১৫৩০

পরিচ্ছেদঃ ২৫৪: গীবত (পরনিন্দা) নিষিদ্ধ এবং বাক্ সংযমের নির্দেশ ও গুরুত্ব

১২/১৫৩০। মু’আয রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি নিবেদন করলাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন আমল বাতলে দেন, যা আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে।’ তিনি বললেন, “তুমি বিরাট (কঠিন) কাজ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে। তবে এটা তার পক্ষে সহজ হবে, যার পক্ষে মহান আল্লাহ সহজ করে দেবেন। (আর তা হচ্ছে এই যে,) তুমি আল্লাহর ইবাদত করবে এবং তার কোন অংশী স্থাপন করবে না। নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দেবে, মাহে রমযানের রোযা পালন করবে এবং কাবা গৃহের হজ্জ পালন করবে।” পুনরায় তিনি বললেন, “তোমাকে কল্যাণের দ্বারসমূহ বাতলে দেব না কি?

রোযা ঢাল স্বরূপ, সদকা গুনাহ নিশ্চিহ্ন করে; যেমন পানি আগুনকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আর মধ্য রাত্রিতে মানুষের নামায।” অতঃপর তিনি এই আয়াত দু’টি পড়লেন- যার অর্থ, “তারা শয্যা ত্যাগ করে, আশায় বুক বেধে এবং আশংকায় ভীতি-বিহ্বল হয়ে তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করে এবং আমি তাদেরকে যে সব জীবিকা দান করেছি, তা থেকে তারা ব্যয় করে থাকে। তাদের সৎকর্মের পুরস্কার স্বরূপ তাদের জন্য নয়ন-প্রীতিকর যা কিছু লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, কেউ তা অবগত নয়।” (সূরা সেজদা ১৬-১৭ আয়াত) তারপর বললেন, “আমি তোমাকে সব বিষয়ের (দ্বীনের) মস্তক, তার খুঁটি, তার উচ্চতম চূড়া বাতলে দেব না কি?” আমি বললাম, ’অবশ্যই বাতলে দিন, হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, “বিষয়ের মস্তক হচ্ছে ইসলাম, তার স্তম্ভ হচ্ছে নামায এবং তার উচ্চতম চূড়া হচ্ছে জিহাদ।” পুনরায় তিনি প্রশ্ন করলেন, “আমি তোমাকে সে সবের মূল সম্বন্ধে বলে দেব না কি?”

আমি বললাম, ’অবশ্যই বলে দিন, হে আল্লাহর রাসূল!’ তখন তিনি নিজ জিভটিকে ধরে বললেন, “তোমার মধ্যে এটিকে সংযত রাখ।” মু’আয বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যে কথা বলি তাতেও কি আমাদেরকে হিসাব দিতে হবে?’ তিনি বললেন, “তোমার মা তোমাকে হারিয়ে ফেলুক হে মুআয! মানুষকে তাদের নিজেদের জিভ-ঘটিত পাপ ছাড়া অন্য কিছু কি তাদের মুখ থুবড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে?” (তিরমিযী, হাসান সহীহ) [1]

(254) بَابُ تَحْرِيْمِ الْغِيْبَةِ وَالْأَمْرِ بِحِفْظِ اللِّسَانِ

وَعَنْ مُعَاذٍ رضي الله عنه قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، أَخْبِرْني بِعَمَلٍ يُدْخِلُني الجَنَّةَ وَيُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ ؟ قَالَ: «لَقَدْ سَأَلتَ عَنْ عَظِيمٍ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللهُ تَعَالَى عَلَيْهِ: تَعْبُدُ اللهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً، وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ، وَتُؤتِي الزَّكَاةَ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ، وَتَحُجُّ البَيْتَ» ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الخَيْرِ ؟ الصَّوْمُ جُنَّةٌ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ المَاءُ النَّارَ، وَصَلاَةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ» ثُمَّ تَلاَ: ﴿ تَتَجَافَىٰ جُنُوبُهُمۡ عَنِ ٱلۡمَضَاجِعِ ﴾ حَتَّى بَلَغَ ﴿ يَعۡمَلُونَ ﴾ [السجدة: ١٦، ١٧] ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الأَمْرِ، وَعَمُودِهِ، وَذِرْوَةِ سِنَامِهِ» قُلْتُ: بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «رَأسُ الأمْرِ الإسْلامُ، وَعَمُودُهُ الصَّلاَةُ، وَذِرْوَةِ سِنَامِهِ الجِهادُ» ثُمَّ قَالَ: «أَلاَ أُخْبِرُكَ بِمِلاَكِ ذَلِكَ كُلِّهِ !» قُلْتُ: بلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ وَقَالَ: «كُفَّ عَلَيْكَ هَذَا» قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُوْنَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ ؟ فَقَالَ: «ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ! وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ إِلاَّ حَصَائِدُ أَلْسِنَتِهِمْ ؟». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

وعن معاذ رضي الله عنه قال: قلت: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، أخبرني بعمل يدخلني الجنة ويباعدني من النار ؟ قال: «لقد سألت عن عظيم، وإنه ليسير على من يسره الله تعالى عليه: تعبد الله لا تشرك به شيئا، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصوم رمضان، وتحج البيت» ثم قال: «ألا أدلك على أبواب الخير ؟ الصوم جنة، والصدقة تطفئ الخطيئة كما يطفئ الماء النار، وصلاة الرجل من جوف الليل» ثم تلا: ﴿ تتجافى جنوبهمۡ عن ٱلۡمضاجع ﴾ حتى بلغ ﴿ يعۡملون ﴾ [السجدة: ١٦، ١٧] ثم قال: «ألا أخبرك برأس الأمر، وعموده، وذروة سنامه» قلت: بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، قال: «رأس الأمر الإسلام، وعموده الصلاة، وذروة سنامه الجهاد» ثم قال: «ألا أخبرك بملاك ذلك كله !» قلت: بلى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، فأخذ بلسانه وقال: «كف عليك هذا» قلت: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم وإنا لمؤاخذون بما نتكلم به ؟ فقال: «ثكلتك أمك! وهل يكب الناس في النار على وجوههم إلا حصائد ألسنتهم ؟». رواه الترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

(254) Chapter: The Prohibition of Backbiting and the Commandment of Guarding one's Tongue


Mu'adh bin Jabal (May Allah be pleased with him) reported:
I asked the Messenger of Allah (ﷺ): "Inform me of an act which will cause me to enter Jannah and keep me far from Hell." He (ﷺ) replied, "You have asked me about a matter of great importance, but it is easy for one for whom Allah makes it easy." He added, "Worship Allah, associate nothing with Him in worship, offer As-Salat (the prayer), pay the Zakat, observe Saum (fasting) during Ramadan and perform Hajj (pilgrimage) to the House of Allah, if you can afford it." He (ﷺ) further said, "Shall I not guide you to the gates of goodness? Fasting is a screen (from Hell), charity extinguishes (i.e., removes) the sins as water extinguishes fire, and standing in prayers by a slave of Allah during the last third part of the night."
Then he recited: "Their sides forsake their beds, to invoke their Rabb in fear and hope, and they spend (in charity in Allah's Cause) out of what We have bestowed on them. No person knows what is kept hidden for them of joy as a reward for what they used to do." (32:16-17)
Then he added, "Shall I tell you of the root of the matter, its pillar and its highest point?" I replied: "Yes! Certainly, O Prophet of Allah." He said, "The root of this matter (foundation) is Islam, its pillar (mainstay is) As-Salat (the prayer) and its highest point is Jihad (fighting in the Cause of Allah)." Then he asked, "Shall I tell you of that which holds all these things?" I said: "Yes, O Messenger of Allah." So he took hold of his tongue and said, "Keep this in control." I asked: "O Messenger of Allah! Shall we really be accounted for what we talk about?" He replied, "May your mother lose you! People will be thrown on their faces into the Hell on account of their tongues."

Commentary: Besides describing Articles of Islam, this Hadith mentions the dangers which lie in the careless use of the tongue. All good actions can go waste if one does not guard his speech. One should, therefore, guard his tongue against that which Allah has made prohibited.


হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
রিয়াযুস স্বা-লিহীন (রিয়াদুস সালেহীন)
১৭/ নিষিদ্ধ বিষয়াবলী (كتاب الأمور المنهي عنها)