৪৫৯২

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - জ্যোতিষীর গণনা

الكهانة (জ্যোতিষীর গণনা)। كهانة এর ‘কাফ’ বর্ণে যবর ও যের যোগে। كهانة দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হলো মানুষের গোপন বিষয় যা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, সে সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। জাহিলী যুগে ‘আরবদের মধ্যে এ كهانة প্রচলিত ছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবী করত যে, তার অনুগত জীন আছে, সে বিভিন্ন সংবাদ তাকে এনে দেয়। আর বর্ণিত আছে যে, শায়ত্বনেরা কথা চুরি করে এতে জ্যোতিষীদের (كهانة) কাছে বলে দিত। আর তাতে তারা প্রয়োজনমত বৃদ্ধি করত। আর তাদের মধ্যে কাফিররা তা গ্রহণ করত। কিন্তু রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে যখন প্রেরণ করা হলো তখন আকাশমণ্ডলীতে পাহারা নিযুক্ত করা হলো এবং كهانة তথা জ্যোতিষীদের বাতিল করা হল।

আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলত যে, সে কথাবার্তা, কাজকর্ম এবং অবস্থাসমূহ দেখে কিছু অনুমান করে বিভিন্ন জিনিস জানতে পারে। আর এ প্রকারটিকে নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে ঐ জ্যোতিষীর জন্য, যে দাবী করে চুরি যাওয়া বস্তু এবং হারিয়ে যাওয়া বস্তু কোথায় আছে তা সে বলে দিতে পারে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)


৪৫৯২-[১] মু‘আবিয়াহ্ ইবনু হাকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ হে আল্লাহর রসূল! আমরা জাহিলিয়্যাতের যুগের অন্যান্য কাজের মধ্যে জ্যোতিষীর কাছেও যেতাম। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমরা আর কখনো গণকদের কাছে যাবে না। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আমরা (কোন কাজের জন্য) অশুভ লক্ষণ মেনে থাকি। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ এটা এমন একটি ব্যাপার যে, (অনিচ্ছাকৃতভাবেই) তোমাদের কারো মনে তার উদ্রেক হয়ে থাকে, তবে তা যেন তোমাদেরকে বিরত না রাখে। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলামঃ আমাদের কেউ রেখা টেনে (ভাগ্য পরীক্ষার কাজ করে) থাকে। তিনি বললেনঃ কোন একজন নবী (আল্লাহর হুকুমে) রেখা টানার কাজ করতেন, সুতরাং যার রেখা টানা সে নবীর রেখার সাথে মিলে যায় তা জায়িয আছে। (মুসলিম)[1]

بَابُ الْكِهَانَةِ

عَن مُعَاوِيَة بن الحكم قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أُمُورًا كُنَّا نَصْنَعُهَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ كُنَّا نَأْتِي الْكُهَّانَ قَالَ: «فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ» قَالَ: قُلْتُ: كُنَّا نَتَطَيَّرُ قَالَ: «ذَلِكَ شَيْءٌ يَجِدُهُ أَحَدُكُمْ فِي نَفْسِهِ فَلَا يصدَّنَّكم» . قَالَ: قُلْتُ: وَمِنَّا رِجَالٌ يَخُطُّونَ قَالَ: «كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهُ فَذَاك» . رَوَاهُ مُسلم

عن معاوية بن الحكم قال: قلت: يا رسول الله أمورا كنا نصنعها في الجاهلية كنا نأتي الكهان قال: «فلا تأتوا الكهان» قال: قلت: كنا نتطير قال: «ذلك شيء يجده أحدكم في نفسه فلا يصدنكم» . قال: قلت: ومنا رجال يخطون قال: «كان نبي من الأنبياء يخط فمن وافق خطه فذاك» . رواه مسلم

ব্যাখ্যাঃ (كُنَّا نَأْتِي الْكُهَّانَ) অর্থাৎ আমরা তাদের নিকট এসে তাদের কাছে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইতাম।


فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ অর্থাৎ তারা তোমাদেরকে যে বিষয়ে সংবাদ দেয় তা তোমরা সত্য বলে বিশ্বাস করবে না।

(كُنَّا نَتَطَيَّرُ) অর্থাৎ আমরা পাখি বা এ জাতীয় অন্য কিছুর মাধ্যমে শুভ লক্ষণ-অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করি।

(ذٰلِكَ شَيْءٌ) অর্থাৎ মানুষ হওয়ার কারণে জাগ্রত ধারণা হতে (এটা হয়ে থাকে)। (يَجِدُهٗ أَحَدُكُمْ فِي نَفْسِه) অর্থাৎ এতে কোন প্রভাব বা ক্ষতি নেই।

‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা দলীলসহ অশুভ লক্ষণকে নিষেধ করেছে। এটা لَا تَطَيَّرُوا ‘‘তোমরা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করো না’’ কথা হতে বেশি পরিপূর্ণ। যেমন তিনি বলেন, فَلَا تَأْتُوا الْكُهَّانَ ‘‘তোমরা জ্যোতিষীর কাছে আসবে না’’। অর্থাৎ তোমরা অশুভ লক্ষণ গ্রহণ করবে না। কেননা অশুভ লক্ষণের কোন আকার অস্তিত্ব নেই, বরং মানুষের অন্তরে তা পাওয়া যায়। এটা মানুষ তার অন্তরে কল্পনা করে থাকে তাতে কোন ক্ষতি থাকে না।

(فَلَا يصدَّنَّكم) অর্থাৎ অশুভ লক্ষণ যেন তোমাদেরকে তোমাদের যাত্রা হতে বিরত না রাখে। আর তোমরা যে উদ্দেশ্য করে রওয়ানা হয়েছ তাতে ক্ষতি হওয়ার ভয়ে যেন বিরত না থাক। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা দ্বারা মূলত বোঝানো হয়েছে, আমি যেন তোমাকে সেখানে না দেখি। এখানে সে অন্তরে যা অনুভব করে তার জন্য যাত্রা বন্ধ করা হতে নিষেধ করা হয়েছে। এটা বাস্তবিকভাবে যাদের মনে এরূপ উদ্রেক হবে তাদেরকে সম্বোধন করে নিষেধ করা হয়েছে।

(كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ) বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহর নবী দান্ইয়াল (আ.) অথবা ইদরীস (আ.) ‘ইল্মে ইলাহী অথবা ‘ইল্মে লাদুন্নী দ্বারা এ কাজ করতেন।

(فَمَنْ وَافَقَ خَطَّهٗ فَذَاك) মোটকথা হলো, বর্তমানে এ কাজ করা হারাম। কারণ এর আসল শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; ‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৫)

ইমাম ইবনু ‘আসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইবনু ‘আব্বাস  বলেন, রেখা টানা বলতে অনুমানকারী যে রেখা টানে তাকে বুঝানো হয়েছে এটা এমন জ্ঞান, যা মানুষ ছেড়ে দিয়েছে, সমস্যায় পতিত ব্যক্তি আন্দাজকারীর কাছে এসে তাকে একটা উপহার দিত। তারপর সে তাকে বলত, বস, আমি তোমার জন্য রেখা টানবো। আর অনুমানকারীর সামনে তার একটা ছেলে থাকত, যার সাথে ফলক থাকত। তারপর তারা একটা নরম জায়গায় আসত। এসে চাকা দিয়ে অনেক রেখা চানতো, যেন রেখাগুলো সংখ্যায় আসে। এরপর আবার দু’টা দু’টা করে রেখা মুছতে মুছতে ফিরে আসতো আর তার ছেলেটি শুভ লক্ষণের জন্য বলত, হে বৎস! দেখো এর বর্ণনা আনন্দিত করবে, যদি দু’টি দাগ বাকী থাকত, তবে তা সফলতার চিহ্ন। আর একটি বাকী থাকলে খারাপ চিহ্ন। হারবী বলেন, তারা তিনটি রেখা টানতো। অতঃপর তার উপর যব বা আঠি নিক্ষেপ করতো। আর বলত, অমুক অমুক হবে। এটা ছিল জ্যোতিষীদের একটি গণনার প্রকার। (‘আওনুল মা‘বূদ ৭ম খন্ড, হাঃ ৩৯০৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-২৩: চিকিৎসা ও ঝাড়-ফুঁক (كتاب الطب والرقى)