পরিচ্ছেদঃ ১. খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা
২০৫৭. ’উমার ইবনু আবূ সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেনঃ “বিসমিল্লাহ বলো এবং তোমার সামনের ভাগ থেকে খাও।”[1]
بَاب فِي التَّسْمِيَةِ عَلَى الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
তাখরীজ: মালিক, সিফাতিন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৩২; বুখারী, আত’ইমাহ নং ৫৩৭৬; মুসলিম, আশরিবাহ ২০২২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২১১, ৫২১২; মাওয়ারিদুয যাম’আন ১৩৩৮, ১৩৩৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৮০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১. খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা
২০৫৮. আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম তাঁর সাহাবীগণের সাতজনের একটি দলের সাথে বসে খাদ্য খাচ্ছিলেন। এমন সময় একজন আ’রাবী (বেদুঈন) এসে দু’ দু’ লুকমা করে খেতে আরম্ভ করলো। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বললেন: “যদি সে (খাওয়ার সময়) ’বিসমিল্লাহ’ বলতো, তবে তা-ই তোমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যেতো। তাই যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি খাওয়া শুরু করে, তখন সে যেন বিসমিল্লাহ বলে। আর যদি সে (খাওয়ার শুরুতে) ’বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে যায় তবে সে যেন বলে- ’বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু’ (এর শুরু ও শেষ আল্লাহ তা’আলার নামে)।”[1]
بَاب فِي التَّسْمِيَةِ عَلَى الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ عَنْ بُدَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْكُلُ طَعَامًا فِي سِتَّةِ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ فَجَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَأَكَلَهُ بِلُقْمَتَيْنِ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَا إِنَّهُ لَوْ ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ لَكَفَاكُمْ فَإِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَذْكُرْ اسْمَ اللَّهِ فَإِنْ نَسِيَ أَنْ يَذْكُرَ اسْمَ اللَّهِ فَلْيَقُلْ بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২১৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন ১৩৪১ তে। ((আবূ দাউদ, আতইমাহ ৩৭৬৭; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮৫৮।– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ২০২০ এর টীকা হতে।–অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ১. খাওয়ার পূর্বে বিসমিল্লাহ বলা
২০৫৯. (অপর সনদে) আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে এ হাদীস বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي التَّسْمِيَةِ عَلَى الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا بُنْدَارٌ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُدَيْلٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ أُمِّ كُلْثُومٍ عَنْ عَائِشَةَ بِهَذَا الْحَدِيثِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২. কোনো ব্যক্তি খাদ্য খাওয়ালে তার জন্য দু’আ করা
২০৬০. আব্দুল্লাহ ইবন বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, যিনি সামান্য সময়ই (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম-এর) সোহবত (সংস্পর্শ) লাভ করেছিলেন। তিনি বলেনঃ আমার পিতা আমার মাতাকে বললেন, তুমি যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম এর জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করতে, (তবে কতই না উত্তম হতো)। ফলে তিনি ’ছারিদ’ নামক খাদ্য প্রস্তুত করলেন। তিনি (রাবী) হাত দিয়ে ইশারা করে দেখালেন যে, তা ছিল খুবই সামান্য পরিমাণ। এরপর আমার পিতা গিয়ে তাঁকে ডেকে নিয়ে আসলেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম খাবারের উঁচু স্থানে হাত রেখে বললেন: “বিসমিল্লাহ বলে গ্রহণ করো।” তখন তারা (পরিবারের লোকেরা) এর বিভিন্ন পাশ থেকে খেতে থাকলেন। এরপর যখন তারা খাওয়া শেষ করলেন, তখন তিনি তাদের জন্য দু’আ করলেন: “আল্লাহুম্মাগফির লাহুম, ওয়ারহামহুম, ওয়া বারিক লাহুম ফী রিযকিহিম। (অর্থ: ইয়া আল্লাহ! তুমি তাদের রিযিকে বরকত দাও, তাদের ক্ষমা কর এবং তাদের প্রতি রহম কর।)”[1]
بَاب الدُّعَاءِ لِصَاحِبِ الطَّعَامِ إِذَا أَطْعَمَ
أَخْبَرَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَمْرٍو حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ وَكَانَتْ لَهُ صُحْبَةٌ يَسِيرَةٌ قَالَ قَالَ أَبِي لِأُمِّي لَوْ صَنَعْتِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامًا فَصَنَعَتْ ثَرِيدَةً وَقَالَ بِيَدِهِ يُقْلِلُ فَانْطَلَقَ أَبِي فَدَعَاهُ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ عَلَى ذِرْوَتِهَا ثُمَّ قَالَ خُذُوا بِاسْمِ اللَّهِ فَأَخَذُوا مِنْ نَوَاحِيهَا فَلَمَّا طَعِمُوا دَعَا لَهُمْ فَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ وَبَارِكْ لَهُمْ فِي رِزْقِهِمْ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৯৭,, ৫২৯৮, ৫২৯৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩. খাওয়া শেষ করার পর দু’আ
২০৬১. আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু খেতেন কিংবা পান করতেন, তখন তিনি বলতেনঃ “আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাছিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফীহি গইরা মাকফুরীন, ওয়ালা মুয়াদ্দাঈন, ওয়ালা মুসতাগনান আন রব্বিনা।” (অর্থ: পবিত্র বারাকাতময় অনেক অনেক প্রশংসা আল্লাহর জন্য। হে আমাদের রব, এত্থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নিতে পারব না, বিদায় নিতে পারব না এবং এ থেকে বেপরওয়া হতেও পারব না।)[1]
بَاب الدُّعَاءِ بَعْدَ الْفَرَاغِ مِنْ الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْقَاسِمِ الْأَسَدِيُّ حَدَّثَنَا ثَوْرٌ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَوْ شَرِبَ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ غَيْرَ مَكْفُورٍ وَلَا مُوَدَّعٍ وَلَا مُسْتَغْنًى عَنْ رَبِّنَا
তাখরীজ: বুখারী, আত’ইমাহ নং ৫৪৫৮, ৫৪৫৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২১৭ তে। এছাড়াও, বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৬০৩৮; আবূশ শাইখ, আখলাকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃ: ২২০; তিরমিযী, শামাইল নং ১১৩।
পরিচ্ছেদঃ ৪. খাবারের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
২০৬২. সিনান ইবনু সান্না’র পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কৃতজ্ঞ খাদ্য গ্রহণকারী ব্যক্তি ধৈর্য্যশীল রোযাদারের মতো।”[1]
بَاب فِي الشُّكْرِ عَلَى الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي حُرَّةَ عَنْ عَمِّهِ عَنْ سِنَانِ بْنِ سَنَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطَّاعِمُ الشَّاكِرُ كَالصَّائِمِ الصَّابِرِ
তাখরীজ: আহমাদ ও তার পূত্র আব্দুল্লাহ’র মুসনাদ ও যাওয়াইদ, ৪/৩৪৩; মিযযী, তাহযীবুল কামাল ১২/১৫৩; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৫, এ সনদটি সহীহ; বূসীরী তার মিসবাহুজ যুজাজাহ ২/৪২ এ বলেন, এ সনদটি সহীহ, রাবীগণ বিশস্ত; ইবনু মাজাহ সিনান এটি একাকী বর্ণনা করেছেন।… আর্ এর শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা হতে যা বর্ণনা করেছেন ইবনু খুযাইমা, ইবনু হিব্বান, হাকিম ও তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, বুখারী এর অংশবিশেষ তা’লীক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৬৫৮২ নং সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩১৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন ৯৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. আঙ্গুল চেটে খাওয়া সম্পর্কে
২০৬৩. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খায়, তখন সে যেনো তার আঙ্গুলসমূহ তিনবার চেটে খায়।”[1]
بَاب فِي لَعْقِ الْأَصَابِعِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَلْعَقْ أَصَابِعَهُ الثَّلَاثَ
তাখরীজ: তাবারাণী, আউসাত নং ৩৬২০; সগীর ১/১৬৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৮/৪৬৩; মাজমাউল বাহরাইন নং ৪০৪০;
হাইছামী মাজমাউয যাওয়াইদ ৫/২৮ এ বলেন: এটি তাবারাণী, আউসাতে বর্ণনা করেছেন এর রাবীগণ বিশ্বস্ত। আর এটি মুসলিমে, আবূ দাউদে তাঁর আমল হিসেবে বর্ণিত আছে। তিনি যখন খাদ্য খেতেন তখন আঙ্গুল সমূহ চেটে খেতেন। তিনি বলেছেন, আঙ্গুলসমূহ চেটে খাওয়াতেই বরকত।; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩৪; পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬. খাওয়ার সময় তোয়ালে ব্যবহার সম্পর্কে
২০৬৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খায়, তখন তার আঙ্গুলসমূহ তিনবার চেটে না খাওয়া কিংবা না চাটানো পর্যন্ত সে যেনো তার হাত না মুছে ফেলে করে।”[1]
بَاب فِي الْمِنْدِيلِ عِنْدَ الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلَا يَمْسَحْ يَدَهُ حَتَّى يَلْعَقَ أَصَابِعَهُ أَوْ يُلْعِقَهَا
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ নং ৫৪৫৬; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫০৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৫২; আল গিলানিয়া ৯৫৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৯৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. থালা-পাত্র চেটে খাওয়া প্রসঙ্গে
২০৬৫. উম্মু আসিম (রাহি.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্ত দাস নুবায়শাহ একদিন আমাদের কাছে এলেন। আমরা এ সময় খাবার খাচ্ছিলাম। ফলে আমরা তাকে আমাদের সাথে খেতে ডাকলে তিনি আমাদের সাথে খেলেন। এরপর তিনি তখন আমাদের বর্ণনা করলেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “কেউ যদি গামলায় বা পাত্রে কিছু আহার করে এরপর তা চেটে খায় তবে এই গামলা বা পাত্র তার জন্য ’ইস্তিগফার’ (ক্ষমা প্রার্থনা) করে।”[1]
بَاب فِي لَعْقِ الصَّحْفَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْبَرَّاءُ هُوَ مُعَلَّى بْنُ رَاشِدٍ قَالَ حَدَّثَتْنِي جَدَّتِي أُمُّ عَاصِمٍ قَالَتْ دَخَلَ عَلَيْنَا نُبَيْشَةُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ نَأْكُلُ طَعَامًا فَدَعَوْنَاهُ فَأَكَلَ مَعَنَا ثُمَّ قَالَ حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ مَنْ أَكَلَ فِي قَصْعَةٍ ثُمَّ لَحِسَهَا اسْتَغْفَرَتْ لَهُ الْقَصْعَةُ
((তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গারীব, আলবানী (তাহক্বীক্ব, যয়ীফুল জামি’ ৫/১৭৭) এবং ড. বাশশার আউয়াদ মা’রুফ (তাহক্বীক্ব: ইবনু মাজাহ নং ৩২৭১) যয়ীফ বলেছেন।– অনুবাদক))
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৭৬; ইবনু মাজাহ, আতইমাহ ৩২৭১, ৩২৭২; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৭/১/৩৪; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮০৫; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ ১১৪৩; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১৬৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১১/৩১৬ নং ২৮৭৭।
পরিচ্ছেদঃ ৮. খাদ্যের কোনো গ্রাস পড়ে গেলে
২০৬৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কারো খাবারের গ্রাস পড়ে যায়, তখন সে যেনো তা থেকে ময়লা-মাটি মুছে ফেলে এবং বিসমিল্লাহ বলে তা খেয়ে নেয়।”[1]
بَاب فِي اللُّقْمَةِ إِذَا سَقَطَتْ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَقَطَتْ لُقْمَةُ أَحَدِكُمْ فَلْيَمْسَحْ عَنْهَا التُّرَابَ وَلْيُسَمِّ اللَّهَ وَلْيَأْكُلْهَا
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩৪; আহমাদ ৩/১০০, ১৭৭, ২৯০; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮০৪; আবূ দাউদ, আতইমাহ ৩৮৪৫; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৭৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪৯, ৫২৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. খাদ্যের কোনো গ্রাস পড়ে গেলে
২০৬৭. মা’কিল ইবনে ইয়াসার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একদা তিনি সকালের খাবার খাচ্ছলেন। হঠাৎ তার একটি গ্রাস নিচে পড়ে গেলো। তিনি তা তুলে নিয়ে তার ময়লা দূর করে আহার করেন। তিনি বলেন- এতে অনারব ব্যবসায়ীরা চোখ টিপাটিপি করতে লাগলো। তারা তাকে বললো, আপনি কি দেখছেন না, এ সকল অনারবরা কী বলছে? তারা বলছে: তার সামনে (অনেক) খাবার অথচ তিনি এ পতিত লুকমাটি নিয়ে কী করছেন, .দেখ! তিনি বলেন, এসব অনারবের কথায় আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট থেকে শ্রুত কথা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নই। আমাদের মধ্যে কারো খাবারের গ্রাস পড়ে গেলে তাকে নির্দেশ দেয়া হতো যে, সে যেন তা তুলে নিয়ে তার ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য ফেলে না রাখে।[1]
بَاب فِي اللُّقْمَةِ إِذَا سَقَطَتْ
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ الْحَسَنِ قَالَ كَانَ مَعْقِلُ بْنُ يَسَارٍ يَتَغَدَّى فَسَقَطَتْ لُقْمَتُهُ فَأَخَذَهَا فَأَمَاطَ مَا بِهَا مِنْ أَذًى ثُمَّ أَكَلَهَا فَجَعَلَ أُولَئِكَ الدَّهَاقِينُ يَتَغَامَزُونَ بِهِ فَقَالُوا لَهُ مَا تَرَى مَا يَقُولُ هَؤُلَاءِ الْأَعَاجِمُ يَقُولُونَ انْظُرُوا إِلَى مَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ الطَّعَامِ وَإِلَى مَا يَصْنَعُ بِهَذِهِ اللُّقْمَةِ فَقَالَ إِنِّي لَمْ أَكُنْ أَدَعُ مَا سَمِعْتُ بِقَوْلِ هَؤُلَاءِ الْأَعَاجِمِ إِنَّا كُنَّا نُؤْمَرُ إِذَا سَقَطَتْ مِنْ أَحَدِنَا لُقْمَةٌ أَنْ يُمِيطَ مَا بِهَا مِنْ الْأَذَى وَأَنْ يَأْكُلَهَا
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, আতইমাহ ৩২৭৮; তাবারাণী, আল কাবীর ২০/২০০-২০১ নং ৪৫০-৪৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৯. ডানহাতে খাবার খাওয়া
২০৬৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ খাদ্য খায়, তখন সে যেনো তার ডান হাত দিয়ে খায় এবং ডান হাত দিয়ে পান করে। কেননা, শয়তান বাম হাত দিয়ে খায় ও বাম হাত দিয়ে পান করে।”[1]
بَاب الْأَكْلِ بِالْيَمِينِ
أَخْبَرَنَا أَبُو مُحَمَّدٍ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ وَلْيَشْرَبْ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ
তাখরীজ: মালিক, সিফাতুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৬; মুসলিম, আশরিবাহ ২০২০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৬৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২২৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৪৮ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯. ডানহাতে খাবার খাওয়া
২০৬৯. (অপর সনদে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب الْأَكْلِ بِالْيَمِينِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي بَكْرٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০২০; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ২৮৩৬। এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৯. ডানহাতে খাবার খাওয়া
২০৭০. ইয়াস ইবনু সালামাহ’র পিতা (সালামা ইবন আকওয়া রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উটের রাখাল বুসরকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বাম হাতে আহার করতে দেখেন। তখন তিনি বলেনঃ “তুমি তোমার ডান হাতে আহার কর।” সে বললো, আমি পারবো না । তিনি বললেনঃ “তুমি যেন না-ই পার।” তিনি (সালামা রাঃ) বলেনঃ সে আর তার ডান হাত মুখের কাছে তুলতে পারেনি।[1]
بَاب الْأَكْلِ بِالْيَمِينِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنِي إِيَاسُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ أَبْصَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بُسْرَ بْنَ رَاعِي الْعِيرِ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ فَقَالَ كُلْ بِيَمِينِكَ قَالَ لَا أَسْتَطِيعُ قَالَ لَا اسْتَطَعْتَ قَالَ فَمَا وَصَلَتْ يَمِينُهُ إِلَى فِيهِ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০২১; ((আহমাদ ৪/৪৬)); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৬৫১২, ৬৫১৩ তে। এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা, ৮/২৯৩ নং ৪৪৯৭; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৬/৪৩।
পরিচ্ছেদঃ ১০. তিন আঙ্গুল দিয়ে আহার করা
২০৭১. কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম তিন আঙ্গূলে আহার করতেন এবং এবং হাত চেটে না খাওয়া পর্যন্ত তা মুছে ফেলতেন না।[1]
بَاب الْأَكْلِ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ الْمَدَنِيِّ عَنْ ابْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ وَلَا يَمْسَحُ يَدَهُ حَتَّى يَلْعَقَهَا
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৫১ তে। এছাড়া, আবীশ শাইখ, আখলাকুন্নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পৃ: ১৯৫; আরও দেখুন, ফাতহুল বারী ৯/৫৭৭-৫৭৯; আগের টীকাটি এবং গিলানিয়্যাত নং ৯৫৫, ৯৬১।
পরিচ্ছেদঃ ১০. তিন আঙ্গুল দিয়ে আহার করা
২০৭২. কা’ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম তিন আঙ্গুলে আহার করতেন এবং আহার শেষে আঙ্গুলগুলো চেটে খেতেন।[1]
بَاب الْأَكْلِ بِثَلَاثِ أَصَابِعَ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَعْدٍ الْمَدَنِيِّ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ كَعْبٍ أَوْ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ كَعْبٍ شَكَّ هِشَامٌ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْكُلُ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ فَإِذَا فَرَغَ لَعِقَهَا وَأَشَارَ هِشَامٌ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। পূর্ণ তাখরীজের জন্য।
পরিচ্ছেদঃ ১১. অতিথি আপ্যায়ন সম্পর্কে
২০৭৩. আবী শুরাইহ আল খুযাঈ’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলছিলেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে। আবার যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। আবার যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস করে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান দেখায় তার প্রাপ্যের বিষয়ে। একদিন একরাত ভালভাবে মেহমানদারী করা আর তিন দিন হলো সাধারণ মেহমানদারী, আর তার পরবর্তী (দিনগুলি) হল সাদাক্বাহ স্বরূপ।”[1]
بَاب فِي الضِّيَافَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ جَارَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ جَائِزَتَهُ يَوْمًا وَلَيْلَةً وَالضِّيَافَةُ ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ وَمَا بَعْدَ ذَلِكَ صَدَقَةٌ
তাখরীজ: বুখারী, আদাব নং ৬০১৯; মুসলিম, ঈমান ৪৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২১৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৮৭; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৮৫, ৫৮৬ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১১. অতিথি আপ্যায়ন সম্পর্কে
২০৭৪. আবী শুরাইহ আল খুযাঈ’ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস করে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান দেখায়। আবার যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের উপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীর সাথে উত্তম আচরণ করে। আবার যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাত দিবসে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে।[1]
بَاب فِي الضِّيَافَةِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ سَمِعَ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيُحْسِنْ إِلَى جَارِهِ وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَسْكُتْ
তাখরীজ: মুসলিম, ঈমান ৪৮; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১১. অতিথি আপ্যায়ন সম্পর্কে
২০৭৫. মিকদাম ইবনু মা’দীকারিব আবূ কারীমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কারো নিকট মেহমান হিসাবে যায় এবং সে সকাল পর্যন্ত মাহরুম থাকে, এমতাবস্থায় প্রত্যেক মুসলিমের উচিত তার সাহায্য করা। এমন কি সেই মেহমান, সে রাতের জন্য মেহমানীর হক সে কাওমের ফসল এবং মাল হতে নেওয়ার হকদার হয়ে যায়।”[1]
بَاب فِي الضِّيَافَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي الْجُودِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُهَاجِرِ عَنْ الْمِقْدَامِ بْنِ مَعْدِي كَرِبَ أَبِي كَرِيمَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّمَا مُسْلِمٍ ضَافَ قَوْمًا فَأَصْبَحَ الضَّيْفُ مَحْرُومًا فَإِنَّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ نَصْرَهُ حَتَّى يَأْخُذَ لَهُ بِقِرَى لَيْلَتِهِ مِنْ زَرْعِهِ وَمَالِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৪/১৩১, ১৩৩; আবূ দাউদ, আতইমাহ ৩৭৫১; হাকিম ৪/১৩২; ইবনু মাজাহ, আদাব ৩৬৭৭; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/৩৯, ৪০; দারুকুতনী ৪/২৮৭ সহীহ সনদে; বাইহাকী, যাহাইয়া ৯/৩৩২ সহীহ সনদে; এর শাহিদ হাদীস রয়েছে বুখারী মুসলিমে উক্ববাহ ইবনু আমির হতে বুখারী, মাযালিম ২৪৬১; মুসলিম লুক্বতাহ ১৭২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ১২. খাদ্যে মাছি পড়লে
২০৭৬. উবাইদ ইবনু হুনায়ন (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো পানীয় দ্রব্যে মাছি পড়লে সেটাকে তাতে পুরোপুরি ডুবিয়ে দেবে। অতঃপর তাকে উঠিয়ে ফেলবে। কেননা তার এক ডানায় রোগ থাকে আর অপর ডানায় থাকে রোগের প্রতিষেধক।”[1]
بَاب الذُّبَابِ يَقَعُ فِي الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ عُتْبَةَ بْنِ مُسْلِمٍ أَنَّ عُبَيْدَ بْنَ حُنَيْنٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَقَطَ الذُّبَابُ فِي شَرَابِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ كُلَّهُ ثُمَّ لِيَنْزِعْهُ فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً
তাখরীজ: বুখারী, বাদায়ুল খালক নং ৩৩২০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৮৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. খাদ্যে মাছি পড়লে
২০৭৭. আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের কারো পাত্রে মাছি পড়লে সেটাকে তাতে ডুবিয়ে দেবে। কেননা তার এক ডানায় রোগ থাকে আর অপর ডানায় থাকে রোগের প্রতিষেধক।”[1]
بَاب الذُّبَابِ يَقَعُ فِي الطَّعَامِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا وَقَعَ الذُّبَابُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْمِسْهُ فَإِنَّ فِي أَحَدِ جَنَاحَيْهِ دَاءً وَفِي الْآخَرِ شِفَاءً قَالَ أَبُو مُحَمَّد قَالَ غَيْرُ حَمَّادٍ ثُمَامَةُ عَنْ أَنَسٍ مَكَانَ أَبِي هُرَيْرَةَ وَقَوْمٌ يَقُولُونَ عَنْ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحَدِيثُ عُبَيْدِ بْنِ حُنَيْنٍ أَصَحُّ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৬৩, ৩৫৫, ৩৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. মু’মিন এক পেটে খায়
২০৭৮. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মু’মিন এক পেটে খায়, আর কাফির সাত পেটে খায়।”[1]
بَاب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ
তাখরীজ: আবী ইয়ালা মাউসিলী, মুসনাদ, নং ২০৭০; বুখারী, আতইমাহ ৫৩৯৪; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৬১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাউসিলী, মুসনাদে এবং পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. মু’মিন এক পেটে খায়
২০৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৩৯৫; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৬০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৫২, ৫৬৩৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৩৮; ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. মু’মিন এক পেটে খায়
২০৮০. আবী সাঈদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مُجَالِدٍ عَنْ أَبِي الْوَدَّاكِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৬৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. মু’মিন এক পেটে খায়
২০৮১. আবূ হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মু’মিন এক পেটে খায়, আর কাফির সাত পেটে খায়।”[1]
بَاب الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ
وَحَدَّثَنِي يَحْيَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْمُؤْمِنُ يَأْكُلُ فِي مِعًى وَاحِدٍ وَالْكَافِرُ يَأْكُلُ فِي سَبْعَةِ أَمْعَاءٍ
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৩৯৬, ৫৩৯৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৮৪, ২০৬৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট হবে
২০৮২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “একজনের খাবার দু’জনের জন্য যথেষ্ট হবে, দু’জনের খাবার চারজনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং চারজনের খাবার আটজনের জন্য যথেষ্ট হবে।”[1]
بَاب طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الِاثْنَيْنِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَعَامُ الْوَاحِدِ يَكْفِي الِاثْنَيْنِ وَطَعَامُ الِاثْنَيْنِ يَكْفِي الْأَرْبَعَةَ وَطَعَامُ الْأَرْبَعَةِ يَكْفِي ثَمَانِيَةً
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৫৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯০২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৩৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. যে ব্যক্তি তার সামনের দিক থেকে খায়
