৩৯৮৮

পরিচ্ছেদঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ - গনীমাতের সম্পদ বণ্টন এবং তা আত্মসাৎ করা

৩৯৮৮-[৪] ইয়াযীদ ইবনু হুরমুয হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন (খারিজী নেতা) নাজদাতুল হারূরী ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখে জানতে চাইল, যদি কোনো নারী বা গোলাম জিহাদে অংশগ্রহণ করে তারা গনীমাতের মালে অংশ পাবে কিনা? তখন ইবনু ’আব্বাস ইয়াযীদকে বললেন, তাকে লিখে দাও, তাদের কোনো নির্ধারিত অংশ নেই। তবে ইমাম তাদেরকে সামান্য কিছু মাল দিতে পারেন।

অপর এক বর্ণনায় আছে, ইবনু ’আব্বাস তাকে লিখে পাঠিয়েছেন যে, তুমি আমার কাছে জানতে চেয়েছ যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিহাদে নারীদেরকে সঙ্গে নিয়েছেন কিনা এবং তাদেরকে গনীমাতের মালের অংশ দিতেন কিনা? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নারীদেরকে সঙ্গে নিতেন এ উদ্দেশে যে, তারা অসুস্থ ও আহত মুজাহিদদের পরিচর্যা ও সেবা-শুশ্রূষা করবেন, এতে তাদেরকে গনীমাত হতে সামান্য কিছু দেয়া হতো, নিয়মিত অংশাধিকার দেননি। (মুসলিম)[1]

بَابُ قِسْمَةِ الْغَنَائِمِ وَالْغُلُوْلِ فِيْهَا

وَعَنْ يَزِيدَ بْنِ هُرْمُزَ قَالَ: كَتَبَ نَجْدَةُ الْحَرُورِيُّ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ يَسْأَلُهُ عَنِ الْعَبْدِ وَالْمَرْأَة يحْضرَانِ لمغنم هلْ يُقسَمُ لَهما؟ فَقَالَ ليزيدَ: اكْتُبْ إِلَيْهِ أَنَّهُ لَيْسَ لَهُمَا سَهْمٌ إِلَّا أَنْ يُحْذَيَا. وَفِي رِوَايَةٍ: كَتَبَ إِلَيْهِ ابْنُ عَبَّاسٍ: إِنَّكَ كَتَبْتَ إِلَيَّ تَسْأَلُنِي: هَلْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْزُو بِالنِّسَاءِ؟ وَهَلْ كَانَ يَضْرِبُ لَهُنَّ بِسَهْمٍ؟ فَقَدْ كَانَ يَغْزُو بِهِنَّ يُدَاوِينَ الْمَرْضَى وَيُحْذَيْنَ مِنَ الْغَنِيمَةِ وَأَمَّا السَّهْمُ فَلَمْ يَضْرِبْ لَهُنَّ بِسَهْمٍ. رَوَاهُ مُسلم

وعن يزيد بن هرمز قال: كتب نجدة الحروري إلى ابن عباس يسأله عن العبد والمرأة يحضران لمغنم هل يقسم لهما؟ فقال ليزيد: اكتب إليه أنه ليس لهما سهم إلا أن يحذيا. وفي رواية: كتب إليه ابن عباس: إنك كتبت إلي تسألني: هل كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يغزو بالنساء؟ وهل كان يضرب لهن بسهم؟ فقد كان يغزو بهن يداوين المرضى ويحذين من الغنيمة وأما السهم فلم يضرب لهن بسهم. رواه مسلم

ব্যাখ্যা: নাজদাতুল হারুরী হলো (ইরাকের) খারিজী সম্প্রদায়ের সর্দার। হারূরী ইরাকের কুফা নগরীর সন্নিকটে একটি গ্রাম। এখানেই খারিজী ভ্রান্ত দলের উদ্ভব হয়। তারা খলীফাতুল মুসলিমীন ‘আলী -এর দল ত্যাগ করে ভিন্নদল ও মতবাদ কায়িম করে এবং এই হারূরী নামক স্থানে সমবেত হয়।

শিশু, নারী এবং দাস-দাসীরা যদি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তাদের সৈনিকদের মতো নির্ধারিত হিস্যা বা অংশ নেই, তবে তারা رضخ (কিছু পরিমাণ সম্পদ) অনুদান পাবে। খারিজী সর্দার ইবনু ‘আব্বাসকে পত্র পাঠিয়ে জানতে চান যে, নারীরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারবে কিনা? যদি কোনো নারী ও কৃতদাস যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে তবে তাদের গনীমাতের কোনো অংশ আছে কিনা? ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস ইরাকের গভর্নর ইয়াযীদকে পত্র লিখে জানালেন যে, তুমি তাকে জানিয়ে দাও যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সেবা শুশ্রুষা করার জন্য যুদ্ধে নিতেন, কিন্তু তাদের গনীমাতের নির্দিষ্ট কোনো অংশ দেয়া হতো না। (মিরকাতুল মাফাতীহ; শারহে মুসলিম ১২শ খন্ড, হাঃ ১৮২২ পৃঃ নং ১৬০; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৭২৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ ইয়াযীদ ইবন হুরমুয
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৯: জিহাদ (كتاب الجهاد)