পরিচ্ছেদঃ ২৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইমামতির বর্ণনা

১১২৬-[১০] ’আমর ইবনু সালামাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা মানুষ চলাচলের পথে একটি কুয়ার পাড়ে বসবাস করতাম। এটা মানুষের চলাচলের স্থান। যে কাফিলা আমাদের নিকট দিয়ে ভ্রমণ করে আমরা তাদের প্রশ্ন করতাম, মানুষের কি হলো! এ লোকটির (রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) কি হলো? আর এ লোকটির বৈশিষ্ট্য কি? এসব লোক আমাদেরকে বলত, তিনি নিজেকে রসূল হিসেবে দাবী করেন। আল্লাহ তাঁকে সত্য নবী করে পাঠিয়েছেন। (কাফিলার লোক তাদের কুরআনের আয়াত পড়ে শুনাত) বলত এসব তাঁর কাছে ওয়াহী হিসেবে আসে। বস্তুতঃ কাফিলার নিকট আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যেসব গুনাগুণের কথা ও কুরআনের যেসব আয়াত পড়ে শুনাত এগুলোকে এমনভাবে মুখস্থ রাখতাম যা আমার সিনায় গেঁথে থাকত। ’আরববাসী ইসলাম গ্রহণের সম্পর্কে মক্কা বিজয় হওয়ার অপেক্ষা করছিল। অর্থাৎ তারা বলত, মক্কা বিজয় হয়ে গেলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। আর এ কথাও বলত এ রসূলকে তাদের জাতির ওপর ছেড়ে দাও। যদি সে জাতির ওপর বিজয় লাভ করে (মক্কা বিজয় করে নেয়) তাহলে মনে করবে সে সত্য নবী। মক্কা বিজয় হয়ে গেলে লোকেরা দলে দলে ইসলাম গ্রহণ করবে।

আমার পিতা জাতির প্রথম লোক যিনি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি (ইসলাম গ্রহণ করে) ফিরে আসার পর জাতির নিকট বলতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! আমি সত্য নবীর নিকট থেকে এসেছি। তিনি বলেছেন, অমুক সময়ে এভাবে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করবে। অমুক সময়ে এ রকম সালাত আদায় করবে। সালাতের সময় হলে তোমাদের একজন আযান দেবে। আর তোমাদের যে বেশী ভাল কুরআন পড়তে জানে সে ইমামতি করবে। বস্তুতঃ যখন সালাতের সময় হলো (জামা’আত প্রস্তুত হলো) মানুষেরা কাকে ইমাম বানাবে পরস্পরের প্রতি দেখতে লাগল। কিন্তু আমার চেয়ে ভাল কুরআন পড়ুয়া কাউকে পায়নি। লোকেরা আমাকে আগে বাড়িয়ে দিলো। এ সময় আমার বয়স ছিল ছয় কি সাত বছর। আমার পরনে ছিল শুধু একটি চাদর। আমি যখন সাজদায় যেতাম; চাদরটি আমার শরীর হতে সরে যেত। আমাদের জাতির একজন মহিলা (এ অবস্থা দেখে) বলল, আমাদের সামনে হতে তোমরা তোমাদের ইমামের লজ্জাস্থান ঢেকে দিচ্ছো না কেন? জাতির লোকেরা যখন কাপড় খরিদ করল এবং আমার জন্য জামা বানিয়ে দিলো। এ জামার জন্যে আমার মন এমন খুশী হলো যা আর কখনো হয়নি। (বুখারী)[1]

عَن عَمْرو بن سَلمَة قَالَ: كُنَّا بِمَاء ممر النَّاس وَكَانَ يَمُرُّ بِنَا الرُّكْبَانُ نَسْأَلُهُمْ مَا لِلنَّاسِ مَا لِلنَّاسِ؟ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُونَ يَزْعُمُ أَنَّ الله أرْسلهُ أوحى إِلَيْهِ أَو أوحى الله كَذَا. فَكُنْتُ أَحْفَظُ ذَلِكَ الْكَلَامَ فَكَأَنَّمَا يُغْرَى فِي صَدْرِي وَكَانَتِ الْعَرَبُ تَلَوَّمُ بِإِسْلَامِهِمُ الْفَتْحَ فَيَقُولُونَ اتْرُكُوهُ وَقَوْمَهُ فَإِنَّهُ إِنْ ظَهَرَ عَلَيْهِمْ فَهُوَ نَبِيٌّ صَادِقٌ فَلَمَّا كَانَتْ وَقْعَةُ الْفَتْحِ بَادَرَ كُلُّ قَوْمٍ بِإِسْلَامِهِمْ وَبَدَرَ أَبِي قَوْمِي بِإِسْلَامِهِمْ فَلَمَّا قَدِمَ قَالَ جِئْتُكُمْ وَاللَّهِ مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ حَقًّا فَقَالَ: «صَلُّوا صَلَاةَ كَذَا فِي حِين كَذَا وصلوا صَلَاة كَذَا فِي حِينِ كَذَا فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فليؤذن أحدكُم وليؤمكم أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا» فَنَظَرُوا فَلَمْ يَكُنْ أَحَدٌ أَكْثَرَ قُرْآنًا مِنِّي لَمَّا كُنْتُ أَتَلَقَّى مِنَ الرُّكْبَانِ فَقَدَّمُونِي بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَأَنَا ابْنُ سِتِّ أَوْ سَبْعِ سِنِينَ وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ كُنْتُ إِذَا سَجَدْتُ تَقَلَّصَتْ عَنِّي فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنَ الْحَيِّ أَلَا تُغَطُّونَ عَنَّا اسْتَ قَارِئِكُمْ فَاشْتَرَوْا فَقَطَعُوا لِي قَمِيصًا فَمَا فَرِحْتُ بِشَيْءٍ فَرَحِي بِذَلِكَ الْقَمِيص. رَوَاهُ البُخَارِيّ

عن عمرو بن سلمة قال: كنا بماء ممر الناس وكان يمر بنا الركبان نسألهم ما للناس ما للناس؟ ما هذا الرجل فيقولون يزعم أن الله أرسله أوحى إليه أو أوحى الله كذا. فكنت أحفظ ذلك الكلام فكأنما يغرى في صدري وكانت العرب تلوم بإسلامهم الفتح فيقولون اتركوه وقومه فإنه إن ظهر عليهم فهو نبي صادق فلما كانت وقعة الفتح بادر كل قوم بإسلامهم وبدر أبي قومي بإسلامهم فلما قدم قال جئتكم والله من عند النبي حقا فقال: «صلوا صلاة كذا في حين كذا وصلوا صلاة كذا في حين كذا فإذا حضرت الصلاة فليؤذن أحدكم وليؤمكم أكثركم قرآنا» فنظروا فلم يكن أحد أكثر قرآنا مني لما كنت أتلقى من الركبان فقدموني بين أيديهم وأنا ابن ست أو سبع سنين وكانت علي بردة كنت إذا سجدت تقلصت عني فقالت امرأة من الحي ألا تغطون عنا است قارئكم فاشتروا فقطعوا لي قميصا فما فرحت بشيء فرحي بذلك القميص. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (مَا لِلنَّاسِ مَا لِلنَّاسِ) অর্থাৎ কোন বিষয় মানুষের নিকট ঘটেছে। এটা ইসলাম ধর্ম প্রকাশ সম্পর্কে ইঙ্গিত। একই শব্দ পুনরায় উল্লেখ করে চূড়ান্ত আশ্চর্যকে প্রকাশ করা হয়েছে। ত্বীবী (রহঃ) বলেছেন, এটি এক অপরিচিত বিষয়ের উপর প্রামণ করেছে।

(مَا هذَا الرَّجُلُ) উল্লেখিত অংশে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে ইঙ্গিত। যা নাবীর তরফ থেকে মানুষের আশ্চর্যবোধক কথা শ্রবণের উপর প্রমাণ বহন করে।

সুতরাং মানুষের প্রশ্ন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নুবূওয়্যতের সাথে গুণান্বিত হওয়া সম্পর্কে। ত্বীবী (রহঃ) অনুরূপ মত ব্যক্ত করেছেন, অর্থাৎ যে লোকটির কাছ থেকে আমরা আশ্চর্যজনক সংবাদ শুনছি তার বৈশিষ্ট্য কি?

(أوحى إِلَيْهِ كَذَا) আমাদের কাছে প্রাপ্ত সকল কপিতে এভাবে আছে এবং এভাবে জামি‘উল উসূল-এর ৬ষ্ঠ খন্ডে ৩৭৬ পৃষ্ঠাতে আছে এবং বুখারীতে যা আছে তা হল (أوْحى إِلَيْهِ) তথা (إِلَيْهِ) এর পরিবর্তে (الله) এর প্রয়োগ। এভাবে যে কোন সূরাহ্ বা আয়াত অবতীর্ণ করা হয়। ত্বীবী (রহঃ) বলেছেন, উল্লেখিত অংশ দ্বারা কুরআন সম্পর্কে ইঙ্গিত।

আবূ যার (রাঃ) ছাড়া অন্যত্র এসেছে (أَوْ أوْحَى اللهُ كَذَا) অর্থাৎ (أو) শব্দ অতিরিক্ত করে। আর তা বর্ণনাকারীর সন্দেহ। এর মাধ্যমে তারা কুরআন থেকে তাদের শ্রুত যে বিষয়ে তারা সংবাদ দিচ্ছে তার বর্ণনা করে দেয়া উদ্দেশ্য। আবূ নু‘আয়ম এর মুসতাখরাজ গ্রন্থে আছে (فيقولون: نبي يزعم أن الله أرسله وأن الله أوحى إليه كذا وكذا) অর্থাৎ যাত্রীদল বলত (মুহাম্মাদ লোকটি) একজন নাবী তিনি দাবি করছেন আল্লাহ তাকে রসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন এবং আল্লাহ তাঁর কাছে এ রকম এ রকম প্রত্যাদেশ করেছেন।

(فَكُنْتُ أَحْفَظُ الْكَلَامَ) আবূ দাঊদে এসেছে, আমি একজন স্মৃতিশক্তির অধিকারী বালক ছিলাম। সুতরাং ঐ যাত্রীদল থেকে আমি অনেক কুরআনের আয়াত মুখস্থ করে নিলাম।

(فليؤذن أحدكُم) ক্বারী (রহঃ) বলেছেন, এ বর্ণনাটি পূর্বোক্ত ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণিত (ليؤذن لكم خياركم) হাদীসের পরিপন্থী নয়। কেননা ইবনু ‘আব্বাস-এর বর্ণনা শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনার জন্য। অপরপক্ষে এ বর্ণনা দ্বারা ব্যক্তির বর্ণনা উদ্দেশ্য।