২০৮৩. উমার ইবনু আবী সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন: “বিসমিল্লাহ বলে তোমার সামনের ভাগ থেকে খাও।”[1]
بَاب فِي الَّذِي يَأْكُلُ مِمَّا يَلِيهِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُمَرَ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ سَمِّ اللَّهَ وَكُلْ مِمَّا يَلِيكَ
তাখরীজ: এটি ২০৬২ (অনূবাদে ২০৫৫) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. ছারীদের একপাশ থেকে খেয়ে না নেয়া পর্যন্ত এর মধ্যভাগ হতে খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা
২০৮৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক বাটি বা এক গামলা ছারীদে পেশ করা হলে তিনি বললেন: “এর এক কিনারা থেকে খাও।” অথবা, তিনি বলেছেন: “এর এক পাশ থেকে খাও এবং এর মধ্যস্থল হতে খেও না। কেননা, বরকত এর মধ্যস্থলেই নাযিল হয়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ أَكْلِ وَسَطِ الثَّرِيدِ حَتَّى يَأْكُلَ جَوَانِبَهُ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِجَفْنَةٍ أَوْ قَالَ قَصْعَةٍ مِنْ ثَرِيدٍ فَقَالَ كُلُوا مِنْ حَافَاتِهَا أَوْ قَالَ جَوَانِبِهَا وَلَا تَأْكُلُوا مِنْ وَسَطِهَا فَإِنَّ الْبَرَكَةَ تَنْزِلُ فِي وَسَطِهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪৫; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৪৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. গরম খাদ্য খাওয়া নিষেধ
২০৮৫. আসমা বিনতে আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, (একদা) তিনি ছারীদ আনতে নির্দেশ দিলে তা আনা হলো। তখন এর উত্তপ্ত অবস্থা ও ধোঁয়া দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত তা ঢেকে রাখা হলো। আর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি: “এটিই বরকতের জন্য মহত্তম।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ أَكْلِ الطَّعَامِ الْحَارِّ
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ عَنْ قُرَّةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ أَنَّهَا كَانَتْ إِذَا أُتِيَتْ بِثَرِيدٍ أَمَرَتْ بِهِ فَغُطِّيَ حَتَّى يَذْهَبَ فَوْرَةُ دُخَانِهِ وَتَقُولُ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ هُوَ أَعْظَمُ لِلْبَرَكَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৪৪।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. কোন্ তরকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সর্বাধিক প্রিয়
২০৮৬. জাবির ইবন আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে নিজ গৃহে গেলেন। তিনি বললেনঃ “সকালে খাবার কিছু আছে কি?” অথবা, (বর্ণনাকারী) তালহার সন্দেহ, তিনি বলেছেন, “রাতের খাবার।” তিনি বললেন, এরপরে এক টূকরা রুটি তাঁর সামনে উপস্থিত করা হলে তিনি বললেনঃ “কোন তরকারি আছে কি?” তারা বললেন, না । তবে সামান্য কিছু সিরকা আছে । তিনি বললেন: “তা নিয়ে এসো। সিরকা তো উত্তম তরকারি।” জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে একথা শ্রবণ করার পর আমি সিরকা পসন্দ করতে থাকি। তালহা (র) বলেনঃ আমিও জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট একথা শ্রবণ করার পর থেকে সিরকা পসন্দ করতে লাগলাম।[1]
بَاب أَيُّ الْإِدَامِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْمُثَنَّى بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا طَلْحَةُ بْنُ نَافِعٍ أَبُو سُفْيَانَ حَدَّثَنَا جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِيَدِي ذَاتَ يَوْمٍ إِلَى مَنْزِلِهِ فَقَالَ هَلْ مِنْ غَدَاءٍ أَوْ مِنْ عَشَاءٍ شَكَّ طَلْحَةُ قَالَ فَأَخْرَجَ إِلَيْهِ فِلَقًا مِنْ خُبْزٍ فَقَالَ أَمَا مِنْ أُدْمٍ قَالُوا لَا إِلَّا شَيْءٌ مِنْ خَلٍّ فَقَالَ هَاتُوهُ فَنِعْمَ الْإِدَامُ الْخَلُّ قَالَ جَابِرٌ فَمَا زِلْتُ أُحِبُّ الْخَلَّ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ أَبُو سُفْيَانَ فَمَا زِلْتُ أُحِبُّهُ مُنْذُ سَمِعْتُهُ مِنْ جَابِرٍ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৫২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৯৮২, ২২০১, ২২১১, ২২১৮; এছাড়া, তায়ালিসী ১/৩৩০ নং ১৬৬৮। আর পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. কোন্ তরকারী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট সর্বাধিক প্রিয়
২০৮৭. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “সিরকা তো উত্তম তরকারি।”[1]
بَاب أَيُّ الْإِدَامِ كَانَ أَحَبَّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نِعْمَ الْإِدَامُ أَوْ نِعْمَ الْأُدْمُ الْخَلُّ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৫১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৪৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. লাউ বা কদু সম্পর্কে
২০৮৮. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দেখেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সামনে শুরুয়া ঝোল পেশ করা হলো যার মধ্যে লাউ বা কদু ও মাংসের টুকরা ছিল। আর আমি দেখলাম তিনি খুঁজে খুঁজে লাউ বা কদু খাচ্ছেন।[1]
بَاب فِي الْقَرْعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِمَرَقَةٍ فِيهَا دُبَّاءٌ وَقَدِيدٌ فَرَأَيْتُهُ يَتَتَبَّعُ الدُّبَّاءَ يَأْكُلُهُ
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ৫১; বুখারী, বুয়ূ ২০৯২; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫৩৯, ৫২৯৩ তে। এছাড়াও, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ শাফিঈ, আল গিলানিয়্যাত ৯৪৬, ৯৪৭, ৯৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. লাউ বা কদু সম্পর্কে
২০৮৯. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লাউ বা কদু পছন্দ করতেন। তিনি বলেন, তাঁর নিকট তা উপস্থিত করা হলো। আমি তা নিয়ে তাঁর সামনে পেশ করলাম।[1]
بَاب فِي الْقَرْعِ
أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعْجِبُهُ الْقَرْعُ قَالَ فَقُدِّمَ إِلَيْهِ فَجَعَلْتُ أَتَنَاوَلُهُ وَأَجْعَلُهُ بَيْنَ يَدَيْهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির অংশবিশেষ। আরো দেখুন, সহীহ মুসলিম ২০৪১ (১৪৫)।
পরিচ্ছেদঃ ২০. যাইতুনের উপকারীতা প্রসঙ্গে
২০৯০. আবী উসাইদ আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা যাইতুনের তেল খাও; কেননা, এটি বরকতময়। আর তা দিয়ে তরকারী রান্না কর এবং তা শরীরে মালিশ কর। কেননা এটি একটি কল্যানময় গাছের তেল।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الزَّيْتِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عِيسَى عَنْ عَطَاءٍ وَلَيْسَ بِابْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ أَبِي أَسِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُوا الزَّيْتَ وَائْتَدِمُوا بِهِ وَادَّهِنُوا بِهِ فَإِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ شَجَرَةٍ مُبَارَكَةٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪৯৭; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৬৭০২; তাবারাণী, কাবীর নং ১৯/২৭০ নং ৫৯৭; বুখারী, কাবীর নং ৬/৬; উকাইলী, যু’আফা ৩/৪০২; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮৫৩, শামাইল নং ১৫৯; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১৫; হাকিম ২/৩৯৭-৩৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৮৭0। তিরমিযী একে গারীব বলেছেন। হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন।
... এর শাহিদ হাদীস রয়েছে তিরমিযী ১৮৫২; ইবনু মাজাহ ৩৩১৯ যয়ীফ সনদে; আব্দুর রাযযাক ও বাযযার, বাহরুয যুখখার ১/৩৯৭ নং ২৭৫ যয়ীফ সনদে। এর আরো শাহিদ রয়েছে আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে ইবনু মাজাহ ৩৩২০ যয়ীফ সনদে, যেটি হাকিম বণনা করে সহীহ বললেও যাহাবী তা সমর্থন করেননি।
পরিচ্ছেদঃ ২১. রসূন খাওয়া প্রসঙ্গে
২০৯১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি এ গাছ থেকে খায়”, তথা রসূন খায়, “সে যেন অবশ্যই মসজিদে না আসে।”[1]
بَاب فِي أَكْلِ الثُّومِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي غَزْوَةِ خَيْبَرَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعْنِي الثُّومَ فَلَا يَأْتِيَنَّ الْمَسَاجِدَ
তাখরীজ: বুখারী, আযান ৮৫৩; মুসলিম, মাসাজিদ ৫৬১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২০৮৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. রসূন খাওয়া প্রসঙ্গে
২০৯২. উম্মু আইউব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট উপস্থিত হলে আমরা তাঁর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করলাম এবং তাতে এরকম কিছু শাক-সবজিও ছিল। যখন আমরা তা তাঁর নিকট নিয়ে গেলাম, তখন তিনি তা অপছন্দ করলেন। আর তিনি তাঁর সাহাবীগণকে বললেন, তোমরা খাও। কেননা, আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমার আশংকা, হয়তো আমি আমার সাথীকে (জিবরীল) কষ্ট দিয়ে ফেলব।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, যদি কারো কষ্ট দেওয়ার ব্যাপার না থাকে, তবে এটা খাওয়াতে কোনো দোষ নেই।
بَاب فِي أَكْلِ الثُّومِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أُمَّ أَيُّوبَ أَخْبَرَتْهُ قَالَتْ نَزَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّفْنَا لَهُ طَعَامًا فِيهِ شَيْءٌ مِنْ بَعْضِ هَذِهِ الْبُقُولِ فَلَمَّا أَتَيْنَاهُ بِهِ كَرِهَهُ وَقَالَ لِأَصْحَابِهِ كُلُوهُ فَإِنِّي لَسْتُ كَأَحَدٍ مِنْكُمْ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُوذِيَ صَاحِبِي قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا لَمْ يُؤْذِ أَحَدًا فَلَا بَأْسَ بِأَكْلِهِ
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ২/৫১১; ইবনু মাজাহ, আতইমাহ নং ৩৩৬৪; তিরমিযী, আতইমাহ ১৮১১; সহীহ ইবনু খুযাইমা, ১৬৭১; তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। দেখুন, ফাতহুল বারী ২/ ৩৪২ যেখানে এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া দেখুন, আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২০১৬-২০২৬।
পরিচ্ছেদঃ ২২. মুরগীর গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
২০৯৩. যাহদাম আল জারমী (রাহি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট ছিলাম, এ সময় তার নিকট খাবার উপস্থিত করা হলো, যাতে মুরগীর মাংসও ছিল। তথায় তাইমুল্লাহ গোত্রের লাল বর্ণের এক ব্যক্তিও উপস্থিত ছিল, সে খাবারের নিকটবর্তী হলো না। তখন আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি খেতে দেখেছি।[1]
بَاب فِي أَكْلِ الدَّجَاجِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ الْقَاسِمِ التَّمِيمِيِّ عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ قَالَ كُنَّا عِنْدَ أَبِي مُوسَى فَقُدِّمَ طَعَامُهُ فَقُدِّمَ فِي طَعَامِهِ لَحْمُ دَجَاجٍ وَفِي الْقَوْمِ رَجُلٌ مِنْ بَنِي تَيْمِ اللَّهِ أَحْمَرُ فَلَمْ يَدْنُ فَقَالَ لَهُ أَبُو مُوسَى ادْنُ فَإِنِّي قَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ مِنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, ফারযুল খুমুস ৩১৩৩ বেশিরভাগ অংশ; মুসলিম, ঈমান ১৬৪৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২২২, ৫২৫৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৮৩, ৭৮৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. মুরগীর গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
২০৯৪. যাহদাম আল জারমী (রাহি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, তিনি আবূ মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট মুরগীর (মাংসের) আলোচনা করলেন। তখন তিনি (আবূ মুসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) তাকে বললেন, নিশ্চয়ই আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি খেতে দেখেছি।[1]
بَاب فِي أَكْلِ الدَّجَاجِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ زَهْدَمٍ الْجَرْمِيِّ عَنْ أَبِي مُوسَى أَنَّهُ ذَكَرَ الدَّجَاجَ فَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যে ব্যক্তি মুত্তাকী লোককে ব্যতীত অন্যদেরকে খাদ্য খাওয়াতে অপছন্দ করে
২০৯৫. ওয়ালিদ ইবনুল কাইস অথবা, আবীল হাইছাম, আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: “মু’মিন ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো বন্ধু বা সাথী হয়ো না। আর মুত্তাক্বী ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কোনো লোক যেন তোমার খাদ্য না খায়।”[1]
بَاب مَنْ كَرِهَ أَنْ يُطْعِمَ طَعَامَهُ إِلَّا الْأَتْقِيَاءَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا حَيْوَةُ حَدَّثَنَا سَالِمُ بْنُ غَيْلَانَ أَنَّ الْوَلِيدَ بْنَ قَيْسٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ أَوْ عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تَصْحَبْ إِلَّا مُؤْمِنًا وَلَا يَأْكُلْ طَعَامَكَ إِلَّا تَقِيٌّ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫৪, ৫৫৫, ৫৬০, ৫২৫৫ ও টীকাসহ মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৪৯, ২০৫০, ২৫২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. যে ব্যক্তি দু’টি খাবারকে একত্রে খাওয়া দোষণীয় মনে করেন না
২০৯৬. আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শসা বা কাকড় ও পাকা সতেজ খেজুর (একত্রে) খেতে দেখেছি।[1]
بَاب مَنْ لَمْ يَرَ بَأْسًا أَنْ يُجْمَعَ بَيْنَ الشَّيْئَيْنِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ الْقِثَّاءَ بِالرُّطَبِ
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৪৪০, ৫৪৪৯; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৯৮ ও
ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৫০ তে।
এছাড়াও, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ শাফিঈ, আল গিলানিয়্যাত ৯৭৬, ৯৭৭ ; তায়ালিসী ১/৩৩০ নং ১৬৬৯।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. একবারে (দু’টি করে খাদ্যবস্তু) খাওয়ার নিষেধাজ্ঞা
২০৯৭. জাবালাহ ইবনু সুহাইম হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মদীনায় ছিলাম। তখন একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবনু যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন এবং ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদের নিকট দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, তোমরা এক সাথে দু’টো করে (খেজুর) খেয়ো না। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ব্যতীত এক সাথে দু’টো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْقِرَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا جَبَلَةُ بْنُ سُحَيْمٍ قَالَ كُنَّا بِالْمَدِينَةِ فَأَصَابَتْنَا سَنَةٌ فَكَانَ ابْنُ الزُّبَيْرِ يَرْزُقُ التَّمْرَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَمُرُّ بِنَا وَيَقُولُ لَا تُقَارِنُوا فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْقِرَانِ إِلَّا أَنْ يَسْتَأْذِنَ الرَّجُلُ أَخَاهُ
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ২৪৫৫; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৩৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. খেজুর খাওয়া সম্পর্কে
২০৯৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আইশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে ঘরে খেজুর নেই, সে ঘরের লোকেরা অভুক্ত- কিংবা ক্ষুধার্ত রয়েছে।” দু’ই বার বা তিনবার (একথা বলেছেন)।[1]
بَاب فِي التَّمْرِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ طَحْلَاءَ عَنْ أَبِي الرِّجَالِ عَنْ أُمِّهِ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا عَائِشَةُ بَيْتٌ لَا تَمْرَ فِيهِ جِيَاعٌ أَهْلُهُ أَوْ جَاعَ أَهْلُهُ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلَاثًا
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪৬ (১৫৩)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০৬ তে।
এছাড়াও, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ শাফিঈ, আল গিলানিয়্যাত ৯৯৫; আবূ দাউদ, আতইমাহ ৩৮৩১।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. খেজুর খাওয়া সম্পর্কে
২০৯৯. আইশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “যে গৃহবাসীদের নিকট খেজুর থাকে, সেই ঘরের লোকেরা ক্ষুধার্ত হয় না।”[1]
بَاب فِي التَّمْرِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَجُوعُ أَهْلُ بَيْتٍ عِنْدَهُمْ التَّمْرُ
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪৬। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. খেজুর খাওয়া সম্পর্কে
২১০০. আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খেজুর হাদিয়া পাঠিয়ে দেয়া হলো। তখন তিনি প্রেরিত হাদিয়া গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষুধার কারণে (দুর্বল হওয়ায়) জানুদ্বয় উপরে তুলে (হেলে) বসে খেজুর খেতে দেখেছি।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, يُهَدِّيهِ (তাকে প্রেরিত) অর্থাৎ তিনি তাকে (আনাসকে) এখানে এখানে পাঠান।
بَاب فِي التَّمْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ سُلَيْمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَمْرٌ فَأَخَذَ يُهَدِّيهِ وَقَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْكُلُ تَمْرًا مُقْعِيًا مِنْ الْجُوعِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يُهَدِّيهِ يَعْنِي يُهْدِي هَاهُنَا وَهَاهُنَا
তাখরীজ: মুসলিম, আশরিবাহ ২০৪৪। তিরমিযী, শামাইল নং ১৪৪; আবূ দাউদ, আতইমাহ ৩৭৭১; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৬৭৪৪; ইবনু আবী শাইবা ৮/২০৭ নং ৪৫৫০।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. খাওয়া শেষে (হাত) ধোয়া সম্পর্কে
২১০১. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া-সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি নিজের হাতে (মাংস ইত্যাদি) খাবারের তেল-চর্বির গন্ধ নিয়ে (রাতে) ঘুমিয়ে পড়লো এবং তাতে তার কোন প্রকার ক্ষতি হলে, সে যেন নিজেকেই তিরস্কার করে।”[1]
بَاب فِي الْوُضُوءِ بَعْدَ الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ نَامَ وَفِي يَدِهِ رِيحُ غَمَرٍ فَعَرَضَ لَهُ عَارِضٌ فَلَا يَلُومَنَّ إِلَّا نَفْسَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৫২১ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৫৪ তে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ফাতিমাতুয যুহরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, যার তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওয়ালীমা (বিবাহোত্তর ভোজ) প্রসঙ্গে
২১০২. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’আবদুর রহমান ইবনু আওফ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর গায়ে হলুদ রংয়ের চিহ্ন লেগে থাকতে দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কী ব্যাপার?” তিনি বললেন, আমি বিবাহ করেছি। তিনি [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন: “একটি বকরী দিয়ে হলেও ওয়ালীমার ব্যবস্থা কর।”[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَرَأَى عَلَيْهِ وَضَرًا مِنْ صُفْرَةٍ مَهْيَمْ قَالَ تَزَوَّجْتُ قَالَ أَوْلِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ ২০৪৯; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩২০৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০৬০, ৪০৯৬ তে।
এছাড়াও, ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়াম ওয়াল লাইলাহ নং ৬০১; আবূ নুয়াইম, দালাইলুল নুবুওয়াত ৬/ ১৮০; যিকরু আখবারু আসবাহান ১/১৬২; তাবারাণী, আল কাবীর ৭/২৬ নং ৫৪০৩, ৫৪০৪, ৫৪০৬, ৫৪০৭; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ২/১৭৮, ১৭৯, ১৮০;
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওয়ালীমা (বিবাহোত্তর ভোজ) প্রসঙ্গে
২১০৩. আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান ছাকাফী হতে বর্ণিত, বনূ ছাকীফের জনৈক কানা ব্যক্তি, যাকে তার সদাচারের জন্য মা’রুফ বলা হতো, যদি তার নাম যুহায়র ইবন উছমান না হয়, তবে আমি জানি না তার সঠিক নাম কি! তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বিবাহের প্রথম দিনে ওলীমার ব্যবস্থা করা জরুরী, দ্বিতীয় দিনে উত্তম এবং তৃতীয় দিনে করলে তা নাম প্রচার ও লোক দেখানো (-এর উদ্দেশ্যে করা বলে বিবেচিত হবে)।[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ الثَّقَفِيِّ عَنْ رَجُلٍ مِنْ ثَقِيفَ أَعْوَرَ قَالَ كَانَ يُقَالُ لَهُ مَعْرُوفٌ أَيْ يُثْنَى عَلَيْهِ خَيْرٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ اسْمُهُ زُهَيْرَ بْنَ عُثْمَانَ فَلَا أَدْرِي مَا اسْمُهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْوَلِيمَةُ أَوَّلَ يَوْمٍ حَقٌّ وَالثَّانِيَ مَعْرُوفٌ وَالثَّالِثَ سُمْعَةٌ وَرِيَاءٌ قَالَ قَتَادَةُ وَحَدَّثَنِي رَجُلٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ أَنَّهُ دُعِيَ أَوَّلَ يَوْمٍ فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّانِيَ فَأَجَابَ وَدُعِيَ الْيَوْمَ الثَّالِثَ فَحَصَبَ الرَّسُولَ وَلَمْ يُجِبْهُ وَقَالَ أَهْلُ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ
তাখরীজ: আবূ দাউদ , আতইমাহ ৩৭৪৫; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৬০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৬৫৯৬; ইবনু আবী আছিম, আল আহাদ ওয়াল মাছানী নং ১৫৯৪; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/১৪৬; বুখারী, ‘আল কাবীর ৩/৪২৫, ৪/৪২৫; আহমাদ ৫/৪৮; তাবারাণী, আল কাবীর ৫/৩১৪ ; ইবনুল কানি’, মুজামুস সাহাবাহ, তারজমাহ ২৭৪;
ইবনু আদী, কামিল ৩/১০৭৮ এ উদ্ধৃতি দিয়েছেন যে, বুখারী বলেছেন: এর সনদ সহীহ নয়, আর তার-তথা যুহাইর ইবনু উছমান পরিচয়ও জানা যায় না, আর তিনি সাহাবী ছিলেন বলেও জানা যায় না।’ এরপর ইবনু আদী বলেছেন, তার সাহাবী হওয়াটা সহীহ নয়।’ আরও দেখুন, সুনানে বাইহাকী, তালখীসুল হাবীর ৩/১৯৫; ফাতহুল বারী ৯/২৪২-২৪৩; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬২১৮, ৬২৬২।
এছাড়া এটি মুরসাল হিসেবে হাসান হতে বর্ণনা করেছেন, আব্দুর রাযযাক নং ১৯৬৬০; ইবনু আবী শাইবা ১৪/১১১ নং ১৭৭৬৩ ও ১৭৮৪৩ এটি মুরসাল হিসেবে সহীহ।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওয়ালীমা (বিবাহোত্তর ভোজ) প্রসঙ্গে
২১০৪. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, “সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাদ্য হলো সেই ওয়ালীমার খাদ্য, যাতে কেবল ধনীদেরকে দাওয়াত করা হয় এবং গরীবদেরকে পরিত্যাগ করা হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত কবুল করে না, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে অবাধ্যতা করে।”[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ قَالَ شَرُّ الطَّعَامِ طَعَامُ الْوَلِيمَةِ يُدْعَى إِلَيْهَا الْأَغْنِيَاءُ وَيُتْرَكُ الْمَسَاكِينُ وَمَنْ تَرَكَ الدَّعْوَةَ فَقَدْ عَصَى اللَّهَ وَرَسُولَهُ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৭৭; মুসলিম, নিকাহ ১৪৩২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০৪, ৫৩০৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২০৪, ১২০৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওয়ালীমা (বিবাহোত্তর ভোজ) প্রসঙ্গে
২১০৫. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একজন লোক খাবার প্রস্তুত করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করে বললো, ইয়া রাসুলুল্লাহ! চলুন।’- বলে লোকটি হাত দিয়ে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন, “সে ও (আমার সাথে যাবে)।” (জবাব না পেয়ে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তখন দ্বিতীয় বার সে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর হাত দিয়ে তাঁর (আয়েশা রাঃ) এর প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (জবাব না পেয়ে) এবারও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকটি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয় বার সে তাঁর দিকে ইঙ্গিত করলো। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও হাত দিয়ে তাঁর (আয়েশা) এর প্রতি ইঙ্গিত করে বললেন: “সে ও।” তখন সে বললো, হাঁ। এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকটির সাথে গেলেন এবং তাঁরা উভয়ে তার খাবার হতে খেলেন।[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ قَدْ صَنَعَ طَعَامًا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْنِي فَدَعَاهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ قَالَ يَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَكَذَا وَأَشَارَ إِلَى عَائِشَةَ قَالَ لَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَوْمَأَ إِلَيْهِ الثَّانِيَةَ وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْرَضَ عَنْهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَوْمَأَ إِلَيْهِ الثَّالِثَةَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهَذِهِ قَالَ نَعَمْ فَانْطَلَقَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَائِشَةُ فَأَكَلَا مِنْ طَعَامِهِ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/১২৩; মুসলিম, আশরিবাহ ২০৩৭; নাসাঈ, তালাক ৬/১৫৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৫৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ওয়ালীমা (বিবাহোত্তর ভোজ) প্রসঙ্গে
২১০৬. আবূ মাস’ঊদ আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনসার গোত্রের আবূ শু’আয়ব নামক জনৈক ব্যক্তির এক কসাই গোলাম ছিল। সে তাকে বলল, আমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত কর, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করতে চাই। পাঁচজনের মধ্যে তিনি হবেন একজন। তারপর সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দাওয়াত করল। তিনি ছিলেন পাঁচজনের অন্যতম। তখন এক ব্যক্তি তাদের পিছে পিছে আসতে লাগল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তুমি তো আমাকে আমাদের পাঁচজনের পঞ্চম ব্যক্তি হিসাবে দাওয়াত দিয়েছ। এ লোকটা আমাদের পিছে চলে এসেছে। তুমি ইচ্ছে করলে তাকে অনুমতি দিতে পার, আর ইচ্ছে করলে বাদও দিতে পার।” সে বলল, আমি বরং তাকে অনুমতি দিচ্ছি।[1]
بَاب فِي الْوَلِيمَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ أَبُو شُعَيْبٍ وَكَانَ لَهُ غُلَامٌ لَحَّامٌ فَقَالَ اصْنَعْ لِي طَعَامًا أَدْعُو رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَامِسَ خَمْسَةٍ قَالَ فَدَعَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَامِسَ خَمْسَةٍ فَتَبِعَهُمْ رَجُلٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكَ دَعَوْتَنَا خَامِسَ خَمْسَةٍ وَهَذَا رَجُلٌ قَدْ تَبِعَنِي فَإِنْ شِئْتَ أَذِنْتَ لَهُ وَإِنْ شِئْتَ تَرَكْتَهُ قَالَ فَأَذِنَ لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৪৩৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩০০, ৫৩০২ তে।
এছাড়াও, দাওলাবী, আল কুন্নী ১/৩৮; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৬৫; আল মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১৪৪৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. ‘সারীদ’-এর শ্রেষ্ঠত্ব
২১০৭. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “নারীদের উপর ’আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-এর মর্যাদা তেমনই, যেমন ’সারীদ’-’র মর্যাদা অন্যান্য খাদ্যদ্রব্যের উপর।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الثَّرِيدِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدٌ عَنْ أَبِي طُوَالَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযাইলুস সাহাবাহ ৩৭৭০; মুসলিম, ফাযাইলুস সাহাবাহ ২৪৪৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৭০, ৩৬৭১, ৩৬৭২, ৩৬৭৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১১৩ তে।
এছাড়াও, ইবনু আবী শাইবা ১২/১৩১; তিরমিযী, শামাইল নং ১৭৬; আবু নুয়াইম, যিকরু আখবারুল আসবাহান ১/২১৫, ২৪৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি (হাত দিয়ে) না ছিঁড়ে বরং (দাঁত দিয়ে) কামড়ে গোশত খেতে পছন্দ করে, তার সম্পর্কে
২১০৮. আব্দুল্লাহ্ ইবনুল হারিস ইবনু নাউফাল বলেন, উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর শাসনামলে আমার পিতা আমাকে বিবাহ দিলেন। সে সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল সাহাবীকে দাওয়াত দিলেন, যাদের মধ্যে সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুও ছিলেন। আর তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা মাংস এক এক কামড় করে খাও। কেননা, তা (এভাবে খাওয়াটা) অধিক মজাদার ও অধিক সুস্বাস্থ্যকর।”[1]
بَاب فِيمَنْ اسْتَحَبَّ أَنْ يَنْهَسَ اللَّحْمَ وَلَا يَقْطَعَهُ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمَدِينِيِّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْكَرِيمِ أَبُو أُمَيَّةَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ نَوْفَلٍ زَوَّجَنِي أَبِي فِي إِمَارَةِ عُثْمَانَ فَدَعَا رَهْطًا مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَكَانَ فِيمَنْ دَعَا صَفْوَانُ بْنُ أُمَيَّةَ وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ انْهَسُوا اللَّحْمَ نَهْسًا فَإِنَّهُ أَشْهَى وَأَمْرَأُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং নং ৫৭৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. হেলান দিয়ে বসে খাওয়া প্রসঙ্গে
২১০৯. আবূ জুহাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আমি হেলান দিয়ে বসে খাবার খাই না।”[1]
بَاب فِي الْأَكْلِ مُتَّكِئًا
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْأَقْمَرِ حَدَّثَنِي أَبُو جُحَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا آكُلُ مُتَّكِئًا
তাখরীজ: বুখারী, আতইমাহ ৫৩৯৮, ৫৩৯৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৮৪, ৮৮৮, ৮৮৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৪০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯১৫ তে।
এছাড়াও, তিরমিযী, শামাইল নং ১২৪, ১২৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৫৯৬৯; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৭/২৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. (মওসুমের) প্রথম দিকের পাকা ফল প্রসঙ্গে
২১১০. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যখন (মওসুমের) প্রথম দিকের ফল নিয়ে আসা হতো, তখন তিনি বলতেন: “আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফী মদীনাতিনা, ওয়া ফী ছামারাতিনা, ওয়া ফী মুদ্দিনা ওয়া ফী সা’ঈনা বারাকাতুন মা’আ বারাকাতিন।” (অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাদের শহরগুলিতে, আমাদের মুদ্দে, আমাদের সা’-এ (তথা ওযনে) বেশি বেশি বরকত দান করুন।) এরপর তিনি তাঁর নিকট উপস্থিত বালকদের সর্বকনিষ্ঠ বালককে সেটি দিয়ে দিতেন।[1]
بَاب فِي الْبَاكُورَةِ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أُتِيَ بِالْبَاكُورَةِ بِأَوَّلِ الثَّمَرَةِ قَالَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَفِي ثَمَرَتِنَا وَفِي مُدِّنَا وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَةٍ ثُمَّ يُعْطِيهِ أَصْغَرَ مَنْ يَحْضُرُهُ مِنْ الْوِلْدَانِ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৭৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. খাওয়ার সময় চাকর-বাকরদের প্রতি সৌজন্যমুলক আচরণ করা
২১১১. আবী হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। সে সাথে না বসতে চাইলে (দু’ এক লোকমা) খাবার তাকে দেয়া উচিত।[1]
بَاب فِي إِكْرَامِ الْخَادِمِ عِنْدَ الطَّعَامِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا جَاءَ خَادِمُ أَحَدِكُمْ بِالطَّعَامِ فَلْيُجْلِسْهُ فَإِنْ أَبَى فَلْيُنَاوِلْهُ
তাখরীজ: বুখারী, ইতক্ব ২৫৫৭; মুসলিম, ঈমান ১৬৬৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩২০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৭১১৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১০১ তে। পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. খাওয়ার সময় চাকর-বাকরদের প্রতি সৌজন্যমুলক আচরণ করা
২১১২. আবী হুরাইরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেছেন: “তোমাদের কারো খাদিম খাবার নিয়ে হাযির হলে তাকেও নিজের সাথে বসানো উচিত। তাকে সাথে না বসালেও দু’ এক লোকমা কিংবা দু’ এক গ্রাস তাকে দেয়া উচিত। কেননা, সে এর জন্য তাপ ও ধোয়া সহ্য করেছে।”[1]
بَاب فِي إِكْرَامِ الْخَادِمِ عِنْدَ الطَّعَامِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يُحَدِّثُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ فَلْيُجْلِسْهُ مَعَهُ وَلْيُنَاوِلْهُ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ أَوْ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَدُخَانَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. মিষ্টি দ্রব্য ও মধু প্রসঙ্গে
২১১৩. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিষ্টি দ্রব্য ও মধূ পছন্দ করতেন।[1]
بَاب فِي الْحَلْوَاءِ وَالْعَسَلِ
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর সুরাতুত তাফসীর ৪৯১২; মুসলিম, তালাক্ব ১৪৭৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৭৪১, ৪৮৯২, ৪৮৯৬, ৪৯৫৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. ওযু ছাড়াই খাওয়া ও পান করা প্রসঙ্গে
২১১৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা হতে বের হয়ে এলে তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করা হলো। তাঁকে বলা হলো, আপনি কি ওযু করবেন না? তখন তিনি বললেন: “আমি কি সালাত আদায় করছি যে, আমি ওযু করবো?”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, তিনি হলেন, বর্ণনাকারী সাঈদ ইবনুল হুওয়াইরিস।
بَاب فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْبِرَازِ فَقُدِّمَ إِلَيْهِ طَعَامٌ فَقِيلَ لَهُ أَلَا تَوَضَّأُ قَالَ فَقَالَ أُصَلِّي فَأَتَوَضَّأُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِنَّمَا هُوَ سَعِيدُ بْنُ الْحُوَيْرِثِ
