পরিচ্ছেদঃ ২১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তিলাওয়াতের সিজদা্

১০৩৭-[১৫] ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’সূরাহ্ আন্ নাজম’ তিলাওয়াত করলেন এবং তাতে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করলেন। তাঁর কাছে যেসব মানুষ ছিলেন তারাও সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করলো। কিন্তু কুরায়শ বংশের এক বৃদ্ধ পাথর অথবা এক মুষ্টি মাটি নিয়ে নিজের কপালের দিকে উঠাল এবং বলল, আমার জন্যে এটাই যথেষ্ট হবে। ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস্’ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি এ ঘটনার পর দেখেছি ঐ বৃদ্ধ মানুষটিকে কুফরী অবস্থায় হত্যা করা হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম; বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, সে বুড়া লোকটি ছিল উমাইয়্যাহ্ বিন খাল্‌ফ।)[1]

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ (وَالنَّجْمِ)
فَسَجَدَ فِيهَا وَسَجَدَ مَنْ كَانَ مَعَهُ غَيْرَ أَنَّ شَيْخًا مِنْ قُرَيْشٍ أَخَذَ كَفًّا مِنْ حَصًى أَوْ تُرَابٍ فَرَفَعَهُ إِلَى جَبْهَتِهِ وَقَالَ: يَكْفِينِي هَذَا. قَالَ عَبْدُ اللَّهِ: فَلَقَدْ رَأَيْتُهُ بَعْدُ قُتِلَ كَافِرًا. وَزَادَ الْبُخَارِيُّ فِي رِوَايَةٍ: وَهُوَ أُمَيَّةُ بْنُ خلف

عن ابن مسعود: أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ (والنجم) فسجد فيها وسجد من كان معه غير أن شيخا من قريش أخذ كفا من حصى أو تراب فرفعه إلى جبهته وقال: يكفيني هذا. قال عبد الله: فلقد رأيته بعد قتل كافرا. وزاد البخاري في رواية: وهو أمية بن خلف

ব্যাখ্যা: ‘‘তাঁর সাথে যারা ছিল তারা সবাই সিজদা্ করল।’’ অর্থাৎ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ক্বিরাআত (কিরআত) যারা শুনেছে তারা সবাই সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করে। জিন্, ইনসান, মু’মিন ও মুশরিক সকলেই সাজদাতে অংশগ্রহণ করে।

(غَيْرَ أَنَّ شَيْخًا مِنْ قُرَيْشٍ) ‘এক কুরায়শ শায়খ ব্যতীত’ তিনি হলেন উমাইয়্যাহ্ ইবনু খালফ।

হাদীসের শিক্ষাঃ

১. সিজদার আয়াত পাঠকারীর নিকট উপস্থিত ব্যক্তির তিলাওয়াতের সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করা বিধিসিদ্ধ।

২. বিনা উযূতে তিলাওয়াতের সিজদা্ করা বৈধ। কেননা উপস্থিত লোকজন সিজদা্ করার জন্য পূর্ব থেকেই প্রস্তত ছিল না। ফলে তারা বিনা উযূতেই সিজদা্ করলেও নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মেনে নেন। এতে বুঝা যায় যে, তিলাওয়াতের সিজদা্ করার জন্য উযূ আবশ্যক নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة) 4. Prayer

পরিচ্ছেদঃ ২১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - তিলাওয়াতের সিজদা্

১০৩৮-[১৬] ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরাহ্ সাদ-এ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করেছেন এবং বলেছেন, দাঊদ (আঃ) সূরায়ে সাদ-এর এ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) দু’আ কবূলের জন্যে করেছেন। আর আমরা তার তওবা্ কবূলের কৃতজ্ঞতা স্বীকারস্বরূপ সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করছি। (নাসায়ী)[1]

وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَجَدَ فِي (ص)
وَقَالَ: سَجَدَهَا دَاوُدُ تَوْبَةً وَنَسْجُدُهَا شُكْرًا. رَوَاهُ النَّسَائِيُّ

وعن ابن عباس قال: إن النبي صلى الله عليه وسلم سجد في (ص) وقال: سجدها داود توبة ونسجدها شكرا. رواه النسائي

ব্যাখ্যা: ‘সাদ-এ সিজদা্ করেছেন’ অর্থাৎ সূরাহ্ সাদ-এ সাজদার আয়াত পাঠ করে সিজদা্ করেছেন। ‘আমরা শুকরিয়া আদায় করণার্থে সিজদা্ করব। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা দাঊদ (আঃ)-এর তাওবাহ কবূল করেছেন তাই আমরা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) করব। কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে সিজদা্ করা এটা আবশ্যক করে না যে তা তিলাওয়াতের সিজদা্ নয়। কেননা তিলাওয়াতের সিজদা্ এর সম্পর্কে সাজদার আয়াত পাঠ করার সাথে অথবা তা শ্রবণ করার সাথে। মোট কথা হল এ হাদীসে সিজদা্ করার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। আর তা হল দাঊদ (আঃ)-এর সিজদা্ তাওবার উদ্দেশে আর আমাদের সিজদা্ অত্র সূরাতে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে। আমাদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে সিজদা্ করাটা তা তিলাওয়তের সিজদা্ এর বিপরীত নয়।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৪: সালাত (كتاب الصلاة) 4. Prayer
দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ২ পর্যন্ত, সর্বমোট ২ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে