পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৪-[২১] আবূ উমামাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা আমাকে সমগ্র দুনিয়াবাসীর জন্য রহমত এবং পথ-প্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আমার সে মহান প্রভু আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন- সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র, দেব-দেবীর মূর্তি ও শূলি ক্রুশ এবং জাহিলী যুগের রসম-রেওয়াজ মূলোৎপাটন করার। আর আমার মহান প্রতিপালক তাঁর ক্ষমতার কসম করে বলেছেনঃ আমার যে কোনো বান্দা এক ঢোক মদ পান করবে, আমি তাকে অবশ্যই অনুরূপ জাহান্নামীদের পুঁজ পান করাব। আর যে ব্যক্তি আমার ভয়ে ভীত হয়ে তা পান করা বর্জন করবে, আমি নিশ্চয় তাকে আমার কূপ থেকে (জান্নাতের সুপেয়) পান করাব। (আহমাদ)[1]
وَعَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى بَعَثَنِي رَحْمَة للعالمينَ وهُدىً لِلْعَالِمِينَ وَأَمَرَنِي رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ بِمَحْقِ الْمَعَازِفِ وَالْمَزَامِيرِ وَالْأَوْثَانِ وَالصُّلُبِ وَأَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ وَحَلَفَ رَبِّي عزَّ وجلَّ: بعِزَّتي لَا يشربُ عبدٌ منْ عَبِيدِي جرعة خَمْرٍ إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنَ الصَّدِيدِ مِثْلَهَا وَلَا يَتْرُكُهَا مِنْ مَخَافَتِي إِلَّا سَقَيْتُهُ مِنْ حِيَاضِ الْقُدس . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: (أَمْرُ الْجَاهِلِيَّةِ) জাহিলী যুগের রসম-রেওয়াজ বলতে নিহায়াহ্ করা তথা মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে জোরে জোরে কাঁদা এবং খানার আয়োজন করা। পাপ কাজের জন্য সাহসিকতা প্রকাশ করা, উত্তেজিত করা এবং বংশ নিয়ে গর্ব করা।
ত্বীবী বলেনঃ স্বতন্ত্রভাবে মদের বিষয়টি উল্লেখ করার কারণ হলো। তা হলো «أُمُّ الْخَبَائِثِ» তথা পাপ কাজ সংঘটিত হওয়ার মূল। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - মদের বর্ণনা ও মধ্যপায়ীকে ভীতিপ্রদর্শন করা
৩৬৫৬-[২৩] আবূ মূসা আল আশ্’আরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তিন শ্রেণীর ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না- সর্বদা মদ্যপায়ী, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী এবং জাদু-টোনায় আস্থাভাজনকারী। (আহমাদ)[1]
وَعَنْ أَبِي مُوسَى
الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ لَا تَدْخُلُ الجنَّةَ: مُدْمنُ الخمرِ وقاطِعُ الرَّحِم ومصدق السحر رَوَاهُ أَحْمد
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৬৯৯-[৩৯] গালিব আল কত্ত্বান (রহঃ) জনৈক ব্যক্তি হতে, তিনি তার পিতা হতে, আর তিনি তার দাদা হতে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সরদারী একটি সত্যায়িত বিষয়। আর মানুষের জন্য সরদার হওয়াটা অত্যাবশ্যকীয় বটে। কিন্তু (অধিকাংশ) সরদারগণ জাহান্নামী হবে। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ غَالِبٍ الْقَطَّانِ عَنْ رَجُلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِن العرافة حق ولابد لِلنَّاسِ مِنْ عُرَفَاءَ وَلَكِنَّ الْعُرْفَاءَ فِي النَّارِ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসে عِرَافَةَ অর্থাৎ গ্রামের মাতববরী ও সরদারী করাকে প্রথমে সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু শেষ অংশে তাকে অস্বীকার করা হয়েছে। সুতরাং হাদীসের প্রথম অংশ দ্বারা ঐ সকল মাতববর ও সরদারকে বুঝানো হয়েছে যারা গ্রামের বিচার ফায়সালার করার ক্ষেত্রে ন্যায় ইনসাফ কায়িম করে। আর হাদীসের শেষ অংশ দ্বারা ঐ মাতব্বর ও সরদারদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা গ্রামের বিচার ফায়সালা করার ক্ষেত্রে ন্যায় ইনসাফ কায়িম করে না। সুতরাং হাদীসের গোপন অর্থ হচ্ছে অধিকাংশ মাতব্বর ও সরদারগণই জাহান্নামে যাবে তবে কিছু ব্যতীত। মোট কথা, মাতববরী বা সরদারী তখনই দোষণীয় যখন ন্যায় ইনসাফ কায়িম করার পরিবর্তে জুলুম নির্যাতন করা হয়।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭০২-[৪২] মিকদাম ইবনু মা’দীকারাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার কাঁধের উপর হাত রেখে অত্যন্ত আক্ষেপে বলেছেনঃ হে কুদায়ম! (মিকদাম-এর সংক্ষেপ) তুমি যদি আমীর, লেখক ও সরদার না হয়ে মৃত্যুবরণ করো; তাহলে তুমি সাফল্য লাভ করবে। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَن المقدامِ بن معْدي كِربَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَرَبَ عَلَى مَنْكِبَيْهِ ثُمَّ قَالَ: «أَفْلَحْتَ يَا قُدَيْمُ إِنْ مُتَّ وَلَمْ تَكُنْ أَمِيرًا وَلَا كَاتبا وَلَا عريفا» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসে كَاتِبًا অর্থাৎ লেখক দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যারা সরকারী চাকরিতে লেখার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকে। ফলে তারা কখনো কখনো দুর্নীতি করার জন্য মিথ্যা ও অসত্য কথা লিপিবদ্ধ করে তাই তা নিষেধ করা হয়েছে।
দ্বিতীয়তঃ عَرِيْفًا তথা গ্রামের মাতববর ও সরদার হওয়া তখনই দোষণীয় যখন কোনো ব্যক্তি মাতববর ও সরদার হওয়ার পর বিচার ফায়সালা করার সময় ইনসাফ না করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭০৩-[৪৩] ’উকবা ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কর আদায়কারী তথা অনৈতিকভাবে ’উশর ও যাকাত আদায়কারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (আহমাদ, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ صَاحِبُ مَكْسٍ» : يَعْنِي الَّذِي يَعْشُرُ النَّاسَ. رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو دَاوُد والدارمي
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে صَاحِبُ مَكْسٍ বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে যে অন্যায়ভাবে লোকেদের থেকে ‘উশর বা যাকাত আদায় করে।
নিহায়াহ্ গ্রন্থে এসেছে যে, ট্যাক্স বলতে ঐ অংশকে বুঝানো হয়েছে যে অংশটা আদায়কারী মানুষের থেকে গ্রহণ করা হয় আর তা ‘উশর নামে পরিচিত মানুষের মাঝে।
শারহেস্ সুন্নাহ্ গ্রন্থে এসেছে যে, এর দ্বারা ঐ ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে অতিক্রমকারী ব্যবসায়ী কাফেলার নিকট থেকে ট্যাক্স গ্রহণ করে ‘উশর নামে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭০৪-[৪৪] আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে আল্লাহর নিকট ন্যায়পরায়ণ শাসকই হবেন সর্বাধিক প্রিয় এবং সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী। আর কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তা’আলার নিকট যালিম শাসকই হবেন সর্বনিকৃষ্ট ও কঠোরতম ’আযাবের অধিকারী।
অন্য এক বর্ণনাতে আছে, অত্যাচারী শাসক মর্যাদার আসনে আল্লাহর নিকট হতে অনেক দূরে। (তিরমিযী; আর তিনি বলেনঃ হাদীসটি হাসান গরীব)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَقْرَبَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا إِمَامٌ عَادِلٌ وَإِنَّ أَبْغَضَ النَّاسِ إِلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَشَدَّهُمْ عَذَابًا» وَفِي رِوَايَةٍ: «وَأَبْعَدَهُمْ مِنْهُ مَجْلِسًا إِمَامٌ جَائِرٌ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ
ব্যাখ্যা: উল্লেখিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ন্যায়পরায়ণ বাদশাহর প্রশংসা করেছেন এবং সে কিয়ামতের দিন বিশেষ মর্যাদার অধিকারী হবে তাও বলেছেন। আর অত্যাচারী যালিম বাদশাহর ব্যাপারে কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১০-[৫০] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আমার পরে তোমাদের ইমাম বা শাসকের সাথে কিরূপ আচার-ব্যবহার করবে, যখন তারা অমুসলিমদের থেকে ট্যাক্স বা কর ইত্যাদি আদায় করে তারাই ভোগ করবে? তিনি (আবূ যার) বলেন, আমি বললামঃ সে মহান সত্তার কসম! যিনি আপনাকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন। অবশ্যই আমি নিজ তরবারি কাঁধের উপর রেখে তাকে আঘাত করতে থাকবো যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কোনো কাজের কথা বলব না? আর তা হচ্ছে আমার সাথে সাক্ষাৎ হওয়া পর্যন্ত (মৃত্যু অবধি) তুমি ধৈর্যধারণ করো। (আবূ দাঊদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ
وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَيْفَ أَنْتُمْ وَأَئِمَّةً مِنْ بَعْدِي يَسْتَأْثِرُونَ بِهَذَا الْفَيْءِ؟» . قُلْتُ: أَمَا وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ أَضَعُ سَيْفِي عَلَى عَاتِقِي ثُمَّ أَضْرِبُ بِهِ حَتَّى أَلْقَاكَ قَالَ: «أَوَلَا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ؟ تَصْبِرُ حَتَّى تَلقانِي» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: ইমাম ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ উল্লেখিত হাদীসে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাহাবীগণকে বললেন, প্রশ্ন হলো আমার পরে এমন কতিপয় আমীর আসবে যারা নিজেদের ট্যাক্স বা জিয্ইয়ার মাল ভোগ করবে তখন তোমাদের আচরণ তাদের সাথে কিরূপ হবে। এর মাধ্যমে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জানতে চাইলেন যে, তোমরা কি ঐ সময় ধৈর্য ধারণ করবে নাকি লড়াই করবে? কিন্তু আবূ যার বলেছেন যে, আমি শহীদ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে যুদ্ধ করব তখন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে উত্তম পন্থা শিক্ষা দিয়েছেন। আর তা হলো, তুমি যুদ্ধ না করে ধৈর্য ধারণ করবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১১-]৫১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা কি জানো! কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তা’আলার (’আরশের) ছায়ায় সর্বপ্রথম কোন্ শ্রেণীর মানুষ স্থান পাবে? সাহাবীগণ বললেনঃ আল্লাহ ও তাঁর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ই ভালো জানেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ যে সকল (আমীর ও শাসকের) মানুষেরা যখন তাদের (জনসাধারণের) নিকট হক কথা বলে, তখন তারা তা গ্রহণ করে। আর যখন তাদের নিকট কোনো ন্যায্য অধিকার চাওয়া হয়, তখন তারা তা আদায় করে। আর মানুষের ওপর এমনভাবে শাসন করে, যেরূপ নিজের জন্য করে। (আহমাদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
عَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «أَتَدْرُونَ مَنِ السَّابِقُونَ إِلَى ظِلِّ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟» قَالُوا: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ: «الَّذِينَ إِذَا أُعْطُوا الْحَقَّ قَبِلُوهُ وَإِذَا سُئِلُوهُ بَذَلُوهُ وَحَكَمُوا لِلنَّاسِ كحكمِهم لأنفُسِهم»
ব্যাখ্যা: হাদীস বর্ণিত (ظِلِّ اللّٰهِ) ‘‘আল্লাহর ছায়া’’ দ্বারা উদ্দেশ্য আল্লাহর ‘আরশের ছায়া। কেউ কেউ বিনা প্রশ্নে বা বিনা সাদৃশ্যে ‘আল্লাহর ছায়াকে’ (ব্যাখ্যাবিহীন) শাব্দিক অর্থেই গ্রহণ করেছেন। কিয়ামতের দিন ঐ ছায়ায় সর্বাগ্রে ঐ শাসক ও আমীরগণ স্থান পাবে যারা হক কথা বা বিষয় নিজের বিরুদ্ধে হলেও তা কবুল করে এবং মাথা পেতে নেয়। আর তার কাছে কোনো ন্যায্য অধিকার দাবী করলে সে তা গোপন করে না বা তা আটকিয়ে রাখে না, বরং হকদার চাওয়া মাত্রই তাকে তা দিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে কোনো নিন্দুকের নিন্দার পরোয়াও সে করে না।
আর কোনো ক্ষুদ্র বিষয়েও বিচার-ফায়সালায় পক্ষপাতিত্ব করে না, বরং নিজের জন্য বা নিকটতম ব্যক্তির জন্য যা ফায়সালা করে অন্যের জন্যও তাই করে। ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নীচু কোনো ভেদাভেদ করে না, সবার জন্য সে ইনসাফপূর্ণ ফায়সালা প্রদান করে। সে আল্লাহর এই আদেশ বাণীর অনুসরণ করে, আল্লাহর বাণী : ‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দান করো; তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী কোনো আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও।’’ (সূরা আন্ নিসা ৪ : ১৩৫)
ইতিপূর্বে হাদীস অতিবাহিত হয়েছে, ‘‘তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, আর প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।’’ (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১২-[৫২] জাবির ইবনু সামুরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ আমি আমার উম্মাতের ওপর তিনটি বিষয়ে শঙ্কিত থাকি- তা হলো, চাঁদ বা তারকার কক্ষপথে অতিক্রম করার হিসাব অনুযায়ী বৃষ্টি কামনা করা এবং আমীর বা শাসকের জুলুম-অত্যাচার ও তাকদীদের প্রতি অবিশ্বাস করা। (আহমাদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُول: ثلاثةٌ أَخَافُ عَلَى أُمَّتِي: الِاسْتِسْقَاءُ بِالْأَنْوَاءِ وَحَيْفُ السُّلْطَانِ وَتَكْذيب الْقدر
ব্যাখ্যা: এখানে তিনটি কর্ম বা তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে, অথবা তিন প্রকারের মানুষের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ তিনটি কর্মের বা বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে আমার উম্মাত পথভ্রষ্ট হয়ে যায় কিনা আমি সেই আশংকা করি।
প্রথমতঃ যারা তারকা অথবা চন্দ্রের কক্ষপথের মাধ্যমে বৃষ্টি বা পানি কামনা করে থাকে। চন্দ্রের ঊনত্রিশটি কক্ষ পথ রয়েছে, প্রত্যহ এক একটি কক্ষ পথে সে পরিভ্রমণ করে থাকে।
অনুরূপ তারকার রয়েছে নির্দিষ্ট কক্ষপথ, এই কক্ষপথেই তারা পরিভ্রমণ করে থাকে। আরবের মুশরিকগণ চন্দ্র অথবা তারকার উদয় অথবা কক্ষপথের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করতো। অথবা ধারণা করতো যে, অমুক নক্ষত্রের কারণেই আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি। এটা মুসলিম ‘আক্বীদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
সহীহুল বুখারীতে (হাঃ ৪১৪৭) যায়দ ইবনু খালিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার বছর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বের হলোম। একরাতে খুব বৃষ্টি হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। এরপর আমাদের দিকে ফিরে বসলেন, অতঃপর বললেনঃ তোমরা জানো কি, তোমাদের রব কি বলেছেন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রসূলই অধিক জানেন। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেনঃ আমার কতিপয় বান্দা আমার প্রতি ঈমান এনেছে, আর কতিপয় আমার প্রতি কুফরী করেছে। যারা বলেছে আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমরা বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছি তারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী মু’মিন, আর নক্ষত্রের (প্রভাবের) প্রতি অস্বীকারকারী। আর যারা বলেছে যে, অমুক তারকার কারণে বৃষ্টি হয়েছে তারা তারকার প্রতি ঈমান এনেছে এবং আমাকে অস্বীকারকারী কাফির হয়েছে।
আল্লাহ বৃষ্টিদানের একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী মেনে নিয়ে আল্লাহ প্রদত্ত প্রকৃতির স্বভাব মোতাবেক অমাবস্যা অথবা পূর্ণিমার সময় জোয়ার ভাটা অথবা সম্ভাবনার বৃষ্টিপাতের কথা বলা দোষণীয় নয়।
দ্বিতীয়তঃ বাদশাহ বা শাসকের জুলুমও অত্যাচার। অর্থাৎ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতের শাসকদের জুলুমের আশংকা করেছেন। (এ আশংকা আজ কতই না সত্যে পরিণত হয়েছে) [সম্পাদক]
তৃতীয়তঃ তাকদীর বা ভাগ্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। ভাগ্যের ভালো-মন্দ, মিষ্টতা-তিক্ততা সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, এটা ইসলামী ‘আক্বীদার অন্যতম একটি বিষয়। কিন্তু উম্মাতের এক দল লোক এই তাকদীরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, ফলে তারা ঈমানহারা হয়ে যাবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ওপর সেই আশংকা ব্যক্ত করেছেন।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেছেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে আশংকা করেছেন। কেননা যারা আসবাব বা উপকরণকেই মৌলিক কারণ ও যথার্থ বলে বিশ্বাস করে এবং উপকরণের স্রষ্টাকে বাদ দেয় তারা মূলতঃ শির্কের মধ্যে আরেক শির্কে পতিত হয়েছে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১৫-[৫৫] মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে মু’আবিয়াহ্! তুমি যদি কোনো কাজের জন্য শাসক বা জিম্মাদার নিয়োগপ্রাপ্ত হও, তাহলে আল্লাহকে ভয় করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। তিনি [মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)] বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার পর থেকে আমি সর্বদা এ ধারণা করছিলাম যে, আমি একদিন এ দায়িত্বে নিযুক্ত হব। শেষ অবধি আমি এ পরীক্ষায় উপনীত হলাম। (আহমাদ)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا مُعَاوِيَةُ إِنْ وُلِّيتَ أَمْرًا فَاتَّقِ اللَّهَ وَاعْدِلْ» . قَالَ: فَمَا زِلْتُ أَظُنُّ أَنِّي مُبْتَلًى بِعَمَلٍ لِقَوْلِ النَّبِيِّ صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسلم حَتَّى ابْتليت
ব্যাখ্যা: মু‘আবিয়াহ্ ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী উম্মু হাবীবাহ্ (রাঃ)-এর আপন ভাই। মু‘আবিয়াহ্ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপদেশটি ছিল তার নেতৃত্ব পাওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী ও ইঙ্গিত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, তুমি যদি কখনো হুকুমাত এবং ওয়ালায়াতের অধিকারী হও তাহলে বিচার ও শাসনকার্যে আল্লাহকে ভয় করবে এবং লোকেদের মাঝে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচারকার্য পরিচালনা করবে। মু‘আবিয়াহ্ অতীব বুদ্ধিমান সাহাবী, তিনি ধারণা করেন যে, একদিন না একদিন তিনি ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবেন। তার ظُنُّ বা ধারণা يَقِين (ইয়াক্বীন) নিশ্চয়তার অর্থ প্রদান করেছে। অর্থাৎ তার দৃঢ় বিশ্বাস হলো যে, তিনি একদিন ক্ষমতাশীল হবেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭১৯-[৫৯] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন সহনশীল ও ন্যায়পরায়ণ শাসক হবেন আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী। আর কিয়ামতের দিন যালিম ও অত্যাচারী শাসক হবে আল্লাহর নিকট সকল মানুষের মধ্যে নিকৃষ্টতম।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَفْضَلَ عِبَادِ اللَّهِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِمَامٌ عَادِلٌ رَفِيقٌ وَإِنَّ شَرَّ النَّاسِ عِنْدَ اللَّهِ مَنْزِلَةً يَوْمِ الْقِيَامَةِ إِمامٌ جَائِر خرق»
ব্যাখ্যা: (رَفِيقٌ) এর অর্থ অন্তরঙ্গ বন্ধু, নরম আচরণকারী, সহনশীল। অর্থাৎ ধনী-দরিদ্র, ইতর ভদ্র সকলের সাথে কোমল আচরণকারী, সহনশীল, ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ কিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবেন।
অনুরূপ কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হবে যালিম, নিষ্ঠুর শাসক। خَرِقٌ শব্দটি رَفِيقٌ এর বিপরীত। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১১নং হাদীসে এ হাদীসের অনুরূপ হাদীস ও ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭২০-[৬০] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি যদি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি এমন দৃষ্টিতে তাকায়, যাতে সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়, তাহলে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা তাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করবেন। উপরি উল্লেখিত হাদীস চারটি বায়হাক্বী-এর ’শু’আবুল ঈমান’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি ইয়াহ্ইয়া-এর হাদীসের ব্যাপারে বলেছেনঃ এটা মুনক্বতি’ এবং য’ঈফ।[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «من نَظَرَ إِلَى أَخِيهِ نَظْرَةً يُخِيفُهُ أَخَافَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» . رَوَى الْأَحَادِيثَ الْأَرْبَعَةَ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» وَقَالَ فِي حَدِيثِ يَحْيَى هَذَا: مُنْقَطع وَرِوَايَته ضَعِيف
ব্যাখ্যা: أَخِيهِ ‘তার ভাই’ এর দ্বারা নিজ ভাই, মুসলিম ভাই ইত্যাদি। যে কোনো মুসলিমই হতে পারে। তাকানো যদি রুক্ষ-ভীতিকর তাকানো হয় যার কারণে সে ভয় পায় বা আতংক হয়ে যায় তবে তার পরিণাম এই যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ভীতিগ্রস্ত করে ফেলবেন।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ ইসলামের ভ্রাতৃত্বের কারণে একে অপরের নিকট নিরাপত্তার দাবী রাখে।
হাদীসে এসেছে, «الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِه وَيَدِه» প্রকৃত মুসলিম তো সেই যার হাত ও মুখ থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদে থাকে।
এ অনুচ্ছেদে এ হাদীস ইশারা করে ঐদিকে ‘একজন মুসলিম অন্য কোনো মুসলিমের প্রতি ভীতিকর তাকানোর কারণেই কিয়ামতের দিন এই শাস্তির ভাগী হতে হচ্ছে। তাহলে যারা এর চেয়ে অধিক ভীতিকর কাজ এবং জুলুম করে- এ শ্রেণীর কর্মের জন্য কি শাস্তি ভোগ করতে পারে? পক্ষান্তরে বায়হাক্বী প্রভৃতি হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, কেউ যদি তার মুসলিম ভাইয়ের প্রতি দয়ার দৃষ্টিতে তাকান তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
যদিও হাদীসটি দুর্বল বরং কেউ কেউ জাল বলেও মন্তব্য করেছেন, ফলে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পরিহার করা হলো। [সম্পাদক]
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ
৩৭২১-[৬১] আবুদ্ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা স্বয়ং ঘোষণা করেনঃ আমি হলাম সর্বশক্তিমান, আমি ছাড়া প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই। আমি রাজা-বাদশাহদের মালিক ও রাজাধিরাজ। সকল বাদশাহদের অন্তর আমার হাতের মুঠোতে। নিশ্চয় বান্দারা যখন আমার আনুগত্য করে, তখন আমি রাজা-বাদশাহদের অন্তরকে দয়া ও কোমলতার সাথে তাদের দিকে ফিরিয়ে দেই। আর বান্দারা যখন আমার অবাধ্যতায় লিপ্ত হয়, তখন আমি তাদের অন্তরকে প্রজাদের জন্য কঠোর নিষ্ঠুর করে দেই। ফলে তারা প্রজাদেরকে কঠিন অত্যাচার করতে থাকে। সুতরাং তোমরা তখন তোমাদের শাসকদের জন্য বদ্দু’আ করো না; বরং নিজেদেরকে আল্লাহর জিকির ও ভারাক্রান্ত অন্তরে আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন থাকো, যাতে আমি তোমাদের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাই। (আবূ নু’আয়ম ’’হিল্ইয়াহ্’’ গ্রন্থে বর্ণনা করেন)[1]
اَلْفَصْلُ الثَّالِثُ
وَعَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: أَنَا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنَا مَالِكُ الْمُلُوكِ وَمَلِكُ الْمُلُوكِ قُلُوبُ الْمُلُوكِ فِي يَدِي وَإِنَّ الْعِبَادَ إِذَا أَطَاعُونِي حَوَّلْتُ قُلُوبَ مُلُوكِهِمْ عَلَيْهِمْ بِالرَّحْمَةِ وَالرَّأْفَةِ وَإِنَّ الْعِبَادَ إِذَا عَصَوْنِي حَوَّلْتُ قُلُوبَهُمْ بِالسُّخْطَةِ وَالنِّقْمَةِ فَسَامُوهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ فَلَا تَشْغَلُوا أَنْفُسَكُمْ بِالدُّعَاءِ عَلَى الْمُلُوكِ وَلَكِنِ اشْغَلُوا أَنْفُسَكُمْ بِالذِّكْرِ وَالتَّضَرُّعِ كَيْ أَكْفِيَكُمْ ملوكَكم «. رَوَاهُ أَبُو نُعَيْمٍ فِي» الْحِلْيَةِ
ব্যাখ্যা: ‘আল্লাহ বলেছেন’ (এটি হাদীসে কুদ্সী) হাদীসে উল্লেখিত (أَنَا اللّٰهُ) বাক্যে أَنَا শব্দটি ওয়াহ্দানিয়াত বা একত্বের জন্য প্রসিদ্ধ এবং প্রচলিত, অথবা শব্দটি একক مَعْبُودُ অর্থে ব্যবহৃত হয়। لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنَا বাক্যটি পূর্ববর্তী বাক্যের حَالٌ مُؤَكِّدَة বা তাকীদযুক্ত হাল হয়েছে।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) আল্লাহর কথা (أَنَا مَالِكُ الْمُلُوكِ وَمَلِكُ الْمُلُوكِ)-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, مَلِكُ الْمُلُوكِ বাক্যটি مَالِكُ الْمُلُوكِ বাক্যের পরে আসা অগ্রসরতা ও উন্নতির ধাপ প্রকাশার্থে ব্যবহৃত হয়েছে। الْمَلِكَ শব্দের অর্থ বাদশাহ বা রাজা; الْمَالِكِ শব্দের অর্থ মালিক, শাসক ইত্যাদি। কিন্তু الْمَلِكَ শব্দটি সিফাতের মুশাববাহ হিসেবে الْمَالِكِ শব্দের উপরে অধিক মহান ও বড়ত্ব প্রকাশক। আর ক্ষমতা প্রয়োগে অধিকতর শক্তিশালী। আর مَلِكُ হলো আদেশ নিষেধ প্রদানকারী এবং مَالِكُ হলো তা প্রয়োগকারী।مَالِكُ হলো রাজা, مَلِكُ হলেন রাজার রাজা-রাজাধিরাজ, কেউ কেউ এর বিপরীতও বলেছেন।
আল্লাহর কথা : ‘‘সমস্ত বাদশাহর অন্তর আমার মুঠোর মধ্যে’’ এ বাক্য প্রমাণ করে তার একচ্ছত্র ক্ষমতা প্রয়োগের। তিনি তার অনুগত বান্দাদের জন্য তাদের শাসকের অন্তরকে পরিবর্তন করে দেন ফলে সে তার প্রজাদের প্রতি হয় দয়ার্দ্র ও সহনশীল।
পক্ষান্তরে জনগণ যদি আল্লাহর নাফরমানীতে লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের শাসক শ্রেণীর অন্তরকে জনগণের প্রতি কঠোর ও নিষ্ঠুর বানিয়ে দেন, ফলে তারা প্রজাসাধারণের ওপর কঠিন শাস্তি ও নির্যাতনের স্টীম রোলার চালিয়ে দেয়।
এ সময় মানুষ সাধারণতঃ শাসকদের বিরুদ্ধে বদ্দু‘আ বা অভিশাপ করতে থাকে। এ অবস্থায় শাসকদের অভিশাপ না দিয়ে নিজেদের নৈতিক চরিত্র সংশোধন করে আল্লাহর স্মরণে ফিরে আসার নির্দেশ প্রদান করেছেন। আর নিজেদের নৈতিক স্খলনের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করতে বলা হয়েছে। ফলে আল্লাহই তাদের সরকারের জুলুম থেকে তাদের নিষ্কৃতি প্রদানে এগিয়ে আসবেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - জনগণের প্রতি শাসকের সহনশীলতা প্রদর্শন করা
৩৭৩০-[৯] ’উমার ইবনুল খত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি যখনই কোনো দেশে প্রতিনিধি বা শাসক পাঠাতেন তখন তাদের ওপর শর্তারোপ করে দিতেন- তোমরা তুর্কি ঘোড়ায় আরোহণ করবে না, ময়দার রুটি খাবে না, পাতলা মিহিন কাপড় পরবে না, মানুষের প্রয়োজন মিটানো থেকে তোমার দরজা বন্ধ করবে না। যদি তোমরা এর মধ্য হতে কোনটি করো, তাহলে তোমরা শাস্তিযোগ্য অপরাধী হবে। অতঃপর কিছুদূর পর্যন্ত তিনি তাদেরকে এগিয়ে দিয়ে আসতেন। (এ হাদীস দু’টি বায়হাক্বী’র ’’শু’আবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেছেন)[1]
وَعَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ كَانَ إِذَا بَعَثَ عُمَّالَهُ شَرَطَ عَلَيْهِمْ: أَنْ لَا تَرْكَبُوا بِرْذَوْنًا وَلَا تَأْكُلُوا نَقِيًّا وَلَا تَلْبَسُوا رَقِيقًا وَلَا تُغْلِقُوا أَبْوَابَكُمْ دُونَ حَوَائِجِ النَّاسِ فَإِنْ فَعَلْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَقَدْ حَلَّتْ بِكُمُ الْعُقُوبَةُ ثُمَّ يُشَيِّعُهُمْ. رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَانِ
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটি পূর্বের হাদীসেরই সমার্থক। অত্র হাদীসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতি কিছু নীতি অনুসরণের আদেশ দিয়েছেন আর তা হলো তারা بِرْذَوْنَةٌ তথা তুর্কী ঘোড়া ব্যবহার করবে না। কারণ তাতে অহংকার প্রকাশ পায়। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ অধিনস্থ সবাই সাধারণ ঘোড়া ব্যবহার করে, আর নেতা যদি তুর্কী ঘোড়া যা সাধারণ ঘোড়ার চেয়ে ভালো এবং এতে যদি তার অহমিকা এবং লৌকিকতা চলে আসে- এ আশংকা দূর করার জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নেতাদের প্রতি তুর্কী ঘোড়ার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
(وَلَا تَلْبَسُوا رَقِيقًا وَلَا تُغْلِقُوْا أَبْوَابَكُمْ دُونَ حَوَائِجِ النَّاسِ فَإِنْ فَعَلْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذٰلِكَ فَقَدْ حَلَّتْ بِكُمُ الْعُقُوبَةُ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অংশে নেতাদের বললেন, তোমরা পাতলা-মিহি কাপড় পরিধান করবে না এবং জনগণের প্রয়োজন মিটানো বন্ধ করবে না, অতঃপর তোমরা তার কোনো কিছু যদি করো তাহলে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। পূর্বের অংশে তুর্কী ঘোড়া নিষেধের কারণ ছিল অহমিকা প্রদর্শন বন্ধ আর এ অংশে মিহি কাপড় পরিধান নিষেধের কারণ হলো অপচয়, বিলাসিতা রোধ করা এবং মানুষকে বাধা দেয়া। নিষেধের কারণ হলো যাতে করে তারা মানুষের প্রয়োজনীয় দিকগুলো পূরণ না করে নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত না হয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৩৪-[৪] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিচারকের পদ কামনা করে এবং তা চেয়ে নেয়, সে পদ যেন তার নিজের দিকে (স্বীয় বোঝা) সোপর্দ করা হয়। আর যে ব্যক্তিকে উক্ত পদে বাধ্য-বাধকতাভাবে দেয়া হয়, আল্লাহ তা’আলা তার সাহায্যার্থে একজন মালাক (ফেরেশ্তা) অবতরণ করেন। তিনি তার কাজ-কর্মগুলো সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে পরিচালনা করেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ, ইবনু মাজাহ্)[1]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنِ ابْتَغَى الْقَضَاءَ وَسَأَلَ وُكِلَ إِلَى نَفْسِهِ وَمَنْ أُكْرِهَ عَلَيْهِ أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ مَلَكًا يُسَدِّدُهُ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد وَابْن مَاجَه
ব্যাখ্যা: ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ অত্র হাদীসে ابْتَغٰى তথা চাওয়া এবং سَأَلَ তথা আবেদন করা, একই জাতীয় দু’টি শব্দ একত্রে আসার কারণ হলো সে নেতৃত্ব চায় প্রকাশ্যে জনসম্মুখে এটা বুঝাবার জন্য। কেননা নেতৃত্বের প্রতি মানুষের ওপর কর্তৃত্বের প্রতি অন্তর সর্বদা আশান্বিত থাকে। সুতরাং যারা এগুলো থেকে বিরত থাকলো তারা নিরাপদে থাকলো আর যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করলো তারা ধ্বংস হলো। সুতরাং বাধ্যবাধকতা না থাকলে নেতৃত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া ঠিক নয় আর যদি বাধ্য করা হয় তাহলে সেখানে অন্তরের প্রবৃত্তিকে দমানো হলো আর যখন প্রবৃত্তিকে দমানো সম্ভব হবে তখন সঠিকতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। যারা বলে থাকেন যাকে বিচারপতি বানানো হলো তার ওপর আবশ্যক হলো তার সব খারাপ চিন্তাধারা, কুপ্রবৃত্তি মন থেকে মুছে ফেলা এ কথা ঠিক না, তাদের প্রতিউত্তরে আমি বলবো না, কথা ঠিক কারণ ইমাম দারাকুত্বনী, বায়হাক্বী ও ত্ববারানী মারফূ‘ সূত্রে যে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন তা এ কথারই সমার্থক। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘যাকে মুসলিমদের বিচারপতি বানানো হলো সে যেন তার আচার-ব্যবহার, ইশারা ইঙ্গিতে, উঠা-বসা সবক্ষেত্রেই ইনসাফ বজায় রাখে।’’
ত্ববারানী ও বায়হাক্বী-এর অন্য বর্ণনা উম্মু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণনা এসেছে, ‘‘যাকে মুসলিমদের বিচারপতি বানিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে সে যেন বাদী-বিবাদীর কারো ওপরই তার কন্ঠস্বর উঁচু না করে। ইমাম আবূ দাঊদ, ইমাম তিরমিযী ও ইমাম ইবনু মাজাহ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৩৪; ‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৫৭৫; মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৩৬-[৬] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুসলিমদের বিচারক হওয়ার মনোষ্কামনা করবে, এমনকি সে তা পেয়েও যাবে। এমতাবস্থায় তার ইনসাফ যদি জুলুম ও অন্যায়ের উপর প্রাধান্য লাভ করে, তাহলে তার জন্য জান্নাত সুনির্ধারিত। আর যার জুলুম ও অন্যায় তার ইনসাফের উপর প্রাধান্য লাভ করে, তবে তার জন্য জাহান্নাম। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ طَلَبَ قَضَاءَ الْمُسْلِمِينَ حَتَّى يَنَالَهُ ثُمَّ غَلَبَ عَدْلُهُ جَوْرَهُ فَلَهُ الْجَنَّةُ وَمَنْ غَلَبَ جَوْرُهُ عَدْلَهُ فَلَهُ النَّار» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যা: এ হাদীসে বলা হয়েছে, যারা নেতৃত্ব চাইবে এবং এক পর্যায়ে তা পেয়ে যাবে, অতঃপর তার ইনসাফ জুলুমের উপর বিজয় হবে তার জন্য রয়েছে জান্নাত আর যার জুলুম ইনসাফের উপর বিজয় হবে তার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে উল্লেখিত حَتّٰى শব্দটি যদি আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ের অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয় তাহলে এখান থেকে বুঝতে হবে যে, সে নেতৃত্ব চাওয়াতে খুবই আগ্রহী ছিল। অতঃপর এক পর্যায়ে সে নেতৃত্ব পায় এ শ্রেণীর বিচারকদের সাহায্যের জন্য কোনো মালাক (ফেরেশতা) অবতীর্ণ হয় না বরং তার নিজের দায়িত্বশীল তাকেই করা হয়, সুতরাং এমতাবস্থায় কিভাবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে পূর্বের হাদীসে বলা হয়েছে। যে ক্ষমতা চায় তার জন্য আশান্বিত থাকে তাকে তার দিকেই সোপর্দ করা হয়, আল্লাহ তাকে সাহায্য করেন না। তাহলে এ দু’ হাদীসের মতপার্থক্যের সমাধান কিভাবে? সমাধান এভাবে সম্ভব যে, এখানে ক্ষমতাপ্রার্থী লোকের সংখ্যা দু’জন তার মধ্যে একজন যাকে আল্লাহ তার নিজস্ব শক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করেন যেমন সাহাবীগণ এবং তৎপরবর্তী তাবি‘ঈগণ যেহেতু তিনি তার প্রাপ্য চেয়েছেন আর অন্যজন এরূপ নন। তাকে তার নিজের ওপর সোপর্দ করা হবে, ফলে সে ইনসাফ করতে পারবে না, এটাই হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা তথা (وَمَنْ غَلَبَ جَوْرُه عَدْلَه فَلَهُ النَّار) এর অর্থ।
‘আল্লামা তূরিবিশতী বলেনঃ কোনো কোনো লোক এ হাদীসের অর্থ বিশ্লেষণ ছাড়াই এ কথা বলেন যে, হাদীসে বলা হয়েছে যার ইনসাফ জুলুমের উপর বিজয় হবে তার জন্য জান্নাত। সুতরাং যদি মাঝে মাঝে জুলুম করে তাহলে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ ‘বিজয়’ শব্দটি ব্যবহৃত হয় তুলনামূলক সংখ্যাধিক্যের জন্য।
যদি এমন কথা বা এমন মতামত কেউ পেশ করে থাকেন তাহলে তা ভুল হবে। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেন, এর ব্যাখ্যা কয়েকভাবে হতে পারে। ১ম নম্বর ব্যাখ্যা তা যা বলেছেন তূরিবিশতী যে, এখানে বিজয় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে কখনোই জুলুম করবে না। আমি আরো একটু বাড়িয়ে বলতে পারি যে, যার জুলুমের পরিমাণ ইনসাফের তুলনায় বেশী হবে সেও তো জাহান্নামী, সুতরাং এখানে আর কোনো সমস্যা রইল না। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৫৭২; মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৩৭-[৭] মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তাকে (শাসক নিযুক্ত করে) ইয়ামানে পাঠালেন, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ তোমার নিকট যদি কোনো মুকদ্দামা পেশ করা হয়, তখন তুমি কিভাবে বিচার-ফায়সালা পরিচালনা করবে? তিনি (মু’আয) বললেনঃ আমি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী বিচার-ফায়সালা করব। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ আল্লাহর কিতাবের মধ্যে যদি (তার সুষ্ঠু সমাধান বুঝতে) না পাও, তখন কিভাবে করবে? তিনি (মু’আয) বলেনঃ তাহলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত (হাদীস) অনুযায়ী সমাধান করব। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবার জিজ্ঞেস করলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাতের মাঝেও যদি (তার সুষ্ঠু সমাধান বুঝতে) না পাও, তখন কি করবে? এর জবাবে তিনি (মু’আয) বললেনঃ তখন আমি আমার ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে ইজতিহাদ করব এবং সামান্য পরিমাণও ত্রুটি করব না। তিনি (মু’আয ) বলেন : আমার এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বুকে হাত মেরে বললেন, সমস্ত প্রশংসা একমাত্র সে আল্লাহর জন্য যিনি আল্লাহর রসূল-এর প্রতিনিধিরূপে সে কাজটি করার তাওফীক দিয়েছেন, যে সকল কাজে আল্লাহর রসূল সন্তুষ্ট আছেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ ও দারিমী)[1]
وَعَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا بَعَثَهُ إِلَى الْيَمين قَالَ: «كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ؟» قَالَ: أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ؟» قَالَ: فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ؟» قَالَ: أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلَا آلُو قَالَ: فَضَرَبَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى صَدْرِهِ وَقَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يَرْضَى بِهِ رَسُولُ اللَّهِ» . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد والدارمي
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মু‘আয বিন জাবাল -কে ইয়ামানে বিচারপতি হিসেবে পাঠানোর সময় প্রশ্ন করলেন, কি দ্বারা ফায়সালা করবে? মু‘আয বললেন, আল্লাহর কিতাব দ্বারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহর কিতাবে স্পষ্ট না পেলে কি দ্বারা করবে? মু‘আয বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত দ্বারা। নাবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাত যদি না পাও তাহলে কিভাবে? মু‘আয বললেন, ‘আমি ইজতিহাদ করবো’ এর অর্থ হলো আমি ঐ মাসআলার উত্তর অনুসন্ধান করবো। ইজতিহাদের মাধ্যমে এবং অনুরূপ মাসআলাহ্ অনুসন্ধান করবো যাতে শারী‘আতের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দলীল বিদ্যমান এবং একটি মাসআলাকে আরেকটির সাথে তুলনা করবো।
‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ মু‘আয (রাঃ)-এর কথা (أَجْتَهِدُ رَائِىْ) এর মধ্যে দৃঢ়তা বিরাজমান। إجْتهاد (ইজতিহাদ) শব্দটির অর্থ হলো প্রচেষ্টা চালানো, আবার তাকে رَائِىْ এর দিক সম্পৃক্ত করার কারণে অর্থের মধ্যে আরো দৃঢ়তা এসেছে। ইমাম রাগিব আস্ ইস্পাহানী বলেনঃ الْجُهْدُ ‘‘আল জুহ্দ’’ শব্দের অর্থ হলো শক্তি সামর্থ্য আর ইজতিহাদ অর্থ কষ্ট করা, পরিশ্রম করা। ইমাম খত্ত্বাবী (রহঃ) বলেনঃ এখানে রায় বলতে নিজের মনগড়া কথা যার কুরআন-হাদীসের সাথে নূন্যতম সম্পর্ক নেই এমন নয় বরং কুরআন ও হাদীসের সাথে মিল রেখে গবেষণার মাধ্যমে বিচার করতে হবে এটা উদ্দেশ্য।
অত্র হাদীস থেকে বুঝা যায়, ক্বিয়াস তথা ইজতিহাদের মাধ্যেমে ফতোয়া প্রদান করা যায়। আল-মাযহাব বলেন, যদি এমন মাসাআলাহ্ আসে যার কুরআন ও হাদীসের সরাসরি কোনো দলীল পাওয়া যাচ্ছে না তাহলে অনুরূপ আরেকটি মাসআলাহ্ দেখতে হবে যার দলীল সরাসরি কুরআন-হাদীসে রয়েছে এবং একটির সাথে আরেকটির সমতা বিধান করে ফতোয়া দিতে হবে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে, যেমন : গমে সুদ হয়, এটা সরাসরি হাদীসে উল্লেখ আছে কিন্তু তরমুজে সুদ হয় এটা হাদীসে উল্লেখ নেই। তাই তরমুজে সুদ হয় কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলা হলো, হ্যাঁ, তরমুজেও সুদ হয় কারণ গম যেমন খাবার বস্তু, তেমনি তরমুজও খাওয়ার বস্তু তাই গমে সুদ হলে তরমুজেও সুদ হবে এটাই স্বাভাবিক। এমনটাই বলেছেন ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)। (‘আওনূল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৫৮৯; তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩২৭; মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৩৯-[৯] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি শাসক হয়ে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রকার্য পরিচালনা করে, সে কিয়ামতের দিন এরূপ অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, একজন মালাক (ফেরেশতা) তার গর্দান ধরে রাখবেন। অতঃপর মালাক তার মাথা আকাশের দিকে তুলবেন। অতএব আল্লাহ তা’আলা যখন নির্দেশ দেন তাকে নিক্ষেপ করো, তখন মালাক তাকে জাহান্নামের নিম্নদেশে ছুঁড়ে ফেলবেন। যার গভীরতা চল্লিশ বছরের পথ। (আহমাদ ও ইবনু মাজাহ্, আর বায়হাক্বী-এর ’’শু’আবুল ঈমান’’)[1]
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْ حَاكِمٍ يَحْكُمُ بَيْنَ النَّاسِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَلَكٌ آخِذٌ بِقَفَاهُ ثُمَّ يَرْفَعُ رَأْسَهُ إِلَى السَّمَاءِ فَإِنْ قَالَ: أَلْقِهْ أَلْقَاهُ فِي مَهْوَاةٍ أَرْبَعِينَ خَرِيفًا . رَوَاهُ أَحْمَدُ وَابْنُ مَاجَهْ والْبَيْهَقِيُّ فِي شُعَبِ الْإِيمَان
ব্যাখ্যা: خريف (أَرْبَعِينَ خَرِيفًا) শব্দের অর্থ বছর। নিহায়াহ্ গ্রন্থাকার বলেন, خريف (খরীফ) বলা হয় বছরের ঋতু সময়ের একটি ঋতুকে যা গ্রীষ্ম ও শীতকালের মাঝে হয়ে থাকে। তবে অত্র হাদীসে উদ্দেশ্য হলো বছর। কেননা এটা বছরে মাত্র একবারেই আসে। এমনটাই মতামত দিয়েছেন ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ)। ‘‘আল মুগরিব’’ গ্রন্থে রয়েছে, মাহওয়া বলা হয় গিরিপথকে। আবার কেউ বলেছেন মাহওয়া অর্থ গর্ত। ‘আল্লামা ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসের শব্দ «مَلَكٌ آخِذٌ بِقَفَاهُ» দ্বারা বুঝা যায়, তাকে জোর করে তার মাথা আকাশমন্ডলীর দিকে দেয়া হবে। যেমন : আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অর্থাৎ ‘‘আমি তাদের স্কন্ধে বেড়ি পরাবো থুতনি পর্যন্ত ফলে তারা চোখ বন্ধ করে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে’’- (সূরা ইয়াসীন ৩৬ : ৮)। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৪০-[১০] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামত দিবসে ন্যায়পরায়ণ শাসক এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে; তখন সে আকাঙ্ক্ষা করবে যে, একটি খেজুরের ব্যাপারেও যদি সে দুই ব্যক্তির মধ্যে পরস্পর বিবাদের ফায়সালা না করত (কতই না উত্তম হতো)। (আহমাদ)[1]
وَعَنْ عَائِشَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَيَأْتِيَنَّ عَلَى الْقَاضِي الْعَدْلِ يومُ القيامةِ يَتَمَنَّى أَنَّهُ لَمْ يَقْضِ بَيْنَ اثْنَيْنِ فِي تَمْرَة قطّ» . رَوَاهُ أَحْمد
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটিতে পূর্বের হাদীসগুলোর ন্যায় উচ্চারণ কার্যের প্রতি চরম হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে। হাদীসটির সারকথা হলো-
(ক) যতদূর সম্ভব বিচারকার্য তথা বিচারপতি হওয়ার দায়িত্ব থেকে বিরত থাকা উচিত।
(খ) বিচারকাজে ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেলে এর জন্য কিয়ামতে চরম লাঞ্ছনার স্বীকার হতে হবে।
(গ) মানুষের হক নষ্ট করা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়।
(ঘ) বিচারকার্যে ছোট থেকে ছোট কোনো বিষয়কেও তুচ্ছ করার সুযোগ নেই। (সম্পাদকীয়)
পরিচ্ছেদঃ ২. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - প্রশাসনিক কর্মস্থলে কাজ করা এবং তা গ্রহণের দায়িত্বে ভয় করা
৩৭৪৩-[১৩] ইবনু মাওহাব হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’উসমান ইবনু ’আফফান (রাঃ) ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে বললেনঃ আপনি মানুষের মাঝে ইনসাফ কায়িম (বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণ) করুন। ইবনু ’উমার(রাঃ) বললেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন না? ’উসমান(রাঃ) বললেনঃ আপনি এই দায়িত্বকে অপছন্দ করছেন, অথচ আপনার পিতা তো (খলীফাহ্ নিযুক্ত হওয়ার পূর্বেও) বিচার-ফায়সালা করেছেন। ইবনু ’উমার (রাঃ) বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি বিচারক নিযুক্ত হয়ে ন্যায়পরায়ণতার সাথে বিচারকার্য পরিচালনা করে তার জন্য এটাই উত্তম যে, সে তা থেকে ন্যায্যভাবে অব্যাহতি লাভ করতে পারে। অতঃপর ’উসমান(রাঃ) ইবনু ’উমার (রাঃ)-কে এ সম্পর্কে আর কিছুই বলেননি। (তিরমিযী)[1]
وَعَنِ ابْنِ مَوْهَبٍ: أَنَّ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ لِابْنِ عُمَرَ: اقْضِ بَين النَّاس قَالَ: أَو تعاقبني يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ؟ قَالَ: وَمَا تَكْرَهُ مِنْ ذَلِك وَقد كَانَ أَبوك قَاضِيا؟ قَالَ: لِأَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ كَانَ قَاضِيًا فَقَضَى بِالْعَدْلِ فَبِالْحَرِيِّ أَنْ يَنْقَلِبَ مِنْهُ كَفَافًا» . فَمَا راجعَه بعدَ ذَلِك. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
ব্যাখ্যা: অত্র হাদীসটিতে দেখা যাচ্ছে তৃতীয় খলীফা ‘উসমান বিন ‘আফ্ফান তার শাসনামলে দ্বিতীয় খলীফা ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব -এর পুত্র ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ)-কে বিচারকার্য গ্রহণের আহবান জানাচ্ছেন অথচ ইবনু ‘উমার (রাঃ) তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করছেন। পরক্ষনে ‘উসমান (রাঃ) তাকে বললেন, আপনি কেন বিচারের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান অথচ আপনার পিতা এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এ প্রশ্নের উত্তরে ইবনু ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যারা বিচারক হয় তারা যেন ন্যায়বিচার করে।
(فَبِالْحَرِىِّ أَنْ يَنْقَلِبَ مِنْهُ كَفَافًا) অংশটুকু ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ‘আল্লামা ত্বীবী (রহ) বলেছেনঃ
أَنَّ مَنْ تَرَكَ الْقَضَاءَ وَاجْتَهَدَ فِي تَحَرِّي الْحَقَّ وَاسْتَفْرَغَ جَهْدَه فِيهِ حَقِيقٌ أَنْ لَا يُثَابَ وَلَا يُعَاقَبَ، فَإِذَا كَانَ كَذٰلِكَ، فَأَيُّ فَائِدَةٍ فِي تَوَلِّيهِ.
অর্থাৎ- যারা বিচারপতি হলো, অতঃপর ন্যায়সঙ্গত বিচারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলো তাদের এ কাজে কোনো সাওয়াবও নেই গুনাহও নেই। সুতরাং বিষয়টির অবস্থা যখন এরূপ যে, তা গ্রহণে সাওয়াব পাপ কেনটিই নেই। সুতরাং তা গ্রহণে কে রাজী হবে? (মিরকাতুল মাফাতীহ)