৩৫৯৮

পরিচ্ছেদঃ ১. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ

৩৫৯৮-[৯] আর ’শারহুস্ সুন্নাহ্’তে বর্ণিত আছে যে, একদিন সফ্ওয়ান ইবনু উমাইয়্যাহ্ মদীনায় আসলেন, অতঃপর স্বীয় চাদরটি বালিশের ন্যায় মাথার নিচে রেখে মসজিদে ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন এক চোর এসে চাদরটি তুলে নিতে উদ্যত হলে সফ্ওয়ান তাকে ধরে ফেললেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে আসলেন। এমতাবস্থায় তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার হাত কাটার হুকুম দিলেন। কিন্তু সফ্ওয়ান বললেনঃ হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে এ কারণে নিয়ে আসেনি যে, আপনি (চুরির দায়ে) তার হাত কেটে দেবেন। আমি মূলত চাদরটি তাকে সাদাকা করে দিয়েছি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তবে আমার নিকট আনার পূর্বেই তো তুমি তাকে সাদাকা করে দিতে পারতে?[1]

وَرُوِيَ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» : أَنَّ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَنَامَ فِي الْمَسْجِدِ وَتَوَسَّدَ رِدَاءَهُ فَجَاءَ سَارِقٌ وَأَخَذَ رِدَاءَهُ فَأَخَذَهُ صَفْوَانُ فَجَاءَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَ أَنْ تُقْطَعَ يَدُهُ فَقَالَ صَفْوَانُ: إِنِّي لَمْ أُرِدْ هَذَا هُوَ عَلَيْهِ صَدَقَةٌ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَهَلا قبل أَن تَأتِينِي بِهِ»

وروي في «شرح السنة» : أن صفوان بن أمية قدم المدينة فنام في المسجد وتوسد رداءه فجاء سارق وأخذ رداءه فأخذه صفوان فجاء به إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فأمر أن تقطع يده فقال صفوان: إني لم أرد هذا هو عليه صدقة. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «فهلا قبل أن تأتيني به»

ব্যাখ্যা: সফ্ওয়ান বিন উমাইয়্যাহ্ বিন খালফ আল জাহমী আল কুরাশী। তিনি মক্কা বিজয়ের দিনে পলায়ন করেছিলেন তার নামে মৃত্যুর পরওয়ানা ছিল। তার জন্য নিরাপত্তা চাইলেন ‘উমার বিন ওয়াহ্ব এবং তার পুত্র ওয়াহ্ব বিন ‘উমায়র রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট। অতঃপর তিনি নিরাপত্তা দিলেন আর আমানত স্বরূপ তাদের দু’জনকে তার চাদর দিলেন। সফ্ওয়ান-এর জন্য ওয়াহ্ব তাকে পেলেন এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে নিয়ে গেলেন। আর সফ্ওয়ান বললেন, ওয়াহ্ব দাবী করেছে, আপনি আমাকে দু’ মাসের জন্য নিরাপত্তা দিয়েছেন। অতঃপর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াহ্বকে বললেনঃ তাকে আরো বেশি সময়ের জন্য নিরাপত্তা দাও। তখন সফ্ওয়ান বললেন, এটা যেন সুস্পষ্ট হয় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য চার মাসের নিরাপত্তা দিলেন। আর তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হুনায়নে বের হলেন, তিনি হুনায়নের যুদ্ধ আর ত্বায়িফের কাফিরদেরকে প্রত্যক্ষ করলেন, আর তিনি তাদেরকে গনীমাতের মাল অনেক দিলেন। তখন সফ্ওয়ান বললেন, আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দিচ্ছি! এই নাবী কতই না উত্তম নাবী সেদিনই ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তিনি মক্কায় অবস্থান করলেন ও মদীনায় হিজরত করলেন। তিনি ‘আব্বাস -এর কাছে মেহমান হলেন আর বিষয়টি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আব্বাস (রা) উপস্থাপন করলেন। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ لَا هِجْرَةَ بَعْدَ الْفَتْحِ মক্কা বিজয়ের পর আর কোনো হিজরত নেই তথা মদীনাহ্ হিজরত নেই। সফ্ওয়ান জাহিলী যুগের কুরাইশদের সম্মানিত ব্যক্তি এবং কবিও ছিলেন। ইসলামে আসার জন্য যাকে অনুদান দেয়া হতো তার ইসলাম গ্রহণ চমৎকার ছিল।

হিদায়াহ্ প্রণেতা বলেনঃ মাথার নীচে কোনো কিছু রাখা বিশুদ্ধ মতে তা সংরক্ষিত বলে বিবেচিত হবে।

হাদীসে প্রমাণিত হয় যে, চোরকে প্রশাসকের নিকট পেশ করার পূর্বে ক্ষমা করা বৈধ।

আর প্রশাসকের নিকট উপস্থাপন করলে হাত কাটা অবশ্যম্ভাবী হয়ে উঠবে এবং কোনো অবস্থাতেই তা রহিত করা হবে না। অনুরূপ বক্তব্য ত্বীবী এবং ইবনু মালিক বলেন। ইবনু হুমাম বলেন, চোরকে চুরির জন্য যখন হাত কাটার ফায়সালা দিবে এমতাবস্থায় মালিক যদি চুরিকৃত সম্পদ দান করে দেয় তাকে অথবা তাকে হেবা করে দেন অথবা বিক্রি করে দেয় তাহলে হাত কাটা যাবে না। আর যুফার, শাফি‘ঈ, আহমাদ-এর মতে হাত কাটা হবে। যা সফ্ওয়ান-এর হাদীস সুস্পষ্ট প্রমাণ করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৭: দণ্ডবিধি (كتاب الحدود)