পরিচ্ছেদঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দানসমূহ

৩০১৩-[৬] জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ’রুকবা-’রূপে ও ’উমরা-’রূপে (ফেরতের প্রত্যাশায়) দান করো না। যে ব্যক্তিকে ’রুকবা-’ বা ’উমরা-’রূপে কোনো জিনিস দান করা হলে, সেটা তার ওয়ারিসগণই পাবে। (আবূ দাঊদ)[1]

عَنْ جَابِرٌ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا ترقبوا أَو لَا تُعْمِرُوا فَمَنْ أُرْقِبَ شَيْئًا أَوْ أُعْمِرَ فَهِيَ لوَرثَته» . رَوَاهُ أَبُو دَاوُد

عن جابر عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «لا ترقبوا أو لا تعمروا فمن أرقب شيئا أو أعمر فهي لورثته» . رواه أبو داود

ব্যাখ্যা: (لَا تُرْقِبُوْا) ক্রিয়াটি الرقب শব্দ হতে, এভাবে اَلْمُرَاقَبَةِ ক্রিয়ামূল হতে এসেছে। রুকবার ধরণ হলো- ব্যক্তির বলা, আমি এ বাড়ীটিকে তোমাকে বাস করার জন্য দান করলাম। সুতরাং তোমার পূর্বে আমি যদি মারা যাই তাহলে বাড়ীটি তোমার জন্য সাব্যস্ত হবে, পক্ষান্তরে তুমি যদি আমার পূর্বে মারা যাও তাহলে বাড়ীটি আমার কাছে ফিরে আসবে। ক্রিয়াটি المراقبة ক্রিয়ামূল হতে এসেছে- কেননা চুক্তিতে আবদ্ধ ব্যক্তিদ্বয়ের প্রত্যেকে তার সাথীর মৃত্যুর প্রতি লক্ষ্য রাখে। এ হাদীসটি عمرى এবং رقبى সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা স্বরূপ। অর্থাৎ- তোমরা ‘উমরা এবং রুকবা তথা জীবনস্বত্ব দানের মাধ্যমে তোমাদের সম্পদকে নষ্ট করো না এবং তোমাদের কর্তৃত্ব হতে তা বের করে দিয়ো না। সুতরাং এমন এক কর্ম সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা এসেছে যা করলে কোনো উপকার বয়ে আনবে না, আর তোমরা যদি তা কর তাহলে তা বিশুদ্ধ হবে। একমতে বলা হয়েছে- এ নিষেধাজ্ঞা ছিল বৈধ সাব্যস্ত হওয়ার পূর্বে। অতঃপর তা বৈধতার দলীলাদি দ্বারা রহিত হয়েছে। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞাত। এভাবে ফাতহুল ওয়াদূদে আছে। আর মুসলিমে জাবির হতে আবুয্ যুবায়র-এর সানাদে আছে- নিশ্চয় তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘তোমরা তোমাদের সম্পদ তোমাদের কাছে ধরে রাখো, তা নষ্ট করো না। কেননা যে ব্যক্তি জীবনস্বত্ব দান করবে তাহলে তা ঐ ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত হবে যাকে তা জীবনস্বত্ব স্বরূপ দান করা হয়েছে, তা দান গ্রহীতা ব্যক্তির জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুবস্থায় তার পরবর্তীদের জন্য।’’ এ বর্ণনাটি প্রথম অর্থটিকে সমর্থন করছে।

(لِوَرَثَتِه) ত্বীবী বলেন, (لِوَرَثَتِه) এর সর্বনামটি যাকে জীবনস্বত্ব দান করা হয়েছে তার জন্য ব্যবহৃত। আর (فَمَنْ أُرْقِبَ) এর মাঝে فاء বর্ণটি নিষেধাজ্ঞার কারণ বর্ণনা করছে। অর্থাৎ তোমরা ধারণা বশবর্তী হয়ে এবং প্রতারিত হয়ে ‘উমরা এবং রুকবা পন্থায় জীবনস্বত্ব দান করো না। আর এ ধারণা করো না যে, দান করা হয়েছে তা গ্রহীতাকে তার মালিক বানাবে না, তাই তার মৃত্যুর পর তা তোমাদের কাছে ফিরে আসবে। কেননা যে ব্যক্তিকে ‘উমরা এবং রুকবা পন্থায় কোনো কিছু দান করা হবে, তা পররর্তীতে ঐ ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের জন্য সাব্যস্ত হবে। সুতরাং এর উপর ভিত্তি করে ঐ ব্যাপারে জুমহূরের মতের সঠিকতা নিশ্চিত হচ্ছে যে, জীবনস্বত্ব দান ঐ ব্যক্তির জন্য সাব্যস্ত যাকে দান করা হয়েছে। নিঃসন্দেহে সে এ সম্পদের পূর্ণাঙ্গ মালিকানা লাভ করবে এবং বিক্রয় ও অন্য সকল পন্থায় এতে পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব করবে, তারপরে সে বস্তু তার উত্তরাধিকারীদের জন্য সাব্যস্ত হবে। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৫৫৩)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১২: ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) (كتاب البيوع) 12. Business Transactions

পরিচ্ছেদঃ ১৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ - দানসমূহ

৩০১৪-[৭] উক্ত রাবী [জাবির (রাঃ)] হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ’উমরা- জায়িয, যে ব্যক্তিকে ’উমরা-’রূপে দেয়া হয়েছে তা তারই (প্রাপ্য)। আর ’রুকবা-’ জায়িয, যে ব্যক্তিকে ’রুকবা-’রূপে দেয়া হয়েছে তা তারই (প্রাপ্য)। (আহমাদ, তিরমিযী ও আবূ দাঊদ)[1]

وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «الْعُمْرَى جَائِزَةٌ لِأَهْلِهَا وَالرُّقْبَى جَائِزَةٌ لِأَهْلِهَا» . رَوَاهُ أَحْمد وَالتِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد

وعنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «العمرى جائزة لأهلها والرقبى جائزة لأهلها» . رواه أحمد والترمذي وأبو داود

ব্যাখ্যা: (الْعُمْرٰى جَائِزَةٌ لِأَهْلِهَا) এতে ঐ ব্যাপারে প্রমাণ আছে যে, ‘উমরা এবং রুকবা পন্থায় জীবনস্বত্ব দান হুকুমের ক্ষেত্রে সমান এবং এটা জুমহূরের মত। মালিক, আবূ হানীফাহ্ ও মুহাম্মাদ রুকবা পন্থায় জীবনস্বত্ব দানকে নিষেধ করেছেন। আর আবূ ইউসুফ জুমহূরের মতকে সমর্থন করেছেন। আর নাসায়ী ইবনু ‘আব্বাস হতে বিশুদ্ধ সূত্রে মাওকূফভাবে বর্ণনা করেন, ‘উমরা এবং রুকবা পন্থায় স্বত্বদান সমান এভাবে ফাত্হুল বারীতে আছে।

খত্ত্বাবী বলেনঃ আবূ হানীফাহ্ বলেছেন, ‘উমরা পন্থায় জীবনস্বত্ব দানের উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হয়, আর রুকবা পন্থা ধার স্বরূপ। ইমাম শাফি‘ঈ-এর কাছে ‘উমরার মতো রুকবাও উত্তরাধিকারী সাব্যস্ত হয়, এটা হাদীসের বাহ্যিকতার হুকুম। (‘আওনুল মা‘বূদ ৬ষ্ঠ খন্ড, হাঃ ৩৫৫৫)

আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এটা হাসান হাদীস। বর্ণনাকারীদের কতক এ হাদীসটিকে এই সানাদে আবুয্ যুবায়র হতে, তিনি জাবির হতে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন। তিনি একে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণনা করেননি। আল্লাহর রসূলের সাথীবর্গদের হতে এবং অন্যান্যদের কতিপয় বিদ্বানের কাছে এর উপর ‘আমল যে, রুকবা ‘উমরার মতো বৈধ। এটা আহমাদ এবং ইসহক-এর মত।

আর কুফাবাসী এবং অন্যান্য হতে কতিপয় বিদ্বান ‘উমরা এবং রুকবার মাঝে পার্থক্য করেছেন। অতঃপর তারা ‘উমরাকে বৈধ ঘোষণা করেছে এবং রুকবাকে বৈধ ঘোষণা করেননি। (তুহফাতুল আহওয়াযী ৪র্থ খন্ড, হাঃ ১৩৫১)

আহমাদ এবং নাসায়ী ইবনু ‘আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ‘উমরা পন্থায় জীবনস্বত্ব দান করবে তার জন্য তা বৈধ। আর যে ব্যক্তি রুকবা পন্থায় জীবনস্বত্ব দান করবে তার জন্য তা বৈধ। আর দান করে ফেরত গ্রহণকারী বমি করে পুনরায় গ্রহণকারীর মতো।’’ (الْعُمْرَى جَائِزَةٌ لِمَنْ أُعْمِرَهَا وَالرُّقْبٰى جَائِزَةٌ لِمَنْ أُرْقِبَهَا وَالْعَائِدُ فِي هِبَتِه كَالْعَائِدِ فِي قَيْئِه) এ শব্দে বর্ণনা করেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ)


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-১২: ক্রয়-বিক্রয় (ব্যবসা) (كتاب البيوع) 12. Business Transactions
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২ পর্যন্ত, সর্বমোট ২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে