৯৯৮

পরিচ্ছেদঃ ১৯. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়িয ও যে সব কাজ করা জায়িয

৯৯৮-[২১] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের মাঝে ডানদিকে বামদিকে লক্ষ্য করতেন, পেছনের দিকে গর্দান ঘুরাতেন না। (তিরমিযী, নাসায়ী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَلْحَظُ فِي الصَّلَاةِ يَمِينًا وَشِمَالًا وَلَا يَلْوِي عُنُقَهُ خَلْفَ ظَهْرِهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ

وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يلحظ في الصلاة يمينا وشمالا ولا يلوي عنقه خلف ظهره. رواه الترمذي والنساىي

ব্যাখ্যা: (كَانَ يَلْحَظُ) يَلْحَظُ শব্দটি اللحظ শব্দ থেকে উদগত যার অর্থ চোখের কিনারা দিয়ে দৃষ্টিপাত করা। সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) নাসায়ীর বর্ণনায় আছে, তিনি সালাতে এদিক সেদিক তাকাতেন। বলা হয়ে থাকে যে, এটি নফল সালাতে ছিল। তবে ফরয সালাতেও হতে পারে। নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৃষ্টিপাত কোন কল্যাণের জন্যই ছিল। তা সত্ত্বেও সালাতে তাঁর একাগ্রতা এবং আল্লাহ অভিমুখীতার প্রতি তিনি পূর্ণভাবেই ব্যাস্ত ছিলেন। ইবনু মালিক (রহঃ) বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ দৃষ্টি ফিরানো একবার বা একাধিকবার স্বল্প পরিমাণে ছিল এটা বুঝানোর জন্য যে, এমন দৃষ্টিপাতে সালাত ভঙ্গ হয় না অথবা তা কোন প্রয়োজনের জন্য ছিল। তবে কেউ যদি তার গর্দান পিছনের দিকে ঘুরায় অথবা তার বক্ষকে ক্বিবলার দিক থেকে অন্য দিকে সরিয়ে ফেলে তবে তা সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) ভঙ্গকারী বলে গণ্য হবে।

আমি (মুবারকপূরী) বলছিঃ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে উল্লিখিত দৃষ্টিপাত বলতে চোখের কিনারা দিয়ে ডান বা বাম দিকের মুক্তাদীগণের অবস্থা পর্যবেক্ষণ অথবা অন্য কোন কল্যাণের উদ্দেশে ছিল। আর এ ধরনের দৃষ্টিপাত ফরয সালাতে হলেও তা সকলের নিকটই বৈধ যদিও তা উত্তমের বিপরীত। ক্বিবলার দিক হতে বক্ষ না ঘুরিয়ে বিনা প্রয়োজনে শুধুমাত্র মাথা অথবা মুখমন্ডল ঘুরিয়ে দৃষ্টিপাত করা সকলের নিকটেই মাকরূহ। আর আহলে যাহিরদের নিকট তা হারাম।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة)