلَيْهِ فَوَجَدْتُهُ وَهُوَ مُفْتَرِشٌ بَرْذَعَةَ رَحْلِهِ مُتَوَسِّدٌ مِرْفَقَةً أَوْ قَالَ نُمْرُقَةً شَكَّ عَبْدُ اللَّهِ حَشْوُهَا لِيفٌ فَقُلْتُ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُتَلَاعِنَانِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ نَعَمْ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فُلَانٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكَ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ أَحَدَنَا رَأَى امْرَأَتَهُ عَلَى فَاحِشَةٍ كَيْفَ يَصْنَعُ إِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى أَمْرٍ عَظِيمٍ وَإِنْ تَكَلَّمَ فَمِثْلُ ذَلِكَ قَالَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يُجِبْهُ فَقَامَ لِحَاجَتِهِ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الَّذِي سَأَلْتُكَ عَنْهُ قَدْ ابْتُلِيتُ بِهِ قَالَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ الَّتِي فِي سُورَةِ النُّورِ وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ حَتَّى خَتَمَ هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ قَالَ فَدَعَا الرَّجُلَ فَتَلَاهُنَّ عَلَيْهِ وَذَكَّرَهُ بِاللَّهِ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ فَقَالَ مَا كَذَبْتُ عَلَيْهَا ثُمَّ دَعَا الْمَرَأَةَ فَوَعَظَهَا وَذَكَّرَهَا وَأَخْبَرَهَا أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ فَقَالَتْ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنَّهُ لَكَاذِبٌ فَدَعَا الرَّجُلَ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الصَّادِقِينَ وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنْ الْكَاذِبِينَ ثُمَّ أُتِيَ بِالْمَرْأَةِ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنْ الْكَاذِبِينَ وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنْ الصَّادِقِينَ ثُمَّ فَرَّقَ بَيْنَهُمَا
তাখরীজ: মুসলিম, লি’আন ১৪৯৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৫৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. লি’আন করা সম্পর্কে
২২৭১. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লি’আনকারী পুরুষ ও তার স্ত্রী উভয়কে বিচ্ছিন্ন করে দিলেন। আর সন্তানকে তার মায়ের নিকট দিয়ে দিলেন।[1]
بَاب فِي اللِّعَانِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنِي مَالِكٌ قَالَ سَمِعْتُ نَافِعًا عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ قَالَ فَرَّقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الْمُتَلَاعِنَيْنِ وَأَلْحَقَ الْوَلَدَ بِأُمِّهِ
তাখরীজ: মালিক, তালাক ৩৫; বুখারী, তালাক, ৫৩১৫; মুসলিম, লি’আন ১৪৯৩(৮)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৭২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৮৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. মনিবের অনুমতি ব্যতীত কোনো দাসের বিবাহ করা প্রসঙ্গে
২২৭২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোনো ক্রীতদাস যদি তার মালিকের কিংবা তার পরিবারের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করে, তবে সে ব্যভিচারী।”[1]
بَاب فِي الْعَبْدِ يَتَزَوَّجُ بِغَيْرِ إِذْنِ سَيِّدِهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ صَالِحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا عَبْدٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ أَوْ أَهْلِهِ فَهُوَ عَاهِرٌ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৩০১; আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৭৮; ইবনু আবী শাইবা, ৪/২৬১; ইবনুল জারুদ, নং ৬৮৬; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২৯৬, ২৯৭; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৭২৭, ৩/৯২৫; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১২৭; আবু নুয়াইম, হিলইয়া ৭/৩৩৩; তিরমিযী, নিকাহ ১১১১, ১১১২ সনদ যয়ীফ; আব্দুর রাযযাক, নং ১২৯৭৯; হাকিম ২/১৯৪; মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২৫৬; পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০০০।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. মনিবের অনুমতি ব্যতীত কোনো দাসের বিবাহ করা প্রসঙ্গে
২২৭৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কোন ক্রীতদাস যদি তার মালিকের অনুমতি ব্যতীত বিবাহ করে, তবে সে ব্যভিচারী।”[1]
بَاب فِي الْعَبْدِ يَتَزَوَّجُ بِغَيْرِ إِذْنِ سَيِّدِهِ
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا مِنْدَلُ بْنُ عَلِيٍّ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَيُّمَا عَبْدٍ تَزَوَّجَ بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ فَهُوَ زَانٍ
তাখরীজ: তুরসূসী, আল মুসনাদে ইবনু উমার নং ৯৩; ইবনু মাজাহ নিকাহ ১৯৬০; আবূ নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ১/৯১; আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৭৯: ‘কোনো দাস তার মনিবের অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করলে তা বাতিল।” আবূ দাউদ বলেন, হাদীসটি যয়ীফ; এটি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর বক্তব্য; বাইহাকী, নিকাহ ৭/১২৭; আব্দুর রাযযাক ১২৯৮২; ইবনু আবী শাইবা ৪/২৬১।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. সন্তান বিছানার মালিকের
২২৭৪. আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, (তিনি বলেছেনঃ) “বিছানা যার সন্তান তার; আর ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর (এর শাস্তি)।”[1]
بَاب الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ ابْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ يَرْفَعُهُ قَالَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ
তাখরীজ: মুসলিম, রা’দা’আ ১৪৯৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১১৬ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. সন্তান বিছানার মালিকের
২২৭৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “বিছানা যার সন্তান তার।”[1]
بَاب الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ
তাখরীজ: মালিক, আকযিয়াহ ২০; বুখারী, বুয়ূ, ২০৫৩; মুসলিম, রা’দা’আ ১৪৫৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪১৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৪০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. সন্তান বিছানার মালিকের
২২৭৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিনী ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনু আবূ ওয়াক্কাস তার ভাই সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে ওয়াসীয়াত করে যান যে, তিনি যেন যাম’আর বাঁদীর গর্ভস্থিত পুত্রকে (ভ্রাতুষ্পুত্র রূপে) তার অধীনে নিয়ে আসেন। উতবাহ (তাকে) বলেন, সে আমার (ঔরসজাত) পূত্র। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মক্কা বিজয়ের কালে যাম’আর বাঁদীর গর্ভস্থিত পুত্রকে সাদ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিয়ে নিলেন। আর সে ছিল অন্যান্য লোকের চেয়ে উতবাহ ইবনু আবী ওয়াক্কাসের সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। (এদিকে যামআর পুত্র ’আব্দ দাবী করে যে, এ আমার ভাই, আমার পিতার বাঁদীর পুত্র।) তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে ’আব্দ ইবনু যামআ! এ ছেলেটি তোমার প্রাপ্য।” কেননা, সে ছেলেটি তার পিতার শয্যায় (তার দাসীর গর্ভে) জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নবী সহধর্মিনী সাওদা বিনতে যামআ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে লক্ষ্য করে) বললেন: “তুমি ঐ ছেলেটি হতে পর্দা করবে।” কারণ তিনি ঐ ছেলেটির মধ্যে উতবার সাদৃশ্য দেখতে পান। আর সাওদাহ ছিলেন: যাম’আহ’র মেয়ে।[1]
بَاب الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ
حَدَّثَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَتْ كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنْ يَقْبِضَ إِلَيْهِ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ فَقَالَ عُتْبَةُ إِنَّهُ ابْنِي فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَمَنَ الْفَتْحِ أَخَذَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ فَإِذَا هُوَ أَشْبَهُ النَّاسِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِيهِ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ بِنْتَ زَمْعَةَ مِمَّا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَسَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের বিস্তৃত রূপ।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. যে ব্যক্তি তার ছেলেকে চেনা সত্ত্বেও অস্বীকার করে
২২৭৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, লিআন সম্পর্কিত আয়াত নাযিল হলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “যে নারী কোন সম্প্রদায়ের সাথে এমন সন্তানকে শামিল করে যে তাদের নয়, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই এবং আল্লাহ কখনো তাকে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করাবেন না। আর যে পুরুষ নিজের সন্তানকে চিনতে পেরেও অস্বীকার করলো, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার থেকে আড়ালে থাকবেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী (সমস্ত) সৃষ্টিকুলের সামনে তাকে অপমান করবেন।”[1] আব্দুল্লাহ বলেন: মুহাম্মদ ইবনু কা’ব আল কুরাযী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এটি এভাবে বর্ণনা করেন: এ হাদীস রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকেই আমার নিকট পৌঁছেছে।
بَاب مَنْ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَعْرِفُهُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ حِينَ أُنْزِلَتْ آيَةُ الْمُلَاعَنَةِ أَيُّمَا امْرَأَةٍ أَدْخَلَتْ عَلَى قَوْمٍ نَسَبًا لَيْسَ مِنْهُمْ فَلَيْسَتْ مِنْ اللَّهِ فِي شَيْءٍ وَلَمْ يُدْخِلْهَا اللَّهُ جَنَّتَهُ وَأَيُّمَا رَجُلٍ جَحَدَ وَلَدَهُ وَهُوَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ احْتَجَبَ اللَّهُ مِنْهُ وَفَضَحَهُ عَلَى رُءُوسِ الْأَوَّلِينَ وَالْآخِرِينَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ وَسَعِيدٌ يُحَدِّثَهُ هَذَا وَقَدْ بَلَغَنِي هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১০৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৩৫ তে। এছাড়াও, হাফিজ তার তালখীসুল হাবীর ৩/২২৬ তে একে আবী দাউদ, নাসাঈ ও ইবনু হিব্বান, হাকিম এর দিকে সম্বোন্ধিত করে বলেছেন: দারুকুতনী তার ইলাল গ্রন্থে একে সহীহ বলেছেন। এর সাথে সাঈদ আল মাকবুরী হতে আব্দুল্লাহ ইবনু ইউনূসের একাকী বর্ণনা বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। আর তাকে এ হাদীস ব্যতীত অন্য কোনো হাদীস থেকে তার পরিচয় পাওয়া যায় না।
((আবূ দাউদ, তালাক ২২৬৩; নাসাঈ ৫/১৭৯-১৮০; ইবনু মাজাহ ২৭৪৩- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. যে ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রী (সৎ মা)-কে বিয়ে করে
২২৭৮. বারাআ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পূত্র ইয়াযীদ তার পিতা হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমার মামা (আবূ বুরদা) এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আর তার হাতে একটি পতাকা ছিল। আমি তাকে প্রশ্ন করলাম, কোথায় যাচ্ছেন? তিনি বললেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন এক লোকের নিকট পাঠিয়েছেন যে লোক তার বাবার স্ত্রীকে (সৎমাকে) বিয়ে করেছে। ফলে তিনি আমাকে তার মাথা কেটে ফেলা ও তার সম্পদ হরণ করে নিয়ে আসার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
بَاب الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ امْرَأَةَ أَبِيهِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ زَيْدٍ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْبَرَاءِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَقِيتُ عَمِّي وَمَعَهُ رَايَةٌ فَقُلْتُ أَيْنَ تُرِيدُ فَقَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى رَجُلٍ نَكَحَ امْرَأَةَ أَبِيهِ فَأَمَرَنِي أَنْ أَضْرِبَ عُنُقَهُ وَآخُذَ مَالَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৬৬, ১৬৬৭, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৫১৬ তে। ((আবূ দাউদ, হুদুদ ৩৩৫৬, ৪৪৫৭; নাসাঈ, নিকাহ ৬/১০৯; তিরমিযী, আহকাম ১৩৬২; ইবনু মাজাহ ২২৬০৭;- আরনাউত্বের সহীহ ইবনু হিব্বান, ৪১১২ নং হাদীসের টীকা হতে।- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. আল্লাহ তা’আলার বাণী: এরপর আর কোনো নারী আপনার জন্য হালাল হবে না
২২৭৯. যিয়াদ নামক এক আনসারী ব্যক্তি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উবাই ইবনু কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞেস করলাম, যদিও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিবাহের বিষয়টি প্রশস্ত ছিল, তবুও তাঁর জন্য কি (যে কোনো নারীকে)বিয়ে করা হালালই রয়ে গিয়েছিল? তিনি বলেন, হাঁ। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর জন্য বিভিন্ন শ্রেণির নারীদের হালাল করেছিলেন। আর তিনি তাঁর নিকট (এসকল হালাল নারীদের) বৈশিষ্ট্যসমূহের বিবরণ দিয়েছেন। আর আল্লাহ যে বলেছেন: “এরপর আপনার জন্য কোন নারী বৈধ নয়”- এখানে ’এরপর’ অর্থ ’এ সকল বৈশিষ্ট্যসমূহ বাদে’।[1]
بَاب قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ
حَدَّثَنِي مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ قَالَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مُوسَى عَنْ رَجُلٍ مِنْ الْأَنْصَارِ يُسَمَّى زِيَادًا قَالَ قُلْتُ لِأُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَرَأَيْتَ لَوْ أَنَّ أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتْنَ كَانَ يَحِلُّ لَهُ أَنْ يَتَزَوَّجَ قَالَ نَعَمْ إِنَّمَا أَحَلَّ اللَّهُ لَهُ ضَرْبًا مِنْ النِّسَاءِ وَوَصَفَ لَهُ صِفَةً فَقَالَ لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ مِنْ بَعْدِ هَذِهِ الصِّفَةِ
তাখরীজ: আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ৫/১৩২; বুখারী, কাবীর ৩/৩৫৯-৩৬০; আরও দেখুন, বুখারী, আত তারীখ ১/২৩৬ ও ৩/৩৫৯-৩৬০; তা’জিলুল মুনফা’আহ পৃ: ১৪১, ৩৬০।
((তবে ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় এর অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে বিস্তারিতভাবে- তিরমিযী হা/৩২১৫ তে। তিরমিযী বলেছেন: হাদীসটি হাসান।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. আল্লাহ তা’আলার বাণী: এরপর আর কোনো নারী আপনার জন্য হালাল হবে না
২২৮০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৃত্যুর পূর্বে তাঁর জন্য ইচ্ছামাফিক যেকোনো মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ করে দিয়েছিলেন।[1]
بَاب قَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى لَا يَحِلُّ لَكَ النِّسَاءُ مِنْ بَعْدُ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَحَلَّ اللَّهُ لَهُ أَنْ يَتَزَوَّجَ مِنْ النِّسَاءِ مَا شَاءَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৩৬৬ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ২১২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৩৭ তে।
((তিরমিযী, তাফসীর ৩২১৬; নাসাঈ, নিকাহ ৬/৫৬; তাবারী, জামিউল বায়ান (তাফসীর তাবারী) ২২/৩২; হাকিম ২/৪৩৭; বাইহাকী ৭/৫৪।– সহীহ ইবনু হিব্বান তাহক্বীক্ব: আরনাউত্ব হা/৬৩৬৬ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ক্রীতদাসীকে (বিয়ে করার) ক্ষেত্রে তার মুক্তিদানকেই তার মোহরাণা হিসেবে গণ্য করা প্রসঙ্গে
২২৮১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে মুক্তিদান করেন এবং তার মুক্তিদানকেই তার (বিয়ের) মোহরাণা হিসেবে গণ্য করেন।[1]
بَاب فِي الْأَمَةِ يُجْعَلُ عِتْقُهَا صَدَاقَهَا
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ شُعَيْبِ بْنِ الْحَبْحَابِ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ, ২২২৮; মুসলিম, নিকাহ ১৩৬৫(৮৫)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩০৫০, ৩১৩২, ৩১৫১,৩১৭৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬১, ৪০৬৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. ক্রীতদাসীকে (বিয়ে করার) ক্ষেত্রে তার মুক্তিদানকেই তার মোহরাণা হিসেবে গণ্য করা প্রসঙ্গে
২২৮২. (অপর সনদে) আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে মুক্তিদান করে তাঁকে বিয়ে করেন এবং তার মুক্তিদানকেই তার (বিয়ের) মোহরাণা হিসেবে গণ্য করেন।[1]
بَاب فِي الْأَمَةِ يُجْعَلُ عِتْقُهَا صَدَاقَهَا
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَعْتَقَ صَفِيَّةَ وَتَزَوَّجَهَا وَجَعَلَ عِتْقَهَا صَدَاقَهَا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. কোনো ক্রীতদাসীকে মুক্তিদান করে তাকে বিয়ে করার ফযীলত
২২৮৩. সালিহ ইবনু সালিহ ইবনু হাই আল হামদানী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি শা’বী (রহঃ) এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় খুরাসানের অধিবাসী এক লোক এসে তাকে বললো, হে আবী আমর! কোনো ব্যক্তি যদি তার ক্রীতদাসীকে মুক্ত করে দিয়ে তাকে বিয়ে করতো, তবে খুরাসানের প্রাচীন অধিবাসীরা বলতো যে, সে যেন নিজের কোরবানীর পশুর পিঠে আরোহণকারী ব্যক্তির মতো। তখন শা’বী বললেন, আবূ বুরদা (র), তাঁর পিতা আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি সওয়াব দেয়া হবে: (১) আহলে কিতাবের মধ্য থেকে যে ব্যক্তি তার নবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং এরপর এই নবী (মুহাম্মদ সা) কে পেয়েছে এবং তাঁর উপরও ঈমান এনেছে এবং তাঁর অনুসরণ করেছে। (২) যে ক্রীতদাস আল্লাহ্র হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও আদায় করে- তার জন্য রয়েছে দু’টি সাওয়াব (৩) যার একটি বাঁদী ছিল, আর সে উত্তমরূপে তার ভরণপোষণ করতো, তারপর তাকে সে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এরপর তাকে আযাদ (মুক্তিদান) করে বিয়ে করেছে; তার জন্য দুটি সওয়াব রয়েছে।” [1]
এরপর তিনি (বর্ণনাকারী) (তাঁর ছাত্রদের) কাউকে বললেন, কোন কিছুর বিনিময় ছাড়াই হাদীসটি গ্রহণ করো, অথচ এর চাইতে ছোট হাদীসের জন্যও লোক (দূর-দূরান্ত থেকে) সওয়ার হয়ে মদীনায় আসত।
হুশাইম বলেন, আমি বসরায় থাকতে এটি জানতে পারলাম, এরপর আমি তার নিকট এসে এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম।
بَاب فَضْلِ مَنْ أَعْتَقَ أَمَةً ثُمَّ تَزَوَّجَهَا
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ صَالِحِ بْنِ صَالِحِ بْنِ حَيٍّ الْهَمْدَانِيِّ قَالَ كُنْتُ عِنْدَ الشَّعْبِيِّ فَأَتَاهُ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ فَقَالَ يَا أَبَا عَمْرٍو إِنَّ مَنْ قِبَلَنَا مِنْ أَهْلِ خُرَاسَانَ يَقُولُونَ فِي الرَّجُلِ إِذَا أَعْتَقَ أَمَتَهُ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا فَهُوَ كَالرَّاكِبِ بَدَنَتَهُ فَقَالَ الشَّعْبِيُّ حَدَّثَنِي أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثَةٌ يُؤْتَوْنَ أَجْرَهُمْ مَرَّتَيْنِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمَنَ بِنَبِيِّهِ ثُمَّ أَدْرَكَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآمَنَ بِهِ وَاتَّبَعَهُ وَعَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَدَّى حَقَّ اللَّهِ وَحَقَّ مَوَالِيهِ فَلَهُ أَجْرَانِ وَرَجُلٌ كَانَتْ لَهُ أَمَةٌ فَغَذَّاهَا فَأَحْسَنَ غِذَاءَهَا وَأَدَّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا فَأَعْتَقَهَا وَتَزَوَّجَهَا فَلَهُ أَجْرَانِ ثُمَّ قَالَ لِلرَّجُلِ خُذْ هَذَا الْحَدِيثَ بِغَيْرِ شَيْءٍ فَقَدْ كَانَ يُرْحَلُ فِيمَا دُونَ هَذَا إِلَى الْمَدِينَةِ قَالَ هُشَيْمٌ أَفَادُونِي بِالْبَصْرَةِ فَأَتَيْتُهُ فَسَأَلْتُهُ عَنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ৯৭ (এবং অন্যত্র); মুসলিম, ঈমান ১৫৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৫৬, ৭৩২৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. কোনো ক্রীতদাসীকে মুক্তিদান করে তাকে বিয়ে করার ফযীলত
২২৮৪. (অপর সনদে) আবূ বুরদা (রহঃ), তাঁর পিতা আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فَضْلِ مَنْ أَعْتَقَ أَمَةً ثُمَّ تَزَوَّجَهَا
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ صَالِحِ بْنِ حَيٍّ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. কোনো লোক কোনো এক মহিলাকে বিয়ে করার পর তার জন্য কোনো (মোহরানা) নির্ধারণ করার পূর্বেই মৃত্যু বরণ করলে
২২৮৫. ’আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তাকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, সে এক মহিলাকে বিবাহ করার পর তার সাথে সহবাস ও মাহর ধার্য করার পূর্বে মারা গেছে। রাবী বলেন, সেই ব্যাপারে ’আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, সেই মহিলা তার পরিবারের অন্যান্য নারীদের সমপরিমাণে মাহর পাবে, তাকে ইদ্দাতও পালন করতে হবে এবং সে মীরাসও পাবে। মাকিল আল-আশজাঈ বললেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি বনী রুআস গোত্রের এক মহিলা বিরওয়া বিনতে ওয়াশিকের ক্ষেত্রেও আপনার ফায়সালার অনুরূপ ফয়সালা দিয়েছেন।[1]
তিনি বলেন, ফলে একথা শুনে তিনি আনন্দিত হলেন। আবূ মুহাম্মদ ও সূফিয়ান বলেন, আমরা এ মত গ্রহণ করেছি।
بَاب الرَّجُلِ يَتَزَوَّجُ الْمَرْأَةَ فَيَمُوتُ قَبْلَ أَنْ يَفْرِضَ لَهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ فِي رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً وَلَمْ يَكُنْ فَرَضَ لَهَا شَيْئًا وَلَمْ يَدْخُلْ بِهَا وَمَاتَ عَنْهَا قَالَ فِيهَا لَهَا صَدَاقُ نِسَائِهَا وَعَلَيْهَا الْعِدَّةُ وَلَهَا الْمِيرَاثُ قَالَ مَعْقِلٌ الْأَشْجَعِيُّ قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بِرْوَعَ بِنْتِ وَاشِقٍ امْرَأَةٍ مِنْ بَنِي رُوَاسٍ بِمِثْلِ مَا قَضَيْتَ قَالَ فَفَرِحَ بِذَلِكَ قَالَ مُحَمَّدٌ وَسُفْيَانُ نَأْخُذُ بِهَذَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৯৮, ৪০৯৯, ৪১০০, ৪১০১ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৬৩, ১২৬৪, ১২৬৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. দুধপানের কারণে যা হারাম হয়
২২৮৬. ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট অবস্থান করছিলেন। এমন সময় তিনি জনৈক ব্যক্তির গলার আওয়াজ শুনতে পেলেন। ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার ঘরে (প্রবেশের অনুমতি প্রার্থী) একজন লোকের গলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “তাকে হাফসাহর অমুক দুধ চাচা বলে মনে হচ্ছে।” তখন ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আচ্ছা আমার অমুক দুধ চাচা যদি জীবিত থাকত তাহলে সে কি আমার ঘরে প্রবেশ করতে পারত? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, “হ্যাঁ, পারত। কেননা, জন্মসূত্র যাদেরকে হারাম করে, দুধপানও তাকে হারাম করে।”[1]
بَاب مَا يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا كَانَتْ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَيْتِ حَفْصَةَ فَسَمِعَتْ صَوْتَ إِنْسَانٍ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ سَمِعْتُ صَوْتَ إِنْسَانٍ فِي بَيْتِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُرَاهُ فُلَانًا لِعَمِّ حَفْصَةَ مِنْ الرَّضَاعَةِ قَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَلَوْ كَانَ فُلَانٌ حَيًّا لِعَمِّهَا مِنْ الرَّضَاعَةِ دَخَلَ عَلَيَّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَعَمْ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ الْوِلَادَةِ
তাখরীজ: মালিক, রাদা’আ ১; বুখারী, শাহাদাত ২৬৪৬; মুসলিম, রাদা’আ ১৪৪৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭৪ তে। পরবর্তী হাদীস দু’টিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. দুধপানের কারণে যা হারাম হয়
২২৮৭. ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার দুধ সম্পর্কের চাচা আবীল কাইসের ভাই এলেন এবং আমার কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন, আর এটা পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হবার পরের ঘটনা। কিন্তু আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি নেয়া ব্যতীত তাকে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসার পর তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। আয়িশাহ বলেন, আমার দুধ সম্পর্কের চাচা আবীল কাইসের ভাই এসেছিলেন, কিন্তু আমি আপনার কাছে অনুমতি না নেয়ায় তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। তিনি বললেন, “তিনি কি তোমার চাচা নন?” আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে মহিলা দুধ পান করিয়েছেন, কোন পুরুষ আমাকে দুধ পান করায়নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “তিনি তোমার চাচা, কাজেই তাঁকে তোমার কাছে আসার অনুমতি দাও।” তিনি বলেন, তিনি আরও বলতেন, জন্মসূত্র যাদেরকে হারাম করে, দুধ সম্পর্কও তাদেরকে হারাম করে।[1]
بَاب مَا يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ أَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّ عَمَّهَا أَخَا أَبِي الْقُعَيْسِ جَاءَ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْهَا بَعْدَمَا ضُرِبَ الْحِجَابُ فَأَبَتْ أَنْ تَأْذَنَ لَهُ حَتَّى يَأْتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْتَأْذِنَهُ فَلَمَّا جَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَتْ جَاءَ عَمِّي أَخُو أَبِي الْقُعَيْسِ فَرَدَدْتُهُ حَتَّى أَسْتَأْذِنَكَ قَالَ أَوَ لَيْسَ بِعَمِّكِ قَالَتْ إِنَّمَا أَرْضَعَتْنِي الْمَرْأَةُ وَلَمْ يُرْضِعْنِي الرَّجُلُ فَقَالَ إِنَّهُ عَمُّكِ فَلْيَلِجْ عَلَيْكِ قَالَ وَكَانَتْ عَائِشَةُ تَقُولُ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ الْوِلَادَةِ
তাখরীজ: মালিক, রাদাআ ২/৬০১-৬০২; বুখারী, নিকাহ ৫২৩৯; মুসলিম, রাদাআ ১৪৪৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১০৯, ৪২১৯, ৪২২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. দুধপানের কারণে যা হারাম হয়
২২৮৮. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জন্মসূত্র যাদেরকে হারাম করে, দুধ সম্পর্কও তাদেরকে হারাম করে।”[1]
بَاب مَا يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعِ
أَخْبَرَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ مَالِكٍ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعَةِ مَا يَحْرُمُ مِنْ الْوِلَادَةِ
তাখরীজ: মালিক, রাদাআ (১৫)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৭৪। আগের হাদীসগুলিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. দুধপানের কারণে যা হারাম হয়
২২৮৯. (অপর সনদে) আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب مَا يَحْرُمُ مِنْ الرَّضَاعِ
قَالَ مَالِكٌ وَحَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: মালিক, রাদাআ (১); এটি পূর্বে ২২৮৩ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. কী পরিমাণ দুধপান করলে তা (আত্মীয়কে) হারাম করে
২২৯০. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “দু’-এক চুমুক দুধপান (কাউকে) হারাম করে না।”[1]
بَاب كَمْ رَضْعَةً تُحَرِّمُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تُحَرِّمُ الْمَصَّةُ وَالْمَصَّتَانِ
তাখরীজ: মুসলিম, রাদাআ ১৪৪৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭১০, ৪৮১২, ৪৮১৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২২৭, ৪২২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. কী পরিমাণ দুধপান করলে তা (আত্মীয়কে) হারাম করে
২২৯১. উম্মু ফাযল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একটি স্ত্রীলোককে বিয়ে করেছি এবং আমার অপর স্ত্রীও রয়েছে। আর আমার প্রথম স্ত্রীর ধারণা সে নববধু (আমার দ্বিতীয় স্ত্রী)-কে দুধপান করিয়েছে। তখন তিনি বললেন: “দু’-এক চুমুক দুধপান (কাউকে) হারাম করে না।”[1]
بَاب كَمْ رَضْعَةً تُحَرِّمُ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي الْخَلِيلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي قَدْ تَزَوَّجْتُ امْرَأَةً وَعِنْدِي أُخْرَى فَزَعَمَتْ الْأُولَى أَنَّهَا أَرْضَعَتْ الْحُدْثَى فَقَالَ لَا تُحَرِّمُ الْإِمْلَاجَةُ وَلَا الْإِمْلَاجَتَانِ
তাখরীজ: মুসলিম, রাদাআ ১৪৫১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭০৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. কী পরিমাণ দুধপান করলে তা (আত্মীয়কে) হারাম করে
২২৯২. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নির্দিষ্টভাবে দশ ঢোক দুধপানকে হারাম করে কুরআনের আয়াত নাযিল হয়। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওফাত লাভ করেন আর তা (এভাবেই) কুরআন হতে পঠিত হতে থাকে।[1]
بَاب كَمْ رَضْعَةً تُحَرِّمُ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ أَخْبَرَنَا رَوْحٌ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نَزَلَ الْقُرْآنُ بِعَشْرِ رَضَعَاتٍ مَعْلُومَاتٍ يُحَرِّمْنَ ثُمَّ نُسِخْنَ بِخَمْسٍ مَعْلُومَاتٍ فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُنَّ مِمَّا يُقْرَأُ مِنْ الْقُرْآنِ
তাখরীজ: মালিক, রাদাআ (১৭); মুসলিম, রাদাআ ১৪৫২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ইবনুল জাউযীর নাসিখুল কুরআন ও মানসূখাহ’ যা নাওয়াসিখুল কুরআন নামে খ্যাত; এবং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২২১, ৪২২২ তে।
এ বিষয়টি নিয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন। ((মুহাক্কিক্ব উলামায়ে কেরামের মতভেদ উল্লেখ করার পর বলেন:) এ হাদীস বিষয়ে সঠিক কথা হলো, এটি পরিত্যাগ করা। কেননা, এখানে বর্ণনা করা হয়েছে যে, তা কুরআন, কিন্তু এর কুরআনে থাকা সাব্যস্ত নয়।... আল্লাহই ভাল জানেন।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. যা দিয়ে দুধ পান করানোর হক ও মর্যাদা আদায় করা যায়
২২৯৩. হাজ্জাজ আসলামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমার থেকে দুগ্ধপানের হক ও মর্যাদা কিভাবে আদায় করা যায়? তিনি বললেন, “(দুধমাকে) ’গুররা’ তথা একটি দাস বা দাসী (প্রদান করার মাধ্যমে)।”[1]
بَاب مَا يُذْهِبُ مَذَمَّةَ الرِّضَاعِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ حَجَّاجِ بْنِ حَجَّاجٍ الْأَسْلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا يُذْهِبُ عَنِّي مَذَمَّةَ الرَّضَاعِ قَالَ الْغُرَّةُ الْعَبْدُ أَوْ الْأَمَةُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২২৭, ৪২২৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮৬ তে।
((আহমাদ ৩/৪৫০; আব্দুর রাযযাক ১৩৯৫৬; আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৬৪; তিরমিযী, রাদা’আ ১১৫৩; নাসাঈ নিকাহ ৬/১০৮... আল ইহসান, তাক্বরীব ইবনু হিব্বান হা/৪২৩০ এর টীকা দ্র: অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫১. দুধপানের ব্যাপারে স্ত্রীলোকের একবার সাক্ষ্য দেয়া (যথেষ্ট)
২২৯৪. ’উকবাহ ইবনুল হারিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি আবূ ইহাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা কালো ক্রীতদাসী এসে বলল, আমি তোমাদের উভয়কে (’উকবাহ কে এবং তার নববধূকে) দুধ পান করিয়েছি।’ (একথা জানার পর) আমি মদিনায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি আমার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।
আবূ আসিম বলেন, তিনি তৃতীয় কিংবা চতুর্থবারে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ “এ কথা বলার পরও কীভাবে (তুমি তার সঙ্গে সংসার করবে)?” এভাবে তিনি তার (স্ত্রী) থেকে তাঁকে বারণ করলেন।’[1]
আবূ আসিম বলেন: আর আমর ইবনু সাঈদ ইবনু আবীল হুসাইন, আবী মুলাইকাহ হতে একথা বর্ণনা করেছেন: “এ কথা বলার পরও কীভাবে (তুমি তার সঙ্গে সংসার করবে)?” কিন্তু ’এভাবে তিনি তার (স্ত্রী) থেকে তাঁকে বারণ করলেন’- একথাটুকু তিনি বর্ণনা করেননি।আবূ মুহাম্মদ বলেন, আমাদের নিকট এভাবেই (বর্ণিত হয়েছে)।
بَاب شَهَادَةِ الْمَرْأَةِ الْوَاحِدَةِ عَلَى الرَّضَاعِ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ حَدَّثَنِي عُقْبَةُ بْنُ الْحَارِثِ ثُمَّ قَالَ لَمْ يُحَدِّثْنِيهِ وَلَكِنْ سَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ الْقَوْمَ قَالَ تَزَوَّجْتُ بِنْتَ أَبِي إِهَابٍ فَجَاءَتْ أَمَةٌ سَوْدَاءُ فَقَالَتْ إِنِّي أَرْضَعْتُكُمَا فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَأَعْرَضَ عَنِّي قَالَ أَبُو عَاصِمٍ قَالَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ الرَّابِعَةِ قَالَ كَيْفَ وَقَدْ قِيلَ وَنَهَاهُ عَنْهَا قَالَ أَبُو عَاصِمٍ وَقَالَ عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي حُسَيْنٍ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ فَكَيْفَ وَقَدْ قِيلَ وَلَمْ يَقُلْ نَهَاهُ عَنْهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد كَذَا عِنْدَنَا
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ৮৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১৬, ৪২১৭, ৪২১৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৯০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. বয়োঃবৃদ্ধদের দুধপান করানো প্রসঙ্গে
২২৯৫. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাছে এলেন। সে সময় এক লোক তার কাছে বসা ছিল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ক্রোধের ভাব প্রকাশ পেল, যেন তিনি এ ব্যাপারে অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, এ আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যাচাই করে দেখ, তোমাদের ভাই কারা? কেননা কেবল (দুধপানের দ্বারাই) ক্ষুধা (নিবারণ হয়, এমন) সময়ের দুধপান দ্বারাই দুধপান (জনিত সম্পর্ক) কার্যকরী হবে।”[1]
بَاب فِي رَضَاعَةِ الْكَبِيرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَشْعَثَ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَسْرُوقٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا وَعِنْدَهَا رَجُلٌ فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ وَكَأَنَّهُ كَرِهَ ذَلِكَ فَقُلْتُ إِنَّهُ أَخِي مِنْ الرَّضَاعَةِ فَقَالَ انْظُرْنَ مَا إِخْوَانُكُنَّ فَإِنَّمَا الرَّضَاعَةُ مِنْ الْمَجَاعَةِ
তাখরীজ: বুখারী, শাহাদাত ২৬৪৭, নিকাহ ৫১০২; মুসলিম, রাদা’আ ১৪৫৫; আবূ দাউদ, নিকাহ ২০৫৮; নাসাঈ, নিকাহ ৬/১০২; ইবনু মাজাহ, নিকাহ ১৯৪৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২২৮৫; তায়ালিসী ১/৩০৮ নং ১৫৬৯; বাইহাকী, নিকাহ ৭/৪৬০; আহমাদ ৬/৯৪., ১৭৪; ইবনুল জারুদ, ৬৯১; কুদাই, মুসনাদুশ শিহাব নং ১১৭৬, ১১৭৭; সাঈদ ইবনু মানসূর, আল মুসনাদ ৯৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. বয়োঃবৃদ্ধদের দুধপান করানো প্রসঙ্গে
২২৯৬. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। সাহলাহ বিনতু সুহাইল ইবনু আমর, যিনি আবূ হুযায়ফা ইবনু উতবাহ ইবনু রবিয়াহ’র স্ত্রী ছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গমন করেন এবং বলেন, ইয়া রাসূলূল্লাহ্! আবূ হুযায়ফার মুক্তদাস সালিম আমাদের নিকট এমন অবস্থায় প্রবেশ করে যখন আমরা সাধারণ পোশাকে (তথা এক কাপড়ে) থাকি। আমরা তাকে আমাদের পুত্র হিসাবে গণ্য করি। যেমন রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) যায়িদকে পালক পুত্র হিসাবে লালন পালন করেন, তদ্রুপ তাকেও আবী হুযাইফা পালক পূত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। অবশেষে আল্লাহ্ তা’আলা এ আয়াত অবতীর্ণ করলেন, (هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ادْعُوْهُمْ لِآبَآئِهِمْ) অর্থাৎ তোমরা তাদেরকে ডাক তাদের পিতার পরিচয়ে। আল্লাহর নিকট এটি অধিক ন্যায়সঙ্গত। (সূরা আল আহযাব: ৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে তাকে নির্দেশ দিলেন যে, সে যেন সালিমকে (পাঁচবার) দুধ পান করায়।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এ ব্যাপারটি সালিমের জন্য বিশেষ অনুমতি ছিল, (যা অন্যদের জন্য নয়)।
بَاب فِي رَضَاعَةِ الْكَبِيرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ جَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو وَكَانَتْ تَحْتَ أَبِي حُذَيْفَةَ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ رَبِيعَةَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنَّ سَالِمًا مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ يَدْخُلُ عَلَيْنَا وَأَنَا فُضُلٌ وَإِنَّمَا نَرَاهُ وَلَدًا وَكَانَ أَبُو حُذَيْفَةَ تَبَنَّاهُ كَمَا تَبَنَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ زَيْدًا فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى ادْعُوهُمْ لِآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ أَنْ تُرْضِعَ سَالِمًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا لِسَالِمٍ خَاصَّةً
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪০০০, নিকাহ ৫০৮৮, ; মুসলিম, রাদা’আ ১৪৫৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২১৩, ৪২১৪, ৪২১৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৮০ তে।
ইমাম নাবাবী তার শারহে মুসলিম ৩/৬৩৩ তে বলেন: ‘আর উলামাগণ এ মাস’আলায় মতভেদ করেছেন। আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ও দাউদ বলেছেন: এ হাদীসের কারণে বালিগ ব্যক্তিকে দুধপান করানো দুধপানের মর্যাদার কারণে সাব্যস্ত, যেভাবে ছোট বালককে দুধপান করানো সাব্যস্ত আছে।’
বাকী সাহাবী, তাবিঈন ও বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত সকল দেশের উলামাগণ বলেছেন: ‘দু’বছরের অধিক বয়স্ক সন্তানের ক্ষেত্রে বাদে অন্য ক্ষেত্রে দুধপান সাব্যস্ত নয়। তবে আবী হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সে মেয়াদ আড়াই বছর। যুফার বলেন: তিন বছর, মালিক হতে একটি বর্ণনায়: দু’বছর কয়েকদিন। জমহুর উলামাগণ দলীল পেশ করেন আল্লাহর কিতাব থেকে: মাতাগণ তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে পূর্ণ দু’বছর।” (সুরা বাকারাহ: ২৩২) এবং এরপর সহীহ মুসলিমে উল্লেখিত হাদীস: “কেবল (দুধপানের দ্বারাই) ক্ষুধা (নিবারণ হয়, এমন) সময়ের দুধপান দ্বারাই দুধপান (জনিত সম্পর্ক) কার্যকরী হবে।” ও অন্যান্য মাশহুর হাদীস দ্বারা।...
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. তাহলীল (বা হিল্লা) করা নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কে
২২৯৭. আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’হিল্লাকারী (হালালকারী) পুরুষ ও যার জন্য হিল্লা করা হয়-এ উভয়কে লা’নত করেছেন।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ التَّحْلِيلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي قَيْسٍ عَنْ الْهُزَيْلِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُحِلَّ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৫৪ তে।
((আহমাদ ১/৪৪৮,৪৫০,৪৫১, ৪৬২; তিরমিযী, নিকাহ ১১২০; নাসাঈ, তালাক ৬/১৪৯ সহীহ সনদে; এছাড়া এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আলী, উকবাহ ইবনু আমির, আবী হুরাইরাহ, ইবনু আব্বাস, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে। বিস্তারিত দেখুন, মুহাক্বিক্বের তাহক্বীক্ককৃত মুসনাদে আবী ইয়ালা হা/৫০৫৪ এর টীকাটি।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. কোনো লোকের তার পরিবারের জন্য ব্যয় করা ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে
২২৯৮. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, আবী সুফিয়ানের স্ত্রী মু’আবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর মা হিন্দা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আবী সুফিয়ান একজন কৃপণ ব্যক্তি। তিনি আমার ও আমার সন্তানদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে ব্যয় করে না। এমতাবস্থায় আমি যদি তার মাল হতে গোপনে কিছু গ্রহণ করি, তাতে কি আমার গুনাহ হবে? তখন তিনি বললেন, “তুমি তোমার ও সন্তানদের প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করতে পার।”[1]
بَاب فِي وُجُوبِ نَفَقَةِ الرَّجُلِ عَلَى أَهْلِهِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هِنْدًا أُمَّ مُعَاوِيَةَ امْرَأَةَ أَبِي سُفْيَانَ أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا سُفْيَانَ رَجُلٌ شَحِيحٌ وَإِنَّهُ لَا يُعْطِينِي مَا يَكْفِينِي وَبَنِيَّ إِلَّا مَا أَخَذْتُ مِنْهُ وَهُوَ لَا يَعْلَمُ فَهَلْ عَلَيَّ فِي ذَلِكَ جُنَاحٌ فَقَالَ خُذِي مَا يَكْفِيكِ وَوَلَدَكِ بِالْمَعْرُوفِ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২২১১; মুসলিম, আকযিয়া ১৭১৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৫৫, ৪২৫৬, ৪২৫৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. স্ত্রীদের সাথে উত্তমভাবে মেলামেশা বা আচরণ করা
২২৯৯. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। আর তোমাদের সাথী (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে) যখন মারা যাবেন, তখন তোমরা তাঁর জন্য দু’আ করবে।”[1]
بَاب فِي حُسْنِ مُعَاشَرَةِ النِّسَاءِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَإِذَا مَاتَ صَاحِبُكُمْ فَدَعُوهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪২৫৫ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১২৬৩ তে।
((তিরমিযী, মানাকিব ৩৮৯৫- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. যদি পিতা অল্প বয়স্ক মেয়েদের কে বিবাহ দেয়, তাদের বিবাহের অবস্থা সম্পর্কে
২৩০০. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে বিবাহ করেন, তখন আমার বয়স ছিল ছয় বছর। তারপর আমরা মদিনায় এলাম এবং বনু হারিস ইবনু খাযরাজ গোত্রে অবস্থান করলাম। সেখানে আমি জ্বরে আক্রান্ত হলাম। এতে আমার চুল পড়ে গেল। পরে যখন আমার মাথার সামনের চুল জমে উঠল। সে সময় আমি একদিন আমার বান্ধবীদের সাথে দোলনায় খেলা করছিলাম। তখন আমার মাতা উম্মে রূমান আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন। আমি তাঁর কাছে এলাম। আমি বুঝতে পারিনি, তার উদ্দেশ্য কী? তিনি আমার হাত ধরে ঘরের দরজায় এসে আমাকে দাঁড় করালেন। আর আমি হাঁফাচ্ছিলাম। শেষে আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কিছুটা প্রশমিত হল। এরপর তিনি কিছু পানি নিলেন এবং তা দিয়ে আমার মুখমণ্ডল ও মাথা মাসেহ করে দিলেন। তারপর আমাকে ঘরের ভিতর প্রবেশ করালেন। সেখানে কয়েকজন আনসারী মহিলা ছিলেন। তাঁরা বললেন, ’কল্যাণময়, বরকতময় এবং সৌভাগ্যমন্ডিত হোক।’ তিনি আমাকে তাদের কাছে দিয়ে দিলেন। তাঁরা আমার অবস্থা ঠিক করে দিলেন, তখন ছিল দ্বিপ্রহরের পূর্ব মুহূর্ত। হঠাৎ রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখেই আমি হকচকিয়ে গেলাম। তাঁরা আমাকে তাঁর কাছে তুলে দিল। সে সময় আমি নয় বছরের বালিকা।[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الصِّغَارِ إِذَا زَوَّجَهُنَّ آبَاؤُهُنَّ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا بِنْتُ سِتِّ سِنِينَ فَقَدِمْنَا الْمَدِينَةَ فَنَزَلْنَا فِي بَنِي الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَوُعِكْتُ فَتَمَرَّقَ رَأْسِي فَأَوْفَى جُمَيْمَةً فَأَتَتْنِي أُمُّ رُومَانَ وَإِنِّي لَفِي أُرْجُوحَةٍ وَمَعِي صَوَاحِبَاتٌ لِي فَصَرَخَتْ بِي فَأَتَيْتُهَا وَمَا أَدْرِي مَا تُرِيدُ فَأَخَذَتْ بِيَدِي حَتَّى أَوْقَفَتْنِي عَلَى بَابِ الدَّارِ وَإِنِّي لَأَنْهَجُ حَتَّى سَكَنَ بَعْضُ نَفَسِي ثُمَّ أَخَذَتْ شَيْئًا مِنْ مَاءٍ فَمَسَحَتْ بِهِ وَجْهِي وَرَأْسِي ثُمَّ أَدْخَلَتْنِي الدَّارَ فَإِذَا نِسْوَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ فِي الْبَيْتِ فَقُلْنَ عَلَى الْخَيْرِ وَالْبَرَكَةِ وَعَلَى خَيْرِ طَائِرٍ فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِنَّ فَأَصْلَحْنَ مِنْ شَأْنِي فَلَمْ يَرُعْنِي إِلَّا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضُحًى فَأَسْلَمَتْنِي إِلَيْهِ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ بِنْتُ تِسْعِ سِنِينَ
তাখরীজ: বুখারী, মানাকিবু সাহাবাহ ৩৮৯৫; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪৩৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৯৮, ৪৬০০, ৪৬২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭০৯৭ তে।