২২২৩

পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ

’আল্লামা মুল্লা ’আলী কারী হানাফী (রহঃ) বলেন, দু’আ হলো নীচু পর্যায়ের কোন ব্যক্তির উঁচু পর্যায়ের ব্যক্তির নিকট বিনয়ের সাথে কোন কিছু চাওয়া শায়খ আবূল কাসিম কুশায়রী বলেন, পবিত্র কুরআনে দু’আ শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

১. ’ইবাদাত অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ وَلَا تَدْعُ مِنْ دُونِ اللّٰهِ مَا لَا يَنْفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ

’’আর আল্লাহকে বাদ দিয়ে আহবান করো না এমন কিছুকে যা না পারে তোমার কোন উপকার করতে, আর না পারে কোন ক্ষতি করতে।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০৬)

২. সাহায্য অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ وَادْعُوا شُهَدَآءَكُمْ

’’আর তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তাহলে তোমাদের সহযোগীদের ডাক।’’ (সূরা আল বাকারাহ্ ২ : ২৩)

৩. চাওয়া অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ ادْعُونِىْ أَسْتَجِبْ لَكُمْ

’’তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু’মিন/গাফির ৪০ : ৬০)

৪. কথা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ دَعْوَاهُمْ فِيْهَا سُبْحٰنَكَ اللّٰهُمَّ

’’তার ভিতরে তাদের ধ্বনি হবে, ’পবিত্র তুমি হে আল্লাহ’।’’ (সূরা ইউনুস ১০ : ১০)

৫. আহবান অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ يَوْمَ يَدْعُوكُمْ

’’যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ৫২)

৬. প্রশংসা অর্থে, মহান আল্লাহর বাণীঃ قُلِ ادْعُوا اللّٰهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمٰنَ

’’বল, ’তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো।’’ (সূরা ইসরা/বনী ইসরাঈল ১৭ : ১১০)

মুসলিম হিসেবে সকলের জেনে রাখা উচিত দু’আ একটি ’ইবাদাত এবং তা মহান আল্লাহর হক এবং তা কবূল করার ওয়া’দাও আল্লাহ তা’আলা করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (الدعاء مخ العبادة) অর্থাৎ- দু’আই হলো ’ইবাদাত।

একটি প্রশ্ন ও তার উত্তরঃ

প্রশ্নঃ তাকদীরের ভাল-মন্দের উপর বিশ্বাস করে দু’আ করা উত্তম নাকি দু’আ না করা উত্তম?

উত্তরঃ দু’আ করা উত্তম, এর অনেকগুলো কারণ রয়েছে।

ক) আল্লাহ দু’আ করতে বলেছেন, ’’তোমরা আমাকে ডাকো, আমি (তোমাদের ডাকে) সাড়া দেব।’’ (সূরা আল মু’মিন/গাফির ৪০ : ৬০)। সুতরাং দু’আ করলে আল্লাহর আদেশ পালন হয়।

খ) রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকদীরের মন্দ (বিষয়) থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। যেমনঃ দু’আ কুনূতে আমরা পড়ে থাকি।

(وَقِنِىْ شَرَّ مَا قَضَيْت) অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমার তাকদীরের মন্দ বিষয় থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই।

[দু’আ না করার ব্যাপারে একটি হাদীস রয়েছে, হাদীসটি হলঃ ’’আল্লাহ তা’আলা আমার অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত। সুতরাং আমি যদি মন্দ অবস্থায় থাকি তাহলে তিনি তো দু’আ ছাড়াই আমার ভাল দিকটা আমার জন্য নিয়ে আসতে সক্ষম। সুতরাং আমার দু’আ করার কোন প্রয়োজন নেই।’’]

এ হাদীসটি সম্পর্কে ’আল্লামা আলবানী (রহঃ) বলেছেন, এর কোন ভিত্তি নেই। এটি একটি বানোয়াট হাদীস। সিলসিলাতুল আহাদীস আয্ য’ঈফাহ্ ১/২৯। ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ্ও একই কথা বলেছেন, মাজমা’উল ফাতাওয়া ৮/৫৩৯। ] (সম্পাদকীয়)

সুতরাং উপরোক্ত কথাগুলোর আলোকে আমরা বলবো, আমাদের সুখে-দুঃখে, অভাব-অনটনে সর্বদাই আল্লাহকে ডাকা উচিত।


