৫৩০২

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে

৫৩০২-[৮] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সওয়ারীর পিছনে বসছিলাম। তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে ছেলে! আল্লাহর বিধানসমূহ যথাযথভাবে মেনে চল আল্লাহ তোমাকে হিফাযতে রাখবেন। আল্লাহর অধিকার আদায় কর, তবে তুমি আল্লাহকে তোমার সম্মুখে পাবে। আর যখন তুমি কারো কাছে কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে এবং যখন কারো সাহায্য চাইতে হয় তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব একত্র হয়ে তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন কল্যাণ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব সমবেতভাবে তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (তোমাদের ভাগ্যের সব কিছু লেখার পর) কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ শুকিয়ে গেছে। (আহমাদ ও তিরমিযী)

اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: «يَا غُلَامُ احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف» رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ

اسنادہ حسن ، رواہ احمد (1 / 293 ح 2669) و الترمذی (2516 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)

وعن ابن عباس قال: كنت خلف رسول الله صلى الله عليه وسلم يوما فقال: «يا غلام احفظ الله يحفظك احفظ الله تجده تجاهك وإذا سألت فاسأل الله وإذا استعنت فاستعن بالله واعلم أن الأمة لو اجتمعت على أن ينفعوك بشيء لم ينفعوك إلا بشيء قد كتبه الله لك ولو اجتمعوا على أن يضروك بشيء لم يضروك إلا بشيء قد كتبه الله عليك رفعت الأقلام وجفت الصحف» رواه أحمد والترمذي

ব্যাখ্যা: (يَا غُلَامُ) হে বৎস! (غُلَامُ) দ্বারা উদ্দেশ্য ছোট ছেলে, গোলাম বা দাস নয়। অভিধান গ্রন্থে (غُلَامُ) দ্বারা যুবক অর্থ করা হয়েছে অথবা সন্তান জন্মের পর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বয়স। ডাক দেয়ার উদ্দেশ্য হলো যাতে সে প্রস্তুত হয় এবং দিক-নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করে।

(احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ) আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাকে হিফাযত কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে বিপদাপদ ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং পরকালে সকল প্রকার শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিবেন।
(احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তুমি আল্লাহ অধিকারকে সংরক্ষণ কর এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর তাহলে তুমি তাকে তোমার সম্মুখে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে সংরক্ষণকারী হিসেবে দেখতে পাবে।

(وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ) অর্থাৎ যখন তুমি কোন কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাইবে। কেননা দেয়ার মতো যাবতীয় ধনভাণ্ডার তাঁর হাতে রয়েছে। অথবা বান্দার নিকটে নি'আমাত পৌছানো বা না পৌছানো কেবল তার ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। আর তিনিই একমাত্র দাতা ও অভাবমুক্ত সত্তা, যিনি কারো কাছে মুখাপেক্ষী নন। অতএব একমাত্র তারই নি'আমাতের আশা করা উচিত অথবা শাস্তি প্রতিহত কামনা করা উচিত।
(وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ) অর্থাৎ আনুগত্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য কামনা করার ইচ্ছা করলে কেবল তারই নিকট সাহায্য কামনা করবে ও তারই ওপর ভরসা করবে সকল স্থানে ও সকল অবস্থায়।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) লাওহে মাহফুযে বান্দার তাক্বদীর সম্পর্কে যা লেখার ও নির্ধারণ করার ছিল তা হয়ে গেছে। এরপর কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে নতুন করে কোন কিছু লেখা থেকে। আর কিয়ামত পর্যন্ত বান্দার তাক্বদীর যা হবে তা লেখা হয়ে পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে আর কিছু সংযোজন করা হবে না অথবা কোন বিধান পরিবর্তন করাও হবে না।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) হাদীসাংশ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, তাক্বদীরের ফায়সালা, “আল্লাহর ইলম অনুযায়ী নির্ধারণ হয়ে গেছে তা আর পরিবর্তন পরিবর্ধন হবে না।” (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৫১৬, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)