৪০৪৪

পরিচ্ছেদঃ ৯. প্রথম অনুচ্ছেদ - সন্ধি স্থাপন

৪০৪৪-[৩] আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। কুরায়শগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সন্ধি করল এবং তারা তাতে এ শর্তারোপ করল, যদি তোমাদের (মুসলিমদের) কোনো লোক আমাদের কাছে (মক্কায়) আসে, তবে তাকে আমরা তোমাদের নিকট ফেরত দেব না। আর আমাদের (কুরায়শদের) কোনো লোক (মদীনায়) চলে গেলে তোমরা তাকে আমাদের নিকট ফেরত দিতে বাধ্য থাকবে। এটা শুনে সাহাবীগণ (ক্রোধান্বিত হয়ে) বলে উঠলেন : হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি এ শর্তও লিখতে বলছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দৃঢ়কণ্ঠে জবাব দিলেন : হ্যাঁ। কেননা আমাদের নিকট হতে যে ব্যক্তি (স্বেচ্ছায়) তাদের নিকট চলে যাবে, তাকে আল্লাহ তা’আলা স্বীয় রহমত হতে বঞ্চিত করবেন। আর তাদের কোনো ব্যক্তি যদি আমাদের নিকট চলে আসে, আশা করা যায় (তাকে ফেরত দেয়ার দরুন) আল্লাহ তা’আলা শীঘ্রই তার মুক্তির একটা পথ বের করে দেবেন। (মুসলিম)[1]

بَابُ الصُّلْحِ

وَعَن أنس: أَنَّ قُرَيْشًا صَالَحُوا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاشْتَرَطُوا عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ مَنْ جَاءَنَا مِنْكُمْ لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكُمْ وَمَنْ جَاءَكُمْ مِنَّا رَدَدْتُمُوهُ عَلَيْنَا فَقَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَنَكْتُبُ هَذَا؟ قَالَ: «نَعَمْ إِنه من ذهبَ منَّا إِليهم فَأَبْعَدَهُ اللَّهُ وَمَنْ جَاءَنَا مِنْهُمْ سَيَجْعَلُ اللَّهُ لَهُ فرجا ومخرجاً» . رَوَاهُ مُسلم

ব্যাখ্যা: (إِنَّه مَنْ ذَهَبَ مِنَّا إِلَيْهِمْ فَأَبْعَدَهُ اللّٰهُ وَمَنْ جَاءَنَا مِنْهُمْ سَيَجْعَلُ اللّٰهُ لَه فَرَجًا وَمَخْرَجًا) আমাদের মধ্য থেকে যারা তাদের কাছে যাবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তার রহমাত থেকে বঞ্চিত করবেন। আর যে ব্যক্তি তাদের মধ্য থেকে ইসলাম গ্রহণ করে আমাদের কাছে আসবে আর শর্তানুযায়ী যদি আমরা তাকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেই তাহলেও আল্লাহ তা‘আলা তার মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।

ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ (إِنَّه مَنْ ذَهَبَ) ‘‘যে ব্যক্তি আমাদের কাছ থেকে তাদের কাছে চলে যাবে’’ এ বাক্যটি পূর্বে উল্লেখিত نعم শব্দের ব্যাখ্যা। অর্থাৎ সন্ধি চুক্তির এ শর্ত ‘‘মুসলিমদের মধ্য থেকে কেউ যদি মদীনাহ্ থেকে পালিয়ে মক্কা গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করে তাহলে মুশরিকগণ তাকে মুসলিমদের কাছে ফেরত পাঠাবে না। পক্ষান্তরে মুশরিকদের মধ্য থেকে কেউ যদি ইসলাম গ্রহণ করে মদীনায় পালিয়ে আসে তাহলে মুসলিমগণ তাকে মক্কায় ফেরত পাঠাতে বাধ্য থাকবে।’’ এ শর্ত শুনার পর মুসলিমগণ বলেছিলেন, আমরা এমন শর্ত লিখবো যা মুসলিমদের স্বার্থের প্রতিকূলে এবং তা একটি অসম চুক্তি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেনঃ হ্যাঁ, তা লিখো এবং কেন লিখতে রাজী হলেন তার ব্যাখ্যা দিলেন এই বলে যে, আমাদের মধ্য থেকে যারা চলে যাবে.....। সহীহুল বুখারীতে বর্ণিত হয়েছে, উপরে বর্ণিত শর্তানুসারে চুক্তি হতে যাচ্ছে এমন কথা শুনে ‘উমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে তাকে বললেনঃ আপনি কী সত্য নাবী নন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ (আমি সত্য নাবী)। ‘উমার বললেনঃ আমরা কি সত্যের উপর আর আমাদের শত্রুগণ বাতিলের উপর নয়? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ (তোমার কথা সঠিক) ‘উমার তখন বললেনঃ তাহলে আমাদের এ সঠিক ধর্মকে এত নীচে নামাচ্ছেন কেন? কেন এ অসম চুক্তি করছেন? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ আমি আল্লাহর রসূল, আমি তার অবাধ্য হতে পারি না। আর তিনি অবশ্যই আমাকে সাহায্য করবেন। ‘উমার আবার বললেনঃ আপনি কি আমাদের বলতেন না যে, আমরা অতি সত্বরই বায়তুল্লাহতে যাবো এবং আমরা তা ত্বওয়াফ করবো? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেনঃ হ্যাঁ, তবে আমি কি বলেছি যে, এবারই সেখানে যাবো? তখন ‘উমার বললেনঃ না, আপনি তা বলেননি। এবার রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি অবশ্যই বায়তুল্লাহতে যাবে এবং তা ত্বওয়াফ করবে। অতঃপর ‘উমার আবূ বাকর -এর কাছে গিয়ে সে প্রশ্নগুলো করলেন যে প্রশ্ন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে করেছিলেন। আবূ বাকর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মতই জবাব দিলেন। ‘আলিমগণ বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ‘উমারের এ প্রশ্ন দীনের প্রতি সন্দেহের কারণে ছিল না বরং তার কাছে যে বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল তা প্রকাশ করার উদ্দেশেই ছিল এ প্রশ্ন। আর ‘উমার-এর প্রশ্নের উত্তরে আবূ বাকর যা বলেছিলেন তা ছিল আবূ বাকর -এর মহান মর্যাদা ও তার গভীর জ্ঞানের প্রমাণ। এমনকি সকল বিষয়েই তার মর্যাদা অন্যের চাইতে বেশী। কারণ এখানে প্রমাণ পাওয়া যায় ‘উমার যা অনুধাবন করতে পারেননি আবূ বাকর তা অনুধান করতে পেরেছিলেন। তাই তার জবাব রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবাবের মতই ছিল। তবে এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ‘উমার -এর প্রশ্নের উত্তরে বললেনঃ আমি আল্লাহর রসূল, আমি তার অবাধ্য হতে পারি না এবং অবশ্যই তিনি আমাকে সাহায্য করবেন। এরপরও ‘উমার কেন আবূ বাকর -এর কাছে গিয়ে তাকে প্রশ্ন করলেন? এর জবাব এই যে, আবূ বাকর -এর নিকট এ বিষয়ে কি জ্ঞান আছে তা জানার জন্য তিনি তাকে প্রশ্ন করেছিলেন। ‘‘আমি আল্লাহর রসূল, আমি তাঁর অবাধ্য হতে পারি না’’ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ বক্তব্যে স্পষ্ট জানা যায় যে, হুদায়বিয়ার সন্ধিচুক্তি আল্লাহর নির্দেশেই হয়েছিল। মুসলিমদের দুর্বলতার কারণে নয়। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