২২২৩-[১] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ প্রত্যেক নবীকেই একটি (বিশেষ) কবূলযোগ্য দু’আ করার অধিকার দেয়া রয়েছে। প্রত্যেক নবীই সেই দু’আর ব্যাপারে (দুনিয়াতেই) তাড়াহুড়া করেছেন। কিন্তু আমি আমার উম্মাতের শাফা’আত হিসেবে আমার দু’আ কিয়ামত পর্যন্ত স্থগিত করে রেখেছি। ইনশা-আল্ল-হ! আমার উম্মাতের প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে আমার এ দু’আ এমন উপকৃত হবে, যে আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শারীক না করে মৃত্যুবরণ করেছে। (মুসলিম; তবে বুখারীতে এর চেয়ে কিছু কম বর্ণনা করা হয়েছে)[1]

اَلْفَصْلُ الْأَوَّلُ

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لِكُلِّ نَبِيٍّ دَعْوَةٌ مُسْتَجَابَةٌ فَتَعَجَّلَ كُلُّ نَبِيٍّ دَعْوَتَهُ وَإِنِّي اخْتَبَأْتُ دَعْوَتِي شَفَاعَةً لِأُمَّتِي إِلَى يومِ القِيامةِ فَهِيَ نَائِلَةٌ إِنْ شَاءَ اللَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا» . رَوَاهُ مُسلم وللبخاري أقصر مِنْهُ

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لكل نبي دعوة مستجابة فتعجل كل نبي دعوته وإني اختبأت دعوتي شفاعة لأمتي إلى يوم القيامة فهي نائلة إن شاء الله من مات من أمتي لا يشرك بالله شيئا» . رواه مسلم وللبخاري أقصر منه

ব্যাখ্যা: ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীর জন্য একটি দু‘আ রয়েছে যা নিশ্চিত কবূল হয়। আর বাকী যে দু‘আগুলো তা কবূলের আশা করা যায় কিছু কবূল হয় আর কিছু কবূল হয় না। কাযী ‘ইয়ায (রহঃ) বিষয়টি একটু সুনির্দিষ্ট করে বলেছেন যে, প্রত্যেক নাবীর জন্য তার উম্মাতকে কেন্দ্র করে করা এমন একটি দু‘আ রয়েছে যা নিশ্চিত কবূল হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

আবার কেউ বলেছেন, এটা ব্যাপক অর্থে নিতে হবে আর অন্য একদল বলেছেন, এটা প্রত্যেক নাবীর ব্যক্তিগত দু‘আ। যেমন: নূহ (আঃ) দু‘আ করলেন, رَبِّ لَا تَذَرْ عَلَى الْأَرْضِ مِنَ الْكَافِرِينَ دَيَّارًا

অর্থাৎ- ‘‘আল্লাহ এ দুনিয়ার সমস্ত কাফিরকে আপনি ধ্বংস করে দিন।’’ (সূরা নূহ ৭১ : ২৬)

যাকারিয়্যা (আঃ) দু‘আ করলেন, فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا

অর্থাৎ- ‘‘আমাকে আপনার পক্ষ থেকে একজন উত্তরাধিকারী (ছেলে) দান করুন যে আমার উত্তরাধিকারী হবে।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯ : ৫)

অনুরূপ সুলায়মান (আঃ) দু‘আ করলেন, رَبِّ اغْفِرْ لِي وَهَبْ لِي مُلْكًا لَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي

অর্থাৎ- ‘‘হে আমার রব! আমাকে আপনি এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে এ পৃথিবীতে আর কাউকে দিবেন না।’’ (সূরা সাদ/সোয়াদ ৩৮ : ৩৫)

(شَفَاعَةً لِأُمَّتِىْ) এখানে উম্মাত দ্বারা উদ্দেশ্য উম্মাতুল ইজাবাহ্ তথা উম্মাতের যেসব লোক নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দা‘ওয়াত কবূল করেছেন। ইবনু বাত্ত্বাল (রহঃ) বলেন, অত্র হাদীস দ্বারা অন্যান্য নাবীগণের (আঃ)-এর ওপর আমাদের নাবীর মর্যাদা প্রতীয়মান হয়। যেহেতু আমাদের নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটা দেয়া হয়েছে আর অন্যান্য নাবীকে তা দেয়া হয়নি।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৯: দু‘আ (كتاب الدعوات)