(أَكْثَرُكُمْ قُرْآنًا) আবূ দাঊদে এসেছে তারা বলল, হে আল্লাহর রসূল! কে আমাদের ইমামতি করবে? রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যে তোমাদের মাঝে কুরআন অধিক সংরক্ষণকারী।

(وَأَنَا ابْنُ سِتِّ أَوْ سَبْعِ سِنِينَ) অর্থাৎ এমতাবস্থায় আমি ছয়/সাত বছরের ছেলে। নাসায়ীতে এসেছে, এমতাবস্থায় আমি আট বছরের ছেলে। আবূ দাঊদে এসেছে এমতাবস্থায় আমি সাত বা আট বছরের ছেলে।

(وَكَانَتْ عَلَيَّ بُرْدَةٌ) অর্থাৎ নকশা করা আলখেল্লা। এক মতে বলা হয়েছে, চার কোণ বিশিষ্ট কালো চাদর। যাতে হলদে রং আছে যা ‘আরবরা পরিধান করে থাকে। আবূ দাঊদের এক বর্ণনাতে আছে, আমার উপর আমার একটি হলদে ছোট চাদর ছিল। অন্য বর্ণনাতে আছে আমি এমন এক চাদরে মুসল্লীদের ইমামতি করছিলাম যার মাঝে চিতল নকশা সংযুক্ত আছে।

(تَقَلَّصَتْ عَنِّي) আবূ দাঊদ-এর এক বর্ণনাতে আমার নিতম্ব প্রকাশ পেয়ে যেত। অন্য বর্ণনাতে আছে, আমার নিতম্ব বের হয়ে যেত। আবূ দাঊদে আরও আছে মহিলাদের থেকে এক মহিলা বলল, তোমরা আমাদের থেকে তোমাদের ক্বারীর নিতম্ব আড়াল করে দাও।

(فَاشْتَرَوْا) আবূ দাঊদে আছে, তারা আমার জন্য একটি ওমানী জামা ক্রয় করল।

হাদীসটির মাঝে দলীল রয়েছে, যে ব্যক্তি সর্বাধিক পাঠক সে ইমামতির অধিক যোগ্য। পূর্বোক্ত আবূ মাস্‘ঊদ ও আবূ সা‘ঈদ  (রাঃ)-এর হাদীসদ্বয়ে (الاقرأ) দ্বারা ঐ ব্যক্তি উদ্দেশ্য যে অধিক পরিমাণে কুরআন মুখস্থ করেছে এবং অধিক জ্ঞানী ও ফাক্বীহ এবং যে কুরআন পাঠ করতে সুন্দর সে উদ্দেশ্য নয়। হাদীসে সাত অথবা আট বছর বয়সে ‘আমর বিন সালামাকে ইমামতিতে এগিয়ে দেয়া ঐ বিষয়ের উপর প্রমাণ বহন করে যে, ভাল মন্দ পাথর্ক্য করার জ্ঞান আছে এমন বাচ্চার ফরয অথবা নফল সালাতের ক্ষেত্রে ইমামতি করা জায়িয জুমু‘আর সালাতের ব্যাপারে।

তবে এ ব্যাপারে মানুষ (‘আলিমগণ) মতানৈক্য করেছে, অতঃপর যারা এটা জায়িয বলেছেন তারা হচ্ছেন হাসান বসরী, ইসহাক বিন রাহ্ওয়াইহ ও ইমাম বুখারী। ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ)-এর সমন্বয় সাধনে তার দু’টি উক্তি রয়েছে, তিনি ‘উম্ম’ গ্রন্থে বলেন, জায়িয হবে না। ‘ইমলা’-তে বলেছেন, জায়িয হবে। একে ‘আত্বা, শা‘বী, মালিক, আওযা‘ঈ, সাওরী ও আহমাদ মাকরূহ মনে করেন এবং ‘রায়ি’পন্থীরা এদিকে গিয়েছেন। মিরকাতে বলেছেন, হাদীসটিতে ছোট বাচ্চার ইমামতি করা বৈধ হওয়ার উপর প্রমাণ রয়েছে।

এ ব্যাপারে উক্তি করেছেন ইমাম শাফি‘ঈ। সমন্বয় সাধনে তার তরফ থেকে দু’টি উক্তি রয়েছে। মালিক ও আহমাদ (রহঃ) বলেন, বাচ্চার ইমামতি জায়িয হবে না। আবূ হানীফাও অনুরূপ বলেছেন। তবে তার সাথীবর্গ নফল সালাতের ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন। অতঃপর বালখ অঞ্চলের বিদ্বানগণ তা জায়িয বলেছেন এবং বালখবাসীদের ‘আমলের উপরই এবং মিসর ও শামেও (সিরিয়া) অনুরূপ। তবে অন্যরা তা নিষেধ করেছেন এবং মা-ওরাআন্ নাহার (মধ্য এশিয়া) বাসীদের এর উপরই ‘আমল। হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন, আবূ হানীফাহ্ ও আহমাদ থেকে দু’টি বর্ণনা আছে।

তবে এ ক্ষেত্রে নফল সালাতের ক্ষেত্রে যে বর্ণনাটি আছে তা তাদের উভয় থেকে প্রসিদ্ধ বর্ণনা ফারযের (ফরযের/ফরজের) ক্ষেত্রে না। যারা বাচ্চার ইমামতিতে নিষেধ করেছেন তারা এভাবে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, বাচ্চার ওপর সালাত ওয়াজিব না হওয়ার কারণে বাচ্চা মূলত নফল সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারী (যদিও সে ফরয সালাতের ইমামতিকারী)। সুতরাং এ অবস্থায় নফল সালাত আদায়কারীর পেছনে ফরয সালাত আদায়কারীর অনুকরণ করা জায়িয হবে। কেননা মুক্তাদীর সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার ও নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ইমামের সালাত  জিম্মাদার। আর তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তির কারণে। (ইমাম জিম্মাদার) আর এতে কোন সন্দেহ নেই যে, বস্ত্ত সাধারণত ছোট কিছুর জিম্মাদার হয় তার অপেক্ষা বড় কিছু না।

সুতরাং প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির জন্য ছোট বাচ্চার অনুকরণ করা জায়িয হবে না। তবে এর প্রতিউত্তরে বলা হয়েছে বাচ্চার উপর সালাত ওয়াজিব না হওয়া বাচ্চার ইমামতি বিশুদ্ধ না হওয়াকে আবশ্যক করে না। আর তা মূলত ক্বিরাআত (কিরআত) অধ্যায়ে নফল সালাত আদায়কারীর পেছনে ফরয সালাত আদায়কারী এর সালাত বিশুদ্ধ হওয়ার দলীল থাকার কারণে। পক্ষান্তরে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি (الإمام ضامن) উল্লেখিত উক্তির অর্থের বর্ণনা এবং যারা বলে থাকে বাচ্চার ইমামতি বিশুদ্ধ না তাদের এ দাবির ব্যাপারে উল্লেখিত উক্তি দ্বারা দলীল পেশ বিশুদ্ধ না হওয়ার কারণ আযান অধ্যায়ে অতিবাহিত হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা ইবনু মাস্‘ঊদ-এর বর্ণনা দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছে যাতে বলা আছে তিনি বলেন, বালক ততক্ষণ পর্যন্ত ইমামতি করবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে প্রাপ্তবয়স্ক না হয়। আসরাম তার সুনান গ্রন্থে একে সংকলন করেছেন।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) এর আসার যা ‘আবদুর রাযযাক্ব ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক মারফূ' সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন, এর সানাদ দুর্বল। তবে এ ব্যাপারে প্রতিউত্তর করা হয়েছে যে, তা সাহাবীর উক্তি এবং এ ব্যাপারে ইজতিহাদ করার সুযোগ রয়েছে। সুতরাং তা প্রমাণযোগ্য হবে না। বিশেষ করে এমন কিছু বর্ণিত আছে যা এর বিপরীতের উপর প্রমাণ করে। আর তা ‘আমর বিন সালামাহ্ আল জুরমী এর হাদীস। ইবনু হাযম রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস (নিশ্চয়ই তিনি মানুষের মাঝে যে কুরআনের বড় কারী বা পাঠক তাকে ইমামতির নির্দেশ করেছেন) এ হাদীস বিশুদ্ধ না হওয়ার ব্যাপারে দলীল পেশ করেছেন।

তিনি বলেছেন, এর উপর ভিত্তি করে যার দিকে নির্দেশ বর্তাবে সেই কেবল ইমামতি করবে। আর বাচ্চা সে নির্দেশিত ব্যক্তি নয়। কেননা তার নির্দেশ থেকে উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, সুতরাং সে ইমামতি করবে না। তবে তার উক্তি বিশৃঙ্খল হওয়া গোপন নয়। কেননা বয়স্কদের তরফ থেকে নির্দেশ যার দিকে বর্তায় তাকে আমরা নির্দেশিত ব্যক্তি বলে থাকি। কেননা প্রাপ্তবয়স্করা ঐ ব্যক্তিকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয় যে কুরআন অধিক অবলম্বনকারী। সুতরাং ইবনু হাযম যার মাধ্যমে হুজ্জাত বা দলীল গ্রহণ করেছেন তা বাতিল হয়ে গেল। এভাবে ফাতহুল বারীতে আছে।

হানাফী ও যারা তাদের অনুকূল হয়েছেন তারা বলেন, ‘আমর-এর এ হাদীসে বাচ্চার ইমামতি বিশুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোন দলীল নেই। কেননা তাতে এমন কিছু বর্ণনা হয়নি যে, তা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশের ‘ইলম ও মৌন সম্মতির জন্য এগিয়ে দিয়েছিল। তবে তাদের উক্তিকে এভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, জায়িযের দলীল ওয়াহীর যুগে সংঘটিত হয়েছিল আর সে যুগে এমন কোন কাজের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেয়া হত না যা জায়িয হবে না। বিশেষ করে সালাত যা ইসলামের রুকনসমূহের মাঝে সর্ববৃহৎ। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জুতার ঐ অপবিত্রতার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছিল যা তার জুতাতে লেগেছিল। সুতরাং বাচ্চার ইমামতি বিশুদ্ধ না হলে তখন সে ব্যাপারে অবশ্যই ওয়াহী অবতীর্ণ হত। আবূ সা‘ঈদ এবং জাবির (রাঃ) এভাবে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, তারা ‘আযল করত এমতাবস্থায় কুরআন অবতীর্ণ হত এবং ঐ প্রতিনিধিদল যারা ‘আমরকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দিয়েছিল তারা সাহাবীদের একটি দল ছিল।

ইবনু হাযম তার আল মাহাল্লা গ্রন্থের চতুর্থ খন্ডে ২১৮ পৃষ্ঠাতে এ হাদীসটি বর্ণনার পর বলেছেন, এটি ‘আমর বিন সালামাহ্ এবং তার সাথে একদল সাহাবীর কর্ম। সাহাবীদের থেকে যাদের বিরোধিতাকারী কাউকে পাওয়া যায় না। সুতরাং হানাফী ও দোষারোপকারী মালিকীরা সাহাবীদের বিপরীতে কোথায় অবস্থান করছে। বিষয়টি যখন তাদের অন্ধ অনুকরণের অনুকূলে হবে তখন বিষয়টিকে তারাই সর্বাধিক পরিত্যাগকারী হবে; বিশেষ করে তাদের থেকে যারা বলেছেন, যে বিষয়ে কোন মতানৈক্য পাওয়া যাবে না মনে করতে হবে সে বিষয়ে তাদের ইজমা বা ঐকমত্য সংঘটিত হয়েছে।

ইবনু হাযম (রহঃ) আরও বলেছেন, আমরা নাবীর সাথে ‘আমর-এর সহচার্য ও নিজ পিতার সাথে নাবীর কাছে তার আগমন সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

হাফিয ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে বলেছেন, যারা বলে ছোট বাচ্চাকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয়া সাহাবীদের নিজস্ব ইজতিহাদ এবং নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে জানতেন না তারা ইনসাফপূর্ণ কথা বলেননি। কেননা এ রকম বলা মিথ্যা সাক্ষ্য। পক্ষান্তরে ওয়াহীর যুগে এমন যাতে নাজায়িয কিছু স্থির হতে পারে না। যেমন আবূ সা‘ঈদ ও জাবির (রাঃ) ‘আযল জায়িয হওয়ার ব্যাপারে এভাবে দলীল গ্রহণ করেছেন যে, তারা নাবীর যুগে ‘আযল করত যদি তা নিষেধ হত অবশ্যই কুরআনে তা নিষেধ করা হত।

তবে এ ব্যাপারেও হানাফীরা ও তাদের অনুকূল যারা তারা প্রতিউত্তর করেছে খাত্ত্বাবী মা‘আলিম গ্রন্থে প্রথম খন্ডে ১৬৯ পৃষ্ঠাতে যা উল্লেখ করেছে তার মাধ্যমে। তাতে খাত্ত্বাবী (রহঃ) আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন। আহমাদ বিন হাম্বাল ‘আমর বিন সালামাহ্ এর বিষয়টি দুর্বল মনে করতেন। তিনি একবার বলেছেন তার বিষয়টি ছেড়ে দাও। সেটা স্পষ্ট কিছু নয় এবং ইমাম বুখারী ‘আমর-এর এ হাদীসটি দাস, মুক্ত দাস, ব্যভিচারের সন্তান, বেদুঈন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার ইমামতির অধ্যায়ে নিয়ে আসেননি।

অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার ইমামতির ব্যাপারে এ হাদীস দ্বারা দলীলও গ্রহণ করনেনি। বরং এ ব্যাপারে তিনি একটি ব্যাপক হাদীস দ্বারা দলীল গ্রহণ করেছেন। আর তা হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উক্তি তাদের ইমামতি করবে ঐ ব্যক্তি, যে আল্লাহর কিতাবকে সর্বাধিক পড়তে জানে। বাহ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুভূত হয় ইমাম বুখারী এ কাজটি এ জন্য করেছেন যখন তিনি লক্ষ্য করেছেন ‘আমর-এর এ হাদীসটি অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার ইমামতি জায়িয হওয়ার ব্যাপারে অস্পষ্ট। সুতরাং তিনি এ হাদীস দ্বারা অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার ইমামতি জায়িয হওয়ার ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করেছেন যেভাবে ইমাম আহমাদ নীরবতা অবলম্বন করেছেন। তার থেকে আরও বর্ণনা করা হয়েছে নিশ্চয় তিনি বলেন, (আমি জানি না, এটা কি)।

সম্ভবত তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ প্রাপ্তবয়স্কের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারেননি। তবে এ ধরনের উত্তর এভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, ‘আমর বিন সালামাহ্ ইনি একজন সাহাবী। অথচ এমন কিছু বর্ণনা করা হয়েছে যা ঐ কথার উপর প্রমাণ করে যে, ‘আমর (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আগমন করেছিলেন এবং এ হাদীসটি বিশুদ্ধ। যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ইমামতি করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার কোন অর্থ হয় না। তবে অপ্রাপ্তবয়স্ক বাচ্চার ইমামতি বৈধ না হওয়ার ব্যাপারে পক্ষপাতকারীরা এর প্রতিউত্তরে বলেন, নিশ্চয়ই ‘আমর বিন সালামাহ্ নিজ সম্প্রদায়ের ইমামতি করার সময় প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। অতঃপর তারা মতানৈক্য করেছেন যেমন ইবনুল ক্বইয়্যিম বাদায়ি‘ গ্রন্থের চতুর্থ খন্ডে ৯১ পৃষ্ঠাতে স্পষ্ট বলেছেন, নিশ্চয়ই ‘আমর-এর বয়স তখন সাত বছর ছিল এ বর্ণনার মাঝে একজন অপরিচিত রাবী আছে- এ কথাটি ঠিক না।

