← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
.মাসয়ালা মাসায়েল নেওয়ার ক্ষেত্রে নফসের আনুগত্য করা কি শিরক
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আপনার প্রশ্নের উত্তরটি hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিচে দেওয়া হলো:
অনুসন্ধান ফলাফল থেকে সরাসরি "মাসয়ালা মাসায়েল নেওয়ার ক্ষেত্রে নফসের আনুগত্য করা শিরক" এই কথাটি পাওয়া যায়নি। তবে এ সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
ইসলামে মাসয়ালা বা ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ, ব্যক্তিগত মতামত বা প্রবৃত্তি নয়। সাহাবা ও তাবেঈগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
* কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কথা না বলা: আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কাছে যখন এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হতো যার বিধান কুরআনে স্পষ্টভাবে নেই, তখন তিনি বলতেন, "আল্লাহর কসম, তোমাদের (কুরআন-সুন্নাহর) খেলাফ বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না।" — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৪ (সহীহ)। এর দ্বারা বোঝা যায়, দ্বীনের বিষয়ে মনগড়া কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
* ব্যক্তিগত রায় পরিহার: আতা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে কোনো বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত দিতে বলা হলে তিনি বলেন, "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র সম্মুখে এটি আমার জন্য লজ্জার বিষয় যে, আমার মতামত দ্বারা এ দুনিয়ার বুকে (কাউকে) অভিযুক্ত করা হবে।" — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৮ (সহীহ)। একইভাবে ইবনু সীরীন, ইবরাহীম নাখয়ী ও কাতাদা (রাহিমাহুমুল্লাহ) কখনো নিজস্ব মতামত থেকে কিছু বলতেন না। — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৫, ১০৬, ১০৭ (সহীহ)।
প্রবৃত্তির অনুসরণ দ্বীনের বিকৃতির একটি বড় কারণ। যদিও সরাসরি শিরক বলা হয়নি, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
* কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ: একটি বর্ণনায় শিয়াদের পক্ষ থেকে চার মাযহাবের ইমামদের বিরুদ্ধে এই বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছে যে, শাসকগোষ্ঠীর কুপ্রবৃত্তি অনুযায়ী মাযহাবগুলো তার গতি পরিবর্তন করত। — বারো ইমামের অনুসারী শিয়াদের দৃষ্টিতে চার ইমাম (আবু হানিফা, মালেক, শাফে‘ঈ ও আহমাদ)। যদিও এটি একটি অপবাদ, কিন্তু এখান থেকে এই ধারণা পাওয়া যায় যে, "কুপ্রবৃত্তি" বা নফসের অনুসরণ করে দ্বীনের বিধান পরিবর্তন করা একটি মারাত্মক বিচ্যুতি।
* তাওহীদের বিপরীত কাজ: তাবিজ-কবচ ঝুলানোকে তাওহীদের বিপরীত ও শিরক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এটি আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল। — হজের সাথে সংশ্লিষ্ট আকীদাগত ভুল-ভ্রান্তিসমূহ। এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, যে কাজ আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকারে হস্তক্ষেপ করে বা তাওহীদের পরিপন্থী, তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মাসয়ালা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কেউ জেনেশুনে কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বিধানকে নিজের প্রবৃত্তির জন্য ত্যাগ করে, তবে তা আল্লাহর বিধানের উপর নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার শামিল, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।
সুতরাং, মাসয়ালা মাসায়েল গ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানকে উপেক্ষা করে নিজের নফস বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা একটি মারাত্মক গুনাহ এবং বিদআত। এটি যদি আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছ করে নিজের বা অন্য কারো মতকে നിയമ হিসেবে গ্রহণ করার পর্যায়ে চলে যায়, তবে তা শিরক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
আপনার প্রশ্নের উত্তরটি hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিচে দেওয়া হলো:
অনুসন্ধান ফলাফল থেকে সরাসরি "মাসয়ালা মাসায়েল নেওয়ার ক্ষেত্রে নফসের আনুগত্য করা শিরক" এই কথাটি পাওয়া যায়নি। তবে এ সম্পর্কিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
মাসয়ালা বা ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি
ইসলামে মাসয়ালা বা ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি হলো কুরআন ও সুন্নাহ, ব্যক্তিগত মতামত বা প্রবৃত্তি নয়। সাহাবা ও তাবেঈগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন।
* কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে কথা না বলা: আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) এর কাছে যখন এমন কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করা হতো যার বিধান কুরআনে স্পষ্টভাবে নেই, তখন তিনি বলতেন, "আল্লাহর কসম, তোমাদের (কুরআন-সুন্নাহর) খেলাফ বিষয়ে আমরা কিছুই বলতে পারব না।" — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৪ (সহীহ)। এর দ্বারা বোঝা যায়, দ্বীনের বিষয়ে মনগড়া কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।
* ব্যক্তিগত রায় পরিহার: আতা (রাহিমাহুল্লাহ)-কে কোনো বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মতামত দিতে বলা হলে তিনি বলেন, "আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র সম্মুখে এটি আমার জন্য লজ্জার বিষয় যে, আমার মতামত দ্বারা এ দুনিয়ার বুকে (কাউকে) অভিযুক্ত করা হবে।" — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৮ (সহীহ)। একইভাবে ইবনু সীরীন, ইবরাহীম নাখয়ী ও কাতাদা (রাহিমাহুমুল্লাহ) কখনো নিজস্ব মতামত থেকে কিছু বলতেন না। — সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি), হাদিস ১০৫, ১০৬, ১০৭ (সহীহ)।
প্রবৃত্তির অনুসরণ ও শিরক
প্রবৃত্তির অনুসরণ দ্বীনের বিকৃতির একটি বড় কারণ। যদিও সরাসরি শিরক বলা হয়নি, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
* কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ: একটি বর্ণনায় শিয়াদের পক্ষ থেকে চার মাযহাবের ইমামদের বিরুদ্ধে এই বলে অপবাদ দেওয়া হয়েছে যে, শাসকগোষ্ঠীর কুপ্রবৃত্তি অনুযায়ী মাযহাবগুলো তার গতি পরিবর্তন করত। — বারো ইমামের অনুসারী শিয়াদের দৃষ্টিতে চার ইমাম (আবু হানিফা, মালেক, শাফে‘ঈ ও আহমাদ)। যদিও এটি একটি অপবাদ, কিন্তু এখান থেকে এই ধারণা পাওয়া যায় যে, "কুপ্রবৃত্তি" বা নফসের অনুসরণ করে দ্বীনের বিধান পরিবর্তন করা একটি মারাত্মক বিচ্যুতি।
* তাওহীদের বিপরীত কাজ: তাবিজ-কবচ ঝুলানোকে তাওহীদের বিপরীত ও শিরক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এটি আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহীদ সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল। — হজের সাথে সংশ্লিষ্ট আকীদাগত ভুল-ভ্রান্তিসমূহ। এই উদাহরণ থেকে বোঝা যায়, যে কাজ আল্লাহর একচ্ছত্র অধিকারে হস্তক্ষেপ করে বা তাওহীদের পরিপন্থী, তা শিরকের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। মাসয়ালা গ্রহণের ক্ষেত্রে যদি কেউ জেনেশুনে কুরআন-সুন্নাহর স্পষ্ট বিধানকে নিজের প্রবৃত্তির জন্য ত্যাগ করে, তবে তা আল্লাহর বিধানের উপর নিজের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়ার শামিল, যা অত্যন্ত ভয়াবহ।
সুতরাং, মাসয়ালা মাসায়েল গ্রহণের ক্ষেত্রে কুরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট বিধানকে উপেক্ষা করে নিজের নফস বা প্রবৃত্তির অনুসরণ করা একটি মারাত্মক গুনাহ এবং বিদআত। এটি যদি আল্লাহর বিধানকে তুচ্ছ করে নিজের বা অন্য কারো মতকে നിയമ হিসেবে গ্রহণ করার পর্যায়ে চলে যায়, তবে তা শিরক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।