হাদিসটি ইমেইলে পাঠাতে অনুগ্রহ করে নিচের ফর্মটি পুরন করুন
security code
৩৮৩২

পরিচ্ছেদঃ দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৩৮৩২-[৪৫] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার সামনে সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশকারী এমন তিন শ্রেণীর লোককে উপস্থিত করা হয়েছে। তন্মধ্যে একদল হলো শহীদ; দ্বিতীয় দল হলো সর্বদা হারাম পরিহার করে চলে এবং কোনো অবস্থায় কারও কাছে সহযোগিতার হাত বাড়ায় না; তৃতীয় দল হলো যে চাকর উত্তমরূপে আল্লাহর ’ইবাদাত করে ও মালিকের কল্যাণ সাধনে নিয়োজিত থাকে। (তিরমিযী)[1]

اَلْفَصْلُ الثَّانِىْ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: عَرَضَ عَلَيَّ أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ: شَهِيدٌ وَعَفِيفٌ مُتَعَفِّفٌ وَعَبَدٌ أَحْسَنَ عبادةَ اللَّهِ ونصح لمواليه . رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ

ব্যাখ্যা: আলোচনাধীন হাদীসটিতে তিন প্রকার ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে, যারা সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের একজন হলো আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করতে গিয়ে শহীদ ব্যক্তি। সুতরাং এ হাদীসটিও জিহাদের ফযীলত সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা বহন করে।

হাদীসে বর্ণিত উক্তি (أَوَّلُ ثَلَاثَةٍ يَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ) এখানে তিন প্রকারের সকল লোককে বুঝানো হয়েছে।

শাহীদের পরিচয় দিতে গিয়ে ‘আল্লামা সুয়ূত্বী (রহঃ) বলেনঃ শহীদকে শহীদ (সাক্ষী বা উপস্থিত ব্যক্তি) বলার কারণ হলো, সে মূলত জীবিত। তার রূহটা যেন হাজির। এটাও বলা হয়ে থাকে যে, আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর ফেরেশতামন্ডলী তার জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য প্রদান করবেন। আরো বলা হয় যে, সে কিয়ামতের দিন রসূলগণের পক্ষে দীন উম্মাতের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন মর্মে সাক্ষ্য দিবে। আবার কেউ বলেন, জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্য ঈমান তার পক্ষে সাক্ষ্য দিবে।

হাদীসে বর্ণিত বাণী (وَعَفِيْفٌ مُتَعَفِّفٌ) বলতে ঐ ব্যক্তিকে বুঝানো হয়েছে, যে অন্যের কাছে কোনো কিছু চাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং অতিরিক্ত খাবার, পোশাক-পরিচ্ছদ ও অন্যান্য ভোগ-সামগ্রী থেকে নিজেকে দূরে রাখে এবং অল্পতেই সন্তুষ্ট থাকে। কারো মতে, যা তার জন্য উচিত বা উপযোগী নয় তা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ ও সংযত রাখে। আর নিজের আত্মা ও কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে ধৈর্যধারণ করে।

(وَعَبَدٌ أَحْسَنَ عِبَادَةَ اللّٰهِ) এ বাক্যে ঐ বান্দাকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যে ‘ইবাদাতের শর্তাবলী ও রুকনসমূহ সঠিকভাবে আদায় করে। ‘আল্লামা তীবী (রহঃ) বলেনঃ তার ‘ইবাদাতকে ইখলাসের সাথে পালন করে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ «الإحسان أن تعبد الله كأنك تراه فإن لم تكن تراه فإنه يراك» অর্থাৎ- তুমি এমনভাবে আল্লাহর ‘ইবাদাত কর যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও তবে জেনে রাখ তিনি তোমাকে দেখতে পাচ্ছেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