সূরাঃ ৮৩/ আল-মুতাফফিফীন | Al-Mutaffifin | ٱلْمُطَفِّفِين আয়াতঃ ৩৬ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদীনায় তশরীফ আনেন, তখন মদীনাবাসীদের সাধারণ কাজ করবার ‘কাইল’ তথা মাপের মাধ্যমে সম্পন্ন হত। তারা এ ব্যাপারে চুরি করা ও কম মাপায় খুবই অভ্যস্ত ছিল। এর প্রেক্ষিতে সূরা আল-মুতাফফেফীন নাযিল হয়। এই সূরা নাযিল হওয়ার পর তারা এই বদ-আভ্যাস থেকে বিরত হয় এবং এমন বিরত হয় যে, আজ পর্যন্ত তাদের সুখ্যাতি সর্বজনবিদিত। [নাসায়ী: আস-সুনানুল কুবরা: ১১৫৯০, ইবনে মাজহ: ২২২৩]

আহসানুল বায়ান

সূরা আল-মুত্বাফ্ফিফীন

(মক্কায় অবতীর্ণ)

একমতে সূরাটি মাক্কী, অন্য মতে এটি মাদানী। আবার কেউ কেউ বলেন সূরাটি মক্কা ও মদীনার মধ্যস্থল স্থানে অবতীর্ণ হয়েছে। এর শানে নুযুল সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, যখন নবী (সাঃ) মদীনায় আগমন করলেন, তখন মদিনাবাসীরা মাপ ও ওজনের ব্যাপারে খুবই নিকৃষ্ট শ্রেনীর মানুষ ছিল। সুতরাং আল্লাহ্‌ তা'আলা তখন এই সূরাটি অবতীর্ণ করেন। যার পর থেকে তারা ওজন ও পরিমাপ সঠিকভাবে দিতে আরম্ভ করল। (ইবনে মাজাহ বাণিজ্য অধ্যায়, ওজন ও পরিমাপ পূর্ণ দেওয়ার পরিচ্ছেদ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৮৩ : ১ وَیۡلٌ لِّلۡمُطَفِّفِیۡنَ ۙ﴿۱﴾

ধ্বংস যারা পরিমাপে কম দেয় তাদের জন্য। আল-বায়ান

দুর্ভোগ ঠকবাজদের জন্য (যারা মাপে বা ওজনে কম দেয়), তাইসিরুল

মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, মুজিবুর রহমান

Woe to those who give less [than due], Sahih International

১. দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়(১),

(১) تَطْفِيْفٌ এর অর্থ মাপে কম করা। যে এরূপ করে তাকে বলা হয় مُطَفَّف [কুরতুবী] কুরআনের এই আয়াত ও বিভিন্ন হাদীসে মাপ ও ওজনে কম করাকে হারাম করা হয়েছে এবং সঠিকভাবে ওজন ও পরিমাপ করার জন্য কড়া তাগিদ করা হয়েছে। যেমন বলা হয়েছেঃ “ইনসাফ সহকারে পুরো ওজন ও পরিমাপ করো। আমি কাউকে তার সামর্থের চাইতে বেশীর জন্য দায়িত্বশীল করি না।” [সূরা আল-আনআমঃ ১৫২] আরও বলা হয়েছেঃ “মাপার সময় পুরো মাপবে এবং সঠিক পাল্লা দিয়ে ওজন করবে।” [সূরা আল-ইসরা: ৩৫] অন্যত্র তাকীদ করা হয়েছেঃ “ওজনে বাড়াবাড়ি করো না, ঠিক ঠিকভাবে ইনসাফের সাথে ওজন করো এবং পাল্লায় কম করে দিয়ো না। [সূরা আর-রহমান: ৮–৯]। শু'আইব আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের ওপর এ অপরাধের কারণে আযাব নাযিল হয় যে, তাদের মধ্যে ওজনে ও মাপে কম দেওয়ার রোগ সাধারণভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং শু'আইব আলাইহিস সালাম এর বারবার নসীহত করা সত্বেও এ সম্প্রদায়টি এ অপরাধমূলক কাজটি থেকে বিরত থাকেনি।

তবে আয়াতে উল্লেখিত تَطْفِيْفٌ শুধু মাপ ও ওজনের মধ্যেই সীমিত থাকবে না; বরং মাপ ও ওজনের মাধ্যমে হোক, গণনার মাধ্যমে হোক অথবা অন্য কোন পন্থায় প্রাপককে তার প্রাপ্য কম দিলে তা تَطْفِيْفٌ এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে হারাম হবে। সুতরাং প্রত্যেক প্রাপকের প্রাপ্য পূর্ণমাত্রায় দেয়াই যে আয়াতের উদ্দেশ্য এ কথা বলাই বাহুল্য। উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু জনৈক ব্যক্তিকে আসরের সালাতে না দেখে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। সে একটি ওজর পেশ করল। তখন তিনি তাকে বললেন, طفَّفت অর্থাৎ “তুমি আল্লাহর প্রাপ্য আদায়ে কমতি করেছ।” এই উক্তি উদ্ধৃত করে ইমাম মালেক রাহেমাহুল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে পূর্ণমাত্রায় দেয়া ও কম করা আছে। [মুয়াত্তা মালেক: ১/১২, নং ২২]। তাছাড়া ঝগড়া-বিবাদের সময় নিজের দলীল-প্রমাণাদি পেশ করার পর প্রতিপক্ষের দলীল-প্রমাণাদি পেশ করার সুযোগ দেয়াও এর অন্তর্ভুক্ত। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১। ধ্বংস তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়,

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ২ الَّذِیۡنَ اِذَا اكۡتَالُوۡا عَلَی النَّاسِ یَسۡتَوۡفُوۡنَ ۫﴿ۖ۲﴾

যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে। আল-বায়ান

যারা লোকের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পুরামাত্রায় নেয়, তাইসিরুল

যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে। মুজিবুর রহমান

Who, when they take a measure from people, take in full. Sahih International

২. যারা লোকদের কাছ থেকে মেপে নেয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

২। যারা লোকের নিকট হতে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৩ وَ اِذَا كَالُوۡهُمۡ اَوۡ وَّزَنُوۡهُمۡ یُخۡسِرُوۡنَ ﴿ؕ۳﴾

আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। আল-বায়ান

আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় বা ওজন ক’রে দেয় তখন কম দেয়। তাইসিরুল

এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয় তখন কম দেয়। মুজিবুর রহমান

But if they give by measure or by weight to them, they cause loss. Sahih International

৩. আর যখন তাদেরকে মেপে দেয় তথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়। [1]

[1] নেওয়া-দেওয়ার জন্য পৃথক পৃথক মাপার পাত্র রাখা এবং দাঁড়ি মেরে ওজনে কম করা হল বড় জঘন্য একটি চারিত্রিক ব্যাধি। যার পরিণাম দ্বীনে এবং আখেরাতে বরবাদী ছাড়া কিছু নয়। একটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, যে জাতিই মাপ ও ওজনে কম দেবে, সে জাতিই দুর্ভিক্ষ, কঠিন খাদ্য-সংকট এবং শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচারের শিকার হবে। (ইবনে মাজাহ ৫০১৯নং, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৬নং)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৪ اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓئِكَ اَنَّهُمۡ مَّبۡعُوۡثُوۡنَ ۙ﴿۴﴾

তারা কি দৃঢ় বিশ্বাস করে না যে, নিশ্চয় তারা পুনরুত্থিত হবে, আল-বায়ান

তারা কি চিন্তা করে না যে (তাদের মৃত্যুর পর) তাদেরকে আবার উঠানো হবে, তাইসিরুল

তারা কি চিন্তা করেনা যে, তারা পুনরুত্থিত হবে, মুজিবুর রহমান

Do they not think that they will be resurrected Sahih International

৪. তারা কি বিশ্বাস করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। তারা কি চিন্তা করে না যে, তাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৫ لِیَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ۙ﴿۵﴾

এক মহা দিবসে ? আল-বায়ান

এক মহা দিবসে। তাইসিরুল

সেই মহান দিনে; মুজিবুর রহমান

For a tremendous Day - Sahih International

৫. মহাদিনে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। এক মহা দিবসে;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৬ یَّوۡمَ یَقُوۡمُ النَّاسُ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ؕ﴿۶﴾

যেদিন মানুষ সৃষ্টিকুলের রবের জন্য দাঁড়াবে। আল-বায়ান

যেদিন মানুষ বিশ্বজগতের প্রতিপালকের সামনে দাঁড়াবে। তাইসিরুল

যে দিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সম্মুখে! মুজিবুর রহমান

The Day when mankind will stand before the Lord of the worlds? Sahih International

৬. যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ সৃষ্টিকুলের রবের সামনে!(১)

(১) ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যেদিন সমস্ত মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দাঁড়াবে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের কানের মধ্যভাগ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। [বুখারী: ৬৫৩১, মুসলিম: ২৮৬২] অন্য হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের দিন সূর্যকে সৃষ্টির এত নিকটে আনা হবে যে, তাদের মধ্যে দুরত্ব হবে এক ‘মাইল’৷ বৰ্ণনাকারী বলেনঃ আমি জানি না এখানে মাইল বলে পরিচিত এক মাইল না সুরমাদানি (যা আরবিতে মাইল বলা হয় তা) বুঝানো হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “মানুষ তাদের স্বীয় আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে নিমজ্জিত থাকবে। কারও ঘাম হবে গোড়ালি পর্যন্ত, কারও হবে হাঁটু পর্যন্ত। আবার কারও ঘাম হবে কোমর পর্যন্ত; কারও ঘাম মুখের লাগামের মত হবে। তারপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখের দিকে ইশারা করেন। [মুসলিম: ২৮৬৪]

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। যেদিন দাঁড়াবে সমস্ত মানুষ বিশ্ব-জাহানের প্রতিপালকের সম্মুখে।[1]

[1] যারা দাঁড়ি মারে তারা কি ভয় করে না যে, একদিন ভয়ঙ্কর দিন আপতিত হবে। যেদিন সমস্ত মানুষ সারা জাহানের প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হবে; যিনি সমস্ত গোপন কথা সম্পর্কে অবগত আছেন? অর্থ এই দাঁড়াল যে, এ কর্ম সেই লোকেরাই করে থাকে, যাদের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও কিয়ামতের শঙ্কা নেই। একাধিক হাদীসে এসেছে যে, যখন মানুষ প্রতিপালকের সামনে দন্ডায়মান হবে, তখন তাদের ঘাম অর্ধেক কান পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। (সহীহ বুখারী মুত্বাফফিফীনের তাফসীর পরিচ্ছেদ) এক অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, কিয়ামতের দিন সূর্য সৃষ্টির এত নিকটবর্তী হবে যে, মাত্র এক মীল দূরত্বে থাকবে। হাদীসের বর্ণনাকারী সুলাইম বিন আমের (রাঃ) বলেন, ‘আমি জানি না যে, নবী (সাঃ) ‘মীল’ বলে রাস্তার পরিমাপ বুঝিয়েছেন, নাকি সুর্মাকাঠি, যার দ্বারা চোখে সুরমা লাগানো হয় তা বুঝিয়েছেন।’ মোট কথা, মানুষ নিজ আমল অনুযায়ী ঘামে ডুবে থাকবে। এই ঘাম কারো পায়ের গাঁট পর্যন্ত, কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত পৌঁছবে। আবার কারো জন্য তা লাগাম হবে; অর্থাৎ, তার মুখমন্ডল পর্যন্ত ঘাম পৌঁছে যাবে। (সহীহ মুসলিম কিয়ামত ও জান্নাতের বিবরণ অধ্যায় কিয়ামতের বিবরণ পরিচ্ছেদ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৭ كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الۡفُجَّارِ لَفِیۡ سِجِّیۡنٍ ؕ﴿۷﴾

কখনো নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের ‘আমলনামা সিজ্জীনে।* আল-বায়ান

(তারা যে সব ধারণা করছে তা) কক্ষনো না, নিশ্চয়ই পাপীদের ‘আমালনামা সিজ্জীনে (সংরক্ষিত) আছে। তাইসিরুল

না, না, কখনই না; পাপাচারীদের ‘আমলনামা নিশ্চয়ই সিজ্জীনে থাকে; মুজিবুর রহমান

No! Indeed, the record of the wicked is in sijjeen. Sahih International

*সপ্তযমীনের নীচে অবস্থিত একটি স্থান। পাপীদের আমলনামা সেখানে রাখা হয়।

৭. কখনো না, পাপাচারীদের আমলনামা তো সিজ্জীনে(১) আছে।

(১) سِجِّين শব্দটি سجن থেকে গৃহীত। سجن এর অর্থ সংকীর্ণ জায়গায় বন্দী করা। [ইবন কাসীর] আর سِجِّين এর অর্থ চিরস্থায়ী কয়েদ। [মুয়াস্‌সার] এটি একটি বিশেষ স্থানের নাম। যেখানে কাফেরদের রূহ অবস্থান করে। অথবা এখানেই তাদের আমলনামা থাকে। [জালালাইন]

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। না, কখনই না, পাপাচারীদের আমলনামা নিশ্চয়ই সিজ্জীনে থাকবে। [1]

[1] سجين (সিজ্জীন): কেউ কেউ বলেন, এর উৎপত্তি سجن শব্দ থেকে; যার মানে জেলখানা। উদ্দেশ্য হল, জেলখানার মত একটি অতি সংকীর্ণ জায়গা। আর কেউ কেউ বলেন, এটি ভূগর্ভের সব থেকে নিচের অংশে একটি জায়গার নাম; যেখানে কাফের, অত্যাচারী এবং মুশরিকদের আত্মা এবং তাদের আমল-নামা জমা ও সংরক্ষিত থাকে। এই জন্য তাকে ‘লিপিবদ্ধ পুস্তক’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৮ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا سِجِّیۡنٌ ؕ﴿۸﴾

কিসে তোমাকে জানাবে ‘সিজ্জীন’ কী? আল-বায়ান

তুমি কি জান সিজ্জীন কী তাইসিরুল

সিজ্জীন কি তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is sijjeen? Sahih International

৮. আর কিসে আপনাকে জানাবে সিজ্জীন কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। কিসে তোমাকে জানাল, সিজ্জীন কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ৯ كِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ ؕ﴿۹﴾

লিখিত কিতাব। আল-বায়ান

সীলমোহরকৃত কিতাব। তাইসিরুল

ওটা হচ্ছে লিখিত পুস্তক। মুজিবুর রহমান

It is [their destination recorded in] a register inscribed. Sahih International

৯. চিহ্নিত আমলনামা।(১)

(১) مَرْقُومٌ শব্দের কয়েকটি অর্থ আছে, লিখিত, চিহ্নিত এবং মোহরাঙ্কিত। [কুরতুবী] অর্থাৎ কিতাবটি লিখা শেষ হওয়ার পর তাতে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে। ফলে তাতে হ্রাসবৃদ্ধি ঘটবে না। আর কিতাব বলতে, আমলনামা বোঝানো হয়েছে। ইবনে কাসীর বলেন, এটা সিজীনের তাফসীর নয়; বরং পূর্ববর্তী (كِتَابَ الْفُجَّارِ) এর বর্ণনা। অৰ্থ এই যে, কাফের ও পাপাচারীদের আমলনামা মোহর লাগিয়ে সংরক্ষিত করা হবে। ফলে এতে হ্রাস-বৃদ্ধি ও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকবে না। এই সংরক্ষণের স্থান হবে সিজ্জীন৷ এর প্রমাণ আমরা বারা ইবনে আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বৰ্ণিত হাদীসে দেখতে পাই। সেখানে বলা হয়েছে, মহান আল্লাহ্ কাফেরদের রূহ হরণ হওয়ার পর বলবেন, اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الأَرْضِ السُّفْلَى “তার কিতাবকে সর্বনিম্ন যমীনে সিজ্জীনে লিখে রাখ”। [মুসনাদে আহমাদ ৪/২৮৭]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। ওটা হচ্ছে লিপিবদ্ধ পুস্তক।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১০ وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُكَذِّبِیۡنَ ﴿ۙ۱۰﴾

সেদিন ধ্বংস অস্বীকারকারীদের জন্য । আল-বায়ান

সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের, তাইসিরুল

সেদিন মন্দ পরিণাম হবে মিথ্যাচারীদের – মুজিবুর রহমান

Woe, that Day, to the deniers, Sahih International

১০. সেদিন দুর্ভোগ হবে মিথ্যারোপকারীদের,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। সেদিন দুর্ভোগ হবে মিথ্যাচারীদের।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১১ الَّذِیۡنَ یُكَذِّبُوۡنَ بِیَوۡمِ الدِّیۡنِ ﴿ؕ۱۱﴾

যারা প্রতিদান দিবসকে অস্বীকার করে। আল-বায়ান

যারা কর্মফল দিবসকে অস্বীকার করে। তাইসিরুল

যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে, মুজিবুর রহমান

Who deny the Day of Recompense. Sahih International

১১. যারা প্রতিদান দিবসে মিথ্যারোপ করে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। যারা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা মনে করে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১২ وَ مَا یُكَذِّبُ بِهٖۤ اِلَّا كُلُّ مُعۡتَدٍ اَثِیۡمٍ ﴿ۙ۱۲﴾

আর সকল সীমালঙ্ঘনকারী পাপাচারী ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করে না। আল-বায়ান

কেবল সীমালঙ্ঘনকারী, পাপাচারী ছাড়া কেউই তা অস্বীকার করে না। তাইসিরুল

আর সীমা লংঘনকারী মহাপাপী ব্যতীত কেহই ওকে মিথ্যা বলতে পারেনা। মুজিবুর রহমান

And none deny it except every sinful transgressor. Sahih International

১২. আর শুধু প্ৰত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারীই এতে মিথ্যারোপ করে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। আর সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠ ব্যতীত কেউই ওকে মিথ্যা মনে করে না।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৩ اِذَا تُتۡلٰی عَلَیۡهِ اٰیٰتُنَا قَالَ اَسَاطِیۡرُ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿ؕ۱۳﴾

যখন তার কাছে আমার আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, ‘পূর্ববর্তীদের রূপকথা।’ আল-বায়ান

তার সামনে যখন আমার আয়াত পড়ে শোনানো হয়, তখন সে বলে, ‘এ তো প্রাচীন কালের লোকেদের কাহিনী’’। তাইসিরুল

তার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলেঃ এটাতো পূরাকালীন কাহিনী। মুজিবুর রহমান

When Our verses are recited to him, he says, "Legends of the former peoples." Sahih International

১৩. যখন তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করা হয় তখন সে বলে, পূর্ববর্তীদের উপকথা।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। তার নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলে, এটা তো পূর্বকালীন উপকথা! [1]

[1] অর্থাৎ, তাদের পাপকর্মে অবিচলতা ও সীমালংঘন এত বেশী বৃদ্ধি পেয়েছে যে, আল্লাহর আয়াত শুনে তার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার পরিবর্তে তাকে ‘পূর্বযুগের উপকথা’ বলে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৪ كَلَّا بَلۡ ٜ رَانَ عَلٰی قُلُوۡبِهِمۡ مَّا كَانُوۡا یَكۡسِبُوۡنَ ﴿۱۴﴾

কখনো নয়, বরং তারা যা অর্জন করত তা-ই তাদের অন্তরসমূহকে ঢেকে দিয়েছে। আল-বায়ান

কক্ষনো না, বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের অন্তরে জং ধরিয়ে দিয়েছে। তাইসিরুল

না, এটা সত্য নয়, বরং তাদের কৃতকর্মের ফলেই তাদের মনের উপর মরিচা জমে গেছে। মুজিবুর রহমান

No! Rather, the stain has covered their hearts of that which they were earning. Sahih International

১৪. কখনো নয়; বরং তারা যা অর্জন করেছে তা-ই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে।(১)

(১) ران শব্দটি رين থেকে উদ্ভূত। অর্থ প্রাধান্য বিস্তার করা। [কুরতুবী] ঢেকে ফেলা। [তাতিম্মাতু আদওয়াইল বায়ান] যাজ্জাজ বলেন, মরিচা ও ময়লা। [কুরতুবী] অর্থাৎ শাস্তি ও পুরস্কারকে গল্প বা উপকথা গণ্য করার কোন যুক্তিসংগত কারণ নেই। কিন্তু যে কারণে তারা একে গল্প বলছে তা হচ্ছে এই যে, এরা যেসব গোনাহে লিপ্ত রয়েছে তাদের অন্তরে মরিচা ধরেছে। মরিচা যেমন লোহাকে খেয়ে মাটিতে পরিণত করে দেয়, তেমনি তাদের পাপের মরিচা তাদের অন্তরের যোগ্যতা নিঃশেষ করে দিয়েছে। ফলে তারা ভাল ও মন্দের পার্থক্য বোঝে না। ফলে পুরোপুরি যুক্তিসংগত কথাও এদের কাছে গল্প বলে মন হচ্ছে। [ইবন কাসীর] এই জঙ্‌ ও মরীচার ব্যাখ্যায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা যখন কোন গোনাহ করে, তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। সে তওবা করলে দাগটি উঠে যায়। কিন্তু যদি সে গোনাহ করে যেতেই থাকে তাহলে সমগ্র দিলের ওপর তা ছেয়ে যায়। [তিরমিযী: ৩৩৩৪ ইবনে মজাহঃ ৪২৪৪]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। না এটা সত্য নয়; [1] বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জং ধরিয়ে দিয়েছে। [2]

[1] অর্থাৎ, এই কুরআন কোন কেচ্ছা-কাহিনী নয়; যেমন কাফেররা বলে থাকে। বরং এটা হল আল্লাহর বাণী এবং তাঁর প্রত্যাদেশ যা তদীয় রসূল (সাঃ)-এর উপর জিবরীল (আঃ) মারফৎ অবতীর্ণ করা হয়েছে।

[2] অর্থাৎ, তারা এই কুরআন এবং আল্লাহর অহীর প্রতি ঈমান এই জন্য আনে না যে, গোনাহ করার দরুন তাদের অন্তরে পর্দা পড়ে গেছে এবং জং ধরে গেছে। رين গোনাহর সেই কালিমাকে বলা হয়, যা একাধারে পাপাচরণ করার কারণে অন্তরে ছেয়ে যায়। হাদীসে এসেছে যে, বান্দাহ যখন পাপ করে, তখন তার অন্তরে একটি কালো বিন্দু পড়ে যায়। যদি সে পাপ থেকে তওবা করে, তাহলে সেই কালো বিন্দু পরিষ্কার হয়ে যায়। আর তওবার পরিবর্তে যদি পাপের পর পাপ করেই যায়, তাহলে সেই কালো বিন্দুটি আরো বৃহৎ আকার ধারণ করে। এমনকি তা তার গোটা অন্তরে ছেয়ে যায়। এটাই হল সেই ‘রাইন’ যার কথা কুরআন মাজীদে এসেছে। (তিরমিযী সূরা মুতাফফিফীনের তফসীর পরিচ্ছেদ, ইবনে মাজাহ যুহদ অধ্যায় গোনাহ প্রসঙ্গ পরিচ্ছেদ, মুসনাদে আহমাদ ২/২৯৪ )

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৫ كَلَّاۤ اِنَّهُمۡ عَنۡ رَّبِّهِمۡ یَوۡمَئِذٍ لَّمَحۡجُوۡبُوۡنَ ﴿ؕ۱۵﴾

কখনো নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে। আল-বায়ান

কক্ষনো না, তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক থেকে পর্দার আড়ালে থাকবে। তাইসিরুল

না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের রবের সাক্ষাত হতে অন্তরীণ থাকবে; মুজিবুর রহমান

No! Indeed, from their Lord, that Day, they will be partitioned. Sahih International

১৫. কখনো নয়; নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব হতে অন্তরিত থাকবে(১);

(১) অর্থাৎ কেয়ামতের দিন এই কাফেররা তাদের রবের দীদার বা দর্শন ও যেয়ারত থেকে বঞ্চিত থাকবে এবং পর্দার আড়ালে অবস্থান করবে। এই আয়াত থেকে জানা যায় যে, সেদিন মুমিনগণ আল্লাহ্ তা'আলার দীদার ও যেয়ারত লাভে ধন্য হবে। নতুবা কাফেরদেরকে পর্দার অন্তরালে রাখার কোন উপকারিতা নেই। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। কক্ষনো না, অবশ্যই তারা সেদিন তাদের প্রতিপালক (দর্শন) থেকে পর্দাবৃত থাকবে। [1]

[1] আর এর বিপরীত ঈমানদারগণ আল্লাহর দর্শন লাভ করবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৬ ثُمَّ اِنَّهُمۡ لَصَالُوا الۡجَحِیۡمِ ﴿ؕ۱۶﴾

তারপর নিশ্চয় তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে। আল-বায়ান

অতঃপর তারা অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। তাইসিরুল

অনন্তর নিশ্চয়ই তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে; মুজিবুর রহমান

Then indeed, they will [enter and] burn in Hellfire. Sahih International

১৬. তারপর নিশ্চয় তারা জাহান্নামে দগ্ধ হবে;

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। অতঃপর নিশ্চয়ই তারা জাহীম (জাহান্নামে) প্রবেশ করবে;

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৭ ثُمَّ یُقَالُ هٰذَا الَّذِیۡ كُنۡتُمۡ بِهٖ تُكَذِّبُوۡنَ ﴿ؕ۱۷﴾

তারপর বলা হবে, এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে। আল-বায়ান

অতঃপর বলা হবে ‘এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে।’ তাইসিরুল

অতঃপর বলা হবেঃ এটাই তা যা তোমরা অস্বীকার করতে। মুজিবুর রহমান

Then it will be said [to them], "This is what you used to deny." Sahih International

১৭. তারপর বলা হবে, এটাই তা যাতে তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। তারপর বলা হবে, এটাই তা, যা তোমরা মিথ্যাজ্ঞান করতে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৮ كَلَّاۤ اِنَّ كِتٰبَ الۡاَبۡرَارِ لَفِیۡ عِلِّیِّیۡنَ ﴿ؕ۱۸﴾

কখনো নয়, নিশ্চয় নেককার লোকদের আমলনামা থাকবে ইল্লিয়্যীনে ।* আল-বায়ান

(ভাল-মন্দের বিচার হবে না, শাস্তি-পুরস্কার কিছুই হবে না তা) কক্ষনো না, নিশ্চয়ই সৎলোকদের ‘আমালমানা ‘ইল্লিয়ীনে (সংরক্ষিত) আছে। তাইসিরুল

