← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
শাওয়াল মাসের সিয়াম কয়টি এবং কখন রাখতে হবে?
৩০ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

শাওয়াল মাসের সিয়াম বা রোজা হলো ছয়টি। রমজান মাসের রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসে এই ছয়টি রোজা রাখা অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ একটি আমল।

শাওয়ালের সিয়াম কয়টি ও তার ফযিলত



রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখতে উৎসাহিত করেছেন। এর ফযিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে:

* পূর্ণ এক বছর রোজা রাখার সওয়াব: আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "যে ব্যক্তি রমযান মাসের সিয়াম পালন করল, তারপর শাওয়াল মাসে ছয় দিনকে তার অনুগামী করল (অর্থাৎ ৬টি সিয়াম পালন করল), সে যেন সারা বছর রোযা রাখল।" — সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ২৬২৯ (সহিহ)

* রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আজাদকৃত দাস সাওবান (রাঃ) থেকেও বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি রমযান মাস ও শাওয়াল মাসের ছয়টি সিয়াম রাখে, তবে সে ব্যক্তি সারা বছর সিয়াম রাখলো।” — সহীহ ইবনু হিব্বান (হাদিসবিডি), হাদিস ৩৬২৭ (সহিহ)

* এই সওয়াবের ব্যাখ্যা অন্য একটি হাদিসে এভাবে এসেছে: "যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতরের পর ছয় দিন রোযা রাখলো, তা পূর্ণ বছর রোযা রাখার সমতুল্য। (কুরআনের আয়াত) ’’কেউ কোন সৎকাজ করলে, সে তার দশ গুণ পাবে’’ (সূরা আন’আমঃ ১৬০)।" — সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস ১৭১৫ (সহিহ)। অর্থাৎ, রমজানের এক মাসের রোজা দশ মাসের সমান এবং শাওয়ালের ছয় রোজা ষাট দিনের বা দুই মাসের সমান, যা মিলে পূর্ণ এক বছরের রোজার সওয়াব হয়।

কখন রাখতে হবে?



শাওয়ালের ছয়টি রোজা অবশ্যই শাওয়াল মাসের মধ্যেই রাখতে হবে। ঈদুল ফিতরের দিনের পর থেকে শাওয়াল মাস শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত যেকোনো ছয় দিন এই রোজাগুলো রাখা যায়। এগুলো রাখার পদ্ধতির ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে কিছু মত রয়েছে:

* ধারাবাহিকভাবে রাখা: কিছু আলেম মনে করেন, শাওয়াল মাসের শুরুর দিকে অর্থাৎ ঈদের পরপরই লাগাতার ছয় দিন রোজা রাখা বেশি পছন্দনীয়। — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৭৫৯ (সহিহ)

* ভেঙে ভেঙে রাখা: আবার শাওয়াল মাসের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দিনে বা ভেঙে ভেঙে ছয়টি রোজা রাখাও জায়েজ আছে। — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৭৫৯ (সহিহ)

আলেমদের অভিমত



* ইমাম শাফি‘ঈ, ইমাম আহমাদ এবং পরবর্তী হানাফী আলেমগণের মতে শাওয়াল মাসের এই ছয়টি রোজা পালন করা মুস্তাহাব (উত্তম)। — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ২০৪৭ (সহিহ)
* ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) থেকে যে মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হওয়ার কথা বলা হয়, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা হলো— এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈদুল ফিতরের দিনসহ পরবর্তী পাঁচদিন রোজা রাখা মাকরূহ। কিন্তু ঈদের দিন বাদে শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয় দিন রোজা রাখা মাকরূহ নয়, বরং তা মুস্তাহাব ও সুন্নাত। — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ২০৪৭ (সহিহ)

সুতরাং, শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত, যা শাওয়াল মাসের যেকোনো ছয় দিনে (ঈদের দিন ব্যতীত) আদায় করা যায়।

আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
এক সংগে তিন তালাক বারাকাহ ও রিজিক এর মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ দাও