← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
এক সংগে তিন তালাক
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়ার বিষয়ে hadithbd.com-এর অনুসন্ধান ফলাফল থেকে নিচে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে, আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতে এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে গণ্য করা হতো।
আবু সাহবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করেন: "আপনি কি জানেন না, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর প্রথম যুগে তিন তালাককে এক তালাক ধরা হতো?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "হ্যাঁ।" — সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৩৪০৯ (সহীহ)
অন্যান্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিন তালাক দিলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় এবং এটি কার্যকর হয়।
* ইবন উমর (রাঃ)-এর অভিমত: ইবন উমর (রাঃ)-কে তিন তালাক প্রদানকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, "যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিতে! কেননা নবী (ﷺ) আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কেউ স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তার জন্য সে হারাম হয়ে যাবে, যতক্ষণ না সে (স্ত্রী) অন্যত্র বিবাহ করে।" — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৮৮৭ (সহিহ)
* শর্তযুক্ত তিন তালাক: বিভিন্ন তাবেঈদের থেকেও শর্তসাপেক্ষে তিন তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া পাওয়া যায়। যেমন, ইবন উমর (রাঃ) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের হওয়ার শর্তে তিন তালাক দেয়, আর সেই স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়, তাহলে সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৮৯১ (সহিহ)
কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, কোনো স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়া হলে সে তার পূর্বের স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়। পুনরায় সেই স্বামীর কাছে ফিরে আসার একটি মাত্র পথ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রিফাআ কুরাযী (রাঃ) তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর সেই স্ত্রী অন্য একজনকে বিবাহ করেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্বামী সহবাসে অক্ষম ছিলেন। তখন সেই মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন: "তা হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তার (দ্বিতীয় স্বামীর) কিছু স্বাদ আস্বাদন না করবে, আর সেও তোমার কিঞ্চিত স্বাদ আস্বাদন না করবে।" — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৯৩৫ (সহিহ)
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে, কিন্তু দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্পর্শ করার (সহবাসের) পূর্বেই তালাক দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? তিনি বললেন: "না। হালাল হবে না, যতক্ষণ দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে, যেমন প্রথম স্বামী স্বাদ গ্রহণ করেছিল।" — সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৩৪১৬ (সহীহ)
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
একসঙ্গে তিন তালাক দেওয়ার বিষয়ে hadithbd.com-এর অনুসন্ধান ফলাফল থেকে নিচে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করার বিধান
হাদিসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে, আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফতে এবং উমর (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকে তিন তালাককে এক তালাক হিসেবে গণ্য করা হতো।
আবু সাহবা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি ইবন আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করেন: "আপনি কি জানেন না, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে এবং আবু বকর ও উমর (রাঃ)-এর প্রথম যুগে তিন তালাককে এক তালাক ধরা হতো?" তিনি উত্তরে বলেছিলেন: "হ্যাঁ।" — সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৩৪০৯ (সহীহ)
তিন তালাক কার্যকর হওয়ার বিধান
অন্যান্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তিন তালাক দিলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় এবং এটি কার্যকর হয়।
* ইবন উমর (রাঃ)-এর অভিমত: ইবন উমর (রাঃ)-কে তিন তালাক প্রদানকারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতেন, "যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিতে! কেননা নবী (ﷺ) আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই কেউ স্ত্রীকে তিন তালাক দিলে তার জন্য সে হারাম হয়ে যাবে, যতক্ষণ না সে (স্ত্রী) অন্যত্র বিবাহ করে।" — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৮৮৭ (সহিহ)
* শর্তযুক্ত তিন তালাক: বিভিন্ন তাবেঈদের থেকেও শর্তসাপেক্ষে তিন তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া পাওয়া যায়। যেমন, ইবন উমর (রাঃ) বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে ঘর থেকে বের হওয়ার শর্তে তিন তালাক দেয়, আর সেই স্ত্রী ঘর থেকে বের হয়, তাহলে সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৮৯১ (সহিহ)
তিন তালাকের পর পুনরায় ফিরে আসার নিয়ম
কুরআন ও হাদিস অনুযায়ী, কোনো স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়া হলে সে তার পূর্বের স্বামীর জন্য হারাম হয়ে যায়। পুনরায় সেই স্বামীর কাছে ফিরে আসার একটি মাত্র পথ রয়েছে, যা নিম্নরূপ:
1. অন্যত্র বিবাহ: তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে অবশ্যই অন্য কোনো পুরুষকে বিবাহ করতে হবে।
2. বিবাহের পূর্ণতা (সহবাস): দ্বিতীয় স্বামীর সাথে শুধু বিবাহ হলেই হবে না, বরং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক বা সহবাস হতে হবে।
3. দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যু: এরপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্বেচ্ছায় তালাক দেয় অথবা মৃত্যুবরণ করে।
4. ইদ্দত পালন: দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুর পর স্ত্রীকে ইদ্দত পালন করতে হবে।
5. পুনরায় বিবাহ: এরপর যদি প্রথম স্বামী ও সেই স্ত্রী উভয়ে মনে করে যে তারা আল্লাহর সীমারেখা বজায় রাখতে পারবে, তবে তারা নতুন করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে।
কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন:
“অতঃপর যদি সে তাকে (তৃতীয়) তালাক দেয়, তবে এরপর সেই পুরুষের পক্ষে সেই স্ত্রী (বিবাহ) হালাল হবে না, যে পর্যন্ত না সে অন্য কাউকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করে। অতঃপর যদি সে (দ্বিতীয় স্বামী) তাকে তালাক দেয়, তবে উভয়ের পুনরায় মিলিত হওয়াতে গুনাহ নেই, যদি উভয়ের আস্থা জন্মে যে উভয়ে আল্লাহর আইনসমূহ ঠিক রাখতে পারবে।” — সূরা আল-বাকারা, ২:২৩০
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এই বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রিফাআ কুরাযী (রাঃ) তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর সেই স্ত্রী অন্য একজনকে বিবাহ করেন। কিন্তু দ্বিতীয় স্বামী সহবাসে অক্ষম ছিলেন। তখন সেই মহিলা নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি বলেন: "তা হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তার (দ্বিতীয় স্বামীর) কিছু স্বাদ আস্বাদন না করবে, আর সেও তোমার কিঞ্চিত স্বাদ আস্বাদন না করবে।" — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৪৯৩৫ (সহিহ)
অন্য একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর সে অন্য স্বামী গ্রহণ করে, কিন্তু দ্বিতীয় স্বামী তাকে স্পর্শ করার (সহবাসের) পূর্বেই তালাক দেয়। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সে কি প্রথম স্বামীর জন্য হালাল হবে? তিনি বললেন: "না। হালাল হবে না, যতক্ষণ দ্বিতীয় স্বামী তার স্বাদ গ্রহণ করে, যেমন প্রথম স্বামী স্বাদ গ্রহণ করেছিল।" — সুনান আন-নাসায়ী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৩৪১৬ (সহীহ)
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।