← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
বারাকাহ ও রিজিক এর মধ্যে পার্থক্য কী? উদাহরণসহ দাও৷
৩০ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

hadithbd.com-এ প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বারাকাহ (بركة) এবং রিযিক (رزق)-এর মধ্যে পার্থক্য নিচে উদাহরণসহ তুলে ধরা হলো।

রিযিক (رزق)


‘রিযিক’ বলতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির জন্য প্রদত্ত জীবনোপকরণ, জীবিকা বা সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাকে বোঝায়। এটি একটি ব্যাপক ধারণা, যা বস্তুগত ও অবস্তুগত উভয়ই হতে পারে।

কুরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে রিযিকের কিছু উদাহরণ পাওয়া যায়:

* খাবার ও পানীয়: আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য ফলমূল, ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ এবং ঝরনার পানির মতো খাবার ও পানীয়কে রিযিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন — সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৬, সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৫৭, এবং সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৬০
* ঈমানদার ও অবিশ্বাসী উভয়ের জন্য: আল্লাহ তাআলা পৃথিবীতে ঈমানদার ও কাফির উভয়কেই রিযিক দান করেন। ইবরাহীম (আ.) যখন মক্কাবাসীদের জন্য ফলের রিযিকের দু‘আ করেছিলেন, তখন আল্লাহ বলেন যে তিনি কাফিরদেরও স্বল্প সময়ের জন্য জীবনোপকরণ দেবেন — সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১২৬। দুনিয়ার জীবনকে কাফিরদের জন্য সুশোভিত করা হয় এবং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত রিযিক দান করেন — সূরা আল-বাকারা, আয়াত ২১২
* পরকালের জীবন: যারা আল্লাহর পথে শহীদ হন, তাদেরকে মৃত মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে, কারণ তারা তাদের রবের নিকট জীবিত এবং তাদেরকে রিযিক প্রদান করা হয় — সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ১৬৯
* বেহিসাব রিযিক: আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন, তাকে কোনো হিসাব ছাড়াই রিযিক দান করেন — সূরা আলে-ইমরান, আয়াত ২৭
* উত্তম ও স্থায়ী রিযিক: দুনিয়ার ভোগ-বিলাসের উপকরণের চেয়ে আল্লাহর প্রদত্ত রিযিক সর্বোৎকৃষ্ট ও অধিকতর স্থায়ী — সূরা ত্ব-হা, আয়াত ১৩১

সুতরাং, রিযিক হলো আল্লাহ প্রদত্ত যেকোনো নিয়ামত, তা সম্পদ, খাদ্য, সন্তান, জ্ঞান বা স্বাস্থ্য যা-ই হোক না কেন।

বারাকাহ (بركة)


'বারাকাহ' বা বরকত হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কোনো জিনিসের মধ্যে প্রদত্ত অদৃশ্য কল্যাণ, বৃদ্ধি, স্থায়িত্ব এবং উপকারিতা। এটি রিযিকের পরিমাণ নয়, বরং এর গুণগত মান। অল্প জিনিসেও যখন অনেক কল্যাণ ও উপকার পাওয়া যায়, তখন তাকে বারাকাহ বলা হয়।

অনুসন্ধানের ফলাফলে বারাকাহর ধারণাটি এভাবে এসেছে:

* আল্লাহর নামে বরকত: আল্লাহ তাআলার নামকে "বরকত সম্পন্ন" বলা হয়েছে, যা তাঁর নামের মহিমা, কল্যাণ ও প্রাচুর্যকে নির্দেশ করে — শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া
* বদনজর থেকে রক্ষায় বারাকাহর দু‘আ: একটি হাদিসে এসেছে, আমির ইবনু রবী’আহ (রাঃ) সাহল ইবনু হুনায়ফ (রাঃ)-এর মসৃণ দেহ দেখে প্রশংসা করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমির (রাঃ)-কে বলেন, "তোমাদের কেউ যখন তার ভাইয়ের কোন কিছু দেখে এবং তা তার কাছে ভালো লাগে, তখন সে যেন তার জন্য বারাকাহর দু‘আ করে।" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৪৫৬২ (সহীহ)। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, বারাকাহ হলো একটি ইতিবাচক ঐশী কল্যাণ যা কোনো কিছুর সৌন্দর্য বা উপকারিতাকে রক্ষা করে এবং বৃদ্ধি করে।

মূল পার্থক্য



১. রিযিক হলো মূল বস্তু, বারাকাহ হলো তার গুণ: রিযিক হলো আল্লাহ প্রদত্ত সম্পদ, খাদ্য বা সুযোগ (Quantity)। আর বারাকাহ হলো সেই রিযিকের মধ্যে আল্লাহর দেওয়া কল্যাণ, প্রাচুর্য ও উপকারিতা (Quality)।
২. রিযিক সবার জন্য, বারাকাহ বিশেষ নিয়ামত: আল্লাহ তাআলা মুমিন, কাফির নির্বিশেষে সকল সৃষ্টিকে রিযিক দান করেন। কিন্তু বারাকাহ একটি বিশেষ নিয়ামত, যা আল্লাহ তাঁর অনুগত বান্দাদের দান করেন, যার ফলে তাদের অল্প রিযিকও যথেষ্ট হয়ে যায়।
৩. রিযিক দৃশ্যমান, বারাকাহ অদৃশ্য: রিযিক (যেমন: টাকা, খাবার) গণনা করা যায় বা দেখা যায়। কিন্তু বারাকাহ একটি অদৃশ্য বিষয়, যা সেই রিযিকের প্রভাব ও কল্যাণের মাধ্যমে অনুভূত হয়।

উদাহরণ



* বারাকাহ ছাড়া রিযিক: একজন ব্যক্তির মাসিক আয় এক লক্ষ টাকা (এটি তার রিযিক)। কিন্তু মাস শেষে তার হাতে কিছুই থাকে না। অসুস্থতা, অপ্রয়োজনীয় খরচ বা বিভিন্ন সমস্যায় সব টাকা ব্যয় হয়ে যায় এবং তার জীবনে কোনো শান্তি বা তৃপ্তি নেই। এখানে রিযিক প্রচুর কিন্তু বারাকাহ নেই।
* বারাকাহসহ রিযিক: আরেকজন ব্যক্তির মাসিক আয় বিশ হাজার টাকা (এটি তার রিযিক)। কিন্তু এই অল্প টাকা দিয়েই তার পরিবারের সমস্ত প্রয়োজন ভালোভাবে পূরণ হয়, তিনি কিছু সঞ্চয় করতে পারেন, এমনকি কিছু দানও করতে পারেন এবং তার পরিবারে শান্তি ও তৃপ্তি বিরাজ করে। এখানে রিযিক পরিমাণে কম হলেও এতে আল্লাহর বারাকাহ রয়েছে।

অতএব, রিযিক হলো আল্লাহ প্রদত্ত মূল নিয়ামত, আর বারাকাহ হলো সেই নিয়ামতের মধ্যে লুকিয়ে থাকা আল্লাহর বিশেষ কল্যাণ যা তাকে প্রাচুর্যময়, তৃপ্তিদায়ক ও স্থায়ী করে তোলে।

আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
শাওয়াল মাসের সিয়াম কয়টি এবং কখন রাখতে হবে? সুদের পাপ মায়ের সাথে য্বিনা করা, এটার ব্যাপারে বলু