অবশ্যম্ভাবী ঘটনা (কিয়ামত)। আল-বায়ান
নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়, তাইসিরুল
সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা। মুজিবুর রহমান
The Inevitable Reality - Sahih International
১. সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১) সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা। [1]
[1] الحَاقَّةُ কিয়ামতের নামসমূহের অন্যতম নাম। এই দিনে আল্লাহর নির্দেশ বাস্তবায়িত হবে এবং এ দিনও বাস্তবে সংঘটিত হবে। এই জন্য এটাকে الحَاقَّةُ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানঅবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী? আল-বায়ান
কী সেই নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়? তাইসিরুল
কি সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা? মুজিবুর রহমান
What is the Inevitable Reality? Sahih International
২. কী সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২) কী সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা? [1]
[1] এটি শাব্দিক প্রশ্নবাচক হলেও উদ্দেশ্য হল, কিয়ামতের দিনের ভয়ঙ্করতা ও ভয়াবহতার কথা বর্ণনা করা।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর কিসে তোমাকে জানাবে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী? আল-বায়ান
আর তুমি কি জান কী সেই নিশ্চিত সংঘটিতব্য বিষয়? তাইসিরুল
কিসে তোমাকে জানাবে সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কি? মুজিবুর রহমান
And what can make you know what is the Inevitable Reality? Sahih International
৩. আর কিসে আপনাকে জানাবে সে অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৩) কিসে তোমাকে জানাল সেই অবশ্যম্ভাবী ঘটনা কী? [1]
[1] অর্থাৎ, কিসের মাধ্যমে তুমি এর পূর্ণ বাস্তবতা সম্পর্কে অবহিত হতে পার? উদ্দেশ্য এ জ্ঞানের অস্বীকৃতি জ্ঞাপন। অর্থাৎ, তোমার এ ব্যাপারে জ্ঞান নেই। কেননা, তুমি এখন তা না দেখেছ, আর না তার ভয়াবহতা পরিদর্শন করেছ। এ হল সৃষ্টিকুলের জ্ঞানের আওতা-বহির্ভূত। (ফাতহুল ক্বাদীর) কোন কোন আলেম বলেন, কুরআনে যে ব্যাপারেই অতীতকালের ক্রিয়াপদ وَمَآ أَدْرَاكَ ব্যবহার করে প্রশ্ন করা হয়েছে, তার উত্তর দিয়ে ব্যাখ্যা বর্ণনা করে দেওয়া হয়েছে। আর যে ব্যাপারে ভবিষ্যৎকালের ক্রিয়াপদ وَمَا يُدْريْكَ ব্যবহার করে প্রশ্ন করা হয়েছে, উত্তরের মাধ্যমে তার জ্ঞান বা ব্যাখ্যা মানুষকে জানানো হয়নি। (ফাতহুল ক্বাদীর, আয়সারুত্ তাফাসীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানসামূদ ও ‘আদ সম্প্রদায় সজোরে আঘাতকারী (কিয়ামত)কে অস্বীকার করেছিল। আল-বায়ান
‘আদ ও সামূদ জাতি সেই আকস্মিকভাবে সংঘটিতব্য মহাবিপদকে মিথ্যে বলেছিল। তাইসিরুল
‘‘আদ ও সামূদ’’ সম্প্রদায় অস্বীকার করেছিল মহাপ্রলয়। মুজিবুর রহমান
Thamud and 'Aad denied the Striking Calamity. Sahih International
৪. সামূদ ও আদ সম্প্রদায় মিথ্যারোপ করেছিল ভীতিপ্ৰদ মহাবিপদ সম্পর্কে।(১)
(১) الْقَارِعَة শব্দটি قرع শব্দ থেকে উৎপন্ন। قرع শব্দের অর্থ আরবী ভাষায় খট্খট শব্দ করা, হাতুড়ি পিটিয়ে শব্দ করা, কড়া নেড়ে শব্দ করা এবং একটি জিনিসকে আরেকটি জিনিস দিয়ে আঘাত করা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়। কিয়ামতের ভয়াবহতা সম্পর্কে ধারণা দেয়ার জন্য এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। কেয়ামত যেহেতু সব মানুষকে অস্থির ও ব্যাকুল করে দেবে এবং সমগ্র আকাশ ও পৃথিবীকে ছিন্ন-বিছিন্ন করে দেবে, তাই একে قَارِعَة বলা হয়েছে। তাছাড়া কিয়ামতের পূর্বাহ্নে যে মহাশব্দের মধ্যে তার সুত্রপাত হবে এখানে সেদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে। [দেখুন: কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৪) সামূদ ও আ’দ সম্প্রদায় মিথ্যাজ্ঞান করেছিল মহাপ্রলয়কে।[1]
[1] এখানে কিয়ামতকে القَارِعة (ঠকঠক্কারী) বলা হয়েছে। যেহেতু মহাপ্রলয় কিয়ামত নিজ ভয়াবহতায় মানুষের হৃদয়কে জাগ্রত করে তুলবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে বিকট শব্দ দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। আল-বায়ান
অতঃপর সামূদ জাতিকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দিয়ে। তাইসিরুল
আর সামূদ সম্প্রদায় - তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ংকর বিপর্যয় দ্বারা। মুজিবুর রহমান
So as for Thamud, they were destroyed by the overpowering [blast]. Sahih International
৫. অতঃপর সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্ৰলয়ংকর বিপর্যয়কারী প্ৰচণ্ড চীৎকার দ্বারা।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৫) সুতরাং সামূদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রলয়ঙ্কর গর্জন দ্বারা। [1]
[1] طَاغِيَةٌ হল সীমাহীন বিকট শব্দ। অর্থাৎ, নেহাতই ভয়ঙ্কর মহাগর্জন দ্বারা সামুদ সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছিল। যেমন পূর্বেও বহু স্থানে এ কথা আলোচিত হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল প্রচন্ড ঠান্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা। আল-বায়ান
আর ‘আদকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া দিয়ে। তাইসিরুল
আর ‘আদ’ সম্প্রদায় - তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা। মুজিবুর রহমান
And as for 'Aad, they were destroyed by a screaming, violent wind Sahih International
৬. আর আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ঝঞ্ঝাবায়ু দ্বারা(১),
(১) رِيحٍ صَرْصَرٍ এর অর্থ অত্যধিক শৈত্যসম্পন্ন প্রচন্ড বাতাস। [মুয়াসাসার]
তাফসীরে জাকারিয়া(৬) আর আ’দ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচন্ড ঝড়ো-হাওয়া দ্বারা। [1]
[1] صَرْصَرٍ এর অর্থ হল অত্যধিক হিমশীতল প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়া। عَاتِيَةٍ দুর্দান্ত উগ্র, যা দমন করা যায় না। অর্থাৎ, প্রচন্ড বেগবান ঝড়, আয়ত্তে আনা যায় না এমন হিমশীতল হাওয়া দ্বারা হূদ (আঃ)-এর জাতি আ’দকে ধ্বংস করা হয়েছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতিনি তাদের উপর তা সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে সেখানে লুটিয়ে পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে যেন তারা সারশূন্য খেজুর গাছের মত। আল-বায়ান
যা তাদের উপর প্রবাহিত হয়েছিল সাত রাত আট দিন বিরামহীনভাবে, তুমি দেখতে তারা পড়ে আছে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, যেন তারা পুরাতন শুকনো খেজুর গাছের কান্ড। তাইসিরুল
যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত ও আট দিন বিরামহীনভাবে; তুমি যদি তখন উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতে তাহলে দেখতে পেতে যে, তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে বিক্ষিপ্ত অসার খেজুর কান্ডের ন্যায়। মুজিবুর রহমান
Which Allah imposed upon them for seven nights and eight days in succession, so you would see the people therein fallen as if they were hollow trunks of palm trees. Sahih International
৭. যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাতরাত ও আটদিন বিরামহীনভাবে; তখন আপনি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতেন—তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে সারশূন্য খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৭) যা তিনি তাদের উপর প্রবাহিত করেছিলেন সাত রাত আট দিন অবিরামভাবে,[1] তখন (দেখলে) তুমি উক্ত সম্প্রদায়কে দেখতে, তারা সেখানে লুটিয়ে পড়ে আছে সারশূন্য খেজুর কান্ডের ন্যায়। [2]
[1] حَسْمٌ অর্থ হল কাটা এবং পৃথক পৃথক করে দেওয়া। কেউ কেউ حُسُومًا অর্থ করেছেন, লাগাতার, অবিরামভাবে।
[2] এ থেকে তাদের সুদীর্ঘ দেহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। خَاوِيَةٌ শব্দের অর্থ হল শূন্য/খালি। প্রাণহীন দেহকে সারশূন্য খেজুর গাছের গুঁড়ির সাথে তুলনা করা হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতারপর তুমি কি তাদের জন্য কোন অবশিষ্ট কিছু দেখতে পাও? আল-বায়ান
তুমি তাদের কাউকে রক্ষা পেয়ে বেঁচে থাকতে দেখছ কি? তাইসিরুল
তুমি তাদের কোনো অস্তিত্ব দেখতে পাও কি? মুজিবুর রহমান
Then do you see of them any remains? Sahih International
৮. অতঃপর তাদের কাউকেও আপনি বিদ্যমান দেখতে পান কি?
-
তাফসীরে জাকারিয়া(৮) অতঃপর তাদের কাউকেও তুমি বিদ্যমান দেখতে পাও কি?
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল। আল-বায়ান
ফেরাউন আর তার পূর্ববর্তীরা আর উল্টে দেয়া জনপদবাসীরা গুরুতর পাপে লিপ্ত ছিল। তাইসিরুল
ফির‘আউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং লূত সম্প্রদায় পাপাচারে লিপ্ত ছিল। মুজিবুর রহমান
And there came Pharaoh and those before him and the overturned cities with sin. Sahih International
৯. আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টিয়ে দেয়া জনপদ পাপাচারে লিপ্ত ছিল।(১)
(১) مُؤْتَفِكَات এর এক অর্থ উল্টে দেয়া, যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অন্য অর্থ পরস্পরের মিশ্রিত ও মিলিত। লুত আলাইহিস সালাম এর সম্প্রদায়ের বস্তিসমূহকে مُؤْتَفِكَات বলা হয়েছে। [কুরতুবী]
তাফসীরে জাকারিয়া(৯) আর ফিরআউন, তার পূর্ববর্তীরা এবং উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা (লূত সম্প্রদায়) [1] পাপ করেছিল।
[1] উল্টে যাওয়া বস্তিবাসীরা বলতে লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল। সুতরাং তিনি তাদেরকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন। আল-বায়ান
তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল, তখন তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন- অত্যন্ত কঠিন পাকড়াও। তাইসিরুল
তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দেন, কঠোর সেই শাস্তি! মুজিবুর রহমান
And they disobeyed the messenger of their Lord, so He seized them with a seizure exceeding [in severity]. Sahih International
১০. অতঃপর তারা তাদের রবের রাসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে তিনি তাদেরকে পাকড়াও করলেন—কঠোর পাকড়াও।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১০) তারা তাদের প্রতিপালকের রসূলকে অমান্য করেছিল, ফলে তিনি তাদেরকে অতি কঠোরভাবে পাকড়াও করলেন। [1]
[1] رَابِيَةٌ শব্দটি رَبَا يَرْبُو থেকে গঠিত। যার অর্থ হলঃ অতিরিক্ত। অর্থাৎ, তাদেরকে এমনভাবে পাকড়াও করেছিলেন যে, তা অন্য সম্প্রদায়ের পাকড়াও অপেক্ষা অতিরিক্ত কঠোর ছিল। অর্থাৎ, এদেরকে সর্বাধিক কঠোরভাবে পাকড়াও করা হয়েছিল। এ থেকে أَخْذَةً رَّابِيَةً এর অর্থ দাঁড়ালঃ অতীব কঠিন পাকড়াও।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানযখন জলোচ্ছ্বাস হল, অবশ্যই তখন আমি তোমাদেরকে নৌযানে আরোহণ করিয়েছি। আল-বায়ান
(নূহের বানের) পানি যখন কূল ছাপিয়ে সীমা ছাড়িয়ে গেল, তখন আমি তোমাদেরকে চলন্ত নৌযানে আরোহণ করালাম। তাইসিরুল
যখন প্লাবন হয়েছিল তখন আমি তোমাদেরকে (মানব জাতিকে) আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে। মুজিবুর রহমান
Indeed, when the water overflowed, We carried your ancestors in the sailing ship Sahih International
১১. যখন জলোচ্ছাস হয়েছিল নিশ্চয় তখন আমরা তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১১) যখন পানি উথলে উঠেছিল,[1] তখন আমি তোমাদেরকে আরোহণ করিয়েছিলাম নৌযানে। [2]
[1] অর্থাৎ, পানি তার উচ্চতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ, পানি খুব বেড়ে গিয়েছিল।
[2] এখানে ‘তোমাদেরকে’ বলে কুরআন অবতীর্ণকালের লোকদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। অর্থ হল যে, তোমরা যে পূর্বপুরুষদের বংশধর, আমি তাদেরকে কিশ্তীতে সওয়ার করিয়ে মহাপ্লাবন থেকে বাঁচিয়েছি। الجَارِيَةِ (নৌযান) বলতে নূহ (আঃ)-এর কিশ্তীকে বুঝানো হয়েছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানএকে তোমাদের নিমিত্তে উপদেশ বানানোর জন্য এবং সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করার জন্য। আল-বায়ান
যেন এ ঘটনাটিকে আমি তোমাদের জন্য শিক্ষাপ্রদ-স্মারক করে রাখি আর সংরক্ষণকারী কান তা সংরক্ষণ করে। তাইসিরুল
আমি উহা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এ জন্য যে, শ্রুতিধর কর্ণ ইহা সংরক্ষণ করে। মুজিবুর রহমান
That We might make it for you a reminder and [that] a conscious ear would be conscious of it. Sahih International
১২. আমরা এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য এবং এজন্যে যে, যাতে শ্রুতিধর কান এটা সংরক্ষণ করে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১২) আমি এটা করেছিলাম তোমাদের শিক্ষার জন্য[1] এবং যাতে স্মৃতিধর কর্ণ এটা স্মরণ রাখে। [2]
[1] অর্থাৎ, কাফেরদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া এবং মু’মিনদেরকে নৌকায় আরোহণ করিয়ে বাঁচিয়ে নেওয়ার কাজ হল তোমাদের জন্য নসীহত ও উপদেশস্বরূপ। তোমরা এ থেকে উপদেশ গ্রহণ কর এবং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে থাক।
[2] অর্থাৎ, শ্রবণকারী তা শ্রবণ করে যেন স্মরণে রাখে এবং সেও যেন এ থেকে উপদেশ গ্রহণ করে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানঅতঃপর যখন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে- একটি মাত্র ফুঁক। আল-বায়ান
অতঃপর যখন সিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে- মাত্র একটি ফুঁৎকার। তাইসিরুল
যখন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে, একটি মাত্র ফুৎকার, মুজিবুর রহমান
Then when the Horn is blown with one blast Sahih International
১৩. অতঃপর যখন শিংগায়(১) ফুঁক দেয়া হবে—একটি মাত্ৰ ফুঁক(২),
(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো যে, صور কী? জবাবে তিনি বললেন, “শিং এর আকারে কোন বস্তুকে বলা হয় যাতে ফুক দেয়া হবে।” [তিরমিযী: ২৪৩০, আবু দাউদ: ৪৭৪২]
(২) পবিত্র কুরআনের কোথাও কোথাও এ দুই শিঙ্গায় ফুঁক দেয়ার কথা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ফুৎকারের সময় গোটা বিশ্ব-জাহানের লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার যে অবস্থা সূরা আল-হাজ্জের ১ ও ২ আয়াতে, সূরা ইয়াসীনের ৪৯ ও ৫০ আয়াতে এবং সূরা আত-তাকভীরের ১ থেকে ৬ পর্যন্ত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে তা তাদের চোখের সামনে ঘটতে থাকবে। পক্ষান্তরে সূরা ত্বা-হার ১০২ থেকে ১১২ আয়াত, সূরা আল আম্বিয়ার ১০১ থেকে ১০৩ আয়াত, সূরা ইয়াসীনের ৫১ থেকে ৫৩ আয়াত এবং সূরা কাফ এর ২০ থেকে ২২ আয়াতে শুধু শিংগায় দ্বিতীয়বার ফুৎকারের কথা উল্লেখিত হয়েছে।
তাফসীরে জাকারিয়া(১৩) যখন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে একটি মাত্র ফুৎকার। [1]
[1] মিথ্যাবাদীদের পরিণাম উল্লেখ করার পর এখন বলা হচ্ছে যে, এই (الْحَاقَّةُ) ‘অবশ্যম্ভাবী ঘটনা’ (কিয়ামত) কিভাবে সংঘটিত হবে। ইস্রাফীল (আঃ)-এর এক ফুৎকারে তা সংঘটিত হয়ে যাবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর যমীন ও পর্বতমালাকে সরিয়ে নেয়া হবে এবং মাত্র একটি আঘাতে এগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। আল-বায়ান
পৃথিবী আর পর্বতমালা উৎক্ষিপ্ত হবে আর একই আঘাতে তাদেরকে চূর্ণ বিচূর্ণ করা হবে। তাইসিরুল
পর্বতমালা সমেত পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং একই ধাক্কায় তারা চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে যাবে। মুজিবুর রহমান
And the earth and the mountains are lifted and leveled with one blow - Sahih International
১৪. আর পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে এবং মাত্র এক ধাক্কায় ওরা চুৰ্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৪) তখন পর্বতমালা সহ পৃথিবী উৎক্ষিপ্ত হবে[1] এবং একই ধাক্কায় ওগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।
[1] অর্থাৎ, স্ব স্ব স্থান থেকে তুলে নেওয়া হবে এবং আল্লাহর মহাশক্তি দ্বারা অবস্থানক্ষেত্র থেকে সমূলে উৎপাটিত হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানফলে সে দিন মহাঘটনা সংঘটিত হবে। আল-বায়ান
সেদিন ঘটবে সেই সংঘটিতব্য (মহা) ঘটনা। তাইসিরুল
সেদিন সংঘটিত হবে মহা প্রলয়। মুজিবুর রহমান
Then on that Day, the Resurrection will occur, Sahih International
১৫. ফলে সেদিন সংঘটিত হবে মহাঘটনা,
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৫) সেদিন সংঘটিত হবে মহাঘটনা (কিয়ামত)।
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ানআর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে। ফলে সেদিন তা হয়ে যাবে দুর্বল বিক্ষিপ্ত। আল-বায়ান
আকাশ হয়ে যাবে দীর্ণ বিদীর্ণ আর সেদিন তা হবে বাঁধন-হারা-বিক্ষিপ্ত। তাইসিরুল
এবং আকাশ বিদীর্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে। মুজিবুর রহমান
And the heaven will split [open], for that Day it is infirm. Sahih International
১৬. আর আসমান বিদীর্ণ হয়ে যাবে ফলে সেদিন তা দুর্বল-বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়বে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৬) আর আকাশ বিদীর্ণ হয়ে অসার হয়ে পড়বে। [1]
[1] অর্থাৎ, তাতে কোন শক্তি এবং মজবুতী থাকবে না। আর যে জিনিস ফেটে টুকরো টুকরো হয়ে যায় তাতে মজবুতী কিভাবে থাকতে পারে?
তাফসীরে আহসানুল বায়ানফেরেশতাগণ আসমানের বিভিন্ন প্রান্তে থাকবে। সেদিন তোমার রবের আরশকে আটজন ফেরেশতা তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। আল-বায়ান
ফেরেশতারা থাকবে আকাশের আশে পাশে। আটজন ফেরেশতা সেদিন তোমার প্রতিপালকের ‘আরশ নিজেদের ঊর্ধ্বে বহন করবে। তাইসিরুল
মালাইকা/ফেরেশতারা আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন মালাইকা/ফেরেশতা তাদের রবের ‘আরশকে ধারণ করবে তাদের উর্ধ্বে। মুজিবুর রহমান
And the angels are at its edges. And there will bear the Throne of your Lord above them, that Day, eight [of them]. Sahih International
১৭. আর ফেরেশতাগণ আসমানের প্রান্ত দেশে থাকবে এবং সেদিন আটজন ফিরিশতা আপনার রবের আরশকে ধারণ করবে তাদের উপরে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৭) ফিরিশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে[1] এবং সেদিন আটজন ফিরিশতা তোমার প্রতিপালকের আরশকে তাদের ঊর্ধ্বে ধারণ করবে। [2]
[1] আসমান টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়ার পর আসমানবাসী ফিরিশতারা কোথায় থাকবেন? বলা হল, তাঁরা আকাশের প্রান্তদেশে থাকবেন। এর একটি অর্থ এও হতে পারে যে, ফিরিশতাগণ আসমান ফাটার পূর্বে আল্লাহর নির্দেশে যমীনে চলে আসবেন। অতএব ফিরিশতাগণ দুনিয়ার প্রান্তদেশে থাকবেন। অথবা অর্থ এও হতে পারে যে, আসমান খন্ড খন্ড হয়ে বিভিন্ন খন্ডে পরিণত হবে। সেই খন্ডগুলোর মধ্যে যেগুলো যমীনের প্রান্তদেশে নিজ স্থানে প্রতিষ্ঠিত থাকবে ফিরিশতাগণ সেখানে থাকবেন। (ফাতহুল ক্বাদীর)
[2] অর্থাৎ, এই নির্দিষ্ট ফিরিশতাগণ আল্লাহর আরশকে তাঁদের মাথায় উঠিয়ে রাখবেন। আবার এটাও হতে পারে যে, এই আরশ থেকে উদ্দেশ্য হল সেই আরশ, যা ফায়সালার জন্য যমীনে রাখা হবে এবং যার উপর মহান আল্লাহর গৌরবময় অবতরণ সংঘটিত হবে। (ইবনে কাসীর)
তাফসীরে আহসানুল বায়ানসেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন গোপনীয়তাই গোপন থাকবে না। আল-বায়ান
সেদিন তোমাদেরকে (বিচারের জন্য) হাজির করা হবে আর তোমাদের কোন কাজই- যা তোমরা গোপন কর- গোপন থাকবে না। তাইসিরুল
সেই দিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবেনা। মুজিবুর রহমান
That Day, you will be exhibited [for judgement]; not hidden among you is anything concealed. Sahih International
১৮. সেদিন উপস্থিত করা হবে তোমাদেরকে এবং তোমাদের কোন গোপনই আর গোপন থাকবে না।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(১৮) সেদিন পেশ করা হবে তোমাদেরকে[1] এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না।
[1] এই পেশকরণ এই জন্য হবে না যে, আল্লাহ যাকে জানেন না, তাকে জেনে নেবেন। তিনি তো সকলকেই জানেন। বরং পেশ বা উপস্থিত করা হবে কেবল মানুষের উপর হুজ্জত কায়েম করার জন্য। নচেৎ, আল্লাহর কাছে তো কারো কোন জিনিসই গোপন নেই।
তাফসীরে আহসানুল বায়ানতখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’। আল-বায়ান
তখন যাকে তার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘এই যে আমার ‘আমালানামা পড়ে দেখ, তাইসিরুল
তখন যাকে তার ‘আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ নাও, আমার ‘আমলনামা পাঠ করে দেখ। মুজিবুর রহমান
So as for he who is given his record in his right hand, he will say, "Here, read my record! Sahih International
১৯. তখন যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, লও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ(১);
(১) هَاؤُم শব্দের এক অর্থ, আসা অন্য অর্থ, লও। উদ্দেশ্য এই যে, আমলনামা ডানহাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে এবং নিজের বন্ধু-বান্ধবদের তা দেখাবে। সে আহলাদে আটখানা হয়ে আশেপাশের লোকজনকে বলবে, লও আমার আমলনামা পাঠ করে দেখ। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে যে, “সে আনন্দচিত্তে আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে” [সূরা আল-ইনশিকাক: ৯]
তাফসীরে জাকারিয়া(১৯) সুতরাং যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে[1] সে বলবে, ‘এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ; [2]
[1] যা তার সৌভাগ্য, মুক্তি ও সাফল্যের দলীল হবে।
[2] অর্থাৎ, সে অত্যধিক খুশী হয়ে সকলকে বলবে যে, ‘নাও পড়। আমার আমলনামা তো আমি পেয়ে গেছি।’ কারণ সে জেনে যাবে যে, এতে কেবল পুণ্যসমূহই থাকবে। কিছু পাপ থাকলেও আল্লাহ হয়তো তা ক্ষমা করে দেবেন অথবা সে পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। যেমন, মহান আল্লাহ ঈমানদারদের সাথে দয়া ও অনুগ্রহের এমনতর বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে, আমি আমার হিসাবের সম্মুখীন হব’। আল-বায়ান
আমি জানতাম যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’ তাইসিরুল
আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। মুজিবুর রহমান
Indeed, I was certain that I would be meeting my account." Sahih International
২০. আমি দৃঢ়বিশ্বাস করতাম যে, আমাকে আমার হিসেবের সম্মুখীন হতে হবে।
-
তাফসীরে জাকারিয়া(২০) আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল যে, আমাকে আমার হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে।’ [1]
[1] অর্থাৎ, আখেরাতের হিসাব-কিতাবের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান