৩৭৭৬

পরিচ্ছেদঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - বিচারকার্য এবং সাক্ষ্যদান

৩৭৭৬-[১৯] উক্ত রাবী [আশ্‘আস ইবনু কায়স (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন কিনদাহ্ এবং হাযরা মাওত-এর অধিবাসীর দু’জন লোক ইয়ামানের একটি জমির ব্যাপারে বিবাদে লিপ্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হলো। হাযরামী লোকটি বলল, হে আল্লাহর রসূল! জমিটি আমার। এ লোকের পিতা জোরপূর্বক আমার থেকে দখলদারিত্ব নিয়েছে এবং বর্তমানে তা তার তত্ত্বাবধানেই আছে। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তোমার নিকট কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ আছে কি? সে বললঃ না। তবে আমি তাকে এরূপ কসম দিব যে, সে কসম করে বলবেঃ আল্লাহর কসম! সে জানে না যে, এ জমি আমার এবং তার পিতা আমার থেকে জোরপূর্বক দখলে নিয়েছে। অতঃপর কিনদী লোকটি কসম করতে উদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ (সাবধান) যে ব্যক্তি (মিথ্যা) কসম করে অপরের ধন-সম্পদ নিজের করায়ত্বে নেয়, সে (কিয়ামতের দিন) হাতকাটা অবস্থায় আল্লাহর নিকট উপস্থিত হবে। অতঃপর কিনদী বলে উঠল, এ জমিন তারই (হাযরামীর)। (আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهُ أَنْ رَجُلًا مَنْ كِنْدَةَ وَرَجُلًا مِنْ حَضْرَمَوْتَ اخْتَصَمَا إِلٰى رَسُوْلِ اللّٰهِ ﷺ فِىْ اَرْضٍ مِنَ الْيَمَنِ فَقَالَ الْحَضْرَمِىُّ : يَا رَسُوْلَ اللّٰهِ! إِنَّ أَرْضِىْ اِغْتَصَبَنِيهَا أَبُوْ هٰذَا وَهٰى فِىْ يَدِه قَالَ : «هَلْ لَكَ بَيِّنَةٌ؟» قَالَ : لَا وَلٰكِنْ أُحَلِّفُه وَاللّٰهِ مَا يَعْلَمُ أَنَّهَا أَرْضِىْ اِغْتَصَبَنِيْهَا أَبُوهُ؟ فَتَهَيَّأَ الْكِنْدِىُّ لِلْيَمِينِ فَقَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «لَا يَقْطَعُ أَحَدٌ مَالًا بِيَمِينٍ إِلَّا لَقِىَ اللّٰهَ وَهُوَ أَجْذَمُ» فَقَالَ الْكِنْدِىُّ : هِىَ أرْضُه. رَوَاهُ أَبُوْ دَاودَ

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি পূর্বের হাদীসের মতই যে হাদীসটি আশ্‘আস বিন কয়স থেকে বর্ণিত। হাদীসটির মর্মকথা হলো কিনদী ও হাযরামাওত-এর দু’জন লোক ইয়ামান থেকে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি ভূমির ব্যাপারে মামলা নিয়ে আসলো, এমতাবস্থায় জমিটি হাযরামাওত-এর অধীনেই ছিল। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার প্রমাণ কি? সে বললো, আমার কোনো প্রমাণ নেই কিন্তু আমি শপথ খেতে পারবো। পরবর্তীতে যা ঘটার ঘটলো নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এভাবে শপথের মাধ্যমে কেউ যদি অপর মুসলিমের সম্পদ হরণ করে নেয় তাহলে কিয়ামতে সে বরকতশূন্য হয়ে উঠবে। হাদীসটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, আমরা যেন কোনক্রমেই অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে হরণ না করি। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৬১৯; মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৮ঃ প্রশাসন ও বিচারকার্য (كتاب الإمارة والقضاء)