হাদীস বিশারদদের কতক বলেছেন, হাদীসে উল্লেখিত বয়স যাত্রীদল থেকে কুরআন শিক্ষা লাভ করার বয়স ইমামতির বয়স নয়। বর্ণনাকারী এর তরফ থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে কমতি হয়েছে। যেমন বর্ণনাকারী ইমামতির বয়স নির্ধারণ করেছেন। তিনি ফায়যুল বারীর দ্বিতীয় খন্ডে ২১৮ পৃষ্ঠাতে বলেছেন, আমার নিকট জওয়াব হচ্ছে নিশ্চয়ই ঘটনাতে আগ-পিছ আছে, সুতরাং তিনি যে বয়সের কথা উল্লেখ করেছেন তা কুরআন শিক্ষা করার বয়স, ইমামতির বয়স না। যা আসমাউর রিজাল কিতাব অধ্যয়ন করার মাধ্যমে জানা যায়। তিনি (বিরুদ্ধবাদী) চতুর্থ খন্ডে ১১৩ পৃষ্ঠাতে যা বলেছেন, ‘আমর-এর উক্তি তারা সকলে তাদের সামনে আমাকে এগিয়ে দিল। এমতাবস্থায় আমি ছয় বা সাত বছরের ছেলে। উল্লেখিত উক্তিতে কিছু কমতি রয়েছে কেননা বিশ্লেষণ করে বুঝা গেছে তার উল্লেখিত বয়স ছিল কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে ইমামতির ক্ষেত্রে না। এমনিভাবে তার বাইয়্যাত গ্রহণও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পরে হয়েছিল; তবে রাবী বিশ্লেষণে কমতি করেছে। উল্লেখিত প্রতি উত্তর এভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে, নিশ্চয়ই ‘আমর বিন সালামাহ্ নিজ সম্প্রদায়ের ইমামতির সময় প্রাপ্ত বয়স্ক ছিলেন এ ব্যাপারে কোন প্রমাণ নেই। বরং এ ধরনের কথাকে স্পষ্ট বর্ণনাসমূহ বাতিল করে দিচ্ছে। তা এভাবে যে, ‘আমর নিজ সম্প্রদায়ের সালাতের ইমামতি করার সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন।

সুতরাং বিরুদ্ধবাদীদের কথা নিছক দাবি হওয়ার কারণে তাদের উক্তির দিকে দৃষ্টি দেয়া যাবে না। পক্ষান্তরে ইবনুল ক্বইয়্যিম-এর উক্তি যে, উল্লেখিত বর্ণনা বিশুদ্ধ নয়; তা মূলত উদাসীনতাবশতঃ প্রকাশ পেয়েছে, কেননা তা সহীহুল বুখারীতে সংকলিত আছে। অপরদিকে ফাইয গ্রন্থকার যা বলেছেন যে, ঘটনাতে আগ পিছ রয়েছে এবং হাদীসে উল্লেখিত বয়স কুরআন গ্রহণের বয়স ছিল; ইমামতির বয়স ছিল না তার উক্তিও নিছক দাবি মাত্র। বর্ণনাকারীর প্রতি সন্দেহ ও কমতির সম্বন্ধ বিনা দলীল/প্রমাণে। আমরা ‘আসমাউর রিজাল’ গ্রন্থসমূহ পুনরায় পুনরায় অধ্যয়ন করেছি কিন্তু ফাইয গ্রন্থকার যা দাবি করেছেন তার উপর প্রামাণ বহন করে এমন কিছু পাইনি এবং যে তা দাবি করেছেন তার উপর প্রমাণ বহন করে এমন কিছু পাইনি।

এবং যে তা দাবি করেছে তার পক্ষেও তার দাবির ব্যাপারে শক্তিশালী বা দুর্বল কোন দলীল নিয়ে আসা সম্ভব না। তবে হাদীসটিতে সালাতাবস্থায় লজ্জাস্থান প্রকাশ পাওয়ার একটি দোষণীয় দিক আছে। আর যা মূলত বৈধ না। তবে তাতে এ সম্ভাবনা থাকছে যে, উল্লেখিত ঘটনাটি শারী‘আতী হুকুম সম্পর্কে সাহাবীদের জ্ঞান লাভের পূর্বের ঘটনা। সুতরাং ঐ ত্রুটির কারণে যারা ‘আমর-এর ঘটনা দ্বারা অপ্রাপ্তবয়স্কের ইমামতি বৈধ হওয়ার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন তাদের ওপর আপত্তি করা যাবে না। বিষয়টি চিন্তা করুন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة) 4. Prayer

পরিচ্ছেদঃ ২৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইমামতির বর্ণনা

১১২৭-[১১] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনায় প্রথম গমনকারী মুহাজিরগণ যখন আসলেন, আবূ হুযায়ফার আযাদ গোলাম সালিম তাদের সালাতের ইমামতি করতেন। মুকতাদীদের মাঝে ’উমার (রাঃ) আবূ সালামাহ্ ইবনু ’আবদুল আসাদও শামিল থাকতেন। (বুখারী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الْأَوَّلُونَ الْمَدِينَةَ كَانَ يَؤُمُّهُمْ سَالِمٌ مَوْلَى أَبِي حُذَيْفَةَ وَفِيهِمْ عُمَرُ وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الْأسد. رَوَاهُ البُخَارِيّ

وعن ابن عمر قال: لما قدم المهاجرون الأولون المدينة كان يؤمهم سالم مولى أبي حذيفة وفيهم عمر وأبو سلمة بن عبد الأسد. رواه البخاري

ব্যাখ্যা: (لَمَّا قَدِمَ الْمُهَاجِرُونَ الْأَوَّلُونَ الْمَدِينَةَ) এভাবে মিশকাতের সকল কপিতে আছে। জাযারী জামি‘উল উসূল গ্রন্থের ৬ষ্ঠ খন্ডে ৩৭৮ পৃষ্ঠাতে এভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি একে ইমাম বুখারী ও আবূ দাঊদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন এবং বুখারীতে যা আছে তা’ হল কিতাবুস্ সালাতে উল্লেখিত কুবা নগরির উসবাহ এলাকাতে দাসের ইমামতি করা সম্বন্ধে। আবূ দাঊদের এক বর্ণনাতে আছে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিররা যখন আগমন করল তখন তারা উসবাহ অঞ্চলে অবস্থান নিল।

(كَانَ يَؤُمُّهُمْ سَالِمٌ مَوْلى أَبِي حُذَيْفَةَ) উল্লেখিত অংশের পরে বুখারীতে একটু বেশি আছে যা লেখক উল্লেখ করেনি আর তা হল (وكان أكثرهم قرآناً) এ অংশের মাঝে ইঙ্গিত রয়েছে সাহাবীদের মাঝে সালিম অপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি থাকা সত্ত্বেও তাঁরা সালিমকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দিয়েছিল এবং ত্ববারানী এর বর্ণনাতে ঠিক ঐভাবে আছে যেভাবে মাজমাউয্ যাওয়ায়িদে দ্বিতীয় খন্ডে ৬৪ পৃষ্ঠাতে আছে আর তা’ হল তিনি তাদের মাঝে সর্বাধিক কুরআন সংরক্ষণকারী ছিলেন।

(وَفِيهِمْ عُمَرُ وَأَبُو سَلَمَةَ) এ অংশটুকু বুখারীর অংশ না, বরং আবূ দাঊদের।

ইমাম বুখারী একে কিতাবুল আহকামে (মুক্ত দাসদের বিচারক ও কর্মচারী বানানো) অধ্যায়ে নিয়ে এসেছেন। আর তা হল ‘আবদুল্লাহ বিন ‘উমার (রাঃ) বলেন, আবূ হুযায়ফাহর মুক্তদাস সালিম কুবা মসজিদে প্রথম পর্যায়ের মুহাজির ও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের ইমামতি করতেন। তাদের মাঝে ছিল আবূ বাকর, ‘উমার (রাঃ), আবূ সালামাহ, যায়দ বিন হারিসাহ্ ও ‘আমর বিন রবী‘আহ্। এদের মাঝে আবূ বাকরের উল্লেখ ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। কেননা হাদীসে আছে, এ ঘটনাটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে আগমনের পূর্বে; অথচ আবূ বাকর হিজরতে রসূলের সঙ্গী ছিলেন। ইমাম বায়হাক্বী বিষয়টিকে ঐ দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে যে, সম্ভবত নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা হতে মদীনাতে হিজরতের পরও সালিম অবিরত তাদের ইমামতি করছিলেন। এমতাবস্থায় নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাতে মসজিদে নাবাবী নির্মাণের পূর্বে আবূ আইয়ূব-এর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তখন সম্ভবত আবূ বাকর মসজিদে কুবাতে আসলে তার পেছনে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করতেন এবং তিনি এ দলকে নিয়ে সালিম-এর ইমামতি করার মাধ্যমে দাসের ইমামতি করা বৈধ হওয়ার ব্যাপারে দলীল গ্রহণ করেছেন। আর এ কারণে লেখক ইমাম বুখারী ও মাজদ ইবনু তায়মিয়্যাহ্ এর অনুসরণার্থে এ হাদীসটিকে ইমামতির অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। এ হাদীস থেকে প্রমাণের দিক হল কুরায়শী বড় বড় সাহাবীগণ তাদের সামনে সালিমকে ইমামতির জন্য এগিয়ে দেয়ার উপর তাদের ঐকমত্য হওয়া। এর উপর আরও প্রমাণ বহন করছে ইমাম শাফি‘ঈ (রহঃ) তাঁর মুসনাদে এবং ‘আবদুর রাযযাক্ব ইবনু আবী মুলায়কাহ্ (রহঃ) থেকে যা বর্ণনা করেছেন। আর তা’ হল ইবনু আবী মুলায়কাহ্ তিনি তার পিতা, ‘উবায়দ বিন ‘উমায়র, মিসওয়ার বিন মাখরামাহ্ এবং অনেক মানুষ ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হত তখন ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর গোলাম আবূ ‘আমর তাদের ইমামতি করতো।

সে সময় আবূ ‘আমর বালক ছিলেন তখনও তাকে আযাদ করা হয়নি। বায়হাক্বী হিশাম বিন ‘উরওয়াহ্ থেকে এবং তিনি নিজ পিতা থেকে বর্ণনা করেন নিশ্চয়ই আবূ ‘আমর যাক্ওয়ান ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) এর গোলাম ছিল ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) তাকে আযাদ করে দেন। আর সে সময় তিনি ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে নিয়ে রমাযানের ক্বিয়াম (কিয়াম) করতেন এমতাবস্থায় সে দাস ছিল। হাফিয ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, জমহূর ‘উলামা দাসের ইমামতি বিশুদ্ধ হওয়ার দিকে গিয়েছেন তবে ইমাম মালিক তাদের বিরোধিতা করেছেন।

ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, দাস স্বাধীন ব্যক্তিদের ইমামতি করবে না তবে দাস ছাড়া যদি স্বাধীনদের থেকে কোন ক্বারী না থাকে তাহলে দাস তাদের ইমামতি করবে তথাপিও জুমু‘আর ক্ষেত্রে পারবে না, কেননা জুমু‘আহ্ দাসের ওপর আবশ্যক না। আশহুব তার বিরোধিতা করেছেন ও যুক্তি দিয়েছেন দাস যখন জুমু‘আতে উপস্থিত হবে তখন জুমু‘আহ্ দাসের একটি অংশে পরিণত হবে। ‘আয়নী (রহঃ) বলেছেন, আমাদের সাথীবর্গ বলেন, দাস তার মালিক-এর সেবায় ব্যস্ত থাকার কারণে দাসের ইমামতি মাকরূহ।

তবে আবূ যার, হুযায়ফাহ্ এবং ‘আবদুল্লাহ বিন মাস্‘ঊদ (রাঃ) তাবি‘ঈদের মধ্যে থেকে ইবনু সীরীন, হাসান, শুরাইহ, নাখ্‘ঈ, শা‘বী ও হাকাম (রহঃ) ফাক্বীহদের মধ্যে থেকে সাওরী, আবূ হানীফাহ্, শাফি‘ঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) দাসের ইমামতি বৈধ বলেছেন। ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, জুমু‘আহ্ ছাড়া অন্য সালাতের ইমামতি করা দাসের জন্য বিশুদ্ধ হবে। অন্য এক বর্ণনাতে এসেছে, দাস যখন কুরআনের পাঠক হবে এবং তার পেছনে স্বাধীনদের মধ্যে থেকে যারা থাকবে তারা যদি কুরআন পড়তে না জানে তাহলে দাসই ইমামতি করবে তবে জুমু‘আহ্ ও ঈদের ক্ষেত্রে না।

মাবসূত গ্রন্থে আছে, দাসের ইমামতি বৈধ আর অন্যের ইমামতি অধিক পছন্দনীয়। যদি একজন ফাক্বীহ দাস ও গায়রে ফাক্বীহ স্বাধীন একত্র হয় তাহলে সেখানে তিনটি দিক। তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ দিক হল এ ক্ষেত্রে উভয়ে সমান তবে যে ব্যক্তি বলেছে ফাক্বীহ দাস সর্বোত্তম তার কথাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কারণ সালিম মসজিদে কুবাতে প্রথম পর্যায়ের মুহাজিরদের ইমামতি করতেন তখন তাদের মাঝে ‘উমার (রাঃ) ও অন্যান্য (বিশিষ্ট) ব্যক্তিবর্গও ছিলেন। এর মূল কারণ সালিম অন্যদের তুলনাতে কুরআন বেশি সংরক্ষণ করেছিলেন। ক্বারী (রহঃ) বলেন, ‘উমার (রাঃ)-এর উপস্থিতিতে সালিম-এর ইমামতি তাদের মাজহাবের ওপর একটি শক্তিশালী দলীল যারা সর্বাধিক ফাক্বীহ এর উপর সর্বাধিক কুরআনের ক্বারীকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة) 4. Prayer

পরিচ্ছেদঃ ২৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - ইমামতির বর্ণনা

১১২৮-[১২] ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ তিন ব্যক্তি এমন আছেন যাদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) মাথার উপরে এক বিঘত পরিমাণও উঠে না। এক ব্যক্তি যে জাতির ইমাম, অথচ জাতি তাকে অপছন্দ করে। দ্বিতীয় মহিলা, যে এ অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে যে তার স্বামী তার ওপর অসন্তুষ্ট। তৃতীয় দু’ ভাই, যাদের পরস্পরের ওপর পরস্পর অসন্তুষ্ট। (ইবনু মাজাহ)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ثَلَاثَةٌ لَا تُرْفَعُ لَهُم صلَاتهم فَوق رؤوسهم شِبْرًا: رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَامْرَأَةٌ بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَأَخَوَانِ مُتَصَارِمَانِ . رَوَاهُ ابْن مَاجَه

وعن ابن عباس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ثلاثة لا ترفع لهم صلاتهم فوق رؤوسهم شبرا: رجل أم قوما وهم له كارهون وامرأة باتت وزوجها عليها ساخط وأخوان متصارمان . رواه ابن ماجه

ব্যাখ্যা: হাদীস থেকে বুঝা যায়, ইমাম হতে হবে সর্বজনপ্রিয়, পরহেযগার। যার ওপরে সবার ভক্তি শ্রদ্ধাবোধ থাকে। স্ত্রী হতে হবে-স্বামীর প্রতি অনুরাগী ও তাবেদারিণী। স্বামীর সব হক আদায়ের প্রতি যত্নবান হবে। স্বামীও তার স্ত্রীর সব বিষয় লক্ষ্য রাখবে। একজন মুসলিম অপর মুসলিম ভাই থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা সর্বোচ্চ তিনদিন বৈধ। তিনদিনের বেশি হারাম। হাদীসে ভাই বলতে বংশগত ও দীনের দিক থেকে উভয় ধরনের ভাই উদ্দেশ্য। যেমন অপর হাদীসে এসেছে, কোন মুসলিমের জন্য অপর মুসলিমের সাথে তিন দিনের বেশি সম্পর্ক ছিন্ন করে কথাবার্তা বন্ধ করে রাখা বৈধ না। দু’ভাই কলহ ঝগড়া করে পরস্পর সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করে থাকবে না। কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখতে পারবে না, তিনদিন পর্যন্ত শার‘ঈ কারণ ছাড়া পারস্পরিক কথাবার্তা বন্ধ রাখা হারাম। এমন করা ঠিক না। করলে এদের সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) কবূল হবে না।


হাদিসের মানঃ যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة) 4. Prayer
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ৩ পর্যন্ত, সর্বমোট ৩ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে