৫১৯৯

পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ

৫১৯৯-[৪৫] উক্ত রাবী (আবূ যার [রাঃ]) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে বান্দা দুনিয়ার সম্পদ হতে বিমুখ থাকে আল্লাহ তা’আলা তার হৃদয়ে সূক্ষ্ম জ্ঞান সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ তার জিহ্বা দ্বারা তা প্রকাশ করান। দুনিয়ার দোষ-ত্রুটি, তার রোগ ও প্রতিষেধক তাকে দেখিয়ে দেন এবং তাকে দুনিয়া হতে নিরাপদে বের করে দারুস্ সালামে (জান্নাতে) প্রবেশ করান। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)

اَلْفصْلُ الثَّالِثُ

وَعَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَا زَهِدَ عَبْدُ فِي الدُّنْيَا إِلَّا أَنْبَتَ اللَّهُ الْحِكْمَةَ فِي قَلْبِهِ وَأَنْطَقَ لِسَانَهُ وَبَصَّرَهُ عَيْبَ الدُّنْيَا وَدَاءَهَا وَدَوَاءَهَا وَأَخْرَجَهُ مِنْهَا سَالِمًا إِلَى دَارِ السَّلَامِ» رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شعب الْإِيمَان»

اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10532 ، نسخۃ محققۃ : 10050) * فیہ عمر بن صبح : متروک متھم و بشیر بن زاذان : ضعیف جدًا ۔
(ضَعِيف)

وعنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ما زهد عبد في الدنيا إلا أنبت الله الحكمة في قلبه وأنطق لسانه وبصره عيب الدنيا وداءها ودواءها وأخرجه منها سالما إلى دار السلام» رواه البيهقي في «شعب الإيمان»

ব্যাখ্যা : প্রয়োজনের অতিরিক্ত দুনিয়ার সহায়-সম্পদ থেকে বিমুখ অনাসক্ত হওয়াই (زهد فىِ الدُّ نْيَا) বা দুনিয়া বিরাগী। একদল রয়েছে যারা বিয়ে-শাদী, সংসার কিছুই করে না, তাদের সন্ন্যাসী বৈরাগী বলা হয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, (لارهبنية فى الاسلام) ইসলামে বৈরাগ্যতা নেই। 

ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে, সংসার জীবনের মধ্যে থেকে দুনিয়ার লোভ-লালসা ত্যাগ করে জীবন নির্বাহের ন্যূনতম বস্তুতে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর ইবাদতে নিয়োজিত থাকে, আল্লাহ তা'আলা তার অন্তরে হিকমাত বা সূক্ষ্মজ্ঞান সৃষ্টি করে দেন। সেই জ্ঞান দ্বারা তিনি নিজের যথাযথ চলার পথ দেখে থাকেন এবং আল্লাহর মারিফাত অর্জন করে কথা বলে থাকেন, ফলে তার কথা হিকমাতপূর্ণ হয়। অতঃপর সে হয় দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ফলে দুনিয়ার দোষ-ত্রুটি আল্লাহ তা'আলা তাকে দেখিয়ে দেন, আর দুনিয়ার রোগ-ব্যাধি এবং তার প্রতিকারও তাকে অবলোকন করিয়ে দেন। 

‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এটা দ্বিতীয় স্তরের তাক্বওয়ার প্রতি ইশারা, অর্থাৎ দুনিয়া বিরাগীর মাধ্যমে যখন ‘ইলমে ইয়াক্বীন হয় এবং দুনিয়ার ত্রুটিসমূহ তার সামনে উদ্ভাসিত হয়ে যায় আল্লাহ তাআলা তখন তাকে এক দূরদৃষ্টির ওয়ারিস বানিয়ে দেন, ফলে সে তা দ্বারা হার্কে ইয়াক্বীন অর্জন করতে  সক্ষম হয়। 

দুনিয়ার রোগ হলো- দুনিয়াপ্রীতি এবং তা অর্জনের সীমাহীন আকাঙ্ক্ষা ও প্রচেষ্টা। 

আর ইলম ও ‘আমলের উপায় দ্বারা হয় তার প্রতিবিধান ও চিকিৎসা। বিপদে ধৈর্যধারণ, অল্পে তুষ্ট থাকা এবং আল্লাহ যা নির্ধারণ করে রেখেছেন তাতে তুষ্ট থাকাও দুনিয়াপ্রীতি রোগের প্রতিকার হতে পারে। 

অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাকে দুনিয়ার ফিতনাহ্ ও বালা-মুসীবাত থেকে সম্মানের সাথে পরকালের শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। হাদীসে (دَارِ السَّلَامِ) শব্দ ব্যবহার করে এদিকে ইশারা করা হয়েছে যে, যিনি দুনিয়াতে (زهد) ইখতিয়ার করবেন না তিনি দুনিয়ার ত্রুটি এবং তার রোগ ও প্রতিকার সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন না। ফলে সে প্রথম পর্যায়েই নিরাপদে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, বরং শাস্তি বা ‘আযাব ভোগের পর জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ, শাবুহু মিশকাত্ লিত্ব ত্বীবী আল কাশিফু আন হাকায়িকিস্ সুনান ১০ম খণ্ড, ৩২৯৬ পৃ.) 


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৬: মন-গলানো উপদেশমালা (كتاب الرقَاق)