পরিচ্ছেদঃ ১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে লোকেরা যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল

১. ’আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে) বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোনো ব্যক্তি জাহিলী যুগে যে সকল (মন্দ) আমল করেছে, (ইসলাম গ্রহণের পর) তাকে কি সেসব আমলের জন্য পাকড়াও (জবাবদিহিতার মুখোমুখি) করা হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: ’যে ব্যক্তি ইসলামে থাকা অবস্থায় (অর্থাৎ ইসলাম গ্রহণের পর) উত্তম আমল করবে, তাকে তার জাহিলী যুগে কৃত (মন্দ) আমলসমূহের জন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু, যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পরও মন্দ কাজ করবে, তাকে জাহিলী ও ইসলাম- উভয় যুগে কৃত আমলের জন্য পাকড়াও করা হবে।”[1]

بَاب مَا كَانَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَهْلِ وَالضَّلَالَةِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُؤَاخَذُ الرَّجُلُ بِمَا عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ؟، قَالَ: مَنْ أَحْسَنَ فِي الْإِسْلَامِ لَمْ يُؤَاخَذْ بِمَا كَانَ عَمِلَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ، وَمَنْ أَسَاءَ فِي الْإِسْلَامِ، أُخِذَ بِالْأَوَّلِ وَالْآخِرِ

إسناده صحيح والحديث متفق عليه

حدثنا محمد بن يوسف، عن سفيان، عن الاعمش، عن ابي واىل، عن عبد الله رضي الله عنه، قال: قال رجل: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم: ايواخذ الرجل بما عمل في الجاهلية؟، قال: من احسن في الاسلام لم يواخذ بما كان عمل في الجاهلية، ومن اساء في الاسلام، اخذ بالاول والاخر اسناده صحيح والحديث متفق عليه

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে লোকেরা যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল

২. ওয়াদ্বীন রাহ. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা ছিলাম জাহিলী যুগের লোক এবং আমরা মূর্তিপূজক ছিলাম। আর আমরা আমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করতাম। আমার একটি কন্যা ছিল। আমি যখনই তাকে ডাকতাম, তখনই সে আনন্দের সাথে আমার ডাকে সাড়া দিত। একদিন আমি তাকে ডাকলে সে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে আমার পিছনে পিছনে চলতে লাগল। আমি চলতে লাগলাম যতক্ষণ না বাড়ির অদূরে একটি কূপের নিকট পৌঁছলাম। অতঃপর আমি তার হাত ধরে তাকে কূপে নিক্ষেপ করলাম। আমার বিশ্বাস, সবশেষে সে বলছিল: হে আব্বা! হে আব্বা। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কাঁদতে লাগলেন, এমনকি তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হতে লাগল। এ কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিসে বসা এক ব্যক্তি সেই লোকটিকে বলল, তুমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দুঃখ দিয়েছো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তিকে বললেন: ’থাম! কেননা, যা তাকে কষ্ট দিয়েছে, সে তো সে বিষয়েই জিজ্ঞেস করছে।’ অতঃপর তিনি সেই লোকটিকে বললেন: ’তোমার কথাগুলো আমাকে আবার শোনাও।’ ফলে সে লোকটি আবার (উল্লিখিত কাহিনীটি) বলতে লাগল। এ কাহিনী শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (আবারও) কাঁদতে লাগলেন, এমনকি তাঁর দু’চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হয়ে তাঁর দাড়ির উপর পড়তে লাগল। অবশেষে তিনি তাকে বললেন: ’নিশ্চয়ই আল্লাহ জাহিলী যুগে কৃত (মন্দ) আমলসমূহ থেকে তাদেরকে অব্যহতি দিয়েছেন (অর্থাৎ সেসব পাপের জন্য তাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে না)। অতএব তুমি নতুন করে আমল করা শুরু করো।’[1]

بَاب مَا كَانَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَهْلِ وَالضَّلَالَةِ

أَخْبَرَنَا الْوَلِيدُ بْنُ النَّضْرِ الرَّمْلِيُّ، عَنْ مَسَرَّةَ بْنِ مَعْبَدٍ مِنْ بَنِي الْحَارِثِ بْنِ أَبِي الْحَرَامِ مِنْ لَخْمٍ، عَنْ الْوَضِينِ، أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا كُنَّا أَهْلَ جَاهِلِيَّةٍ وَعِبَادَةِ أَوْثَانٍ، فَكُنَّا نَقْتُلُ الْأَوْلَادَ، وَكَانَتْ عِنْدِي ابْنَةُ لِي فَلَمَّا أَجَابَتْ، وَكَانَتْ مَسْرُورَةً بِدُعَائِي إِذَا دَعَوْتُهَا، فَدَعَوْتُهَا يَوْمًا، فَاتَّبَعَتْنِي فَمَرَرْتُ حَتَّى أَتَيْتُ بِئْرًا مِنْ أَهْلِي غَيْرَ بَعِيدٍ، فَأَخَذْتُ بِيَدِهَا فَرَدَّيْتُ بِهَا فِي الْبِئْرِ، وَكَانَ آخِرَ عَهْدِي بِهَا أَنْ تَقُولَ: يَا أَبَتَاهُ ! يَا أَبَتَاهُ ! فَبَكَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى وَكَفَ دَمْعُ عَيْنَيْهِ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ جُلَسَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَحْزَنْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَهُ: " كُفَّ فَإِنَّهُ يَسْأَلُ عَمَّا أَهَمَّهُ "، ثُمَّ قَالَ لَهُ: " أَعِدْ عَلَيَّ حَدِيثَكَ " فَأَعَادَهُ، فَبَكَى حَتَّى وَكَفَ الدَّمْعُ مِنْ عَيْنَيْهِ عَلَى لِحْيَتِهِ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: إِنَّ اللَّهَ قَدْ وَضَعَ عَنْ الْجَاهِلِيَّةِ مَا عَمِلُوا، فَاسْتَأْنِفْ عَمَلَكَ

إسناده رجاله ثقات غير أنه مرسل وقد تفرد بروايته الدارمي

اخبرنا الوليد بن النضر الرملي، عن مسرة بن معبد من بني الحارث بن ابي الحرام من لخم، عن الوضين، ان رجلا اتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، انا كنا اهل جاهلية وعبادة اوثان، فكنا نقتل الاولاد، وكانت عندي ابنة لي فلما اجابت، وكانت مسرورة بدعاىي اذا دعوتها، فدعوتها يوما، فاتبعتني فمررت حتى اتيت بىرا من اهلي غير بعيد، فاخذت بيدها فرديت بها في البىر، وكان اخر عهدي بها ان تقول: يا ابتاه ! يا ابتاه ! فبكى رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى وكف دمع عينيه، فقال له رجل من جلساء رسول الله صلى الله عليه وسلم: احزنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال له: " كف فانه يسال عما اهمه "، ثم قال له: " اعد علي حديثك " فاعاده، فبكى حتى وكف الدمع من عينيه على لحيته، ثم قال له: ان الله قد وضع عن الجاهلية ما عملوا، فاستانف عملك اسناده رجاله ثقات غير انه مرسل وقد تفرد بروايته الدارمي

হাদিসের মানঃ মুরসাল
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে লোকেরা যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল

৩. মুজাহিদ রাহ. এর দাস বর্ণনা করেন, তার মনীব (বাড়ির কর্তা) তাকে মাখন ও দুধের একটি পেয়ালা দিয়ে তাদের উপাস্যগণের (দেবতা বা মূর্তিগুলোর) নিকট পাঠালো। তিনি বলেন: আমি দেবতার ভয়ে মাখন খাওয়া হতে বিরত রইলাম। তিনি বলেন, অতঃপর একটি কুকুর এসে মাখন খেয়ে ফেলল এবং দুধ পান করে নিল। তারপর সে মূর্তির উপর পেশাব করে দিল। আর সেই মূর্তিগুলো ছিলো ’উসাফ’ ও ’নায়িলাহ’-এর মূর্তি।[1]

হারুন বলেন: জাহিলী যুগে মানুষ যখন সফর করত তখন সে তার সাথে চারটি পাথর সাথে রাখতো। তার মধ্যে তিনটি পাথর চুলা তৈরির জন্য এবং চতুর্থ পাথরটির সে ইবাদত করত। আর সে কুকুর পালত এবং তার সন্তানদের হত্যা করত।[2]

بَاب مَا كَانَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَهْلِ وَالضَّلَالَةِ

أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سُلَيْمَانَ الْمُؤَدِّبِ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مَوْلَايَ: " أَنَّ أَهْلَهُ بَعَثُوا مَعَهُ بِقَدَحٍ فِيهِ زُبْدٌ وَلَبَنٌ إِلَى آلِهَتِهِمْ، قَالَ: فَمَنَعَنِي أَنْ آكُلَ الزُّبْدَ لِمَخَافَتِهَا، قَالَ: فَجَاءَ كَلْبٌ فَأَكَلَ الزُّبْدَ وَشَرِبَ اللَّبَنَ، ثُمَّ بَالَ عَلَى الصَّنَمِ وَهُوَ: أُسَافٌ وَنَائِلَةُ، قَالَ هَارُونُ: كَانَ الرَّجُلُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا سَافَرَ، حَمَلَ مَعَهُ أَرْبَعَةَ أَحْجَارٍ: ثَلَاثَةً لِقِدْرِهِ وَالرَّابِعَ يَعْبُدُهُ وَيُرَبِّي كَلْبَهُ، وَيَقْتُلُ وَلَدَهُ

إسناده حسن

اخبرنا هارون بن معاوية، عن ابراهيم بن سليمان المودب، عن الاعمش، عن مجاهد، قال: حدثني مولاي: " ان اهله بعثوا معه بقدح فيه زبد ولبن الى الهتهم، قال: فمنعني ان اكل الزبد لمخافتها، قال: فجاء كلب فاكل الزبد وشرب اللبن، ثم بال على الصنم وهو: اساف وناىلة، قال هارون: كان الرجل في الجاهلية اذا سافر، حمل معه اربعة احجار: ثلاثة لقدره والرابع يعبده ويربي كلبه، ويقتل ولده اسناده حسن

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রেরিত হওয়ার পূর্বে লোকেরা যে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত ছিল

৪. আবূ রাজা বলেন: জাহিলী যুগে আমরা যখন কোন সুন্দর পাথর পেতাম, তখনই তার পূজায় লেগে যেতাম। আর যখন কোন পাথরই পেতাম না, তখন আমরা বালি একত্রিত করে ঢিবি বানাতাম। তারপর দুগ্ধবতী উষ্ট্রী নিয়ে এসে এর পা ফাঁক করে ধরে এ ঢিবির উপর এর দুধ দোহন করতাম। এমনকি ঢিবিটি দুধে ভিজে যেতো। অতঃপর যতক্ষণ আমরা এ স্থানে অবস্থান করতাম, ততক্ষণ এ ঢিবিরই ইবাদত করতাম।’

আবু মুহাম্মদ (দারিমী) বলেন, ’الصفي’ অর্থ: অধিক দুগ্ধদায়ী, فنفاج অর্থ উটনী যখন দুধ দোহনের জন্য তার উভয় পা ফাঁক করে। এবং الفج অর্থ: প্রশস্ত রাস্তা। এর বহুবচন: فجاج ।[1]

بَاب مَا كَانَ عَلَيْهِ النَّاسُ قَبْلَ مَبْعَثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْجَهْلِ وَالضَّلَالَةِ

حَدَّثَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ السَّامِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَبِي رَجَاءٍ، قَالَ: " كُنَّا فِي الْجَاهِلِيَّةِ إِذَا أَصَبْنَا حَجَرًا حَسَنًا، عَبَدْنَاهُ، وَإِنْ لَمْ نُصِبْ حَجَرًا، جَمَعْنَا كُثْبَةً مِنْ رَمْلٍ، ثُمَّ جِئْنَا بِالنَّاقَةِ الصَّفِيِّ فَتَفَاجَّ عَلَيْهَا، فَنَحْلُبُهَا عَلَى الْكُثْبَةِ حَتَّى نَرْوِيَهَا، ثُمَّ نَعْبُدُ تِلْكَ الْكُثْبَةَ مَا أَقَمْنَا بِذَلِكَ الْمَكَانِ "، قَالَ أَبُو مُحَمَّد الصَّفِيُّ: الْكَثِيرَةُ الْأَلْبَانِ وَالْفَجُّ الطَّريق الواسع وَجَمْعُهُ فِجَاجٌ

إسناده ضعيف عباد بن منصور كان يدلس وقد تغير بأخرة وهو موقوف على أبي رجاء عمران بن ملحان

حدثنا مجاهد بن موسى، حدثنا ريحان هو ابن سعيد السامي، حدثنا عباد هو ابن منصور، عن ابي رجاء، قال: " كنا في الجاهلية اذا اصبنا حجرا حسنا، عبدناه، وان لم نصب حجرا، جمعنا كثبة من رمل، ثم جىنا بالناقة الصفي فتفاج عليها، فنحلبها على الكثبة حتى نرويها، ثم نعبد تلك الكثبة ما اقمنا بذلك المكان "، قال ابو محمد الصفي: الكثيرة الالبان والفج الطريق الواسع وجمعه فجاج اسناده ضعيف عباد بن منصور كان يدلس وقد تغير باخرة وهو موقوف على ابي رجاء عمران بن ملحان

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

৫. কাব বলেন: আমরা (তাওরাতে) লিখিত পেয়েছি যে, মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কঠোর স্বভাবের হবেন না, নির্দয়ও হবেন না; আর হাটে-বাজারে শোরগোলকারী হবেন না। মন্দ আচরণের প্রতিদানে মন্দ আচরণ করবেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করবেন। আর তাঁর উম্মত প্রত্যেক উচ্চ ভূমিতে (আরোহণকালে) মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা’র অধিক হামদ্ (প্রশংসা) বর্ণনাকারী ও তাকবীর (বড়ত্ব) উচ্চারণকারী হবে। আর তারা সকল অবস্থানেই আল্লাহ’র প্রশংসা করবে। তারা ’ইযার’ বা তহবন্দ (এর নিম্নাংশ) তাদের (পায়ের গোছার) অর্ধেক বরাবর পরিধান করবে। তারা অঙ্গসমূহ (ধুয়ে) ওযু করবে। তাদের মুয়াযযিন আকাশ পরিমণ্ডলে আযান (ছড়িয়ে) দিবে। তাদের যুদ্ধের সারী ও সালাতের সারী একইরূপ হবে। তাদের রাতের (তাহাজ্জুদের সালাতে কান্নার) আওয়াজ হবে মৌমাছির গুণগুণ আওয়াজের মত। আর তাঁর জন্ম হবে মক্কায় ও তিনি ত্বয়্যিবায় (মদীনায়) হিজরত করবেন এবং তাঁর রাজ্য পৌঁছবে শাম দেশ পর্যন্ত।[1]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ، عَنْ الْأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: قَالَ كَعْبٌ: نَجِدُهُ مَكْتُوبًا: " مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا فَظٌّ، وَلَا غَلِيظٌ، وَلَا صَخَّابٌ بِالْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، وَأُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ يُكَبِّرُونَ اللَّهَ تَعَالى عَلَى كُلِّ نَجْدٍ، وَيَحْمَدُونَهُ فِي كُلِّ مَنْزِلَةٍ، وَيَتَأَزَّرُونَ عَلَى أَنْصَافِهِمْ، وَيَتَوَضَّئُونَ عَلَى أَطْرَافِهِمْ، مُنَادِيهِمْ يُنَادِي فِي جَوِّ السَّمَاءِ صَفُّهُمْ فِي الْقِتَالِ، وَصَفُّهُمْ فِي الصَّلَاةِ سَوَاءٌ، لَهُمْ بِاللَّيْلِ دَوِيٌّ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، مَوْلِدُهُ بِمَكَّةَ، وَمُهَاجرُهُ بِطَيْبَةَ، وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ

مرسل وإسناده صحيح

اخبرنا الحسن بن الربيع، حدثنا ابو الاحوص، عن الاعمش، عن ابي صالح، قال: قال كعب: نجده مكتوبا: " محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم لا فظ، ولا غليظ، ولا صخاب بالاسواق، ولا يجزي بالسيىة السيىة، ولكن يعفو ويغفر، وامته الحمادون يكبرون الله تعالى على كل نجد، ويحمدونه في كل منزلة، ويتازرون على انصافهم، ويتوضىون على اطرافهم، مناديهم ينادي في جو السماء صفهم في القتال، وصفهم في الصلاة سواء، لهم بالليل دوي كدوي النحل، مولده بمكة، ومهاجره بطيبة، وملكه بالشام مرسل واسناده صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

৬. (আব্দুল্লাহ) ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলতেন, নিশ্চয়ই আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী (তাওরাতে) পেয়েছি: (সেখানে লেখা আছে, আল্লাহ বলেছেন) নিশ্চয়ই আমি আপনাকে শাহীদ (সাক্ষ্যদাতা), সুসংবাদ দাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারী এবং উম্মী’দের (বেদুইনদের) আশ্রয়স্থল হিসেবে পাঠিয়েছি। আপনি আমার বান্দা ও আমার রাসূল। আমি আপনার নাম রেখেছি ’মুতাওয়াক্কীল’ (ভরসাকারী)। তিনি কঠোর স্বভাবের নন, নির্দয় নন; আর হাটে-বাজারে শোরগোলকারী নন। তিনি মন্দের প্রতিদানে মন্দ কিছু করবেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও উপক্ষো করবেন। আপনার “লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া সত্যিকারের কোন ইলাহ নেই”- এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার মাধ্যমে তিনি বাঁকা (খারাপ) হয়ে যাওয়া জাতিকে সোজা না করা পর্যন্ত আমি তাঁকে মৃত্যু কখনোই দেব না। আমরা তাঁর মাধ্যমে অন্ধ চোখসমূহকে (দেখার জন্য), বধির কানসমূহকে (শ্রবণের জন্য) এবং আচ্ছাদিত হৃদয়সমূহকে উন্মোচন করে দেব।’[1]

আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) বলেন: আমাকে আবী ওয়াকেদ লাইছী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে তা-ই বলতে শুনেছেন যা আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন।

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنِي اللَّيْثُ، حَدَّثَنِي خَالِدٌ هُوَ ابْنُ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدٍ هُوَ ابْنُ أَبِي هِلَالٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أُسَامَةَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ ابْنِ سَلَامٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ: " إِنَّا لَنَجِدُ صِفَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا، وَحِرْزًا، لِلْأُمِّيِّينَ، أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُولِي، سَمَّيْتُهُ الْمُتَوَكِّلَ، لَيْسَ بِفَظٍّ، وَلَا غَلِيظٍ، وَلَا صَخَّابٍ بِالْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ مِثْلَهَا، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَتَجَاوَزُ، وَلَنْ أَقْبِضَهُ حَتَّى يُقِيمَ الْمِلَّةَ الْمُتَعَوِّجَةَ بِأَنْ يَشْهَدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، نَفْتَحُ بِهِ أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًا، وَقُلُوبًا غُلْفًا "، قَالَ عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ: وَأَخْبَرَنِي أَبُو وَاقِدٍ اللَّيْثِيُّ: أَنَّهُ سَمِعَ كَعْبًا يَقُولُ مِثْلَ مَا قَالَ ابْنُ سَلَامٍ

إسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث وهو موقوف على ابن سلام

حدثنا عبد الله بن صالح، حدثني الليث، حدثني خالد هو ابن يزيد، عن سعيد هو ابن ابي هلال، عن هلال بن اسامة، عن عطاء بن يسار، عن ابن سلام رضي الله عنه، انه كان يقول: " انا لنجد صفة رسول الله صلى الله عليه وسلم: انا ارسلناك شاهدا ومبشرا ونذيرا، وحرزا، للاميين، انت عبدي ورسولي، سميته المتوكل، ليس بفظ، ولا غليظ، ولا صخاب بالاسواق، ولا يجزي بالسيىة مثلها، ولكن يعفو ويتجاوز، ولن اقبضه حتى يقيم الملة المتعوجة بان يشهد ان لا اله الا الله، نفتح به اعينا عميا واذانا صما، وقلوبا غلفا "، قال عطاء بن يسار: واخبرني ابو واقد الليثي: انه سمع كعبا يقول مثل ما قال ابن سلام اسناده ضعيف لضعف عبد الله بن صالح كاتب الليث وهو موقوف على ابن سلام

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

৭. কা’ব হতে বর্ণিত: (তাওরাতের) প্রথম লাইনে/অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে: মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, আমার নির্বাচিত বান্দা, তিনি কঠোর স্বভাবের ও নির্দয় হবেন না; আর হাটে-বাজারে শোরগোলকারীও হবেন না; তিনি মন্দ আচরণের প্রতিদানে মন্দ আচরণ করবেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করবেন। আর তাঁর জন্ম হবে মক্কায় ও তিনি ত্বয়্যিবায় (মদীনায়) হিজরত করবেন এবং তাঁর রাজ্য পৌঁছবে শাম দেশ পর্যন্ত।

দ্বিতীয় লাইনে/অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে: মুহাম্মাদ সা আল্লাহর রাসূল, আর তাঁর উম্মত মহান আল্লাহ’র অধিক হামদ্ (প্রশংসা) বর্ণনাকারী, তারা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ’র প্রশংসা করবে, আর তারা সকল অবতরণস্থলেই আল্লাহ’র প্রশংসা করবে। প্রত্যেক উচ্চ ভূমিতে (আরোহণ কালে) তাকবীর (আল্লাহর বড়ত্ব/আল্লাহু আকবার) উচ্চারণকারী হবে। সূর্যের প্রতি লক্ষ্য রেখে সালাতের ওয়াক্ত হওয়া মাত্র তারা সালাত আদায় করবে, এমনকি যদিও তারা ময়লা-আবর্জনার স্থানের চূড়ায়ও থাকে। তারা ’ইযার’ বা তহবন্দ (এর নিম্নাংশ) তাদের (পায়ের গোছার) মাঝ বরাবর পরিধান করবে। তারা তাদের অঙ্গসমূহ (ধুয়ে) ওযু করবে। রাতে আকাশ পরিমণ্ডলে তাদের (সালাতে দাঁড়িয়ে কান্নার) আওয়াজ হবে মৌমাছির গুণগুণ আওয়াজের মত।[1]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَوْفٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ ذَكْوَانَ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ كَعْبٍ: " فِي السَّطْرِ الْأَوَّلِ: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، عَبْدِي الْمُخْتَارُ، لَا فَظٌّ، وَلَا غَلِيظٌ، وَلَا صَخَّابٌ فِي الْأَسْوَاقِ، وَلَا يَجْزِي بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، مَوْلِدُهُ بِمَكَّةَ، وَهِجْرَتُهُ بِطَيْبَةَ، وَمُلْكُهُ بِالشَّامِ، وَفِي السَّطْرِ الثَّانِي: مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، أُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي السَّرَّاءِ وَالضَّرَّاءِ، يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ مَنْزِلَةٍ، وَيُكَبِّرُونَه عَلَى كُلِّ شَرَفٍ، رُعَاةُ الشَّمْسِ يُصَلُّونَ الصَّلَاةَ إِذَا جَاءَ وَقْتُهَا وَلَوْ كَانُوا عَلَى رَأْسِ كُنَاسَةٍ، وَيَأْتَزِرُونَ عَلَى أَوْسَاطِهِمْ، وَيُوَضِّئُونَ أَطْرَافَهُمْ، وَأَصْوَاتُهُمْ بِاللَّيْلِ فِي جَوِّ السَّمَاءِ كَأَصْوَاتِ النَّحْلِ

إسناده فيه زيد بن عوف وهو متروك وقد اتهمه أبو زرعة بالسرقة . وهو موقوف على كعب

اخبرنا زيد بن عوف، قال: حدثنا ابو عوانة، عن عبد الملك بن عمير، عن ذكوان ابي صالح، عن كعب: " في السطر الاول: محمد رسول الله، عبدي المختار، لا فظ، ولا غليظ، ولا صخاب في الاسواق، ولا يجزي بالسيىة السيىة، ولكن يعفو ويغفر، مولده بمكة، وهجرته بطيبة، وملكه بالشام، وفي السطر الثاني: محمد رسول الله، امته الحمادون يحمدون الله في السراء والضراء، يحمدون الله في كل منزلة، ويكبرونه على كل شرف، رعاة الشمس يصلون الصلاة اذا جاء وقتها ولو كانوا على راس كناسة، وياتزرون على اوساطهم، ويوضىون اطرافهم، واصواتهم بالليل في جو السماء كاصوات النحل اسناده فيه زيد بن عوف وهو متروك وقد اتهمه ابو زرعة بالسرقة . وهو موقوف على كعب

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি কা’ব আল আহবারকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: তুমি তাওরাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গুণাবলী কেমন পেয়েছ? কা’ব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা তাওরাতে পেয়েছি যে, মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় জন্ম গ্রহণ করবেন, ত্ববাহ বা মদীনায় হিজরত করবেন, আর তাঁর রাজ্য শাম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর অশ্লীলতার সাথে তাঁর কোন সম্পর্ক থাকবে না, তিনি হাটে-বাজারে শোরগোলকারীও হবেন না, তিনি মন্দ আচরণের প্রতিদানে মন্দ আচরণ করবেন না, বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করবেন। আর তাঁর উম্মত মহান আল্লাহ’র অধিক হামদ্ (প্রশংসা) বর্ণনাকারী, তারা সুখে-দুঃখে সর্বাবস্থায় আল্লাহ’র প্রশংসা করবে, তারা অঙ্গসমূহ (ধুয়ে) ওযু করবে এবং প্রত্যেক উঁচু ভূমিতে (আরোহণকালে) তাকবীর (আল্লাহর বড়ত্ব/আল্লাহু আকবার ধ্বনি) উচ্চারণ করবে। তারা ’ইযার’ বা তহবন্দ (এর নিম্নাংশ) পরিধান করবে তাদের (পায়ের গোছার) মাঝ বরাবর। তারা যেভাবে যুদ্ধে সারিবদ্ধ হবে, তারা তাদের সালাতেও তদ্রূপ সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়াবে। তাদের মসজিদসমূহে তাদের (তিলাওয়াত ও যিকিরের) আওয়াজ হবে মৌমাছির গুণগুণ আওয়াজের মত। আর তাদের আহ্বানকারীর আহ্বান (মুয়াযযিনের আযান) দূর আকাশে শোনা যাবে।[1]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا مَعْنُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، أَنَّهُ سَأَلَ كَعْبَ الْأَحْبَارِ: كَيْفَ تَجِدُ نَعْتَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التَّوْرَاةِ؟، فَقَالَ كَعْبٌ: " نَجِدْهُ مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ يُولَدُ بِمَكَّةَ، وَيُهَاجِرُ إِلَى طَابَةَ، وَيَكُونُ مُلْكُهُ بِالشَّامِ، وَلَيْسَ بِفَحَّاشٍ، وَلَا صَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ، وَلَا يُكَافِئُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ، وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ، أُمَّتُهُ الْحَمَّادُونَ، يَحْمَدُونَ اللَّهَ فِي كُلِّ سَرَّاءَ، وَضَرَّاءَ وَيُكَبِّرُونَ اللَّهَ عَلَى كُلِّ نَجْدٍ، يُوَضِّئُونَ أَطْرَافَهُمْ، وَيَأْتَزِرُونَ فِي أَوْسَاطِهِمْ، يُصَفُّونَ فِي صَلاتِهِمْ كَمَا يُصَفُّونَ فِي قِتَالِهِمْ، دَوِيُّهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ كَدَوِيِّ النَّحْلِ، يُسْمَعُ مُنَادِيهِمْ فِي جَوِّ السَّمَاءِ

إن ذكر ابن حبان عروة بن الحارث في ثقات التابعين جعل الحافظ يشير إلى أنه أبو فروة الذي يروي عن ابن عباس ونحن نشك في ذلك فإن كان هو فالإسناد صحيح وإلا فلعله من ترجمة ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " 425 / 9 والله أعلم

اخبرنا مجاهد بن موسى، حدثنا معن بن عيسى، حدثنا معاوية بن صالح، عن ابي فروة، عن ابن عباس رضي الله عنهما، انه سال كعب الاحبار: كيف تجد نعت رسول الله صلى الله عليه وسلم في التوراة؟، فقال كعب: " نجده محمد بن عبد الله يولد بمكة، ويهاجر الى طابة، ويكون ملكه بالشام، وليس بفحاش، ولا صخاب في الاسواق، ولا يكافى بالسيىة السيىة، ولكن يعفو ويغفر، امته الحمادون، يحمدون الله في كل سراء، وضراء ويكبرون الله على كل نجد، يوضىون اطرافهم، وياتزرون في اوساطهم، يصفون في صلاتهم كما يصفون في قتالهم، دويهم في مساجدهم كدوي النحل، يسمع مناديهم في جو السماء ان ذكر ابن حبان عروة بن الحارث في ثقات التابعين جعل الحافظ يشير الى انه ابو فروة الذي يروي عن ابن عباس ونحن نشك في ذلك فان كان هو فالاسناد صحيح والا فلعله من ترجمة ابن ابي حاتم في " الجرح والتعديل " 425 / 9 والله اعلم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

৯. যুবায়র ইবনু নুফাইর আল হাদরামী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ’তোমাদের নিকট এমন একজন রাসূল এসেছেন যিনি দুর্বল নন এবং অলসও নন, তিনি এসেছেন আচ্ছাদিত অন্তরকে জীবিত করার জন্য, অন্ধ চোখসমূহকে খুলে দেয়ার জন্য, বধির কানসমূহকে শ্রবণ করানোর জন্য এবং বিকৃত হয়ে যাওয়া ‍সুন্নাত[1] (রীতিসমূহ)কে সোজা (সংস্কার করে সঠিক) করার জন্য। (তিনি এই কাজ করে যাবেন) যতক্ষণ না সাক্ষ্য দেয়া হবে: ’আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক’।[2]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ بْنُ الْوَلِيدِ التَّمِيمِيِّ، حَدَّثَنَا بَحِيرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ إِلَيْكُمْ لَيْسَ بِوَهِنٍ، وَلَا كَسِلٍ، لِيُحْيِيَ قُلُوبًا غُلْفًا، وَيَفْتَحَ أَعْيُنًا عُمْيًا، وَيُسْمِعَ آذَانًا صُمًّا، وَيُقِيمَ السُّنَّةَ العَوْجَاءَ، حَتَّى يُقَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ

مرسل إسناده ضعيف بقية بن الوليد مدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الإسناد

اخبرنا حيوة بن شريح، حدثنا بقية بن الوليد التميمي، حدثنا بحير بن سعد، عن خالد بن معدان، عن جبير بن نفير الحضرمي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " لقد جاءكم رسول اليكم ليس بوهن، ولا كسل، ليحيي قلوبا غلفا، ويفتح اعينا عميا، ويسمع اذانا صما، ويقيم السنة العوجاء، حتى يقال: لا اله الا الله وحده مرسل اسناده ضعيف بقية بن الوليد مدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الاسناد

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১০

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

১০. আমির রাহিমাহুল্লাহ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট তাঁর কোন সাহাবী কোন এক প্রয়োজনে আসলেন। ফলে তিনি তার সাথে চলতে লাগলেন যতক্ষণ না তিনি ঘরে প্রবেশ করলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, তাঁর এক পা ঘরের ভিতর এবং এক পা বাইরে থাকা অবস্থায় তিনি যেন কারো সাথে চুপি চুপি আলাপ করলেন। অতঃপর তিনি তার দিকে তাকালেন এবং বললেন: ’তুমি জান কি আমি কার সাথে কথা বলছিলাম? ইনি একজন ফেরেশতা, আজকের আগে আমি কোনদিন তাকে দেখিনি। তিনি আমাকে সালাম দেয়ার জন্য তাঁর প্রতিপালকের নিকট অনুমতি প্রার্থনা করেছেন । তিনি (তাকে অনুমতি দিয়ে) বলেছেন, আমি আপনাকে কুরআন দিয়েছি অথবা (আপনার ওপর) নাযিল করেছি ফয়সালাকারী রূপে; ধীর-স্থিরতা দান করেছি সহনশীলতারূপে, ফুরকান (কুরআন) দান করেছি (পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের মাঝে) সেতুবন্ধনরূপে।[1]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْحِزَامِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاق بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي قَيْسٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَامِرٍ، قَالَ: كَانَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَهُ إِلَيْهِ حَاجَةٌ، فَمَشَى مَعَهُ حَتَّى دَخَلَ، قَالَ: فَإِحْدَى رِجْلَيْهِ فِي الْبَيْتِ وَالْأُخْرَى خَارِجَة كَأَنَّهُ يُنَاجِي، فَالْتَفَتَ، فَقَالَ: " أَتَدْرِي مَنْ كُنْتُ أُكَلِّمُ؟ إِنَّ هَذَا مَلَكٌ لَمْ أَرَهُ قَطُّ قَبْلَ يَوْمِي هَذَا، اسْتَأْذَنَ رَبَّهُ أَنْ يُسَلِّمَ عَلَيَّ، قَالَ: إِنَّا آتَيْنَاكَ أَوْ أَنْزَلْنَا الْقُرْآنَ فَصْلًا، وَالسَّكِينَةَ صَبْرًا، وَالْفُرْقَانَ وَصْلًا

مرسل رجاله ثقات

اخبرنا محمد بن يزيد الحزامي، حدثنا اسحاق بن سليمان، عن عمرو بن ابي قيس، عن عطاء، عن عامر، قال: كان رجل من اصحاب النبي صلى الله عليه وسلم له اليه حاجة، فمشى معه حتى دخل، قال: فاحدى رجليه في البيت والاخرى خارجة كانه يناجي، فالتفت، فقال: " اتدري من كنت اكلم؟ ان هذا ملك لم اره قط قبل يومي هذا، استاذن ربه ان يسلم علي، قال: انا اتيناك او انزلنا القران فصلا، والسكينة صبرا، والفرقان وصلا مرسل رجاله ثقات

হাদিসের মানঃ মুরসাল
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১১

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

১১. আতিয়্যাহ, রবী’আহ আল-জুরাশীকে বলতে শুনেছেন: তিনি বলেছেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট একজন আগন্তুকে এল, অতঃপর তাঁকে বলা হল, আপনার চক্ষু ঘুমাক, আপনার কর্ণ শ্রবণ করুক এবং আপনার অন্তর উপলব্ধি করুক।

তিনি বলেন: ’তখন আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমিয়ে গেল, আমার কর্ণদ্বয় শুনতে থাকল এবং আমার অন্তর উপলদ্ধি করতে থাকল।’ তারপর আমাকে বলা হল, একজন অধিকর্তা একটি গৃহ নির্মাণ করলেন, এবং সেখানে খাবারের আয়োজন করলেন। আর একজন আহ্বানকারীকে প্রেরণ করলেন (সবাইকে দাওয়াত দেয়ার জন্য)। ফলে যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল, সে গৃহে প্রবেশ করল, খানা খেল এবং সেই অধিকর্তা তার প্রতি সন্তুষ্ট হলেন। আর যে ব্যক্তি আহ্বানকারীর আহ্বানে সাড়া দিল না, সে গৃহে প্রবেশ করতে পারল না, খানাও খেতে পারল না এবং সেই অধিকর্তাও তার প্রতি অসন্তুষ্ট হলেন ।

তিনি বললেন: সুতরাং আল্লাহই হলেন সেই অধিকর্তা, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সেই আহ্বানকারী এবং গৃহটি হল ইসলাম, আর ভোজ আয়োজন হল জান্নাত।”[1]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا رَيْحَانُ هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبَّادٌ هُوَ ابْنُ مَنْصُورٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلَابَةَ، عَنْ عَطِيَّةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيَّ، يَقُولُ: أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقِيلَ لَهُ: لِتَنَمْ عَيْنُكَ، وَلْتَسْمَعْ أُذُنُكَ، وَلْيَعْقِلْ قَلْبُكَ، قَالَ: " فَنَامَتْ عَيْنَايَ، وَسَمِعَتْ أُذُنَايَ، وَعَقَلَ قَلْبِي "، قَالَ: فَقِيلَ لِي: سَيِّدٌ بَنَى دَارًا فَصَنَعَ مَأْدُبَةً، وَأَرْسَلَ دَاعِيًا، فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِيَ، دَخَلَ الدَّارَ، وَأَكَلَ مِنْ الْمَأْدُبَةِ، وَرَضِيَ عَنْهُ السَّيِّدُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْ الدَّاعِيَ، لَمْ يَدْخُلْ الدَّارَ، وَلَمْ يَطْعَمْ مِنْ الْمَأْدُبَةِ، وَسَخِطَ عَلَيْهِ السَّيِّدُ، قَالَ: " فَاللَّهُ: السَّيِّدُ، وَمُحَمَّدٌ: الدَّاعِي، وَالدَّارُ: الْإِسْلَامُ، وَالْمَأْدُبَةُ: الْجَنَّةُ

إسناده ضعيف لضعف عباد بن منصور

اخبرنا مجاهد بن موسى، حدثنا ريحان هو ابن سعيد، حدثنا عباد هو ابن منصور، عن ايوب، عن ابي قلابة، عن عطية، انه سمع ربيعة الجرشي، يقول: اتي النبي صلى الله عليه وسلم فقيل له: لتنم عينك، ولتسمع اذنك، وليعقل قلبك، قال: " فنامت عيناي، وسمعت اذناي، وعقل قلبي "، قال: فقيل لي: سيد بنى دارا فصنع مادبة، وارسل داعيا، فمن اجاب الداعي، دخل الدار، واكل من المادبة، ورضي عنه السيد، ومن لم يجب الداعي، لم يدخل الدار، ولم يطعم من المادبة، وسخط عليه السيد، قال: " فالله: السيد، ومحمد: الداعي، والدار: الاسلام، والمادبة: الجنة اسناده ضعيف لضعف عباد بن منصور

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১২

পরিচ্ছেদঃ ২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ববর্তী (আসমানী) কিতাবসমূহে লিখিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের গুণাবলী

১২. আবী উছমান নাহদী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, (একদা) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইবনু মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে সাথে নিয়ে ’বাতহা’ (উপত্যকা)-য় গেলেন। সেখানে তাকে বসিয়ে তার চারপাশে রেখা টেনে দিলেন। তারপর বললেন: ’তুমি নড়বে না, কেননা কিছুক্ষণের মধ্যেই তোমার নিকট কিছু লোক আসবে। তুমি তাদের সাথে কথা বলবে না। আর তারাও তোমার সাথে কথা বলবে না।

এ কথা বলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিকে যাওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন সেদিকে চলে গেলেন। অতঃপর ঐ সব লোকেরা রেখার নিকট এসে উপস্থিত হল কিন্তু তারা রেখাটি অতিক্রম করল না। তারপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে ফিরে গেল। রাতের শেষভাগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার নিকট এলেন এবং আমার উরুর উপর মাথা দিয়ে শুয়ে পড়লেন। আর যখন তিনি ঘুমাতেন তখন নাক ডাকাতেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার উরুর উপর ঘুমে বিভোর, তখন কিছু লোক আসল, যারা ছিল অত্যন্ত উঁচু মানের (ও সম্ভ্রান্ত[1])। তাদের পরনে ছিল সাদা পোশাক। আল্লাহই ভাল জানেন, কী অপূর্ব সৌন্দর্য যে তাদের ছিল! তাদের একদল তাঁর মাথার নিকট এবং একদল তাঁর পায়ের নিকট বসল। এরপর তারা পরস্পর বলাবলি করতে লাগল: এ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে যা দেওয়া হয়েছে, আর কোন বান্দাকে তা দেওয়া হয়েছে বলে আমরা দেখিনি। নিশ্চয় তাঁর চোখদু’টি ঘুমালেও তাঁর অন্তর সদা জাগ্রত।’ তোমরা তাঁর একটি উপমা দাও। (তা হচ্ছে) কোন এক অধিকর্তা একটি প্রাসাদ নির্মাণ করলেন, তারপর সেখানে একটি ভোজ সভার আয়োজন করলেন, অতঃপর লোকদেরকে সে ভোজের খাদ্য ও পানিয় গ্রহণের জন্য আহ্বান করলেন।’ তারপর (এ উপমাটি দিয়েই) তারা উঠে গেলেন। আর ঠিক এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও জেগে উঠলেন। তারপর তিনি বললেন: ’এরা কারা তা কি তুমি জান?’ আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেন: ’তারা ছিল ফেরেশতা।’ তিনি (আরও) বললেন: তারা যে উপমাটি দিল, সে সম্পর্কে তুমি কি কিছু জান? আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তখন তিনি বললেন: ’আর রহমান (আল্লাহ) জান্নাত বানিয়েছেন, তারপর তিনি তাঁর বান্দাদেরকে সেদিকে আহ্বান করেছেন। ফলে যে তাঁর আহ্বানে সাড়া দেবে, সে তাঁর জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আহ্বানে সাড়া দেবে না, তিনি তাকে পাকড়াও করবেন এবং শাস্তি দেবেন।”[2]

بَاب صِفَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْكُتُبِ قَبْلَ مَبْعَثِهِ

أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ التَّمِيمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى الْبَطْحَاءِ، وَمَعَهُ ابْنُ مَسْعُودٍ، فَأَقْعَدَهُ وَخَطَّ عَلَيْهِ خَطًّا، ثُمَّ قَالَ: " لَا تَبْرَحَنَّ فَإِنَّهُ سَيَنْتَهِي إِلَيْكَ رِجَالٌ فَلَا تُكَلِّمْهُمْ، فَإِنَّهُمْ لَنْ يُكَلِّمُوكَ "، فَمَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَيْثُ أَرَادَ، ثُمَّ جَعَلُوا يَنْتَهُونَ إِلَى الْخَطِّ لَا يُجَاوِزُونَهُ، ثُمَّ يَصْدُرُونَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى إِذَا كَانَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ، جَاءَ إِلَيَّ فَتَوَسَّدَ فَخِذِي، وَكَانَ إِذَا نَامَ، نَفَخَ فِي النَّوْمِ، نَفْخًا فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُتَوَسِّدٌ فَخِذِي، رَاقِدٌ، إِذْ أَتَانِي رِجَالٌ كَأَنَّهُمْ الْجِمَالُ عَلَيْهِمْ ثِيَابٌ بِيضٌ اللَّهُ أَعْلَمُ مَا بِهِمْ مِنْ الْجَمَالِ حَتَّى قَعَدَ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رَأْسِهِ، وَطَائِفَةٌ مِنْهُمْ عِنْدَ رِجْلَيْهِ، فَقَالُوا بَيْنَهُمْ: مَا رَأَيْنَا عَبْدًا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ هَذَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ عَيْنَيْهِ لَتَنَامَانِ، وَإِنَّ قَلْبَهُ لَيَقْظَانُ، اضْرِبُوا لَهُ مَثَلًا: سَيِّدٌ بَنَى قَصْرًا ثُمَّ جَعَلَ مَأْدُبَةً فَدَعَا النَّاسَ إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ، ثُمَّ ارْتَفَعُوا، وَاسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ ذَلِكَ، فَقَالَ: " أَتَدْرِي مَنْ هَؤُلَاءِ؟ "، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: " هُمْ الْمَلَائِكَةُ "، قَالَ: " وَهَلْ تَدْرِي مَا الْمَثَلُ الَّذِي ضَرَبُوهُ؟ "، قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: الرَّحْمَنُ بَنَى الْجَنَّةَ فَدَعَا إِلَيْهَا عِبَادَهُ، فَمَنْ أَجَابَهُ، دَخَلَ جَنَّتَهُ، وَمَنْ لَمْ يُجِبْهُ، عَاقَبَهُ وَعَذَّبَهُ

إسناده حسن

اخبرنا الحسن بن علي، حدثنا ابو اسامة، عن جعفر بن ميمون التميمي، عن ابي عثمان النهدي، ان رسول الله صلى الله عليه وسلم خرج الى البطحاء، ومعه ابن مسعود، فاقعده وخط عليه خطا، ثم قال: " لا تبرحن فانه سينتهي اليك رجال فلا تكلمهم، فانهم لن يكلموك "، فمضى رسول الله صلى الله عليه وسلم حيث اراد، ثم جعلوا ينتهون الى الخط لا يجاوزونه، ثم يصدرون الى النبي صلى الله عليه وسلم حتى اذا كان من اخر الليل، جاء الي فتوسد فخذي، وكان اذا نام، نفخ في النوم، نفخا فبينا رسول الله صلى الله عليه وسلم متوسد فخذي، راقد، اذ اتاني رجال كانهم الجمال عليهم ثياب بيض الله اعلم ما بهم من الجمال حتى قعد طاىفة منهم عند راسه، وطاىفة منهم عند رجليه، فقالوا بينهم: ما راينا عبدا اوتي مثل ما اوتي هذا النبي صلى الله عليه وسلم: ان عينيه لتنامان، وان قلبه ليقظان، اضربوا له مثلا: سيد بنى قصرا ثم جعل مادبة فدعا الناس الى طعامه وشرابه، ثم ارتفعوا، واستيقظ رسول الله صلى الله عليه وسلم عند ذلك، فقال: " اتدري من هولاء؟ "، قلت: الله ورسوله اعلم، قال: " هم الملاىكة "، قال: " وهل تدري ما المثل الذي ضربوه؟ "، قلت: الله ورسوله اعلم، قال: الرحمن بنى الجنة فدعا اليها عباده، فمن اجابه، دخل جنته، ومن لم يجبه، عاقبه وعذبه اسناده حسن

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৩

পরিচ্ছেদঃ ৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল?

১৩. উতবা ইবনু আব্দুস সুলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবী ছিলেন, তিনি তাদের নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আপনার (জীবনের) প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল? তিনি বললেন: ’বনী সা’দ ইবনু বাকর গোত্রে এক মহিলা ধাত্রী (দুধ মাতা-হালিমা) আমাকে প্রতিপালন করেছেন। (তাঁর নিকট থাকা অবস্থায় একদা) আমি ও তার (দুধ মাতার) ছেলে মেষ চরাতে গেলাম কিন্তু আমাদের সাথে কোন খাদ্য ও পানিয় নিলাম না। তাই আমি বললাম: হে আমার (দুধ) ভাই! যাও, আমাদের মায়ের নিকট থেকে কিছু খাবার নিয়ে এসো।’ ভাই চলে গেলে আমি মেষপালের নিকট থেকে গেলাম। তখন শকুনের মত সাদা রংয়ের দু’টি পাখি (সদৃশ ফেরেশতা) আমার নিকট উপস্থিত হল। তাদের একজন অপরজনকে বলল: ইনিই কি তিনি? অপরজন বলল: হাঁ। তারা দ্রুত আমার দিকে এগিয়ে এসে আমাকে ধরে চিত করে শুইয়ে দিল। তারপর আমার পেট চিরে ফেলে আমার ’কলব’ বের করে সেটিও চিরে ফেলল। সেখান থেকে কালো রংয়ের দু’টি রক্তপিণ্ড বের করে ফেলল। এরপর তাদের একজন তার সাথীকে বলল: বরফের পানি নিয়ে আস। অতঃপর সে পানি দিয়ে আমার ভেতরটা ধুয়ে দিল। এরপর বলল: এবার তুষার (শীতল) পানি নিয়ে এসো। আর তা দ্বারা সে আমার কলবকে ধুয়ে দিল। তারপর বলল, ’সাকিনাহ’ (স্থিরতা/ মানসিক দৃঢ়তা) নিয়ে এসো।’ এরপর সে তা আমার কলবের ভিতরে ছড়িয়ে দিল। তারপর একজন অপরজনকে বলল: সমান করে সেলাই করে দাও, ফলে সে সমান করে সেলাই করে দিল। তারপর তার উপর নবুওয়াতের মোহর দিয়ে সিলগালা করে দিল। তারপর একজন অপরজনকে বলল: তাঁকে এক পাল্লায় রাখ এবং তাঁর উম্মাতের এক হাজার লোককে আরেক পাল্লায় রাখ।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ফলে আমি যখন আমার উপরের দিকে উঠে যাওয়া পাল্লার হাজার লোকের দিকে তাকালাম, তখন আমার ভয় হচ্ছিল যে, তাদের কেউ আবার আমার উপরে পড়ে যায় কি-না।’ তারপর সে বলল: যদি তাঁর সকল উম্মতকেও তাঁর সাথে ওজন করা হয়, তবুও তাঁর পাল্লা ঝুঁকে যাবে।’ তারপর তারা দু’জন আমাকে ছেড়ে চলে গেল।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: তখন আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। তারপর আমার (দুধ) মা’র নিকট এসে আমি যে ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিলাম, তা সব খুলে বললাম। তিনি আশংকা করলেন যে, আমাকে নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই তিনি বললেন: আমি তোমার জন্য আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তারপর তিনি তার উষ্ট্রীতে সাওয়ার হলেন এবং আমাকেও তুলে নিয়ে আমার পিছনে বসে যাত্রা করলেন। এভাবে সোজা আমার মা’য়ের নিকট পোঁছে গেলাম। তারপর তিনি বললেন: আমি আমার আমানত ও যিম্মা আদায় করেছি।’ এবং আমাকে কেন্দ্র করে যা কিছু ঘটেছে তিনি তাকে সব খুলে বললেন। কিন্তু তিনি এতে ভয় পেলেন না। বরং তিনি বললেন: তার ভুমিষ্ঠ হওয়ার সময় আমি এমন একটি নূর দেখেছি, যাতে শামের (সিরিয়া অঞ্চল) রাজপ্রাসাদও আলোকিত হয়ে গিয়েছিল।”[1]

أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ بَحِيرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو السُّلَمِيُّ، عَنْ عُتْبَةَ بْنِ عَبْدٍ السُّلَمِيِّ، أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَهُ رَجُلٌ: كَيْفَ كَانَ أَوَّلُ شَأْنِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟، قَالَ: " كَانَتْ حَاضِنَتِي مِنْ بَنِي سَعْدِ بْنِ بَكْرٍ، فَانْطَلَقْتُ أَنَا، وَابْنٌ لَهَا فِي بَهْمٍ لَنَا وَلَمْ نَأْخُذْ مَعَنَا زَادًا، فَقُلْتُ: يَا أَخِي، اذْهَبْ فَأْتِنَا بِزَادٍ مِنْ عِنْدِ أُمِّنَا، فَانْطَلَقَ أَخِي وَمَكَثْتُ عِنْدَ الْبَهْمِ، فَأَقْبَلَ طَائِرَانِ أَبْيَضَانِ كَأَنَّهُمَا نَسْرَانِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟، قَالَ الْآخَرُ: نَعَمْ، فَأَقْبَلَا يَبْتَدِرَانِي فَأَخَذَانِي فَبَطَحَانِي لِلْقَفَا فَشَقَّا بَطْنِي ثُمَّ اسْتَخْرَجَا قَلْبِي فَشَقَّاهُ، فَأَخْرَجَا مِنْهُ عَلَقَتَيْنِ سَوْدَاوَيْنِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: ائْتِنِي بِمَاءِ ثَلْجٍ، فَغَسَلَ بِهِ جَوْفِي، ثُمَّ قَالَ: ائْتِنِي بِمَاءِ بَرَدٍ، فَغَسَلَ بِهِ قَلْبِي، ثُمَّ قَالَ: ائْتِنِي بِالسَّكِينَةِ فَذَرَّهُ فِي قَلْبِي، ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: حُصْهُ، فَحَاصَهُ وَخَتَمَ عَلَيْهِ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ، ثُمَّ قَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: اجْعَلْهُ فِي كِفَّةٍ وَاجْعَلْ أَلْفًا مِنْ أُمَّتِهِ فِي كِفَّةٍ "، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَإِذَا أَنَا أَنْظُرُ إِلَى الْأَلْفِ فَوْقِي أُشْفِقُ أَنْ يَخِرَّ عَلَيَّ بَعْضُهُمْ، فَقَالَ: لَوْ أَنَّ أُمَّتَهُ وُزِنَتْ بِهِ لَمَالَ بِهِمْ، ثُمَّ انْطَلَقَا وَتَرَكَانِي "، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " وَفَرِقْتُ فَرَقًا شَدِيدًا، ثُمَّ انْطَلَقْتُ إِلَى أُمِّي فَأَخْبَرْتُهَا بِالَّذِي لَقِيتُ، فَأَشْفَقَتْ أَنْ يَكُونَ قَدْ الْتَبَسَ بِي، فَقَالَتْ: أُعِيذُكَ بِاللَّهِ، فَرَحَلَتْ بَعِيرًا لَهَا، فَجَعَلَتْنِي عَلَى الرَّحْلِ وَرَكِبَتْ خَلْفِي حَتَّى بُلَغْنَا إِلَى أُمِّي، فَقَالَتْ: أَدَّيْتُ أَمَانَتِي وَذِمَّتِي، وَحَدَّثَتْهَا بِالَّذِي لَقِيتُ، فَلَمْ يَرُعْهَا ذَلِكَ، وَقَالَتْ: إِنِّي رَأَيْتُ حِينَ خَرَجَ مِنِّي شَيْئًا، يَعْنِي: نُورًا أَضَاءَتْ مِنْهُ قُصُورُ الشَّامِ

إسناده ضعيف بقية بن الوليد يدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الاسناد

اخبرنا نعيم بن حماد، حدثنا بقية، عن بحير، عن خالد بن معدان، حدثنا عبد الرحمن بن عمرو السلمي، عن عتبة بن عبد السلمي، انه حدثهم وكان من اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم: ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال له رجل: كيف كان اول شانك يا رسول الله؟، قال: " كانت حاضنتي من بني سعد بن بكر، فانطلقت انا، وابن لها في بهم لنا ولم ناخذ معنا زادا، فقلت: يا اخي، اذهب فاتنا بزاد من عند امنا، فانطلق اخي ومكثت عند البهم، فاقبل طاىران ابيضان كانهما نسران، فقال احدهما لصاحبه: اهو هو؟، قال الاخر: نعم، فاقبلا يبتدراني فاخذاني فبطحاني للقفا فشقا بطني ثم استخرجا قلبي فشقاه، فاخرجا منه علقتين سوداوين، فقال احدهما لصاحبه: اىتني بماء ثلج، فغسل به جوفي، ثم قال: اىتني بماء برد، فغسل به قلبي، ثم قال: اىتني بالسكينة فذره في قلبي، ثم قال احدهما لصاحبه: حصه، فحاصه وختم عليه بخاتم النبوة، ثم قال احدهما لصاحبه: اجعله في كفة واجعل الفا من امته في كفة "، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " فاذا انا انظر الى الالف فوقي اشفق ان يخر علي بعضهم، فقال: لو ان امته وزنت به لمال بهم، ثم انطلقا وتركاني "، قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " وفرقت فرقا شديدا، ثم انطلقت الى امي فاخبرتها بالذي لقيت، فاشفقت ان يكون قد التبس بي، فقالت: اعيذك بالله، فرحلت بعيرا لها، فجعلتني على الرحل وركبت خلفي حتى بلغنا الى امي، فقالت: اديت امانتي وذمتي، وحدثتها بالذي لقيت، فلم يرعها ذلك، وقالت: اني رايت حين خرج مني شيىا، يعني: نورا اضاءت منه قصور الشام اسناده ضعيف بقية بن الوليد يدلس تدليس التسوية وقد عنعن في هذا الاسناد

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৪

পরিচ্ছেদঃ ৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল?

১৪. আবী যার গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যে একজন নবী, একথা আপনি কিভাবে জানতে পারলেন, যাতে আপনি নিশ্চিত হন? তিনি বললেন: ’হে আবূ যার! (একদা) আমি যখন মক্কার কোন এক উপত্যকায় ছিলাম, তখন আমার নিকট দু’জন ফেরেশতা এল। তাদের একজন জমিনের উপর অবতরণ করল এবং অপরজন আসমান ও জমিনের মাঝামাঝি রইল। তাদের একজন অপরজনকে বলল: ইনিই কি তিনি? অপরজন বলল: হাঁ। সে বলল: তাঁকে একজন লোকের সাথে ওজন কর। আমাকে তার সাথে ওজন করা হল আর আমি তার চেয়ে ভারী হয়ে গেলাম। তারপর সে বলল: তাঁকে দশজন লোকের সাথে ওজন কর। আমাকে তাদের সাথে ওজন করা হল। আর আমি তাদের চেয়েও ভারী হয়ে গেলাম। তারপর সে বলল: তাঁকে একশ’ জন লোকের সাথে ওজন কর। আমাকে তাদের সাথে ওজন করা হল। আর আমি তাদের চেয়েও ভারী হয়ে গেলাম। তারপর সে বলল: তাঁকে এক হাজার জন লোকের সাথে ওজন কর। আমাকে (তাদের সাথে) ওজন করা হল। আর আমি তাদের চেয়েও ভারী হয়ে গেলাম। আমি যেন তাদেরকে দেখতে পাচ্ছি যে, তারা ওজনের পাল্লা হতে আমার উপর ছিটকে পড়তে যাচ্ছে। তিনি বলেন: তারপর তাদের একজন অপরজনকে বলল: যদি তাঁকে তাঁর পুরো উম্মাতের সাথেও ওজন কর, তবু তিনি তাদের চেয়ে ভারী হয়ে যাবেন।”[1]

أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عِمْرَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عُثْمَانَ الْقُرَشِيُّ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟، فَقَالَ: " يَا أَبَا ذَرٍّ، أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَعْضِ بَطْحَاءِ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا عَلَي الْأَرْضِ، وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟، قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: فَزِنْهُ بِرَجُلٍ، فَوُزِنْتُ بِهِ فَوَزَنْتُهُ، ثُمَّ قَالَ: فَزِنْهُ بِعَشَرَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ، ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِمِئَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ، ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِأَلْفٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ خِفَّةِ الْمِيزَانِ، قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ وَزَنْتَهُ بِأُمَّتِهِ لَرَجَحَهَا

إسناده منقطع عروة بن الزبير لم يدرك أبا ذر الغفاري ورجاله ثقات

اخبرنا عبد الله بن عمران، حدثنا ابو داود، حدثنا جعفر بن عثمان القرشي، عن عثمان بن عروة بن الزبير، عن ابيه، عن ابي ذر الغفاري، قال: قلت: يا رسول الله، كيف علمت انك نبي حتى استيقنت؟، فقال: " يا ابا ذر، اتاني ملكان وانا ببعض بطحاء مكة فوقع احدهما علي الارض، وكان الاخر بين السماء والارض، فقال احدهما لصاحبه: اهو هو؟، قال: نعم، قال: فزنه برجل، فوزنت به فوزنته، ثم قال: فزنه بعشرة، فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بمىة، فوزنت بهم فرجحتهم، ثم قال: زنه بالف، فوزنت بهم فرجحتهم كاني انظر اليهم ينتثرون علي من خفة الميزان، قال: فقال احدهما لصاحبه: لو وزنته بامته لرجحها اسناده منقطع عروة بن الزبير لم يدرك ابا ذر الغفاري ورجاله ثقات

হাদিসের মানঃ সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৫

পরিচ্ছেদঃ ৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রাথমিক অবস্থা কেমন ছিল?

১৫. আবু সালিহ (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে ডেকে বলতেন: হে মানব মণ্ডলী! নিশ্চয় আমি রহমত ও উপহার (হিসেবে প্রেরিত)।[1]

أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُنَادِيهِمْ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا أَنَا رَحْمَةٌ مُهْدَاةٌ

إسناده صحيح ولكنه مرسل

اخبرنا اسماعيل بن خليل، حدثنا علي بن مسهر، حدثنا الاعمش، عن ابي صالح، قال: كان النبي صلى الله عليه وسلم يناديهم: يا ايها الناس، انما انا رحمة مهداة اسناده صحيح ولكنه مرسل

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৬

পরিচ্ছেদঃ ৪. আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর প্রতি গাছ-পালা, চতুষ্পদ জন্তু ও জিনদের ঈমান আনয়নের মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা

১৬. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে কোন এক সফরে ছিলাম। তখন একজন বেদুইন এসে উপস্থিত হল। যখন সে তাঁর নিকটবর্তী হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন: ’তুমি কোথায় যেতে চাচ্ছ? সে বলল, আমার পরিবারের নিকট যেতে চাচ্ছি। তিনি তাকে বললেন: তোমার কি কল্যাণের কোন প্রয়োজন আছে? সে বলল, তা (সে কল্যাণ) আবার কি? তিনি বললেন: ’তুমি এ কথার সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর কোন অংশীদার নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। সে জিজ্ঞেস করল, আপনার এ কথার সত্যায়ন করবে কে? তিনি বললেন: এই বাবলাগাছ সাক্ষ্য দেবে। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপত্যকার কিনারায় অবস্থিত বাবলা গাছটিকে ডাকলেন এবং সে মাটিতে দাগ কাটতে কাটতে এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল। আর তিনি সেই গাছের নিকট তিনবার এর সাক্ষ্য চাইলেন, আর সেটি তিনবারই সেভাবে সাক্ষ্য দিল যেভাবে তিনি বলেছিলেন। তারপর সেই গাছটি আপন স্থানে ফিরে গেল। তখন বেদুইন লোকটিও তার গোত্রের নিকট ফিরে গেল। আর বলে গেল, যদি আমার ক্বওম আমার অনুসরণ করে, তবে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে আমি আপনার কাছে উপস্থিত হবে এবং নইলে আমি একাই ফিরে আসব এবং আপনার নিকট অবস্থান করব।”[1]

بَاب مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالي بِهِ نَبِيَّهُ مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ طَرِيفٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَيَّانَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، قَالَ: كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ فَأَقْبَلَ أَعْرَابِيٌّ فَلَمَّا دَنَا مِنْهُ، قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أَيْنَ تُرِيدُ؟ "، قَالَ: إِلَى أَهْلِي، قَالَ: " هَلْ لَكَ فِي خَيْرٍ؟ "، قَالَ: وَمَا هُوَ؟، قَالَ: " تَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ "، فَقَالَ: وَمَنْ يَشْهَدُ عَلَى مَا تَقُولُ؟، قَالَ: " هَذِهِ السَّلَمَةُ "، فَدَعَاهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ بِشَاطِئِ الْوَادِي فَأَقْبَلَتْ تَخُدُّ الْأَرْضَ خَدًّا حَتَّى قَامَتْ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَاسْتَشْهَدَهَا ثَلَاثًا، فَشَهِدَتْ ثَلَاثًا أَنَّهُ كَمَا قَالَ، ثُمَّ رَجَعَتْ إِلَى مَنْبَتِهَا، وَرَجَعَ الْأَعْرَابِيُّ إِلَى قَوْمِهِ، وَقَالَ: إِنْ اتَّبَعُونِي أَتَيْتُكَ بِهِمْ، وَإِلَّا رَجَعْتُ، فَكُنْتُ مَعَكَ

حديث صحيح

اخبرنا محمد بن طريف، حدثنا محمد بن فضيل، حدثنا ابو حيان، عن عطاء، عن ابن عمر رضي الله عنهما، قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فاقبل اعرابي فلما دنا منه، قال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اين تريد؟ "، قال: الى اهلي، قال: " هل لك في خير؟ "، قال: وما هو؟، قال: " تشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له، وان محمدا عبده ورسوله "، فقال: ومن يشهد على ما تقول؟، قال: " هذه السلمة "، فدعاها رسول الله صلى الله عليه وسلم وهي بشاطى الوادي فاقبلت تخد الارض خدا حتى قامت بين يديه، فاستشهدها ثلاثا، فشهدت ثلاثا انه كما قال، ثم رجعت الى منبتها، ورجع الاعرابي الى قومه، وقال: ان اتبعوني اتيتك بهم، والا رجعت، فكنت معك حديث صحيح

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৭

পরিচ্ছেদঃ ৪. আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর প্রতি গাছ-পালা, চতুষ্পদ জন্তু ও জিনদের ঈমান আনয়নের মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা

১৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে এক সফরে বের হলাম। তিনি প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটাতে এতটা আড়ালে চলে যেতেন যাতে তাঁকে আর দেখা যেত না। আমরা এমন এক মরুভূমিতে অবতরণ করলাম যেখানে কোন গাছপালা কিংবা পাহাড় চোখে পড়ছিল না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: হে জাবির, তোমার পাত্রে পানি নাও এবং আমার সাথে এসো।’ বর্ণনাকারী (জাবির রাদ্বি:) বলেন, আমরা চলতে লাগলাম (এবং এত দূরে গেলাম যাতে) আমাদেরকে আর দেখা না যায়। চলতে চলতে দু’টি গাছ দেখা গেল, যাদের মাঝে দূরত্ব ছিল হাত চারেক। তখন তিনি আমাকে বললেন: ’হে জাবির, তুমি এ গাছটির নিকট যাও এবং তাকে বল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাকে বলছেন যে, ’তুমি তোমার সাথীর সাথে ‍এমনভাবে মিলিত হও, যাতে আমি তোমাদের অন্তরালে (হাজত পূরণের উদ্দেশ্যে) বসতে পারি।’

বর্ণনাকারী বলেন: আমি তাই করলাম। তখন সেই গাছটি অন্য গাছের সাথে মিলে গেলো আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (প্রয়োজন পূরণ করার উদ্দেশ্যে) গাছ দুটির অন্তরালে বসলেন। তারপর গাছ দুটি যার যার স্থানে ফিরে গেল। তারপর আমরা আবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে রওয়ানা হলাম। তিনি আমাদের মাঝে থাকলে আমাদের মনে হতো, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি ছায়া দান করছে। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সামনে এক মহিলা আসলো, তার সঙ্গে ছিল তার একটি ছেলে। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এ ছেলেটার উপর প্রত্যেক দিন তিন বার করে শয়তান আছর করে। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তিনি ছেলেটিকে তুলে নিলেন এবং তাকে তাঁর এবং জিনের (উটের পিঠে বসানো গদি) সামনের অংশের মাঝে বসালেন। তারপর বললেন: “আল্লাহর দুশমন, দূর হ! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহর দুশমন, দূর হ! আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।- একথাটি তিনি তিনবার বললেন।

তারপর তিনি ছেলেটিকে ঐ মহিলার নিকট ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তীতে যখন আমরা আমাদের সফর শেষ করে এ স্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন সেই মহিলাটি আবার আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। তার সাথে তার ছেলেটি ছিল এবং দু’টি মেষ ছিল যেগুলো সে হাঁকিয়ে আনছিল। মহিলাটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার পক্ষ থেকে এ হাদিয়াটুকু গ্রহণ করুন। যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন, সেই সত্ত্বার কসম, সেই দিনের পর শয়তান আর ওর কাছে ফিরে আসেনি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তার নিকট থেকে একটি মেষ গ্রহণ কর এবং অপরটি তাকে ফিরিয়ে দাও।’

বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর আমরা রওনা দিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝেই ছিলেন, এমতাবস্থায় মনে হচ্ছিল যেন পাখিরা আমাদের উপর ছায়া দান করছে। এমন সময় কোথা হতে জানি আওয়াজ করতে করতে একটি উট পালিয়ে আসল এবং লোকদের দুই সারির মাঝে এসে সাজদায় পড়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে পড়লেন এবং লোকদেরকে বললেন: ’এ উটটির মালিক কে?’ তখন আনসারী কিছু যুবক বলে উঠল: ইয়া রাসূলুল্লাহ, ওটি আমাদের উট।

তিনি বললেন: ’ওটার কী হয়েছে?’ তারা বলল, এর পিঠে আমরা প্রায় বিশ বছর ধরে পানি বহন করে আসছি। আর ওটা বেশ মোটা তাজা ছিল। এখন আমরা চাচ্ছি এটিকে যবেহ/কুরবানী করে আমাদের বাচ্চাদের মাঝে বণ্টন করে দিতে। এমতাবস্থায় এটি আমাদের থেকে পালিয়ে এসেছে। তিনি বললেন: ’তোমরা একে আমার কাছে বিক্রি করে দাও।’ তারা বলল, না, বরং ওটি আপনারই, হে আল্লাহর রাসূল!

তিনি বললেন: “তা যখন করবে না, তখন ওর মৃত্যু পর্যন্ত ওর সাথে সদাচারণ কর।” এ সময় মুসলিমগণ বলে উঠলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, পশুদের থেকে আমরাই তো আপনাকে সাজদা করার ব্যাপারে অধিক হকদার। তিনি বললেন: ’কোন কিছুরই কোন কিছুকে সাজদা করা উচিত নয়। তা যদি হত (অর্থাৎ এভাবে সাজদা করার অনুমতি থাকত), তবে নারীদের জন্য তাদের স্বামীদেরকে সাজদা করাই সঙ্গত হত (কিন্তু এর অনুমতি নেই)।”[1]

بَاب مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالي بِهِ نَبِيَّهُ مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ

أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ إِسْمَاعِيل بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: خَرَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ، وَكَانَ لَا يَأْتِي الْبَرَازَ حَتَّى يَتَغَيَّبَ فَلَا يُرَى، فَنَزَلْنَا بِفَلَاةٍ مِنْ الْأَرْضِ لَيْسَ فِيهَا شَجَرةٌ، وَلَا عَلَمٌ، فَقَالَ: " يَا جَابِرُ، اجْعَلْ فِي إِدَاوَتِكَ مَاءً ثُمَّ انْطَلِقْ بِنَا "، قَالَ: فَانْطَلَقْنَا حَتَّى لَا نُرَى، فَإِذَا هُوَ بِشَجَرَتَيْنِ بَيْنَهُمَا أَرْبَعُ أَذْرُعٍ، فَقَالَ: " يَا جَابِرُ، انْطَلِقْ إِلَى هَذِهِ الشَّجَرَةِ، فَقُلْ: يُقُولُ لَكِ رَسولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: الْحَقِي بِصَاحِبَتِكِ حَتَّى أَجْلِسَ خَلْفَكُمَا "، فَرَجَعَتْ إِلَيْهَا، فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَلْفَهُمَ، ثُمَّ رَجَعَتَا إِلَى مَكَانِهِمَا، فَرَكِبْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَرَسُولُ اللَّهِ بَيْنَنَا كَأَنَّمَا عَلَيْنَا الطَّيْرُ تُظِلُّنَا، فَعَرَضَتْ لَهُ امْرَأَةٌ مَعَهَا صَبِيٌّ لَهَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ ابْنِي هَذَا يَأْخُذُهُ الشَّيْطَانُ كُلَّ يَوْمٍ ثَلَاثَ مِرَارٍ، قَالَ: فَتَنَاوَلَ الصَّبِيَّ فَجَعَلَهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ مُقَدَّمِ الرَّحْلِ، ثُمَّ قَالَ: " اخْسَأْ عَدُوَّ اللَّهِ، أَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اخْسَأْ عَدُوَّ اللَّهِ أَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا "، ثُمَّ دَفَعَهُ إِلَيْهَا، فَلَمَّا قَضَيْنَا سَفَرَنَا، مَرَرْنَا بِذَلِكَ الْمَكَانِ فَعَرَضَتْ لَنَا الْمَرْأَةُ مَعَهَا صَبِيُّهَا، وَمَعَهَا كَبْشَانِ تَسُوقُهُمَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ اقْبَلْ مِنِّي هَدِيَّتِي، فَوَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا عَادَ إِلَيْهِ بَعْدُ، فَقَالَ: " خُذُوا مِنْهَا وَاحِدًا وَرُدُّوا عَلَيْهَا الْآخَرَ "، قَالَ: ثُمَّ سِرْنَا وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَنَا كَأَنَّمَا عَلَيْنَا الطَّيْرُ تُظِلُّنَا، فَإِذَا جَمَلٌ نَادٌّ حَتَّى إِذَا كَانَ بَيْنَ سِمَاطَيْنِ خَرَّ سَاجِدًا، فَجَلَسَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ عَلَيَّ النَّاسَ: " مَنْ صَاحِبُ الْجَمَلِ؟ " فَإِذَا فِتْيَةٌ مِنْ الْأَنْصَارِ، قَالُوا: هُوَ لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " فَمَا شَأْنُهُ "؟، قَالُوا: اسْتَنَيْنَا عَلَيْهِ مُنْذُ عِشْرِينَ سَنَةً وَكَانَتْ بِهِ شُحَيْمَةٌ فَأَرَدْنَا أَنْ نَنْحَرَهُ فَنَقْسِمَهُ بَيْنَ غِلْمَانِنَا، فَانْفَلَتَ مِنَّا، قَالَ: " بِيعُونِيهِ "، قَالُوا: لَا، بَلْ هُوَ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ: " أَمَّا لا، فَأَحْسِنُوا إِلَيْهِ حَتَّى يَأْتِيَهُ أَجَلُهُ "، قَالَ الْمُسْلِمُونَ عِنْدَ ذَلِكَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَحْنُ أَحَقُّ بِالسُّجُودِ لَكَ مِنْ الْبَهَائِمِ، قَالَ: " لَا يَنْبَغِي لِشَيْءٍ أَنْ يَسْجُدَ لِشَيْءٍ وَلَوْ كَانَ ذَلِكَ، كَانَ النِّسَاءُ لِأَزْوَاجِهِنَّ

إسناده ضعيف لضعف إسماعيل بن عبد الملك . ولكن الحديث صحيح بشواهده

اخبرنا عبيد الله بن موسى، عن اسماعيل بن عبد الملك، عن ابي الزبير، عن جابر رضي الله عنه، قال: خرجت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، وكان لا ياتي البراز حتى يتغيب فلا يرى، فنزلنا بفلاة من الارض ليس فيها شجرة، ولا علم، فقال: " يا جابر، اجعل في اداوتك ماء ثم انطلق بنا "، قال: فانطلقنا حتى لا نرى، فاذا هو بشجرتين بينهما اربع اذرع، فقال: " يا جابر، انطلق الى هذه الشجرة، فقل: يقول لك رسول الله صلى الله عليه وسلم: الحقي بصاحبتك حتى اجلس خلفكما "، فرجعت اليها، فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم خلفهم، ثم رجعتا الى مكانهما، فركبنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم ورسول الله بيننا كانما علينا الطير تظلنا، فعرضت له امراة معها صبي لها، فقالت: يا رسول الله، ان ابني هذا ياخذه الشيطان كل يوم ثلاث مرار، قال: فتناول الصبي فجعله بينه وبين مقدم الرحل، ثم قال: " اخسا عدو الله، انا رسول الله صلى الله عليه وسلم اخسا عدو الله انا رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاثا "، ثم دفعه اليها، فلما قضينا سفرنا، مررنا بذلك المكان فعرضت لنا المراة معها صبيها، ومعها كبشان تسوقهما، فقالت: يا رسول الله اقبل مني هديتي، فوالذي بعثك بالحق ما عاد اليه بعد، فقال: " خذوا منها واحدا وردوا عليها الاخر "، قال: ثم سرنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم بيننا كانما علينا الطير تظلنا، فاذا جمل ناد حتى اذا كان بين سماطين خر ساجدا، فجلس رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال علي الناس: " من صاحب الجمل؟ " فاذا فتية من الانصار، قالوا: هو لنا يا رسول الله، قال: " فما شانه "؟، قالوا: استنينا عليه منذ عشرين سنة وكانت به شحيمة فاردنا ان ننحره فنقسمه بين غلماننا، فانفلت منا، قال: " بيعونيه "، قالوا: لا، بل هو لك يا رسول الله، قال: " اما لا، فاحسنوا اليه حتى ياتيه اجله "، قال المسلمون عند ذلك: يا رسول الله، نحن احق بالسجود لك من البهاىم، قال: " لا ينبغي لشيء ان يسجد لشيء ولو كان ذلك، كان النساء لازواجهن اسناده ضعيف لضعف اسماعيل بن عبد الملك . ولكن الحديث صحيح بشواهده

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৮

পরিচ্ছেদঃ ৪. আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর প্রতি গাছ-পালা, চতুষ্পদ জন্তু ও জিনদের ঈমান আনয়নের মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা

১৮. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে হাঁটতে হাঁটতে বনী নাজ্জারের এলাকায় একটি দেয়ালঘেরা বাগানের নিকট পৌঁছলাম। তখন সেই বাগানে একটি উট ছিল। যে ব্যক্তিই সেই বাগানে প্রবেশ করত, তার উপরই সেটি চড়াও হত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লোকেরা এ কথা জানালো। তিনি সেখানে গেলেন এবং উটটিকে ডাকলেন। উটটি নিচু হয়ে ঠোঁট মাটির উপর লাগিয়ে তাঁর সামনে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তখন তিনি বললেন: ’তোমরা একটি লাগাম আনো।’ তারপর তিনি একে লাগাম পরালেন এবং তার মালিককে ফিরিয়ে দিলেন। পরে আমাদেরকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন: “আসমান ও জমিনের মাঝে যা কিছু আছে, সকলেই জানে যে, আমি আল্লাহর রাসূল। কেবলমাত্র জ্বিন ও মানুষের মধ্য থেকে অবাধ্যরা ব্যতীত।[1]

بَاب مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالي بِهِ نَبِيَّهُ مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ

حَدَّثَنَا يَعْلَى، حَدَّثَنَا الْأَجْلَحُ، عَنْ الذَّيَّالِ بْنِ حَرْمَلَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، قَالَ: أَقْبَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى دُفِعْنَا إِلَى حَائِطٍ فِي بَنِي النَّجَّارِ، فَإِذَا فِيهِ جَمَلٌ لَا يَدْخُلُ الْحَائِطَ أَحَدٌ إِلَّا شَدَّ عَلَيْهِ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَاهُ، فَدَعَاهُ فَجَاءَ وَاضِعًا مِشْفَرَهُ عَلَى الْأَرْضِ حَتَّى بَرَكَ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَقَالَ: " هَاتُوا خِطَامًا "، فَخَطَمَهُ وَدَفَعَهُ إِلَى صَاحِبِهِ، ثُمَّ الْتَفَتَ، فَقَالَ: مَا بَيْنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ أَحَدٌ إِلَّا يَعْلَمُ أَنِّي رَسُولُ اللَّهِ، إِلَّا عَاصِيَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ

إسناده جيد

حدثنا يعلى، حدثنا الاجلح، عن الذيال بن حرملة، عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه، قال: اقبلنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى دفعنا الى حاىط في بني النجار، فاذا فيه جمل لا يدخل الحاىط احد الا شد عليه، فذكروا ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فاتاه، فدعاه فجاء واضعا مشفره على الارض حتى برك بين يديه، فقال: " هاتوا خطاما "، فخطمه ودفعه الى صاحبه، ثم التفت، فقال: ما بين السماء الى الارض احد الا يعلم اني رسول الله، الا عاصي الجن والانس اسناده جيد

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
১৯

পরিচ্ছেদঃ ৪. আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর প্রতি গাছ-পালা, চতুষ্পদ জন্তু ও জিনদের ঈমান আনয়নের মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা

১৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট একটি ছেলেসহ একজন মহিলা এলো। সে বললো, ইয়া রাসূলূল্লাহ, আমার এ ছেলেটিকে জ্বিনে ধরেছে। সে সকালে খাওয়ার সময় এবং সন্ধ্যায় খাওয়ার সময় তার উপর আক্রমণ চালায় বা প্রভাব বিস্তার করে। ফলে সে তাকে আমাদের প্রতি খবীছ বানিয়ে দিচ্ছে। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বুকে হাত দিয়ে মাসেহ করে দিলেন এবং তার জন্য দু’আ করলেন। অতঃপর সে অনেকখানি বমি করলো। তখন তার ভেতর থেকে কালো রংয়ের কোনো কিছুর বাচ্চা জাতীয় কিছু একটা বের হয়ে দৌড়ে চলে গেল।[1]

بَاب مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالي بِهِ نَبِيَّهُ مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ

أَخْبَرَنَا الْحَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ فَرْقَدٍ السَّبَخِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا، إِنَّ امْرَأَةً جَاءَتْ بِابْنٍ لَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنِي بِهِ جُنُونٌ، وَإِنَّهُ يَأْخُذُهُ عِنْدَ غَدَائِنَا وَعَشَائِنَا فَيُخَبِّثُ عَلَيْنَا، " فَمَسَحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَدْرَهُ، وَدَعَا فَثَعَّ ثَعَّةً، وَخَرَجَ مِنْ جَوْفِهِ مِثْلُ الْجِرْوِ الْأَسْوَدِ، فَسَعَى

إسناده ضعيف من أجل فرقد السبخي

اخبرنا الحجاج بن منهال، حدثنا حماد بن سلمة، عن فرقد السبخي، عن سعيد بن جبير، عن ابن عباس رضي الله عنهما، ان امراة جاءت بابن لها الى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقالت: يا رسول الله ان ابني به جنون، وانه ياخذه عند غداىنا وعشاىنا فيخبث علينا، " فمسح رسول الله صلى الله عليه وسلم صدره، ودعا فثع ثعة، وخرج من جوفه مثل الجرو الاسود، فسعى اسناده ضعيف من اجل فرقد السبخي

হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
২০

পরিচ্ছেদঃ ৪. আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর প্রতি গাছ-পালা, চতুষ্পদ জন্তু ও জিনদের ঈমান আনয়নের মাধ্যমে তাঁকে যে সম্মানিত করেছেন, তার বর্ণনা

২০. জাবির ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’নিশ্চয়ই মক্কার একটি পাথরকে আমি চিনি, আমি (নবী হিসেবে) প্রেরিত হওয়ার পূর্ব থেকেই যে আমাকে সালাম দিত। নিশ্চয় সেটিকে এখনও আমি চিনি।’[1]

بَاب مَا أَكْرَمَ اللَّهُ تَعَالي بِهِ نَبِيَّهُ مِنْ إِيمَانِ الشَّجَرِ بِهِ، وَالْبَهَائِمِ، وَالْجِنِّ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ الْعَبْدِيُّ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " إِنِّي لَأَعْرِفُ حَجَرًا بِمَكَّةَ كَانَ يُسَلِّمُ عَلَيَّ قَبْلَ أَنْ أُبْعَثَ إِنِّي لَأَعْرِفُهُ الْآنَ

إسناده جيد

حدثنا محمد بن سعيد، اخبرنا يحيى بن ابي بكير العبدي، عن ابراهيم بن طهمان، عن سماك، عن جابر بن سمرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: " اني لاعرف حجرا بمكة كان يسلم علي قبل ان ابعث اني لاعرفه الان اسناده جيد

হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
ভূমিকা (المقدمة)
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২০ পর্যন্ত, সর্বমোট ৬৭২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে পাতা নাম্বারঃ 1 2 3 4 5 6 · · · 31 32 33 34 পরের পাতা »