২৫০৯

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

২৫০৯-[৫] ’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান মাসে ’উমরা পালন (সাওয়াবের দিক দিয়ে) হজের সমতুল্য। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِن عمْرَة فِي رَمَضَان تعدل حجَّة»

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إن عمرة في رمضان تعدل حجة»

ব্যাখ্যা: (إِنَّ عُمْرَةً فِىْ رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً) ‘‘রমাযান মাসে ‘উমরা হজ্জের সমতুল্য’’। অর্থাৎ- রমাযান মাসে সম্পাদিত ‘উমরা-এর সাওয়াব হজ্জের সাওয়াবের সমতুল্য। এর অর্থ এ নয় যে, রমাযান মাসে ‘উমরা পালন করলে তার ওপর ফরয হজ্জ/হজ পালন হয়ে যাবে। কেননা বস্ত্তকে কোন বস্ত্তর সাথে তুলনা করার অর্থ এ নয় যে, এ বস্ত্তটি সর্বাংশে তুল্য বস্ত্তর সমান বরং এক বস্ত্তর সাথে অন্য বস্ত্তর কোন দিক দিয়ে মিল থাকলেই তাকে ঐ বস্ত্তর সাথে তুলনা করা যায়। যদিও সব দিক দিয়ে তার সমতুল্য নয়। এ হাদীস বর্ণনার কারণ এই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বিদায় হজ্জ/হজ থেকে ফিরে এলেন তখন তিনি উম্মু সিনান আল আনসারী এক মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের সাথে হজ্জ/হজ সম্পাদন করতে তোমাকে কিসে বাধা প্রদান করল? জবাবে উক্ত মহিলা বলল যে, আমাদের মাত্র দু’টি উট আছে। একটির বাহনে তার স্বামী ও তার ছেলে হজ্জ/হজ গমন করেছিলেন। আরেকটি উট তিনি রেখে গেলেন যার দ্বারা আমরা পানি সরবরাহ করেছি। আর অন্য কোন বাহন না থাকায় আমি আপনাদের সাথে হজে যেতে পারিনি। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যখন রমাযান মাস আসবে তখন তুমি ‘উমরা করবে। কেননা রমাযান মাসে ‘উমরা সম্পাদন করা হজ্জ/হজ সম্পাদনের সমান সাওয়াব। বুখারীর বর্ণনায় রয়েছে, রমাযান মাসে ‘উমরা সমপাদন করা আমার সাথে হজ্জ/হজ সম্পাদন করার সমান সাওয়াব।

বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা বুঝা যায়, উক্ত মহিলা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জ/হজ সম্পাদন করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু তিনি যখন তা করতে পারলেন না তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ রমাযান মাসে ‘উমরা সম্পাদন করলে আমার সাথে হজ্জ/হজ সম্পাদন করার মতো সাওয়াব অর্জিত হবে।

ইবনুল জাওযী বলেনঃ অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, সময়ের মর্যাদার কারণে কার্যের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় যেমন মনোযোগ সহকারে ও ইখলাসের সাথে ‘আমল করার কারণে কাজের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে।

যেহেতু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল ‘উমরা সম্পাদন করেছেন যিলকদ মাসে, তাই ‘আলিমগণ এ বিষয়ে সন্দেহে পতিত হয়েছেন যে, রমাযান মাসে ‘উমরা পালন উত্তম না-কি হজের মাসসমূহে ‘উমরা পালন করা উত্তম? অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, রমাযান মাসে ‘উমরা পালন করা উত্তম। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যতীত অন্য যে কোন লোকের জন্য রমাযান মাসে ‘উমরা পালন করা উত্তম। পক্ষান্তরে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং যা করেছেন তার জন্য তাই উত্তম। কেননা জাহিলী যুগের লোকেরা মনে করত যে, হজের মাসসমূহে ‘উমরা করা বৈধ নয়। তাই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের মাসে ‘উমরা পালন করে দেখিয়ে দিলেন যে, হজ্জের মাসে ‘উমরা পালন করা বৈধ।

অত্র হাদীসে রমাযান মাসে ‘উমরা পালন করতে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে এটাও প্রতীয়মান হয় যে, একাধিকবার ‘উমরা করা বৈধ তথা মুস্তাহাব, আর এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন ইমাম আবূ হানীফা এবং ইমাম শাফি‘ঈ।

ইমাম মালিক বৎসরে একাধিক ‘উমরা করা মাকরূহ মনে করেন। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল দশদিনের কমে ‘উমরা করা মাকরূহ্ মনে করেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১১: হজ্জ (كتاب المناسك)