পরিচ্ছেদঃ ১১. তৃতীয় অনুচ্ছেদ - গোসলের সুন্নাত নিয়ম

৫৪৪-[৮] ’ইকরিমাহ্ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’ইরাকের কিছু লোক এসে জিজ্ঞেস করলো, হে ’আবদুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস! জুমু’আর দিনের গোসলকে আপনি কি ওয়াজিব মনে করেন? তিনি বললেন, না। কিন্তু যে ব্যক্তি তা করবে তার জন্য খুবই উত্তম ও পবিত্রতম। আর যে ব্যক্তি তা করলো না তার জন্য ফরয নয়। কিভাবে জুমু’আর গোসল শুরু হলো তা আমি তোমাদেরকে বলছি। লোকেরা গরীব ছিল। পশমের মোটা কাপড় পরতো। পিঠে ভারবাহীর মতো কঠিন পরিশ্রম করতো। তাদের মাসজিদ ছিল ছোট ও নীচু চালার খেজুর ডালের চাপরা। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনি এক গরমের দিনে মসজিদের দিকে গেলেন। মানুষ পশমের কাপড় পড়ে ঘামে ভিজে গিয়েছিল। তাদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। এতে একে অপরের দুর্গন্ধে কষ্ট পাচ্ছিল। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও গন্ধ পাচ্ছিলেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, হে লোক সকল! তোমরা এ দিনে গোসল করে মসজিদে আসবে। তোমাদের প্রত্যেকেই যেন আপন আপন সামর্থ্যানুযায়ী ভালো ভালো তৈল ও সুগন্ধি ব্যবহার করে। ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের সম্পদ দান করলেন। তারা পশম ছাড়া অন্য কাপড়-চোপড় পরতে থাকেন। তাদের পরিশ্রম ও দিন মজুরীর অবসান ঘটে। তাদের মাসজিদও প্রশস্ত হলো। তাদের একে অপরকে কষ্ট দেবার মতো দুর্গন্ধ ঘামও দূর হয়ে গেল। (আবূ দাঊদ)[1]

عَن عِكْرِمَة: إِنَّ نَاسًا مِنْ أَهْلِ الْعِرَاقِ جَاءُوا فَقَالُوا يَا ابْنَ عَبَّاسٍ أَتَرَى الْغُسْلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاجِبًا قَالَ لَا وَلَكِنَّهُ أَطْهَرُ وَخَيْرٌ لِمَنِ اغْتَسَلَ وَمَنْ لَمْ يَغْتَسِلْ فَلَيْسَ عَلَيْهِ بِوَاجِبٍ. وَسَأُخْبِرُكُمْ كَيْفَ بَدْءُ الْغُسْلِ: كَانَ النَّاسُ مَجْهُودِينَ يَلْبَسُونَ الصُّوفَ وَيَعْمَلُونَ عَلَى ظُهُورِهِمْ وَكَانَ مَسْجِدُهُمْ ضَيِّقًا مُقَارِبَ السَّقْفِ إِنَّمَا هُوَ عَرِيشٌ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي يَوْمٍ حَارٍّ وَعَرِقَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ الصُّوفِ حَتَّى ثَارَتْ مِنْهُمْ رِيَاحٌ آذَى بِذَلِكَ بَعْضُهُمْ بَعْضًا. فَلَمَّا وَجَدَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِلْكَ الرّيح قَالَ: «أَيُّهَا النَّاسُ إِذَا كَانَ هَذَا الْيَوْمُ فَاغْتَسِلُوا وَلْيَمَسَّ أَحَدُكُمْ أَفْضَلَ مَا يَجِدُ مِنْ دُهْنِهِ وَطِيبِهِ» . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: ثُمَّ جَاءَ اللَّهُ بِالْخَيْرِ وَلَبِسُوا غَيْرَ الصُّوفِ وَكُفُوا الْعَمَلَ وَوُسِّعَ مَسْجِدُهُمُ وَذَهَبَ بَعْضُ الَّذِي كَانَ يُؤْذِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا مِنَ الْعَرَقِ. رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ

عن عكرمة: إن ناسا من أهل العراق جاءوا فقالوا يا ابن عباس أترى الغسل يوم الجمعة واجبا قال لا ولكنه أطهر وخير لمن اغتسل ومن لم يغتسل فليس عليه بواجب. وسأخبركم كيف بدء الغسل: كان الناس مجهودين يلبسون الصوف ويعملون على ظهورهم وكان مسجدهم ضيقا مقارب السقف إنما هو عريش فخرج رسول الله صلى الله عليه وسلم في يوم حار وعرق الناس في ذلك الصوف حتى ثارت منهم رياح آذى بذلك بعضهم بعضا. فلما وجد رسول الله صلى الله عليه وسلم تلك الريح قال: «أيها الناس إذا كان هذا اليوم فاغتسلوا وليمس أحدكم أفضل ما يجد من دهنه وطيبه» . قال ابن عباس: ثم جاء الله بالخير ولبسوا غير الصوف وكفوا العمل ووسع مسجدهم وذهب بعض الذي كان يؤذي بعضهم بعضا من العرق. رواه أبو داود

ব্যাখ্যা: অত্র হাদীস প্রমাণ করে যে, জুমু‘আর দিন গোসল করা ওয়াজিব নয়। এটি মাওকূফ হাদীস যাতে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর মতামত ব্যক্ত হয়েছে। আর মারফূ‘ হাদীসে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিনে গোসল করার নির্দেশ দিয়েছেন যা ৫৩৭ নং হাদীস এবং অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। অতএব মসজিদে আগমনকারীর জন্য জুমু‘আর দিনে গোসল করা ওয়াজিব।

উপরোল্লিখিত ৫৩৭ নং হাদীস এবং অন্যান্য সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, জুমু‘আর দিনে যে ব্যক্তি সালাতে উপস্থিত হতে চায় তাকে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোসল করতে আদেশ করেছেন।


হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত)
পর্ব-৩: পাক-পবিত্রতা (كتاب الطهارة) 3. Purification