অবশ্যই পুণ্যবানদের ‘আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে, মুজিবুর রহমান

No! Indeed, the record of the righteous is in 'illiyyun. Sahih International

*আমল নামা। অথবা সপ্তম আকাশে জান্নাতের নিচে অবস্থিত একটি স্থান। অথবা জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থান।

১৮. কখনো নয়, নিশ্চয় পূণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে(১),

(১) কারও কারও মতে عِلِّيِّينَ শব্দটি علوّ এর বহুবচন। উদ্দেশ্য উচ্চতা। [ইবন কাসীর] আবার কেউ কেউ বলেন, এটা জায়গার নাম- বহুবচন নয়। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীসে এসেছে যে, ফেরশেতাগণ রূহ নিয়ে উঠতেই থাকবেন حَتّٰى يُنْتَهٰى بِهِ إِلَى السَّمَاءَ السَّابِعَةِ فَيَقُوْلُ اللهُ عزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ “শেষ পর্যন্ত সপ্তম আসমানে উঠবেন তখন মহান আল্লাহ বলবেন, আমার বান্দার কিতাব ইল্লিয়্যীনে লিখে নাও।” [মুসনাদে আহমাদ: ৪/২৮৭]। এ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ইল্লিয়্যীন সপ্তম আকাশে আরশের কাছে এক স্থানের নাম। এতে মুমিনদের রূহ ও আমলনামা রাখা হয়। [ইবন কাসীর ইবন আব্বাস থেকে]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। অবশ্যই পুণ্যবানদের আমলনামা ইল্লিয়্যীনে থাকবে। [1]

[1] عليين (ইল্লিয়্যীন) শব্দটি علو থেকে এসেছে (যার অর্থ মহা উচ্চ), এটা হল ‘সিজ্জীন’ শব্দের বিপরীত। এটা আসমানে অথবা জান্নাতে কিংবা সিদরাতুল মুন্তাহায় কিংবা আরশের নিকটবর্তী এক স্থান। যেখানে নেক লোকদের আত্মা এবং তাদের আমল-নামা সংরক্ষিত আছে। যার নিকটে আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা উপস্থিত হন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ১৯ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا عِلِّیُّوۡنَ ﴿ؕ۱۹﴾

কিসে তোমাকে জানাবে ‘ইল্লিয়্যীন’ কী? আল-বায়ান

তুমি কি জান ইল্লিয়ীন কী? তাইসিরুল

ইল্লিয়্যীন কি তা কি তুমি জান? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is 'illiyyun? Sahih International

১৯. আর কিসে আপনাকে জানাবে ইল্লিয়্যীন কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। কিসে তোমাকে জানাল, ইল্লিয়্যীন কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৮৩ : ২০ كِتٰبٌ مَّرۡقُوۡمٌ ﴿ۙ۲۰﴾

লিখিত কিতাব। আল-বায়ান

সীলমোহরকৃত কিতাব। তাইসিরুল

(তা হচ্ছে) লিখিত পুস্তক। মুজিবুর রহমান

It is [their destination recorded in] a register inscribed Sahih International

২০. চিহ্নিত আমলনামা।(১)

(১) এখানেও এটাই সঠিক যে, এটা ‘ইল্লীয়্যীন’ এর কোন বিশেষণ নয়, বরং পূর্বে উল্লেখিত (كِتَابَ الْأَبْرَارِ) এর বিশেষণ। [দেখুন: কুরতুবী; ইবন কাসীর] এর প্রমাণ উপরোক্ত বারা ইবনে আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে, فَيَقُوْلُ اللهُ عزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ “অতঃপর মহান আল্লাহ্ বলবেন, আমার বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিখে রাখ”। সুতরাং ইল্লিয়্যীন কিতাব নয় বরং আমলনামা বা কিতাব কপি করে রাখার স্থান।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০ (তা হচ্ছে) লিপিবদ্ধ পুস্তক।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন