সূরাঃ ৮৮/ আল-গাশিয়া | Al-Ghashiya | ٱلْغَاشِيَة আয়াতঃ ২৬ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

‘গাশিয়াহ’ বলে কিয়ামতকে বোঝানো হয়েছে। এটি কিয়ামতেরই একটি নাম। [ইবন কাসীর] এর আক্ষরিক অনুবাদ হচ্ছে, “আচ্ছন্নকারী”। অর্থাৎ যে বিপদটা সারা সৃষ্টিকুলকে আচ্ছন্ন করে ফেলবো। [ফাতহুল কাদীর] সেদিনের ঘটনা মানুষের যাবতীয় দুঃখকে যেমন আচ্ছন্ন করে ফেলবে, তেমনি যাবতীয় আনন্দকে মাটি করে দিয়ে চিন্তাক্লিষ্ট করে দিবে। কোন কোন মুফাসসির ‘গাশিয়াহ’ এর অনুবাদ করেছেন জাহান্নামের আগুন। কেননা, জাহান্নামের আগুন সবকিছুকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। তার প্রতাপে সবকিছু ঢেকে যাবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (وَتَغْشَىٰ وُجُوهَهُمُ النَّارُ) “আর আগুন আচ্ছন্ন করবে তাদের মুখমন্ডল” [সূরা ইবরাহীম: ৫০] আবার কোন কোন মুফাসসিরের মতে, গাশিয়াহ বলে জাহান্নামবাসীদের বোঝানো হয়েছে। কারণ, তারা জাহান্নামকে আচ্ছন্ন করে রাখবে। সেখানে যেতে ও আযাব ভোগ করতে তাদের বাধ্য করা হবে। তন্মধ্যে প্রথম অর্থটি সবচেয়ে বেশী প্ৰসিদ্ধ। [ফাতহুল কাদীর]

আহসানুল বায়ান

সূরা আল-গশিয়াহ [1]

(মক্কায় অবতীর্ণ)
[1] কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাঃ) জুমআর নামাযে সূরা জুমআর সাথে সূরা গাশিয়াহও পাঠ করতেন। (মুঅত্তা ইমাম মালিক জুমআর নামাযে সূরা পড়ার পরিচ্ছেদ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৮৮ : ১ هَلۡ اَتٰىكَ حَدِیۡثُ الۡغَاشِیَۃِ ؕ﴿۱﴾

কিয়ামতের সংবাদ কি তোমার কাছে এসেছে? আল-বায়ান

(সব কিছুকে) আচ্ছন্নকারী কিয়ামাতের খবর তোমার কাছে পৌঁছেছে কি? তাইসিরুল

তোমার কাছে কি সমাচ্ছন্নকারী সংবাদ পৌঁছেছে? মুজিবুর রহমান

Has there reached you the report of the Overwhelming [event]? Sahih International

১. আপনার কাছে কি আচ্ছন্নকারীর (কিয়ামতের) সংবাদ এসেছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১। তোমার কাছে কি সমাচ্ছন্নকারী (কিয়ামতে)র সংবাদ এসেছে? [1]

[1] هَل শব্দটি قَد শব্দের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। (অর্থাৎ, অবশ্যই তোমার কাছে সমাচ্ছন্নকারী কিয়ামতের সংবাদ এসেছে।) غاشِيَة (সমাচ্ছন্নকারী) বলে কিয়ামতকে বোঝানো হয়েছে। এই জন্য যে, তার ভয়াবহতা সারা সৃষ্টিকে সমাচ্ছন্ন করে ফেলবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ২ وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍ خَاشِعَۃٌ ۙ﴿۲﴾

সেদিন অনেক চেহারা হবে অবনত। আল-বায়ান

কতক মুখ সেদিন নীচু হবে তাইসিরুল

সেদিন বহু মুখমণ্ডল অবনত হবে; মুজিবুর রহমান

[Some] faces, that Day, will be humbled, Sahih International

২. সেদিন অনেক চেহারা হবে অবনত(১),

(১) কিয়ামতে মুমিন ও কাফের আলাদা আলাদা বিভক্ত দু' দল হবে এবং মুখমণ্ডল দ্বারা পৃথকভাবে পরিচিত হবে। এই আয়াতে কাফেরদের মুখমণ্ডলের এক অবস্থা এই বর্ণিত হয়েছে যে, তা خَاشِعَةٌ অর্থাৎ হেয় হবে। خشوع শব্দের অর্থনত হওয়া ও লাঞ্ছিত। হওয়া। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। সেদিন বহু মুখমন্ডল হবে লাঞ্ছিত; [1]

[1] অর্থাৎ, কাফেরদের মুখমন্ডল। خَاشِعَة অর্থ হল অবনত, বিনীত বা লাঞ্ছিত। যেমন, নামাযী নামাযের অবস্থায় আল্লাহর সামনে মিনতির সাথে বিনীত থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৩ عَامِلَۃٌ نَّاصِبَۃٌ ۙ﴿۳﴾

কর্মক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। আল-বায়ান

হবে কর্মক্লান্ত, শ্রান্ত। তাইসিরুল

কর্মক্লান্ত পরিশ্রান্তভাবে; মুজিবুর রহমান

Working [hard] and exhausted. Sahih International

৩. ক্লিষ্ট, ক্লান্ত(১),

(১) দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থা হবে (عَامِلَةٌ نَاصِبَةٌ) বাকপদ্ধতিতে অবিরাম কর্মের কারণে পরিশ্রান্ত ব্যক্তিকে عَامِلَةٌ এবং ক্লান্ত ও ক্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলা হয় نَاصِبَةٌ। [ফাতহুল কাদীর] কাফেরদের এ অবস্থা কখন হবে? এ নিয়ে কয়েকটি মত রয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে, কাফেরদের এ দুরাবস্থা দুনিয়াতেই হবে। কেননা, আখেরাতে কোন কর্ম ও মেহনত নেই। [ফাতহুল কাদীর] কেননা, অনেক কাফের দুনিয়াতে মুশরিকসুলভ ইবাদত এবং বাতিল পন্থায় অধ্যবসায় ও সাধনা করে থাকে। হিন্দু যোগী ও নাসারা পাদ্রী অনেক এমন আছে, যারা আন্তরিকতা সহকারে আল্লাহ্ তা'আলারই সন্তুষ্টির জন্যে দুনিয়াতে ইবাদত ও সাধনা করে থকে এবং এতে অসাধারণ পরিশ্রম স্বীকার করে। কিন্তু এসব ইবাদত মুশরিকসুলভ ও বাতিল পন্থায় হওয়ার কারণে আল্লাহর কাছে সওয়াব ও পুরস্কার লাভের যোগ্য হয় না।

অতএব, তাদের মুখমণ্ডল দুনিয়াতেও ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত রইল এবং আখেরাতে তাদেরকে লাঞ্ছনা ও অপমানের অন্ধকার আচ্ছন্ন করে রাখবে। খলীফা ওমর ফারুক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন শাম সফর করেন তখন জনৈক নাসারা বৃদ্ধ পাদ্ৰী তাঁর কাছ দিয়ে যেতে দেখলেন। সে তাঁর ধর্মীয় ইবাদত সাধনা ও মোজাহাদায় এত বেশী আত্মনিয়োগ করেছিল যে, অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে চেহারা বিকৃত এবং দেহ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। তার পোশাকের মধ্যেও কোন শ্ৰী ছিল না। খলীফা তাকে দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারলেন না। ক্ৰন্দনের কারণ জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেনঃ এই বৃদ্ধার করুণ অবস্থা দেখে আমি ক্ৰন্দন করতে বাধ্য হয়েছি। বেচারী স্বীয় লক্ষ্য অজর্নের জন্যে জীবনপণ পরিশ্রম ও সাধনা করেছে কিন্তু সে তার লক্ষ্য অজর্নে ব্যর্থ হয়েছে এবং আল্লাহর সন্তুটি অর্জন করতে পারেনি। তারপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। [ইবন কাসীর]

কাতাদাহ রাহেমাহুল্লাহর মতে, তাদের অবিরাম কষ্ট ও ক্লান্তি দু’টোই আখেরাতে হবে। সে হিসেবে আয়াতের অর্থ, যারা দুনিয়াতে আল্লাহর ইবাদত করতে অহংকার করেছিল তাদেরকে সেদিন কর্মে খাটানো হবে এবং তাদেরকে জাহান্নামে প্রতিষ্ঠিত করা হবে; এমতাবস্থায় যে তারা তাদের ভারী জিঞ্জির ও ভারী বোঝাসমূহ বহন করতে থাকবে। অনুরূপভাবে তারা হাশরের মাঠের সে বিপদসংকুল সময়ে নগ্ন পা ও শরীর নিয়ে কঠিন অবস্থায় অবস্থান করতে থাকবে, যার পরিমান হবে পঞ্চাশ হাজার বছর। হাসান বসরী ও সাঈদ ইবনে জুবাইর রাহেমাহুমাল্লাহ বলেন, তারা যেহেতু দুনিয়াতে আল্লাহর জন্য কোন নেক আমল করেনি, সেহেতু সেখানে তারা জাহান্নামে কঠিন খাটুনি ও কষ্ট করবে। কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, তাদেরকে কঠিন কঠিন পাহাড়ে ওঠা-নামার কাজে লাগানো হবে। পরে কষ্ট ও ক্লান্তি উভয়টিরই সম্মুখীন হবে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। কর্মক্লান্ত পরিশ্রান্ত। [1]

[1] ناصِبَة ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। অর্থাৎ, তাদের আযাব এমন কষ্টদায়ক হবে যে, তাতে তাদের অবস্থা খুবই করুণ হবে। এর দ্বিতীয় অর্থ এটাও নেওয়া যেতে পারে যে, দুনিয়াতে আমল করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। অর্থাৎ, তারা অনেক অনেক আমল করেছে। কিন্তু সে সব আমল বাতিল ধর্ম অনুযায়ী অথবা বিদআত ভিত্তিক হবে। আর এ জন্যই ‘ইবাদত’ ও ‘ক্লান্তকর আমল’ মওজুদ থাকা সত্ত্বেও তারা জাহান্নামে যাবে। এই অর্থানুযায়ী ইবনে আব্বাস (রাঃ) عامِلَة نَاصِبَة শব্দ থেকে উদ্দেশ্য ‘খ্রিষ্টান’ বুঝিয়েছেন। (সহীহ বুখারী সূরা গাশিয়ার ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৪ تَصۡلٰی نَارًا حَامِیَۃً ۙ﴿۴﴾

তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে। আল-বায়ান

তারা জ্বলন্ত আগুনে প্রবেশ করবে। তাইসিরুল

তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে; মুজিবুর রহমান

They will [enter to] burn in an intensely hot Fire. Sahih International

৪. তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত আগুনে(১);

(১) حامية শব্দের অর্থ গরম উত্তপ্ত। অগ্নি স্বাভাবতই উত্তপ্ত। এর সাথে উত্তপ্ত বিশেষণ যুক্ত করা এ কথা বলার জন্যে যে, এই অগ্নির উত্তাপ দুনিয়ার অগ্নির ন্যায় কোন সময় কম অথবা নিঃশেষ হয় না। বরং এটা চিরন্তন উত্তপ্ত। সে আগুন তাদেরকে সবদিক থেকে ঘিরে ধরবে। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। তারা প্রবেশ করবে জ্বলন্ত অগ্নিতে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৫ تُسۡقٰی مِنۡ عَیۡنٍ اٰنِیَۃٍ ؕ﴿۵﴾

তাদের পান করানো হবে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে। আল-বায়ান

টগবগে ফুটন্ত ঝর্ণা থেকে তাদেরকে পান করানো হবে। তাইসিরুল

তাদেরকে উত্তপ্ত প্রস্রবণ হতে পান করানো হবে, মুজিবুর রহমান

They will be given drink from a boiling spring. Sahih International

৫. তাদেরকে অত্যন্ত উষ্ণ প্রস্রবণ থেকে পান করানো হবে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। তাদেরকে উত্তপ্ত প্রস্রবণ হতে (পানি) পান করানো হবে। [1]

[1] এখানে ‘উত্তপ্ত পানি’ বলে অত্যন্ত গরম ফুটন্ত পানিকে বোঝানো হয়েছে, যার উষ্ণতা শেষ পর্যায়ে পৌঁছে থাকে। (ফতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৬ لَیۡسَ لَهُمۡ طَعَامٌ اِلَّا مِنۡ ضَرِیۡعٍ ۙ﴿۶﴾

তাদের জন্য কাঁটাবিশিষ্ট গুল্ম ছাড়া কোন খাদ্য থাকবে না। আল-বায়ান

কাঁটাযুক্ত শুকনো ঘাস ছাড়া তাদের জন্য আর কোন খাদ্য থাকবে না। তাইসিরুল

তাদের জন্য বিষাক্ত কন্টক ব্যতীত খাদ্য নেই – মুজিবুর রহমান

For them there will be no food except from a poisonous, thorny plant Sahih International

৬. তাদের জন্য খাদ্য থাকবে না কাঁটাযুক্ত গুল্ম ছাড়া(১),

(১) ضَرِيعٌ শব্দের অর্থ করা হয়েছে, কাঁটাযুক্ত গুল্ম। অর্থাৎ জাহান্নামীরা কোন খাদ্য পাবে না কেবল এক প্রকার কণ্টকবিশিষ্ট ঘাস। পৃথিবীর মাটিতে এ ধরনের গুল্ম ছড়ায়। দুৰ্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত কাঁটার কারণে জন্তু-জানোয়ার এর ধারে কাছেও যায় না। ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, ضَرِيعٌ হচ্ছে জাহান্নামের একটি গাছ। যা খেয়ে কেউ মোটা তাজা হবে না এবং এতে ক্ষুধা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে না। [ফাতহুল কাদীর]

লক্ষণীয় যে, কুরআন মজীদে কোথাও বলা হয়েছে, জাহান্নামের অধিবাসীদের খাবার জন্য “যাক্কূম” দেয়া হবে। কোথাও বলা হয়েছে, “গিস্‌লীন” (ক্ষতস্থান থেকে ঝরে পড়া তরল পদাৰ্থ) ছাড়া তাদের আর কোন খাবার থাকবে না। আর এখানে বলা হচ্ছে, তারা খাবার জন্য কাঁটাওয়ালা শুকনো ঘাস ছাড়া আর কিছুই পাবে না। এ বর্ণনাগুলোর মধ্যে মূলত কোন বৈপরীত্য নেই। এর অর্থ এও হতে পারে যে, জাহান্নামের অনেকগুলো পর্যায় থাকবে। বিভিন্ন অপরাধীকে তাদের অপরাধ অনুযায়ী সেই সব পর্যায়ে রাখা হবে। তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের আযাব দেয়া হবে। আবার এর অর্থ এও হতে পারে যে, তারা “যাক্কূম” খেতে না চাইলে “গিস্‌লীন” পাবে এবং তা খেতে অস্বীকার করলে কাটাওয়ালা ঘাস ছাড়া আর কিছুই পাবে না। মোটকথা, তারা কোন মনের মতো খাবার পাবে না। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। তাদের জন্য বিষাক্ত কণ্টক ব্যতীত কোন খাদ্য নেই। [1]

[1] ضَرِيع এক প্রকার কাঁটাদার বৃক্ষ যা শুকিয়ে গেলে পশুরাও ভক্ষণ করতে অপছন্দ করে। মোট কথা, এটাও যাক্কুমের মত এক প্রকার অতি তিক্ত, বদমজাদার এবং অতি অপবিত্র নোংরা খাবার হবে। যা ভক্ষণ করলে জাহান্নামীদের না শরীর পুষ্ট হবে, আর না তাদের ক্ষুধা নিবারণ হবে ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৭ لَّا یُسۡمِنُ وَ لَا یُغۡنِیۡ مِنۡ جُوۡعٍ ؕ﴿۷﴾

তা মোটা-তাজাও করবে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করবে না। আল-বায়ান

যা পুষ্টিসাধন করবে না, আর ক্ষুধাও মিটাবে না। তাইসিরুল

যা তাদেরকে পুষ্ট করবেনা এবং তাদের ক্ষুধাও নিবৃত্ত করবেনা। মুজিবুর রহমান

Which neither nourishes nor avails against hunger. Sahih International

৭. যা তাদেরকে পুষ্ট করবে না এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্ত করবে না।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। যা পুষ্ট করে না এবং ক্ষুধাও নিবারণ করে না।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৮ وُجُوۡهٌ یَّوۡمَئِذٍ نَّاعِمَۃٌ ۙ﴿۸﴾

সেদিন অনেক চেহারা হবে লাবণ্যময়। আল-বায়ান

কতক মুখ সেদিন হবে আনন্দে উজ্জ্বল। তাইসিরুল

বহু মুখমণ্ডল হবে সেদিন আনন্দোজ্জ্বল – মুজিবুর রহমান

[Other] faces, that Day, will show pleasure. Sahih International

৮. অনেক মুখমণ্ডল সেদিন হবে আনন্দোজ্জ্বল,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। (পক্ষান্তরে) বহু মুখমন্ডল হবে সেদিন আনন্দোজ্জ্বল।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ৯ لِّسَعۡیِهَا رَاضِیَۃٌ ۙ﴿۹﴾

নিজদের চেষ্টা সাধনায় সন্তুষ্ট। আল-বায়ান

নিজেদের চেষ্টা-সাধনার জন্য সন্তুষ্ট। তাইসিরুল

নিজেদের কর্মসাফল্যে পরিতৃপ্ত, মুজিবুর রহমান

With their effort [they are] satisfied Sahih International

৯. নিজেদের কাজের সাফল্যে পরিতৃপ্ত(১),

(১) অর্থাৎ দুনিয়ায় তারা যেসব প্রচেষ্টা চালিয়ে ও কাজ করে এসেছে আখেরাতে তার চমৎকার ফল দেখে তারা আনন্দিত হবে। [ফাতহুল কাদীর] এটা তাদের প্রচেষ্টার কারণেই সম্ভব হয়েছে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। নিজেদের কর্মসাফল্যে পরিতুষ্ট।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১০ فِیۡ جَنَّۃٍ عَالِیَۃٍ ﴿ۙ۱۰﴾

সুউচ্চ জান্নাতে। আল-বায়ান

উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ জান্নাতে, তাইসিরুল

সমুন্নত কাননে অবস্থিতি হবে – মুজিবুর রহমান

In an elevated garden, Sahih International

১০. সুউচ্চ জান্নাতে—

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। (তারা স্থান পাবে) সমুন্নত জান্নাতে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১১ لَّا تَسۡمَعُ فِیۡهَا لَاغِیَۃً ﴿ؕ۱۱﴾

সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার বাক্য। আল-বায়ান

সেখানে শুনবে না কোন অনর্থক কথাবার্তা, তাইসিরুল

সেখানে তারা অবান্তর বাক্য শুনবেনা। মুজিবুর রহমান

Wherein they will hear no unsuitable speech. Sahih International

১১. সেখানে তারা অসার বাক্য শুনবে না(১),

(১) অর্থাৎ জান্নাতে জান্নাতীরা কোন আসার ও মর্মম্ভদ কথাবার্তা শুনতে পাবে না। মিথ্যা, কুফৱী কথাবার্তা, গালিগালাজ, অপবাদ ও পীড়াদায়ক কথাবার্তা সবই এর অন্তর্ভুক্ত। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, (لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا إِلَّا سَلَامًا وَلَهُمْ رِزْقُهُمْ فِيهَا بُكْرَةً وَعَشِيًّا) “সেখানে তারা ‘শান্তি’ ছাড়া কোন আসার বাক্য শুনবে না এবং সেখানে সকালসন্ধ্যা তাদের জন্য থাকবে জীবনোপকরণ।” [সূরা মারইয়াম: ৬২] আরও এসেছে, (لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا تَأْثِيمًا) “সেখানে তারা শুনবে না কোন অসার বা পাপবাক্য”। [সূরা আল-ওয়াকি'আহ: ২৫] আরও বলা হয়েছে, (لَا يَسْمَعُونَ فِيهَا لَغْوًا وَلَا كِذَّابًا) “সেখানে তারা শুনবে না অসার ও মিথ্যা বাক্য” [সূরা আন-নাবা: ৩৫] এ থেকে জানা গেল যে, দোষারোপ ও অশালীন কথাবার্তা খুবই পীড়াদায়ক। তাই জান্নাতীদের অবস্থায় একে গুরুত্ব সহকারে বর্ণনা করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। সেখানে তারা কোন অসার বাক্য শুনবে না।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১২ فِیۡهَا عَیۡنٌ جَارِیَۃٌ ﴿ۘ۱۲﴾

সেখানে থাকবে প্রবাহমান ঝর্ণাধারা, আল-বায়ান

সেখানে থাকবে প্রবহমান ঝর্ণা, তাইসিরুল

সেখানে আছে প্রবহমান ঝর্ণাধারা – মুজিবুর রহমান

Within it is a flowing spring. Sahih International

১২. সেখানে থাকবে বহমান প্রস্রবণ,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। সেখানে আছে প্রবহমান ঝরনা।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৩ فِیۡهَا سُرُرٌ مَّرۡفُوۡعَۃٌ ﴿ۙ۱۳﴾

সেখানে থাকবে সুউচ্চ আসনসমূহ। আল-বায়ান

সেখানে থাকবে উন্নত মর্যাদাসম্পন্ন আসন, তাইসিরুল

তন্মধ্যে রয়েছে সমুচ্চ আসনসমূহ; মুজিবুর রহমান

Within it are couches raised high Sahih International

১৩. সেখানে থাকবে উন্নত(১) শয্যাসমূহ,

(১) এ উন্নত অবস্থা সার্বিক দিকেই হবে। এ সমস্ত শয্যা অবস্থান, মর্যাদা ও স্থান সবদিক থেকেই উন্নত। সাধারণত মানুষ এ ধরনের শয্যা পছন্দ করে থাকে। আল্লাহর বন্ধুরা যখন এ সমস্ত শয্যায় বসতে চাইবে, তখনি সেগুলো তাদের জন্য নিচু হয়ে আসবে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। সেখানে রয়েছে সমুচ্চ বহু খাট-পালঙ্ক।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৪ وَّ اَكۡوَابٌ مَّوۡضُوۡعَۃٌ ﴿ۙ۱۴﴾

আর প্রস্তুত পানপাত্রসমূহ। আল-বায়ান

পানপাত্র থাকবে প্রস্তুত। তাইসিরুল

এবং সুরক্ষিত পান পাত্রসমূহ, মুজিবুর রহমান

And cups put in place Sahih International

১৪. আর প্রস্তুত থাকবে পানপত্র,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। এবং সদা প্রস্তুত পান পাত্রসমূহ।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৫ وَّ نَمَارِقُ مَصۡفُوۡفَۃٌ ﴿ۙ۱۵﴾

আর সারি সারি বালিশসমূহ। আল-বায়ান

সারি সারি বালিশ, তাইসিরুল

ও সারি সারি তাকিয়াসমূহ, মুজিবুর রহমান

And cushions lined up Sahih International

১৫. সারি সারি উপাধান,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। ও সারি সারি বালিশসমূহ।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৬ وَّ زَرَابِیُّ مَبۡثُوۡثَۃٌ ﴿ؕ۱۶﴾

আর বিস্তৃত বিছানো কার্পেটরাজি। আল-বায়ান

আর থাকবে মখমল- বিছানো। তাইসিরুল

এবং সম্প্রসারিত গালিচাসমূহ। মুজিবুর রহমান

And carpets spread around. Sahih International

১৬. এবং বিছানা গালিচা;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। এবং বিছানো গালিচাসমূহ। [1]

[1] এখান থেকে জান্নাতীদের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। যারা জাহান্নামীদের বিপরীত অত্যন্ত সুখময় অবস্থা এবং নানান ধরনের আরাম-আয়েশে পরিপূর্ণ জীবন লাভ করবে। عَين শব্দটি হল শ্রেণীবাচক। অর্থাৎ, (একটি নয় বরং) একাধিক ঝরনা হবে। نَمَارِق অর্থ হল বালিশ। زَرَابي মানে আসন, গালিচা, গদি ও বিছানা। مَبثُوثَة মানে বিছানো বা ছড়ানো। অর্থাৎ, এ সব আসন বিভিন্ন জায়গায় বিছানো থাকবে। জান্নাতীরা যেখানে ইচ্ছা সেখানে আরাম করতে পারবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৭ اَفَلَا یَنۡظُرُوۡنَ اِلَی الۡاِبِلِ كَیۡفَ خُلِقَتۡ ﴿ٝ۱۷﴾

তবে কি তারা উটের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? আল-বায়ান

(ক্বিয়ামত হবে একথা যারা অমান্য করে) তারা কি উটের প্রতি লক্ষ্য করে না, (সৃষ্টি কুশলতায় ভরপুর ক’রে) কী ভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে? তাইসিরুল

তাহলে কি তারা উষ্ট্র পালের দিকে লক্ষ্য করেনা যে, কিভাবে ওকে সৃষ্টি করা হয়েছে? মুজিবুর রহমান

Then do they not look at the camels - how they are created? Sahih International

১৭. তবে কি তারা তাকিয়ে দেখে না উটের দিকে, কিভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। তবে কি তারা উটের দিকে লক্ষ্য করে না যে, কিভাবে ওকে সৃষ্টি করা হয়েছে? [1]

[1] উট আরব দেশে ব্যাপক প্রচলিত ছিল। আরবের অধিকাংশ যানবাহন ছিল এই উট। এই জন্য আল্লাহ তাআলা তার কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, এই জন্তুর সৃষ্টি-বৈচিত্র্য নিয়ে চিন্তা-গবেষণা কর। তাকে কত বৃহৎ আকারের দেহ দান করেছি। আর কত শক্তি তার মধ্যে রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা তোমাদের জন্য নম্র ও তোমাদের অনুগত। তোমরা তার উপর যত চাও বোঝা রাখ, সে তা বহন করতে অস্বীকার করে না; তোমাদের অধীনস্থই থাকে। এ ছাড়াও তার গোশত খাবার ও তার দুধ পান করার কাজে আসে এবং তার পশম দ্বারা গরমের পোশাক প্রস্তুত হয়ে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৮ وَ اِلَی السَّمَآءِ كَیۡفَ رُفِعَتۡ ﴿ٝ۱۸﴾

আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে? আল-বায়ান

এবং আসমানের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে উঠানো হয়েছে? তাইসিরুল

এবং আকাশের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমুচ্চ করা হয়েছে? মুজিবুর রহমান

And at the sky - how it is raised? Sahih International

১৮. এবং আসমানের দিকে, কিভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। এবং আকাশের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে ঊর্ধ্বে উত্তোলন করা হয়েছে? [1]

[1] অর্থাৎ, আকাশকে বহু উঁচুতে রাখা হয়েছে। পাঁচশত বছরের দূরত্বের পথ; তা বিনা খুঁটিতে দাঁড়িয়ে আছে। তাতে কোন ফাটল ও বক্রতা নেই। পরন্তু তাকে আমি নক্ষত্র দ্বারা সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ১৯ وَ اِلَی الۡجِبَالِ كَیۡفَ نُصِبَتۡ ﴿ٝ۱۹﴾

আর পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে? আল-বায়ান

এবং পর্বতমালার দিকে, কী রকম দৃঢ়ভাবে তাকে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে? তাইসিরুল

এবং পর্বতমালার দিকে যে, কিভাবে ওটা দৃঢ়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে? মুজিবুর রহমান

And at the mountains - how they are erected? Sahih International

১৯. এবং পর্বতমালার দিকে, কিভাবে তা প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। এবং পর্বতমালার দিকে যে, কিভাবে ওটাকে স্থাপন করা হয়েছে? [1]

[1] অর্থাৎ, কেমনভাবে তাকে পৃথিবীর উপর পেরেক স্বরূপ গেড়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে পৃথিবী নড়া-চড়া না করতে পারে। এ ছাড়া এতে আছে খনিজ সম্পদ ও অন্যান্য উপকারিতা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৮ : ২০ وَ اِلَی الۡاَرۡضِ كَیۡفَ سُطِحَتۡ ﴿ٝ۲۰﴾

আর যমীনের দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে? আল-বায়ান

আর যমীনের দিকে, কীভাবে তাকে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে? তাইসিরুল

এবং ভূতলের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমতল করা হয়েছে? মুজিবুর রহমান

And at the earth - how it is spread out? Sahih International

২০. এবং ভূতলের দিকে, কিভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে?(১)

(১) কেয়ামতের অবস্থা এবং মুমিন ও কাফেরের প্রতিদান এবং শাস্তি বর্ণনা করার পর কেয়ামতে অবিশ্বাসী হঠকারীদের পথপ্রদর্শনের জন্যে আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর কুদরতের কয়েকটি নিদর্শন সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করার কথা বলেছেন। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর] আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন আকাশ ও পৃথিবীতে অসংখ্য। এখানে মরুচারী আরবদের অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যশীল চারটি নিদর্শনের উল্লেখ করা হয়েছে। আরবরা উটে সওয়ার হয়ে দূর-দূরান্তের সফর করে। তখন তাদের সর্বাধিক নিকটে থাকে উট, উপরে আকাশ, নিচে ভূপৃষ্ঠ এবং অগ্র-পশ্চাতে সারি সারি পর্বতমালা। এই চারটি বস্তু সম্পর্কেই তাদেরকে চিন্তা-ভাবনা করার আদেশ দেয়া হয়েছে। [কুরতুবী]

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। এবং ভূতলের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমতল করা হয়েছে?[1]

[1] কেমনভাবে তাকে সমতল বানিয়ে মানুষের বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। তাতে মানুষ চলা-ফেরা ও কাজ-কারবার করে এবং আকাশ-চুম্বি উচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন