পরিচ্ছেদঃ ১৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ
৪৯৭০-[২৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের ছোটদেরকে অনুগ্রহ করে না, আমাদের বড়দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে না, ভালো কাজের আদেশ করে না এবং মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করে না, সে আমাদের দলের নয়। [তিরমিযী; আর ইমাম তিরমিযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এ হাদীসটি গরীব।][1]
হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘লায়স ইবনু আবী সুলায়ম’’ নামের একজন য‘ঈফ রাবী। এছাড়াও শরীকও য‘ঈফ। দেখুন- য‘ঈফাহ্ ২১০৮।
وَعَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَرْحَمْ صَغِيرَنَا وَلَمْ يُوَقِّرْ كَبِيرَنَا وَيَأْمُرْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَ عَنِ الْمُنْكَرِ
رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَقَالَ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ
ব্যাখ্যাঃ ইমাম আবূ ‘ঈসা তিরমিযী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। কোন কোন ‘আলিম বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা (لَيْسَ مِنَّا) অর্থ আমাদের শিষ্টাচারের মধ্যে নয়। ‘আলী ইবনুল মাদীনী বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবনু সা‘ঈদ বলেন, সুফ্ইয়ান সাওরী উক্ত ব্যাখ্যাকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে নয়’ অর্থ আমাদের ধর্মের নয়। অর্থাৎ যদি কেউ ছোটদের স্নেহ না করে, বড়দের শ্রদ্ধা না করে তাহলে সে ইসলামের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরাই আমাদের ঈমানের পরিচয়। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ১৯২০)
পরিচ্ছেদঃ ১৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ
৪৯৭৫-[২৯] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন ইয়াতীমকে নিজের খাদ্য-পানীয়তে ঠাঁই দেবে, তার জন্য আল্লাহ তা’আলা নিশ্চয় জান্নাত অবধারিত করে দেবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে এমন কোন পাপ না করে, যা মার্জনা করা হয় না। যে ব্যক্তি তিনটি কন্যা বা তিনটি বোনকে প্রতিপালন করবে, তাদের শিষ্টাচার শেখাবে এবং অনুগ্রহ ও অনুকম্পা প্রদর্শন করবে, যতক্ষণ না আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে পরমুখাপেক্ষিতা হতে মুক্ত করেন, তার জন্য আল্লাহ তা’আলা জান্নাত অবধারিত করেছেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল : হে আল্লাহর রসূল! দু’ কন্যা বা দু’ বোনের লালন-পালনে কি সাওয়াব হবে? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ দু’জনের ব্যাপারে একই সাওয়াব মিলবে। যদি কেউ (সাহাবায়ে কিরাম) এক বোন বা কন্যার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেন, তবে তার সম্পর্কেও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাই বলতেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আরো বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা যে ব্যক্তির দু’টো প্রিয় বস্তু নিয়ে গিয়েছেন, তার জন্য জান্নাত অবধারিত রয়েছে। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রসূল! তার প্রিয় বস্তুদ্বয় কি? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ তার চক্ষুদ্বয়। (শারহুস্ সুন্নাহ্)[1]
হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘হুসায়ন ইবনু কায়স আবূ আলী আর্ রুহাবী’’ নামের বর্ণনাকারীর উপাধি হান্শ। হাদীস বিশারদগণ তাকে য‘ঈফ বলেছেন। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৪২৭ পৃঃ।
وَعَنِ ابْنِ
عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ آوَى يَتِيمًا إِلَى طَعَامِهِ وَشَرَابِهِ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ الْجَنَّةَ أَلْبَتَّةَ إِلَّا أَنْ يَعْمَلَ ذَنْبًا لَا يُغْفَرُ. وَمَنْ عَالَ ثَلَاثَ بَنَاتٍ أَوْ مِثْلَهُنَّ مِنَ الْأَخَوَاتِ فَأَدَّبَهُنَّ وَرَحِمَهُنَّ حَتَّى يُغْنِيَهُنَّ اللَّهُ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ الْجَنَّةَ» . فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ الله واثنتين؟ قَالَ: «واثنتين» حَتَّى قَالُوا: أَوْ وَاحِدَةً؟ لَقَالَ: وَاحِدَةً «وَمَنْ أَذْهَبَ اللَّهُ بِكَرِيمَتَيْهِ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ» قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا كَرِيمَتَاهُ؟ قَالَ: «عَيْنَاهُ» . رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»
ব্যাখ্যাঃ যে মুসলিম কোন ইয়াতীমকে নিজের খাওয়ার সাথী বানাবে আল্লাহ তাকে জান্নাত দিবেন। হ্যাঁ, তবে যদি সে এমন গুনাহ করে থাকে যা ক্ষমার অযোগ্য তাহলে ভিন্ন কথা। এখানে ক্ষমার অযোগ্য পাপ হলো শির্ক। ইবনুল মালিক (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এটা হলো সৃষ্টির প্রতি জুলুম নির্যাতন চালানো। মিরক্বাত গ্রন্থকার ‘আল্লামা মুল্লা ‘আলী কারী হানাফী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ ইয়াতীম পালনের দ্বারা মানুষের হক নষ্ট করার পাপ ক্ষমা হবে না। বান্দাদের হক নষ্টের মধ্যে এটাও শামিল যে, কেউ ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করবে। মোটকথা হলো যারা ইয়াতীম লালন করবে তাদের আল্লাহর ইচ্ছায় ক্ষমা করে দেয় হবে। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ৪৯৭৫)
পরিচ্ছেদঃ ১৫. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ
৪৯৭৯-[৩৩] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যার একটি কন্যা আছে অথচ সে তাকে জিবন্ত প্রোথিত করেনি, তাকে হেয় প্রতিপন্ন করেনি, তার উপর তার পুত্রদের অগ্রাধিকার দেয়নি, তাকে আল্লাহ তা’আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (আবূ দাঊদ)[1]
হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ এর সনদে ‘‘ইবনু জারির’’ নামের একজন বর্ণনাকারী আছে। ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) তার ব্যাপারে বলেন, তাকে চেনা যায় না। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৪২৯ পৃঃ।
وَعَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ كَانَتْ لَهُ أُنْثَى فَلَمْ يَئِدْهَا وَلَمْ يُهِنْهَا وَلَمْ يُؤْثِرْ وَلَدَهُ عَلَيْهَا - يَعْنِي الذُّكُورَ - أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যাঃ (مَنْ كَانَتْ لَهٗ أُنْثٰى) যার নারী সন্তান আছে, নারী সন্তান বলতে নিজের মেয়ে অথবা বোন বুঝানো হয়েছে। (لَمْ يَئِدْهَا) সে তাকে প্রোথিত করল না, প্রোথিত অর্থ (কন্যা সন্তানদেরকে) জিবন্ত কবরস্থ করা। সেকালে ‘আরবরা কন্যাদেরকে জীবিত কবর দেয়ার মতো জঘন্য কর্মে লিপ্ত ছিল। এটাকে ইসলাম চরমভাবে হারাম করেছে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৫১৩৭)
পরিচ্ছেদঃ ১৫. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ
৪৯৯১-[৪৫] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, সে ব্যক্তি পূর্ণ মু’মিন নয়, যে উদরপূর্তি করে খায় অথচ তার পাশেই তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে। [উপরের হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বী (রহিমাহুল্লাহ) ’’শু’আবুল ঈমানে’’ বর্ণনা করেছেন।][1]
وَعَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَيْسَ الْمُؤْمِنُ بِالَّذِي يَشْبَعُ وَجَارُهُ جَائِع إِلَى جنبه» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
পরিচ্ছেদঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার প্রতি ভালোবাসা
৫০১৪-[১২] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ যার (রাঃ)-কে বললেনঃ হে আবূ যার! ঈমানের কোন্ শাখাটি অধিক মজবুত? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর রসূলই অধিক অবগত। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে পরস্পর সখ্যতা স্থাপন করা এবং শুধুমাত্র আল্লাহ তা’আলার সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ঘৃণা করা। (বায়হাক্বী’র ’’শু’আবুল ঈমান’’)[1]
وَعَنِ ابْنِ
عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي ذَرٍّ: «يَا أَبَا ذَرٍّ أَيُّ عُرَى الْإِيمَانِ أَوْثَقُ؟» قَالَ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ: «الْمُوَالَاةُ فِي اللَّهِ وَالْحُبُّ فِي اللَّهِ وَالْبُغْضُ فِي اللَّهِ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
ব্যাখ্যাঃ (أَيُّ عُرَى الْإِيمَانِ أَوْثَقُ؟) এখানে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আবূ যার -কে প্রশ্ন করার হিকমাত সম্ভবত প্রশ্নের উত্তরের প্রতি তার খেয়াল বা মনোযোগ বৃদ্ধি করা। এর সঠিক উত্তর কি হবে সে যেন সেটা ভালোভাবে মনে রাখতে পারে সেজন্য তাকে সজাগ ও সচেতন করার। আর এ প্রশ্ন করাটা তার উত্তরের গুরুত্ব বুঝানের জন্যেও হয়ে থাকে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
(وَالْحُبُّ فِي اللهِ) অর্থাৎ আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা। যদিও সে ভালোবাসা একজনের পক্ষ থেকে হোক না কেন। যেমন আমরা কোন আল্লাহর এক বান্দাকে ভালোবাসি যদিও তিনি আমাদেরকে না দেখেন বা আমরাও তাকে না দেখি।
(وَالْبُغْضُ فِي اللهِ) অর্থাৎ আল্লাহর পথে চলতে গিয়ে যারা তার দীনের বিরোধিতা করে তাদের সাথে শত্রুতা রাখা। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ বলেনঃ
لَا تَجِدُ قَوْمًا يُؤْمِنُونَ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ يُوَادُّونَ مَنْ حَادَّ اللهَ وَرَسُولَه وَلَوْ كَانُوا آبَاءَهُمْ أَوْ أَبْنَاءَهُمْ أَوْ إِخْوَانَهُمْ أَوْ عَشِيرَتَهُمْ أُولٰئِكَ كَتَبَ فِي قُلُوبِهِمُ الْإِيمَانَ وَأَيَّدَهُمْ بِرُوحٍ مِنْهُ
‘‘আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী এমন কোন দল তুমি পাবে না যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরোধিতাকারীদেরকে ভালোবাসে- হোক না এই বিরোধীরা তাদের পিতা অথবা পুত্র অথবা তাদের ভাই অথবা তাদের জ্ঞাতি গোষ্ঠী। আল্লাহ এদের অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল করে দিয়েছেন, আর নিজের পক্ষ থেকে রূহ দিয়ে তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন...।’’ (সূরাহ্ আল মুজাদালাহ্ ৫৮ : ২২)
ত্ববারানীতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে একটি হাদীস এ রকম (মারফূ‘ সূত্রে) বর্ণনা করেছেন,
أَوْثَقُ عُرَى الْإِيمَانِ الْمُوَالَاةُ فِي اللهِ، وَالْمُعَادَاةُ فِي اللهِ، وَالْحُبُّ فِي اللّٰهِ، وَالْبُغْضُ فِي اللّٰهِ عَزَّ وَجَلَّ
ঈমানের অধিক মজবুত শাখাটি হলো, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে পরস্পর শত্রুতা স্থাপন করা এবং শুধুমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ঘৃণা করা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ ১৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আত্মসংযম ও কাজে ধীরস্থিরতা
৫০৫৪-[২] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’’আবদুল কায়স’’ গোত্রের গোত্রপতিকে বললেনঃ তোমার মধ্যে দু’টো চরিত্র এমন আছে যে, আল্লাহ তা’আলা সেটা পছন্দ করেন- ১. সহনশীলতা ও ২. ধীরস্থিরতা বা চিন্তা-ভাবনা করে কাজ করা। (মুসলিম)[1]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ: إِنَّ فِيكَ لَخَصْلَتَيْنِ يُحِبُّهُمَا الله: الْحلم والأناة . رَوَاهُ مُسلم
ব্যাখ্যাঃ (لِأَشَجِّ عَبْدِ الْقَيْسِ) বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে : ‘আবদুল কায়স’ গোত্রের গোত্রপতি বলতে তাদের প্রতিনিধি দলের নেতা মুনযির ইবনু ‘আয়িয-কে বোঝানো হয়েছে। সহীহ মুসলিমের বর্ণনা দ্বারা এটাই বোঝা যায়- (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; শারহুন নাবাবী ১ম খন্ড, ১৭/২৫)। তবে তার নাম নিয়ে মতপার্থক্য আছে। ইবনুল কালবী বলেনঃ তার নাম মুনযির ইবনুল হারিস ইবনু যিয়াদ ইবনু ‘আসর ইবনু ‘আওফ। কথিত আছে, তার নাম : মুনযির ইবনু ‘আমির। কথিত আছে, মুনযির ইবনু ‘উবায়দ’। কথিত আছে, তার নাম : ‘আয়িয ইবনুল মুনযির। কথিত আছে, ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু ‘আওফ। তবে সঠিক ও প্রসিদ্ধ হলো ইবনু ‘আবদুল বার ও অধিকাংশ মুহাদ্দিস যা বলেছেন, তা হলো তার নাম মুনযির ইবনু ‘আয়িয।
(শারহুন নাবাবী ১ম খন্ড, হাঃ ২৫-[১৭])
‘আবদুল কায়স’ গোত্রের প্রতিনিধি দলটি যখন মদীনায় পৌঁছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সাক্ষাতের জন্য উদ্যত হলো। তখন তাদের গোত্রপতি মুনযির ইবনু ‘আয়িয যাকে ‘আশাজ্জ’ নামে ডাকা হত। তিনি তাদের ঘরের কাছে এসে সবাইকে সুসংগঠিত করলেন। আর তার উটকে বেঁধে তার সুন্দর পোশাকটি পরিধান করলেন, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগমন করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাছে ডেকে তার পাশে বসালেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেন, তোমরা কি নিজেদের ও গোত্রের সকলের পক্ষ থেকে বায়‘আত করবে? জবাবে সম্প্রদায়ের সবাই বলল, হ্যাঁ। তখন আশাজ্জ তথা মুনযির ইবনু ‘আয়িয বললেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি একজন লোকের জন্যেও কোন বিষয়ে এমন নির্দেশ প্রদান করেননি, যেটা দীন পালনের ক্ষেত্রে তার জন্য কঠিন। এখন আমরা নিজেদের জন্য আপনার কাছে বায়‘আত করছি। আর গোত্রের লোকেদের নিকট আমরা লোক পাঠাব, যারা তাদেরকে ডাকবে। যারা আমাদের অনুসরণ করবে তারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যে অস্বীকার করবে আমরা তার সাথে লড়াই করব। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি সত্য কথা বলেছ, নিশ্চয় তোমার মধ্যে দু’টো চরিত্র এমন আছে যে, মহান আল্লাহ সেটা পছন্দ করেন - ১. সহনশীলতা ও ২. ধীরস্থিরতা বা চিন্তাভাবনা করে কাজ করা। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০১১; শারহুন নাবাবী ১ম খন্ড, হাঃ ২৫-[১৭])
(الْحِلْمُ وَالْأَنَاةُ) কাযী ‘ইয়ায (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ أناة বলা হয়, সংশোধনের জন্য কাউকে অবকাশ দেয়া আর এ ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করা। আর আলোচ্য হাদীসটিতে حلم বলতে বুঝানো হয়েছে, তার সঠিক জ্ঞান ও শাস্তি দেয়ার জন্য অবকাশ প্রদান করাকে। (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৫ম খন্ড, হাঃ ২০১১)
পরিচ্ছেদঃ ১৮. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আত্মসংযম ও কাজে ধীরস্থিরতা
৫০৬০-[৮] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ উত্তম অভ্যাস, উত্তম চাল-চলন এবং মধ্যম পন্থা অবলম্বন নুবুওয়াতের পঁচিশ ভাগের এক ভাগ। (আবূ দাঊদ)[1]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ الْهَدْيَ الصَّالِحَ وَالِاقْتِصَادَ جُزْءٌ مِنْ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّة» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
ব্যাখ্যাঃ (الْهَدْيَ الصَّالِحَ) বলা হয়, সঠিক পথ বা রাস্তাকে।
(السَّمْتُ) হলো চাল-চলন, বেশ-ভূষণ সুন্দর হওয়া। আর এর মূল (الهدى ও المت একই জিনিস) হলো অনুসরণীয় পথ। আর ‘নিহায়াহ্’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, الصَّالِحُ অর্থ তার অবস্থা বেশ-ভূষণ দীনের ক্ষেত্রে সুন্দর হয়েছে। এটা কেবল চেহারা বা গায়ের রং এর দিক থেকে নয়।
(جُزْءًا مِنَ النُّبُوَّة) পূর্বোক্ত হাদীসের, এর مِنَ النُّبُوَّة এর আলোচনা দ্রঃ। (‘আওনুল মা‘বূদ ৮ম খন্ড, হাঃ ৪৭৬৮)
পরিচ্ছেদঃ ১৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব
৫০৯২-[২৫] দেখুন পূর্বের হাদীস।
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَهْ وَالْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» عَن أنس وَابْن عَبَّاس
পরিচ্ছেদঃ ১৯. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব
৫০৯৪-[২৭] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনায় এ মর্মে উল্লেখ আছে যে, যখন লজ্জা ও ঈমানের মধ্য থেকে যে কোন একটি দূর করা হয়, তখন অপরটিও চলে যায়। (বায়হাক্বী শু’আবুল ঈমানে)
وَفِي رِوَايَةِ
ابْنِ عَبَّاسٍ: «فَإِذَا سُلِبَ أَحَدُهُمَا تَبِعَهُ الْآخَرُ» . رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»
পরিচ্ছেদঃ ২০. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - রাগ ও অহংকার
৫১১৭-[১৪] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। আল্লাহ তা’আলার বাণী- اِدْفَعْ بِالَّتِيْ هِيَ أَحْسَنُ (অর্থাৎ- ’’তুমি খারাপকে ভালো দ্বারা দমন করো...’’- (সূরাহ্ আল মু’মিনূন ২৩ : ৯৬)-এর ব্যাখ্যায় বলেনঃ রাগের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং বিপদের সময় ক্ষমা করাই এর তাৎপর্য। যখন মানুষ এরূপ করে, তখন আল্লাহ তা’আলা তাকে বিপদাপদ হতে রক্ষা করেন এবং শত্রুদেরকে তাদের জন্য নত ও অনুগত করে দেন, যেন তারা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। (ইমাম বুখারী হাদীসটি বিনা সনদে বর্ণনা করেন।)[1]
وَعَنِ
ابْنِ عَبَّاسٍ فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: (ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أحسن)
قَالَ: الصَّبْرُ عِنْدَ الْغَضَبِ وَالْعَفْوُ عِنْدَ الْإِسَاءَةِ فَإِذَا فَعَلُوا عَصَمَهُمُ اللَّهُ وَخَضَعَ لَهُمْ عَدُوُّهُمْ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ قَرِيبٌ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ تَعْلِيقًا
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ
৫১৫৫-[১] ’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন : দু’টি নিআমাতের ব্যাপারে অনেক মানুষ ধোঁকায় পতিত হয়; একটি সুস্থতা অপরটি অবসরতা। (বুখারী)
الفصل الاول
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: نِعْمَتَانِ مَغْبُونٌ فِيهِمَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ: الصِّحَّةُ وَالْفَرَاغُ . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
رواہ البخاری (6412) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা : “আল্লামাহ্ ইবনু বাত্তল (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : উল্লেখিত হাদীসের উদ্দেশ্য হলো, যখন শরীর সুস্থ থাকে তখন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা। আর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকারের উপায় হলো আল্লাহর আদেশসমূহ মান্য করা আর তাঁর নিষেধসমূহ থেকে দূরে থাকা। অতএব কেউ যদি এ কাজ করতে অবহেলা করে তবে হাদীসের ভাষায় সেই হলো মাগবুন তথা উদাসীন বা প্রতারিত।
কেননা দুনিয়া হলো পরকালের জন্য উপার্জনের ক্ষেত্র। তাই দুনিয়াতে কর্ম করলে অর্থাৎ ব্যবসা করলে পরকালে এর লাভ প্রকাশ পাবে। অতএব যে ব্যক্তি তার সুস্থতা ও অবসর সময় আল্লাহর আনুগত্যে কাজে লাগাবে সে হবে ঈর্ষার পাত্র। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকবে সে হবে ক্ষতিগ্রস্ত। তীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : নাবী (সা.) মুকাল্লাফ ব্যক্তিকে ঐ ব্যবসায়ীর সাথে তুলনা করেছেন যার মূলধন রয়েছে সে ব্যবসায়ী তার মূলধন ঠিক রেখে লাভবান হতে চায়। আর মুনাফা অর্জনের পন্থা হলো প্রথমত সে এটা ঠিক করবে যে, সে কার সাথে ব্যবসা করবে। দ্বিতীয়ত সে সত্যবাদিতা ও বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করবে, যাতে সে ধোঁকায় পতিত না হয়। অনুরূপভাবে মুকাল্লাফ ব্যক্তির সুস্থতা ও অবসর সময় হলো তার মূলধন, তার উচিত হলো সে সর্বদা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখবে এবং দীনের শত্রু শয়তান ও নাসের অনুসরণ পরিহার করবে যাতে সে ইহকালে ও পরকালে লাভবান হতে পারে। (ফাতহুল বারী ৬৪১২)
‘আল্লামাহ্ ইবনুল জাওযী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন : মানুষ অধিকাংশ সময়ই সুস্থ থাকে কিন্তু দৈনন্দিন জীবনে কর্মমুক্ত থাকতে পারে না। আবার কখনো কখনো কর্মব্যবস্ততা থেকে অবসর পায় বটে কিন্তু অনেক সময় অসুস্থও থাকে। কাজেই কোন ব্যক্তি যদি সুস্থও থাকে এবং কর্মমুক্তও থাকে তাহলে অনেক সময় তাকে অলসতা পেয়ে বসে এবং ‘ইবাদাত-বন্দেগী হতে দূরে থাকে। হাদীসের ভাষায় এই ব্যক্তিই হলো উদাসীন বা প্রতারিত। কারণ সে দুটো নি'আমাতেরই শুকরিয়া করেনি।
আরো বলা হয়েছে, অধিকাংশ মানুষ এই দুটো নিয়ামতের পরিমাণ ধারণা করতে পারে না। তারা এ দুটো উপস্থিত থাকা অবস্থায় সকাজে সাওয়াব অর্জন করতে ব্যর্থ হয়। অলসতা আর অবহলোয় এ দুটো হারিয়ে এদের বিপরীত অবস্থা আপতিত হয় তখন নিজেদের ওপরেই তিরস্কার করে। কিন্তু এই তিরস্কার তাদের কোনই কাজে আসে না শুধু কষ্টই বৃদ্ধি করে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৬ষ্ঠ খণ্ড, হা. ২৩০৪)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন
৫২৩৪-[৪] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আমি জান্নাতে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই হলো দরিদ্র। আর জাহান্নামে তাকিয়ে দেখলাম তার অধিবাসীদের অধিকাংশই নারী সম্প্রদায়। (বুখারী ও মুসলিম)।
الفصل الاول - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اطَّلَعْتُ فِي الْجَنَّةِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا الْفُقَرَاءَ. وَاطَّلَعْتُ فِي النَّارِ فَرَأَيْتُ أَكْثَرَ أَهْلِهَا النِّسَاءَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6546) و مسلم (94 / 2737)، (6938) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গরীবদের ফযীলত ও নবী (সা.) -এর জীবন-যাপন
৫২৬৪-[৩৪] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে অভুক্ত ও অভাবী ব্যক্তি তার প্রয়োজনের কথা মানুষের নিকট গোপন করে (সবর করে) তখন আল্লাহর জিম্মায় এ ওয়াদা রয়েছে যে, তিনি বৈধভাবে এক বছরের রিযক তাকে পৌঁছে দেবেন। (হাদীস দু’টি ইমাম বায়হাক্বীর শুআবুল ঈমান বর্ণনা করেছেন)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ - (بَابُ فَضْلِ الْفُقَرَاءِ وَمَا كَانَ مِنْ عَيْشِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ جَاعَ أَوِ احْتَاجَ فَكَتَمَهُ النَّاسُ كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يَرْزُقَهُ رِزْقَ سَنَةٍ مِنْ حلالٍ» . رَوَاهُمَا الْبَيْهَقِيّ فِي «شعب الْإِيمَان»
اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10054 ، نسخۃ محققۃ : 9581) * فیہ ابو عبد الرحمن السلمی ضعیف جدًا ، ولاعمش مدلس و عنعن ان صح السند الیہ و علل أخری ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা : “যে ব্যক্তি অভুক্ত থাকে এটা প্রকৃত এবং বাস্তব ক্ষুধাকেই বুঝানো হয়েছে। অথবা এমন অভাব যে, কোন বস্তু তার ক্ষুধা, কিংবা অন্যান্য প্রয়োজন মিটানোর মতো নেই, কিন্তু সে তার ক্ষুধা ও অভাবের কথা কারো কাছে প্রকাশ করে না বরং ধৈর্যধারণ করে থাকে এমন ব্যক্তির প্রতি আল্লাহর হক রয়েছে এক বছর পর্যন্ত তাকে হালাল রিযক দান করেন। এখানে ‘হক’ অর্থ পূর্ণ অঙ্গীকার অথবা তার নিকট আবশ্যক সিদ্ধান্ত। ক্ষুধা হলো ঐ ক্ষুধা যাতে ধৈর্য এবং অল্পে তুষ্টি রয়েছে, আর ‘কিতমান’ হলো নিজের অভাব তথা ক্ষুধাকে গোপন রাখা। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল কাশিফ ১০ম খণ্ড, ৩৩২০ পৃ.)।
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ
৫২৭৩-[৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) নাবী (সা.) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (সা.) বলেছেন: আদম সন্তানকে ধন-সম্পদে পরিপূর্ণ দুটি উপত্যকাও যদি দেয়া হয়, সে তৃতীয়টির আকাঙ্ক্ষা করবে। মূলত আদম সন্তানের পেট মাটি ছাড়া অন্য কিছুই পরিপূর্ণ করতে পারবে না, আর যে আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবুল করেন। (বুখারী ও মুসলিম)।
الفصل الاول ( بَاب الأمل والحرص)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَابْتَغَى ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأُ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلَّا التُّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6436) و مسلم (118 / 1049)، (2418) ۔
(مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা : অত্র হাদীসে ধন-সম্পদের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অন্য একটি বর্ণনায় স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা বলা হয়েছে। অপর বর্ণনায়, স্বর্ণের দুটি উপত্যকার কথা উল্লেখ রয়েছে। (لَابْتَغَى ثَالِثًا) সে তৃতীয় আরেকটির আকাঙ্ক্ষা করবে’ অর্থাৎ আরেকটি বড় এবং বিশাল উপত্যকা সে কামনা করবে। এভাবে তাকে যদি সেটাও দেয়া যায় তাহলে চতুর্থ বা পঞ্চমটির আকাঙ্ক্ষা সে করবে। আর এভাবে তার আশা ও আকাঙ্ক্ষা চলতে থাকবে। সম্পদ দিয়ে তার চোখও আকাঙ্ক্ষায় পূর্ণ হবে না, হবে একমাত্র মাটি দ্বারা। অর্থাৎ কবরের মাটিই কেবল তার অসীম আকাঙ্ক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটাবে। এতে নাবী (সা.)-এর সতর্ক সংকেত যে বখীলের বুখালতিটা হলো লোভের উত্তরাধিকারী এবং তা মানুষের সৃষ্টিগত স্বভাবের নিগঢ়ে প্রোথিত। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে বলেছেন যা প্রচলিত প্রবাদ ও হাদীসের চেয়ে অধিক স্পষ্ট। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (قُلۡ لَّوۡ اَنۡتُمۡ تَمۡلِکُوۡنَ خَزَآئِنَ رَحۡمَۃِ رَبِّیۡۤ اِذًا لَّاَمۡسَکۡتُمۡ خَشۡیَۃَ الۡاِنۡفَاقِ ؕ وَ کَانَ الۡاِنۡسَانُ قَتُوۡرًا) “বলুন : যদি আমার পালনকর্তার রহমতের ভাণ্ডার তোমাদের হাতে থাকত, তবে খরচের ভয়ে তা অবশ্যই ধরে রাখতে, মানুষ তো অতিশয় কৃপণ।” (সূরা বানী ইসরাঈল ১৭ : ১০০)
মানুষের সম্পদের লোভ এবং দরিদ্রতাভীতি হলো বুখালতি বা কৃপণতার মূল কারণ। এমনকি নিজের ব্যাপারেও সে কৃপণতা করে থাকে। এর দৃষ্টান্ত ঐ পিপাসিত পাখির চেয়েও অধিক যে সাগরের উপরে পিপাসা নিয়ে উড়ে বেড়ায় কিন্তু সাগরের পানি শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে না খেয়ে মারা যায়।
উপরে উল্লেখিত ব্যক্তিদের মধ্যে যারা তাওবাহ করবে আল্লাহ তাদের তাওবাহ্ কবুল করবেন। অর্থাৎ যে আল্লাহর রহমতের দিকে ফিরে আসবে এবং তার রহমত কামনা করবে আল্লাহ তাকে তার রহমতের আশ্রয়ে গ্রহণ করবেন। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ; আল লুম'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৮৯ পৃ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - আশা আকাঙ্ক্ষা ও উদ্বেগ প্রসঙ্গ
৫২৭৬-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সা.) পেশাব করার পর মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করতেন। আমি বলতাম : হে আল্লাহর রসূল! পানি তো আপনার কাছেই। তিনি (সা.) বলতেন, আমি কিরূপে জানব যে, (মৃত্যু আসার পূর্বে) আমি সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারব কিনা? (শারহুস্ সুন্নাহ্ ও ইবনু জাওযী-এর কিতাবুল ওয়াফা’)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ ( بَاب الأمل والحرص)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُهَرِيقُ الْمَاءَ فَيَتَيَمَّمُ بِالتُّرَابِ فَأَقُولُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ الْمَاءَ مِنْكَ قَرِيبٌ يَقُولُ: «مَا يُدْرِينِي لَعَلِّي لَا أَبْلُغُهُ» . رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كتاب «الْوَفَاء»
اسنادہ ضعیف ، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (14 / 232 ح 4031) [و احمد (1 / 288 و ابن المبارک فی الزھد : 292) و الطبرانی فی الکبیر (12 / 238 ح 12987 ، بلون آخر) * ابن لھیعۃ مدلس و عنعن ۔
ব্যাখ্যা : হাদীসের বাক্য : (كَنَ يُهْرِيقُ الْمَاءَ) তিনি পানি ঢালতেন, এটা কিনায়া বা পরোক্ষ কথা; এর অর্থ তিনি পেশাব করতেন। রাসূলুল্লাহ (সা.) পানি হাতের নাগালে অথবা নিকটতম কোন স্থানে না পেলে সাথে সাথে আপাতত তায়াম্মুম করে নিতেন; যাতে পরবর্তী পানি পাওয়া বা উযূর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত পবিত্র অবস্থায় থাকতে পারেন। মূলত তিনি জীবনের প্রতি এতটুকু নিশ্চয়তা মনে করতেন না যে, আগামী সালাত পর্যন্ত বা পানির নিকট পৌছা পর্যন্ত আমি বেঁচে থাকব। (মিরকাতুল মাফাতীহ; লুম্'আহ্ ৮ম খণ্ড, ৪৯০ পৃ.)
পরিচ্ছেদঃ তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইবাদতের জন্য হায়াত ও দৌলতের আকাঙ্ক্ষা করা
৫২৯২-[৯] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: কিয়ামতের দিন একজন ঘোষণাকারী এ ঘোষণা করবেন, ষাট বছর বয়সপ্রাপ্ত লোকেরা কোথায়? এটা বয়সের এমন একটি সীমা, যার ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা (কুরআন মাজীদে) বলেছেন : “আমরা কি তোমাদেরকে এমন বয়স দান করিনি যাতে কোন উপদেশ গ্রহণকারী উপদেশ গ্রহণ করতে পারে? অথচ তোমাদের কাছে ভীতি প্রদর্শনকারী এসেছে “এখন তোমরা শাস্তি আস্বাদন করো, তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই”। (বায়হাক্বী’র শুআবুল ঈমান)
اَلْفصْلُ الثَّالِثُ (بَابُ اسْتِحْبَابِ الْمَالِ وَالْعُمُرِ لِلطَّاعَةِ)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُنَادِي مُنَادٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ: أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟ وَهُوَ الْعُمُرُ الَّذِي قَالَ اللَّهُ تَعَالَى [أَوَلَمْ نُعَمِّرْكُمْ مَا يَتَذَكَّرُ فِيهِ مَن تذكَّرَ وجاءكُم النذير] رَوَاهُ الْبَيْهَقِيّ فِي شعب الْإِيمَان
اسنادہ ضعیف جذا ، رواہ البیھقی فی شعب الایمان (10254 ، نسخۃ محققۃ : 9773) * فیہ ابراھیم بن الفضل المخزومی : متروک و ابوبکر بن ابی دارم : کذاب و لکنہ توبع ، انظر المعجم الکبیر للطبرانی (11 / 177 ۔ 178 ح 11415) ۔
(ضَعِيف)
ব্যাখ্যা : (أَيْنَ أَبْنَاءُ السِتِّينَ؟) ষাট বছর বয়সের অধিকারী ব্যক্তিরা কোথায়? আর এই বয়স সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন : (… اَوَ لَمۡ نُعَمِّرۡکُمۡ مَّا یَتَذَکَّرُ فِیۡهِ مَنۡ تَذَکَّرَ ….)“...তোমাদেরকে এই পরিমাণ বয়স দান করেছি যাতে তোমাদের মধ্যে বুদ্ধিমানরা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে...।” (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)
(..وَ جَآءَکُمُ النَّذِیۡرُ ..)“...আর তোমাদের কাছে এসেছে সতর্ককারী..."- (সূরাহ্ আল ফা-ত্বির ৩৫ : ৩৭)। এখানে সতর্ককারী বলতে বুঝানো হয়েছে- বার্ধক্যের চুলপাকা অথবা আল কুরআন অথবা রসূল অথবা মৃত্যু অথবা উল্লেখিত সবগুলোই উদ্দেশ্য। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে
৫২৯৫-[১] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্য সত্তর হাজার লোক হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা হলো ঐ সমস্ত লোক যারা মন্ত্র-তন্ত্র করায় না, অশুভ লক্ষণে বিশ্বাস করে না এবং তারা নিজেদের পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে। (বুখারী ও মুসলিম)
الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ أُمَّتِي سَبْعُونَ أَلْفًا بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ وَلَا يَتَطَيَّرُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ» مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (6472) و مسلم (371 / 218)، (524) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা : (سَبْعُونَ أَلْفًا) ৭০ হাজার। আল্লামাহ্ ক্বারী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: এর দ্বারা নির্দিষ্ট সংখ্যাই উদ্দেশ্য অথবা আধিক্য উদ্দেশ্য। আল্লামাহ্ মুবারকপূরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রথমটি তথা ৭০ হাজার সংখ্যাই এখানে উদ্দেশ্য। তবে তিরমিযীর বর্ণনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাজারের সাথে আরো ৭০ হাজার এবং প্রতিপালকের দুই হাতের চৌল ভর্তি।
(هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ) তারা ঐ সমস্ত লোক যারা ঝাড়ফুঁক করায় না। না কুরআনের আয়াত দ্বারা, না তার নাম ও গুণাবলির দ্বারা।
(وَلَا يَتَطَيَّرُونَ) তারা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করে না অথবা পাখি বা কোন প্রাণী বা কোন কথাকে শুভ লক্ষণ মনে করে না বরং কোন বিপদ দেখলে এই দু'আ পাঠ করে: (اَللّٰهُمَّ لَاطَيْرُكَ،وَلَا خَيْرُ إِلَّاخَيْرُكَ،وَلَا إلٰهَ غَيْرُكَ اَللّٰهُمَّ لَا يَأْتِيْ بِالْحَسَنَاتِ إِلَّا أَنْتَ وَلَا يَزْهَبُ بِالسِّئَاتِ إلَّا أَنْتَ)
অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার কল্যাণ ছাড়া আর কারো নিকট কল্যাণের আশা করা যায় না, তোমার ফায়সালাই চূড়ান্ত, তুমি ছাড়া আর কেউ গায়িব জানে না। পাখিরা তো তোমারই সৃষ্টি, তারা ভালো-মন্দের ক্ষমতা রাখে না, তুমি ছাড়া কোন সত্য মা'বুদ নেই।
(وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ) তারা যাবতীয় কর্মকাণ্ডে আল্লাহর ওপর ভরসা করবে। নিহায়াহ্ গ্রন্থকার বলেন, এটা ঐ সমস্ত আওলিয়ার বৈশিষ্ট্য যারা দুনিয়ার সামগ্রীর প্রতি খেয়াল রাখেন না। অতএব এটা নির্দিষ্ট শ্রেণির লোকের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে সর্বসাধারণের জন্য ঝাড়ফুক এবং চিকিৎসা গ্রহণ করার অনুমোদন রয়েছে। তদুপরি যারা বিপদে ধৈর্যধারণ করবে এবং দু'আ ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তা'আলার নিকট তার কষ্ট লাঘব কামনা করবে তারা ঐ সমস্ত খাস বান্দা এবং আওলিয়ার অন্তর্ভুক্ত হবে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ, তুহফাতুল আহওয়াযী ৫/২৪৩৭)
পরিচ্ছেদঃ প্রথম অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে
৫২৯৬-[২] উক্ত রাবী [ইবনু আব্বাস (রাঃ)] বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (সা.) বাইরে এসে (আমাদেরকে) বললেন, (পূর্বের নবীগণের) উম্মতদেরকে আমার সম্মুখে পেশ করা হল। (দেখলাম) একজন নবী যাচ্ছেন, তাঁর সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক। আরেকজন নবী, তার সাথে রয়েছে কেবল দুজন লোক। অন্য এক নবীর সাথে রয়েছে একদল লোক। একজন নবী এমনও ছিলেন, যার সাথে কেউ ছিল না।
অতঃপর দেখলাম এক বিরাট দল, যা দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। তখন আমি আকাঙ্ক্ষা করলাম: এ দলটি যদি আমার উম্মত হত। এ সময় বলা হলো, এটা মূসা (আঃ) ও তাঁর জাতি। অতঃপর আমাকে বলা হলো, আপনি ভালো করে দৃষ্টি দিন। তখন আমি দিগন্ত জোড়া একটি বিশাল দল দেখলাম। এ সময় আমাকে আবার বলা হলো, আপনি এদিক-ওদিক দেখুন। তখন আমি বিরাট দল দেখতে পেলাম, যা (এ সকল) দিগন্ত জুড়ে রয়েছে। এবার আমাকে জানানো হলো, এরা আপনার উম্মাত। এদের সামনে সত্তর হাজার লোক রয়েছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তারা ঐ সমস্ত লোক যারা অশুভ-অমঙ্গল চিহ্ন বা লক্ষণ মানে না, ঝাড়ফুঁক বা মন্ত্র-তন্ত্রের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেন না এবং (আগুনে পোড়া লোহার) দাগ লাগায় না। তারা আপন পরওয়ারদিগারের ওপর ভরসা রাখে। তখন ’উককাশাহ ইবনু মিহসান দাড়িয়ে বললেন: (হে আল্লাহর রসূল!) আল্লাহর কাছে দু’আ করুন তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তখন তিনি (সা.) এ বলে দু’আ করলেন: হে আল্লাহ! তাকেও তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করো! এরপর আরেক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে আবেদন করল; আমার জন্যও আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকেও এদের মাঝে গণ্য করেন। তিনি (সা.) বললেন: এ ব্যাপারে ’উক্কাশাহ্ তোমার আগে সুযোগ নিয়ে গেছে। (বুখারী ও মুসলিম)
হাদীসটির শিক্ষা:
(১) কল্যাণকর কাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়া এবং নেক বান্দাদের নিকট থেকে দু'আ চাওয়া, কেননা নেককাজে পিছিয়ে থাকার মধ্যে অকল্যাণ রয়েছে।
(২) উক্কাশাহ্-এর অগ্রগামীতা এবং উক্ত ৭০ হাজারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ওয়াহীর মাধ্যমেই হয়েছে যা অন্য কারো জন্য হয়নি।
(৩) ২য় ব্যক্তি উক্ত মর্যাদা লাভের উপযুক্ত ছিলেন না যেমনটি উপযুক্ত ছিলেন উক্কাশাহ্। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
الفصل الاول (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)
وَعَنْهُ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ فَجَعَلَ يَمُرُّ النَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّجُلَانِ وَالنَّبِيُّ وَمَعَهُ الرَّهْطُ وَالنَّبِيُّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَرَجَوْتُ أَنْ يَكُونَ أُمَّتِي فَقِيلَ هَذَا مُوسَى فِي قَوْمِهِ ثُمَّ قِيلَ لِي انْظُرْ فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفُقَ فَقِيلَ لِي انْظُرْ هَكَذَا وَهَكَذَا فَرَأَيْتُ سَوَادًا كَثِيرًا سَدَّ الْأُفق فَقيل: هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ وَمَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا قُدَّامَهُمْ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ هُمُ الَّذِينَ لَا يَتَطَيَّرُونَ ولايسترقون وَلَا يَكْتَوُونَ وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. قَالَ «اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ» . ثُمَّ قَامَ رجل فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ. فَقَالَ سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ. مُتَّفق عَلَيْهِ
متفق علیہ ، رواہ البخاری (5752) و مسلم (374 / 220)، (527) ۔
(مُتَّفق عَلَيْهِ)
ব্যাখ্যা : (هَؤُلَاءِ أُمَّتُكَ) এরা আপনার উম্মাত। আল্লামাহ্ কিরমানী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, এখানে (উম্মাত) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: উম্মাতুল ইজাবা অথবা উম্মাতুল ইত্তিবা। কেননা নবী (সা.) -এর উম্মাত তিন প্রকার। একটি অপরটি থেকে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। (১) উম্মাতুল ইত্তিবা, (২) উম্মাতুল ইজাবা, (৩) উম্মাতুদ দা'ওয়া। প্রথমটি দ্বারা উদ্দেশ্য যারা সৎকার্জ সম্পাদন করে। আর ২য় টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মুসলিম এবং তৃতীয় প্রকার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো উক্ত দুই প্রকার ব্যতীত অন্য সকল উম্মাত যাদের প্রতি নবী (সা.) প্রেরিত হয়েছেন।
(وَمَعَ هَؤُلَاءِ سَبْعُونَ أَلْفًا) এই উম্মাতের সাথে সত্তর হাজার লোক রয়েছে। ইমাম নবাবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, হয়তো এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আপনার এই উম্মাত ছাড়াও আরো ৭০ হাজার লোক রয়েছে অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আপনার উম্মতের মাঝে ৭০ হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। এর প্রমাণ হলো সহীহুল বুখারীর বর্ণিত হাদীস : (هٰذِه„ أُمَّتُكَ وَيَدْخُلُ الْجَنَّةَ مِنْ هَؤُلاَءِ سَبْعُونَ أَلْفًا) “এরা হলো আপনার উম্মাত এদের মধ্য থেকে ৭০ হাজার লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে”। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
(هُمُ الَّذِينَ لَا يَتَطَيَّرُونَ) তারা অর্থাৎ ৭০ হাজার লোক তারাই, যারা পাখি উড়িয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করে না বা কুলক্ষণে বিশ্বাস করে না।
(ولايسترقون) “ঝাড়ফুঁক করায় না” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো : কুরআন ও সহীহ হাদীস বহির্ভূত দু'আ দিয়ে ঝাড়ফুঁক করায় না। যেমন, এমন অজ্ঞাত ঝাড়ফুঁক যা শিরকমুক্ত নয়।
(وَلَا يَكْتَوُونَ) লোহা গরম করে শরীরে দাগ দেয় না। তবে প্রয়োজনে এটা করা যাবে কিন্তু এই বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আরোগ্য কেবল আল্লাহর ওপর ন্যস্ত শুধু দাগের কোন ক্ষমতা নেই। যেমনটি কোন কোন সাহাবী এ কাজ করেছেন। যেমন আশারায়ে মুবাশশারার অন্যতম সাহাবী সা'দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস।
(وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ) আর তারা তাদের রবের ওপর সর্বদা ভরসা করে। এই বাক্যটি পূর্বে উল্লেখিত তিনটি বিষয় : ঝাড়ফুক না করা, কুলক্ষণে বিশ্বাস না করা এবং শরীরে লোহা গরম করে দাগ লাগানো থেকে বিরত থাকার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে। অথবা, প্রথমে নির্দিষ্ট গুণাবলি উল্লেখ করার পর আরো সাধারণভাবে আলোচনা করা হয়েছে। (ফাতহুল বারী ১১/৬৫৪১)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - তাওয়াক্কুল (আল্লাহর ওপর ভরসা) ও সবর (ধৈর্যধারণ) প্রসঙ্গে
৫৩০২-[৮] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর সওয়ারীর পিছনে বসছিলাম। তখন তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে ছেলে! আল্লাহর বিধানসমূহ যথাযথভাবে মেনে চল আল্লাহ তোমাকে হিফাযতে রাখবেন। আল্লাহর অধিকার আদায় কর, তবে তুমি আল্লাহকে তোমার সম্মুখে পাবে। আর যখন তুমি কারো কাছে কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন আল্লাহর কাছেই চাইবে এবং যখন কারো সাহায্য চাইতে হয় তখন আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে। জেনে রাখ, যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব একত্র হয়ে তোমার কোন কল্যাণ করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন কল্যাণ করতে পারবে না। পক্ষান্তরে যদি সমস্ত সৃষ্টিজীব সমবেতভাবে তোমার কোন ক্ষতি করতে চায় তবে তারা আল্লাহর নির্ধারিত পরিমাণ ব্যতীত তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (তোমাদের ভাগ্যের সব কিছু লেখার পর) কলম তুলে নেয়া হয়েছে এবং খাতাসমূহ শুকিয়ে গেছে। (আহমাদ ও তিরমিযী)
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب التَّوَكُّل وَالصَّبْر)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: كُنْتُ خَلْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا فَقَالَ: «يَا غُلَامُ احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَاعْلَمْ أَنَّ الْأُمَّةَ لَوِ اجْتَمَعَتْ عَلَى أَنْ يَنْفَعُوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَنْفَعُوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ لَكَ وَلَوِ اجْتَمَعُوا عَلَى أَنْ يَضُرُّوكَ بِشَيْءٍ لَمْ يَضُرُّوكَ إِلَّا بِشَيْءٍ قَدْ كَتَبَهُ اللَّهُ عَلَيْكَ رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف» رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ
اسنادہ حسن ، رواہ احمد (1 / 293 ح 2669) و الترمذی (2516 وقال : حسن صحیح) ۔
(صَحِيح)
ব্যাখ্যা: (يَا غُلَامُ) হে বৎস! (غُلَامُ) দ্বারা উদ্দেশ্য ছোট ছেলে, গোলাম বা দাস নয়। অভিধান গ্রন্থে (غُلَامُ) দ্বারা যুবক অর্থ করা হয়েছে অথবা সন্তান জন্মের পর থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত বয়স। ডাক দেয়ার উদ্দেশ্য হলো যাতে সে প্রস্তুত হয় এবং দিক-নির্দেশনাগুলো ভালোভাবে গ্রহণ করে।
(احْفَظِ اللَّهَ يَحْفَظْكَ) আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাকে হিফাযত কর, তাহলে আল্লাহ তোমাকে দুনিয়াতে বিপদাপদ ও অকল্যাণ থেকে রক্ষা করবেন এবং পরকালে সকল প্রকার শাস্তি থেকে বাঁচিয়ে দিবেন।
(احْفَظِ اللَّهَ تَجِدْهُ تُجَاهَكَ) ‘আল্লামাহ্ ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাখ্যায় বলেন, তুমি আল্লাহ অধিকারকে সংরক্ষণ কর এবং তার সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর তাহলে তুমি তাকে তোমার সম্মুখে যাবতীয় অকল্যাণ থেকে সংরক্ষণকারী হিসেবে দেখতে পাবে।
(وَإِذَا سَأَلْتَ فَاسْأَلِ اللَّهَ) অর্থাৎ যখন তুমি কোন কিছু চাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাইবে। কেননা দেয়ার মতো যাবতীয় ধনভাণ্ডার তাঁর হাতে রয়েছে। অথবা বান্দার নিকটে নি'আমাত পৌছানো বা না পৌছানো কেবল তার ইচ্ছাতেই হয়ে থাকে। আর তিনিই একমাত্র দাতা ও অভাবমুক্ত সত্তা, যিনি কারো কাছে মুখাপেক্ষী নন। অতএব একমাত্র তারই নি'আমাতের আশা করা উচিত অথবা শাস্তি প্রতিহত কামনা করা উচিত।
(وَإِذَا اسْتَعَنْتَ فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ) অর্থাৎ আনুগত্য এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অন্যান্য বিষয়ে সাহায্য কামনা করার ইচ্ছা করলে কেবল তারই নিকট সাহায্য কামনা করবে ও তারই ওপর ভরসা করবে সকল স্থানে ও সকল অবস্থায়।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) লাওহে মাহফুযে বান্দার তাক্বদীর সম্পর্কে যা লেখার ও নির্ধারণ করার ছিল তা হয়ে গেছে। এরপর কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছে নতুন করে কোন কিছু লেখা থেকে। আর কিয়ামত পর্যন্ত বান্দার তাক্বদীর যা হবে তা লেখা হয়ে পৃষ্ঠা শুকিয়ে গেছে। সেখানে নতুন করে আর কিছু সংযোজন করা হবে না অথবা কোন বিধান পরিবর্তন করাও হবে না।
(رُفِعَتِ الأقلام وجفَّت الصُّحُف) হাদীসাংশ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, তাক্বদীরের ফায়সালা, “আল্লাহর ইলম অনুযায়ী নির্ধারণ হয়ে গেছে তা আর পরিবর্তন পরিবর্ধন হবে না।” (তুহফাতুল আহ্ওয়াযী ৬/২৫১৬, মিরক্বাতুল মাফাতীহ)
পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - ভয় ও কান্না
৫৩৫৪-[১৬] ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। উত্তরে তিনি (সা.) বললেন, সূরাহ্ হূদ, ওয়াকি’আহ্, মুরসালাত, ’আম্মা ইয়াতাসা- আলূন ও ইযাশ শামসু কুভভিরাত ইত্যাদি আমাকে বৃদ্ধ করে ফেলেছে। (তিরমিযী)
এ ব্যাপারে আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বর্ণিত হদীস (...لَايَلِجُ النَّارَ) “যারা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করবে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে না” কিতাবুল জিহাদে উল্লেখ হয়েছে।
اَلْفصْلُ الثَّنِفْ (بَاب الْبكاء وَالْخَوْف)
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ شِبْتَ. قَالَ: شَيَّبَتْنِي (هود) و (المرسلات) و (عمَّ يتساءلون) و (إِذا الشَّمْسُ كُوِّرَتْ) رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَذُكِرَ حَدِيثُ أَبِي هريرةَ: لَا يلج النَّار «فِي» كتاب الْجِهَاد
سندہ ضعیف ، رواہ الترمذی (3297) * ابو اسحاق عنعن و للحدیث شواھد ضعیفۃ و روی الطبرانی فی الکبیر (17 / 286 ۔ 287 ح 790) بسند حسن عن عقبۃ بن عامر رضی اللہ عنہ ان رجلاً قال : یا رسول اللہ ! شبت ؟ قال : ((شیتنی ھود و اخواتھا)) وھو یغنی عنہ ۔ 0 حدیث ابی ھریرۃ : لا یلج النار ، تقدم (3828) ۔
ব্যাখ্যা : (شَيَّبَتْنِي هود و المرسلات...) আমাকে সূরাহ্ হূদ, ওয়াকি'আহ্, মুরসালাত, ‘আম্মা ও ইযাশ শামসু কুভভিরাত সূরাহ্ বার্ধক্যে উপনীত করেছে। কেননা এই সূরাগুলোতে কিয়ামতের ভয়ানক অবস্থার বর্ণনা করা হয়েছে। (মিরক্বাতুল মাফাতীহ)