[1] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ।
তাখরীজ: মুসলিম, হায়েয ৩৭৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২০৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. ওযু ছাড়াই খাওয়া ও পান করা প্রসঙ্গে
২১১৫. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত।[1]
بَاب فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. ওযু ছাড়াই খাওয়া ও পান করা প্রসঙ্গে
২১১৬. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي الْأَكْلِ وَالشُّرْبِ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ
قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا عَاصِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ بِإِسْنَادِهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. জুনুবী অবস্থায় খাওয়া
২১১৭. আয়িশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জুনুবী (অপবিত্র) অবস্থায় থাকতেন, তখন তিনি খাওয়া বা ঘুমানোর ইচ্ছা করলে ওযু করতেন।[1]
بَاب فِي الْجُنُبِ يَأْكُلُ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ قَالَ سَمِعْتُ إِبْرَاهِيمَ يُحَدِّثُ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَجْنَبَ فَأَرَادَ أَنْ يَأْكُلَ أَوْ يَنَامَ تَوَضَّأَ
তাখরীজ: বুখারী, গুসল ২৮৬; মুসলিম, হায়েয ৩০৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২২. ৪৫৯৫, ৪৭৮২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২১৭, ১২১৮ তে। বিগত ৭৮৪ নং হাদীসটি গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. (রান্নার সময়) হাঁড়িতে বেশি পরিমাণে ঝোল রাখা প্রসঙ্গে
২১১৮. আবূ যার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আমার প্রিয়তম বন্ধু (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে ওয়াসীয়াত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ “তুমি ঝোলের তরকারী রান্না করলে (বেশি ঝোলের উদ্দেশ্যে) তাতে পানি বেশী দিও এবং তোমার প্রতিবেশীদের প্রতি খেয়াল রেখে তাদেরকে তা থেকে কয়েক অঞ্জলী হলেও পৌঁছিও।”[1]
بَاب فِي إِكْثَارِ الْمَاءِ فِي الْقِدْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ أَوْصَانِي خَلِيلِي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِذَا طَبَخْتَ مَرَقَةً فَأَكْثِرْ مَاءَهَا ثُمَّ انْظُرْ أَهْلَ بَيْتٍ مِنْ جِيرَتِكَ فَاغْرِفْ لَهُمْ مِنْهَا
তাখরীজ: মুসলিম, বিরর ওয়াল সুলহ ২৬২৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৩, ৫১৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২০৪২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. খাওয়ার সময় জুতা-স্যান্ডেল খুলে রাখা প্রসঙ্গে
২১১৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন খাবার পেশ করা হয়, তখন তোমরা তোমাদের জুতা-সেণ্ডেল খুলে রাখবে, কেননা, এটাই তোমাদের পদযুগলের জন্য অধিক আরামদায়ক।”[1]
بَاب فِي خَلْعِ النِّعَالِ عِنْدَ الْأَكْلِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا وُضِعَ الطَّعَامُ فَاخْلَعُوا نِعَالَكُمْ فَإِنَّهُ أَرْوَحُ لِأَقْدَامِكُمْ
তাখরীজ: তাবারাণী, আল আওসাত নং ৩২২৬- মাজমাউল বাহরাইন নং ৪০৩৭; হাকিম ৪/১১৯। হাকিম বলেন, এ হাদীসের সনদ সহীহ যদিও তারা এটি বর্ণনা করেননি।’ তার কথাকে খণ্ডন করে যাহাবী বলেন, ‘আমি বলছি: আমার মতে এটি মাওযু’ বা জাল। এর সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন। আর মূসাকে দারুকুতনী পরিত্যাগ করেছেন।’; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪১৮৮ ও মু’জামুশ শুয়ূখ নং ৩০২; বাযযার, কাশফুল আসতার নং ২৮৬৭। এ সনদে দাউদ ইবনু যাবারক্বান রয়েছে, সে মাতরুক, একাধিক মুহাদ্দিস তাকে মিথ্যাবাদী আখ্যায়িত করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. লোকদেরকে খাদ্য খাওয়ানো প্রসঙ্গে
২১২০. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা ’রহমান’-এর ইবাদত কর, সালামের প্রসার কর এবং খাদ্য দান করো, (এবং এসব আমলের দ্বারা) জান্নাতে প্রবেশ কর।”[1]
بَاب فِي إِطْعَامِ الطَّعَامِ
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْبُدُوا الرَّحْمَنَ وَأَفْشُوا السَّلَامَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ تَدْخُلُوا الْجِنَانَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ, টীকা ও শাহিদ হাদীসসমূহ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪৮৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬০ ও মুসনাদুল মাউসিলী ১১/১০৮ নং ৬২৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. দাওয়াত প্রসঙ্গে
২১২১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “তোমরা আহবানকারীর আহবানে সাড়া দাও, যখন তোমাদের আহবান করা হয়।” তিনি (রাবী) বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিবাহের দাওয়াতে এবং বিবাহ ব্যতীত অন্যান্য দাওয়াতেও শরীক হতেন; এমনকিও তিনি রোযা অবস্থায় থাকলেও দাওয়াতে আসতেন।[1]
بَاب فِي الدَّعْوَةِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَجِيبُوا الدَّاعِيَ إِذَا دُعِيتُمْ قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَأْتِي الدَّعْوَةَ فِي الْعُرْسِ وَفِي غَيْرِ الْعُرْسِ وَيَأْتِيهَا وَهُوَ صَائِمٌ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৭৩; মুসলিম, নিকাহ ১৪২৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৯৪ তে। এছাড়াও, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/১৪৭; বাইহাকী, সিদাক্ব ৭/২৬১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৩১৪; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ১/২৭৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে মারা গেলে
২১২২. মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে গেলে করণীয় সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: ওটা এবং ওর চারপাশের ঘি ফেলে দিয়ে তা খেতে পার।”[1]
بَاب فِي الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ فَمَاتَتْ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ فَأْرَةٍ وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَقَالَ أَلْقُوهَا وَمَا حَوْلَهَا وَكُلُوا
তাখরীজ: বিগত ৭৬৫ নং এ হাদীসটি গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে মারা গেলে
২১২৩. তাঁর সূত্রে ইবনু উয়াইনাহও বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ فَمَاتَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ بِإِسْنَادِهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। হাদীসটি বুখারী মুসলিম কর্তৃক সম্মিলিত ভাবে বর্ণিত।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে মারা গেলে
২১২৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে মরে গেলে করণীয় কী- এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: “ওটা এবং ওর চারপাশের ঘি নিয়ে ফেলে দাও।”[1]
بَاب فِي الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ فَمَاتَتْ
حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ فَأْرَةٍ وَقَعَتْ فِي سَمْنٍ فَمَاتَتْ فَقَالَ خُذُوهَا وَمَا حَوْلَهَا فَاطْرَحُوهُ
এটি ৭৬৫ নং এ গত হয়েছে। দেখুন, আমাদের তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩১৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. ঘি-এর মধ্যে ইদুর পড়ে মারা গেলে
২১২৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, গলিত বা তরল ঘি হলে তা পুরোটাই ফেলে দিতে হবে।
بَاب فِي الْفَأْرَةِ تَقَعُ فِي السَّمْنِ فَمَاتَتْ
حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ مَيْمُونَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِذَا كَانَ ذَائِبًا أُهَرِيقَ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. খিলাল প্রসঙ্গে
২১২৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি খাদ্য গ্রহণ করে, সে যেন (দাঁত) খেলাল করে। আর খেলালের মাধ্যমে যা বের হয়, সে যেন তা ফেলে দেয়। আর যা জিহবার দ্বারা বের হয়, সে যেন তা খেয়ে ফেলে।”[1]
بَاب فِي التَّخْلِيلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا ثَوْرُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ الْحِمْيَرِيُّ أَخْبَرَنِي أَبُو سَعْدٍ الْخَيْرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَكَلَ فَلْيَتَخَلَّلْ فَمَا تَخَلَّلَ فَلْيَلْفِظْهُ وَمَا لَاكَ بِلِسَانِهِ فَلْيَبْتَلِعْ
তাখরীজ: ৬৮৯ নং এ হাদীসটি গত হয়েছে।