← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
বদনজর রুকইয়াহ
৩১ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

আপনার প্রশ্নের উত্তরে hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বদনজরের রুকইয়াহ সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

অনুসন্ধানের ফলাফলে বদনজরের চিকিৎসার জন্য পানি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতির কথা উল্লেখ আছে, তবে সেখানে কিছু পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে কুলি করার কথা সরাসরি বলা হয়নি। বরং যে ব্যক্তির নজর লেগেছে, তার অযুর পানি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ঝাড়ফুঁকের জন্য নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পড়ার নির্দেশনাও রয়েছে।

১. পানি দ্বারা চিকিৎসা (যদি বদনজরকারী ব্যক্তি পরিচিত হয়)



যদি জানা যায় কার বদনজর লেগেছে, তাহলে তার অযুর পানি দিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তিকে গোসল করানোর একটি পদ্ধতি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

সাহল ইবনে হুনাইফ (রাঃ)-কে আমের ইবনে রবীআ (রাঃ)-এর বদনজর লাগলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই চিকিৎসা পদ্ধতি শিখিয়েছিলেন। তিনি আমের (রাঃ)-কে অযু করতে নির্দেশ দেন। আমের (রাঃ) তার মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত, দুই পা গোছা পর্যন্ত এবং লজ্জাস্থান ধৌত করেন। এরপর সেই পানি একটি পাত্রে জমা করে সাহল (রাঃ)-এর পেছন দিক থেকে তার উপর ঢেলে দেওয়া হয় — সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ৩৫০৯ (সহিহ), মুয়াত্তা মালিক, হাদিস ১৭৪৫, মুয়াত্তা মালিক, হাদিস ১৭৪৬

এই হাদিসগুলোতে বদনজরকারীর অযুর পানি ব্যবহার করার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু কোনো কিছু পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে কুলি করার কথা উল্লেখ নেই।

২. ঝাড়ফুঁকের জন্য পঠিতব্য দোয়া ও সূরা



বদনজরের জন্য ঝাড়ফুঁক করা শরীয়ত অনুমোদিত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে ঝাড়ফুঁক করেছেন ও করতে বলেছেন। নিচে কিছু দোয়া ও সূরা উল্লেখ করা হলো:

* সূরা ফালাক ও সূরা নাস: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিন ও মানুষের বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। যখন সূরা ফালাক ও সূরা নাস নাযিল হলো, তখন তিনি এ দুটি সূরা গ্রহণ করেন এবং অন্যগুলো ত্যাগ করেন — সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ৩৫১১ (সহিহ)।

* রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পঠিত দোয়া: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে ঝাড়ফুঁক করার জন্য এই দোয়াটি পড়তেন:
> أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لامَّةٍ
উচ্চারণ: "আউযু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি মিন কুল্লি শাইতানিন ওয়া হাম্মাতিন ওয়া মিন কুল্লি আয়নিল লাম্মাতিন।"
অর্থ: "আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কল্যাণময় বাক্যসমূহের উসিলায় প্রতিটি শয়তান, প্রাণনাশী বিষাক্ত জীব ও অনিষ্টকারী বদনজর থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।"
তিনি বলতেন যে, আমাদের পিতা ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পুত্র ইসমাঈল ও ইসহাক (আঃ)-কে এই দোয়া পড়ে ঝাড়ফুঁক করতেন — সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ৩৫২৫ (সহিহ), সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৪৭৩৭ (সহীহ)।

* অন্য একটি দোয়া: মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা, জিন-শয়তান, জাদু-টোনা, বদনজর ইত্যাদি থেকে আত্মরক্ষার জন্য হাদিস সম্মত এই দোয়াটিও পড়া যেতে পারে:
> باسْمِ اللهِ أَرْقِي نفسي، مِن كُلِّ شيءٍ يُؤْذِيني، مِن شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ، أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيني باسْمِ اللهِ أَرْقِي نفسي
উচ্চারণ: "বিসমিল্লাহি আরক্বী নাফসী, মিন কুল্লি শাইয়িন ইউ’যীনী, মিন শাররি কুল্লি নাফসিন, আও আইনি হাসিদিন, আল্লাহু ইয়াশফীনী, বিসমিল্লাহি আরক্বী নাফসী।"
অর্থ: "আল্লাহর নামে আমি আমার নিজেকে রুকিয়া (ঝাড়-ফুঁক) করছি, প্রতিটি ক্ষতিকারক জিনিস থেকে, প্রতিটি আত্মার অনিষ্ট থেকে, অথবা হিংসুক ব্যক্তির বদনজর থেকে। আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করুন। আল্লাহর নামে আমি আমার নিজেকে রুকিয়া করছি।" — ফাতাওয়া ও প্রশ্নোত্তর

সারসংক্ষেপ:


বদনজরের রুকইয়াহ হিসেবে উল্লেখিত দোয়া ও সূরাগুলো পাঠ করা হয়। পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে, বদনজরকারীর অযুর পানি দ্বারা আক্রান্তকে গোসল করানোর পদ্ধতি হাদিসে পাওয়া যায়। তবে কোনো কিছু পাঠ করে পানিতে ফুঁ দিয়ে কুলি করার বিষয়ে প্রদত্ত তথ্যগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
.মাসয়ালা মাসায়েল নেওয়ার ক্ষেত্রে নফসের আনুগত্য করা আমাদের দেশে এর শাসক কেই কি শুধু আনুগত্য করতে হবে ন