৩৯৮০

পরিচ্ছেদঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - নিরাপত্তা (আশ্রয়) প্রদান

৩৯৮০-[৪] সুলায়ম ইবনু ’আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মু’আবিয়াহ্ ও রোমীয়দের মধ্যে একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল, কিন্তু উক্ত মেয়াদ উত্তীর্ণের পূর্বেই মু’আবিয়াহ্ রোমীয়দের দিকে অগ্রসর হতে লাগলেন। কেননা চুক্তির মেয়াদ শেষ হতেই যেন তাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালাতে পারে। ঠিক সে সময়ই জনৈক ব্যক্তি ’আরবী অথবা তুর্কী ঘোড়ার উপর সওয়ার হয়ে বলতে বলতে আসছিলেন, ’আল্লা-হু আকবার’ ’আল্লা-হু আকবার’ চুক্তির মর্যাদা রক্ষা করতে হবে, বিশ্বাসঘাতকতা করা যাবে না। তিনি নিকটে আসলে লোকেরা তাকিয়ে দেখলেন, তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশিষ্ট সাহাবী ’আমর ইবনু ’আবাসাহ্।

অতঃপর মু’আবিয়াহ্ তাকে কথাগুলো বলার কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো সম্প্রদায়ের সাথে সন্ধিচুক্তি সম্পাদন করে, তবে সে যেন তা ভঙ্গ না করে এবং শক্তও না করে, যে পর্যন্ত না মেয়াদ অতিবাহিত হয় অথবা পূর্বাহ্নে তাদেরকে স্পষ্টভাবে চুক্তি ভঙ্গের সংবাদ না দেয়। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে মু’আবিয়াহ্ (রাঃ) নিজের লোকেদেরকে নিয়ে ফিরে আসলেন। (তিরমিযী, আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْ سُلَيْمِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: كَانَ بَيْنَ مُعَاوِيَةَ وَبَيْنَ الرُّومِ عَهْدٌ وَكَانَ يَسِيرُ نَحْوَ بِلَادِهِمْ حَتَّى إِذَا انْقَضَى الْعَهْدُ أَغَارَ عَلَيْهِمْ فَجَاءَ رَجُلٌ عَلَى فَرَسٍ أَوْ بِرْذَوْنٍ وَهُوَ يَقُولُ: اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ وَفَاءٌ لَا غدر فَنظر فَإِذا هُوَ عَمْرو ابْن عَبَسَةَ فَسَأَلَهُ مُعَاوِيَةُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُول: «مَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ فَلَا يَحُلَّنَّ عَهْدًا وَلَا يَشُدَّنَّهُ حَتَّى يُمْضِيَ أَمَدَهُ أَوْ يَنْبِذَ إِلَيْهِمْ عَلَى سَوَاءٍ» . قَالَ: فَرَجَعَ مُعَاوِيَة بِالنَّاسِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

ব্যাখ্যা: (فَجَاءَ رَجُلٌ عَلٰى فَرَسٍ أَوْ بِرْذَوْنٍ) ত্বীবী বলেন, الفَرَسٍ দ্বারা এখানে ‘আরবীয় ঘোড়া উদ্দেশ্য। আর بِرْذَوْنٍ দ্বারা তুর্কী ঘোড়া উদ্দেশ্য।

(وَكَانَ يَسِيْرُ نَحْوَ بِلَادِهِمْ) অর্থাৎ- চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় রোম দেশের কাছাকাছি হয়ে থাকার জন্য চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মু‘আবিয়াহ্ তাদের দিকে অগ্রসর হন।

(وَهُوَ يَقُولُ : اَللّٰهُ أَكْبَرُ اَللّٰهُ أَكْبَرُ وَفَاءٌ لَا غَدْرَ) অর্থাৎ- তোমাদের থেকে চুক্তি যেন পূর্ণতা লাভ করে, কোনো প্রকার যেন বিশ্বাসঘাতকতা সৃষ্টি না হয়। অর্থাৎ- আল্লাহ প্রেমী ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উম্মাত কর্তৃক বিশ্বাসঘাতকতায় জড়িত হওয়া অসম্ভব। শারহুস্ সুন্নাহতে আছে- ‘আমর বিন ‘আবাসাহ্ এটা কেবল এজন্য অপছন্দ করেছেন যে, মু‘আবিয়াহ্ যখন তাদের সাথে নির্দিষ্ট এক সময় পর্যন্ত সন্ধি করলেন তখন তিনি নিজ দেশে অবস্থান করছিলেন। তাই রোম দেশের দিকে তার অগ্রসর হওয়াটা চুক্তির নির্দিষ্ট সময় সম্পন্ন হওয়ার পর সংঘটিত হতে হবে। যেমন চুক্তিতে উল্লেখিত সময় শেষ হওয়ার আগে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাবে না, তেমনি সময় শেষ হওয়ার আগে যুদ্ধের জন্য অগ্রসরও হওয়া যাবে না। যেহেতু মু‘আবিয়াহ্-এর সফর সন্ধির অন্তর্ভুক্ত দীনগুলোতে সংঘটিত হয়েছে, তাই ‘আমর একে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে গণ্য করেছেন। পক্ষান্তরে সন্ধিকারী যদি সন্ধি ভঙ্গ করে তাদের থেকে খিয়ানাত প্রকাশ পায় তাহলে প্রতিপক্ষের অধিকার আছে তাদের উদাসীন অবস্থায় তাদের ওপর আক্রমণ করা।

(وَلَا يَشُدَّنَّه) অর্থাৎ- এ বাক্যাংশ দ্বারা চুক্তি পরিবর্তন না করার ব্যাপারে আধিক্যতা উদ্দেশ্য করেছেন, চুক্তি রক্ষার ক্ষেত্রে আধিক্যতা ও গুরুত্ব প্রদানে কোনো বাধা নেই। অর্থাৎ- কোনক্রমেই চুক্তি পরিবর্তন করবে না এবং তা ভঙ্গ করবে না।

(أَوْ يَنْبِذَ إِلَيْهِمْ) অর্থাৎ- প্রতিপক্ষকে প্রকাশ্য বলে দিবে যে, সে প্রতিপক্ষ থেকে খিয়ানাতের আশঙ্কায় চুক্তি ভঙ্গ করেছে। যাতে তার প্রতিপক্ষ তার সাথে চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে সমান হতে পারে। এটা যেন তার থেকে বিশ্বাসঘাতকতা স্বরূপ না হয়। আর এটা মূলত মহান আল্লাহর এ বাণীর কারণে, অর্থাৎ- ‘‘আর আপনি যদি কোনো সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার আশংকা করেন তাহলে তাদের সাথে সম্পাদিত চুক্তি একইভাবে তাদের দিকে ছেড়ে দিন’’- (সূরা আল আনফাল ৮ : ৫৮)। মুযহির বলেনঃ সে তাদেরকে জানিয়ে দিবে যে, সন্ধি উঠে গেছে। তখন উভয় দল ঐ জ্ঞানের ক্ষেত্রে সমান। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৫৮০; ‘আওনুল মা‘বূদ ৫ম খন্ড, হাঃ ২৭৫৫)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