১২

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

১২. আবী উছমান নাহদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সাথে নিয়ে ’বাতহা’ (উপত্যকা)-য় গেলেন। সেখানে তাকে বসিয়ে তার চারপাশে রেখা টেনে দিলেন। তারপর বললেন: ’তুমি নড়বে না, কেননা কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার নিকট কিছু লোক আসবে। তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না। আর তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।

এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিকে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন সেদিকে চলে গেলেন। অতঃপর ঐ সব লোকেরা রেখার নিকট এসে উপস্থিত হল কিন্তু তারা রেখাটি অতিক্রম করল না। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে ফিরে গেল। রাতের শেষভাগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমার উরুর উপর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লেন। আর যখন তিনি ঘুমাতেন তখন নাক ডাকাতেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার উরুর উপর ঘুমে বিভোর, তখন কিছু লোক আসল, যারা ছিল অত্যন্ত উঁচু মানের (ও সম্ভ্রান্ত[1])। তাদের পরনে ছিল সাদা পোশাক। আল্লাহই ভাল জানেন, কী অপূর্ব সৌন্দর্য যে তাদের ছিল! তাদের একদল তাঁর মাথার নিকট এবং একদল তাঁর পায়ের নিকট বসল। এরপর তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল: এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে যা দেওয়া হয়েছে, আর কোন বান্দাকে তা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা দেখিনি। নিশ্চয় তাঁর চোখদু’টি ঘুমালেও তাঁর অন্তর সদা জাগ্রত।’ তোমরা তাঁর একটি উপমা দাও। (তা হচ্ছে) কোন এক অধিকর্তা একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলেন, তারপর সেখানে একটি ভোজ সভার আয়োজন করলেন, অতঃপর লোকদেরকে সে ভোজের খাদ্য ও পানিয় গ্রহণের জন্য আহ্বান করলেন।’ তারপর (এ উপমাটি দিয়েই) তারা উঠে গেলেন। আর ঠিক এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জেগে উঠলেন। তারপর তিনি বললেন: ’এরা কারা তা কি তুমি জান?’ আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন: ’তারা ছিল ফেরেশতা।’ তিনি (আরও) বললেন: তারা যে উপমাটি দিল, সে সম্পর্কে তুমি কি কিছু জান? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তখন তিনি বললেন: ’আর রহমান (আল্লাহ) জান্নাত বানিয়েছেন, তারপর তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সেদিকে আহ্বান করেছেন। ফলে যে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেবে, সে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আহ্বানে সাড়া দেবে না, তিনি তাকে পাকড়াও করবেন এবং শাস্তি দেবেন।”[2]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الْبَطْحَاءِ، وَمَعَهُ ابْنُ مَسْعُودٍ، فَأَقْعَدَهُ وَخَطَّ عَلَيْهِ خَطًّا، ثُمَّ قَالَ: " لَا تَبْرَحَنَّ فَإِنَّهُ سَيَنْتَهِي إِلَيْكَ رِجَالٌ فَلَا تُكَلِّمْهُمْ، فَإِنَّهُمْ لَنْ يُكَلِّمُوكَ "، فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ أَرَادَ، ثُمَّ جَعَلُوا يَنْتَهُونَ إِلَى الْخَطِّ لَا يُجَاوِزُونَهُ، ثُمَّ يَصْدُرُونَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، جَاءَ إِلَيَّ فَتَوَسَّدَ فَخِذِي، وَكَانَ إِذَا نَامَ، نَفَخَ فِي النَّوْمِ، نَفْخًا فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَسِّدٌ فَخِذِي، رَاقِدٌ، إِذْ أَتَانِي رِجَالٌ كَأَنَّهُمْ الْجِمَالُ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ بِيضٌ اللَّهُ أَعْلَمُ مَا بِهِمْ مِنْ الْجَمَالِ حَتَّى قَعَدَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَقَالُوا بَيْنَهُمْ: مَا رَأَيْنَا عَبْدًا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عَيْنَيْهِ لَتَنَامَانِ، وَإِنَّ قَلْبَهُ لَيَقْظَانُ، اضْرِبُوا لَهُ مَثَلًا: سَيِّدٌ بَنَى قَصْرًا ثُمَّ جَعَلَ مَأْدُبَةً فَدَعَا النَّاسَ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ، ثُمَّ ارْتَفَعُوا، وَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: " أَتَدْرِي مَنْ هَؤُلَاءِ؟ "، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: " هُمْ الْمَلَائِكَةُ "، قَالَ: " وَهَلْ تَدْرِي مَا الْمَثَلُ الَّذِي ضَرَبُوهُ؟ "، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: الرَّحْمَنُ بَنَى الْجَنَّةَ فَدَعَا إِلَيْهَا عِبَادَهُ، فَمَنْ أَجَابَهُ، دَخَلَ جَنَّتَهُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْهُ، عَاقَبَهُ وَعَذَّبَهُ

إسناده حسن

اخبرنا الحسن بن علي، حدثنا ابو اسامة، عن جعفر بن ميمون التميمي، عن ابي عثمان النهدي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج الى البطحاء، ومعه ابن مسعود، فاقعده وخط عليه خطا، ثم قال: " لا تبرحن فانه سينتهي اليك رجال فلا تكلمهم، فانهم لن يكلموك "، فمضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث اراد، ثم جعلوا ينتهون الى الخط لا يجاوزونه، ثم يصدرون الى النبي صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان من اخر الليل، جاء الي فتوسد فخذي، وكان اذا نام، نفخ في النوم، نفخا فبينا رسول الله صلى الله عليه وسلم متوسد فخذي، راقد، اذ اتاني رجال كانهم الجمال عليهم ثياب بيض الله اعلم ما بهم من الجمال حتى قعد طاىفة منهم عند راسه، وطاىفة منهم عند رجليه، فقالوا بينهم: ما راينا عبدا اوتي مثل ما اوتي هذا النبي صلى الله عليه وسلم: ان عينيه لتنامان، وان قلبه ليقظان، اضربوا له مثلا: سيد بنى قصرا ثم جعل مادبة فدعا الناس الى طعامه وشرابه، ثم ارتفعوا، واستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك، فقال: " اتدري من هولاء؟ "، قلت: الله ورسوله اعلم، قال: " هم الملاىكة "، قال: " وهل تدري ما المثل الذي ضربوه؟ "، قلت: الله ورسوله اعلم، قال: الرحمن بنى الجنة فدعا اليها عباده، فمن اجابه، دخل جنته، ومن لم يجبه، عاقبه وعذبه اسناده حسن

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
সুনান আদ-দারেমী (হাদিসবিডি)
ভূমিকা (المقدمة)