পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ إِثْبَاتِ النُّصْرَةِ لِأَصْحَابِ الْحَدِيثِ إِلَى قِيَامِ الساعة
কিয়ামত সংঘটিত না হওয়া পর্যন্ত আসহাবুল হাদীস (হাদীস অনুসরনকারী)-দের জন্য সাহায্য লাভের প্রমাণ- এ সম্পর্কিত বর্ণনা:
৬১. মুয়াবিয়া ইবনু কুররাহ (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের একটি দল অব্যাহতভাবে কিয়ামত পর্যন্ত সাহায্যপ্রাপ্ত হতে থাকবে এবং যারা তাদের অপদস্থ করতে চায় তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে সক্ষম হবে না।[1]
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(لَا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي مَنْصُورِينَ لَا يَضُرُّهُمْ خِذْلَانُ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى تقوم الساعة) (1).
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الصحيحة)) (270 و 403).
(1) هذا تمام الحديث الآتي برقم (7258)
الحديث: 61 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 189
আরনাউত্ব: বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দমা ৬; আহমাদ ৫/৩৪; তিরমিযী, ২১৯২।
এটি ছাওবান (রাঃ) হতে মুসলিম ১৯২০ ও অন্যরা; মুগীরাহ ইবনু শু’বাহ (রাঃ) হতে বুখারী৩৬৪০ ও অন্যরা; মুয়াবিয়া (রাঃ) হতে বুখারী ৩৪৬১; জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) হতে মুসলিম ১৭৪; জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে মুসলিম ১৯২৩; উকবাহ ইবনু আমির (রাঃ) হতে মুসলিম ১৯২৪; উমার ইবনু খাত্তাব (রাঃ) হতে দারেমী ২/২১৩, হাকিম ৪/৪৪৯; ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে আবূ দাউদ ২৪৮৪ এবং আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে আহমাদ ৫/২৬৯ তে বর্ণনা করেছেন।
বুখারী বলেন: তারা হলেন আহলুল ইলম (তথা আলিমগণ); আহমাদ বলেন: তারা যদি আহলুল হাদীস না হন, তাহলে আমার জানা নেই তারা আর কারা।’ এর ব্যাখ্যায় কাযী আয়ায বলেন : আহমাদ এ দ্বারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ ও আহলুল হাদীসের আকীদা পোষণকারীদেরকে বুঝিয়েছেন।
আর ইমাম নববী বলেন: একদল দ্বারা অনেক প্রকারের মুমিনদের বুঝিয়েছেন মুজাহিদ, ফকীহ, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধকারী কর্তৃপক্ষ, যাহিদ, আবিদ সকলকেই বুঝানো হয়েছে। (শরহে মুসলিম ১৩/৬৬-৬৭)
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ سَمَاعِ الْمُسْلِمِينَ السُّنَنَ خَلَفٍ عن سَلَفٍ
পূর্ববর্তী মুসলিমদের থেকে পরবর্তী মুসলিমদের (ইলমী বিষয়) শোনার রীতি সম্পর্কিত বর্ণনা:
৬২. ইবনু আব্বাস (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা ভালভাবে (হাদীস তথা জ্ঞানের কথা) শুনে রাখবে। কেননা লোকেরা তোমাদের কাছ থেকে তা শুনবে। অতঃপর তোমাদের কাছ থেকে যারা শুনবে তাদের কাছ থেকেও পরবর্তীরা শুনবে।[1]
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الْبَرْمَكِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ شَيْبَانَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال:
(تَسْمَعُونَ ويُسْمَعُ مِنْكُمْ ويُسْمَعُ مِمَّنْ يَسْمَعُ مِنْكُمْ)
= [69: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((الصحيحة)) (1784).
[ص: 190]
عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيُّ: ثِقَةٌ كوفي
الحديث: 62 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 189
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: আবূ দাউদ ৩৬৫৯; হাকিম ১/৯৫; আহমাদ ১/৩২১;
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْءِ كَثْرَةُ سَمَاعِ الْعِلْمِ ثُمَّ الِاقْتِفَاءُ وَالتَّسْلِيمُ
কোন ব্যক্তির জন্য মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হলো প্রচুর ইলম (হাদীস) শোনা এবং তা অনুসরণ করা ও মেনে চলা- এ সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ:
৬৩. আবূ হুমাইদ এবং আবূ উসাইদ হতে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন তোমরা আমার পক্ষ হতে হাদীস শুনবে, তোমাদের অন্তর/ বিবেক তা চিনতে পারবে এবং তোমাদের শরীরের লোম ও চামড়া তার প্রতি ঝুঁকে যাবে এবং এটি তোমাদের কাছে অতীব নিকটতম মনে হবে, কেননা আমি তো তোমাদের অতি ঘনিষ্ঠ, আপনজন। অপরদিকে, যখন তোমরা আমার পক্ষ হতে হাদীস শুনবে, আর তোমাদের অন্তর/ বিবেক তা প্রত্যাখ্যান করবে (চিনবে না) এবং তোমাদের শরীরের লোম ও চামড়া তাতে (ভীত শঙ্কিত হয়ে) দ্রুতগতিতে নাড়া দিয়ে উঠবে এবং এটি তোমাদের থেকে ভীষণ দূরবর্তী (অসম্ভব) মনে হবে, কেননা আমি তো তা থেকে তোমাদের চেয়েও অধিক দূরবর্তী।”[1]
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ وَأَبِي أُسَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
إِذَا سَمِعْتُمُ الْحَدِيثَ عَنِّي تَعْرِفُهُ قُلُوبُكُمْ وَتَلِينُ لَهُ أَشْعَارُكُمْ وَأَبْشَارُكُمْ وَتَرَوْنَ أَنَّهُ مِنْكُمْ قَرِيبٌ فأنا أولاكم به وإذا سمعتم الحديث عتي تُنْكِرُهُ قُلُوبُكُمْ وَتَنْفِرُ عَنْهُ أَشْعَارُكُمْ وَأَبْشَارُكُمْ وَتَرَوْنَ أنه منكم بعيد فأنا أبعدكم منه)
= [66: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن ـ ((الصحيحة)) (732).
الحديث: 63 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 190
আরনাউত্ব: মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪৯৭, ৫/৪২৫; বাযযার, ১৮৭; মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৪৯-১৫০; বুখারী, তারীখুল কাবীর ৩/৪৭৪।
এ হাদীসের সম্বোধনকৃত ব্যক্তিবর্গ হলেন সাহাবীগণ, তাদের অন্তরের তাকওয়া, ইলমের পরিপূর্নতা, ন্যায়পরায়নতা ও রাসূল (সাঃ) এর সিরাত সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞানী হওয়া ইত্যাদি বৈশিষ্টের কারণে। দেখুন, আলবানী, সহীহাহ হাদীস নং ৭৩২ এর টীকা।
পরিচ্ছেদঃ ১. সুন্নাহ তথা হাদীস মুখস্ত করা ছেড়ে দিয়ে শুধু লিখার উপর নির্ভর করে বসে থাকার আশঙ্কায় সুন্নাহ বা হাদীস লিখার নিষেধাজ্ঞা:
৬৪. আবু সাঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার মুখ নিঃসৃত বাণী (হাদীস) তোমরা লিপিবদ্ধ করো না, কুরআন ছাড়া। আর কেউ যদি আমার কথা লিপিবদ্ধ করে থাকে তবে যেন সেটা যেন মুছে ফেলে। [1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) রহ. বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে কুরআন ব্যতীত হাদীস লিখে রাখতে নিষেধ করেছেন- এ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, সুন্নাহ তথা হাদীস মুখস্ত করা পরিত্যাগ করে লিখে রাখার উপর নির্ভর না করা এবং তা মুখস্ত রাখা ও সে সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করার বিষয়ে উৎসাহিত করা। তবে এটি বিশুদ্ধ হওয়ার দলীল হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাঁর খুতবা আবূ শাহকে লিখে দেওয়া এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) কে (হাদীস) লিখে রাখতে অনুমতি প্রদান।
بَابُ الزَّجْرِ عَنْ كِتْبَةِ الْمَرْءِ السُّنَنَ مَخَافَةَ أَنْ يَتَّكِلَ عَلَيْهَا دُونَ الْحِفْظِ لَهَا
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ يَحْيَى ـ صَاحِبُ الْبَصْرِيِّ (1) ـ قَالَ: حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(لَا تَكْتُبُوا عَنِّي إِلَّا الْقُرْآنَ فَمَنْ كَتَبَ عَنِّي شيئاً فَلْيَمْحُهُ)
= [56: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - انظر التعليق: م.
قال أبو حاتم: زَجْرُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنِ الْكِتْبَةِ عَنْهُ سِوَى الْقُرْآنِ أَرَادَ بِهِ الْحَثَّ عَلَى حِفْظِ السُّنَنِ دُونَ الِاتِّكَالِ عَلَى كِتْبَتِها وَتَرْكِ حِفْظِهَا والتفقُّه فِيهَا.
وَالدَّلِيلُ عَلَى صِحَّةِ هَذَا إِبَاحَتُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَبِي شاهٍ كَتْبَ الْخُطْبَةِ الَّتِي سَمِعَهَا مِنْ [ص: 192] رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وإذْنُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو بِالْكِتْبَةِ.
(1) تابعهُ جمعٌ عن همامٍ .... به: عند مسلم (8/ 229)، والنسائي في ((الكبرى)) (3/ 431 و 5/ 10 – 11)، والدارمي (1/ 119) , وأحمد (3/ 12 و 21/ 39 و 56)، وغيرهم.
واستدركه الحاكم (1/ 126 – 127) على مسلمٍ؛ فوهم!
وخالف هماماً: عبد الرحمن بنُ زيد بن أسلم، فقال: عن أبيه، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ؛ أخرجه البزارُ (194).
وعبد الرحمن ضعيف جداً.
الحديث: 64 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 191
আরনাউত্ব: মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৩/১২, ২১, ৩৯, ৫৬; মুসলিম ৩০০৪; দারেমী ১/১১৯; নাসাঈ, ফাযাইলুল কুরআন ৩৩; হাকিম ১/১২৬, ১২৭। হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
৬৫. আবূ যার্ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কে ছেড়ে চলে গেছেন। তবে (আসমানে) ডানা মেলে উড়ে যাওয়া সকল পাখিই আমাদেরকে তাঁর কোনো ইলমের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) বলেনঃ (আমাদেরকে তাঁর)’ এ কথার অর্থ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদেশ, নিষেধ, বিবরণ, কর্ম ও অনুমোদনসমূহ।
أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بِسْطَامٍ بِالْأُبُلَّةِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ (1): حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ فِطْرٍ عَنْ أَبِي الطُّفَيْلِ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ:
(تَرَكَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَا طَائِرٌ يَطِيرُ بجناحيه إلا عندنا منه علم)
= [78: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – انظر التعليق أدناه.
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: مَعْنَى: عِنْدَنَا مِنْهُ؛ يَعْنِي بِأَوَامِرِهِ وَنَوَاهِيهِ وَأَخْبَارِهِ وَأَفْعَالِهِ وَإِبَاحَاتِهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم.
(1) وعنه رواه البزار (1/ 88/147)، قال: كتب إليَّ محمد بن يزيد بن عبد الله المقرىء .... وهذا إسنادٌ صحيح.
وأخرجه أحمد (5/ 153) من طريق الأعمش، عن منذر: ثنا أشياخ، قالوا: قال أبو ذر .... به.
وهذا إسنادٌ جيد، والأشياخ جمعٌ من التابعين لا تضرُّ جهالتُهم.
وأخرجه أبو يعلى (5109) من طريقٍ أخرى عن أبي الدرداء.
الحديث: 65 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 192
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: তাবারাণী, ১৬৪৭; বাযযার, ১৪৭; আহমাদ ৫/১৫৩, ১৬২; তায়ালিসী ৪৭৯; হাইসামী, মাজমা ৮/২৬৩।
এটি আবূ দারদা (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে, আবূ ইয়ালা, ৫১০৯; হাইসামী, মাজমা ৮/২৬৪। হাইসামী বলেন: এর রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবী।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ دُعَاءِ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَنْ أَدَّى مِنْ أُمَّتِهِ حَدِيثًا سَمِعَهُ
নাবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাতের যে ব্যক্তি তার থেকে কোন হাদীস শুনবে এবং (অন্যের নিকট) পৌঁছে দেবে, সেই ব্যক্তির জন্য নাবী মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুআর বর্ণনাঃ
৬৬. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তিকে দীপ্তিময় করুন, যে আমার কোন কথা (হাদীস) শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অন্যের নিকট তা (হাদীসটি) পৌঁছে দিয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার নিকট হাদীস পৌছানো হয়, নিজ কানে তা শ্রবনকারী (যিনি শুনে তার নিকট পৌছে দিচ্ছেন), তার চেয়ে তা অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকেন।[1]
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ يُوسُفَ قَالَ: حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(نَضَّرَ اللَّهُ امرءاً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فَرُبَّ مُبَلَّغٍ أوعَى من سامِعٍ) [ص: 193]
= [12: 5]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((التعليق الرغيب)) (1/ 63).
الحديث: 66 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 192
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৪৩৭; তিরমিযী ২৬৫৭; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দিমা ২৩২।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ رَحْمَةِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا مَنْ بلَّغ أُمَّةَ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثًا صحيحاً عنه
যে ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মাতের নিকট কোন একটি সহীহ হাদীস পৌঁছে দিবেন, তার উপর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা’র রহমত বর্ষনের বর্ণনা:
৬৭. আবান ইবনু উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন একদিন যাইদ ইবনু সাবিত (রাযিঃ) ঠিক দুপুরের সময় মারওয়ানের নিকট হতে বেরিয়ে আসলেন। আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করলাম, সম্ভবতঃ কোন ব্যাপারে প্রশ্ন করার জন্যই এ সময়ে মারওয়ান তাকে ডেকে পাঠিয়েছেন। সুতরাং আমরা উঠে গিয়ে তাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি আমার কাছে কয়েকটি কথা জিজ্ঞেস করেছেন, যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট শুনেছি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে আমার কোন কথা শুনেছে, তারপর তা সঠিকভাবে মনে রেখেছে এবং সেভাবেই অন্যের নিকট পৌছে দিয়েছে। এমন অনেক লোক আছে, যারা নিজেদের তুলনায় উচ্চতর জ্ঞানের অধিকারীর নিকট জ্ঞান পৌছে দিতে পারে। আর অনেক জ্ঞানের বাহক এমন রয়েছে যারা নিজেরা প্রজ্ঞার (তথা গভীর জ্ঞানের) অধিকারী নয়। তিনটি বিষয়ে কোন মুসলিম ব্যাক্তির অন্তর যেন প্রতারিত[1] না হয়ঃ নিষ্ঠার সাথে আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য কাজ করা, মুসলিম নেতৃবৃন্দের কল্যাণ কামনা করা এবং জামা’আত (ঐক্যবদ্ধ মুসলিম জনগোষ্ঠী)-এর সাথে আবশ্যকীয়ভাবে সম্পৃক্ত থাকা। কারণ, তাদের দুআ তাদের পেছনে থেকেও তাদেরকে বেষ্টন করে রাখে।”[2]
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ شُعْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي عُمَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ – هُوَ ابْنُ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ – عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبَانَ – هُوَ ابْنُ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ:
خَرَجَ زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ مِنْ عِنْدِ مَرْوَانَ قَرِيبًا مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ فَقُلْتُ: مَا بَعَثَ إِلَيْهِ إِلَّا لِشَيْءٍ سَأَلَهُ فَقُمْتُ إِلَيْهِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ: أَجَلْ سَأَلَنَا عَنْ أَشْيَاءَ سَمِعْنَاهَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(رحم الله امرءاً سَمِعَ مِنِّي حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتَّى يُبَلِّغَهُ غَيْرَهُ فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ منه وَرُبَّ حامل فقه ليس بفقيه ثلاث خِصَالٍ لَا يَغِلُّ عليهنَّ قَلْبُ مُسْلِمٍ: إِخْلَاصُ الْعَمَلِ لِلَّهِ وَمُنَاصَحَةُ أُلَاةِ الْأَمْرِ وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ فإن دعوتهم تحيط من ورائهم)
= [2: 1] [تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - سيأتي بأتم (679).
الحديث: 67 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 193
[2] আলবানী: সহীহ।
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১৮৩; আবূ দাউদ ৩৬৬০; তিরমিযী ২৬৫৬; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দিমা ২৩০।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ هَذَا الْفَضْلِ إِنَّمَا يَكُونُ لِمَنْ أَدَّى مَا وَصَفْنَا كَمَا سَمِعَهُ سَوَاءً مِنْ غَيْرِ تَغْيِيرٍ وَلَا تَبْدِيلٍ فِيهِ
এ ফযীলত কেবল ঐ ব্যক্তির জন্যই, আমরা যেমন বলেছি, যে যেভাবে শুনেছে, কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন না করে সেভাবেই হুবহু অন্যের নিকট বর্ণনা করেছে- এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৬৮. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তিকে রহম করুন, যে আমার কোন কথা (হাদীস) শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অন্যের নিকট তা (হাদীসটি) পৌঁছে দিয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার নিকট হাদীস পৌছানো হয়, নিজ কানে তা শ্রবনকারী (যিনি শুনে তার নিকট পৌছে দিচ্ছেন), তার চেয়ে তা অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকেন।[1]
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا شَيْبَانُ قَالَ: حَدَّثَنِي سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ [ص: 194] بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ ابْنِ مَسْعُودٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
(رَحِمَ اللَّهُ مَنْ سَمِعَ مِنِّي حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فرُبَّ مُبَلَّغٍ أوعى له من سامع)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – تقدم (66).
الحديث: 68 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 193
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: এটি ৬৬ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ إِثْبَاتِ نَضَارَةِ الْوَجْهِ فِي الْقِيَامَةِ مَنْ بلَّغ لِلْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَّةً صَحِيحَةً كَمَا سَمِعَهَا
যে ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কোন একটি সহীহ সুন্নাহ (হাদীস) পৌঁছে দিবেন, ঠিক সেভাবেই যেভাবে তিনি শুনেছেন, কিয়ামত দিবসে তার চেহারা দীপ্তিময় হওয়ার প্রমানের বিবরণঃ
৬৯. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা সেই ব্যক্তিকে রহম করুন, যে আমার কোন কথা (হাদীস) শুনেছে এবং যেভাবে শুনেছে সেভাবেই অন্যের নিকট তা (হাদীসটি) পৌঁছে দিয়েছে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যার নিকট হাদীস পৌছানো হয়, নিজ কানে তা শ্রবনকারী (যিনি শুনে তার নিকট পৌছে দিচ্ছেন), তার চেয়ে তা অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকেন।[1]
أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الْعِجْلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يقول:
(نَضَّرَ الله امرءاً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَبَلَّغَهُ كَمَا سَمِعَهُ فرُبَّ مُبَلَّغٍ أوعى من سامع)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - انظر ما قبله.
الحديث: 69 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 194
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৪৩৭; এটি ৬৬ নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ عَدَدِ الْأَشْيَاءِ الَّتِي اسْتَأْثَرَ اللَّهُ تَعَالَى بِعِلْمِهَا دُونَ خَلْقِهِ
যে সকল বিষয়ের জ্ঞান আল্লাহ তা’আলা তাঁর কোন সৃষ্টিকে না দিয়ে একান্ত নিজের জন্য সংরক্ষণ করেছেন, সেই সকল বিষয়ের সংখ্যার বর্ণনাঃ
৭০. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, গায়েব (অদৃশ্য)-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, (যা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না)। তা হলোঃ মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। কোন ব্যক্তি জানে না তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না।[1]
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ الدُّورِيُّ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ: لَا يَعْلَمُ مَا تَضَعُ الْأَرْحَامُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ وَلَا يَعْلَمُ مَا فِي غَدٍ إِلَّا اللَّهُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ إِلَّا اللَّهُ وَلَا تَدْرِي نَفْسٌ [ص: 195] بأي أرض تموت ولايعلم متى تقوم الساعة)
= [30: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الصحيحة)) (2903): خ.
الحديث: 70 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 194
আরনাউত্ব: এ সনদে একজন দুর্বল রাবী হাফস ইবনু উমার আদ-দূরী রয়েছে। তবে তার মুতাবিয়াত রয়েছে যা সহীহ।
তাখরীজ: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১১৭০; বুখারী, ৪৬৯৭; ৭৩৭৯; আহমাদ ২/২৪, ৫২, ৫৮, ৮৬।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
দ্বিতীয় হাদীস যা প্রমাণ করে যে, আমরা যা বর্ণনা করেছি তা-ই সঠিক- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৭১. ইবনু ’উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, গায়েব (অদৃশ্য)-এর চাবিকাঠি পাঁচটি, যা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। তা হলোঃ মায়ের জরায়ুতে কী আছে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। আগামী দিন কী হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। বৃষ্টি কখন আসবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। তার মৃত্যু কোথায় হবে এবং ক্বিয়ামাত (কিয়ামত) কবে সংঘটিত হবে, তা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না।[1]
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ السَّامِيُّ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ قَالَ: وَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ أَنَّهُ سَمِعَ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(مَفَاتِيحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ: لَا يَعْلَمُ مَا تَغِيضُ الْأَرْحَامُ أَحَدٌ إِلَّا اللَّهُ وَلَا مَا فِي غَدٍ إِلَّا اللَّهُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى يَأْتِي الْمَطَرُ إِلَّا اللَّهُ وَلَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ وَلَا يَعْلَمُ مَتَى تَقُومُ السَّاعَةُ أَحَدٌ إِلَّا الله).
= [30: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: خ ـ انظر ما قبله.
الحديث: 71 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 195
আরনাউত্ব: এর সনদ সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الزَّجْرِ عَنِ الْعِلْمِ بِأَمْرِ الدُّنْيَا مَعَ الِانْهِمَاكِ فِيهَا وَالْجَهْلِ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ وَمُجَانَبَةِ أَسْبَابِهَا
দুনিয়াবী বিষয়ে জ্ঞান অর্জন ও এতে নিমগ্ন হয়ে যাওয়া এবং আখিরাতের বিষয়ে অজ্ঞ থাকা ও এজাতীয় উপকরণ থেকে বিরত থাকার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৭২. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে ঘৃণা করেন, যে কঠোর স্বভাব-ভীষণ অহংকারী, ভীষণ কৃপণ, হাটে-বাজারে শোরগোল-চিৎকারকারী, রাতে মৃতদেহ (এর মত নিশ্চল), দিনে গাধা, দুনিয়াবী বিষয়ে মহাজ্ঞানী, আখিরাতের বিষয়ে নিরেট অজ্ঞ।”[1]
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَسَنِ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُوسُفَ السُّلَمِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(إِنَّ اللَّهَ يُبْغِضُ كُلَّ جَعْظَرِيُّ جَوَّاظٍ سَخَّابٍ بِالْأَسْوَاقِ جِيفَةٍ بِاللَّيْلِ حِمَارٍ بِالنَّهَارِ عَالِمٍ بِأَمْرِ الدُّنْيَا جَاهِلٍ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ)
= [76: 2] [ص: 196]
[تعليق الشيخ الألباني]
ضعيف - ((الضعيفة)) (2304).
আরনাউত্ব: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বাইহাকী, আস সুনান ১০/১৯৪।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الزَّجْرِ عَنْ تَتَّبُعِ الْمُتَشَابِهِ مِنَ الْقُرْآنِ للمرء المسلم
মুসলিম ব্যক্তির জন্য কুরআনের মুতাশাবিহা (অস্পষ্ট অর্থবিশিষ্ট) আয়াতের পিছনে পড়া নিষিদ্ধ – এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৭৩. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ’র এ বাণী {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ .... } [آل عمران: 7] ’’ তিনিই তোমার প্রতি এ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন। ... এ আয়াতের শেষ পর্যন্ত- (সূরাহ আলে ইমরান ৩/৭) পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ যারা মুতাশাবিহাত আয়াতের পেছনে ছুটে তাদের যখন তুমি দেখবে তখন মনে করবে যে, তাদের কথাই আল্লাহ তা’আলা (পূর্বের আয়াতে) বুঝিয়েছেন। সুতরাং তাদের পরিত্যাগ করবে।[1]
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا حِبَّانُ قَالَ: أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ التُّسْتَرِيُّ قَالَ: حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ:
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَا قَوْلَ اللَّهِ: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ .... } [آل عمران: 7] إِلَى آخِرِهَا فَقَالَ:
(إِذَا رَأَيْتُمُ الَّذِينَ يتَّبعون مَا تَشَابَهَ مِنْهُ فَاعْلَمُوا أَنَّهُمُ الَّذِينَ عَنَى اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ)
= [3: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق.
الحديث: 73 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 196
আরনাউত্ব: এর সনদ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: তায়ালিসী ১৪৩৩; আহমাদ ৬/২৫৬; বুখারী, ৪৫৪৭; মুসলিম ২৬৬৫; আবূ দাউদ ৪৫৯৮; তিরমিযী, ২৯৯৩;, ২৯৯৪।
পরিচ্ছেদঃ
৭৪. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন সাতটি হরফে (সাত পদ্ধতির কিরাআতে) নাযিল হয়েছে। আর কুরআনের ব্যাপারে বিতর্ক করা কুফরী- তিনি এটি তিনবার বলেছেন। কুরআনের যে বিষয় তোমরা জান, তা আমল কর। আর এর যে সকল বিষয়ে তোমরা জানো না, তা এ সম্পর্কে যারা আলিম, তাদের নিকট সোপর্দ কর।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীঃ কুরআনের যে বিষয় তোমরা জান, তা আমল কর।”- এর অর্থ হলো, এর মধ্যে ’সাধ্যমত’ শব্দটিকে তিনি মনে মনে গোপন রেখেছেন, যার দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেনঃ “কুরআনের যে বিষয় তোমরা জান, তা ’সাধ্যমত’ আমল কর।” আর তাঁর বাণীঃ আর এর যে সকল বিষয়ে তোমরা জানো না, তা এ সম্পর্কে যারা আলিম, তাদের নিকট সোপর্দ কর”- এতে এ বিষয়টির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আর তা হলো,’ যে জানে না, তাকে জিজ্ঞেস করো না।’
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم قال:
(أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ وَالْمِرَاءُ فِي الْقُرْآنِ كُفْرٌ ـ ثَلَاثًا ـ مَا عَرَفْتُمْ مِنْهُ فَاعْمَلُوا بِهِ وَمَا جَهِلْتُمْ مِنْهُ فرُدُّوهُ إِلَى عالِمِهِ).
= [27: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الصحيحة)) (1522).
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: قَوْلُهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (مَا عَرَفْتُمْ مِنْهُ فَاعْمَلُوا بِهِ) أَضْمَرَ فِيهِ الِاسْتِطَاعَةَ يُرِيدُ: اعْمَلُوا بِمَا عَرَفْتُمْ مِنَ الْكِتَابِ ـ مَا اسْتَطَعْتُمْ ـ. [ص: 197]
وَقَوْلُهُ: (وَمَا جَهِلْتُمْ مِنْهُ فردُّوه إِلَى عَالِمِهِ) فِيهِ الزَّجْرُ عَنْ ضِدِّ هَذَا الْأَمْرِ وَهُوَ أَنْ لَا يَسْأَلُوا مَنْ لا يعلم.
الحديث: 74 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 196
আরনাউত্ব: এর সনদ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৩২; বাযযার, ২৩১৩; হাইসামী, মাজমা ৭/১৫১; হাইসামী বলেন, আহমাদ দুটি সনদে বর্ণনা করেছেন। এর একটি সনদের রাবী সহীহ হাদীসের রাবী।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْعِلَّةِ الَّتِي مِنْ أَجْلِهَا قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (وَمَا جَهِلْتُمْ مِنْهُ فَرُدُّوهُ إِلَى عالِمِهِ)
যে কারণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আর এর যে সকল বিষয়ে তোমরা জানো না, তা এ সম্পর্কে যারা আলিম, তাদের নিকট সোপর্দ কর”- সে সম্পর্কিত বর্ণনা:
৭৫. ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কুরআন সাতটি হরফে (সাত পদ্ধতির কিরাআতে) নাযিল হয়েছে। এর প্রত্যেক আয়াতের একটি স্পষ্ট-বাহ্যিক ও একটি অস্পষ্ট-আভ্যন্তরীণ (ব্যাখ্যাসাপেক্ষ দিক) রয়েছে।”[1]
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُوَيْدٍ الرَّمْلِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ قَالَ: حَدَّثَنِي أَخِي عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بِلَالٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(أُنْزِلَ الْقُرْآنُ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ لِكُلِّ آيَةٍ مِنْهَا ظَهْرٌ وَبَطْنٌ)
= [27: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
ضعيف – ((الضعيفة)) (2989).
الحديث: 75 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 197
আরনাউত্ব: সনদ হাসান হবে, যদি আবূ ইসহাক বলতে হামদানী তথা লেখকের বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি আমর ইবনু আব্দুল্লাহ আস সাবিঈ হন। আর যদি তিনি ইবরাহীম ইবনু মুসলিম আলহিজরী হন, তবে তিনি দুর্বল (তথা সনদ দূর্বল হবে), যেভাবে তাবারী তার তাফসীরে এটি বর্ণনা করেছেন।
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ১০০৯০; বাযযার, ২৩১২।
ظَهْرٌ (স্পষ্ট)’ শব্দের ব্যাখ্যায় ইমাম তাবারী রাহি. বলেন : তিলাওয়াতই হলো স্পষ্ট (বাহ্যিক) দিক, আর, بَطْنٌ অর্থ, এর ব্যাখ্যার মধ্যে যা লুকায়িত রয়েছে।
আহমাদ শাকির রাহি. ظَهْرٌ (স্পষ্ট)’ শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন: এর বাক্যমালা থেকে একজন অশিক্ষিত বেদুইন যা বুঝতে পারে। আর, بَطْنٌ অর্থ হলো এর তাফসীর বা ব্যাখ্যা যা মুজতাহিদ ও ফকীহ আলিমগণ অবগত। আর তাবারী রাহি. এখানে কিছু কিছু সূফী ও দরবেশগণ যে খেল-তামাশা করে থাকে কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে, সে অর্থ বোঝাননি।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الزَّجْرِ عَنْ مُجَادَلَةِ النَّاسِ فِي كِتَابِ اللَّهِ مَعَ الْأَمْرِ بِمُجَانَبَةِ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ
আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে লোকদের তর্ক-বিতর্ক করা থেকে নিষেধ ও যারা এ কাজ (তর্ক-বিতর্ক) করে, তাদের থেকে দূরে থাকার নির্দেশ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৭৬. আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবীউল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তিলাওয়াত করলেনঃ {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الكتاب وأُخر متشابهات ... } إلى قوله: {أولو الألباب} [آل عمران: 7] [(অনুবাদ) তিনি তোমার প্রতি এই কিতাব নাযিল করেছেন যার কতক আয়াত সুস্পষ্ট, দ্ব্যর্থহীন, এগুলো কিতাবের মূল অংশ, আর অন্যগুলো রূপক। যাদের অন্তরে সত্য লঙ্ঘন প্রবণতা আছে শুধু তারাই বিশৃঙ্খলা ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশে যা রূপক তার অনুসরণ করে। আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ তার ব্যাখ্যা জানে না।
আর যারা সুগভীর জ্ঞানের অধিকারী তারা বলে, আমরা এর প্রতি ঈমান আনলাম, সমস্তই আমাদের রবের নিকট থেকে আগত। বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যাক্তিগণ ব্যতীত অপর কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না- (সূরাহ আল ইমরান ৩:৭)।]
অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আয়িশাহ! যখন তুমি কোন লোকদেরকে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বাদানুবাদ করতে দেখবে, তখন মনে করবে যে, এরা সেই সকল লোক যাদের কথা আল্লাহ (পূর্বের আয়াতে) বুঝিয়েছেন। তোমরা তাদের পরিহার করবে।
মাতার বলেন: আমি তাঁর থেকে মুখস্ত রেখেছি, তিনি বলেছেন: তোমরা তাদের সাথে বসবে না, কেননা, এরাই সেই সকল লোক, যাদের কথা আল্লাহ (পূর্বের আয়াতে) বুঝিয়েছেন। তোমরা তাদের পরিহার করবে।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) রাহি. বলেনঃ এ হাদীসটি মাতার আল ওয়ার্রাক থেকে আইয়্যূব এবং ইবনু আবী মুলাইকা একত্রে শুনেছেন।
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ الشَّيْبَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ النَّضْرِ الْأَحْوَلُ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: سَمِعْتُ أَيُّوبَ يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ:
قرأ نبي الله صلى عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذِهِ الْآيَةَ: {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الكتاب وأُخر متشابهات ... } إلى قوله: {أولو الألباب} [آل عمران: 7] قَالَتْ: فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(إذ رأيتم الذين يجادولون فِيهِ فَهُمُ الَّذِينَ عَنَى اللَّهُ فَاحْذَرُوهُمْ) قَالَ [ص: 198] مَطَرٌ: حَفِظْتُ أَنَّهُ قَالَ:
(لَا تُجَالِسُوهُمْ فَهُمُ الذين عنى الله فاحذروهم)
= [3: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق؛ دون قول مطر: ((لا تجالسوهم .... )).
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: سَمِعَ هَذَا الْخَبَرَ أَيُّوبُ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ وَابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ جَمِيعًا.
الحديث: 76 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 197
আরনাউত্ব: এর সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৪৮; ইবনু মাজাহ ৪৭; তাবারী, ৬৬০৫, ৬৬০৬, ৬৬০৭, ৬৬০৯; তাহাবী, মুশকিলুল আসার ৩/২০৮।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ وَصْفِ الْعِلْمِ الَّذِي يُتَوَقَّعُ دُخُولُ النَّارِ فِي الْقِيَامَةِ لِمَنْ طَلَبَهُ
এমন ইলমের বিবরণ যা কোন ব্যক্তি অর্জন করলে তাকে কিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশের অগ্রিম সংবাদ দেওয়া হয়েছে:
৭৭. জাবির (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমরা আলিমদের উপর বাহাদুরী প্রকাশের জন্য, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া-বিতর্ক করার জন্য এবং জনসভার উপর বড়ত্ব প্রকাশ করার জন্য (ধর্মীয়) জ্ঞান শিক্ষা করো না। যে ব্যাক্তি এরূপ করবে, তার জন্য রয়েছে আগুন আর আগুন।[1]
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ سَعِيدٍ الْمَرْوَزِيُّ بِالْبَصْرَةِ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَهْلِ بْنِ عَسْكَرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(لَا تَعَلَّمُوا الْعِلْمَ لِتُبَاهُوا بِهِ الْعُلَمَاءَ وَلَا تُمَارُوا بِهِ السُّفَهَاءَ وَلَا تخيَّروا بِهِ الْمَجَالِسَ فَمَنْ فَعَلَ ذلك فالنار النار)
= [109: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح لغيره ـ ((التعليق الرغيب)) (1/ 68).
الحديث: 77 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 198
আরনাউত্ব: এর কয়েকটি শাহিদ থাকায় তা শক্তিশালী, সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ ২৫৩, ২৫৪। মূলতঃ এটি কয়েকজন সাহাবী হতে বর্ণিত হয়েছে। যেমনঃ ইবনু উমার হতে ইবনু মাজাহ ২৫৩; কা’ব ইবনু মালিক হতে তিরমিযী ২৬৫৬; হুযাইফা হতে ইবনু মাজাহ ২৫৯; আবূ হুরাইরা হতে ইবনু মাজাহ ২৬০; আনাস হতে বাযযার ১৭৮ তে। এর প্রত্যেকটি সনদই যয়ীফ।
পরিচ্ছেদঃ
৭৮. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ইলমের দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করা হয়, কোনো লোক যদি দুনিয়াবী স্বার্থ লাভের জন্য তা শিক্ষা করে, তবে সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের সুগন্ধ পাবে না।[1]
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَحْيَى بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَبُو يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ الْخُزَاعِيُّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مَعْمَرٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(مَنْ تعلَّم عِلْمًا مِمَّا يُبْتَغَى بِهِ وَجْهُ اللَّهِ لَا يتعلَّمه إِلَّا ليُصيب بِهِ عَرَضًا مِنَ الدُّنْيَا لَمْ يجد عَرْفَ الجنة يوم القيامة) [ص: 199]
= [109: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((اقتضاء العلم العمل)) (102)، ((المشكاة)) (277).
[78/*]ـ وَأَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بُجَيْرٍ حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ بْنُ السَّرْحِ أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ ... بأسناده مثله.
الحديث: 78 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 198
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: হাকিম ১/৮৫; আবূ দাউদ ৩৬৬৪; আহমাদ ২/৩৩৮; ইবনু মাজাহ ২৫২।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الزَّجْرِ عَنْ مُجَالَسَةِ أَهْلِ الْكَلَامِ وَالْقَدَرِ وَمُفَاتِحَتِهِمْ بِالنَّظَرِ وَالْجِدَالِ
আহলে কালাম (তর্কশাস্ত্রবিদ) ও কাদরিয়াহ মতবাদের লোকদের বসা ও তাদের প্রতি নজর করা ও ঝগড়া-বিতর্ক শুরু করা নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনাঃ
৭৯. উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যারা তাকদীরে বিশ্বাস করে না, তোমরা তাদের সঙ্গে ওঠা-বসা করো না এবং (তোমাদেরকে সম্বোধন করার) আগে তাদেরকে সম্বোধন করো না।[1]
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو خَيْثَمَةَ وَهَارُونُ بْنُ مَعْرُوفٍ قَالَا: حدثنا المقرىء قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ حَكِيمِ بْنِ شَرِيكٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ مَيْمُونٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ رَبِيعَةَ الْجُرَشِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(لَا تُجَالِسُوا أَهْلَ القَدَرِ ولا تفاتحوهم)
= [23: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
ضعيف - ((الطحاوية)) (242)، ((الظلال)) (330).
الحديث: 79 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 199
আরনাউত্ব: যয়ীফ। হাকিম ইবনু শারিকের অজ্ঞাত পরিচয় হওয়ার কারণে।
তাখরীজ: হাকিম ১/৮৫; আবূ দাউদ ৪৭১০, ৪৭২০; আহমাদ ১/৩০।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ مَا كَانَ يَتَخَوَّفُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى أُمَّتِهِ جِدَالَ الْمُنَافِقِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মাতের উপরে মুনাফিকদের ঝগড়া-বিতর্কের যে আশংকা করেছেন, তার বর্ণনাঃ
৮০. ইমরান ইবনু হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মাতের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি ভয় করি, তা হলো মুনাফিকদের ঝগড়া-বিতর্ক, যারা হবে কথায় জ্ঞানী (কিন্তু আমলে সে ইলমের প্রকাশ নাই)।[1]
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمْ جدال المنافق عليم اللسان)
= [22: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((التعليق الرغيب)) (1/ 78).
الحديث: 80 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 199
আরনাউত্ব: বুখারীর শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বাযযার ১৬৮, ১৬৯, ১৭০; তাবারাণী, কাবীর ১৮/৫৯৩; আহমাদ ১/২২, ৪৪; হাইসামী, মাজমা ১/১৮৭।
পরিচ্ছেদঃ
৮১. হুযাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমি তোমাদের জন্য আশংকা করি এমন লোকের, যে কুরআন পাঠ করবে। এরপর যখন তার উপর ইসলামের দীপ্তি পরিলক্ষিত হবে এবং সে ইসলামের একজন সাহায্যকারীর ভুমিকায় অবতীর্ণ হবে, তখন সে একে (তার দ্বীন) কে পরিবর্তন করে ফেলবে, আল্লাহ যেদিকে চান। এরপর সে তার খোলস (ছদ্মবেশ) ছেড়ে বেরিয়ে আসবে ও একে তার পশ্চাতে নিক্ষেপ করবে এবং তার প্রতিবেশীকে তরবারী দিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করবে এবং তাকে শিরকে লিপ্ত বলে মিথ্যা অপবাদ দিবে।”
বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর নাবী! এতদুভয়ের মধ্যে কোন্ জন শিরকের অধিক নিকটবর্তী, যার বিরুদ্ধে (শিরকের) অপবাদ দেওয়া হল, সেই ব্যক্তি নাকি অপবাদদাতা? তিনি বললেনঃ বরং অপবাদদাতা।”[1]
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَرْزُوقٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ عَنِ الصَّلْتِ بْنِ بَهْرَامَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ حَدَّثَنَا جُنْدُبٌ الْبَجَلِيُّ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ أَنَّ حُذَيْفَةَ حَدَّثَهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(إِنَّ مَا أَتَخَوَّفُ عَلَيْكُمْ رَجُلٌ قَرَأَ الْقُرْآنَ حَتَّى إِذَا رُئِيَتْ بَهْجَتُهُ عَلَيْهِ وكان رِدْءاً لِلْإِسْلَامِ غَيَّرَهُ إِلَى مَا شَاءَ اللَّهُ فَانْسَلَخَ مِنْهُ وَنَبَذَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ وَسَعَى عَلَى جَارِهِ بِالسَّيْفِ وَرَمَاهُ بِالشِّرْكِ) قَالَ: قُلْتُ: يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَيُّهُمَا أَوْلَى بِالشِّرْكِ الْمَرْمِيُّ أَمِ الرَّامِي؟ قال:
(بل الرامي)
= [22: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن - ((الصحيحة)) (3201).
الحديث: 81 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 200
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: বাযযার ১৭৫; ইবনু কাসীর, তাফসীর ৩/৫০৯; হাইসামী, মাজমা ১/১৮৭-১৮৮; হাইসামী একে হাসান এবং ইবনু কাসীর জাইয়্যেদ (হাসান) বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ مَا يَجِبُ عَلَى الْمَرْءِ أَنْ يَسْأَلَ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا الْعِلْمَ النَّافِعَ رَزَقَنَا اللَّهُ إِيَّاهُ وَكُلَّ مُسْلِمٍ
কোন ব্যক্তির জন্য যে জিনিস আল্লাহর জাল্লা ওয়া আলা-এর কাছে উপকারী ইলম (জ্ঞান) চাওয়াকে আবশ্যক করে দেয় – (আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এবং প্রত্যেক মুসলিমকে এই জ্ঞান দান করুন) – এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৮২. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি এবং অনুপকারী জ্ঞান থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।[1]
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم يَقُولُ:
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَأَعُوذُ بك من علم لا ينفع)
= [12: 5]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن صحيح – ((الصحيحة)) (1/ 15)، ((المشكاة)) (2498)، ((التعليق الرغيب)) (1/ 75).
الحديث: 82 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 200
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ১০/১৮৫; ইবনু মাজাহ ৩৮৪৩; হাইসামী, মাজমা ১০/১৮১-১৮২। হাইসামী একে হাসান বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ مَا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْءِ أَنْ يَقْرُنَ إِلَى مَا ذَكَرْنَا فِي التَّعَوُّذِ مِنْهَا أَشْيَاءَ مَعْلُومَةً
লোকের উপর মুস্তাহাব হলো আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করলাম (উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা)- তার সাথে কয়েকটি বিষয়ে আশ্রয় প্রার্থনা কে মিলিত করা- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৮৩. আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করি এমন জ্ঞান হতে যা কাজে আসে না; এমন আমল হতে যা উত্থিত (কবুল) হয় না; এমন অন্তর হতে যা (তোমার ভয়ে) ভীত হয় না এবং এমন দুআ হতে যা শুনা হয় না (প্রত্যাখ্যান করা হয়)। [1]
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ عَبْدِ الْجَبَّارِ الصُّوفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو نَصْرٍ التَّمَّارُ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رسول الله صلى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ:
(اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لَا يَنْفَعُ وَعَمَلٍ لَا يُرْفَعُ وَقَلَبٍ لَا يَخْشَعُ وَقَوْلٍ لَا يسمع)
= [12: 5]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((التعليق الرغيب)) (1/ 75).
الحديث: 83 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 201
আরনাউত্ব: সহীহ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বারর, জামি’ বয়ানিল ইলম ওয়া ফাযলিহী পৃ. ২১৪; তায়ালিসী, ২০০৭; ইবনু আবী শাইবা ১০/১৮৭-১৮৮; আহমাদ ৩/১৮৩, ১৯২, ২৫৫; নাসাঈ ৮/২৮৪; হাকিম ১/১০৪;
যাইদ ইবনু আরকাম (রাঃ) থেকে ইবনু আবী শাইবা ১০/১৮৭; মুসলিম ২৭২২
আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ): হতে তিরমিযী ৩৪৮২; নাসাঈ ৮/২৫৫।
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে ইবনু আবী শাইবা ১০/১৮৭; নাসাঈ ৮/২৬৩; হাকিম ১/১০৪।
ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে ইবনু আবী শাইবা ১০/১৮৭।
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে ইবনু আব্দুল বারর পৃ. ২১৪. ২১৫।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ تَسْهِيلِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا طَرِيقَ الْجَنَّةِ عَلَى مَنْ يَسْلُكُ فِي الدُّنْيَا طَرِيقًا يَطْلُبُ فيه علماً
দুনিয়াতে যে ব্যক্তি দুনিয়াতে ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে কোন পথে চললে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের একটি পথ সহজ করে দিবেন- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৮৪. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোনো ব্যক্তি ইলম অর্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করলে তার বিনিময়ে আল্লাহ তার জান্নাতের পথ সুগম করে দেন। যার আমল তাকে পিছিয়ে রেখেছে, তার বংশ গৌরব তাকে এগিয়ে দিতে পারে না।[1]
أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ إِسْحَاقَ الْأَنْمَاطِيُّ الزَّاهِدُ قَالَ: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَازِمٍ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سهَّل اللَّهُ لَهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَمَنْ أَبْطَأَ بِهِ عمله لم يسرع به نسبه)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((تخريج علم أبي خيثمة)) (113/ 17)، ((صحيح أبي داود)) (1308): م.
الحديث: 84 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 201
আরনাউত্ব: বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু আবী শাইবা ৮/৭২৯; আহমাদ ২/৪০৭; আবূ দাউদ ৩৬৪৩; তিরমিযী ২৬৪৬; হাকিম ১/৮৮-৮৯। বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন মুসলিম ২৬৯৬; তিরমিযী, ২৯৪৫; ইবনু মাজাহ ২২৫।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ بَسْطِ الْمَلَائِكَةِ أَجْنِحَتَهَا لِطَلَبَةِ الْعِلْمِ رِضًا بصنيعهم ذلك
জ্ঞান অন্বেষণকারীর কাজে সন্তুষ্ট হয়ে তার জন্য ফিরিশতাদের ডানা বিছিয়ে দেওয়ার বর্ণনাঃ
৮৫. যির (ইবনু হুবায়শ) (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সাফওয়ান ইবনু আসসাল আল-মুরাদী (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেন, তোমাকে কোন্ বিষয়টি নিয়ে এসেছে? আমি বললাম, জ্ঞানার্জনের জন্য। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি কেবলমাত্র জ্ঞানার্জনের জন্যই তার ঘর থেকে বের হয়, তার এই মহৎ উদ্যোগের জন্য সন্তুষ্ট হয়ে ফিরিশতামণ্ডলী তাদের ডানা বিস্তার করেন।[1]
أَخْبَرَنَا ابْنُ خُزَيْمَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ قَالَا: [ص: 202] حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ: أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ زِرٍّ: قَالَ:
أَتَيْتُ صَفْوَانَ بْنَ عَسَّالٍ الْمُرَادِيَّ قَالَ: مَا جَاءَ بِكَ؟ قَالَ: جِئْتُ أنبِطُ العلم قال: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(مَا مِنْ خَارِجٍ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ يَطْلُبُ الْعِلْمَ إِلَّا وَضَعَتْ له الملائكة أجنحتها رِضاً بما يصنع)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن صحيح - ((التعليق الرغيب)) (1/ 62).
الحديث: 85 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 201
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক ৭৯৫; ইবনু মাজাহ ২২৬; আহমাদ ৪/৩৯; নাসাঈ ১/৯৮; হাকিম ১/১০০; হাকিম ও যাহাবী একে সহীহ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ أَمَانِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا مِنَ النَّارِ مَنْ أَوَى إِلَى مَجْلِسِ عِلْمٍ وَنِيَّتُهُ فِيهِ صحيحة
যে ব্যক্তি বিশুদ্ধ নিয়তসহ কোন ইলমের মজলিসের দিকে গমণ করে, আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে নিরাপদ রাখেন- এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৮৬. আবূ ওয়াক্বিদ লায়সী (রাযি.) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে লোকদের সাথে বসে ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনজন লোক এলেন। তাঁদের দু’জন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এগিয়ে এলেন আর একজন চলে গেলেন। এরপর দুজন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট এসে সালাম দিলেন। এরপর এ দু’জনের একজন মজলিসে খালি স্থান পেয়ে সেখানে বসে পড়লেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি তাদের পেছনে বসলেন। আর তৃতীয় ব্যক্তি তো ফিরে চলেই গেছে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাবার্তা হতে অবসর হয়ে বললেনঃ আমি কি তোমাদের ঐ তিন ব্যক্তি সম্পর্কে খবর দেব না? এক ব্যক্তি তো আল্লাহর দিকে অগ্রসর হলো। আল্লাহও তাকে আশ্রয় দিলেন। দ্বিতীয় ব্যক্তি (ফিরে যেতে) লজ্জাবোধ করলো, আর আল্লাহ তা’আলাও তাকে (বঞ্চিত করতে) লজ্জাবোধ করলেন। তৃতীয় ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল, কাজেই আল্লাহও তার হতে ফিরে থাকলেন।[1]
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ سِنَانٍ قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ مَالِكٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ أَنَّ أَبَا مُرَّةَ ـ مَوْلَى عَقِيلِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ ـ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ اللَّيْثِيِّ:
إن رسول الله صلى الله عليه وسلم بَيْنَمَا هُوَ جَالِسٌ فِي الْمَسْجِدِ وَالنَّاسُ مَعَهُ إِذْ أَقْبَلَ ثَلَاثَةُ نَفَرٍ فَأَقْبَلَ اثْنَانِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَذَهَبَ وَاحِدٌ فَلَمَّا وَقَفَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سلَّما فَأَمَّا أَحَدُهُمَا فَرَأَى فُرجة فِي الْحَلْقَةِ فَجَلَسَ فِيهَا وَأَمَّا الْآخَرُ فَجَلَسَ خَلْفَهُمْ وَأَمَّا الثَّالِثُ فَأَدْبَرَ ذَاهِبًا فَلَمَّا فَرَغَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
(أَلَا أُخْبِرُكُمْ عَنِ النَّفَرِ الثَّلَاثَةِ: أَمَّا أَحَدُهُمْ فَأَوَى إِلَى اللَّهِ فَآوَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا الآخر فاستحيا فاستحيا اللَّهُ مِنْهُ وَأَمَّا الْآخَرُ فَأَعْرَضَ فَأَعْرَضَ اللَّهُ عنه) [ص: 203]
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق.
الحديث: 86 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 202
আরনাউত্ব: বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৩৩৩৪; বুখারী, ৬৬; মালিক, মুয়াত্তা, ৩/১৩২;মুসলিম ২১৬৭; তিরমিযী ২৭২৪; আহমাদ ৫/২১৯।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ التَّسْوِيَةِ بَيْنَ طَالِبِ الْعِلْمِ وَمُعَلِّمِهِ وَبَيْنَ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
তালিবে ইলম (ইলম শিক্ষার্থী), ইলমের শিক্ষাদানকারী এবং আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারী (সাওয়াবের দিক দিয়ে) পরস্পর সমান- এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৮৭. আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যাক্তি আমাদের এই মসজিদে কোন উত্তম বিষয় শিক্ষা দানের উদ্দেশ্যে অথবা শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে আসে, সে আল্লাহ্র রাস্তায় জিহাদরত ব্যক্তির মতো (মর্যাদাসম্পন্ন)। আর যে ব্যাক্তি এ ব্যতীত অন্য কোন উদ্দেশ্যে আসে, সে অপরের সম্পদের প্রতি (লোলুপ) দৃষ্টি নিক্ষেপকারীর মতো।[1]
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أبي بكر المقدمي قال: حدثنا المقرىء قَالَ: أَنْبَأَنَا حَيْوَةُ قَالَ: حَدَّثَنِي أَبُو صَخْرٍ أَنَّ سَعِيدًا الْمَقْبُرِيَّ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ إِنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(مَنْ دَخَلَ مَسْجِدَنَا هَذَا لِيَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يعلِّمه كَانَ كَالْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَمَنْ دَخَلَهُ لِغَيْرِ ذَلِكَ كان كالناظر إلى ما ليس له)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن – ((التعليق الرغيب)) (1/ 62).
الحديث: 87 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 203
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: হাকিম ১/৯১; ইবনু আবী শাইবা ১২/২০৯; ইবনু মাজাহ ২২৭; আহমাদ ২/৩৫০, ৪১৮, ৫২৭। বুসীরী একে সহীহ বলেছেন।
এর শাহিদ রয়েছে সাহল ইবনু সা’দ রা: হতে তাবারাণী, কাবীর ৫৯১১ তে।
এছাড়া, আবী উমামাহ হতে হাকিম ১/৯১ ও তাবারাণী, কাবীর। হাইসামী মাজমা ১/১২৩ তে বলেছেন, এর বর্ণনাকারীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।
এছাড়াও, আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর হতে মাওকুফ হিসেবে মালিক ১/১৭৫।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ وَصْفِ الْعُلَمَاءِ الَّذِينَ لَهُمُ الْفَضْلُ الَّذِي ذكرنا قبل
আমরা যাদের কথা উল্লেখ করেছি, সেই সকল আলিমগণের মর্যাদার বিবরণ সম্পর্কেঃ
৮৮. কাসীর ইবনু কায়স (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি আবূ দারদা (রাঃ)-এর সঙ্গে দামেশকের মসজিদে বসে ছিলাম। তখন তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, হে আবূ দারদা! আমি একটি হাদীসের জন্য সুদূর মদীনাতুর রাসূল থেকে এসেছি। আমি জানতে পেরেছি যে, আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, তুমি কি কোন প্রয়োজনে এসেছ? কিংবা তুমি কোন ব্যবসা-বানিজ্যের উদ্দেশ্যে এসেছ? নাকি কেবল এ হাদীসটি (শোনার) জন্যই এসেছ? সে বলল, হাঁ (হাদীসটি শোনার জন্য এসেছি)। আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোনো পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ তার পরিবর্তে তাকে জান্নাতের পথসমূহের মধ্যে কোনো একটি পথে পৌঁছে দেন।
ফিরিশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। আলিমের (জ্ঞানীর) জন্য আসমান ও যমীনে যারা আছে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে, এমন কি পানির গভীরে বসবাসকারী মাছও। আবেদ (সাধারণ ইবাদাতগুজারী) ব্যক্তির উপর ’আলিমের মর্যাদা হলো যেমন সমস্ত তারকার উপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা। আলিমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)। নবীগণ কোনো দীনার বা দিরহাম মীরাসরূপে রেখে যান না; তারা উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যান শুধু ইলম। সুতরাং যে ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ লাভ করেছে।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) রহ. বলেনঃ এ সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, যেসকল উলামাগণের ফযীলত রয়েছে, যাদের কথা আমরা বর্ণনা করে এসেছি, তারা হলেন এমন লোক যারা কেবল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলম শিক্ষা দান করেন, অন্যান্য জ্ঞান-বিজ্ঞান নয়। তুমি কি তাঁর একথা শোনোনিঃ আলিমগণ হলেন নবীগণের ওয়ারিস (উত্তরাধিকারী)”? আর নাবীগণ তো ইলম ছাড়া কিছুই মীরাস হিসেবে রেখে যাননি। আর আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলম হলো তাঁর সুন্নাহ। ফলে যে এর পরিচয় লাভ থেকে বঞ্চিত হয়, সে কখনো নবীগণের ওয়ারিস হতে পারে না।
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ الثَّقَفِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ الْخُرَيْبِيُّ قَالَ: سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ قَالَ:
كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنِّي أَتَيْتُكَ مِنْ مَدِينَةِ الرَّسُولِ فِي حَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ تحدِّثه عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فقال أبو الدرادء: أَمَا جِئْتَ لِحَاجَةٍ أَمَا جِئْتَ لِتِجَارَةٍ أَمَا جِئْتَ إِلَّا لِهَذَا الْحَدِيثِ؟ قَالَ: نَعَمْ قَالَ: فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ [ص: 204] وَالْمَلَائِكَةُ تَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ يَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي الْمَاءِ وَفَضْلُ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ إِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ إِنَّ الْأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَأَوْرَثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن – ((التعليق الرغيب)) (1/ 53).
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ ـ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ـ: فِي هَذَا الْحَدِيثِ بَيَانٌ وَاضِحٌ أَنَّ الْعُلَمَاءَ الَّذِينَ لَهُمُ الْفَضْلُ الَّذِي ذَكَرْنَا: هُمُ الَّذِينَ يُعَلِّمُونَ عِلْمَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ سَائِرِ الْعُلُومِ أَلَا تَرَاهُ يَقُولُ: (الْعُلَمَاءُ وَرَثَةُ الْأَنْبِيَاءِ) وَالْأَنْبِيَاءُ لَمْ يُوَرِّثُوا إِلَّا الْعِلْمَ وعلمُ نَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُنَّتُه فَمَنْ تعرَّى عَنْ مَعْرِفَتِهَا لَمْ يَكُنْ مِنْ وَرَثَةِ الْأَنْبِيَاءِ
الحديث: 88 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 203
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: আবূ দাউদ ৩৬৪১; ইবনু মাজাহ ২২৩; তিরমিযী ২৬৮২; আহমাদ ৫/১৯৬।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ إِرَادَةِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا خَيْرَ الدَّارَيْنِ بِمَنْ تَفَقَّهَ فِي الدِّينِ
যে ব্যক্তি দ্বীনের তাফাক্কুহ বা গভীরজ্ঞান অর্জন করেছে, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এর ইচ্ছা এর মাধ্যমে তাকে দুনিয়া এবং আখিরাত উভয় জগতে কল্যাণ দান করা- এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৮৯. হুমায়দ ইবনু ’আবদুর রহমান (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি মু’আবিয়াহ ইবনু আবী সুফিয়ান (রাযি.)-কে খুৎবায় বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ্ যার মঙ্গল চান, তাকে দ্বীনের ’তাফাক্কুহ (গভীর প্রজ্ঞা) দান করেন।[1]
أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي حُمَيْدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ يَقُولُ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(مَنْ يُردِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقّهْهُ في الدِّيْنِ)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الصحيحة)) (1194).
الحديث: 89 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 204
আরনাউত্ব: মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ১৩১; বুখারী, ৭১; মুসলিম ১০৩৭; তিরমিযী ২৭২৪; আহমাদ ৪/১০১; ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দিমা ২২১।
এটি ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ১/৩০৬; তিরমিযী ২৬৪৭।
আবূ হুরাইরা হতে আহমাদ ২/২৩৪; ইবনু মাজাহ ২২০।
ইবনু উমার হতে ইবনু আব্দুল বারর,জামি বয়ানিল ইল ১/১৭; তাহাবী, মুশকিলুল আছার ২/২৮১।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ إِبَاحَةِ الْحَسَدِ لِمَنْ أُوتِيَ الْحِكْمَةَ وَعَلَّمَهَا الناس
যাকে গভীর জ্ঞান (প্রজ্ঞা) দান করা হয়েছে এবং তা সে লোকদেরকে শিক্ষা দেয়, সেই ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষা পোষণ করা অনুমোদিত (মুবাহ) - এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৯০. ক্বায়স বিন হাযিম (রহ.) বলেন, আমি ’আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দুই ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো প্রতি ঈর্ষা করা বৈধ নয়ঃ সে ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর তাকে বৈধ পন্থায় অকাতরে ব্যয় করার ক্ষমতা দিয়েছেন; এবং সে ব্যক্তি, যাকে আল্লাহ্ তা’আলা প্রজ্ঞা দান করেছেন, অতঃপর সে তার মাধ্যমে বিচার ফায়সালা করে ও তা (অন্যদেরকে) শিক্ষা দেয়।[1]
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ خَالِدٍ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ حَدَّثَنَا مُصْعَبُ بْنُ الْمِقْدَامِ حَدَّثَنَا دَاوُدُ الطَّائِيُّ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ [ص: 205] قَالَ: سَمِعْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ: رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فسلَّطه عَلَى هَلَكَتِهِ فِي الْحَقِّ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ حكمة فهو يقضي بها ويُعَلِّمُها)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الروض)) (897)، ((التعليق الرغيب)) (1/ 221)، ((صحيح الترغيب والترهيب)) (924).
الحديث: 90 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 204
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: হুমাইদী ৯৯; বুখারী, ৭৩, ১৪০৯, ৭১৪১; মুসলিম ৮১৬; আহমাদ ১/৩৫৮, ৪৩২; ইবনু মাজাহ, ৪২০৮;
এটি আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে আহমাদ ৩/২৭৯; বুখারী ৫০২৬।
ইবনু উমার (রাঃ) হতে এ গ্রন্থে ১২৫, ১২৬ এবং ১৯৩৭।
আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে ইবনু আবী শাইবা ১০/৫৫৭; তাহাবী ১/১৯১।
পরিচ্ছেদঃ
ذكر البيان بأن خِيَارِ النَّاسِ مَنْ حسُن خُلُقُه فِي فِقْهِهِ
দ্বীনের গভীর জ্ঞানের সাথে যার চরিত্র সুন্দর হয়, সে-ই উত্তম- এ সম্পর্কিত বর্ণনাঃ
৯১. আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম লোক হলো ঐ ব্যক্তি যে চরিত্রের দিক থেকে উত্তম, যদি সে (দ্বীনের) গভীর জ্ঞান অর্জন করে।[1]
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ حَدَّثَنَا هُدْبَةُ بْنُ خَالِدٍ الْقَيْسِيُّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(خَيْرُكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا ـ إِذَا فَقُهُوا ـ)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((الصحيحة)) (1846).
الحديث: 91 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 205
আরনাউত্ব: মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, আদাবুল মুফরাদ ২৮৫; আহমাদ ২/৪৬৬, ৪৬৭, ৪৬৯, ৪৮১।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ خِيَارَ الْمُشْرِكِينَ هُمُ الْخِيَارُ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقُهُوا
মুশরিকদের উত্তম ব্যক্তিবর্গ ইসলাম গ্রহণ করার পরও তারা উত্তম বিবেচিত হবে, যদি তারা দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করে:
৯২. আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ভালো ও মন্দের ক্ষেত্রে মানুষ খনির মত। জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা (ইসলাম সম্পর্কে) গভীর জ্ঞানার্জন করেন।[1]
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ:
(النَّاسُ مَعَادِنُ فِي الْخَيْرِ وَالشَّرِّ خِيَارُهُمْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ خِيَارُهُمْ فِي الْإِسْلَامِ إِذَا فَقُهُوا)
= [9: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((فقه السيرة)) (56): ق.
الحديث: 92 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 205
আরনাউত্ব: বুখারী ও মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: কুযায়ী, মুসনাদুশ শিহাব ১৯৬; হুমাইদী ১০৪৫; আহমাদ, আল মুসনাদ ২/২৫৭, ২৬০; বুখারী, ৩৩৫৩, ৩৩৭৪; মুসলিম ২৩৭৮, ২৫২৬।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْعِلْمَ مِنْ خَيْرِ مَا يخلِّف الْمَرْءَ بَعْدَهُ
মৃত্যুর পরে যে সকল নেককর্ম মানুষ পেছনে রেখে যায় ইলম তার অন্যতম- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৯৩. আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষ তার (মৃত্যুর) পরে যা কিছু রেখে যায়, তার মধ্যে তিনটি জিনিস কল্যাণকরঃ সৎকর্মপরায়ণ সন্তান, যে তার জন্য দুআ করে; প্রবাহমান দান, যার সাওয়াব তার কাছে পৌঁছে এবং এমন জ্ঞান যা তার মৃত্যুর পরও উপকারে আসে।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) রাহি. বলেনঃ এ ধরণের বিষয় আছে আরো একশ’র ও অধিক হাদীসে, যা আমরা এ কিতাবের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ করেছি। কারণ, সে সকল স্থানসমূহ সে বিষয়গুলির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
93 - أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عُبَيْدِ بْنِ أَبِي كَرِيمَةَ - هُوَ الْحَرَّانِيُّ - قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم يَقُولُ:
(خَيْرُ مَا يخلِّف الرَّجُلَ بَعْدَهُ ثَلَاثٌ: وَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ وَصَدَقَةٌ تَجْرِي يَبْلُغُهُ أجرها وعلم يُنْتَفَع به من بعده)
= [2: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((أحكام الجنائز)) (224)، ((التعليق الرغيب)) (1/ 58)، ((الروض)) (1013).
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ ـ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ـ: قَدْ بقي من هذا النوع أكثر من مئة حَدِيثٍ بدَّدناها فِي سَائِرِ الْأَنْوَاعِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ لِأَنَّ تِلْكَ الْمَوَاضِعِ بِهَا أَشْبَهُ
الحديث: 93 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 206
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, মুকাদ্দিমা ২৪১; এ বাবে আবূ হুরাইরা হতে হাদীস বর্নিত আছে, আহমাদ, আল মুসনাদ ২/৩৭২; বুখারী, আদাবুল মুফরাদ ৩৮; আবূ দাউদ ২৮৮০; নাসাঈ ৬/২৫১; তিরমিযী, ১৩৭৬; মুসলিম ১৬৩১।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْأَمْرِ بِإِقَالَةِ زَلَّاتِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَالدِّينِ
ইলম ও দ্বীনের ধারক আলিমগণের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখা- এ সম্পর্কে বর্ণনাঃ
৯৪. আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ত্রুটি-বিচ্যুতিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে।[1]
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ وَمُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ قَالُوا: حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعُمَرِيُّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم:
(أقِيلُوا ذوي الهيئات زلاتهم)
= [78: 1]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح لغيره – ((الصحيحة)) (638).
الحديث: 94 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 206
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: বুখারী, আদাবুল মুফরাদ ৪৬৫; আবূ দাউদ ৪৩৭৫; আহমাদ, আল মুসনাদ ৬/১৮১। হাফিজ ইবনু হাজার একে হাসান বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ إِيجَابِ الْعُقُوبَةِ فِي الْقِيَامَةِ عَلَى الْكَاتِمِ الْعِلْمَ الَّذِي يُحتاج إِلَيْهِ فِي أُمُورِ الْمُسْلِمِينَ
মুসলিমগণের কর্মকান্ডে যে ইলম প্রয়োজনীয় বিবেচিত হয়, এমন ইলম যে গোপন করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য শাস্তি অবধারিত হওয়ার বর্ণনাঃ
৯৫. আবূ হুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরও) ইলম গোপন করে, তাকে কিয়ামতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে।[1]
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ الْبُنَانِيِّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي رَبَاحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال:
(من كَتَمَ عِلْمًا تلجَّم بِلِجَامٍ مِنْ نَارٍ يَوْمَ القيامة)
= [109: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((تخريج المشكاة)) (223)، ((التعليق الرغيب)) (1/ 73)، ((الروض النضير)) (1139).
الحديث: 95 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 207
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: আবূ দাউদ ৩৬৫৮; আহমাদ, আল মুসনাদ ২/২৬৩, ৩০৫; তিরমিযী ২৬৪৯; ইবনু মাজাহ ২৬১; হাকিম ১/১০১। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
দ্বিতীয় হাদীস যা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা শুদ্ধ-সঠিকঃ
৯৬. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোক (জিজ্ঞাসিত হওয়ার পরও) ইলম গোপন করে, তাকে কিয়ামতের দিবসে আগুনের লাগাম পরানো হবে।[1]
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أَبُو الطَّاهِرِ بْنُ السَّرْحِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَيَّاشِ بْنِ عَبَّاسٍ [عَنْ أَبِيهِ] عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى الله عليه وسلم قَالَ:
(مَنْ كَتَمَ عِلْمًا ألجمهُ اللَّهُ يَوْمَ القيامة بلجام من نار)
= [109: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن صحيح – ((التعليق)) أيضاً، ((تحذير الساجد)) (ص 4).
الحديث: 96 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 207
আরনাউত্ব: সহীহ।
তাখরীজ: হাকিম ১/১০২। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন।
হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ১/১৬৩ তে বলেন, এর রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى إِبَاحَةِ كِتْمَانِ الْعَالِمِ بَعْضَ مَا يَعْلَمُ مِنَ الْعِلْمِ إِذَا عَلِمَ أَنَّ قُلُوبَ الْمُسْتَمِعِينَ لَهُ لَا تَحْتَمِلُهُ
এমন হাদীস যা আলিমের জন্য কোন কোন ইলম গোপন করা জায়িয হওয়ার পক্ষে দলীল, যদি সে জানে যে, শ্রোতার অন্তর তা বহন করতে পারবে না।
৯৭. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে মাদীনার কোন একটি দেয়াল ঘেরা বাগানে একটি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে বসা ছিলেন। তখন তাঁর নিকট একজন ইয়াহুদী এসে তাঁকে রূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ
’’তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। এবং তাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।’’ (সূরাহ্ আল-ইসরা ১৭/৮৫)[1]
أخبرنا الحسن بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بِسْطَامٍ بِالْأُبُلَّةِ قَالَ: حَدَّثَنَا عبد الله ابن سعيد الكندي قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ [ص: 208] مَسْرُوقٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ:
بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضِ حِيطَانِ الْمَدِينَةِ مُتَوَكِّئاً عَلَى عَسِيبٍ إِذْ جَاءَتْهُ الْيَهُودُ فسألته عن الروح فنرلت: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} الآية [الإسراء: 85].
= [64: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق.
الحديث: 97 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 207
আরনাউত্ব: বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ও তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ ১/৪১০; বুখারী ১২৫, ৪৭২১, ৭২৯৭, ৭৪৫৬; মুসলিম ২৭৯৪; তিরমিযী, ৩১৪০, ৩১৪১।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْأَعْمَشَ لَمْ يَكُنْ بِالْمُنْفَرِدِ فِي سَمَاعِ هَذَا الْخَبَرِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ دُونَ غَيْرِهِ
এ হাদীসটি আব্দুল্লাহ ইবনু মুররাহ’র নিকট থেকে শ্রবনের ক্ষেত্রে আ’মাশ একাকী নন, বরং অন্যান্যদের থেকেও শুনেছেন- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
৯৮. ’আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস’ঊদ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে মাদীনার শস্যক্ষেত এলাকা দিয়ে চলছিলাম। তিনি একখানি খেজুরের ডালে ভর দিয়ে একদল ইয়াহুদীর কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন তারা একজন অন্যজনকে বলতে লাগল, তোমরা যদি তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে! আবার তাদের কেউ কেউ বলল, তোমরা তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা কর না, তাহলে সে তোমাদেরকে এমনকিছু শুনিয়ে দিবে, যা তোমরা অপছন্দ করবে। তারপরও তারা বলল, ’হে আবুল কাসিম! রূহ সম্পর্কে আমাদেরকে জানান?’ তিনি কিছু সময় ওহীর অপেক্ষায় (চুপ করে) দাড়িয়ে রইলেন। আমি মনে হল, তাঁর প্রতি ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। তাই আমি দাঁড়িয়ে রইলাম। অতঃপর যখন ওহীর অবতীর্ণ হওয়া শেষ হল তখন তিনি পাঠ করলেনঃ
’’তারা তোমাকে রূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। এবং তাদেরকে সামান্যই জ্ঞান দেয়া হয়েছে।’’ (সূরাহ্ আল-ইসরা ১৭/৮৫)[1]
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْأَزْدِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ:
كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ في حرث بالمدينة وهو مُتَّكىءٌ عَلَى عَسِيبٍ فَمَرَّ بِنَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: لَوْ سَأَلْتُمُوهُ! فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا تَسْأَلُوهُ فيُسمعكم مَا تَكْرَهُونَ فَقَالُوا: يَا أَبَا الْقَاسِمِ أَخْبِرْنَا عَنِ الرُّوحِ فَقَامَ سَاعَةً يَنْتَظِرُ الْوَحْيَ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ يُوحَى عَلَيْهِ فتأخَّرْتُ عَنْهُ حَتَّى صَعِدَ الْوَحْيُ ثُمَّ قَرَأَ: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أوتيتم من العلم إلا قليلاً} الآية [الإسراء: 85].
= [64: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق.
الحديث: 98 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 208
আরনাউত্ব: বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ১/৪৪৪, ৪৪৫; বুখারী ১২৫, ৪৭২১, ৭২৯৭, ৭৪৫৬; মুসলিম ২৭৯৪; তিরমিযী, ৩১৪০, ৩১৪১।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ خَبَرٍ ثَانٍ يُصَرِّحُ بِصِحَّةِ مَا ذَكَرْنَاهُ
দ্বিতীয় হাদীস যা দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, আমরা যা বর্ণনা করলাম, তা শুদ্ধ-সঠিকঃ
৯৯. ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরাইশরা ইয়াহুদীদের বলল, তোমরা আমাদেরকে এমন কিছু শিখিয়ে দাও যে প্রসঙ্গে আমরা এই ব্যক্তিকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে) প্রশ্ন করতে পারি। ইয়াহুদীরা বলল, তোমরা রূহ প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ তারা রূহ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করল। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “লোকেরা রূহ প্রসঙ্গে তোমার নিকট প্রশ্ন করে। বল, রূহ আমার প্রতিপালকের আদেশ ঘটিত। জ্ঞানের খুব সামান্যই তোমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে"- (সূরা বনী ইসরাঈল ৮৫)।
ইয়াহুদীরা বলল, “আমাদেরকে ব্যতীত অন্যদেরকে খুব সামান্য জ্ঞান প্রদান করা হয়েছে (তথা আমাদেরকে প্রভুত জ্ঞান দান করা হয়েছে)। আমাদেরকে তাওরাত কিতাব প্রদান করা হয়েছে। আর যাদেরকে তাওরাত গ্রন্থ দেয়া হয়েছে, তাদেরকে প্রভূত কল্যাণ দেয়া হয়েছে। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ) “বল, আমার প্রতিপালকের কথাগুলো লেখার জন্য সমুদ্রের সমস্ত পানি যদি কালি হয়ে যায় তবুও তা আমার প্রভুর কথাগুলো লিখে শেষ করার পূর্বেই নিঃশেষ হয়ে যবে। আমরা যদি আবার একই রকম কালি নিয়ে আসি তুবও তা যথেষ্ট হবে না"- (সূরা কাহফ ১০৯)।[1]
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى (1) قَالَ: حَدَّثَنَا مَسْرُوقُ بْنُ الْمَرْزُبَانِ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ قَالَ: حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ:
قَالَتْ قُرَيْشٌ لِلْيَهُودِ: أَعْطُونَا شَيْئًا نَسْأَلُ عَنْهُ هَذَا الرَّجُلَ فَقَالُوا: سَلُوهُ عَنِ الرُّوحِ فَسَأَلُوهُ فَنَزَلَتْ: {وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الرُّوحِ قُلِ الرُّوحُ مِنْ أَمْرِ رَبِّي وَمَا أُوتِيتُمْ مِنَ الْعِلْمِ إِلَّا قَلِيلًا} [الإسراء: 85] فَقَالُوا لَمْ نُؤْتَ مِنَ الْعِلْمِ نَحْنُ إِلَّا قَلِيلًا وَقَدْ أُوتينا التَّوْرَاةَ وَمَنْ يُؤْتَ التَّوْرَاةَ فَقَدْ أُوتي خَيْرًا كَثِيرًا؟ فَنَزَلَتْ {قُلْ لَوْ كَانَ البحر مداداً لكلمات ربي ... } الآية [الكهف: 109].
= [64: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
حسن صحيح - انظر التعليق.
(1) في ((مسنده)) (4/ 380 ـ 381)، وإسناده حسن، رجاله ثقات رجال مسلم، غير مسروق بن المرزُبان؛ وهو صدوق له أوهام؛ كما قال الحافظ.
وقد توبع من قتيبة بن سعيد: نا يحيى بن زكريا بن أبي زائدة:
أخرجه الترمذي (3139) ـ وصححه ـ، والنسائي في ((الكبرى)) (11314)، وأحمد (1/ 555)، قال ثلاثتهم أنا قتيبة بن سعيد؛ فصح السند والحمد لله.
الحديث: 99 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 209
আরনাউত্ব: হাসান।
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৫৫; তিরমিযী ৩১৪০।
পরিচ্ছেদঃ
ذِكْرُ مَا يُسْتَحَبُّ لِلْمَرْءِ مِنْ تَرْكِ سَرْدِ الْأَحَادِيثِ حَذَرَ قِلَّةِ التَّعْظِيمِ وَالتَّوْقِيرِ لَهَا
হাদীসের প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদানের ঘাটতির আশংকায় দ্রুত হাদীস বর্ণনা করা পরিত্যাগ করা মুস্তাহাব- এ সংক্রান্ত বর্ণনাঃ
১০০. উরওয়াহ ইবনুয যুবায়র (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্ত্রী আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আবূ হুরাইরা’র এ আচরণ তোমাকে কি অবাক করে না যে, সে এসেই আমার ঘরের এক পাশে বসে আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদীস পড়ে শুনাতে লাগলো। আমি তখন সালাতরত ছিলাম। আবার আমার সালাত শেষ হওয়ার পূর্বেই সে উঠে চলে গেলো। আমি যদি তাকে পেতাম তবে তার জবাবে বলতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের দ্রুত কথার ন্যায় তাড়াহুড়া করে কথা বলতেন না।[1]
আবূ হাতিম (ইবনু হিব্বান) রাহি. বলেনঃ আয়িশা (রাঃ) এর কথা, “আমি তার জবাবে শুনিয়ে দিতাম” এর দ্বারা তিনি দ্রুত হাদীস বর্ণনা করাকে উদ্দেশ্য করেছেন, হাদীস বর্ণনা করাকে নয়।
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا أبو الطاهر بن السرح قال: حدثتا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ أَنَّ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ حَدَّثَهُ أَنَّ [ص: 210] عَائِشَةَ قَالَتْ:
(أَلَا يُعْجِبُكَ أَبُو هُرَيْرَةَ جَاءَ فَجَلَسَ إِلَى جَانِبِ حُجْرَتِي يحدِّث عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُسمعُني ذَلِكَ وَكُنْتُ أُسَبِّحُ فَقَامَ قَبْلَ أَنْ أَقْضِيَ سُبْحَتِي وَلَوْ أَدْرَكْتُهُ لَرَدَدْتُ عَلَيْهِ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَكُنْ يسْرُدُ الحديث كسردكم)
= [109: 2]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((تخريج فقه السيرة)) (37): ق.
قال أبو حاتم: قَوْلُ عَائِشَةَ: (لرَدَدْتُ عَلَيْهِ): أَرَادَتْ بِهِ سَرْدَ الْحَدِيثِ لَا الْحَدِيثَ نَفْسَهُ.
الحديث: 100 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 209
আরনাউত্ব: মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: আহমাদ ৬/১১৮; বুখারী ৩৫৬৮; মুসলিম ২৪৯৩; আবূ দাউদ ৩৬৫৪।
পরিচ্ছেদঃ কোন লোকের প্রশ্নের জবাব ইশারা-ইঙ্গিতে দেওয়া জায়েয, যদিও সেটি সেই অবস্থায় লোকটির প্রশংসাজ্ঞাপক না হয়
১০১. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিরানাহ নামক স্থানে গনীমাতের মাল ও সোনারূপা বণ্টন করছিলেন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে বললো, ইনসাফ করুন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ হায় আফসোস! আমিই যদি ইনসাফ না করি, তবে আমি তো বড়ই হতভাগ্য হয়ে যাব![1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَنْ إِبَاحَةِ جَوَابِ الْمَرْءِ بِالْكِنَايَةِ عَمَّا يَسْأَلُ وَإِنْ كَانَ فِي تِلْكَ الْحَالَةِ مدحه
أَخْبَرَنَا أَبُو خَلِيفَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا قُرَّةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ:
بَيْنَمَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقْسِمُ غَنِيمَةً بِالْجِعْرَانَةِ إِذْ قَالَ لَهُ رَجُلٌ: اعْدِلْ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(يَا وَيْلِي لَقَدْ شَقِيتُ إِنْ لَمْ أَعْدِلْ)
= [65: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((ظلال الجنة)) (943).
الحديث: 101 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 210
আরনাউত্বঃ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ৩১৩৮; আহমাদ ৩/৩৩২; , ৩৫৩, ৩৫৪, ৩৫৫; মুসলিম ১০৬৩; ইবনু মাজাহ ১৭২।
এটি বুখারী ও মুসলিমে এ শব্দেও এসেছে: আমিই যদি ইনসাফ না করি, তবে তুমি তো বড়ই হতভাগ্য ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাবে!
পরিচ্ছেদঃ আলিমের জন্য আবশ্যক হলো, তার ইলমের অহঙ্কার পরিত্যাগ করা এবং সকল অবস্থায় আল্লাহর তা’আলার প্রতি মুখাপেক্ষীতা অবলম্বন করা- এ সংক্রান্ত বর্ণনা
১০২. উবাইদুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি (ইবনু আব্বাস) এবং কায়স ইবনু হিসন আলফাযারী মূসা (আঃ) এর সঙ্গী সম্পর্কে বিতর্কে জড়ালেন। ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) বললেন, সঙ্গীটি খাযির (আঃ) ছিলেন। অতঃপর সেখানে উবাই ইবনু কা’ব (রাযিঃ) আসলেন, ইবনু আব্বাস (রাযিঃ) তাকে বললেন, হে আবূ তুফায়ল! এদিকে আসুন, আমি এবং আমার এ সাথীর মধ্যে বিতর্ক হয়েছে যে, মূসা (আঃ) এর সঙ্গীর সম্বন্ধে যার নিকট তিনি জানতে চেয়েছিলেন সাক্ষাতে যাওয়ার রাস্তা। আপনি কি তার সম্বন্ধে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে কিছু বলতে শুনেছেন? উবাই ইবনু কা’ব (রাযিঃ) বললেন, আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলদের এক সমাবেশে ছিলেন, এমতাবস্থায় একটা লোক এসে তাঁকে জিজ্ঞেস করল, আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী কোন লোক সম্বন্ধে কি আপনার জানা আছে? মূসা (আঃ) বললেন, না। তখন আল্লাহ মূসা আঃ এর প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করলেন, বরং আমার বান্দা খাযির (তোমার তুলনায় অধিক জানেন)।
মূসা (আঃ) খাযির (আঃ) এর সাথে দেখার করার উপায় জানতে চাইলেন। আল্লাহ তা’আলা মাছকে নমুনা হিসেবে চিহ্নিত করলেন এবং আদেশ করা হলো, যখন তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে তখন ফিরবে আর তার দর্শনও পাবে। মূসা (আঃ) আল্লাহর ইচ্ছা মতো চললেন। তারপর তার সঙ্গী গোলামকে বললেন, আমাদের নাস্তা বের করো। তথন খাদিম মূসা আঃ কে বলল, আপনার কি জানা আছে যে, যখন আমরা সাখরাহ্ (পাথরের) নিকট পৌঁছলাম তখন মাছের কথা ভুলে গিয়েছি; আর শাইতানই আমাদের তা স্মরণ ভুলিয়ে দেয়ার কারণ। মূসা (আঃ) গোলামকে বললেন, এটাই তো আমরা খুঁজছিলাম। সুতরাং দু’জনেই পদাঙ্ক অনুসরণ করে ফিরলেন এবং খাযির (আঃ) কে পেলেন। পরবর্তী ঘটনা আল্লাহ তা’আলা তার গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ الْعَالِمَ عَلَيْهِ تَرْكُ التَّصَلُّفِ بِعِلْمِهِ وَلُزُومُ الِافْتِقَارِ إِلَى اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا فِي كُلِّ حَالِهِ
أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنَا [ص: 211] يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ:
أَنَّهُ تَمَارَى هُوَ والحُرُّ بْنُ قَيْسِ بْنِ حِصْنٍ الْفَزَارِيُّ فِي صَاحِبِ مُوسَى فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: هُوَ الْخَضِرُ فَمَرَّ بِهِمَا أُبيُّ بْنُ كَعْبٍ فَدَعَاهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقَالَ: يَا أَبَا الطُّفَيْلِ هَلُمَّ إِلَيْنَا فَإِنِّي قَدْ تَمَارَيْتُ أَنَا وَصَاحِبِي هَذَا فِي صَاحِبِ مُوسَى الَّذِي سَأَلَ مُوسَى السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ فَهَلْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِيهِ شَيْئًا؟ فَقَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ:
(بَيْنَمَا مُوسَى فِي مَلَأٍ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ لَهُ: هَلْ تَعْلَمُ أَحَدًا أَعْلَمَ مِنْكَ؟ فَقَالَ مُوسَى: لَا فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى مُوسَى: بَلْ عَبْدُنَا الْخَضِرُ فَسَأَلَ مُوسَى السَّبِيلَ إِلَى لُقِيِّهِ فَجَعَلَ اللَّهُ لَهُ الْحُوتَ آيَةً وَقِيلَ لَهُ: إِذَا فَقَدْتَ الْحُوتَ فَارْجِعْ فإنك تلقاه فسار موسى ماشاء اللَّهُ أَنْ يَسِيرَ ثُمَّ قَالَ لِفَتَاهُ: آتِنَا غَدَاءَنَا فَقَالَ لِمُوسَى حِينَ سَأَلَهُ الْغَدَاءَ: {أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ} [الكهف: 63] وقال موسى لفتاه: {ذَلِكَ مَا كُنَّا نبغِ فارتدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قصصاً} [الكهف: 64] فَوَجَدَا خَضِراً وَكَانَ مِنْ شَأْنِهِمَا مَا قصَّ الله في كتابه)
= [4: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: ق.
الحديث: 102 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 210
আরনাউত্বঃ বুখারী মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজ: বুখারী, ৭৮; আহমাদ ৫/১১৬; মুসলিম ২৩৮০।
পরিচ্ছেদঃ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাব দান কালে আলিম কর্তৃক সাদৃশ্যতা ও কিয়াস তথা তুলনা বা যুক্তির মাধ্যমে জবাব দান করার বৈধতার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা
১০৩. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিকট একজন লোক এসে বলল, ইয়া মুহাম্মদ! আপনার কি মত, জান্নাতের পরিধি তো আসমানসমূহ ও পৃথিবী, তাহলে জাহান্নাম কোথায় অবস্থিত?
তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তাহলে বল, রাতের ব্যাপারে তোমার কী মত, যা সবকিছুকে লুকিয়ে ফেলে, তা কোথায় সৃষ্টি হয়েছে? তখন সে বলল, আল্লাহই ভাল জানেন। তখন তিনি বললেনঃ আর নিশ্চয়ই আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন, তা-ই করেন।[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى إِبَاحَةِ إِجَابَةِ الْعَالِمِ السَّائِلَ بِالْأَجْوِبَةِ عَلَى سَبِيلِ التَّشْبِيهِ وَالْمُقَايَسَةِ دُونَ الْفَصْلِ فِي الْقِصَّةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ مَوْلَى ثَقِيفٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ قَالَ: أَخْبَرَنَا الْمَخْزُومِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ قَالَ: [ص: 212] حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْأَصَمُّ قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْأَصَمِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ:
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَرَأَيْتَ جَنَّةً عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ فَأَيْنَ النَّارُ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عليه وسلم:
(أرأيتَ هذا الليل [الذي] (1) قد كان [أَلْبَسَ عليك كل شيءٌ]؛ أَيْنَ جُعِل؟! ) قَالَ: اللهُ أَعْلَمُ! قَالَ:
(فإن الله يفعل ما يشاء)
= [65: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((الصحيحة)) (2892).
(1) ما بين المعوقفتين سقط من الأصل.
الحديث: 103 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 211
আরনাউত্বঃ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।
তাখরীজঃ বাযযার, ২১৯৬; হাকিম ১/৩৬; মাজমাউয যাওয়াইদ ৬/৩২৭। হাকিম ও যাহাবী সহীহ বলেছেন। হাইসামী বলেন, এর রাবীগণ সহীহ হাদীসের রাবী।
পরিচ্ছেদঃ প্রশ্নকারীর প্রশ্নের জবাব তৎক্ষণাৎ না দিয়ে জবাবদান পিছিয়ে দেওয়ার জন্য জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিকে অব্যহতি দান মুবাহ (জায়িয) হওয়ার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা
১০৪. আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ একবার রাসূলুল্লাহ্ (সা.) মজলিসে লোকদের সামনে কিছু আলোচনা করছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর কাছে একজন বেদুঈন এসে প্রশ্ন করলেন, ’কিয়ামত কবে হবে?’ তারপরও রাসূলুল্লাহ্ (সা.) তাঁর আলোচনায় রত রইলেন। ফলে লোকদের কেউ কেউ বললেন, লোকটি যা বলেছে তিনি তা শুনেছেন কিন্তু তার কথা অপছন্দ করেছেন। আর কেউ কেউ বললেনঃ বরং তিনি শুনতেই পান নি। রাসূলুল্লাহ্ (সা.) আলোচনা শেষ করে বললেনঃ ’কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়?’ সে বলল, ’এই যে আমি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্!’ তিনি বললেনঃ ’যখন আমানত নষ্ট করা হয় তখন কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।’ সে বলল, ’কিভাবে আমানত নষ্ট করা হয়?’ তিনি বললেনঃ ’যখন কোন কাজের দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে যায়, (বুখারীর বর্ণনায় রয়েছেঃ অনুপযুক্ত লোকের প্রতি ন্যস্ত করা হয়), তখন তুমি কিয়ামতের প্রতীক্ষা করবে।’[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى إِبَاحَةِ إِعْفَاءِ الْمَسْؤُولِ عَنِ الْعِلْمِ عَنْ إِجَابَةِ السَّائِلِ عَلَى الْفَوْرِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ: حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ قَالَ: حَدَّثَنَا فُلَيْحٌ عَنْ هِلَالِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ:
بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يحدِّث الْقَوْمَ جَاءَهُ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ فَمَضَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يحدِّث فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: سَمِعَ مَا قَالَ وَكَرِهَ مَا قَالَ وَقَالَ بَعْضُهُمْ: بَلْ لَمْ يَسْمَعْ حَتَّى إِذَا قَضَى حَدِيثَهُ قَالَ:
(أَيْنَ السَّائِلُ عَنِ السَّاعَةِ؟ ) قَالَ: هَا أَنَا ذَا قال:
(إذ اضُيِّعَت الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ) قَالَ: فَمَا إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: [ص: 213]
(إذا أُسنِد الأمرُ [إلى غير أهلِه] فانتظرِ الساعة)
= [65: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح: خ.
الحديث: 104 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 212
আরনাউত্বঃ (মন্তব্য পাওয়া যায়নি-অনুবাদক)।
তাখরীজঃ বুখারী, ৫৯; আহমাদ ৪/৩৬১; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ ৪২৩২; বাইহাকী, সুনান ১০/১১৮।
পরিচ্ছেদঃ কোন বিষয়ে আলিমকে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর প্রদান কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা এবং পরবর্তীতে শুরুতেই তার উত্তর প্রদান আলিমের জন্য জায়িয হওয়ার বর্ণনা
১০৫. আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট একজন লোক এসে প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে দাঁড়িয়ে গেলেন। অতঃপর নামায সমাপ্তির পর তিনি প্রশ্ন করলেনঃ কিয়ামত সম্পর্কে প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আমি।
তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কিয়ামতের জন্য কি প্রস্তুতি নিয়েছ? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অবশ্য বড় কোন প্রস্তুতি নিতে পারিনি, না (নফল) নামায, না (নফল) রোযাও রাখিনি; অথবা, সে বললঃ আমি বড় কোন আমল করতে পারিনি, তবে আমি নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে লোক যাকে ভালোবাসে, (কিয়ামত দিবসে) সে তার সাথেই অবস্থান করবে। অথবা, তিনি বললেনঃ তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই অবস্থান করবে। বর্ণনাকারী বলেন, তারা এ কথায় এতই সন্তুষ্ট হলেন যে, ইসলাম গ্রহণের পর মুসলিমদের আর কোন বিষয়ে এত খুশি হতে দেখিনি।[1]
ذِكْرُ الْإِبَاحَةِ لِلْعَالِمِ إِذَا سُئل عَنِ الشَّيْءِ أَنْ يُغْضِيَ عَنِ الْإِجَابَةِ مُدَّةً ثُمَّ يُجِيبَ ابتدء منه
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَوْنٍ قَالَ: حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ الْحَسَنِ الْمَرْوَزِيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا الْمُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ الطَّوِيلُ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ:
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ مَتَى قِيَامُ السَّاعَةِ؟ فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَمَّا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ:
(أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ سَاعَتِهِ؟ ) فَقَالَ الرَّجُلُ: أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ:
(مَا أَعْدَدْتَ لَهَا) قَالَ: مَا أعددتُ لَهَا كَبِيرَ شَيْءٍ وَلَا صَلَاةٍ وَلَا صِيَامٍ ـ أَوْ قَالَ: مَا أعددتُ لَهَا كَبِيرَ عَمَلٍ ـ إِلَّا أَنِّي أُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(الْمَرْءُ مَعَ مَنْ أَحَبَّ) أَوْ قَالَ: (أَنْتَ مَعَ مَنْ أَحْبَبْتَ)
قَالَ أَنَسٌ: فَمَا رَأَيْتُ الْمُسْلِمِينَ فَرِحُوا بِشَيْءٍ بَعْدَ الْإِسْلَامِ مِثْلَ فرحهم بهذا
= [65: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((صحيح الأدب المفرد)) (260/ 352)، ومضى برقم (8).
الحديث: 105 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 213
আরনাউত্বঃ সহীহ।
তাখরীজঃ এটি গত হয়েছে ৮ নং এ। বুখারী ৬১৬৭; আদাবুল মুফরাদ ৩৫২; মুসলিম ২৬৩৯ (১৬৪); আহমাদ ৩/১৭৩; আবূ দাউদ, ৫১২৭; তিরমিযী, ২৩৮৫; হাদীসটি মুতাওয়াতির।
পরিচ্ছেদঃ আলিম কর্তৃক শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া, যার উদ্দেশ্য হলো তাদেরকে শুরুতে সেটা শিক্ষা এবং অনুরূপ বিষয়ে উৎসাহিত করা - এ বিষয়টির বৈধতার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা
১০৬. আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন দুপুরে সূর্য ঢলে গেলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেরিয়ে আসলেন এবং তাদের নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন। সালাম ফিরানোর পর তিনি মিম্বরে দাঁড়ালেন এবং কিয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করলেন। তিনি উল্লেখ করলেন যে, কিয়ামতের আগে অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটবে। তারপর তিনি বললেনঃ কেউ যদি আমাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে চায়, তাহলে সে তা করতে পারে। আল্লাহর শপথ! আমি এখানে অবস্থান করা পর্যন্ত তোমরা আমাকে যে বিষয়েই প্রশ্ন করবে, আমি তা তোমাদেরকে জানাব। আনাস (রাঃ) বলেন, একথা শুনে লোকেরা খুব বেশি কাঁদল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি বেশি বলতে থাকলেন, তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর।
আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনু হুযাফাহ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা কে? তিনি বললেন, তোমার পিতা হুযাফা। আনাস (রাঃ) বলেন, তারপর তিনি বার বার বলতে লাগলেনঃ তোমরা আমার কাছে প্রশ্ন কর। এতে ’উমার (রাঃ) হাঁটু গেড়ে বসে গেলেন এবং বললেন, আমরা আল্লাহকে রব হিসাবে মেনে, ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসাবে বিশ্বাস করে সন্তুষ্ট আছি। আনাস (রাঃ) বলেন, ’উমার (রাঃ) যখন এ কথা বললেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ করলেন।
তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ করে বলছি, একটু আগে {আমি যখন সালাতে ছিলাম তখন) এ দেয়ালের প্রস্থে জান্নাত ও জাহান্নাম আমার সামনে পেশ করা হয়েছিল। আজকের মত এমন ভাল আর মন্দ আমি আর দেখিনি।[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى إِبَاحَةِ إِلْقَاءِ الْعَالِمِ عَلَى تَلَامِيذِهِ الْمَسَائِلَ الَّتِي يُرِيدُ أَنْ يُعَلِّمَهُمْ إِيَّاهَا ابْتِدَاءً وَحَثِّهِ إِيَّاهُمْ عَلَى مِثْلِهَا
أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ: أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنِ مَالِكٍ:
(أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى الله عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى لَهُمْ صَلَاةَ الظُّهْرِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَذَكَرَ السَّاعَةَ وَذَكَرَ أَنْ قَبْلَهَا أُمُورًا عِظَامًا ثُمَّ قَالَ:
(مَنْ أَحَبَّ أَنْ يَسْأَلَنِي عَنْ شَيْءٍ فَلْيَسْأَلْنِي عَنْهُ فَوَاللَّهِ لَا تَسْأَلُونِي عَنْ شَيْءٍ إِلَّا حَدَّثْتُكُمْ بِهِ مَا دمتُ فِي مَقَامِي)
قَالَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ: فَأَكْثَرَ النَّاسُ الْبُكَاءَ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَكْثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَقُولَ:
(سَلُونِي سَلُونِي) فَقَامَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ حُذَافَةَ فَقَالَ: مَنْ أَبِي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ:
(أَبُوكَ حُذَافَةُ) فَلَمَّا أَكْثَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَنْ يَقُولَ:
(سَلُونِي) بَرَكَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ عَلَى رُكْبَتَيْهِ قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ رَضِينَا بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَسُولًا قَالَ: فَسَكَتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ قَالَ عُمَرُ ذَلِكَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ:
(وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ عُرِضَ عَلَيَّ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ آنِفًا فِي عُرْضِ هَذَا الْحَائِطِ فَلَمْ أَرَ كاليوم في الخير والشر)
= [65: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((صحيح الأدب المفرد)) (916): ق.
الحديث: 106 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 214
আরনাউত্ব: হাদীসটি সহীহ।
তাখরীজ: সহীহ মুসলিম ২৩৫৯; বুখারী ৯৩, ৭২৯৪; আহমাদ ৩/১৬২; আব্দুর রাজ্জাক ২০৭৯৬।
পরিচ্ছেদঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একেক সময় একেক অবস্থা প্রকাশ পেত, যাতে তিনি সেই অবস্থার হুকুম (শরয়ী বিধান) উম্মাতকে জানাতে পারেন, যদিও সেটি পরবর্তীতে তাঁর উপর ওহী করা হতো- এ সংক্রান্ত বর্ণনা
১০৭. ’আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জনৈক ব্যক্তিকে মসজিদে (কুরআন) পড়তে শুনলেন। তিনি বললেন, আল্লাহ তার প্রতি রহম করুন। সে আমাকে অমুক অমুক আয়াত স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, যা আমি অমুক অমুক সূরা হতে ভুলে গিয়েছিলাম।[1]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى أَنَّ الْمُصْطَفَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ كَانَ يَعْرِضُ لَهُ الْأَحْوَالُ فِي بَعْضِ الْأَحَايِينَ يُرِيدُ بِهَا إِعْلَامَ أُمَّتِهِ الْحُكْمَ فِيهَا لَوْ حَدَثَتْ بَعْدَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدَةُ وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ:
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْمَعُ قِرَاءَةَ رَجُلٍ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ:
(يَرْحَمُهُ اللَّهُ؛ لَقَدْ أَذْكَرَنِي آية كنت أُنسِيتُها)
= [17: 5]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((صحيح أبي داود)) (1202).
الحديث: 107 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 215
আরনাউত্বঃ সহীহ।
তাখরীজঃ বুখারী, ২৬৫৫; মুসলিম ৭৮৮ (২২৫); আহমাদ ৬/১৩৮।
পরিচ্ছেদঃ শিক্ষার্থীর জন্য তার শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকের উপর আপত্তি করা জায়িয হওয়ার দলীল সংক্রান্ত বর্ণনা
১০৮. আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কিসের ভিত্তিতে আমল করব, আমরা (নিজেরা ইচ্ছাধীনভাবে) যা করব, এমন বিষয়ের ভিত্তিতে, নাকি যা (তাক্বদীরে) চুড়ান্ত করা হয়েছে তার ভিত্তিতে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “না, বরং যা চুড়ান্ত করা হয়েছে তার ভিত্তিতে।” তখন উমার (রাঃ) বললেনঃ তাহলে আমল করা কেন?
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ হে উমার! (তাক্বদীরে কী চুড়ান্ত করা হয়েছে) তা তো কেবল আমলের মাধ্যমেই জানা যাবে। (কেননা, যাকে যে যেখানকার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তার জন্য সেখানকার মতো আমল করাকে সহজ করে দেওয়া হয়)।
তখন উমার (রাঃ) বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! তাহলে আমরা (আমল করার ব্যাপারে) বহুত চেষ্টা-প্রচেষ্টা করতে থাকবো।[1]
ذكر الخبر الدال عَلى إِبَاحَةِ اعْتِرَاضِ المتعلِّم عَلَى الْعَالِمِ فِيمَا يَعْلَمُهُ من العلم
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ خَلِيلٍ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنِ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيِّبِ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ:
قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ ـ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ـ: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَعْمَلُ فِي شَيْءٍ نَأْتَنِفُهُ أَمْ فِي شَيْءٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ؟ قَالَ:
(بَلْ فِي شَيْءٍ قَدْ فُرِغَ مِنْهُ) قَالَ: فَفِيمَ الْعَمَلُ؟ قَالَ:
(يَا عُمر! لَا يُدركُ ذَاكَ إِلَّا بِالْعَمَلِ) قَالَ: إِذًا نَجْتَهِدُ يَا رَسُولَ الله!
= [30: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح – ((الظلال)) (165).
الحديث: 108 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 215
আরনাউত্বঃ সহীহ।
তাখরীজঃ বাযযার, ২১৩৭; হাইসামী, মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/১৯৪-১৯৫ এবং হাইসামী বলেন, এর রাবীগণ সকলেই সহীহ হাদীসের রাবী।
কাছাকাছি শব্দে তিরমিযী, ৩১১১ তে বর্ণনা করেছেন (অনুবাদক)।
পরিচ্ছেদঃ কোন জিনিস সম্পর্কে জানা থাকা সত্বেও প্রশ্ন করা জায়েয, তবে এর দ্বারা উপহাস করা যাবে না
১০৯. আনাস বিন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসতেন। আমার এক ছোট ভাই ছিল, যাকে আবু উমাইর উপনামে ডাকা হতো। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে আসলেন, অতঃপর বললেনঃ “আবু উমাইর, তোমার ছোট্ট চড়ুই পাখিটির কী হয়েছে?”[1] [2]
ذِكْرُ الْإِبَاحَةِ لِلْمَرْءِ أَنْ يَسْأَلَ عَنِ الشَّيْءِ وَهُوَ خَبِيرٌ بِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَكُونَ ذَاكَ بِهِ اسْتِهْزَاءً
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى قَالَ: حَدَّثَنَا حَوْثَرَةُ بْنُ أَشْرَسَ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ:
كَانَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم يدخل عَلَيْنَا وَلِي أَخٌ صَغِيرٌ يُكَنَّى أَبَا عُمَيْرٍ فَدَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ:
(أَبَا عُمَيْرٍ مَا فعل النُّغير؟ )
= [22: 4]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((مختصر الشمائل)) (201): ق.
الحديث: 109 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 216
[2] আবু উমাইরের একটি ছোট্ট পাখি ছিল, যা দিয়ে তিনি খেলা করতেন। কিন্তু পাখিটি হঠাৎ মারা যায়, যার ফলে তিনি খুবই বিষন্ন হয়ে পড়েন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটা জানতে পেরে তার মনোপ্রশান্তির জন্য তার সাথে এরকম বাক্যালাপ করেন।(আদাবুল মুফরাদ: ৮৫৫।)
পরিচ্ছেদঃ দ্বীন ইসলামে যে বিষয়গুলো প্রকাশ করা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেসবের পিছে না পড়া আবশ্যক হওয়া প্রসঙ্গে
১১০. সা’দ বিন আবু ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুসলিমদের মাঝে সবচেয়ে বড় অপরাধী সেই ব্যক্তি যে এমন কোন বিষয়ে প্রশ্ন করে, যা মুসলিমদের উপর হারাম ছিল না, কিন্তু তার প্রশ্ন করার কারণে হারাম করে দেওয়া হয়।”[1][2]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا يَجِبُ عَلَى الْمَرْءِ مِنْ تَرْكِ التَّكَلُّفِ فِي دِينِ اللَّهِ بِمَا تُنُكِّبَ عنه وأغضي عن إبدائه
أَخْبَرَنَا ابْنُ سَلْمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ عَنِ الْأَوْزَاعِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم قَالَ:
(إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ فِي الْمُسْلِمِينَ جُرماً مَنْ سَأَلَ عَنْ مَسْأَلَةٍ لَمْ تحرَّم فحُرِّمَ على المسلمين من أجل مسألته)
= [66: 3]
[تعليق الشيخ الألباني]
صحيح - ((الصحيحة)) (3276): ق.
الحديث: 110 ¦ الجزء: 1 ¦ الصفحة: 216
2. উক্ত হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শরীয়তে যেসব অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে স্বেচ্ছাপ্রণোদিতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, সেসব বিষয়ে অযথাই জিজ্ঞাসাবাদ করা নিষিদ্ধ। তবে কোন প্রয়োজনীয় বিষয়ে জানার জন্য প্রশ্ন করা নিষিদ্ধ নয়। (শারহুস সুন্নাহ: ১/৩১০; শারহু মুসলিম: ১৫/১১১)
পরিচ্ছেদঃ বিশুদ্ধ নিয়তে কোন ব্যক্তি তার উত্তম ইলম অন্যের কাছে প্রকাশ করতে পারে- এই ব্যাপারে হাদীস
১১১. আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি গতরাতে স্বপ্নে একখন্ড মেঘ দেখি, যেখান থেকে মধু ও ঘি পড়ছে, মানুষ সেগুলো তাদের হাতের অঞ্জুলি ভরে ভরে নিচ্ছে; কেউ বেশি নিচ্ছে আবার কেউ কম নিচ্ছে! আমি আরো দেখতে পেলাম আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত একটি রশি, আমি দেখলাম আপনি সেই রশিটি ধরে উপরে উঠে গেলেন, তারপর আরেকজন ব্যক্তি রশি ধরলেন এবং উপরে উঠে গেলেন, তারপর আরেক ব্যক্তি রশি ধরলেন এবং উপরে উঠে গেলেন। অতঃপর আরেক ব্যক্তি রশি ধরলেন কিন্তু রশিটি ছিঁড়ে গেলো! তারপর তার জন্য রশি জোড়া দেওয়া হলো। এরপর তিনি উপরে উঠে গেলেন। আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন, ’হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার বাবা উৎসর্গ হোক! আমাকে একটু সুযোগ দিন, আমি এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা বলবো।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ঠিক আছে, আপনি স্বপ্নের ব্যাখ্যা করুন। আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন: এখানে ছায়াযুক্ত মেঘ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসলামের ছায়া।মধু ও ঘি ঝরে পড়া দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআনের মধুরতা ও কোমলতা। মানুষ সেখান থেকে অঞ্জুলি ভরে নেওয়ার ব্যাখ্যা হলো কুরআন অল্প গ্রহনকারী ও অধিক গ্রহনকারী। আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত বিস্তৃত রশি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই হক; যার উপর আপনি রয়েছেন। আপনি সে হক গ্রহন করেছেন ফলে আল্লাহ আপনাকে সমুন্নত করেছেন। অতঃপর আপনার পরে আরেকজন তা গ্রহন করবেন এবং তিনিও উপরে উঠে যাবেন। তারপর আরেক ব্যক্তি তা গ্রহন করবেন এবং তিনি ছিঁড়ে পড়ে যাবেন।তারপর তার জন্য তা জোড়া দেওয়া হবে, অতঃপর তিনিও উপরে উঠে যাবেন।হে আল্লাহর রাসূল, আপনার জন্য আমার বাবা উৎসর্গ হোক! আপনি আমাকে বলুন, আমি কি সঠিক বলেছি নাকি ভুল করেছি? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “কিছু ঠিক বলেছেন আর কিছু ভুল করেছেন।” আবু বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বললেন: “আপনার জন্য আমার বাবা, মা উৎসর্গিত হোক। আল্লাহর শপথ করে বলছি, অবশ্যই আমাকে বলবেন, আমি যা ভুল বলেছি।” নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “এভাবে শপথ করবেন না।” [1] [2]
ذِكْرُ الْخَبَرِ الدَّالِّ عَلَى إِبَاحَةِ إِظْهَارِ الْمَرْءِ بَعْضَ مَا يُحْسِنُ مِنَ الْعِلْمِ إِذَا صَحَّتْ نِيَّتُهُ فِي إِظْهَارِهِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى قال حدثنا بن وهب قال أخبرنا يونس عن بن شِهَابٍ أَنَّ عُبَيْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ أخبره أن بن عَبَّاسٍ كَانَ يُحَدِّثُ أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: يَا رسول اللَّهِ إِنِّي رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ فِي الْمَنَامِ ظُلَّةً تَنْطِفُ السَّمْنَ وَالْعَسَلَ وَإِذَا النَّاسُ يَتَكَفَّفُونَ بِهِ مِنْهَا بِأَيْدِيهِمْ فَالْمُسْتَكْثِرُ وَالْمُسْتَقِلُّ وَأَرَى سَبَبًا وَاصِلًا مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ فَأَرَاكَ أَخَذْتَ فَعَلَوْتَ ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَعْدِكَ فَعَلَا ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَعَلَا ثُمَّ أَخَذَ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَانْقَطَعَ بِهِ ثُمَّ وُصِلَ لَهُ فَعَلَا قَالَ: أَبُو بَكْرٍ: يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ وَاللَّهِ لَتَدَعَنِّي فَلَأَعْبُرُهُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "عَبِّرْ" قَالَ: أَبُو بَكْرٍ أَمَّا الظُّلَّةُ فَظُلَّةُ الْإِسْلَامِ وَأَمَّا الَّذِي يَنْطِفُ مِنَ السَّمْنِ وَالْعَسَلِ فَالْقُرْآنُ حَلَاوَتُهُ وَلِينُهُ وَأَمَّا مَا يَتَكَفَّفُ النَّاسُ مِنْ ذلك فالمستكثر من الْقُرْآنِ وَالْمُسْتَقِلُّ وَأَمَّا السَّبَبُ الْوَاصِلُ مِنَ السَّمَاءِ إِلَى الْأَرْضِ فَالْحَقُّ الَّذِي أَنْتَ عَلَيْهِ أَخَذْتَهُ فَيُعْلِيكَ اللَّهُ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ مِنْ بَعْدِكَ فَيَعْلُو بِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَيَعْلُو بِهِ ثُمَّ يَأْخُذُ بِهِ رَجُلٌ آخَرُ فَيَنْقَطِعُ بِهِ ثُمَّ يُوصَلُ لَهُ فَيَعْلُو فَأَخْبِرْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ بِأَبِي أَنْتَ أَصَبْتُ أَمْ أَخْطَأْتُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "أَصَبْتَ بَعْضًا وَأَخْطَأْتَ بَعْضًا" قَالَ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَتُخْبِرَنِّي بِالَّذِي أَخْطَأْتُ قال: "لا تقسم".
الراوي : عبدالله بن عباس | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 111 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
2. হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইবনুত তীন রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : হাদীস থেকে জানা যায়, শপথ পূরণ করার নির্দেশ সেক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা মানুষের জন্য জানা জায়েয। এজন্য আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুর শপথ পূর্ণ করা হয়নি।কারণ তিনি এমন জানতে চেয়ে শপথ করেছেন, যা সবার জন্য জানা জায়েয নেই।”
আমি (ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ) বলি: এখানে হতে পারে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে তা জানাননি, কারণ তিনি প্রকাশ্যে প্রশ্ন করেছিলেন।হয়তো তিনি পরে তাকে জানিয়ে দিয়েছেন।”(ফাতহুল বারী: ১২/৪৩৭)
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়েত কিংবা গোমরাহীর দিকে আহবান করে, অতঃপর মানুষ তার আহবানে সাড়া দেয়, সেই ব্যক্তির বিধান
১১২. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি মানুষকে হেদায়াতের পথে আহবান করে, সে ব্যক্তি হেদায়াতের অনুসারীদের সমান সাওয়াব পাবেন, এতে তাদের সাওয়াবের কোন কমতি হবে না। অনুরুপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গোমরাহীর দিকে আহবান করে, তার উপর ভ্রষ্টপথের পথিকদের মতই পাপ বর্তাবে, এতে তাদের পাপের কোন কমতি হবে না।”[1]
ذِكْرُ الْحُكْمِ فِيمَنْ دَعَا إِلَى هُدًى أَوْ ضَلَالَةٍ فَاتُّبِعَ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ الْمَقَابِرِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ أَخْبَرَنِي الْعَلَاءُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُورِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثامهم شيئا.
الراوي : أبو هريرة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 112 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ আলিম ব্যক্তির জন্য আবশ্যক হলো মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না করা
১১৩. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদল সাহাবীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, এসময় তাঁরা হাসাহাসি করছিলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের বললেন, ’আমি যা জানি তোমরা যদি তা জানতে তবে কম হাসতে, বেশি বেশি কাঁদতে!’ অতঃপর জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে বললেন, মহান আল্লাহ আপনাকে বলেছেন: “আপনি কেন আমার বান্দাদেরকে নিরাশ করে দিচ্ছেন?” রাবী বলেন, অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের কাছে পুনরায় ফিরে গিয়ে বললেন, “তোমরা সঠিক পথে চলো, যথাসাধ্য সঠিক পথের কাছাকাছি থাকতে সচেষ্ট থাকো, আর শুভসংবাদ গ্রহণ করো।”[1]
আবু হাতিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: سَدِّدُوا অর্থ: তোমরা সঠিক পথের অনুসারী হও, التَّسْدِيدُ অর্থ: রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পথ আকড়ে ধরা এবং তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করা, قَارِبُوا অর্থ: নিজের উপর এমন কঠিন কিছু চাপিয়ে নিবে না, যা পালন করতে পারবে না। তোমরা শুভসংবাদ গ্রহণ করো, কেননা যখন তোমরা আমার পথ সঠিকভাবে আকড়ে ধরবে এবং আমলের ক্ষেত্রে সঠিকতার কাছাকাছি থাকবে, তখন তোমাদের জন্য রয়েছে জান্নাত।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ عَلَى الْعَالِمِ أَنْ لَا يُقَنِّطُ عِبَادَ اللَّهِ عَنْ رَحْمَةِ اللَّهِ
سَمِعْتُ أَبَا خَلِيفَةَ يَقُولُ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ بَكْرِ بْنِ الرَّبِيعِ بْنِ مُسْلِمٍ يَقُولُ سَمِعْتُ الربيع بن مسلم يقول سمعت محمدا يقول: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَهْطٍ مِنْ أَصْحَابِهِ وَهُمْ يَضْحَكُونَ فَقَالَ: "لَوْ تَعْلَمُونَ مَا أَعْلَمُ لَضَحِكْتُمْ قَلِيلًا وَلَبَكَيْتُمْ كَثِيرًا" فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ: إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لَكَ لِمَ تُقَنِّطُ عِبَادِي قَالَ: فَرَجَعَ إِلَيْهِمْ فَقَالَ: "سَدِّدُوا وَقَارِبُوا وأبشروا"
قال أبو حاتم رضي الله تعالى عَنْهُ: "سَدِّدُوا" يُرِيدُ بِهِ كُونُوا مُسَدَّدِينَ وَالتَّسْدِيدُ لُزُومُ طَرِيقَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاتِّبَاعُ سُنَّتِهِ وَقَوْلُهُ: "وَقَارِبُوا" يُرِيدُ بِهِ لَا تَحْمِلُوا عَلَى الْأَنْفُسِ مِنَ التَّشْدِيدِ مَا لَا تُطِيقُونَ وَأَبْشِرُوا فَإِنَّ لَكُمُ الْجَنَّةَ إِذَا لَزِمْتُمْ طريقتي في التسديد وقاربتم في الأعمال.
الراوي : أبو هريرة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 113 | خلاصة حكم المحدث: صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ আলিম ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কিতাব লিপিবদ্ধ করা বৈধ
১১৪. যায়েদ বিন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট চামড়ার বিভিন্ন টুকরা থেকে (কুরআনের আয়াত সংগ্রহ করে) কুরআন সংকলন করতাম।”[1] [2]
[1] সুনান আত তিরমিযী: ৩৯৫৪; মুসনাদ আহমাদ: ২১৬০৭; আত তাবারানী, আল মু’জামুল কাবীর: ৪৯৩৩; মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বা: ১৯৪৪৮। আল্লামা শুআইব আর নাঊত রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। আল্লামা নাসিরুদ্দিন রহিমাহুল্লাহ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। (সহীহা: ৫০৩)
[2] ইমাম হাকিম নাইসাপুরী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
وفيه الدليل الواضح أن القرآن إنما جُمع في عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم.
“এই হাদীসে স্পষ্ট প্রমান রয়েছে যে, কুরআন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় সংকলন করা হয়েছিল।”
ذِكْرُ إِبَاحَةِ تَأْلِيفِ الْعَالِمِ كُتُبَ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا
أَخْبَرَنَا أَبُو يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنِي أَبِي قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَيُّوبَ يُحَدِّثُ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ شِمَاسَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ: "كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نؤلف القرآن من الرقاع"
الراوي : زَيْد بْن ثَابِتٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 114 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান, যদিও সে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা করতে না পারে
১১৫. উকবা বিন আমির রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হুজরা থেকে বের হলেন, এসময় আমরা মাসজিদে নববীর চত্ত্বরে ছিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, ’তোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করবে প্রত্যহ সকালে বুতহান বা আকীক নামক জায়গায় গিয়ে বড় কুঁজবিশিষ্ট্য, উজ্জ্বল শুভ্র বর্ণের দুটো উষ্ট্রী নিয়ে আসবে, অথচ এতে তার কোন পাপ হবে না বা আত্নীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে না? সাহাবাগণ বললেন: ’আমরা সবাই তো এটা পছন্দ করি।’ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমাদের কারো প্রত্যহ সকালে মাসজিদে গিয়ে কুরআনের দুটো আয়াত শিক্ষা করা, এটা তার জন্য অবশ্যই দুটি উষ্ট্রী অপেক্ষা উত্তম; তিনটি আয়াত শিক্ষা করা তিনটি উষ্ট্রী অপেক্ষা উত্তম, চারটি আয়াত শিক্ষা করা অনুরুপ সংখ্যক উষ্ট্রী অপেক্ষা উত্তম।”[1]
আবু হাতিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: “উক্ত হাদীসে একটি বাক্য উহ্য আছে। সেটি হলো: "لَوْ تَصَدَّقَ بِهَا" অর্থাৎ”যদি সে তা সাদাকা করে দেয়।”রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্যের উদ্দেশ্য হলো: কুরআনের দুটি আয়াত শিক্ষা করা দুই বা তিনটি উষ্ট্রী সাদাকা করার চেয়ে উত্তম। কেননা কুরআনের দুটি আয়াত শিক্ষা করা দুই বা তিনটি উষ্ট্রী সাদাকা করার চেয়ে উত্তম,এভাবে যে কোন পরিমান আয়াত শিক্ষা করা সমসংখ্যক উষ্ট্রী সাদাকা করার চেয়ে উত্তম। কেননা এটা অসম্ভব যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআনের দুটো আয়াত শিক্ষা করার সাওয়াবের সাথে দুনিয়াবী কোন সম্পদ অর্জন করার সাথে উপমা দিবেন। এজন্য আমি এক্ষেত্রে যে ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছি, সেটাই যথার্থ।”
ذِكْرُ الْحَثِّ عَلَى تَعْلِيمِ كِتَابِ اللَّهِ وَإِنْ لَمْ يَتَعَلَّمِ الْإِنْسَانُ بِالتَّمَامِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا حَبَّانُ أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ الْجُهَنِيَّ يَقُولُ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ فِي الصُّفَّةِ فَقَالَ: "أَيُّكُمْ يُحِبُّ أَنْ يَغْدُوَ إِلَى بُطْحَانَ أَوِ الْعَقِيقِ فَيَأْتِيَ كُلَّ يَوْمٍ بِنَاقَتَيْنِ كَوْمَاوَيْنِ زَهْرَاوَيْنِ يَأْخُذُهُمَا فِي غَيْرِ إِثْمٍ وَلَا قَطِيعَةِ رَحِمٍ"؟ قَالُوا: كُلُّنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ يُحِبُّ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "فَلَأَنْ يَغْدُوَ أَحَدُكُمْ إِلَى الْمَسْجِدِ فَيَتَعَلَّمَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ لَهُ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٌ خَيْرٌ مِنْ ثَلَاثٍ وَأَرْبَعٌ خَيْرٌ مِنْ عِدَادِهِنَّ مِنَ الإبل"
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا الْخَبَرُ أُضْمِرَ فِيهِ كَلِمَةٌ وَهِيَ "لَوْ تَصَدَّقَ بِهَا" يُرِيدُ بِقَوْلِهِ فَيَتَعَلَّمَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ خَيْرٌ مِنْ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٍ لَوْ تَصَدَّقَ بِهَا لِأَنَّ فَضْلَ تَعَلُّمِ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ فَضْلِ نَاقَتَيْنِ وَثَلَاثٍ وَعِدَادِهِنَّ مِنَ الْإِبِلِ لَوْ تَصَدَّقَ بِهَا إِذْ مُحَالٌ أَنْ يُشَبِّهَ مَنْ تَعَلَّمَ آيَتَيْنِ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فِي الْأَجْرِ بِمَنْ نَالَ بَعْضَ حُطَامِ الدُّنْيَا فَصَحَّ بِمَا وصفت صحة ما ذكرت.
الراوي : عُقْبَة بْن عَامِرٍ الْجُهَنِيّ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 115 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান, যদিও সে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে শিক্ষা করতে না পারে
১১৬. আবু উমামা আল বাহিলী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কুরআন শিক্ষা করো, কেননা কুরআন কিয়ামতের দিন তার পাঠকের জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আবির্ভূত হবে। তোমাদের জন্য উচিৎ উজ্জ্বল দুটি সূরা অর্থাৎ সূরা আল বাকারা ও সূরা আল ইমরান পড়ো, কেননা সূরা দুটি কিয়ামতের দিন দুই খন্ড মেঘ, দুটি ছায়া অথবা দুই ঝাঁক পাখি হিসেবে আবির্ভূত হবে, সূরা দুটি তার পাঠকের পক্ষে কথা বলবে। তোমাদের জন্য উচিৎ হলো সূরা বাকারা পাঠ করা, কেননা এটি গ্রহনে বারাকাহ রয়েছে এবং এটি পরিত্যাগে রয়েছে পরিতাপ, আর বাতিলপন্থী তথা যাদুকরেরা এর মোকাবিলা করতে পারে না।”[1]
ذِكْرُ الْحَثِّ عَلَى تَعْلِيمِ كِتَابِ اللَّهِ وَإِنْ لَمْ يَتَعَلَّمِ الْإِنْسَانُ بِالتَّمَامِ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ سَلَّامٍ عَنْ جَدِّهِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ فَإِنَّهُ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ شَافِعًا لِأَصْحَابِهِ وَعَلَيْكُمْ بِالزَّهْرَاوَيْنِ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ فَإِنَّهُمَا تَأْتِيَانِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كَأَنَّهُمَا غَمَامَتَانِ أَوْ كَأَنَّهُمَا غَيَايَتَان أَوْ فِرْقَانِ مِنْ طَيْرٍ تُحَاجَّانِ عَنْ أَصْحَابِهِمَا وَعَلَيْكُمْ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَإِنَّ أَخْذَهَا بَرَكَةٌ وَتَرْكَهَا حَسْرَةٌ وَلَا يَسْتَطِيعُهَا الْبَطَلَةُ"
الراوي : أبو أمامة الباهلي | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 116 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিক্ষা করা ও তদনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব, বিশেষত ফিতনার সময়ে
১১৭. হুযাইফা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমরা যে কল্যানের মধ্যে আছি, এরপরেও কি কোন অকল্যাণ আসবে, যার ব্যাপারে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে? তিনি বললেন: তোমার জন্য আবশ্যক হলো আল্লাহর কিতাব আঁকড়ে ধরা; তুমি কিতাব শিক্ষা করবে এবং কিতাবে যা আছে তার অনুসরণ করবে- এটিই তোমার জন্য কল্যানকর হবে।”[1]
ذِكْرُ الْإِخْبَارِ عَمَّا يَجِبُ عَلَى الْمَرْءِ مِنْ تَعَلُّمِ كِتَابِ اللَّهِ جَلَّ وَعَلَا وَاتِّبَاعِ مَا فِيهِ عِنْدَ وُقُوعِ الْفِتَنِ خَاصَّةً
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ مِسْعَرِ بْنِ كِدَامٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ بَعْدَ هَذَا الْخَيْرِ الَّذِي نَحْنُ فِيهِ مِنْ شَرٍّ نَحْذَرُهُ قَالَ: "يَا حُذَيْفَةُ عَلَيْكَ بِكِتَابِ اللَّهِ فَتَعَلَّمْهُ وَاتَّبِعْ مَا فِيهِ خيرا لك"
الراوي : حُذَيْفَة | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 117 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ যে কুরআন নিজে শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়, সে শ্রেষ্ঠ মানুষদের অন্তর্ভূক্ত
১১৮. উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে উত্তম ঐ ব্যক্তি যে কুরআন নিজে শিক্ষা করে এবং অন্যকে শিক্ষা দেয়।”[1]
আবু আব্দুর রহমান বলেন: এই হাদীসই তো আমাকে এই জায়গায় বসিয়েছে।
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ مِنْ خَيْرِ النَّاسِ مَنْ تَعلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ
أَخْبَرَنَا الْفَضْلُ بْنُ الْحُبَابِ الْجُمَحِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَجَاءٍ الْغُدَانِيُّ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَة عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السلمي عَنْ عُثْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ".
قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: فَهَذَا الَّذِي أقعدني هذا المقعد.
الراوي : عُثْمَان | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 118 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ কুরআন শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি তা ধরে রাখার ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার নির্দেশ
১১৯. উকবা বিন আমির আল জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা কুরআন শিক্ষা করো এবং তা ধরে রাখার ব্যাপারে যত্নবান হও। কেননা ঐ সত্ত্বার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই কুরআন রশি ছিড়ে পলায়নপর উষ্ট্রীর চেয়েও বেশি দ্রতগতিতে মানুষের থেকে হারিয়ে যায়।”[1]
ذِكْرُ الْأَمْرِ بِاقْتِنَاءِ الْقُرْآنِ مَعَ تَعْلِيمِهِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عَلِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يَقُولُ: سَمِعْتُ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "تَعَلَّمُوا الْقُرْآنَ وَاقْتَنُوهُ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا من المخاض في العقل"
الراوي : عُقْبَة بْن عَامِر | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 119 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ সুন্দর আওয়াজে কুরআন না পড়ার ব্যাপারে ধমকি
১২০. সাদ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: “সে ব্যক্তি আমাদের দলভূক্ত নয়, যে সুন্দর আওয়াজে কুরআন পাঠ করে না।”[1]
আবু হাতিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য “আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়”এর উদ্দেশ্য হলো এই কাজে সে ব্যক্তি আমাদের মত নয়। কেননা আমরা এমনটা করিনা, কাজেই যে ব্যক্তি এমন করবে, সে আমাদের মত নয়।”
ذِكْرُ الزَّجْرِ عَنْ أَنْ لَا يَسْتَغْنِيَ الْمَرْءُ بما أوتي من كتاب الله جل وعلا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ قُتَيْبَةَ قَالَ حدثنا يزيد بن موهب قال حدثنا الليث عن بن أَبِي مُلَيْكَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي نَهِيكٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قال: "لَيْسَ مِنَّا مَنْ لَمْ يَتَغَنَّ بِالْقُرْآنِ".
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: مَعْنَى قَوْلِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَيْسَ مِنَّا" , فِي هَذِهِ الْأَخْبَارِ يُرِيدُ بِهِ لَيْسَ مِثْلَنَا فِي اسْتِعْمَالِ هَذَا الْفِعْلِ لَأَنَّا لَا نَفْعَلُهُ فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلَيْسَ مثلنا.
الراوي : سَعْد بْن أَبِي وَقَّاصٍ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 120 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ যাকে ঈমান ও কুরআন উভয়টি প্রদান করা হয়েছে অথবা যে কোন একটি প্রদান করা হয়েছে, তার বিবরণ
১২১. আবু মুসা আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: “যাকে ঈমান ও কুরআন দেওয়া হয়েছে তার দৃষ্টান্ত হলো লেবুর মত; যা খেতেও সুস্বাদু, ঘ্রাণও সুন্দর। যাকে কুরআন ও ঈমান কোনটাই দেওয়া হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হলো তিক্ত শশার মত; যার কোন ঘ্রাণ নেই, খেতেও তিক্ত। আর যাকে ঈমান দেওয়া হয়েছে কিন্তু কুরআন দেওয়া হয়নি, তার দৃষ্টান্ত হলো খেজুরের মত; যা খেতে মিষ্টি কিন্তু কোন ঘ্রাণ নেই। যাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে কিন্তু ঈমান দেওয়া হয়নি তার দৃষ্টান্ত হলো পুদিনা গুল্মের মত; যার ঘ্রাণ সুন্দর কিন্তু খেতে বিস্বাদ।”[1]
ذِكْرُ وَصْفِ مَنْ أُعْطِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ أَوْ أُعْطِيَ أَحَدَهُمَا دُونَ الْآخَرِ
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ مُوسَى بْنِ مُجَاشِعٍ حَدَّثَنَا الْعَبَّاسُ بْنُ الْوَلِيدِ النَّرْسِيُّ حَدَّثَنَا مُعْتَمِرُ بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ عوفا يقول سمعت قسامة هو بن زُهَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَثَلُ مَنْ أُعْطِيَ الْقُرْآنَ وَالْإِيمَانَ كَمَثَلِ أُتْرُجَّةٍ طَيِّبِ الطَّعْمِ طَيِّبِ الرِّيحِ وَمَثَلُ مَنْ لَمْ يُعْطَ الْقُرْآنَ وَلَمْ يُعْطَ الْإِيمَانَ كَمَثَلِ الْحَنْظَلَةِ مُرَّةِ الطَّعْمِ لَا رِيحَ لَهَا وَمَثَلُ مَنْ أُعْطِيَ الْإِيمَانَ وَلَمْ يُعْطَ الْقُرْآنَ كَمَثَلِ التَّمْرَةِ طَيِّبَةِ الطَّعْمِ وَلَا رِيحَ لَهَا وَمَثَلُ مَنْ أُعْطِيَ الْقُرْآنَ ولم يعط الإيمان كمثل الريحانة مرة الطعم طيبة الريح"
الراوي : أبو موسى الأشعري | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 121 | خلاصة حكم المحدث: صحيح
পরিচ্ছেদঃ কুরআন ধারণকারী পথভ্রষ্ট হবে না
১২২. আবু শুরাইহ আল খুযা’ইয়্যূ রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের কাছে আসলেন এবং বললেন: “তোমরা শুভ সংবাদ গ্রহন করো, তোমরা শুভ সংবাদ গ্রহন করো। তোমরা কী সাক্ষ্য দাও না যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন মা’বুদ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? সাহাবীগণ বললেন যে, হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা এটা সাক্ষ্য দেই। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন একটি রশি যার এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে আর এক প্রান্ত তোমাদের হাতে রয়েছে। তোমরা এটিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরবে, তাহলে তোমরা কখনই পথভ্রষ্ট হবে না, এবং কখনই ধ্বংস হয়ে যাবে না।” [1]
ذِكْرُ نَفْيِ الضَّلَالِ عَنِ الْآخِذِ بِالْقُرْآنِ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي شُرَيْحٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: "أَبْشِرُوا وَأَبْشِرُوا أَلَيْسَ تَشْهَدُونَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ"؟ قَالُوا: نَعَم قَالَ: "فَإِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ سَبَبٌ طَرَفُهُ بِيَدِ اللَّهِ وَطَرَفُهُ بِأَيْدِيكُمْ فَتَمَسَّكُوا به فإنكم لن تضلوا ولن تهلكوا بعده أبدا".
الراوي : أَبو شُرَيْحٍ الْخُزَاعِي | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 122 | خلاصة حكم المحدث: إسناده حسن على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি কুরআন অনুসরণ করবে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত হবে আর যে ব্যক্তি কুরআন পরিত্যাগ করবে সে পথভ্রষ্ট হবে
১২৩. ইয়াযিদ বিন হাইয়্যান রাহিমাহুল্লাহ বলেন, আমরা একবার যায়েদ বিন আরকাম রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলার কাছে গেলাম এবং তাঁকে বললাম: আপনি তো কল্যান প্রত্যক্ষ করেছেন; আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহচর্য্ লাভ করেছেন, তাঁর পিছনে সালাত আদায় করেছেন!
তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটা ঠিক। একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাষনে বলেছিলেন: “আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রেখে যাচ্ছি; এটি আল্লাহর রশি, যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করবে, সে হেদায়াতের উপর থাকবে আর যে ব্যক্তি তা পরিত্যাগ করবে, সে পথভ্রষ্টতার উপর থাকবে।” [1]
ذِكْرُ إِثْبَاتِ الْهُدَى لِمَنِ اتَّبَعَ الْقُرْآنَ وَالضَّلَالَةِ لِمَنْ تَرَكَهُ
أَخْبَرَنَا الْحَسَنُ بْنُ سُفْيَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَسَّانُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ مَسْرُوقٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ حَيَّانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ قَالَ: دَخَلْنَا عَلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ: لَقَدْ رَأَيْتَ خَيْرًا صَحِبْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ فَقَالَ: نَعَمْ وَإِنَّهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطَبَنَا فَقَالَ: "إِنِّي تَارِكٌ فِيكُمْ كِتَابَ اللَّهِ هُوَ حَبْلُ اللَّهِ مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الْهُدَى وَمَنْ تركه كان على الضلالة"
الراوي : زَيْد بْن أَرْقَم | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 123 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আমলের মাধ্যমে কুরআন অনুসরণীয় বানাবে, কুরআন তাকে জান্নাতের দিকে পরিচালিত করবে আর যে ব্যক্তি আমল না করে কুরআনকে পেছনে রেখে দিবে, তবে কুরআন তাকে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে
১২৪. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: কিয়ামতের দিন কুরআনের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে, কুরআন তার পাঠকের পক্ষে কথা বলবে এবং তার কথা সত্যায়ন করা হবে। যে ব্যক্তি কুরআনকে অনুকরণীয় বানায়, কুরআন তাকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করবে আর যে ব্যক্তি কুরআনকে পেছনে রেখে দিবে কুরআন তাকে জাহান্নামের দিকে পরিচালিত করবে।”[1]
قَالَ أَبُو حَاتِمٍ: هَذَا خَبَرٌ يُوهِمُ لَفْظُهُ مَنْ جَهِلَ صِنَاعَةَ الْعِلْمِ أَنَّ الْقُرْآنَ مَجْعُولٌ مَرْبُوبٌ وَلَيْسَ كَذَلِكَ لَكِنَّ لَفْظَهُ مِمَّا نَقُولُ فِي كُتُبِنَا إِنَّ الْعَرَبَ فِي لُغَتِهَا تُطْلِقُ اسْمَ الشَّيْءِ عَلَى سَبَبِهِ كَمَا تُطْلِقُ اسْمَ السَّبَبِ عَلَى الشَّيْءِ فَلَمَّا كَانَ الْعَمَلُ بِالْقُرْآنِ قَادَ صَاحِبَهُ إِلَى الْجَنَّةِ أُطْلِقَ اسْمُ ذَلِكَ الشَّيْءِ الَّذِي هُوَ الْعَمَلُ بِالْقُرْآنِ عَلَى سَبَبِهِ الَّذِي هُوَ الْقُرْآنُ لا أن القرآن يكون مخلوقا.
আবু হাতিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “এই হাদীসের শব্দ ইলমে হাদীসে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিকে অনেক সময় সংশয়ে ফেলে দেয় যে, কুরআনকে বানানো হয়েছে, কুরআন মাখলূক বা সৃষ্ট! অথচ বিষয়টি এমন নয়। কিন্তু এর শব্দ যেমনটা আমরা আমাদের কিতাবে বলে থাকি: আরবরা তাদের ভাষায় কোন জিনিসের নামকে তার উপকরণের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন যেমনিভাবে কোন উপকরণের নামকে খোদ ঐ জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন। সুতরাং যেহেতু কুরআন অনুযায়ী আমল ব্যক্তিকে জান্নাতের পথে পরিচালিত করে, সেজন্য ঐ জিনিসের নাম অর্থাৎ কুরআন অনুযায়ী আমলকে উপকরণ তথা কুরআনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে; এর উদ্দেশ্য মোটেও এটা নয় যে, কুরআন মাখলূক বা সৃষ্ট।”
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ الْقُرْآنَ مَنْ جَعَلَهُ إِمَامَهُ بِالْعَمَلِ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ وَمَنْ جَعَلَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ بِتَرْكِ الْعَمَلِ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ
- أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي مَعْشَرٍ بِحَرَّانَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ بْنِ كُرَيْبٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْأَجْلَحِ عَنِ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "القرآن مشفع وماحل مُصَدَّقٌ مَنْ جَعَلَهُ إِمَامَهُ قَادَهُ إِلَى الْجَنَّةِ ومن جعله خلف ظَهْرِهِ سَاقَهُ إِلَى النَّارِ"
الراوي : جابر | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 124 | خلاصة حكم المحدث: إسناده جيد
পরিচ্ছেদঃ যাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে অতঃপর সে ব্যক্তি তা দিয়ে দিবারাত্রি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন, তার ব্যাপারে ঈর্ষা করা বৈধ
১২৫. সালিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর বাবা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কেবল দুই ধরণের ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা করা যায়। (১) ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ কুরআন দান করেছেন, অতঃপর সে ব্যক্তি তা দিয়ে দিবারাত্রি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন। (২) যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর সে ব্যক্তি দিবারাত্রি তা ব্যয় করেন।”[1]
ذِكْرُ إِبَاحَةِ الْحَسَدِ لِمَنْ أُوتِيَ كِتَابَ اللَّهِ تعالى فقام به آناء الليل والنهار
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي عَوْنٍ حدثنا بن أَبِي عُمَرَ الْعَدَنِيُّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنِ الزُّهْرِيِّ عن سالم عن أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "لَا حَسَدَ إِلَّا فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ الْقُرْآنَ فَهُوَ يَقُومُ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ وَرَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ مَالًا فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ"
الراوي : عبد الله بن عمر | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 125 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বক্তব্য: “অতঃপর সে ব্যক্তি দিবারাত্রি তা খরচ করে” এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সে ব্যক্তি সাদাকা করে
১২৬.সালিম রাহিমাহুল্লাহ তাঁর বাবা আব্দুল্লাহ বিন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমা থেকে বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কেবল দুই ধরণের ব্যক্তির ক্ষেত্রেই ঈর্ষা করা যায়। (১) ঐ ব্যক্তি যাকে আল্লাহ এই কিতাব তথা কুরআন দান করেছেন, অতঃপর সে ব্যক্তি তা দিয়ে দিবারাত্রি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করেন। (২) যাকে আল্লাহ সম্পদ দিয়েছেন, অতঃপর সে ব্যক্তি দিবারাত্রি তা সাদাকা করেন।” [1]
ذِكْرُ الْبَيَانِ بِأَنَّ قَوْلَهُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ يُنْفِقُ مِنْهُ آنَاءَ اللَّيْلِ وَآنَاءَ النَّهَارِ أَرَادَ بِهِ فَهُوَ يَتَصَدَّقُ بِهِ
أَخْبَرَنَا بن قتيبة حدثنا حرملة حدثنا بن وهب أخبرني يونس عن بن شِهَابٍ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: "لَا حَسَدَ إِلَّا عَلَى اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ آتَاهُ اللَّهُ هَذَا الْكِتَابَ فَقَامَ بِهِ آنَاءَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَرَجُلٌ أَعْطَاهُ اللَّهُ مَالًا فتصدق به آناء الليل وآناء النهار"
الراوي : عبد الله بن عمر | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 126 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি ধারণা করে যে খোলাফা রাশিদীন এবং প্রবীণ সাহাবীদের নিকট ওযূ ও সালাত সংক্রান্ত কোন বিধান গোপন থাকতে পারে না - তার এই কথা অপনোদনে হাদীস
১২৭. যাইদ বিন খালিদ আল-জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি উসমান বিন আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে স্ত্রী সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত হয়নি। জবাবে তিনি বলেন: তার উপর কোন কিছুই আবশ্যক নয়। তারপর উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এটা বলতে শুনেছি। যাইদ বিন খালিদ আল-জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন: এরপর এই সম্পর্কে আলী বিন আবী তালিব, যুবাইর বিন আওয়াম, তালহা বিন উবাইদুল্লাহ, উবাই বিন কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুমদের জিজ্ঞেস করেছি, তাঁরা সবাই অনুরুপ জবাবই দিয়েছেন। আবু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন উরওয়া বিন যুবাইর, তিনি আবু আইয়ুব আল-আনসারী রাদ্বিয়াল্লহু আনহুকে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিলেন, জবাবে তিনিও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনুরুপ কথাই বলেছেন।”[1] [2]
[1] সহীহ আল বুখারী: ২৯২; সহীহ মুসলিম: ৩৪৭; মুশকিলুল আসার: ১/৫৩; বাইহাকী: ১/৬৩; সহীহ ইবনু খুযাইমা: ২২৪; ইবনু আবী শায়বা: ১/৯০; মুসনাদ আহমাদ: ১/৬৪। হাদীসটিকে আল্লামা শুআইব আল আরনাঊত রাহিমাহুল্লাহ সহীহ আল বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ বলেছেন।
[2] ইসলামের প্রথম যুগে স্ত্রী সহবাস করার পর যদি বীর্যপাত না হতো , তাহলে গোসল করার বাধ্যবাধকতা ছিল না। পরবর্তীতে এই বিধান রহিত করা হয়। পরবর্তী বিধানে পুরুষের লিঙ্গের অগ্রভাগ নারীদেহে প্রবেশ করলেই গোসল ফরযের বিধান দেওয়া হয়, বীর্যপাত হোক অথবা না হোক। কিন্তু রহিতকারী পরিবর্তিত বিধান অনেক সাহাবীই জানতেন না। যার ফলে তাঁরা আগের বিধান মতেই ফাতাওয়া দিয়েছেন। বক্ষ্যমান হাদীসটি সেটাই প্রমান করে। রহিত হওয়ার ব্যাপারে আয়েশা বর্ণিত হাদীসে আছে:
عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّهَا سُئِلَتْ عَنِ الرَّجُلِ يُجَامِعُ، فَلَا يُنْزِلُ الْمَاءَ، قَالَتْ: فَعَلْتُ أَنَا وَرَسُولُ اللَّهِ، صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَاغْتَسَلْنَا مِنْهُ جميعا.
আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’আলা আনহাকে জিজ্ঞেস করা হয় ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করে কিন্তু বীর্যপাত হয়না, তার গোসল করতে হবে কিনা, জবাবে তিনি বলেন: আমি ও আল্লাহর রাসূল এমনটা করে আমরা গোসল করেছি।” (সহীহ ইবনু হিব্বান: ১১৭৬; তিরমিযী: ১০৮; ইবনু মাজাহ: ৬০৮। হাদীস সহীহ।)
ذِكْرُ الْخَبَرِ الْمُدْحِضِ قَوْلَ مَنْ زَعَمَ أَنَّ الْخُلَفَاءَ الرَّاشِدِينَ وَالْكِبَارَ مِنَ الصَّحَابَةِ غَيْرُ جَائِزٍ أن يخفى عليهم بعض أحكام الوضوء والصَّلَاةِ
أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْهَمْدَانِيُّ قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ قَالَ: سَمِعْتُ أَبِي قَالَ: حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ أَنَّ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ حَدَّثَهُ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّهُ سَأَلَ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ عَنِ الرَّجُلِ إِذَا جَامَعَ وَلَمْ يُنْزِلْ فَقَالَ: لَيْسَ عَلَيْهِ شَيْءٌ ثُمَّ قَالَ عُثْمَانُ: سَمِعْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَسَأَلْتُ بَعْدَ ذَلِكَ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ وَالزُّبَيْرَ بْنَ الْعَوَّامِ وَطَلْحَةَ بْنَ عُبَيْدِ اللَّهِ وَأُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ فَقَالُوا: مِثْلَ ذَلِكَ قَالَ أَبُو سَلَمَةَ: وَحَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَأَلَ أَبَا أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيَّ فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وسلم.
الراوي : زَيْد بْن خَالِدٍ الْجُهَنِيّ | المحدث : شعيب الأرنؤوط | المصدر : صحيح ابن حبان
الصفحة أو الرقم: 127 | خلاصة حكم المحدث: إسناده صحيح على شرط الشيخين