৩৭৭৭

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিচারকার্য এবং সাক্ষ্যদান

৩৭৭৭-[২০] ’আবদুল্লাহ ইবনু উনায়স (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ গুনাহের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট গুনাহ হলো- ১. আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করা, ২. মা-বাবার অবাধ্য হওয়া, ৩. মিথ্যা কসম করা। (সাবধান) যখন কোনো কসমকারী নিরুপায় হয়ে আল্লাহর কসম করে এবং তাতে মাছির ডানার পরিমাণও মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তখনই তার অন্তরে একটি দাগ পড়ে যায় যা কিয়ামত অবধি থাকবে। (তিরমিযী; আর তিনি বলেনঃ হাদীসটি গরীব)[1]

وَعَن عبدِ اللَّهِ بنِ أُنَيْسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ مِنْ أَكْبَرِ الْكَبَائِرِ الشِّرْكَ بِاللَّهِ وَعُقُوقَ الْوَالِدَيْنِ وَالْيَمِينَ الْغَمُوسَ وَمَا حَلَفَ حَالِفٌ بِاللَّهِ يَمِينَ صَبْرٍ فَأَدْخَلَ فِيهَا مِثْلَ جَنَاحِ بَعُوضَةٍ إِلَّا جُعِلَتْ نُكْتَةً فِي قَلْبِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب

وعن عبد الله بن انيس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ان من اكبر الكباىر الشرك بالله وعقوق الوالدين واليمين الغموس وما حلف حالف بالله يمين صبر فادخل فيها مثل جناح بعوضة الا جعلت نكتة في قلبه الى يوم القيامة» . رواه الترمذي وقال: هذا حديث غريب

ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি ইসলামের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানের কথা বলেছে, প্রথমত সর্বাধিক বড় গুনাহ শির্ক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, তারপর পিতা-মাতার অবাধ্য হতে নিষেধকরণ ও মিথ্যা শপথ থেকে পুরোপুরি বেঁচে থাকার আদেশ। অত্র হাদীসে মিথ্যা শপথের ক্ষেত্রে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে তা হল মাছির ডানাসম মিথ্যা বলা হলেও তা ঘৃণ্যতম আর যদি পুরা শপথটাই মিথ্যা হয় তাহলে তো আরো মারাত্মক অপরাধ হিসেবে তা বিবেচিত হবে। আর বলা হয়েছে, একটি মাছির সমপরিমাণ মিথ্যা শপথে প্রবেশ করালেও তার শাস্তি হলো কিয়ামত পর্যন্ত তার অন্তরে একটি কালিমা লেগে থাকবে। তাহলে পুরা শপথটাই যদি মিথ্যা হয় তাহলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) সহ অন্যান্য বিদ্বানের এটাই সিদ্ধান্ত।

এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, মিথ্যা শপথের শাস্তিকে আখিরাতের সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ‘আযাবের তীব্রতা বুঝানোর জন্য। আবার তাকে কবীরা গুনাহের অন্তর্গত করা হয়েছে যাতে মানুষ তা অবহেলা না করে, আবার কোনো কোনো হাদীসে মিথ্যা সাক্ষীকে শির্কের অন্তর্গত করা হয়েছে এর শাস্তিকে আরো ভয়াবহ করার জন্য। মোট কথা হলো আমাদের মিথ্যা সাক্ষী দেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৭ম খন্ড, হাঃ ৩০২০; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৮: প্রশাসন ও বিচারকার্য (كتاب الإمارة والقضاء)