পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১২) জুবাইর বিন মুত্বইম (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার পাঁচটি নাম, আমি মুহাম্মাদ, আহমাদ। আমি মাহী (নিশ্চিহ্নকারী), যার দ্বারা আল্লাহ কুফরী নিশ্চিহ্ন করবেন। আমি হাশের, যার পদপ্রান্তে মানুষের হাশর হবে। আর আমি হলাম আক্বেব (সব শেষে আগমনকারী), যার পরে কোন নবী নেই।
عن جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ لِي خَمْسَةُ أَسْمَاءٍ أَنَا مُحَمَّدٌ وَأَحْمَدُ وَأَنَا الْمَاحِي الَّذِي يَمْحُو اللهُ بِي الْكُفْرَ وَأَنَا الْحَاشِرُ الَّذِي يُحْشَرُ النَّاسُ عَلٰى قَدَمِي وَأَنَا الْعَاقِبُ وَالْعَاقِبُ الَّذِى لَيْسَ بَعْدَهُ نَبِىُّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কি অবাক হও না যে, আল্লাহ কীভাবে আমার নিকট থেকে কুরাইশের গালি ও অভিশাপকে ফিরিয়ে রেখেছেন? তারা মুযাম্মামকে গালি দেয় ও মুযাম্মামকে অভিশাপ দেয়। অথচ আমি হলাম মুহাম্মাদ।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَلَا تَعْجَبُونَ كَيْفَ يَصْرِفُ اللهُ عَنِّي شَتْمَ قُرَيْشٍ وَلَعْنَهُمْ يَشْتِمُونَ مُذَمَّمًا وَيَلْعَنُونَ مُذَمَّمًا وَأَنَا مُـحَمَّدٌ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৪) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমাকে বিশ্বাস কর না কি? অথচ আমি তাঁর নিকট বিশ্বস্ত যিনি আকাশে আছেন। আমার নিকট সকাল ও সন্ধ্যায় আকাশের খবর আসে।
وعن أَبِـيْ سَعِيْدٍ الْـخُدْرِيْ عَنِ النَّبِـيِّ ﷺ قَالَ أَلَا تَأْمَنُوْنِـىْ وَأَنَا أَمِينُ مَنْ فِى السَّمَاءِ يَأْتِينِى خَبَرُ السَّمَاءِ صَبَاحًا وَمَسَاءً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৫) আত্বা বিন য়্যাসার বলেন, আমি আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) এর সাক্ষাতে বললাম, ’তাওরাতে উল্লিখিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুণাবলী সম্পর্কে আমাকে বলুন।’ তিনি বললেন, ’হ্যাঁ। আল্লাহর কসম! তিনি কুরআনে বর্ণিত কিছু গুণে তাওরাতেও গুণান্বিত। (যেমন,) হে নবী! আমি তো তোমাকে পাঠিয়েছি সাক্ষীরূপে, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারীরূপে’ (আহযাবঃ ৪৫) এবং নিরক্ষর (আরব) দের জন্য নিরাপত্তারূপে। তুমি আমার দাস ও রসূল। আমি তোমার নাম রেখেছি ’আল-মুতাওয়াক্কিল’ (আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল)। তিনি রূঢ় ও কঠোর নন। হাটে-বাজারে হৈ-হুল্লোড়কারীও নন। তিনি মন্দকে মন্দ দ্বারা প্রতিহত করেন না। বরং তিনি ক্ষমা ও মার্জনা করে দেন। আল্লাহ তাঁর কখনোই তিরোধান ঘটাবেন না, যতক্ষণ না তিনি তাঁর দ্বারা বাঁকা (কাফের) সম্প্রদায়কে সোজা করেছেন তথা তারা ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তাঁর দ্বারা বহু অন্ধ চক্ষু, বধির কর্ণ ও বদ্ধ হৃদয়কে উন্মুক্ত করেছেন।
وعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ لَقِيتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فِي التَّوْرَاةِ قَالَ أَجَلْ وَاللهِ إِنَّهُ لَمَوْصُوفٌ فِي التَّوْرَاةِ بِبَعْضِ صِفَتِهِ فِي الْقُرْآنِ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا وَحِرْزًا لِلْأُمِّيِّينَ أَنْتَ عَبْدِي وَرَسُوْلِي سَمَّيْتُكَ المتَوَكِّلَ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللهُ حَتّٰـى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُوْلُوا لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৬) মুআবিয়া (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি কেবল খাজাঞ্চি মাত্র। সুতরাং যাকে আমি খুশী মনে দান করি, তাকে তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যাকে আমি (তার) যাচিজা বা লোভের কারণে দিয়ে থাকি, সে হয় সেই ব্যক্তির মতো, যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না।
عَنْ مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّمَا أَنَا خَازِنٌ فَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ طِيبِ نَفْسٍ فَيُبَارَكُ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَعْطَيْتُهُ عَنْ مَسْأَلَةٍ وَشَرَهٍ كَانَ كَالَّذِى يَأْكُلُ وَلاَ يَشْبَعُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদেরকে দান করি না, আর বঞ্চিত করি না। আমি কেবল বন্টনকারী মাত্র। যেখানে (মাল) রাখতে আমাকে আদেশ করা হয়, আমি সেখানেই রাখি।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا أُعْـطِيـكُمْ وَلَا أَمْـنَـعُـكُمْ إِنَّـمَا أَنَـا قَاسِمٌ أَضَـعُ حَـيْـثُ أُمِـرْتُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৮) আওফ বিন মালিক আশজায়ী বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহুদীদেরকে সম্বোধন করে বলেছেন, তোমার অস্বীকার করেছ। অথচ আল্লাহর কসম! আমিই ’হাশের’ (জমায়েতকারী), আমিই ’আক্বেব’ (সবশেষে আগমনকারী) এবং আমিই ’নবী মুস্তাফা’ (মনোনীত নবী)। তাতে তোমরা বিশ্বাস কর অথবা মিথ্যাজ্ঞান কর।
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكِ الْأَشْجَعِـيِّ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لِلْيَهُوْدِ أَبَيْتُمْ فَوَاللهِ إِنِّـيْ لَأَنَا الْـحَاشِرُ وَأَنَا الْعَاقِبُ وَأَنَا النَّبِيُّ الْـمُصْطَفٰـى آمَنْتُمْ أَوْ كَذَّبْتُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭১৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের উপমা হল এক ব্যক্তির মতো, যে একটি ঘর বানাল, অতঃপর তা সুন্দর ও সুদর্শন বানাল। কিন্তু এক কোণে একটি ইট বরাবর জায়গা খালি রাখল। লোকেরা তা ঘুরে-ফিরে দেখতে লাগল এবং মুগ্ধ হল। তারা বলতে লাগল, ’এই ইটটা কেন লাগানো হয়নি?’ (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,) বলা বাহুল্য, আমি হলাম সেই ইট, আমি হলাম ’খাতামুন নাবিয়্যীন’ (সর্বশেষ নবী)।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَثَلِـى وَمَثَلُ الْأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِـىْ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى بُنْيَانًا فَأَحْسَنَهُ وَأَجْمَلَهُ إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ مِنْ زَوَايَاهُ فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ بِهِ وَيَعْجَبُونَ لَهُ وَيَقُوْلُونَ هَلاَّ وُضِعَتْ هَذِهِ اللَّبِنَةُ - قَالَ - فَأَنَا اللَّبِنَةُ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭২০) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার উম্মতে ২৭ জন মিথ্যুক দাজ্জাল (নবুঅতের দাবীদার) হবে। তাদের মধ্যে ৪ জন হবে মহিলা! অথচ আমিই ’খাতামুন নাবিয়্যীন’ (শেষনবী), আমার পরে কোন নবী নেই।
عَنْ حُذَيْفَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَكُونُ فِي أُمَّتِي دَجَّالُونَ كَذَّابُونَ سَبْعَةٌ وَعِشْرُونَ مِنْهُمْ أَرْبَعَةُ نِسْوَةٍ وَأَنَا خَاتَمُ النَّبِيِّينَ لا نَبِيَّ بَعْدِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭২১) ইরবায বিন সারিয়াহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আমি (লওহে মাহফূযে) তখনও ’আব্দুল্লাহ’ (আল্লাহর দাস) ও ’খাতামুন নাবিয়্যীন’ (শেষনবী), যখন আদম (আঃ) তাঁর কাদায় পড়ে ছিলেন।
عَنْ عِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنِّي عَبْدُ اللهِ لَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ عَلَيْهِ السَّلَام لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর নামাবলী
(২৭২২) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার নামে নাম রাখো, তবে আমার উপনামে উপনাম রেখো না।
وعَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ تَسَمَّوْا بِاسْمِـي وَلَا تَكْـتَـنُوا بِكُـنْـيَـتِـيْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা আবূ জাহ্ল বলল, ’তোমাদের সামনে কি মুহাম্মাদ নিজ চেহারা মাটিতে রাখে?’ বলা হল, ’হ্যাঁ।’ সে বলল, ’লাত-উয্যার কসম! আমি যদি তাকে তা করতে দেখি, তাহলে তার ঘাড়ে পা রেখে দলব। অথবা তার চেহারাকে মাটিতে রগড়ে দেব।’ অতঃপর এক সময় সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এল, তখন তিনি নামায পড়ছিলেন। সে তাঁর ঘাড়ে পা রেখে দলার ইচ্ছা করল। কিন্তু অকস্মাৎ লোকেরা দেখল, সে পশ্চাদ্পদ হয়ে ফিরে আসছে এবং নিজ দুই হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে সে বলল, ’আমার ও ওর মাঝে আগুনের পরিখা, বিভীষিকা ও পক্ষরাজি ছিল।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ও যদি আমার নিকটবর্তী হতো, তাহলে ফিরিশতা ওর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিতেন।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ أَبُو جَهْلٍ هَلْ يُعَفِّرُ مُحَمَّدٌ وَجْهَهُ بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ قَالَ فَقِيلَ نَعَمْ فَقَالَ وَاللاَّتِ وَالْعُزَّى لَئِنْ رَأَيْتُهُ يَفْعَلُ ذٰلِكَ لأَطَأَنَّ عَلٰى رَقَبَتِهِ أَوْ لأُعَفِّرَنَّ وَجْهَهُ فِى التُّرَابِ قَالَ فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَهُوَ يُصَلِّى زَعَمَ لِيَطَأَ عَلٰى رَقَبَتِهِ قَالَ فَمَا فَجِئَهُمْ مِنْهُ إِلاَّ وَهُوَ يَنْكِصُ عَلٰى عَقِبَيْهِ وَيَتَّقِى بِيَدَيْهِ قَالَ فَقِيلَ لَهُ مَا لَكَ فَقَالَ إِنَّ بَيْنِى وَبَيْنَهُ لَخَنْدَقًا مِنْ نَارٍ وَهَوْلاً وَأَجْنِحَةً فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ دَنَا مِنِّى لاَخْتَطَفَتْهُ الْمَلاَئِكَةُ عُضْوًا عُضْوًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা জিবরীল (আঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে বসেছিলেন। হঠাৎ তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলেন যে, একজন ফিরিশতা অবতরণ করছেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে লক্ষ্য ক’রে) বললেন, ’এই ফিরিশতা যখন থেকে সৃষ্ট হয়েছেন, তখন থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত কোন দিন অবতরণ করেননি।’ ফিরিশতা অবতরণ করে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) সম্বোধন ক’রে বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! আপনার প্রতিপালক আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন। (তিনি জানতে চান যে,) আপনাকে কি তিনি একজন সম্রাট ও নবী ক’রে প্রেরণ করবেন, না কেবল একজন বান্দা ও রাসূল ক’রে পাঠাবেন?’ জিবরীল (আঃ) বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নম্র-বিনয়ী হন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, না, বরং আমি একজন বান্দা ও রাসূল হিসাবে প্রেরিত হতে চাই।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ جَلَسَ جِبْرِيلُ إِلَـى النَّبِيِّ ﷺ فَنَظَرَ إِلَـى السَّمَاءِ فَإِذَا مَلَكٌ يَنْزِلُ فَقَالَ جِبْرِيلُ إِنَّ هٰذَا الْمَلَكَ مَا نَزَلَ مُنْذُ يَوْمِ خُلِقَ قَبْلَ السَّاعَةِ فَلَمَّا نَزَلَ قَالَ يَا مُحَمَّدُ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ رَبُّكَ قَالَ أَفَمَلِكًا نَبِيًّا يَجْعَلُكَ أَوْ عَبْدًا رَسُولًا قَالَ جِبْرِيلُ: تَوَاضَعْ لِرَبِّكَ يَا مُحَمَّدُ، قَالَ بَلْ عَبْدًا رَسُولًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৫) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের নিকট এসে তার দরজা খুলতে বলব। দারোয়ান ফিরিশতা বলবেন, ’কে আপনি?’ আমি বলব, ’মুহাম্মাদ।’ দারোয়ান বলবেন, ’আমি আদিষ্ট হয়েছি, যেন আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্য দরজা না খুলি।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ آتِى بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُوْلُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ فَيَقُوْلُ بِكَ أُمِرْتُ لاَ أَفْتَحُ لأَحَدٍ قَبْلَكَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৬) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি পৃথিবীর কাউকে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করলে ইবনে আবী ক্বুহাফাহ (আবূ বকর) কে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সাথী ’খালীলুল্লাহ’।
عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِى قُحَافَةَ خَلِيلاً وَلَكِنْ صَاحِبُكُمْ خَلِيلُ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৭) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা তিনি উম্মে সুলাইম (রাঃ) এর ঘরে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। তিনি ঘর্মাক্ত হলে আমার মা উম্মে সুলাইম সেই ঘাম জমা করতে লাগলেন। তিনি জেগে উঠে তা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, ’কী ব্যাপার উম্মে সুলাইম?’ বললেন, ’আপনার ঘাম। আমাদের সুগন্ধিতে মিশিয়ে দেব। আর তা হবে শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ دَخَلَ عَلَيْنَا النَّبِىُّ ﷺ فَقَالَ عِنْدَنَا فَعَرِقَ وَجَاءَتْ أُمِّى بِقَارُورَةٍ فَجَعَلَتْ تَسْلُتُ الْعَرَقَ فِيهَا فَاسْتَيْقَظَ النَّبِىُّ ﷺ فَقَالَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ مَا هٰذَا الَّذِى تَصْنَعِينَ؟ قَالَتْ هٰذَا عَرَقُكَ نَجْعَلُهُ فِى طِيبِنَا وَهُوَ مِنْ أَطْيَبِ الطِّيبِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৮) আনাস (রাঃ) বলেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর করতল অপেক্ষা অধিকতর কোমল কোন পুরু বা পাতলা রেশম আমি স্পর্শ করিনি। আর তাঁর শরীরের সুগন্ধ অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধ কোন বস্তু আমি কখনো শুঁকিনি।’
عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَزْهَرَ اللَّوْنِ كَأَنَّ عَرَقَهُ اللُّؤْلُؤُ إِذَا مَشَى تَكَفَّأَ وَلاَ مَسِسْتُ دِيبَاجَةً وَلاَ حَرِيرَةً أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَلاَ شَمَمْتُ مِسْكَةً وَلاَ عَنْبَرَةً أَطْيَبَ مِنْ رَائِحَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭২৯) আবূ জুহাইফা (রাঃ) বলেন, ’লোকেরা তাঁর হাত নিয়ে নিজেদের চেহারার উপর বুলাত। আমিও তাঁর হাত নিয়ে আমার চেহারার উপর রাখলাম; অনুভব করলাম, তা বরফ অপেক্ষা বেশি ঠাণ্ডা এবং কস্ত্তরী অপেক্ষা বেশি সুগন্ধময়।
عَنْ أَبِـيْ جُحَيْفَةَ قَالَ وَقَامَ النَّاسُ فَجَعَلُوا يَأْخُذُونَ يَدَيْهِ فَيَمْسَحُونَ بِهَا وُجُوهَهُمْ قَالَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَوَضَعْتُهَا عَلٰى وَجْهِي فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنْ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنْ الْمِسْكِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩০) জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) বলেন, ’তিনি আমার গালের উপর হাত বুলালেন। আমি তাঁর হাতে এমন শীতলতা অথবা সুগন্ধি অনুভব করলাম, যেন তিনি (সবেমাত্র) তাঁর হাতকে আতরের বাঙ থেকে বের করেছেন।’
عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ فَجَعَلَ يَمْسَحُ خَدَّىْ أَحَدِهِمْ وَاحِدًا وَاحِدًا - قَالَ - وَأَمَّا أَنَا فَمَسَحَ خَدِّى - قَالَ - فَوَجَدْتُ لِيَدِهِ بَرْدًا أَوْ رِيحًا كَأَنَّمَا أَخْرَجَهَا مِنْ جُؤْنَةِ عَطَّارٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩১) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন এলে আমি হব নবীগণের ইমাম ও খতীব এবং তাঁদের শাফাআত-ওয়ালা। আর এতে কোন গর্ব নেই।
عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ كُنْتُ إِمَامَ النَّبِيِّينَ وَخَطِيبَهُمْ وَصَاحِبَ شَفَاعَتِهِمْ غَيْرَ فَخْرٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩২) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার বৈবাহিক ও বংশীয় সম্পর্ক ছাড়া সকল বৈবাহিক ও বংশীয় সম্পর্ক কিয়ামতের দিন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ نَسَبٍ وَصِهْرٍ يَنْقَطِعُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا نَسَبِـيْ وَصِهْرِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৩) আবূ যার্র (রাঃ) বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, ’(সর্বপ্রথম) নিশ্চিতরূপে কীভাবে জানলেন যে, আপনি নবী?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’’হে আবূ যার্র! আমি মক্কার কোন এক বাত্হাতে (উপত্যকার বালুচরে) ছিলাম। সেই সময় আমার কাছে দু’জন ফিরিশতা এলেন। তাঁদের মধ্যে একজন যমীনে অবতরণ করলেন অন্য জন আকাশ ও পৃথিবীর মাঝে শূন্যে অবস্থান করছিলেন। তাঁদের একজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, ’উনিই কি তিনি?’ সঙ্গী বললেন, ’হ্যাঁ।’ প্রথমজন বললেন, ’উনাকে একজন লোক দ্বারা ওজন কর।’ সুতরাং আমাকে একজন লোক দ্বারা ওজন করা হল। তাতে আমার ওজন বেশি হল। তারপর প্রথমজন বললেন, ’এখন উনাকে দশজন লোক দ্বারা ওজন কর।’
সুতরাং আমাকে দশজন লোক দ্বারা ওজন করা হল। তাতেও আমার ওজন বেশি হল। তারপর প্রথমজন বললেন, ’এখন উনাকে একশত জন লোক দ্বারা ওজন কর।’ সুতরাং আমাকে একশত জন লোক দ্বারা ওজন করা হল। তাতেও আমার ওজন বেশি হল। তারপর প্রথমজন বললেন, ’এখন উনাকে এক হাজার জন লোক দ্বারা ওজন কর।’ সুতরাং আমাকে এক হাজার জন লোক দ্বারা ওজন করা হল। তাতেও আমার ওজন বেশি হল। আমি যেন এখনও তাদেরকে দেখছি, তাদের পাল্লা হাল্কা হওয়ার দরুন তারা আমার উপর পড়ে যাচ্ছিল! তারপর প্রথমজন তাঁর সঙ্গীকে বললেন, ’উনাকে যদি তাঁর উম্মত দ্বারা ওজন করা হয়, তাহলেও নিশ্চিতরূপে তাঁরই ওজন বেশি হবে।
عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ عَلِمْتَ أَنَّكَ نَبِيٌّ حَتَّى اسْتَيْقَنْتَ؟ فَقَالَ: " يَا أَبَا ذَرٍّ أَتَانِي مَلَكَانِ وَأَنَا بِبَعْضِ بَطْحَاءِ مَكَّةَ فَوَقَعَ أَحَدُهُمَا عَلَى الْأَرْضِ، وَكَانَ الْآخَرُ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: أَهُوَ هُوَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ زِنْهُ بِرَجُلٍ، فَوُزِنْتُ بِهِ فَوَزَنْتُهُ، ثُمَّ قَالَ: فَزِنْهُ بِعَشَرَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ، ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِمِائَةٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ ثُمَّ قَالَ: زِنْهُ بِأَلْفٍ، فَوُزِنْتُ بِهِمْ فَرَجَحْتُهُمْ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِمْ يَنْتَثِرُونَ عَلَيَّ مِنْ خِفَّةِ الْمِيزَانِ، قَالَ: فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِصَاحِبِهِ: لَوْ وَزَنْتَهُ بِأُمَّتِهِ لَرَجَحَهَا "
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৪) ইরবায বিন সারিয়াহ বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি (আব্দুল্লাহ) আল্লাহর নিকট তাঁর লওহে মাহফূযে লিখিত তখনও সর্বশেষ নবী, যখন আদম কাদা অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আর এর তাৎপর্য এই যে, (আমার নবুঅতের প্রথম বিকাশ ঘটে) আমার পিতা ইব্রাহীমের দু’আ, ঈসার তাঁর কওমকে দেওয়া সুসংবাদ এবং আমার আম্মার দেখা সেই স্বপ্নের মাধ্যমে, যাতে তিনি তাঁর নিকট থেকে এমন জ্যোতি বের হতে দেখেন যা, শামদেশের অট্টালিকাসমূহকে আলোকিত করেছিল। আর অনুরূপই আম্বিয়া (সালাওয়াতুল্লাহি আলাইহিম)এর আম্মাগণ দেখে থাকেন।
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنِّي عَبْدُ اللهِ فِي أُمِّ الْكِتَابِ لَخَاتَمُ النَّبِيِّينَ وَإِنَّ آدَمَ لَمُنْجَدِلٌ فِي طِينَتِهِ وَسَأُنَبِّئُكُمْ بِتَأْوِيلِ ذٰلِكَ دَعْوَةِ أَبِـيْ إِبْرَاهِيمَ وَبِشَارَةِ عِيسَى قَوْمَهُ وَرُؤْيَا أُمِّي الَّتِي رَأَتْ أَنَّهُ خَرَجَ مِنْهَا نُورٌ أَضَاءَتْ لَهُ قُصُورُ الشَّامِ وَكَذٰلِكَ تَرَى أُمَّهَاتُ النَّبِيِّينَ صَلَوَاتُ اللهِ عَلَيْهِمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৫) জাবের বিন আব্দুল্লাহ আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে এমন পাঁচটি বস্তু দেওয়া হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দেওয়া হয়নি। (১) এক মাসের পথ চলার মত দূরত্বেও আমার ভীতি দুশমনদের মনে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, (২) আমার জন্য সারা পৃথিবীকে মসজিদ ও (তার মাটিকে) পবিত্রকারী করে দেওয়া হয়েছে, অতএব আমার উম্মত যেখানেই থাকুক নামাযের সময় হয়ে গেলে সেখানেই সে যেন নামায পড়ে নেয়, (৩) আমার জন্য গনীমাতের সম্পদ বৈধ করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে অন্য কারোর জন্য বৈধ ছিল না, (৪) আমাকে কিয়ামতের দিন সুপারিশ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে (৫) অন্য সকল নবীকে নির্দিষ্ট গোত্রের নিকট পাঠানো হয়েছিল আর আমাকে সকল মানুষের জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الأَنْصَارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أُعْطِيتُ خَمْسًا لَمْ يُعْطَهُنَّ أَحَدٌ قَبْلِي نُصِرْتُ بِالرُّعْبِ مَسِيرَةَ شَهْرٍ وَجُعِلَتْ لِي الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا فَأَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِي أَدْرَكَتْهُ الصَّلَاةُ فَلْيُصَلِّ وَأُحِلَّتْ لِي الْمَغَانِمُ وَلَمْ تَحِلَّ لِأَحَدٍ قَبْلِي وَأُعْطِيتُ الشَّفَاعَةَ وَكَأَنَّ النَّبِـيَّ يُبْعَثُ إِلٰـى قَوْمِهِ خَاصَّةً وَبُعِثْتُ إِلَـى النَّاسِ عَامَّةً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ছয়টি জিনিস দিয়ে আমাকে অন্যান্য নবীগণের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে। আমাকে বহুলার্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্যাবলী (বলার ক্ষমতা) দেওয়া হয়েছে। আতঙ্ক দিয়ে আমাকে সাহায্য করা হয়েছে। গনীমতের মাল আমার জন্য হালাল করা হয়েছে। পৃথিবীকে আমার জন্য মসজিদ ও (তার মাটিকে) পবিত্রকারী বানানো হয়েছে। আমি সারা সৃষ্টির জন্য প্রেরিত হয়েছি। আর আমাকে দিয়ে নবুঅতের সমাপ্তি ঘটানো হয়েছে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ فُضِّلْتُ عَلَى الأَنْبِيَاءِ بِسِتٍّ أُعْطِيتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَأُحِلَّتْ لِـىَ الْغَنَائِمُ وَجُعِلَتْ لِـىَ الْأَرْضُ طَهُوْرًا وَمَسْجِدًا وَأُرْسِلْتُ إِلَـى الْـخَلْقِ كَافَّةً وَخُتِمَ بِىَ النَّبِيُّونَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৭) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ আমার জন্য পৃথিবীকে গুটিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম (অর্থাৎ পুরোটাই) দেখেছি। নিশ্চয় আমার উম্মতের রাজত্ব ততদূর পৌঁছবে, যতদূর আমার জন্য গুটিয়ে দেওয়া হয়েছে (অর্থাৎ পুরোটাই)। আর আমাকে দেওয়া হয়েছে লাল ও সাদা (স্বর্ণ ও রৌপ্য-ভাণ্ডার)।
عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ نَبِىَّ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ زَوَى لِـىْ الأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِى سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِىَ لِـىْ مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৮) তামীম আদ দারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই এ দ্বীন পৌঁছবে, যেখানে রাত-দিন পৌঁছেছে। আল্লাহ কোন ঘর ও শিবিরে এ দ্বীন প্রবিষ্ট না করে ছাড়বেন না; সম্মানীর সম্মানের সাথে হোক অথবা অসম্মানীর অসম্মানের সাথে হোক। এমন সম্মান, যার দ্বারা আল্লাহ ইসলামকে সম্মানিত করবেন এবং এমন অসম্মান, যার দ্বারা আল্লাহ কুফরীকে লাঞ্ছিত করবেন।
عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيَبْلُغَنَّ هٰذَا الْأَمْرُ مَا بَلَغَ اللَّيْلُ وَالنَّهَارُ وَلَا يَتْرُكُ اللهُ بَيْتَ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ إِلَّا أَدْخَلَهُ اللهُ هٰذَا الدِّينَ بِعِزِّ عَزِيزٍ أَوْ بِذُلِّ ذَلِيلٍ عِزًّا يُعِزُّ اللهُ بِهِ الْإِسْلَامَ وَذُلًّا يُذِلُّ اللهُ بِهِ الْكُفْرَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৩৯) হুযাইফা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেদের উপরে তিনটি বিষয় দিয়ে আমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছেঃ আমাদের কাতারকে ফিরিশতামণ্ডলীর কাতারের মতো গণ্য করা হয়েছে। পৃথিবীর সকল স্থানকে আমাদের জন্য মসজিদ বানানো হয়েছে। পানি না পেলে তার মাটিকে আমাদের জন্য পবিত্রতার মাধ্যম বানানো হয়েছে। আর আমাকে সূরা বাক্বারার শেষাংশের এই আয়াতগুলি আরশের নিচের ভাণ্ডার থেকে দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কোন নবীকে দান করা হয়নি।
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فُضِّلْنَا عَلَى النَّاسِ بِثَلاَثٍ جُعِلَتْ صُفُوفُنَا كَصُفُوفِ الْمَلاَئِكَةِ وَجُعِلَتْ لَنَا الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدًا وَجُعِلَتْ تُرْبَتُهَا لَنَا طَهُورًا إِذَا لَمْ نَجِدِ الْمَاءَ وَأُعْطِيتُ هَذِهِ الْآيَاتِ مِنْ آخِرِ الْبَقَرَةِ مِنْ كَنْزٍ تَحْتَ الْعَرْشِ لَمْ يُعْطَهَا نَبِيٌّ قَبْلِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৪০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বহুলার্থবোধক বাক্য-সহ আমি প্রেরিত হয়েছি, (কাফেরদের মনে) আতঙ্ক প্রক্ষেপ দ্বারা আমি সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি, আর এক সময় যখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, তখন (স্বপ্নে) পৃথিবীর যাবতীয় ভান্ডারের চাবিরাশি এনে আমার হাতে রাখা হয়েছে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِى يَدَىَّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৪১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার কাছে সকল উম্মত পেশ করা হল। আমি দেখলাম, কোন নবীর সাথে কতিপয় (৩ থেকে ৭ জন অনুসারী) লোক রয়েছে। কোন নবীর সাথে এক অথবা দুইজন লোক রয়েছে। কোন নবীকে দেখলাম তাঁর সাথে কেউ নেই। ইতোমধ্যে বিরাট একটি জামাআত আমার সামনে পেশ করা হল। আমি মনে করলাম, এটিই আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল যে, ’এটি হল মূসা ও তাঁর উম্মতের জামাআত। কিন্তু আপনি অন্য দিগন্তে তাকান।’ অতঃপর তাকাতেই আরও দিগন্তভর একটি বিরাট জামাআত দেখতে পেলাম। আমাকে বলা হল যে, ’এটি হল আপনার উম্মত। আর তাদের সঙ্গে রয়েছে এমন ৭০ হাজার লোক, যারা বিনা হিসাব ও আযাবে বেহেশত প্রবেশ করবে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ عُرِضَتْ عَلَىَّ الأُمَمُ فَرَأَيْتُ النَّبِىَّ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ وَالنَّبِىَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلاَنِ وَالنَّبِىَّ لَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ إِذْ رُفِعَ لِـىْ سَوَادٌ عَظِيمٌ فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِى فَقِيلَ لِـىْ هٰذَا مُوسَى ﷺ وَقَوْمُهُ وَلَكِنِ انْظُرْ إِلٰـى الأُفُقِ فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقِيلَ لِـىْ انْظُرْ إِلٰـى الأُفُقِ الآخَرِ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ فَقِيلَ لِـىْ هَذِهِ أُمَّتُكَ وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلاَ عَذَابٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৪২) সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক নবীর হওয থাকবে (কিয়ামতে)। তাঁরা আপোসে গর্ব করবেন, তাঁদের মধ্যে কার (হওযের) অবতরণকারী সবচেয়ে বেশী হবে। আর আমি অবশ্যই আশা করি যে, তাঁদের মধ্যে আমার (হওযের) অবতরণকারী সবচেয়ে বেশি হবে।
عَنْ سَمُرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إنّ لكلِّ نَبِيَ حَوْضاً وإنّهُمْ يَتَباهَوْنَ أيُّهُمْ أكْثَرُ وَارِدَةً وإنِّـيْ أرْجُو أنْ أكُونَ أكْثَرَهُمْ وَاردَةً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৪৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবীগণের মধ্যে প্রত্যেক নবীকেই এমন নিদর্শনাবলী দেওয়া হয়েছিল, যার অনুরূপ দেখে মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিল। আর আমাকে যা দেওয়া হয়েছে, তা হল অহী, আল্লাহ আমার প্রতি প্রেরণ করেছেন। সুতরাং আমি অবশ্যই আশা করি যে, কিয়ামতের দিন তাঁদের মধ্যে আমার অনুসারী সবার চেয়ে বেশি হবে।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مَا مِنَ الأَنْبِيَاءِ مِنْ نَبِىٍّ إِلاَّ قَدْ أُعْطِىَ مِنَ الآيَاتِ مَا مِثْلُهُ آمَنَ عَلَيْهِ الْبَشَرُ وَإِنَّمَا كَانَ الَّذِى أُوتِيتُ وَحْيًا أَوْحَى اللهُ إِلٰـى فَأَرْجُو أَنْ أَكُونَ أَكْثَرَهُمْ تَابِعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বৈশিষ্ট্যাবলী
(২৭৪৪)আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি জান্নাতের নিকট এসে তার দরজা খুলতে বলব। দারোয়ান ফিরিশতা বলবেন, ’কে আপনি?’ আমি বলব, ’মুহাম্মাদ।’ দারোয়ান বলবেন, ’আমি আদিষ্ট হয়েছি, যেন আপনার পূর্বে অন্য কারো জন্য দরজা না খুলি।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ آتِى بَابَ الْجَنَّةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَسْتَفْتِحُ فَيَقُوْلُ الْخَازِنُ مَنْ أَنْتَ فَأَقُولُ مُحَمَّدٌ فَيَقُوْلُ بِكَ أُمِرْتُ لاَ أَفْتَحُ لأَحَدٍ قَبْلَكَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৪৫) আবূ জুহাইফা (রাঃ) বলেন, একদা দুপুরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাত্হার দিকে বের হলেন। সেখানে উযূ করে যোহরের দু’ রাকআত ও আসরের দু’ রাকআত নামায আদায় করলেন। তাঁর সম্মুখে ছিল বর্শা। তার পশ্চাৎ বেয়ে মহিলা পার হচ্ছিল। অতঃপর লোকেরা উঠে তাঁর দুই হাত নিয়ে নিজেদের চেহারায় মাসাহ করতে লাগল। আমিও তাঁর হাত নিয়ে আমার চেহারার উপরে রাখলাম। দেখলাম, তা বরফের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা এবং কস্তুরীর চেয়ে বেশি সুগন্ধময়।
عن أبي جُحَيْفَةَ قَالَ: خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِالْهَاجِرَةِ إِلٰـى الْبَطْحَاءِ فَتَوَضَّأَ ثُمَّ صَلَّى الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ يَمُرُّ مِنْ وَرَائِهَا الْمَرْأَةُ وَقَامَ النَّاسُ فَجَعَلُوا يَأْخُذُونَ يَدَيْهِ فَيَمْسَحُونَ بِهَا وُجُوهَهُمْ قَالَ فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَوَضَعْتُهَا عَلٰى وَجْهِي فَإِذَا هِيَ أَبْرَدُ مِنْ الثَّلْجِ وَأَطْيَبُ رَائِحَةً مِنْ الْمِسْكِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৪৬) আনাস (রাঃ) বলেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের নামায পড়তেন, তখন মদীনার দাস-দাসীরা পানির পাত্র নিয়ে হাযির থাকত। তিনি প্রত্যেক পাত্রেই হাত ডুবিয়ে দিতেন। কখনো শীতের ফজরেও তিনি পাত্রে হাত ডুবাতেন।’
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ: كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا صَلَّى الْغَدَاةَ جَاءَ خَدَمُ الْمَدِينَةِ بِآنِيَتِهِمْ فِيهَا الْمَاءُ فَمَا يُؤْتَى بِإِنَاءٍ إِلاَّ غَمَسَ يَدَهُ فِيهَا فَرُبَّمَا جَاءُوهُ فِى الْغَدَاةِ الْبَارِدَةِ فَيَغْمِسُ يَدَهُ فِيهَا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৪৭) আনাস (রাঃ) বলেন, একদা তিনি উম্মে সুলাইম (রাঃ)র ঘরে এসে শুয়ে ঘুমিয়ে গেলেন। তিনি ঘরে ছিলেন না। তিনি এলে তাঁকে বলা হল, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার ঘরে এসে তোমার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েছেন।’ তিনি ঘর্মাক্ত হলে তাঁর ঘাম বিছানার চামড়ার উপর জমে উঠেছিল। উম্মে সুলাইম তাঁর সিন্দুক খুলে শিশি বের করলেন। অতঃপর সেই ঘাম (কাপড়খণ্ড দ্বারা শোষণ করে তা) ড়ড়ে শিশিতে রাখতে লাগলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অকস্মাৎ ঘাবড়ে উঠলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’কী করছ উম্মে সুলাইম?’ বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! (আপনার ঘাম। আমাদের সুগন্ধিতে মিশিয়ে দেব। তা হবে শ্রেষ্ঠ সুগন্ধি।) আর তাতে আমাদের শিশুদের জন্য বর্কতের আশা করব।’ তিনি বললেন, ’’ঠিক আছে।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كَانَ النَّبِىُّ ﷺ يَدْخُلُ بَيْتَ أُمِّ سُلَيْمٍ فَيَنَامُ عَلٰى فِرَاشِهَا وَلَيْسَتْ فِيهِ - قَالَ - فَجَاءَ ذَاتَ يَوْمٍ فَنَامَ عَلٰى فِرَاشِهَا فَأُتِيَتْ فَقِيلَ لَهَا هٰذَا النَّبِىُّ ﷺ نَامَ فِى بَيْتِكِ عَلٰى فِرَاشِكِ - قَالَ - فَجَاءَتْ وَقَدْ عَرِقَ وَاسْتَنْقَعَ عَرَقُهُ عَلٰى قِطْعَةِ أَدِيمٍ عَلَى الْفِرَاشِ فَفَتَحَتْ عَتِيدَتَهَا فَجَعَلَتْ تُنَشِّفُ ذٰلِكَ الْعَرَقَ فَتَعْصِرُهُ فِى قَوَارِيرِهَا فَفَزِعَ النَّبِىُّ ﷺ فَقَالَ مَا تَصْنَعِينَ يَا أُمَّ سُلَيْمٍ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ نَرْجُو بَرَكَتَهُ لِصِبْيَانِنَا قَالَ أَصَبْتِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৪৮) সায়েব বিন য়্যাযীদ বলেন, (শিশু অবস্থায়) আমাকে আমার খালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিয়ে গেলেন। খালা তাঁকে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমার বোনপো ব্যথা অনুভব করে।’ সুতরাং তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার জন্য বর্কতের দু’আ দিলেন। অতঃপর তিনি ওযূ করলেন। সুতরাং আমি তাঁর ওযূর পানি পান করলাম। অতঃপর তাঁর পিঠের পিছনে খাড়া হলাম এবং তাঁর দুই কাঁধের মাঝে পায়রার ডিমের মতো নবুঅতের মোহর দেখতে পেলাম।
عَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيْدَ قالُ: ذَهَبَتْ بِي خَالَتِي إِلَـى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَتْ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ ابْنَ أُخْتِي وَجِعٌ فَمَسَحَ رَأْسِي وَدَعَا لِي بِالْبَرَكَةِ ثُمَّ تَوَضَّأَ فَشَرِبْتُ مِنْ وَضُوئِهِ ثُمَّ قُمْتُ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَنَظَرْتُ إِلٰـى خَاتَمِ النُّبُوَّةِ بَيْنَ كَتِفَيْهِ مِثْلَ زِرِّ الْحَجَلَةِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৪৯) হুদাইবিয়্যার সন্ধির সময় মক্কার কুরাইশদের প্রতিনিধি দল ও মুসলিমদের মাঝে কথাবার্তা ও টানাপোড়েন চলছিল। সেই অবস্থায় উরওয়াহ বিন মাসঊদ সাক্বাফী মুসলিমদের আচরণ সচক্ষে দর্শন করছিলেন। মুসলিমরা তাঁদের নবীর সাথে কী ব্যবহার করছে, তা তিনি সন্তর্পণে লক্ষ্য করছিলেন। উরওয়াহ নিজ সঙ্গীদের কাছে ফিরে এসে বললেন,
أَيْ قَوْمِ وَاللهِ لَقَدْ وَفَدْتُ عَلَى الْمُلُوكِ وَوَفَدْتُ عَلٰى قَيْصَرَ وَكِسْرَى وَالنَّجَاشِيِّ وَاللهِ إِنْ رَأَيْتُ مَلِكًا قَطُّ يُعَظِّمُهُ أَصْحَابُهُ مَا يُعَظِّمُ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ ﷺ مُحَمَّدًا، وَاللهِ إِنْ تَنَخَّمَ نُخَامَةً إِلَّا وَقَعَتْ فِي كَفِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ فَدَلَكَ بِهَا وَجْهَهُ وَجِلْدَهُ وَإِذَا أَمَرَهُمْ ابْتَدَرُوا أَمْرَهُ وَإِذَا تَوَضَّأَ كَادُوا يَقْتَتِلُونَ عَلٰى وَضُوئِهِ وَإِذَا تَكَلَّمَ خَفَضُوا أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَهُ وَمَا يُحِدُّونَ إِلَيْهِ النَّظَرَ تَعْظِيمًا لَهُ
’হে আমার সম্প্রদায়! অনেক রাজা-বাদশার দরবারে গেছি, ক্বাইসার, কিসরা ও নাজাশীর দরবারে গেছি। কিন্তু আল্লাহর কসম! কোন রাজাকে দেখিনি, তার প্রজারা তাকে তেমন সমীহ করে, যেমন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শিশ্যরা করে মুহাম্মাদের! আল্লাহর কসম! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কফ ফেলতেই তা ওদের কারো হাতে পড়ছিল এবং সে তা নিয়ে নিজের চেহারা ও চামড়ায় মেখে নিচ্ছিল। তিনি কোন আদেশ করলে তারা তাঁর আদেশ পালনে তৎপর ছিল। তিনি উযূ করলে তাঁর উযূর পানি নেওয়ার জন্য মারামারি করছিল। তিনি কথা বললে তারা নিজেদের আওয়াজ তাঁর কাছে নিচু ক’রে নিচ্ছিল। অতি সমীহতে তাঁর প্রতি তারা এক দৃষ্টে তাকাচ্ছিল না।’
-
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৫০) সাহল ইবনে সা’দ সায়েদী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার (যুদ্ধের) দিন বললেন, নিশ্চয় আমি আগামীকাল যুদ্ধ-পতাকা এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন, আর সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলও তাকে ভালবাসেন। অতঃপর লোকেরা এই আলোচনা করতে করতে রাত কাটিয়ে দিল যে, তাদের মধ্যে কোন ব্যক্তিকে এটা দেওয়া হবে। অতঃপর সকালে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেল। তাদের প্রত্যেকেরই এই আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, পতাকা তাকে দেওয়া হোক। কিন্তু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আলী ইবনে আবী ত্বালেব কোথায়? তাঁকে বলা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! তাঁর চক্ষুদ্বয়ে ব্যথা হচ্ছে।’ তিনি বললেন, তাকে ডেকে পাঠাও। সুতরাং তাঁকে ডেকে আনা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চক্ষুদ্বয়ে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু’আ করলেন। ফলে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন; যেন তাঁর কোন ব্যথাই ছিল না। অতঃপর তিনি তাঁকে যুদ্ধ-পতাকা দিলেন।
عن سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يَفْتَحُ اللهُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ قَالَ فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا - قَالَ - فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلٰى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ كُلُّهُمْ يَرْجُونَ أَنْ يُعْطَاهَا فَقَالَ أَيْنَ عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ فَقَالُوا هُوَ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَشْتَكِى عَيْنَيْهِ - قَالَ - فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ فَأُتِىَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ حَتّٰـى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৫১) বারা’ বিন আযেব (রাঃ) বলেন, ’হুদাইবিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে চৌদ্দ শতেরও বেশি লোক ছিল। তারা একটি কুয়ার পাশে অবতরণ করলে তার পানি নিঃশেষ হয়ে যায়। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অভিযোগ জানায়। তিনি কুয়ার কিনারায় বসে তার এক বালতি পানি তলব করেন। পানি আনা হলে তিনি তাতে থুথু দিয়ে দু’আ করেন। অতঃপর কিছুক্ষণ তা বর্জন করতে বলেন। সুতরাং (কুয়ার পানি বৃদ্ধি পায় এবং) সেখান থেকে প্রস্থান করে যাওয়া অবধি তারা পান করে পরিতৃপ্ত হয় ও তাদের সওয়ারীগুলিকেও পরিতৃপ্ত করে।’
عَنِ البَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُمْ كَانُوا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَةٍ أَوْ أَكْثَرَ فَنَزَلُوا عَلٰى بِئْرٍ فَنَزَحُوهَا فَأَتَوْا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَأَتَى الْبِئْرَ وَقَعَدَ عَلٰى شَفِيرِهَا ثُمَّ قَالَ ائْتُونِي بِدَلْوٍ مِنْ مَائِهَا فَأُتِيَ بِهِ فَبَصَقَ فَدَعَا ثُمَّ قَالَ دَعُوهَا سَاعَةً فَأَرْوَوْا أَنْفُسَهُمْ وَرِكَابَهُمْ حَتّٰـى ارْتَحَلُوا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বরকত
(২৭৫২) জাবের (রাঃ) বলেন, (হুদাইবিয়ার দিন) একদা আসরের সময় হয়ে গেল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলাম। সামান্য অবশিষ্ট পানি ছাড়া অন্য পানি ছিল না। ঐ পানিটুকু একটি পাত্রে রেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আনা হল। তিনি তাতে হাত ভরে দিলেন এবং আঙ্গুলগুলিকে ফাঁক করলেন। অতঃপর বললেন, ’’এসো উযূর পানির দিকে, আল্লাহর পক্ষ থেকে বরকত।’’
আমি দেখলাম, তাঁর আঙ্গুলগুলির মধ্য হতে পানি নিঃসৃত হচ্ছিল। সুতরাং লোকেরা তা দিয়ে উযূ করল এবং পান করল। তা হতে আমিও আমার পেটে রাখতে কোন ত্রুটি করিনি। আমি জেনেছিলাম, তা হল বরকত।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি জাবের (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, ’আপনাদের সংখ্যা কত ছিল?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’চৌদ্দশত।’
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا هٰذَا الْحَدِيثَ قَالَ قَدْ رَأَيْتُنِي مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَقَدْ حَضَرَتْ الْعَصْرُ وَلَيْسَ مَعَنَا مَاءٌ غَيْرَ فَضْلَةٍ فَجُعِلَ فِي إِنَاءٍ فَأُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِهِ فَأَدْخَلَ يَدَهُ فِيهِ وَفَرَّجَ أَصَابِعَهُ ثُمَّ قَالَ حَيَّ عَلٰى أَهْلِ الْوُضُوءِ الْبَرَكَةُ مِنْ اللهِ فَلَقَدْ رَأَيْتُ الْمَاءَ يَتَفَجَّرُ مِنْ بَيْنِ أَصَابِعِهِ فَتَوَضَّأَ النَّاسُ وَشَرِبُوا فَجَعَلْتُ لَا آلُوا مَا جَعَلْتُ فِي بَطْنِي مِنْهُ فَعَلِمْتُ أَنَّهُ بَرَكَةٌ قُلْتُ لِجَابِرٍ كَمْ كُنْتُمْ يَوْمَئِذٍ قَالَ أَلْفًا وَأَرْبَعَ مِائَة
পরিচ্ছেদঃ নবী (ﷺ) এর চরিত্র
(২৭৫৩) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্র ছিল কুরআন।
عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ فَقُلْتُ أَخْبِرِيْـنِـيْ عَنْ خُلُقِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ كَانَ خُلُقُهُ الْقُرْآنَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বিনয়
(২৭৫৪) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, এক মরুবাসী সাহাবীর নাম ছিল যাহের (বিন হারাম)। তিনি মরু-অঞ্চল থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য (ফলমূল, শাক-সবজি) উপঢৌকন নিয়ে আসতেন। আর তাঁর মরু এলাকায় যাওয়ার সময় তিনিও তাঁকে শহরের কোন কোন জিনিস প্রস্তুত করে তাঁর উপঢৌকনের বিনিময় প্রদান করতেন। একদা তিনি তাঁকে বললেন, ’’যাহের আমাদের বেদুঈন। (অথবা যাহের আমাদেরকে মরু-অঞ্চল থেকে উপহার এনে দেয়।) আর আমরা তার শহুরে সাথী। (অথবা আমরা তাকে আমাদের শহরের প্রয়োজনীয় জিনিস উপহার দিই।)’’
যাহেরকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভালোবাসতেন। (ফলে তাঁর সাথে রসিকতা করতেন।) যাহের দেখতে ছিলেন কুশ্রী। একদা তিনি নিজের পণ্য বিক্রি করছিলেন। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে এসে তাঁর পিছন থেকে বগলের নিচে হাত পার ক’রে জরিয়ে ধরলেন। (অথবা তাঁর পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে তাঁর চোখ দুটিতে হাত রাখলেন।) যাতে তিনি দেখতে না পান।
যাহের বললেন, ’কে? আমাকে ছেড়ে দিন।’
অতঃপর তিনি লক্ষ্য করলেন বা বুঝতে পারলেন, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সুতরাং নিজের পিঠকে ভালোভাবে তাঁর (অপার স্নেহময়) বুকে লাগিয়ে দিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’কে গোলাম কিনবে?’’
