পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ

কাযী ’ইয়ায বলেন, চোরের হাত কাটার বিধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা মানুষের সম্পদকে হিফাযাত করেছেন। চুরি ব্যতীত অন্যভাবে সম্পদ হরণে, যেমন আত্মসাৎ করা, লুণ্ঠন করা ও ছিনতাই ইত্যাদি হাত কাটার বিধান রাখা হয়নি, কেননা এটা চুরির তুলনায় কম। কেননা এ প্রকার আত্মসাৎ বা লুণ্ঠন মাল ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব প্রকাশকের নিকট দরখাসেত্মর মাধ্যমে। আর এর উপর প্রমাণও সংগ্রহ করা সহজ তবে চুরির ক্ষেত্রে অত সহজ নয়, কেননা তা প্রমাণ করা খুব কমই হয়ে থাকে। ফলে বিষয়টি অনেক বড় এ শাস্তিও কঠিন যাতে তা হতে বিরত হওয়া অধিকতর ভূমিকা পালন করে।

সার্বিকভাবে চোরের হাত কাটার ব্যাপারে সকল মুসলিমরা ঐকমত্য হয়েছেন। আর মতানৈক্য হয়েছে শাখা প্রশাখার ব্যাপারে। (শারহে মুসলিম)


৩৫৯০-[১] ’আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দীনারের (স্বর্ণমুদ্রার) এক-চতুর্থাংশ অথবা তার চেয়ে অধিক পরিমাণ চুরি করা ব্যতীত চোরের হাত কাটা যাবে না। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ

عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا تُقطعُ يدُ السَّارِقِ إِلاَّ بربُعِ دِينَار فَصَاعِدا»

عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا تقطع يد السارق إلا بربع دينار فصاعدا»

ব্যাখ্যা: এক বর্ণনায় এসেছে,

 لَمْ تُقْطَعْ يَدُ السَّارِقِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ في أقل من ثمن المجن

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় চোরের হাত কাটা হতো কমপক্ষে ঢাল সমপরিমাণ মূল্য চুরি করলে।

অন্য বর্ণনায় আছে,

 أَنَّ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللّٰهُ عَنْهُ قَالَ قَطَعَ النَّبِيُّ ﷺ سَارِقًا فِي مِجَنٍّ قِيمَتُه ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ

ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ঢাল চুরির দায়ে চোরের হাত কাটিয়েছেন যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম। অন্য বর্ণনায় আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আল্লাহ লা‘নাত করেছেন চোরকে যে ডিম চুরি করে, তার হাত কাটা হয় এবং রশি চুরি করে তারও হাত কাটা হয়।

সকল ‘উলামারা চুরির হাত কাটতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে মতানৈক্য করেছেন কী পরিমাণ চুরি করলে হাত কাটা হবে।

জাহিরীরা বলেছেন, কোনো নিসাব বা পরিমাণ শর্ত না, কম হোক আর বেশি হোক চুরি করলেই হাত কাটা হবে। অনুরূপ মত ইমাম শাফি‘ঈ-এর মেয়ের ছেলে আর কাযী ‘ইয়ায, হাসান বাসরী, খাওয়ারিজ এবং আহলুয্ যাহির অনুরূপ মত ব্যক্ত করেন। তারা ‘আমভাবে আল্লাহর বাণী থেকে দলীল গ্রহণ করেছেন।

‘‘যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে তাদের হাত কেটে দাও।’’ (সূরা আল মায়িদাহ্ ৫ : ৩৮)

আর জুমহূর ‘উলামারা বলেন, নিছাব পরিমাণ হলে হাত কাটা হবে এ সমস্ত সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত। অতঃপর মতানৈক্য করেছে নিছাবের পরিমাণ নিয়ে ইমাম শাফি‘ঈর মতে দীনারের (স্বর্ণমুদ্রার) এক-চতুর্থাংশ বা সমপরিমাণ মূল্য, চাই তার মূল্য তিন দিরহাম হোক বা তার চেয়ে কম হোক বা বেশী হোক। আর এর কম হলে হাত কাটা যাবে না। এ মতে অধিকাংশরা গেছেন এটা ‘আয়িশাহ্, ‘উমার বিন ‘আব্দুল ‘আযীয, আওযা‘ঈ, লায়স, আবূ দাঊদ, ইসহক প্রমুখের মত দাঊদ থেকেও অনুরূপ বর্ণিত এবং মালিক, আহমাদ, ইসহক-এর নিকট দীনারের এক-চতুর্থাংশ বা তিন দিরহামে হাত কাটা হবে এর কমে হাত কাটা যাবে না।

আর সুলায়মান বিন ইয়াসীর ইবনু শুব্রম্নমাহ্ ‘উমার ইবনুল খত্ত্বাব থেকে বর্ণিত। পাঁচ দিরহামের কমে হাত কাটা যাবে না। আর আবূ হানীফাহ্ ও তার সাথীদের মতে দশ দিরহাম সর্বাধিক। সঠিক মত হলো শাফি‘ঈ-এর মত। কেননা এ সমস্ত হাদীসগুলো সুস্পষ্ট প্রমাণ করে «لَمْ تُقْطَعْ يَدُ السَّارِقِ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللّٰهِ ﷺ في أقل من ثمن المجن» ঢালের সমপরিমাণ মূল্যের কম হলে চোরের হাত কাটা হবে না। এর জবাব হাদীসটি শাফি‘ঈ-এর মতের স্বপক্ষে প্রমাণ করে। কেননা ঢালের মূল্য প্রায় দীনারের এক-চতুর্থাংশ।

আর হানাফীরা দশ দিরহাম সংক্রান্ত হাদীসের জবাবে হাদীস দুর্বল। সুতরাং শাফি‘ঈ-এর মত অধিক শক্তিশালী। (শারহে মুসলিম ১১শ খন্ড, হাঃ ১৬৮৪)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৭: দণ্ডবিধি (كتاب الحدود) 17. Prescribed Punishments

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ

৩৫৯১-[২] ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঢাল চুরির অপরাধে এক চোরের হাত কেটে ছিলেন। যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা)। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَطَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ سَارِقٍ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ

وعن ابن عمر قال: قطع النبي صلى الله عليه وسلم يد سارق في مجن ثمنه ثلاثة دراهم

হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৭: দণ্ডবিধি (كتاب الحدود) 17. Prescribed Punishments

পরিচ্ছেদঃ ১. প্রথম অনুচ্ছেদ - চোরের হাত কাটা প্রসঙ্গ

৩৫৯২-[৩] আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ঐ সকল চোরের ওপর অভিসম্পাত করেছেন, যে একটি ডিম চুরির অপরাধে তার হাত কাটা হয়। আর যে একটি রশি চুরি করে এবং তারও হাত কাটা হয়। (বুখারী ও মুসলিম)[1]

بَابُ قَطْعِ السَّرِقَةِ

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَعَنَ اللَّهُ السارِقَ يسرقُ البيضةَ فتُقطعُ يَده وَيسْرق الْحَبل فتقطع يَده»

وعن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لعن الله السارق يسرق البيضة فتقطع يده ويسرق الحبل فتقطع يده»

ব্যাখ্যা: নববী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে দলীল প্রমাণিত হয় যে, পাপীদেরকে অনির্দিষ্ট করে লা‘নাত করা বৈধ। কেননা কোনো জিনস্ বা জাতিকে লা‘নাত করা ‘আম, যেমন আল্লাহর বাণী : ‘‘নিঃসন্দেহে আল্লাহর লা‘নাত যালিমদের ওপর আর নির্ধারিত করে কাউকে লা‘নাত দেয়া অবৈধ।’’ (সূরা হূদ ১১ : ১৮)

ত্বীবী (রহঃ) বলেনঃ লা‘নাত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে স্তর। তিরস্কার বা লাঞ্ছিত করা যেমন বলা হয়। কারো নিকট একজন ব্যক্তি সম্মানিত এবং মর্যাদাসম্পন্ন কিন্তু আল্লাহ তাকে হাত কাটার মাধ্যমে তার নিকট তাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করে তোলেন।

بَيْضَةً (বায়যাহ্) দ্বারা উদ্দেশ্য লৌহ নির্মিত শিরস্ত্রাণ। রশি দ্বারা নৌকা বা জাহাজ বাঁধার রশি। কারো মতে ইসলামের প্রথম দিকে হাত কাটা হতো। পরে তা রহিত হয়েছে।

অথবা কোনো ব্যক্তি প্রথমে রশি অর্থাৎ খুব নগণ্য জিনিস চুরি করলো পরে এই বদ অভ্যাসেই হাত কাটার দিকে নিয়ে যায়। কারো মতে ধমকানো, কারো মতে হাত কাটা হবে রাজনৈতিক নীতিতে। আল্লাহই ভালো জানেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
বর্ণনাকারীঃ আবূ হুরায়রা (রাঃ)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১৭: দণ্ডবিধি (كتاب الحدود) 17. Prescribed Punishments
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৩ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে