৬০০

পরিচ্ছেদঃ ২. প্রথম অনুচ্ছেদ - প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায়

৬০০-[১৪] আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, সে সময় তুমি কী করবে যখন তোমাদের ওপর শাসকবৃন্দ এমন হবে, যারা সালাতের প্রতি অমনোযোগী হবে অথবা তা সঠিক সময় হতে পিছিয়ে দিবে? আমি বললাম, আপনি আমাকে কী নির্দেশ দেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ সময়ে তুমি তোমার সালাতকে সঠিক সময়ে আদায় করে নিবে। অতঃপর তাদের সাথে পাও, আবার আদায় করবে। আর এ সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। (মুসলিম)[1]

بَابُ تَعْجِيْلِ الصَّلَوَاتِ

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ: قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ أَوْ قَالَ: يُؤَخِّرُونَ الصَّلَاةَ عَنْ وَقْتِهَا؟ قُلْتُ: فَمَا تَأْمُرُنِي؟ قَالَ: صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَك نَافِلَة. رَوَاهُ مُسلم

ব্যাখ্যা: যদি তুমি ঐ শাসকের সাথে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করো তাহলে প্রথম ওয়াক্তে সালাত আদায় করার সাওয়াব পেলে না আর যদি তুমি তার বিরোধিতা করো তাহলে শাসকের রোষাণলে পড়বে। এমতাবস্থায় করণীয় সম্পর্কে এ হাদীস দ্বারা বুঝা যায় যে, জনগণের অপছন্দে তাদের ওপর ঐসব শাসকদের চাপিয়ে দেয়া হবে। এ হাদীস মূলত একটি ভবিষ্যতের অদৃশ্যের খবর দিচ্ছে। ‘উমাইয়্যাহ্ শাসনামলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। এ শাসকগণ সালাতকে মেরে ফেলবে অর্থাৎ- সালাতকে এর সময় থেকে পিছিয়ে দিবে। ইমাম নাবাবী (রহঃ)-এর মতে, এখানে সালাত পিছিয়ে দেয়া মানে সালাতকে এর নির্ধারিত ওয়াক্ত থেকে পিছিয়ে দেয়া। ঐসব শাসক সালাতকে এর সময়সীমার সম্পূর্ণ বাইরে পিছিয়ে দিতো না। এখানে সালাত পিছানো মানে সালাতকে পূর্ণ সময়সীমা থেকে পিছিয়ে দেয়া। এ কথা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত যে, হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ ও তার আমীর আল্ ওয়ালীদ এবং অন্য অনেকে সালাতকে তার নির্দিষ্ট সময় থেকে পিছিয়ে দিয়েছিলেন।

এরপর আবূ যার (রাঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি যদি ঐ সময় পাই তাহলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করেন? রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বলেন, তুমি নির্দিষ্ট সময়ে সালাত আদায় করবে এবং তাদের সাথে সালাত পেলে তাদের সাথেও সালাত আদায় করবে। তাহলে যে সালাত শাসকের সাথে পড়বে সে সালাত তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, সালাতকে এর নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করতে হবে। আর শাসকগণ যখন সালাতকে এর প্রথম ওয়াক্ত থেকে পিছিয়ে দেয় তখন তাদের অনুসরণ বর্জন করতে হবে। এরূপ এজন্য করবে যে, যাতে মতানৈক্য ও ফিতনাহ্ (ফিতনা) তৈরি না হয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