যাহের বললেন, ’আল্লাহর কসম! আমাকে সস্তা পাবেন!’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’কিন্তু তুমি আল্লাহর কাছে মূল্যবান।’’
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ كَانَ اسْمُهُ زَاهِرًا كَانَ يُهْدِي لِلنَّبِيِّ ﷺ الْهَدِيَّةَ مِنْ الْبَادِيَةِ فَيُجَهِّزُهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ إِنَّ زَاهِرًا بَادِيَتُنَا وَنَحْنُ حَاضِرُوهُ وَكَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يُحِبُّهُ وَكَانَ رَجُلًا دَمِيمًا فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَوْمًا وَهُوَ يَبِيعُ مَتَاعَهُ فَاحْتَضَنَهُ مِنْ خَلْفِهِ وَهُوَ لَا يُبْصِرُهُ فَقَالَ الرَّجُلُ أَرْسِلْنِي مَنْ هٰذَا فَالْتَفَتَ فَعَرَفَ النَّبِيَّ ﷺ فَجَعَلَ لَا يَأْلُو مَا أَلْصَقَ ظَهْرَهُ بِصَدْرِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ عَرَفَهُ وَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ يَشْتَرِي الْعَبْدَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِذًا وَاللهِ تَجِدُنِي كَاسِدًا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَكِنْ عِنْدَ اللهِ لَسْتَ بِكَاسِدٍ أَوْ قَالَ لَكِنْ عِنْدَ اللهِ أَنْتَ غَالٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বিনয়
(২৭৫৫) আবূ মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে কথা বলতে গিয়ে কাঁপতে শুরু করল। তিনি তাকে সাহস দিয়ে বললেন, প্রকৃতিস্থ হও। আমি তো কোন বাদশা নই। আমি এমন মায়ের পুত, যে (মক্কার বাতহাতে) রোদে শুকানো মাংস খেতো।
عَنْ أَبِـيْ مَسْعُوْدٍ قَالَ: أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَكَلَّمَهُ فَجَعَلَ تُرْعَدُ فَرَائِصُهُ فَقَالَ لَهُ هَوِّنْ عَلَيْكَ فَإِنِّي لَسْتُ بِمَلِكٍ إِنَّمَا أَنَا ابْنُ امْرَأَةٍ تَأْكُلُ الْقَدِيدَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বিনয়
(২৭৫৬) একদা এক সফরে একটি ছাগল পাকাবার কথা হল। এক সাহাবী বললেন, ’ওটা যবেহ করার দায়িত্ব আমার।’
অন্য একজন বললেন, ’ওর চামড়া ছাড়ানোর দায়িত্ব আমার।’
অন্য একজন বললেন, ’ওটা রান্না করার দায়িত্ব আমার।’
তাঁদের আমীর মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’জ্বালানি সংগ্রহ করার দায়িত্ব আমার।’
তাঁরা বললেন, ’আমরাই যথেষ্ট। (আপনার কষ্ট করার প্রয়োজন নেই।)’
তিনি বললেন, ’’আমি জানি, তোমরাই যথেষ্ট। কিন্তু আমি অপছন্দ করি যে, তোমাদের মাঝে পৃথক বৈশিষ্ট্য রাখি। যেহেতু আল্লাহ তার বান্দার জন্য এটা অপছন্দ করেন যে, তিনি তাকে তার সঙ্গীদের মাঝে পৃথক বৈশিষ্ট্যবান দেখেন।’’
সুতরাং তিনি উঠে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে লাগলেন।
كَانَ فِـيْ بَعْضِ أَسْفَارِهِ فَأَمَرَ بِإِصْلَاحِ شَاةٍ فَقَالَ رَجُلٌ : عَلَىَّ ذَبْحُهَا، وَقَالَ آخَرُ : عَلَىَّ سَلْخُهَا، وَقَالَ آخَرُ عَلَىَّ طَبْخُهَا، فَقَالَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : (وَعَلَيَّ جَمعُ الْحَطَبَ) فَقَالُوْا : نَحْنُ نَكْفِيْكَ فَقَالَ : (قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكُمْ تَكْفُوْنِيْ وََلَكِنِّي أَكْرَهُ أَنْ أَتَمَيَّزَ عَلَيْكُمْ، فَإِنَّ اللهَ يَكْرَهُ مِنْ عَبْدِهِ أَنْ يَرَاهُ مُتَمَيِّزًا بَيْنَ أَصْحَابِهِ) وَقَامَ وَجَمَعَ الْحَطَبَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বিনয়
(২৭৫৭) উম্মে ক্বাইস বিনতে মিহস্বান নিজ দুধের বাচ্চাকে নিয়ে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এলেন। সে তখন মায়ের দুধ ছাড়া অন্য খাবার খেতে শেখেনি। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজের কোলে বসালেন। পরক্ষনেই সে তাঁর কোলে পেশাব করে দিল। তিনি পানি আনিয়ে তার উপর ছিটিয়ে দিলেন এবং কাপড় ধুলেন না।
عَنْ أُمِّ قَيْسٍ بِنْتِ مِحْصَنٍ أَنَّهَا أَتَتْ بِابْنٍ لَهَا صَغِيرٍ لَمْ يَأْكُلْ الطَّعَامَ إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَجْلَسَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِي حَجْرِهِ فَبَالَ عَلٰى ثَوْبِهِ فَدَعَا بِمَاءٍ فَنَضَحَهُ وَلَمْ يَغْسِلْهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বিনয়
(২৭৫৮) উম্মে খালেদ বিনতে খালেদ বলেন, একদা আববার সাথে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম। আমার গায়ে হলুদ জামা ছিল। তা দেখে তিনি আমাকে (হাবশী ভাষায়) বললেন, ’সানাহ-সানাহ’ (সুন্দর-সুন্দর)। অতঃপর আমি তাঁর পিঠের ওপরে নবুঅতের মোহর নিয়ে খেলতে গেলাম। তা দেখে আমার আববা আমাকে ধমক দিলেন। কিন্তু তিনি বললেন, ’ছেড়ে দাও ওকে।
عَنْ أُمِّ خَالِدٍ بِنْتِ خَالِدِ بْنِ سَعِيدٍ قَالَتْ أَتَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ مَعَ أَبِـيْ وَعَلَيَّ قَمِيصٌ أَصْفَرُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَنَهْ سَنَهْ قَالَتْ فَذَهَبْتُ أَلْعَبُ بِخَاتَمِ النُّبُوَّةِ فَزَبَرَنِي أَبِـيْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دَعْهَا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৫৯) আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ইসলামের উপর কিছু চাওয়া হলে তিনি না দিয়ে পারতেন না। একদা এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এলে তাকে দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী (উপত্যকা) পরিমাণ ছাগলভেড়া দান করলেন। অতঃপর সে নিজ সম্প্রদায়ের কাছে ফিরে গিয়ে বলল, ’হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা মুসলিম হয়ে যাও। যেহেতু মুহাম্মাদ এমন দান করেন যে, অভাবকে ভয় করেন না।’
عَنْ أَنَسٍ قَالَ مَا سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلَى الإِسْلاَمِ شَيْئًا إِلاَّ أَعْطَاهُ قَالَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَأَعْطَاهُ غَنَمًا بَيْنَ جَبَلَيْنِ فَرَجَعَ إِلٰـى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ أَسْلِمُوا فَإِنَّ مُحَمَّدًا يُعْطِى عَطَاءً لاَ يَخْشَى الْفَاقَةَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৬০) হুনাইন যুদ্ধে জয়লাভ হলে সাফওয়ান বিন উমাইয়াকে তিনি প্রথমতঃ ১০০টি উট দান করলেন। তারপর আরো ১০০টি, তারপর আরো ১০০টি। সাফওয়ান বলেন, ’আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাকে যা দান করার দান করলেন, তখন তিনি আমার নিকট সবচেয়ে ঘৃণ্য ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তুযখন আমাকে দিতে থাকলেন, তখন তিনি আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি হয়ে গেলেন।
عَنِ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ غَزَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ غَزْوَةَ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ ثُمَّ خَرَجَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ فَاقْتَتَلُوا بِحُنَيْنٍ فَنَصَرَ اللهُ دِينَهُ وَالْمُسْلِمِينَ وَأَعْطَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمَئِذٍ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ مِائَةً مِنَ النَّعَمِ ثُمَّ مِائَةً ثُمَّ مِائَةً قَالَ ابْنُ شِهَابٍ حَدَّثَنِى سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ صَفْوَانَ قَالَ وَاللهِ لَقَدْ أَعْطَانِى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا أَعْطَانِى وَإِنَّهُ لأَبْغَضُ النَّاسِ إِلٰـى فَمَا بَرِحَ يُعْطِينِى حَتّٰـى إِنَّهُ لأَحَبُّ النَّاسِ إِلٰـى
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৬১) উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু মাল বন্টন করলেন। অতঃপর আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! অন্য লোকেরা এদের চেয়ে এ মালের বেশি হকদার ছিল।’ তিনি বললেন, এরা আমাকে দু’টি কথার মধ্যে একটা না একটা গ্রহণ করতে বাধ্য করছে। হয় তারা আমার নিকট অভদ্রতার সাথে চাইবে (আর আমাকে তা সহ্য ক’রে তাদেরকে দিতে হবে) অথবা তারা আমাকে কৃপণ আখ্যায়িত করবে। অথচ, আমি কৃপণ নই।
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: قَسَمَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَسْمًا فَقُلْتُ وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَغَيْرُ هَؤُلاَءِ كَانَ أَحَقَّ بِهِ مِنْهُمْ قَالَ إِنَّهُمْ خَيَّرُونِى أَنْ يَسْأَلُونِى بِالْفُحْشِ أَوْ يُبَخِّلُونِى فَلَسْتُ بِبَاخِلٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৬২) জুবাইর ইবনে মুত্বইম (রাঃ) বলেন, তিনি হুনাইনের যুদ্ধ থেকে ফিরার সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে আসছিলেন। (পথিমধ্যে) কতিপয় বেদুঈন তাঁর নিকট অনুনয়-বিনয় ক’রে চাইতে আরম্ভ করল, এমন কি শেষ পর্যন্ত তারা তাঁকে বাধ্য ক’রে একটি বাবলা গাছের কাছে নিয়ে গেল। যার ফলে তাঁর চাদর (গাছের কাঁটায়) আটকে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেমে গেলেন এবং বললেন, তোমরা আমাকে আমার চাদরখানি দাও। যদি আমার নিকট এসব (অসংখ্য) কাঁটা গাছের সমান উঁট থাকত, তাহলে আমি তা তোমাদের মধ্যে বন্টন ক’রে দিতাম। অতঃপর তোমরা আমাকে কৃপণ, মিথ্যুক বা কাপুরুষ পেতে না।
عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّهُ بَيْنَا هُوَ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَمَعَهُ النَّاسُ مُقْبِلًا مِنْ حُنَيْنٍ عَلِقَتْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ الْأَعْرَابُ يَسْأَلُونَهُ حَتّٰـى اضْطَرُّوهُ إِلٰـى سَمُرَةٍ فَخَطِفَتْ رِدَاءَهُ فَوَقَفَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَعْطُونِي رِدَائِي فَلَوْ كَانَ عَدَدُ هَذِهِ الْعِضَاهِ نَعَمًا لَقَسَمْتُهُ بَيْنَكُمْ ثُمَّ لَا تَجِدُونِي بَخِيلًا وَلَا كَذُوبًا وَلَا جَبَانًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৬৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি আমার নিকট উহুদ পাহাড় সমান সোনা থাকত, তাহলে আমি এতে আনন্দিত হতাম যে, ঋণ পরিশোধের জন্য পরিমাণ মত বাকী রেখে অবশিষ্ট সবটাই তিন দিন অতিবাহিত না হতেই আল্লাহর পথে খরচ করে ফেলি।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَا يَسُرُّنِى أَنَّ لِـىْ أُحُدًا ذَهَبًا تَأْتِى عَلَىَّ ثَالِثَةٌ وَعِنْدِى مِنْهُ دِينَارٌ إِلاَّ دِينَارٌ أُرْصِدُهُ لِدَيْنٍ عَلَىَّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দানশীলতা
(২৭৬৪) উক্ববাহ ইবনে হারেস (রাঃ) বলেন যে, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে মদীনায় আসরের নামায পড়লাম। অতঃপর সালাম ফিরে তিনি অতি শীঘ্র দাঁড়িয়ে পড়লেন। তারপর লোকদের গর্দান টপকে তাঁর কোন এক স্ত্রীর কামরায় চলে গেলেন। লোকেরা তাঁর শীঘ্রতা দেখে ঘাবড়ে গেল। অতঃপর তিনি বের হয়ে এলেন; দেখলেন লোকেরা তাঁর শীঘ্রতার কারণে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। তিনি বললেন, ’’(নামাযে) আমার মনে পড়ল যে, (বাড়ীতে সোনা অথবা চাঁদির) একটি টুকরা রয়ে গেছে। আমি চাইলাম না যে, তা আমাকে আল্লাহর স্মরণে বাধা দেবে। যার জন্য আমি (দ্রুত বাড়ীতে গিয়ে) তা বন্টন করার আদেশ দিলাম।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আমি বাড়ীতে সাদকার একটি স্বর্ণখণ্ড ছেড়ে এসেছিলাম। অতঃপর আমি তা রাতে নিজ গৃহে রাখা পছন্দ করলাম না। সুতরাং তা বিতরণ করে দিলাম।
عَنْ عُقْبَةَ بْنِ الْحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ الْعَصْرَ فَلَمَّا سَلَّمَ قَامَ سَرِيعًا دَخَلَ عَلَى بَعْضِ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ وَرَأَى مَا فِي وُجُوهِ الْقَوْمِ مِنْ تَعَجُّبِهِمْ لِسُرْعَتِهِ فَقَالَ ذَكَرْتُ وَأَنَا فِي الصَّلَاةِ تِبْرًا عِنْدَنَا فَكَرِهْتُ أَنْ يُمْسِيَ أَوْ يَبِيتَ عِنْدَنَا فَأَمَرْتُ بِقِسْمَتِهِ
وفي رواية كُنْتُ خَلَّفْتُ فِي الْبَيْتِ تِبْرًا مِنْ الصَّدَقَةِ فَكَرِهْتُ أَنْ أُبَيِّتَهُ فَقَسَمْتُهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বীরত্ব
(২৭৬৫) আলী (রাঃ) বলেন, বদরের দিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিলাম। শত্রুর দিকে তিনিই ছিলেন আমাদের চাইতে বেশি নিকটবর্তী। সেদিন তিনিই ছিলেন বীর-বিক্রমশালীদের অন্যতম।
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُنَا يَوْمَ بَدْرٍ وَنَحْنُ نَلُوذُ بِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَهُوَ أَقْرَبُنَا إِلٰـى الْعَدُوِّ وَكَانَ مِنْ أَشَدِّ النَّاسِ يَوْمَئِذٍ بَأْسًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বীরত্ব
(২৭৬৬) আলী (রাঃ) আরো বলেছেন, ’যুদ্ধ যখন তীব্র হয়ে উঠত এবং উভয় পক্ষ লড়াইয়ে লিপ্ত হত, আমরা তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আড়ালে নিজেদেরকে বাঁচাবার চেষ্টা করতাম। ফলে তিনি ছাড়া আমাদের মধ্যে কেউ শত্রুর অধিক নিকটবর্তী থাকত না।
عَنْ عَلِيًّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كُنَّا إِذَا حَمِيَ الْبَأْسُ وَ لَقِيَ الْقَومُ الْقَوْمَ اِتَّقَيْنَا بِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ فَلَا يَكُوْنُ أَحَدٌ مِّنَّا أَدْنَى إِلَى الْقَوْمِ مِنْهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর বীরত্ব
(২৭৬৭) আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে হুনাইন যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। আমি ও আবূ সুফ্য়ান বিন হারেস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সাথে থাকতে লাগলাম। আমরা তাঁর নিকট থেকে পৃথক হলাম না। (সে সময়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সাদা খচ্চরের উপর সওয়ার ছিলেন। তারপর যখন মুসলিম ও মুশরিকদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হল এবং (প্রথমতঃ) মুসলিমরা পৃষ্ঠপ্রদর্শন ক’রে (রণভূমি ছেড়ে) চলে গেল, তখন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় খচ্চরকে কাফেরদের দিকে নিয়ে যাবার জন্য পায়ের আঘাত হানলেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খচ্চরের লাগাম ধরে ছিলাম। তাকে ধরে থামাচ্ছিলাম যাতে দ্রুত বেগে না চলে। অন্য দিকে আবূ সুফ্য়ান আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর (সওয়ারীর) পা-দান ধরে ছিল। সুতরাং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’হে আব্বাস! বাবলা গাছ তলে ’রিযওয়ান’ বায়আতকারীদেরকে ডাক দাও।’’ আব্বাস (রাঃ) উচ্চকণ্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি বলেন, সুতরাং আমি উচ্চ স্বরে হেঁকে বললাম, ’বাবলা গাছ তলে বায়আতকারীরা কোথায়?’ আল্লাহর কসম!
যখন তারা আমার কণ্ঠধ্বনি শুনতে পেল, তখন গাভী যেমন তার বাচ্চার শব্দ শুনে তার দিকে দ্রুত গতিতে ফিরে যায়, ঠিক তেমনি তারা দ্রুত গতিতে ফিরে এল। তারা বলে উঠল, ’আমরা হাজির আছি, আমরা হাজির আছি।’ তারপর আবার তাদের ও কাফেরদের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ চলতে থাকল। সে সময় আনসারদেরকে সাধারণভাবে ডাক দেওয়া হল, ’হে আনসারগণ! হে আনসারগণ!’ তারপর আহবান কেবল হারেস ইবনে খাযরাজ গোত্রের লোকেদের মাঝে সীমিত হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খচ্চরের উপর থেকেই রণক্ষেত্রের দিকে তাকালেন। তিনি যেন সামরিক সংঘর্ষের কলাকৌশল ও বীরত্বের দৃশ্য গর্দান বাড়িয়ে অবলোকন করছিলেন। তিনি বললেন, ’’যুদ্ধ তুঙ্গে উঠার ও সাংঘাতিক রূপ ধারণ করার এটাই সময়।’’ অতঃপর তিনি কিছু কাঁকর হাতে নিয়ে কাফেরদের মুখের দিকে নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন, ’’মুহাম্মাদের রবের শপথ! ওরা (কাফেররা) পরাজিত হয়ে গেছে।’’ আমিও দেখলাম যে, যুদ্ধ পূর্ণতা ও উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আল্লাহর কসম! যখনি তিনি ঐ কাঁকরগুলি কাফেরদের দিকে নিক্ষেপ করলেন, তখনি আমি নিষ্পলক নেত্রে দেখতে থাকলাম যে, তাদের শক্তি ক্রমশঃ কমে যাচ্ছে এবং তাদের ব্যাপারটা পৃষ্ঠ প্রদর্শন করার পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
عَنْ عَبَّاسً بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ قَالَ: شَهِدْتُ مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَلَزِمْتُ أَنَا وَأَبُو سُفْيَانَ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَلَمْ نُفَارِقْهُ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلٰى بَغْلَةٍ لَهُ بَيْضَاءَ أَهْدَاهَا لَهُ فَرْوَةُ بْنُ نُفَاثَةَ الْجُذَامِىُّ فَلَمَّا الْتَقَى الْمُسْلِمُونَ وَالْكُفَّارُ وَلَّى الْمُسْلِمُونَ مُدْبِرِينَ فَطَفِقَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَرْكُضُ بَغْلَتَهُ قِبَلَ الْكُفَّارِ قَالَ عَبَّاسٌ وَ أَنَا آخِذٌ بِلِجَامِ بَغْلَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَكُفُّهَا إِرَادَةَ أَنْ لاَ تُسْرِعَ وَأَبُو سُفْيَانَ آخِذٌ بِرِكَابِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَىْ عَبَّاسُ نَادِ أَصْحَابَ السَّمُرَةِ فَقَالَ عَبَّاسٌ وَكَانَ رَجُلاً صَيِّتًا فَقُلْتُ بِأَعْلَى صَوْتِى أَيْنَ أَصْحَابُ السَّمُرَةِ قَالَ فَوَاللهِ لَكَأَنَّ عَطْفَتَهُمْ حِينَ سَمِعُوا صَوْتِى عَطْفَةُ الْبَقَرِ عَلٰى أَوْلاَدِهَا فَقَالُوا يَا لَبَّيْكَ يَا لَبَّيْكَ - قَالَ - فَاقْتَتَلُوا وَالْكُفَّارَ وَالدَّعْوَةُ فِى الأَنْصَارِ يَقُوْلُونَ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ يَا مَعْشَرَ الأَنْصَارِ قَالَ ثُمَّ قُصِرَتِ الدَّعْوَةُ عَلَى بَنِى الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَقَالُوا يَا بَنِى الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ يَا بَنِى الْحَارِثِ بْنِ الْخَزْرَجِ فَنَظَرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَهُوَ عَلَى بَغْلَتِهِ كَالْمُتَطَاوِلِ عَلَيْهَا إِلٰـى قِتَالِهِمْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هٰذَا حِينَ حَمِىَ الْوَطِيسُ قَالَ ثُمَّ أَخَذَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ حَصَيَاتٍ فَرَمَى بِهِنَّ وُجُوهَ الْكُفَّارِ ثُمَّ قَالَ انْهَزَمُوا وَرَبِّ مُحَمَّدٍ قَالَ فَذَهَبْتُ أَنْظُرُ فَإِذَا الْقِتَالُ عَلٰى هَيْئَتِهِ فِيمَا أَرَى - قَالَ - فَوَاللهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَمَاهُمْ بِحَصَيَاتِهِ فَمَا زِلْتُ أَرَى حَدَّهُمْ كَلِيلاً وَأَمْرَهُمْ مُدْبِرًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৬৮) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমার ও তোমাদের উদাহরণ ঐ ব্যক্তির মতো, যে আগুন প্রজ্বলিত করল। অতঃপর তাতে উচ্চুঙ্গ ও পতঙ্গ পড়তে আরম্ভ করল, আর সে ব্যক্তি তা হতে তাদেরকে বাধা দিতে লাগল। আমিও তোমাদের কোমর ধরে তোমাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাচ্ছি, আর তোমরা আমার হাত থেকে ছুটে গিয়ে (জাহান্নামের আগুনে) পতিত হচ্ছ।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَثَلِى وَمَثَلُكُمْ كَمَثَلِ رَجُلٍ أَوْقَدَ نَارًا فَجَعَلَ الْجَنَادِبُ وَالْفَرَاشُ يَقَعْنَ فِيهَا وَهُوَ يَذُبُّهُنَّ عَنْهَا وَأَنَا آخِذٌ بِحُجَزِكُمْ عَنِ النَّارِ وَأَنْتُمْ تَفَلَّتُونَ مِنْ يَدِى
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৬৯) শাদ্দাদ বিন আওস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ প্রত্যেক বস্তুর উপর অনুগ্রহ লিপিবদ্ধ (জরুরী) করেছেন। সুতরাং যখন (জিহাদ বা হদ্দে) হত্যা কর, তখন উত্তমরূপে অনুগ্রহের সাথে হত্যা কর এবং যখন যবেহ কর, তখন উত্তমরূপে অনুগ্রহের সাথে যবেহ কর। তোমাদের উচিত, ছুরিকে ধারালো করা এবং বধ্য পশুকে আরাম দেওয়া।
عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ كَتَبَ الإِحْسَانَ عَلٰى كُلِّ شَىْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ فَلْيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭০) আনাস (রাঃ) বলেন, একজন ইহুদী কিশোর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করত। সে পীড়িত হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখা করতে এলেন এবং তার শিথানে বসে বললেন, ’’ইসলাম গ্রহণ কর (তুমি মুসলিম হয়ে যাও)।’’ তাঁর এই কথা শুনে সে তার পিতার দিকে (তার মত জানতে) দৃষ্টিপাত করল। তার পিতা তার নিকটেই বসে ছিল। সে বলল, ’আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কথা তুমি মেনে নাও। ফলে কিশোরটি মুসলিম হয়ে গেল। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই বলতে বলতে বের হয়ে গেলেন, সেই আল্লাহর সকল প্রশংসা, যিনি ওকে জাহান্নাম থেকে বাঁচিয়ে নিলেন।’’ তারপর কিশোরটি মারা গেলে তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বললেন, ’’তোমরা তোমাদের এক সাথীর উপর (জানাযার) নামায পড়।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ كَانَ غُلَامٌ يَهُودِيٌّ يَخْدُمُ النَّبِيَّ ﷺ فَمَرِضَ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُهُ فَقَعَدَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ لَهُ أَسْلِمْ فَنَظَرَ إِلٰـى أَبِيهِ وَهُوَ عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ أَطِعْ أَبَا الْقَاسِمِ ﷺ فَأَسْلَمَ فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَهُوَ يَقُوْلُ الْحَمْدُ لِلهِ الَّذِي أَنْقَذَهُ مِنْ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭১) আবূ কাতাদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি নামায পড়তে দাঁড়াই এবং আমার ইচ্ছা হয় তা দীর্ঘ করি। অতঃপর আমি শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনি। ফলে আমি তার মায়ের কষ্ট হওয়াটা অপছন্দ মনে ক’রে নামায সংক্ষিপ্ত করি।
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِنِّي لَأَقُومُ فِي الصَّلَاةِ أُرِيدُ أَنْ أُطَوِّلَ فِيهَا فَأَسْمَعُ بُكَاءَ الصَّبِيِّ فَأَتَجَوَّزُ فِي صَلَاتِي كَرَاهِيَةَ أَنْ أَشُقَّ عَلٰى أُمِّهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭২) আবূদ দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তুমি কি পছন্দ কর, তোমার হৃদয় নরম হোক এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ হোক? এতীমের প্রতি দয়া প্রদর্শন কর, তার মাথায় (সস্নেহে) হাত বুলাও, তাকে তোমার নিজের খাবার খাওয়াও, তাহলে তোমার হৃদয় নরম হবে এবং তোমার প্রয়োজন পূরণ হবে।
عَنْ أبي الدَّرْداءِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَتُحِبُّ أنْ يَلِينَ قَلْبُكَ وتُدْرِكَ حاجَتَكَ ارْحَمِ اليَتِيمَ وامْسَحْ رَأسَهُ وأطْعِمْهُ مِنْ طَعامِكَ يَلِنْ قَلْبُكَ وتُدْرِكْ حَاجَتَكَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৩) উম্মে বুজাইদ (রাঃ) বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল, স্বাল্লাল্লাহু আলাইক! অনেক সময় মিসকীন আমার দরজায় দাঁড়ায়, কিন্তু আমি তাকে দেওয়ার মতো কোন জিনিস পাই না।’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যদি একটি পোড়া খুর ছাড়া দেওয়ার মত আর কিছু না পাও, তাহলে তার হাতে তাই দিয়েই বিদায় দাও।
عَنْ أُمِّ بُجَيْدٍ قَالَتْ: يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْكَ إِنَّ الْمِسْكِينَ لَيَقُومُ عَلٰى بَابِى فَمَا أَجِدُ لَهُ شَيْئًا أُعْطِيهِ إِيَّاهُ فَقَالَ لَهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنْ لَمْ تَجِدِى لَهُ شَيْئًا تُعْطِينَهُ إِيَّاهُ إِلاَّ ظِلْفًا مُحْرَقًا فَادْفَعِيهِ إِلَيْهِ فِى يَدِهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৪) মালিক বিন হুওয়াইরিস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা প্রায় সমবয়স্ক কতিপয় নব যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বিশ দিন অবস্থান করলাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহপরবশ ছিলেন। তাই তিনি ধারণা করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাবার জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছি। সেহেতু তিনি আমাদেরকে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আমাদের পরিবারে কাকে ছেড়ে এসেছি? সুতরাং আমরা তাঁকে জানালাম। আর তিনি ছিলেন বিনম্র দয়াশীল। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের মাঝেই বসবাস কর। তাদেরকে শিক্ষা দান কর এবং তাদেরকে (ভাল কাজের) আদেশ দাও। অমুক নামায অমুক সময়ে পড়। অমুক নামায অমুক সময়ে পড়। সুতরাং যখন নামাযের সময় হবে, তখন তোমাদের মধ্যে কেউ একজন আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।
عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ قَالَ أَتَيْنَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَنَحْنُ شَبَبَةٌ مُتَقَارِبُونَ فَأَقَمْنَا عِنْدَهُ عِشْرِينَ لَيْلَةً وَكَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ رَحِيمًا رَقِيقًا فَظَنَّ أَنَّا قَدِ اشْتَقْنَا أَهْلَنَا فَسَأَلَنَا عَنْ مَنْ تَرَكْنَا مِنْ أَهْلِنَا فَأَخْبَرْنَاهُ فَقَالَ ارْجِعُوا إِلٰـى أَهْلِيكُمْ فَأَقِيمُوا فِيهِمْ وَعَلِّمُوهُمْ وَمُرُوهُمْ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ ثُمَّ لْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের সওয়ারীর পিঠকে (বক্তৃতার) মেম্বর বানিয়ে নেওয়া থেকে বিরত হও। যেহেতু আল্লাহ তা কেবল তোমাদেরকে দূর দেশে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তোমাদের অধীনস্থ করে দিয়েছেন; যেথায় প্রাণান্তকর কষ্ট ব্যতীত তোমরা পৌঁছতে পারতে না। তিনি তোমাদের জন্য মাটি সৃষ্টি করেছেন, তার উপর দাঁড়িয়ে প্রয়োজন সারো।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِيَّاكُمْ أَنْ تَتَّخِذُوا ظُهُورَ دَوَابِّكُمْ مَنَابِرَ فَإِنَّ اللهَ إِنَّمَا سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُبَلِّغَكُمْ إِلٰـى بَلَدٍ لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إِلاَّ بِشِقِّ الأَنْفُسِ وَجَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فَعَلَيْهَا فَاقْضُوا حَاجَتَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৬) মুআয বিন আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এই পশুগুলি আরোহণ কর (কষ্ট) থেকে নিরাপদ রাখা অবস্থায় এবং (নেমে) বর্জন কর নিরাপদ করে। আর তাদেরকে চেয়ার বানিয়ে নিয়ো না।
عَنْ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ ارْكَبُوا هَذِهِ الدَّوَابَّ سَالِمَةً وَابْتَدِعُوهَا سَالِمَةً وَلَا تَتَّخِذُوهَا كَرَاسِيّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তির খাদেম (দাস-দাসী) তার নিকট খাবার নিয়ে আসে, তখন যদি তাকে নিজ সঙ্গে (খেতে) না বসায়, তাহলে সে যেন তাকে (কমপক্ষে তার হাতে) এক খাবল বা দু’ খাবল অথবা এক গ্রাস বা দু’ গ্রাস (ঐ খাবার থেকে) তুলে দেয়। কেননা, সে (খাদেম) তা পাক (করার যাবতীয় কষ্ট বরণ) করেছে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا أَتَى أَحَدَكُمْ خَادِمُهُ بِطَعَامِهِ فَإِنْ لَمْ يُجْلِسْهُ مَعَهُ فَلْيُنَاوِلْهُ أُكْلَةً أَوْ أُكْلَتَيْنِ أَوْ لُقْمَةً أَوْ لُقْمَتَيْنِ فَإِنَّهُ وَلِيَ حَرَّهُ وَعِلَاجَهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৮) আবূ যার (রাঃ) বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে (দাস-দাসীদের ব্যাপারে) বলেছেন, ওরা তোমাদের ভাই স্বরূপ এবং তোমাদের সেবক। আল্লাহ ওদেরকে তোমাদের মালিকানাধীন করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তির ভাইকে আল্লাহ তার মালিকানাধীন করেছেন, সে ব্যক্তি যেন তাকে (দাসকে) তাই খাওয়ায়; যা সে নিজে খায় এবং তাই পরায় যা সে নিজে পরে। আর তোমরা ওদেরকে এমন কাজের ভার দিয়ো না, যা করতে ওরা সক্ষম নয়। পরন্তু যদি তোমরা এমন দুঃসাধ্য কাজের ভার দিয়েই ফেল, তাহলে তোমরা ওদের সহযোগিতা কর।
عَنْ أَبِيْ ذَرٍّ قَالَ: قَالَ لَهُ النَّبِىُّ ﷺ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ إِخْوَانُكُمْ وَخَوَلُكُمْ جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدَيْهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৭৯) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর অভিশাপ তার উপর, যে কোন অন্ধকে পথচ্যুত করে।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ قَالَ وَلَعَنَ اللهُ مَنْ كَمَهَ الْأَعْمَى عَنْ السَّبِيلِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৮০) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’বৃদ্ধ মুসলিম, কুরআনে অতিরঞ্জনকারী ও অবহেলাকারী নয় এমন হাফেয এবং ন্যায়পরায়ণ বাদশাকে সম্মান প্রদর্শন করলে এক প্রকার আল্লাহকেই সম্মান প্রদর্শন করা হয়।’’ (আবূ দাঊদ ৪৮৪৫, আল-আদাবুল মুফরাদ ৩৫৭, বাইহাক্বী ২৫৭৩)
عَنْ أَبِى مُوسَى الأَشْعَرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ إِجْلاَلِ اللهِ إِكْرَامَ ذِى الشَّيْبَةِ الْمُسْلِمِ وَحَامِلِ الْقُرْآنِ غَيْرِ الْغَالِى فِيهِ وَالْجَافِى عَنْهُ وَإِكْرَامَ ذِى السُّلْطَانِ الْمُقْسِطِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৮১) আবূ উমামা (রাঃ) বলেন, একদা এক যুবক আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, ’হে আল্লাহ রসূল! আপনি আমাকে ব্যভিচার করার অনুমতি দিন!’
এ কথা শুনে লোকেরা তাকে ধমক দিয়ে বলল, ’থামো, থামো! (এ কী বলছ তুমি?)’
কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’’আমার কাছে এসো।’’
সে তাঁর কাছে এসে বসলে তিনি তাঁকে বললেন, ’’তুমি কি নিজ মায়ের জন্য তা পছন্দ কর?’’
সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে লোকেরাও তো তাদের মায়েদের জন্য তা পছন্দ করে না।’’
অতঃপর তিনি বললেন, ’’তাহলে তুমি কি তোমার মেয়ের জন্য তা পছন্দ কর?’’
সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে লোকেরাও তো তাদের মেয়েদের জন্য তা পছন্দ করে না।’’
অতঃপর তিনি বললেন, ’’তাহলে তুমি কি তোমার বোনের জন্য তা পছন্দ কর?’’
সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে লোকেরাও তো তাদের বোনেদের জন্য তা পছন্দ করে না।’’
অতঃপর তিনি বললেন, ’’তাহলে তুমি কি তোমার ফুফুর জন্য তা পছন্দ কর?’’
সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে লোকেরাও তো তাদের ফুফুদের জন্য তা পছন্দ করে না।’’
অতঃপর তিনি বললেন, ’’তাহলে তুমি কি তোমার খালার জন্য তা পছন্দ কর?’’
সে বলল, ’না, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে আপনার জন্য কুরবান করুন।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে লোকেরাও তো তাদের খালাদের জন্য তা পছন্দ করে না।’’
অতঃপর তিনি তার বুকে হাত রাখলেন এবং তার জন্য দু’আ ক’রে বললেন, হে আল্লাহ! তুমি ওর গোনাহ মাফ করে দাও, ওর হৃদয়কে পবিত্র করে দাও এবং ওকে ব্যভিচার থেকে রক্ষা কর।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর সেই যুবক আর ব্যভিচারের দিকে ভ্রূক্ষেপও করেনি।
عَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ قَالَ إِنَّ فَتًى شَابًّا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ائْذَنْ لِي بِالزِّنَا فَأَقْبَلَ الْقَوْمُ عَلَيْهِ فَزَجَرُوهُ قَالُوا مَهْ مَهْ فَقَالَ ادْنُهْ فَدَنَا مِنْهُ قَرِيبًا قَالَ فَجَلَسَ قَالَ أَتُحِبُّهُ لِأُمِّكَ قَالَ لَا وَاللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ قَالَ وَلَا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِأُمَّهَاتِهِمْ قَالَ أَفَتُحِبُّهُ لِابْنَتِكَ قَالَ لَا وَاللهِ يَا رَسُوْلَ اللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ قَالَ وَلَا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِبَنَاتِهِمْ قَالَ أَفَتُحِبُّهُ لِأُخْتِكَ قَالَ لَا وَاللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ قَالَ وَلَا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِأَخَوَاتِهِمْ قَالَ أَفَتُحِبُّهُ لِعَمَّتِكَ قَالَ لَا وَاللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ قَالَ وَلَا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِعَمَّاتِهِمْ قَالَ أَفَتُحِبُّهُ لِخَالَتِكَ قَالَ لَا وَاللهِ جَعَلَنِي اللهُ فِدَاءَكَ قَالَ وَلَا النَّاسُ يُحِبُّونَهُ لِخَالَاتِهِمْ قَالَ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ وَقَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ وَحَصِّنْ فَرْجَهُ فَلَمْ يَكُنْ بَعْدُ ذٰلِكَ الْفَتَى يَلْتَفِتُ إِلٰـى شَيْءٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মহানুভবতা ও স্নেহশীলতা
(২৭৮২) সালামাহ বিন স্বাখর বায়াযবী বলেন, আমি এমন পুরুষ ছিলাম, যে স্ত্রী-সহবাস বেশি করে। আমার মনে হয় না যে, আমি যতটা পারতাম ততটা অন্য কেউ পারত। সুতরাং রমযান প্রবেশ করলে আমি স্ত্রীর সাথে ’যিহার’ করলাম, যাতে রমযান পার হয়ে যায় (এবং দিনে সহবাসে লিপ্ত না হয়ে পড়ি)। একদা রাত্রে সে আমার সাথে কথা বলছিল, এমন সময় তার দেহের এমন কিছু অংশ আমার জন্য খুলে গেল, যার ফলে আমি তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লাম এবং সঙ্গম করে ফেললাম। অতঃপর সকাল হলে আমি আমার গোত্রের লোকেদেরকে আমার খবর বললাম। আমি তাদেরকে বললাম, ’আমার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (ফতোয়া) জিজ্ঞাসা কর।’
তারা বলল, ’আমরা তা পারব না। কারণ আল্লাহ আযযা অজাল্ল কুরআন অবতীর্ণ করবেন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পক্ষ থেকে কোন উক্তি করা হবে, অতঃপর তার লজ্জা আমাদের ঘাড়ে থেকে যাবে। বরং আমরা তোমার অপরাধ তোমাকেই সোপর্দ করছি। তুমিই গিয়ে তোমার নিজের ব্যাপার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ কর।’
সুতরাং আমি বের হলাম এবং তাঁর কাছে এসে আমার খবর খুলে বললাম।
তিনি বললেন, ’’তুমিই এ কাজ করেছ?’’
আমি বললাম, ’জী, আমিই এ কাজ করে ফেলেছি। আর এই যে আমিই আল্লাহর ফায়সালা মেনে নিতে ধৈর্যধারণ করব হে আল্লাহর রসূল!’
তিনি বললেন, ’’তাহলে একটি গর্দান (ক্রীতদাস) স্বাধীন কর।’’
আমি বললাম, ’সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য-সহ প্রেরণ করেছেন! এই সকালে আমি আমার নিজের এই গর্দান ছাড়া অন্য কিছুর মালিক নই।’
তিনি বললেন, ’’তাহলে একটানা দুই মাস রোযা রাখো।’’
আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমার উপর যে মসীবত এল, তা কি রোযা ছাড়া অন্য কিছুর কারণে এল?’
তিনি বললেন, ’’তাহলে ষাটজন মিসকীনকে সাদকা কর অথবা অন্নদান কর।’’
আমি বললাম, ’সেই সত্তার শপথ, যিনি আপনাকে সত্য-সহ প্রেরণ করেছেন! গত রাত্রে আমাদের রাতের খাবারও ছিল না!’
তিনি বললেন, ’’তাহলে বানী যুরাইকের সাদকা-ওয়ালার কাছে যাও এবং তাকে বল, তোমাকে সাদকা দেবে। অতঃপর তুমি তা থেকে ষাটজন মিসকীন খাইয়ে দাও এবং অবশিষ্টাংশ দ্বারা তুমি উপকৃত হও।’’
সুতরাং আমি আমার গোত্রের লোকেদের কাছে ফিরে এলাম এবং বললাম, ’তোমাদের কাছে সংকীর্ণতা ও খারাপ রায় পেলাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পেলাম প্রশস্ততা ও ভালো রায়। তিনি তোমাদেরকে আমার জন্য সাদকা দিতে আদেশ করেছেন। সুতরাং আমাকে তা দাও।’
عَنْ سَلَمَةَ بْنِ صَخْرٍ الْبَيَاضِىِّ قَالَ كُنْتُ امْرَأً أُصِيبُ مِنَ النِّسَاءِ مَا لاَ يُصِيبُ غَيْرِى فَلَمَّا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ خِفْتُ أَنْ أُصِيبَ مِنَ امْرَأَتِى شَيْئًا يُتَابَعُ بِى حَتّٰـى أُصْبِحَ فَظَاهَرْتُ مِنْهَا حَتّٰـى يَنْسَلِخَ شَهْرُ رَمَضَانَ فَبَيْنَمَا هِىَ تَخْدُمُنِى ذَاتَ لَيْلَةٍ إِذْ تَكَشَّفَ لِـىْ مِنْهَا شَىْءٌ فَلَمْ أَلْبَثْ أَنْ نَزَوْتُ عَلَيْهَا فَلَمَّا أَصْبَحْتُ خَرَجْتُ إِلٰـى قَوْمِى فَأَخْبَرْتُهُمُ الْخَبَرَ وَقُلْتُ امْشُوا مَعِى إِلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالُوا لاَ وَاللهِ فَانْطَلَقْتُ إِلٰـى النَّبِىِّ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ أَنْتَ بِذَاكَ يَا سَلَمَةُ قُلْتُ أَنَا بِذَاكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ مَرَّتَيْنِ وَأَنَا صَابِرٌ لأَمْرِ اللهِ فَاحْكُمْ فِىَّ مَا أَرَاكَ اللهُ قَالَ حَرِّرْ رَقَبَةً قُلْتُ وَالَّذِى بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَمْلِكُ رَقَبَةً غَيْرَهَا وَضَرَبْتُ صَفْحَةَ رَقَبَتِى قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ وَهَلْ أُصِبْتُ الَّذِى أُصِبْتُ إِلاَّ مِنَ الصِّيَامِ قَالَ فَأَطْعِمْ وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ بَيْنَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قُلْتُ وَالَّذِى بَعَثَكَ بِالْحَقِّ لَقَدْ بِتْنَا وَحْشَيْنِ مَا لَنَا طَعَامٌ قَالَ فَانْطَلِقْ إِلٰـى صَاحِبِ صَدَقَةِ بَنِى زُرَيْقٍ فَلْيَدْفَعْهَا إِلَيْكَ فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا وَسْقًا مِنْ تَمْرٍ وَكُلْ أَنْتَ وَعِيَالُكَ بَقِيَّتَهَا فَرَجَعْتُ إِلٰـى قَوْمِى فَقُلْتُ وَجَدْتُ عِنْدَكُمُ الضِّيقَ وَسُوءَ الرَّأْىِ وَوَجَدْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ السَّعَةَ وَحُسْنَ الرَّأْىِ وَقَدْ أَمَرَنِى - أَوْ أَمَرَ لِـىْ – بِصَدَقَتِكُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ন্যায়পরায়ণতা
(২৭৮৩) ইবনে আবূ হাদরাদ আসলামীর কাছে এক ইয়াহুদীর চার দিরহাম পাওনা ছিল। সুতরাং সে তাঁর বিরুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট নালিশ জানিয়ে বলল, ’হে মুহাম্মাদ! এর কাছে আমার চার দিরহাম পাওনা আছে। তা আদায় করতে আমাকে হার মানিয়েছে।’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, ’’ওকে ওর পাওনা দিয়ে দাও।’’
তিনি বললেন, ’সেই সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য-সহ প্রেরণ করেছেন! আমি তা পরিশোধে অক্ষম।’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুনরায় তাকীদ দিয়ে বললেন, ’’ওকে ওর পাওনা দিয়ে দাও।’’
তিনি বললেন, ’সেই সত্তার কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে! আমি তা পরিশোধে অক্ষম। আমি ওকে বলেছি, আপনি আমাদেরকে খায়বার পাঠাবেন এবং আশা করি যে, আপনি কিছু যুদ্ধলব্ধ সম্পদ দেবেন। অতঃপর ফিরে এসে আমি তার পাওনা মিটিয়ে দেব।’
কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবারো জোর দিয়ে বললেন, ’’ওকে ওর পাওনা দিয়ে দাও।’’
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ব্যাপারে রীতি এমন ছিল যে, তিনি কোন আদেশ তিনবার করলে আর তাঁর সাথে কেউ কথা বলতে পারতেন না। সে আদেশ প্রত্যাহার করার আর কোন আশা থাকত না।
সুতরাং ইবনে আবূ হাদরাদ বাদীকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে বের হয়ে গেলেন। তাঁর মাথায় পাগড়ি ছিল এবং পরনে ছিল একটি চাদর। মাথার পাগড়িটা খুলে নিয়ে কোমরে জড়ালেন এবং চাদরটা খুলে নিয়ে বললেন, ’তুমি এটা আমার কাছ থেকে কিনে নাও।’
সুতরাং সেটাকে তার কাছে চার দিরহামে বিক্রি করে দিয়ে তার দেনা পরিশোধ করলেন।
সেখানে এ বৃদ্ধা তাঁর এ দশা দেখে বলল, ’হে রাসূলুল্লাহর সাথী! কী ব্যাপার আপনার?’
তিনি ঘটনা খুলে বললে, সে তাঁর গায়ে একটি চাদর ছুঁড়ে দিল।
عَنِ ابْنِ أَبِي حَدْرَدٍ الْأَسْلَمِيِّ أَنَّهُ كَانَ لِيَهُودِيٍّ عَلَيْهِ أَرْبَعَةُ دَرَاهِمَ فَاسْتَعْدَى عَلَيْهِ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ لِي عَلٰى هٰذَا أَرْبَعَةَ دَرَاهِمَ وَقَدْ غَلَبَنِي عَلَيْهَا فَقَالَ أَعْطِهِ حَقَّهُ قَالَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أَقْدِرُ عَلَيْهَا قَالَ أَعْطِهِ حَقَّهُ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَقْدِرُ عَلَيْهَا قَدْ أَخْبَرْتُهُ أَنَّكَ تَبْعَثُنَا إِلٰـى خَيْبَرَ فَأَرْجُو أَنْ تُغْنِمَنَا شَيْئًا فَأَرْجِعُ فَأَقْضِيهِ قَالَ أَعْطِهِ حَقَّهُ قَالَ وَكَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ إِذَا قَالَ ثَلَاثًا لَمْ يُرَاجَعْ فَخَرَجَ بِهِ ابْنُ أَبِـيْ حَدْرَدٍ إِلٰـى السُّوقِ وَعَلٰى رَأْسِهِ عِصَابَةٌ وَهُوَ مُتَّزِرٌ بِبُرْدٍ فَنَزَعَ الْعِمَامَةَ عَنْ رَأْسِهِ فَاتَّزَرَ بِهَا وَنَزَعَ الْبُرْدَةَ فَقَالَ اشْتَرِ مِنِّي هَذِهِ الْبُرْدَةَ فَبَاعَهَا مِنْهُ بِأَرْبَعَةِ الدَّرَاهِمِ فَمَرَّتْ عَجُوزٌ فَقَالَتْ مَا لَكَ يَا صَاحِبَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَأَخْبَرَهَا فَقَالَتْ هَا دُونَكَ هٰذَا بِبُرْدٍ عَلَيْهَا طَرَحَتْهُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ন্যায়পরায়ণতা
(২৭৮৪) আনাস (রাঃ) বলেন, একদা তিনি এক স্ত্রীর বাসায় ছিলেন। অন্য এক স্ত্রী দাসীর মাধ্যমে তাঁর কাছে এক পাত্র কোন খাবার পাঠালেন। যাঁর বাসায় তিনি ছিলেন, সেই স্ত্রী দাসীর হাতে আঘাত করলে পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাত্রের টুকরাগুলো জমা করে তার উপরে খাবারগুলো রাখতে লাগলেন এবং বললেন, (غَارَتْ أُمُّكُمْ) ’তোমাদের মা ঈর্ষান্তিতা হয়ে পড়েছে!’
অতঃপর দাসীকে যেতে দিলেন না, যতক্ষণ না তিনি যার বাসায় ছিলেন, তার বাসা থেকে একটি ভালো পাত্র আনা হল। অতঃপর তিনি ভালো পাত্রটি তাঁকে দিয়ে পাঠালেন, যাঁর পাত্র ভাঙ্গা হয়েছিল। আর ভাঙ্গা পাত্রটি তাঁর বাসায় রেখে নিলেন, যাঁর বাসায় তিনি ছিলেন।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ عِنْدَ بَعْضِ نِسَائِهِ فَأَرْسَلَتْ إِحْدَى أُمَّهَاتِ الْمُؤْمِنِينَ بِصَحْفَةٍ فِيهَا طَعَامٌ فَضَرَبَتْ الَّتِي النَّبِيُّ ﷺ فِي بَيْتِهَا يَدَ الْخَادِمِ فَسَقَطَتْ الصَّحْفَةُ فَانْفَلَقَتْ فَجَمَعَ النَّبِيُّ ﷺ فِلَقَ الصَّحْفَةِ ثُمَّ جَعَلَ يَجْمَعُ فِيهَا الطَّعَامَ الَّذِي كَانَ فِي الصَّحْفَةِ وَيَقُوْلُ غَارَتْ أُمُّكُمْ ثُمَّ حَبَسَ الْخَادِمَ حَتّٰـى أُتِيَ بِصَحْفَةٍ مِنْ عِنْدِ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا فَدَفَعَ الصَّحْفَةَ الصَّحِيحَةَ إِلٰـى الَّتِي كُسِرَتْ صَحْفَتُهَا وَأَمْسَكَ الْمَكْسُورَةَ فِي بَيْتِ الَّتِي كَسَرَتْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৮৫) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ’আপনার উপর কি উহুদের দিনের চেয়েও কঠিন দিন এসেছে?’ তিনি বললেন, ’আমি তোমার কওম থেকে বহু কষ্ট পেয়েছি এবং সবচেয়ে বেশি কষ্ট আক্বাবার দিন পেয়েছি, যেদিন আমি নিজেকে ইবনে আবদে ইয়ালীল ইবনে আব্দে কুলাল (ত্বায়েফের এক বড় সর্দার) এর উপর (ইসলামের দিকে আহবান করার জন্য) পেশ করেছিলাম। সে আমার দাওয়াত গ্রহণ করল না। সুতরাং আমি চিন্তিত হয়ে চলতে শুরু করলাম। তারপর ’ক্বারনুস সাআলিব’ (বর্তমানে সাইল কাবীর) নামক স্থানে পৌঁছলে সেখানে কিছু স্বস্তি অনুভব করলাম। আমি (আকাশের দিকে) মাথা উঠিয়ে দেখতে পেলাম যে, একটা মেঘখণ্ড আমার উপর ছায়া করে আছে। অতঃপর গভীর দৃষ্টিতে দেখলাম, তাতে জিবরীল (আঃ) রয়েছেন। তিনি আমাকে ডেকে বললেন, ’আপনার কউম আপনাকে যে কথা বলেছে এবং তারা আপনাকে যে জবাব দিয়েছে, তা সবই মহান আল্লাহ শুনেছেন।
অতঃপর তিনি আপনার নিকট পর্বতমালার ফিরিশতাকে পাঠিয়েছেন, যেন আপনি তাঁকে তাদের (ত্বায়েফবাসীদের) ব্যাপারে যা ইচ্ছা আদেশ দেন।’ অতঃপর পর্বতমালার ফিরিশতা আমাকে আওয়াজ দিলেন এবং আমাকে সালাম দিয়ে বললেন, ’হে মুহাম্মাদ! আপনার কওম আপনাকে যা বলেছে, তা (সবই) মহান আল্লাহ শুনেছেন। আমি হচ্ছি পর্বতমালার ফিরিশতা। আমার প্রভু আমাকে আপনার নিকট পাঠিয়েছেন, যেন আপনি আমাকে তাদের ব্যাপারে (কোন) নির্দেশ দেন। সুতরাং আপনি কী চান? আপনি চাইলে, আমি (মক্কার) বড় বড় পাহাড় দু’টিকে তাদের উপর চাপিয়ে দেব।’ (এ কথা শুনে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (এমন কাজ করবেন না) বরং আমি আশা করছি যে, মহান আল্লাহ তাদের পৃষ্ঠদেশ থেকে এমন লোকের আবির্ভাব ঘটাবেন, যারা এক আল্লাহর উপাসনা করবে এবং তাঁর সাথে কোন জিনিসকে শরীক করবে না।
عن عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَا رَسُوْلَ اللهِ هَلْ أَتَى عَلَيْكَ يَوْمٌ كَانَ أَشَدَّ مِنْ يَوْمِ أُحُدٍ فَقَالَ لَقَدْ لَقِيتُ مِنْ قَوْمِكِ وَكَانَ أَشَدَّ مَا لَقِيتُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْعَقَبَةِ إِذْ عَرَضْتُ نَفْسِى عَلَى ابْنِ عَبْدِ يَالِيلَ بْنِ عَبْدِ كُلاَلٍ فَلَمْ يُجِبْنِى إِلٰـى مَا أَرَدْتُ فَانْطَلَقْتُ وَأَنَا مَهْمُومٌ عَلٰى وَجْهِى فَلَمْ أَسْتَفِقْ إِلاَّ بِقَرْنِ الثَّعَالِبِ فَرَفَعْتُ رَأْسِى فَإِذَا أَنَا بِسَحَابَةٍ قَدْ أَظَلَّتْنِى فَنَظَرْتُ فَإِذَا فِيهَا جِبْرِيلُ فَنَادَانِى فَقَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَمَا رَدُّوا عَلَيْكَ وَقَدْ بَعَثَ إِلَيْكَ مَلَكَ الْجِبَالِ لِتَأْمُرَهُ بِمَا شِئْتَ فِيهِمْ قَالَ فَنَادَانِى مَلَكُ الْجِبَالِ وَسَلَّمَ عَلَىَّ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنَّ اللهَ قَدْ سَمِعَ قَوْلَ قَوْمِكَ لَكَ وَأَنَا مَلَكُ الْجِبَالِ وَقَدْ بَعَثَنِى رَبُّكَ إِلَيْكَ لِتَأْمُرَنِى بِأَمْرِكَ فَمَا شِئْتَ إِنْ شِئْتَ أَنْ أُطْبِقَ عَلَيْهِمُ الأَخْشَبَيْنِ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَلْ أَرْجُو أَنْ يُخْرِجَ اللهُ مِنْ أَصْلاَبِهِمْ مَنْ يَعْبُدُ اللهَ وَحْدَهُ لاَ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৮৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তুফাইল বিন আমর দাওসী ইসলামে দীক্ষেত হলেন। অতঃপর তিনি ফিরে গিয়ে নিজ গোত্রের লোককে ইসলামের দিকে আহবান করলেন। তাঁর আহবানে সাড়া দিয়ে তাঁর আববা ও স্ত্রী ইসলাম গ্রহণ করলেন। বাকী লোকেরা ঈমান আনতে অস্বীকার করল। তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! দাওস গোত্র অবাধ্য, তারা ইসলাম গ্রহণ করতে অস্বীকার করেছে। আপনি তাদের উপর বদ্দুআ করুন।’ এ কথার পর লোকেরা ভাবল যে, তিনি এবার তাদের উপর বদ্দুআ করবেন। কিন্তু তিনি দু’আ করে বললেন, ’হে আল্লাহ! তুমি দাওস গোত্রকে হেদায়াত কর এবং তাদেরকে (আমার নিকট) আনয়ন কর।’
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَدِمَ الطُّفَيْلُ وَأَصْحَابُهُ فَقَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّ دَوْسًا قَدْ كَفَرَتْ وَأَبَتْ فَادْعُ اللهَ عَلَيْهَا فَقِيلَ هَلَكَتْ دَوْسٌ فَقَالَ اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا وَائْتِ بِهِمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৮৭) আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) বলেন, হুনাইন যুদ্ধের গনিমতের মাল বন্টনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছু লোককে (তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য) প্রাধান্য দিলেন (অর্থাৎ, অন্য লোকের তুলনায় তাদেরকে বেশী মাল দিলেন)। সুতরাং তিনি আক্বরা’ বিন হাবেসকে একশত উট দিলেন এবং উয়াইনা বিন হিস্নকেও তারই মতো দিলেন। অনুরূপ আরবের আরো কিছু সম্ভান্ত মানুষকেও সেদিন (মাল) বন্টনে প্রাধান্য দিলেন। (এ দেখে) একটি লোক বলল, ’আল্লাহর কসম! এই বন্টনে ইনসাফ করা হয়নি এবং এতে আল্লাহর সন্তোষ লাভের ইচ্ছা রাখা হয়নি!’
আমি (ইবনে মাসউদ) বললাম, ’আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এই সংবাদ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৌঁছে দেব।’ অতএব আমি তাঁর কাছে এসে সেই সংবাদ দিলাম, যা সে বলল। ফলে তাঁর চেহারা পরিবর্তিত হয়ে এমনকি লালবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, ’যদি আল্লাহ ও তাঁর রসূল ইনসাফ না করেন, তাহলে আর কে ইনসাফ করবে? আল্লাহ মূসাকে রহম করুন, তাঁকে এর চেয়ে বেশী কষ্ট দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।’ অবশেষে আমি (মনে মনে) বললাম যে, ’আমি এর পরে কোন কথা তাঁর কাছে পৌঁছাব না।’
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ حُنَيْنٍ آثَرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَاسًا فِى الْقِسْمَةِ فَأَعْطَى الأَقْرَعَ بْنَ حَابِسٍ مِائَةً مِنَ الإِبِلِ وَأَعْطَى عُيَيْنَةَ مِثْلَ ذٰلِكَ وَأَعْطَى أُنَاسًا مِنْ أَشْرَافِ الْعَرَبِ وَآثَرَهُمْ يَوْمَئِذٍ فِى الْقِسْمَةِ فَقَالَ رَجُلٌ وَاللهِ إِنَّ هَذِهِ لَقِسْمَةٌ مَا عُدِلَ فِيهَا وَمَا أُرِيدَ فِيهَا وَجْهُ اللهِ قَالَ فَقُلْتُ وَاللهِ لأُخْبِرَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ - قَالَ - فَأَتَيْتُهُ فَأَخْبَرْتُهُ بِمَا قَالَ قَالَ فَتَغَيَّرَ وَجْهُهُ حَتّٰـى كَانَ كَالصِّرْفِ ثُمَّ قَالَ فَمَنْ يَعْدِلُ إِنْ لَمْ يَعْدِلِ اللهُ وَرَسُوْلُهُ قَالَ ثُمَّ قَالَ يَرْحَمُ اللهُ مُوسَى قَدْ أُوذِىَ بِأَكْثَرَ مِنْ هٰذَا فَصَبَرَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৮৮) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইন থেকে ফেরার পথে জিইর্রানাতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলালের কাপড় থেকে নিয়ে চাঁদি বিতরণ করছিলেন। এক ব্যক্তি বলে উঠল, ’হে মুহাম্মাদ! আপনি ন্যায়ভাবে বন্টন করুন। ঐ বন্টন ন্যায্য হচ্ছে না!’ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার এ কথা শুনে বললেন, ’দূর হতভাগা! আমি ন্যায্য বন্টন না করলে আর কে করবে? ইনসাফ না করলে আমি ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হব।’ উমার (রাঃ) বললেন, ’আমাকে অনুমতি দিন। আমি ঐ মুনাফিকের গর্দানটি উড়িয়ে দিই।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’ওর কিছু সহচর আছে, যারা কুরআন পড়ে। কিন্তু কুরআন তাদের কণ্ঠনালী পার হয় না। তারা ইসলাম থেকে ঐভাবে বের হয়ে যাবে, যেভাবে তীর শিকার ভেদ করে বের হয়ে যায়।’
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ أَتَى رَجُلٌ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ بِالْجِعْرَانَةِ مُنْصَرَفَهُ مِنْ حُنَيْنٍ وَفِى ثَوْبِ بِلاَلٍ فِضَّةٌ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقْبِضُ مِنْهَا يُعْطِى النَّاسَ فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ اعْدِلْ قَالَ وَيْلَكَ وَمَنْ يَعْدِلُ إِذَا لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ لَقَدْ خِبْتَ وَخَسِرْتَ إِنْ لَمْ أَكُنْ أَعْدِلُ فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رضى الله عنه دَعْنِى يَا رَسُوْلَ اللهِ فَأَقْتُلَ هٰذَا الْمُنَافِقَ فَقَالَ مَعَاذَ اللهِ أَنْ يَتَحَدَّثَ النَّاسُ أَنِّى أَقْتُلُ أَصْحَابِى إِنَّ هٰذَا وَأَصْحَابَهُ يَقْرَءُونَ الْقُرْآنَ لاَ يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُونَ مِنْهُ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنَ الرَّمِيَّةِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৮৯) আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাশে ছিলাম তখন তিনি মক্কা-মদীনার মাঝে জিইর্রানাতে অবস্থান করছিলেন। তাঁর সাথে ছিলেন বিলাল। ইতি মধ্যে এক বেদুঈন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বলল, ’হে মুহাম্মাদ! আপনি আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা কি পালন করবেন না?’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, ’’সুসংবাদ নাও।’’ বেদুঈন তাঁকে বলল, ’আপনি আমাকে সুসংবাদ বহুবার বলেছেন।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত অবস্থায় আবূ মূসা ও বিলালের দিকে ফিরে বললেন, ’’এ তো সুসংবাদ রদ্দ করে দিল, তোমরা তা গ্রহণ কর।’’
তাঁরা বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমরা তা গ্রহণ করলাম।’ অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পাত্রে পানি আনতে বললেন। অতঃপর তিনি তাতে নিজ দুই হাত ও চেহারা ধুলেন এবং কুলি ক’রে (কুলির পানি) তাতে দিলেন। তারপর বললেন, ’এ থেকে পান কর এবং তোমাদের চেহারা ও বুকে ঢেলে নাও এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর।’
তাঁরা পাত্রটি নিয়ে তাই করলেন, যা করতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদেরকে আদেশ করেছিলেন। পর্দার আড়াল থেকে উম্মে সালামাহ ডাক দিয়ে বললেন, ’তোমাদের পাত্রে যা আছে, তার কিছু তোমাদের আম্মার জন্য বাঁচিয়ে রাখ।’ সুতরাং তাঁরা তাঁর জন্য কিছু অবশিষ্ট রাখলেন।
عَنْ أَبِى مُوسَى قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِىِّ ﷺ وَهُوَ نَازِلٌ بِالْجِعْرَانَةِ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَمَعَهُ بِلاَلٌ فَأَتَى رَسُوْلَ اللهِ ﷺ رَجُلٌ أَعْرَابِىٌّ فَقَالَ أَلاَ تُنْجِزُ لِـىْ يَا مُحَمَّدُ مَا وَعَدْتَنِى فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَبْشِرْ فَقَالَ لَهُ الأَعْرَابِىُّ أَكْثَرْتَ عَلَىَّ مِنْ أَبْشِرْ فَأَقْبَلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلَى أَبِى مُوسَى وَبِلاَلٍ كَهَيْئَةِ الْغَضْبَانِ فَقَالَ إِنَّ هٰذَا قَدْ رَدَّ الْبُشْرَى فَاقْبَلاَ أَنْتُمَا فَقَالاَ قَبِلْنَا يَا رَسُوْلَ اللهِ ثُمَّ دَعَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ وَمَجَّ فِيهِ ثُمَّ قَالَ اشْرَبَا مِنْهُ وَأَفْرِغَا عَلَى وُجُوهِكُمَا وَنُحُورِكُمَا وَأَبْشِرَا فَأَخَذَا الْقَدَحَ فَفَعَلاَ مَا أَمَرَهُمَا بِهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَنَادَتْهُمَا أُمُّ سَلَمَةَ مِنْ وَرَاءِ السِّتْرِ أَفْضِلاَ لأُمِّكُمَا مِمَّا فِى إِنَائِكُمَا فَأَفْضَلاَ لَهَا مِنْهُ طَائِفَةً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির নিকট ঋণী ছিলেন। তার নিকট থেকে একটি উটের বাচ্চা ধার নিয়েছিলেন। লোকটি ঋণ আদায় করতে এসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে কর্কশ ভাষায় কটু কথা শোনাতে শুরু করে দিল। তা দেখে সাহাবাগণ তাকে (ধমক দিয়ে) বাধা দিতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হকদারের কথা বলার অধিকার আছে। তোমরা ওর ঋণ শোধ করে দাও। ওর জন্য একটি উট ক্রয় কর।
সুতরাং তার জন্য উট কিনতে যাওয়া হল। অথবা তাঁর নিকট যখন সদকার উট এল তখন তিনি ঐ লোকটির উটের বাচ্চা পরিশোধ করতে সাহাবাকে আদেশ করলেন। বলা হল, ’উটগুলোর মধ্যে সবগুলোই বড় বড় উট রয়েছে, উটের কোন বাচ্চা ওদের মধ্যে নেই।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ঐ বড় উটই দিয়ে দাও। কারণ, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি শ্রেষ্ঠ যে (ঋণ) পরিশোধের ব্যাপারে উত্তম।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ لِرَجُلٍ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ حَقٌّ فَأَغْلَظَ لَهُ فَهَمَّ بِهِ أَصْحَابُ النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِىُّ ﷺ إِنَّ لِصَاحِبِ الْحَقِّ مَقَالاً فَقَالَ لَهُمُ اشْتَرُوا لَهُ سِنًّا فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ فَقَالُوا إِنَّا لاَ نَجِدُ إِلاَّ سِنًّا هُوَ خَيْرٌ مِنْ سِنِّهِ قَالَ فَاشْتَرُوهُ فَأَعْطُوهُ إِيَّاهُ فَإِنَّ مِنْ خَيْرِكُمْ أَوْ خَيْرَكُمْ أَحْسَنُكُمْ قَضَاءً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯১) আনাস (রাঃ) বলেন, (একদা) আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে পথ চলছিলাম। সে সময় তাঁর উপর মোটা পেড়ে একখানি নাজরানী চাদর ছিল। অতঃপর পথে এক বেদুঈনের সঙ্গে দেখা হল। সে তাঁর চাদর ধরে খুব জোরে টান দিল। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাঁধের এক পাশে দেখলাম যে, খুব জোরে টানার কারণে চাদরের পাড়ের দাগ পড়ে গেছে। পুনরায় সে বলল, ’ওহে মুহাম্মাদ! তোমার নিকট আল্লাহর যে মাল আছে, তা থেকে আমাকে দেওয়ার আদেশ কর।’ তিনি তার দিকে মুখ ফিরিয়ে হাসলেন। অতঃপর তাকে (কিছু মাল) দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ كُنْتُ أَمْشِى مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَعَلَيْهِ رِدَاءٌ نَجْرَانِىٌّ غَلِيظُ الْحَاشِيَةِ فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِىٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً نَظَرْتُ إِلٰـى صَفْحَةِ عُنُقِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَقَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ الرِّدَاءِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِـىْ مِنْ مَالِ اللهِ الَّذِى عِنْدَكَ فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَضَحِكَ ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯২) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর করতল অপেক্ষা অধিকতর কোমল কোন রেশমবস্ত্র কখনো স্পর্শ করিনি এবং সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দেহের সুগন্ধি অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধ কখনো আঘ্রাণ করিনি। আমি দশ বছর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খিদমত করেছি, কিন্তু কখনো তিনি আমার উপর ’উঃ’ বলেননি। যা আমি স্বেচ্ছায় করেছি তার উপর তিনি আমাকে বলেননি যে, ’তা কেন করলে?’ আর যা করিনি তার জন্যও বলেননি যে, ’কেন করলে না?
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ مَا مَسِسْتُ حَرِيرًا وَلَا دِيبَاجًا أَلْيَنَ مِنْ كَفِّ النَّبِيِّ ﷺ وَلَا شَمِمْتُ رِيحًا قَطُّ أَوْ عَرْفًا قَطُّ أَطْيَبَ مِنْ رِيحِ أَوْ عَرْفِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ خَدَمْتُ النَّبِيَّ ﷺ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا قَالَ لِي أُفٍّ وَلَا لِمَ صَنَعْتَ وَلَا أَلَّا صَنَعْتَ؟
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯৩) আনাস (রাঃ) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর চরিত্রের মানুষ ছিলেন। একদা তিনি কোন প্রয়োজনে আমাকে পাঠালেন। আমি বললাম, ’আল্লাহর কসম! আমি যাব না।’ অথচ আমার মনে ছিল আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে কাজের আদেশ দিয়েছেন, তার জন্য আমি যাব। সুতরাং আমি বের হলাম। এক সময় কিছু শিশুদের পাশ দিয়ে পার হলাম। তারা বাজারে খেলা করছিল। (আমি সেখানে দাঁড়িয়ে খেলা দেখতে লাগলাম অথবা তাদের সাথে খেলতে লাগলাম।) ইতি মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার পিছন দিক থেকে এসে আমার ঘাড়ে ধরলেন। আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি হাসছেন। তিনি বললেন, হে উনাইস! আমি তোমাকে যেখানে যেতে আদেশ করেছিলাম, সেখানে গিয়েছিলে? আমি বললাম, ’এখন যাচ্ছি হে আল্লাহর রসূল!
عَنْ أَنَسٍ قاَلَ: كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا فَأَرْسَلَنِى يَوْمًا لِحَاجَةٍ فَقُلْتُ وَاللهِ لاَ أَذْهَبُ وَفِى نَفْسِى أَنْ أَذْهَبَ لِمَا أَمَرَنِى بِهِ نَبِىُّ اللهِ ﷺ فَخَرَجْتُ حَتّٰـى أَمُرَّ عَلَى صِبْيَانٍ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِى السُّوقِ فَإِذَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قَدْ قَبَضَ بِقَفَاىَ مِنْ وَرَائِى قَالَ فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَضْحَكُ فَقَالَ يَا أُنَيْسُ أَذَهَبْتَ حَيْثُ أَمَرْتُكَ قَالَ قُلْتُ نَعَمْ أَنَا أَذْهَبُ يَا رَسُوْلَ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯৪)আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞাসা করল, ’হে আল্লাহর রসূল! আমরা চাকরকে কতবার ক্ষমা করব?’ উত্তর না দিয়ে তিনি চুপ থাকলেন। সে আবার জিজ্ঞাসা করলে তিনি আবারও চুপ থাকলেন। তৃতীয়বারে তিনি বললেন, তোমরা তাকে প্রত্যহ ৭০ বার ক্ষমা কর।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قال: جَاءَ رَجُلٌ إِلٰـى النَّبِىِّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَمْ نَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ فَصَمَتَ ثُمَّ أَعَادَ عَلَيْهِ الْكَلاَمَ فَصَمَتَ فَلَمَّا كَانَ فِى الثَّالِثَةِ قَالَ اعْفُوا عَنْهُ فِى كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর ক্ষমাশীলতা
(২৭৯৫) সালমান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (হে আল্লাহ!) আমার উম্মতের যে ব্যক্তিকে রাগান্বিত হয়ে আমি কোন গালি দিয়েছি অথবা অভিশাপ করেছি, তুমি কিয়ামতে তার জন্য রহমত বা দু’আর রূপ দান করো। কারণ আমি একজন আদম-সন্তান, আমি রাগান্বিত হই, যেমন তারা রাগান্বিত হয়। (আর তুমি তো আমাকে বিশ্বজাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছ।)
عَنْ سَلْمَانَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَيُّمَا رَجُلٍ مِنْ أُمَّتِى سَبَبْتُهُ سَبَّةً أَوْ لَعَنْتُهُ لَعْنَةً فِى غَضَبِى - فَإِنَّمَا أَنَا مِنْ وَلَدِ آدَمَ أَغْضَبُ كَمَا يَغْضَبُونَ وَإِنَّمَا بَعَثَنِى رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ - فَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ صَلاَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর কথাবার্তা
(২৭৯৬) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাদের মতো এইভাবে হড়বড় ক’রে কথা বলতেন না। বরং তিনি স্পষ্টভাবে গোটা গোটা কথা বলতেন। তাঁর কাছে যে বসত, সেই তা স্মৃতিস্থ করতে পারত।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنْهَا قَالَتْ : مَا كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْرِدُ كَسَرْدِكُمْ هَذَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمَ بِكَلَامٍ بَيْنَ فَصْلٍ يَحْفِظُهُ مَنْ جَلَسَ إِلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর কথাবার্তা
(২৭৯৭) তিনি আরো বলেন, ’তিনি এমন ভঙ্গিমায় কথা বলতেন, যদি গণনাকারী চাইত, তাহলে তা গণনা করতে পারত।’
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا أَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ كَانَ يُحَدِّثُ حَدِيثًا لَوْ عَدَّهُ الْعَادُّ لَأَحْصَاهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর কথাবার্তা
(২৭৯৮) আনাস (রাঃ) বলেন, ’(গুরুত্বপূর্ণ) কথাকে তিনি তিন-তিনবার ফিরিয়ে ফিরিয়ে বলতেন। যাতে তা হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হয়।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعِيدُ الْكَلِمَةَ ثَلاَثًا لِتُعْقَلَ عَنْهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর কথাবার্তা
(২৭৯৯) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, যখন তিনি ভাষণ দিতেন, তখন তাঁর চোখ লাল হয়ে যেত, তাঁর কণ্ঠস্বর উঁচু হত এবং তাঁর ক্রোধ বেড়ে যেত; যেন তিনি লোকেদেরকে এমন এক (শত্রু) সেনা সম্পর্কে সতর্ক করছেন, যা আজই সন্ধ্যা অথবা সকালে তাদেরকে এসে আক্রমণ করবে।
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا خَطَبَ احْمَرَّتْ عَيْنَاهُ وَعَلاَ صَوْتُهُ وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ حَتّٰـى كَأَنَّهُ مُنْذِرُ جَيْشٍ يَقُوْلُ صَبَّحَكُمْ وَمَسَّاكُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর কথাবার্তা
(২৮০০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, বহুলার্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাক্যাবলী দিয়ে আমি প্রেরিত হয়েছি এবং আতঙ্ক দ্বারা আমি সাহায্যপ্রাপ্ত হয়েছি। একদা আমি নিদ্রাবস্থায় পৃথিবীর ধনভান্ডারের চাবিগুচ্ছ আমাকে প্রদান করা হয়, আমি তা আমার হাতে নিয়ে রাখি।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بُعِثْتُ بِجَوَامِعِ الْكَلِمِ وَنُصِرْتُ بِالرُّعْبِ وَبَيْنَا أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِمَفَاتِيحِ خَزَائِنِ الأَرْضِ فَوُضِعَتْ فِى يَدَىَّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০১) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর দ্বীনের প্রচারের কাজে আমাকে যেভাবে ভীত-সন্ত্রস্ত করা হয়েছে, অন্য কাউকে সেভাবে করা হয়নি। আমাকে যেভাবে কষ্ট দেওয়া হয়েছে, অন্য কাউকে সেভাবে দেওয়া হয়নি। ত্রিশ দিন ও রাত আমার উপর এমনও অতিবাহিত হয়ে গেছে যে, আমার ও বিলালের কাছে কোন প্রাণীর খাওয়ার মতো কিছুই ছিল না, কেবল সেই স্বল্প পরিমাণটুকু ছাড়া, যা বিলাল তাঁর বগলের নিচে লুকিয়ে আনত।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لَقَدْ أُخِفْتُ فِي اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَمَا يَخَافُ أَحَدٌ وَلَقَدْ أُوذِيتُ فِي اللهِ وَمَا يُؤْذَى أَحَدٌ وَلَقَدْ أَتَتْ عَلَيَّ ثَلَاثُونَ مِنْ بَيْنِ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ وَمَا لِي وَلَا لِبِلَالٍ طَعَامٌ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدٍ إِلَّا شَيْءٌ يُوَارِيهِ إِبِطُ بِلَالٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০২) নু’মান ইবনে বাশীর (রাঃ) বলেন, উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) (পূর্বেকার তুলনায় বর্তমানে) লোকেরা যে দুনিয়ার (ধন-সম্পদ) অধিক জমা ক’রে ফেলেছে, সে কথা উল্লেখ ক’রে বললেন, ’আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, তিনি সারা দিন ক্ষুধায় থাকার ফলে পেটের উপর ঝুঁকে থাকতেন (যেন ক্ষুধার জ্বালা কম অনুভব হয়)। তিনি পেট ভরার জন্য নিকৃষ্ট মানের খুরমাও পেতেন না।’
عَنِ النُّعْمَان قَالَ ذَكَرَ عُمَرُ مَا أَصَابَ النَّاسُ مِنَ الدُّنْيَا فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَظَلُّ الْيَوْمَ يَلْتَوِى مَا يَجِدُ دَقَلاً يَمْلأُ بِهِ بَطْنَهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৩) আয়েশা (রায়িবল্লাহু আনহা) বলেন, ’মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরিবার পর পর দু’দিন যবের রুটি পেট-পুরে খাননি। আর এই অবস্থায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ مَا شَبِعَ آلُ مُحَمَّدٍ ﷺ مِنْ خُبْزِ شَعِيرٍ يَوْمَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ حَتّٰـى قُبِضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৪) আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো (টেবিল জাতীয় উঁচু স্থানে)এর উপর খাবার রেখে আহার করেননি এবং তিনি মৃত্যু পর্যন্ত পাতলা (চাপাতি) রুটি খাননি। (৩৩১ দ্রঃ)
(অন্য এক বর্ণনায় আছে,) আমি জানি না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত্যুর আগে পর্যন্ত চাপাতি রুটি এবং ভুনা (গোটা) বকরী স্বচক্ষে দেখেছেন।’ (বুখারী ৬৪৫০, ৬৪৫৭)
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ لَمْ يَأْكُلْ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى خِوَانٍ حَتّٰـى مَاتَ وَمَا أَكَلَ خُبْزًا مُرَقَّقًا حَتّٰـى مَاتَ
وفي رواية: فَمَا أَعْلَمُ النَّبِيَّ ﷺ رَأَى رَغِيفًا مُرَقَّقًا حَتّٰـى لَحِقَ بِاللهِ وَلَا رَأَى شَاةً سَمِيطًا بِعَيْنِهِ قَطُّ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৫) সাহল ইবনে সা’দ (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (রসূলরূপে) পাঠিয়েছেন, তখন থেকে মৃত্যু পর্যন্ত (চালুনে চালা) ময়দা দেখেননি। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হল, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে কি আপনাদের আটা চালার চালুনি ছিল?’ তিনি বললেন, ’আল্লাহ তাআলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে (রসূলরূপে) পাঠানোর পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি আটা চালার চালুনি দেখেননি।’ তাঁকে বলা হল, ’তাহলে আপনারা আচালা যবের আটা কিভাবে খেতেন?’ তিনি বললেন, ’আমরা যব পিষে ফুঁক দিতাম, এতে যা উড়ার উড়ে যেত, আর যা অবশিষ্ট থাকত তা ভিজিয়ে খমীর বানাতাম।’
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قاَلَ: مَا رَأَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ النَّقِيَّ مِنْ حِينَ ابْتَعَثَهُ اللهُ حَتّٰـى قَبَضَهُ اللهُ قَالَ فَقُلْتُ هَلْ كَانَتْ لَكُمْ فِي عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مَنَاخِلُ قَالَ مَا رَأَى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُنْخُلًا مِنْ حِينَ ابْتَعَثَهُ اللهُ حَتّٰـى قَبَضَهُ اللهُ قَالَ قُلْتُ كَيْفَ كُنْتُمْ تَأْكُلُونَ الشَّعِيرَ غَيْرَ مَنْخُولٍ قَالَ كُنَّا نَطْحَنُهُ وَنَنْفُخُهُ فَيَطِيرُ مَا طَارَ وَمَا بَقِيَ ثَرَّيْنَاهُ فَأَكَلْنَاهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৬) আমর ইবনে হারেস (রাঃ) বলেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মৃত্যুকালে কোন সোনা-রূপা এবং কোন দাস-দাসী রেখে যাননি। তিনি কেবল তাঁর একটি সাদা রঙের খচ্চর রেখে গেছেন, যাতে তিনি সওয়ার হতেন। আর রেখে গেছেন তাঁর যুদ্ধাস্ত্র ও একখণ্ড জমি। পরন্তু উক্ত জমিটিও তিনি মুসাফিরদের জন্য সাদক্বা করে গেছেন।’
عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ قَالَ مَا تَرَكَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ دِينَارًا وَلَا دِرْهَمًا وَلَا عَبْدًا وَلَا أَمَةً إِلَّا بَغْلَتَهُ الْبَيْضَاءَ الَّتِي كَانَ يَرْكَبُهَا وَسِلَاحَهُ وَأَرْضًا جَعَلَهَا لِابْنِ السَّبِيلِ صَدَقَةً
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৭) আবূ বুরদাহ (রাঃ) বলেন, আয়েশা (রায়িবল্লাহু আনহা) আমাদের সামনে একটি তালিদেওয়া চাদর এবং একটি মোটা ইযার (লুঙ্গি) বের করলেন এবং বললেন, ’এই দু’টির মধ্যেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মৃত্যু হয়েছে।’
عَنْ أَبِـيْ بُرْدَةَ قَالَ أَخْرَجَتْ إِلَيْنَا عَائِشَةَ إِزَارًا غَلِيظًا مِمَّا يُصْنَعُ بِالْيَمَنِ وَكِسَاءً مِنْ هَذِهِ الَّتِي يَدْعُونَهَا الْمُلَبَّدَةَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৮) আনাস (রাঃ) বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যবের বিনিময়ে তাঁর লৌহবর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আর আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে যবের রুটি ও (নষ্ট হওয়া) দুর্গন্ধময় পুরানো চর্বি নিয়ে গেছি। আমি তাঁকে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে) বলতে শুনেছি যে, মুহাম্মাদের পরিবারের কাছে কোন সকাল বা সন্ধ্যায় এক সা’ (প্রায় আড়াই কেজি কোন খাদ্যবস্তু) থাকে না। (আনাস (রাঃ) বলেন,) তখন তাঁরা মোট নয় ঘর (পরিবার) ছিলেন।
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ وَلَقَدْ رَهَنَ النَّبِيُّ ﷺ دِرْعَهُ بِشَعِيرٍ وَمَشَيْتُ إِلَـى النَّبِيِّ ﷺ بِخُبْزِ شَعِيرٍ وَإِهَالَةٍ سَنِخَةٍ وَلَقَدْ سَمِعْتُهُ يَقُوْلُ مَا أَصْبَحَ لِآلِ مُحَمَّدٍ ﷺ إِلَّا صَاعٌ وَلَا أَمْسَى وَإِنَّهُمْ لَتِسْعَةُ أَبْيَاتٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮০৯) আয়েশা (রাঃ) আরো বলেছেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সময় আমার বাড়ীতে এমন কিছু ছিল না, যা কোন প্রাণী খেয়ে জীবন ধারণ করতে পারে। তবে আমার ঘরের তাকে সামান্য কিছু যব ছিল, যা থেকে আমি কিছু দিন খেয়েছি। অতঃপর যখন আমি তা মাপলাম, তখন শেষ হয়ে গেল।’
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَمَا فِي بَيْتِي مِنْ شَيْءٍ يَأْكُلُهُ ذُو كَبِدٍ إِلَّا شَطْرُ شَعِيرٍ فِي رَفٍّ لِي فَأَكَلْتُ مِنْهُ حَتّٰـى طَالَ عَلَيَّ فَكِلْتُهُ فَفَنِيَ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮১০) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাঁর লৌহবর্মখানি ত্রিশ সা’ (প্রায় ৭৫ কেজি) যবের বিনিময়ে এক ইয়াহুদীর নিকট বন্ধক ছিল।’
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَدِرْعُهُ مَرْهُونَةٌ عِنْدَ يَهُودِيٍّ بِثَلَاثِينَ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর অর্থনৈতিক জীবন
(২৮১১) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বসেছিলাম। (আববা) আবূ বকর তাঁর জন্য ছাগলের একটি ঠ্যাং হাদিয়া পাঠালেন। আমরা তা ঘরের অন্ধকারে কাটলাম।’ বর্ণনাকারী জিজ্ঞাসা করলেন, ’হে উম্মুল মু’মিনীন! আপনাদের কি বাতি ছিল না?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’বাতি জ্বালাবার তেল থাকলে আমরা তা ভক্ষণ করতাম।’
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ: أُهْدِيَ لَنَا ذَاتَ لَيْلَةٍ رِجْلُ شَاةٍ مِنْ بَيْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ: وَاللَّهِ إِنِّي لَأُمْسِكُهَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَجُزُّهَا أَوْ أَمْسَكَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَجُزُّهَا، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، عَلَى مِصْبَاحٍ ذَاكَ؟ قَالَتْ: «لَوْ كَانَ عِنْدَنَا دُهْنُ مِصْبَاحٍ لَأَكْلَنْاهُ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর তিরোধান
(২৮১২) আনাস (রাঃ) বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশী অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাকে কষ্ট ঘিরে ফেলল, তখন (তাঁর কন্যা) ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, ’হায়! আববাজানের কষ্ট!’ তিনি এ কথা শুনে বললেন, আজকের দিনের পর তোমার আববার কোন কষ্ট হবে না। অতঃপর যখন তিনি দেহত্যাগ করলেন, তখন ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বললেন, ’হায় আববাজান! প্রভু যখন তাঁকে আহবান করলেন, তখন তিনি তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন। হায় আববাজান! জান্নাতুল ফিরদাউস তাঁর বাসস্থান। হায় আব্বাজান! আমরা জিবরীলকে আপনার মৃত্যু-সংবাদ দেব।’ অতঃপর যখন তাঁকে সমাধিস্থ করা হল, তখন ফাতেমা (রাঃ) বললেন, ’হে আনাস! আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর মাটি ফেলতে কি তোমাদেরকে ভাল লাগল?’
عَنْ أَنَسٍ قَالَ لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ ﷺ جَعَلَ يَتَغَشَّاهُ فَقَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَام وَا كَرْبَ أَبَاهُ فَقَالَ لَهَا لَيْسَ عَلَى أَبِيْكِ كَرْبٌ بَعْدَ الْيَوْمِ فَلَمَّا مَاتَ قَالَتْ يَا أَبَتَاهُ أَجَابَ رَبًّا دَعَاهُ يَا أَبَتَاهْ مَنْ جَنَّةُ الْفِرْدَوْسِ مَأْوَاهْ يَا أَبَتَاهْ إِلٰـى جِبْرِيْلَ نَنْعَاهْ فَلَمَّا دُفِنَ قَالَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَام يَا أَنَسُ أَطَابَتْ أَنْفُسُكُمْ أَنْ تَـحْثُوا عَلٰـى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ التُّرَابَ؟
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর মু’জিযা
(২৮১৩) জাবের (রাঃ) বলেন, ’একটি খেজুর গাছের গুঁড়ি (খুঁটি) ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবাহ দানকালে দাঁড়িয়ে তাতে হেলান দিতেন। তারপর যখন (কাঠের) মিম্বর (তৈরী ক’রে) রাখা হল, তখন আমরা দশ মাসের গাভিন উটনীর শব্দের ন্যায় গুঁড়িটির (কান্নার) শব্দ শুনতে পেলাম। পরিশেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বর হতে) নেমে নিজ হাত তার উপর রাখলে সে শান্ত হল।’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’যখন জুমআর দিন এল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরের উপর বসলেন, তখন খেজুরের যে গুঁড়ির পাশে তিনি খুতবা দিতেন, তা এমন চিল্লিয়ে কেঁদে উঠল যে, তা ফেটে যাবার উপক্রম হয়ে পড়ল! সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিম্বর থেকে) নেমে তাকে ধরে নিজ বুকে জড়ালেন। তখন সে সেই শিশুর মত কাঁদতে লাগল, যে শিশুকে (আদর ক’রে) চুপ করানো হয়, (তাকে চুপ করানো হল এবং) পরিশেষে সে প্রকৃতিস্থ হল।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, এর কান্নার কারণ হচ্ছে এই যে, এ (কাছে থেকে) খুতবা শুনত (যা থেকে সে এখন বঞ্চিত হয়ে পড়েছে)।
عن جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ كَانَ جِذْعٌ يَقُومُ إِلَيْهِ النَّبِيُّ ﷺ فَلَمَّا وُضِعَ لَهُ الْمِنْبَرُ سَمِعْنَا لِلْجِذْعِ مِثْلَ أَصْوَاتِ الْعِشَارِ حَتّٰـى نَزَلَ النَّبِيُّ ﷺ فَوَضَعَ يَدَهُ عَلَيْهِ
وفي رواية: فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ قَعَدَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى الْمِنْبَرِ الَّذِي صُنِعَ فَصَاحَتْ النَّخْلَةُ الَّتِي كَانَ يَخْطُبُ عِنْدَهَا حَتّٰـى كَادَتْ تَنْشَقُّ فَنَزَلَ النَّبِيُّ ﷺ حَتّٰـى أَخَذَهَا فَضَمَّهَا إِلَيْهِ فَجَعَلَتْ تَئِنُّ أَنِينَ الصَّبِيِّ الَّذِي يُسَكَّتُ حَتّٰـى اسْتَقَرَّتْ قَالَ بَكَتْ عَلَى مَا كَانَتْ تَسْمَعُ مِنْ الذِّكْرِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর পিতামাতা
(২৮১৪) আনাস (রাঃ) বলেন, একদা এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ’হে আল্লাহর রসূল! আমার (মৃত) পিতা কোথায় (জান্নাতে না জাহান্নামে)?’ তিনি বললেন, জাহান্নামে।’’ অতঃপর সে যখন (মন খারাপ ক’রে) ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, ’’আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে।
عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلاً قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَيْنَ أَبِـىْ قَالَ فِى النَّارِ فَلَمَّا قَفَّى دَعَاهُ فَقَالَ إِنَّ أَبِى وَأَبَاكَ فِى النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর পিতামাতা
(২৮১৫) বুরাইদা আসলামী (রাঃ) বলেন, প্রায় এক হাজার সাহাবা সহ এক সফরের এক মঞ্জিলে নেমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’রাকআত নামায পড়লেন। অতঃর তিনি আমাদের দিকে মুখ ফিরালে আমরা দেখলাম, তাঁর দু’টি চোখ বেয়ে পানি ঝরছে। তাঁর কান্না দেখে সাহাবাগণ কাঁদতে লাগলেন। উমার (রাঃ) তাঁর কাছে গিয়ে বললেন, ’আমার মা-বাপ আপনার জন্য কুরবান হোক, হে আল্লাহর রসূল! আপনার কী হয়েছে? (আপনি কাঁদছেন কেন?)’ তিনি বললেন, ’আল্লাহর নিকট আমি আমার মায়ের কবর যিয়ারতের অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে যিয়ারতের অনুমতি দিলেন। কিন্তু তাঁর জন্য ক্ষমা প্রার্থনার অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিলেন না। তাই আমি তাঁর উপর জাহান্নামের ভয়ে কাঁদছি! .........’
وَعَنْ بُرَيْدَةَ الْأَسْلَمِيِّ - رضي الله عنه - قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَنَحْنُ مَعَهُ قَرِيبٌ مِنْ أَلْفِ رَاكِبٍ " فَنَزَلَ بِنَا فَانْتَهَى إِلٰـى رَسْمِ قَبْرٍ فَجَلَسَ وَجَلَسَ النَّاسُ حَوْلَهُ فَجَعَلَ يُحَرِّكُ رَأْسَهُ كَالْمُخَاطِبِ ثُمَّ بَكَى فَقَامَ إِلَيْهِ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ - رضي الله عنه - فَقَالَ : فِدَاكَ أَبِـيْ وَأُمِّي يَا رَسُوْلَ اللهِ مَا يُبْكِيكَ فَقَالَ : هٰذَا قَبْرُ أُمِّي آمِنَةَ بِنْتِ وَهْبٍ اسْتَأْذَنْتُ رَبِّي فِي أَنْ أَزُورَ قَبْرَهَا فَأَذِنَ لِي وَاسْتَأْذَنْتُهُ فِي الاسْتِغْفَارِ لَهَا فَأَبَى عَلَيَّ"، فَدَمَعَتْ عَيْنَايَ رَحْمَةً لَهَا مِنْ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮১৬) আব্দুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কল্যাণ তার জন্য, যে আমাকে দর্শন করেছে ও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। কল্যাণ তার জন্য, যে সেই ব্যক্তিকে দর্শন করেছে, যে আমাকে দর্শন করেছে। আর তার জন্যও যে সেই ব্যক্তিকে দর্শন করেছে, যে ব্যক্তি এমন লোককে দর্শন করেছে, যে আমাকে দর্শন করেছে ও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। তাদের জন্য কল্যাণ ও শুভ পরিণাম।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ طُوْبٰـى لِمَنْ رآنِـيْ وَآمَنَ بِـيْ وَطُوْبٰـى لِمَنْ رَأى مَنْ رآنِـيْ وَلِمَنْ رَأَى مَنْ رَأَى مَنْ رَآنِـيْ وَآمَنَ بِـيْ طُوبٰـى لَهُمْ وَحُسْنُ مَآبٍ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮১৭) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কল্যাণ তার জন্য, যে আমাকে দর্শন করেছে ও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। আর কল্যাণ অতঃপর কল্যাণ অতঃপর কল্যাণ তার জন্য, যে আমার প্রতি ঈমান এনেছে অথচ আমাকে দেখেনি।
وَعَنْ أَبِـيْ سَعِيدٍ الْـخُدْرِيِّ رضي الله عنه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - طُوبٰـى لِمَنْ رَآنِـيْ وَآمَنَ بِـيْ وَطُوْبٰـى ثُمَّ طُوْبٰـى ثُمَّ طُوْبٰـى لِمَنْ آمَنَ بِـيْ وَلَمْ يَرَنِـيْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮১৮) আবূ উমামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একবার কল্যাণ তার জন্য, যে আমাকে দর্শন করেছে ও আমার প্রতি ঈমান এনেছে। আর সাতবার কল্যাণ তার জন্য, যে আমাকে দর্শন করেনি অথচ আমার প্রতি ঈমান আনয়ন করেছে।
وعَنْ أَبِـيْ أُمَامَةَ أَنّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ طُوبَى لِمَنْ رَآنِي وَآمَنَ بِي وَطُوبَى سَبْعَ مَرَّاتٍ لِمَنْ آمَنَ بِي وَلَمْ يَرَنِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮১৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে, সেই সত্তার কসম! অবশ্যই তোমাদের মাঝে এমন দিন আসবে, সেদিন আমার দর্শন অতঃপর আমার দর্শন (মু’মিনের নিকট) তার পরিবার ও সম্পদ সকল অপেক্ষা বেশি প্রিয় হবে।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ وَالَّذِى نَفْسُ مُحَمَّدٍ فِى يَدِهِ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أَحَدِكُمْ يَوْمٌ وَلاَ يَرَانِى ثُمَّ لأَنْ يَرَانِى أَحَبُّ إِلَيْهِ مِنْ أَهْلِهِ وَمَالِهِ مَعَهُمْ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮২০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে এমন উম্মতীর মধ্যে সেই লোক হবে, যারা আমার গত হওয়ার পর আসবে। তাদের প্রত্যেকে এই আশা পোষণ করবে যে, যদি সে তার পরিবার ও সম্পদের বিনিময়ে আমাকে দর্শন করত।
عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ مِنْ أَشَدِّ أُمَّتِى لِـىْ حُبًّا نَاسٌ يَكُونُونَ بَعْدِى يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ رَآنِى بِأَهْلِهِ وَمَالِهِ
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮২১) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমার কামনা, যদি আমি আমার ভাইদের সাথে সাক্ষাৎ করতাম।’’ সাহাবাগণ বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নই?’ তিনি বললেন, ’’তোমরা আমার সাহাবা। কিন্তু আমার ভাই হল তারা, যারা আমার প্রতি ঈমান এনেছে অথচ আমাকে দর্শন করেনি।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَدِدْتُ أَنِّي لَقِيتُ إِخْوَانِي قَالَ فَقَالَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ أَوَلَيْسَ نَحْنُ إِخْوَانَكَ؟ قَالَ أَنْتُمْ أَصْحَابِي وَلَكِنْ إِخْوَانِي الَّذِينَ آمَنُوا بِي وَلَمْ يَرَوْنِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮২২) আবূ জুমআহ হাবীব বিন সিবা’ (রাঃ) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে দুপুরের খাবার খেলাম। আমাদের সাথে ছিলেন আবূ উবাইদাহ বিন জার্রাহ (রাঃ)। তিনি বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাদের চাইতে শ্রেষ্ঠ কি কেউ আছে? আমরা আপনার কাছে মুসলিম হয়েছি ও আপনার সাথে থেকে জিহাদ করেছি।’ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, এমন সম্প্রদায়, যারা তোমাদের পরে আসবে, যারা আমার প্রতি ঈমান আনবে অথচ আমাকে দর্শন করেনি।
عَنْ أَبـِيْ جـُـمُعَةَ قَالَ: تَغَدَّيْنَا مَعَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَمَعَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَحَدٌ خَيْرٌ مِنَّا أَسْلَمْنَا مَعَكَ وَجَاهَدْنَا مَعَكَ؟ قَالَ نَعَمْ قَوْمٌ يَكُونُونَ مِنْ بَعْدِكُمْ يُؤْمِنُونَ بِي وَلَمْ يَرَوْنِي
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮২৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, একদা ফজরের নামায পড়ে বসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’হে লোক সকল! ঈমানের ব্যাপারে আজব সৃষ্টি কারা? (জানো কি?)’
তাঁরা বললেন, ’ফিরিশতামণ্ডলী।’
তিনি বললেন, ’তাঁদের কী হয়েছে যে, তাঁরা ঈমান আনবেন না? তাঁরা তো তাঁদের প্রতিপালকের নিকটে রয়েছেন। তাঁরা সব ব্যাপার দর্শন করছেন।’
তাঁরা বললেন, ’তাহলে নবীগণ হে আল্লাহর রসূল!’
তিনি বললেন, ’তাঁদের কী হয়েছে যে, তাঁরা ঈমান আনবেন না? তাঁদের উপরে তো আকাশ থেকে অহী অবতীর্ণ হয়।’
তাঁরা বললেন, ’তাহলে আপনার সাহাবা আমরা হে আল্লাহর রসূল!’
তিনি বললেন, ’তোমাদের কী হয়েছে যে, তোমরা ঈমান আনবে না? অথচ তোমরা যা দেখছ তা দেখছ। বরং ঈমানের ব্যাপারে আজব সৃষ্টি হল সেই সম্প্রদায়, যারা তোমাদের পরে আগমন করবে। অতঃপর তারা অহীর কিতাব পেয়ে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে ও তার অনুসরণ করবে। তারাই হল ঈমানের ব্যাপারে আজব সৃষ্টি।’
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَصْبَحَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمًا وصَلَّى بِهِمُ الصُّبْحَ، ثُمَّ قَعَدَ لِلنَّاسِ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ أَعْجَبُ الْخَلْقِ إِيمَانًا قَالُوا : الْمَلَائِكَةُ، قَالَ : " وَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ ؟ " قَالُوا : فَالنَّبِيُّونَ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ : " وَمَا لَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ وَالْوَحْيُ يَنْزِلُ عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ ؟ " قَالُوا : فَنَحْنُ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ : " وَمَا لَكُمْ لَا تُؤْمِنُونَ وَأَنَا بَيْنَ أَظْهُرِكُمْ وَأَنْتُمْ تَرَوْنَ مَا تَرَوْنَ ؟ وَلَكِنَّ أَعْجَبَ الْخَلْقِ إِيمَانًا قَوْمٌ يَجِيئونَ مِنْ بَعْدِكُمْ فَيَجِدُونَ كِتَابًا مِنَ الْوَحْيِ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَتَّبِعُونَهُ فَهُمْ أَعْجَبُ الْخَلْقِ إيمَانًا
পরিচ্ছেদঃ মহানবী (ﷺ) এর দর্শন
(২৮২৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দর্শন করল, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দর্শন করবে অথবা সে যেন আমাকে জাগ্রত অবস্থায় দর্শন করল। কেননা, শয়তান আমার রূপ ধারণ করতে পারে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ رَآنِى فِى الْمَنَامِ فَسَيَرَانِى فِى الْيَقَظَةِ أَوْ لَكَأَنَّمَا رَآنِى فِى الْيَقَظَةِ لاَ يَتَمَثَّلُ الشَّيْطَانُ بِى
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮২৫) আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবী-রসূলদের পর আবূ বকর ও উমার পূর্বাপর বৃদ্ধ জান্নাতীদের সর্দার।
عَنْ عَلِـيٍّ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبُوْ بَكْرٍ وَعُمَرُ سَيِّدَا كُهُوْلِ أَهْلِ الْـجَنَّةِ مِنَ الْأَوَّلِـيْـنَ وَالْآخِرِيْنَ إِلاَّ النَّـبِـيِّـيْـنَ وَالْـمُرْسَلِيْنَ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮২৬) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে শ্রেষ্ঠত্ব দিতাম। সুতরাং আবূ বকরকে শ্রেষ্ঠ গণ্য করতাম। অতঃপর উমার বিন খাত্ত্বাবকে, অতঃপর উসমান বিন আফ্ফানকে (রাঃ)। (বুখারী ৩৬৫৫)
অন্য এক বর্ণনায় আছে, এ কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে পৌঁছলে তিনি আপত্তি করতেন না। (আবূ য়্যালা ৫৬০৪, যিলালুল জান্নাহ, আলবানী ১১৯৩)
عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كُنَّا نُخَيِّرُ بَيْنَ النَّاسِ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ ﷺ فَنُخَيِّرُ أَبَا بَكْرٍ ثُمَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ ثُمَّ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮২৭) মুহাম্মাদ বিন হানাফিয়্যাহ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতা আলী (রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পরে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ কে?’ উত্তরে তিনি বললেন, ’আবূ বকর।’ আমি বললাম, ’তারপর কে?’ তিনি বললেন, ’উমার।’ অতঃপর আমার আশঙ্কা হল যে, এরপর তিনি ’উসমান’ বলবেন। তাই আমি নিজে থেকেই বললাম, ’তারপর আপনি।’ কিন্তু তিনি বললেন, আমি তো মুসলিমদেরই একজন।
عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْحَنَفِيَّةِ قَالَ قُلْتُ لِأَبِي أَيُّ النَّاسِ خَيْرٌ بَعْدَ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ أَبُو بَكْرٍ قُلْتُ ثُمَّ مَنْ قَالَ ثُمَّ عُمَرُ وَخَشِيتُ أَنْ يَقُولَ عُثْمَانُ قُلْتُ ثُمَّ أَنْتَ قَالَ مَا أَنَا إِلَّا رَجُلٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮২৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, উমারকে তাঁর খাটে রাখা হল। লোকেরা তাঁকে কাফন পরাল, তাঁর জন্য দু’আ করতে লাগল, তাঁর প্রশংসা করতে লাগল। তাঁর জানাযা হল। অতঃপর তাঁকে উঠানো হল। আমি তাদের মধ্যেই ছিলাম। ইতিমধ্যে পিছন থেকে আমার বাহুমূলে ধরে আমাকে এক ব্যক্তি চমকে দিল। আমি পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখি, আলী। তিনি উমারের জন্য রহমতের দু’আ করলেন এবং (তাঁকে সম্বোধন ক’রে) বললেন, ’আপনি এমন কাউকে ছেড়ে যাননি, যে আমার নিকট আপনার চাইতে বেশী প্রিয় হবে, যার মতো আমল নিয়ে আমি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করব। আল্লাহর কসম! আমি ধারণাই করতাম যে, আল্লাহ আপনাকে আপনার দুই সঙ্গীর সঙ্গে রাখবেন। যেহেতু আমি অনেকবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমি, আবূ বকর ও উমার এলাম। আমি, আবূ বকর ও উমার প্রবেশ করলাম। আমি, আবূ বকর ও উমার বের হলাম। এই জন্য আমার আশা ও ধারণা এই যে, আল্লাহ আপনাকে উভয়ের পাশেই রাখবেন।’
عن اِبْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: وُضِعَ عُمَرُ عَلَى سَرِيرِهِ فَتَكَنَّفَهُ النَّاسُ يَدْعُونَ وَيُصَلُّونَ قَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ وَأَنَا فِيهِمْ فَلَمْ يَرُعْنِي إِلَّا رَجُلٌ آخِذٌ مَنْكِبِي فَإِذَا عَلِيُّ بْنُ أَبِـيْ طَالِبٍ فَتَرَحَّمَ عَلَى عُمَرَ وَقَالَ مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَى اللهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ وَايْمُ اللهِ إِنْ كُنْتُ لَأَظُنُّ أَنْ يَجْعَلَكَ اللهُ مَعَ صَاحِبَيْكَ وَحَسِبْتُ إِنِّي كُنْتُ كَثِيرًا أَسْمَعُ النَّبِيَّ ﷺ يَقُوْلُ ذَهَبْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَدَخَلْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَخَرَجْتُ أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮২৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা ফজরের নামাযের পর লোকেদের দিকে ফিরে বসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’এক ব্যক্তি একটি গরুর উপর মাল রেখে চালাতে চাইল। তার উপর সওয়ার হয়ে তাকে মারতে লাগল। গরুটি তার দিকে ফিরে মুখে বলল, ’আমি এ জন্য সৃষ্টি হইনি। আমি তো চাষের জন্য সৃষ্টি হয়েছি।’
লোকেরা শুনে অবাক হয়ে বলে উঠল, ’সুবহানাল্লাহ! গরু কথা বলে?!’
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি, আবূ বকর ও উমার এ কথা বিশ্বাস করি।
একদা একটি লোক তার ছাগপালের মাঝে ছিল। ইত্যবসরে একটি নেকড়ে বাঘ পালে হানা দিয়ে একটি ছাগল ধরে নিয়ে যেতে লাগল। লোকটি বাঘের পিছে ধাওয়া ক’রে ছাগলটিকে ছাড়িয়ে নিল। নেকড়েটি তাকে বলল, ’আজ ওকে বাঁচিয়ে নিলে। কিন্তু সিংহ আক্রমণের দিনে ওকে কে বাঁচাবে, যেদিন আমি ছাড়া ওর কোন রাখাল থাকবে না। (তুমিও ভয়ে পালাবে।)’
লোকেরা এ কথা শুনে অবাক হয়ে বলে উঠল, ’সুবহানাল্লাহ! নেকড়ে কথা বলে?!’
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি, আবূ বকর ও উমার এ কথা বিশ্বাস করি।
বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা বলার সময় আবূ বকর ও উমার সেখানে উপস্থিত ছিলেন না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَلَّى رَسُوْلُ اللهِ ﷺ صَلَاةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ بَيْنَا رَجُلٌ يَسُوقُ بَقَرَةً إِذْ رَكِبَهَا فَضَرَبَهَا فَقَالَتْ إِنَّا لَمْ نُخْلَقْ لِهٰذَا إِنَّمَا خُلِقْنَا لِلْحَرْثِ فَقَالَ النَّاسُ سُبْحَانَ اللهِ بَقَرَةٌ تَكَلَّمُ فَقَالَ فَإِنِّي أُومِنُ بِهٰذَا أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَمَا هُمَا ثَمَّ وَبَيْنَمَا رَجُلٌ فِي غَنَمِهِ إِذْ عَدَا الذِّئْبُ فَذَهَبَ مِنْهَا بِشَاةٍ فَطَلَبَ حَتّٰـى كَأَنَّهُ اسْتَنْقَذَهَا مِنْهُ فَقَالَ لَهُ الذِّئْبُ هٰذَا اسْتَنْقَذْتَهَا مِنِّي فَمَنْ لَهَا يَوْمَ السَّبُعِ يَوْمَ لَا رَاعِيَ لَهَا غَيْرِي فَقَالَ النَّاسُ سُبْحَانَ اللهِ ذِئْبٌ يَتَكَلَّمُ قَالَ فَإِنِّي أُومِنُ بِهٰذَا أَنَا وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَمَا هُمَا ثَمَّ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩০) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পথে আবূ বকরই ছিলেন নির্বাচিত সাথী। হিজরতের পথে তাঁদেরকে আত্মগোপন করতে হয়েছিল। তিনি বলেন,
نَظَرْتُ إِلٰـى أَقْدَامِ الْمُشْرِكِينَ عَلَى رُءُوسِنَا وَنَحْنُ فِى الْغَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ لَوْ أَنَّ أَحَدَهُمْ نَظَرَ إِلٰـى قَدَمَيْهِ أَبْصَرَنَا تَحْتَ قَدَمَيْهِ فَقَالَ يَا أَبَا بَكْرٍ مَا ظَنُّكَ بِاثْنَيْنِ اللهُ ثَالِثُهُمَا
আমি মুশরিকদের পায়ের দিকে তাকালাম যখন আমরা (সওর) গুহায় (লুকিয়ে) ছিলাম এবং তারা আমাদের মাথার উপরে ছিল। অতঃপর আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! যদি তাদের মধ্যে কেউ তার পায়ের নীচে তাকায়, তবে সে আমাদেরকে দেখে ফেলবে।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবূ বকর! সে দু’জন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা, যাদের তৃতীয়জন আল্লাহ।
-
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩১) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, যে আমাকে তার নিজ সাহচর্য ও ধন-সম্পদ দিয়ে অনুগৃহীত ও ধন্য করেছে, সে হল আবূ বকর। আমি যদি আমার উম্মতের কাউকে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করতাম, তাহলে আবূ বকরকে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু ইসলামী বন্ধুত্ব রয়েছে। মসজিদে আবূ বকরের প্রবেশপথ ছাড়া কোন প্রবেশপথ অবশ্যই অবশিষ্ট থাকবে না।
عَنْ أَبِـىْ سَعِيْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قال إِنَّ أَمَنَّ النَّاسِ عَلَىَّ فِى مَالِهِ وَصُحْبَتِهِ أَبُو بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلاً وَلَكِنْ أُخُوَّةُ الإِسْلاَمِ لاَ تُبْقَيَنَّ فِى الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلاَّ خَوْخَةَ أَبِى بَكْرٍ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু বাকরের ধন-সম্পদ যেভাবে আমাকে উপকৃত করেছে, অন্য কোন ধন-সম্পদ তা করেনি। এ কথা শুনে আবূ বকর (রাঃ) কেঁদে ফেললেন এবং বললেন, ’আমি ও আমার ধন-সম্পদ তো আপনার জন্যই হে আল্লাহর রসূল!’
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا نَفَعَنِي مَالٌ قَطُّ مَا نَفَعَنِي مَالُ أَبِـيْ بَكْرٍ فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ هَلْ أَنَا وَمَالِي إِلَّا لَكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৩) উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে দান করতে আদেশ দিলেন। সে সময় আমার কাছে বেশ কিছু মাল ছিল। আমি মনে মনে বললাম, যদি কোনদিন আবূ বকরকে হারাতে পারি, তাহলে আজ আমি প্রতিযোগিতায় তাঁকে হারিয়ে ফেলব। সুতরাং আমি আমার অর্ধেক মাল নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহর দরবারে হাযির হলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’’(এত মাল!) তুমি তোমার ঘরে পরিজনের জন্য কী রেখে এলে?’’ উত্তরে আমি বললাম, ’অনুরূপ অর্ধেক রেখে এসেছি।’ আর এদিকে আবূ বকর তাঁর বাড়ির সমস্ত মাল নিয়ে হাযির হলেন। তাঁকে আল্লাহর নবী জিজ্ঞাসা করলেন, ’’তুমি তোমার পরিজনের জন্য ঘরে কী রেখে এলে?’’ উত্তরে তিনি বললেন, ’আমি ঘরে তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে রেখে এসেছি!’ তখনই মনে মনে বললাম যে, ’আবূ বকরের কাছে কোন প্রতিযোগিতাতেই আমি জিততে পারব না।’
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ يَقُوْلُ أَمَرَنَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمًا أَنْ نَتَصَدَّقَ فَوَافَقَ ذٰلِكَ مَالاً عِنْدِى فَقُلْتُ الْيَوْمَ أَسْبِقُ أَبَا بَكْرٍ إِنْ سَبَقْتُهُ يَوْمًا فَجِئْتُ بِنِصْفِ مَالِـىْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا أَبْقَيْتَ لأَهْلِكَ قُلْتُ مِثْلَهُ
قَالَ وَأَتٰـى أَبُوْ بَكْرٍ رَضِىَ اللهُ عَنْهُ بِكُلِّ مَا عِنْدَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَا أَبْقَيْتَ لأَهْلِكَ قَالَ أَبْقَيْتُ لَهُمُ اللهَ وَرَسُوْلَهُ قُلْتُ لاَ أُسَابِقُكَ إِلٰـى شَىْءٍ أَبَدًا
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৪) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি পৃথিবীর কাউকে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করলে ইবনে আবী ক্বুহাফাহ (আবূ বকর) কে ’খালীল’রূপে গ্রহণ করতাম। কিন্তু তোমাদের সাথী ’খালীলুল্লাহ’।
عَنْ عَبْدِ اللهِ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ قَالَ لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ خَلِيلاً لاَتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِى قُحَافَةَ خَلِيلاً وَلَكِنْ صَاحِبُكُمْ خَلِيلُ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৫) আয়েশা [ও আবূ মূসা (রাঃ)] বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তাঁর অসুস্থতা খুব বেড়ে গেল। নামাযের আযান হলে তিনি বললেন, ’’তোমরা আবূ বকরকে আদেশ কর, যেন লোকেদের ইমামতি করে।’’
লোকেরা কোন অশুভ ধারণা করবে এই আশঙ্কায় আয়েশা বললেন, ’উনি তো নরম মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়ালে উনি লোকেদের ইমামতি করতে পারবেন না। কুরআন পড়ার সময় কান্নায় লোকেদেরকে আওয়াজ শোনাতে পারবেন না।’
তিনি আবারও বললেন, ’’তোমরা আবূ বকরকে আদেশ কর, যেন লোকেদের ইমামতি করে।’’
আয়েশাও একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন।
তিনি আয়েশাকে সম্বোধন ক’রে বললেন, ’’তুমি আবূ বকরকে আদেশ কর, যেন লোকেদের ইমামতি করে।’’
তবুও আয়েশা মানলেন না। তিনি হাফসাকে ঐ একই কথা বলতে বললেন। হাফসা তাঁকে বললেন, ’আবূ বকর নরম মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়ালে উনি লোকেদের ইমামতি করতে পারবেন না। আপনি বরং উমারকে আদেশ করুন, লোকেদের ইমামতি করুক।’
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’থামো! তোমরা হলে ইউসুফ-কাহিনীর মহিলাদল। (যারা মুখে বলেছিল এক, মনে রেখেছিল অন্য কিছু।) তোমরা আবূ বকরকে আদেশ কর, যেন লোকেদের ইমামতি করে।’’
সুতরাং আবূ বকর সিদ্দীককে বলা হলে তিনি লোকেদের ইমামতি করলেন। তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর আদেশেই তিনি হলেন ইমাম।
عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ فِي مَرَضِهِ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ يُصَلِّي بِالنَّاسِ قَالَتْ عَائِشَةَ قُلْتُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعْ النَّاسَ مِنْ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ فَقَالَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ قَالَتْ عَائِشَةَ لِحَفْصَةَ قُولِي لَهُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ فِي مَقَامِكَ لَمْ يُسْمِعْ النَّاسَ مِنْ الْبُكَاءِ فَمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ فَفَعَلَتْ حَفْصَةُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَهْ إِنَّكُنَّ لَأَنْتُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ لِلنَّاسِ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৬) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর কাছে দু’আ ক’রে বলেছেন, ’হে আল্লাহ! আবূ জাহল ও উমার—এ দুইয়ের মধ্যে তোমার কাছে যে প্রিয়, তাকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী কর।’ সুতরাং তাঁর কাছে উমার প্রিয় ছিলেন। (তাই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।) (আহমাদ ৫৬৯৬, তিরমিযী ৩৬৮১)
অন্য বর্ণনায় আছে, আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারের জন্য দু’আ ক’রে বলেছেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি বিশেষ ক’রে উমারকে দিয়ে ইসলামকে শক্তিশালী কর।’’ (ইবনে মাজাহ ১০৫, সিঃ সহীহাহ ৩২২৫)
عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللَّهُمَّ أَعِزَّ الإِسْلاَمَ بِأَحَبِّ هَذَيْنِ الرَّجُلَيْنِ إِلَيْكَ بِأَبِى جَهْلٍ أَوْ بِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ وَكَانَ أَحَبَّهُمَا إِلَيْهِ عُمَرُ
وفي رواية: عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ اَعِزَّ الْإِسْلَامَ بِعُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ خَاصَّةً
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে অনেক ’মুহাদ্দাষ’ (ইলহামপ্রাপ্ত) লোক ছিল। যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ ’মুহাদ্দাষ’ থাকে, তাহলে সে হল উমার।
عَنْ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِىِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ قَدْ كَانَ يَكُونُ فِى الأُمَمِ قَبْلَكُمْ مُحَدَّثُونَ فَإِنْ يَكُنْ فِى أُمَّتِى مِنْهُمْ أَحَدٌ فَإِنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ مِنْهُمْ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৮) উমার বিন খাত্ত্বাব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আমি ঘুমন্ত অবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম, আমার কাছে এক পেয়ালা দুধ আনা হল। আমি (তৃপ্ত হয়ে) তা পান করলাম। এমনকি আমি পরিতৃপ্তি আমার নখ দিয়ে বের হতে দেখলাম। অতঃপর তার অবশিষ্টাংশ উমার বিন খাত্ত্বাবকে দিলাম।’’
লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! তার ব্যাখ্যা কী করলেন?’ তিনি বললেন, ’’ইলম।’’ (বুখারী ৮২, মুসলিম ৬৩৪১)
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ إِذْ رَأَيْتُ قَدَحًا أُتِيتُ بِهِ فِيهِ لَبَنٌ فَشَرِبْتُ مِنْهُ حَتّٰـى إِنِّى لأَرَى الرِّىَّ يَجْرِى فِى أَظْفَارِى ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِـىْ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالُوا فَمَا أَوَّلْتَ ذٰلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ الْعِلْمَ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৩৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি ঘুমন্তাবস্থায় (স্বপ্নে) দেখলাম, কামীস-পরা লোকদেরকে আমার কাছে পেশ করা হল। অনেকের কামীস ছিল বুক বরাবর, অনেকের ছিল তার থেকে লম্বা অথবা খাটো। আর উমারকে আমার নিকট পেশ করা হল, তার দেহে ছিল এমন (লম্বা) কামীস, যা সে ছেঁচড়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল।
লোকেরা বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! তার ব্যাখ্যা কী করলেন?’ তিনি বললেন, ’দ্বীন।’
عن أبي سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ رَأَيْتُ النَّاسَ يُعْرَضُونَ وَعَلَيْهِمْ قُمُصٌ مِنْهَا مَا يَبْلُغُ الثُّدِىَّ وَمِنْهَا مَا يَبْلُغُ دُونَ ذٰلِكَ وَمَرَّ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلَيْهِ قَمِيصٌ يَجُرُّهُ قَالُوا مَاذَا أَوَّلْتَ ذٰلِكَ يَا رَسُوْلَ اللهِ قَالَ الدِّينَ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪০) মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) বলেন, উমারকে যখন ছুরিকাঘাত করা হল, তখন তিনি ব্যথা অনুভব করছিলেন। সে সময় ইবনে আব্বাস তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বললেন, ’হে আমীরাল মু’মিনীন! এমন হলেও আপনার দুঃখের কোন কারণ নেই। যেহেতু আপনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক ভালোরূপে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি তাঁকে এ অবস্থায় বিদায় দিয়েছেন, যখন তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট।
অতঃপর আপনি আবূ বাক্রের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁর সাহচর্যের হক ভালোরূপে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি তাঁকে এ অবস্থায় বিদায় দিয়েছেন, যখন তিনি আপনার প্রতি সন্তুষ্ট।
অতঃপর আপনি তাঁর সাহাবাগণের সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তাঁদের সাহচর্যের হক ভালোরূপে আদায় করেছেন। অতঃপর আপনি যদি তাঁদেরকে বিদায় দেন, তাহলে অবশ্যই এ অবস্থায় বিদায় দেবেন যে, তাঁরা আপনার প্রতি সন্তুষ্ট।’
উমার (রাঃ) বললেন, ’তুমি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহচর্য ও সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করলে, তা তো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমার প্রতি এক অনুগ্রহ, যা তিনি আমাকে দান করেছেন।
তুমি যে আবূ বকরের সাহচর্য ও সন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করলে, তাও তো আল্লাহ জাল্লা যিকরুহর পক্ষ থেকে আমার প্রতি এক অনুগ্রহ, যা দিয়ে তিনি আমাকে দান করেছেন।
আর তুমি যে আমার অস্থিরতা লক্ষ্য করছ, তা তোমার কারণে এবং তোমার সঙ্গীদের কারণে। (যেহেতু ফিতনা আসন্ন।) আল্লাহর কসম! আমার যদি দুনিয়া ভরতি স্বর্ণ থাকত, তাহলে আল্লাহ আযযা অজাল্লাহর আযাব দেখার আগে তা থেকে বাঁচার জন্য মুক্তিপণ হিসাবে তা দান করতাম। (বুখারী ৩৬৯২)
عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ جَعَلَ يَأْلَمُ فَقَالَ لَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ وَكَأَنَّهُ يُجَزِّعُهُ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ وَلَئِنْ كَانَ ذَاكَ لَقَدْ صَحِبْتَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ ثُمَّ فَارَقْتَهُ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ ثُمَّ صَحِبْتَ أَبَا بَكْرٍ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُ ثُمَّ فَارَقْتَهُ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ ثُمَّ صَحِبْتَ صَحَبَتَهُمْ فَأَحْسَنْتَ صُحْبَتَهُمْ وَلَئِنْ فَارَقْتَهُمْ لَتُفَارِقَنَّهُمْ وَهُمْ عَنْكَ رَاضُونَ قَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَرِضَاهُ فَإِنَّمَا ذَاكَ مَنٌّ مِنْ اللهِ تَعَالٰـى مَنَّ بِهِ عَلَيَّ وَأَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ صُحْبَةِ أَبِـيْ بَكْرٍ وَرِضَاهُ فَإِنَّمَا ذَاكَ مَنٌّ مِنْ اللهِ جَلَّ ذِكْرُهُ مَنَّ بِهِ عَلَيَّ وَأَمَّا مَا تَرَى مِنْ جَزَعِي فَهُوَ مِنْ أَجْلِكَ وَأَجْلِ أَصْحَابِكَ وَاللهِ لَوْ أَنَّ لِي طِلَاعَ الْأَرْضِ ذَهَبًا لَافْتَدَيْتُ بِهِ مِنْ عَذَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ قَبْلَ أَنْ أَرَاهُ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪১) আনাস (রাঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহুদ পাহাড়ে চড়লেন। সাথে ছিল আবূ বকর, উমার ও উসমান। উহুদ কেঁপে উঠল। তিনি নিজ পা দিয়ে আঘাত ক’রে বললেন, স্থির হও উহুদ! তোমার উপর নবী, সিদ্দীক ও দুই শহীদ ছাড়া অন্য কেউ নেই।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ صَعِدَ النَّبِيُّ ﷺ إِلٰـى أُحُدٍ وَمَعَهُ أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ، فَرَجَفَ بِهِمْ فَضَرَبَهُ بِرِجْلِهِ قَالَ اثْبُتْ أُحُدُ فَمَا عَلَيْكَ إِلَّا نَبِيٌّ أَوْ صِدِّيقٌ أَوْ شَهِيدَانِ
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪২) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি স্বপ্নে দেখেছি, আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। দেখলাম সেখানে আবূ তালহার স্ত্রী রুমাইসা রয়েছে। অতঃপর আমি পদধ্বনি শুনতে পেলাম। আমি বললাম, ’এটা কে?’ (কেউ) বলল, ’এটা বিলাল।’ আর একটি প্রাসাদ দেখলাম, তার আঙ্গিনায় রয়েছে একটি কিশোরী। আমি বললাম, ’এটা কার?’ বলল, ’উমারের।’ আমি ইচ্ছা হল তাতে প্রবেশ করে দেখি। কিন্তু তোমার ঈর্ষার কথা মনে করলাম।
এ কথা শুনে উমার (রাঃ) বললেন, ’আমার বাপণ্ডমা আপনার জন্য কুরবান হোক হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার প্রতিও ঈর্ষা করব কি?’
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ رَأَيْتُنِي دَخَلْتُ الْجَنَّةَ فَإِذَا أَنَا بِالرُّمَيْصَاءِ امْرَأَةِ أَبِـيْ طَلْحَةَ وَسَمِعْتُ خَشَفَةً فَقُلْتُ مَنْ هٰذَا؟ فَقَالَ هٰذَا بِلَالٌ وَرَأَيْتُ قَصْرًا بِفِنَائِهِ جَارِيَةٌ فَقُلْتُ لِمَنْ هٰذَا؟ فَقَالَ لِعُمَرَ فَأَرَدْتُ أَنْ أَدْخُلَهُ فَأَنْظُرَ إِلَيْهِ فَذَكَرْتُ غَيْرَتَكَ فَقَالَ عُمَرُ: بِأَبِي وَأُمِّي يَا رَسُوْلَ اللهِ أَعَلَيْكَ أَغَارُ؟
পরিচ্ছেদঃ উমার (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৩) বুরাইদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা কোন যুদ্ধ থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিজয়ী হয়ে ফিরে এলে একটি কৃষ্ণকায় দাসী এসে বলল, ’(হে আল্লাহর রসূল!) আমি নযর মেনেছিলাম যে, আপনি ভালভাবে ফিরে এলে আমি আপনার কাছে দুফ বাজাব।’ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যদি নযর মেনে থাকো, তাহলে তা পূরা কর। আর না মেনে থাকলে তা করো না। সুতরাং দাসীটি দুফ বাজাতে লাগল। ইতিমধ্যে আবূ বকর প্রবেশ করলেন। তখনও সে বাজাতে থাকল। অন্য কেউ এসে উপস্থিত হলেও সে বাজাতে থাকল। অবশেষে উমার প্রবেশ করলে দুফটাকে সে নিজ পিছনে লুকিয়ে কাপড়ে মুখও লুকাতে লাগল। তা দেখে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমারের উদ্দেশ্যে বললেন, শয়তানও তোমাকে ভয় পায় হে উমার!
عن بُرَيْدَةَ أَنَّ أَمَةً سَوْدَاءَ أَتَتْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَقَدْ رَجَعَ مِنْ بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَتْ إِنِّي كُنْتُ نَذَرْتُ إِنْ رَدَّكَ اللهُ صَالِحًا أَنْ أَضْرِبَ عِنْدَكَ بِالدُّفِّ قَالَ إِنْ كُنْتِ فَعَلْتِ فَافْعَلِي وَإِنْ كُنْتِ لَمْ تَفْعَلِي فَلَا تَفْعَلِي فَضَرَبَتْ فَدَخَلَ أَبُو بَكْرٍ وَهِيَ تَضْرِبُ وَدَخَلَ غَيْرُهُ وَهِيَ تَضْرِبُ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ قَالَ فَجَعَلَتْ دُفَّهَا خَلْفَهَا وَهِيَ مُقَنَّعَةٌ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الشَّيْطَانَ لَيَفْرَقُ مِنْكَ يَا عُمَرُ
পরিচ্ছেদঃ উসমান (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৪) আব্দুর রহমান বিন খাব্বাব কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাবূকের সংকটকালের যুদ্ধের প্রস্তুতির জন্য লোককে সদকাহ করতে উদ্বুদ্ধ করলেন। উসমান (রাঃ) উঠে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিনসহ ১০০টি সুসজ্জিত ঘোড়া দান আমার দায়িত্বে।’ তারপরেও আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে উৎসাহিত করতে থাকলেন। এবারেও উসমান (রাঃ) উঠে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিনসহ ২০০টি সুসজ্জিত ঘোড়া দান আমার দায়িত্বে।’ তারপরেও আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদেরকে উৎসাহিত করতে থাকলেন। আবারো উসমান (রাঃ) উঠে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর রাস্তায় জিনসহ ৩০০টি সুসজ্জিত ঘোড়া দান আমার দায়িত্বে।’ এই বৃহৎ দানের কথা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বর থেকে এই বলতে বলতে নামলেন, এর পরে উসমান যা করবে, তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না। এর পরে উসমান যা করবে, তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না।
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَانِ بْنِ خَبَّابٍ قَالَ: شَهِدتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُو يَحُثُّ عَلَى جَيْشِ الْعُسْرَةِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ عَلَيَّ مِئَةُ بَعِيرٍ بِأَحْلاَسِهَا وَأَقْتَابهَا فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ حَضَّ عَلَى الْجَيْشِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ : يَا رَسُوْلَ اللهِ للهِ عَلَيَّ مِئَتَا بَعِيرٍ بِأَحْلاسِهَا وَأَقْتَابهَا فِي سَبِيلِ اللهِ ثُمَّ حَضَّ عَلَى الْجَيْشِ فَقَامَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ فَقَالَ : يَاَ رَسُوْلَ الله للهِ عَلَيَّ ثَلاَثُمِئَةِ بَعِيرٍ بِأَحْلاَسِهَا وَأَقتَابهَا فِي سَبِيلِ اللهِ فَأَنَا رَأَيْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَنْزِلُ عَنِ الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَقُوْلُ : مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ مَا عَلَى عُثْمَانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ هَذِهِ
পরিচ্ছেদঃ উসমান (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৫) আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি উক্ত সঙ্কটময় যুদ্ধের সৈন্য প্রস্তুত করার সময় জামার আস্তিনে এক হাজার দীনার এনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোলে ছড়িয়ে দিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেগুলিকে উলট-পালট করতে করতে ২ বার বললেন, আজকের পরে উসমান যা করবে, তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না। আজকের পরে উসমান যা করবে, তাতে তার কোন ক্ষতি হবে না।
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ جَاءَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ إِلَـى النَّبِيِّ ﷺ بِأَلْفِ دِينَارٍ فِي ثَوْبِهِ حِينَ جَهَّزَ النَّبِيُّ ﷺ جَيْشَ الْعُسْرَةِ قَالَ فَصَبَّهَا فِي حِجْرِ النَّبِيِّ ﷺ فَجَعَلَ النَّبِيُّ ﷺ يُقَلِّبُهَا بِيَدِهِ وَيَقُوْلُ مَا ضَرَّ ابْنُ عَفَّانَ مَا عَمِلَ بَعْدَ الْيَوْمِ يُرَدِّدُهَا مِرَارًا
পরিচ্ছেদঃ উসমান (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৬) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার বাসায় শুয়ে ছিলেন। তাঁর পায়ের রলা বা উরু থেকে কাপড় সরে ছিল। ইতিমধ্যে আবূ বকর (রাঃ) প্রবেশ-অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি একই অবস্থায় থেকে তাঁর সাথে কথা বললেন।
অতঃপর উমার (রাঃ) প্রবেশ-অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি একই অবস্থায় থেকে তাঁর সাথে কথা বললেন।
অতঃপর উসমান (রাঃ) প্রবেশ-অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু তিনি নিজের কাপড় সোজা ক’রে উঠে বসলেন। সুতরাং তিনি প্রবেশ ক’রে তাঁর সাথে কথা বললেন।
অতঃপর তিনি যখন বের হয়ে চলে গেলেন, তখন আয়েশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বললেন, ’আবূ বকর প্রবেশ করলেন, তখন আপনি নড়া-সরা করলেন না এবং তাকে কোন গুরুত্বই দিলেন না, উমার প্রবেশ করলেন, তখনও আপনি নড়া-সরা করলেন না এবং তাকে কোন গুরুত্বই দিলেন না। কিন্তু উসমান প্রবেশ করলেন, তখন আপনি উঠে বসলেন ও কাপড় সোজা করলেন (কী ব্যাপার)?’
মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি সেই ব্যক্তির কাছে লজ্জাবোধ করব না, যে ব্যক্তির কাছে ফিরিশতা লজ্জাবোধ করেন।
عَنْعَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مُضْطَجِعًا فِى بَيْتِى كَاشِفًا عَنْ فَخِذَيْهِ أَوْ سَاقَيْهِ فَاسْتَأْذَنَ أَبُو بَكْرٍ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ عَلَى تِلْكَ الْحَالِ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُمَرُ فَأَذِنَ لَهُ وَهُوَ كَذٰلِكَ فَتَحَدَّثَ ثُمَّ اسْتَأْذَنَ عُثْمَانُ فَجَلَسَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَسَوَّى ثِيَابَهُ - قَالَ مُحَمَّدٌ وَلاَ أَقُولُ ذٰلِكَ فِى يَوْمٍ وَاحِدٍ - فَدَخَلَ فَتَحَدَّثَ فَلَمَّا خَرَجَ قَالَتْ عَائِشَةَ دَخَلَ أَبُو بَكْرٍ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُمَرُ فَلَمْ تَهْتَشَّ لَهُ وَلَمْ تُبَالِهِ ثُمَّ دَخَلَ عُثْمَانُ فَجَلَسْتَ وَسَوَّيْتَ ثِيَابَكَ فَقَالَ أَلاَ أَسْتَحِى مِنْ رَجُلٍ تَسْتَحِى مِنْهُ الْمَلاَئِكَةُ
পরিচ্ছেদঃ আলী (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৭) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাসান ও হুসাইন বেহেশতী যুবকদের সর্দার। আর তাদের পিতা তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ।
عَنِابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَبُوهُمَا خَيْرٌ مِنْهُمَا
পরিচ্ছেদঃ আলী (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৮) আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীর জন্য বলেছেন, হে আল্লাহ! আমি যার প্রীতিভাজন, অভিভাবক বা পৃষ্ঠপোষক, আলীও তার প্রীতিভাজন, অভিভাবক ও পৃ’পোষক। হে আল্লাহ! যে তার সাথে সম্প্রীতি রাখবে, তুমি তার সাথে সম্প্রীতি বজায় রেখো। আর যে তার সাথে শত্রুতা করবে, তুমি তার সাথে শত্রুতা বজায় করো।
عَنْ عَلِـىٍّ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قال لِعَلِيٍّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَوْمَ غَدِيرِ خُمٍّ اللَّهُمَّ مَنْ كُنْتُ مَوْلَاهُ فَعَلِيٌّ مَوْلَاهُ اللَّهُمَّ وَالِ مَنْ وَالَاهُ وَعَادِ مَنْ عَادَاهُ
পরিচ্ছেদঃ আলী (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৪৯)সাহল ইবনে সা’দ সায়েদী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার (যুদ্ধের) দিন বললেন, ’’নিশ্চয় আমি আগামীকাল যুদ্ধ-পতাকা এমন এক ব্যক্তিকে দেব, যার হাতে আল্লাহ বিজয় দান করবেন, আর সে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলও তাকে ভালবাসেন।’’
অতঃপর লোকেরা এই আলোচনা করতে করতে রাত কাটিয়ে দিল যে, তাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তিকে এটা দেওয়া হবে। অতঃপর সকালে তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেল। তাদের প্রত্যেকেরই এই আকাঙ্ক্ষা ছিল যে, পতাকা তাকে দেওয়া হোক। কিন্তু তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আলী ইবনে আবী ত্বালেব কোথায়? তাঁকে বলা হল, ’হে আল্লাহর রসূল! তাঁর চক্ষুদ্বয়ে ব্যথা হচ্ছে।’ তিনি বললেন, তাকে ডেকে পাঠাও। সুতরাং তাঁকে ডেকে আনা হল। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার চক্ষুদ্বয়ে থুথু লাগিয়ে দিলেন এবং তাঁর জন্য দু’আ করলেন। ফলে তিনি এমন সুস্থ হয়ে গেলেন; যেন তাঁর কোন ব্যথাই ছিল না।
অতঃপর তিনি তাঁকে যুদ্ধ-পতাকা দিলেন। আলী (রাঃ) বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! তারা আমাদের মত (মুসলিম) না হওয়া পর্যন্ত কি আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়তে থাকব?’ তিনি বললেন, তুমি প্রশান্ত হয়ে চলতে থাক; যতক্ষণ না তাদের নগর-প্রাঙ্গনে অবতরণ করেছ। অতঃপর তাদেরকে ইসলামের দিকে আহবান কর এবং তাদের উপর ইসলামে আল্লাহর যে জরুরী হক রয়েছে, তাদেরকে সে ব্যাপারে অবহিত কর। আল্লাহর কসম! যদি আল্লাহ তাআলা তোমার দ্বারা একটি মানুষকে হিদায়াত করেন, তাহলে তা তোমার জন্য (আরবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ) লাল উটনী অপেক্ষাও উত্তম।
عنسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ يَوْمَ خَيْبَرَ لأُعْطِيَنَّ هَذِهِ الرَّايَةَ رَجُلاً يَفْتَحُ اللهُ عَلَى يَدَيْهِ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَهُ وَيُحِبُّهُ اللهُ وَرَسُوْلُهُ قَالَ فَبَاتَ النَّاسُ يَدُوكُونَ لَيْلَتَهُمْ أَيُّهُمْ يُعْطَاهَا - قَالَ - فَلَمَّا أَصْبَحَ النَّاسُ غَدَوْا عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ كُلُّهُمْ يَرْجُونَ أَنْ يُعْطَاهَا فَقَالَ أَيْنَ عَلِىُّ بْنُ أَبِى طَالِبٍ فَقَالُوا هُوَ يَا رَسُوْلَ اللهِ يَشْتَكِى عَيْنَيْهِ - قَالَ - فَأَرْسَلُوا إِلَيْهِ فَأُتِىَ بِهِ فَبَصَقَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فِى عَيْنَيْهِ وَدَعَا لَهُ فَبَرَأَ حَتّٰـى كَأَنْ لَمْ يَكُنْ بِهِ وَجَعٌ فَأَعْطَاهُ الرَّايَةَ فَقَالَ عَلِىٌّ يَا رَسُوْلَ اللهِ أُقَاتِلُهُمْ حَتّٰـى يَكُونُوا مِثْلَنَا فَقَالَ انْفُذْ عَلَى رِسْلِكَ حَتّٰـى تَنْزِلَ بِسَاحَتِهِمْ ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلٰـى الإِسْلاَمِ وَأَخْبِرْهُمْ بِمَا يَجِبُ عَلَيْهِمْ مِنْ حَقِّ اللهِ فِيهِ فَوَاللهِ لأَنْ يَهْدِىَ اللهُ بِكَ رَجُلاً وَاحِدًا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ يَكُونَ لَكَ حُمْرُ النَّعَمِ
পরিচ্ছেদঃ আলী (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫০) সা’দ বিন আবী অক্কাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে মদীনার নায়েব বানিয়ে তবূক যুদ্ধে বের হয়ে যাচ্ছিলেন। আলী বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে মহিলা ও শিশুদের মাঝে রেখে যেতে চান?’ তিনি বললেন, তুমি কি চাও না যে, হারূন যেমন মূসার নায়েব হয়েছিলেন, তুমি তেমনি আমার নায়েব হবে? তবে আমার পরে কোন নবী নেই।
عَنْ سَعْدِ بْنِ أَبِى وَقَّاصٍ قَالَ خَلَّفَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلِىَّ بْنَ أَبِى طَالِبٍ فِى غَزْوَةِ تَبُوكَ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ تُخَلِّفُنِى فِى النِّسَاءِ وَالْصِّبْيَانِ فَقَالَ أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّى بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى غَيْرَ أَنَّهُ لاَ نَبِىَّ بَعْدِى
পরিচ্ছেদঃ আলী (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫১) বারা বিন আযেব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলী (রাঃ) কে বলেছেন,
(أَنْتَ مِنِّي وَأَنَا مِنْكَ)
অর্থাৎ, তুমি আমার মধ্য থেকে, আর আমি তোমার মধ্য থেকে।
-
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫২) শাদ্দাদ (রাঃ) বলেন, একদা যোহর অথবা আসরের নামায পড়ার উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের মাঝে বের হলেন। তাঁর কোলে ছিল হাসান অথবা হুসাইন। তিনি সামনে গিয়ে তাকে নিজের ডান পায়ের কাছে রাখলেন। অতঃপর তিনি তকবীর দিয়ে নামায শুরু করলেন। নামায পড়তে পড়তে তিনি একটি সিজদাহ (অস্বাভাবিক) লম্বা করলেন। (ব্যাপার না বুঝে) আমি লোকের মাঝে মাথা তুলে ফেললাম। দেখলাম, তিনি সিজদাহ অবস্থায় আছেন, আর তাঁর পিঠে শিশুটি চড়ে বসে আছে! অতঃপর পুনরায় আমি সিজদায় ফিরে গেলাম। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করলে লোকেরা তাঁকে বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি নামায পড়তে পড়তে একটি সিজদাহ (অধিক) লম্বা করলেন। এর ফলে আমরা ধারণা করলাম যে, কিছু হয়তো ঘটল অথবা আপনার উপর ওহী অবতীর্ণ হচ্ছে।’
তিনি বললেন, এ সবের কোনটাই নয়। আসলে (ব্যাপার হল), আমার বেটা (নাতি) আমাকে সওয়ারী বানিয়ে নিয়েছিল। তাই তার মন ভরে না দেওয়া পর্যন্ত (উঠার জন্য) তাড়াতাড়ি করাটাকে আমি অপছন্দ করলাম।
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي إِحْدَى صَلَاتَيِ الْعِشَاءِ وَهُوَ حَامِلٌ حَسَنًا أَوْ حُسَيْنًا، فَتَقَدَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَضَعَهُ، ثُمَّ كَبَّرَ لِلصَّلَاةِ فَصَلَّى فَسَجَدَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ صَلَاتِهِ سَجْدَةً أَطَالَهَا، قَالَ أَبِي: فَرَفَعْتُ رَأْسِي وَإِذَا الصَّبِيُّ عَلَى ظَهْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَهُوَ سَاجِدٌ فَرَجَعْتُ إِلَى سُجُودِي، فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلَاةَ قَالَ النَّاسُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّكَ سَجَدْتَ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ صَلَاتِكَ سَجْدَةً أَطَلْتَهَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ حَدَثَ أَمْرٌ أَوْ أَنَّهُ يُوحَى إِلَيْكَ، قَالَ: كُلُّ ذَلِكَ لَمْ يَكُنْ وَلَكِنَّ ابْنِي ارْتَحَلَنِي فَكَرِهْتُ أَنْ أُعَجِّلَهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَاجَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৩) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, তিনি নামায পড়তেন, আর সিজদাহ অবস্থায় হাসান ও হুসাইন তাঁর পিঠে চড়ে বসত। লোকেরা তাদেরকে এমন করতে মানা করলে তিনি ইশারায় বলতেন, ওদেরকে (নিজের অবস্থায়) ছেড়ে দাও। অতঃপর নামায শেষ করলে তাদের উভয়কে কোলে বসিয়ে বলতেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালোবাসে, সে যেন এদেরকে ভালোবাসে।
عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فَإِذَا سَجَدَ وَثَبَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ عَلَى ظَهْرِهِ فَإِذَا مَنَعُوْهُمَا أَشَارَ إِلَيْهِمْ أَنْ دَعُوهُمَا فَلَمَّا صَلَّى وَضَعَهُمَا فِي حِجْرِهِ ثُمَّ قَالَ: مَنْ أَحَبَّنِي فَلْيُحِبَّ هَذَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (হাসান-হুসাইন) এ দুজনকে ভালোবাসল, সে আসলে আমাকে ভালোবাসল। আর যে ব্যক্তি এ দুজনকে ঘৃণা করল, সে আসলে আমাকে ঘৃণা করল।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَحَبَّهُمَا فَقَدْ أَحَبَّنِي وَمَنْ أَبْغَضَهُمَا فَقَدْ أَبْغَضَنِي، يَعْنِي : الْحَسَنَ وَالْحُسَيْنَ
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৫) উসামা বিন যায়দ (রাঃ) বলেন, একদা কোন প্রয়োজনে কোন এক রাত্রে আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন। তিনি তাঁর পিছনে কিছু আড়াল ক’রে ছিলেন, জানি না তা কী? অতঃপর আমার প্রয়োজন শেষ হলে আমি তাঁকে বললাম, ’ওটা কী, যা আপনি আড়াল ক’রে আছেন?’ তিনি আড়াল সরালে দেখা গেল, তাঁর পিছনে হাসান ও হুসাইন। অতঃপর তিনি বললেন, এ দুজন আমার পুত্র এবং আমার কন্যাপুত্র। হে আল্লাহ! আমি এদেরকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমি এদেরকে ভালোবাসো এবং তাকে ভালোবাসো, যে এদেরকে ভালোবাসে।
عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ قَالَ: طَرَقْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ لَيْلَةٍ فِي بَعْضِ الْحَاجَةِ فَخَرَجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُشْتَمِلٌ عَلَى شَيْءٍ لاَ أَدْرِي مَا هُوَ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْ حَاجَتِي قُلْتُ : مَا هٰذَا الَّذِي أَنْتَ مُشْتَمِلٌ عَلَيْهِ ؟ قَالَ: فَكَشَفَهُ فَإِذَا حَسَنٌ وَحُسَيْنٌ عَلَى وَرِكَيْهِ فَقَالَ هٰذَانِ ابْنَايَ وَابْنَا ابْنَتِي اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فَأَحِبَّهُمَا وَأَحِبَّ مَنْ يُحِبُّهُمَا
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৬) বারা’ (রাঃ) বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসান-হুসাইনকে দেখে বললেন, হে আল্লাহ! আমি এদেরকে ভালোবাসি, সুতরাং তুমি এদেরকে ভালোবাসো।
عَنِ الْبَرَاءِ أَنَّ النَّبِـيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبْصَرَ حَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُمَا فَأَحِبَّهُمَا
পরিচ্ছেদঃ হাসান-হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৭) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাসান ও হুসাইন বেহেশতী যুবকদের সর্দার। আর তাদের পিতা তাদের থেকে শ্রেষ্ঠ।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَسَنُ وَالْحُسَيْنُ سَيِّدَا شَبَابِ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَأَبُوهُمَا خَيْرٌ مِنْهُمَا
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৮) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রথম স্ত্রী খাদীজা (রাঃ), তিনিই নবুঅতের শুরুতে সান্ত্বনা দিয়ে সাহস দিয়েছিলেন, তিনি বলেছিলেন, ’কক্ষনো না। আপনি সুসংবাদ নিন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। আল্লাহর কসম! আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, (অপরের) বোঝা বইয়ে দেন, মেহমানের খাতির করেন এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করেন।’ অতঃপর স্ত্রী খাদীজা (রাঃ) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই অরাকা বিন নাওফালের নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি ছিলেন একজন বয়োবৃদ্ধ অন্ধ। তিনি জাহেলিয়াতের যুগে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাওরাত-ইঞ্জীল তিনি লিখতে-পড়তে জানতেন। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হিরা গুহার সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। অরাকা বললেন, ’ইনি তো সেই নামূস (ফিরিশতা জিবরীল), যিনি মূসার নিকট অবতীর্ণ হতেন। হায়! যেদিন আপনাকে আপনার স্বজাতি দেশ থেকে বের করে দেবে, সেদিন যদি আমি জীবিত ও যুবক থাকতাম।’
এ কথা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’তারা কি আমাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করবে?’’ অরাকা বললেন, ’হ্যাঁ। আপনার মতো যে কেউই এ সত্য আনয়ন করেছেন, তিনিই নির্যাতিত হয়েছেন। আমি যদি সেই সময় পর্যন্ত জীবিত থাকি, তাহলে আপনার সর্বপ্রকার সহযোগিতা করব।’ কিন্তু এর অল্পকাল পরেই অরাকা মৃত্যুবরণ করেন।
كَلاَّ أَبْشِرْ فَوَاللهِ لاَ يُخْزِيكَ اللهُ أَبَدًا وَاللهِ إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ وَتَحْمِلُ الْكَلَّ وَتَكْسِبُ الْمَعْدُومَ وَتَقْرِى الضَّيْفَ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ فَانْطَلَقَتْ بِهِ خَدِيجَةُ حَتّٰـى أَتَتْ بِهِ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلِ بْنِ أَسَدِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى وَهُوَ ابْنُ عَمِّ خَدِيجَةَ أَخِى أَبِيهَا وَكَانَ امْرَأً تَنَصَّرَ فِى الْجَاهِلِيَّةِ وَكَانَ يَكْتُبُ الْكِتَابَ الْعَرَبِىَّ وَيَكْتُبُ مِنَ الإِنْجِيلِ بِالْعَرَبِيَّةِ مَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَكْتُبَ وَكَانَ شَيْخًا كَبِيرًا قَدْ عَمِىَ فَقَالَتْ لَهُ خَدِيجَةُ أَىْ عَمِّ اسْمَعْ مِنِ ابْنِ أَخِيكَ قَالَ وَرَقَةُ بْنُ نَوْفَلٍ يَا ابْنَ أَخِى مَاذَا تَرَى فَأَخْبَرَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ خَبَرَ مَا رَآهُ فَقَالَ لَهُ وَرَقَةُ هٰذَا النَّامُوسُ الَّذِى أُنْزِلَ عَلَى مُوسَى ﷺ يَا لَيْتَنِى فِيهَا جَذَعًا يَا لَيْتَنِى أَكُونُ حَيًّا حِينَ يُخْرِجُكَ قَوْمُكَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَوَمُخْرِجِىَّ هُمْ قَالَ وَرَقَةُ نَعَمْ لَمْ يَأْتِ رَجُلٌ قَطُّ بِمَا جِئْتَ بِهِ إِلاَّ عُودِىَ وَإِنْ يُدْرِكْنِى يَوْمُكَ أَنْصُرْكَ نَصْرًا مُؤَزَّرًا
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৫৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা জিবরীল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! এই যে খাদীজা আপনার নিকট আসছে, তার সাথে আছে একটি পাত্র, তাতে আছে ব্যঞ্জন বা খাদ্য বা পানীয়। সুতরাং সে এলে আপনি তাকে তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং আমার পক্ষ থেকে সালাম জানান। আর তাকে জান্নাতে (তার জন্য) ফাঁপা মুক্তা নির্মিত একটি অট্টালিকার সুসংবাদ দান করুন; যেখানে কোন হট্টগোল ও ক্লান্তি থাকবে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى جِبْرِيلُ النَّبِىَّ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ هَذِهِ خَدِيجَةُ قَدْ أَتَتْكَ مَعَهَا إِنَاءٌ فِيهِ إِدَامٌ أَوْ طَعَامٌ أَوْ شَرَابٌ فَإِذَا هِىَ أَتَتْكَ فَاقْرَأْ عَلَيْهَا السَّلاَمَ مِنْ رَبِّهَا عَزَّ وَجَلَّ وَمِنِّى وَبَشِّرْهَا بِبَيْتٍ فِى الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ لاَ صَخَبَ فِيهِ وَلاَ نَصَبَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فِى رِوَايَتِهِ عَنْ أَبِـىْ هُرَيْرَةَ وَلَمْ يَقُلْ سَمِعْتُ وَلَمْ يَقُلْ فِى الْحَدِيثِ وَمِنِّى
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬০) আব্দুল্লাহ ইবনে আবূ আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কে জান্নাতে (তাঁর জন্য) ফাঁপা মুক্তা নির্মিত একটি অট্টালিকার সুসংবাদ দান করেছেন; যেখানে কোন হট্টগোল ও ক্লান্তি থাকবে না।
عَنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِى أَوْفَى قَالَ: بَشَّرَ النَّبِيُّ ﷺ خَدِيجَةَ بِبَيْتٍ مِنْ قَصَبٍ لَا صَخَبَ فِيهِ وَلَا نَصَبَ
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬১) আয়েশা (রাঃ) বলেন, খাদীজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-র প্রতি আমার যতটা ঈর্ষা হতো, ততটা ঈর্ষা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অপর কোন স্ত্রীর প্রতি হতো না। অথচ আমি তাঁকে কখনো দেখিনি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময় তাঁর কথা আলোচনা করতেন এবং যখনই তিনি ছাগল যবাই করতেন, তখনই তার বিভিন্ন অঙ্গ কেটে খাদীজার বান্ধবীদের জন্য উপহারস্বরূপ পাঠাতেন।
আমি তাঁকে মাঝে মধ্যে (রসিকতা ছলে) বলতাম, ’মনে হয় যেন দুনিয়াতে খাদীজা ছাড়া আর কোন মেয়েই নেই।’ তখন তিনি (তাঁর প্রশংসা করে) বলতেন, ’’সে এই রকম ছিল, ঐ রকম ছিল। আর তাঁর থেকেই আমার সন্তান-সন্তুতি।
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরী যবাই করতেন, তখন খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এতটা পরিমাণে মাংস পাঠাতেন, যা তাদের জন্য যথেষ্ট হত।’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বকরী যবাই করতেন, তখন বলতেন, খাদীজার বান্ধবীদের নিকট এই মাংস পাঠিয়ে দাও।
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى أَحَدٍ مِنْ نِسَاءِ النَّبِيِّ ﷺ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ وَمَا رَأَيْتُهَا وَلَكِنْ كَأَنَّ النَّبِـيَّ ﷺ يُكْثِرُ ذِكْرَهَا وَرُبَّمَا ذَبَحَ الشَّاةَ ثُمَّ يُقَطِّعُهَا أَعْضَاءً ثُمَّ يَبْعَثُهَا فِي صَدَائِقِ خَدِيجَةَ فَرُبَّمَا قُلْتُ لَهُ كَأَنَّهُ لَمْ يَكُنْ فِي الدُّنْيَا امْرَأَةٌ إِلَّا خَدِيجَةُ فَيَقُوْلُ إِنَّهَا كَانَتْ وَكَانَتْ وَكَانَ لِي مِنْهَا وَلَدٌ
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬২) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ’একদা খাদীজার বোন হালা বিনতে খুআইলিদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আসার অনুমতি চাইল। তিনি খাদীজার অনুমতি চাওয়ার কথা স্মরণ করলেন, সুতরাং তিনি আনন্দবোধ করলেন এবং বললেন, আল্লাহ! হালা বিনতে খুআইলিদ?
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتِ اسْتَأْذَنَتْ هَالَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ أُخْتُ خَدِيجَةَ عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَعَرَفَ اسْتِئْذَانَ خَدِيجَةَ فَارْتَاحَ لِذٰلِكَ فَقَالَ اللَّهُمَّ هَالَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ
পরিচ্ছেদঃ খাদীজা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৩) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে) বলেছেন, ’’আমি (বিবাহের পূর্বে) তোমাকে দু-দুবার স্বপ্নে দেখেছি। দেখলাম তুমি এক খণ্ড রেশমবস্ত্রের মধ্যে রয়েছ। আর আমাকে কেউ বলছে, ’এ হল তোমার স্ত্রী।’ আমি কাপড় সরিয়ে দেখি, সে তো তুমিই। তারপর ভাবলাম, যদি এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়, তাহলে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন।
عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أُرِيتُكِ فِى الْمَنَامِ ثَلاَثَ لَيَالٍ جَاءَنِى بِكِ الْمَلَكُ فِى سَرَقَةٍ مِنْ حَرِيرٍ فَيَقُوْلُ هَذِهِ امْرَأَتُكَ فَأَكْشِفُ عَنْ وَجْهِكِ فَإِذَا أَنْتِ هِىَ فَأَقُولُ إِنْ يَكُ هٰذَا مِنْ عِنْدِ اللهِ يُمْضِهِ
পরিচ্ছেদঃ আয়েশা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৪) উরওয়াহ বলেন, যেদিন তাঁর বাড়িতে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পালা থাকত, সে দিনই বিশেষ ক’রে লোকেরা তাঁর কাছে উপহার-উপঢৌকন পাঠাত। সুতরাং একদিন সকল সপত্নী উম্মে সালামা (রাঃ)র বাসায় একত্রিত হয়ে বলাবলি করল, ’হে উম্মে সালামা! আল্লাহর কসম! লোকেরা তো বেছে বেছে আয়েশার দিনেই তার বাসাতেই উপহার-উপঢৌকন পাঠায়। অথচ আমরাও মঙ্গল চাই, যেমন আয়েশা চায়। তুমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বল, যাতে তিনি লোকেদেরকে এই আদেশ করেন যে, তিনি যেখানেই থাকেন, যেখানেই তাঁর পালা থাক, তারা যেন সেখানেই নিজেদের উপহার-উপঢৌকন পাঠায়।’
সুতরাং উম্মে সালামা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সে কথা বললেন। কিন্তু তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। উম্মে সালামা আবারও বললেন। কিন্তু তিনি আবারও মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তৃতীয়বার সে কথা উল্লেখ করলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, হে উম্মে সালামা! আয়েশার ব্যাপারে তুমি আমাকে কষ্ট দিয়ো না। যেহেতু আল্লাহর কসম! সে ছাড়া তোমাদের মধ্যে অন্য কোন স্ত্রীর লেপের ভিতর থাকা অবস্থায় আমার প্রতি অহী অবতীর্ণ হয়নি।
عَنْ عُرْوَةَ قَالَ كَانَ النَّاسُ يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ قَالَتْ عَائِشَةَ فَاجْتَمَعَ صَوَاحِبِي إِلٰـى أُمِّ سَلَمَةَ فَقُلْنَ يَا أُمَّ سَلَمَةَ وَاللهِ إِنَّ النَّاسَ يَتَحَرَّوْنَ بِهَدَايَاهُمْ يَوْمَ عَائِشَةَ وَإِنَّا نُرِيدُ الْخَيْرَ كَمَا تُرِيدُهُ عَائِشَةَ فَمُرِي رَسُوْلَ اللهِ ﷺ أَنْ يَأْمُرَ النَّاسَ أَنْ يُهْدُوا إِلَيْهِ حَيْثُ مَا كَانَ أَوْ حَيْثُ مَا دَارَ قَالَتْ فَذَكَرَتْ ذٰلِكَ أُمُّ سَلَمَةَ لِلنَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ فَأَعْرَضَ عَنِّي فَلَمَّا عَادَ إِلَيَّ ذَكَرْتُ لَهُ ذَاكَ فَأَعْرَضَ عَنِّي فَلَمَّا كَانَ فِي الثَّالِثَةِ ذَكَرْتُ لَهُ فَقَالَ يَا أُمَّ سَلَمَةَ لَا تُؤْذِينِي فِي عَائِشَةَ فَإِنَّهُ وَاللهِ مَا نَزَلَ عَلَيَّ الْوَحْيُ وَأَنَا فِي لِحَافِ امْرَأَةٍ مِنْكُنَّ غَيْرِهَا
পরিচ্ছেদঃ আয়েশা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৫) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সমস্ত মহিলাদের মধ্যে আয়েশার মর্যাদা ঐরূপ, যেমন সমস্ত খাদ্যের মধ্যে ’সারীদ’ (মাংস মিশ্রিত রুটির পলান্ন) সর্বাধিক বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে।
عَنْ أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ فَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
পরিচ্ছেদঃ আয়েশা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৬) আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন,
(يَا عَائِشَةُ هٰذَا جِبْرِيْلُ يُقْرِئُكِ السَّلَامَ)
হে আয়েশ! এই জিবরীল (আঃ) তোমাকে সালাম পেশ করছেন।
আমিও উত্তরে বললাম, ’অআলাইহিস সালামু অরাহ্মাতুল্লাহি অবারাকাতুহ।’
(ইয়া রাসূলাল্লাহ!) আমরা যা দেখতে পাই না, তা আপনি দেখতে পান।
-
পরিচ্ছেদঃ আয়েশা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৭) একদা আমর বিন আস (রাঃ) তাঁকে (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে) জিজ্ঞাসা করলেন, ’লোকেদের মধ্যে আপনার সবচেয়ে প্রিয়তম কে?’
উত্তরে তিনি বললেন, ’আয়েশা।’
-পুরুষদের মধ্যে কে?
তিনি বললেন, ’তার আব্বা।’
-তারপর কে?
তিনি বললেন, ’উমার বিন খাত্ত্বাব।’
অতঃপর আরো কিছু লোকের নাম নিলেন।
عَنْ عَمْرٍو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قُلْتُ لِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ؟ قَالَ عَائِشَةَ قُلْتُ مِنْ الرِّجَالِ قَالَ أَبُوهَا قُلْتُ ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ عُمَرُ فَعَدَّ رِجَالًا
পরিচ্ছেদঃ ফাতেমা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৮) হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার নিকট এক ফিরিশতা আসমান থেকে অবতরণ করে আমাকে সালাম দিয়েছেন, যিনি ইতিপূর্বে কোনদিন অবতরণ করেননি। তিনি আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, হাসান ও হুসাইন জান্নাতী যুবকদের সর্দার এবং ফাতেমা জান্নাতী মহিলাদের সর্দার।
عَنْ حُذَيْفَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أتانِي مَلَكٌ فَسَلَّمَ عَلَيَّ نَزَلَ مِنَ السَّماءِ لَمْ يَنْزِلْ قَبْلَهَا فَبَشَّرَنِـيْ أنَّ الْـحَسَنَ والْـحُسَيْـنَ سَيِّدَا شَبَابِ أهْلِ الْـجَنَّةِ وأنَّ فاطِمَةَ سَيِّدَةُ نِسَاءِ أهْلِ الْـجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ ফাতেমা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৬৯) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, ’আকার-আচরণ ও কথাবার্তায় ফাতেমা (কার্রামাল্লাহু অজহাহা) ছাড়া অন্য কাউকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সদৃশ দেখিনি। ফাতেমা তাঁর কাছে এলে তিনি তার দিকে উঠে যেতেন, স্বাগত জানাতেন, তার হাত ধরতেন, তাকে চুমা দিতেন এবং তাঁর বসার জায়গায় বসাতেন। আর তিনি তাঁর কাছে এলে সে তাঁর দিকে উঠে যেত, স্বাগত জানাত, তাঁর হাত ধরত, তাঁকে চুমা দিত এবং তার বসার জায়গায় বসাত।’
عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ عَنْ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ عَائِشَةَ رضى الله عنها أَنَّهَا قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا كَانَ أَشْبَهَ سَمْتًا وَهَدْيًا وَدَلاًّ - وَقَالَ الْحَسَنُ حَدِيثًا وَكَلاَمًا وَلَمْ يَذْكُرِ الْحَسَنُ السَّمْتَ وَالْهَدْىَ وَالدَّلَّ - بِرَسُوْلِ اللهِ ﷺ مِنْ فَاطِمَةَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهَا كَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَيْهِ قَامَ إِلَيْهَا فَأَخَذَ بِيَدِهَا وَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِى مَجْلِسِهِ وَكَانَ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ إِلَيْهِ فَأَخَذَتْ بِيَدِهِ فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِى مَجْلِسِهَا
পরিচ্ছেদঃ ফাতেমা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৭০) মিসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা আলী (রাঃ) আবূ জাহলের কন্যাকে বিবাহের পয়গাম দিলে ফাতেমা শুনে আববার কাছে এসে বললেন, ’আপনার গোষ্ঠী মনে করে যে, আপনি আপনার মেয়েদের স্বার্থে রাগ দেখান না। এই আলী আবূ জাহলের মেয়েকে বিয়ে করতে চায়!’ এ কথা শুনে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে দাঁড়ালেন এবং কালেমা শাহাদত পড়ে বললেন, ’’অতঃপর বলি যে, আমি আবুল আস বিন রাবীকে (মেয়ে) বিবাহ দিয়েছি, সে আমাকে কথা দিয়ে কথা সত্য প্রমাণ করেছে। আর ফাতেমা আমার দেহের টুকরা। আমি তার খারাপ লাগাকে অপছন্দ করি। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রসূলের বেটি ও আল্লাহর দুশমনের বেটি একই ব্যক্তির কাছে একত্র হতে পারে না।’’ সুতরাং এর পর আলী (রাঃ) ঐ পয়গাম প্রত্যাহার ক’রে নেন। (বুখারী ৩৭২৯)
অন্য বর্ণনায় আছে, আমার মেয়ে আমার দেহের টুকরা। তাকে যা উদ্বিগ্ন করে, আমাকেও তাই উদ্বিগ্ন করে। তাকে যা কষ্ট দেয়, আমাকেও তাই কষ্ট দেয়। (মুসলিম ৬৪৬০)
عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ قَالَ إِنَّ عَلِيًّا خَطَبَ بِنْتَ أَبِـيْ جَهْلٍ فَسَمِعَتْ بِذٰلِكَ فَاطِمَةُ فَأَتَتْ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَتْ يَزْعُمُ قَوْمُكَ أَنَّكَ لَا تَغْضَبُ لِبَنَاتِكَ وَهٰذَا عَلِيٌّ نَاكِحٌ بِنْتَ أَبِـيْ جَهْلٍ فَقَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ يَقُوْلُ أَمَّا بَعْدُ أَنْكَحْتُ أَبَا الْعَاصِ بْنَ الرَّبِيعِ فَحَدَّثَنِي وَصَدَقَنِي وَإِنَّ فَاطِمَةَ بَضْعَةٌ مِنِّي وَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَسُوءَهَا وَاللهِ لَا تَجْتَمِعُ بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَبِنْتُ عَدُوِّ اللهِ عِنْدَ رَجُلٍ وَاحِدٍ، فَتَرَكَ عَلِيٌّ الْخِطْبَةَ
وفي رواية فَإِنَّمَا ابْنَتِى بَضْعَةٌ مِنِّى يَرِيبُنِى مَا رَابَهَا وَيُؤْذِينِى مَا آذَاهَا
পরিচ্ছেদঃ ফাতেমা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৭১) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, হিজরতের পূর্বে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা’বাগৃহের পাশে নামায পড়ছিলেন। আবূ জাহ্ল ও তার কিছু সাথী সেখানে বসে ছিল। গতকাল উট যবাই হয়েছিল। আবূ জাহ্ল বলল, ’অমুক গোত্রের উটনীর (গর্ভাশয়) ফুলটা নিয়ে এসে মুহাম্মাদের ঘাড়ে কে রাখতে পারবে?’ এ কথা শুনে সম্প্রদায়ের সব চাইতে বেশি হতভাগা লোকটি উঠে গিয়ে ফুলটি নিয়ে এল। অতঃপর যখনই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদায় গেলেন, তখনই সে সেটাকে তাঁর ঘাড়ে চাপিয়ে দিল! আর তা দেখে ওরা একে অন্যের গায়ে ঢলাঢলি ক’রে হাসতে শুরু করল। সেখানে এমন কেউ ছিল না, যে সেটাকে তাঁর ঘাড় থেকে সরিয়ে দেবে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদাতেই থাকলেন। অতঃপর কোন একজন তা দেখে নিজে কিছু করতে না পেরে নবী-কন্যা ফাতেমাকে গিয়ে খবর দিল। কিশোরী ফাতেমা আববার এমন বিপদের কথা শুনে ছুটে এসে তা তাঁর ঘাড় হতে সরিয়ে ফেললেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে গালাগালি করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করে উচ্চস্বরে ঐ দৃষ্কৃতীদের জন্য বদ্দুআ করলেন এবং তা কবুলও হয়ে গেল।
عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يُصَلِّى عِنْدَ الْبَيْتِ وَأَبُو جَهْلٍ وَأَصْحَابٌ لَهُ جُلُوسٌ وَقَدْ نُحِرَتْ جَزُورٌ بِالأَمْسِ فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ أَيُّكُمْ يَقُومُ إِلٰـى سَلاَ جَزُورِ بَنِى فُلاَنٍ فَيَأْخُذُهُ فَيَضَعُهُ فِى كَتِفَىْ مُحَمَّدٍ إِذَا سَجَدَ فَانْبَعَثَ أَشْقَى الْقَوْمِ فَأَخَذَهُ فَلَمَّا سَجَدَ النَّبِىُّ ﷺ وَضَعَهُ بَيْنَ كَتِفَيْهِ قَالَ فَاسْتَضْحَكُوا وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَمِيلُ عَلَى بَعْضٍ وَأَنَا قَائِمٌ أَنْظُرُ لَوْ كَانَتْ لِـىْ مَنَعَةٌ طَرَحْتُهُ عَنْ ظَهْرِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ وَالنَّبِىُّ ﷺ سَاجِدٌ مَا يَرْفَعُ رَأْسَهُ حَتّٰـى انْطَلَقَ إِنْسَانٌ فَأَخْبَرَ فَاطِمَةَ فَجَاءَتْ وَهِىَ جُوَيْرِيَةُ فَطَرَحَتْهُ عَنْهُ ثُمَّ أَقْبَلَتْ عَلَيْهِمْ تَشْتِمُهُمْ فَلَمَّا قَضَى النَّبِىُّ ﷺ صَلاَتَهُ رَفَعَ صَوْتَهُ ثُمَّ دَعَا عَلَيْهِمْ
পরিচ্ছেদঃ ফাতেমা (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৭২) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীরা সকলেই তাঁর কাছে ছিল। ইত্যবসরে ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) হেটে (আমাদের নিকট) এল। তার চলন এবং আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চলনের মধ্যে কোন পার্থক্য ছিল না। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে দেখে স্বাগত জানালেন এবং বললেন, ’আমার কন্যার শুভাগমন হোক।’ অতঃপর তিনি তাকে নিজের ডান অথবা বাম পাশে বসালেন। তারপর তিনি তাকে কানে কানে গোপনে কিছু বললেন। ফাতেমা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) জোরেশোরে কাঁদতে আরম্ভ করল। সুতরাং তিনি তার অস্থিরতা দেখে পুনর্বার তাকে কানে কানে কিছু বললেন। ফলে (এবার) সে হাসতে লাগল। (আয়েশা বলেন,) অতঃপর আমি ফাতেমাকে বললাম, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের মাঝে (তাদেরকে বাদ দিয়ে) তোমাকে গোপনে কিছু বলার জন্য বেছে নেওয়া সত্ত্বেও তুমি কাঁদছ?’ তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন উঠে গেলেন, তখন আমি তাকে বললাম, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বললেন?’ সে বলল, ’আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোপন কথা প্রকাশ করব না।’
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইন্তেকাল করলে আমি ফাতেমাকে বললাম, ’তোমার প্রতি আমার অধিকার রয়েছে। তাই আমি তোমাকে কসম দিয়ে বলছি যে, তুমি আমাকে বল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমাকে কী বলেছিলেন?’ সে বলল, ’এখন বলতে কোন অসুবিধা নেই।’ আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমবারে কানাকানি করার সময় আমাকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে, ’’জিবরীল (আঃ) প্রত্যেক বছর একবার (অথবা দু’বার) ক’রে কুরআন শোনান। কিন্তু এখন তিনি দু’বার শুনালেন। সুতরাং আমি বুঝতে পারছি যে, আমার মৃত্যু সন্নিকটে। সুতরাং তুমি (হে ফাতেমা!) আল্লাহকে ভয় করো এবং ধৈর্য ধারণ করো। কেননা, আমি তোমার জন্য উত্তম অগ্রগামী।’’ সুতরাং আমি (এ কথা শুনে) কেঁদে ফেললাম, যা তুমি দেখলে। অতঃপর তিনি আমার অস্থিরতা দেখে দ্বিতীয়বার কানে কানে বললেন, ’’হে ফাতেমা! তুমি কি এটা পছন্দ কর না যে, মু’মিন নারীদের তুমি সর্দার হবে অথবা এই উম্মতের নারীদের সর্দার হবে?’’ সুতরাং (এমন সুসংবাদ শুনে) আমি হাসলাম, যা তুমি দেখলে।’
وَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كُنَّ أَزْوَاجُ النَّبيِّ ﷺ عِنْدَهُ فَأقْبَلَتْ فَاطِمَةُ رَضِيَ اللهُ عَنهَا تَمْشِي مَا تُخْطِئُ مِشيتُهَا مِنْ مشْيَةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ شَيْئاً فَلَمَّا رَآهَا رَحَّبَ بِهَا وَقَالَ مَرْحَباً بابْنَتِي ثُمَّ أجْلَسَهَا عَنْ يَمِينِهِ أَوْ عَنْ شِمَالِهِ ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكتْ بُكَاءً شَدِيداً فَلَمَّا رَأَى جَزَعَهَا سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَضَحِكَتْ فَقُلتُ لَهَا : خَصَّكِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مِنْ بَيْنِ نِسَائِهِ بِالسِّرَارِ ثُمَّ أنْتِ تَبْكِينَ فَلَمَّا قَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ سَألْتُهَا : مَا قَالَ لَكِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ؟ قَالَتْ : مَا كُنْتُ لأُفْشِي عَلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ سِرَّهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ قُلْتُ : عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لِي عَلَيْكِ مِنَ الحَقِّ لَمَا حَدَّثْتِنِي مَا قَالَ لَكِ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ ؟ فَقَالَتْ : أمَّا الآنَ فَنَعَمْ أمَّا حِيْنَ سَارَّنِي في المَرَّةِ الأُولَى فَأَخْبَرَنِي أَنَّ جِبْريلَ كَانَ يُعَارِضُهُ القُرآنَ فِي كُلِّ سَنَةٍ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ وَأنَّهُ عَارَضَهُ الآنَ مَرَّتَيْنِ وَإنِّي لا أُرَى الأجَلَ إِلاَّ قَدِ اقْتَرَبَ فَاتَّقِي اللهَ وَاصْبِرِي فَإِنَّهُ نِعْمَ السَّلَفُ أنَا لَكِ فَبَكَيْتُ بُكَائِي الَّذِي رَأيْتِ فَلَمَّا رَأى جَزَعِي سَارَّنِي الثَّانِيَةَ فَقَالَ يَا فَاطِمَةُ أمَا تَرْضَيْنَ أنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ المُؤُمِنِينَ أَوْ سَيَّدَةَ نِساءِ هذِهِ الأُمَّةِ ؟ فَضَحِكتُ ضَحِكِي الَّذِي رَأيْتِ متفقٌ عَلَيْهِ وهذا لفظ مسلم
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّمَا يُرِيْدُ اللهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَـيْـتِ وَيُـطَـهِّـرَكُمْ تَـطْـهِـيْـرًا
অর্থাৎ, হে নবী-পরিবার! আল্লাহ তো কেবল তোমাদের মধ্য থেকে অপবিত্রতা দূর করতে চান এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে চান। (সূরা আহ্যাব ৩৩)
তিনি আরো বলেন,
وَمَنْ يُّعَظِّمْ شَعَائِرَ اللهِ فَإِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ
অর্থাৎ, কেউ আল্লাহর (দ্বীনের) প্রতীকসমূহের সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের সংযমশীলতারই বহিঃপ্রকাশ। (সূরা হজ্জ্ব ৩২)
(২৮৭৩) ইয়াযীদ ইবনে হাইয়ান বলেন, আমি, হুস্বাইন ইবনে সাবরাহ ও আমর ইবনে মুসলিম যায়দ ইবনে আরক্বামের নিকট গেলাম । যখন আমরা তাঁর পাশে বসলাম, তখন হুস্বাইন তাঁকে বললেন, ’হে যায়দ! আপনি প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছেন; আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছেন, তাঁর হাদীস শুনেছেন, তাঁর সাথে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং তাঁর পিছনে নামায পড়েছেন। হে যায়দ! আপনি প্রভূত কল্যাণপ্রাপ্ত হয়েছেন। আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোন কথা শুনান, যা আপনি (স্বয়ং) তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন।’ তিনি বললেন, ’হে ভাতিজা! আল্লাহর কসম! আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে) আমার যে যুগটা কেটেছে, তাও যথেষ্ট পুরানো হয়ে গেছে। (ফলে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যে কথা আমার স্মরণে ছিল, তার কিছু ভুলে গেছি। সুতরাং আমি যা বলব, তা গ্রহণ কর এবং যা বর্ণনা করব না, তার জন্য আমাকে বাধ্য করো না।’ অতঃপর তিনি বললেন, ’একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে মক্কা ও মদীনার মধ্যে ’খুম’ নামক ঝর্ণার নিকটে খুতবাহ দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন। তিনি সর্বাগ্রে আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং ওয়ায করলেন ও উপদেশ দিলেন।
অতঃপর বললেন, ’’আম্মা বা’দ। হে লোকেরা! শোনো, আমি একজন মানুষ মাত্র, শীঘ্রই (আমার নিকট) আমার প্রতিপালকের দূত আসবেন এবং আমি (আল্লাহর নিকট যাওয়ার জন্য) তাঁর ডাকে সাড়া দেব। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) বস্তু ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি আল্লাহর কিতাব, যাতে হিদায়াত ও আলো রয়েছে। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কিতাবকে গ্রহণ কর এবং তা মযবুত ক’রে ধারণ কর।’’ সুতরাং তিনি আল্লাহর কিতাবের উপর (আমল করার প্রতি) উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করলেন। অতঃপর বললেন, ’’(আর দ্বিতীয় বস্তুটি হচ্ছে,) আমার পরিবার; আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহর স্মরণ দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে আমার পরিবারের ব্যাপারে আল্লাহর স্মরণ দিচ্ছি।’’ তারপর হুস্বাইন তাঁকে বললেন, ’রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামএর পরিবার কারা? হে যায়দ! তাঁর স্ত্রীরা কি তাঁর পরিবারভুক্ত নন?’ তিনি (যায়দ) বললেন, ’(নিঃসন্দেহে) স্ত্রীরা তাঁর পরিবারভুক্ত। কিন্তু তাঁর পরিবার (বলতে) তাঁরা, যাঁদের উপর তাঁর (মৃত্যুর) পর সাদকাহ হারাম করা হয়েছে।’ হুস্বাইন জিজ্ঞেস করলেন, ’তাঁরা কারা?’ যায়দ জবাব দিলেন, ’তাঁরা হচ্ছেন আলীর পরিবার, আক্বীলের পরিবার, জা’ফরের পরিবার এবং আব্বাসের পরিবার।’ হুস্বাইন বললেন, ’এদের সকলের প্রতি সাদকাহ হারাম করা হয়েছে?’ তিনি বললেন, ’হ্যাঁ।’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, শোনো, আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী (গুরুত্বপূর্ণ) জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি। তার মধ্যে একটি হল আল্লাহর কিতাব; আর তা আল্লাহর রশি। যে ব্যক্তি তার অনুসরণ করবে, সে সঠিক পথে থাকবে এবং যে তা পরিহার করবে, সে ভ্রষ্টতায় থাকবে।
عنْ يَزِيْدَ بنِ حَيَّانَ قَالَ : انْطَلَقْتُ أنَا وحُصَيْنُ بْنُ سَبْرَة وَعَمْرُو ابنُ مُسْلِم إِلٰـى زَيْدِ بْنِ أرقَمَ فَلَمَّا جَلسْنَا إِلَيْهِ قَالَ لَهُ حُصَيْن : لَقَدْ لقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْراً كَثِيراً رَأيْتَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ وَسَمِعتَ حَدِيثَهُ وغَزوْتَ مَعَهُ وَصَلَّيْتَ خَلْفَهُ : لَقَدْ لَقِيتَ يَا زَيْدُ خَيْراً كَثيراً حَدِّثْنَا يَا زَيْدُ مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ : يَا ابْنَ أخِي وَاللهِ لقد كَبِرَتْ سِنِّي وَقَدُمَ عَهدِي وَنَسِيتُ بَعْضَ الَّذِي كُنْتُ أعِي مِنْ رَسُوْلِ الله ﷺ فَمَا حَدَّثْتُكُمْ فَاقْبَلُوا وَمَا لاَ فَلاَ تُكَلِّفُونيهِ ثُمَّ قَالَ: قَامَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوماً فِينَا خَطِيباً بمَاءٍ يُدْعَى خُمَّاً بَيْنَ مَكَّةَ وَالمَدِينَةِ فَحَمِدَ الله وَأثْنَى عَلَيهِ وَوعظَ وَذَكَّرَ ثُمَّ قَالَ أمَّا بَعدُ ألاَ أَيُّهَا النَّاسُ فَإنَّمَا أنَا بَشَرٌ يُوشِكَ أنْ يَأتِي رَسُوْلُ ربِّي فَأُجِيبَ وَأنَا تَارِكٌ فِيكُم ثَقَلَيْنِ : أوَّلُهُمَا كِتَابُ اللهِ فِيهِ الهُدَى وَالنُّورُ فَخُذُوا بِكِتَابِ الله وَاسْتَمْسِكُوا بِهِ فَحَثَّ عَلَى كِتَابِ الله وَرَغَّبَ فِيهِ ثُمَّ قَالَ وَأهْلُ بَيْتِي أُذكِّرُكُمُ اللهَ في أهلِ بَيْتي أُذَكِّرُكُمُ الله في أَهلِ بَيتي فَقَالَ لَهُ حُصَيْنٌ : وَمَنْ أهْلُ بَيتهِ يَا زَيْدُ أَلَيْسَ نِسَاؤُهُ مِنْ أهْلِ بَيْتِهِ ؟ قَالَ : نِسَاؤُهُ مِنْ أهْلِ بَيتهِ وَلكِنْ أهْلُ بَيتِهِ مَنْ حُرِمَ الصَّدَقَةَ بَعدَهُ قَالَ : وَمَنْ هُمْ ؟ قَالَ : هُمْ آلُ عَلِيٍّ وَآلُ عَقِيلٍ وَآلُ جَعفَرَ وآلُ عَبَّاسٍ قَالَ : كُلُّ هَؤُلاَءِ حُرِمَ الصَّدَقَةَ ؟ قَالَ : نَعَمْ رواه مسلم وفي رواية ألاَ وَإنّي تَارِكٌ فِيكُمْ ثَقَليْنِ : أحَدُهُما كِتَابُ الله وَهُوَ حَبْلُ الله، مَنِ اتَّبَعَهُ كَانَ عَلَى الهُدَى وَمَنْ تَرَكَهُ كَانَ عَلَى ضَلالَة
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
(২৮৭৪) যায়দ বিন আরকাম (রাঃ) বলেন, বিদায়ী হজ্জে ’গাদীরে খুম’ নামক জায়গায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছিলেন,
كَأَنِّي قَدْ دُعِيتُ فَأَجَبْتُ إِنِّي قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمُ الثَّقَلَيْنِ أَحَدُهُمَا أَكْبَرُ مِنَ الآخَرِ : كِتَابُ اللهِ وَعِتْرَتِي أَهْلُ بَيْتِي فَانْظُرُوا كَيْفَ تَخْلُفُونِي فِيهِمَا فَإِنَّهُمَا لَنْ يَتَفَرَّقَا حَتَى يَرِدَا عَلَيَّ الْحَوْضَ
যেন আমি আহূত হয়েছি এবং সাড়া দিয়েছি। আমি তোমাদের মাঝে দু’টি ভারী জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি, একটি অপরটি অপেক্ষা অধিক বড়; আল্লাহর কিতাব ও আমার বংশধর, আহলে বায়ত। সুতরাং খেয়াল রেখো, কীভাবে তাদের ব্যাপারে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে। হওযে আমার কাছে না আসা পর্যন্ত উভয়ে পৃথক হবে না।
-
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
(২৮৭৫) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আরাফার দিন খুতবায়) বলেছেন, ’হে লোক সকল! অবশ্যই আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস ছেড়ে যাচ্ছি; যদি তা ধারণ ক’রে থাকো, তবে কখনই তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না; আর তা হল, আল্লাহর কিতাব এবং আমার আহলে বায়ত।’ (তিরমিযী ৩৭৮৬)
অন্য বর্ণনায় আছে, ’আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।’ (হাকেম ৩১৮-৩১৯, সহীহ তারগীব ৩৬)
عَنْ جَابِرِ قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّى قَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا إِنْ أَخَذْتُمْ بِهِ لَنْ تَضِلُّوا : كِتَابَ اللهِ وَعِتْرَتِى : أَهْلَ بَيْتِى
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
(২৮৭৬) ইবনে উমার (রাঃ) আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে মাওকূফ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি তাঁর পরিবারবর্গের মাধ্যমে সম্মান প্রদর্শন কর।
وَعَنْ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَن أَبِـيْ بَكرٍ الصِّدِّيقِ - مَوقُوفاً عَلَيهِ - أنَّهُ قَالَ : ارْقَبُوا مُحَمداً ﷺ في أهْلِ بَيْتِهِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
(২৮৭৭) ওয়াসিলাহ বিন আসক্বা’ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ ইসমাঈলের বংশধর থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন। ক্বুরাইশকে মনোনীত করেছেন কিনানা থেকে। বানী হাশেমকে মনোনীত করেছেন ক্বুরাইশ থেকে। আর আমাকে মনোনীত করেছেন বানী হাশেম থেকে।
عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ اللهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِى هَاشِمٍ وَاصْطَفَانِى مِنْ بَنِى هَاشِمٍ
পরিচ্ছেদঃ রসূল (ﷺ) এর বংশধরের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা এবং তাঁদের মাহাত্ম্যের বিবরণ
(২৮৭৮) আব্বাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব। মহান আল্লাহ সৃষ্টি রচনা ক’রে আমাকে সৃষ্টির সেরা (মানুষের) দলভুক্ত করেছেন। সৃষ্টিকে (আরব ও আজম) দুই দলে বিভক্ত করেছেন এবং আমাকে উত্তম দলে স্থান দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন গোত্র সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ গোত্রে জন্ম দিয়েছেন। বিভিন্ন বাড়ি সৃষ্টি করেছেন এবং আমাকে সর্বশ্রেষ্ঠ বাড়িতে প্রেরণ করেছেন। সুতরাং আমি বাড়ির দিক দিয়ে তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ এবং ব্যক্তির দিক দিয়েও তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ।
عَنِ الْعَبَّاسِ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ إِنَّ اللهَ خَلَقَ الْخَلْقَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِ خَلْقِهِ وَجَعَلَهُمْ فِرْقَتَيْنِ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِ فِرْقَةٍ وَخَلَقَ الْقَبَائِلَ فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِ قَبِيلَةٍ وَجَعَلَهُمْ بُيُوتًا فَجَعَلَنِي فِي خَيْرِهِمْ بَيْتًا فَأَنَا خَيْرُكُمْ بَيْتًا وَخَيْرُكُمْ نَفْسًا
পরিচ্ছেদঃ বদরী সাহাবাগণের মর্যাদা
(২৮৭৯) মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অতি সংগোপনে মক্কা-বিজয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করছিলেন। কিন্তু হাত্বেব মক্কায় কুরাইশদের নিকট এই সংবাদ দিয়ে পত্র লিখেন যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা আক্রমণ করতে যাচ্ছেন। পারিশ্রমিক প্রদানের প্রতিশ্রুতি সাপেক্ষি তিনি এক মহিলার মাধ্যমে পত্রটি প্রেরণ করেন। মহিলাটি তাঁর চুলের খোঁপার ভিতরে পত্রটি রেখে পথ চলছিল। কিন্তু আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর পক্ষ হতে অহীর মাধ্যমে হাত্বেবের উক্ত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত হলেন। সুতরাং তিনি আলী, মিক্বদাদ, যুবাইর ও আবূ মারষাদ (রাঃ) কে এই বলে প্রেরণ করলেন যে, তোমরা ’রওযাতু খাখ’ নামক জায়গায় গিয়ে সেখানে এক হাওদা-নশীন মহিলাকে দেখতে পাবে। ঐ মহিলাদের নিকট কুরাইশদের জন্য লিখিত ও প্রেরিত একটি পত্র আছে। সেই পত্রটি তার কাছ থেকে উদ্ধার করতে হবে।
উল্লিখিত সাহাবাগণ অশ্বপৃষ্ঠে আরোহণপূর্বক অত্যন্ত দ্রুতগতিতে মহিলার নাগাল পাওয়ার জন্য ছুটে গেলেন এবং এক পর্যায়ে যথাস্থানে সেই মহিলাকে দেখতে পেলেন। তাঁরা ঐ মহিলাকে উটের পিঠ থেকে অবতরণ করিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন তার কাছে কোন পত্র আছে কি না? কিন্তু সে তার নিকট পত্র থাকার কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করল। তার উটের হাওদায় তল্লাশী চালিয়েও কোন পত্র না পাওয়ায় তাঁরা চিন্তিত হয়ে পড়লেন। অবশেষে আলী (রাঃ) বললেন, ’আমি আল্লাহর কসম ক’রে বলছি যে, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা বলেননি। অথবা আমরাও মিথ্যা বলছি না। হয় তুমি পত্রখানা বের ক’রে দাও, নচেৎ তোমাকে সম্পূর্ণ উলঙ্গ ক’রে তল্লাশী চালাব।’
মহিলা যখন তাঁদের দৃঢ়তা অনুভব করল, তখন বলল, ’আচ্ছা! তাহলে তোমরা অন্য দিকে মুখ ফিরাও।’ তাঁরা অন্য দিকে মুখ ফিরালে সে তার কোমরে বাঁধা ওড়না বা মাথার চুলের খোঁপা থেকে পত্রখানা বের ক’রে তাঁদের হাতে দিল। তাঁরা তা নিয়ে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি হাত্বেবকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ’’তুমি এমন সাংঘাতিক কাজ করেছ কেন?’’
হাত্বেব বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! এ ব্যাপারে তাড়াতাড়ি আমার বিরুদ্ধে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আল্লাহর কসম! আল্লাহ ও তাঁর রসূলের উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে। আমি ধর্মত্যাগী নই এবং আমার মধ্যে কোন পরিবর্তনও আসেনি। কুরাইশদের সঙ্গে আমার কোন রক্তের সম্পর্কও নেই। তবে কথা হচ্ছে এই যে, কোন কোন ব্যাপারে আমি তাদের সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ছিলাম এবং আমার পরিবারের সদস্য ও সন্তান-সন্ততিরা সেখানেই আছে। তাদের সাথে আমার এমন কোন আত্মীয়তা বা সম্পর্ক নেই যে, তার ফলে আমার পরিবারের লোকজনদের দেখাশোনা করবে। পক্ষান্তরে আমার সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের সকলেরই আত্মীয়-স্বজন রয়েছে, যারা তাদের আপনজনদের দেখাশোনা করবে। যদিও এ কাজ সম্পূর্ণ বেআইনী ও আমার অধিকার বহির্ভূত, তবুও ঐ একটি উদ্দেশ্যেই আমি কুরাইশদের প্রতি একটু এহসানী করতে চেয়েছিলাম। যাতে তারা তার বিনিময়ে আমার আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি যত্নশীল হয়।’
সে কাজ এত বড় মারাত্মক ছিল যে, উমার (রাঃ) উত্তেজিত হয়ে বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দিই। কারণ সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং মুনাফিক হয়ে গেছে।’
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’হে উমার! তুমি কি জানো না যে, সে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে? আর নিশ্চয় আল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের (অবস্থা) জেনে ও দেখে বলেছেন, ’তোমরা যা ইচ্ছা তাই কর, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা ক’রে দিয়েছি।’’
এ কথা শুনে উমার (রাঃ) এর চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠল। তিনি বললেন, ’আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন।’ (বুখারী, মুসলিম ৬৫৫৭, আর-রাহীক্বুল মাখতূম ২/২৬০-২৬২)
কোন কোন বর্ণনায় আছে, ’’তোমরা যা ইচ্ছা তাই কর, আমি তোমাদের জন্য জান্নাত ওয়াজিব ক’রে দিয়েছি।’’ (বুখারী ৬৯৩৯)
-
পরিচ্ছেদঃ বদরী সাহাবাগণের মর্যাদা
(২৮৮০) উম্মে রুবাইয়ে’ বিনতে বারা’ যিনি হারেষাহ ইবনে সূরাকার মা, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললেন, ’ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে হারেষাহ সম্পর্কে কিছু বলবেন না? সে বদরের দিনে খুন হয়েছিল। যদি সে জান্নাতী হয়, তাহলে ধৈর্য ধারণ করব, অন্যথা তার জন্য মন ভরে অত্যধিক কান্না করব।’ তিনি বললেন,
يَا أُمَّ حَارِثَةَ إِنَّهَا جِنَانٌ فِي الْجَنَّةِ، وَإِنَّ ابْنَكِ أَصَابَ الْفِرْدَوْسَ الْأَعْلٰـى
হে হারেসার মা! জান্নাতের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের জান্নাত আছে। আর তোমার ছেলে তো সর্বোচ্চ ফিরদাউস (জান্নাতে) পৌঁছে গেছে।
-
পরিচ্ছেদঃ বদরী সাহাবাগণের মর্যাদা
(২৮৮১) জাবের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
لَا يَدْخُلُ النَّارَ أَحَدٌ شَهِدَ بَدْرًا وَالْـحُدَيْبِيَةَ
অর্থাৎ, যে কেউ বদর ও হুদাইবিয়্যাতে উপস্থিত ছিল, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
-
পরিচ্ছেদঃ বদরী সাহাবাগণের মর্যাদা
(২৮৮২) রিফাআহ ইবনে রাফে’ যুরাক্বী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিবরীল এসে বললেন, ’বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারীদেরকে আপনাদের মাঝে কিরূপ গণ্য করেন?’ তিনি বললেন, ’’সর্বশ্রেষ্ঠ মুসলিমদের শ্রেণীভুক্ত গণ্য করি।’’ অথবা অনুরূপ কোন বাক্যই তিনি বললেন। (জিবরীল) বললেন, ’বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ফিরিশতাগণও অনুরূপ (সর্বশ্রেষ্ঠ ফিরিশতাগণের শ্রেণীভুক্ত)।’
و عَنْ رِفَاعَةَ بنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ قَالَ : جَاءَ جِبرِيلُ إلَى النَّبِيِّ ﷺ قَالَ : مَا تَعُدُّوْنَ أَهْلَ بَدْرٍ فِيكُمْ؟ قَالَ مِنْ أَفْضَلِ المُسْلِمِينَ أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا قَالَ : وَكَذلِكَ مَنْ شَهِدَ بَدْراً مِنَ المَلائِكَةِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ আনসারদের মাহাত্ম্য
(২৮৮৩) বারা’ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মু’মিন মাত্রই আনসারকে ভালোবাসে এবং মুনাফিক মাত্রই তাদেরকে ঘৃণা করে। সুতরাং তাদেরকে যে ভালোবাসবে, আল্লাহ তাকে ভালোবাসবেন এবং তাদেরকে যে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাকে ঘৃণা করবেন।
عَنْ البراء قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ الْأَنْصَارُ لَا يُحِبُّهُمْ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضُهُمْ إِلَّا مُنَافِقٌ فَمَنْ أَحَبَّهُمْ أَحَبَّهُ اللهُ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ أَبْغَضَهُ اللهُ
পরিচ্ছেদঃ আনসারদের মাহাত্ম্য
(২৮৮৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সে ব্যক্তি আনসারকে ঘৃণা করে না, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يُبْغِضُ الأَنْصَارَ رَجُلٌ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৮৫) আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নক্ষত্রমণ্ডলী আকাশের জন্য নিরাপত্তা। নক্ষত্রমণ্ডলী ধ্বংস হলে আকাশে তার প্রতিশ্রম্নত জিনিস এসে যাবে। আর আমি আমার সাহাবার জন্য নিরাপত্তা। আমি চলে গেলে আমার সাহাবার কাছে প্রতিশ্রুত জিনিস এসে যাবে। অনুরূপ আমার সাহাবাবর্গ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তা। সুতরাং আমার সাহাবাবর্গ বিদায় নিলে আমার উম্মতের মাঝে প্রতিশ্রুত জিনিস এসে পড়বে।
عَنْ أَبِـيْ مُوسٰى قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ النُّجُومُ أَمَنَةٌ لِلسَّمَاءِ فَإِذَا ذَهَبَتِ النُّجُومُ أَتَى السَّمَاءَ مَا تُوعَدُ وَأَنَا أَمَنَةٌ لأَصْحَابِى فَإِذَا ذَهَبْتُ أَتَى أَصْحَابِى مَا يُوعَدُونَ وَأَصْحَابِى أَمَنَةٌ لأُمَّتِى فَإِذَا ذَهَبَ أَصْحَابِى أَتَى أُمَّتِى مَا يُوعَدُونَ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৮৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’লোকেদের নিকট একটি যুগ আসছে, যখন একটি জামাআত যুদ্ধে বের হবে। তাদেরকে বলা হবে, ’তোমাদের মাঝে কি এমন লোক আছে, যে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দর্শন করেছে?’ তারা বলবে, ’হ্যাঁ।’ সুতরাং তাদের বিজয় লাভ হবে। অতঃপর একটি জামাআত যুদ্ধে বের হবে। তাদেরকে বলা হবে, ’তোমাদের মাঝে কি এমন লোক আছে, যে তাকে দর্শন করেছে, যে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গ লাভ করেছে?’ তারা বলবে, ’হ্যাঁ।’ সুতরাং তাদের বিজয় লাভ হবে। অতঃপর একটি জামাআত যুদ্ধে বের হবে। তাদেরকে বলা হবে, ’তোমাদের মাঝে কি এমন লোক আছে, যে তাকে দর্শন করেছে, যে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গীর সঙ্গ লাভ করেছে?’ তারা বলবে, ’হ্যাঁ।’ সুতরাং তাদের বিজয় লাভ হবে।
عَنْ أبي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنْ النَّاسِ فَيَقُولُونَ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنْ النَّاسِ فَيُقَالَ هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ ثُمَّ يَأْتِي عَلَى النَّاسِ زَمَانٌ فَيَغْزُو فِئَامٌ مِنْ النَّاسِ فَيُقَالَ هَلْ فِيكُمْ مَنْ صَاحَبَ مَنْ صَاحَبَ أَصْحَابَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَيَقُولُونَ نَعَمْ فَيُفْتَحُ لَهُمْ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৮৭) আবূ আব্দুর রহমান জুহানী (রাঃ) বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বসে ছিলাম। এমন সময় দুই জন আরোহী দেখা গেল। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’ওরা (ইয়ামানের) কিন্দী মাযহিজী।’’
তারা তাঁর নিকট উপস্থিত হল। দেখা গেল তারা মাযহিজ গোত্রের দুই লোক। অতঃপর তাদের একজন তাঁর নিকটবর্তী হয়ে বায়আত করতে গেল। সুতরাং যখন সে তাঁর হাত ধরল, তখন বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি কী মনে করেন? যে আপনাকে দেখল, আপনার প্রতি ঈমান আনল, আপনার অনুসরণ করল এবং আপনার সত্যায়ন করল, তার জন্য কী?’
তিনি বললেন, সুসংবাদ বা সুখের জীবন সেই ব্যক্তির জন্য।
তারপর সে তাঁর হাত স্পর্শ ক’রে সরে গেল। অতঃপর দ্বিতীয় ব্যক্তি এসে তাঁর হাতে বায়আত করতে গেল। সুতরাং যখন সে তাঁর হাত ধরল, তখন বলল, ’হে আল্লাহর রসূল! আপনি কী মনে করেন? যে আপনার প্রতি ঈমান আনল, আপনার অনুসরণ করল এবং আপনার সত্যায়ন করল, কিন্তু আপনাকে দেখতে পেল না, তার জন্য কী?’
উত্তরে তিনি বললেন, সুসংবাদ বা সুখের জীবন সেই ব্যক্তির জন্য। অতঃপর সুসংবাদ বা সুখের জীবন সেই ব্যক্তির জন্য। অতঃপর সুসংবাদ বা সুখের জীবন সেই ব্যক্তির জন্য।
তারপর সে তাঁর হাত স্পর্শ ক’রে সরে গেল।
عَنْ أَبِـيْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُهَنِيِّ قَالَ بَيْنَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ إِذْ طَلَعَ رَاكِبَانِ فَلَمَّا رَآهُمَا قَالَ كِنْدِيَّانِ مَذْحِجِيَّانِ حَتّٰـى أَتَيَاهُ فَإِذَا رِجَالٌ مِنْ مَذْحِجٍ قَالَ فَدَنَا إِلَيْهِ أَحَدُهُمَا لِيُبَايِعَهُ قَالَ فَلَمَّا أَخَذَ بِيَدِهِ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ مَنْ رَآكَ فَآمَنَ بِكَ وَصَدَّقَكَ وَاتَّبَعَكَ مَاذَا لَهُ قَالَ طُوبَى لَهُ قَالَ فَمَسَحَ عَلَى يَدِهِ فَانْصَرَفَ ثُمَّ أَقْبَلَ الْآخَرُ حَتّٰـى أَخَذَ بِيَدِهِ لِيُبَايِعَهُ قَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَرَأَيْتَ مَنْ آمَنْ بِكَ وَصَدَّقَكَ وَاتَّبَعَكَ وَلَمْ يَرَكَ قَالَ طُوبَى لَهُ ثُمَّ طُوبَى لَهُ ثُمَّ طُوبَى لَهُ قَالَ فَمَسَحَ عَلَى يَدِهِ فَانْصَرَفَ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৮৮) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ’আল্লাহ বান্দাগণের অন্তরসমূহে দৃষ্টিপাত করলেন, তাতে তিনি মুহাম্মাদের অন্তরকে বান্দাগণের অন্তরসমূহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পেলেন। সুতরাং তিনি তাঁকে নিজের জন্য (বন্ধু) নির্বাচন করলেন এবং তাঁর দূত হিসাবে প্রেরণ করলেন। অতঃপর পুনরায় তিনি মুহাম্মাদ ছাড়া অন্য সকল বান্দাগণের অন্তরসমূহে দৃষ্টিপাত করলেন, তাতে তিনি মুহাম্মাদের সাহাবাদের অন্তরসমূহকে বান্দাগণের অন্তরসমূহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ পেলেন। সুতরাং তিনি তাঁদেরকে তাঁর নিজ নবীর মন্ত্রী বানালেন, যাঁরা তাঁর দ্বীনের জন্য সংগ্রাম করবেন। সুতরাং মুসলিম (সাহাবা)গণ যেটাকে ভালো মনে করেন, সেটা আল্লাহর নিকট ভালো। আর তাঁরা যেটা মন্দ মনে করেন, সেটা আল্লাহর নিকট মন্দ।’
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ إِنَّ اللهَ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ ﷺ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَاصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ فَابْتَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ ثُمَّ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَ قَلْبِ مُحَمَّدٍ فَوَجَدَ قُلُوبَ أَصْحَابِهِ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ فَجَعَلَهُمْ وُزَرَاءَ نَبِيِّهِ يُقَاتِلُونَ عَلَى دِينِهِ فَمَا رَأَى الْمُسْلِمُونَ حَسَنًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ حَسَنٌ وَمَا رَأَوْا سَيِّئًا فَهُوَ عِنْدَ اللهِ سَيِّئٌ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৮৯) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) আরো বলেন, ’সাবধান! তোমাদের কেউ যেন নিজ দ্বীনের ব্যাপারে কোন ব্যক্তির এমন অন্ধ অনুকরণ না করে যে, সে ঈমানের কাজ করলে সেও করবে, নচেৎ সে কুফরী করলে সেও করবে। বরং যদি তোমাদের অন্ধ অনুকরণ করা জরুরীই হয়, তাহলে তোমরা পরলোকগত মানুষের (নবী ও সাহাবাদের) অনুকরণ কর। কারণ জীবিত ব্যক্তির ব্যাপারে ফিতনার নিরাপত্তা নেই।’
عَنْ عَبْدِ اللهِ، قَالَ: لَا يُقَلِّدَنَّ أَحَدُكُمْ دِينَهُ رَجُلًا، فَإِنْ آمَنَ آمَنَ وَإِنْ كَفَرَ كَفَرَ، وَإِنْ كُنْتُمْ لَا بُدَّ مُقْتَدِينَ فَاقْتَدُوا بِالْمَيِّتِ، فَإِنَّ الْحَيَّ لَا يُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৯০) তিনি আরো বলেন, ’যে ব্যক্তি কাউকে আদর্শ বানাতে চায়, সে যেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাবৃন্দকে নিজের আদর্শ বানায়। কারণ তাঁরা অন্তরের দিক থেকে এ উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ। ইলমে সবচেয়ে সুগভীর ও ’তাকালস্নুফ’ (কষ্টকল্পনায়) অতি কম। তাঁরা এমন এক সম্প্রদায়, যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তোমরা তাঁদের অধিকার স্বীকার কর। কারণ তাঁরা ছিলেন সরল ও সঠিক পথের পথিক।’
عَنِ ابْنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ فَإِنَّ الْحَيَّ لَا تُؤْمَنُ عَلَيْهِ الْفِتْنَةُ أُوْلَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا أَفْضَلَ هَذِهِ الْأُمَّةِ أَبَرَّهَا قُلُوْبًا وَّأَعْمَقَهَا عِلْمًا وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا اِخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ وَلْإِقَامَةِ دِيْنِهِ فَاعْرِفُوْا لَـهُمْ فَضْلَهُمْ وَاتَّبَعُوْهُمْ عَلَى آثَارِهِمْ وَتَمَسَّكُوْا بِمَا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ أَخْلَاقِهِمْ وَسِيَرِهِمْ فَإِنَّهُمْ كَانُوْا عَلَى الْـهُدَى الْـمُسْتَقِيْمِ رَوَاهُ رَزِيْنُ
পরিচ্ছেদঃ সাহাবার মাহাত্ম্য
(২৮৯১) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি কাউকে আদর্শ বানাতে চায়, সে যেন মৃতদেরকে নিজের আদর্শ বানায়। তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবা। তাঁরা এ উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ। হৃদয়ে সবচেয়ে সৎশীল, ইলমে সবচেয়ে সুগভীর ও ’তাকালস্নুফ’ (কষ্টকল্পনায়) অতি কম। তাঁরা এমন এক সম্প্রদায়, যাঁদেরকে আল্লাহ তাঁর নবীর সাহচর্যের জন্য এবং তাঁর দ্বীন বহনের জন্য মনোনীত করেছিলেন। সুতরাং তোমরা তাঁদের চরিত্র ও নিয়ম-নীতিতে সাদৃশ্য অবলম্বন কর। যেহেতু তাঁরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচর। তাঁরা ছিলেন সরল সুপথের উপর।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: مَنْ كَانَ مُسْتَنًّا فَلْيَسْتَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ، أُولَئِكَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانُوا خَيْرَ هَذِهِ الْأُمَّةِ، أَبَّرَهَا قُلُوبًا، وَأَعْمَقَهَا عِلْمًا، وَأَقَلَّهَا تَكَلُّفًا، قَوْمٌ اخْتَارَهُمُ اللهُ لِصُحْبَةِ نَبِيِّهِ صلّى الله عليه وسلم وَنَقْلِ دِينِهِ، فَتَشَبَّهُوا بِأَخْلَاقِهِمْ وَطَرَائِقِهِمْ فَهُمْ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، كَانُوا عَلَى الْهُدَى الْمُسْتَقِيمِ
পরিচ্ছেদঃ মুআবিয়া (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৯২) ইরবায বিন সারিয়াহ সুলামী (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি মুআবিয়াকে কিতাব ও হিসাব শিক্ষা দাও এবং আযাব থেকে রক্ষা কর।
عَنِ الْعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ السُّلَمِيِّ قَالَ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اَللّٰهُمَّ عَلِّمْ مُعَاوِيَةَ الْكِتَابَ وَالْـحِسَابَ وَقِهِ الْعَذَابَ
পরিচ্ছেদঃ মুআবিয়া (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৯৩) আব্দুর রহমান বিন আবূ আমীরাহ আযদী কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুআবিয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি ওকে সুপথের দিশারী ও সুপথপ্রাপ্ত করো এবং ওর দ্বারা (মানুষকে) হিদায়াত করো।
عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِـيْ عَمِيرَةَ الْأَزْدِيِّ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ ذَكَرَ مُعَاوِيَةَ وَقَالَ اَللّٰهُمَّ اجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا وَاهْدِ بِهِ
পরিচ্ছেদঃ মুআবিয়া (রাঃ) এর মাহাত্ম্য
(২৮৯৪) উম্মু হারাম বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতের প্রথম সেনাদল সমুদ্র-যুদ্ধ করবে। তারা (তার দ্বারা) নিজেদের জন্য জান্নাত অনিবার্য ক’রে নিয়েছে।
উম্মু হারাম বলেন, আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাদের মধ্যে থাকব?’ তিনি বললেন, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে।
তারপর বললেন, আমার উম্মতের প্রথম সেনা ক্বাইস্বার শহর (কনষ্টান্টিনোপল, ইস্তাম্বুল) যুদ্ধ করবে, তারা (সেই কাজের জন্য) ক্ষমাপ্রাপ্ত হবে।
উম্মু হারাম বলেন, আমি বললাম, ’হে আল্লাহর রসূল! আমি কি তাদের মধ্যে থাকব?’ তিনি বললেন, না।
عَنْ أُمِّ حَرَامٍ قَالَتْ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ أَوَّلُ جَيْشٍ مِنْ أُمَّتِي يَغْزُونَ الْبَحْرَ قَدْ أَوْجَبُوا، قَالَتْ أُمُّ حَرَامٍ قُلْتُ: يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَا فِيهِمْ؟ قَالَ أَنْتِ فِيهِمْ، ثُمَّ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ أَوَّلُ جَيْشٍ مِنْ أُمَّتِي يَغْزُونَ مَدِينَةَ قَيْصَرَ مَغْفُورٌ لَهُمْ، فَقُلْتُ: أَنَا فِيهِمْ يَا رَسُوْلَ اللهِ؟ قَالَ لاَ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় মহিলার মাহাত্ম্য
(২৮৯৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জান্নাতের সর্বশ্রেষ্ঠ মহিলা হলঃ খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ, ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ, মারয়্যাম বিনতে ইমরান ও ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া বিনতে মুযাহিম।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَفْضَلُ نِسَاءِ أَهْلِ الْـجَنَّةِ خَدِيْـجَةُ بِنْتُ خُوَيْلِدٍ وَفَاطِمَةُ بِنْتُ مُـحَمَّدٍ وَمَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسِيَةُ بِنْتُ مُزَاحِمٍ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় মহিলার মাহাত্ম্য
(২৮৯৬) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ নারী হল চারজনঃ মারয়্যাম বিনতে ইমরান, আসিয়া বিনতে মুযাহিম, খাদীজা বিনতে খুওয়াইলিদ, ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ (আলাইহিস সালাম)।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ: خَيْرُ نِسَاءِ الْعَالَمِيْنَ مَرْيَمُ بنتُ عِمْرَانَ، وَآسِيَةُ بنتُ مُزَاحِمٍ، وَخَدِيجَةُ بنتُ خُوَيْلِدٍ، وَفَاطِمَةُ بنتُ مُحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلامُ
পরিচ্ছেদঃ কতিপয় মহিলার মাহাত্ম্য
(২৮৯৭) আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’পুরুষদের মধ্যে অনেকে কামেল (পরিপূর্ণ) হয়েছে; কিন্তু মহিলাদের মধ্যে কামেল (পরিপূর্ণ) হয়েছে কেবল মারয়্যাম বিনতে ইমরান ও ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া। আর সমস্ত মহিলাদের মধ্যে আয়েশার মর্যাদা ঐরূপ, যেমন সমস্ত খাদ্যের মধ্যে ’সারীদ’ (মাংস মিশ্রিত রুটির পলান্ন) সর্বাধিক বৈশিষ্ট্যের দাবী রাখে।’’ (বুখারী ৩৭৬৯, ৫৪১৮,, মুসলিম ৬৪২৫)
عَنْ أَبِـيْ مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَمَلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيْرٌ وَلَمْ يَكْمُلْ مِنْ النِّسَاءِ إِلَّا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ وَفَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
মহান আল্লাহ বলেছেন,
أَلَا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَـحْزَنُوْنَ، الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا وَكَانُوا يَتَّقُوْنَ، لَهُمُ البُشْرٰى فِـيْ الْـحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِـي الْاَخِرَةِ لَا تَبْدِيْلَ لِكَلِمَاتِ اللهِ ذٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيْمُ
অর্থাৎ, মনে রেখো যে, আল্লাহর বন্ধুদের না কোন আশংকা আছে আর না তারা বিষণ্ণ হবে। তারা হচ্ছে সেই লোক যারা ঈমান এনে তাক্বওয়া (সাবধানতা, পরহেযগারী) অবলম্বন ক’রে থাকে। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও; আল্লাহর বাণীসমূহের কোন পরিবর্তন নেই; এটাই হচ্ছে বিরাট সফলতা। (সূরা ইউনুস ৬২-৬৪) তিনি আরো বলেন,
وَهُزِّي إِلَيْكِ بِـجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا، فَكُلِـيْ وَاشْرَبِـيْ
অর্থাৎ, তুমি তোমার দিকে খেজুর গাছের কা- হিলিয়ে দাও; ওটা তোমার সামনে সদ্যপক্ক তাজা খেজুর ফেলতে থাকবে। সুতরাং আহার কর, পান কর---। (সূরা মারয়্যাম ২৫-২৬) তিনি আরো বলেছেন,
كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكرِيّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِنْدَهَا رِزْقًا قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنّٰـى لَكِ هٰذَا قَالَتْ هُوَ مِنْ عِنْدِ اللهِ إِنَّ اللهَ يَرْزُقُ مَنْ يَّشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
অর্থাৎ, যখনই যাকারিয়া মিহরাবে (কক্ষে) তার সঙ্গে দেখা করতে যেত, তখনই তার নিকট খাদ্য-সামগ্রী দেখতে পেত। সে বলত, ’হে মারয়্যাম! এসব তুমি কোথা থেকে পেলে?’ সে বলত, ’তা আল্লাহর কাছ থেকে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপর্যাপ্ত জীবিকা দান ক’রে থাকেন।’ (সূরা আলে ইমরান ৩৭)
তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,
وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوْهُمْ وَمَا يَعْبُدُوْنَ إِلاَّ اللهَ فَأْوُوْا إِلٰـى الْكَهْفِ يَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ رَّحْمَتِهِ وَيُهَيِّـيءْ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ مِرْفَقًا وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِيْنِ وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ
অর্থাৎ, তোমরা যখন তাদের ও তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের উপাসনা করে তাদের সংস্পর্শ হতে বিচ্ছিন্ন হলে তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর; তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁর দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করবার ব্যবস্থা করবেন। তুমি দেখলে দেখতে, সূর্য উদয়কালে তাদের গুহার ডান দিকে হেলে অতিক্রম করছে এবং অস্তকালে তাদেরকে অতিক্রম করছে বাম পাশ দিয়ে---। (সূরা কাহাফ ১৬-১৭)
(২৮৯৮) আবূ মুহাম্মাদ আব্দুর রহমান ইবনে আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) হতে বর্ণিত, ’আসহাবে সুফ্ফাহ’ (তৎকালীন মসজিদে নববীতে একটি ছাউনিবিশিষ্ট ঘর ছিল। সেখানে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর তত্ত্বাবধানে কিছু সাহাবা আশ্রয় গ্রহণ করতেন ও বসবাস করতেন। তাঁরা) গরীব মানুষ ছিলেন। একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ’’যার কাছে দু’জনের আহার আছে সে যেন (তাদের মধ্য থেকে) তৃতীয় জনকে সাথে নিয়ে যায়। আর যার নিকট চারজনের আহারের ব্যবস্থা আছে, সে যেন পঞ্চম অথবা ষষ্ঠজনকে সাথে নিয়ে যায়।’’ আবূ বকর (রাঃ) তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে এলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দশজনকে সাথে নিয়ে গেলেন।
আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহর ঘরেই রাতের আহার করেন এবং এশার নামায পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। এশার নামাযের পর তিনি পুনরায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঘরে ফিরে আসেন এবং আল্লাহর ইচ্ছামত রাতের কিছু সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি বাড়ি ফিরলে তাঁর স্ত্রী তাঁকে বললেন, ’বাইরে কিসে আপনাকে আটকে রেখেছিল?’ তিনি বললেন, ’তুমি এখনো তাঁদেরকে খাবার দাওনি?’ স্ত্রী বললেন, ’আপনি না আসা পর্যন্ত তাঁরা খেতে রাজি হলেন না। তাঁদের সামনে খাবার দেওয়া হয়েছিল, তাঁরা তা খাননি।’ আব্দুর রহমান (রাঃ) বলেন, (পিতার তিরস্কারের ভয়ে) আমি লুকিয়ে গেলাম। তিনি (রাগাম্বিত হয়ে) বলে উঠলেন, ’ওরে মূর্খ!’ অতঃপর নাক কাটা ইত্যাদি বলে গালাগালি করলেন এবং (মেহমানদের উদ্দেশ্যে) বললেন, ’আপনারা স্বচ্ছন্দে খান, আল্লাহর কসম! আমি মোটেই খাব না।’
আব্দুর রহমান (রাঃ) বলেন, ’আল্লাহর কসম! আমরা লুকমা (খাদ্যগ্রাস) উঠিয়ে নিতেই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল।’ তিনি বলেন, ’সকলেই পেট ভরে খেলেন। অথচ পূর্বের চেয়ে বেশি খাবার রয়ে গেল।’ আবূ বকর (রাঃ) খাবারের দিকে তাকিয়ে স্ত্রীকে বললেন, ’হে বনু ফিরাসের বোন! এ কী?’ তিনি বললেন, ’আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এ তো পূর্বের চেয়ে তিনগুণ বেশি!’ সুতরাং আবূ বকর (রাঃ)ও তা থেকে আহার করলেন এবং বললেন, ’আমার (খাব না বলে) সে কসম শয়তানের পক্ষ থেকেই হয়েছিল।’ তারপর তিনি আরো খেলেন এবং অতিরিক্ত খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে নিয়ে গেলেন। ভোর পর্যন্ত সে খাবার তাঁর নিকটেই ছিল।
এদিকে আমাদের এবং অন্য একটি গোত্রের মাঝে যে চুক্তি ছিল তার সময়সীমা পূর্ণ হয়ে যায়। (এবং তারা মদীনায় আসে।) অতঃপর আমরা তাদেরকে তাদের বারো জনের নেতৃত্বে ভাগ ক’রে দিই। প্রত্যেকের সাথেই কিছু কিছু লোক ছিল। তবে প্রত্যেকের সাথে কতজন ছিল তা আল্লাহই বেশি জানেন। তারা সকলেই সেই খাদ্য আহার করে।
অন্য বর্ণনায় আছে, আবূ বকর ’খাবেন না’ বলে কসম করলেন, তা দেখে তাঁর স্ত্রীও ’খাবেন না’ বলে কসম করলেন। আর তা দেখে মেহমানরাও তিনি সঙ্গে না খেলে ’খাবেন না’ বলে কসম করলেন! আবূ বকর বললেন, ’এ সব (কসম) শয়তানের পক্ষ থেকে।’ সুতরাং তিনি খাবার আনতে বলে নিজে খেলেন এবং মেহমানরাও খেলেন। তাঁরা যখনই লুকমা (খাদ্যগ্রাস) উঠিয়ে খাচ্ছিলেন, তখনই নীচ থেকে তা অধিক পরিমাণে বেড়ে যাচ্ছিল। আবূ বকর (রাঃ) (স্ত্রীকে) বললেন, ’হে বনু ফিরাসের বোন! এ কী?’ স্ত্রী বললেন, ’আমার চোখের প্রশান্তির কসম! এখন এ তো খেতে শুরু করার আগের চেয়ে অধিক বেশি!’ সুতরাং সকলেই খেলেন এবং অতিরিক্ত খাবার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে পাঠিয়ে দিলেন। আব্দুর রহমান বলেন, ’তিনি তা হতে খেলেন।’
অন্য এক বর্ণনায় আছে, আবূ বকর আব্দুর রহমানকে বললেন, ’তোমার মেহমান নাও। (তুমি তাদের খাতির কর) আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট যাচ্ছি। আমার ফিরে আসার আগে আগেই তুমি (খাইয়ে) তাঁদের খাতির সম্পন্ন করো।’ সুতরাং আব্দুর রহমান তাঁর নিকট যে খাবার ছিল, তা নিয়ে তাঁদের নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, ’আপনারা খান।’ কিন্তু মেহমানরা বললেন, ’আমাদের বাড়ি-ওয়ালা কোথায়?’ তিনি বললেন, ’আপনারা খান।’ তাঁরা বললেন, ’আমাদের বাড়ি-ওয়ালা না আসা পর্যন্ত আমরা খাব না।’ আব্দুর রহমান বললেন, ’আপনারা আমাদের পক্ষ থেকে মেহমাননেওয়াযী গ্রহণ করুন। কারণ তিনি এসে যদি দেখেন যে, আপনারা খাননি, তাহলে অবশ্যই আমরা তাঁর নিকট থেকে (বড় ভৎর্সনা) পাব।’ কিন্তু তাঁরা (খেতে) অস্বীকার করলেন।
(আব্দুর রহমান বলেন,) তখন আমি বুঝে নিলাম যে, তিনি আমার উপর খাপ্পা হবেন। অতঃপর তিনি এলে আমি তাঁর নিকট থেকে সরে গেলাম। তিনি বললেন, ’কী করেছ তোমরা?’ তাঁরা তাঁকে ব্যাপারটা খুলে বললেন। অতঃপর তিনি ডাক দিলেন, ’আব্দুর রহমান!’ আব্দুর রহমান নিরুত্তর থাকলেন। তিনি আবার ডাক দিলেন, ’আব্দুর রহমান?’ কিন্তু তখনও তিনি নীরব থাকলেন। তারপর আবার বললেন, ’এ বেওকুফ! আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি, যদি তুমি আমার ডাক শুনতে পাচ্ছ, তাহলে এসে যাও।’
(আব্দুর রহমান বলেন,) তখন আমি (বাধ্য হয়ে) বের হয়ে এলাম। বললাম, ’আপনি আপনার মেহমানদেরকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন, (আমি তাঁদেরকে খেতে দিয়েছিলাম কি না?)’ তাঁরা বললেন, ’ও সত্যই বলেছে। ও আমাদের কাছে খাবার নিয়ে এসেছিল। (আমরাই আপনার অপেক্ষায় খাইনি।)’ আবূ বকর (রাঃ) বললেন, ’তোমরা আমার অপেক্ষা ক’রে বসে আছ। কিন্তু আল্লাহর কসম! আজ রাতে আমি আহার করব না।’ তাঁরা বললেন, ’আল্লাহর কসম! আপনি না খাওয়া পর্যন্ত আমরাও খাব না।’ তিনি বললেন, ’ধিক্কার তোমাদের প্রতি! তোমাদের কি হয়েছে যে, আমাদের পক্ষ থেকে মেহমাননেওয়াযী গ্রহণ করবে না?’ (অতঃপর আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্য বললেন,) ’নিয়ে এস তোমার খাবার।’ তিনি খাবার নিয়ে এলে আবূ বকর তাতে হাত রেখে বললেন, ’বিস্মিল্লাহ। প্রথম (রাগের অবস্থায় কসম) ছিল শয়তানের পক্ষ থেকে।’ সুতরাং তিনি খেলেন এবং মেহমানরাও আহার করলেন।
وَ عَنْ أَبِـيْ مُحَمَّدٍ عَبدِ الرَّحْمَانِ بنِ أَبِـيْ بَكرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّ أَصْحَابَ الصُّفّةِ كَانُوا أُنَاساً فُقَرَاءَ وَأَنَّ النَّبيَّ ﷺ قَالَ مَرَّةً مَنْ كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ اثْنَيْنِ فَلْيَذْهَبْ بثَالِثٍ وَمنْ كَانَ عِنْدَهُ طَعَامُ أَرْبَعَةٍ فَلْيَذْهَبْ بِخَامِسٍ بِسَادِسٍ أَوْ كَمَا قَالَ وَأَنَّ أَبَا بَكرٍ جَاءَ بِثَلاَثَةٍ وَانْطَلَقَ النَّبِيِّ ﷺ بعَشَرَةٍ وَأَنَّ أَبَا بَكرٍ تَعَشَّى عِنْدَ النَّبِيّ ﷺ ثُمَّ لَبِثَ حَتّٰـى صَلَّى العِشَاءَ ثُمَّ رَجَعَ فَجَاءَ بَعْدَ مَا مَضَى مِنَ اللَّيْلِ مَا شَاءَ اللهُ قَالَتِ امْرَأتُهُ : مَا حَبَسَكَ عَنْ أَضْيَافِكَ ؟ قَالَ : أَوَمَا عَشَّيْتِهمْ ؟ قَالَتْ: أَبَوْا حَتّٰـى تَجِيءَ وَقَدْ عَرَضُوا عَلَيْهِمْ قَالَ : فَذَهَبتُ أَنَا فَاخْتَبَأْتُ فَقَالَ : يَا غُنْثَرُ فَجَدَّعَ وَسَبَّ وَقَالَ : كُلُوا لاَ هَنِيئاً وَاللهِ لاَ أَطْعَمُهُ أَبَداً قَالَ : وَايْمُ اللهِ مَا كُنَّا نَأخُذُ مِنْ لُقْمَةٍ إِلاَّ رَبَا مِنْ أَسفَلِهَا أَكْثَرَ مِنهَا حَتّٰـى شَبِعُوا وَصَارَتْ أَكْثَرَ مِمَّا كَانَتْ قَبلَ ذٰلِكَ فَنَظَرَ إِلَيهَا أَبُو بَكْرٍ فَقَالَ لاِمرَأَتِهِ : يَا أُخْتَ بَنِي فِرَاسٍ مَا هٰذَا ؟ قَالَتْ : لاَ وَقُرَّةِ عَينِيْ لَهِيَ الآنَ أَكثَرُ مِنهَا قَبلَ ذٰلِكَ بِثَلاَثِ مَرَّاتٍ فَأَكَلَ مِنهَا أَبُو بَكْرٍ وَقَالَ : إنَّمَا كَانَ ذٰلِكَ مِنَ الشَّيطَانِ يَعنِيْ : يَمِينَهُ ثُمَّ أَكَلَ مِنهَا لُقْمَةً ثُمَّ حَمَلَهَا إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَأَصْبَحَتْ عِنْدَهُ وَكَانَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمٍ عَهْدٌ، فَمَضَى الأَجَلُ فَتَفَرَّقْنَا اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلاً مَعَ كُلِّ رَجُلٍ مِنْهُمْ أُنَاسٌ اللهُ أَعْلَمُ كَمْ مَعَ كُلِّ رَجُلٍ فَأَكَلُوا مِنْهَا أَجْمَعُونَ
وَفِي رِوَايةٍ : فَحَلَفَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَطْعَمُهُ فَحَلَفَتِ المَرْأَةُ لاَ تَطْعَمُهُ فَحَلَفَ الضَّيْفُ - أَو الأَضْيَافُ - أَنْ لاَ يَطْعَمُهُ أَوْ يَطْعَمُوهُ حَتّٰـى يَطْعَمَهُ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : هَذِهِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَدَعَا بِالطَّعَامِ فَأكَلَ وَأَكَلُوا فَجَعَلُوا لاَ يَرْفَعُونَ لُقْمَةً إِلاَّ رَبَتْ مِنْ أَسْفَلِهَا أَكْثَرُ مِنْهَا فَقَالَ : يَا أُخْتَ بَني فِرَاسٍ مَا هٰذَا ؟ فَقَالَتْ : وَقُرَّةِ عَيْنِي إنَّهَا الآنَ لأَكْثَرُ مِنْهَا قَبْلَ أنْ نَأكُلَ فَأكَلُوا وَبَعَثَ بِهَا إِلَى النَّبيِّ ﷺ فَذَكَرَ أنَّهُ أكَلَ مِنْهَا
وَفِي رِوايَةٍ : إِنَّ أَبَا بَكْرٍ قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَانِ : دُونَكَ أَضْيَافَكَ فَإِنِّي مُنْطَلِقٌ إِلَى النَّبيِّ ﷺ فَافْرُغْ مِنْ قِرَاهُم قَبْلَ أَنْ أَجِيءَ فَانْطَلَقَ عَبْدُ الرَّحْمانِ فَأَتَاهُمْ بِمَا عِنْدَهُ فَقَالَ : اِطْعَمُوا ؛ فَقَالَوا : أَينَ رَبُّ مَنْزِلِنا ؟ قَالَ : اِطْعَمُوا قَالَوا : مَا نحنُ بِآكِلِينَ حَتّٰـى يَجِيءَ رَبُّ مَنْزِلِنَا قَالَ : اقْبَلُوا عَنَّا قِرَاكُمْ فَإِنَّهُ إِنْ جَاءَ وَلَمْ تَطْعَمُوا لَنَلْقَيَنَّ مِنْهُ فَأبَوْا فَعَرَفْتُ أَنَّهُ يَجِدُ عَلَيَّ فَلَمَّا جَاءَ تَنَحَّيْتُ عَنْهُ فَقَالَ : مَا صَنَعْتُمْ ؟ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ : يَا عَبْدَ الرَّحمانِ فَسَكَتُّ : ثُمَّ قَالَ : يَا عَبْدَ الرَّحْمانِ فَسَكَتُّ فَقَالَ: يَا غُنْثَرُ أَقْسَمْتُ عَلَيْكَ إِنْ كُنْتَ تَسْمَعُ صَوتِي لَمَا جِئْتَ فَخَرَجْتُ فَقُلْتُ : سَلْ أَضْيَافَكَ فَقَالَوا : صَدَقَ أَتَانَا بِهِ فَقَالَ : إِنَّمَا انْتَظَرْتُمُونِي وَاللهِ لاَ أَطْعَمُهُ اللَّيْلَةَ فَقَالَ الآخَرُونَ : وَاللهِ لاَ نَطْعَمُهُ حَتّٰـى تَطْعَمَهُ فَقَالَ : وَيْلَكُمْ مَا لَكُمْ لاَ تَقْبَلُونَ عَنَّا قِرَاكُمْ ؟ هَاتِ طَعَامَكَ، فَجَاءَ بِهِ فَوَضَعَ يَدَهُ فَقَالَ: بِسْمِ اللهِ الأُولَى مِنَ الشَّيْطَانِ فَأَكَلَ وَأَكَلُوا متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৮৯৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতির মধ্যে অনেক ’মুহাদ্দাস’ লোক ছিল। যদি আমার উম্মতের মধ্যে কেউ ’মুহাদ্দাস’ থাকে, তাহলে সে হল উমার। (বুখারী ৩৪৬৯, ৩৬৮৯)
ইমাম মুসলিমও আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। উক্ত দুই গ্রন্থের বর্ণনায় আছে, ইবনে অহাব বলেন, ’মুহাদ্দাস’ হলেন তাঁরা, যাঁদের মনে (আল্লাহর পক্ষ থেকে) ইলহাম (ভালো-মন্দের জ্ঞান প্রক্ষেপ) করা হয়। (মুসলিম ৬৩৫৭)
وَ عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ نَاسٌ مُحَدَّثُوْنَ، فَإنْ يَكُ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ فَإِنَّهُ عُمَرُ رواه البخاري ورواه مسلم
من رواية عَائِشَةَ وفي روايتهما قَالَ ابن وهب مُحَدَّثُونَ أَيْ مُلْهَمُونَ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০০) জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, কুফাবাসীরা উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) এর কাছে সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ক’রে বলল, ’সে ভালভাবে নামায পড়তে জানে না।’ কাজেই তিনি তাঁকে ডেকে পাঠালেন এবং (যখন তিনি উমার (রাঃ) এর কাছে হাযির হলেন, তখন) তিনি তাঁকে বললেন, ’হে ইসহাকের পিতা! ওরা বলছে যে, তুমি উত্তমভাবে নামায আদায় কর না।’ জবাবে তিনি বললেন, ’যাই হোক, আল্লাহর কসম! আমি তো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নামাযের মত নামায পড়াই, তা থেকে (একটুও) কম করি না। যোহর ও আসরের দুই নামাযের প্রথম দু’ রাকআতে দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করি এবং দ্বিতীয় দু-রাকআতকে সংক্ষিপ্ত করি।’
উমার (রাঃ) (এ কথা শুনে বললেন,) ’ইসহাকের পিতা! তোমার সম্পর্কে ঐ ধারণাই ছিল।’ পরে তিনি তাঁর সঙ্গে একজন বা কয়েকজন লোক কূফা নগরীতে প্রেরণ করলেন। যাতে করে কূফা নগরীর প্রতিটি মসজিদে গিয়ে সা’দ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। সুতরাং প্রত্যেক মসজিদেই তাঁর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে লাগল এবং সকলেই তাঁর প্রশংসা করল। শেষ পর্যন্ত যখন তারা বনু আব্সার মসজিদে উপনীত হল। তখন সেখানে আবূ সা’দাহ উসামাহ ইবনে ক্বাতাদাহ নামক এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়িয়ে বলতে লাগল, ’যখন আপনারা আমাদেরকে জিজ্ঞাসাই করলেন, তখন (প্রকাশ ক’রে দিচ্ছি শুনুন,) সা’দ সেনা বাহিনীর সঙ্গে (জিহাদে) যান না, নায্যভাবে (কোন জিনিস) বন্টন করেন না এবং ইনসাফের সাথে বিচার করেন না।’
সা’দ তখন (জবাবে) বলে উঠলেন, ’আল্লাহর কসম! আমি অবশ্যই তিনটি বদ্দুআ করবঃ হে আল্লাহ! যদি তোমার বান্দা মিথ্যাবাদী হয়, রিয়া (লোকপ্রদর্শন হেতু) ও খ্যাতির জন্য এভাবে দণ্ডায়মান হয়ে থাকে, তাহলে তুমি ওর আয়ু দীর্ঘ ক’রে দাও এবং ওর দরিদ্রতা বাড়িয়ে দাও এবং ওকে ফিতনার কবলে ফেল।’ (বাস্তবিক তার অবস্থা ঐরূপই হয়েছিল।) সুতরাং যখন তাকে (কুশল) জিজ্ঞাসা করা হত, তখন উত্তরে বলত, ’অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি এবং ফিতনায় পতিত হয়েছি; সা’দের বদ্দুআ আমাকে লেগে গেছে।’
জাবের ইবনে সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণনাকারী আব্দুল মালিক বিন উমাইর বলেন, ’আমি পরে তাকে দেখেছি যে, সে অত্যন্ত বার্ধক্যের কারণে তার চোখের ভ্রূগুলি চোখের উপরে লটকে পড়েছে আর রাস্তায় রাস্তায় দাসীদেরকে উত্যক্ত করত ও আঙ্গুল বা চোখ দ্বারা তাদেরকে ইশারা করত।’
وَ عَنْ جَابِرِ بنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : شَكَا أَهْلُ الكُوفَةِ سَعْداً يَعنِي : ابنَ أَبِـيْ وَقَّاصٍ إِلَى عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ فَعَزَلَهُ وَاسْتَعْمَلَ عَلَيْهِمْ عَمَّاراً فَشَكَوا حَتّٰـى ذَكَرُوا أَنَّهُ لاَ يُحْسِنُ يُصَلِّي، فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَقَالَ : يَا أَبَا إسْحَاقَ إنَّ هَؤُلاَءِ يَزْعُمُونَ أَنَّكَ لاَ تُحْسِنُ تُصَلِّي فَقَالَ : أَمَّا أَنَا وَاللهِ فَإنِّي كُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللهِ ﷺ لاَ أَخْرِمُ عَنْها أُصَلِّي صَلاَتَي العِشَاءِ فَأَرْكُدُ فِي الأُولَيَيْنِ وَأُخِفُّ فِي الأُخْرَيَيْنِ قَالَ : ذٰلِكَ الظَّنُّ بِكَ يَا أَبَا إِسْحَاقَ وَأَرْسَلَ مَعَهُ رَجُلاً أَوْ رِجَالاً - إِلَى الكُوفَةِ يَسْأَلُ عَنْهُ أَهْلَ الكُوفَةِ فَلَمْ يَدَعْ مَسْجِداً إِلاَّ سَأَلَ عَنْهُ وَيُثْنُونَ مَعْرُوفاً حَتّٰـى دَخَلَ مَسْجِداً لِبَنِي عَبْسٍ فَقَامَ رَجُلٌ مِنْهُمْ يُقَالَ لَهُ أُسَامَةُ بْنُ قَتَادَةَ يُكَنَّى أَبَا سَعْدَةَ، فَقَالَ: أَمَا إِذْ نَشَدْتَنَا فَإِنَّ سَعْداً كَانَ لاَ يَسِيرُ بِالسَّرِيَّةِ وَلاَ يَقْسِمُ بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يَعْدِلُ فِي القَضِيَّةِ قَالَ سَعْدٌ : أَمَا وَاللهِ لأَدْعُوَنَّ بِثَلاَثٍ : اَللّٰهُمَّ إِنْ كَانَ عَبْدُكَ هٰذَا كَاذِباً قَامَ رِيَاءً وَسُمْعَةً فَأَطِلْ عُمُرَهُ وَأَطِلْ فَقْرَهُ وَعَرِّضْهُ لِلْفِتَنِ وَكَانَ بَعْدَ ذٰلِكَ إِذَا سُئِلَ يَقُوْلُ : شَيْخٌ كَبيرٌ مَفْتُونٌ أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعْدٍ قَالَ عَبدُ المَلِكِ بنُ عُمَيْرٍ الرَّاوِي عَن جَابِرِ بنِ سَمُرَةَ : فَأَنَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ قَدْ سَقَطَ حَاجِبَاهُ عَلَى عَيْنَيْهِ مِنَ الكِبَرِ وَإِنَّهُ لَيَتَعَرَّضُ لِلْجَوارِي فِي الطُّرُقِ فَيَغْمِزُهُنَّ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০১) উরওয়াহ বিন যুবাইর হতে বর্ণিত, সাঈদ ইবনে যায়দ ইবনে আমর ইবনে নুফাইল (রাঃ) এর বিরুদ্ধে আরওয়া বিনতে আওস নামক এক মহিলা মারওয়ান ইবনে হাকামের দরবারে মোকাদ্দামা পেশ করল; সে দাবি জানাল যে, ’সাঈদ আমার কিছু জমি আত্মসাৎ করেছেন।’ সাঈদ বললেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে (এ বিষয়ে ধমক) শোনার পরও কি আমি তার কিছু জমি দাবিয়ে নিতে পারি?’ মারওয়ান বললেন, ’আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে কি (ধমক) শুনেছেন?’
তিনি বললেন, ’আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, ’’যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কারো এক বিঘত জমি দাবিয়ে নেবে, (কিয়ামতের দিনে) সাত তবক যমীন তার গলায় লটকে দেওয়া হবে।’’ এ কথা শুনে মারওয়ান বললেন, ’এরপর আমি আপনার কাছে কোন প্রমাণ তলব করব না।’ সুতরাং সাঈদ (বাদী পক্ষীয়) মহিলার প্রতি বদ্দুআ ক’রে বললেন, ’হে আল্লাহ! এ মহিলা যদি মিথ্যাবাদী হয়, তাহলে ওর চক্ষু অন্ধ ক’রে দাও এবং ওকে ওর জমিতেই মৃত্যু দাও।’
বর্ণনাকারী বলেন, ’মহিলাটির মৃত্যুর পূর্বে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গিয়েছিল এবং একবার সে নিজ জমিতে চলছিল। হঠাৎ একটি গর্তে পড়ে মারা গেল।’
মুহাম্মাদ বিন যায়দ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমার কর্তৃক মুসলিমের অনুরূপ এক বর্ণনায় আছে, তিনি তাকে দেখেছেন, সে অন্ধ অবস্থায় দেওয়াল হাতড়ে বেড়াত। বলত, ’আমাকে সাঈদের বদ্দুআ লেগে গেছে।’ আর সে যে জায়গার ব্যাপারে সাঈদের বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করেছিল, সেই জায়গার এক কুঁয়াতে পড়ে গিয়ে সেটাই তার কবর হয়ে গেছে!
وَ عَنْ عُرْوَةَ بنِ الزُّبَيرِ : أَنَّ سَعِيدَ بنَ زَيدِ بنِ عَمرِو بنِ نُفَيلٍ خَاصَمَتْهُ أَرْوَى بِنْتُ أَوْسٍ إِلَى مَرْوَانَ بْنِ الحَكَمِ وَادَّعَتْ أَنَّهُ أَخَذَ شَيْئاً مِنْ أَرْضِهَا فَقَالَ سَعِيدٌ : أَنَا كُنْتُ آخُذُ شَيئاً مِنْ أَرْضِهَا بَعْدَ الَّذِي سَمِعْتُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ : مَاذَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ ؟ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ أَخَذَ شِبْراً مِنَ الأَرْضِ ظُلْماً طُوِّقَهُ إِلَى سَبْعِ أَرْضِينَ فَقَالَ لَهُ مَرْوَانُ : لاَ أَسْألُكَ بَيِّنَةً بَعْدَ هٰذَا فَقَالَ سَعِيدٌ : اَللّٰهُمَّ إنْ كَانَتْ كَاذِبَةً فَأَعْمِ بَصَرَها وَاقْتُلْهَا فِي أَرْضِهَا قَالَ : فَمَا مَاتَتْ حَتّٰـى ذَهَبَ بَصَرُهَا وَبَيْنَمَا هِيَ تَمْشِي فِي أَرْضِهَا إِذْ وَقَعَتْ فِي حُفْرَةٍ فَماتَتْ متفق عَلَيْهِ
وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ عَن مُحَمَّدِ بنِ زَيدِ بنِ عَبدِ اللهِ بنِ عُمَرَ بِمَعْنَاهُ وَأَنَّهُ رَآهَا عَمْيَاءَ تَلْتَمِسُ الجُدُرَ تَقُوْلُ : أَصَابَتْنِي دَعْوَةُ سَعِيدٍ وَأنَّهَا مَرَّتْ عَلَى بِئرٍ فِي الدَّارِ الَّتي خَاصَمَتْهُ فِيهَا فَوَقَعَتْ فِيهَا وكانتْ قَبْرَها
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০২) জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, উহুদের যুদ্ধ যখন সংঘটিত হয়। রাতে আমাকে আমার পিতা ডেকে বললেন, ’আমার মনে হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরবৃন্দের মধ্যে যাঁরা সর্বপ্রথম শহীদ হবেন, আমিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত। আর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পর, তোমাকে ছাড়া ধরাপৃষ্ঠে প্রিয়তম আর কাউকে ছেড়ে যাচ্ছি না। আমার উপর ঋণ আছে, তা পরিশোধ ক’রে দেবে। তোমার বোনদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ সুতরাং যখন আমরা ভোরে উঠলাম, তখন দেখলাম যে, সর্বপ্রথম উনিই শাহাদত বরণ করেছেন। আমি তাঁর সাথে আর এক ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করলাম। তারপর অন্যজনকে তাঁর সঙ্গে একই কবরে দাফন করাতে আমার মনে শান্তি হল না। সুতরাং ছমাস পর আমি তাঁকে কবর হতে বের করলাম। (দেখা গেল) তার কান ব্যতীত (তার দেহ) সেদিনকার মত অবিকল ছিল, যেদিন তাকে কবরে রাখা হয়েছিল। অতঃপর আমি তাকে একটি আলাদা কবরে দাফন করলাম।
وَعَنْ جَابِرِ بنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : لَمَّا حَضَرَتْ أُحُدٌ دعَانِي أَبِـيْ مِنَ اللَّيلِ فَقَالَ : مَا أُرَاني إِلاَّ مَقْتُولاً فِي أَوَّلِ مَنْ يُقْتَلُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَإِنِّي لاَ أَتْرُكُ بَعْدِي أَعَزَّ عَلَيَّ مِنْكَ غَيْرَ نَفْسِ رَسُولِ اللهِ ﷺ وَإِنَّ عَلَيَّ دَيْناً فَاقْضِ وَاسْتَوْصِ بِأَخَوَاتِكَ خَيْراً فَأَصْبَحْنَا فَكَانَ أَوَّلَ قَتِيلٍ وَدَفَنْتُ مَعَهُ آخَرَ فِي قَبْرِهِ ثُمَّ لَمْ تَطِبْ نَفْسِي أَنْ أَتْرُكَهُ مَعَ آخَرَ فَاسْتَخْرَجْتُهُ بَعْدَ سِتَّةِ أَشْهُرٍ فَإِذَا هُوَ كَيَوْمِ وَضَعْتُهُ غَيْرَ أُذنِهِ فَجَعَلْتُهُ فِي قَبْرٍ عَلَى حِدَةٍ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০৩) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবার মধ্য থেকে দু’জন সাহাবী অন্ধকার রাতে তাঁর নিকট হতে বাইরে গমন করেন। আর তাঁদের আগে আগে প্রদীপের ন্যায় কোন আলো বিদ্যমান ছিল। পরে যখন তাঁরা একে অপর থেকে আলাদা হয়ে গেলেন, তখনও প্রত্যেকের সঙ্গে আলো ছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁরা প্রত্যেকে নিজ নিজ গৃহে পৌঁছে গেলেন।
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلَينِ مِنْ أَصحَابِ النَّبِيِّ ﷺ خَرَجَا مِنْ عِنْدِ النَّبِيِّ ﷺ فِي لَيْلَةٍ مُظْلِمَةٍ وَمَعَهُمَا مِثْلُ المِصْبَاحَيْنِ بَيْنَ أَيْديهِمَا فَلَمَّا افْتَرَقَا، صَارَ مَعَ كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا وَاحِدٌ حَتّٰـى أَتَى أَهْلَهُ رواهُ البُخاري مِنْ طُرُقٍ؛ وفي بَعْضِهَا أنَّ الرَّجُلَيْنِ أُسَيْدُ بنُ حُضير، وَعَبّادُ بنُ بِشْرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মুশরিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য) আসেম ইবনে সাবেত আনসারীর নেতৃত্বে একটি গুপ্তচরের দল কোথাও পাঠালেন। যেতে যেতে তাঁরা উসফান ও মক্কার মধ্যবর্তী হাদ্আহ নামক স্থানে পৌঁছলে হুযায়ল গোত্রের একটি শাখা বানী লিহইয়ানের নিকট তাঁদের আগমনের কথা জানিয়ে দেওয়া হল। এ সংবাদ পাওয়ার পর তারা প্রায় একশজন তীরন্দাজ সমভিব্যাহারে তাঁদের প্রতি ধাওয়া করল। দলটি তাদের (মুসলিম গোয়েন্দা দলের) পদচিহ্ন অনুসরণ করতে লাগল। আসেম ও তাঁর সাথীগণ বুঝতে পেরে একটি (উঁচু) জায়গায় (পাহাড়ে) আশ্রয় নিলেন। এবার শত্রুদল তাঁদেরকে ঘিরে ফেলল এবং বলল, ’নেমে এসে আত্মসমর্পণ কর, তোমাদের জন্য (নিরাপত্তার) প্রতিশ্রুতি রইল; তোমাদের কাউকে আমরা হত্যা করব না।’ আস্বেম বিন সাবেত বললেন, ’আমি কোন কাফেরের প্রতিশ্রুতিতে আশ্বস্ত হয়ে এখান থেকে অবতরণ করব না। হে আল্লাহ! আমাদের এ সংবাদ তোমার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পৌঁছিয়ে দাও।’
অতঃপর তারা মুসলিম গোয়েন্দাদলের প্রতি তীর বর্ষণ করতে শুরু করল। তারা আস্বেমকে শহীদ ক’রে দিল। আর তাঁদের মধ্যে তিনজন তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নেমে এলেন। তাঁরা হলেন, খুবাইব, যায়দ বিন দাসিনাহ ও অন্য একজন (আব্দুল্লাহ বিন ত্বারিক)। অতঃপর তারা তাঁদেরকে কাবু ক’রে ফেলার পর নিজেদের ধনুকের তার খুলে তার দ্বারা তাঁদেরকে বেঁধে ফেলল। এ দেখে তাঁদের সাথে তৃতীয় সাহাবী (আব্দুল্লাহ) বললেন, ’এটা প্রথম বিশ্বাসঘাতকতা। আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের সাথে যাব না। ঐ শহীদগণই আমার আদর্শ।’ কিন্তু তারা তাঁকে তাদের সাথে নিয়ে যাওয়ার জন্য বহু টানা হেঁচড়া করল এবং বহু চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি তাদের সঙ্গে যেতে অস্বীকার করলেন। অবশেষে কাফেরগণ তাঁকে শহীদ করে দিল এবং খুবাইব ও যায়দ বিন দাসিনাকে বদর যুদ্ধের পরে মক্কার বাজারে গিয়ে বিক্রি ক’রে দিল।
বনী হারেস বিন আমের বিন নাওফাল বিন আব্দে মানাফ গোত্রের লোকেরা খুবাইবকে ক্রয় ক’রে নিল। আর খুবাইব বদর যুদ্ধের দিন হারেসকে হত্যা করেছিলেন। তাই তিনি তাদের নিকট বেশ কিছুদিন বন্দী অবস্থায় কাটালেন। অবশেষে তারা তাঁকে হত্যা করার ব্যাপারে একমত হল। একদা তিনি নাভির নীচের লোম পরিষ্কার করার জন্য হারেসের কোন এক কন্যার নিকট থেকে একখানা ক্ষুর চাইলেন। সে তাঁকে তা দিল। সে অন্যমনস্ক থাকলে তার একটি শিশু বাচ্চা (খেলতে খেলতে) তাঁর নিকট চলে গেল। অতঃপর সে খুবাইবকে দেখল যে, তিনি বাচ্চাটাকে নিজের উরুর উপর বসিয়ে রেখেছেন এবং ক্ষুরটি তাঁর হাতে রয়েছে। এতে সে ভীষণভাবে ঘাবড়ে গেল। খুবাইব তা বুঝতে পেরে বললেন, ’একে হত্যা করে ফেলব ভেবে তুমি কি ভয় পাচ্ছ? আমি তা করব না।’
(পরবর্তী কালে মুসলিম হওয়ার পর) হারেসের উক্ত কন্যা বর্ণনা করেন যে, ’আল্লাহর কসম! আমি খুবাইব অপেক্ষা উত্তম বন্দী আর কখনও দেখিনি। আল্লাহর কসম! আমি তাঁকে একদিন আঙ্গুরের থোকা থেকে আঙ্গুর খেতে দেখেছি। অথচ তখন মক্কায় কোন ফলই ছিল না। অধিকন্তু তিনি তখন লোহার শিকলে আবদ্ধ ছিলেন। এ আঙ্গুর তাঁর জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত রিয্ক ছাড়া আর কিছুই নয়।’
অতঃপর তাঁকে হত্যা করার জন্য যখন হারামের বাইরে নিয়ে গেল, তখন তিনি তাদেরকে বললেন, ’আমাকে দু’ রাকআত নামায আদায় করার সুযোগ দাও।’ সুতরাং তারা তাঁকে ছেড়ে দিল এবং তিনি দু’ রাকআত নামায আদায় করলেন। (নামায শেষে তিনি তাদেরকে) বললেন, ’আমি মৃত্যুর ভয়ে শংকিত হয়ে পড়েছি, তোমরা যদি এ কথা মনে না করতে, তাহলে আমি (নামাযকে) আরও দীর্ঘায়িত করতাম।’ অতঃপর তিনি বললেন, ’হে আল্লাহ! তাদেরকে এক এক করে গুণে রাখ, তাদেরকে বিক্ষিপ্তভাবে ধ্বংস কর এবং তাদের মধ্যে কাউকেও বাকী রেখো না।
তারপর তিনি আবৃত্তি করলেন,
’যেহেতু আমি মুসলিম হিসাবে মৃত্যুবরণ করছি
তাই আমার কোন পরোয়া নেই।
আল্লাহর সমুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কোন্ পার্শেব আমি লুটিয়ে পড়ি।
আমি যেহেতু আল্লাহর পথেই মৃত্যুবরণ করছি,
আর তিনি ইচ্ছা করলে আমার ছিন্নভিন্ন প্রতিটি অঙ্গে বরকত দান করতে পারেন।’
খুবাইবই প্রথম ছিলেন, যিনি প্রত্যেক সেই মুসলিমের জন্য (হত হওয়ার পূর্বে দুই রাকআত) নামায সুন্নাত ক’রে যান, যাকে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয়।
এদিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবাবর্গকে সেই দিনই তাঁদের খবর জানালেন, যেদিন তাঁদেরকে হত্যা করা হয়।
অপর দিকে কুরাইশের কিছু লোক আস্বেম বিন সাবেতের খুন হওয়া শুনে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর মৃতদেহ থেকে পরিচিত কোন অংশ নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠিয়ে দিল। আর তিনি বদর যুদ্ধের দিন তাদের একজন বড় নেতাকে হত্যা করেছিলেন। তখন আল্লাহ মেঘের মত এক ঝাঁক মৌমাছি পাঠিয়ে দিলেন; যা তাদের প্রেরিত লোকদের হাত থেকে আস্বেমের লাশকে রক্ষা করল। সুতরাং তারা তাঁর দেহ থেকে কোন অংশ কেটে নিতে সক্ষম হল না। (বুখারী ৩০৪৫, ৩৯৮৯, ৪০৮৬, ৭৪০২)
এ পরিচ্ছেদে আরো অন্যান্য বহু সহীহ হাদীস রয়েছে, যার কিছু এই কিতাবের যথাস্থানে উল্লিখিত হয়েছে। যেমন সেই কিশোরের হাদীস, যে একজন পাদরী ও যাদুকরের কাছে যাতায়াত করত, জুরাইজের হাদীস, গুহার মুখে পাথর চাপা পড়া তিন গুহাবন্দীর হাদীস, সেই সৎলোকের হাদীস, যিনি মেঘ থেকে আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন, ’অমুকের বাগানে পানি বর্ষণ কর’ ইত্যাদি। এ পরিচ্ছেদের দলীল প্রচুর ও প্রসিদ্ধ। আর আল্লাহই তাওফীকদাতা।
وَعَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : بَعَثَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَشْرَةَ رَهْطٍ عَيْناً سَرِيَّة، وَأَمَّرَ عَلَيْهَا عَاصِمَ بنَ ثَابِتٍ الأَنْصَارِيَّ فَانْطَلَقُوا حَتّٰـى إِذَا كَانُوا بِالهَدْأَةِ ؛ بَيْنَ عُسْفَانَ وَمَكَّةَ ؛ ذُكِرُوا لِحَيٍّ مِنْ هُذَيْل يُقَالَ لَهُمْ : بَنُو لِحيَانَ فَنَفَرُوا لَهُمْ بِقَرِيبٍ مِنْ مِئَةِ رَجُلٍ رَامٍ فَاقْتَصُّوا آثَارَهُمْ فَلَمَّا أَحَسَّ بِهِمْ عَاصِمٌ وَأَصْحَابُهُ لَجَأُوْا إِلَى مَوْضِعٍ فَأَحَاطَ بِهِمُ القَوْمُ فَقَالَوا : انْزِلُوا فَأَعْطُوا بِأَيْدِيكُمْ وَلَكُمُ العَهْدُ وَالمِيثَاقُ أَنْ لاَ نَقْتُلَ مِنْكُمْ أَحَداً فَقَالَ عَاصِمُ بنُ ثَابِتٍ : أَيُّهَا القَوْمُ أَمَّا أَنَا فَلاَ أَنْزِلُ عَلَى ذِمَّةِ كَافِرٍ : اَللّٰهُمَّ أَخْبِرْ عَنَّا نَبِيَّكَ ﷺ فَرَمَوهُمْ بِالنّبْلِ فَقَتلُوا عَاصِماً وَنَزَلَ إِلَيْهِمْ ثَلاَثَةُ نَفَرٍ عَلَى العَهْدِ وَالمِيثاقِ، مِنْهُمْ خُبَيْبٌ، وَزَيدُ بنُ الدَّثِنَةِ وَرَجُلٌ آخَرُ فَلَمَّا اسْتَمْكَنُوا مِنْهُمْ أَطْلَقُوا أَوْتَارَ قِسِيِّهِمْ فَرَبطُوهُمْ بِهَا قَالَ الرَّجُلُ الثَّالِثُ : هٰذَا أَوَّلُ الغَدْرِ وَاللهِ لاَ أَصْحَبُكُمْ إنَّ لِي بِهَؤُلاَءِ أُسْوَةً يُرِيدُ القَتْلَى فَجَرُّوهُ وعَالَجُوهُ فَأَبَى أَنْ يَصْحَبَهُمْ فَقَتَلُوهُ وَانْطَلَقُوا بِخُبَيبٍ وَزَيْدِ بنِ الدَّثِنَةِ حَتّٰـى بَاعُوهُمَا بِمَكَّةَ بَعْدَ وَقْعَةِ بَدْرٍ ؛ فَابْتَاعَ بَنُو الحارِثِ بنِ عامِرِ بنِ نَوْفَلِ بنِ عبدِ مَنَافٍ خُبيباً وَكَانَ خُبَيْبٌ هُوَ قَتَلَ الحَارِثَ يَوْمَ بَدْرٍ فَلِبثَ خُبَيْبٌ عِنْدَهُمْ أَسِيراً حَتّٰـى أَجْمَعُوا عَلَى قَتْلِهِ، فاسْتَعَارَ مِنْ بَعْضِ بَنَاتِ الحَارثِ مُوسَى يَسْتَحِدُّ بِهَا فَأَعَارَتْهُ فَدَرَجَ بُنَيٌّ لَهَا وَهِيَ غَافِلَةٌ حَتّٰـى أَتَاهُ فَوَجَدَتهُ مُجْلِسَهُ عَلَى فَخْذِهِ وَالمُوسَى بِيَدِهِ فَفَزِعَتْ فَزْعَةً عَرَفَهَا خُبَيْبٌ فَقَالَ : أَتَخَشَيْنَ أَنْ أَقْتُلَهُ مَا كُنْتُ لأَفْعَلَ ذٰلِكَ قَالَتْ : وَاللهِ مَا رَأيْتُ أَسِيراً خَيراً مِنْ خُبَيْبٍ فَوَاللهِ لَقَدْ وَجَدْتُهُ يَوْماً يَأكُلُ قِطْفاً مِنْ عِنَبٍ فِي يَدِهِ وَإِنَّهُ لَمُوثَقٌ بِالحَدِيدِ وَمَا بِمَكَّةَ مِنْ ثَمَرَةٍ وَكَانَتْ تَقُولُ: إِنَّهُ لَرِزْقٌ رَزَقَهُ اللهُ خُبَيْباً فَلَمَّا خَرَجُوا بِهِ مِنَ الحَرَمِ لِيَقْتُلُوهُ فِي الحِلِّ، قَالَ لَهُمْ خُبَيْبٌ : دَعُونِي أُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ فَتَرَكُوهُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ فَقَالَ : وَاللهِ لَوْلاَ أَنْ تَحْسَبُوا أَنَّ مَا بِي جَزَعٌ لَزِدْتُ : اَللّٰهُمَّ أَحْصِهِمْ عَدَداً وَاقْتُلهُمْ بِدَدَاً وَلاَ تُبْقِ مِنْهُمْ أَحَداً وَقَالَ :
فَلَسْتُ أُبَالِي حِيْنَ أُقْتَلُ مُسْلِماً * عَلَى أيِّ جَنْبٍ كَانَ للهِ مَصْرَعِي
وَذٰلِكَ فِي ذَاتِ الإِلَهِ وَإِنْ يَشَأْ * يُبَارِكْ عَلَى أَوْصَالِ شِلْوٍ مُمَزَّعِ
وَكَانَ خُبَيبٌ هُوَ سَنَّ لِكُلِّ مُسْلِمٍ قُتِلَ صَبْراً الصَّلاَةَ وَأَخْبَرَ - يَعنِي : النَّبِيَّ ﷺ أَصْحَابَهُ يَوْمَ أُصِيبُوا خَبَرَهُمْ وَبَعَثَ نَاسٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلَى عَاصِمِ بنِ ثَابِتٍ حِيْنَ حُدِّثُوا أَنَّهُ قُتِلَ أَنْ يُؤْتَوا بِشَيءٍ مِنْهُ يُعْرَفُ وكَانَ قَتَلَ رَجُلاً مِنْ عُظَمَائِهِمْ فَبَعَثَ اللهُ لِعَاصِمٍ مِثْلَ الظُّلَّةِ مِنَ الدَّبْرِ فَحَمَتْهُ مِنْ رُسُلِهِمْ فَلَمْ يَقْدِرُوا أَنْ يَقْطَعُوا مِنْهُ شَيْئاً رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ আল্লাহর প্রিয় বন্ধুদের কারামত (অলৌকিক কর্মকাণ্ড) এবং তাঁদের মাহাত্ম্য
(২৯০৫) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখনই কোন বিষয়ে আমি উমার (রাঃ) কে বলতে শুনতাম, ’আমার মনে হয়, এটা এই হবে’ তখনই (দেখতাম) বাস্তবে তাই হত; যা তিনি ধারণা করতেন!
وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ : مَا سَمِعْتُ عُمَرَ يَقُوْلُ لِشَيءٍ قَطُّ : إِنِّي لأَظُنُّهُ كَذَا إِلاَّ كَانَ كَمَا يَظُنُّ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯০৬) আব্দুল্লাহ বিন আদী বিন হামরা যুহরী কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কার বাজার হায্ওয়ারাতে দাঁড়িয়ে বলেছেন, আল্লাহর কসম! নিশ্চয় তুমি আল্লাহর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ভূমি এবং আল্লাহর সকল ভূমির চাইতে আল্লাহ আযযা অজাল্লার নিকট (এবং আমার নিকট) সবচেয়ে প্রিয় ভূমি। আমাকে যদি তোমার মধ্য থেকে বহিষ্কার করা না হত, তাহলে আমি বের হতাম না।
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْحَمْرَاءِ الزُّهْرِيَّ أن النَّبِيَّ ﷺ قَالَ وَهُوَ وَاقِفٌ بِالْحَزْوَرَةِ فِي سُوقِ مَكَّةَ وَاللهِ إِنَّكِ لَأَخْيَرُ أَرْضِ اللهِ وَأَحَبُّ أَرْضِ اللهِ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَوْلَا أَنِّي أُخْرِجْتُ مِنْكِ مَا خَرَجْتُ
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯০৭) ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কাকে সম্বোধন করে বলেছেন, তুমি কতই না সুন্দর শহর! তুমি আমার নিকট কতই না প্রিয়! আমার কওম যদি তোমার মধ্য থেকে আমাকে বাহির না করে দিত, তাহলে তোমার মধ্য ছাড়া আমি অন্য কোথাও বাস করতাম না।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لِمَكَّةَ مَا أَطْيَبَكِ وَأَحَبَّكِ إِلَيَّ، وَلَوْلا أَنَّ قَوْمَكِ أَخْرَجُونِي مِنْكِ مَا سَكَنْتُ غَيْرَكِ
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯০৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, নিশ্চয় এই শহরকে আল্লাহ সেদিন ’হারাম’ (পবিত্র ও সম্মানিত) ঘোষণা করেছেন, যেদিন তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং তা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর দেওয়া সম্মানে সম্মানিত। আমার পূর্বে কারো জন্য এখানে যুদ্ধ বৈধ করা হয়নি। আর আমার জন্যও (মক্কা-বিজয়) দিনের কিছু সময় ছাড়া তা বৈধ করা হয়নি। সুতরাং তা কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর দেওয়া সম্মানে সম্মানিত। তার কাঁটা কাটা যাবে না, তার শিকার চকিত করা হবে না, প্রচার উদ্দেশ্য ছাড়া তার পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো যাবে না। তার ঘাস কাটা যাবে না। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন, ’হে আল্লাহর রসূল! কিন্তু ইযখির ঘাস? তা তো কর্মকার (জ্বালানীর কাজে) এবং ঘরের ছাদ দেওয়ার কাজে লাগে।’ তিনি বললেন, ইযখির ঘাস ব্যতিক্রম।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمَ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ إِنَّ هٰذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَإِنَّهُ لَمْ يَحِلَّ الْقِتَالُ فِيهِ لأَحَدٍ قَبْلِى وَلَمْ يَحِلَّ لِى إِلاَّ سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ فَهُوَ حَرَامٌ بِحُرْمَةِ اللهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ لاَ يُعْضَدُ شَوْكُهُ وَلاَ يُنَفَّرُ صَيْدُهُ وَلاَ يَلْتَقِطُ إِلاَّ مَنْ عَرَّفَهَا وَلاَ يُخْتَلَى خَلاَهَا فَقَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِلاَّ الإِذْخِرَ فَإِنَّهُ لِقَيْنِهِمْ وَلِبُيُوتِهِمْ فَقَالَ إِلاَّ الإِذْخِرَ
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯০৯) আবূ শুরাইহ আদাবী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মক্কাকে আল্লাহ ’হারাম’ বানিয়েছেন, মানুষে নয়। সুতরাং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী কোন মানুষের জন্য তার মধ্যে রক্তপাত ঘটানো এবং কোন গাছ কাটা বৈধ নয়।
عَنْ أَبِـيْ شُرَيْحٍ الْعَدَوِيِّ قَالَ قَالَ رسول الله ﷺ إِنَّ مَكَّةَ حَرَّمَهَا اللهُ وَلَمْ يُحَرِّمْهَا النَّاسُ فَلَا يَحِلُّ لِامْرِئٍ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَنْ يَسْفِكَ بِهَا دَمًا وَلَا يَعْضِدَ بِهَا شَجَرَةً
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯১০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন বলেছেন, নিশ্চয়ই এই শহরকে আল্লাহ হারাম ঘোষণা করেছেন। এর কোন কাঁটা তোলা যাবে না, কোন শিকার (পশু-পাখী) চকিত করা যাবে না এবং প্রচার উদ্দেশ্যে ছাড়া এর কোন পড়ে থাকা জিনিস কুড়ানো যাবে না।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ إِنَّ هٰذَا الْبَلَدَ حَرَّمَهُ اللهُ لَا يُعْضَدُ شَوْكُهُ وَلَا يُنَفَّرُ صَيْدُهُ وَلَا يَلْتَقِطُ لُقَطَتَهُ إِلَّا مَنْ عَرَّفَهَا
পরিচ্ছেদঃ মক্কার মাহাত্ম্য
(২৯১১) জাবের (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আমি শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কারোর জন্য মক্কায় অস্ত্র বহন করা বৈধ নয়।
عَنْ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِىَّ ﷺ يَقُولُ لاَ يَحِلُّ لأَحَدِكُمْ أَنْ يَحْمِلَ بِمَكَّةَ السِّلاَحَ
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১২) সায়েব বিন খাল্লাদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি মদীনাবাসীদের প্রতি অত্যাচার করে এবং তাদেরকে সন্ত্রস্ত করে, তুমি তাকে সন্ত্রস্ত কর। আর তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতামণ্ডলী এবং সমস্ত মানবমণ্ডলীর অভিশাপ। তার নিকট থেকে নফল-ফরয কোন ইবাদতই কবূল করা হবে না।
عَنِ السَّائِبِ بن خَلادٍ، عَنْ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَنَّهُ قَالَ اَللّٰهُمَّ مَنْ ظَلَمَ أَهْلَ الْمَدِينَةِ وَأَخَافَهُمْ، فَأَخِفْهُمْ وَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ، وَالْمَلائِكَةِ، وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ صَرْفًا وَلا عَدْلا
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৩) আলী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আইর থেকে সওর পর্যন্ত মদীনার হারাম-সীমা। এখানে যে ব্যক্তি (ধর্মীয় বিষয়ে) অভিনব কিছু (বিদআত) রচনা করবে বা বিদআতীকে আশ্রয় দেবে, তার উপর আল্লাহ, ফিরিশতাদল এবং সকল মানুষের অভিশাপ। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল করবেন না।
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمَدِينَةُ حَرَمٌ مَا بَيْنَ عَيْرٍ إِلَى ثَوْرٍ فَمَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا أَوْ آوَى مُحْدِثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالْمَلاَئِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ لاَ يَقْبَلُ اللهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلاَ عَدْلاً
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৪) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে (মুসলিম) ব্যক্তি মদীনার সংকীর্ণতা ও কষ্টের উপর ধৈর্য ধারণ করবে, আমি কিয়ামতে তার জন্য সুপারিশ করব অথবা সাক্ষ্য দেব।
عَنْ أَبِى هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ يَصْبِرُ عَلَى لأْوَاءِ الْمَدِينَةِ وَشِدَّتِهَا أَحَدٌ مِنْ أُمَّتِى إِلاَّ كُنْتُ لَهُ شَفِيعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَوْ شَهِيدًا
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৫) সা’দ (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ’আমি মদীনার দুই (হার্রার) প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। তার কাঁটা তোলা যাবে না এবং তার শিকার হত্যা করা যাবে না। মদীনা তাদের জন্য উত্তম জায়গা; যদি তারা জানত।...’
عَنْ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنِّى أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ لاَبَتَىِ الْمَدِينَةِ أَنْ يُقْطَعَ عِضَاهُهَا أَوْ يُقْتَلَ صَيْدُهَا - وَقَالَ - الْمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৬) আবু সাঈদ (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইবরাহীম (আঃ) মক্কাকে হারামরূপে ঘোষণা করেছেন। আর আমি মদীনাকে তার দুই সংকীর্ণ পাহাড়ী পথের মধ্যবর্তী স্থানকে হারামরূপে ঘোষণা করছি। তাতে কোন খুন-খারাবি করা যাবে না, লড়ায়ের জন্য কোন অস্ত্র বহন করা যাবে না এবং পশুকে খাওয়ানো উদ্দেশ্যে ছাড়া কোন গাছের পাতা ঝরানো যাবে না।
عَنْ أبي سعيد قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ اَللّٰهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ حَرَّمَ مَكَّةَ فَجَعَلَهَا حَرَمًا وَإِنِّى حَرَّمْتُ الْمَدِينَةَ حَرَامًا مَا بَيْنَ مَأْزِمَيْهَا أَنْ لاَ يُهَرَاقَ فِيهَا دَمٌ وَلاَ يُحْمَلَ فِيهَا سِلاَحٌ لِقِتَالٍ وَلاَ يُخْبَطَ فِيهَا شَجَرَةٌ إِلاَّ لِعَلْفٍ
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৭) ইবনে উমার (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যু বরণ করতে সক্ষম হয়, সে যেন তা করে। যেহেতু যে ব্যক্তি মদীনায় মৃত্যুবরণ করবে, আমি কিয়ামতে তার জন্য সুপারিশ করব।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ اسْتَطَاعَ أَنْ يَمُوتَ بِالْمَدِينَةِ فَلْيَمُتْ بِهَا فَإِنِّي أَشْفَعُ لِمَنْ يَمُوتُ بِهَا
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৮) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মক্কা ও মদীনা ব্যতীত অন্য সব শহরেই দাজ্জাল প্রবেশ করবে। মক্কা ও মদীনার গিরিপথে ফিরিশতারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে উক্ত শহরদ্বয়ের প্রহরায় রত থাকবেন। দাজ্জাল (মদীনার নিকটস্থ) বালুময় লোনা জমিতে অবতরণ করবে। সে সময় মদীনা তিনবার কেঁপে উঠবে। মহান আল্লাহ সেখান থেকে প্রত্যেক কাফের ও মুনাফিককে বের ক’রে দেবেন।
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيسَ مِنْ بَلَدٍ إِلاَّ سَيَطَؤُهُ الدَّجَّالُ إِلاَّ مَكَّةَ وَالمَدِينَةَ ؛ وَلَيْسَ نَقْبٌ مِنْ أَنْقَابِهِمَا إِلاَّ عَلَيْهِ المَلاَئِكَةُ صَافِّينَ تَحْرُسُهُمَا فَيَنْزِلُ بالسَّبَخَةِ، فَتَرْجُفُ المَدِينَةُ ثَلاَثَ رَجَفَاتٍ يُخْرِجُ اللهُ مِنْهَا كُلَّ كَافِرٍ وَمُنَافِقٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯১৯) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, (মক্কা ও) মদীনা প্রহরী ফিরিশতা দ্বারা নিরাপদ। সেখানে প্লেগ ও দাজ্জাল প্রবেশ করবে না।
عَنْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلَى أَنْقَابِ الْمَدِينَةِ مَلَائِكَةٌ لَا يَدْخُلُهَا الطَّاعُونُ وَلَا الدَّجَّالُ
পরিচ্ছেদঃ মদীনার মাহাত্ম্য
(২৯২০) সাদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, যে ব্যক্তিই মদীনাবাসীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করবে সেই ব্যক্তিই গলে যাবে; যেমন লবণ পানিতে গলে যায়।
عَنْ سَعْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ لَا يَكِيدُ أَهْلَ الْمَدِينَةِ أَحَدٌ إِلَّا انْمَاعَ كَمَا يَنْمَاعُ الْمِلْحُ فِي الْمَاءِ
পরিচ্ছেদঃ শাম দেশের মাহাত্ম্য
(২৯২১) যায়দ বিন সাবেত আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, শামের জন্য কতই না কল্যাণ! শামের জন্য কতই না কল্যাণ!’’ আমি বললাম (সাহাবাগণ বললেন), ’হে আল্লাহর রসূল! তা কেন?’ তিনি বললেন, ’’যেহেতু দয়াময় (আল্লাহ)র ফিরিশতা তার উপরে ডানা বিছিয়ে আছেন।
عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ يَوْمًا حِينَ قَالَ طُوبَى لِلشَّامِ طُوبَى لِلشَّامِ قُلْتُ مَا بَالُ الشَّامِ؟ قَالَ الْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَجْنِحَتِهَا عَلَى الشَّامِ
পরিচ্ছেদঃ শাম দেশের মাহাত্ম্য
(২৯২২) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের শাম ও ইয়ামানে বরকত (প্রাচুর্য) দান কর। সকলে বলল, ’আর আমাদের নজদে?’ তিনি বললেন, ’’হে আল্লাহ! তুমি আমাদের শাম ও ইয়ামানে বরকত (প্রাচুর্য) দান কর। লোকেরা বলল, ’আর আমাদের নজদে?’ তিনি বললেন, ওখানে আছে ভূমিকম্প ও ফিতনাসমূহ এবং ওখান হতে শয়তানের শৃঙ্গ উদিত হবে।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ النَّبِـيُّ ﷺ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا، قَالَ قَالَوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ اَللّٰهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي شَامِنَا وَفِي يَمَنِنَا، قَالَ قَالَوا وَفِي نَجْدِنَا قَالَ قَالَ هُنَاكَ الزَّلَازِلُ وَالْفِتَنُ وَبِهَا يَطْلُعُ قَرْنُ الشَّيْطَانِ