পরিচ্ছেদঃ স্বলাতের জায়গা
(৫৭৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের গৃহসমূহকে কবর বানিয়ে নিয়ো না।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لاَ تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ مَقَابِرَ
পরিচ্ছেদঃ স্বলাতের জায়গা
(৫৭৯) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কবরস্থান, প্রস্রাব-পায়খানা ও গোসল করার স্থান ছাড়া পৃথিবীর সমস্ত জায়গাই মসজিদ। (তাতে নামায পড়া চলে।)
عَن أَبِى سَعِيدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الأَرْضُ كُلُّهَا مَسْجِدٌ إِلاَّ الْحَمَّامَ وَالْمَقْبُرَةَ
পরিচ্ছেদঃ স্বলাতের জায়গা
(৫৮০) জুনদুব কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! তোমরা কবরগুলোকে মসজিদ বানিয়ে নিয়ো না। এরূপ করতে আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি।
عَن جندب عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أَلاَ فَلاَ تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ إِنِّى أَنْهَاكُمْ عَن ذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ স্বলাতের জায়গা
(৫৮১) খালেদ বিন মা’দান হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় উট শয়তানী উপাদান থেকে সৃষ্ট এবং নিশ্চয় প্রত্যেক উটের পশ্চাতে শয়তান থাকে।
عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ(إِنَّ الِإبِلَ خُلِقَتْ مِنَ الشَّيَاطِينِ وَ إِنَّ وَرَاءَ كُلّ بَعِيْرٍ شَيْطَانًا
পরিচ্ছেদঃ স্বলাতের জায়গা
(৫৮২) বারা’ বিন আযেব (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উটের আস্তাবলে নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, তোমরা উটের আস্তাবলে নামায পড়ো না, কারণ উট শয়তানী উপাদান থেকে সৃষ্ট। আর ছাগল-ভেড়ার গোয়ালে নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ছাগল-ভেড়ার গোয়ালে নামায পড়, কারণ তা হল বরকত।
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَن الصَّلاَةِ فِى مَبَارِكِ الإِبِلِ فَقَالَ لاَ تُصَلُّوا فِى مَبَارِكِ الإِبِلِ فَإِنَّهَا مِنَ الشَّيَاطِينِ وَسُئِلَ عَن الصَّلاَةِ فِى مَرَابِضِ الْغَنَمِ فَقَالَ صَلُّوا فِيهَا فَإِنَّهَا بَرَكَةٌ
পরিচ্ছেদঃ কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়া নিষেধ
(৫৮৩) আবূ মারসাদ কান্নায ইবনে হুসাইন (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, তোমরা কবরের দিকে মুখ করে নামায পড়ো না এবং তার উপর বসো না।
عَنْ أَبيْ مَرْثَدٍ كَنَّازِ بْنِ الحُصَيْنِ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لاَ تُصَلُّوا إِلَى القُبُورِ وَلاَ تَجْلِسُوا عَلَيْهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৪) উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি লাভের) উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দেন।
عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ (রাঃ) قاَلَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ بَنَى مَسْجِدًا لِلهِ تَعَالَى (يَبْتَغِى بِهِ وَجْهَ اللهِ) بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِى الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৫) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি পানির কোন কূপ খনন করে এবং তা হতে মানব, দানব পশু-পক্ষী (প্রভৃতি) পিপাসার্ত জীব পানি পান করে তবে সেই ব্যক্তিকে আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার প্রতিদান প্রদান করবেন। আর যে ব্যক্তি তিতির পাখীর (পোকামাকড় খোঁজার উদ্দেশ্যে) আঁচড়ানো স্থান (বা তার বাসা) পরিমাণ আয়তনের অথবা তদপেক্ষা ছোট আকারের মসজিদ নির্মাণ করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করবেন।
عَن جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَن رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبْ مِنْهُ كَبِدٌ حَرَّى مِنْ جِنٍّ وَلاَ إِنْسٍ وَلاَ طَائِرٍ إِلاَّ آجَرَهُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمَنْ بَنَى مَسْجِدًا كَمَفْحَصِ قَطَاةٍ أَوْ أَصْغَرَ بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মসজিদের ভিতর থুথু ফেলা পাপ। আর তার কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হল তা মাটিতে পুঁতে দেওয়া।
[অর্থাৎ, মসজিদের মেঝে কাঁচা মাটি বা বালির হলে তা মাটি বা বালি ঢাকা দিতে হবে। আমাদের (শাফেয়ী) মযহাবের আলেম আবুল মাহাসিন রুয়ানী তাঁর ’আল-বাহর’ গ্রন্থে বলেন, বলা হয়েছে যে, দাফন করার অর্থ হল, তা মসজিদ থেকে দূর ক’রে দেওয়া। কিন্তু মসজিদের মেঝে যদি মোজাইক করা বা পাকা হয়, তাহলে তা জুতা বা অন্য কিছু দিয়ে রগড়ে দেওয়া—যেমন বহু জাহেল করে থাকে—দাফন করা নয়। বরং তাতে পাপ বৃদ্ধি করা এবং মসজিদকে বেশি নোংরা করা হয়। যে কেউ এমন ক’রে থাকে, তার উচিত হল, তা কাপড়, হাত অথবা অন্য কিছু দিয়ে মুছে দেওয়া অথবা পানি দিয়ে ধুয়ে দেওয়া।]
عَن أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ البُزَاقُ فِي المَسْجِدِ خَطِيئَةٌ وَكَفَّارَتُهَا دَفْنُهَا متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৭) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলার দিকের দেওয়ালে পোঁটা, থুথু কিংবা শ্লেষ্মা দেখতে পেলেন। সুতরাং তিনি রগড়ে পরিষ্কার করে দিলেন।
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى فِي جِدَارِ القِبْلَةِ مُخَاطاً أَوْ بُزَاقاً أَوْ نُخَامَةً فَحَكَّهُ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৮) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর কাঁদির ডাঁটা হাতে নিতে পছন্দ করতেন। একদা ঐ ডাঁটা হাতে তিনি মসজিদ প্রবেশ করলেন এবং মসজিদের কিবলায় (দেওয়ালে) কিছু শ্লেষ্মা লেগে আছে তা লক্ষ্য করলেন। তিনি ঐ (ডাঁটা দ্বারা) তা রগড়ে পরিষ্কার করে দিলেন। অতঃপর রাগের সাথে লোকেদেরকে সম্বোধন করে বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি একথা পছন্দ করে যে, কোন ব্যক্তি তাকে সামনে করে তার চেহারায় থুথু মারে?! তোমাদের মধ্যে যখন কেউ কেবলামুখে নামায পড়তে দাঁড়ায়, তখন তার মহান প্রতিপালক (আল্লাহ) তার সামনে থাকেন এবং তার ডানে থাকেন ফিরিশতা। সুতরাং সে যেন তার সামনের (কেবলার) দিকে অথবা ডান দিকে থুথু না ফেলে...।
عَنْ أَبيْ سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُحِبُّ الْعَرَاجِينَ وَلاَ يَزَالُ فِي يَدِهِ مِنْهَا فَدَخَلَ الْمَسْجِدَ فَرَأَى نُخَامَةً فِي قِبْلَةِ الْمَسْجِدِ فَحَكَّهَا ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ مُغْضَبًا فَقَالَ أَيَسُرُّ أَحَدَكُمْ أَنْ يُبْصَقَ فِي وَجْهِهِ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَإِنَّمَا يَسْتَقْبِلُ رَبَّهُ جَلَّ وَعَزَّ وَالْمَلَكُ عَن يَمِينِهِ فَلاَ يَتْفُلْ عَن يَمِينِهِ وَلاَ فِي قِبْلَتِهِ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৮৯) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিবলার দিকে যে কফ্ ফেলে তার চেহারায় ঐ কফ্ থাকা অবস্থায় সে ব্যক্তিকে কিয়ামতের দিন পুনরুত্থিত করা হবে।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ قال : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُبْعَثُ صَاحِبُ النُّخَامَةِ فِي الْقِبْلَةِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهِيَ فِي وَجْهِهِ
-
(বাযযার ৫৯০৪, ইবনে খুযাইমাহ ১৩১৩, ইবনে হিব্বান ১৬৩৮, সহীহ তারগীব ২৮৫)
পরিচ্ছেদঃ মসজিদ বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৫৯০) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় এ মসজিদসমূহ পেশাব ও নোংরা-আবর্জনার উপযুক্ত স্থান নয়। এসব তো মহান আল্লাহর যিকর এবং কুরআন তেলাঅত করার জন্য। অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুরূপ কিছু বলেছেন।
وَعَن أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ هَذِهِ المَسَاجِدَ لاَ تَصْلُحُ لِشَيءٍ مِنْ هَذَا البَوْلِ وَلاَ القَذَرِ إنَّمَا هي لِذِكْرِ اللهِ تَعَالَى وَقِراءةِ القُرْآنِ أَوْ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি কাউকে হারানো জিনিস সন্ধান (ঘোষণা) করতে শোনে, সে যেন বলে, আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন। কারণ, মসজিদ এর জন্য বানানো হয়নি।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ مَنْ سَمِعَ رَجُلاً يَنْشُدُ ضَالَّةً فِي المَسْجِدِ فَلْيَقُلْ : لاَ رَدَّها اللهُ عَلَيْكَ فَإِنَّ المَسَاجِدَ لَمْ تُبْنَ لِهَذَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা কাউকে মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে দেখবে, তখন বলবে, আল্লাহ তোমার ব্যবসায় যেন লাভ না দেন। আর যখন কাউকে হারানো জিনিস খুঁজতে দেখবে, তখন বলবে, আল্লাহ যেন তোমাকে তা ফিরিয়ে না দেন।
وَعَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا رَأيْتُمْ مَنْ يَبِيعُ أَوْ يَبْتَاعُ فِي المَسْجِدِ فَقُولُوا : لاَ أَرْبَحَ اللهُ تِجَارَتَكَ وَإِذَا رَأَيْتُمْ مَنْ يَنْشُدُ ضَالَّةً فَقُولُوا : لاَ رَدَّهَا الله عَلَيْكَ رواه الترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯৩) বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একটি লোক মসজিদের মধ্যে (হারানো বস্তু সম্পর্কে) ঘোষণা পূর্বক বলল, আমাকে আমার লাল উটের সন্ধান কে দিতে পারবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি যেন তা না পাও। মসজিদ সেই কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে, যে কাজের জন্য নির্মিত হয়েছে। (অর্থাৎ, ইবাদতের জন্য, হারানো জিনিস খোঁজার জন্য নয়।)
وَعَن بُرَيْدَةَ أَنَّ رَجُلاً نَشَدَ فِي المَسْجِدِ فَقَالَ : مَنْ دَعَا إِلَى الجَمَلِ الأَحْمَرِ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ وَجَدْتَ إِنَّمَا بُنِيَتِ المََسَاجِدُ لِمَا بُنِيَتْ لَهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯৪) আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) স্বীয় পিতা থেকে, তিনি তাঁর (আমরের) দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন মসজিদের মধ্যে কেনা-বেচা করতে, হারানো বস্তু সন্ধান করতে অথবা তাতে (অবৈধ) কবিতা আবৃত্তি করতে।
وَعَن عَمرِو بنِ شُعَيبٍ عَنْ أَبيْ هِ عَن جَدِّهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَن الشِّرَاءِ وَالبَيْعِ فِي المَسْجِدِ وَأَنْ تُنْشَدَ فِيهِ ضَالَّةٌ أَوْ يُنْشَدَ فِيهِ شِعْرٌ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن)
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯৫) সাহাবী সায়েব ইবনে ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মসজিদে (নববীতে) ছিলাম। এমন সময় একটি লোক আমাকে কাঁকর ছুঁড়ে মারল। আমি তার দিকে তাকাতেই দেখি, তিনি উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)। তিনি বললেন, যাও, ঐ দু’জনকে আমার নিকট নিয়ে এস। আমি তাদেরকে নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেন, তোমরা কোথাকার? তারা বলল, আমরা তায়েফের অধিবাসী। তিনি বললেন, তোমরা যদি এই শহর (মদীনার) লোক হতে, তাহলে আমি তোমাদেরকে অবশ্যই কঠোর শাস্তি দিতাম। তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মসজিদে উচ্চস্বরে কথা বলছ!
وَعَن السَّائِبِ بنِ يَزِيدَ الصَّحَابِي قَالَ : كُنْتُ فِي المَسْجِدِ فَحَصَبَنِي رَجُلٌ فَنَظَرْتُ فَإِذَا عُمَرُ بْنُ الخَطَّابِ فَقَالَ : اِذْهَبْ فَأْتِنِي بِهَذَينِ فَجِئْتُهُ بِهِمَا فَقَالَ : مِنْ أَيْنَ أَنْتُمَا ؟ فَقَالاَ : مِنْ أَهْلِ الطَّائِفِ فَقَالَ : لَوْ كُنْتُمَا مِنْ أَهْلِ البَلَدِ لأَوْجَعْتُكُمَا تَرْفَعَانِ أَصْوَاتَكُمَا فِي مَسْجِدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯৬) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আখেরী যামানায় এক শ্রেণীর লোক হবে যারা মসজিদে (সাংসারিক) কথা-বার্তা বলবে। এদেরকে নিয়ে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
عَن ابنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: سَيَكُوْنُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَكُوْنُ حَدِيْثهُمْ فِي مَسَاجِدِهِمْ لَيْسَ للهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ ও হৈ-হল্লা করা, হারানো বস্তুর খোঁজ বা ঘোষণা করা, কেনা-বেচা করা, ভাড়া বা মজুরী বা ইজারা চুক্তি ইত্যাদি অনুরূপ কর্ম নিষেধ
(৫৯৭) আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শেষ জামানায় এমন এক শ্রেণীর লোক হবে, যারা মসজিদে গোল হয়ে বসবে; যাদের ইমাম হবে দুনিয়া (তারা জাগতিক কথা আলোচনা করবে)। সুতরাং তোমরা তাদের সাথে বসবে না। কারণ তাদেরকে নিয়ে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَيَكُوْنُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ قَوْمٌ يَجْلِسُونَ فِي الْمَسَاجِدِ حُلَقًا حُلَقًا إِمَامُهُمُ الدُّنْيَا فَلا تُجَالِسُوهُمْ فَإِنَّهُ لَيْسَ لِلهِ فِيهِمْ حَاجَةٌ
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৫৯৮) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই গাছ—অর্থাৎ রসুন—থেকে কিছু খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়।
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদসমূহের নিকটবর্তী না হয়।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ يَعَني : الثُّومَ - فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا متفق عَلَيْهِ وفي روايةٍ لمسلم مَسَاجِدَنَا
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৫৯৯) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এই (রসুন) গাছ থেকে কিছু ভক্ষণ করল, সে যেন অবশ্যই আমাদের নিকটবর্তী না হয়, আর না আমাদের সাথে নামায পড়ে।
وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّا وَلاَ يُصَلِّيَنَّ مَعَنا متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৬০০) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (কাঁচা) রসূন অথবা পিঁয়াজ খায়, সে যেন আমাদের নিকট হতে দূরে অবস্থান করে অথবা আমাদের মসজিদ থেকে দূরে থাকে। (বুখারী ৮৫৫, মুসলিম ১২৮১)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি (কাঁচা) পিঁয়াজ, রসূন এবং লীক পাতা খায়, সে যেন অবশ্যই আমাদের মসজিদের নিকটবর্তী না হয়। কেননা, ফিরিশতাগণ সেই জিনিসে কষ্ট পান, যাতে আদম-সন্তান কষ্ট পায়। (মুসলিম ১২৮২)
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ أَكَلَ ثُوماً أَوْ بَصَلاً فَلْيَعْتَزِلنَا أَو فَلْيَعْتَزِلْ مَسْجِدَنَا متفق عَلَيْهِ وَفِي رِوَايةٍ لِمُسْلِمٍ مَنْ أَكَلَ البَصَلَ وَالثُّومَ وَالكُرَّاثَ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ المَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৬০১) উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি এক জুমআর দিন খুতবা দিলেন, সে খুতবায় তিনি বললেন, অতঃপর তোমরা হে লোক সকল! দুই শ্রেণীর এমন গাছ (সবজি) খেয়ে থাক; যা (কাঁচা অবস্থায়) খাওয়ার অনুপযুক্ত মনে করি; পিঁয়াজ আর রসুন। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে দেখেছি, যখন তিনি মসজিদের মধ্যে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঐ দুই (সবজি)র দুর্গন্ধ পেতেন, তখন তাকে (মসজিদ থেকে বহিষ্কার করতে) আদেশ দিতেন। ফলে তাকে বাকী’ (নামক জায়গা) পর্যন্ত বের করে দেওয়া হত। সুতরাং যে ঐ দুই সবজি খেতে চায়, সে যেন ঐগুলি রান্না করে তার গন্ধ মেরে খায়।
وَعَن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ أَنَّهُ خَطَبَ يَومَ الجُمُعَةِ فَقَالَ فِي خُطْبَتِهِ : ثُمَّ إِنَّكُمْ أَيُّهَا النَّاسُ تَأكُلُونَ شَجَرتَيْنِ مَا أَرَاهُمَا إِلاَّ خَبِيثَتَيْن: البَصَلَ وَالثُّومَ لَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ إِذَا وَجدَ ريحَهُمَا مِنَ الرَّجُلِ فِي المَسْجِدِ أَمَرَ بِهِ فَأُخْرِجَ إِلَى البَقِيعِ فَمَنْ أَكَلَهُمَا فَلْيُمِتْهُمَا طَبْخاً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৬০২) আয়েশা (রাঃ) বলেন, ’আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করতে এবং তা পরিষ্কার ও সুগন্ধময় করে রাখতে আদেশ করেছেন।
عَن عَائِشَةَ قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بِبِنَاءِ الْمَسَاجِدِ فِى الدُّورِ وَأَنْ تُنَظَّفَ وَتُطَيَّبَ
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৬০৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কেউ যেন মসজিদকে শয়নাগার ও বিশ্রামাগার বানিয়ে না নেয়।
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ: لاَ يَتَّخِذُهُ مَبِيتًا وَمَقِيلاً
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যদি জানত যে, আযান দেওয়া ও নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়াবার কী মাহাত্ম্য আছে, অতঃপর (তাতে অংশগ্রহণের জন্য) যদি লটারি ব্যতিরেকে অন্য কোন উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত। (অনুরূপ) তারা যদি জানত যে, আগে আগে মসজিদে আসার কি ফযীলত, তাহলে তারা সে ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করত। আর তারা যদি জানত যে, এশা ও ফজরের নামায (জামাতে) পড়ার ফযীলত কত বেশি, তাহলে মাটিতে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছা ছেঁচড়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই আসত।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا عَلَيْهِ ولو يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৫) মুআবিয়াহ ইবনে আবূ সুফয়ান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিনে সমস্ত লোকের চাইতে মুআযযিনদের গর্দান লম্বা হবে।
وَعَن مُعَاوِيَةَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ المُؤَذِّنُونَ أَطْوَلُ النَّاسِ أَعَناقاً يَوْمَ القِيَامَةِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে স্বা’স্বাআহ হতে বর্ণিত, একদা আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে বললেন, আমি তোমাকে দেখছি যে, তুমি ছাগল ও মরুভূমি ভালবাসো। সুতরাং তুমি যখন তোমার ছাগলে বা মরুভূমিতে থাকবে আর নামাযের জন্য আযান দেবে, তখন উচ্চ স্বরে আযান দিয়ো। কারণ মুআযযিনের আযান ধ্বনি যতদূর পর্যন্ত মানব-দানব ও অন্যান্য বস্তু শুনতে পাবে, কিয়ামতের দিন তারা তার জন্য সাক্ষ্য দেবে। আবূ সাঈদ (রাঃ) বলেন, আমি এটি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট শুনেছি।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبدِ الرَّحْمَانِ بنِ أَبي صَعْصَعَة : أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدرِيَّ قَالَ لَهُ إنِّي أَرَاكَ تُحبُّ الغَنَمَ وَالبَادِيَةَ فَإِذَا كُنْتَ فِي غَنَمِك أَوْ بَادِيتِكَ فَأذَّنْتَ لِلصَّلاَةِ فَارْفَعْ صَوْتَكَ بِالنِّدَاءِ فَإِنَّهُ لاَ يَسْمَعُ مَدَى صَوْتِ المُؤَذِّنِ جِنٌّ وَلاَ إِنْسٌ وَلاَ شَيْءٌ إِلاَّ شَهِدَ لَهُ يَومَ القِيَامَةِ قَالَ أَبُو سَعِيدٍ : سَمِعتُهُ مِنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৭) বারা’ বিন আযেব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ প্রথম কাতারের (নামাযীদের) উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতাগণ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন। মুআযযিনকে তার আযানের আওয়াযের উচ্চতা অনুযায়ী ক্ষমা করা হয়। তার আযান শ্রবণকারী প্রত্যেক সরস বা নীরস বস্তু তার কথার সত্যায়ন করে থাকে। তার সাথে যারা নামায পড়ে তাদের সকলের নেকীর সমপরিমাণ তার নেকী লাভ হয়।
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ نَبِيَّ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْمُقَدَّمِ وَالْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَهُ مَدَّ صَوْتِهِ وَيُصَدِّقُهُ مَنْ سَمِعَهُ مِنْ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَلَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ صَلَّى مَعَهُ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৮) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বারো বৎসর আযান দেবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজেব হয়ে যাবে। আর প্রত্যেক দিন আযানের দরুন তার আমলনামায় ষাটটি নেকী লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তার ইকামতের দরুন লিপিবদ্ধ হবে ত্রিশটি নেকী।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ أَذَّنَ اثْنَتَىْ عَشْرَةَ سَنَةً وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ وَكُتِبَ لَهُ بِتَأْذِينِهِ فِى كُلِّ مَرَّةٍ سِتُّونَ حَسَنَةً وَبِإِقَامَتِهِ ثَلاَثُونَ حَسَنَةً
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬০৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ইমাম (লোকেদের) যামিন, আর মুআযযিন হল তাদের (নামায-রোযার) জিম্মেদার। হে আল্লাহ! তুমি ইমামগণকে পথপ্রদর্শন কর এবং মুআযযিনগণকে ক্ষমা করে দাও। এক ব্যক্তি বলল, এ কথা শুনিয়ে আপনি তো আমাদেরকে আযানে প্রতিযোগিতা করতে লাগিয়ে দিলেন। তিনি বললেন, তোমাদের পরে এমন যুগ আসবে, যে যুগের নিকৃষ্ট শ্রেণীর মানুষরাই হবে মুআযযিন।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اَللّٰهُمَّ أَرْشِدِ الأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ فَقَالَ رَجُلٌ : يَا رَسُولَ اللهِ لَقَدْ تَرَكْتَنَا وَنَحْنُ نَتَنَافَسُ الأَذَانَ بَعْدَكَ زَمَانًا قَالَ إِنَّ بَعْدَكُمْ زَمَانًا سَفِلَتُهُمْ مُؤَذِّنُوهُمْ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন নামাযের জন্য আযান দেওয়া হয়, তখন শয়তান বাতকর্ম করতে করতে পিঠ ঘুরিয়ে পলায়ন করে, যাতে সে আযান শুনতে না পায়। তারপর আযান শেষ হলে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত যখন ’তাকবীর’ দেওয়া হয়, তখন আবার পিঠ ঘুরিয়ে পালায়। অতঃপর যখন ’তাকবীর’ শেষ হয়, তখন আবার ফিরে আসে। পরিশেষে (নামাযী) ব্যক্তির মনে এই কুমন্ত্রণা প্রক্ষেপ করে যে, অমুক জিনিসটা স্মরণ কর, অমুক বস্তুটা খেয়াল কর। সে সমস্ত বিষয় (স্মরণ করায়) যা পূর্বে তার স্মরণে ছিল না। শেষ পর্যন্ত এ ব্যক্তি এরূপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, সে বুঝতে পারে না, কত রাকআত নামায সে আদায় করল।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا نُودِيَ بِالصَّلاَةِ أَدْبَرَ الشَّيْطَانُ وَلَهُ ضُرَاطٌ حَتَّى لاَ يَسْمَعَ التَّأذِينَ فَإِذَا قُضِيَ النِّدَاءُ أقْبَلَ حَتَّى إِذَا ثُوِّبَ للصَّلاةِ أَدْبَرَ حَتَّى إِذَا قُضِيَ التَّثْوِيبُ أَقْبَلَ حَتَّى يَخْطِرَ بَيْنَ المَرْءِ وَنَفْسِهِ يَقُوْلُ : اذْكُرْ كَذَا وَاذْكُرْ كَذَا – لِمَا لَمْ يَذْكُرْ مِنْ قَبْلُ – حَتَّى يَظَلَّ الرَّجُلُ مَا يَدْرِيْ كَمْ صَلَّى متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১১) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ’স (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন যে, তোমরা যখন আযান শুনবে, তখন (আযানের উত্তরে) মুআযযিন যা কিছু বলবে, তোমরাও ঠিক তাই বলবে। তারপর আযান শেষে আমার উপর দরূদ পাঠ করবে। কেননা, যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দরূদ পাঠ করবে, তার বিনিময়ে তার প্রতি আল্লাহ দশটি রহমত নাযেল করবেন। অতঃপর তোমরা আল্লাহর নিকট আমার জন্য ’অসীলা’ প্রার্থনা করবে। কারণ, ’অসীলা’ হচ্ছে জান্নাতের এমন একটি স্থান, যা সমস্ত বান্দার মধ্যে কেবল আল্লাহর একটি বান্দা (তার উপযুক্ত) হবে। আর আশা করি, আমিই সেই বান্দা হব। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার জন্য অসীলা প্রার্থনা করবে, তার জন্য (আমার) সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثْلَ مَا يَقُوْلُ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيَّ فَإِنَّهُ مَنْ صَلَّى عَلَيَّ صَلاَةً صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ بِهَا عَشْراً ثُمَّ سَلُوا اللهَ لِيَ الوَسِيلَةَ فَإِنَّهَا مَنْزِلَةٌ فِي الجَنَّةِ لاَ تَنْبَغِي إِلاَّ لِعَبْدٍ مِنْ عِبَادِ اللهِ وَأرْجُو أَنْ أَكُونَ أَنَا هُوَ فَمَنْ سَأَلَ لِيَ الوَسِيلَةَ حَلَّتْ لَهُ الشَّفَاعَةُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১২) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমরা আযান ধ্বনি শুনবে, তখন (আযানের উত্তরে) মুআযযিন যা কিছু বলবে, তোমরাও ঠিক তাই বলো।
وَعَنْ أَبيْ سَعِيدٍ الخُدرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمُ النِّدَاءَ فَقُولُوا مِثلَ مَا يَقُوْلُ المُؤَذِّنُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা আমরা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ছিলাম। এমতাবস্থায় বিলাল উঠে আযান দিলেন। অতঃপর তিনি চুপ হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এ যা বলল, অনুরূপ যে অন্তরের একীনের (প্রত্যয়ের) সাথে বলবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ رضي الله عَنه قَالَ كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَامَ بِلاَلٌ يُنَادِي فَلَمَّا سَكَتَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ هَذَا يَقِينًا دَخَلَ الْجَنَّةَ
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আযান শুনে (আযানের শেষে) এই দু’আ বলবে, ’আল্লা-হুম্মা রাব্বা হা-যিহিদ দা’অতিত্ তা-ম্মাহ, অস্স্বলা-তিল ক্বা-য়িমাহ, আ-তি মুহাম্মাদানিল অসীলাতা অলফাযীলাহ, অবআসহু মাক্বা-মাম মাহমূদানিল্লাযী অআত্তাহ।
অর্থাৎ, হে আল্লাহ এই পূর্ণাঙ্গ আহবান ও প্রতিষ্ঠা লাভকারী নামাযের প্রভু! মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে তুমি অসীলা (জান্নাতের এক উচ্চ স্থান) ও মর্যাদা দান কর এবং তাঁকে সেই প্রশংসিত স্থানে পৌঁছাও, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাঁকে দিয়েছ। সে ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ অনিবার্য হয়ে যাবে।
وَعَن جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ : اَللّٰهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ القَائِمَةِ آتِ مُحَمَّداً الوَسِيلَةَ وَالفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامَاً مَحْمُوداً الَّذِيْ وَعَدْتَهُ حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتي يَوْمَ القِيَامَةِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১৫) সা’দ ইবনে আবী অক্কাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আযান শুনে যে ব্যক্তি এই দু’আ পড়বে, ’আশহাদু আল লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, অ আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু অরাসূলুহ, রায্বীতু বিল্লা-হি রাব্বাঁউ অ বিমুহাম্মাদির রাসূলাঁউ অ বিলইসলা-মি দ্বীনা।’
অর্থাৎ, আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর দাস ও প্রেরিত রসূল। আল্লাহকে প্রতিপালক বলে মেনে নিতে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কে নবীরূপে স্বীকার করতে এবং ইসলামকে দ্বীন হিসাবে গ্রহণ করতে আমি সম্মত ও তুষ্ট হয়েছি।
সে ব্যক্তির (ছোট ছোট) গুনাহ ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে।
وَعَن سَعدِ بنِ أَبي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أنَّه قَالَ مَنْ قَالَ حِيْنَ يَسْمَعُ المُؤَذِّنَ : أَشْهَدُ أَنْ لاَ إلَه إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللهِ رَبّاً وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً وَبِالإِسْلامِ دِيناً غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আযানের ফযীলত
(৬১৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আযান ও ইকামতের মধ্য সময়ে কৃত প্রার্থনা রদ করা হয় না। (অর্থাৎ, এ সময়ের দু’আ কবুল হয়)।
وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الدُّعَاءُ لاَ يُرَدُّ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإقَامَةِ رواه أَبُو داود والترمذي
পরিচ্ছেদঃ আযানের পর বিনা ওযরে ফরয নামায না পড়ে মসজিদ থেকে চলে যাওয়া মাকরূহ
(৬১৭) আবূ শা’সা’ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা (একবার) আবূ হুরাইরা (রাঃ) এর সঙ্গে মসজিদে বসে ছিলাম। (এমন সময়) মুআযযিন আযান দিল। তখন একটি লোক মসজিদ থেকে চলে যেতে লাগল। আবূ হুরাইরা তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন, শেষ পর্যন্ত সে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেল। অতঃপর আবূ হুরাইরা বললেন, এই লোকটি আবুল কাসেম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অবাধ্যাচরণ করল।
عَنْ أَبيْ الشَّعْثَاءِ قَالَ : كُنَّا قُعُوداً مَع أَبِي هُرَيرَةَ فِي المَسْجِدِ فَأَذَّن المُؤَذِّنُ فَقَامَ رَجُلٌ مِنَ المَسْجِدِ يَمْشِي فَأَتْبَعَهُ أبُو هُرَيرَةَ بَصَرَهُ حَتَّى خَرَجَ مِنَ المَسْجِدِ فَقَالَ أَبُو هُرَيرَةَ : أَمَّا هَذَا فَقَدْ عَصَى أَبَا القَاسِمِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ আযানের পর বিনা ওযরে ফরয নামায না পড়ে মসজিদ থেকে চলে যাওয়া মাকরূহ
(৬১৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কেউই আমার এ মসজিদে আযান শোনার পর অপ্রয়োজনে বের হয়ে যাবে অতঃপর ফিরে আসবে না, সে মুনাফিক।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لا يَسْمَعُ النِّدَاءَ فِي مَسْجِدِي هَذَا ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْهُ إِلا لِحَاجَةٍ ثُمَّ لا يَرْجِعُ إِلَيْهِ إِلا مُنَافِقٌ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ইকামত শুরু হবার পর নফল বা সুন্নত নামায পড়া মাকরূহ
মুআযযিন ইকামত শুরু করলে আর কোন নামায শুরু করা মুক্তাদীর জন্য বৈধ নয়; চাহে সে নামায ঐ নামাযের পূর্ববর্তী সুন্নাতে মুআক্কাদাহ হোক বা অন্য কোন সুন্নত বা নফল নামায।
(৬১৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন নামাযের জন্য ইকামত দেওয়া হবে, তখন ফরয নামায ছাড়া অন্য কোন নামায নেই।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَلاَ صَلاَةَ إِلاَّ المَكْتُوبَةَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ইকামত শুরু হবার পর নফল বা সুন্নত নামায পড়া মাকরূহ
আল্লাহ তা’আলা বলেন,
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى
অর্থাৎ, তোমরা নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হও; বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসরের) নামাযের প্রতি। (সূরা বাক্বারাহ ২৩৮ আয়াত)
فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ
অর্থাৎ, যদি তারা তওবা করে, যথাযথ নামায পড়ে ও যাকাত প্রদান করে, তাহলে তাদের পথ ছেড়ে দাও। (সূরা তওবা ৫ আয়াত)
(৬২০) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করলাম, সর্বোত্তম আমল কী? তিনি বললেন, যথা সময়ে নামায আদায় করা। আমি বললাম, তারপর কী? তিনি বললেন, মা-বাপের সাথে সদ্ব্যবহার করা। আমি বললাম, তারপর কী? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ করা।
وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ: سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَيُّ الأَعْمَالِ أَفْضَلُ؟ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قُلْتُ: ثُمَّ أَيٌّ؟ قَالَ بِرُّ الوَالِدَيْنِ قُلْتُ: ثُمَّ أيٌّ؟ قَالَ الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২১) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের উপর প্রতিষ্ঠিত। (১) এই কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রেরিত মহাপুরুষ। (২) নামায প্রতিষ্ঠা করা। (৩) যাকাত প্রদান করা। (৪) কা’বাগৃহের হজ্জ করা। (৫) রমযান মাসে রোযা পালন করা।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بُنِيَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ : شَهَادَةِ أَنْ لاَ إلهَ إلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَحَجِّ البَيْتِ وَصَوْمِ رَمَضَانَ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেদের বিরুদ্ধে আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত (সশস্ত্র) সংগ্রাম চালাবার আদেশ দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা এই সাক্ষ্য দেবে যে, ’আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর প্রেরিত রাসূল’ এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে ও যাকাত আদায় করবে। সুতরাং যখনই তারা সেসব বাস্তবায়ন করবে, তখনই তারা ইসলামী হক ব্যতিরেকে নিজেদের জান-মাল আমার নিকট হতে বাঁচিয়ে নিবে। আর তাদের (আভ্যন্তরীণ বিষয়ের) হিসাব আল্লাহর দায়িত্বে থাকবে।
وَعَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَشْهَدُوا أَنْ لاَ إلهَ إلاَّ اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللهِ وَيُقِيمُوا الصَّلاَةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ فَإِذَا فَعَلُوا ذَلِكَ عَصَمُوا مِنِّي دِمَاءَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ إلاَّ بِحَقِّ الإِسْلاَمِ وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللهِ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৩) মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ইয়ামান পাঠালেন ও বললেন, নিশ্চয় তুমি কিতাবধারী সম্প্রদায়ের কাছে যাত্রা করছ। সুতরাং তুমি তাদেরকে এই কথার প্রতি আহবান জানাবে যে, তারা সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রসূল। যদি তারা ঐ প্রস্তাব গ্রহণ করে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তা’আলা তাদের প্রতি দিবারাত্রে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। যদি তারা এ কথাটিও মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে অবহিত করবে যে, মহান আল্লাহ তাদের (ধনীদের) উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাদের ধনী ব্যক্তিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাদের গরীব মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যদি তারা এই আদেশটিও পালন করতে সম্মত হয়, তাহলে তুমি (যাকাত আদায়ের সময়) তাদের উৎকৃষ্ট মাল-ধন হতে বিরত থাকবে এবং মযলূম (অত্যাচারিত) ব্যক্তির বদ্দুআ থেকে দূরে থাকবে। কেননা, তার ও আল্লাহর মধ্যে কোন পর্দা থাকে না।
وَعَن مُعَاذٍ قَالَ : بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ ﷺ إِلَى اليَمَنِ فَقَالَ إنَّكَ تَأْتِي قَوْماً مِنْ أَهْلِ الكِتَابِ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَأنِّي رَسُولُ اللهِ فَإنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَومٍ وَلَيلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أنَّ اللهَ تَعَالَى افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ عَلَى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أطَاعُوا لِذلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ المَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَينَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৪) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, মানুষ ও কুফরীর মধ্যে (পর্দা) হল, নামায ত্যাগ করা।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ:سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الشِّرْكِ وَالكُفرِ تَرْكَ الصَّلاَةِ رواه
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৫) বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে চুক্তি আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে বিদ্যমান, তা হচ্ছে নামায (পড়া)। অতএব যে নামায ত্যাগ করবে, সে নিশ্চয় কাফের হয়ে যাবে।
وَعَن بُرَيْدَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اَلعَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ الصَّلاَةُ فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ رواه التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صحيح
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৬) মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে এমন আমল শিখিয়ে দেন; যা করলে আমি জান্নাত প্রবেশ করতে পারব। তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক (অংশী) করো না; যদিও তোমাকে সে ব্যাপারে শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুড়িয়ে মেরে ফেলা হয়। তোমার মাতা-পিতার আনুগত্য কর; যদিও তারা তোমাকে তোমার ধন-সম্পদ এবং সমস্ত কিছু থেকে দূর করতে চায়। আর ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করো না; কারণ, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত নামায ত্যাগ করে তার উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়।
عَن مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ قَالَ: أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِّمْنِي عَمَلًا إِذَا أَنَا عَمِلْتُهُ دَخَلْتُ الْجَنَّةَ قَالَ لاَ تُشْرِكْ بِاللهِ شيئاً وَإِنْ عُذِّبْتَ وَحُرِّقْتَ وَأَطِعْ وَالِدَيْكَ وَإِنْ أَخْرَجَاكَ مِنْ مَالِكَ وَكُلِّ شَيْءٍ هُوَ لَكَ وَلاَ تَتْرُكِ الصَّلاَةَ مُتَعَمِّدًا فَإِنَّهُ مَنْ تَرَكَ الصَّلاَةَ مُتَعَمِّدًا فَقَدْ بَرِئَتْ مِنْهُ ذِمَّةُ اللهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৭) নাওফাল বিন মুআবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির কোন নামায ছুটে গেল, সে ব্যক্তির পরিবার ও ধন-সম্পদ যেন লুণ্ঠন হয়ে গেল।
عَن نَوْفَلِ بْنِ مُعَاوِيَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَاتَتْهُ الصََّلاَةُ فَكَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৮) বুইরাদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করে, সে ব্যক্তির আমল পণ্ড হয়ে যায়।
عَن بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ مَنْ تَرَكَ صَلَاةَ الْعَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬২৯) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল, তার যেন পরিবার ও ধন-মাল লুণ্ঠন হয়ে গেল।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الَّذِي تَفُوتُهُ صَلَاةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩০) সর্বজন মহামান্য শাক্বীক ইবনে আব্দুল্লাহ তাবেঈ (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহচরবৃন্দ নামায ছাড়া অন্য কোন আমল ত্যাগ করাকে কুফরীমূলক কাজ বলে মনে করতেন না।
وَعَن شقِيق بن عبدِ الله التَّابِعيِّ المتَّفَقِ عَلَى جَلاَلَتِهِ رَحِمهُ اللهُ قَالَ : كَانَ أصْحَابُ محَمَّدٍ ﷺ لاَ يَرَوْنَ شَيْئاً مِنَ الأعْمَالِ تَرْكُهُ كُفْرٌ غَيْرَ الصَّلاَةِ رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ في كِتابِ الإيمان بإسنادٍ صحيحٍ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩১) ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নামায ত্যাগ করে, তার দ্বীনই নেই।
عَن ابنِ مَسْعُوْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ قَالَ مَن تَرَكَ الصَّلاَةَ فَلاَ دِينَ لَه
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩২) আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, যার নামায নেই তার ঈমানই নেই। আর যার উযূ নেই, তার নামায নেই।
عَنْ أَبيْ الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ قَالَ لاَ إيمَانَ لِمَن لاَ صَلاَةَ لَه وَلاَ صَلاَةَ لِمَن لاَ وضُوءَ لَه
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার (হক্বুক্বুল্লাহর মধ্যে) যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামায। সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে। আর যদি (নামায) পণ্ড ও খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদি তার ফরয (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে প্রভু বলবেন, দেখ তো! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরযের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে? অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَوَّلَ مَا يُحَاسَبُ بِهِ العَبْدُ يَوْمَ القِيَامَةِ مِنْ عَمَلِهِ صَلاَتُهُ فَإنْ صَلَحَتْ فَقَدْ أَفْلَحَ وَأَنْجَحَ وَإنْ فَسَدَتْ فَقَدْ خَابَ وَخَسِرَ فَإِنِ انْتَقَصَ مِنْ فَرِيضَتِهِ شَيْءٌ قَالَ الرَّبُّ - عَزَّ وَجَلَّ : اُنْظُرُوا هَلْ لِعَبدِي مِن تَطَوُّعٍ فَيُكَمَّلُ مِنْهَا مَا انْتَقَصَ مِنَ الفَرِيضَةِ ؟ ثُمَّ تَكُونُ سَائِرُ أَعْمَالِهِ عَلَى هَذَا رواه التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩৪) আব্দুল্লাহ বিন কুরত (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন বান্দার নিকট থেকে সর্বাগ্রে যে আমলের হিসাব নেওয়া হবে তা হল নামায। সুতরাং তা সঠিক হয়ে থাকলে তার অন্যান্য আমলও সঠিক বলে বিবেচিত হবে। নচেৎ অন্যান্য সকল আমল নিষ্ফল ও ব্যর্থ হবে।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ قُرْطٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَوَلُ مَا يُحَاسَبُ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ الصَّلاةُ فَإِنْ صَلَحَتْ صَلَحَ سَائِرُ عَمَلِهِ وَإِنْ فَسَدَتْ فَسَدَ سَائِرُ عمله
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়ার নির্দেশ এবং তা ত্যাগ করা সম্বন্ধে কঠোর নিষেধ ও চরম হুমকি
(৬৩৫) আমর বিন শুআইব (রহঃ) নিজ পিতা ও তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করে বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে নামায শিক্ষা দাও এবং দশ বছর হলে তার (নামাযের) উপর তাদেরকে প্রহার কর। আর বিছানায় তাদের মাঝে তফাৎ কর।
عَن عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ عَنْ أَبيْ هِ عَن جَدِّهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مُرُوا أَوْلاَدَكُمْ بِالصَّلاَةِ وَهُمْ أَبْنَاءُ سَبْعِ سِنِينَ وَاضْرِبُوهُمْ عَلَيْهَا وَهُمْ أَبْنَاءُ عَشْرِ سِنِينَ وَفَرِّقُوا بَيْنَهُمْ فِى الْمَضَاجِعِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেছেন,
إنَّ الصَّلاَةَ تَنْهَى عَن الفَحْشَاءِ وَالمُنْكَرِ
অর্থাৎ, নিশ্চয় নামায অশ্লীলতা ও মন্দ কাজ হতে বিরত রাখে। (আনকাবূত ৪৫ আয়াত)
(৬৩৬) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের দুনিয়ার মধ্যে আমার কাছে স্ত্রী ও খোশবুকে প্রিয় করা হয়েছে। আর নামাযকে করা হয়েছে আমার চক্ষুশীতলতা।
عَن أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ حُبِّبَ إِلَيَّ مِنْ الدُّنْيَا النِّسَاءُ وَالطِّيبُ وَجُعِلَ قُرَّةُ عَيْنِي فِي الصَّلَاةِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৩৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আদম-সন্তান এমন কোন কাজ করেনি, যা নামায, সদ্ভাব প্রতিষ্ঠা ও সচ্চরিত্রতা থেকে অধিক শ্রেষ্ঠ হতে পারে।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا عَمِلَ ابْنُ آدَمَ شَيْئاً أَفْضَلَ مِنَ الصَّلاَةِ وَصَلاَحِ ذَاتِ الْبَيْنِ وَخُلُقِ حَسَنٍ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৩৮) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল, সর্বশ্রেষ্ঠ আমল কী? উত্তরে তিনি বললেন, নামায। সে আবার বলল, তারপর কী? তিনি বললেন, নামায। সে আবার বলল, তারপর কী? তিনি বললেন, নামায। এইরূপ তিনবার বললেন।
عَبْدِ اللهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ: إِنَّ رَجُلاً جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَن أَفْضَلِ الأَعْمَالِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الصَّلاَةُ قَالَ : ثُمَّ مَهْ ؟ قَالَ : الصَّلاَةُ قَالَ : ثُمَّ مَهْ ؟ قَالَ : الصَّلاَةُ (ثَلاثَ مَرَّاتٍ)
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৩৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছেন, আচ্ছা তোমরা বল তো, যদি কারোর বাড়ির দরজার সামনে একটি নদী থাকে, যাতে সে প্রতিদিন পাঁচবার ক’রে গোসল করে, তাহলে তার শরীরে কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে কি? সাহাবীরা বললেন, (না,) কোন ময়লা অবশিষ্ট থাকবে না। তিনি বললেন, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের উদাহরণও সেইরূপ। এর দ্বারা আল্লাহ পাপরাশি নিশ্চিহ্ন করে দেন।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ أَرَأيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرَاً بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ ؟ قَالُوْا : لاَ يَبْقَى مِنْ دَرنهِ شَيْءٌ قَالَ فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ يَمْحُو اللهُ بِهِنَّ الخَطَايَا متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৪০) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্তের নামাযের উদাহরণ ঠিক প্রবাহিত নদীর ন্যায়, যা তোমাদের কোন ব্যক্তির দরজার পাশে থাকে; যাতে সে প্রত্যহ পাঁচবার করে গোসল করে থাকে।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الخَمْسِ كَمَثَلِ نَهْرٍ جَارٍ غَمْرٍ عَلَى بَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ مِنْهُ كُلَّ يَومٍ خَمْسَ مَرَّاتٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৪১) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি এক মহিলাকে চুমা (চুমু) দিয়ে ফেলে। অতঃপর সে (অনুতপ্ত হয়ে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে ঘটনাটি বলে। তখন আল্লাহ এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, যার অর্থঃ তুমি নামায প্রতিষ্ঠা কর দিবসের দুই প্রান্তে এবং রাত্রির প্রথম ভাগে, নিশ্চয় পুণ্য কর্মাদি পাপরাশিকে বিদূরিত করে থাকে। (সূরা হূদ ১১৪ আয়াত) লোকটি বলল, এ বিধান কি কেবল আমার জন্য? তিনি বললেন, আমার উম্মতের সকলের জন্য।
وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ أَنَّ رَجُلاً أَصَابَ مِنِ امْرَأَةٍ قُبْلَةً فَأتَى النَّبيَّ ﷺ فَأَخْبَرَهُ فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى أَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفاً مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ الرَّجُلُ أَلِيَ هَذَا ؟ قَالَ لِجَمِيعِ أُمَّتِي كُلِّهِمْ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৪২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্তের নামায, এক জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ পর্যন্ত এর মধ্যবর্তী সময়ে যেসব পাপ সংঘটিত হয়, সে সবের মোচনকারী হয় (এই শর্তে যে,) যদি মহাপাপে লিপ্ত না হয়।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الصَّلَوَاتُ الخَمْسُ وَالجُمُعَةُ إِلَى الجُمُعَةِ كَفَّارَةٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ مَا لَمْ تُغشَ الكَبَائِرُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৪৩) উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি ফরয নামাযের জন্য ওযূ করবে এবং উত্তমরূপে ওযূ সম্পাদন করবে। (অতঃপর) তাতে উত্তমরূপে ভক্তি-বিনয়-নম্রতা প্রদর্শন করবে এবং উত্তমরূপে ’রুকু’ সমাধা করবে। তাহলে তার নামায পূর্বে সংঘটিত পাপরাশির জন্য কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) হয়ে যাবে; যতক্ষণ মহাপাপে লিপ্ত না হবে। আর এ (রহমতে ইলাহীর ধারা) সর্বযুগের জন্য প্রযোজ্য।
وَعَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَا مِنِ امْرِئٍ مُسْلِمٍ تَحْضُرُهُ صَلاَةٌ مَكْتُوبَةٌ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهَا وَخُشُوعَهَا وَرُكُوعَهَا إِلاَّ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا قَبْلَهَا مِنَ الذُّنُوب مَا لَمْ تُؤتَ كَبِيرةٌ وَذَلِكَ الدَّهْرَ كُلَّهُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযের ফযীলত
(৬৪৪) আবু উসমান (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা একটি গাছের নিচে আমি সালমান (রাঃ) এর সাথে (বসে) ছিলাম। তিনি গাছের একটি শুষ্ক ডাল ধরে হিলিয়ে দিলেন। এতে ডালের সমস্ত পাতাগুলি ঝরে গেল। অতঃপর তিনি বললেন, হে আবু উসমান! তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না কি যে, কেন আমি এরূপ করলাম? আমি বললাম, কেন করলেন? তিনি বললেন, একদা আমিও আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে গাছের নিচে ছিলাম। তিনি আমার সামনে অনুরূপ করলেন; গাছের একটি শুষ্ক ডাল ধরে হিলিয়ে দিলেন। এতে তার সমস্ত পাতা খসে পড়ল।
অতঃপর বললেন, হে সালমান! তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করবে না কি যে, কেন আমি এরূপ করলাম? আমি বললাম, কেন করলেন? তিনি উত্তরে বললেন, মুসলিম যখন সুন্দরভাবে ওযু করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়ে তখন তার পাপরাশি ঠিক ঐভাবেই ঝরে যায় যেভাবে এই পাতাগুলো ঝরে গেল। আর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন,
وَأَقِمِ الصَّلاَةَ طَرَفَىِ النَّهَارِ وَزُلَفاً مِّنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّآتِ ذلِكَ ذِكْرى لِلذَّاكِرِيْنَ
অর্থাৎ, আর তুমি দিনের দু’ প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথামাংশে নামায কায়েম কর। পুণ্যরাশি অবশ্যই পাপরাশিকে দূরীভূত করে দেয়। (আল্লাহর) স্মরণকারীদের জন্য এ হল এক স্মরণ। (সূরা হূদ ১১৪ আয়াত)
عَنْ أَبيْ عُثْمَانَ قَالَ كُنْتُ مَعَ سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ تَحْتَ شَجَرَةٍ وَأَخَذَ مِنْهَا غُصْنًا يَابِسًا فَهَزَّهُ حَتَّى تَحَاتَّ وَرَقُهُ ثُمَّ قَالَ يَا أَبَا عُثْمَانَ أَلَا تَسْأَلُنِي لِمَ أَفْعَلُ هَذَا قُلْتُ وَلِمَ تَفْعَلُهُ فَقَالَ هَكَذَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَأَنَا مَعَهُ تَحْتَ شَجَرَةٍ فَأَخَذَ مِنْهَا غُصْنًا يَابِسًا فَهَزَّهُ حَتَّى تَحَاتَّ وَرَقُهُ فَقَالَ يَا سَلْمَانُ أَلَا تَسْأَلُنِي لِمَ أَفْعَلُ هَذَا فَقُلْتُ وَلِمَ تَفْعَلُهُ قَالَ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ صَلَّى الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ تَحَاتَّتْ خَطَايَاهُ كَمَا يَتَحَاتُّ هَذَا الْوَرَقُ وَقَالَ وَأَقِمْ الصَّلَاةَ طَرَفَيْ النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنْ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৪৫) আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দুই ঠাণ্ডা নামায পড়ে, সে জান্নাত প্রবেশ করবে।
عَنْ أَبيْ مُوسَى أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ صَلَّى البَرْدَيْنِ دَخَلَ الجَنَّةَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৪৬) আবূ যুহাইর উমারাহ ইবনে রুআইবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে ব্যক্তি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বে (অর্থাৎ ফজরের ও আসরের নামায) আদায় করবে, সে কখনো জাহান্নামে প্রবেশ করবে না।
وَعَنْ أَبيْ زُهَيرٍ عُمَارَةَ بنِ رُؤَيْبَةَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لَنْ يَلِجَ النَّارَ أَحَدٌ صَلَّى قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا يعَني : الفَجْرَ والعَصْرَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৪৭) জুনদুব ইবনে সুফয়ান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায পড়ল, সে আল্লাহর জামানত লাভ করল। অতএব হে আদম সন্তান! লক্ষ্য রাখ, আল্লাহ যেন অবশ্যই তোমাদের কাছে তার জামানতের কিছু দাবী না করেন।
وَعَن جُنْدُبِ بنِ سُفيَانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللهِ فَانْظُرْ يَا ابْنَ آدَمَ لاَ يَطْلُبَنَّكَ اللهُ مِنْ ذِمَّتِهِ بِشَيءٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৪৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নিকট দিবারাত্রি ফিরিশতাবর্গ পালাক্রমে যাতায়াত করতে থাকেন। আর ফজর ও আসরের নামাযে তাঁরা একত্রিত হন। অতঃপর যারা তোমাদের কাছে রাত কাটিয়েছেন, তাঁরা ঊর্ধ্বে (আকাশে) চলে যান। অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন—অথচ তিনি তাদের সম্পর্কে ভালভাবে পরিজ্ঞাত, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এসেছ? তাঁরা বলেন, আমরা যখন তাদেরকে ছেড়ে এসেছি, তখন তারা নামাযে প্রবৃত্ত ছিল। আর যখন আমরা তাদের নিকট গিয়েছিলাম, তখনও তারা নামাযে প্রবৃত্ত ছিল। (বুখারী ৫৫৫, মুসলিম ১৪৬৪, নাসাঈ ৪৮৫, আহমাদ ৭৪৯১, ইবনে খুযাইমা ৩২১)
অন্য বর্ণনায় আছে, ফজর ও আসরের নামাযে রাত্রি ও দিনের ফিরিশতা একত্রিত হন। ফজরের সময় একত্রিত হয়ে রাতের ফিরিশতা উঠে যান এবং দিনের ফিরিশতা থেকে যান। অনুরূপ আসরের নামাযে একত্রিত হয়ে দিনের ফিরিশতা উঠে যান এবং রাতের ফিরিশতা থেকে যান। তাঁদের প্রতিপালক তাঁদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা আমার বান্দাদেরকে কী অবস্থায় ছেড়ে এলে? তাঁরা বলেন, ’আমরা তাদের কাছে গেলাম, তখন তারা নামায পড়ছিল এবং তাদের কাছ থেকে এলাম, তখনও তারা নামায পড়ছিল, সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদেরকে মাফ করে দিন।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ وَيجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ وَصَلاَةِ العَصْرِ ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمُ اللهُ ـ وَهُوَ أعْلَمُ بِهِمْ ـ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادي ؟ فَيَقُوْلونَ : تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৪৯) জারীর ইবনে আব্দুল্লাহ বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট পূর্ণিমার রাতে বসে ছিলাম। তিনি চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, নিঃসন্দেহে তোমরা (পরকালে) তোমাদের প্রতিপালককে ঠিক এইভাবে দর্শন করবে, যেভাবে তোমরা এই পূর্ণিমার চাঁদ দর্শন করছ। তাঁকে দেখতে তোমাদের কোন অসুবিধা হবে না। সুতরাং যদি তোমরা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে (নিয়মিত) নামায পড়তে পরাহত না হতে সক্ষম হও (অর্থাৎ এ নামায ছুটে না যায়), তাহলে অবশ্যই তা বাস্তবায়ন কর। (বুখারী ৫৫৪, মুসলিম ১৪৬৬, আহমাদ ১৯১৯০)
অন্য বর্ণনায় আছে, তিনি চৌদ্দ তারীখের রাতের চাঁদের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বললেন...। (বুখারী ৪৮৫১)
وَعَن جَرِيرِ بنِ عَبدِ الله البَجَليِّ قَالَ : كُنَّا عَندَ النبيِّ ﷺ فَنَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ البَدْرِ فَقَالَ إنَّكُمْ سَتَرَونَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا القَمَرَ لاَ تُضَامُونَ في رُؤْيَتهِ فَإنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا متفقٌ عَلَيْهِ وفي رواية فَنَظَرَ إِلَى القَمَرِ لَيْلَةَ أرْبَعَ عَشْرَةَ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৫০) বুরাইদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আসরের নামায ত্যাগ করল, নিঃসন্দেহে তার আমল নষ্ট হয়ে গেল।
وَعَن بُرَيْدَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَرَكَ صَلاَةَ العَصْرِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও আসরের নামাযের ফযীলত
(৬৫১) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির আসরের নামায ছুটে গেল, তার যেন পরিবার ও ধন-মাল লুণ্ঠন হয়ে গেল।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ الَّذِى تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ
পরিচ্ছেদঃ সানার একটি দু‘আ
(৬৫২) আনাস (রাঃ) বলেন, ’এক ব্যক্তি হাঁপাতে হাঁপাতে কাতারে শামিল হয়ে বলল, (اَلْحَمْدُ للهِ حَمْداً كَثِيْراً طَيِّباً مُّبَارَكاً فِيْهِ) উচচারণঃ আলহামদু লিল্লা-হি হাম্দান কাসীরান ত্বাইয়্যিবাম মুবা-রাকান ফীহ। অর্থঃ আল্লাহর জন্য সকল প্রশংসা; যে প্রশংসা অজস্র, পবিত্র ও প্রাচুর্যময়।
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায শেষ করার পর বললেন, তোমাদের মধ্যে কে ঐ দু’আ পাঠ করেছে? লোকেরা সকলে চুপ থাকল। পুনরায় তিনি বললেন, কে বলেছে ঐ দু’আ? যে বলেছে, সে মন্দ বলে নি। উক্ত ব্যক্তি বলল, আমিই হাঁপাতে হাঁপাতে এসে বলে ফেলেছি। তিনি বললেন, আমি ১২ জন ফিরিশতাকে দেখলাম, তাঁরা ঐ দু’আ (আল্লাহর দরবারে) উপস্থিত করার জন্য প্রতিযোগিতা করছে!
عَن أَنَسٍ أَنَّ رَجُلاً جَاءَ فَدَخَلَ الصَّفَّ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا قَضَى رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاَتَهُ قَالَ أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِالْكَلِمَاتِ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ أَيُّكُمُ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا فَإِنَّهُ لَمْ يَقُلْ بَأْسًا فَقَالَ رَجُلٌ جِئْتُ وَقَدْ حَفَزَنِى النَّفَسُ فَقُلْتُهَا فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَىْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا
পরিচ্ছেদঃ নামাযে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব
(৬৫৩) উবাদাহ বিন সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, সেই ব্যক্তির নামায হয় না, যে ব্যক্তি তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না।
عَن عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব
(৬৫৪) এক বর্ণনায় আছে, সেই ব্যক্তির নামায যথেষ্ট নয়, যে তাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না।
"لَا تَجْزِىءُ صَلَاةٌ لَا يُقْرَأُ الرَّجُلُ فِيهَا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব
(৬৫৫) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি এমন কোনও নামায পড়ে, যাতে সে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার ঐ নামায (গর্ভচ্যুত ভ্রূণের ন্যায়) অসম্পূর্ণ, অসম্পূর্ণ। এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, (সূরা ফাতিহার এত গুরুত্ব হলে) ইমামের পশ্চাতে কিভাবে পড়া যাবে? উত্তরে তিনি বললেন, তুমি তোমার মনে মনে পড়ে নাও। কারণ, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমি নামায (সূরা ফাতিহা)-কে আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ করে নিয়েছি; অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা তাই পায়, যা সে প্রার্থনা করে।
সুতরাং বান্দা যখন বলে, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ-লামীন। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। অতঃপর বান্দা যখন বলে, আররাহমা-নির রাহীম। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার স্তুতি বর্ণনা করল। আবার বান্দা যখন বলে, মা-লিকি য়্যাউমিদ্দীন। তখন আল্লাহ তা’আলা বলেন, বান্দা আমার গৌরব বর্ণনা করল। বান্দা যখন বলে, ইয়্যা-কা না’বুদু অইয়্যা-কা নাস্তাঈন। তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে। আর আমার বান্দা তাই পায়, যা সে প্রার্থনা করে। অতঃপর বান্দা যখন বলে, ইহদিনাস স্বিরা-ত্বাল মুস্তাকীম। স্বিরা-ত্বাল্লাযীনা আনআমতা আলাইহিম, গাইরিল মাগযবূবি আলাইহিম অলায্ব য্বল্লীন। তখন আল্লাহ বলেন, এ সব কিছু আমার বান্দার জন্য। আর আমার বান্দা যা চায়, তাই পাবে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ - ثَلاَثًا - غَيْرُ تَمَامٍ فَقِيلَ لأَبِى هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُونُ وَرَاءَ الإِمَامِ فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِى نَفْسِكَ فَإِنِّى سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ قَالَ اللهُ تَعَالَى قَسَمْتُ الصَّلاَةَ بَيْنِى وَبَيْنَ عَبْدِى نِصْفَيْنِ وَلِعَبْدِى مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ قَالَ اللهُ تَعَالَى حَمِدَنِى عَبْدِى وَإِذَا قَالَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ قَالَ اللهُ تَعَالَى أَثْنَى عَلَىَّ عَبْدِى وَإِذَا قَالَ مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ قَالَ مَجَّدَنِى عَبْدِى - وَقَالَ مَرَّةً فَوَّضَ إِلَىَّ عَبْدِى - فَإِذَا قَالَ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ قَالَ هَذَا بَيْنِى وَبَيْنَ عَبْدِى وَلِعَبْدِى مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ -اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ قَالَ هَذَا لِعَبْدِى وَلِعَبْدِى مَا سَأَلَ
পরিচ্ছেদঃ নামাযে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব
(৬৫৬) আবু সাঈদ বিন মুআল্লা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডাকলেন। আমি সাড়া দিলাম না। অতঃপর নামায শেষ করে তাঁর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি নামায পড়ছিলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ কি বলেননি যে, তোমরা আল্লাহ ও রসূলের আহবানে সাড়া দাও যখন তোমাদেরকে (রসূল) ডাকে...’ (সূরা আনফাল ২৪ আয়াত) অতঃপর তিনি বললেন, মসজিদ থেকে তোমার বের হয়ে যাওয়ার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের মধ্যে মহত্তম সূরাটি শিখিয়ে দেব না কি?
অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন। তারপর আমরা যখন বের হওয়ার ইচ্ছা করলাম তখন আমি বললাম, হে আল্লার রসূল! আপনি বলেছিলেন আমি তোমাকে কুরআনের মহত্তম সূরাটি শিখিয়ে দেব। তিনি বললেন, আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আ-লামীন। এটাই হল সেই সপ্তপদী (সূরা) যা নামাযে পুনঃপুনঃ আবৃত্ত হয়, আর সেটাই হল মহা কুরআন; যা আমাকে দান করা হয়েছে।
عَنْ أَبيْ سَعِيدِ بْنِ الْمُعَلَّى قَالَ كُنْتُ أُصَلِّي فِي الْمَسْجِدِ فَدَعَانِي رَسُولُ اللهِ ﷺ فَلَمْ أُجِبْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي كُنْتُ أُصَلِّي فَقَالَ أَلَمْ يَقُلْ اللهُ -اسْتَجِيبُوا لِلهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ ثُمَّ قَالَ لِي لَأُعَلِّمَنَّكَ سُورَةً هِيَ أَعْظَمُ السُّوَرِ فِي الْقُرْآنِ قَبْلَ أَنْ تَخْرُجَ مِنْ الْمَسْجِدِ- ثُمَّ أَخَذَ بِيَدِي فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ قُلْتُ لَهُ أَلَمْ تَقُلْ لَأُعَلِّمَنَّكَ سُورَةً هِيَ أَعْظَمُ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ؟ قَالَ الْحَمْدُ لِلهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ هِيَ السَّبْعُ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنُ الْعَظِيمُ الَّذِي أُوتِيتُهُ
পরিচ্ছেদঃ নামাযে সূরা ফাতিহার গুরুত্ব
(৬৫৭) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেন, তুমি নামাযে কীভাবে পড়? তিনি সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী সূরা ফাতিহা)র মত আল্লাহ আয্যা অজাল্ল তাওরাতে ও ইঞ্জিলে কোন কিছুই অবতীর্ণ করেননি। এই (সূরাই) হল (নামাযে প্রত্যেক রাকআতে) পঠিত ৭টি আয়াত এবং মহা কুরআন, যা আমাকে দান করা হয়েছে।
عَنْ أَبيْ بْنِ كَعْبٍ قال قال له رسول الله ﷺ كَيْفَ تَقْرَأُ فِي الصَّلاَةِ- قَالَ : فَقَرَأَ أُمَّ الْقُرْانِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ مَا أُنْزِلَتْ فِي التَّوْرَاةِ وَلاَ فِي الإِنْجِيلِ وَلاَ فِي الزَّبُورِ وَلاَ فِي الْفُرْقَانِ مِثْلُهَا وَإِنَّهَا سَبْعٌ مِنَ الْمَثَانِى وَالْقُرْانُ الْعَظِيمُ الَّذِى أُعْطِيتُهُ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমীন’ বলার মাহাত্ম্য
(৬৫৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইমাম যখন গাইরিল মাগযূবি আলাইহিম অলায য্ব-ল্লীন, বলে তখন তোমরা আমীন বল। কারণ যার ’আমীন’ বলা ফিরিশতাবর্গের ’আমীন’ বলার সাথে একীভূত হয় তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ إِذَا قَالَ الإِمَامُ -غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ-فَقُولُوا آمِينَ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমীন’ বলার মাহাত্ম্য
(৬৫৯) উক্ত সাহাবী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমাম যখন গাইরিল মাগযবূবি আলাইহিম অলায অলায য্বা-ল্লীন’ বলবে, তখন তোমরা ’আমীন’ বল। কারণ, ফিরিশতাবর্গ ’আমীন’ বলে থাকেন। আর ইমামও ’আমীন’ বলে। (অন্য এক বর্ণনা মতে) ইমাম যখন ’আমীন’ বলবে, তখন তোমরাও ’আমীন’ বল। কারণ, যার ’আমীন’ বলা ফিরিশতাবর্গের ’আমীন’ বলার সাথে সাথে হয়, (অন্য এক বর্ণনায়) তোমাদের কেউ যখন নামাযে ’আমীন’ বলে এবং ফিরিশতাবর্গ আকাশে ’আমীন’ বলেন, আর পরস্পরের ’আমীন’ বলা একই সাথে হয়, তখন তার পূর্বেকার পাপরাশি মাফ করে দেওয়া হয়।
إِذَا أَمَّنَ الإِمَامُ فَأَمِّنُوا فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ تَأْمِينُهُ تَأْمِينَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَالَ أَحَدُكُمْ آمِينَ وَالْمَلاَئِكَةُ فِى السَّمَاءِ آمِينَ فَوَافَقَتْ إِحْدَاهُمَا الأُخْرَى غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমীন’ বলার মাহাত্ম্য
(৬৬০) সামুরাহ বিন জুনদুব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইমাম ’গাইরিল মাগযবূবি আলাইহিম অলায য-ল্লীন’ বললে তোমরা ’আমীন’ বল। তাহলে (সূরা ফাতিহায় উল্লিখিত দু’আ) আল্লাহ তোমাদের জন্য মঞ্জুর করে নেবেন।
عَن سَمُرَةَ بن جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَالَ الإِمَامُ: "غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلا الضَّالِّينَ فَقُولُوا: آمِينَ يُجِبْكُمُ اللهُ
পরিচ্ছেদঃ সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমীন’ বলার মাহাত্ম্য
(৬৬১) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ইয়াহুদ কোন কিছুর উপর তোমাদের অতটা হিংসা করে না, যতটা সালাম ও ’আমীন’ বলার উপর করে।
عَن عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَا حَسَدَتْكُمْ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ مَا حَسَدَتْكُمْ عَلَى السَّلَامِ وَالتَّأْمِينِ
পরিচ্ছেদঃ কওমার দু‘আ
(৬৬২) রিফাআহ বিন রাফে’ যুরাক্বী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পশ্চাতে নামায পড়ছিলাম। যখন রুকু থেকে মাথা উঠালেন, তখন তিনি বললেন, সামিআল্লা-হু লিমান হামিদাহ। এই সময় তাঁর পশ্চাতে এক ব্যক্তি বলে উঠল, ’রাব্বানা অলাকাল হামদু হামদান কাসীরান ত্বাইয়িবাম মুবারাকান ফীহ।’ (অর্থাৎ, হে আমাদের পালনকর্তা! তোমারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা, অজস্র, পবিত্র, বরকতপূর্ণ প্রশংসা।) নামায শেষ করে (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, ঐ যিকর কে বলল? লোকটি বলল, আমি। তিনি বললেন, ঐ যিকর প্রথমে কে লিখবে এই নিয়ে ত্রিশাধিক ফিরিশতাকে আমি প্রতিযোগিতা করতে দেখলাম।
عَن رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِىِّ قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّى وَرَاءَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَلَمَّا رَفَعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَ رَسُولِ اللهِ ﷺ اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ مَنِ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا آنِفًا فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَقَدْ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلَ
পরিচ্ছেদঃ কওমার দু‘আ
(৬৬৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন ইমাম ’সামিআল্লা-হু লিমান হামিদাহ’ বলে, তখন তোমরা ’আল্লা-হুম্মা রাব্বানা লাকাল হাম্দ’ বল। কেননা যার ঐ বলা ফিরিশতাগণের বলার সাথে একীভূত হয়, তার পিছেকার সকল পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا قَالَ الإِمَامُ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اَللّٰهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهُ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهُ قَوْلَ الْمَلاَئِكَةِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ সিজদাহ
(৬৬৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সিজদাহ অবস্থায় বান্দা আপন প্রভুর সবচেয়ে অধিক নিকটতম হয়ে থাকে। সুতরাং ঐ অবস্থায় তোমরা বেশী-বেশী করে দু’আ কর।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَقْرَبُ مَا يَكُوْنُ الْعَبْدُ مِنْ رَبِّهِ وَهُوَ سَاجِدٌ فَأَكْثِرُوا الدُّعَاءَ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৬৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল অথবা সন্ধ্যায় মসজিদে গমন করে, আল্লাহ তার জন্য আপ্যায়ন সামগ্রী জান্নাতের মধ্যে প্রস্তুত করেন। সে যতবার সকাল অথবা সন্ধ্যায় গমনাগমন করে, আল্লাহও তার জন্য ততবার আতিথেয়তার সামগ্রী প্রস্তুত করেন।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ غَدَا إِلَى المَسْجِدِ أَوْ رَاحَ أَعَدَّ اللهُ لَهُ فِي الجَنَّةِ نُزُلاً كُلَّمَا غَدَا أَوْ رَاحَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৬৬) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বাড়ি থেকে ওযূ করে আল্লাহর কোন ঘরের দিকে এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করে যে, আল্লাহর নির্ধারিত কোন ফরয ইবাদত (নামায) আদায় করবে, তাহলে তার কৃত প্রতিটি দুই পদক্ষেপের মধ্যে একটিতে একটি করে গুনাহ মিটাবে এবং অপরটিতে একটি করে মর্যাদা উন্নত করবে।
وَعَنْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ مَنْ تَطَهَّرَ فِي بَيْتِهِ ثُمَّ مَضَى إِلَى بَيْتٍ مِنْ بُيُوتِ اللهِ لِيَقْضِي فَرِيضَةً مِنْ فَرَائِضِ اللهِ كَانَتْ خُطُواتُهُ إحْدَاهَا تَحُطُّ خَطِيئَةً وَالأُخْرَى تَرْفَعُ دَرَجَةً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৬৭) আবু উমামা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি কোন ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে স্বগৃহ থেকে ওযু করে (মসজিদের দিকে) বের হয়, সেই ব্যক্তির সওয়াব হয় ইহরাম বাঁধা হাজীর ন্যায়। আর যে ব্যক্তি কেবলমাত্র চাশতের নামায পড়ার উদ্দেশ্যেই বের হয়, তার সওয়াব হয় উমরাকারীর সমান। এক নামাযের পর অপর নামায; যে দুয়ের মাঝে কোন অসার (পার্থিব) ক্রিয়াকলাপ না থাকে তা এমন আমল যা ইল্লিয়্যীনে (সৎলোকের সৎকর্মাদি লিপিবদ্ধ করার নিবন্ধ গ্রন্থে) লিপিবদ্ধ করা হয়।
عَن أَبِى أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلاَةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لاَ يُنْصِبُهُ إِلاَّ إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ وَصَلاَةٌ عَلَى أَثَرِ صَلاَةٍ لاَ لَغْوَ بَيْنَهُمَا كِتَابٌ فِى عِلِّيِّينَ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৬৮) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল। মসজিদ থেকে তার চাইতে দূরে কোন ব্যক্তি থাকত বলে আমার জানা নেই। তবুও সে কোন নামায (মসজিদে জামাআতসহ) আদায় করতে ত্রুটি করত না। একদা তাকে বলা হল, যদি একটা গাধা খরিদ করতে এবং রাতের অন্ধকারে ও উত্তপ্ত রাস্তায় তার উপর আরোহন করতে, (তাহলে ভাল হত)। সে বলল, আমার বাসস্থান মসজিদের পার্শ্বে হলেও তা আমাকে আনন্দ দিতে পারত না। কারণ আমার মনস্কামনা এই যে, মসজিদে যাবার ও নিজ বাড়ি ফিরার সময় কৃত প্রতিটি পদক্ষেপ যেন লিপিবদ্ধ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তার এহেন পুণ্যাগ্রহ দেখে) বললেন, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ তোমার (ভাগ্যে) তা সমস্তই জুটিয়েছেন।
وَعَنْ أَبيْ بنِ كَعبٍ قَالَ : كَانَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ لاَ أَعْلمُ أَحَداً أبْعَدَ مِنَ المَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَتْ لاَ تُخْطِئُهُ صَلاَةٌ فَقِيلَ لَهُ : لَوِ اشْتَرَيْتَ حِمَاراً لِتَرْكَبَهُ فِي الظَّلْمَاءِ وَفِي الرَّمْضَاءِ قَالَ : مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ المَسْجِدِ إنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَايَ إِلَى المَسْجِدِ وَرُجُوعِي إذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَدْ جَمَعَ اللهُ لكَ ذَلِكَ كُلَّه رواه مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৬৯) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মসজিদে নববীর আশে-পাশে কিছু জায়গা খালি হল। (এ দেখে) সালেমা গোত্র মসজিদে (নববী) এর নিকট স্থানান্তরিত হবার ইচ্ছা প্রকাশ করল। এ খবর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পারলে তিনি তাদেরকে বললেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মসজিদের কাছে চলে আসতে চাচ্ছ! তারা বলল, জী হ্যাঁ, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এ ইচ্ছা করেছি। তিনি বললেন, হে সালেমা গোত্র! তোমরা নিজেদের (বর্তমান) বাড়িতেই থাক। তোমাদের (মসজিদের পথে) পদক্ষেপসমূহের চিহ্নগুলি লিপিবদ্ধ করা হবে। তোমরা নিজেদের (বর্তমান) বাড়িতেই থাক। তোমাদের (মসজিদের পথে) পদক্ষেপসমূহের চিহ্নগুলি লিপিবদ্ধ করা হবে। তারা বলল, (মসজিদের নিকট) স্থানান্তরিত হওয়া আমাদেরকে আনন্দ দেবে না।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : خَلَتِ البِقَاعُ حَولَ المَسْجِدِ فَأَرَادَ بَنُو سَلِمَةَ أَنْ يَنْتَقِلُوا قُرْبَ المَسْجِدِ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ لَهُمْ بَلَغَنِي أَنَّكُم تُرِيدُونَ أَنْ تَنْتَقِلُوا قُرْبَ المَسْجِدِ ؟ قَالُوْا : نَعَم يَا رَسُولَ اللهِ قَدْ أرَدْنَا ذَلِكَ فَقَالَ بَنِي سَلِمَةَ دِيَارَكُم تُكْتَبْ آثارُكُمْ دِيَارَكُمْ تُكْتَبْ آثارُكُمْ) فَقَالُوْا : مَا يَسُرُّنَا أَنَّا كُنَّا تَحَوَّلْنَا رواه مسلم وروى البخاري معَناه من رواية أنس
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৭০) আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (মসজিদে জামাআতসহ) নামায পড়ার ক্ষেত্রে, সেই ব্যক্তি সর্বাধিক বেশী নেকী পায়, যে ব্যক্তি সব চাইতে দূর-দূরান্ত থেকে আসে। আর যে ব্যক্তি (জামাআতের সাথে) নামাযের অপেক্ষা না করেই একা নামায পড়ে শুয়ে যায়, তার চাইতে সেই বেশী নেকী পায়, যে নামাযের জন্য প্রতীক্ষা করে ও ইমামের সাথে জামাআত সহকারে নামায আদায় করে।
وَعَنْ أَبيْ مُوسَى قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ أَجْراً فِي الصَّلاةِ أَبْعَدُهُمْ إلَيْهَا مَمْشىً فَأَبْعَدُهُمْ وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإمَامِ أَعظَمُ أَجْراً مِنَ الَّذِي يُصَلِّيهَا ثُمَّ يَنَامُ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৭১) বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাত্রির অন্ধকারে মসজিদে যাতায়াতকারী লোকেদেরকে, কিয়ামতের দিনে পরিপূর্ণ জ্যোতির শুভ সংবাদ জানিয়ে দাও।
وَعَن بُرَيدَة عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ بَشِّرُوا المَشَّائِينَ فِي الظُّلَمِ إِلَى المَسَاجِدِ بِالنُّورِ التَّامِّ يَوْمَ القِيَامَةِ رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৭২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একদা সমবেত সহচরদের উদ্দেশ্যে) বললেন, তোমাদেরকে এমন একটি কাজ বলে দেব না কি, যার দ্বারা আল্লাহ গোনাহসমূহকে মোচন করে দেবেন এবং (জান্নাতে) তার দ্বারা মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? তাঁরা বললেন, অবশ্যই, হে আল্লাহ রসূল! তিনি বললেন, (তা হচ্ছে) কষ্টকর অবস্থায় পরিপূর্ণরূপে ওযূ করা, অধিক মাত্রায় মসজিদে গমন করা এবং এক ওয়াক্তের নামায আদায় করে পরবর্তী ওয়াক্তের নামাযের জন্য প্রতীক্ষা করা। আর এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ। এ হল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মত কাজ।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَلاَ أَدُلُّكُمْ عَلَى مَا يَمْحُو اللهُ بِهِ الخَطَايَا وَيَرْفَعُ بِهِ الدَّرَجَاتِ ؟ قَالُوْا : بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ إِسْبَاغُ الوُضُوءِ عَلَى المَكَارِهِ وَكَثْرَةُ الخُطَا إلَى المَسَاجِدِ وَانْتِظَارُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَذَلِكُمُ الرِّبَاطُ فذَلِكُمُ الرِّبَاطُ رواه مسلِم
পরিচ্ছেদঃ মসজিদে যাওয়ার ফযীলত
(৬৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নামাযের ইকামত শুনলে তোমরা ধীর ও শান্তভাবে (মসজিদে বা জামাআতে) যাও এবং তাড়াহুড়া করো না। অতঃপর ইমামের সঙ্গে নামাযের যতটুকু অংশ পাও ততটুকু পড়ে নাও এবং যেটুকু অংশ ছুটে যায় তা (একাকী) পূর্ণ করে নাও।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا سَمِعْتُمْ الْإِقَامَةَ فَامْشُوا إِلَى الصَّلَاةِ وَعَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ وَالْوَقَارِ وَلَا تُسْرِعُوا فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৪) ইবনে উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একাকীর নামায অপেক্ষা জামাআতের নামায সাতাশ গুণ উত্তম।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ صَلاَةُ الْجَمَاعَةِ أَفْضَلُ مِنْ صَلاَةِ الْفَذِّ بِسَبْعٍ وَعِشْرِينَ دَرَجَةً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামাতের সাথে পুরুষের নামায পড়া, তার ঘরে ও বাজারে একা নামায পড়ার চাইতে ২৫ গুণ বেশি শ্রেষ্ঠ। তা এই জন্য যে, যখন কোন ব্যক্তি ওযূ করে এবং উত্তমরূপে ওযূ সম্পাদন করে। অতঃপর মসজিদ অভিমুখে যাত্রা করে। আর একমাত্র নামাযই তাকে (ঘর থেকে) বের করে (অন্য কোন উদ্দেশ্য থাকে না), তখন তার (পথে চলার সময়) প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে একটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয় এবং একটি গোনাহ মাফ করা হয়। তারপর সে নামাযান্তে নামায পড়ার জায়গায় যতক্ষণ ওযূ সহকারে অবস্থান করে, ফিরিশতাবর্গ তার জন্য দু’আ করেন; তাঁরা বলেন, হে আল্লাহ! ওর প্রতি অনুগ্রহ কর। হে আল্লাহ! তুমি ওকে রহম কর। আর সে ব্যক্তি ততক্ষণ নামাযের মধ্যেই থাকে, যতক্ষণ সে নামাযের প্রতীক্ষা করে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاةُ الرَّجُلِ فِي جَمَاعَةٍ تُضَعَّفُ عَلَى صَلاتِهِ فِي بَيْتهِ وَفِي سُوقِهِ خَمْساً وَعِشْرِينَ ضِعْفَاً وَذَلِكَ أَنَّهُ إِذَا تَوَضَّأ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى المَسْجِدِ لاَ يُخرِجُهُ إِلاَّ الصَّلاةُ لَمْ يَخْطُ خَطْوَةً إِلاَّ رُفِعَتْ لَهُ بِهَا دَرَجَةٌ وَحُطَّتْ عَنهُ بِهَا خَطِيئَةٌ فَإِذَا صَلَّى لَمْ تَزَلِ المَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ مَا لَمْ يُحْدِثْ تَقُولُ : اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلَيهِ اَللّٰهُمَّ ارْحَمْهُ وَلاَ يَزَالُ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرَ الصَّلاَةَ متفقٌ عَلَيهِ وهذا لفظ البخاري
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৬) উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি পরিপূর্ণরূপে ওযু করে কোন ফরয নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে (মসজিদে) যায়, অতঃপর তা ইমামের সাথে আদায় করে সে ব্যক্তির পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।
عَن عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ الْوُضُوءَ ثُمَّ مَشَى إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَصَلَّاهَا مَعَ الْإِمَامِ غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ»
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৭) উবাই বিন কা’ব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজরের নামায পড়ার পর বললেন, অমুক উপস্থিত আছে? সকলে বলল, না। (দ্বিতীয় ব্যক্তির খোঁজে) তিনি বললেন, অমুক উপস্থিত আছে? সকলে বলল, না। অতঃপর তিনি বললেন, অবশ্যই এই দুই নামায (এশা ও ফজর) মুনাফেকদের জন্য সবচেয়ে ভারী নামায। উক্ত দুই নামাযে কী সওয়াব নিহিত আছে তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে হাঁটুর উপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়েও তা জামাআতে আদায়ের উদ্দেশ্যে অবশ্যই হাজির হতে।আর প্রথম কাতার ফিরিশতাগণের কাতারের সমতুল্য।
যদি তোমরা তাতে নিহিত মাহাত্ম্য বিষয়ে অবগত হতে, তবে নিশ্চয় (প্রথম কাতারে খাড়া হওয়ার জন্য) প্রতিযোগিতা করতে। এক ব্যক্তির কোন অন্য ব্যক্তির সাথে জামাআত করে পড়া নামায একাকী পড়া নামায অপেক্ষা অধিকতর উত্তম। অনুরূপ অন্য দুই ব্যক্তির সাথে জামাআত করে পড়া নামায এক ব্যক্তির সাথে জামাআত করে পড়া নামায অপেক্ষা অধিকতর উত্তম। এইভাবে জামাআতের লোক সংখ্যা যত অধিক হবে, ততই আল্লাহ আয্যা অজাল্লার নিকট অধিক প্রিয়।
عَن أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ قَالَ صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ يَوْمًا الصُّبْحَ فَقَالَ أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ قَالُوْا لاَ قَالَ أَشَاهِدٌ فُلاَنٌ قَالُوْا لاَ। قَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ أَثْقَلُ الصَّلَوَاتِ عَلَى الْمُنَافِقِينَ وَلَوْ تَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَيْتُمُوهُمَا وَلَوْ حَبْوًا عَلَى الرُّكَبِ وَإِنَّ الصَّفَّ الأَوَّلَ عَلَى مِثْلِ صَفِّ الْمَلاَئِكَةِ وَلَوْ عَلِمْتُمْ مَا فَضِيلَتُهُ لاَبْتَدَرْتُمُوهُ وَإِنَّ صَلاَةَ الرَّجُلِ مَعَ الرَّجُلِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ وَحْدَهُ وَصَلاَتُهُ مَعَ الرَّجُلَيْنِ أَزْكَى مِنْ صَلاَتِهِ مَعَ الرَّجُلِ وَمَا كَثُرَ فَهُوَ أَحَبُّ إِلَى اللهِ تَعَالَى
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, একটি অন্ধ লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে নিবেদন করল, হে আল্লাহর রসূল! আমার কোন পরিচালক নেই, যে আমাকে মসজিদ পর্যন্ত নিয়ে যাবে। সুতরাং সে নিজ বাড়িতে নামায পড়ার জন্য আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট অনুমতি চাইল। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু যখন সে পিঠ ঘুরিয়ে রওনা দিল, তখন তিনি তাকে ডেকে বললেন, তুমি কি আহবান (আযান) শুনতে পাও? সে বলল, জী হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি সাড়া দাও। (অর্থাৎ মসজিদেই এসে নামায পড়। তোমার জন্য অনুমতি পাচ্ছি না।)
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : أَتَى النَّبيَّ ﷺ رَجُلٌ أَعْمَى فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ لَيسَ لِي قَائِدٌ يَقُودُنِي إِلَى الْمَسْجِدِ فَسَأَلَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَنْ يُرَخِّصَ لَهُ فَيُصَلِّي فِي بَيْتِهِ فَرَخَّصَ لَهُ فَلَّمَا وَلَّى دَعَاهُ فَقَالَ لَهُ هَلْ تَسْمَعُ النِّدَاءَ بِالصَّلاَةِ ؟ قَالَ : نَعَمْ قَالَ فَأَجِبْ رواه مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৭৯) আব্দুল্লাহ (মতান্তরে) আমর ইবনে ক্বায়স ওরফে ইবনে উম্মে মাকতূম মুআযযিন (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! মদীনায় সরীসৃপ (সাপ, বিচ্ছু ইত্যাদি বিষাক্ত জন্তু) ও হিংস্র পশু অনেক আছে। (তাই আমাকে নিজ বাড়িতেই নামায পড়ার অনুমতি দিন)। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি হাইয়্যা আলাস স্বালাহ ও হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ (আযান) শুনতে পাও? (যদি শুনতে পাও), তাহলে মসজিদে এসো।
وَعَن عَبدِ الله وَقِيلَ : عَمْرِو بنِ قَيسٍ المَعرُوفِ بِابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ الْمُؤَذِّنِ أَنَّه قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ المَدينَةَ كَثِيرةُ الهَوَامِّ وَالسِّبَاعِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تَسْمَعُ حَيَّ عَلَى الصَّلاةِ حَيَّ عَلَى الفَلاحِ فَحَيَّهلاً رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার জীবন আছে। আমার ইচ্ছা হচ্ছে যে, জ্বালানী কাঠ জমা করার আদেশ দিই। তারপর নামাযের জন্য আযান দেওয়ার আদেশ দিই। তারপর কোন লোককে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ দিই। তারপর আমি স্বয়ং সেই সব (পুরুষ) লোকদের কাছে যাই (যারা মসজিদে নামায পড়তে আসেনি) এবং তাদেরকে-সহ তাদের ঘর-বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিই।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ بِحَطَبٍ فَيُحْتَطَبَ ثُمَّ آمُرَ بِالصَّلاَةِ فَيُؤذَّنَ لهَاَ ثُمَّ آمُرَ رَجُلاً فَيَؤُمَّ النَّاسَ ثُمَّ أُخَالِفَ إِلَى رِجَالٍ فَأُحَرِّقَ عَلَيْهِمْ بُيُوتَهمْ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮১) ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কাঠের মিম্বরের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, লোকেরা যেন জামাআত ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।
وَعَن ابْنِ عَبَّاسٍ وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ : أَنَّهُمَا سَمِعَا رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ عَلَى أَعْوَادِهِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَن وَدْعِهِمُ الجَمَاعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُوْنُنَّ مِنَ الغَافِلِينَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮২) উসামা বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোকেরা জামাআত ত্যাগ করা হতে অবশ্য অবশ্যই বিরত হোক, নচেৎ আমি অবশ্যই তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেব।
عَن أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ رضي الله عَنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِﷺ لَيَنْتَهِيَنَّ رِجَالٌ عَن تَرْكِ الجَمَاعَةِ أَوْلأُحَرِّقَنَّ بُيُوتَهُمْ
-
(ইবনে মাজাহ ৭৯৫, সহীহ তারগীব ৪৩৩)
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮৩) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাকে এ কথা আনন্দ দেয় যে, সে কাল কিয়ামতের দিন আল্লাহর সঙ্গে মুসলিম হয়ে সাক্ষাৎ করবে, তার উচিত, সে যেন এই নামাযসমূহ আদায়ের প্রতি যত্ন রাখে, যেখানে তার জন্য আযান দেওয়া হয় (অর্থাৎ, মসজিদে)। কেননা, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিমিত্তে হিদায়াতের পন্থা নির্ধারণ করেছেন। আর নিশ্চয় এই নামাযসমূহ হিদায়েতের অন্যতম পন্থা ও উপায়। যদি তোমরা (ফরয) নামায নিজেদের ঘরেই পড়, যেমন এই পিছিয়ে থাকা লোক নিজ ঘরে নামায পড়ে, তাহলে তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার করবে।
আর (মনে রেখো,) যদি তোমরা তোমাদের নবীর তরীকা পরিহার কর, তাহলে নিঃসন্দেহে তোমরা পথহারা হয়ে যাবে। আমি আমাদের লোকেদের এই পরিস্থিতি দেখেছি যে, নামায (জামাতসহ পড়া) থেকে কেবল সেই মুনাফিক (কপট মুসলিম) পিছিয়ে থাকে, যে প্রকাশ্য মুনাফিক। আর (দেখেছি যে, পীড়িত) ব্যক্তিকে দু’জনের উপর ভর দিয়ে নিয়ে এসে (নামাযের) সারিতে দাঁড় করানো হতো।
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, ’আমাদেরকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিদায়াতের (সৎপথপ্রাপ্তির) পন্থা বলে দিয়েছেন। আর হিদায়াতের অন্যতম পন্থা, সেই মসজিদে নামায পড়া, যেখানে আযান দেওয়া হয়।
وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : مَنْ سَرَّهُ أَنْ يَلْقَى اللهَ تَعَالَى غَداً مُسْلِماً فَلْيُحَافِظْ عَلَى هَؤُلاَءِ الصَّلَوَاتِ حَيْثُ يُنَادَى بِهِنَّ فَإِنَّ اللهَ شَرَعَ لِنَبِيِّكُمْ ﷺ سُنَنَ الهُدَى وَإنَّهُنَّ مِنْ سُنَنِ الهُدَى وَلَوْ أنَّكُمْ صَلَّيْتُمْ فِي بُيُوتِكُمْ كَمَا يُصَلِّي هَذَا المُتَخَلِّفُ فِي بَيْتِهِ لَتَرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ وَلَوْ تَرَكْتُمْ سُنَّة نَبِيِّكُم لَضَلَلْتُمْ وَلَقَدْ رَأيْتُنَا وَمَا يَتَخَلَّفُ عَنهَا إِلاَّ مُنَافِقٌ مَعْلُومُ النِّفَاقِ وَلَقَدْ كَانَ الرَّجُلُ يُؤتَى بهِ يُهَادَى بَيْنَ الرَّجُلَيْنِ حَتَّى يُقَامَ فِي الصَّفِّ رَوَاهُ مُسلِم
وفي رواية لَهُ قَالَ : إِنّ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَلَّمَنَا سُنَنَ الهُدَى وَإِنَّ مِنْ سُنَنِ الهُدَى الصَّلاَةَ في المَسْجِدِ الَّذِي يُؤَذَّنُ فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮৪) আবূ দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, যে কোন গ্রাম বা মরু-অঞ্চলে তিনজন লোক বাস করলে এবং সেখানে (জামাআতে) নামায কায়েম না করা হলে শয়তান তাদের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করে ফেলে। সুতরাং তোমরা জামাআতবদ্ধ হও। অন্যথা ছাগ পালের মধ্য হতে নেকড়ে সেই ছাগলটিকে ধরে খায়, যে (পাল থেকে) দূরে দূরে থাকে।
وَعَنْ أَبيْ الدَّردَاءِ قَالَ : سَمِعتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَا مِنْ ثَلاثَةٍ فِي قَرْيةٍ وَلاَ بَدْوٍ لاَ تُقَامُ فِيهِمُ الصَّلاَةُ إلاَّ قَدِ اسْتَحْوَذَ عَلَيْهِم الشَّيْطَانُ فَعَلَيْكُمْ بِالجَمَاعَةِ فَإِنَّمَا يَأْكُلُ الذِّئْبُ مِنَ الغَنَمِ القَاصِيَة رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮৫) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আযান শোনে অথচ (মসজিদে জামাআতে) উপস্থিত হয় না, সে ব্যক্তির কোন ওজর ছাড়া (ঘরে নামায পড়লেও তার) নামাযই হয় না।
عَن ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ سَمِعَ النِّدَاءَ فَلَمْ يُجِبْ فَلاَ صَلاَةَ لَهُ إِلاَّ مِنْ عُذْرٍ
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮৬) উসমান বিন আফফান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তির মসজিদে থাকা অবস্থায় আযান হয়, অতঃপর বিনা কোন প্রয়োজনে বের হয়ে যায় এবং ফিরে আসার ইচ্ছা না রাখে, সে ব্যক্তি মুনাফিক।
عَن عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ أَدْرَكَهُ الْأَذَانُ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ خَرَجَ لَمْ يَخْرُجْ لِحَاجَةٍ وَهُوَ لَا يُرِيدُ الرَّجْعَةَ فَهُوَ مُنَافِقٌ
পরিচ্ছেদঃ জামাআত সহকারে নামাযের ফযীলত
(৬৮৭) আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টিলাভের উদ্দেশ্যে ৪০ দিন জামাআতে নামায আদায় করে এবং তাতে তাহরীমার তকবীরও পায়, (সেই ব্যক্তির জন্য দুটি মুক্তি লিখা হয়; দোযখ থেকে মুক্তি এবং মুনাফেকী থেকে মুক্তি।
عَن أَنَسٍ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى لِلهِ أَرْبَعِينَ يَوْمًا فِي جَمَاعَةٍ يُدْرِكُ التَّكْبِيرَةَ الْأُولَى كُتِبَتْ لَهُ بَرَاءَتَانِ بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ وَبَرَاءَةٌ مِنْ النِّفَاقِ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান
(৬৮৮) উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি জামাআতের সাথে এশার নামায আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত কিয়াম (ইবাদত) করল। আর যে ফজরের নামায জামাআতসহ আদায় করল, সে যেন সারা রাত নামায পড়ল। (মুসলিম ১৫২৩, আবু দাঊদ ৫৫৫)
তিরমিযীর বর্ণনায় উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এশার নামাযের জামাআতে হাযির হবে, তার জন্য অর্ধরাত পর্যন্ত কিয়াম করার নেকী হবে। আর যে এশা সহ ফজরের নামায জামাআতে পড়বে, তার জন্য সারা রাত ব্যাপী কিয়াম করার সমান নেকী হবে। (তিরমিযী ২২১, হাসান)
عَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَنْ صَلَّى العِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأنَّمَا قَامَ نِصْفَ اللَّيْلِ وَمَنْ صَلَّى الصُّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأنَّمَا صَلَّى اللَّيْلَ كُلَّهُ رواه مُسلِم
وفي رواية الترمذي عَن عُثمَانَ بنِ عَفَّانَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ شَهِدَ العِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ قِيَامُ نِصْفِ لَيلَةٍ وَمَنْ صَلَّى العِشَاءَ وَالفَجْرَ فِي جَمَاعَةٍ كَانَ لَهُ كَقِيَامِ لَيْلَةٍ قَالَ الترمذي حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান
(৬৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি লোকে এশা ও ফজরের নামাযের ফযীলত জানতে পারত, তাহলে তাদেরকে হামাগুড়ি বা পাছা ছেঁচড়ে আসতে হলেও তারা অবশ্যই ঐ নামাযদ্বয়ে আসত।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي العَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً متفقٌ عَلَيهِ وقد سبق بِطولِهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান
(৬৯০) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুনাফিক (কপট) দের উপর ফজর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই। যদি তারা এর ফযীলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই (মসজিদে) উপস্থিত হত।
وَعَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنْ صَلاَةِ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْواً متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান
(৬৯১) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের জামাআতের নামায একাকী নামাযের তুলনায় ২৫ গুণ অধিক মর্যাদা রাখে। আর রাত্রি ও দিনের ফিরিশতা ফজরের নামাযে একত্রিত হন।
উক্ত হাদীস বর্ণনার পর আবূ হুরাইরা বলেন, তোমাদের ইচ্ছা হলে তোমরা পড়ে নাওঃ
وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا
অর্থাৎ, নিশ্চয় ফজরের নামাযে ফিরিশতা হাযির হয়। (বানী ইস্রাঈলঃ ৭৮)
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ فَضْلُ صَلَاةِ الْجَمِيعِ عَلَى صَلَاةِ الْوَاحِدِ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ دَرَجَةً وَتَجْتَمِعُ مَلَائِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلَائِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلَاةِ الصُّبْحِ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًاt
পরিচ্ছেদঃ ফজর ও এশার জামাআতে হাযির হতে উৎসাহদান
(৬৯২) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায (জামাআতে) পড়ে, সে ব্যক্তি (সন্ধ্যা পর্যন্ত) আল্লাহর দায়িত্বে থাকে।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عمر قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ كَانَ فِي ذِمَّةِ اللهِ حَتَّى يُمْسِيَ
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৩) উম্মে সালামাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহিলাদের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ মসজিদ তার গৃহের ভিতরের কক্ষ।
عَن أُمِّ سَلَمَةَ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ خَيْرُ مَسَاجِدِ النِّسَاءِ قَعْرُ بُيُوتِهِنَّ
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৪) আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মেয়ে মানুষ (সবটাই) লজ্জাস্থান (গোপনীয়)। আর সে যখন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তাকে পুরুষের দৃষ্টিতে সুশোভন করে তোলে। সে নিজ বাড়ির অন্দর মহলে অবস্থান ক’রে আল্লাহর অধিক নিকটবর্তী থাকে।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْمَرْأَةُ عَوْرَةٌ وَإِنَّهَا إِذَا خَرَجَتِ من بيتها اسْتَشْرَفَهَا الشَّيْطَانُ وَإِنَّهَا لَا تَكُونُ أَقْرَبَ إِلَى اللَّهِ مِنْهَا فِي قَعْرِ بَيْتِهَا
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৫) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেন, মহিলারা গোপন জিনিস। কোন অসুবিধা ছাড়াই মহিলা যখন নিজ বাড়ি থেকে বের হয়, তখন শয়তান তাকে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখে। অতঃপর তাকে বলে, তুমি যার পাশ বেয়েই অতিক্রম করবে, তাকেই মুগ্ধ করবে। মহিলা যখন তার পোশাক পরিধান করে, তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ? সে বলে, আমি কোন রোগীকে দেখা করতে যাব, কোন মরা-ঘর যাব অথবা মসজিদে গিয়ে নামায পড়ব। অথচ মহিলা তার ঘরে থেকে নিজ রবের ইবাদত করার মতো ইবাদত আর অন্য কোথাও করতে পারে না।
عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ أَبِي الْأَحْوَصِ عَنْ عَبْدِ اللهِ ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ: " إِنَّمَا النِّسَاءُ عَوْرَةٌ وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهَا وَمَا بِهَا مِنْ بَأْسٍ فَيَسْتَشْرِفُ لَهَا الشَّيْطَانُ، فَيَقُولُ: إِنَّكِ لَا تَمُرِّينَ بِأَحَدٍ إِلَّا أَعْجَبْتِهِ وَإِنَّ الْمَرْأَةَ لَتَلْبَسُ ثِيَابَهَا فَيُقَالُ: أَيْنَ تُرِيدِينَ؟ فَتَقُولُ: أَعُودُ مَرِيضًا أَوْ أَشْهَدُ جِنَازَةً أَوْ أُصَلِّي فِي مَسْجِدٍ وَمَا عَبَدَتِ امْرَأَةٌ رَبَّهَا مِثْلَ أَنْ تَعْبُدَهُ فِي بَيْتِهَا "
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৬) উম্মে হুমাইদ (রাঃ) বলেন, একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের স্বামীরা আমাদেরকে আপনার সাথে নামায পড়তে বাধা দেয়। অথচ আমরা আপনার সাথে নামায পড়তে ভালোবাসি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমাদের খাস কক্ষের নামায সাধারণ কক্ষে নামায অপেক্ষা উত্তম, তোমাদের সাধারণ কক্ষের নামায বাড়ির ভিতরে কোন জায়গায় নামায অপেক্ষা উত্তম এবং তোমাদের বাড়ির ভিতরের নামায মসজিদে জামাআতে নামায অপেক্ষা উত্তম।
عَن أُمِّ حُمَيْدٍ قَالَتْ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ يَمْنَعَنا أَزْوَاجُنَا أَنَّ نُصَلِّيَ مَعَكَ وَنُحِبُّ الصَّلاةَ مَعَكَ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاتُكُنَّ فِي بُيُوتِكُنَّ أَفْضَلُ مِنْ صَلاتِكُنَّ فِي حُجُرِكُنَّ وَصَلاتُكُنَّ فِي حُجُرِكُنَّ أَفْضَلُ مِنْ صَلاتِكُنَّ فِي دُورِكُنَّ وَصَلاتُكُنَّ فِي دُورِكُنَّ أَفْضَلُ مِنْ صَلاتِكُنَّ فِي الْجَمَاعَةِ
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৭) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যদি তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের কাছে রাত্রে মসজিদে আসার অনুমতি চায়, তাহলে তোমরা তাদেরকে অনুমতি দিয়ে দাও।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا اسْتَأْذَنَكُمْ نِسَاؤُكُمْ بِاللَّيْلِ إِلَى الْمَسْجِدِ فَأْذَنُوا لَهُنَّ
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৮) সালেম বিন আব্দুল্লাহ (রহঃ) বলেন, একদা আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বললেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, তোমাদের মহিলারা মসজিদে যেতে অনুমতি চাইলে তোমরা তাদেরকে বাধা দিয়ো না। এ কথা শুনে (আমার ভাই) বিলাল বিন আব্দুল্লাহ বলল, ’আল্লাহর কসম! আমরা অবশ্যই ওদেরকে মসজিদ যেতে বাধা দিব। প্রত্যুত্তরে আব্দুল্লাহ তার মুখোমুখি হয়ে এমন খারাপ গালি দিলেন, যেমনটি আর কোনদিন শুনিনি। অতঃপর তিনি বললেন, আমি তোকে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খবর দিচ্ছি। আর তুই বলিস্, ’আল্লাহর কসম! আমরা ওদেরকে বাধা দেব।
قَالَ سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لاَ تَمْنَعُوا نِسَاءَكُمُ الْمَسَاجِدَ إِذَا اسْتَأْذَنَّكُمْ إِلَيْهَا قَالَ فَقَالَ بِلاَلُ بْنُ عَبْدِ اللهِ وَاللهِ لَنَمْنَعُهُنَّ قَالَ فَأَقْبَلَ عَلَيْهِ عَبْدُ اللهِ فَسَبَّهُ سَبًّا سَيِّئًا مَا سَمِعْتُهُ سَبَّهُ مِثْلَهُ قَطُّ وَقَالَ أُخْبِرُكَ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ وَتَقُولُ وَاللهِ لَنَمْنَعُهُنَّ
পরিচ্ছেদঃ মহিলাদের জামাআত
(৬৯৯) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযের ইকামত হলে এবং রাতের খানা উপস্থিত হলে, আগে খানা খেয়ে নাও।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِذَا حَضَرَ الْعَشَاءُ وَأُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَابْدَءُوا بِالْعَشَاءِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০০) জাবের ইবনে সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট এসে বললেন, ফিরিশতামণ্ডলী যেরূপ তাদের প্রভুর নিকট সারিবদ্ধ হন, তোমরা কি সেরূপ সারিবদ্ধ হবে না। আমরা নিবেদন করলাম, হে আল্লাহর রসূল! ফিরিশতামণ্ডলী তাদের প্রভুর নিকট কিরূপ সারিবদ্ধ হন? তিনি বললেন, প্রথম সারিগুলো পূর্ণ করেন এবং সারিতে ঘন হয়ে দাঁড়ান।
عَن جَابِرٍ بنِ سَمُرَة رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ فَقَالَ أَلاَ تَصُفُّونَ كَمَا تَصُفُّ المَلائِكَةُ عَندَ رَبِّهَا ؟ فَقُلنَا : يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيفَ تَصُفُّ المَلائِكَةُ عَندَ رَبِّهَا ؟ قَالَ يُتِمُّونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ وَيَتَرَاصُّونَ فِي الصَّفِّ رواه مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকেরা যদি জানত যে, আযান দেওয়া ও নামাযের প্রথম সারিতে দাঁড়াবার কী মাহাত্ম্য আছে, অতঃপর (তাতে অংশগ্রহণের জন্য) যদি লটারি ছাড়া অন্য কোন উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০২) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম কাতার হল প্রথম কাতার, আর নিকৃষ্টতম কাতার হল শেষ কাতার। আর মহিলাদের সর্বোত্তম কাতার হল পিছনের (শেষ) কাতার এবং নিকৃষ্টতম কাতার হল প্রথম কাতার।
وَعَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خيْرُ صُفُوفِ الرِّجَالِ أَوَّلُهَا وَشَرُّهَا آخِرُهَا وَخَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا رواه مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৩) নুমান বিন বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই আল্লাহ প্রথম কাতার ও সামনের কাতারসমূহের উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতাগণ তাদের জন্য দু’আ করে থাকেন।
عَن النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ قَالَ قال النَّبِيَّ ﷺ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصَّفِّ الْأَوَّلِ أَوْ الصُّفُوفِ الْأُوَلِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৪) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বীয় সাহাবীদের মাঝে (প্রথম কাতার থেকে) পিছিয়ে যাওয়া লক্ষ্য করে তাঁদেরকে বললেন, এগিয়ে এসো, অতঃপর আমার অনুসরণ কর। আর যারা তোমাদের পরে আছে, তারা তোমাদের অনুসরণ করুক। (মনে রাখবে) লোকে সর্বদা পিছিয়ে যেতে থাকে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাদেরকে (তাঁর করুণাদানে) পিছনে করে দেন।
وَعَنْ أَبيْ سَعِيدٍ الخُدرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى فِي أصْحَابِهِ تَأَخُّراً فَقَالَ لَهُمْ تَقَدَّمُوا فَأْتَمُّوا بِي وَلْيَأْتَمَّ بِكُمْ مَنْ بَعْدَكُمْ لاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ الله رواه مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৫) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন সম্প্রদায় প্রথম কাতার থেকে পিছনে সরে আসতে থাকলে অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে জাহান্নামে পশ্চাদ্বর্তী করে দেবেন। (অর্থাৎ, জাহান্নামে আটকে রেখে সবার শেষে জান্নাত যেতে দেবেন, আর সে প্রথম দিকে জান্নাত যেতে পারবে না।)
عَن عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يَزَالُ قَوْمٌ يَتَأَخَّرُونَ عَن الصَّفِّ الأَوَّلِ حَتَّى يُؤَخِّرَهُمُ اللهُ فِى النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৬) আবূ মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে (কাতার বাঁধার সময়) আমাদের কাঁধে হাত বুলিয়ে বলতেন, তোমরা সোজা হয়ে দাঁড়াও, তোমরা (কাতার বাঁধার সময়ে) পরস্পরের বিরোধিতা করো না; নচেৎ তোমাদের অন্তরের মধ্যে বিরোধিতা সৃষ্টি হবে। তোমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে। তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে)। তারপর যারা (জ্ঞান ও যোগ্যতায়) তাদের কাছাকাছি হবে (তারা দাঁড়াবে)।
وَعَنْ أَبيْ مَسعُودٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَمْسَحُ مَنَاكِبَنَا فِي الصَّلاَةِ وَيَقُوْلُ اِسْتَوُوا وَلاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ لِيَلِيَنِي مِنْكُمْ أُولُو الأَحْلاَمِ وَالنُّهَى ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ رَوَاهُ مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৭) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামাযে দাঁড়িয়ে) বললেন, তোমরা কাতার সোজা কর। কেননা, কাতার সোজা করা নামাযের পরিপূর্ণতার অংশ বিশেষ।
বুখারীর এক বর্ণনায় আছে, কেননা, কাতার সোজা করা নামায প্রতিষ্ঠা করার অন্তর্ভুক্ত।
وَعَن أَنَسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَوُّوْا صُفُوفَكُمْ فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصَّفِّ مِنْ تَمَامِ الصَّلاَةِ متفقٌ عَلَيهِ وفي رواية للبخاري فَإِنَّ تَسْوِيَةَ الصُّفُوفِ مِنْ إقَامَةِ الصَّلاَةِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৮) পূর্বোক্ত রাবী (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নামাযের তাকবীর (ইকামত) দেওয়া হল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, তোমরা কাতারসমূহ সোজা কর এবং মিলিতভাবে দাঁড়াও। কারণ, তোমাদেরকে আমার পিছন থেকেও দেখতে পাই। (এই শব্দে বুখারী ৭১৯ এবং একই অর্থে মুসলিম বর্ণনা করেছেন। ১০০৪)
বুখারীর অন্য বর্ণনায় আছে, আমাদের প্রত্যেক ব্যক্তি তার পার্শ্বস্থ সঙ্গীর বাহুমূলে বাহুমূল ও পায়ে পা মিলিয়ে দিত। (বুখারী ৭২৫)
وَعَنْهُ قَالَ : أُقِيمَتِ الصَّلاَةُ فَأقْبَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ ﷺ بِوَجْهِهِ فَقَالَ أَقِيمُوا صُفُوفَكُمْ وَتَرَاصُّوا فَإنِّي أَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِيْ رواه البُخَارِيُّ بلفظه ومسلم بمعَناه
وفي رواية للبخاري: وَكَانَ أَحَدُنَا يُلْزِقُ مَنْكِبَهُ بِمَنْكِبِ صَاحِبِهِ وَقَدَمَهُ بِقَدَمِهِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭০৯) নু’মান ইবনে বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তোমরা নিজেদের কাতার জরুর সোজা করে নাও; নচেৎ আল্লাহ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ক’রে দিবেন। (মালিক, বুখারী ৭১৭, মুসলিম ১০০৬ প্রমুখ)
মুসলিমের অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাতারগুলি এমনভাবে সোজা করতেন, যেন তিনি এর দ্বারা তীর সোজা করেছেন। (তিনি তাতে প্রবৃত্ত থাকতেন) যতক্ষণ না তিনি জানতে পারতেন যে, আমরা তাঁর কথা বুঝে ফেলেছি। একদিন তিনি বাইরে এলেন (তারপর মুআযযিন) তাকবীর দিতে উদ্যত হচ্ছিল, এমন সময় একটি লোকের উপর তাঁর দৃষ্টি পড়ল, যার বুক কাতার থেকে আগে বেরিয়ে ছিল। তিনি বললেন, আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা নিজেদের কাতার সোজা করে নাও; নচেৎ তোমাদের মুখমণ্ডলের মধ্যে আল্লাহ বিভিন্নতা ও বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসলিম ১০০৭)
(অর্থ হল, তোমাদের চেহারার আকৃতি বদলে দেবেন, অথবা তাদের মাঝে বিদ্বেষ সৃষ্টি করবেন। তোমাদের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতা জন্ম নেবে, যার অনিবার্য পরিণতি হবে অনৈক্য, অশান্তি, দ্বন্দ্ব-কলহ তথা অধঃপতন।)
আবূ দাউদ ও ইবনে হিববানের এক বর্ণনায় আছে, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের প্রতি অভিমুখ করে বললেন, তোমরা তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের হৃদয়-মাঝে (পরস্পরের প্রতি) বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দেবেন।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখেছি, (প্রত্যেক) লোক তার পার্শ্ববর্তী ভাইয়ের বাহুমূলের সাথে বাহুমূল, হাঁটুতে হাঁটু ও গাঁটে গাঁট (টাখনাতে টাখনা) লাগিয়ে দিত। (আবূ দাঊদ ৬৬২, ইবনে হিব্বান ২১৭৬, ইবনে খুযাইমা ১৬০, সহীহ তারগীব ৫১২)
وَعَن النُّعمَانِ بنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ لَتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ متفقٌ عَلَيهِ
وفي رواية لمسلم : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُسَوِّي صُفُوفَنَا حَتَّى كَأنَّمَا يُسَوِّي بِهَا القِدَاحَ حَتَّى رَأى أنَّا قَدْ عَقَلْنَا عَنهُ ثُمَّ خَرَجَ يَوماً فَقَامَ حَتَّى كَادَ يُكَبِّرُ فَرَأى رَجُلاً بَادِياً صَدْرُهُ مِنَ الصَّفِّ فَقَالَ عِبَادَ اللهِ لتُسَوُّنَّ صُفُوفَكُمْ أَوْ لَيُخَالِفَنَّ اللهُ بَيْنَ وُجُوهِكُمْ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১০) বারা’ ইবনে আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাযে কাতারের ভিতরে ঢুকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত চলা ফেরা করতেন এবং আমাদের বুকে ও কাঁধে হাত দিতেন (অর্থাৎ, হাত দিয়ে কাতার ঠিক করতেন) আর বলতেন, তোমরা বিভেদ করো না (অর্থাৎ, কাতার থেকে আগে পিছে হয়ো না।) নচেৎ তোমাদের অন্তর রাজ্যেও বিভেদ সৃষ্টি হবে। তিনি আরো বলতেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ প্রথম কাতারগুলির উপর রহমত বর্ষণ করেন এবং তাঁর ফিরিশতাবর্গ তাদের জন্য রহমত প্রার্থনা করেন।
وَعَن البَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَتَخَلَّلُ الصَّفَّ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَى نَاحِيَةٍ يَمْسَحُ صُدُورَنَا وَمَنَاكِبَنَا وَيَقُوْلُ لاَ تَخْتَلِفُوا فَتَخْتَلِفَ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ يَقُوْل إنَّ اللهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الصُّفُوفِ الأُوَلِ رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১১) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা কাতারগুলি সোজা করে নাও। পরস্পর বাহুমূলে বাহুমূল মিলিয়ে নাও। (কাতারের) ফাঁক বন্ধ ক’রে নাও। তোমাদের ভাইদের জন্য হাতের বাজু নরম ক’রে দাও। আর শয়তানের জন্য ফাঁক ছেড়ো না। (মনে রাখবে,) যে ব্যক্তি কাতার মিলাবে, আল্লাহ তার সাথে মিল রাখবেন, আর যে ব্যক্তি কাতার ছিন্ন করবে (মানে কাতারে ফাঁক রাখবে), আল্লাহও তার সাথে (সম্পর্ক) ছিন্ন করবেন।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَقِيمُوا الصُّفُوفَ وَحَاذُوا بَيْنَ المَنَاكِبِ وَسُدُّوا الخَلَلَ وَلِينُوا بِأَيْدِي إِخْوانِكُمْ ولاَ تَذَرُوا فُرُجَاتٍ لِلشَّيْطَانِ وَمَنْ وَصَلَ صَفّاً وَصَلَهُ اللهُ وَمَنْ قَطَعَ صَفّاً قَطَعَهُ اللهُ رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ঘন করে কাতার বাঁধ এবং কাতারগুলিকে পরস্পরের কাছাকাছি রাখ। ঘাড়সমূহ একে অপরের বরাবর কর। সেই মহান সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ আছে, কাতারের মধ্যেকার ফাঁকে শয়তানকে আমি প্রবেশ করতে দেখতে পাই, যেন তা কালো ছাগলের ছানা।
حذف এর অর্থ কালো ছোট জাতের ছাগল, যা ইয়ামানে পাওয়া যায়।
وَعَن أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالأَعَناقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهُ الحَذَفُ حديث صحيح رَوَاهُ أبُو دَاوُدَ بإسنادٍ عَلَى شرط مسلم
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৩) আয়েশা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, অবশ্যই মহান আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করেন এবং ফিরিশতাবর্গ তাদের জন্য দু’আ করে থাকেন, যারা কাতার মিলিয়ে দাঁড়ায়। (আহমাদ ২৪৩৮১, ইবনে মাজাহ ৯৯৫, ইবনে খুযাইমাহ ১৫৫০, ইবনে হিব্বান ২১৬৩, হাকেম)
ইবনে মাজাহ এই উক্তি অধিক বর্ণনা করেছেন, আর যে ব্যক্তি (কাতারের মাঝে) কোন ফাঁক বন্ধ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে সেই ব্যক্তিকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করেন। (সহীহ তারগীব ৫০১)
عَن عَائِشَةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَصِلُونَ الصُّفُوفَ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৪) উক্ত আয়েশা (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি (কাতারের মাঝে) কোন ফাঁক বন্ধ করে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তাকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করেন এবং তার জন্য জান্নাতে এক গৃহ নির্মাণ করেন।
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ مَنْ سَدَّ فُرجةً فيِ صفٍّ رَفَعَهُ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وبُنِىَ لَهُ بَيْتاً فِي الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৫) বারা’ বিন আযেব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, —আর আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেন, অবশ্যই আল্লাহ রহমত বর্ষণ করেন এবং ফিরিশতাবর্গ দু’আ করতে থাকেন তাদের জন্য যারা প্রথম কাতার মিলিয়ে (ব্যবধান না রেখে) দাঁড়ায়। আর যে পদক্ষেপ দ্বারা বান্দা কোন কাতারের ফাঁক বন্ধ করতে যায় তা অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অন্য কোন পদক্ষেপ অধিক পছন্দনীয় নয়।
عَن الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ وَمَلاَئِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى الَّذِينَ يَلُونَ الصُّفُوفَ الأُوَلَ وَمَا مِنْ خَطْوَةٍ أَحَبَّ إِلَى اللهِ مِنْ خَطْوَةٍ يَمْشِيهَا يَصِلُ بِهَا صَفًّا
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (নামায প্রাক্কালে) বলেন, তোমরা আগের কাতারটি পূর্ণ করে নাও। তারপর ওর সংলগ্ন (কাতার পূর্ণ কর)। তারপর যে অসম্পূর্ণতা থাকে, তা শেষ কাতারে থাকুক।
وَعَن أنس : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَتِمُّوا الصَّفَّ المُقَدَّمَ ثُمَّ الَّذِي يَلِيهِ فَمَا كَانَ مِنْ نَقْصٍ فَلْيَكُنْ في الصَّفِّ المُؤَخَّرِ رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৭) বারা’ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পিছনে যখন নামায পড়তাম তখন তাঁর ডান দিকে (দাঁড়ানো) পছন্দ করতাম। যাতে তিনি স্বীয় মুখমণ্ডল আমাদের দিকে ফিরান। বস্তুতঃ আমি (একদিন) তাঁকে বলতে শুনেছি, ’রাব্বি ক্বিনী আযা-বাকা ইয়াওমা তাবআসু (অথবা তাজমাউ) ইবা-দাক।’ হে আমার প্রভু! তুমি আমাকে তোমার সেই দিনের আযাব থেকে বাঁচায়ো, যেদিন তুমি স্বীয় বান্দাদেরকে কবর থেকে উঠাবে কিংবা হিসাবের জন্য জমা করবে।
وَعَن البَرَاءِ قَالَ: كُنَّا إِذَا صَلَّيْنَا خَلْفَ رَسُولِ اللهِ ﷺ أَحْبَبْنَا أَنْ نَكُونَ عَن يَمِينهِ يُقْبِلُ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَسَمِعْتُهُ يَقُوْل رَبِّ قِنِي عَذَابَكَ يَوْمَ تَبْعَثُ - أَو تَجْمَعُ - عِبَادَكَ رواه مُسلِمٌ
পরিচ্ছেদঃ প্রথম কাতারের ফযীলত, প্রথম কাতারসমূহ পূরণ করা, কাতার সোজা করা এবং ঘন হয়ে কাতার বাঁধার গুরুত্ব
(৭১৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা ইমামকে কাতারের ঠিক মাঝখানে কর। আর কাতারের ফাঁক বন্ধ করো।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَسِّطُوا الإِمَامَ وَسُدُّوا الخَلَلَ رواه أبُو دَاوُد
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭১৯) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির নামায আল্লাহ কবুল করেন না, তাদের নামায আকাশের দিকে ওঠে না, এমনকি তাদের মাথাও অতিক্রম করে না; (এদের মধ্যে প্রথম হল) সেই ব্যক্তি, যে কোন জামাআতের ইমামতি করে অথচ তারা তাকে অপছন্দ করে। দ্বিতীয় হল সেই ব্যক্তি, যে কোন জানাযার নামায পড়ায় অথচ তাকে পড়তে আদেশ করা হয়নি এবং তৃতীয় হল সেই মহিলা, যাকে রাত্রে তার স্বামী (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) ডাকে অথচ সে যেতে অস্বীকার করে।
عَن أنس بن مالك قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثَلاَثَةٌ لاَ تُقْبَلُ مِنْهُمْ صَلاَةٌ وَلاَ تَصْعَدُ إِلَى السَّمَاءِ وَلاَ تُجَاوِزُ رُؤُوسَهُمْ : رَجُلٌ أَمَّ قَوْمًا وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ وَرَجُلٌ صَلَّى عَلَى جَِنَازَةٍ وَلَمْ يُؤْمَرْ وَامْرَأَةٌ دَعَاهَا زَوْجُهَا مِنَ اللَّيْلِ فَأَبَتْ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২০) আবূ উমামা (রাঃ) হতে বর্ণিত আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তির নামায তাদের কান অতিক্রম করে না; প্রথম হল, পলাতক ক্রীতদাস; যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। দ্বিতীয় হল, এমন মহিলা যার স্বামী তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রিযাপন করে এবং তৃতীয় হল, সেই জামাআতের ইমাম যাকে ঐ লোকেরা অপছন্দ করে।
عَنْ أَبيْ أُمَامَةَ قال : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلاَثَةٌ لاَ تُجَاوِزُ صَلاَتُهُمْ آذَانَهُمُ الْعَبْدُ الآبِقُ حَتَّى يَرْجِعَ وَامْرَأَةٌ بَاتَتْ وَزَوْجُهَا عَلَيْهَا سَاخِطٌ وَإِمَامُ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের আগে মাথা তোলে, তখন তার মনে কি ভয় হয় না যে, মহান আল্লাহ তার মাথা, গাধার মাথায় পরিণত ক’রে দেবেন অথবা তার আকৃতি গাধার আকৃতি ক’রে দেবেন।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ أَمَا يَخْشَى أَحَدُكُمْ إِذَا رَفَعَ رَأسَهُ قَبْلَ الإمَامِ أَنْ يَجْعَلَ اللهُ رَأسَهُ رَأسَ حِمَارٍ أَوْ يَجْعَلَ اللهُ صُورَتَهُ صُورَةَ حِمَارٍ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২২) আবূ মাসঊদ আনসারী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, লোকেদের ইমামতি করবে সেই ব্যক্তি যে তাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধিক কুরআন (উত্তম ও বেশীরূপে) পাঠ করে। কুরআন পাঠে তারা সমমানের হলে যে ব্যক্তি সুন্নাহ বিষয়ে অধিক জ্ঞান রাখে সে ইমামতি করবে। এতেও তারা সমমানের হলে প্রথম হিজরতকারী তাতেও সমান হলে প্রথম যে মুসলিম হয়েছে সে ইমামতি করবে। আর কোন ব্যক্তি যেন কারো ইমামতির জায়গায় ইমামতি না করে এবং কারো আসনে তার বিনা অনুমতিতে না বসে।
عَن أَبِى مَسْعُودٍ الأَنْصَارِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَؤُمُّ الْقَوْمَ أَقْرَؤُهُمْ لِكِتَابِ اللهِ فَإِنْ كَانُوا فِى الْقِرَاءَةِ سَوَاءً فَأَعْلَمُهُمْ بِالسُّنَّةِ فَإِنْ كَانُوا فِى السُّنَّةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ هِجْرَةً فَإِنْ كَانُوا فِى الْهِجْرَةِ سَوَاءً فَأَقْدَمُهُمْ سِلْمًا وَلاَ يَؤُمَّنَّ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِى سُلْطَانِهِ وَلاَ يَقْعُدْ فِى بَيْتِهِ عَلَى تَكْرِمَتِهِ إِلاَّ بِإِذْنِهِ
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২৩) মুগীরাহ বিন শু’বাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন আমাকে আমার সম্প্রদায়ের ইমাম বানিয়ে দেন। সুতরাং তিনি বললেন, জামাআতের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির খেয়াল করে নামায পড়াও। আর এমন মুআযযিন রেখো না, যে আযানের জন্য পারিশ্রমিক চায়।
عَن الْمُغِيرَةِ بن شُعْبَةَ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ ﷺ أَنْ يَجْعَلَنِي إِمَامَ قَوْمِي فَقَالَ صَلِّ صَلاةَ أَضْعَفِ الْقَوْمِ وَلا تَتَّخِذْ مُؤَذِّنًا يَأْخُذُ عَلَى أَذَانِهِ أَجْرًا
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২৪) উসমান (রাঃ) ফিতনার সময় যখন স্বগৃহে অবরুদ্ধ ছিলেন, তখন উবাইদুল্লাহ বিন আদী বিন খিয়ার তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি জনসাধারণের ইমাম। আর আপনার উপর যে বিপদ এসেছে, তা তো দেখতেই পাচ্ছেন। ফিতনার ইমাম আমাদের নামাযের ইমামতি করছে; অথচ তার পশ্চাতে নামায পড়তে আমরা দ্বিধাবোধ করি। তিনি বললেন, নামায হল মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আমল। সুতরাং লোকে ভালো ব্যবহার করলে তাদের সাথেও ভালো ব্যবহার কর। আর মন্দ ব্যবহার করলে তাদের সাথে মন্দ ব্যবহার করা থেকে দূরে থাক।
عَن عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ خِيَارٍ أَنَّهُ دَخَلَ عَلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رَضِيَ اللهُ عَنهُ وَهُوَ مَحْصُورٌ فَقَالَ إِنَّكَ إِمَامُ عَامَّةٍ وَنَزَلَ بِكَ مَا نَرَى وَيُصَلِّي لَنَا إِمَامُ فِتْنَةٍ وَنَتَحَرَّجُ فَقَالَ الصَّلَاةُ أَحْسَنُ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ فَإِذَا أَحْسَنَ النَّاسُ فَأَحْسِنْ مَعَهُمْ وَإِذَا أَسَاءُوا فَاجْتَنِبْ إِسَاءَتَهُمْ
পরিচ্ছেদঃ ইমামতি বিষয়ক হাদীসসমূহ
(৭২৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইমামগণ তোমাদের নামায পড়ায়। সুতরাং তারা যদি নামায সঠিকভাবে পড়ায়, তাহলে তোমাদের নেকী অর্জিত হবে। আর যদি ভুল করে, তাহলে তোমাদের নেকী (যথারীতি) অর্জিত হবে এবং ভুলের খেসারত তাদের উপরেই বর্তাবে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ يُصَلُّونَ لَكُمْ فَإِنْ أَصَابُوا فَلَكُمْ وَإِنْ أَخْطَئُوا فَلَكُمْ وَعَلَيْهِمْ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ নামাযীর সামনে দিয়ে পার হওয়া হারাম
(৭২৬) আবুল জুহাইম আব্দুল্লাহ ইবনে হারেস ইবনে স্বিম্মাহ আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রমকারী জানত যে, তা তার জন্য কত ভয়াবহ (অপরাধ), তাহলে সে নামাযীর সামনে দিয়ে অতিক্রম করার চেয়ে চল্লিশ (দিন/মাস/বছর) দাঁড়িয়ে থাকা উত্তম মনে করত।
রাবী বলেন, আমি জানি না যে, তিনি চল্লিশ দিন, নাকি চল্লিশ মাস, নাকি চল্লিশ বছর বললেন।
عَنْ أَبيْ الجُهَيْمِ عَبدِ اللهِ بنِ الحَارِثِ بنِ الصِّمَّةِ الأَنْصَارِيِّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَوْ يَعْلَمُ المَارُّ بَيْنَ يَدَيِ المُصَلِّي مَاذَا عَلَيْهِ لَكَانَ أَنْ يَقِفَ أَرْبَعِينَ خَيْراً لَهُ مِنْ أَنْ يَمُرَّ بَيْنَ يَدَيْهِ قَالَ الراوي : لاَ أدْرِي قَالَ : أَرْبَعينَ يَوماً أَوْ أَرْبَعِينَ شَهْراً أَوْ أَرْبَعِينَ سَنَةً متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযীর সামনে দিয়ে পার হওয়া হারাম
(৭২৭) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ এমন সুতরার পশ্চাতে নামায পড়ে যা লোকদের থেকে তাকে আড়াল করে, অতঃপর কেউ তার সামনে দিয়ে পার হতে চায় তখন তার উচিত, তার বুকে হাত দিয়ে বাধা দেওয়া। তাতেও যদি সে অস্বীকার করে (এবং পার হতেই চায়) তবে তার (নামাযীর) উচিত, তার সাথে লড়াই করা। (অর্থাৎ শক্তি প্রয়োগ করে বাধা দেওয়া।) কেননা সে শয়তান। (অর্থাৎ এ কাজে তার সহায়ক হল শয়তান।)
عَنْ أَبيْ سعيد الخدري قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ إِلَى شَىْءٍ يَسْتُرُهُ مِنَ النَّاسِ فَأَرَادَ أَحَدٌ أَنْ يَجْتَازَ بَيْنَ يَدَيْهِ فَلْيَدْفَعْ فِى نَحْرِهِ فَإِنْ أَبَى فَلْيُقَاتِلْهُ فَإِنَّمَا هُوَ شَيْطَانٌ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের পর যিকর ও দু‘আ
(৭২৮) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক নামাযের পরেسُبْحانَ الله ’সুবহা-নাল্লাহ’ ৩৩ বার, اَلْحَمْدُ لله ’আলহামদু লিল্লা-হ’ ৩৩ বার, اَللهَ أَكْبَر ’আল্লা-হু আকবার’ ৩৩ বার সর্বমোট ৯৯ বার এবং ১০০ পূরণ করার জন্য নিম্নোক্ত দু’আ একবার পাঠ করবে, তার সমুদ্রের ফেনা বরাবর পাপ হলেও মাফ হয়ে যাবে।
لاَ إِلهَ إِلاَّ الله وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ
উচচারণঃ লা- ইলাহা ইল্লাল্লা-হু অহদাহু লা শারীকা লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হামদু অহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ مَنْ سَبَّحَ اللهَ فِى دُبُرِ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَحَمِدَ اللهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ وَكَبَّرَ اللهَ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ فَتِلْكَ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ وَقَالَ تَمَامَ الْمِائَةِ لَا إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ غُفِرَتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের পর যিকর ও দু‘আ
(৭২৯) আব্দুর রহমান বিন গানম হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি মাগরেব ও ফজরের নামায থেকে ফিরে বসা ও পা মুড়ার পূর্বে-
لآ إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الُحَمْدُ يُحْيِيْ وَيُمِيْتُ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, অলাহুল হামদু, য়্যুহয়ী অয়্যুমীতু, অহুআ আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই, তাঁরই জন্য সারা রাজত্ব, এবং তাঁরই নিমিত্তে সকল প্রশংসা। তিনি জীবন দান করেন, ও মৃত্যু প্রদান করেন। আর তিনি সর্ববস্তুর উপর সর্বক্ষমতাবান। ১০ বার পাঠ করে, আল্লাহ তার আমলনামায় প্রত্যেক বারের বিনিময়ে দশটি নেকী লিপিবদ্ধ করেন, দশটি গোনাহ মোচন করে দেন, তাকে দশটি মর্যাদায় উন্নীত করেন, প্রত্যেক অপ্রীতিকর বিষয় এবং বিতাড়িত শয়তান থেকে (ঐ যিকর) রক্ষামন্ত্র হয়, নিশ্চিতভাবে শির্ক ব্যতীত তার অন্যান্য পাপ ক্ষমার্হ হয়। আর সে হয় আমল করার দিক থেকে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠব্যক্তি; তবে সেই ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে, যে তার থেকেও উত্তম যিকর পাঠ করবে।
عَن عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ غَنْمٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَنْ قَالَ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ وَيَثْنِيَ رِجْلَهُ مِنْ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ وَالصُّبْحِ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ بِيَدِهِ الْخَيْرُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرَّاتٍ كُتِبَ لَهُ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ عَشْرُ حَسَنَاتٍ وَمُحِيَتْ عَنهُ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ وَرُفِعَ لَهُ عَشْرُ دَرَجَاتٍ وَكَانَتْ حِرْزًا مِنْ كُلِّ مَكْرُوهٍ وَحِرْزًا مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيمِ وَلَمْ يَحِلَّ لِذَنْبٍ يُدْرِكُهُ إِلَّا الشِّرْكَ فَكَانَ مِنْ أَفْضَلِ النَّاسِ عَمَلًا إِلَّا رَجُلًا يَفْضُلُهُ يَقُولُ أَفْضَلَ مِمَّا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের পর যিকর ও দু‘আ
(৭৩০) আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকর করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ। অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের পর যিকর ও দু‘আ
(৭৩১) উক্ত আনাস (রাঃ) হতেই বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ইসমাঈলের বংশধরের চারটি মানুষকে দাসত্বমুক্ত করা অপেক্ষা ফজরের নামাযের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত যিকরকারী দলের সাথে বসাটা আমার নিকট অধিক প্রিয়। অনুরূপ চারটি জীবন দাসমুক্ত করার চেয়ে আসরের নামাযের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যিকরকারী সম্প্রদায়ের সাথে বসাটা আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ تَعَالَى مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَلأَنْ أَقْعُدَ مَعَ قَوْمٍ يَذْكُرُونَ اللهَ مِنْ صَلاَةِ الْعَصْرِ إِلَى أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ أَنْ أُعْتِقَ أَرْبَعَةً
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায অর্ধেক রাত পর্যন্ত পিছিয়ে দিলেন। অতঃপর নামায পড়ার পর আমাদের দিকে মুখ করে বললেন, লোকেরা নামায পড়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা নামাযেই ছিলে; যখন থেকে তার অপেক্ষায় ছিলে।
وَعَن أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَخَّرَ لَيْلَةً صَلاَةَ العِشَاءِ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ بَعْدَمَا صَلَّى فَقَالَ صَلَّى النَّاسُ وَرَقَدُوا وَلَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مُنْذُ انْتَظَرْتُمُوهَا رواه البُخَارِيُّ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৩) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি নামাযের অবস্থাতেই থাকে যতক্ষণ নামায তাকে (অন্যান্য কর্ম হতে) আটকে রাখে। তাকে নামায ব্যতীত অন্য কিছু তার পরিবারের নিকট ফিরে যেতে বাধা দেয় না। (বুখারী ৬৫৯, মুসলিম ১৫৪২)
বুখারী শরীফের এক বর্ণনায় এরূপ এসেছে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি নামাযেই থাকে যতক্ষণ নামায তাকে আটকে রাখে। (আগামী নামায পড়ার জন্য অপেক্ষা করে মসজিদেই বসে থাকে।) আর সেই সময় ফিরিশতাবর্গ বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! ওকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! ওর প্রতি সদয় হও। (এই দু’আ ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে) যতক্ষণ পর্যন্ত না সে নামাযের স্থান ত্যাগ করেছে অথবা তার ওযু নষ্ট হয়েছে।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لَا يَزَالُ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَتْ الصَّلَاةُ تَحْبِسُهُ لَا يَمْنَعُهُ أَنْ يَنْقَلِبَ إِلَى أَهْلِهِ إِلَّا الصَّلَاةُ
وفي رواية للبخاري: إِنَّ أَحَدَكُمْ فِي صَلَاةٍ مَا دَامَتْ الصَّلَاةُ تَحْبِسُهُ وَالْمَلَائِكَةُ تَقُولُ اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ مَا لَمْ يَقُمْ مِنْ صَلَاتِهِ أَوْ يُحْدِثْ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৪) উক্ত রাবী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ফিরিশতাবর্গ তোমাদের প্রত্যেকের জন্য দু’আ ক’রে থাকেন, যতক্ষণ সে সেই স্থানে অবস্থান করে, যেখানে সে নামায পড়েছে; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ওযূ নষ্ট হয়েছে; বলেন, হে আল্লাহ! ওকে ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! ওর প্রতি সদয় হও।
وَعَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ اَلْمَلائِكَةُ تُصَلِّي عَلَى أَحَدِكُمْ مَا دَامَ فِي مُصَلاَّهُ الَّذِيْ صَلَّى فِيهِ مَا لَمْ يُحْدِثْ تَقُولُ : اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ اَللّٰهُمَّ ارْحَمْهُ رواه البُخَارِيُّ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৫) আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযের পর আর এক নামাযের জন্য অপেক্ষমাণ ব্যক্তি সেই অশ্বারোহীর সমতুল্য, যে তার অশ্বসহ আল্লাহর পথে শত্রুর বিরুদ্ধে বিক্রমের সাথে সদা প্রস্তুত; যে থাকে বৃহৎ প্রতিরক্ষার কাজে।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مُنْتَظِرُ الصَّلَاةِ مِنْ بَعْدِ الصَّلَاةِ كَفَارِسٍ اشْتَدَّ بِهِ فَرَسُهُ فِي سَبِيلِ اللهِ عَلَى كَشْحِهِ تُصَلِّي عَلَيْهِ مَلَائِكَةُ اللهِ مَا لَمْ يُحْدِثْ أَوْ يَقُومُ وَهُوَ فِي الرِّبَاطِ الْأَكْبَرِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৬) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযের জন্য বসে প্রতীক্ষারত ব্যক্তি নামাযের দণ্ডায়মান ব্যক্তির মত। তার নাম নামাযে মশগুল ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত থাকে; তার স্বগৃহ থেকে বের হওয়া হতে পুনরায় গৃহে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত।
وعَن عقبة بن عامر رضي الله عَنه عَن رسول الله صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أنه قال الْقَاعِدُ عَلَى الصَّلاَةِ كالْقَانِتِ وَيُكْتَبُ مِنَ المُصَلِّينَ مِنْ حِينِ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ حَتَّى يَرْجِعَ إِلَى بَيْتِهِ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৭) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) বলেন, একদা আমরা মাগরেবের নামায পড়ে এশার নামাযের জন্য অপেক্ষারত ছিলাম। এমন সময় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। এই যে তোমাদের পালনকর্তা আসমানের দরজাসমূহের একটি দরজা খুলে তাঁর ফিরিশতামণ্ডলীর কাছে তোমাদেরকে নিয়ে গর্ব করছেন; বলছেন, তোমরা আমার বান্দাদের প্রতি লক্ষ্য কর, তারা এক ফরয (নামায) আদায় করেছে এবং অন্য এক ফরয আদায়ের জন্য অপেক্ষা করছে।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ الْمَغْرِبَ فَعَقَّبَ مَنْ عَقَّبَ وَرَجَعَ مَنْ رَجَعَ فَجَاءَ ﷺ وَقَدْ كَادَ يَحْسِرُ ثِيَابَهُ عَن رُكْبَتَيْهِ فَقَالَ أَبْشِرُوا مَعْشَرَ الْمُسْلِمِينَ هَذَا رَبُّكُمْ قَدْ فَتَحَ بَابًا مِنْ أَبْوَابِ السَّمَاءِ يُبَاهِي بِكُمْ الْمَلَائِكَةَ يَقُولُ هَؤُلَاءِ عِبَادِي قَضَوْا فَرِيضَةً وَهُمْ يَنْتَظِرُونَ أُخْرَى
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোন ব্যক্তি যখন যিকর ও নামাযের জন্য মসজিদে অবস্থান করা শুরু করে, তখনই আল্লাহ তা’আলা তাকে নিয়ে সেইরূপ খুশী হন, যেরূপ প্রবাসী ব্যক্তি ফিরে এলে তাকে নিয়ে তার বাড়ির লোক খুশী হয়।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ لَا يُوطِنُ رَجُلٌ مُسْلِمٌ الْمَسَاجِدَ لِلصَّلَاةِ وَالذِّكْرِ إِلَّا تَبَشْبَشَ اللهُ بِهِ يَعَني حِينَ يَخْرُجُ مِنْ بَيْتِهِ كَمَا يَتَبَشْبَشُ أَهْلُ الْغَائِبِ بِغَائِبِهِمْ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِمْ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৩৯) আবু দারদা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মসজিদ প্রত্যেক পরহেযগার (ধর্মভীরু) ব্যক্তির ঘর।
عَنْ أَبيْ الدرداء قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْمَسْجِدُ بَيْتُ كُلِّ تَقِيٍّ
পরিচ্ছেদঃ নামাযের প্রতীক্ষা করার ফযীলত
(৭৪০) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন ডাক দিয়ে বলবেন, আমার প্রতিবেশীরা কোথায়? আমার প্রতিবেশীরা কোথায়? ফিরিশতাগণ বলবেন, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার প্রতিবেশী হওয়ার যোগ্য কে? তিনি বললেবন, মসজিদ আবাদকারীরা কোথায়?
عَن أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ " اللَّهَ لَيُنَادِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَيْنَ جِيرَانِي؟ أَيْنَ جِيرَانِي؟ قَالَ: فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ رَبَّنَا وَمَنْ يَنْبَغِي أَنْ يُجَاوِرَكَ فَيَقُولُ أَيْنَ عُمَّارُ الْمَسَاجِدِ
পরিচ্ছেদঃ এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ
উদ্দেশ্য, যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে বলা মুবাহ (অর্থাৎ, যা করা না করা সমান)। নচেৎ যে সব কথাবার্তা অন্য সময়ে হারাম বা মাকরূহ, সে সব এ সময়ে আরো অধিকভাবে হারাম ও মাকরূহ। পক্ষান্তরে কল্যাণমূলক কথাবার্তা; যেমন জ্ঞানচর্চা, নেক লোকদের কাহিনী ও চরিত্র আলোচনা, মেহমানের সঙ্গে বাক্যালাপ, কারো প্রয়োজন পূরণ প্রসঙ্গে কথা ইত্যাদি বলা মকরূহ নয়; বরং তা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে আকস্মিক কোন ঘটনাবশতঃ বা কোন সঠিক ওযরে কথা বলা অপছন্দনীয় কাজ নয়। উক্ত বিবৃতির সমর্থনে বহু বিশুদ্ধ হাদীস বিদ্যমান রয়েছে।
(৭৪১) আবূ বারযা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাযের আগে ঘুমানো এবং পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন।
عَنْ أَبيْ بَرْزَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَكرَهُ النَّومَ قَبْلَ العِشَاءِ وَالحَدِيثَ بَعْدَهَا متفقٌ عليه
পরিচ্ছেদঃ এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ
(৭৪২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ জীবনের অন্তিম দিনগুলির কোন একদিন (লোকেদেরকে নিয়ে) এশার নামায পড়লেন এবং যখন সালাম ফিরলেন, তখন বললেন, আচ্ছা বলত, এটা তোমাদের কোন রজনী? (এ কথা) সুনিশ্চিত যে, যে ব্যক্তি আজ ধরাপৃষ্ঠে জীবিত আছে, একশত বছরের মাথায় সে ব্যক্তি অবশিষ্ট থাকবে না (অর্থাৎ, মারা যাবে)।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ صَلَّى العِشَاء فِي آخِرِ حَيَاتِهِ فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ أَرَأَيْتَكُمْ لَيْلَتَكُمْ هَذِهِ ؟ فَإِنَّ عَلَى رَأسِ مِئَةِ سَنَةٍ لاَ يَبْقَى مِمَّنْ هُوَ علَى ظَهْرِ الأَرْضِ اليَومَ أَحَدٌ متفق عليه
পরিচ্ছেদঃ এশার নামাযের পর কথাবার্তা বলা মাকরূহ
(৭৪৩) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদিন (মসজিদে) সাহাবায়ে কেরাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের প্রতীক্ষায় ছিলেন। অতঃপর তিনি প্রায় অর্ধরাত্রিতে তাঁদের নিকট আগমন করলেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে নামায অর্থাৎ, এশার নামায পড়লেন। বর্ণনাকারী বলেন, তারপর তিনি আমাদের মাঝে বক্তব্য রাখলেন। তাতে তিনি বললেন, শোন! লোকে নামায সমাধা করে ঘুমিয়ে পড়েছে। আর তোমরা যতক্ষণ পর্যন্ত নামাযের অপেক্ষা করছিলে, ততক্ষণ পর্যন্ত অব্যাহতভাবে নামাযের মধ্যেই ছিলে।
وَعَن أَنَسٍ أَنَّهُم انتَظَرُوا النَّبِيَّ ﷺ فَجَاءَهُمْ قَرِيباً مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَصَلَّى بِهِمْ - يَعَني : العِشَاءَ ثمَّ خَطَبنا فَقَالَ أَلاَ إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوا ثُمَّ رَقَدُوا وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
জুমআর জন্য গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, এ দিনে দু’আ করা, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরূদ পড়া ও এ দিনের কোন এক সময়ে দু’আ কবুল হওয়ার বিবরণ এবং জুমআর পর বেশী বেশী মহান আল্লাহর যিকর করা মুস্তাহাব। মহান আল্লাহ বলেছেন,
فَإذَا قُضِيَتِ الصَّلاَةُ فَانْتَشِرُوا فِي الأرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللهِ وَاذْكُرُوا اللهَ كَثِيراً لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
অর্থাৎ, অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিকরূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআহ ১০ আয়াত)
(৭৪৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার উপর সূর্য উদিত হয়েছে তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল জুমআর দিন। এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এই দিনে তাঁকে জান্নাতে স্থান দেওয়া হয়েছে এবং এই দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ خَيْرُ يَومٍ طَلَعَتْ عَلَيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الجُمُعَةِ : فِيهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيهِ أُدْخِلَ الجَنَّةَ وَفِيهِ أُخْرِجَ مِنْهَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৪৫) আবূ লুবাবাহ বাদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমআর দিন সকল দিনের সর্দার এবং আল্লাহর নিকট সবার চেয়ে মহান দিন। এমনকি এ দিনটি আল্লাহর নিকট আযহা ও ফিতরের দিন থেকেও শ্রেষ্ঠ। এই দিনে রয়েছে ৫টি বিশেষ বৈশিষ্ট্য; এই দিনে আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে তিনি (আদম) পৃথিবীতে অবতারণ করেছেন, এই দিনে তাঁর ইন্তেকাল হয়েছে, এই দিনে এমন একটি মুহূর্ত আছে; যদি কোন মুসলিম বান্দা সে মুহূর্তে আল্লাহর নিকট কোন কিছু বৈধ জিনিস প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দিয়ে থাকেন। এই দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর প্রত্যেক নৈকট্যপ্রাপ্ত ফিরিশতা, আকাশ, পৃথিবী, বাতাস, পর্বত, সমুদ্র এই দিনকে ভয় করে।
عَنْ أَبيْ لُبَابَةَ الْبَدْرِيِّ ابْنِ عَبْدِ الْمُنْذِرِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ سَيِّدُ الْأَيَّامِ يَوْمُ الْجُمُعَةِ وَأَعْظَمُهَا عَندَهُ وَأَعْظَمُ عَندَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الْأَضْحَى وَفِيهِ خَمْسُ خِلَالٍ خَلَقَ اللهُ فِيهِ آدَمَ وَأَهْبَطَ اللهُ فِيهِ آدَمَ إِلَى الْأَرْضِ وَفِيهِ تَوَفَّى اللهُ آدَمَ وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يَسْأَلُ الْعَبْدُ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا آتَاهُ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى إِيَّاهُ مَا لَمْ يَسْأَلْ حَرَامًا وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ مَا مِنْ مَلَكٍ مُقَرَّبٍ وَلَا سَمَاءٍ وَلَا أَرْضٍ وَلَا رِيَاحٍ وَلَا جِبَالٍ وَلَا بَحْرٍ إِلَّا هُنَّ يُشْفِقْنَ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৪৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওযূ সম্পাদন করে জুমআর নামায পড়তে আসবে এবং নীরবে মনোযোগসহকারে (খুতবা) শুনবে, তার সেই জুমআহ হতে পরবর্তী জুমআর মধ্যবর্তী সময় তথা আরো তিন দিনের (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র) পাপসমূহ ক্ষমা ক’রে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কাঁকর স্পর্শ করবে, সে বাজে কাজ করবে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ وَزِيادَةُ ثَلاَثَةِ أيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الحَصَى فَقَدْ لَغَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৪৭) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামায, এক জুমআহ হতে পরের জুমআহ পর্যন্ত, এক রামযান হতে অন্য রমযান পর্যন্ত (কৃত নামায-রোযা) সেগুলির মধ্যবর্তী সময়ে সংঘটিত (ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র) পাপরাশির প্রায়শ্চিত্ত (মোচনকারী) হয় (এই শর্তে যে,) যখন মহাপাপ থেকে বিরত থাকা যাবে।
وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ الصَّلَوَاتُ الخَمْسُ وَالجُمُعَةُ إِلَى الجُمُعَةِ وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ مُكَفِّرَاتٌ مَا بَيْنَهُنَّ إِذَا اجْتُنِبَتِ الكَبَائِرُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৪৮) আবূ হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর কাঠের মিম্বরের উপর দাঁড়ানো অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, লোকেরা যেন জুমআহ ত্যাগ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকে; নচেৎ আল্লাহ অবশ্যই তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবেন, তারপর তারা অবশ্যই উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।
وَعَنْهُ وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ (রাঃ) : أَنَّهُمَا سَمِعَا رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ عَلَى أَعْوَادِ مِنْبَرِهِ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ عَن وَدْعِهِمُ الجُمُعَاتِ أَوْ لَيَخْتِمَنَّ اللهُ عَلَى قُلُوبِهِمْ ثُمَّ لَيَكُوْنُنَّ مِنَ الغَافِلِينَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৪৯) আব্দুল্লাহ ইবনে মসউদ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি ইচ্ছা করেছি যে, এক ব্যক্তিকে লোকেদের ইমামতি করতে আদেশ করে ঐ শ্রেণীর লোকেদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিই যারা জুমআতে অনুপস্থিত থাকে।
عَن عَبْدِ اللهِ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ لِقَوْمٍ يَتَخَلَّفُونَ عَن الْجُمُعَةِ لَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ آمُرَ رَجُلاً يُصَلِّى بِالنَّاسِ ثُمَّ أُحَرِّقَ عَلَى رِجَالٍ يَتَخَلَّفُونَ عَن الْجُمُعَةِ بُيُوتَهُمْ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫০) আবুল জা’দ য্বামরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি বিনা ওজরে তিনটি জুমআহ ত্যাগ করবে, সে ব্যক্তি মুনাফিক।
عَنْ أَبيْ الْجَعْدِ الضَّمْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلَاثًا مِنْ غَيْرِ عُذْرٍ فَهُوَ مُنَافِقٌ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫১) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিন খাড়া হয়ে খুতবা দানকালে বললেন, সম্ভবতঃ এমনও লোক আছে, যার নিকট জুমআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদীনা থেকে মাত্র এক মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাযির হয় না। দ্বিতীয় বারে তিনি বললেন, সম্ভবতঃ এমন লোকও আছে যার নিকট জুমআহ উপস্থিত হয়; অথচ সে মদীনা থেকে মাত্র দুই মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না। অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি বললেন, সম্ভবতঃ এমন লোকও আছে যে মদীনা থেকে মাত্র তিন মাইল দূরে থাকে এবং জুমআয় হাজির হয় না, তার হৃদয়ে আল্লাহ মোহর মেরে দেন।
عَن جَابِرٍ قَالَ: قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ عَسَى رَجُلٌ تَحْضُرُهُ الْجُمُعَةُ وَهُوَ عَلَى قَدْرِ مِيلٍ مِنَ الْمَدِينَةِ فَلا يَحْضُرُ الْجُمُعَةَ ثُمَّ قَالَ فِي الثَّانِيَةِ عَسَى رَجُلٌ تَحْضُرُهُ الْجُمُعَةُ وَهُوَ عَلَى قَدْرِ مِيلَيْنِ مِنَ الْمَدِينَةِ فَلا يَحْضُرُهَا وَقَالَ فِي الثَّالِثَةِ عَسَى يَكُوْنُ عَلَى قَدْرِ ثَلاثَةِ أَمْيَالٍ مِنَ الْمَدِينَةِ فَلا يَحْضُرُ الْجُمُعَةَ وَيَطْبَعُ اللَّهُ عَلَى قَلْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫২) ত্বারেক বিন শিহাব (রহঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক মুসলিমের জন্য জামাআত সহকারে জুমআহ ফরয। অবশ্য ৪ ব্যক্তির জন্য ফরয নয়; ক্রীতদাস, মহিলা, শিশু ও অসুস্থ।
عَن طَارِقِ بْنِ شِهَابٍ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ الْجُمُعَةُ حَقٌّ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ فِى جَمَاعَةٍ إِلاَّ أَرْبَعَةً عَبْدٌ مَمْلُوكٌ أَوِ امْرَأَةٌ أَوْ صَبِىٌّ أَوْ مَرِيضٌ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫৩) ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি পরপর ৩টি জুমআহ ত্যাগ করল, সে অবশ্যই ইসলামকে নিজের পিছনে ফেলে দিল।
عَن ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: مَنْ تَرَكَ الْجُمُعَةَ ثَلَاثَ جُمَعٍ مُتَوَالِيَاتٍ فَقَدْ نَبَذَ الْإِسْلَامَ وَرَاءَ ظَهْرِهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫৪) সালমান ফারেসী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে কোন ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল ও সাধ্যমত পবিত্রতা অর্জন করে, নিজস্ব তেল গায়ে লাগায় অথবা নিজ ঘরের সুগন্ধি (আতর) ব্যবহার করে, অতঃপর (মসজিদে) গিয়ে দু’জনের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি না করেই (যেখানে স্থান পায়, বসে যায়) এবং তার ভাগ্যে যত রাকআত নামায জোটে, আদায় করে। তারপর ইমাম খুতবা আরম্ভ করলে নীরব থাকে, সে ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট জুমআহ থেকে পরবর্তী জুমআহ পর্যন্ত কৃত সমুদয় (সাগীরা) গুনাহরাশিকে মাফ করে দেওয়া হয়।
عَن سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَيَتَطَهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ ثُمَّ يَخْرُجُ فَلَا يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَيْنِ ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الْإِمَامُ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জুমআর দিন সম্বন্ধে আলোচনা করে বললেন, ওতে এমন একটি মুহূর্ত আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি যদি ঐ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে নামায অবস্থায় আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে তা দান করে থাকেন। এ কথা বলে তিনি স্বীয় হাত দ্বারা ইঙ্গিত করলেন, সে মুহূর্তটি খুবই সংক্ষিপ্ত।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ ذَكَرَ يَوْمَ الجُمُعَةِ فَقَالَ فِيهَا سَاعَةٌ لاَ يُوَافِقُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي يَسْألُ اللهَ شَيْئاً إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهُ وَأشَارَ بيَدِهِ يُقَلِّلُهَا متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫৬) আবূ বুরদাহ ইবনে আবূ মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বললেন, আপনি কি জুমআর দিনের বিশেষ মুহূর্ত সম্পর্কে আপনার পিতাকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, সেই মুহূর্তটুকু ইমামের মেম্বারে বসা থেকে নিয়ে নামায শেষ হওয়া পর্যন্ত সময়ের ভিতরে।
وَعَنْ أَبيْ بُرْدَةَ بنِ أَبِي مُوسَى الأَشعَرِيِّ قَالَ : قَالَ عَبدُ اللهِ بنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَسَمِعْتَ أَبَاكَ يُحَدِّثُ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ فِي شَأْنِ سَاعَةِ الجُمُعَةِ ؟ قَالَ : قُلْتُ: نَعَمْ سَمِعْتُهُ يَقُوْل : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلاَةُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
(৭৫৭) আওস ইবনে আওস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম একটি দিন হচ্ছে জুমআর দিন। সুতরাং ঐ দিনে তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর। কেননা, তোমাদের পাঠ করা দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।
وَعَن أَوسِ بنِ أَوسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الجُمُعَةِ فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ রোযার জন্য জুমআর দিন এবং নামাযের জন্য জুমআর রাত নির্দিষ্ট করা মাকরূহ
(৭৫৮) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাত্রিসমূহের মধ্যে জুমআর রাতকে কিয়াম (নফল নামায) পড়ার জন্য নির্দিষ্ট করো না এবং দিনসমূহের মধ্যে জুমআর দিনকে (নফল) রোযা রাখার জন্য নির্ধারিত করো না। তবে যদি তা তোমাদের কারো রোযা রাখার তারীখ পড়ে (তাহলে সে কথা ভিন্ন)।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ لاَ تَخُصُّوا لَيْلَةَ الجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي وَلاَ تَخُصُّوا يَومَ الجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الأَيَّامِ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ فِي صَومٍ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রোযার জন্য জুমআর দিন এবং নামাযের জন্য জুমআর রাত নির্দিষ্ট করা মাকরূহ
(৭৫৯) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, অবশ্যই কেউ যেন স্রেফ জুমআর দিনে রোযা না রাখে; তবে যদি তার একদিন আগে কিংবা পরে রাখে (তাহলে তাতে ক্ষতি নেই।) (অর্থাৎ, শুক্রবারের সাথে বৃহস্পতিবার কিংবা শনিবার রোযা রাখলে রাখা চলবে।)
وَعَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لاَ يَصُومَنَّ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الجُمُعَةِ إِلاَّ يَوماً قَبْلَهُ أَوْ بَعْدَهُ
পরিচ্ছেদঃ রোযার জন্য জুমআর দিন এবং নামাযের জন্য জুমআর রাত নির্দিষ্ট করা মাকরূহ
(৭৬০) মুহাম্মাদ ইবনে আব্বাদ (রহঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবের (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমআর দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
وَعَن مُحَمَّدِ بنِ عَبَّادٍ قَالَ : سَأَلْتُ جَابِرٍاً أَنَهَى النَّبِيُّ ﷺ عَن صَومِ الجُمُعَةِ ؟ قَالَ : نَعَمْ متفق عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রোযার জন্য জুমআর দিন এবং নামাযের জন্য জুমআর রাত নির্দিষ্ট করা মাকরূহ
(৭৬১) মু’মিন জননী জুয়াইরিয়্যাহ বিনতে হারেস (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিনে তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তখন তিনি (জুয়াইরিয়াহ) রোযা অবস্থায় ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি গতকাল রোযা রেখেছিলে? তিনি বললেন, না। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আগামীকাল রোযা রাখার ইচ্ছা আছে তো? তিনি জবাব দিলেন, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে রোযা ভেঙ্গে ফেল।
وَعَن أُمِّ المُؤْمِنِينَ جُوَيرِيَّةَ بِنْتِ الحَارِثِ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ دَخَلَ عَلَيْهَا يَوْمَ الجُمُعَةِ وهِيَ صَائِمَةٌ فَقَالَ أَصُمْتِ أمْسِ ؟ قَالَتْ : لاَ قَالَ تُرِيدِينَ أَنْ تَصُومِي غَداً ؟ قَالَتْ : لاَ قَالَ فَأَفْطِرِي رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জুমআর দিন এলে মসজিদের প্রত্যেক দরজায় ফিরিশতা খাড়া হয়ে যান। অতঃপর তাঁরা প্রথম-দ্বিতীয় লিখতে থাকেন। পরিশেষে যখন ইমাম মিম্বরে বসেন, তখন তাঁরা খাতা গুটিয়ে দেন এবং খুতবা শুনতে (মসজিদের ভিতরে) এসে যান। আর যে সকাল-সকাল আসে, তার উপমা উট কুরবানীদাতার মতো, অতঃপর গাভী কুরবানীদাতার মতো, অতঃপর মেষ কুরবানীদাতার মতো, অতঃপর মুরগী কুরবানীদাতার মতো, অতঃপর ডিম কুরবানীদাতার মতো।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ يَوْمُ الْجُمُعَةِ كَانَ عَلَى كُلِّ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْمَسْجِدِ مَلاَئِكَةٌ يَكْتُبُونَ الأَوَّلَ فَالأَوَّلَ فَإِذَا جَلَسَ الإِمَامُ طَوَوُا الصُّحُفَ وَجَاءُوا يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ وَمَثَلُ الْمُهَجِّرِ كَمَثَلِ الَّذِى يُهْدِى الْبَدَنَةَ ثُمَّ كَالَّذِى يُهْدِى بَقَرَةً ثُمَّ كَالَّذِى يُهْدِى الْكَبْشَ ثُمَّ كَالَّذِى يُهْدِى
الدَّجَاجَةَ ثُمَّ كَالَّذِى يُهْدِى الْبَيْضَةَ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন নাপাকির গোসলের ন্যায় গোসল করল এবং (সূর্য ঢলার সঙ্গে সঙ্গে) প্রথম ওয়াক্তে মসজিদে এল, সে যেন একটি উট দান করল। যে ব্যক্তি দ্বিতীয় সময়ে এল, সে যেন একটি গাভী দান করল। যে ব্যক্তি তৃতীয় সময়ে এল, সে যেন একটি শিংবিশিষ্ট দুস্বা দান করল। যে ব্যক্তি চতুর্থ সময়ে এল, সে যেন একটি মুরগী দান করল। আর যে ব্যক্তি পঞ্চম সময়ে এল, সে যেন একটি ডিম দান করল। তারপর ইমাম যখন খুতবাহ প্রদানের জন্য বের হন, তখন (লেখক) ফিরিশতাগণ যিকর শোনার জন্য হাজির হয়ে যান।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنِ اغْتَسَلَ يَومَ الجُمُعَةِ غُسْلَ الجَنَابَةِ ثُمَّ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الأُولَى فَكَأنَّمَا قَرَّبَ بَدَنَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّانِيَةِ فَكَأَنَّمَا قَرَّبَ بَقَرَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الثَّالِثَةِ فَكَأنَّمَا قَرَّبَ كَبْشاً أَقْرَنَ وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الرَّابِعَةِ فَكَأنَّمَا قَرَّبَ دَجَاجَةً وَمَنْ رَاحَ فِي السَّاعَةِ الخَامِسَةِ فَكَأنَّمَا قَرَّبَ بَيْضَةً فَإِذَا خَرَجَ الإمَامُ حَضَرَتِ المَلاَئِكَةُ يَسْتَمِعُونَ الذِّكْرَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৪) আওস বিন আওস সাক্বাফী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন (মাথা) ধৌত করে ও যথা নিয়মে গোসল করে, সকাল-সকাল ও আগে-আগে (মসজিদে যাওয়ার জন্য) প্রস্তুত হয়, সওয়ার না হয়ে পায়ে হেঁটে (মসজিদে) যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ সহকারে (খোতবা) শ্রবণ করে, এবং কোন অসার ক্রিয়া-কলাপ করে না, সে ব্যক্তির প্রত্যেক পদক্ষেপের বিনিময়ে এক বৎসরের নেক আমল ও তার (সারা বছরের) রোযা ও নামাযের সওয়াব লাভ হয়।
عَن أَوْسِ بْنِ أَوْسٍ الثَّقَفِىِّ قال قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ غَسَّلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَاغْتَسَلَ ثُمَّ بَكَّرَ وَابْتَكَرَ وَمَشَى وَلَمْ يَرْكَبْ وَدَنَا مِنَ الإِمَامِ فَاسْتَمَعَ وَلَمْ يَلْغُ كَانَ لَهُ بِكُلِّ خُطْوَةٍ عَمَلُ سَنَةٍ أَجْرُ صِيَامِهَا وَقِيَامِهَا
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৫) আবূ উবাইদাহ বিন জাররাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সবচেয়ে উত্তম নামায হল জুমআর দিন ফজরের জামাআত সহকারে নামায।
عَنْ أَبيْ عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ أَفْضَلَ الصَّلَوَاتِ صَلاةُ الصُّبْحِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي جَمَاعَةٍ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সাবালকের জন্য জুমআর দিন গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং যথাসাধ্য সুগন্ধি ব্যবহার করা কর্তব্য।
عَن أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ غُسْلُ يَوْمِ الْجُمُعَةِ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ وَسِوَاكٌ وَيَمَسُّ مِنَ الطِّيبِ مَا قَدَرَ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৭) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে, তার স্ত্রীর সুগন্ধি (আতর) থাকলে তা ব্যবহার করে, উত্তম লেবাস পরিধান করে, অতঃপর (মসজিদে এসে) লোকেদের কাতার চিরে (আগে অতিক্রম) করে না এবং ইমামের উপদেশ দানকালে কোন বাজে কর্ম করে না, সে ব্যক্তির জন্য তা উভয় জুমআর মধ্যবর্তী কৃত পাপের কাফফারা হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি অনর্থক কর্ম করে এবং লোকেদের কাতার চিরে সামনে অতিক্রম করে, সে ব্যক্তির জুমআহ যোহরে পরিণত হয়ে যায়।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَن النَّبِىِّ ﷺ أَنَّهُ قَالَ مَنِ اغْتَسَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمَسَّ مِنْ طِيبِ امْرَأَتِهِ إِنْ كَانَ لَهَا - وَلَبِسَ مِنْ صَالِحِ ثِيَابِهِ ثُمَّ لَمْ يَتَخَطَّ رِقَابَ النَّاسِ وَلَمْ يَلْغُ عَندَ الْمَوْعِظَةِ كَانَتْ كَفَّارَةً لِمَا بَيْنَهُمَا وَمَنْ لَغَا وَتَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ كَانَتْ لَهُ ظُهْرًا
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৮) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন জুমআতে আসার ইচ্ছা করবে, তখন সে যেন গোসল করে।
وَعَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمُ الجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৬৯) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক সাবালকের উপর জুমআর দিনের গোসল ওয়াজেব।*
وَعَنْ أَبيْ سعيدٍ الخُدْرِي أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ غُسْلُ يَوْمِ الجُمُعَةِ وَاجِبٌ عَلَى كُلِّ مُحْتَلِمٍ متفقٌ عَلَيْهِ
-
(বুখারী ৮৫৮, ৮৭৯, মুসলিম ১৯৯৪)
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭০) সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিনে ওযূ করল, তাহলে তা যথেষ্ট ও উত্তম। আর যে গোসল করল, (তার) গোসল হল সর্বোত্তম।
وَعَن سَمُرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ تَوَضَّأَ يَوْمَ الجُمُعَةِ فَبِهَا وَنِعْمَتْ وَمَنِ اغْتَسَلَ فَالغُسْلُ أَفْضَلُ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭১) জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, একদা সুলাইক গাতফানী মসজিদে প্রবেশ করে বসে পড়লে তিনি তাকে বললেন, তুমি নামায পড়েছ কি? লোকটা বলল, না। তিনি বললেন, ওঠ এবং হালকা করে ২ রাকআত পড়ে নাও। অতঃপর তিনি সকলের জন্য চিরস্থায়ী একটি বিধান দেওয়ার উদ্দেশ্যে লোকেদেরকে সম্বোধন করে বললেন, তোমাদের কেউ যখন ইমামের খুতবা দেওয়া কালীন সময়ে উপস্থিত হয়, সে যেন (সংক্ষেপে) ২ রাকআত নামায পড়ে নেয়।
عَن جَابِرٍ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ جَاءَ سُلَيْكٌ الْغَطَفَانِىُّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَرَسُولُ اللهِ ﷺ يَخْطُبُ فَجَلَسَ فَقَالَ لَهُ يَا سُلَيْكُ قُمْ فَارْكَعْ رَكْعَتَيْنِ وَتَجَوَّزْ فِيهِمَا ثُمَّ قَالَ - إِذَا جَاءَ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ وَلْيَتَجَوَّزْ فِيهِمَا
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭২) আব্দুল্লাহ বিন আবী সারহ বলেন, একদা হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) মসজিদ প্রবেশ করলেন। তখন মারওয়ান খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি নামায পড়তে শুরু করলে প্রহরীরা তাঁকে বসতে আদেশ করল। কিন্তু তিনি তাদের কথা না শুনেই নামায শেষ করলেন। নামায শেষে লোকেরা তাকে বলল, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। এক্ষনি ওরা যে আপনার অপমান করত। উত্তরে তিনি বললেন, আমি সে নামায ছাড়ব কেন, যে নামায পড়তে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আদেশ করতে দেখেছি।
عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الخُدْرِيَّ دَخَلَ يَوْمَ الجُمُعَةِ وَمَرْوَانُ يَخْطُبُ فَقَامَ يُصَلِّ فَجَاءَ الحَرَسُ لِيُجْلِسُوهُ فَأَبَى حَتَّى صَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ أَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا: رَحِمَكَ اللَّهُ إِنْ كَادُوا لَيَقَعُوا بِكَ فَقَالَ: مَا كُنْتُ لِأَتْرُكَهُمَا بَعْدَ شَيْءٍ رَأَيْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭৩) আব্দুল্লাহ বিন বুসর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন এক জুমআর দিনে এক ব্যক্তি লোকেদের কাতার চিরে (মসজিদের ভিতর) এল। সে সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। তাকে দেখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বসে যাও, তুমি বেশ কষ্ট দিয়েছ এবং দেরী করেও এসেছ।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ بُسْرٍ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ وَهُوَ يَخْطُبُ النَّاسَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ اجْلِسْ فَقَدْ آذَيْتَ وَآنَيْتَ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমআর দিন ইমামের খুতবা দানকালে কথা বললে তুমি অনর্থ কর্ম করলে এবং (জুমআহ) বাতিল করলে।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ قَالَ: إِذَا تَكَلَّمْتَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَدْ لَغَوْتَ وَ أَلْغَيْتَ يعَنِي وَ اْلإمَامُ يَخْطُبُ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭৫) উক্ত আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমআর দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার (কথা বলছে এমন) সঙ্গীকে ’চুপ কর’ বল, তাহলে তুমিও অসার কর্ম করবে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ إِذَا قُلْتَ لِصَاحِبِكَ أَنْصِتْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَقَدْ لَغَوْتَ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর আহকাম
(৭৭৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিন দাঁড়িয়ে জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এক মরুবাসী (বেদুঈন) উঠে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! মাল-ধন ধ্বংস হয়ে গেল আর পরিবার পরিজন (খাদ্যের অভাবে) ক্ষুধার্ত থেকে গেল। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করুন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের দুই হাত তুলে দু’আ করলেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে দু’আর জন্য হাত তুলল। ফলে এমন বৃষ্টি কুরু হল যে পরবর্তী জুমআতে উক্ত (বা অন্য এক) ব্যক্তি পুনরায় খাড়া হয়ে বলল, হে আল্লাহর রসূল! ঘর-বাড়ি ভেঙে গেল এবং মাল-ধন ডুবে গেল। সুতরাং আপনি আমাদের জন্য দু’আ করুন! মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন নিজের হাত তুলে পুনরায় বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার জন্য দু’আ করলেন এবং বৃষ্টিও থেমে গেল।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ مِنْ أَهْلِ الْبَدْوِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ هَلَكَتْ الْمَاشِيَةُ هَلَكَ الْعِيَالُ هَلَكَ النَّاسُ فَرَفَعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَدَيْهِ يَدْعُو وَرَفَعَ النَّاسُ أَيْدِيَهُمْ مَعَهُ يَدْعُونَ قَالَ فَمَا خَرَجْنَا مِنْ الْمَسْجِدِ حَتَّى مُطِرْنَا فَمَا زِلْنَا نُمْطَرُ حَتَّى كَانَتْ الْجُمُعَةُ الْأُخْرَى فَأَتَى الرَّجُلُ إِلَى نَبِيِّ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ بَشِقَ الْمُسَافِرُ وَمُنِعَ الطَّرِيقُ
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিন খুৎবা চলাকালীন সময়ে দুই হাঁটুকে পেটে লাগিয়ে বসা অপছন্দনীয়
কেননা, তাতে ঘুম চলে আসে, যার ফলে খুৎবা শোনা থেকে বঞ্চিত হতে হয় এবং ওযূ নষ্ট হওয়ার (অনুরূপ পড়ে যাওয়ার) আশংকা থাকে। (যেমন নিচে থেকে লুঙ্গি সরে গিয়ে লজ্জাস্থান প্রকাশ হওয়ারও আশঙ্কা থাকে।)
(৭৭৭) মুআয ইবনে আনাস জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর দিনে ইমামের খুৎবা চলা অবস্থায় দুই হাঁটুকে পেটে লাগিয়ে বসতে নিষেধ করেছেন।
عَن مُعاذِ بنِ أَنَسٍ الجُهَنِيِّ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ نَهَى عَن الحِبْوَةِ يَومَ الجُمُعَةِ وَالإمَامُ يَخْطُبُ رواه أَبُو داود والترمذي وقَالَا حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ জুমআর দিন খুৎবা চলাকালীন সময়ে দুই হাঁটুকে পেটে লাগিয়ে বসা অপছন্দনীয়
(৭৭৮) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহ্ফ পাঠ করবে তার জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তীকাল জ্যোতির্ময় হবে।
عَن أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْكَهْفِ فِى يَوْمِ الْجُمُعَةِ أَضَاءَ لَهُ مِنَ النُّورِ مَا بَيْنَ الْجُمُعَتَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
মহান আল্লাহ বলেন,
وَمِنَ اللَّيْلِ فَتَهَجَّدْ بِهِ نَافِلَةً لَكَ عَسَى أَنْ يَبْعَثَكَ رَبُّكَ مَقَاماً مَحْمُوداً
অর্থাৎ, রাত্রির কিছু অংশে তাহাজ্জুদ কায়েম কর; এটা তোমার জন্য এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে। (সূরা বানী ইস্রাঈল ৭৯ আয়াত) তিনি আরো বলেছেন,
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَن المَضَاجِعِ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
অর্থাৎ, তারা শয্যা ত্যাগ করে আকাঙ্ক্ষা ও আশংকার সাথে তাদের প্রতিপালককে ডাকে এবং আমি তাদেরকে যে রুযী প্রদান করেছি, তা হতে তারা দান করে। (সূরা সিজদা ১৬ আয়াত)
তিনি আরো বলেছেন,
كَانُوا قَلِيلاً مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ
অর্থাৎ, তারা রাত্রির সামান্য অংশই নিদ্রায় অতিবাহিত করত। (সূরা যারিয়াত ১৭ আয়াত)
(৭৭৯) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রির একাংশে (নামাযে) এত দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা ফুলে ফাটার উপক্রম হয়ে পড়ত। একদা আমি তাঁকে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি এত কষ্ট সহ্য করছেন কেন? অথচ আপনার তো পূর্ব ও পরের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন, আমি কি শুকরগুযার বান্দা হব না?
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ حَتَّى تَتَفَطَّرَ قَدَمَاهُ فَقُلْتُ لَهُ: لِمَ تَصْنَعُ هَذَا يَا رَسُولَ اللهِ وَقَدْ غُفِرَ لَكَ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِكَ وَمَا تَأخَّرَ ؟ قَالَ أَفَلاَ أَكُونُ عَبْداً شَكُوراً؟ متفقٌ عَلَيْهِ وَعَن المُغِيرَةِ بن شُعبة نَحْوهُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮০) মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ) হতেও অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
-
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮১) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও ফাতেমার নিকট রাত্রি বেলায় আগমন করলেন এবং বললেন, তোমরা (স্বামী-স্ত্রী) কি (তাহাজ্জুদের) নামায পড় না?
وَعَن عَلِيٍّ أَنَّ النَّبيَّ ﷺ طَرَقَهُ وَفَاطِمَةَ لَيْلاً فَقَالَ أَلاَ تُصَلِّيَانِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮২) সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ইবনে খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) বললেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উমার কতই না ভাল মানুষ হত, যদি সে রাতে (তাহাজ্জুদের) নামায পড়ত। সালেম বলেন, তারপর থেকে (আমার আব্বা) আব্দুল্লাহ রাতে অল্পক্ষণই ঘুমাতেন।
وَعَن سَالِمِ بنِ عَبدِ الله بنِ عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ عَنْ أَبِيْهِ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ نِعْمَ الرَّجُلُ عَبْدُ اللهِ لَوْ كَانَ يُصَلِّي مِنَ اللَّيلِ قَالَ سالِم : فَكَانَ عَبدُ اللهِ بَعْدَ ذَلِكَ لاَ يَنامُ مِنَ اللَّيلِ إِلاَّ قَلِيلاً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৩) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আব্দুল্লাহ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না। সে রাতে উঠে নামায পড়ত, তারপর রাতে উঠা ছেড়ে দিল।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَا عَبدَ اللهِ لاَ تَكُنْ مِثْلَ فُلاَنٍ كَانَ يَقُومُ اللَّيلَ فَتَرَكَ قِيَامَ اللَّيلِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৪) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন একটি লোকের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উল্লেখ করা হল, যে সকাল পর্যন্ত ঘুমিয়ে রাত্রি যাপন করে। তিনি বললেন, এ এমন এক মানুষ, যার দু’ কানে শয়তান প্রস্রাব করে দিয়েছে। অথবা বললেন, যার কানে প্রস্রাব করে দিয়েছে।
وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : ذُكِرَ عَندَ النَّبيِّ ﷺ رَجُلٌ نَامَ لَيْلَةً حَتَّى أَصْبَحَ قَالَ ذَاكَ رَجُلٌ بَالَ الشَّيطَانُ في أُذُنَيْهِ - أَوْ قَالَ : فِي أُذُنِهِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৫) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা যায় (তখন) তার গ্রীবাদেশে শয়তান তিনটি করে গাঁট বেঁধে দেয়; প্রত্যেক গাঁটে সে এই বলে মন্ত্র পড়ে যে, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত, অতএব তুমি ঘুমাও। অতঃপর যদি সে জেগে উঠে আল্লাহর যিকর করে, তাহলে একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি ওযূ করে, তবে তার আর একটি গাঁট খুলে যায়। তারপর যদি নামায পড়ে, তাহলে সমস্ত গাঁট খুলে যায়। আর তার প্রভাত হয় স্ফূর্তিভরা ভালো মনে। নচেৎ সে সকালে ওঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ يَعْقِدُ الشَّيطَانُ عَلَى قَافِيَةِ رَأسِ أَحَدِكُمْ إِذَا هُوَ نَامَ ثَلاَثَ عُقَدٍ يَضْرِبُ عَلَى كُلِّ عُقْدَةٍ : عَلَيْكَ لَيْلٌ طَوِيلٌ فَارْقُدْ فَإِنِ اسْتَيقَظَ فَذَكَرَ اللهَ تَعَالَى انحَلَّتْ عُقْدَةٌ فَإِنْ تَوَضَّأَ انْحَلّتْ عُقدَةٌ فَإِنْ صَلَّى انْحَلَّتْ عُقَدُهُ كُلُّهَا فَأَصْبَحَ نَشِيطاً طَيِّبَ النَّفْسِ وَإِلاَّ أَصْبحَ خَبِيثَ النَّفْسِ كَسْلاَنَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৬) আবু উমামাহ বাহেলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমরা তাহাজ্জুদের নামাযে অভ্যাসী হও। কারণ, তা তোমাদের পূর্বতন নেক বান্দাদের অভ্যাস; তা তোমাদের প্রভুর নৈকট্যদানকারী ও পাপক্ষালনকারী এবং গোনাহ হতে বিরতকারী আমল।
عَنْ أَبيْ أُمَامَة عَن رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ :عَلَيْكُمْ بِقِيَامِ اللَّيْلِ فَإِنَّهُ دَأْبُ الصَّالِحِينَ قَبْلَكُمْ وَهُوَ قُرْبَةٌ إِلَى رَبِّكُمْ وَمَكْفَرَةٌ لِلسَّيِّئَاتِ وَمَنْهَاةٌ لِلإِثْمِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৭) আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে লোক সকল! তোমরা ব্যাপকভাবে সালাম প্রচার কর, (ক্ষুধার্তকে) অন্ন দাও এবং লোকে যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকবে তখন নামায পড়। তাহলে তোমরা নিরাপদে ও নির্বিঘেণ জান্নাতে প্রবেশ করবে।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ سَلاَمٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ أَيُّهَا النَّاسُ : أَفْشُوا السَّلاَمَ وَأَطْعِمُوا الطَّعَامَ وَصَلُّوا بِاللَّيْلِ وَالنَّاسُ نِيَامٌ تَدْخُلُوا الجَنَّةَ بِسَلاَمٍ رواه الترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৮) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জান্নাতের মধ্যে এমন একটি কক্ষ আছে, যার বাহিরের অংশ ভিতর থেকে এবং ভিতরের অংশ বাহির থেকে দেখা যাবে। তা শুনে আবু মালিক আশআরী (রাঃ) বললেন, সে কক্ষ কার জন্য হবে, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি উত্তম কথা বলে, অন্নদান করে ও লোকেরা যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাযে রত হয়; তার জন্য।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ فِي الْجَنَّةِ غُرْفَةً يُرَى ظَاهِرُهَا مِنْ بَاطِنِهَا وَبَاطِنُهَا مِنْ ظَاهِرِهَا فَقَالَ أَبُو مُوسَى الْأَشْعَرِيُّ لِمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ لِمَنْ أَلَانَ الْكَلَامَ وَأَطْعَمَ الطَّعَامَ وَبَاتَ لِلهِ قَائِمًا وَالنَّاسُ نِيَامٌ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমযান মাসের রোযার পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে আল্লাহর মাস মুহাররামের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হচ্ছে রাতের (তাহাজ্জুুদের) নামায।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ : شَهْرُ اللهِ المُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الفَرِيضَةِ : صَلاَةُ اللَّيْلِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯০) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রাতের নামায দু’ দু’ রাকআত করে। অতঃপর যখন ফজর হওয়ার আশংকা করবে, তখন এক রাকআত বিত্র পড়ে নেবে।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ صَلاَةُ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى فَإِذَا خِفْتَ الصُّبْحَ فَأَوْتِرْ بِوَاحِدَةٍ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯১) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলায় দু’ দু’ রাকআত ক’রে নামায পড়তেন এবং এক রাকআত বিত্র পড়তেন।
وَعَنْهُ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯২) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কোন কোন মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমনভাবে রোযা ত্যাগ করতেন যে, মনে হত তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত মাসে আর রোযাই রাখবেন না। অনুরূপভাবে কোন মাসে এমনভাবে (একাদিক্রমে) রোযা রাখতেন যে, মনে হত তিনি ঐ মাসে আর রোযা ত্যাগই করবেন না। (তাঁর অবস্থা এরূপ ছিল যে,) যদি তুমি তাঁকে রাত্রিতে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে না চাইতে, তবু বাস্তবে তাঁকে নামায পড়া অবস্থায় দেখতে পেতে। আর তুমি যদি চাইতে যে, তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখবে না, কিন্তু বাস্তবে তুমি তাকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পেতে।
وَعَن أَنَسٍ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُفْطِرُ مِنَ الشَّهْرِ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يَصُومَ مِنْهُ وَيَصُومُ حَتَّى نَظُنَّ أَنْ لاَ يُفْطِرَ مِنْهُ شَيْئاً وَكَانَ لاَ تَشَاءُ أَنْ تَرَاهُ مِنَ اللَّيلِ مُصَلِّياً إِلاَّ رَأيْتَهُ وَلاَ نَائِماً إِلاَّ رَأيْتَهُ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৩) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকআত নামায পড়তেন, অর্থাৎ, রাতে। তিনি মাথা তোলার পূর্বে এত দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, ততক্ষণে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারবে। আর ফজর নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত সুন্নত নামায পড়ে ডান পার্শ্বে শুয়ে আরাম করতেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর নিকট নামাযের ঘোষণাকারী এসে হাযির হত।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِِّي إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً ـ تَعَني فِي اللَّيلِ يَسْجُدُ السَّجْدَةَ مِنْ ذَلِكَ قَدْرَ مَا يَقْرَأُ أَحَدُكُمْ خَمْسِينَ آيَةً قَبْلَ أَنْ يَرْفَعَ رَأسَهُ وَيَرْكَعُ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الفَجْرِ ثُمَّ يَضْطَجِعُ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ حَتَّى يَأتِيَهُ المُنَادِي للصَلاَةِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৪) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান ও অন্যান্য মাসে (তাহাজ্জুদ তথা তারাবীহ) ১১ রাকআতের বেশী পড়তেন না। প্রথমে চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্পর্কে প্রশ্নই করো না। তারপর (আবার) চার রাকআত পড়তেন। সুতরাং তার সৌন্দর্য ও দৈর্ঘ্য সম্বন্ধে প্রশ্নই করো না। অতঃপর তিন রাকআত (বিত্র) পড়তেন। (একদা তিনি বিত্র পড়ার আগেই শুয়ে গেলেন।) আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি কি বিতর পড়ার পূর্বেই ঘুমাবেন? তিনি বললেন, আয়েশা! আমার চক্ষুদ্বয় ঘুমায়; কিন্তু অন্তর জেগে থাকে।
وَعَنْهُ ا قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَزيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً : يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَن حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي أَرْبَعاً فَلاَ تَسْألْ عَن حُسْنِهِنَّ وَطُولِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّي ثَلاثاً فَقُلتُ: يَا رَسُولَ اللهِ أَتَنَامُ قَبْلَ أَنْ تُوتِرَ؟ فَقَالَ يَا عَائِشَة إِنَّ عَيْنَيَّ تَنَامَانِ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৫) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের প্রথম দিকে ঘুমাতেন ও শেষের দিকে উঠে নামায পড়তেন।
(অধিকাংশ ক্ষেত্রে তিনি এরূপ করতেন নচেৎ এর ব্যতিক্রমও করতেন।)
وَعَنْهُ : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يَنَامُ أَوَّلَ اللَّيلِ وَيَقُومُ آخِرَهُ فَيُصَلِّي متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৬) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়েছি। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে রইলেন যে, শেষ পর্যন্ত আমি একটা মন্দ কাজের ইচ্ছা ক’রে ফেলেছিলাম। ইবনে মাসঊদ (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, সে ইচ্ছাটা কি করেছিলেন? তিনি বললেন, আমার ইচ্ছা হয়েছিল যে, তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ি।
وَعَن ابنِ مَسْعُوْدٍ قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ لَيْلَةً فَلَمْ يَزَلْ قَائِماً حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سُوءٍ قِيلَ : مَا هَمَمْتَ ؟ قَالَ : هَمَمْتُ أَنْ أَجِلْسَ وَأَدَعَهُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৭) হুযাইফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে এক রাতে নামায পড়লাম। তিনি সূরা বাক্বারাহ আরম্ভ করলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, একশত আয়াতের মাথায় তিনি রুকু করবেন। (কিন্তু ) তিনি তারপরও কিরাআত চালু রাখলেন। আমি (মনে মনে) বললাম, তিনি এরই দ্বারা (সূরা শেষ করে) রুকু করবেন। কিন্তু তিনি সূরা নিসা পড়তে আরম্ভ করলেন এবং সম্পূর্ণ পড়লেন। তিনি স্পষ্ট ও ধীরে ধীরে তেলাঅত করতেন। যখন এমন আয়াত আসত, যাতে তাসবীহ পাঠ করার উল্লেখ আছে, তখন (আল্লাহর) তাসবীহ পাঠ করতেন। যখন কোন প্রার্থনা সম্বলিত আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন। যখন কোন আশ্রয় প্রার্থনার আয়াত অতিক্রম করতেন, তখন তিনি আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।
(অতঃপর) তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকু করলেন। সুতরাং তিনি রুকুতে সুবহানা রাব্বিয়াল আযীম পড়তে আরম্ভ করলেন। আর তাঁর রুকু ও কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়া অবস্থা) এক সমান ছিল। তারপর তিনি রুকু থেকে মাথা তুলে ’সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রাব্বানা অলাকাল হাম্দ’ (অর্থাৎ আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রশংসা শুনলেন, যে তা তাঁর জন্য করল। হে আমাদের পালনকর্তা তোমার সমস্ত প্রশংসা) পড়লেন। অতঃপর বেশ কিছুক্ষণ (কওমায়) দাঁড়িয়ে থাকলেন রুকুর কাছাকাছি সময় জুড়ে। তারপর সিজদা করলেন এবং তাতে তিনি পড়লেন, ’সুবহানাল্লা রাব্বিয়াল আ’লা’ (অর্থাৎ আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি)। আর তাঁর সাজদা দীর্ঘ ছিল তার কিয়াম (দাঁড়িয়ে কিরাআত পড়া অবস্থা)র কাছাকাছি।
وَعَن حُذَيفَةَ قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ البَقَرَةَ فَقُلْتُ : يَرْكَعُ عَندَ المئَةِ ثُمَّ مَضَى فَقُلتُ : يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلتُ : يَرْكَعُ بِهَا ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقرَأُ مُتَرَسِّلاً : إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُوْلُ سُبْحَانَ رَبِّيَ العَظِيمِ فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْواً مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الحَمْدُ ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيباً مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى فَكَانَ سجُودُهُ قَريباً مِنْ قِيَامِهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৮) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সর্বোত্তম নামায সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন, দীর্ঘ কিয়ামযুক্ত নামায।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَيُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ طُوْلُ القُنُوْتِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৭৯৯) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আ-স (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম নামায, দাঊদ (আঃ)-এর নামায এবং আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম রোযা, দাঊদ (আঃ)-এর রোযা; তিনি অর্ধরাতে নিদ্রা যেতেন এবং রাতের তৃতীয় ভাগে ইবাদত করার জন্য উঠতেন। অতঃপর রাতের ষষ্টাংশে আবার নিদ্রা যেতেন। (অনুরূপভাবে) তিনি একদিন রোযা রাখতেন ও একদিন রোযা ত্যাগ করতেন।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمرِو بنِ العَاصِ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ أَحَبُّ الصَّلاةِ إِلَى اللهِ صَلاةُ دَاوُدَ وَأَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللهِ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيلِ وَيَقُومُ ثُلُثَهُ وَيَنَامُ سُدُسَهُ وَيَصُومُ يَوماً وَيُفْطِرُ يَوْماً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০০) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি যে, রাত্রিকালে এমন একটি সময় আছে, কোন মুসলিম ব্যক্তি তা পেয়েই দুনিয়া ও আখেরাত বিষয়ক যে কোন উত্তম জিনিস প্রার্থনা করলে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই তাকে তা দিয়ে থাকেন। ঐ সময়টি প্রত্যেক রাতে থাকে।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ إِنَّ فِي اللَّيْلِ لَسَاعَةً لاَ يُوَافِقُهَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ يَسْألُ اللهَ تَعَالَى خَيْراً مِنْ أَمْرِ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ إِلاَّ أعْطَاهُ إيَّاهُ وَذَلِكَ كُلَّ لَيْلَةٍ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০১) আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাদের বরকতময় মহান প্রতিপালক প্রত্যহ রাত্রের শেষ তৃতীয়াংশে নীচের আসমানে অবতরণ করেন এবং বলেন, কে আমাকে ডাকে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার নিকট প্রার্থনা করে? আমি তাকে দান করব। এবং কে আমার নিকট ক্ষমা চায়? আমি তাকে ক্ষমা করব। (ফজর পর্যন্ত এ আহবান থাকে।)
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِى فَأَسْتَجِيبَ لَهُ وَمَنْ يَسْأَلُنِى فَأُعْطِيَهُ وَمَنْ يَسْتَغْفِرُنِى فَأَغْفِرَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০২) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ রাতে নামায পড়ার জন্য উঠবে, সে যেন হাল্কাভাবে দু’ রাকআত পড়ার মাধ্যমে নামায শুরু করে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَلْيَفْتَتِحِ الصَّلاَةَ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৩) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন রাতে (তাহাজ্জুদের) জন্য উঠতেন, তখন দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়ার মাধ্যমে আরম্ভ করতেন।
وَعَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ افْتَتَحَ صَلاَتَهُ بِرَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৪) উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, দৈহিক ব্যথা-বেদনা বা অন্য কোন অসুবিধার কারণে যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রাতের নামায ছুটে যেত, তাহলে তিনি দিনের বেলায় ১২ রাকআত নামায পড়তেন।
وَعَنْهُ ا رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا فَاتَتْهُ الصَّلاةُ مِن اللَّيْلِ مِنْ وَجَعٍ أَوْ غَيْرِهِ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ ثِنْتَيْ عَشرَةَ ركْعَةً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৫) উমার ইবনে খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় অযীফা (দৈনিক যথা নিয়মে তাহাজ্জুদের নামায) অথবা তার কিছু অংশ না পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে, অতঃপর যদি সে ফজর ও যোহরের মধ্যবর্তী সময়ে তা পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য তা এমনভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়, যেন সে তা রাতেই পড়েছে।
وَعَن عُمَرَ بنِ الخَطَّابِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ نَامَ عَن حِزْبِهِ أَوْ عَن شَيْءٍ مِنْهُ فَقَرَأَهُ فِيمَا بَيْنَ صَلاَةِ الفَجْرِ وَصَلاَةِ الظُّهْرِ كُتِبَ لَهُ كَأنَّمَا قَرَأَهُ مِنَ اللَّيْلِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তির প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্ত্রীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে তার মুখে পানির ছিটা মারে। অনুরূপ আল্লাহ সেই মহিলার প্রতি দয়া করুন, যে রাতে উঠে নামায পড়ে এবং নিজ স্বামীকেও জাগায়। অতঃপর যদি সে (জাগতে) অস্বীকার করে, তাহলে সে তার মুখে পানির ছিটা মারে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ رَحِمَ اللهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا المَاءَ رَحِمَ اللهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ المَاءَ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৭) উক্ত রাবী (রাঃ) ও আবূ সাঈদ (রাঃ) উভয় হতে বর্ণিত, তাঁরা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রাতে জাগিয়ে উভয়ে নামায পড়ে অথবা তারা উভয়ে দু’ রাকআত ক’রে নামায আদায় করে, তবে তাদেরকে (অতীব) যিকরকারী ও যিকরকারিণীদের দলে লিপিবদ্ধ করা হয়।
وَعَنْهُ وَعَنْ أَبيْ سَعِيدٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالاَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَيْقَظَ الرَّجُلُ أهْلَهُ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّيَا - أَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ جَمِيعاً كُتِبَا فِي الذَّاكِرِينَ وَالذَّاكِرَاتِ رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৮) আবু দারদা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ ভালোবাসেন, তাদের প্রতি (সন্তুষ্ট হয়ে) হাসেন এবং তাদের কারণে খুশী হন; (প্রথম) সেই ব্যক্তি যার নিকট স্বদলের পরাজয় প্রকাশ পেলে নিজের জান দিয়ে আল্লাহ আযযা অজাল্লার ওয়াস্তে যুদ্ধ করে। এতে সে হয় শহীদ হয়ে যায় নতুবা আল্লাহ তাকে সাহায্য (বিজয়ী) করেন ও তিনিই তার জন্য যথেষ্ট হন। তখন আল্লাহ বলেন, আমার এই বান্দাকে তোমরা লক্ষ্য কর, আমার জন্য নিজের প্রাণ দিয়ে কেমন ধৈর্য ধরেছে?
(দ্বিতীয়) সেই ব্যক্তি যার আছে সুন্দরী স্ত্রী এবং নরম ও সুন্দর বিছানা। কিন্তু সে (এ সব ত্যাগ করে) রাত্রে উঠে নামায পড়ে। এর জন্য আল্লাহ বলেন, সে নিজের প্রবৃত্তিকে দমন করে আমাকে স্মরণ করছে, অথচ ইচ্ছা করলে সে নিদ্রা উপভোগ করতে পারত।
আর (তৃতীয়) সেই ব্যক্তি যে সফরে থাকে। তার সঙ্গে থাকে কাফেলা। কিছু রাত্রি জাগরণ করে সকলে ঘুমে ঢলে পড়ে। কিন্তু সে শেষরাত্রে উঠে কষ্ট ও আরামের সময় নামায পড়ে।
عَنْ أَبيْ الدَّرْدَاءِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ثَلَاثَةٌ يُحِبُّهُمُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ يَضْحَكُ إِلَيْهِمْ وَيَسْتَبْشِرُ بِهِمْ الَّذِي إِذَا انْكَشَفَتْ فِئَةٌ قَاتَلَ وَرَاءَهَا بِنَفْسِهِ لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِمَّا أَنْ يُقْتَلَ وَإِمَّا أَنْ يَنْصُرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ وَيَكْفِيهِ فَيَقُولُ: انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي كَيْفَ صَبَّرَ لِي نَفْسَهُ وَالَّذِي لَهُ امْرَأَةٌ حَسْنَاءُ وَفِرَاشٌ لَيِّنٌ حَسَنٌ فَيَقُومُ مِنَ اللَّيْلِ فَيَذَرُ شَهْوَتَهُ فَيَذْكُرُنِي وَلَوْ شَاءَ لَرَقَدَ وَالَّذِي كان فِي سَفَرٍ وَكَانَ مَعَهُ رَكْبٌ فَسَهَرُوا ا ثُمَّ هَجَعُوا فَقَامَ فِي السَّحَرِ فِي ضَرَّاءٍ وَسَرَّاءٍ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮০৯) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি দশটি আয়াত নামাযে পড়ে সে উদাসীনদের তালিকাভুক্ত হয় না, যে একশ’টি আয়াত নামাযে পড়ে সে আবেদদের তালিকাভুক্ত হয়। আর যে এক হাজারটি আয়াত নামাযে পড়ে সে অজস্র সওয়াব অর্জনকারীদের তালিকাভুক্ত হয়।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الْغَافِلِينَ وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْقَانِتِينَ وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْمُقَنْطَرِينَ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮১০) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ নামাযের মধ্যে তন্দ্রাভিভূত হবে, তখন সে যেন নিদ্রা যায়, যতক্ষণ না তার নিদ্রার চাপ দূর হয়ে যায়। কারণ, যখন কেউ তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে নামায পড়বে, তখন সে খুব সম্ভবতঃ ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দিতে লাগবে।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ إِذَا نَعَسَ أحَدُكُمْ في الصَّلاَةِ فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ نَاعِسٌ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ রাতে উঠে (তাহজ্জুদ) নামায পড়ার ফযীলত
(৮১১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ রাতে উঠবে ও (ঘুমের চাপের কারণে) জিহ্বায় কুরআন পড়তে এমন অসুবিধা বোধ করবে যে, সে কি বলছে তা বুঝতে পারবে না, তখন সে যেন শুয়ে পড়ে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَعْجَمَ القُرْآنَ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُوْلُ فَلْيَضْطَجِع رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় নামায
(৮১২) আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদিন সূর্যে গ্রহণ লাগলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামায পড়তে খাড়া হলেন। তাতে তিনি সুদীর্ঘ ক্বিরাআত করে প্রত্যেক রাকআতে লম্বা লম্বা দু’টি ক’রে রুকূ করলেন। এই নামাযে তিনি কাঁদতে লাগলেন আর বলতে লাগলেন,
رَبِّ أَلَمْ تَعِدْنِى أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَأَنَا فِيهِمْ أَلَمْ تَعِدْنِى أَنْ لاَ تُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
হে আমার প্রতিপালক! তুমি কি আমাকে ওয়াদা দাওনি যে, আমি ওদের মাঝে থাকা অবস্থায় তুমি ওদেরকে আযাব দেবে না? তুমি কি আমাকে ওয়াদা দাওনি যে, ওদের ক্ষমাপ্রার্থনা করতে থাকা অবস্থায় তুমি ওদেরকে আযাব দেবে না?
-
পরিচ্ছেদঃ সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় নামায
(৮১৩) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্যতম। কারো জন্ম বা মৃত্যুর কারণে তাতে গ্রহণ লাগে না। সুতরাং গ্রহণ লাগা দেখলে তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ কর, তকবীর পড়, নামায পড় এবং সদকাহ কর।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ آيَتَانِ مِنْ آيَاتِ اللهِ لَا يَخْسِفَانِ لِمَوْتِ أَحَدٍ وَلَا لِحَيَاتِهِ فَإِذَا رَأَيْتُمْ ذَلِكَ فَادْعُوا اللهَ وَكَبِّرُوا وَصَلُّوا وَتَصَدَّقُوا
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৪) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার অন্তরঙ্গ বন্ধু আমাকে এই তিনটি বিষয়ে অসিয়ত করেছেন; (১) প্রতি মাসে তিনটি (১৩, ১৪, ১৫ তারীখে) রোযা রাখার। (২) চাশতের দু’ রাকআত (সুন্নত) পড়ার। (৩) এবং ঘুমাবার আগে বিতর পড়ে নেওয়ার।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : أَوْصَانِي خَلِيلِي ﷺ بِصِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَرَكْعَتَي الضُّحَى وَأَنْ أُوتِرَ قَبْلَ أَنْ أَرْقُدَ متفقٌ عَلَيْهِ
-
(বুখারী ১৯৮১, মুসলিম ১৭০৫)
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৫) আবূ যার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ এমন অবস্থায় সকালে ওঠে যে, তার (দেহের) প্রতিটি জোড়ের সাদকা দেওয়ার জন্য সে দায়বদ্ধ হয়। সুতরাং প্রত্যেক ’সুবহানাল্লাহ’ বলা সাদকাস্বরূপ, প্রত্যেক ’আলহামদুলিল্লাহ’ বলা সাদকাস্বরূপ, প্রত্যেক ’লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা সাদকাস্বরূপ, প্রতিটি ’আল্লাহু আকবার’ বলা সাদকাস্বরূপ, সৎকাজের আদেশ দেওয়া সাদকাস্বরূপ এবং মন্দকাজে বাধা দেওয়া সাদকাস্বরূপ। আর এ সমস্ত কিছুর পরিবর্তে দু’ রাকআত (চাশতের) নামায পড়লে তা যথেষ্ট হবে।
وَعَنْ أَبيْ ذَرٍّ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ يُصْبحُ عَلَى كُلِّ سُلاَمَى مِنْ أَحَدِكُمْ صَدَقَةٌ : فَكُلُّ تَسْبِيحَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَحْمِيدَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَهْلِيلَةٍ صَدَقَةٌ وَكُلُّ تَكْبِيرَةٍ صَدَقَةٌ وَأَمْرٌ بِالمَعْرُوفِ صَدَقَةٌ وَنَهْيٌ عَن المُنْكَرِ صَدَقَةٌ وَيُجْزِئُ مِنْ ذَلِكَ رَكْعَتَانِ يَرْكَعُهُمَا مِن الضُّحَى رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৬) বুরাইদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানবদেহে ৩৬০টি গ্রন্থি আছে। প্রত্যেক ব্যক্তির উপর ঐ প্রত্যেক গ্রন্থির পক্ষ থেকে দেয় সদকাহ রয়েছে। সকলে বলল, এত সদকাহ দিতে আর কে সক্ষম হবে, হে আল্লাহর রসূল? তিনি বললেন, মসজিদ হতে কফ (ইত্যাদি নোংরা) দূর করা, পথ হতে কষ্টদায়ক বস্ত্ত (কাঁটা-পাথর প্রভৃতি) দূর করা এক একটা সদকাহ। যদি তাতে সক্ষম না হও, তবে দুই রাকআত চাশতের নামায তোমার সে প্রয়োজন পূর্ণ করবে।
عَن بُرَيْدَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي الْإِنْسَانِ ثَلَاثُ مِائَةٍ وَسِتُّونَ مَفْصِلًا فَعَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ عَن كُلِّ مَفْصِلٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ بِصَدَقَةٍ قَالُوْا وَمَنْ يُطِيقُ ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ النُّخَاعَةُ تَرَاهَا فِي الْمَسْجِدِ فَتَدْفِنُهَا أَوْ الشَّيْءُ تُنَحِّيهِ عَن الطَّرِيقِ فَإِنْ لَمْ تَقْدِرْ فَرَكْعَتَا الضُّحَى تُجْزِئُكَ
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৭) আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকর করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ। অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَامَّةٍ تَامَّةٍ تَامَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৮) উক্ববাহ বিন আমের জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, হে আদম সন্তান! দিনের প্রথমাংশে তুমি আমার জন্য চার রাকআত নামায পড়তে অক্ষম হয়ো না, আমি তার প্রতিদানে তোমার দিনের শেষাংশের জন্য যথেষ্ট হব।
عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ يَقُولُ يَا ابْنَ آدَمَ اكْفِنِي أَوَّلَ النَّهَارِ بِأَرْبَعِ رَكَعَاتٍ أَكْفِكَ بِهِنَّ آخِرَ يَوْمِكَ
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮১৯) আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের চার রাকআত নামায পড়তেন এবং আল্লাহ যতটা চাইতেন সেই মত তিনি আরো বেশী পড়তেন।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الضُّحَى أَرْبَعاً وَيَزِيدُ مَا شَاءَ الله رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮২০) উম্মে হানী ফাখেতাহ বিনতে আবু তালেব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছরে আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দরবারে উপস্থিত হয়ে দেখি যে, তিনি গোসল করছেন। যখন তিনি গোসল সম্পন্ন করলেন, তখন আট রাকআত নামায পড়লেন। আর তখন ছিল চাশতের সময়।
وَعَن أُمِّ هَانِىءٍ فَاخِتَةَ بِنتِ أَبي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : ذَهَبْتُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ عَامَ الفَتْحِ فَوَجَدْتُهُ يَغْتَسِلُ فَلَمَّا فَرَغَ مِنْ غُسْلِهِ صَلَّى ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ وَذَلِكَ ضُحىً متفقٌ عَلَيْهِ وهذا مختصرُ لفظِ إحدى روايات مسلم
পরিচ্ছেদঃ চাশতের নামাযের ফযীলত
(৮২১) আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক যোদ্ধাবাহিনী প্রেরণ করেন। এই যুদ্ধ সফরে তারা বহু যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করে খুব শীঘ্রই ফিরে আসে। লোকেরা তাদের যুদ্ধস্থানের নিকটবর্তিতা, লব্ধ সম্পদের আধিক্য এবং ফিরে আসার শীঘ্রতা নিয়ে সবিস্ময় বিভিন্ন আলোচনা করতে লাগল। তা শুনে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি কি তোমাদেরকে ওদের চেয়ে নিকটতর যুদ্ধক্ষেত্র, ওদের চেয়ে অধিকতর লব্ধ সম্পদ এবং ওদের চেয়ে শীঘ্রতর ফিরে আসার কথার সন্ধান বলে দেব না? যে ব্যক্তি সকালে ওযু করে চাশতের নামাযের উদ্দেশ্যে মসজিদে যায়, সে ব্যক্তি ওদের চেয়ে নিকটতর যুদ্ধক্ষেত্রে যোগদান করে, ওদের চেয়ে অধিকতর সম্পদ লাভ করে এবং ওদের চেয়ে অধিকতর শীঘ্র ঘরে ফিরে আসে।
عَن عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِي قَالَ بَعَثَ رَسُولُ اللهِ ﷺ سَرِيَّةً فَغَنِمُوا وَأَسْرَعُوا الرَّجْعَةَ فَتَحَدَّثَ النَّاسُ بِقُرْبِ مَغْزَاهُمْ وَكَثْرَةِ غَنِيمَتِهِمْ وَسُرْعَةِ رَجْعَتِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَلَا أَدُلُّكُمْ عَلَى أَقْرَبَ مِنْهُ مَغْزًى وَأَكْثَرَ غَنِيمَةً وَأَوْشَكَ رَجْعَةً مَنْ تَوَضَّأَ ثُمَّ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لِسُبْحَةِ الضُّحَى فَهُوَ أَقْرَبُ مَغْزًى وَأَكْثَرُ غَنِيمَةً وَأَوْشَكُ رَجْعَةً
পরিচ্ছেদঃ সূর্য উঁচুতে ওঠার পর থেকে ঢলা পর্যন্ত চাশতের নামায পড়া বিধেয়। উত্তম হল দিন উত্তপ্ত হলে এবং সূর্য আরো উঁচুতে উঠলে এ নামায পড়া
(৮২২) যায়দ বিন আরক্বাম (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা তিনি দেখলেন, একদল লোক চাশতের নামায পড়ছে। তিনি বললেন, যদি ওরা জানত যে, নামায এ সময় ছাড়া অন্য সময়ে পড়া উত্তম। আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আওয়াবীন (আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী) দের নামায যখন উঁটের বাচ্চার পা বালিতে গরম অনুভব করে।
عَن زَيدِ بنِ أَرْقَم أنَّهُ رَأَى قَوْماً يُصَلُّونَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ : أَمَا لَقَدْ عَلِمُوا أَنَّ الصَّلاَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ صَلاَةُ الأَوَّابِينَ حِيْنَ تَرْمَضُ الفِصَالُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৩) আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিতরে নামায, ফরয নামাযের ন্যায় অপরিহার্য নয়। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটিকে প্রচলিত করেছেন (অর্থাৎ, এটি সুন্নত)। তিনি বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ বিতর (বিজোড়) সেহেতু তিনি বিতর (বিজোড়কে) ভালবাসেন। অতএব হে কুরআনের ধারকবাহকগণ! তোমরা বিতর পড়।
عَن عَلِيٍّ قَالَ: الوِتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلاَةِ المَكْتُوبَةِ وَلَكِنْ سَنَّ رَسُولُ اللهِ ﷺ قَالَ إنَّ اللهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الوِتْرَ فَأَوْتِرُوا يَا أهْلَ القُرْآنِ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৪) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের প্রতিটি ভাগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতর পড়েছেন; রাতের প্রথম ভাগে, এর মধ্য ভাগে ও শেষ ভাগে। তাঁর বিতরে শেষ সময় ছিল ভোরবেলা পর্যন্ত।
(অর্থাৎ এর প্রথম সময় এশার পর পরই শুরু হয় আর শেষ সময় ফজর উদয়কাল অবধি অবশিষ্ট থাকে। এর মধ্যে যে কোন সময় ১,৩,৫,৭, প্রভৃতি বিজোড় সংখ্যায় বিতর পড়া বিধেয়।)
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ وَمِنْ أوْسَطِهِ وَمِنْ آخِرِهِ وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৫) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা তোমাদের রাতের শেষ নামায বিতর কর।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اجْعَلُوا آخِرَ صَلاَتِكُمْ بِاللَّيْلِ وِتْراً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৬) আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিতর পড়ে ফেল।
وَعَنْ أَبيْ سَعِيدٍ الخُدرِي أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৭) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাঁর (তাহাজ্জুদ) নামায পড়তেন। আর তিনি (আয়েশা) তাঁর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। অতঃপর যখন (সব নামায পড়ে) বিতর বাকি থাকত, তখন তাঁকে তিনি জাগাতেন এবং তিনি (আয়েশা) বিতর পড়তেন।
মুসলিমের অপর বর্ণনায় আছে, যখন বিতর অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি বলতেন, আয়েশা! উঠ, বিতর পড়ে নাও। (১৭৬৮)
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ بِاللَّيْلِ وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرتْ رواه مسلم وفي روايةٍ لَهُ : فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ قَالَ قُومِي فَأَوتِرِي يَا عَائِشَة
পরিচ্ছেদঃ বিতরের প্রতি উৎসাহ দান, তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ এবং তা পড়ার সময়
(৮২৮) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজর হওয়ার আগে ভাগেই বিতর পড়ে নাও।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالوِتْرِ رواه أَبُو داود والترمذي وقال حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৮২৯) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি শেষ রাতে উঠতে না পারার আশংকা করবে, সে যেন শুরু রাতেই বিতর পড়ে নেয়। আর যে ব্যক্তি রাতের শেষ ভাগে উঠে (ইবাদত) করার লালসা রাখে, সে যেন রাতের শেষ ভাগেই বিতর সমাধা করে। কারণ, রাতের শেষ ভাগের নামাযে ফিরিশতারা হাজির হন এবং এটিই উত্তম আমল।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ خَافَ أَنْ لاَ يَقُومَ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ فَلْيُوتِرْ أَوَّلَهُ وَمَنْ طَمِعَ أَنْ يَقُومَ آخِرَهُ فَلْيُوتِرْ آخِرَ اللَّيلِ فَإِنَّ صَلاَةَ آخِرِ اللَّيْلِ مَشْهُودَةٌ وَذَلِكَ أَفْضَلُ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামায কাযা
(৮৩০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এবং সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে (যথাসময়ে) নামায পেয়ে যায়।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ وَمَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْفَجْرِ رَكْعَةً قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ
পরিচ্ছেদঃ নামায কাযা
(৮৩১) উক্ত আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্য ডোবার পূর্বে আসরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য ডুবে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়। আর যে ব্যক্তি সূর্য ওঠার পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পায়, সে যেন (সূর্য উঠে গেলেও) তার বাকী রাকআত নামায সম্পন্ন করে নেয়।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا أَدْرَكَ أَحَدُكُمْ سَجْدَةً مِنْ صَلَاةِ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلَاتَهُ وَإِذَا أَدْرَكَ سَجْدَةً مِنْ صَلَاةِ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَلْيُتِمَّ صَلَاتَهُ
পরিচ্ছেদঃ নামায কাযা
(৮৩২) আনাস বিন মালিক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কেউ কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তখন তার কাফফারা হল স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ نَبِىُّ اللهِ ﷺ مَنْ نَسِىَ صَلاَةً أَوْ نَامَ عَنهَا فَكَفَّارَتُهَا أَنْ يُصَلِّيَهَا إِذَا ذَكَرَهَا
পরিচ্ছেদঃ নামায কাযা
(৮৩৩) আনাস (রাঃ) কর্তৃক অন্য এক বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি কোন নামায পড়তে ভুলে যায়, সে যেন তা স্মরণ হওয়া মাত্র পড়ে নেয়। (এই কাযা আদায় করা ছাড়া) এর জন্য আর অন্য কোন কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ مَنْ نَسِىَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ নামায কাযা
(৮৩৪) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শোনো! নিদ্রা অবস্থায় কোন শৈথিল্য নেই। শৈথিল্য তো (জাগ্রত অবস্থায়) তার থাকে, যে নামায পড়ল না, পরিশেষে অন্য নামাযের সময় এসে উপস্থিত হয়। সুতরাং যখন কারো এমন হয় (কোন নামায পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে), তখন তার উচিত, (স্মরণ হওয়া বা) জাগা মাত্র তা পড়ে নেওয়া। অতঃপর আগামীতে সে নামায যথাসময়ে পড়া।
আবূ হুরাইরার বর্ণনায় আছে, কেননা, আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’আর আমাকে স্মরণ করার উদ্দেশ্যে তুমি নামায কায়েম কর। (ত্বাহাঃ ১৪)
عَن أَبِى قَتَادَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَمَا إِنَّهُ لَيْسَ فِى النَّوْمِ تَفْرِيطٌ إِنَّمَا التَّفْرِيطُ عَلَى مَنْ لَمْ يُصَلِّ الصَّلاَةَ حَتَّى يَجِىءَ وَقْتُ الصَّلاَةِ الأُخْرَى فَمَنْ فَعَلَ ذَلِكَ فَلْيُصَلِّهَا حِينَ يَنْتَبِهُ لَهَا فَإِذَا كَانَ الْغَدُ فَلْيُصَلِّهَا عَندَ وَقْتِهَا
وفي رواية أبي هريرة مَنْ نَسِىَ الصَّلاَةَ فَلْيُصَلِّهَا إِذَا ذَكَرَهَا فَإِنَّ اللهَ قَالَ (أَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِى)
পরিচ্ছেদঃ নামাযে জায়েয কর্মাবলী
(৮৩৫) আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্বিবলা (কিবলা/কেবলা)র দিকে কফ দেখলেন। এতে তাঁর কষ্ট হল। এমনকি তা তাঁর চেহারায় দেখা গেল। সুতরাং তিনি উঠে নিজ হাত দ্বারা পরিষ্কার করলেন, অতঃপর বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। তার প্রতিপালক থাকেন তার ও তার কিবলার মাঝে। সুতরাং তোমাদের কেউ যেন তার সামনের দিকে অবশ্যই থুথু না ফেলে। বরং সে যেন তার বাম দিকে অথবা পায়ের নিচে থুথু ফেলে। অতঃপর তিনি তাঁর চাদরের এক প্রান্ত ধরে তার উপর থুথু ফেললেন এবং পাশাপাশি কাপড় ধরে কচলে দিলেন, আর বললেন, অথবা সে যেন এইরূপ করে।
عَن أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَأَى نُخَامَةً فِي الْقِبْلَةِ فَشَقَّ ذَلِكَ عَلَيْهِ حَتَّى رُئِيَ فِي وَجْهِهِ فَقَامَ فَحَكَّهُ بِيَدِهِ فَقَالَ إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا قَامَ فِي صَلَاتِهِ فَإِنَّهُ يُنَاجِي رَبَّهُ أَوْ إِنَّ رَبَّهُ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ فَلَا يَبْزُقَنَّ أَحَدُكُمْ قِبَلَ قِبْلَتِهِ وَلَكِنْ عَن يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمَيْهِ) ثُمَّ أَخَذَ طَرَفَ رِدَائِهِ فَبَصَقَ فِيهِ ثُمَّ رَدَّ بَعْضَهُ عَلَى بَعْضٍ فَقَالَ أَوْ يَفْعَلُ هَكَذَا
পরিচ্ছেদঃ নামাযে জায়েয কর্মাবলী
(৮৩৬) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে কেউ যখন নামাযে দাঁড়ায়, তখন সে যেন তার সামনে থুথু না ফেলে। কারণ সে তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ (মুনাজাত) করে; যতক্ষণ সে নামাযের জায়গায় থাকে। তার ডান দিকেও যেন থুথু না ফেলে, কারণ ডানে থাকেন এক ফিরিশতা। সুতরাং সে যেন বাম দিকে থুথু ফেলে অথবা পায়ের নিচে ফেলে দাফন করে দেয়।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَلَا يَبْصُقْ أَمَامَهُ فَإِنَّمَا يُنَاجِي اللهَ مَا دَامَ فِي مُصَلَّاهُ وَلَا عَن يَمِينِهِ فَإِنَّ عَن يَمِينِهِ مَلَكًا وَلْيَبْصُقْ عَن يَسَارِهِ أَوْ تَحْتَ قَدَمِهِ فَيَدْفِنُهَا
পরিচ্ছেদঃ (কাঁচা) রসূন, পিঁয়াজ, লীক পাতা তথা তীব্র দুর্গন্ধ জাতীয় কোন জিনিস খেয়ে, দুর্গন্ধ দূর না করে মসজিদে প্রবেশ করা নিষেধ। তবে নিতান্ত প্রয়োজনবশতঃ জায়েয।
(৮৩৭) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যখন কেউ জুতা খুলে রেখে নামায পড়তে চায়, তখন সে যেন জুতা দ্বারা কাউকে কষ্ট না দেয়। বরং সে যেন তা তার দু’ পায়ের ফাঁকে রেখে নেয় অথবা পায়ে রেখেই নামায পড়ে।
عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ قَالَ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ فَخَلَعَ نَعْلَيْهِ فَلاَ يُؤْذِ بِهِمَا أَحَدًا لِيَجْعَلْهُمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَوْ لِيُصَلِّ فِيهِمَا
পরিচ্ছেদঃ নামায মুনাজাত
(৮৩৮) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবশ্যই নামাযী তার প্রতিপালকের সাথে নিরালায় আলাপ করে। সুতরাং কি নিয়ে আলাপ করছে, তা যেন সে লক্ষ্য করে। আর তোমাদের কেউ যেন অপরের পাশে কুরআন সশব্দে না পড়ে।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ بِمَا يُنَاجِي رَبَّهُ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقِرَاءَةِ
পরিচ্ছেদঃ মুনাফিকের নামায
(৮৩৯) আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায। সে বসে বসে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে। অবশেষে যখন সূর্য শয়তানের দু’টি শিঙের মধ্যবর্তী স্থানে (অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে) পৌঁছে, তখন (ত্বরিঘড়ি) উঠে চারটি ঠোকর মেরে নেয়; তাতে সে সামান্যই আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে।
عَن أَنَسِ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - পুরুষের চুল বাঁধা
(৮৪০) ইবনে আব্বাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি (আমরা) আদিষ্ট হয়েছি যে, (রুকূ ও সিজদার সময়) যেন পরিহিত কাপড় ও চুল না গুটাই।
عَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ أُمِرْنَا أَنْ نَسْجُدَ عَلَى سَبْعَةِ أَعْظُمٍ وَلَا نَكُفَّ ثَوْبًا وَلَا شَعَرًا
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - পুরুষের চুল বাঁধা
(৮৪১) উক্ত রাবী হতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি তার মাথার লম্বা চুল পিছন দিকে বেঁধে রাখা অবস্থায় নামায পড়লে তিনি বলেন,
إِنَّمَا مَثَلُ هَذَا مَثَلُ الَّذِى يُصَلِّى وَهُوَ مَكْتُوفٌ
এ তো সেই ব্যক্তির মত, যে তার উভয় হাত বাঁধা অবস্থায় নামায পড়ে।
-
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - পুরুষের চুল বাঁধা
(৮৪২) আবূ রাফে’ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
ذَلِكَ كِفْلُ الشَّيْطَانِ يَعَنى مَقْعَدَ الشَّيْطَانِ يَعَنى مَغْرِزَ ضُفُرِهِ
অর্থাৎ, তিনি চুলের ঐ বাঁধনকে শয়তান বসার জায়গা বলে মন্তব্য করেছেন।
-
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - নামাযের মধ্যে কোমরে হাত রাখা মকরূহ
(৮৪৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নামাযরত অবস্থায় কোমরে হাত রাখতে আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিষেধ করেছেন।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَى عَن الخَصْرِ فِي الصَّلاَةِ متفق عَلَيْهِ
-
(বুখারী ১২১৯, মুসলিম ১২৪৬)
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - খাবারের চাহিদা থাকা কালে খাবার উপস্থিত রেখে এবং পেশাব-পায়খানার খুব চাপ থাকলে উভয় অবস্থায় নামায পড়া মাকরূহ
(৮৪৪) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি যে, খাবার হাযির থাকাকালীন অবস্থায় নামায নেই, আর পেশাব পায়খানার চাপ সামাল দেওয়া অবস্থায়ও নামায নেই।
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ لاَ صَلاَةَ بِحَضْرَةِ طَعَامٍ وَلاَ وَهُوَ يُدَافِعُهُ الأَخْبَثَانِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - নামাযে আসমান বা উপরের দিকে তাকানো নিষেধ
(৮৪৫) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, লোকদের কী হয়েছে যে, তারা নামাযের মধ্যে আকাশের দিকে দৃষ্টি তুলছে? এ ব্যাপারে তিনি কঠোর বক্তব্য রাখলেন; এমনকি তিনি বললেন, তারা যেন অবশ্যই এ কাজ হতে বিরত থাকে; নচেৎ অবশ্যই তাদের দৃষ্টি-শক্তি কেড়ে নেওয়া হবে।
عَن أَنَسِ بنِ مَالِكٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَا بَالُ أَقْوامٍ يَرْفَعُونَ أبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِي صَلاَتِهِمْ فَاشْتَدَّ قَولُهُ فِي ذَلِكَ حَتَّى قَالَ لَيَنْتَهُنَّ عَن ذَلِكَ أَوْ لَتُخطَفَنَّ أَبْصَارُهُمْ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - নামাযে আসমান বা উপরের দিকে তাকানো নিষেধ
(৮৪৬) জাবের বিন সামুরাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নামাযের মধ্যে আকাশের (উপরের) দিকে দৃষ্টিপাত করা হতে লোকেরা অতি অবশ্যই বিরত হোক, নচেৎ ওদের দৃষ্টি আর ফিরে না-ও আসতে পারে। (ওরা অন্ধ হয়ে যেতে পারে।)
عَن جَابِرٍ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَيَنْتَهِيَنَّ أَقْوَامٌ يَرْفَعُونَ أَبْصَارَهُمْ إِلَى السَّمَاءِ فِى الصَّلاَةِ أَوْ لاَ تَرْجِعُ إِلَيْهِمْ
পরিচ্ছেদঃ নামাযে যা নিষিদ্ধ - বিনা ওযরে নামাযে এদিক-ওদিক তাকানো মাকরূহ
(৮৪৭) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের মধ্যে এদিক-ওদিক তাকানোর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, এটা এক ধরণের অপহরণ, যার মাধ্যমে শয়তান নামাযের অংশ বিশেষ অপহরণ করে।
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : سَأَلتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ عَن الاِلتفَاتِ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ هُوَ اخْتِلاَسٌ يَخْتَلِسُهُ الشَّيْطَانُ مِنْ صَلاَةِ العَبْدِ رواه البخاري
পরিচ্ছেদঃ রুকূ-সিজদা সঠিকভাবে না করা
(৮৪৮) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, চোরদের মধ্যে সবচেয়ে জঘন্যতম চোর হল সেই ব্যক্তি, যে নামায চুরি করে। সকলে বলল, হে আল্লাহর রসূল! সে নামায কিভাবে চুরি করে? তিনি বললেন, সে তার নামাযের রুকূ-সিজদা পূর্ণরূপে করে না। অথবা তিনি বললেন, সে রুকূ ও সিজদাতে তার পিঠ সোজা করে না। (অর্থাৎ তাড়াহুড়া করে চট্পট রুকু-সিজদা করে।)
أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبيْ هِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَسْوَأُ النَّاسِ سَرِقَةً الَّذِي يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ قَالُوْا يَا رَسُولَ اللهِ وَكَيْفَ يَسْرِقُ مِنْ صَلَاتِهِ ؟ قَالَ لَا يُتِمُّ رُكُوعَهَا وَلَا سُجُودَهَا أَوْ قَالَ لَا يُقِيمُ صُلْبَهُ فِي الرُّكُوعِ وَالسُّجُودِ
পরিচ্ছেদঃ রুকূ-সিজদা সঠিকভাবে না করা
(৮৪৯) আবু আব্দুল্লাহ আশআরী (রাঃ) বলেন, একদা আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে তার নামাযে পূর্ণভাবে রুকূ করছে না এবং ঠক্ঠক্ করে (তাড়াতাড়ি) সিজদা করছে। এ দেখে তিনি বললেন, এ ব্যক্তি যদি এই অবস্থায় মারা যায়, তাহলে তার মরণ মুহাম্মাদী মিল্লতের উপর হবে না।
অতঃপর তিনি বললেন, যে ব্যক্তি তার রুকূ সম্পূর্ণরূপে করে না এবং ঠকাঠক্ (তাড়াহুড়া করে) সিজদা করে তার উদাহরণ সেই ক্ষুধার্ত ব্যক্তির মত যে, একটি অথবা দু’টি খেজুর তো খায়, অথচ তা তাকে মোটেই পরিতৃপ্ত করে না।
عَنْ أَبيْ عَبْدِ اللهِ الأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ تَعَالَى عَنهُ أَن ّرَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى رَجُلا لا يُتِمَّ رُكُوعَهُ يَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ وَهُوَ يُصَلِّي فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لَوْ مَاتَ هَذَا عَلَى حَالِهِ هَذِهِ مَاتَ عَلَى غَيْرِ مِلَّةِ مُحَمَّدٍ ﷺ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَثَلُ الَّذِي لا يُتِمُّ رُكُوعَهُ ويَنْقُرُ فِي سُجُودِهِ مَثَلُ الْجَائِعِ يَأْكُلُ التَّمْرَةَ وَالتَّمْرَتَينِ لاَ تُُغْنِيَانِ عَنهُ شَيْئًا
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের ফযীলত
(৮৫০) আবূ হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার অলীর বিরুদ্ধে শত্রুতা পোষণ করবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করব। বান্দা যা কিছু দিয়ে আমার নৈকট্য লাভ করে থাকে তার মধ্যে আমার নিকট প্রিয়তম হল সেই ইবাদত, যা আমি তার উপর ফরয করেছি। আর সে নফল ইবাদত দ্বারা আমার নৈকট্য অর্জন করতে থাকে। পরিশেষে আমি তাকে ভালোবাসি।
অতঃপর আমি তার শোনার কান হয়ে যাই, তার দেখার চোখ হয়ে যাই, তার ধরার হাত হয়ে যাই, তার চলার পা হয়ে যাই! সে আমার কাছে কিছু চাইলে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। সে আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় দিয়ে থাকি। আর আমি যে কাজ করি তাতে কোন দ্বিধা করি না—যতটা দ্বিধা করি এজন মুমিনের জীবন সম্পর্কে; কারণ, সে মরণকে অপছন্দ করে। আর আমি তার (বেঁচে থেকে) কষ্ট পাওয়াকে অপছন্দ করি।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِنَّ اللهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ وَمَا تَقَرَّبَ إِلَيَّ عَبْدِي بِشَيْءٍ أَحَبَّ إِلَيَّ مِمَّا افْتَرَضْتُ عَلَيْهِ وَمَا يَزَالُ عَبْدِي يَتَقَرَّبُ إِلَيَّ بِالنَّوَافِلِ حَتَّى أُحِبَّهُ فَإِذَا أَحْبَبْتُهُ كُنْتُ سَمْعَهُ الَّذِي يَسْمَعُ بِهِ وَبَصَرَهُ الَّذِي يُبْصِرُ بِهِ وَيَدَهُ الَّتِي يَبْطِشُ بِهَا وَرِجْلَهُ الَّتِي يَمْشِي بِهَا وَإِنْ سَأَلَنِي لَأُعْطِيَنَّهُ وَلَئِنْ اسْتَعَاذَنِي لَأُعِيذَنَّهُ وَمَا تَرَدَّدْتُ عَن شَيْءٍ أَنَا فَاعِلُهُ تَرَدُّدِي عَن نَفْسِ الْمُؤْمِنِ يَكْرَهُ الْمَوْتَ وَأَنَا أَكْرَهُ مَسَاءَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের ফযীলত
(৮৫১) সাওবান (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, তুমি আল্লাহর জন্য অধিকাধিক সিজদা করাকে অভ্যাস বানিয়ে নাও; কারণ যখনই তুমি আল্লাহর জন্য একটি সিজদা করবে তখনই আল্লাহ তার বিনিময়ে তোমাকে একটি মর্যাদায় উন্নীত করবেন এবং তার দরুন একটি গোনাহ মোচন করবেন।
عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ قاَلَ لَهُ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَلَيْكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ لِلهِ فَإِنَّكَ لاَ تَسْجُدُ لِلهِ سَجْدَةً إِلاَّ رَفَعَكَ اللهُ بِهَا دَرَجَةً وَحَطَّ عَنكَ بِهَا خَطِيئَةً
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের ফযীলত
(৮৫২) রবীআহ বিন কা’ব আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রাত্রিবাস করতাম এবং তাঁর ওযুর পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস হাজির করে দিতাম। একদা তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার নিকট কিছু চাও। আমি বললাম, আমি জান্নাতে আপনার সংসর্গ চাই। তিনি বললেন, এ ছাড়া আর কিছু? আমি বললাম, ওটাই (আমার বাসনা)। তিনি বললেন, তাহলে অধিক অধিক সিজদা করে (নফল নামায পড়ে) এ ব্যাপারে আমার সহায়তা কর।
عَن رَبِيعَةَ بْنِ كَعْبٍ الأَسْلَمِىُّ قَالَ كُنْتُ أَبِيتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَأَتَيْتُهُ بِوَضُوئِهِ وَحَاجَتِهِ فَقَالَ لِى سَلْ فَقُلْتُ أَسْأَلُكَ مُرَافَقَتَكَ فِى الْجَنَّةِ قَالَ أَوَغَيْرَ ذَلِكَ قُلْتُ هُوَ ذَاك قَالَ فَأَعَنى عَلَى نَفْسِكَ بِكَثْرَةِ السُّجُودِ
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের ফযীলত
(৮৫৩) উক্ত রবীআহ বিন কা’ব বলেন, আমি দিনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর খেদমত করতাম এবং রাতে তাঁরই দরজার চৌকাঠে (মাথা রেখে) ঘুমিয়ে পড়তাম। এভাবে তাঁর নিকট এক রাত্রি যাপনকালে আমি শুনছিলাম, তিনি অনবরত বলে যাচ্ছিলেন, ’সুবহা-নাল্লা-হ’ ’সুবহা-নাল্লা-হ’ সুবহা-নাল্লা-হ’ ’সুবহা-না রাব্বী’ (আমি আমার মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি আমার মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি আমার মহান প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।) পরিশেষে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়লাম অথবা ঘুম পেয়ে বসলে আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদা আমাকে বললেন, হে রাবীআ’! আমার কাছে কিছু চাও, আমি তোমাকে দেবো। তখন আমি বললাম, আমাকে একটু সময় দিন যাতে ভেবে নিতে পারি (কী চাওয়া যায়)।
অতঃপর আমি ভেবে দেখলাম যে, দুনিয়া ধ্বংসশীল ও ক্ষণস্থায়ী। তাই বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি চাই যে, আপনি আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ করে দিন, যাতে তিনি আমাকে জাহান্নাম থেকে নিষ্কীতি দেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করান। (এ কথা শুনে) তিনি চুপ করে গেলেন। অতঃপর বললেন, এ জিনিস চাওয়ার কথা তোমাকে কে শিখিয়ে দিয়েছে? তিনি বললেন, এটা আমাকে কেউ শিখিয়ে দেয়নি, তবে আমি যখন জানলাম যে, দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী ও ধ্বংসশীল আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আপনার রয়েছে বিশেষ মর্যাদা তাই এটাই ভালো মনে করলাম যে, আপনি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দু’আ করে দেন। তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি দু’আ করবো, কিন্তু তুমি অধিকাধিক সিজদা করে (অর্থাৎ প্রচুর নফল নামায পড়ে) তোমার (এ আশা পূরণের) জন্য আমাকে সাহায্য করো।
عَن رَبِيعَةَ بن كَعْبٍ قَالَ : كُنْتُ أَخْدُمُ رَسُولَ اللهِ ﷺ نَهَارِي فَإِذَا كَانَ اللَّيْلُ أَوَيْتُ إِلَى بَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَبَتُّ عَندَهُ فَلا أَزَالُ أَسْمَعُهُ يَقُولُ : سُبْحَانَ اللهِ سُبْحَانَ رَبِّي حَتَّى أَمَلُّ أَوْ تَغْلِبَنِي عَيْنِي فَأَنَامُ فَقَالَ ذَاتَ يَوْمٍ : يَا رَبِيعَةُ سَلْنِي فَأُعْطِيَكَ قُلْتُ : أَنْظِرْنِي حَتَّى أَنْظُرَ وتَذَكَرْتُ أَنَّ الدُّنْيَا فَانِيَةٌ مُنْقَطِعَةٌ فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَسْأَلُكَ أنْ تَدْعُوَ اللهَ أَنْ يُجَنِّبَنِي مِنَ النَّارِ وَيُدْخِلَنِي الْجَنَّةَ فَسَكَتَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ : مَنْ أَمَرَكَ بِهَذَا ؟ قُلْتُ : مَا أَمَرَنِي بِهِ أَحَدٌ وَلَكِنِّي عَلِمْتُ أَنَّ الدُّنْيَا مُنْقَطِعَةٌ فَانِيَةٌ وَأَنْتَ مِنَ اللهِ بِالْمَكَانِ الَّذِي أَنْتَ بِهِ أَحْبَبْتُ أنْ تَدْعُوَ اللهَ قَالَ : إِنِّي فَاعِلٌ فَأَعَني بِكَثْرَةِ السُّجُودِ
পরিচ্ছেদঃ নির্জন প্রান্তরে স্বলাত
(৮৫৪) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমার প্রতিপালক বিস্মিত হন পর্বত চূড়ায় সেই ছাগলের রাখালকে দেখে যে নামাযের জন্য আযান দিয়ে (সেখানেই) নামায আদায় করে; আল্লাহ আযযা অজাল্ল বলেন, তোমরা আমার এই বান্দাকে লক্ষ্য কর, (এমন জায়গাতেও) আযান দিয়ে নামায কায়েম করছে! সে আমাকে ভয় করে। আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করালাম।
عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُولُ يَعْجَبُ رَبُّكُمْ مِنْ رَاعِى غَنَمٍ فِى رَأْسِ شَظِيَّةٍ بِجَبَلٍ يُؤَذِّنُ بِالصَّلاَةِ وَيُصَلِّى فَيَقُولُ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِى هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلاَةَ يَخَافُ مِنِّى فَقَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِى وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ
পরিচ্ছেদঃ নির্জন প্রান্তরে স্বলাত
(৮৫৫) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, জামাআতে পড়া নামায পঁচিশটি নামাযের সমতুল্য। যদি কেউ সেই নামায কোন জনশূন্য প্রান্তরে পড়ে এবং তার রুকু ও সিজদা পূর্ণরূপে আদায় করে, তবে ঐ নামায পঞ্চাশটি নামাযের সমমানে পৌঁছায়।
عَن أَبِى سَعِيدٍ الْخُدْرِىِّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الصَّلاَةُ فِى جَمَاعَةٍ تَعْدِلُ خَمْسًا وَعِشْرِينَ صَلاَةً فَإِذَا صَلاَّهَا فِى فَلاَةٍ فَأَتَمَّ رُكُوعَهَا وَسُجُودَهَا بَلَغَتْ خَمْسِينَ صَلاَةً
পরিচ্ছেদঃ নির্জন প্রান্তরে স্বলাত
(৮৫৬) সালমান ফারেসী (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন ব্যক্তি যখন কোন বৃক্ষ-পানিহীন প্রান্তরে থাকে, অতঃপর সেখানে নামাযের সময় উপস্থিত হয়, তখন সে যেন ওযু করে। পানি না পেলে যেন তায়াম্মুম করে। অতঃপর সে যদি শুধু ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার সাথে তার সঙ্গী দুই ফিরিশতা নামায পড়েন। কিন্তু সে যদি আযান দিয়ে ও ইকামত দিয়ে নামায পড়ে, তাহলে তার পশ্চাতে আল্লাহর এত ফিরিশতা নামায পড়েন, যাদের দুই প্রান্ত নজরে আসে না!
عَن سَلْمَانَ الْفَارِسِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ بِأَرْضِ قِيٍّ فَحَانَتِ الصَّلاةُ فَلْيَتَوَضَّأْ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ مَاءً فَلْيَتَيَمَّمْ فَإِنْ أَقَامَ صَلَّى مَعَهُ مَلَكَاهُ وَإِنْ أَذَّنَ وَأَقَامَ صَلَّى خَلْفَهُ مِنْ جُنُودِ اللهِ مَا لا يُرَى طَرَفَاهُ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের সাথে সুন্নাতে ‘মুআক্কাদাহ’ পড়ার ফযীলত। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ও তার মাঝামাঝি রাকআত-সংখ্যার বিবরণ
(৮৫৭) মু’মিন জননী উম্মে হাবীবাহ রামলা বিনতে আবূ সুফিয়ান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, যে কোন মুসলিম ব্যক্তি আল্লাহর (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য প্রত্যহ ফরয নামায ছাড়া বারো রাকআত সুন্নত নামায পড়ে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের মধ্যে একটি গৃহ নির্মাণ করেন অথবা তার জন্য জান্নাতে একটি গৃহ নির্মাণ করা হয়।
وَعَن أُمِّ المُؤْمِنِينَ أُمِّ حَبِيبَةَ رَمْلَةَ بِنْتِ أَبِي سُفْيَانَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَتْ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ يَقُوْلُ مَا مِنْ عَبْدٍ مُسْلِمٍ يُصَلِّي للهِ تَعَالىَ كُلَّ يَوْمٍ ثِنْتَيْ عَشرَةَ رَكْعَةً تَطَوُّعاً غَيرَ الفَرِيضَةِ إِلاَّ بَنَى اللهُ لَهُ بَيْتاً فِي الجَنَّةِ أَوْ إِلاَّ بُنِيَ لَهُ بَيْتٌ فِي الجَنَّةِ رواه مُسلِمٌ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের সাথে সুন্নাতে ‘মুআক্কাদাহ’ পড়ার ফযীলত। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ও তার মাঝামাঝি রাকআত-সংখ্যার বিবরণ
(৮৫৮) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মনিষ্ঠভাবে দিবারাত্রে বারো রাকআত নামায পড়বে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে (অথবা জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করা হবে); যোহরের (ফরয নামাযের) পূর্বে (এক সালামে) চার রাকআত ও পরে দুই রাকআত, মাগরেবের পর দুই রাকআত, এশার পর দুই রাকআত এবং ফজরের (ফরযের) পূর্বে দুই রাকআত।
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ’’مَنْ ثَابَرَ عَلَى اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَة فِي الْيَومِ وَاللَّيْلَة دَخَلَ الْجَنَّة أَرْبَعاً قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَينِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَينِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَينِ بَعْدَ الْعِشَاء وَرَكْعَتَينِ قَبْلَ الْفَجْر
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের সাথে সুন্নাতে ‘মুআক্কাদাহ’ পড়ার ফযীলত। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ও তার মাঝামাঝি রাকআত-সংখ্যার বিবরণ
(৮৫৯) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে আমি দু’ রাকআত যোহরের (ফরযের) আগে, দু’ রাকআত তার পরে এবং দু’ রাকআত জুমআর পরে, দু’ রাকআত মাগরেব বাদ, আর দু’ রাকআত নামায এশার (ফরযের) পরে পড়েছি।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتْينِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ الجُمُعَةِ وَرَكْعَتَينِ بَعدَ المَغْرِبِ وَرَكْعَتَينِ بَعدَ العِشَاءِ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফরয নামাযের সাথে সুন্নাতে ‘মুআক্কাদাহ’ পড়ার ফযীলত। আর সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ও তার মাঝামাঝি রাকআত-সংখ্যার বিবরণ
(৮৬০) আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে। প্রত্যেক দুই আযানের মাঝখানে নামায আছে। তৃতীয়বারে বললেন, যে চায় তার জন্য।
’দুই আযানের মাঝখানে’ অর্থাৎ আযান ও ইক্বামতের মধ্যবর্তী সময়ে।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَينِ صَلاَةٌ قَالَ في الثَّالِثةِ لِمَنْ شَاءَ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব
(৮৬১) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের (ফরয নামাযের) পূর্বে চার রাকআত ও ফজরের আগে দু’ রাকআত নামায কখনো ত্যাগ করতেন না।
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعاً قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الغَدَاةِ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব
(৮৬২) উক্ত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের প্রতি যেরূপ যত্নবান ছিলেন, সেরূপ অন্য কোন নফল নামাযের প্রতি ছিলেন না।
وَعَنْهُ ا قَالَتْ : لَمْ يَكُنِ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى شَيْءٍ مِنَ النَّوَافِلِ أَشَدَّ تَعَاهُداً مِنهُ عَلَى رَكْعَتَي الفَجْرِ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব
(৮৬৩) উক্ত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ফজরের দু’ রাকআত (সুন্নত) পৃথিবী ও তাতে যা কিছু আছে সবার চেয়ে উত্তম।
অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, ঐ দুই রাকআত আমার নিকট দুনিয়ার সবকিছু থেকে অধিক প্রিয়।
وَعَنْهُ ا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ رَكْعَتَا الفَجْرِ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا رواه مُسلِمٌ وفي رواية لَهُمَا أحَبُّ إليَّ مِنَ الدُّنْيَا جَمِيعاً
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতের গুরুত্ব
(৮৬৪) আবূ আব্দুল্লাহ বিলাল ইবনে রাবাহ যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুআযযিন ছিলেন। (একবার) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ফজরের নামাযের খবর দেবার মানসে তাঁর নিকট হাযির হলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রাখলেন, তিনি যে সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভোর খুব বেশি পরিস্ফুট হয়ে পড়ল, সুতরাং বিলাল দাঁড়িয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে নামাযের খবর দিলেন এবং বারংবার জানাতে থাকলেন। কিন্তু তিনি বাইরে এলেন না। (তার কিছুক্ষণ পর) তিনি এলেন ও লোকদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন।
তখন বিলাল (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জানালেন যে, আয়েশা (রাঃ) তাঁকে এমন বিষয়ে ব্যস্ত রেখেছিলেন, যে সম্পর্কে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন। শেষ পর্যন্ত খুব ফর্সা হয়ে গেল এবং তিনিও বাইরে আসতে দেরি করলেন। তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আমি ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ছিলাম। বিলাল বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি তো একদম সকাল করে দিলেন। তিনি বললেন, তার চেয়েও বেশি সকাল হয়ে গেলেও, আমি ঐ দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম এবং সুন্দর ও উত্তমরূপে পড়তাম।
وَعَنْ أَبيْ عَبدِ اللهِ بِلاَلِ بنِ رَبَاح مُؤَذِّنِ رَسُولِ اللهِ ﷺ : أَنَّهُ أَتَى رَسُولَ اللهِ ﷺ لِيُؤْذِنَهُ بِصَلاَةِ الغَدَاةِ فَشَغَلَتْ عَائِشَةُ بِلالاً بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدّاً فَقَامَ بِلاَلٌ فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ وَتَابَعَ أَذَانَهُ فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَلَمَّا خَرَجَ صَلَّى بِالنَّاسِ فَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ شَغَلَتْهُ بِأَمْرٍ سَأَلَتْهُ عَنهُ حَتَّى أَصْبَحَ جِدّاً وَأنَّهُ أَبْطَأَ عَلَيْهِ بِالخُرُوجِ فَقَالَ - يَعَني النَّبِيَّ ﷺ إنِّي كُنْتُ رَكَعْتُ رَكْعْتَي الفَجْرِ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ إنَّكَ أَصْبَحْتَ جِدّاً ؟ فقَالَ لَوْ أَصْبَحْتُ أَكْثَرَ مِمَّا أَصْبَحْتُ لَرَكَعْتُهُمَا وَأَحْسَنْتُهُمَا وَأَجْمَلْتُهُمَا رواه أبُو دَاوُدَ بإسناد حسن
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৬৫) আয়েশা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সময় আযান ও ইকামতের মাঝখানে সংক্ষিপ্ত দু’ রাকআত নামায পড়তেন। (বুখারী ৬১৯, মুসলিম ১৭১৬)
উভয়ের অন্য বর্ণনায় আছে, আযান শোনার পর তিনি ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত এত সংক্ষেপে পড়তেন যে, আমি (মনে মনে) বলতাম, তিনি সূরা ফাতেহাও পাঠ করলেন কি না (সন্দেহ)? (বুখারী ১১৭১, মুসলিম ১৭১৭-১৭১৮)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যখন তিনি আযান শুনতেন তখন ঐ দু’ রাকআত সংক্ষিপ্তভাবে পড়তেন। অন্য বর্ণনায় আরো আছে, যখন ফজর উদয় হয়ে যেত। (১৭১৪-১৭১৫)
عَن عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ بَيْنَ النِّدَاءِ وَاِلإقَامَةِ مِنْ صَلاَةِ الصُّبْحِ متفقٌ عَلَيهِ
وفي روايَةٍ لَهُمَا : يُصَلِّي رَكْعَتَي الفَجْرِ فَيُخَفِّفُهُمَا حَتَّى أَقُولَ : هَلْ قَرَأَ فِيهِمَا بِأُمِّ القُرْآنِ
وفي رواية لمسلم: كَانَ يُصلِّي رَكْعَتَي الفَجْرِ إِذَا سَمِعَ الأَذَانَ وَيُخَفِّفُهُمَا وفي رواية: إذَا طَلَعَ الفَجْرُ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৬৬) হাফসা (রাঃ) হতে বর্ণিত, যখন মুআযযিন আযান দিত ও ফজর উদয় হত তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায পড়তেন। (বুখারী ৬১৮, মুসলিম ১৭০৯)
মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, যখন ফজর উদয় হত, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু’ রাকআত সংক্ষিপ্ত নামায ছাড়া অন্য নামায পড়তেন না। (মুসলিম ১৭১১)
وَعَن حَفصَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ إِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ لِلْصُّبْحِ وَبَدَا الصُّبْحُ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ متفقٌ عَلَيهِ
وفي رواية لمسلم : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا طَلَعَ الفَجْرُ لاَ يُصَلِّي إِلاَّ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৬৭) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে (তাহাজ্জুদের নামায) দুই দুই রাকআত করে পড়তেন। আর রাতের শেষ ভাগে এক রাকআত বিতর পড়তেন। ফজরের নামাযের পূর্বে দু’ রাকআত (সুন্নত) পড়তেন। আর এত দ্রুত পড়তেন যেন তাকবীর-ধ্বনি তাঁর কানে পড়ছে।
وَعَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ مَثْنَى مَثْنَى وَيُوتِرُ بِرَكْعَةٍ مِنْ آخِرِ اللَّيْلِ وَيُصَلِّي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ صَلاَةِ الغَدَاةِ وَكَأَنَّ الأَذَانَ بِأُذُنَيْهِ متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৬৮) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সুন্নত নামাযের প্রথম রাকআতে ’ক্বূলূ আমান্না বিল্লাহি অমা উনযিলা ইলাইনা’ (১৩৬নং) শেষ আয়াত পর্যন্ত - যেটি সূরা বাক্বারায় আছে - পাঠ করতেন। আর তার দ্বিতীয় রাকআতে ’আমান্না বিল্লাহি অশহাদ বিআন্না মুসলিমূন’ (আলে ইমরানের ৫২নং আয়াত) পড়তেন।
অন্য বর্ণনায় আছে, দ্বিতীয় রাকআতে আলে-ইমরানের (৬৪নং আয়াত) ’তা’আলাউ ইলা কালিমাতিন সাওয়াইন বাইনানা অবাইনাকুম’ পাঠ করতেন।
وَعَن ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يَقْرَأُ فِي رَكْعَتَي الفَجْرِ فِي الأُولَى مِنْهُمَا : قُولُوا آمَنَّا بِاللهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْنَا الآيَةَ الَّتِي فِي البَقَرَةِ وَفِي الآخِرَةِ مِنْهُمَا : آمَنَّا بِاللهِ وَاشْهَدْ بِأنَّا مُسْلِمُونَ
وفي رواية: وَفِي الآخِرَةِ الَّتي فِي آلِ عِمْرَانَ: تَعَالَوْا إلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৬৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের দু’ রাকআত সুন্নতে সূরা ’ক্বুল ইয়া আইয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ’ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَرَأَ فِي رَكْعَتَي الفَجْرِ قُلْ يَا أَيُّهَا الكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ
পরিচ্ছেদঃ ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত হালকা পড়া, তাতে কী সূরা পড়া হয় এবং তার সময় কী?
(৮৭০) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক মাস ব্যাপী লক্ষ্য করে দেখলাম, তিনি ফজরের আগে দু’রাকআত সুন্নত নামাযে এই দুই সূরা ’ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন’ ও ’ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ’ পাঠ করতেন।
وَعَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : رَمَقْتُ النَّبيَّ ﷺ شَهْراً فَكَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الفَجْرِ: قُلْ يَا أيُّهَا الْكَافِرُونَ وَ قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ তাহজ্জুদের নামায পড়ুক আর না পড়ুক ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ে ডান পার্শ্বে শোয়া মুস্তাহাব ও তার প্রতি উৎসাহ দান।
(৮৭১) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়তেন, তখন ডান পার্শ্বে শুয়ে (বিশ্রাম) নিতেন।
عَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إذَا صَلَّى رَكعَتَي الفَجْرِ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَن
পরিচ্ছেদঃ তাহজ্জুদের নামায পড়ুক আর না পড়ুক ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ে ডান পার্শ্বে শোয়া মুস্তাহাব ও তার প্রতি উৎসাহ দান।
(৮৭২) উক্ত আয়েশা (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামায শেষ করার পর থেকে নিয়ে ফজরের নামায অবধি এগার রাকআত (তাহাজ্জুদের নামায পড়তেন)। প্রত্যেক দু’ রাকআতে সালাম ফিরতেন এবং এক রাকআত বিতর পড়তেন। অতঃপর যখন মুআযযিন ফজরের নামাযের আযান দিয়ে চুপ হত এবং ফজর তাঁর সামনে উজ্জ্বল হয়ে উঠত, আর মুআযযিন (ফজরের সময় সম্পর্কে অবহিত করার জন্য) তাঁর কাছে আসত, তখন তিনি উঠে সংক্ষিপ্তভাবে দু’ রাকআত নামায পড়ে নিতেন। তারপর ডান পার্শ্বে শুয়ে (জিরিয়ে) নিতেন। এইভাবে মুআযযিন নামাযের তাকবীর দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে হাযির হওয়া পর্যন্ত (তিনি শুয়ে থাকতেন)।
’প্রত্যেক দুই রাকআতে সালাম ফিরতেন।’ এরূপ মুসলিম শরীফে উল্লিখিত হয়েছে। এর মানে ’প্রত্যেক দু’ রাকআত পর।’
وَعَنْهُ ا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي فِيمَا بَيْنَ أَنْ يَفْرُغَ مِنْ صَلاَةِ العِشَاءِ إلَى الفَجْرِ إِحْدَى عَشرَةَ رَكْعَةً يُسَلِّمُ بَيْنَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ وَيُوتِرُ بِوَاحِدَةٍ فَإِذَا سَكَتَ المُؤَذِّنُ مِنْ صَلاَةِ الفَجْرِ وَتَبَيَّنَ لَهُ الفَجْرُ وَجَاءهُ المُؤَذِّنُ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَينِ ثُمَّ اضْطَجَعَ عَلَى شِقِّهِ الأَيْمَنِ هكَذَا حَتَّى يأْتِيَهُ المُؤَذِّنُ لِلإِقَامَةِ رَوَاهُ مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ তাহজ্জুদের নামায পড়ুক আর না পড়ুক ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ে ডান পার্শ্বে শোয়া মুস্তাহাব ও তার প্রতি উৎসাহ দান।
(৮৭৩) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়বে, তখন সে যেন তার ডান পার্শ্বে শুয়ে যায়
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺإِذَا صَلَّى أَحَدُكُمْ رَكْعَتَي الفَجْرِ فَلْيَضْطَجِعْ عَلَى يَمِينِهِ رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ بأسانيد صحيحة قال الترمذي حديث حسن صحيح
পরিচ্ছেদঃ তাহজ্জুদের নামায পড়ুক আর না পড়ুক ফজরের দু’ রাকআত সুন্নত পড়ে ডান পার্শ্বে শোয়া মুস্তাহাব ও তার প্রতি উৎসাহ দান।
(৮৭৪) উক্ত আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি ফজরের ২ রাকআত (সুন্নত) না পড়ে থাকে, সে যেন তা সূর্য ওঠার পর পড়ে নেয়।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيِ الْفَجْرِ فَلْيُصَلِّهِمَا بَعْدَ مَا تَطْلُعُ الشَّمْسُ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৭৫) আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যোহরের আগে দু’ রাকআত ও তার পরে দু’ রাকআত সুন্নত পড়েছি।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ : صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ رَكْعَتَيْنِ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَهَا متفقٌ عَلَيهِ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৭৬) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের আগে চার রাকআত সুন্নত ত্যাগ করতেন না।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ لاَ يَدَعُ أَرْبَعاً قَبْلَ الظُّهْرِ رَوَاهُ البُخَارِيُّ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৭৭) উক্ত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে যোহরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নত পড়তেন, তারপর (মসজিদে) বের হয়ে গিয়ে লোকেদেরকে নিয়ে নামায পড়তেন। অতঃপর ঘরে প্রবেশ করতেন এবং দু’ রাকআত সুন্নত পড়তেন। তিনি লোকেদেরকে নিয়ে মাগরেবের নামায পড়ার পর আমার ঘরে প্রবেশ করতেন এবং দু’ রাকআত সুন্নত পড়তেন। (অনুরূপভাবে) তিনি লোকেদেরকে নিয়ে এশার নামায পড়তেন, অতঃপর আমার ঘরে ফিরে এসে দু’ রাকআত সুন্নত পড়তেন।
وَعَنْهُ ا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي فِي بَيْتِي قَبْلَ الظُّهْرِ أَرْبَعاً ثُمَّ يَخْرُجُ فَيُصَلِّي بِالنَّاسِ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ يُصَلِّي بِالنَّاسِ المَغْرِبَ ثُمَّ يَدْخُلُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَيُصَلِّي بِالنَّاسِ العِشَاءِ وَيَدْخُلُ بَيتِي فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَوَاهُ مُسلِم
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৭৮) উম্মে হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যোহরের ফরয নামাযের পূর্বে চার রাকআত ও পরে চার রাকআত সুন্নত পড়তে যত্নবান হবে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।
وَعَن أُمِّ حَبِيبَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا قَالَتْ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ حَافَظَ عَلَى أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ قَبْلَ الظُّهْرِ وَأَرْبَعٍ بَعْدَهَا حَرَّمَهُ اللهُ عَلَى النَّارِ رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صحيح
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৭৯) আব্দুল্লাহ ইবনে সায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত, সূর্য (পশ্চিম গগনে) ঢলে যাবার পর, যোহরের ফরযের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাকআত সুন্নত নামায পড়তেন। আর বলতেন, এটা এমন সময়, যখন আসমানের দ্বারসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তাই আমার পছন্দ যে, সে সময়েই আমার সৎকর্ম ঊর্ধ্বে উঠুক।
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ السَّائِبِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ كَانَ يُصَلِّي أَرْبَعاً بَعْدَ أَنْ تَزُولَ الشَّمْسُ قَبْلَ الظُّهْرِ وَقَالَ إِنَّهَا سَاعَةٌ تُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَأُحِبُّ أَنْ يَصْعَدَ لِي فِيهَا عَمَلٌ صَالِحٌ رواه التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৮০) আবূ আইউব (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যোহরের পূর্বে ৪ রাকআত; যার মাঝে কোন সালাম নেই, তার জন্য আসমানের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করা হয়।
عَن أَبِى أَيُّوبَ عَن النَّبِىِّ ﷺ قَالَ أَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ لَيْسَ فِيهِنَّ تَسْلِيمٌ تُفْتَحُ لَهُنَّ أَبْوَابُ السَّمَاءِ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৮১) আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য ঢলার সময় ৪ রাকআত নামায প্রত্যহ পড়তেন। একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনি সূর্য ঢলার সময় এই ৪ রাকআত প্রত্যহ পড়ছেন? তিনি বললেন, সূর্য ঢলার সময় আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং যোহরের নামায না পড়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয় না। অতএব আমি পছন্দ করি যে, এই সময় আমার নেক আমল (আকাশে আল্লাহর নিকট) উঠানো হোক। আমি বললাম, তার প্রত্যেক রাকআতেই কি ক্বিরাআত আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তার মাঝে কি পৃথককারী সালাম আছে? তিনি বললেন, না।
عَنْ أَبيِ أَيُّوْبَ الْأَنْصَارِيْ رَضِيَ اللهُ عَنهُ : أُنَّ النَّبِيَ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كاَنَ يُدْمِنُ أَرْبَعُ رَكْعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَقُلْتُ : يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنَّكَ تُدْمِنُ هَذِهِ الأْرْبَعَ رَكَعَاتٍ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ ؟ فَقَالَ إِنَّ أَبْوَابِ السَّمَاءِ تُفْتَحُ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ فَلاَ تُرَتِّجُ حَتَّى يُصَلِّى الظُّهْرَ فَأُحِبُّ أَنْ يَّصْعَدَ لِيْ فِيْ تِلْكَ السَّاعَةِ خَيْرٌ قُلْتُ : أَفِيْ كُلِّهِنَّ قِرَاءَةٌ ؟ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ : هَلْ فِيْهِنَّ تَسْلِيْمٌ فَاصِلٌ ؟ قَالَ لاَ
পরিচ্ছেদঃ যোহরের সুন্নত
(৮৮২) আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যোহরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নত পড়তে সুযোগ পেতেন না, তখন তার পরে তা পড়ে নিতেন।
وَعَن عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنهَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ إِذَا لَمْ يُصَلِّ أَربَعاً قَبلَ الظُّهْرِ صَلاَّهُنَّ بَعْدَهَا رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ আসরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৩) আলী ইবনে আবী তালেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের ফরয নামাযের আগে চার রাকআত সুন্নত পড়তেন। তার মাঝখানে নিকটবর্তী ফিরিশতাবর্গ ও তাঁদের অনুসারী মুসলিম ও মু’মিনদের প্রতি সালাম পেশ করার মাধ্যমে পার্থক্য করতেন। (তিরমিযী ৪২৯, হাসান)
অন্য বর্ণনায় আছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পূর্বে ৪ রাকআত নামায পড়তেন এবং প্রত্যেক দুই রাকআতে আল্লাহর নিকটবর্তী ফিরিশতা, আম্বিয়া ও তাঁদের অনুসারী মুমিন-মুসলিমদের প্রতি সালাম (তাশাহহুদ) দিয়ে তা পৃথক করতেন। আর সর্বশেষে সালাম ফিরতেন। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, সিলসিলা সহীহাহ ২৩৭)
عَن عَلِيِّ بنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي قَبْلَ العَصْرِ أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ يَفْصِلُ بَيْنَهُنَّ بِالتَّسْلِيمِ عَلَى المَلائِكَةِ المُقَرَّبِينَ وَمَنْ تَبِعَهُمْ مِنَ المُسْلِمِينَ وَالمُؤْمِنِينَ رَوَاهُ التِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ আসরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৪) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ সেই ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে ব্যক্তি আসরের পূর্বে চার রাকআত সুন্নত পড়ে।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ رَحِمَ اللهُ امْرَءاً صَلَّى قَبْلَ العَصْرِ أَرْبَعاً رواه أبُو دَاوُدَ وَالتِّرمِذِيُّ وَقَالَ حَدِيثٌ حَسَنٌ
পরিচ্ছেদঃ মাগরেবের ফরয নামাযের পূর্বে ও পরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৫) আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (দু’বার) বললেন, তোমরা মাগরেবের পূর্বে (দু’ রাকআত) নামায পড়। অতঃপর তৃতীয় বারে তিনি বললেন, যার ইচ্ছা হবে, (সে পড়বে।)
وَعَن عَبْدِ اللهِ بْنِ مُغَفَّلٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ صَلُّوا قَبْلَ المَغْرِبِ قال في الثَّالِثَةِ لِمَنْ شَاءَ رواه البُخَارِيُّ
পরিচ্ছেদঃ মাগরেবের ফরয নামাযের পূর্বে ও পরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৬) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’আমি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বড় বড় সাহাবীদেরকে দেখেছি, তাঁরা মাগরেবের সময় থামগুলির দিকে দ্রুত বেগে অগ্রসর হতেন। (দু’ রাকআত সুন্নত পড়ার উদ্দেশ্যে।)
وَعَن أَنَسٍ قَالَ لَقَدْ رَأيْتُ كِبَارَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ ﷺ يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ عَندَ المَغْرِبِ
পরিচ্ছেদঃ মাগরেবের ফরয নামাযের পূর্বে ও পরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৭) উক্ত রাবী (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরেবের ফরয নামাযের আগে দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ দু’ রাকআত পড়তেন কি? তিনি বললেন, তিনি আমাদেরকে ওই দু’ রাকআত পড়তে দেখতেন, কিন্তু আমাদেরকে (তার জন্য) আদেশও করতেন না এবং তা থেকে বারণও করতেন না।
وَعَنْهُ قَالَ : كُنَّا نُصَلِّي عَلَى عَهدِ رَسُولِ اللهِ ﷺ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ قَبْلَ المَغْرِبِ فَقِيلَ : أَكَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلاَّهُمَا ؟ قَالَ : كَانَ يَرَانَا نُصَلِّيهِمَا فَلَمْ يَأمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ মাগরেবের ফরয নামাযের পূর্বে ও পরের সুন্নতের বিবরণ
(৮৮৮) উক্ত রাবী (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদীনাতে ছিলাম। যখন মুআযযিন মাগরেবের আযান দিত, তখন লোকেরা থামগুলির দিকে দ্রুত অগ্রসর হত এবং দু’ রাকআত নামায পড়ত। এমনকি কোন বিদেশী অচেনা মানুষ মসজিদে এলে, অধিকাংশ লোকের ঐ দু’ রাকআত পড়া দেখে মনে করত যে, (মাগরেবের ফরয) নামায পড়া হয়ে গেছে (এবং তারা পরের সুন্নত পড়ছে)।
وَعَنْهُ قَالَ : كُنَّا بِالمَدِينَةِ فَإِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ لِصَلاَةِ المَغْرِبِ ابْتَدَرُوا السَّوَارِيَ فَرَكَعُوا رَكْعَتَيْنِ حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ الغَرِيبَ لَيَدْخُلُ المَسْجِدَ فَيَحْسَبُ أَنَّ الصَّلاَةَ قَدْ صُلِّيَتْ مِنْ كَثْرَةِ مَنْ يُصَلِّيهِمَا رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ জুমআর সুন্নত
ইবনে উমার (রাঃ) এর পূর্বোক্ত হাদীস গত হয়েছে। তাতে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে জুমআর পর দু’ রাকআত সুন্নত পড়েছেন। (বুখারী ১১৬৫, মুসলিম ১৭৩২)
(৮৮৯) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন কোন ব্যক্তি জুমআর নামায আদায় করবে, তখন সে যেন তারপর চার রাকআত (সুন্নত) পড়ে।
وَعَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا صَلَّى أَحَدُكُم الجُمُعَةَ فَلْيُصَلِّ بَعْدَهَا أَرْبعاً
পরিচ্ছেদঃ জুমআর সুন্নত
(৮৯০) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর পর (মসজিদ থেকে) ফিরে না আসা পর্যন্ত কোন সুন্নত নামায পড়তেন না। সুতরাং নিজ বাড়িতে (এসে) দু’ রাকআত নামায পড়তেন।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ كَانَ لاَ يُصَلِّي بَعْدَ الجُمُعَةِ حَتَّى يَنْصَرِفَ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ في بَيْتِهِ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯১) যায়েদ ইবনে সাবেত (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে লোক সকল! তোমরা নিজ নিজ বাড়িতে নামায পড়। কারণ, ফরয নামায ব্যতীত পুরুষের উত্তম নামায হল, যা সে নিজ বাড়িতে পড়ে থাকে।
عَن زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ صَلُّوا أَيُّهَا النَّاسُ فِي بُيُوتِكُمْ فَإنَّ أفْضَلَ الصَّلاَةِ صَلاَةُ المَرْءِ فِي بَيْتِهِ إِلاَّ المَكْتُوبَةَ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯২) ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা নিজেদের কিছু নামায তোমাদের বাড়িতে পড় এবং সে (ঘর-বাড়ি)গুলিকে কবরে পরিণত করো না।
وَ عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ اجْعَلُوا مِنْ صَلاَتِكُمْ فِي بُيُوتِكُمْ وَلاَ تَتَّخِذُوهَا قُبُوراً متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯৩) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি স্বীয় (ফরয) নামায মসজিদে আদায় করে নেবে, সে যেন তার কিছু নামায নিজ বাড়ির জন্যও নির্ধারিত করে। কেননা, তার নিজ ঘরে আদায়কৃত (সুন্নত) নামাযে আল্লাহ তার জন্য কল্যাণ ও বরকত প্রদান করেন।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا قَضَى أَحَدُكُمْ صَلاَتَهُ فِي مَسْجِدِهِ فَلْيَجْعَلْ لِبَيْتِهِ نَصِيباً مِنْ صَلاَتِهِ فَإِنَّ اللهَ جَاعِلٌ فِي بَيْتِهِ مِنْ صَلاَتِهِ خَيْراً رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯৪) উমার ইবনে আত্বা হতে বর্ণিত, নাফে’ ইবনে জুবাইর তাঁকে নামেরের ভাগ্নে সায়েবের নিকট এমন একটি বিষয়ে প্রশ্ন করার উদ্দেশ্যে পাঠালেন, যা মুআবিয়া (রাঃ) তাঁকে নামাযের ব্যাপারে করতে দেখেছিলেন। তিনি বললেন, ’হ্যাঁ, আমি তাঁর (মুআবিয়া)র সাথে মাকসূরায় (মসজিদের মধ্যে বাদশাদের জন্য তৈরী বিশেষ নিরাপদস্থান) জুমআর নামায পড়েছি। সুতরাং যখন ইমাম সালাম ফিরলেন, তখন আমি যেখানে ফরয নামায পড়ছিলাম, সেখানেই উঠে দাঁড়িয়ে গেলাম এবং (সুন্নত) নামায পড়লাম।
তারপর যখন মুআবিয়া (রাঃ) বাড়ি প্রবেশ করলেন, তখন আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, তুমি যা করলে তা আগামীতে আর কখনো করো না। যখন তুমি জুমআর (ফরয) নামায পড়বে, তখন তার সাথে মিলিয়ে অন্য নামায পড়ো না; যতক্ষণ না তুমি কারো সাথে কথা বল অথবা সেখান থেকে অন্যত্র সরে যাও। কেননা, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আদেশ আমাদেরকে করেছেন যে, আমরা যেন এক নামাযকে অন্য নামাযের সাথে না মিলাই, যতক্ষণ না কোন লোকের সাথে কথা বলে নিই, কিংবা সেখান হতে অন্যত্র সরে যাই।
وَعَن عُمَرَ بنِ عَطَاءٍ : أَنَّ نَافِعَ بْنَ جُبَيْرٍ أَرْسَلَهُ إِلَى السَّائِبِ ابنِ أُخْتِ نَمِرٍ يَسأَلُهُ عَن شَيْءٍ رَآهُ مِنْهُ مُعَاوِيَةُ فِي الصَّلاَةِ فَقَالَ : نَعَمْ صَلَّيْتُ مَعَهُ الجُمُعَةَ في المَقْصُورَةِ فَلَمَّا سَلَّمَ الإمَامُ قُمْتُ فِي مَقَامِي فَصَلَّيْتُ فَلَمَّا دَخَلَ أَرْسَلَ إلَيَّ فَقَالَ: لاَ تَعُدْ لِمَا فَعَلْتَ إِذَا صَلَّيْتَ الجُمُعَةَ فَلاَ تَصِلْهَا بِصَلاةٍ حَتَّى تَتَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ فَإِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَمَرَنَا بِذَلِكَ أَن لاَ نُوصِلَ صَلاَةً بِصَلاَةٍ حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ رواه مسلم
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯৫) আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবাগণের এক ব্যক্তি হতে বর্ণিত, সম্ভবতঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উক্তি হিসাবেই বর্ণনা করে তিনি বলেন, লোকচক্ষুর সম্মুখে (নফল) নামায পড়া অপেক্ষা মানুষের স্বগৃহে নামায পড়ার ফযীলত ঠিক সেইরূপ, যেরূপ নফল নামায অপেক্ষা ফরয নামাযের ফযীলত বহুগুণে অধিক। ইমাম বাইহাক্বীর বলেন এটা নফল স্বলাতের ক্ষেত্রে।
عَن رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَضْلُ صَلَاةِ الرَّجُلِ فِي بَيْتِهِ عَلَى صَلَاتِهِ
حَيْثُ يَرَاهُ النَّاسُ كَفَضْلِ الْفَرِيضَةِ عَلَى التَّطَوُّعِ قَالَ الْبَيْهَقِيُّ رَحِمَهُ اللهُ: " وَهَذَا فِي صَلَاةِ النَّفْلِ
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯৬) সুহাইব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যেখানে লোকে দেখতে পায় সেখানে মানুষের নফল নামায অপেক্ষা যেখানে লোকে দেখতে পায় না সেখানের নামায ২৫টি নামাযের বরাবর।
عَن صُهَيْب رَضِيَ اللهُ عَنهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ - صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلاَةُ الرَّجُلِ تَطَوُّعاً حَيْثُ لاَ يَراهُ النَّاسُ تَعْدِلُ صَلاَتهُ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ خَمْساً وَعِشْرِينَ
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের নিষিদ্ধ সময়
(৮৯৭) ইবনে উমার (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা সূর্য উদয় ও অস্তকালকে তোমাদের নামাযের সময় নির্বাচন করো না। কারণ তা শয়তানের দুই শিঙের উপর উদয় হয় (এবং অস্ত যায়)।
عَنْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ وَلَا تَحَيَّنُوا بِصَلَاتِكُمْ طُلُوعَ الشَّمْسِ وَلَا غُرُوبَهَا فَإِنَّهَا تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ أَوْ الشَّيْطَانِ
পরিচ্ছেদঃ নফল (ও সুন্নত নামায) ঘরে পড়া উত্তম; তা সুন্নতে মুআক্কাদাহ হোক কিংবা অন্য কিছু। সুন্নত বা নফলের জন্য, যে স্থানে ফরয নামায পড়া হয়েছে সে স্থান পরিবর্তন করা বা ফরয ও তার মধ্যে কোন কথা দ্বারা ব্যবধান সৃষ্টি করার নির্দেশ
(৮৯৮) আনাস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায, এটা মুনাফিকের নামায। সে বসে বসে সূর্যের অপেক্ষা করতে থাকে। অবশেষে যখন সূর্য শয়তানের দু’টি শিঙের মধ্যবর্তী স্থানে (অস্ত যাওয়ার কাছাকাছি সময়ে) পৌঁছে, তখন (ত্বরিঘড়ি) উঠে চারটি ঠোকর মেরে নেয়; তাতে সে সামান্যই আল্লাহকে স্মরণ করে থাকে।
عَن أَنَسٍ قاَلَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ تِلْكَ صَلاَةُ الْمُنَافِقِ يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشَّمْسَ حَتَّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَىِ الشَّيْطَانِ قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا لاَ يَذْكُرُ اللهَ فِيهَا إِلاَّ قَلِيلاً
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের নিষিদ্ধ সময়
(৮৯৯) আমর বিন আবাসাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছেন, তুমি ফজরের নামায পড়। তারপর সূর্য এক বল্লম বরাবর উঁচু হওয়া পর্যন্ত বিরত থাকো। কারণ তা শয়তানের দুই শিং-এর মধ্যভাগে উদিত হয় (অর্থাৎ, এ সময় শয়তানরা ছড়িয়ে পড়ে) এবং সে সময় কাফেররা তাকে সিজদা করে। পুনরায় তুমি নামায পড়। কেননা, নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন, যতক্ষণ না ছায়া বল্লমের সমান হয়ে যায়। অতঃপর নামায থেকে বিরত হও। কেননা, তখন জাহান্নামের আগুন উস্কানো হয়। অতঃপর যখন ছায়া বাড়তে আরম্ভ করে, তখন নামায পড়। কেননা, এ নামাযে ফিরিশতা সাক্ষী ও উপস্থিত হন। পরিশেষে তুমি আসরের নামায পড়। অতঃপর সূর্য ডোবা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। কেননা, সূর্য শয়তানের দুই শিঙের মধ্যে অস্ত যায় এবং তখন কাফেররা তাকে সিজদাহ করে।
عَن عَمْرِو بْنِ عَبَسَة أنَّ رسول الله ﷺ قَالَ له صَلِّ صَلاَةَ الصُّبْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَن الصَّلاَةِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ حَتَّى تَرْتَفِعَ فَإِنَّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ ثُمَّ صَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى يَسْتَقِلَّ الظِّلُّ بِالرُّمْحِ ثُمَّ أَقْصِرْ عَن الصَّلاَةِ فَإِنَّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنَّمُ فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَىْءُ فَصَلِّ فَإِنَّ الصَّلاَةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتَّى تُصَلِّىَ الْعَصْرَ ثُمَّ أَقْصِرْ عَن الصَّلاَةِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَإِنَّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَىْ شَيْطَانٍ وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفَّارُ
পরিচ্ছেদঃ নফল নামাযের নিষিদ্ধ সময়
(৯০০) উক্ববা বিন আমের জুহানী (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে তিন সময়ে নামায পড়তে এবং মুর্দা দাফন করতে নিষেধ করতেন; (১) ঠিক সূর্য উদয় হওয়ার পর থেকে একটু উঁচু না হওয়া পর্যন্ত, (২) সূর্য ঠিক মাথার উপর আসার পর থেকে একটু ঢলে না যাওয়া পর্যন্ত এবং (৩) সূর্য ডোবার কাছাকাছি হওয়া থেকে ডুবে না যাওয়া পর্যন্ত।
عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِىَّ قَالَ: ثَلاَثُ سَاعَاتٍ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَنْهَانَا أَنْ نُصَلِّىَ فِيهِنَّ أَوْ أَنْ نَقْبُرَ فِيهِنَّ مَوْتَانَا حِينَ تَطْلُعُ الشَّمْسُ بَازِغَةً حَتَّى تَرْتَفِعَ وَحِينَ يَقُومُ قَائِمُ الظَّهِيرَةِ حَتَّى تَمِيلَ الشَّمْسُ وَحِينَ تَضَيَّفُ الشَّمْسُ لِلْغُرُوبِ حَتَّى تَغْرُبَ
পরিচ্ছেদঃ ওযূর পর তাহিয়্যাতুল ওযূর দু’ রাকআত নামায পড়া উত্তম
(৯০১) আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বললেন, হে বিলাল! আমাকে সর্বাধিক আশাপ্রদ আমল বল, যা তুমি ইসলাম গ্রহণের পর বাস্তবায়িত করেছ। কেননা, আমি (মি’রাজের রাতে) জান্নাতের মধ্যে আমার সম্মুখে তোমার জুতার শব্দ শুনেছি। বিলাল (রাঃ) বললেন, আমার দৃষ্টিতে এর চাইতে বেশী আশাপ্রদ এমন কোন আমল করিনি যে, আমি যখনই রাত-দিনের মধ্যে যে কোন সময় পবিত্রতা অর্জন (ওযূ, গোসল বা তায়াম্মুম) করেছি, তখনই ততটুকু নামায পড়েছি, যতটুকু নামায পড়া আমার ভাগ্যে লিপিবদ্ধ ছিল।
عَنْ أَبيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ لِبِلاَلٍ يَا بِلاَلُ! حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الإِسْلاَمِ فَإِنِّي سَمِعْتُ دَفَّ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَيَّ فِي الجَنَّةِ قَالَ : مَا عَمِلْتُ عَمَلاً أَرْجَى عَندي مِنْ أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ طُهُوراً فِي سَاعَةٍ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ إِلاَّ صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أُصَلِّي متفقٌ عَلَيْهِ وهذا لفظ البخاري
পরিচ্ছেদঃ ওযূর পর তাহিয়্যাতুল ওযূর দু’ রাকআত নামায পড়া উত্তম
(৯০২) উক্ববাহ বিন আমের (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখনই কোন মুসলিম পূর্ণরূপে ওযু করে নামায পড়তে দাঁড়ায় এবং যা বলছে তা বুঝে (অর্থাৎ অর্থ জেনে মনোযোগ-সহকারে তা পড়ে), তখনই সে প্রথম দিনের শিশুর মত (নিষ্পাপ) হয়ে নামায সম্পন্ন করে।
عَن عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قال قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُسْبِغُ الْوُضُوءَ ثُمَّ يَقُومُ فِي صَلَاتِهِ فَيَعْلَمُ مَا يَقُولُ إِلَّا انْفَتَلَ كَيَوْمِ وَلَدَتْهُ أُمُّهُ مِنَ الْخَطَايَا لَيْسَ عَلَيْهِ ذَنْبٌ
পরিচ্ছেদঃ ওযূর পর তাহিয়্যাতুল ওযূর দু’ রাকআত নামায পড়া উত্তম
(৯০৩) অন্য বর্ণনায় আছে, যে কোন ব্যক্তি যখনই সুন্দরভাবে ওযু করে সবিনয়ে একাগ্রতার সাথে (কায়মনোবাক্যে) দুই রাকআত নামায পড়ে, তখণই তার জন্য জান্নাত অবধার্য হয়ে যায়।
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّى رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ
পরিচ্ছেদঃ ওযূর পর তাহিয়্যাতুল ওযূর দু’ রাকআত নামায পড়া উত্তম
(৯০৪) যায়দ বিন খালেদ জুহানী (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে, কোন ভুল না করে (একাগ্রচিত্তে) দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির পূর্বেকার সমূদয় গোনাহ মাফ হয়ে যায়।
عَن زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِىِّ أَنَّ النَّبِىَّ ﷺ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ لاَ يَسْهُو فِيهِمَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
পরিচ্ছেদঃ তাহিয়্যাতুল মসজিদ
(মসজিদে প্রবেশ করলে দু’ রাকআত নফল নামায পড়া) এর জন্য উদ্বুদ্ধকরণ। মসজিদে ঢুকে ঐ নফল পড়ার আগে বসা মকরূহ। যে কোন সময়েই প্রবেশ করা হোক না কেন তা পড়া চলে। উপরন্তু তাহিয়্যাতুল মসজিদের নিয়তে দু’ রাকআত পড়লে অথবা ফরয বা সুন্নতে রাতেবা পড়লে উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাবে। (অর্থাৎ, তাহিয়্যাতুল মাসজিদ আর আলাদা ভাবে পড়তে হবে না।)
(৯০৫) আবূ কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ মসজিদ প্রবেশ করবে, তখন সে যেন দু’ রাকআত নামায না পড়া অবধি না বসে।
عَنْ أَبيْ قَتَادَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ المَسْجِدَ فَلاَ يَجْلِسْ حَتَّى يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ متفقٌ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ তাহিয়্যাতুল মসজিদ
(৯০৬) জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এলাম, তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। তিনি বললেন, দু’ রাকআত নামায পড়।
وَعَن جَابِرٍ قَالَ : أَتَيْتُ النَّبيَّ ﷺ وَهُوَ في المَسْجِدِ فَقَالَ صَلِّ رَكْعَتَيْنِ متفقٌ عَلَيْهِ