১৩৪৭

পরিচ্ছেদঃ ৪১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সফরের সালাত

১৩৪৭-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় (চার রাক্’আত বিশিষ্ট সালাত) দু’ রাক্’আত সালাত আদায় করেছেন। তাঁরপর আবূ বকরও দু’ রাক্’আত সালাত আদায় করেছেন। অতঃপর ’উমার (রাঃ)ও দু’ রাক্’আত সালাত আদায় করেছেন। ’উসমান (রাঃ) তার খিলাফাতকালের প্রথম দিকে দু’ রাক্’আতই সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন। কিন্তু পরে তিনি চার রাক্’আত আদায় করতে শুরু করেন।

ইবনু ’উমার (রাঃ)-এর ব্যাপারে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন ইমামের (’উসমান (রাঃ)-এর) সাথে সালাত আদায় করতেন, তখন চার রাক্’আত আদায় করতেন। আর একাকী হলে (সফরে) দু’ রাক্’আত আদায় করতেন। (বুখারী, মুসলিম)[1]

عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بمنى رَكْعَتَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَعُمَرُ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ وَعُثْمَانُ صَدَرًا مِنْ خِلَافَتِهِ ثُمَّ إِنَّ عُثْمَانَ صَلَّى بَعْدُ أَرْبَعًا فَكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا صَلَّى مَعَ الْإِمَامِ صَلَّى أَرْبَعًا وَإِذَا صلاهَا وَحده صلى رَكْعَتَيْنِ

عن ابن عمر قال: صلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنى ركعتين وأبو بكر بعده وعمر بعد أبي بكر وعثمان صدرا من خلافته ثم إن عثمان صلى بعد أربعا فكان ابن عمر إذا صلى مع الإمام صلى أربعا وإذا صلاها وحده صلى ركعتين

ব্যাখ্যা: ইমাম নাবাবী (রহঃ) বলেন যে, ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফাতের ছয় বছর পর মিনায় পূর্ণ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করেছেন এটাই প্রসিদ্ধ।

এখানে ‘উসমান (রাঃ)-এর মিনায় সালাত পূর্ণ করে আদায়ের কারণ সম্পর্কে মতপার্থক্য রয়েছে।

প্রথম মতঃ কারণ ‘উসমান (রাঃ) মক্কায় অবস্থান করছিলেন। আহমাদের (১ম খন্ড, পৃঃ ৬২) রয়েছে যে, ‘উসমান (রাঃ) মিনায় চার রাক্‘আত সালাত আদায় করলেন, লোকজন তা অপছন্দ করলে তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! আমি মক্কায় আসা থেকে এখানে অবস্থান করছি, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে কোন নগরীতে অবস্থান করবে সে যেন মুক্বীমের সালাত আদায় করে। (তবে হাদীসটির সানাদ য‘ঈফ)

দ্বিতীয় মতঃ ‘উসমান (রাঃ)-এর সালাত ক্বসর করা ও পূর্ণ করা উভয় জায়িয মনে করতেন আর তিনি জায়িয দু’টি বিষয়ে একটি গ্রহণ করেছেন এবং কঠিন হওয়ায় তিনি পূর্ণ সালাতকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

তৃতীয় মতঃ তিনি মনে করতেন যে, সালাত ক্বসর করাটা সফর অবস্থায় চলমান ব্যক্তির জন্য খাস। আর যে ব্যক্তি তার পূর্ণ সফর কোন স্থানে অবস্থান করবে তার জন্য মুক্বীম ব্যক্তির হুকুম প্রযোজ্য। এ ব্যাপারে আহমাদে ‘আব্বাদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ) হতে হাসান সানাদে বর্ণিত রয়েছে যে, তিনি (‘আব্বাদ) বলেন, মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) মক্কায় হাজ্জে এসে আমাদের সাথে যুহরের সালাত দু’ রাক্‘আত আদায়ের পর দারুন্ নাদ্ওয়াহ্-এ ফিরে গেলেন, সেখানে মারওয়ান ও ‘আমর ইবনু ‘উসমান (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ)-এর সালাত পূর্ণ করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে মু‘আবিয়াহ্ (রাঃ) বললেনঃ ..... যখন ‘উসমান (রাঃ) হাজ্জ (হজ/হজ্জ) শেষ করতেন এবং মিনায় অবস্থান করতেন তখন তিনি সালাত পূর্ণ করতেন। (হাজ্জের (হজ্জের/হজের) সফরে মিনায় ও ‘আরাফায় ক্বসর করতেন)।

হাফিয আসক্বালানী (রহঃ) বলেন, এ পন্থাই উত্তম।

চতুর্থ মতঃ ‘উসমান (রাঃ) মিনায় চার রাক্‘আত সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন, কারণ সে বছরে আরবীগণ অনেক বেশী ছিল বিধায় তিনি তাদেরকে মৌলিক সালাত চার রাক্‘আত শিক্ষা দেয়াই বেশী পছন্দ করলেন বিধায় তিনি চার রাক্‘আত আদায় করেছেন।

ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, এ পন্থাগুলো একে অপরকে শক্তিশালী এবং কোন মত অন্য মতকে সালাত পূর্ণ আদায়ের ক্ষেত্রে নিষেধ করছে না বরং একে অপরকে শক্তিশালী করছে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة)