পরিচ্ছেদঃ ১. যে ব্যক্তি হজ্জ্ব করার ইচ্ছা করে, সে যেনো আগে আগেই তা সম্পাদন করে
১৮২১. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি হাজ্জ্ব করার ইচ্ছা করে, সে যেনো অতিসত্তর তা (সম্পাদন) করে।”[1]
مِنْ كِتَابِ الْمَنَاسِك بَاب مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَمْرٍو الْفُقَيْمِيُّ عَنْ مِهْرَانَ أَبِي صَفْوَانَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ فَلْيَتَعَجَّلْ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২২৫; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭৩২; দাওলাবী, আল কুন্নী ২/১২; হাকিম ১/৪৪৮; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৫/৪৭; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৪১৬; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৮৮৩; তাবারাণী, আল কাবীর ১৮/২৮৭ নং ৭৩৭; যয়ীফ সনদে।
পরিচ্ছেদঃ ২. যে ব্যক্তি (সক্ষমতা সত্ত্বেও) হজ্জ না করে মৃত্যু বরণ করে
১৮২২. আবী উমামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো ব্যক্তি, যাকে কোনো প্রকাশ্য প্রয়োজন, কিংবা জালিম শাসক কিংবা আটকে রাখার মতো কোনো রোগ হাজ্জ্বে যেতে বাধা দেয়নি, সে যদি হাজ্জ না করে মৃত্যু বরণ করে, তবে চায় সে ইয়াহুদী হিসেবে মরুক, অথবা খৃস্টান হিসেবে মরুক (তাতে আমার কিছু আসে যায় না)।[1]
بَاب مَنْ مَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ عَنْ شَرِيكٍ عَنْ لَيْثٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ لَمْ يَمْنَعْهُ عَنْ الْحَجِّ حَاجَةٌ ظَاهِرَةٌ أَوْ سُلْطَانٌ جَائِرٌ أَوْ مَرَضٌ حَابِسٌ فَمَاتَ وَلَمْ يَحُجَّ فَلْيَمُتْ إِنْ شَاءَ يَهُودِيًّا وَإِنْ شَاءَ نَصْرَانِيًّا
তাখরীজ: আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া ৯/২৫১; সুয়্যূতী, আল লা’আলী ২/১১৮; ইবনুল জাউযী, আল মাওযু’আত ২/২১০; ইবনু আদী, আল কামিল ৭/২৫০২ যয়ীফ সনদে; ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৩৩৬ নং ২৪৭।
যাহাবী, মীযানুল ই’তিদাল ৩/১৬৯ তে এ হাদীস উল্লেখ করে বলেন: শারীক হতে এটি মুনকার।’
পরিচ্ছেদঃ ৩. নাবী (ﷺ) এর হজ্জ সম্পর্কে- তিনি একবার হজ্জ করেছেন
১৮২৩. আবী ইসহাক বলেন, আমি যাইদ ইবনু আরক্বাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হিজরতের পরে একবার হাজ্জ সম্পাদন করেন।’[1]
রাবী বলেন, আর আবী ইসহাক বলেন, তিনি তাঁর হিজরতের পূর্বেও একবার হাজ্জ করেছিলেন।
بَاب فِي حَجِّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّةً وَاحِدَةً
أَخْبَرَنَا مُجَاهِدُ بْنُ مُوسَى حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ يَقُولُ حَجَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ هِجْرَتِهِ حَجَّةً قَالَ وَقَالَ أَبُو إِسْحَقَ حَجَّ قَبْلَ هِجْرَتِهِ حَجَّةً
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৩৯৪৯, ৪৪০৪; মুসলিম, হাজ্জ ১২৫৪; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা, হাজ্জাতুল বিদা’ পৃ. ৫৯; বাইহাকী, দালাইল ৫/৪৫৩; আহমাদ ৪/৩৭৩; তিরমিযী, জিহাদ ১৬৭৬…।
পরিচ্ছেদঃ ৩. নাবী (ﷺ) এর হজ্জ সম্পর্কে- তিনি একবার হজ্জ করেছেন
১৮২৪. কাতাদা (রাহি:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কতবার হাজ্জ করেছেন? তিনি বললেন, তিনি একবার হজ্জ এবং চারবার উমরা করেছেন। একটি উমরা হলো মুশরিকরা যেইবার তাঁকে বাইতুল্লাহ যেতে বাধা দিয়েছিল, দ্বিতীয়টি হলো যখন তারা তাঁর সাথে (হুদায়বিয়ার) সন্ধি করল, এরপর তিনি পরবর্তী বছর (উমরার জন্য) ফিরে এসেছিলেন। এরপর তৃতীয়টি ছিল যিলকাদ মাসে জি’ইরানা থেকে, যখন তিনি হুনায়ন যুদ্ধে লব্ধ গনীমত বন্টন করেছিলেন। এবং অপর উমরাটি ছিল তাঁর হাজ্জের সঙ্গে।[1]
بَاب فِي حَجِّ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَجَّةً وَاحِدَةً
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ قَالَ قُلْتُ لِأَنَسٍ كَمْ حَجَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَجَّةً وَاحِدَةً وَاعْتَمَرَ أَرْبَعًا عُمْرَتُهُ الْأُولَى الَّتِي صَدَّهُ الْمُشْرِكُونَ عَنْ الْبَيْتِ وَعُمْرَتُهُ الثَّانِيَةُ حِينَ صَالَحُوهُ فَرَجَعَ مِنْ الْعَامِ الْمُقْبِلِ وَعُمْرَتُهُ مِنْ الْجِعْرَانَةِ حِينَ قَسَّمَ غَنِيمَةَ حُنَيْنٍ فِي ذِي الْقَعْدَةِ وَعُمْرَتُهُ مَعَ حَجَّتِهِ
তাখরীজ: বুখারী, উমরাহ ১৭৭৮; মুসলিম, হাজ্জ ১২৫৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৭২, ৩০৯১।
পরিচ্ছেদঃ ৪. হজ্জ কিভাবে ফরয হলো
১৮২৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের উপর হাজ্জ ফরয করা হয়েছে।” তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! তা কি প্রতি বছরই (করা ফরয)? তিনি বলেনঃ “না। কিন্তু আমি যদি তা (হাঁ) বলতাম, তবে অবশ্যই তা (প্রতি বছর হাজ্জ করা) অবশ্য কর্তব্য হয়ে যেতো। অতঃপর এর অধিক যা করবে, তা নফল।”[1]
بَاب كَيْفَ وُجُوبُ الْحَجِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ كَثِيرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سِنَانٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُتِبَ عَلَيْكُمْ الْحَجُّ فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فِي كُلِّ عَامٍ قَالَ لَا وَلَوْ قُلْتُهَا لَوَجَبَتْ الْحَجُّ مَرَّةٌ فَمَا زَادَ فَهُوَ تَطَوُّعٌ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৫৬, ২৯১-২৯২; হাকিম ২/২৯৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩২৬; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭২১; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৮৮৬; নাসাঈ, মানাসিক ৫/১১১ জাইয়্যেদ সনদে;
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আলী রা: হতে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৭, ৫৪২।
পরিচ্ছেদঃ ৪. হজ্জ কিভাবে ফরয হলো
১৮২৬. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب كَيْفَ وُجُوبُ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ شَرِيكٍ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এ হাদীসটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. হজ্জের মীকাতসমূহ
১৮২৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুলহুলায়ফা, শাম (বা সিরিয়া)-বাসীদের জন্য জুহ্ফাহ্, নাজদবাসীদের জন্য কার্ণ নামক স্থানকে (হজ্জ ও উমরার) মীকাত নির্দিষ্ট করেন। ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ তিনটি স্থানের কথা আমি নিজে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট শুনেছি; এছাড়া, আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নামক স্থানকে মীকাত নির্ধারণ করেন।[1]
بَاب الْمَوَاقِيتِ فِي الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ وَقَّتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنًا قَالَ قَالَ ابْنُ عُمَرَ أَمَّا هَذِهِ الثَّلَاثُ فَإِنِّي سَمِعْتُهُنَّ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبَلَغَنِي أَنَّهُ وَقَّتَ لِأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৫২৫; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৫৯, ৩৭৬০, ৩৭৬১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৩৫।
পরিচ্ছেদঃ ৫. হজ্জের মীকাতসমূহ
১৮২৮. (অপর সনদে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْمَوَاقِيتِ فِي الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ مِثْلَهُ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ২৩; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫. হজ্জের মীকাতসমূহ
১৮২৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনাবাসীদের জন্য যুল্-হুলায়ফা, শাম (বা সিরিয়া)-বাসীদের জন্য জুহ্ফাহ্, নাজদবাসীদের জন্য কার্ণ ইয়ামানবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম নামক স্থানকে (হাজ্জ ও উমরার) মীকাত নির্ধারণ করেন। এস্থানগুলি এ সকল স্থানের অধিবাসীদের জন্য এবং তারা ব্যতীত অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য, যারা এ স্থান দিয়ে হজ্জ এবং উমরার উদ্দেশ্যে আগমণ করবে। আর এছাড়া অন্যান্যরা (মীকাতের অভ্যন্তরে বসবাসকারীগণ) যেখান হতে সফর শুরু করবে, সেস্থানই তাদের মীকাত হবে। এমনকি মক্কাবাসিগণ মক্কা হতেই ইহরাম বাঁধবে।[1]
بَاب الْمَوَاقِيتِ فِي الْحَجِّ
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَّتَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلِأَهْلِ الشَّامِ الْجُحْفَةَ وَلِأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ وَلِأَهْلِ الْيَمَنِ أَلَمْلَمَ هُنَّ لِأَهْلِهِنَّ وَلِكُلِّ آتٍ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِنَّ مَنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ وَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৫২; বুখারী, হাজ্জ, ১৫২৪, ১৫২৬, জাযাউস সাইয়িদ ১৮৪৫; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮১ (১২); নাসাঈ, মানাসিক ৫/১২৩-১২৪; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১১৭; দারুকুতনী ২/২৩৮; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৭/৭১; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২৯; ইবনু খুযাইমা নং ২৫৯১; তায়ালিসী ১/২০৮ নং ৯৯৪; ইবনুল জারুদ নং ৪১৩; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭৩৮।
পরিচ্ছেদঃ ৬. ইহরাম অবস্থায় গোসল করা প্রসঙ্গে
১৮৩০. আব্দুল্লাহ ইবনু হুনায়ন (রহঃ) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আবওয়া নামক স্থানে মুহরিম ব্যক্তির তার মাথা ধৌত করার বিষয়ে মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এবং ’আব্দুল্লাহ ইবন ’আব্বাস (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর মধ্যে মতানৈক্য হল। এরপর তিনি (’আব্দুল্লাহ ইবনু ’আব্বাস) আমাকে আবূ আইয়ুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট একথা জিজ্ঞাসা করতে পাঠালেন যে, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মুহরিম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতে দেখেছেন? আমি আবূ আইয়ুব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট এলাম। আমি তাঁকে কূপ থেকে পানি ঊঠানোর চরকার দু’খুটির মাঝে কাপড় ঘেরা অবস্থায় (গোসল করতে) দেখতে পেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তখন তিনি কাপড়টি তাঁর গায়ে জড়িয়ে নিলেন। তখন আমি বললাম, আপনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে মুহরিম অবস্থায় কিভাবে মাথা ধৌত করতে দেখেছেন, এ বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার জন্য আমাকে ’আব্দুল্লাহ ইবন ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। তখন (এ কথা শুনে) তিনি তাঁর হাতদু’টি মাথার উপর দিয়ে একবার সামনের দিকে টানলেন আবার পেছনের দিকে টেনে নিলেন।[1]
بَاب فِي الِاغْتِسَالِ فِي الْإِحْرَامِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ امْتَرَى الْمِسْوَرُ بْنُ مَخْرَمَةَ وَابْنُ عَبَّاسٍ فِي غَسْلِ الْمُحْرِمِ رَأْسَهُ فَأَرْسَلُونِي إِلَى أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ كَيْفَ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ وَهُوَ مُحْرِمٌ فَأَتَيْتُ أَبَا أَيُّوبَ وَهُوَ بَيْنَ قَرْنَيْ الْبِئْرِ وَقَدْ سُتِرَ عَلَيْهِ بِثَوْبٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَضَمَّ الثَّوْبَ إِلَيْهِ فَقُلْتُ أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ ابْنُ أَخِيكَ ابْنُ عَبَّاسٍ كَيْفَ رَأَيْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَغْسِلُ رَأْسَهُ فَأَمَرَّ يَدَيْهِ عَلَى رَأْسِهِ مُقْبِلًا وَمُدْبِرًا
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইয়িদ ১৮৪০; মুসলিম, হাজ্জ ১২০৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬. ইহরাম অবস্থায় গোসল করা প্রসঙ্গে
১৮৩১. যাইদ ইবন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ইহরামের উদ্দেশ্যে (সেলাই করা) পোশাক খুলতে ও গোসল করতে দেখেছেন।[1]
بَاب فِي الِاغْتِسَالِ فِي الْإِحْرَامِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَعْقُوبَ الْمَدَنِيُّ عَنْ ابْنِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ خَارِجَةَ بْنِ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَجَرَّدَ لِلْإِهْلَالِ وَاغْتَسَلَ
তাখরীজ: তিরমিযী, হাজ্জ ৮৩০, তিরমিযী বলেন: এ হাদীসটি হাসান গারীব’; তাবারাণী, আল কাবীর ৫/১৩৫ নং ৪৮৬২; উকাইলী, আয যুয়াফা ৪/১৩৮; দারুকুতনী, সুনান ২/২২০, ২২১; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৩২; হাকিম ১/৪৪৭ যয়ীফ সনদে।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস রা: হতে দারুকুতনী ২/২১৯ ও হাকিম ১/৪৪৭ ও বাইহাকী ৫/৩২ তে সেটিও যয়ীফ।
এছাড়া ইবনু উমার রা: থেকে এর শাহিদ বর্ণনা করেছেন দারুকুতনী, বাইহাকী যার সনদ সহীহ, এবং এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৩৯১ তে।
আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/২৭৫; নাসবুর রায়াহ ৩/১৭-১৮; নাইলুল আওতার ১/৩০০; মুছান্নাফ ইবনু আবী শাইবা ৪/৭৩-৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ৭. হজ্জ ও উমরার ফযীলত সম্পর্কে
১৮৩২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “জান্নাতই হল হাজ্জে মাবরূরের প্রতিদান। এবং এক ’উমরার পর আর এক ’উমরা উভয়ের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহের জন্য কাফফারা।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ سُمَيٍّ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ حَجَّةٌ مَبْرُورَةٌ لَيْسَ لَهَا ثَوَابٌ إِلَّا الْجَنَّةُ وَعُمْرَتَانِ تُكَفِّرَانِ مَا بَيْنَهُمَا مِنْ الذُّنُوبِ
তাখরীজ: বুখারী, উমরাহ ১৭৭৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৪৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৬৫৭, ৬৬৬০, ৬৬৬১; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৯৫, ৩৬৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৩২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. হজ্জ ও উমরার ফযীলত সম্পর্কে
১৮৩৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “যে ব্যক্তি বাইতুল্লাহ’য় হাজ্জ করলো এবং অশালীন কথাবার্তা ও (ফিসক্ব) গুনাহ থেকে বিরত রইল, সে এমন (নিষ্পাপ) অবস্থায় ফিরে আসে, যেমন (নিষ্পাপ) অবস্থায় তাঁর মা তাকে প্রসব করেছে।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي مَنْصُورٌ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَازِمٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ حَجَّ الْبَيْتَ فَلَمْ يَرْفُثْ وَلَمْ يَفْسُقْ رَجَعَ كَمَا وَلَدَتْهُ أُمُّهُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫২১; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬১৯৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৯৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. কোন্ প্রকারের হজ্জ উত্তম
১৮৩৪. আবী বাকর সিদ্দীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন প্রকার হাজ্জ সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন: উচ্চ শব্দ করা ও প্রবাহিত করা।[1] [الْعَجُّ (উচ্চ শব্দ করা) অর্থ: উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা; এবং َالثَّجُّ (প্রবাহিত করা) অর্থ: রক্ত প্রবাহিত করা (কুরবানী দেওয়া)।
بَاب أَيُّ الْحَجِّ أَفْضَلُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلَاءِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ أَبِي فُدَيْكٍ عَنْ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَرْبُوعٍ عَنْ أَبِي بَكْرٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ الْحَجِّ أَفْضَلُ قَالَ الْعَجُّ وَالثَّجُّ الْعَجُّ يَعْنِي التَّلْبِيَةَ وَالثَّجُّ يَعْنِي إِهْرَاقَةَ الدَّمِ
তাখরীজ: বাযযার, বাহরুয যুখখার নং ৭১, ৭২; তিরমিযী, হাজ্জ, ৭২৭; ইবনু খুযাইমা, নং ২৬৩১; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯২৪; দারুকুতনী, ইলাল ১/২৭৯-২৮০; হাকিম ১/৪৫০-৪৫১; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৪২; মাওসিলী নং ১১৭।
(মুহাক্বিক্ব এর পরে বিভিন্ন মুহাদ্দিস হতে এর দুর্বলতা উল্লেখ করেছেন-অনুবাদক))
এবং এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু মাসউদ হতে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫০৮৬ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৪৪৫ তে। এর আরো শাহিদ রয়েছে ইবনু আব্বাস, আবী হুরাইরা, আনাস, ইবরাহীম ইবনু খাল্লাদ ইবনু সুওয়াইদ আল খাযরাজী, খাল্লাদ ইবনু সুওয়াইদ, সাইব ইবনু খাল্লাদ রা: হতে যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদূল মাউসিলী নং ৫৪৩৯, ৫৪৪০, ৫৪৪১, ৫৪৪২, ৫৪৪৩, ৫৪৪৪ তে। ফলে এর শাহিদ সমূহ একে সহীহ তে উন্নীত করে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. মুহরিম (ইহরামরত ব্যক্তি) কোন্ প্রকার কাপড় পরিধান করবে
১৮৩৫. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলো, ’আমরা যখন ইহরাম বাধবো, তখন কী কী কাপড় পরবো?’ তিনি বলেনঃ “তুমি জামা পরবে না, পাজামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, টুপি পরবে না এবং চপ্পল পরবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে যেন চামড়ার মোজা পরে, তবে মোজা দু’টি পায়ের গিরার (টাখনু’র) নিচে রাখবে। আর তুমি ’ওয়ারস’ (এক প্রকার সুগন্ধি) বা যা’আফরান মিশ্রিত কোন কাপড় পরবে না।[1]
بَاب مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنْ الثِّيَابِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا نَلْبَسُ مِنْ الثِّيَابِ إِذَا أَحْرَمْنَا قَالَ لَا تَلْبَسُوا الْقُمُصَ وَلَا السَّرَاوِيلَاتِ وَلَا الْعَمَائِمَ وَلَا الْبَرَانِسَ وَلَا الْخِفَافَ إِلَّا أَنْ يَكُونَ أَحَدٌ لَيْسَتْ لَهُ نَعْلَانِ فَلْيَلْبَسْ الْخُفَّيْنِ وَلْيَجْعَلْهُمَا أَسْفَلَ مِنْ الْكَعْبَيْنِ وَلَا تَلْبَسُوا مِنْ الثِّيَابِ شَيْئًا مَسَّهُ وَرْسٌ وَلَا زَعْفَرَانٌ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১৩৪; মুসলিম, হাজ্জ ১১৭৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪২৫, ৫৪৮৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫৫ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. মুহরিম (ইহরামরত ব্যক্তি) কোন্ প্রকার কাপড় পরিধান করবে
১৮৩৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “কোনো (মুহরিম) ব্যক্তির লুঙ্গি না থাকলে পায়জামা পরিধান করবে এবং যার জুতা নেই সে মোজা পরিধান করবে।”আমি বললাম, কিংবা তাঁকে বলা হলো, সে কি মোজা দু’টি কেটে নিবে? তিনি বললেন: “না।”[1]
بَاب مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنْ الثِّيَابِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ أَبِي الشَّعْثَاءِ أَخْبَرَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يَجِدْ إِزَارًا فَلْيَلْبَسْ سَرَاوِيلَ وَمَنْ لَمْ يَجِدْ نَعْلَيْنِ فَلْيَلْبَسْ خُفَّيْنِ قَالَ قُلْتُ أَوْ قِيلَ أَيَقْطَعُهُمَا قَالَ لَا
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১৩৩; আহমাদ ১/২২৮;
তবে "সে যেন মোজা পরে" হাদীসের এ অংশটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা। বুখারী, হাজ্জ ১৮৪১; মুসলিম, হাজ্জ ১১৭৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৮১, ৩৭৮৫, ৩৭৮৬, ৩৭৮৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৭৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. মুহরিম (ইহরামরত ব্যক্তি) কোন্ প্রকার কাপড় পরিধান করবে
১৮৩৭. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ’মুহরিম ব্যক্তির পরিধেয় বস্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন তিনি বলেনঃ “সে জামা পরবে না, পাগড়ী পরবে না, পাজামা পরবে না, টুপি পরবে না এবং চপ্পল পরবে না। তবে কারো জুতা না থাকলে সে যেন চামড়ার মোজা পরে, তবে মোজা দু’টি পায়ের গিরার (টাখনু’র) নিচ পর্যন্ত কেটে ফেলবে।”[1]
بَاب مَا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ مِنْ الثِّيَابِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَمَّا يَلْبَسُ الْمُحْرِمُ قَالَ لَا يَلْبَسُ الْقُمُصَ وَلَا الْعَمَائِمَ وَلَا السَّرَاوِيلَاتِ وَلَا الْبَرَانِسَ وَلَا الْخِفَافَ إِلَّا أَنْ لَا يَجِدَ نَعْلَيْنِ فَيَلْبَسَ خُفَّيْنِ وَيَقْطَعَهُمَا أَسْفَلَ مِنْ الْكَعْبَيْنِ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ৮; এটি পূর্বের ১৮৩৯ (অনূবাদে ১৮৩৫) নং হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১০. ইহরামরত অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার
১৮৩৮. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধার পূর্বে আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উত্তম সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম।’[1]
তিনি (অধঃস্তন রাবী) বলেন: আর উরওয়াহ রাহি. (উর্ধ্বতন রাবী) আমাদেরকে বলতেন, তোমরা ইহরাম বাধার পূর্বে এবং ’ইয়ামুন নাহর’-এ ’তাওয়াফে ইফাযা’ করার পূর্বে সুগন্ধি ব্যবহার করবে।
بَاب الطِّيبِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْلَ أَنْ يُحْرِمَ بِأَطْيَبِ الطِّيبِ قَالَ وَكَانَ عُرْوَةُ يَقُولُ لَنَا تَطَيَّبُوا قَبْلَ أَنْ تُحْرِمُوا وَقَبْلَ أَنْ تُفِيضُوا يَوْمَ النَّحْرِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৮৩৯; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৯। এছাড়া, ইবনু হাযম, হাজ্জাতুল বিদা’ পৃ: ১৬০। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৬৬, ৩৭৬৮, ৩৭৭০, ৩৭৭১, ৩৭৭২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. ইহরামরত অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার
১৮৩৯.আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর ইহরাম বাঁধার প্রাক্কালে যে সুগন্ধিই পেয়েছি, তা দিয়েই সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি।[1]
بَاب الطِّيبِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ عَنْ هِشَامٍ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ لَقَدْ كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ إِحْرَامِهِ بِأَطْيَبِ مَا أَجِدُهُ
তাখরীজ: বুখারী, লিবাস ৫৯২৮; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৯। আর এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। তাই পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন। এছাড়া আরও দেখুন, আমার তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ২১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১০. ইহরামরত অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার
১৮৪০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধার প্রাক্কালে এবং ’তাওয়াফে ইফাযা’ করার পূর্বে মিনায় আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়েছি।’[1]
بَاب الطِّيبِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ وَجَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ قَالَا حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَقُولُ طَيَّبْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِحُرْمِهِ وَطَيَّبْتُهُ بِمِنًى قَبْلَ أَنْ يُفِيضَ
তাখরীজ: বুখারী, লিবাস ৫৯২২; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৯ (৩৩)।
আর এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। তাই পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন। এছাড়া আরও দেখুন, আমার তাহক্বীক্বকৃত মুসনাদুল হুমাইদী নং ২১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১১. নিফাসগ্রস্ত ও হায়িযগ্রস্ত মহিলাগণ হজ্জের নিয়তে মীকাতে পৌছলে (কী করবে)
১৮৪১. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুলহুলায়ফার শাজারায় আসমা (বিনতু উমাইস) মুহাম্মদ ইবন আবূ বকরকে প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে নির্দেশ দেন যে, তিনি (আসমা) যেন গোসল করেন এবং ইহরাম বাঁধেন।[1]
بَاب النُّفَسَاءِ وَالْحَائِضِ إِذَا أَرَادَتَا الْحَجَّ وَبَلَغَتَا الْمِيقَاتَ
حَدَّثَنِي عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نُفِسَتْ أَسْمَاءُ بِمُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بِالشَّجَرَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৯; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭৪৩; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯১১; ইবনু হাযম, হাজ্জাতুল বিদা’ পৃ: ৭৫; মালিক, হাজ্জ (১); আহমাদ ৬/৩৬৯; নাসাঈ, কুবরা নং ৩৬৪৩; আর দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪।
পরিচ্ছেদঃ ১১. নিফাসগ্রস্ত ও হায়িযগ্রস্ত মহিলাগণ হজ্জের নিয়তে মীকাতে পৌছলে (কী করবে)
১৮৪২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে আসমা বিনতে উমাইস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সম্পর্কে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। যুলহুলায়ফায় আসমা বিনত উমাইস মুহাম্মদ ইবন আবূ বকরকে প্রসব করলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে নির্দেশ দেন যে, তিনি যেন তাকে (আসমাকে) গোসল করার এবং ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেন।[1]
بَاب النُّفَسَاءِ وَالْحَائِضِ إِذَا أَرَادَتَا الْحَجَّ وَبَلَغَتَا الْمِيقَاتَ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ فِي حَدِيثِ أَسْمَاءَ بِنْتِ عُمَيْسٍ حِينَ نُفِسَتْ بِذِي الْحُلَيْفَةِ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَبَا بَكْرٍ أَنْ يَأْمُرَهَا أَنْ تَغْتَسِلَ وَتُهِلَّ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০২৭, ২১২৫, ৬৭৩৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৯১, ৩৯১৯, ১৯৪১, ৩৯৪২, ৩৯৪৩; ৩৯৪৪ (বিস্তারিত) ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২৫১২, ১৩২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. কোন্ সময় ইহরাম বাঁধা মুস্তাহাব
১৮৪৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পর ইহরাম বাঁধেন।[1]
بَاب فِي أَيِّ وَقْتٍ يُسْتَحَبُّ الْإِحْرَامُ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ السَّلَامِ بْنُ حَرْبٍ عَنْ خُصَيْفٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْرَمَ دُبُرَ الصَّلَاةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫১৩। আর এটি রয়েছে নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩৭৩৫। ((তিরমিযী, হাজ্জ ৮১৯; নাসাঈ, হাজ্জ ৫/১৬২- ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/১৮০৬ এর টীকা হতে। অনুবাদক))
আর এর শাহিদ হাদীস ইবনু উমার হতে যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৮৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. কোন্ সময় ইহরাম বাঁধা মুস্তাহাব
১৮৪৪. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পর ইহরাম বাঁধেন বা (ইহরামের) তাহলীল উচ্চারণ করেন।[1]
بَاب فِي أَيِّ وَقْتٍ يُسْتَحَبُّ الْإِحْرَامُ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ قَالَ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ هُوَ ابْنُ شُمَيْلٍ أَخْبَرَنَا أَشْعَثُ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْرَمَ أَوْ أَهَلَّ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৪২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. তালবিয়া সম্পর্কে
১৮৪৫. ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্নিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তালবিয়া পাঠের সময় বলতেন: “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা; লা-শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলকা, লা শারীকা লাকা।”
(অর্থ: ’আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির; আপনার কোন শরীক নেই, আমি হাজির, সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত আপনারই, সমস্ত বিশ্বের রাজত্ব আপনারই, আপনার কোন শরীক নেই।’) ইয়াহইয়া বলেন, নাফিঈ’ উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ শব্দগুলি বাড়িয়ে পাঠ করতেন: ’লাব্বাইকা ওয়ার রাগবা-উ ইলাইকা ওয়াল আমলু, লাব্বাইকা, লাব্বাইকা।’ (অর্থ: ’আমি হাজির, সকল প্রকার আশা-আকাংখা আপনারই প্রতি, আমলও আপনার (সন্তুষ্টির) জন্যই, আমি হাজির, আমি হাজির।’)[1]
بَاب فِي التَّلْبِيَةِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا لَبَّى قَالَ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ قَالَ يَحْيَى وَذَكَرَ نَافِعٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَزِيدُ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৪৯; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৪; এছাড়া, শাফিঈ, আল উম্মু ২/১৫৫; তার সূত্রে বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ৯৫৭০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৯২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৯৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৭৫ তে।
তাহাবী, তার শারহু মা’আনিল আছার ২/১২৫ তে বলেন: সকল মুসলিমগণ একমত যে, এটি হাজ্জের মারফু’ তালবিয়া।
তবে একদল লোক বলেন: আল্লাহর যিকির এ বৃদ্ধি করায় কোনো দোষ নেই। … তারা বলেন, এভাবে (ইবনু উমার রা: এর মতো) তালবিয়ায় শব্দ বৃদ্ধি করাতেও কোনো দোষ নেই।
অপর দল তাদের বিরোধীতা করেন। তারা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক লোকদেরকে শেখানো শব্দের উপর বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়।… বরং তিনি সালাতের তাকবীর যেভাবে শিখিয়েছেন, সেভাবে এটা (তালবিয়া)ও শিখিয়েছেন। তাকবীর ব্যতীত অন্য কিছু করা যেমন সমীচীন নয়, তদ্রূপ তাঁর তালবিয়াতেও শিখানো পদ্ধতিতে বৃদ্ধি করা সমীচীন নয়। যেমন সা’দ রা: হতে বর্ণিত, হয়েছে, তিনি এক ব্যক্তি কে বলতে শুনলেন, ‘লাব্বাইকা যিল মা’আরিজ লাব্বাইক।’ তখন সা’দ রা: বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জামানায় এরূপ তালবিয়া পড়তাম না।’
সুতরাং সা’দ রা: যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের শেখাননি, সেরূপ বৃদ্ধিকে মাকরূহ গণ্য করেছেন। ফলে আমরাও এমত গ্রহণ করেছি।”
আরও দেখুন, শাফিঈ, আল উম্মু ২/১৫৬; ফাতহুল বারী ৩/৪১০ ও বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ৭/১৩৬।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. তালবিয়াতে কণ্ঠস্বর উচ্চ করা সম্পর্কে
১৮৪৬. খাল্লাদ ইবনুস সাইব হতে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট এসে বললেন, ’আপনি আপনার সাথী ও সাহাবীদেরকে নির্দেশ দেন, তারা যেন উচ্চস্বরে তালবিয়া কিংবা ইহলাল পাঠ করে।”[1]
بَاب فِي رَفْعِ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ خَلَّادِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَتَانِي جِبْرَائِيلُ فَقَالَ مُرْ أَصْحَابَكَ أَوْ مَنْ مَعَكَ أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالتَّلْبِيَةِ أَوْ بِالْإِهْلَالِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮০২; মাওয়ারিদুয যাম’আন ৩/২৯০-২৯২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. তালবিয়াতে কণ্ঠস্বর উচ্চ করা সম্পর্কে
১৮৪৭. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী বাকর তাঁর সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي رَفْعِ الصَّوْتِ بِالتَّلْبِيَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ
তাখরীজ: হুমাইদী নং ৮৭৬। এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. হজ্জে শর্তারোপ করা
১৮৪৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, যুবাআ বিনতু যুবাইর ইবনু আব্দুল মুত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছেএসে বললেন, ইয়া রাসূল্লাহ্! আমি হজ্জ করতে ইচ্ছা রাখি। এখন আমি কি বলবো? তিনি বললেন, তুমি বলবে, ’লাব্বায়কা আল্লাহুম্মা লাব্বায়ক (হাযির আছি, হে আল্লাহ! আমি হাযির আছি।) আপনি যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করে দিবেন, সেখানেই আমি হালাল হব।’ এরপর যা তোমার থেকে বাদ পড়ে যাবে, তোমার রবের পক্ষ হতে (তার সাওয়াব) তোমাকে প্রদান করা হবে।”[1]
بَاب الِاشْتِرَاطِ فِي الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا هِلَالُ بْنُ خَبَّابٍ قَالَ فَحَدَّثْتُ عِكْرِمَةَ فَحَدَّثَنِي عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ضُبَاعَةَ بِنْتَ الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ أَتَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ أَحُجَّ فَكَيْفَ أَقُولُ قَالَ قُولِي لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ وَمَحِلِّي حَيْثُ تَحْبِسُنِي فَإِنَّ لَكِ عَلَى رَبِّكِ مَا اسْتَثْنَيْتِ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৮০ সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৭৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. ইফরাদ হজ্জ প্রসঙ্গে
১৮৪৯. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফরাদ হাজ্জ করেছেন।[1]
بَاب فِي إِفْرَادِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ تَعَالَى عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْرَدَ الْحَجَّ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২১১ (১২২); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৬১, ৪৩৬২, ৪৩৬৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩৪, ৩৯৩৫, ৩৯৩৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. কিরাণ হজ্জ প্রসঙ্গে
১৮৫০. ইমরান ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি তোমাদেরকে একটি হাদীস বর্ণনা করবো, সম্ভবত: পরবর্তীতে আল্লাহ এর মাধ্যমে তোমাদের উপকার করবেন। আর ইবনু যিয়াদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি যখন দাগ লাগালাম, তখন দাগ লাগানোর চিহ্ন দূরীভূত না হওয়া পর্যন্ত আমার প্রতি[1] (ফিরিশতাগণের সালাম) বন্ধ হয়ে যায়। যাহোক, তোমরা জেনে রাখো, (হাজ্জে) তামাত্তু আল্লাহর কিতাবে হালাল করা হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ইন্তিকাল পর্যন্ত) তা থেকে নিষেধ করেননি এবং একে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে কুরআনের কোন আয়াতও নাযিল হয়নি। এখন (অমুক) লোক তার নিজস্ব অভিমত অনুযায়ী কথা বলে, যা সে (নিষিদ্ধ) মনে করে।[2]
بَاب فِي الْقِرَانِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ أَخْبَرَنَا أَبُو هِلَالٍ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ مُطَرِّفٍ قَالَ قَالَ عِمْرَانُ بْنُ حُصَيْنٍ إِنِّي مُحَدِّثُكَ بِحَدِيثٍ لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يَنْفَعَكَ بِهِ بَعْدُ إِنَّهُ كَانَ يُسَلَّمُ عَلَيَّ وَإِنَّ ابْنَ زِيَادٍ أَمَرَنِي فَاكْتَوَيْتُ فَاحْتُبِسَ عَنِّي حَتَّى ذَهَبَ أَثَرُ الْمَكَاوِي وَاعْلَمْ أَنَّ الْمُتْعَةَ حَلَالٌ فِي كِتَابِ اللَّهِ لَمْ يَنْهَ عَنْهَا نَبِيٌّ وَلَمْ يَنْزِلْ فِيهَا كِتَابٌ قَالَ رَجُلٌ بِرَأْيِهِ مَا بَدَا لَهُ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ হাসান, আবী হিলাল আর রাসিবী’র কারণে। তবে, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৭১, তাফসীর ৪৫১৮; মুসলিম, হাজ্জ ১২২৬; এছাড়া, আহমাদ ৪/৪২৮, ৪৩৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩৭, ৩৯৩৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. 'তামাত্তু' হজ্জ সম্পর্কে
১৮৫১. মুহাম্মদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু নাওফাল রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “যে বছর মুয়াবিয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাজ্জ করেন, সেই সময় আমি তাকে বলতে শুনেছি, তিনি সা’দ ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন, উমরাকে হাজ্জের সাথে একত্রিত করে তামাত্তু হাজ্জ করা সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি বলেন, অতিউত্তম- সুন্দর। তখন তিনি বলেন, কিন্তু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তো এটা নিষেধ করতেন। তবে কি উমারের চেয়েও আপনি উত্তম? তিনি বলেন, উমার আমার চেয়ে উত্তম, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এটা করেছেন; আর তিনি উমারের চেয়ে উত্তম।”[1]
بَاب فِي التَّمَتُّعِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نَوْفَلٍ قَالَ سَمِعْتُ عَامَ حَجَّ مُعَاوِيَةُ يَسْأَلُ سَعْدَ بْنَ مَالِكٍ كَيْفَ تَقُولُ بِالتَّمَتُّعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ قَالَ حَسَنَةٌ جَمِيلَةٌ فَقَالَ قَدْ كَانَ عُمَرُ يَنْهَى عَنْهَا فَأَنْتَ خَيْرٌ مِنْ عُمَرَ قَالَ عُمَرُ خَيْرٌ مِنِّي وَقَدْ فَعَلَ ذَلِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ خَيْرٌ مِنْ عُمَرَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮০৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯২৩, ৩৯৩৯; মাওয়ারিদুয যাম্’আন নং ৯৯৬, ৯৯৭তে।
((তিরমিযী, হাজ্জ, বাব: তামাত্তু সম্পর্কে হা/৮২৪ তিনি একে সহীহ এবং আলবানী হাসান বলেছেন; নাসাঈ, হা/২৭৩৫; আহমাদ ও বাইহাকী- অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১৮. 'তামাত্তু' হজ্জ সম্পর্কে
১৮৫২. আবু মূসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বাতহা নামক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলাম। তিনি বললেনঃ হজ্জ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বললেনঃ কিভাবে ইহরাম বেঁধেছিলে? আমি বললাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মত ইহরাম বেঁধে আমি তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেনঃ ভালই করেছ। যাও বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর এবং সাফা-মারওয়ার সা’য়ী কর। এরপর হালাল হয়ে যাও। তখন আমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করলাম এবং সাফা-মারওয়ায় সা’য়ী করলাম। এরপর আমি বনূ কায়স গোত্রের এক মহিলার নিকট এলাম। তিনি আমার মাথার উকুন বেছে দিলেন।
(তখন থেকে উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুএর খিলাফরকাল পর্যন্ত) এ ভাবেই আমি লোকদের (হজ্জ এবং ’উমরা সম্পর্কে) ফতোয়া দিয়ে চললাম। (উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর খিলাফাতকালে হাজ্জ মৌসুমে) এক ব্যক্তি এসে আমাকে বললো: “হে আব্দুল্লাহ ইবনু কাইস! আপনার কিছু ফাতওয়া আপাতত স্থগিত রাখুন। কেননা, আমীরুল মুমিনীন (উমার) আপনার পরে হজ্জের ব্যাপারে যে নতুন বিধান প্রবর্তন করেছেন, তা হয়তো আপনি জানেন না। তখন আমি বললাম: হে লোক সকল! আমি যাকে কোন ব্যাপারে ফতোয়া দিয়েছি সে যেন তাড়াহুড়া না করে। কেননা তোমাদের নিকট আমীরুল মুমিনীন শীঘ্রই আসছেন, সুতরাং তোমরা তাঁরই অনুসরণ কর। যখন তিনি আগমন করলেন, তখন আমি তাঁর নিকট গিয়ে বিষয়টি তাঁর সাথে আলোচনা করলাম। তখন তিনি বললেনঃ আমরা যদি আল্লাহর কিতাবকে অনুসরণ করি, তাহলে আল্লাহর কিতাব তো আমাদেরপূর্ণ করার নির্দেশ দেয়। আর যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাতের অনুসরণ করি তাহলে তো (দেখি যে), রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর জানোয়ার হালাল হওয়ার স্থানে পৌছার আগে হালাল হননি।[1]
بَاب فِي التَّمَتُّعِ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ عَنْ طَارِقٍ عَنْ أَبِي مُوسَى قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ حَجَّ وَهُوَ مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ لِي أَحَجَجْتَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَهْلَلْتَ قَالَ قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلَالٍ كَإِهْلَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَحْسَنْتَ اذْهَبْ فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حِلَّ قَالَ فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ نِسَاءِ بَنِي قَيْسٍ فَجَعَلَتْ تَفْلِي رَأْسِي فَجَعَلْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ فَقَالَ لِي رَجُلٌ يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ رُوَيْدًا بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ فَقُلْتُ يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فُتْيَا فَلْيَتَّئِدْ فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ فَبِهِ فَأْتَمُّوا فَلَمَّا قَدِمَ أَتَيْتُهُ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّ كِتَابَ اللَّهِ يَأْمُرُ بِالتَّمَامِ وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৫৫৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭২৭৮ তে। সেখানে টীকাটি দেখুন
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ইহরামরত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কোন কোন প্রাণী হত্যা করতে পারবে
১৮৫৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: পাঁচ শ্রেনীর প্রাণী হত্যায় কোন গুনাহ নেই, যদি কেউ এগুলোকে (হেরেম এলাকার মধ্যেও) হত্যা করে: কাক, ইঁদুর, চিল, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।”[1]
بَاب مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ فِي إِحْرَامِهِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ خَمْسٌ لَا جُنَاحَ فِي قَتْلِ مَنْ قُتِلَ مِنْهُنَّ الْغُرَابُ وَالْفَأْرَةُ وَالْحِدَأَةُ وَالْعَقْرَبُ وَالْكَلْبُ الْعَقُورُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৮২৬ মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২৮, ৫৪৯৭, ৫৫৪৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬১, ৩৯৬২ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৩১তে। এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১০৭৪২, ১০৭৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ইহরামরত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কোন কোন প্রাণী হত্যা করতে পারবে
১৮৫৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামমুক্ত এবং ইহরামরত উভয় অবস্থায় পাঁচটি অনিষ্টকর প্রাণি হত্যা করতে আদেশ করেছেন: চিল, কাক, ইঁদুর, বিচ্ছু ও পাগলা কুকুর।”[1]
আব্দুল্লাহ বলেন, পাগলা কুকুর’। আর কেউ কেউ বর্ণনা করেছেন: ’কালো কুকুর’।
بَاب مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ فِي إِحْرَامِهِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَتْلِ خَمْسِ فَوَاسِقَ فِي الْحِلِّ وَالْحَرَمِ الْحِدَأَةِ وَالْغُرَابِ وَالْفَأْرَةِ وَالْعَقْرَبِ وَالْكَلْبِ الْعَقُورِ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْكَلْبُ الْعَقُورُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ الْأَسْوَدُ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৮৩৭৪; বুখারী, জাযাউয সাইয়্যেদ, ১৮২৯; মুসলিম, হাজ্জ১১৯৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৩২, ৫৬৩৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. ইহরামরত ব্যক্তি ইহরাম অবস্থায় কোন কোন প্রাণী হত্যা করতে পারবে
১৮৫৫. সালিম হতে, তার পিতা (ইবনু উমার) হতে বর্ণিত হয়েছে।[1] এবং উরওয়াহ হতে, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে।[2]
بَاب مَا يَقْتُلُ الْمُحْرِمُ فِي إِحْرَامِهِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ قَالَ بَعْضُ أَصْحَابِنَا إِنَّ مَعْمَرًا كَانَ يَذْكُرُهُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ وَعَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
[2] তাহক্বীক্ব: ((মুহাক্বিক্ব এর কোনো হুকুম লাগাননি। –অনুবাদক))
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৮৩৭৪।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মুহরিম ব্যক্তির শিঙা লাগানো
১৮৫৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
بَاب الْحِجَامَةِ لِلْمُحْرِمِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
তাখরীজ: আহমাদ ১/৩৩২-৩৩৩; দারুকুতনী ২/২৩৯ সহীহ সনদে; পূর্ণ তাখরীজের জন্য ১৮৬২ (অনূবাদে ১৮৫৮) নং হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মুহরিম ব্যক্তির শিঙা লাগানো
১৮৫৭. আব্দুল্লাহ ইবনু বুহাইনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় ’লাহ্ইল জামাল’ নামক স্থানে (মক্কা ও মদীনার মাঝে একটি পানির স্থানে) শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
بَاب الْحِجَامَةِ لِلْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلَالٍ حَدَّثَنَا عَلْقَمَةُ بْنُ أَبِي عَلْقَمَةَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَعْرَجِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ابْنِ بُحَيْنَةَ قَالَ احْتَجَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَحْيِ جَمَلٍ وَهُوَ مُحْرِمٌ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৩৬; মুসলিম, হাজ্জ১২০৩; এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৯৭৩২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মুহরিম ব্যক্তির শিঙা লাগানো
১৮৫৮. (অপরসনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় শিঙা লাগিয়েছিলেন।[1]
ইসহাক্ব বলেন, সুফিয়ান একবার আতা থেকে বর্ণনা করেন, আরেকবার তাঊস থেকে বর্ণনা করেন। আবার কখনো উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেন।[2]
بَاب الْحِجَامَةِ لِلْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ وَطَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ احْتَجَمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ إِسْحَقُ قَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً عَنْ عَطَاءٍ وَمَرَّةً عَنْ طَاوُسٍ وَجَمَعَهُمَا مَرَّةً
[2]তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউসসাইদ, ১৮৩৫; মুসলিম, হাজ্জ১২০২;এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ৯৭২৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৬০, ২৩৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫০, ৩৯৫১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৮, ৫০৯, ৫১০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. মুহরিম (ইহরামরত) অবস্থায় বিয়ে করা প্রসঙ্গে
১৮৫৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহরামরত (মুহরিম) অবস্থায় বিবাহ করেছেন।[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ تَزَوَّجَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحْرِمٌ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৩৭; মুসলিম, নিকাহ১৪১০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৩, ২৭২৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২৯, ৪১৩১, ৪১৩৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১২তে। এবং এসকল স্থানে যে টীকা দিয়েছি, এ বিষয়ে তা-ই যথেষ্ট হবে ইনশা আল্লাহ। এছাড়া এ বাবের অন্যান্য হাদীসসমূহ এবং পরবর্তী হাদীসের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১. মুহরিম (ইহরামরত) অবস্থায় বিয়ে করা প্রসঙ্গে
১৮৬০. নুবাই ইবনু ওয়াহাব রাহি. হতে বর্ণিত, কুরাইশ বংশের এক ব্যক্তি আবান ইবনু উছমান এর নিকট একটি বিয়ের প্রস্তাব পাঠালেন। সেই সময় তিনি হাজ্জ্ব মৌসুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। তখন আবান রাহি. বলেন, তাকে তো এক অভদ্র ইরাকী ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না! নিশ্চয়ই মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি বিয়ে করতেও পারবে না আবার, কারো বিয়ে দিতেও পারবে না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একথা (আমার পিতা) উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। আবূ মুহাম্মদ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনারও এটাই মত? তিনি বলেন: হাঁ।[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ أَنَّ رَجُلًا مِنْ قُرَيْشٍ خَطَبَ إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَوْسِمِ فَقَالَ أَبَانُ لَا أُرَاهُ عِرَاقِيًّا جَافِيًا إِنَّ الْمُحْرِمَ لَا يَنْكِحُ وَلَا يُنْكِحُ أَخْبَرَنَا بِذَلِكَ عُثْمَانُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪০৯; এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৩৮, ৯৭৩৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১২২-৪১২৮, ৪১৩৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. মুহরিম (ইহরামরত) অবস্থায় বিয়ে করা প্রসঙ্গে
১৮৬১. ইয়াযিদ ইবনু আসাম্ম থেকে বর্ণিত, মাইমূনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে মক্কা হতে ফিরার পথে সারিফ’ নামক স্থানে আমাকে বিবাহ করেন, আর তখন আমরা উভয়েই হালাল (ইহরামমুক্ত) ছিলাম।[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْأَصَمِّ أَنَّ مَيْمُونَةَ قَالَتْ تَزَوَّجَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ حَلَالَانِ بَعْدَمَا رَجَعَ مِنْ مَكَّةَ بِسَرِفَ
তাখরীজ: মুসলিম, নিকাহ ১৪১১; এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৪৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১০৫, ৭১০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৩৪, ৪১৩৬, ৪১৩৭, ৪১৩৮ তে। এ হাদীসটি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৩ এ আমাদের টীকাসমূহ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২১. মুহরিম (ইহরামরত) অবস্থায় বিয়ে করা প্রসঙ্গে
১৮৬২. আবূ রাফি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকেবর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মায়মূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে হালাল অবস্থায় বিবাহ করেছিলেন এবং হালাল অবস্থায়ই তাঁর সাথে বাসর হয়েছিল। আমিই তাঁদের মাঝে মাধ্যম (পয়গামবাহক) হিসাবে ছিলাম।[1]
بَاب فِي تَزْوِيجِ الْمُحْرِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ مَطَرٍ الْوَرَّاقِ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي رَافِعٍ قَالَ تَزَوَّجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَيْمُونَةَ حَلَالًا وَبَنَى بِهَا حَلَالًا وَكُنْتُ الرَّسُولَ بَيْنَهُمَا
তাখরীজ: ((তিরমিযী, হাজ্জ ৮৪১; আহমাদ ৬/৩৯২-৩৯৩- ফাওয়ায আহমাদের দারেমী হা/১৮২৫ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৩০, ৪১৩৫ তে। এছাড়া, বাইহাকী, আল মারিফাতুস সুনান নং ৯৭৪৯।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে প্রাণীকে মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি নিজে শিকার করেনি - এমন প্রাণী গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
১৮৬৩. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) হতে বর্নিত, তার পিতা হুদাইবিয়ার বছর রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে (সফরে) ছিলেন। তার সঙ্গীরা ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবী কাতাদা নিজে মুহরিম ছিলেন না। তিনি একটি বন্য গাধা পেয়ে (তার বর্শা দিয়ে)গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেললেন এবং এর মাংস খেলেন। (তিনি বলেন:) তখন আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-(এর সাথে তারা মিলিত হয়ে) তাঁকে বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি তো একটি বন্য গাধা পেয়ে (বর্শা দিয়ে) গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেলেছি এবং এর মাংস খেয়েছি।’ তখন তিনি লোকদেরকে বললেন: তোমরা খাও।[1]
بَاب فِي أَكْلِ لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَصِدْ هُوَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ انْطَلَقَ أَبِي مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْحُدَيْبِيَةِ فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ يُحْرِمْ أَبُو قَتَادَةَ فَأَصَابَ حِمَارَ وَحْشٍ فَطَعَنَهُ وَأَكَلَ مِنْ لَحْمِهِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَصَبْتُ حِمَارَ وَحْشٍ فَطَعَنْتُهُ فَقَالَ لِلْقَوْمِ كُلُوا وَهُمْ مُحْرِمُونَ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২১; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬৬, ৩৯৭৪, ৩৯৭৫, ৩৯৭৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে প্রাণীকে মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি নিজে শিকার করেনি - এমন প্রাণী গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
১৮৬৪. আব্দুল্লাহ ইবনু আবী কাতাদা (রাঃ) এর পিতা হতে বর্ণিত,’আমরা অভিযাত্রা করছিলাম। (বর্ণনাকারী বলেন,) আর তারা (তার সঙ্গীরা) মুহরিম ছিলেন কিন্তু আবী কাতাদা নিজে মুহরিম ছিলেন না। (তিনি বলেন,) হঠাৎ আমি একটি বন্য গাধা দেখতে পেলাম। সেই মূহুর্তে আমি ঘোড়ায় উঠে চড়ে বসলাম এবং গাধাটিকে আক্রমন করে মেরে ফেললাম। তারা তার মাংস খেলেন, অথচ তারা মুহরিম ছিলেন। কিন্তু আমি খাইনি। ইতোমধ্যে তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে তারা মিলিত হয়ে তাঁকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন: তোমরা কি এটিকে আক্রমণ করেছিলে, তোমরা কি একে হত্যা করেছিলে? অথবা, তিনি (রাবী) তোমরা কি একে আঘাত করেছিলে? তারা বললেন: না। তখন তিনি বলেন: তাহলে তোমরা খেতে পারো।[1]
بَاب فِي أَكْلِ لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَصِدْ هُوَ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ نَسِيرُ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَأَبُو قَتَادَةَ حَلَالٌ إِذْ رَأَيْتُ حِمَارًا فَرَكِبْتُ فَرَسًا فَأَصَبْتُهُ فَأَكَلُوا مِنْ لَحْمِهِ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَلَمْ آكُلْ فَأَتَوْا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلُوهُ فَقَالَ أَشَرْتُمْ قَتَلْتُمْ أَوْ قَالَ ضَرَبْتُمْ قَالُوا لَا قَالَ فَكُلُوا
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২৪; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৬; এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে প্রাণীকে মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি নিজে শিকার করেনি - এমন প্রাণী গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
১৮৬৫. সা’ব ইবনু জাছ্ছামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট বন্য গাধার মাংস পেশ করা হলে তিনি তা ফিরিয়ে দিয়ে বলেন: “আমরা তো মুহরিম। (এ অবস্থায়) আমরা শিকারলব্ধ প্রাণির মাংস খাই না।”[1]
بَاب فِي أَكْلِ لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَصِدْ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الصَّعْبِ بْنِ جَثَّامَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُتِيَ بِلَحْمِ حِمَارِ وَحْشٍ فَرَدَّهُ وَقَالَ إِنَّا حُرُمٌ لَا نَأْكُلُ الصَّيْدَ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮২৫; মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬, ৩৯৬৭, ৩৯৬৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে প্রাণীকে মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি নিজে শিকার করেনি - এমন প্রাণী গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
১৮৬৬. মুয়ায ইবন আবদুর রহমান তায়মী তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ ’আমরা তালহা ইবন উবাইদুল্লাহর সঙ্গে কোনো এক সফরে ছিলাম। আর তারা সকলে ছিলেন মুহরিম, এমতাবস্থায় তাকে একটি পাখি হাদিয়া দেওয়া হলো। সেই সময় তিনি নিদ্রারত ছিলেন। আমাদের মধ্যে কেউ তা আহার করলো আর কেউ তা আহার করা হতে বিরত রইল। ইত্যবসরে তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নিদ্রা থেকে জাগলেন। যারা তা খেয়েছিলেন, তিনি তাদের সমর্থন করলেন এবং বললেন: (মুহরিম অবস্থায়) আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সঙ্গে আহার করেছি।[1]
بَاب فِي أَكْلِ لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَصِدْ هُوَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ الْمُنْكَدِرِ عَنْ مُعَاذِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ كُنَّا مَعَ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ فِي سَفَرٍ فَأُهْدِيَ لَهُ طَيْرٌ وَهُمْ مُحْرِمُونَ وَهُوَ رَاقِدٌ فَمِنَّا مَنْ أَكَلَ وَمِنَّا مَنْ تَوَرَّعَ فَاسْتَيْقَظَ طَلْحَةُ فَأَخْبَرُوهُ فَوَفَّقَ مَنْ أَكَلَهُ وَقَالَ أَكَلْنَاهُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১১৯৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৩৬, ৩৯৬৭, ৩৯৬৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে প্রাণীকে মুহরিম (ইহরামরত) ব্যক্তি নিজে শিকার করেনি - এমন প্রাণী গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে
১৮৬৭. সা’ব ইবনু জাছ্ছামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আমি ’আবওয়া’[1]- কিংবা ’ওয়াদ্দান’ নামক স্থানে ছিলাম। তখন আমি তাঁকে বন্য গাধার মাংস হাদীয়া দিলে তিনি তা আমাকে ফিরিয়ে দিলেন। যখন তিনি আমার চেহারায় (এর প্রতি) ঘৃণা লক্ষ্য করলেন, তিনি বললেন: আমরা মুহরিম (ইহরামরত) নাহলে, তোমাকে এটা ফিরিয়ে দিতাম না।[2]
بَاب فِي أَكْلِ لَحْمِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ إِذَا لَمْ يَصِدْ هُوَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي الصَّعْبُ بْنُ جَثَّامَةَ قَالَ مَرَّ بِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا بِالْأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ فَأَهْدَيْتُ لَهُ لَحْمَ حِمَارِ وَحْشٍ فَرَدَّهُ عَلَيَّ فَلَمَّا رَأَى فِي وَجْهِي الْكَرَاهِيَةَ قَالَ إِنَّهُ لَيْسَ بِنَا رَدٌّ عَلَيْكَ وَلَكِنَّا حُرُمٌ
আর ওয়াদ্দান: মদীনা ও মক্কার মধ্যবর্তী একটি স্থান, তবে মদীনা মাসতুরাহ হতে নিকটবর্তী, প্রায় ১২ কিলো দূরে অবস্থিত।– (মুহাক্কিক্বের টীকা- অনুবাদক)।
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: এটি ১৮৭০ (অনূবাদে ১৮৬৫) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে (বদলী) হজ্জ করা প্রসঙ্গে
১৮৬৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে তার ভাই আল-ফাদল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-র সূত্রে বর্ণিত। তিনি বিদা’ঈ হাজ্জের সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সওয়ারীতে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন খাছআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপরও তার বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের পিঠে চেপে বসতেই পারেননা। ফলে তিনি হাজ্জ করতে পারেন নি। এমতাবস্থায়, আমি কি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করবো? তিনিবলেনঃ হাঁ।[1]
আবূ মুহাম্মদকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার মতও কি তাই? তিনি বললেন: হাঁ।
بَاب فِي الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ مَعْمَرٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ بْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ جَاءَتْ امْرَأَةٌ مِنْ خَثْعَمَ فَقَالَتْ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ فِي الْحَجِّ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لَا يَسْتَمْسِكُ عَلَى رَاحِلَتِهِ وَلَمْ يَحُجَّ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ سُئِلَ أَبُو مُحَمَّد تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৫১৩; মুসলিম, হাজ্জ১৩৩৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৫১, ২৩৮৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৮৯, ৩৯৯৫, ৩৯৯৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১৭তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে (বদলী) হজ্জ করা প্রসঙ্গে
১৮৬৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে (তার ভাই) আল-ফাযল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-র সূত্রে বর্ণিত। এক মহিলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বললো, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ ব্যক্তি। তিনি উটের পিঠে বসে থাকতে সক্ষম নন। এমতাবস্থায় আল্লাহর ধার্যকৃত (হজ্জ) তার উপরও ফরয হয়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তুমি তার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।[1]
بَاب فِي الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ هُوَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً سَأَلَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ لَا يَسْتَوِي عَلَى الْبَعِيرِ أَدْرَكَتْهُ فَرِيضَةُ اللَّهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حُجِّي عَنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, জাযাউস সাইদ, ১৮৫৩; মুসলিম, হাজ্জ১৩৩৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে (বদলী) হজ্জ করা প্রসঙ্গে
১৮৭০. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। আল-ফাদল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বিদায় হাজ্জের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সওয়ারীতে তাঁর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন। তখন খাছআম গোত্রের এক মহিলা তাঁর নিকট এসে জানতে চাইলো, হে আল্লাহর রাসূল! বান্দাদের উপর আল্লাহর ধার্যকৃত হজ্জ আমার পিতার উপরও অতি বৃদ্ধ বয়সে ফরয হয়েছে। কিন্তু তিনি বাহনের পিঠে চেপে বসতে সক্ষম নন। ফলে আমি তার পক্ষ থেকে হাজ্জ করলে তা আদায় হবে কি? তিনিবলেনঃ হাঁ।[1]
بَاب فِي الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً مِنْ خَثْعَمَ اسْتَفْتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَالْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ رَدِيفُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ فَرِيضَةَ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ أَدْرَكَتْ أَبِي شَيْخًا كَبِيرًا لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَسْتَوِيَ عَلَى الرَّاحِلَةِ فَهَلْ يَقْضِي أَنْ أَحُجَّ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী, ১৫১৩; আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে (বদলী) হজ্জ করা প্রসঙ্গে
১৮৭১. (অপরসূত্রে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে আওযাঈ’র হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب فِي الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوًا مِنْ حَدِيثِ الْأَوْزَاعِيِّ
তাখরীজ: আবূ ইয়ালা মাউসিলী নং ২৩৮৪ সেখানে আমি এর তাখরীজ দিয়েছি; এছাড়া তাহাবী, মুশকিলিল আছার, ৩/২২০; এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. জীবিত ব্যক্তির পক্ষ হতে (বদলী) হজ্জ করা প্রসঙ্গে
১৮৭২. আল-ফাদল ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু – অথবা- উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক লোক বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমারপিতা- অথবা আমার মাতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। আমি যদি তাকে বাহনে আরোহন করাই, তবে তিনি বাহনের উপর স্থিত হয়ে বসে থাকতে পারেননা। এমতাবস্থায় আমি যদি তাকে বাহনের উপর বেঁধে দেই, তাহলে আমার আশংকা হয় যে, আমিই যেন তাকে হত্যা করে ফেলছি (আমার বেঁধে দেয়ার কারণেই সে মারা যাবে)। তিনিবললেন: “আচ্ছা তোমার পিতা অথবা, মাতার দায়িত্বে কোন ঋণ থাকলে তা তুমি পরিশোধ করতে কি-না? সে বললো, হাঁ। তিনিবললেন: “সুতরাং তোমার পিতা অথবা, মাতারপক্ষ হতে তুমি হাজ্জ সম্পাদন কর।”[1]
بَاب فِي الْحَجِّ عَنْ الْحَيِّ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ يَسَارٍ حَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ أَوْ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ الْعَبَّاسِ أَنَّ رَجُلًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبِي أَوْ أُمِّي عَجُوزٌ كَبِيرٌ إِنْ أَنَا حَمَلْتُهَا لَمْ تَسْتَمْسِكْ وَإِنْ رَبَطْتُهَا خَشِيتُ أَنْ أَقْتُلَهَا قَالَ أَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ أَوْ أُمِّكَ دَيْنٌ أَكُنْتَ تَقْضِيهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَحُجَّ عَنْ أَبِيكَ أَوْ أُمِّكَ
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২০; আহমাদ ১/২১২, ৩০৯; এ বাবের হাদীসগুলি দেখুন এবং তাতে আমাদের টীকাসমূহও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে হজ্জ পালন
১৮৭৩. আব্দুল্লাহ ইবনু যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাছ’আম গোত্রের এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইসলাম আমার পিতার নিকট (এর ফরয হাক্ক সহ) পৌঁছে গেছে। আমার পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। তিনি বাহনে আরোহন করতে সক্ষম নন। আর তার উপর হাজ্জ ফরয হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি কি আমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করতে পারি?
তিনি বলেনঃ “তুমি কি তার সবচেয়ে বড়সন্তান?” সে বললো: হাঁ। তিনি বললেন: “আচ্ছা, তোমার পিতার দায়িত্বে কোন ঋণ থাকতো, আর তুমি যদি তা পরিশোধ করতে, তবে সেটি তার পক্ষ হতে আদায় হয়ে যেতো কি-না?” সে বললো, হাঁ। তিনি বললেন: “অতএব, তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হজ্জ করো।”[1]
بَاب الْحَجِّ عَنْ الْمَيِّتِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ الزُّبَيْرِ مَوْلًى لِآلِ الْزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ مِنْ خَثْعَمَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَبِي أَدْرَكَهُ الْإِسْلَامُ وَهُوَ شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يَسْتَطِيعُ رُكُوبَ الرَّحْلِ وَالْحَجُّ مَكْتُوبٌ عَلَيْهِ أَفَأَحُجُّ عَنْهُ قَالَ أَنْتَ أَكْبَرُ وَلَدِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ عَنْهُ أَكَانَ ذَلِكَ يُجْزِئُ عَنْهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاحْجُجْ عَنْهُ
তাখরীজ: আবূ ইয়ালা মাউসিলী নং ৬৮১৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩২৯; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২১ জাইয়্যেদ সনদে। ((নাসাঈ, হাজ্জ, ৫/১১৭-১১৮; আহমাদ ৫/৪।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৩৬ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী তে। এছাড়া, ইবনু আবী শাইবা ১/৪/৪৪১।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে হজ্জ পালন
১৮৭৪. সাওদা বিনতে যাম’আহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, আমার পিতা অতি বৃদ্ধ মানুষ। তিনি হাজ্জ সম্পাদন করতে সক্ষম নন। তিনি বললেন: আচ্ছা, যদি তোমার পিতার কোন ঋণ থাকতো, আর তুমি তা পরিশোধ করতে, তবে তা কবুল করা হতো কি-না? সেবললো, হাঁ।
তিনি বললেন: আল্লাহ হলেন সর্বাধিক দয়াশীল! তুমি তোমার পিতার পক্ষ থেকে হাজ্জ করো।”[1]
بَاب الْحَجِّ عَنْ الْمَيِّتِ
أَخْبَرَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ عَبْدِ الصَّمَدِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ مَوْلَى ابْنِ الزُّبَيْرِ يُقَالُ لَهُ يُوسُفُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَوْ الزُّبَيْرُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ قَالَتْ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّ أَبِي شَيْخٌ كَبِيرٌ لَا يَسْتَطِيعُ أَنْ يَحُجَّ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ كَانَ عَلَى أَبِيكَ دَيْنٌ فَقَضَيْتَهُ عَنْهُ قُبِلَ مِنْهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ اللَّهُ أَرْحَمُ حُجَّ عَنْ أَبِيكَ
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৩/২২১; ((আহমাদ; তাবারাণী, আল কাবীর, বাইহাকী; হাইছামী বলেন: এর রাবীগণ বিশ্বস্ত।’-- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৩৭ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর তাখরীজ দিয়েছি আমরা মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮১৮ ও মাযমাউয যাওয়াইদ নং ৫৭৫৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. হাজর (আসওয়াদ) চুম্বন করা প্রসঙ্গে
১৮৭৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যখন থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে (তাওয়াফ করার সময়) এ দু’টি রুকন (রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদ)ইসতিলাম (চুম্বন) করতেদেখেছি- তখন থেকে আমি কষ্টকর হোক, কিংবা স্বাচ্ছন্দ্যময় হোক, কোনো অবস্হায়ই উক্ত রুকনদ্বয় ইসতিলাম করা বাদ দেইনি। (রাবী উবাইদুল্লাহ বলেন,) আমি নাফি’ঈ কে বললাম, ইবনু উমার কি এ দুই রুকনের মাঝে স্বাভাবিকভাবে হেটে যেতেন? তিনি বললেন, ইসতিলাম করা যাতে সহজ হয়, সেজন্য তিনি স্বাভাবিকভাবে হেটে যেতেন।[1]
بَاب فِي اسْتِلَامِ الْحَجَرِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ مَا تَرَكْتُ اسْتِلَامَ هَذَيْنِ الرُّكْنَيْنِ فِي شِدَّةٍ وَلَا رَخَاءٍ مُنْذُ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَلِمُهُمَا قُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَمْشِي بَيْنَ الرُّكْنَيْنِ قَالَ إِنَّمَا كَانَ يَمْشِي لِيَكُونَ أَيْسَرَ لِاسْتِلَامِهِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৬০৬; মুসলিম, হাজ্জ১২৬৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফযীলত
১৮৭৬. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ কিয়ামতের দিন এই পাথরকে আল্লাহ এমন অবস্থায় পুন:উত্থিত করবেন যে, এর দু’টি চোখ থাকবে, যা দিয়ে সেটি দেখবে এবং একটি জিহবা থাকবে যা দিয়ে সেটি কথা বলবে এবং যে ব্যক্তি তাকে যথাযথভাবে চুম্বন করেছে, সেটি সেই লোকের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করবে।[1]
সালমান (তার বর্ণনায়) বলেন: যে ব্যক্তি তাকে চুম্বন করেছে, তার জন্য (অর্থাৎ ’যথাযথভাবে’ শব্দটি ব্যতীত)।
بَاب الْفَضْلِ فِي اسْتِلَامِ الْحَجَرِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ وَسُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَا حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيَبْعَثَنَّ اللَّهُ الْحَجَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَهُ عَيْنَانِ يُبْصِرُ بِهِمَا وَلِسَانٌ يَنْطِقُ بِهِ يَشْهَدُ عَلَى مَنْ اسْتَلَمَهُ بِحَقٍّ قَالَ سُلَيْمَانُ لِمَنْ اسْتَلَمَهُ
তাখরীজ: ((তিরমিযী, ৯৬১; ইবনু মাজাহ, হাজ্জ ২৯৪৪; আহমাদ ২২১৬, ২৩৯৪, ২৬৩৮, ২৭৯৩, ৩৫০১ – অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১১, ৩৭১২ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৫ তে।
এছাড়া, তাবারানী, আল কাবীর ১২/৬৩ নং ১২৪৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি (তাওয়াফের সময়) তিনবার রমল করে (দৌড়ে চলে) এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে
১৮৭৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেছেন।[1]
بَاب مَنْ رَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلَاثَةَ أَشْوَاطٍ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ, ১০৮; মুসলিম, হাজ্জ১২৬৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮১০, ১৮৮২, ২২০২;সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮১৩ ও মাযমাউয যাওয়াইদ নং ৫৫৩৪, ৫৫৩৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি (তাওয়াফের সময়) তিনবার রমল করে (দৌড়ে চলে) এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে
১৮৭৮. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইতুল্লাহর প্রথম তাওয়াফ (তাওয়াফে উলা) করার সময় তিনবার রমল করেন (দুলে দুলে চলেন) এবং চারবার স্বাধারণভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন। তারপর সাফা ও মারওয়া সাঈ করার সময় তিনি ’বাতনে মাসীলে’ (উপত্যকায়) এসে দ্রুতহেঁটে চলেন।
(বর্ণনাকারী উবাইদুল্লাহ বলেন), এরপর আমি নাফি’ঈ-কে বললাম, আব্দুল্লাহ (রা:) যখন রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছতেন, তখন কি তিনি স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলতেন? তিনি বললেন, না। তবে রুকনের নিকট ভীড় থাকলে (একটু মন্থর গতিতে চলতেন)। কেননা, তিনি একে চুম্বন না করা পর্যন্ত তা ছেড়ে যেতেননা।[1]
بَاب مَنْ رَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا طَافَ بِالْبَيْتِ الطَّوَافَ الْأَوَّلَ خَبَّ ثَلَاثَةً وَمَشَى أَرْبَعَةً وَكَانَ يَسْعَى بِبَطْنِ الْمَسِيلِ إِذَا سَعَى بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقُلْتُ لِنَافِعٍ أَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ يَمْشِي إِذَا بَلَغَ الرُّكْنَ الْيَمَانِيَ قَالَ لَا إِلَّا أَنْ يُزَاحَمَ عَلَى الرُّكْنِ فَإِنَّهُ كَانَ لَا يَدَعُهُ حَتَّى يَسْتَلِمَهُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৬০৩, ১৬১৬, ১৬১৭, ১৬৪৪; মুসলিম, হাজ্জ১২৬১ (২৩১, ২৩২); আবূদাউদ, মানাসিক১৮৯৩; নাসাঈ, কুবরা নং ৩৯৩৫, ৩৯৩৮, ৩৯৩৯; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৯৪; আহমাদ২/৩০; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯৫০।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে ব্যক্তি (তাওয়াফের সময়) তিনবার রমল করে (দৌড়ে চলে) এবং চারবার স্বাভাবিকভাবে হেঁটে চলে
১৮৭৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদ হতে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত (প্রথম) তিন চক্করে রমল করেন (দুলে দুলে চলেন) এবং চারবার স্বাধারণভাবে হেঁটে তাওয়াফ করেন।[1]
بَاب مَنْ رَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ رَمَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْحَجَرِ إِلَى الْحَجَرِ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ১২৬২; বাইহাকী, হাজ্জ৫/৮৩; আবূ দাউদ, মানাসিক১৮৯১; আহমাদ২/৭৫। আগের হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. রমল করার সময় চাঁদর ডান বগলের নিচ দিয়ে তার দু‘পাশ বাম কাঁধে পেঁচিয়ে পরিধান করা
১৮৮০. ইবনু ইয়া’লা তার পিাতা ইয়া’লা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর (একটি সবুজ) চাঁদর তাঁর ডান বগলের নিচ দিয়ে তার দু’পাশ বাম কাঁধে প্যাঁচানো অবস্থায় (বায়তুল্লাহ)তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।[1]
بَاب الِاضْطِبَاعِ فِي الرَّمَلِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ هُوَ ابْنُ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ يَعْلَى عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ طَافَ مُضْطَبِعًا
তাখরীজ: ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯৫৪; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৭৯; আহমাদ ৪/২২২,২২৩, ২২৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৮৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৫৯। আমার বক্তব্য: এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস (রা:) হতে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৭৪তে সহীহ সনদে। দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/২৪৮ ও নাইলূল আওতার ৫/১১০-১১১।
পরিচ্ছেদঃ ২৯. কিরাণ হজ্জকারীর তাওয়াফ
১৮৮১. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি (একত্রে) হাজ্জ ও উমরার ইহরাম বাধবে, তার ক্ষেত্রে এতদুভয়ের জন্য এক তাওয়াফই যথেষ্ট হবে এবং উভয়টি থেকে হালাল না হওয়া পর্যন্ত সে হালাল হবে না।”[1]
بَاب طَوَافِ الْقَارِنِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ كَفَاهُ لَهُمَا طَوَافٌ وَاحِدٌ وَلَا يَحِلُّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا
তাখরীজ: ইবনুল জারুদ নং ৪৬০; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১৯৭; আহমাদ ২/৬৭; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৪৮; দারুকুতনী ২/২৫৭ নং ৯৪; ইবনু হিব্বান নং ৩৯১৫, ৩৯১৬; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১০৭; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ১০০৪২; ইবুন হাযম আল মুহাল্লা ৭/১৭৪; ইবনু খুযাইমা, আসসহীহ ২৭৪৫; দেখুন মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৯৮, ৫৫০০ ও নাসবুর রায়াহ ৩/১০৭-১১২; দিরায়াহ২/৩৫; নাইল ৫/১৫৭-১৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. বাহনে আরোহী অবস্থায় তাওয়াফ করা
১৮৮২. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। (বিদায় হজ্জের সময়) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটে সাওয়ার হয়ে বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ করেন এবং প্রত্যেক বার যখনই রুকনে ইয়ামানীতে পৌঁছেন, তখন তাঁর হাতে থাকা কোনো কিছু (লাঠি) দ্বারা এর প্রতি ইশারা করেন এবং তাকবীর উচ্চারণ করেন।[1]
بَاب الطَّوَافِ عَلَى الرَّاحِلَةِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَافَ بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ كُلَّمَا أَتَى عَلَى الرُّكْنِ أَشَارَ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ فِي يَدِهِ وَكَبَّرَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ, ১৬০৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২৭২; ইবুন হাযম, আলমুহাল্লা ৭/১৮০; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৯৯৭৪, ৯৯৭৭, ৯৯৭৮;
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২৫, ৩৮২৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩১. (কোনো মহিলা) হায়িযগ্রস্ত হলে তার হজ্জের ক্ষেত্রে সে যেসকল কাজ সম্পাদন করবে
১৮৮৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হায়িযগ্রস্ত অবস্থায় মক্কায় উপস্থিত হলাম। কিন্তু সাফা ও মারওয়ার মাঝে তাওয়াফ করতে পারলাম না। ফলে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তিনি বলেন: একজন হাজ্জ পালনকারী যা করেন তুমিও তা-ই কর, কিন্তু তুমি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করবেনা।[1]
بَاب مَا تَصْنَعُ الْحَاجَّةُ إِذَا كَانَتْ حَائِضًا
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ قَدِمْتُ مَكَّةَ وَأَنَا حَائِضٌ وَلَمْ أَطُفْ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَشَكَوْتُ ذَلِكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ افْعَلِي مَا يَفْعَلُ الْحَاجُّ غَيْرَ أَنْ لَا تَطُوفِي بِالْبَيْتِ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ২৩২; বুখারী, হাজ্জ, ১৭৫৭;এর মূল রয়েছে, হায়িয ২৯৪; মুসলিম, হাজ্জ ১২১১;
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০৪, ৪৯১৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৩৫, ৩৮৩৪তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. তাওয়াফের সময় কথা বলা
১৮৮৪. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: বায়তুল্লাহর তাওয়াফও সালাতই, তবে তাওয়াফের মধ্যে কথা বলা আল্লাহ হালাল করেছেন (যা সালাতে হারাম)। ফলে যে ব্যক্তি এতে (তাওয়াফের মধ্যে) কথা বলবে, সে যেন কল্যাণকর কথা ব্যতীত অন্য কোনো কথা না বলে।[1]
بَاب الْكَلَامِ فِي الطَّوَافِ
أَخْبَرَنَا الْحُمَيْدِيُّ حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ صَلَاةٌ إِلَّا أَنَّ اللَّهَ أَحَلَّ فِيهِ الْمَنْطِقَ فَمَنْ نَطَقَ فِيهِ فَلَا يَنْطِقْ إِلَّا بِخَيْرٍ
তাখরীজ: আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৯৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৩৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. তাওয়াফের সময় কথা বলা
১৮৮৫. (অপর সনদে) ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب الْكَلَامِ فِي الطَّوَافِ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مَعْبَدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ أَعْيَنَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে সালাত আদায় করা
১৮৮৬. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেনঃ তিনটি বিষয়ে আমার অভিমত আমার রবের (অহির) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে: আমি বলেছিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি যদি মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান হিসেবেগ্রহণ করতেন! তখন আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করেন: ’তোমরা মাকামে ইবরাহীমকে সালাতের স্থান বানাও’ (বাকারাঃ ১২৫)[1]
بَاب الصَّلَاةِ خَلْفَ الْمَقَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَافَقْتُ رَبِّي فِي ثَلَاثٍ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ اتَّخَذْتَ مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৩-২৪, ৩৬; বুখারী, সালাত, ৪০২, তাফসীর ৪৪৮৩; মুসলিম, ফাদাইলুস সাহাবাহ ২৩৯৯; বাইহাকী, নিকাহ৭/৮৮; ইবনু আদী, আল কামিল ২/৭৯২।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. হজ্জের সুন্নাত (পদ্ধতি) সম্পর্কে
১৮৮৭. জাফর ইবনে মুহাম্মাদ আল-বাকের (রহঃ) থেকে তার পিতার সুত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা’র নিকট গেলাম। আমরা তার নিকট উপস্থিত হলে তিনি (সাক্ষাতপ্রার্থী) লোকদের পরিচয় জানতে চান। এভাবে আমার পরিচয় জিজ্ঞেস করলে আমি বলি যে, আমি আলী ইবনুল হুসাইনের পুত্র মুহাম্মাদ। ফলে তিনি (স্নেহভরে) আমার দিকে তার হাত বাড়িয়ে আমার পরিচ্ছদের উপর দিকের বোতাম, অতঃপর নিচের বোতাম খুললেন, অতঃপর তার মুখ আমার বুকের মাঝে রাখলেন (চুমু খেলেন)। আমি তখন উঠতি বয়সের যুবক। যাহোক, এরপর তিনি বলেন, হেভ্রাতুষ্পুত্র! তোমাকে মোবারকবাদ জানাই। তুমি যা জানতে চাও জিজ্ঞেস করো।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এ সময় তিনি (বার্ধক্যজনিত কারণে) দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। ইতোমধ্যে নামাযের ওয়াক্ত হলো। তিনি নিজেকে একটি চাদরে আবৃত করে উঠে দাঁড়ালেন। তিনি যখনই চাদরের প্রান্তভাগ নিজ কাঁধের উপর রাখতেন, তা (আকারে) ছোট হওয়ার কারণে তাঁর দিকেই ফিরে আসলো (নিচে পড়ে যেতে লাগল)। তার আরেকটি বড় চাদর তার পাশেই আলনায় রাখা ছিল। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। অতঃপর আমি বললাম, আপনি আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসা্ল্লাম-এর (বিদায়)হাজ্জ সম্পর্কে অবহিত করুন।
তখন তিনি তার হাত দিয়ে নয় (৯) সংখ্যার মত গিঁঠ বানিয়ে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নয় বছর (মদীনায়) অবস্থান করেন এবং (এ সময়কালের মধ্যে) হজ্জ করেননি। অতঃপর দশম বর্ষে লোকেদের মধ্যে হাজ্জের ঘোষণা করালেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (এ বছর) হাজ্জে যাবে। সুতরাং মদীনায়অসংখ্য লোকের সমাগম হলো। তাদের প্রত্যেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুসরণ করতে এবং তাঁর অনুরূপ আমল করতে আগ্রহী ছিল। অতএব (তিনি রওয়ানা হলে) আমরাও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। আমরা যুল-হুলাইফানামক স্থানে পৌঁছলে আসমা বিনতে উমাইস মুহাম্মাদ ইবনে আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম-কে প্রসব করলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট লোক পাঠিয়ে জানতে চাইলেন, এখন আমি কী করবো?
তিনি বললেনঃ তুমি গোসল করো, এক খন্ড কাপড়দিয়ে পট্টি বাঁধো এবং ইহরামের পোশাক পরিধান করো।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে (ইহরামের দু’ রাক’আত) সালাত আদায় করলেন, অতঃপর ’কাসওয়া’ নামক উষ্ট্রীতে আরোহণ করলেন। অবশেষে ’বাইদা’ নামক স্থানে তাঁর উষ্ট্রী যখন তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো, তখন আমি (জাবির) সামনের দিকে যতদূর দৃষ্টি যায় তাকিয়ে দেখলাম, লোকে লোকারণ্য, কতক সওয়ারীতে এবং কতক পদব্রজে অগ্রসরহচ্ছে। ডান দিকে, বাঁ দিকে এবং পেছনেও একই দৃশ্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝখানে ছিলেন এবং তাঁর উপর কুরআন নাযিল হচ্ছিল। একমাত্র তিনিই এর আসল তাৎপর্য জানেন। তিনি আল্লাহর তাওহীদ সম্বলিত এই তালবিয়া পাঠের মাধ্যমে শুরু করলেনঃ “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মালাব্বাইকা, লাববাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল-হামদা ওয়ান-নিয়’মাতা লাকাওয়াল-মুলকা লা শারীকা লাকা’’ (আমি তোমার দরবারে হাজির আছি হে আল্লাহ, আমি তোমার দরবারে হাজির, আমি তোমার দরবারে হাজির। তোমার কোন শরীক নাই, আমি তোমার দরবারে উপস্থিত। নিশ্চয় সমস্ত প্রশংসা, সমস্ত নিয়ামত তোমারই এবং রাজত্বও, তোমার কোন শরীক নাই)।
কিন্তু লোকেরা উপরোক্ত তালবিয়া পাঠ করলো যা (আজও) তারাপাঠ করে, (অর্থাৎ লোকেরা তাঁর তালবিয়ার সাথে কিছু শব্দ বাড়িয়ে বলে), কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বাধা দেননি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর আপন (উপরোক্ত) তালবিয়াই পাঠ করতে থাকেন, এভাবে আমরা তাঁর সাথে বাইতুল্লাহ আসা পর্যন্ত।
জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা হজ্জ ছাড়া অন্য কিছুর নিয়াত করিনি, আমরা উমরার কথাও জানতাম না। অবশেষে আমরা তাঁর সাথে বাইতুল্লাহ শরীফে পৌঁছলে তিনি রুকন (হাজরে আসওয়াদ) চুম্বন করলেন, অতঃপর (প্রথম) তিনবার রমল করে (দ্রুত গতিতে) তাওয়াফ করলেনএবং চারবার স্বাভাবিক গতিতে। অতঃপর তিনি মাকামে ইবরাহীমে পৌঁছে তিলাওয়াত করলেনঃ ’’তোমরা ইবরাহীমের দাঁড়াবার স্থানকে নামাযেরস্থানরূপে গ্রহণ করো।’’ (সূরা বাকারাঃ ১২৫)
তিনি মাকামে ইবরাহীমকে তাঁর ও বাইতুল্লাহর মাঝখানে রেখে (দুই রাক’আত) সালাত আদায় করলেন। (জাফর বলেন) আমার পিতা (মুহাম্মাদ) বলতেন, আমি যতদূর জানি, তিনি (জাবির) বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেনঃ তিনি দু’ রাক্আত সালাতে “ক্বুল হুয়াল্লাহু আহাদ” (সূরা ইখলাস: ১) “ক্বুল ইয়া আইয়্যূহাল কাফিরূণ।” (সূরা কাফিরূন: ১) পড়েছেন।
অতঃপর তিনি রুকনে (হাজরে আসওয়াদে) ফিরে এলেন এবং তাতে চুমা দিলেন। অতঃপর তিনি দরজা দিয়ে সাফা পাহাড়ের দিকে বের হলেন এবং সাফায় উপস্থিত হয়ে তিলাওয়াত করলেনঃ ’’নিশ্চয় সাফা ও মারওয়া পাহাড়দ্বয় আল্লাহর নিদের্শন সমূহের অন্যতম।’’ (সূরা বাকারাঃ ১৫৮) এবং (বললেন:) “আল্লাহ তাআলা যা দিয়ে আরম্ভ করেছেন আমরাও তা দিয়ে আরম্ভ করবো।” এ বলে তিনি সাফা পাহাড় থেকে শুরু করলেন এবং তার এতোটা উপরে আরোহণ করলেন যে, বাইতুল্লাহ শরীফ দেখতে পেলেন।
এরপর তিনি (কিবলামুখী হয়ে) আল্লাহরএকত্ব ও বড়ত্ব ঘোষণা করলেন এবং এ দোয়া পড়লেনঃ ’’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকা লাহু, লাহুল-মুলকু ওয়া লাহুল-হামদু ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ওয়া হুওয়া আলা কুল্লিশাইয়্যিন কাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু আনজাযা ওয়া’দাহু ওয়ানাসারা আবদাহু ওয়া হাযামাল আহযাবা ওয়াহদাহু।’’ (অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নাই, তাঁর জন্য রাজত্ব এবং তাঁর জন্য সমস্ত প্রশংসা, তিনি জীবিত করেন আবার তিনিই মৃত্যু দান করেন। তিনি প্রতিটি জিনিসের উপর শক্তিমান। আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই, তিনি এক, তিনি নিজের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করেছেন, নিজের বান্দাকে সাহায্য করেছেন এবং একাই সমস্ত সম্মিলিত শক্তিকে পরাভূত করেছেন)।
মাঝখানে অনুরূপ আরো কিছু দোয়া পড়লেন। তিনি এ দোয়া তিনবার পড়লেন অতঃপর তিনি নেমে মারওয়া পাহাড়ের দিকে অগ্রসর হলেন, যাবত না তাঁর পদদ্বয় ’বাতনুল ওয়াদী’ (উপত্যকার সমতল ভূমি) তে গিয়ে ঠেকলো।’ আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান (দারেমী) বলেন, এর অর্থ, তিনি রমল করলেন (দ্রুত চললেন) যাবত না তার পদদ্বয় ’বাতনুল ওয়াদী’ (উপত্যকা) অতিক্রম করলেন। মারওয়া পাহাড়ে উঠার সময় হেঁটে উঠলেন, অতঃপর এখানেওতাই করলেন, যা তিনি সাফা পাহাড়ে করেছিলেন। শেষ তাওয়াফে তিনি মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে (লোকেদের সম্বোধন করে) বললেনঃ যদি আমি আমার করণীয় সম্পর্কে আগে বুঝতে পারতাম, যা পরে বুঝতে পারলাম, তাহলে আমি সাথে করে কোরবানীর পশু আনতাম না এবং (হজ্জের) ইহরামকে উমরায় পরিবর্তিত করতাম। অতএব তোমাদের মধ্যে যার সাথে কোরবানীর পশু নাই, সে যেন ইহরাম খুলে ফেলে এবং একে উমরায় পরিণত করে।”
এ সময় সুরাকা ইবনে মালেক ইবনে জু’শুম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যবস্থা কি আমাদের এ বছরের জন্য, না সর্বকালের জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ হাতের আংগুলগুলো পরস্পরের ফাঁকে ঢুকিয়ে দু’বার বললেনঃ “উমরা হাজ্জের মধ্যে প্রবেশ করলো।” “না, বরং সর্বকালের জন্য। না, বরং সর্বকালের জন্য।”
এ সময় আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামান হতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য কোরবানীর পশু নিয়ে এলেন এবং যারা ইহরাম খুলে হালাল হয়ে গিয়েছিলো, ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকেও তাদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পেলেন। তিনি রঙ্গীনকাপড় পরিহিত ছিলেন এবং চোখে সুরমা দিয়েছিলেন। আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তার একাজ অপছন্দ করলেন। ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বললেন, আমার পিতা আমাকে এরূপ করার নির্দেশ দিয়েছেন। (রাবী বলেন) এরপর আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু (ইরাকে অবস্থানকালে) বলতেন, তখন আমি (অসন্তুষ্ট অবস্থায়) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম ফাতিমা যা করেছে সে ব্যাপারে তাঁকে উত্তেজিত করতে চেষ্টা করতে এবং সে যা বলেছে সে সম্পর্কে মাসআলা জানার জন্যও। আমি তার এ কাজ অপছন্দ করলাম। তখন তিনি বললেনঃ “ফাতিমা ঠিকই বলেছে! তুমি হাজ্জের ইহরাম বাঁধার সময় কী করেছিলে?”
তিনি বলেন, আমি বলেছিলাম, হে আল্লাহ! আমি ইহরাম বাঁধলাম যে নিয়াতে ইহরাম বেঁধেছেন আপনার রাসূল।
তিনি বললেনঃ “আমার সাথে কোরবানীর পশু আছে, অতএব তুমি (আলী) ইহরাম খুলো না।”
তিনি (জাবির)বলেন, ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইয়ামেন থেকে যেপশুপাল নিয়ে এসেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের সাথে করে যে পশুগুলো নিয়ে এসেছিলেন এর সর্বমোট সংখ্যা দাঁড়ায় একশত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যাদের সাথে কোরবানীরপশু ছিল, তারা ব্যতীত আর সকলেই ইহরাম খুলে ফেলেন এবং চুল ছোট করলেন।
অতঃপর যখন তারবিয়ার দিন (৮ যিলহজ্জ) শুরু হলো, তিনি মিনার দিকে রওয়ানা হলে আমরা পুনরায় ইহরাম বাঁধলাম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসা্ল্লাম সওয়ার হয়ে গেলেন এবং তথায় যোহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর তিনি সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত তথায় কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন এবং তাঁর জন্য নামিরা নামক স্থানে গিয়ে একটি তাঁবু টানানোর নির্দেশ দিলেন, ফলে তা টানানো হলো। অতঃপর বাহনে আরোহন করে রওয়ানা হয়ে গেলেন।
কুরাইশগণ নিশ্চিত ছিল যে, তিনি মাশআরুল হারাম নামক স্থানে অবস্থান করবেন, যেমন কুরাইশগণ জাহিলী যুগে মুযদালিফায় যেমন করতো (মানহানি হওয়ার আশঙ্কায় তারা সাধারণের সাথে একত্রে অবস্থান করতো না)। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসা্ল্লাম সামনে অগ্রসর হতে থাকলেন যতক্ষণ না আরাফায় পৌঁছলেন। তিনি দেখতে পেলেন, নামিরায় তাঁর জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। তিনি এখানে অবতরণ করলেন।
অবশেষে সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়লে তিনি তাঁর কাসওয়া নামক উষ্ট্রী সাজানোর নির্দেশ দিলে তা সাজানো হলো। অতঃপর তিনি (তাতে আরোহন করে) ’বাতনুল ওয়াদী’ (উপত্যকা) তে এলেন এবং লোকেদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বললেনঃ
’’তোমাদের জীবন ও সম্পদ তোমাদের পরস্পরের জন্যহারাম, যেমন হারাম (সম্মানিত) তোমাদের এই দিনটি, তোমাদের এই মাসে এবং তোমাদের এই শহরে।
জেনে রাখ! জাহিলী যুগের সকল জিনিস (মন্দ রীতি)রহিত হলো। জাহিলী যুগের রক্তের দাবি রহিত করা হলো। আমাদের (বংশের) রক্তের দাবির মধ্যে সর্বপ্রথম আমি রবীআ ইবনুল হারিসের রক্তের দাবি রহিত করলাম। সে সাদ গোত্রে শিশু অবস্থায় লালিত-পালিত হওয়াকালীন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করেছিল।
জাহিলী যুগের সূদও রহিত করা হলো। আমাদের বংশের প্রাপ্য সূদের মধ্যে সর্ব প্রথম আমি আবদুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-র প্রাপ্য সমুদয় সূদ রহিত করলাম।’’
আর তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করবে। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর কালামের মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছো। তাদের উপর তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের বিছানা এমন কোন লোককে মাড়াতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা অনুরূপ কাজ করে তবে তাদেরকে হাল্কাভাবে মারপিট করবে। আর তোমাদের উপর তাদের অধিকার এই যে, তোমরা ন্যায় সঙ্গতভাবে তাদের পোশাক ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে।’’
তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?” তারা (উপস্থিত জনতা) বললেন, আমরা সাক্ষ্য দিবো যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছে দিয়েছেন, আপনার কর্তব্য পালন করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন।’
অতঃপর তিনি নিজের তর্জনী (শাহাদত আঙ্গুল) আকাশের দিকে উত্তোলন করে এবং জনতার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন।”
অতঃপর বিলালকে এক আযান ও এক ইক্বামাত(ইকামত/একামত) দানের জন্য আহবান করলেন এবং তিনি যোহরের সালাত আদায় করলেন। অতঃপর দাঁড়িয়ে গেলেন, এরপর আসরের সালাত আদায় করলেন এবং এতদুভয়ের মাঝে আর কোনো সালাত আদায় করেননি। এরপর তিনি (কাসওয়ার উপর) সওয়ার হয়ে আল মাওকিফ (অবস্থানস্থল)-এ এলেন, নিজের কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর পেট পাথরের স্তুপের দিকে- (আর ইসমাঈল বলেছেন- ঝোপের দিকে করে দিলেন এবং পদব্রজে আসা লোকদের নিজের সামনে রেখে কিবলামুখী হয়ে দাঁড়ালেন। সূর্যের হলুদ আভা অদৃশ্য হয়ে সূর্য গোলকও সম্পূর্ণ অস্তমিত হয়ে গেল। তিনি উসামাকে তাঁর বাহনের পেছন দিকে বসালেন এবং কাসওয়ার নাসারন্ত্রের দড়ি সজোরে টান দিলেন, ফলে এর মাথা জিনপোষ স্পর্শ করলো এবং তা অগ্রযাত্রা শুরু করলো। তিনি তাঁর ডান হাতের ইশারায় বলেনঃ ’’(হে জনমন্ডলী!) শান্তভাবে, শান্তভাবে (ধীরে সুস্থে অগ্রসর হও)।’’ যখনই তিনি বালুর স্তূপের নিকট পৌঁছতেন, কাসওয়ার নাসারন্ধ্রের রশি কিছুটা ঢিল দিতেন, যাতে তা উপরদিকে উঠতে পারে।
এভাবে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলেন এবং এখানে এক আযানে ও দু’ ইকামতে মাগরিব ও ইশার নামায পড়লেন। অতঃপর তিনি শুয়ে ঘুমালেন যাবত না ফজরের ওয়াক্ত হলো। অতঃপর উষা পরিস্কার হয়ে গেলে তিনি আযান ও ইকামতসহ ফজরের নামায পড়লেন। অতঃপর কাসওয়ার পিঠে আরোহণ করে ’মাশআরুল-হারাম’ নামক স্থানে এসে থামলেন। আর তিনি কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন, তাকবীর, তাহলীল (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) পাঠ করলেন এবং একত্ব বর্ণনা করলেন। আকাশ যথেষ্ট পরিস্কার না হওয়া পর্যন্ত তিনি দাঁড়িয়ে এরূপ করতে থাকলেন। সূর্য উদয়ের পূর্বে তিনি আবার রওয়ানা হলেন এবং ফাযল ইবনে আব্বাসকে সওয়ারীতে তাঁর পিছনে বসালেন। সে ছিল সুদর্শন যুবক এবং তার মাথার চুল ছিল অত্যন্ত সুন্দর।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন অগ্রসর হলেন তখন একদল মহিলাদের বাহনও পাশ দিয়ে চলছিল। ফাযল তাদের দিকে তাকাতে লাগলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের হাত ফাযলের চেহারার উপর রাখলেন। ফাযল আবার অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও অন্যদিক থেকে নিজের হাত (তার চেহারার উপর) রাখলেন। এভাবে তিনি ’বাতনে মুহাসসির’ নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং সাওয়ারীর গতি কিছুটা দ্রুততর করলেন। তিনি মধ্যপথ দিয়ে অগ্রসর হলেন যা জামরাতুল কুবরায় গিয়ে পৌঁছেছে। তিনি বৃক্ষের নিকটের জামরায় এলেন এবং এখানে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন আর প্রতিটি কংকর নিক্ষেপকালে তিনি তাকবীর উচ্চারণ করলেন। এরপর তিনি ’বাতনিল ওয়াদী’ (উপত্যকার মধ্যভাগে) হতেও পাথর নিক্ষেপ করলেন।
এরপর যবেহের স্থানের দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানে নিজ হাতে তেষট্টিটি পশু যবেহ করলেন। অতঃপর যে কয়টি অবশিষ্ট ছিল তা আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে যবেহ করতে দিলেন এবং ফলে তিনি সেগুলি যবেহ করলেন। তিনি নিজ পশুতে তাকে (’আলীকে)ও শরীক করলেন। অতঃপর তিনি প্রতিটি পশুর কিছু অংশ নিয়ে একত্রে রান্না করার নির্দেশ দিলেন। অতএব একটি পাত্রে সেগুলি নিয়ে রান্না করা হলো। অতঃপর তাঁরা উভয়ে এই মাংস থেকে আহার করলেন এবং ঝোল পান করলেন।অতঃপর তিনি সওয়ার হয়ে বাইতুল্লাহর দিকে রওয়ানা হলেন এবং বায়তুল্লাহয় পৌঁছে মক্কায় যোহরের সালাত পড়লেন। অতঃপর তিনি (নিজ গোত্র) বনূ আবদুল মুত্তালিবে এলেন। তারা লোকদেরকে যমযমের পানি পান করাচ্ছিল। তিনি বললেনঃ “হে আবদুল মুত্তালিবের বংশধর! পানি তোলো। আমি যদি আশঙ্কা না করতাম যে, পানি পান করানোর ব্যাপারে লোকেরা তোমাদের পরাভূত করবে, তাহলে আমি নিজেও তোমাদের সাথে পানি তুলতাম। তারা তাঁকে একবালতি পানি দিলো এবং তিনি তা থেকে কিছু পান করলেন।”[1]
بَاب فِي سُنَّةِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ أَبُو جَعْفَرٍ دَخَلْنَا عَلَى جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ فَسَأَلَ عَنْ الْقَوْمِ حَتَّى انْتَهَى إِلَيَّ فَقُلْتُ أَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ فَأَهْوَى بِيَدِهِ إِلَى زِرِّيَ الْأَعْلَى وَزِرِّيَ الْأَسْفَلِ ثُمَّ وَضَعَ فَمَهُ بَيْنَ ثَدْيَيَّ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ غُلَامٌ شَابٌّ فَقَالَ مَرْحَبًا بِكَ يَا ابْنَ أَخِي سَلْ عَمَّا شِئْتَ فَسَأَلْتُهُ وَهُوَ أَعْمَى وَجَاءَ وَقْتُ الصَّلَاةِ فَقَامَ فِي سَاجَةٍ مُلْتَحِفًا بِهَا كُلَّمَا وَضَعَهَا عَلَى مَنْكِبَيْهِ رَجَعَ طَرَفُهَا إِلَيْهِ مِنْ صِغَرِهَا وَرِدَاؤُهُ إِلَى جَنْبِهِ عَلَى الْمِشْجَبِ فَصَلَّى فَقُلْتُ أَخْبِرْنِي عَنْ حَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بِيَدِهِ فَعَقَدَ تِسْعًا فَقَالَ مَكَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تِسْعَ سِنِينَ لَمْ يَحُجَّ ثُمَّ أُذِّنَ فِي النَّاسِ بِالْحَجِّ فِي الْعَاشِرَةِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَاجٌّ فَقَدِمَ الْمَدِينَةَ بَشَرٌ كَثِيرٌ كُلُّهُمْ يَلْتَمِسُ أَنْ يَأْتَمَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَعْمَلَ مِثْلَ عَمَلِهِ فَخَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى أَتَيْنَا ذَا الْحُلَيْفَةِ فَوَلَدَتْ أَسْمَاءُ بِنْتُ عُمَيْسٍ مُحَمَّدَ بْنَ أَبِي بَكْرٍ فَأَرْسَلَتْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ أَصْنَعُ فَقَالَ اغْتَسِلِي وَاسْتَثْفِرِي بِثَوْبٍ وَأَحْرِمِي فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتَّى اسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ عَلَى الْبَيْدَاءِ فَنَظَرْتُ إِلَى مَدِّ بَصَرِي مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ مِنْ رَاكِبٍ وَمَاشٍ وَعَنْ يَمِينِهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَعَنْ يَسَارِهِ مِثْلُ ذَلِكَ وَخَلْفَهُ مِثْلُ ذَلِكَ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا وَعَلَيْهِ يُنْزَلُ الْقُرْآنُ وَهُوَ يَعْرِفُ تَأْوِيلَهُ فَأَهَلَّ بِالتَّوْحِيدِ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ فَأَهَلَّ النَّاسُ بِهَذَا الَّذِي يُهِلُّونَ بِهِ فَلَمْ يَزِدْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ شَيْئًا وَلَبَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلْبِيَتَهُ حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ قَالَ جَابِرٌ لَسْنَا نَنْوِي إِلَّا الْحَجَّ لَسْنَا نَعْرِفُ الْعُمْرَةَ حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْبَيْتَ مَعَهُ اسْتَلَمَ الرُّكْنَ فَرَمَلَ ثَلَاثًا وَمَشَى أَرْبَعًا ثُمَّ تَقَدَّمَ إِلَى مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ فَصَلَّى فَقَرَأَ وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى فَجَعَلَ الْمَقَامَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْبَيْتِ وَكَانَ أَبِي يَقُولُ وَلَا أَعْلَمُهُ ذَكَرَهُ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ يَقْرَأُ فِي الرَّكْعَتَيْنِ قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ وَقُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ثُمَّ رَجَعَ إِلَى الرُّكْنِ فَاسْتَلَمَهُ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ الْبَابِ إِلَى الصَّفَا فَلَمَّا أَتَى الصَّفَا قَرَأَ إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ أَبْدَأُ بِمَا بَدَأَ اللَّهُ بِهِ فَبَدَأَ بِالصَّفَا فَرَقِيَ عَلَيْهِ حَتَّى رَأَى الْبَيْتَ فَوَحَّدَ اللَّهَ وَكَبَّرَهُ وَقَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ يُحْيِي وَيُمِيتُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ أَنْجَزَ وَعْدَهُ وَنَصَرَ عَبْدَهُ وَهَزَمَ الْأَحْزَابَ وَحْدَهُ ثُمَّ دَعَا بَيْنَ ذَلِكَ فَقَالَ مِثْلَ هَذَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ نَزَلَ إِلَى الْمَرْوَةِ حَتَّى إِذَا انْصَبَّتْ قَدَمَاهُ فِي بَطْنِ الْوَادِي قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الدَّارِمِيُّ يَعْنِي فَرَمَلَ حَتَّى إِذَا صَعِدْنَا مَشَى حَتَّى إِذَا أَتَيْنَا الْمَرْوَةَ فَفَعَلَ عَلَى الْمَرْوَةِ كَمَا فَعَلَ عَلَى الصَّفَا حَتَّى إِذَا كَانَ آخِرَ طَوَافٍ عَلَى الْمَرْوَةِ قَالَ إِنِّي لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ لَمْ أَسُقْ الْهَدْيَ وَجَعَلْتُهَا عُمْرَةً فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ لَيْسَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيُحِلَّ وَيَجْعَلْهَا عُمْرَةً فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلِعَامِنَا هَذَا أَوْ لِأَبَدِ أَبَدٍ فَشَبَكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَصَابِعَهُ فِي الْأُخْرَى فَقَالَ دَخَلَتْ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ هَكَذَا مَرَّتَيْنِ لَا بَلْ لِأَبَدِ أَبَدٍ لَا بَلْ لَأَبَدِ أَبَدٍ وَقَدِمَ عَلِيٌّ بِبُدْنٍ مِنْ الْيَمَنِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوَجَدَ فَاطِمَةَ مِمَّنْ حَلَّ وَلَبِسَتْ ثِيَابَ صَبِيغٍ وَاكْتَحَلَتْ فَأَنْكَرَ عَلِيٌّ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَتْ أَبِي أَمَرَنِي فَكَانَ عَلِيٌّ يَقُولُ ذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أُحَرِّشُهُ عَلَى فَاطِمَةَ فِي الَّذِي صَنَعَتْ مُسْتَفْتِيًا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا ذَكَرَتْ فَأَنْكَرْتُ ذَلِكَ عَلَيْهَا فَقَالَ صَدَقَتْ مَا فَعَلْتَ حِينَ فَرَضْتَ الْحَجَّ قَالَ قُلْتُ اللَّهُمَّ إِنِّي أُهِلُّ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُكَ قَالَ فَإِنَّ مَعِيَ الْهَدْيَ فَلَا تَحْلِلْ قَالَ فَكَانَ جَمَاعَةُ الْهَدْيِ الَّذِي قَدِمَ بِهِ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ وَالَّذِي أَتَى بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِائَةَ بَدَنَةٍ فَحَلَّ النَّاسُ كُلُّهُمْ وَقَصَّرُوا إِلَّا النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ التَّرْوِيَةِ وَجَّهَ إِلَى مِنًى فَأَهْلَلْنَا بِالْحَجِّ وَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَصَلَّى بِنَا الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَالصُّبْحَ ثُمَّ مَكَثَ قَلِيلًا حَتَّى إِذَا طَلَعَتْ الشَّمْسُ أَمَرَ بِقُبَّةٍ مِنْ شَعَرٍ تُضْرَبُ لَهُ بِنَمِرَةَ ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَارَ لَا تَشُكُّ قُرَيْشٌ إِلَّا أَنَّهُ وَاقِفٌ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ كَمَا كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصْنَعُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فِي الْمُزْدَلِفَةِ فَسَارَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى أَتَى عَرَفَةَ فَوَجَدَ الْقُبَّةَ قَدْ ضُرِبَتْ بِنَمِرَةَ فَنَزَلَهَا حَتَّى إِذَا زَاغَتْ يَعْنِي الشَّمْسَ أَمَرَ بِالْقَصْوَاءِ فَرُحِّلَتْ لَهُ فَأَتَى بَطْنَ الْوَادِي فَخَطَبَ النَّاسَ وَقَالَ إِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلَا إِنَّ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمَيَّ مَوْضُوعٌ وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ وَأَوَّلُ دَمٍ وُضِعَ دِمَاؤُنَا دَمُ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ كَانَ مُسْتَرْضَعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُهُ رِبَا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ فَاتَّقُوا اللَّهَ فِي النِّسَاءِ فَإِنَّمَا أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ وَإِنَّ لَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ وَأَنْتُمْ مَسْئُولُونَ عَنِّي فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ قَالُوا نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ فَقَالَ بِأُصْبُعِهِ السَّبَّابَةِ فَرَفَعَهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ اللَّهُمَّ اشْهَدْ ثُمَّ أَذَّنَ بِلَالٌ بِنِدَاءٍ وَاحِدٍ وَإِقَامَةٍ فَصَلَّى الظُّهْرَ ثُمَّ أَقَامَ فَصَلَّى الْعَصْرَ لَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا شَيْئًا ثُمَّ رَكِبَ حَتَّى وَقَفَ فَجَعَلَ بَطْنَ نَاقَتِهِ الْقَصْوَاءِ إِلَى الصُّخَيْرَاتِ وَقَالَ إِسْمَعِيلُ إِلَى الشُّجَيْرَاتِ وَجَعَلَ حَبْلَ الْمُشَاةِ بَيْنَ يَدَيْهِ ثُمَّ اسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَلَمْ يَزَلْ وَاقِفًا حَتَّى غَرَبَتْ الشَّمْسُ وَذَهَبَتْ الصُّفْرَةُ حَتَّى غَابَ الْقُرْصُ فَأَرْدَفَ أُسَامَةَ خَلْفَهُ ثُمَّ دَفَعَ وَقَدْ شَنَقَ لِلْقَصْوَاءِ الزِّمَامَ حَتَّى إِنَّهُ لَيُصِيبُ رَأْسُهَا مَوْرِكَ رَحْلِهِ وَيَقُولُ بِيَدِهِ الْيُمْنَى السَّكِينَةَ السَّكِينَةَ كُلَّمَا أَتَى حَبْلًا مِنْ الْحِبَالِ أَرْخَى لَهَا قَلِيلًا حَتَّى تَصْعَدَ حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى بِهَا الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِأَذَانٍ وَإِقَامَتَيْنِ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ صَلَّى الْفَجْرَ بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ ثُمَّ رَكِبَ الْقَصْوَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ فَدَعَا اللَّهَ وَكَبَّرَهُ وَهَلَّلَهُ وَوَحَّدَهُ حَتَّى أَسْفَرَ جِدًّا ثُمَّ دَفَعَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَأَرْدَفَ الْفَضْلَ بْنَ الْعَبَّاسِ وَكَانَ رَجُلًا حَسَنَ الشَّعْرِ أَبْيَضَ وَسِيمًا فَلَمَّا دَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِالظُّعُنِ يَجْرِينَ فَطَفِقَ الْفَضْلُ يَنْظُرُ إِلَيْهِنَّ فَأَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ فَوَضَعَهَا عَلَى وَجْهِ الْفَضْلِ فَحَوَّلَ الْفَضْلُ رَأْسَهُ مِنْ الشِّقِّ الْآخَرِ فَوَضَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَهُ مِنْ الشِّقِّ الْآخَرِ حَتَّى إِذَا أَتَى مُحَسِّرَ حَرَّكَ قَلِيلًا ثُمَّ سَلَكَ الطَّرِيقَ الْوُسْطَى الَّتِي تُخْرِجُكَ إِلَى الْجَمْرَةِ الْكُبْرَى حَتَّى إِذَا أَتَى الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَهَا الشَّجَرَةُ فَرَمَى بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ عَلَى كُلِّ حَصَاةٍ مِنْ حَصَى الْخَذْفِ ثُمَّ رَمَى مِنْ بَطْنِ الْوَادِي ثُمَّ انْصَرَفَ إِلَى الْمَنْحَرِ فَنَحَرَ ثَلَاثًا وَسِتِّينَ بَدَنَةً بِيَدِهِ ثُمَّ أَعْطَى عَلِيًّا فَنَحَرَ مَا غَبَرَ وَأَشْرَكَهُ فِي بُدْنِهِ ثُمَّ أَمَرَ مِنْ كُلِّ بَدَنَةٍ بِبَضْعَةٍ فَجُعِلَتْ فِي قِدْرٍ فَطُبِخَتْ فَأَكَلَا مِنْ لُحُومِهَا وَشَرِبَا مِنْ مَرَقِهَا ثُمَّ رَكِبَ فَأَفَاضَ إِلَى الْبَيْتِ فَأَتَى الْبَيْتَ فَصَلَّى الظُّهْرَ بِمَكَّةَ وَأَتَى بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ وَهُمْ يَسْتَقُونَ عَلَى زَمْزَمَ فَقَالَ انْزِعُوا بَنِي عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَلَوْلَا يَغْلِبُكُمْ النَّاسُ عَلَى سِقَايَتِكُمْ لَنَزَعْتُ مَعَكُمْ فَنَاوَلُوهُ دَلْوًا فَشَرِبَ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২১৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০২৭, ২১২৬, ৬৭৩৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৯১, ৩৮৪২, ৩৯৪৩, ৩৯৪৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. হজ্জের সুন্নাত (পদ্ধতি) সম্পর্কে
১৮৮৮. জা’ফর তার পিতার সূত্রে জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এটি বর্ণনা করেছেন।[1]
بَاب فِي سُنَّةِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ الْأَصْبَهَانِيُّ أَخْبَرَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ بِهَذَا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. মুহরিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তার জন্য করণীয়
১৮৮৯. আবদুল্লাহ্ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আরাফাতে দণ্ডায়মান অবস্থায় হঠাৎ তার উট্নী থেকে পড়ে যায়- অথবা রাবী বলেছেন, এটি তাঁর ঘাড় মটকিয়ে দিল (এতে সে মারা গেল)। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “তোমরা তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল করাও এবং দু’ কাপড়ে তাঁকে কাফন দাও; আর তাকে সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেননা, আল্লাহ তা’আলা তাকে কিয়ামতের দিন তাল্বিয়া পাঠরত অবস্থায় উত্থিত করবেন।”[1]
بَاب فِي الْمُحْرِمِ إِذَا مَاتَ مَا يُصْنَعُ بِهِ
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ هُوَ ابْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَيْنَا رَجُلٌ وَاقِفٌ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَفَةَ فَوَقَعَ عَنْ رَاحِلَتِهِ أَوْ قَالَ فَأَقْعَصَتْهُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اغْسِلُوهُ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ وَكَفِّنُوهُ فِي ثَوْبَيْنِ وَلَا تُحَنِّطُوهُ وَلَا تُخَمِّرُوا رَأْسَهُ فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَبْعَثُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مُلَبِّيًا
তাখরীজ: বুখারী, জানাইয ১২৬৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২০৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৩৭, ২৪৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৫৭, ৩৯৫৮, ৩৯৫৯; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৭১, ৪৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. তাওয়াফে এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করার সময় আল্লাহর যিকির করা
১৮৯০. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বায়তুল্লাহর তাওয়াফ, সাফা ও মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করা ও কংকর নিক্ষেপের ব্যবস্থা করা হয়েছে আল্লাহর যিকির কায়েম করার জন্যই।
রাবী আবী আসিম বলেন, তিনি এটি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে মারফু’ হিসেবে বর্ণনা করতেন।[1]
بَاب الذِّكْرِ فِي الطَّوَافِ وَالسَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَرَمْيُ الْجِمَارِ وَالسَّعْيُ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ قَالَ أَبُو عَاصِمٍ كَانَ يَرْفَعُهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৭৫; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৮৮; তিরমিযী, হাজ্জ ৯০২; ইবনু আদী, আলকামিল ৪/১৬৩৫। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. তাওয়াফে এবং সাফা ও মারওয়ার মাঝে সাঈ করার সময় আল্লাহর যিকির করা
১৮৯১. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে অনূরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب الذِّكْرِ فِي الطَّوَافِ وَالسَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৬৪; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১৪৫; শুয়াবুল ঈমান নং ৪০৮১; ইবনু আবী শাইবা ৪/৩২; হাকিম ১/৪৫৯; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১১/৩৩১; হাকিম বলেন: এ হাদীসের সনদ সহীহ, যদিও তারা বর্ণনা করেননি। যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. উমরাহকে হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করানো সম্পর্কে
১৮৯২. বিলাল ইবনুল হারিস (রহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! হজ্জের ইহরাম বাঁধার পর তা উমরায় পরিবর্তন করার সুযোগ কি কেবল আমাদের জন্য, নাকি তা আমাদের পরবর্তী লোকেরাও করতে পারবে? তিনি বলেন: “বরং তা বিশেষভাবে আমাদেরই জন্য।”[1]
بَاب فِي فَسْخِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَسْخُ الْحَجِّ لَنَا خَاصَّةً أَمْ لِمَنْ بَعْدَنَا قَالَ بَلْ لَنَا خَاصَّةً
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মানাসিক১৮০৮; আহমাদ৩/৪৬৯; তাবারাণী, আল কাবীর ১/৩৭০নং১১৩৮; হাকিম৩/৫১৭; নাসাঈ, কুবরানং৩৭৯০; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৮/৩৫৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. যে ব্যক্তি হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ করে
১৮৯৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: এ সে উমরা যার মাধ্যমে আমরা উপকৃত হয়েছি। ফলে যার সাথে কুরবানীর পশু নেই, সে যেন পুরাপুরি হালাল হয়। আর উমরা কিয়ামত পর্যন্ত হজ্জের মধ্যে প্রবেশ করেছে।[1]
بَاب مَنْ اعْتَمَرَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ هَذِهِ عُمْرَةٌ اسْتَمْتَعْنَا بِهَا فَمَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَحِلَّ الْحِلَّ كُلَّهُ فَقَدْ دَخَلَتْ الْعُمْرَةُ فِي الْحَجِّ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মানাসিক ১৭৯০; আহমাদ১/২৩৬; ইবনু আবী শাইবা ৪/১০২; মুসলিম, হাজ্জ১২৪১; নাসাঈ, কুবরা নং ৩৭৯৭; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং১৮৮৬; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১৮।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. যে ব্যক্তি হজ্জের মাসসমূহে উমরাহ করে
১৮৯৪. রবী’ ইবনু সাবরা (রহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, তারা (মদীনা হতে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে রওনা হন। আমরা যখন উসফান নামক স্থানে পৌছলাম, তখন মুদলিজ গোত্রে মালিক ইবনু সুরাকা অথবা সুরাকা ইবনু মালিক নামক এক লোক (রা) তাঁকে বলেন, আমাদের বিস্তারিত (হজ্জের) আহকাম এমনভাবে অবহিত করুন, যেভাবে সদ্য প্রসূত শিশুদের বুঝানো হয় (অর্থাৎ উত্তমরূপে বুঝিয়ে দিন যাতে মূর্খরাও বুঝতে পারে)। তিনি বলেন, আল্লাহ্ তোমাদের এই হজ্জের মধ্যে উমরাকে প্রবেশ করিয়েছেন। কাজেই যখন তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ’র তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার মধ্যে সা-ঈ করবে, তখন সে হালাল হবে। তবে যদি কারো সাথে কুরবানীর পশু থাকে, (তবে সে হালাল হবে না)।[1]
بَاب مَنْ اعْتَمَرَ فِي أَشْهُرِ الْحَجِّ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ رَبِيعِ بْنِ سَبْرَةَ أَنَّ أَبَاهُ حَدَّثَهُ أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَلَغُوا عُسْفَانَ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ بَنِي مُدْلِجٍ يُقَالُ لَهُ مَالِكُ بْنُ سُرَاقَةَ أَوْ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكٍ اقْضِ لَنَا قَضَاءَ قَوْمٍ وُلِدُوا الْيَوْمَ قَالَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَدْخَلَ عَلَيْكُمْ فِي حَجِّكُمْ هَذَا عُمْرَةً فَإِذَا أَنْتُمْ قَدِمْتُمْ فَمَنْ تَطَوَّفَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ حَلَّ إِلَّا مَنْ كَانَ مَعَهُ هَدْيٌ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮০১; আহমাদ ৩/৪০৪-৪০৫; এর অংশবিশেষ বর্ণনা করেছেন ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ৩৬৯; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৩৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৪৪, ৪১৪৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. নাবী (ﷺ) কতবার উমরা করেছেন
১৮৯৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারবার উমরা করেছেন। হুদায়বিয়ার উমরা, কাযা উমরা-(রাবী শিহাব ইবনু আব্বাদের সন্দেহ) অথবা পরবর্তী বছরের বদলী উমরাহ, তৃতীয় উমরা হল জি’ইরানাহ নামক স্থান থেকে, চতুর্থ উমরা হল তাঁর হাজ্জের সঙ্গে।[1]
بَاب كَمْ اعْتَمَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اعْتَمَرَ أَرْبَعَ عُمَرٍ عُمْرَةَ الْحُدَيْبِيَةِ وَعُمْرَةَ الْقَضَاءِ أَوْ قَالَ عُمْرَةَ الْقِصَاصِ شَكَّ شِهَابُ بْنُ عَبَّادٍ مِنْ قَابِلٍ وَالثَّالِثَةَ مِنْ الْجِعْرَانَةِ وَالرَّابِعَةَ الَّتِي مَعَ حَجَّتِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৪৬ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১০১৮ তে। ((আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৯৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৮১৬; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০০৩।-((-ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৫৮ এর টীকা হতে। –অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪০. রমযান মাসে উমরাহ করার ফযীলত
১৮৯৬. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক মহিলাকে বলেছেনঃ তুমি রমযান মাসে উমরাহ করো। কেননা, রমযানের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْعُمْرَةِ فِي رَمَضَانَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِامْرَأَةٍ اعْتَمِرِي فِي رَمَضَانَ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً
তাখরীজ: বুখারী, উমরাহ ১৭৮২; মুসলিম, হাজ্জ ১২৫৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭০০; আরও দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৭৪১, সেখানে আমরা এর ছয়টি শাহিদ হাদীস উল্লেখ করেছি। এছাড়া দেখুন, ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১১০৯।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. রমযান মাসে উমরাহ করার ফযীলত
১৮৯৭. উম্মু মা’কিল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ রমযান মাসের একটি উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْعُمْرَةِ فِي رَمَضَانَ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ عِيسَى بْنِ مَعْقِلِ بْنِ أَبِي مَعْقَلٍ الْأَسَدِيِّ أَسَدُ خُزَيْمَةَ حَدَّثَنِي يُوسُفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ عَنْ جَدَّتِهِ أُمِّ مَعْقَلٍ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عُمْرَةٌ فِي رَمَضَانَ تَعْدِلُ حَجَّةً
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৮৯; আহমাদ ৬/৩০৫; তাবারানী, আল কাবীর ২৫/১৫৫; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩৪৬ সহীহ সনদে; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৪২২৬; তায়ালিসী ১/২০২ নং ৯৭৬; হাকিম ১/৪৮২; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ৩০৭৫; এ সনদে জিহালাত ও ইরসাল রয়েছে মারওয়ান এর আগ থেকে উম্মু মা’কিল পর্যন্ত। তবে "আরউমরাহ" শব্দাবলীটুকু বাদে হাদীসটি সহীহ। কেননা, এ শব্দাবলী সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি। আল্লাহই সর্বাধিক অবগত।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. উমরাহ’র মীকাতসমূহ
১৮৯৮. মুহার্রিশ আল-কা’বী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জি’ইরানাহ নামক স্থান থেকে (রাতে) উমরার উদ্দেশ্যে বের হন এবং রাতেই মক্কায় প্রবেশ করেন। এরপর তিনি উমরা সম্পাদন করে ঐ রাতেই ফিরে আসেন। জি’ইরনায় এমন করে তার ভোর হয় যে মনে হচ্ছিল তিনি যেন এখানেই রাত্রি যাপন করেছেন।[1]
بَاب الْمِيقَاتِ فِي الْعُمْرَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي مُزَاحِمُ بْنُ أَبِي مُزَاحِمٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ مُحَرِّشٍ الْكَعْبِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ الْجِعْرَانَةِ حِينَ أَنْشَأَ مُعْتَمِرًا فَدَخَلَ مَكَّةَ لَيْلًا فَقَضَى عُمْرَتَهُ ثُمَّ خَرَجَ مِنْ تَحْتِ لَيْلَتِهِ فَأَصْبَحَ بِالْجِعْرَانَةِ كَبَائِتٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৮৬; এছাড়া, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৫২; নববী তার মাজমু’ ৮/৬ তে এ হাদীস বর্ণনা করার পর বলেন: এর সনদ জাইয়্যেদ (উত্তম)।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. উমরাহ’র মীকাতসমূহ
১৮৯৯. আবূ বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র পুত্র আব্দুর রহমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে নির্দেশ দেন যে, আমি যেন আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে নিজের বাহনের পিছনে আরোহন করিয়ে নিয়ে যাই এবং তানঈম নামক স্থান থেকে তাকে উমরা করিয়ে নিয়ে আসি।’[1]
সুফিয়ান বলেন, শু’বাহ এরূপ সনদে আশ্চর্য বোধ করতেন।
بَاب الْمِيقَاتِ فِي الْعُمْرَةِ
حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ عَمْرَو بْنَ أَوْسٍ يَقُولُ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ يَقُولُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ أُرْدِفَ عَائِشَةَ فَأُعْمِرَهَا مِنْ التَّنْعِيمِ قَالَ سُفْيَانُ كَانَ شُعْبَةُ يُعْجِبُهُ مِثْلَ هَذَا الْإِسْنَادِ
তাখরীজ: আহমাদ ১/১৯৭; শাফিঈ, আল মুসনাদ পৃ: ৩৬৮; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩৫৭; বুখারী, উমরাহ ১৭৮৪, জিহাদ ২৯৮৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২১২; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৯৫; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৩৪, নাসাঈ, আল কুবরা নং ৪২৩০; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ২৯৯৯; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/২৪০; পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. উমরাহ’র মীকাতসমূহ
১৯০০. হাফসাহ বিনতে আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর সিদ্দীক রাহি. তার পিতা (আব্দুর রহমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুর রহমান ইবনু আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বললেন: “তোমার ভগ্নিকে অর্থাৎ আয়িশা-কে (আরোহীতে) তোমার পিছনে আরোহন করাও এবং তাকে তানঈম হতে উমরা করাও। এরপর তুমি যখন আকামাহ নামক পাহাড় হতে অবতরণ করবে, তখন তাকে ইহরাম বাধার নির্দেশ দাও। আর এটি পূর্বের (অনাদায়ী) উমরা।”[1]
بَاب الْمِيقَاتِ فِي الْعُمْرَةِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا دَاوُدُ الْعَطَّارُ عَنْ ابْنِ خُثَيْمٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ عَنْ أَبِيهَا أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ أَرْدِفْ أُخْتَكَ يَعْنِي عَائِشَةَ وَأَعْمِرْهَا مِنْ التَّنْعِيمِ فَإِذَا هَبَطْتَ مِنْ الْأَكَمَةِ فَمُرْهَا فَلْتُحْرِمْ فَإِنَّهَا عُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ
তাখরীজ: আহমাদ ১/১৯৮; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৯৫; তাহাবী, ২/২৪০; হাকিম ৩/৪৭৭; বাইহাকী, হাজ্জ ৪/৩৫৭; যাহাবী বলেন: ‘এর সনদ শক্তিশালী।’ আগের হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করা প্রসঙ্গে
১৯০১. ইবনু উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, উমর ইবনুল খাত্তাব (হাজরে আসওয়াদে চুমা দেওয়ার সময়) বলেন, ’আমি তোমাকে চুমা দিচ্ছি অথচ আমি অবশ্যই জানি যে, তুমি একটি পাথর মাত্র (অর্থাৎ- তোমার কল্যাণ-অকল্যাণের কোনো ক্ষমতা নেই)। কিন্তু আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তোমাকে চুমা দিতে দেখেছি, (তাই আমিও তোমাকে চুমা দিচ্ছি)।[1]
بَاب فِي تَقْبِيلِ الْحَجَرِ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ عُمَرَ قَالَ إِنِّي لَأُقَبِّلُكَ وَإِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ وَلَكِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُقَبِّلُكَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২৭০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৯, ২১৭, ২১৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং৩৮২১, ৩৮২২; মুসনাদুল হুদাইদী ২৪১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. হাজরে আসওয়াদে চুম্বন করা প্রসঙ্গে
১৯০২. জা’ফর ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু উছমান বলেন, আমি মুহাম্মদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর রাহি. কে দেখেছি, তিনি হাজরে আসওয়াদ ইসতিলাম করলেন অতঃপর এতে চুমা দিলেন ও এর উপর সাজদা করলেন। তখন আমি তাঁকে বললাম, এটা আবার কি (করলেন)? জবাবে তিনি বললেন, ’আমি তোমার মামা আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা কে এটি করতে দেখলাম। এরপর তিনি বললেন, ’আমি উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে এটি করতে দেখলাম। এরপর তিনি (উমার) বললেন, ’আমি জানি তুমি শুধুই একটি পাথর। কিন্তু আমি রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এরূপ করতে দেখেছি।’[1]
بَاب فِي تَقْبِيلِ الْحَجَرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ جَعْفَرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ قَالَ رَأَيْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ يَسْتَلِمُ الْحَجَرَ ثُمَّ يُقَبِّلُهُ وَيَسْجُدُ عَلَيْهِ فَقُلْتُ لَهُ مَا هَذَا فَقَالَ رَأَيْتُ خَالَكَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ يَفْعَلُهُ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ عُمَرَ فَعَلَهُ ثُمَّ قَالَ إِنِّي لَأَعْلَمُ أَنَّكَ حَجَرٌ وَلَكِنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَفْعَلُ هَذَا
তাখরীজ: ইবনু খুযাইমা নং ২৭১৪; বাযযার, বাহরুয যুখ্খার নং ২১৫; হাকিম ১/৪৫৫; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৭৪ ; তায়ালিসী, ১/২১৫ নং ১০৪৩; আবূ ইয়ালা নং ২১৯; উকাইলী, আদ দুয়া’ফা ১/১৮৩ মুরসাল হিসেবে সহীহ সনদে; আব্দুর রাযযাক নং ৮৯১২ সহীহ সনদে ইবনু আব্বাসের আমল হিসেবে; শাফিঈ, আল উম্ম ২/১৭১; আর হাকিম ১/৪৭৩ তে ইবনু আব্বাস সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এরূপ করেছেন।’ এবং তিনি একে সহীহ বলেছেন, যাহাবী তা সমর্থন করেছেন। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদূল মাউসিলী নং ১৮৯, ২১৭, ২১৮, ২১৯, ২২০, ২২১; মাজমাউয যাওয়াইদ ৫৫৪৯, ৫৫৫০।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. কা’বার অভ্যন্তরে সালাত আদায় করা
১৯০৩. আবদুল্লাহ্ ইবন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করেন আর এ সময় তাঁর পিছনে আরোহী ছিলেন উসামা ইবনু যায়িদ। অতঃপর তিনি তাঁর উটকে কাবা’র মূল অংশের মধ্যে বসালেন। এরপর ইবনু উমার বলেন, তখন লোকেরা ছুটে আসলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিলাল ও উসামা রা: সকলেই (কা’বায়) প্রবেশ করলেন। অতঃপর আমি বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে দরজার পিছনে জিজ্ঞাসা করি, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন্ স্থানে সালাত আদায় করলেন? তখন জবাবে তিনি বলেন, দু’ স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে।[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي الْكَعْبَةِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ وَرَدِيفُهُ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَأَنَاخَ فِي أَصْلِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَسَعَى النَّاسُ فَدَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِلَالٌ وَأُسَامَةُ فَقُلْتُ لِبِلَالٍ مِنْ وَرَاءِ الْبَابِ أَيْنَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ بَيْنَ السَّارِيَتَيْنِ
তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৩৯৭; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২৯। এছাড়া, ইবনু খুযাইমা নং ৩০০৮, ৩০০৯, ৩০১০, ৩০১১; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ৩/২৬০ নং ৪৪৯৬; হাকিম ৩/৩২৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭০৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২২২০, ৩২০২, ৩২০৩, ৩২০৪, ৩২০৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. কা’বার অভ্যন্তরে সালাত আদায় করা
১৯০৪. আবদুল্লাহ্ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বায়তুল্লাহ’র মধ্যে প্রবেশ করেন এবং এ সময় তাঁর সংগে ছিলেন উসামা ইবন যায়িদ এবং বিলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং উসমান ইবন তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন কা’বার দ্বাররক্ষী। এরপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
بَاب الصَّلَاةِ فِي الْكَعْبَةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ قَالَ دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَيْتَ هُوَ وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ وَبِلَالٌ وَعُثْمَانُ بْنُ طَلْحَةَ الْحَجَبِيُّ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. হিজর বাইতুল্লাহ’র-ই অংশ বিশেষ
১৯০৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন: “যদি তোমার কওম (গোত্র)-এর যুগ কুফরীর নিকটবর্তী না হতো, তবে অবশ্যই আমি কা’বাকে ভেঙ্গে দিয়ে ইবরাহীম (আ:) এর মূল ভিত্তির উপর তা পুন:নির্মাণ করতাম। কারণ, কুরাইশরা কা’বা নির্মাণ করার সময় তা সঙ্কুচিত করে ফেলেছিল এবং তাকে পিছনে রেখে দিয়েছেল।”[1]
بَاب الْحِجْرِ مِنْ الْبَيْتِ
حَدَّثَنِي فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْلَا حَدَاثَةُ عَهْدِ قَوْمِكِ بِالْكُفْرِ لَنَقَضْتُ الْكَعْبَةَ ثُمَّ لَبَنَيْتُهَا عَلَى أُسِّ إِبْرَاهِيمَ فَإِنَّ قُرَيْشًا حِينَ بَنَتْ اسْتَقْصَرَتْ ثُمَّ جَعَلَتْ لَهَا خَلْفًا
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১২৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৩৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৬৩, ৪৬২৭, ৪৬২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮১৫, ৩৮১৬, ৩৮১৭, ৩৮১৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. হিজর বাইতুল্লাহ’র-ই অংশ বিশেষ
১৯০৬. ’আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে প্রশ্ন করলাম, (হাতীমের) দেয়াল কি বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত, তিনি বললেনঃ “হাঁ।” আমি বললাম, তা’হলে তারা একে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করল না কেন? তিনি বললেনঃ “তোমার গোত্রের (অর্থাৎ কুরাইশের কা’বা নির্মাণের সময়) অর্থ নিঃশেষ হয়ে যায়।” আমি বললাম, কা’বার দরজা এত উঁচু হওয়ার কারণ কি? তিনি বললেনঃ “তোমার কওম তা এ জন্য করেছে যে, তারা যাকে ইচ্ছা তাতে প্রবেশ করতে দিবে এবং যাকে ইচ্ছা তা থেকে বাধা দিবে। যদি তোমার কওমের যুগ জাহিলিয়্যাতের নিকটবর্তী না হত এবং আশঙ্কা না হত যে, তারা একে ভাল মনে করবে না, তা হলে আমি হিজর পর্যন্ত মজবুত করে নির্মাণ করতাম এবং একে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং তার দরজা ভূমি বরাবর করে দিতাম।”[1]
بَاب الْحِجْرِ مِنْ الْبَيْتِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو الْأَحْوَصِ عَنْ الْأَشْعَثِ بْنِ سُلَيْمٍ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْجَدْرِ أَمِنَ الْبَيْتِ هُوَ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ فَمَا لَهُمْ لَمْ يُدْخِلُوهُ فِي الْبَيْتِ فَقَالَ إِنَّ قَوْمَكِ قَصَّرَتْ بِهِمْ النَّفَقَةُ قُلْتُ فَمَا شَأْنُ بَابِهِ مُرْتَفِعًا قَالَ فَعَلَ ذَلِكَ قَوْمُكِ لِيُدْخِلُوا مَنْ شَاءُوا وَيَمْنَعُوا مَنْ شَاءُوا وَلَوْلَا أَنَّ قَوْمَكِ حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ فَأَخَافُ أَنْ تُنْكِرَ قُلُوبُهُمْ لَعَمَدْتُ إِلَى الْحِجْرِ فَجَعَلْتُهُ فِي الْبَيْتِ وَأَلْزَقْتُ بَابَهُ بِالْأَرْضِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. তাহসীব (তথা মুহাসসাবে ঘুমানো) সম্পর্কে
১৯০৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, ’তাহসীব’ আসলে তেমন কিছুই নয়, কেবল একটি স্থান মাত্র যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অবতরণ করেছিলেন।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এটি মক্কার একটি স্থান, আর যা বাতহা’ উপত্যকায় অবস্থিত।
بَاب فِي التَّحْصِيبِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ التَّحْصِيبُ لَيْسَ بِشَيْءٍ إِنَّمَا هُوَ مَنْزِلٌ نَزَلَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد التَّحْصِيبُ مَوْضِعٌ بِمَكَّةَ وَهُوَ مَوْضِعٌ بِبَطْحَاءَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৬৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩১২। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৯৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. মিনায় অবস্থানকালে আরাফাতে যাওয়া পর্যন্ত কত ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হয়
১৯০৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেছেন।[1]
بَاب كَمْ صَلَاةً يُصَلَّى بِمِنًى حَتَّى يُغْدَى إِلَى عَرَفَاتٍ
أَخْبَرَنَا الْأَسْوَدُ بْنُ عَامِرٍ حَدَّثَنَا أَبُو كُدَيْنَةَ هُوَ يَحْيَى بْنُ الْمُهَلَّبِ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ مِقْسَمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى خَمْسَ صَلَوَاتٍ
তাখরীজ: আহমাদ ১/২৯৭, ৩০৩; ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৯; হাকিম ১/৪৬১; হাকিম একে বুখারী শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন, যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৮০; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯১১; পুর্ণ তাখরীজের জন্য মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪২৬ হাদীসটি দেখুন।
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে, যা ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৮, হাকিম ১/৪৭১ ইবনুয যুবাইর হতে সহীহ সনদে; দেখুন, ফাতহুল বারী ৩/৫৮০, ৫/১৩১-১৩৪।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. মিনায় অবস্থানকালে আরাফাতে যাওয়া পর্যন্ত কত ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হয়
১৯০৯. আব্দুল আযীয ইবনু রুফা’ঈ বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয় বলুন, যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মনে রেখেছেন। তিনি ’ইয়ামুত তারবিয়াহ’ তে (৮ই জিলহাজ্জ) কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, ইয়ামুন নাফর’ (মিনা হতে যাত্রা করার দিন) তিনি কোথায় আসর সালাত আদায় করেছেন? তিনি বললেন, ’আবতাহ’ (উপত্যকা)-তে। এরপর তিনি বললেন: তোমাদের (হাজ্জের) আমীরগণ যা করেন, তোমরাও তা করো।’[1]
بَاب كَمْ صَلَاةً يُصَلَّى بِمِنًى حَتَّى يُغْدَى إِلَى عَرَفَاتٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ وَأَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ حَنْبَلٍ عَنْ إِسْحَقَ بْنِ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالَ قُلْتُ لِأَنَسِ بْنِ مَالِكٍ حَدِّثْنِي بِشَيْءٍ عَقَلْتَهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيْنَ صَلَّى الظُّهْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ قَالَ بِمِنًى قَالَ قُلْتُ فَأَيْنَ صَلَّى الْعَصْرَ يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ بِالْأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَ اصْنَعْ مَا يَصْنَعُ أُمَرَاؤُكَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৫৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩০৯। এছাড়া ইবনু খুযাইমা নং ২৭৯৬, ২৭৯৭। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৫৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৬ তে। পরবর্তী টিকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. মিনায় অবস্থানকালে আরাফাতে যাওয়া পর্যন্ত কত ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে হয়
১৯১০. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় অবস্থানকালে যুহর, আসর, মাগরিব ও ঈশার সালাত আদায় করলেন এবং সামান্য সময় ঘুমিয়ে নিলেন। অতঃপর বায়তুল্লাহর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন এবং তিনি (সেখানে পৌঁছে) বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করলেন।[1]
بَاب كَمْ صَلَاةً يُصَلَّى بِمِنًى حَتَّى يُغْدَى إِلَى عَرَفَاتٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِي خَالِدٌ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلَالٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ وَالْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ وَرَقَدَ رَقْدَةً بِمِنًى ثُمَّ رَكِبَ إِلَى الْبَيْتِ فَطَافَ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৫৬, ১৭৬৪।
আমরা এর শাহীদ হিসেবে ইবনু উমারের হাদীসিটর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০/৬০ নং ৫৬৯৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. মিনায় সালাত ক্বসর করা
১৯১১. আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মিনায় উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সঙ্গে চার রাকা’আত সালাত আদায় করার পরে বলেন, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি, আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি, এবং উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথেও আমি এ স্থানে দু’ দু’ রাকা’আত করে সালাত আদায় করেছি। এরপর (তাঁদের) সুন্নাত তোমাদের থেকে আলাদা হয়ে গেছে। হায়! কতই না ভাল হতো যদি চার রাকা’আতের পরিবর্তে দু’ রাকা’আতই মাকবুল সালাত হতো![1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ بِمِنًى
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّلْتِ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ أَبِي الْأَسْوَدِ عَنْ سُلَيْمَانَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ وَصَلَّى مَعَ عُثْمَانَ بِمِنًى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ لَقَدْ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْمَكَانِ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَفَرَّقَتْ بِكُمْ الطُّرُقُ فَلَيْتَ حَظِّي مِنْ أَرْبَعِ رَكَعَاتٍ رَكْعَتَانِ مُتَقَبَّلَتَانِ
তাখরীজ: বুখারী, তাকসীরুস সালাত ১০৮৪; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৫। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫১৯৪ তে।
আনাস (রা:) ও থেকে এ বাবে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪২৭৪ তে এবং ইবনু উমার থেকেও যেটি পরবর্তী হাদীস।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. মিনায় সালাত ক্বসর করা
১৯১২. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, ’রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিনায় দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, আবী বাকর রা: দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, উমার রা: দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন এবং উছমান রা: তাঁর শাসনামলের প্রথম দিকে দু’ রাকা’আত সালাত আদায় করেছেন, এরপর পরবর্তীতে তিনি পূর্ণ (চার রাকা’আত) সালাত আদায় করেছেন।[1]
بَاب قَصْرِ الصَّلَاةِ بِمِنًى
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَبَا بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَعُمَرَ رَكْعَتَيْنِ وَعُثْمَانَ رَكْعَتَيْنِ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ ثُمَّ أَتَمَّهَا بَعْدُ
তাখরীজ: বুখারী, তাকসীরুস সালাত ১০৮২; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯৪। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৭৫৮, ৩৮৯৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. মিনা হতে আরাফাতে আগমণ করার সময় কী কী করতে হবে
১৯১৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে মিনা হতে বের হলাম, তখন আমাদের কেউ কেউ তাকবীর পাঠ করছিলেন, আর কেউ কেউ তালবিয়া পাঠ করছিলেন।[1]
بَاب كَيْفَ الْعَمَلُ فِي الْقُدُومِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَةَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ مِنًى فَمِنَّا مَنْ يُكَبِّرُ وَمِنَّا مَنْ يُلَبِّي
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩, ২/২২; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫০; ইবনু খুযাইমা নং ২৮০৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮১৬।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. মিনা হতে আরাফাতে আগমণ করার সময় কী কী করতে হবে
১৯১৪. মুহাম্মদ ইবনু আবী বাকর আস সাকাফী বলেন, আমরা যখন সকালে মিনা হতে আরাফাত অভিমুখে যাচ্ছিলাম, তখন আমি আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে তালবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে থাকা অবস্থায় (এ সময়) কী করেছিলেন? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পড়ছিলেন, কিন্তু তাতে আপত্তি করা হয়নি। আবার তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করছিলেন, কিন্তু তাতেও আপত্তি করা হয়নি।[1]
بَاب كَيْفَ الْعَمَلُ فِي الْقُدُومِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيُّ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَنَحْنُ غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَاتٍ عَنْ التَّلْبِيَةِ كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كَانَ يُلَبِّي الْمُلَبِّي فَلَا يُنْكَرُ عَلَيْهِ وَيُكَبِّرُ الْمُكَبِّرُ فَلَا يُنْكَرُ عَلَيْهِ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ৪৩; বুখারী, সালাতুল ঈদাইন ৯৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৫। এছাড়া, বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ১০০৬০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. আরাফার ময়দানে অবস্থান করা
১৯১৫. জুবায়র (ইবন মুতঈম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি আমার একটি উট হারিয়ে ফেলি। ফলে আমি (আরাফায়) তা তালাশ করতে বের হলাম এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলাম, সেখানে অবস্থান করছেন। আমি বললাম, ইনিও তো কুরায়শদের একজন, তাহলে তাঁর অবস্থান এখানে কেন?[1]
بَاب الْوُقُوفِ بِعَرَفَةَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ قَالَ جُبَيْرٌ أَضْلَلْتُ بَعِيرًا لِي فَذَهَبْتُ أَطْلُبُهُ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاقِفًا مَعَ النَّاسِ بِعَرَفَةَ فَقُلْتُ وَاللَّهِ إِنَّ هَذَا لَمِنْ الْحُمْسِ فَمَا شَأْنُهُ هَا هُنَا
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ৪৩; বুখারী, সালাতুল ঈদাইন ৯৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৫।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. আরাফাতের সকল স্থানই মাওকুফ (অবস্থানস্থল)
১৯১৬. জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কোরবানীর দিন) পাথর নিক্ষেপ শেষে লোকেদের উদ্দেশ্যে বসলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কোরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করেয়েছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।” অপর এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে বলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কোরবানী করেছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।”
তিনি (জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, সেদিন যেকোন (অনুষ্ঠান কোন অনুষ্ঠানের আগে বা পরে সম্পন্ন করার) ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হোক, তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।”এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “আরাফাতের গোটা এলাকাই অবস্থানস্থল এবং মুযদালিফার সমস্ত এলাকাও অবস্থানস্থল। আর মিনার সমস্ত এলাকাই কোরবানীর স্থান এবং মক্কার প্রতিটি প্রশস্ত সড়কই রাস্তা এবং কোরবানীর স্থান।”[1]
بَاب عَرَفَةُ كُلُّهَا مَوْقِفٌ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَمَى ثُمَّ قَعَدَ لِلنَّاسِ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ قَالَ لَا حَرَجَ ثُمَّ جَاءَهُ آخَرُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ لَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ إِلَّا قَالَ لَا حَرَجَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كُلُّ عَرَفَةَ مَوْقِفٌ وَكُلُّ مُزْدَلِفَةَ مَوْقِفٌ وَمِنًى كُلُّهَا مَنْحَرٌ وَكُلُّ فِجَاجِ مَكَّةَ طَرِيقٌ وَمَنْحَرٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭৮ ও মাওয়ারিদুয যামআন নং ১০১২ তে। (মুসলিম , হাজ্জ ১২১৮; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৩৬-১৯৩৭; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৪৮- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৮০ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইবনু আব্বাস হতে বুখারী, হাজ্জ ১৭২১, এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. আরাফাত হতে প্রত্যাবর্তনের সময় কিভাবে চলবে
১৯১৭. উসামা ইবনে যায়েদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাহনের পিছনে আরোহী ছিলেন। আরাফাত হতে প্রত্যাবর্তন করার সময় তিনি জন্তুযানে আরোহিত অবস্থায় কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করতেন। আর উন্মুক্ত জায়গা পেলে তিনি (আগের তুলনায় অধিক) দ্রুত চলতেন।[1]
بَاب كَيْفَ السَّيْرُ فِي الْإِفَاضَةِ مِنْ عَرَفَةَ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ أَخْبَرَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ كَانَ رَدِيفَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَاضَ مِنْ عَرَفَةَ وَكَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا أَتَى عَلَى فَجْوَةٍ نَصَّ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ১৮৫; বুখারী, হাজ্জ ১৬৬৬, জিহাদ ২৯৯৯, মাগাযী ৪৪১৩; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৫৮-২৫৯; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯২৩; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ১০০৮৯; আহমাদ ৫/২০৫; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮৬ (২৮৩); ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (মুযদালিফায়) দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৯১৮. কুরাইব থেকে বর্ণিত। তিনি উসামা ইবনু যাইদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সওয়ারীর পিছনে উপবিষ্ট ছিলেন তখন আরাফাতের দিন সন্ধায় কি করেছিলেন? তিনি বললেন, লোকেরা ’মুয়ারিরস’ নামক মসজিদের (মাগরিবের নামায পড়ার) জন্য উট থামালো, আমরা সে উপত্যকার গিরিপথে আসলাম। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তার উট থামালেন এবং পেশাব করলেন। -আর (উসামা) পানি ঢালার কথা এখানে উল্লেখ করেননি। তারপর তিনি উযুর পানি আনালেন এবং হালকাভাবে অযু করলেন –অতি উত্তমরূপে ওযু করলেন না। তখন আমি বললাম রাসুলুল্লাহ! সালাতের সময় হয়েছে। তিনি বললেন, “সালাত (এর স্থান) তোমার সম্মুখে।” তারপর তিনি সওয়ার হলেন এবং আমরা মুযদালিফায় এসে পৌছলাম। এরপর মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। তারপর লোকেরা নিজ নিজ স্থানে তাদের উট বেঁধে রাখলো এবং এশার নামায সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে বন্ধনমুক্ত করলো না। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। এরপর তারা উট ছেড়ে দিল। (রাবী বলেন,) আমি বললাম, ভোরে আপনারা কি কি করেছিলেন? তিনি বললেন, ফযল ইবনে আব্বাস তাঁর (রাসুলের) সওয়ারীর পিছে বসলো এবং আমি কুরাইশদের সাথে পায়ে হেটে অগ্রসর হলাম।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ أَنَّهُ سَأَلَ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ قَالَ أَخْبِرْنِي عَشِيَّةَ رَدِفْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ فَعَلْتُمْ أَوْ صَنَعْتُمْ قَالَ جِئْنَا الشِّعْبَ الَّذِي يُنِيخُ النَّاسُ فِيهِ لِلْمُعَرَّسِ فَأَنَاخَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَاقَتَهُ ثُمَّ بَالَ وَمَا قَالَ أَهْرَاقَ الْمَاءَ ثُمَّ دَعَا بِالْوَضُوءِ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا لَيْسَ بِالسَّابِغِ جِدًّا قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ الصَّلَاةَ قَالَ الصَّلَاةُ أَمَامَكَ قَالَ فَرَكِبَ حَتَّى قَدِمْنَا الْمُزْدَلِفَةَ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ وَالنَّاسُ فِي مَنَازِلِهِمْ فَلَمْ يَحِلُّوا حَتَّى أَقَامَ الْعِشَاءَ الْآخِرَةَ فَصَلَّى ثُمَّ حَلَّ النَّاسُ قَالَ قُلْتُ أَخْبِرْنِي كَيْفَ فَعَلْتُمْ حِينَ أَصْبَحْتُمْ قَالَ رَدِفَهُ الْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ فَانْطَلَقْتُ أَنَا فِي سُبَّاقِ قُرَيْشٍ عَلَى رِجْلَيَّ
তাখরীজ: বুখারী, সালাতুল উযু ১৩৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭২২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৯৪, ৩৮৫৭ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (মুযদালিফায়) দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৯১৯. (অপর সনদে) উসামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجٌ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبِ بْنِ أَبِي مُسْلِمٍ عَنْ أُسَامَةَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: বুখারী, সালাতুল উযু ১৩৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮০। আগের হাদীসটি তে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (মুযদালিফায়) দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৯২০. আবী আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাগরিব এবং ঈশার সালাত একত্রে আদায় করেছেন।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ أَنْبَأَنِي قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ يَزِيدَ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ يَعْنِي بِجَمْعٍ
তাখরীজ: এটি ১৫৫৭ (অনুবাদে ১৫৫৪) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (মুযদালিফায়) দু’ সালাত একত্রে আদায় করা
১৯২১. সালিমের পিতা (আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুযদালিফায় মাগরিব ও ঈশার সালাত একত্রে আদায় করেন, আর এতদুভয়ের মাঝে একটি মাত্র ইকামত ব্যতীত কোনো আযান দেন নি, আর এতদুভয়ের মাঝে এবং এর কোনো একটির পরেও কোনো তাসবীহ পড়েন নি।[1]
بَاب الْجَمْعِ بَيْنَ الصَّلَاتَيْنِ بِجَمْعٍ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ لَمْ يُنَادِ فِي وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا إِلَّا بِالْإِقَامَةِ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا وَلَا عَلَى إِثْرِ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا
তাখরীজ: এটি ১৫৫৮ (অনুবাদে ১৫৫৫) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. রাতের বেলায় মুযদালিফা হতে প্রত্যাবতর্নের অনুমতি প্রসঙ্গে
১৯২২. উম্মু হাবীবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে রাতের বেলায় মুযদালিফা হতে প্রত্যাবতর্নের নির্দেশ দেন।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي النَّفْرِ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ شَوَّالٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهَا أَنْ تَنْفِرَ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯২; আহমাদ ৬/৩২৭, ৪২৭; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৬১-২৬২; বাইহাকী ৫/১২৪।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. রাতের বেলায় মুযদালিফা হতে প্রত্যাবতর্নের অনুমতি প্রসঙ্গে
১৯২৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, সাওদাহ বিনতে জাম’আহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট (মুযদালিফা হতে) তাঁর প্রত্যাবর্তনের পূর্বে প্রত্যাবর্তন করার অনুমতি চাইলেন, ফলে তাকে অনুমতি দেওয়া হলো।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুযদালিফার রাতে সাওদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবী রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে তার আগে এবং সব লোকের একযোগে চলার ভীর এড়ানোর জন্য যাত্রা করার অনুমুতি চাইলেন।
কাসিম বলেন, সাওদা (রাঃ) স্থুলদেহি (الثَّبِطَةُ) ছিলেন। কাসিম বলেন, স্থুলদেহি (الثَّبِطَةُ) অর্থ: ভারী (الثَّقِيلَةُ)।
সুতরাং তিনি (তাঁর আগেই) রওনা হলেন। আর আমাদেরকে ভোর হওয়া পর্যন্ত সেখানেই অপেক্ষা করতে হল। তারপর আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর রওনা হলাম।
আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন: যদি আমিও সাওদার মত রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি চাইতাম এবং লোকদের যাওয়ার পূর্বেই চলে যেতাম তাহলে (অন্য যেকোনো) খুশী হওয়ার মতো বিষয়ের চেয়ে এটা আমার জন্য অধিক ভাল হতো।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي النَّفْرِ مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ قَالَ سَمِعْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ يُحَدِّثُ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يَأْذَنَ لَهَا فَتَدْفَعَ قَبْلَ أَنْ يَدْفَعَ فَأَذِنَ لَهَا قَالَ الْقَاسِمُ وَكَانَتْ امْرَأَةً ثَبِطَةً قَالَ الْقَاسِمُ الثَّبِطَةُ الثَّقِيلَةُ فَدَفَعَتْ وَحُبِسْنَا مَعَهُ حَتَّى دَفَعْنَا بِدَفْعِهِ قَالَتْ عَائِشَةُ فَلَأَنْ أَكُونَ اسْتَأْذَنْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَمَا اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ فَأَدْفَعَ قَبْلَ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَفْرُوحٍ بِهِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৮০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৯০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৮০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৬১, ৩৮৬৪, ৩৮৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. যার দ্বারা হজ্জ পরিপূর্ণ হয়
১৯২৪. আবদুর রাহমান ইবন ইয়া’মুর আদ দাইলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হাজ্জ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো। তখন তিনি বললেন: “হাজ্জ হচ্ছে আরাফাত (এর ময়দানে অবস্থান) কিংবা আরাফার দিবস। যে ব্যক্তি ফজর সালাতের পূর্বেই রাতে মুযদালিফায় পৌঁছতে পারলে সে (হাজ্জ) পেল।” তিনি আরও বলেন: “মিনায় অবস্থানের দিন হচ্ছে তিনটি দিন। (আল্লাহ বলেন:) “দুই দিন অবস্থান করে কোন লোক তাড়াতাড়ি ফিরে যেতে ইচ্ছা করলে তাতে কোন দোষ নেই। আর (তিনদিন পর্যন্ত অবস্থানকে) কোন লোক বিলম্বিত করলে তাতেও কোনো দোষ নেই।”[1] (সূরা বাকারা: ২০৩)
بَاب بِمَا يَتِمُّ الْحَجُّ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا بُكَيْرُ بْنُ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ يَعْمُرَ الدِّيلِيَّ يَقُولُ سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْحَجِّ فَقَالَ الْحَجُّ عَرَفَاتٌ أَوْ يَوْمُ عَرَفَةَ وَمَنْ أَدْرَكَ لَيْلَةَ جَمْعٍ قَبْلَ صَلَاةِ الصُّبْحِ فَقَدْ أَدْرَكَ وَقَالَ أَيَّامُ مِنًى ثَلَاثَةُ أَيَّامٍ فَمَنْ تَعَجَّلَ فِي يَوْمَيْنِ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ وَمَنْ تَأَخَّرَ فَلَا إِثْمَ عَلَيْهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৯২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০০৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২৩ তে। ((আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৪৯; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৮৯; নাসাঈ , হাজ্জ ৫/২৬৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০১৫। - ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৮৮৭ এর টীকা থেকে। অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. যার দ্বারা হজ্জ পরিপূর্ণ হয়
১৯২৫. উরওয়া ইবনু মুযার্রিস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি মাওকিফে (মুযদালিফাতে) লোকদের মাথার উপর দিয়ে ডিঙিয়ে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি তাইয়ী’র দু’টি পর্বতের নিকট হতে এসেছি। আমার উষ্ট্রীকে ক্লান্ত করে ফেলেছি এবং নিজেও ক্লান্ত হয়েছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন পর্বত ছাড়িনি যেখানে আমি অবস্থান করিনি। এমতাবস্থায় আমার হজ্জ সম্পন্ন হয়েছে কি? তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের সাথে এ (ফজরের) সালাত প্রাপ্ত হয়েছে এবং এর পূর্বে দিনে বা রাতে আরাফাতে এসেছে, সে নিজের ময়লা-মালিন্য (নখ-চুল ইত্যাদি) দূর করেছে এবং তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে।[1]
بَاب بِمَا يَتِمُّ الْحَجُّ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ عَنْ عَامِرٍ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَوْقِفِ عَلَى رُءُوسِ النَّاسِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْتُ مِنْ جَبَلَيْ طَيِّءٍ أَكْلَلْتُ مَطِيَّتِي وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي وَاللَّهِ إِنْ بَقِيَ جَبَلٌ إِلَّا وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ قَالَ مَنْ شَهِدَ مَعَنَا هَذِهِ الصَّلَاةَ وَقَدْ أَتَى عَرَفَاتٍ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلًا أَوْ نَهَارًا فَقَدْ قَضَى تَفَثَهُ وَتَمَّ حَجُّهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৪৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৫০, ৩৮৫১; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯২৪ তে। ((আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৫০; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৯১; নাসাঈ , হাজ্জ ৫/২৬৩-২৬৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০১৬...। – মুহাক্কিক্বের তাহক্বীক্বে মুসনাদুল মাউসিলী হা/ ৯৪৬ এর টীকা থেকে। অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. যার দ্বারা হজ্জ পরিপূর্ণ হয়
১৯২৬. উরওয়া ইবনে মুযাররিস ইবনুল হারিছা ইবনু লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম’; অতঃপর তিনি অনূরূপ বর্ণনা করেন।[1]
بَاب بِمَا يَتِمُّ الْحَجُّ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي السَّفَرِ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ لَامٍ قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২২০ নং ১০৭৫; এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তনের সময়
১৯২৭. উমর ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহিলী যুগের লোকেরা (মুশরিকরা) মুযদালিফা হতে সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হতোনা। তারা বলত: হে সাবির! আলোকিত হও। যাতে আমরা ফিরতে পারি।’ কিন্তু রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের বিপরীত আমল করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে উজ্জ্বলতার সালাতের পরে অথবা, তিনি বলেন, সুর্যোদয়ের সালাত তথা ফজরের সালাতের পরে (মিনার উদ্দেশ্যে) রওয়ানা করেন।[1]
بَاب وَقْتِ الدَّفْعِ مِنْ الْمُزْدَلِفَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو غَسَّانَ مَالِكُ بْنُ إِسْمَعِيلَ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ كَانَ أَهْلُ الْجَاهِلِيَّةِ يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ بَعْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَكَانُوا يَقُولُونَ أَشْرِقْ ثَبِيرُ لَعَلَّنَا نُغِيرُ وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَالَفَهُمْ فَدَفَعَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ بِقَدْرِ صَلَاةِ الْمُسْفِرِينَ أَوْ قَالَ الْمُشْرِقِينَ بِصَلَاةِ الْغَدَاةِ
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/২২২ নং ১০৬৯; তার সূত্রে বুখারী, হাজ্জ ১৬৮৪; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৩৮; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৯৬; নাসাঈ , কুবরা নং ৪০৫৪; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০২২; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১২৪; আহমাদ ১/১৪; ইবনু খুযাইমা নং ২৮৫৯।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. মুহাসসির উপত্যকায় দ্রুত চলা
১৯২৮. ফযল ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফার সন্ধ্যায় এবং মূযদালিফার সকালে প্রত্যাবর্তনকালে লোকদেরকে বললেনঃ “তোমরা শান্তভাবে চলো।” আর তিনি তাঁর উটনীর লাগাম টেনে রাখছিলেন। যখন তিনি মিনা হতে মুহাসসির উপত্যকায় প্রবেশ করলেন, তখন তিনি দ্রুত চলতে লাগলেন।’[1]
بَاب الْوَضْعِ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو الزُّبَيْرِ أَنَّ أَبَا مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَخْبَرَهُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي عَشِيَّةِ عَرَفَةَ وَغَدَاةِ جَمْعٍ حِينَ دَفَعُوا عَلَيْكُمْ السَّكِينَةَ وَهُوَ كَافٌّ نَاقَتَهُ حَتَّى إِذَا دَخَلَ مُحَسِّرًا أَوْضَعَ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৮২।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭২৪, ৬৭৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. মুহাসসির উপত্যকায় দ্রুত চলা
১৯২৯. আবীয যুবাইর তাঁর সনদে অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।[1]
আবী আব্দুল্লাহ বলেন, উষ্ট্রীর ক্ষেত্রে ’ইযা’উ’ (দ্রুত চালনা করা) আর ঘোড়ার ক্ষেত্রে তা ’ইযাফ’ (দ্রুত চালনা) শব্দ ব্যবহৃত হয়।
بَاب الْوَضْعِ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا لَيْثٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ قَالَ عَبْد اللَّهِ الْإِيضَاعُ لِلْإِبِلِ وَالْإِيجَافُ لِلْخَيْلِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. (হজ্জ ও উমরার সফরে) শত্রু দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে
১৯৩০. নাফি’ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ’উবায়দুল্লাহ ইবনু ’আবদুল্লাহ ও সালিম ইবনু ’আবদুল্লাহ (রাহি.) উভয়ই তাঁকে সংবাদ দিয়েছেন, যে বছর হাজ্জাজ বাহিনী ইবনুয যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে হত্যা করার পূর্বে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযান চালায়, সে সময়ে তাঁরা উভয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে (বুঝানোর জন্য) কথাবার্তা বললেন। তাঁরা বললেন, এ বছর হজ্জ না করলে আপনার কোন ক্ষতি হবে না। আমরা আশষ্কা করছি, আপনার ও বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
তিনি বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে উমরাহ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলাম। কিন্তু বায়তুল্লাহর পথে কাফির কুরায়শরা আমাদের বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানীর পশু যবেহ করে মাথা মুড়িয়ে নিয়েছিলেন। এরপর প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। এখন আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, আমি আমার নিজের জন্য ’উমরা ওয়াজিব করে নিয়েছি। যদি আমার এবং বায়তুল্লাহর মাঝে বাধা না আসে তাহলে আমি তাওয়াফ করে নিব। কিন্তু যদি আমার ও আয়তুল্লাহর মাঝে বাধা সৃষ্টি করা হয় তাহলে আমি তখনই সেরূপ করব যেরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন, আর আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম।
তারপর তিনি যুল-হুলাইফা থেকে ’উমরার ইহরাম বেঁধে কিছুক্ষণ চললেন, এরপরে বললেন: “হজ্জ এবং ’উমরার ব্যাপার তো একই। আমি তোমাদের সাক্ষী রেখে বলছি, নিশ্চয়ই আমি আমার ’উমরার সাথে হজ্জও নিজের জন্য ওয়াজিব করে নিলাম।” নাফি’ঈ বলেন: ফলে তিনি উভয়টি (হজ্জ ও ’উমরা)-এর জন্য একটিই তাওয়াফ ও একটিই সাঈ করেন। এরপর তিনি (হজ্জ ও ’উমরা কোনটি থেকেই) হালাল হননি। অবশেষে কুরবানী দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন (এবং হালাল হলেন)। তিনি আরও বলতেন, যে ব্যক্তি উমরাহ ও হাজ্জকে একত্রিত করেছে এবং উভয়ের জন্যে একত্রে ইহরাম বেঁধেছে, সে হালাল হবে না। এরপর কুরবানী দিন (হজ্জ ও ’উমরা) সে উভয়টি থেকে হালাল হবে।[1]
بَاب فِي الْمُحْصَرِ بِعَدُوٍّ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ وَسَالِمًا كَلَّمَا ابْنَ عُمَرَ لَيَالِيَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ قَبْلَ أَنْ يُقْتَلَ فَقَالَا لَا يَضُرُّكَ أَنْ لَا تَحُجَّ الْعَامَ نَخَافُ أَنْ يُحَالَ بَيْنَكَ وَبَيْنَ الْبَيْتِ فَقَالَ قَدْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُعْتَمِرِينَ فَحَالَ كُفَّارُ قُرَيْشٍ دُونَ الْبَيْتِ فَنَحَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَدْيَهُ وَحَلَقَ رَأْسَهُ ثُمَّ رَجَعَ فَأُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً فَإِنْ خُلِّيَ بَيْنِي وَبَيْنَ الْبَيْتِ طُفْتُ وَإِنْ حِيلَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فَعَلْتُ كَمَا كَانَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا مَعَهُ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ مِنْذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ سَارَ فَقَالَ إِنَّمَا شَأْنُهُمَا وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي قَالَ نَافِعٌ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا وَسَعَى لَهُمَا سَعْيًا وَاحِدًا ثُمَّ لَمْ يَحِلَّ حَتَّى جَاءَ يَوْمَ النَّحْرِ فَأَهْدَى وَكَانَ يَقُولُ مَنْ جَمَعَ الْعُمْرَةَ وَالْحَجَّ فَأَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا فَلَا يَحِلَّ حَتَّى يَحِلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا يَوْمَ النَّحْرِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৩৯,১৬৪০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৩০।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫০০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৭. (হজ্জ ও উমরার সফরে) শত্রু দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হলে
১৯৩১. হাজ্জাজ ইবনু আমর আল আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যদি কারো (পা) ভেঙ্গে দেয়া হয় বা খোঁড়া বা অক্ষম হয়ে পড়ে, তবে তার জন্য হালাল হওয়া বৈধ। তবে তাকে অন্য বছর হজ্জ করতে হবে। রাবী ইকরামা বলেন, অতঃপর আমি এ সম্পর্কে ইবন আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ও আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা উভয়ে এর সত্যতা স্বীকার করেন।[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, মুয়াবিয়াহ ইবনু সাল্লাম ও মা’মার হতে .... হাজ্জাজ ইবনু আমর হতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন।[2]
بَاب فِي الْمُحْصَرِ بِعَدُوٍّ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ حَجَّاجٍ الصَّوَّافِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو الْأَنْصَارِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ كُسِرَ أَوْ عُرِجَ فَقَدْ حَلَّ وَعَلَيْهِ حَجَّةٌ أُخْرَى قَالَ أَبُو مُحَمَّد رَوَاهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ وَمَعْمَرٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَافِعٍ عَنْ الْحَجَّاجِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/২৫১-২৫২; আবী নুয়াইম, হিলইয়া ১/৩৫৮; আহমাদ ৩/৪৫০; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৬২; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৪০; নাসাঈ , মানাসিক ৫/১৯৮, ১৯৯;; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০৭৭; তাবারাণী, আল কাবীর ৩/২২৪ নং ৩২১১, ৩২১২; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ২১৫৫; ইবনু সা’দ, আত তাবাকাত ৪/২/৪৭; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২২০; দারুকুতনী ২/২৭৮; হাকিম ১/৪৭০, ৪৮৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২০।
[2] এ উভয় সনদই মুত্তাসিল সনদের অতিরিক্ত।
মুয়াবিয়ার হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/ ২৫২; ; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ নং ২২০।
মা’মার এর হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৬৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৯৪০; ইবনু মাজাহ , মানাসিক ৩০৭৮; তাবারাণী, আল কাবীর ৩/২২৪ নং ৩২১৩; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/২২০; হাকিম ১/৪৮৩।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. কোন্ সময় জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করতে হবে
১৯৩২. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরবানী দিন সকাল বেলায় এবং এরপর সূর্য হেলে পড়ার সময় (দ্বিপ্রহরে) জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন।[1]
بَاب فِي جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ أَيُّ سَاعَةٍ تُرْمَى
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ رَمَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَمْرَةَ يَوْمَ النَّحْرِ الضُّحَى وَبَعْدَ ذَلِكَ عِنْدَ زَوَالِ الشَّمْسِ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৮. কোন্ সময় জামরাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করতে হবে
১৯৩৩. আবীল বাদ্দাহ ইবনু আসিম তার পিতা (আসিম ইবন আদী) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উট চারকদের অনুমতি দেন যে, তারা যেন কোরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করে। এরপর কোরবানীর পরের দিন কিংবা তার পরের দিন দু’ দিনের কংকর একসাথে নিক্ষেপ করবে। অতঃপর তারা প্রস্থানের দিন কংকর নিক্ষেপ করবে।”[1]
بَاب فِي جَمْرَةِ الْعَقَبَةِ أَيُّ سَاعَةٍ تُرْمَى
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ بْنِ عَاصِمٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْخَصَ لِرِعَاءِ الْإِبِلِ أَنْ يَرْمُوا يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ يَرْمُوا الْغَدَ أَوْ مِنْ بَعْدِ الْغَدِ لِيَوْمَيْنِ ثُمَّ يَرْمُوا يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد مِنْهُمْ مَنْ يَقُولُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي الْبَدَّاحِ
তাখরীজ: পরবর্তী টীকাটি দেখুন।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৮৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. (জামরায়) ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৩৪. আব্দুর রহমান ইবনু উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দেন যে, আমরা যেন জামরায় ’খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করি।[1]
بَاب فِي الرَّمْيِ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُرَّةَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ التَّيْمِيِّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ أَنْ نَرْمِيَ الْجَمْرَةَ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৬৫১ তে। এছাড়াও: ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৬৩৬; পরবর্তী একটি হাদীসের পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. (জামরায়) ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৩৫. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (বিদায় হাজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদেরকে আদেশ দিলে তাঁরা (জামরায়) ’খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করেন। তখন তিনি মুহাসসির উপত্যকায় দ্রুত চলতে লাগলেন এবং (লোকদেরকে) বললেনঃ “তোমরা শান্তভাবে চলো।”[1]
بَاب فِي الرَّمْيِ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ أَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَمَوْا بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ وَأَوْضَعَ فِي وَادِي مُحَسِّرٍ وَقَالَ عَلَيْكُمْ السَّكِينَةَ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৯৯। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১০৮, ২১৪৭। এছাড়াও: বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১০১১০।
পরিচ্ছেদঃ ৫৯. (জামরায়) ‘খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৩৬. আব্দুর রহমান ইবনু মুয়া’য রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (বিদায় হাজ্জে) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে আদেশ দেন যে, আমরা যেন জামরায় ’খযফের’ কংকরের ন্যায় (ছোট) কংকর নিক্ষেপ করি।[1]আবূ মুহাম্মদ কে বলা হলো, আব্দুর রহমান ইবনু মুয়া’য কি সাহাবী’ ছিলেন? তিনি বলেন, হাঁ।
بَاب فِي الرَّمْيِ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ أَخْبَرَنَا خَالِدٌ عَنْ حُمَيْدٍ الْأَعْرَجِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ مُعَاذٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نَرْمِيَ الْجِمَارَ بِمِثْلِ حَصَى الْخَذْفِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُعَاذٍ لَهُ صُحْبَةٌ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৭৫ তে। এছাড়াও: ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৬২৬; বুখারী, আল কাবীর ৫/২৪৪।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. বাহনে আরোহী অবস্থায় জামরায় পাথর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৩৭. কুদামাহ ইবনু আব্দুল্লাহ্ ইবনু আম্মার আল কিলাবী হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লাল উটের পিঠে আরোহী অবস্থায় জামারায় কংকর নিক্ষেপ করতে দেখেছি। অথচ সেখানে কাউকে কোনো মারধর, বিতাড়ন, ’দূর হও, দুর হও’ জাতীয় কোনো কিছুই বলা হচ্ছিল না।[1]
بَاب فِي رَمْيِ الْجِمَارِ يَرْمِيهَا رَاكِبًا
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ وَالْمُؤَمَّلُ وَأَبُو نُعَيْمٍ عَنْ أَيْمَنَ بْنِ نَابِلٍ عَنْ قُدَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمَّارٍ الْكِلَابِيِّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْمِي الْجِمَارَ عَلَى نَاقَةٍ صَهْبَاءَ لَيْسَ ثَمَّ ضَرْبٌ وَلَا طَرْدٌ وَلَا إِلَيْكَ إِلَيْكَ
তাখরীজ: বুখারী, আল কাবীর ৭/১৭৮; ইবনুল কানি’, মু’জামুল সাহাবাহ তরজমাহ নং ৯০১; তাবারাণী, আল কাবীর ১৯/৩৮ নং ৭৭; তায়ালিসী ১/২২৩ নং ১০৭৮; আহমাদ ৩/৪১৩; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২৭০; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০৩৫; ইবনু আবী আসিম, আহাদ ওয়াল মাছানী নং ১৪৯৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২৮৭৮; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ৩/৪১৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৯০৩।
পরিচ্ছেদঃ ৬০. বাহনে আরোহী অবস্থায় জামরায় পাথর নিক্ষেপ করা সম্পর্কে
১৯৩৮. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফযল হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সওয়ারীর পিছনে উপবিষ্ট ছিলাম। তিনি জামরায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত সর্বদা তালবিয়া পাঠ করেই চললেন।[1]
بَاب فِي رَمْيِ الْجِمَارِ يَرْمِيهَا رَاكِبًا
أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ هُوَ الْجَزَرِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ قَالَ كُنْتُ رِدْفَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى الْجَمْرَةَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৭০; মুসলিম, হাজ্জ ১২৮১।আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৬১৬, ৬৭২২, ৬৭২৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮০৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৬৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬১. বাতনিল ওয়াদী হতে কংকর নিক্ষেপ এবং প্রত্যেকবার কংকর নিক্ষেপের সময় তাকবীর পাঠ
১৯৩৯. যুহরী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মিনার মসজিদের নিকটস্থ জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন, তখন তাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন। তারপর তিনি এখান থেকে সামনে অগ্রসর হন এবং তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে পশ্চিমমুখী হয়ে দাড়ান এবং অনেকক্ষণ ’উকুফ’ (দণ্ডায়মান) অবস্থায় থাকেন। তারপর তিনি দ্বিতীয় জামরায় এসে তাতেও সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন, আর আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন।
এরপর তিনি তাঁর হস্তদ্বয় উত্তোলন করে দুঁআরত অবস্থায় উত্তরে ’ওয়াদী’র দিকে নেমে আসেন। এরপর তিনি আকাবার নিকটবর্তী জামরায় আগমন করেন এবং এতেও তিনি সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন আর তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপ করার সময় তাকবীর বলেন। এরপর তিনি প্রস্থান করেন, কিন্তু এর নিকট তিনি দাঁড়ান নি। যুহরী (রহঃ) বলেন, আমি সালিম (রহঃ)-কে তাঁর পিতার সূত্রে এই হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি আরও বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরুপ আমল করতেন।[1]
بَاب الرَّمْيِ مِنْ بَطْنِ الْوَادِي وَالتَّكْبِيرِ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ أَخْبَرَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَمَى الْجَمْرَةَ الَّتِي تَلِي الْمَسْجِدَ مَسْجِدَ مِنًى يَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ مَعَ كُلِّ حَصَاةٍ ثُمَّ تَقَدَّمَ أَمَامَهَا فَوَقَفَ مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ رَافِعًا يَدَيْهِ وَكَانَ يُطِيلُ الْوُقُوفَ ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الثَّانِيَةَ فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ ثُمَّ يَنْحَدِرُ مِنْ ذَاتِ الْيَسَارِ مِمَّا يَلِي الْوَادِي رَافِعًا يَدَيْهِ يَدْعُو ثُمَّ يَأْتِي الْجَمْرَةَ الَّتِي عِنْدَ الْعَقَبَةِ فَيَرْمِيهَا بِسَبْعِ حَصَيَاتٍ يُكَبِّرُ كُلَّمَا رَمَى بِحَصَاةٍ ثُمَّ يَنْصَرِفُ وَلَا يَقِفُ عِنْدَهَا قَالَ الزُّهْرِيُّ سَمِعْتُ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৭০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৭৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৭ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬২. কুরবানী হিসেবে গরুই যথেষ্ট
১৯৪০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম তিনি কেবল হাজ্জের কথাই উল্লেখ করেছেন। এরপর যখন সারিফ নামক স্থানে এলাম, তখন আমার হায়িয আরম্ভ হলো। এরপর যখন ইয়ামুন নাহর বা কুরবাণীর দিন আমি (হায়িয হতে) পবিত্র হলাম। তাই রাসূলুল্লাহ আমাকে (হাজ্জের অবশিষ্ট কাজ সম্পাদন করতে) পাঠিয়ে দিলেন, ফলে যখন আমি (সেগুলি) পূর্ণ করলাম, তখন আমাকে গরুর মাংস খেতে দেওয়া হলো। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কি? তারা বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারবর্গের পক্ষ থেকে একটি মাত্র গরু কোরবানী করেন।[1]
بَاب الْبَقَرَةِ تُجْزِئُ عَنْ الْبَدَنَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ الْمَاجِشُونُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا نَذْكُرُ إِلَّا الْحَجَّ فَلَمَّا جِئْنَا سَرِفَ طَمِثْتُ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ طَهُرْتُ فَأَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَفَضْتُ فَأُتِيَ بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالُوا أَهْدَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ نِسَائِهِ الْبَقَرَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭০৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২১১ (১১৯)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯২৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৩. যিনি বলেন, নারীদের মাথামুণ্ডন নেই
১৯৪১. ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: নারীদের মাথামুণ্ডন নেই; বরং নারীদের জন্য চুল খাটো করতে হবে।[1]
بَاب مَنْ قَالَ لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ حَلْقٌ
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيُّ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنِي عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ جُبَيْرٍ عَنْ صَفِيَّةَ بِنْتِ شَيْبَةَ قَالَتْ أَخْبَرَتْنِي أُمُّ عُثْمَانَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ حَلْقٌ إِنَّمَا عَلَى النِّسَاءِ التَّقْصِيرُ
তাখরীজ: বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১০৪; বুখারী, আল কাবীর ৬/৪৬; তাবারাণী, আল কাবীর ১২/২৫০ নং ১৩০১৮ ; আবূ দাউদ, মানাসিক ১৯৮৪, ১৯৮৫; দারুকুতনী ২/২৭১ নং ১৬৫; হাফিজ ইবনু হাজার তালখীসুল হাবীর ২/২৬১ তে বলেন: এর সনদ হাসান; আবী হাতিম তার ইলাল গ্রন্থে এবং বুখারী তার কাবীর গ্রন্থে একে শক্তিশালী বলেছেন; তবে ইবনুল কাত্তান এর ত্রুটি বর্ণনা করেছেন। যদিও ইবনুল মাওয়াক্ব তাকে খণ্ডন করেছেন আর তিনিই সঠিক।…’
আরও দেখুন, উছমান এর হাদীস, আয়িশার হাদীস যা আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫৬৭৮ ও ৫৬৭৯ এ তাখরীজ দিয়েছি। আরও দেখুন, নাসবুর রায়াহ ৩/৯৬ ও দিরায়াহ ২/৩২।
পরিচ্ছেদঃ ৬৪. (পুরুষদের জন্য) চুল খাটো করার চেয়ে মাথা মুণ্ডন করে ফেলার ফযীলত
১৯৪২. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “মাথার চুল মুণ্ডনকারীদের উপর আল্লাহ রহম করুন।” তাঁকে বলা হলো: আর চুল খাটোকারীদের? তিনি (তিনবার) বললেন: “মাথার চুল মুণ্ডনকারীদের উপর আল্লাহ রহম করুন।” আর চতুর্থবারে বললেন: “এবং চুল খাটোকারীদের উপরও।”[1]
بَاب فَضْلِ الْحَلْقِ عَلَى التَّقْصِيرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ رَحِمَ اللَّهُ الْمُحَلِّقِينَ قِيلَ وَالْمُقَصِّرِينَ قَالَ رَحِمَ اللَّهُ الْمُحَلِّقِينَ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ وَالْمُقَصِّرِينَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭২৭; মুসলিম, হাজ্জ ১৩০১। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২/৪৫৩ তে শাহিদ হিসেবে আবী সাঈদের হাদীসসহ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. যে ব্যক্তি তার হজ্জের কার্যসমূহের মধ্যে কোনো একটির পূর্বে অপরটি করে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৯৪৩. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে (কোরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ শেষে) জামরায় দেখলাম, তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হচ্ছিল। তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কোরবানী করে ফেলেছি। তিনি বলেনঃ “কংকর নিক্ষেপ করো, আর কোন দোষ নেই।” অপর এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কোরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করেয়েছি। তিনি বলেনঃ “কোরবানী করো, আর কোন দোষ নেই।” তিনি (আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা:) বলেন, সেদিন যেকোন কাজ অপর কোন কাজের আগে বা পরে সম্পন্ন করার ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হোক, তিনি (সকল ক্ষেত্রেই) বলেনঃ “তুমি তা করো, কোন দোষ নেই।”[1]
بَاب فِيمَنْ قَدَّمَ نُسُكَهُ شَيْئًا قَبْلَ شَيْءٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ هُوَ ابْنُ أَبِي سَلَمَةَ الْمَاجِشُونُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ الْجَمْرَةِ وَهُوَ يُسْأَلُ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ نَحَرْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ ارْمِ وَلَا حَرَجَ قَالَ آخَرُ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَنْحَرَ قَالَ انْحَرْ وَلَا حَرَجَ قَالَ فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ قُدِّمَ وَلَا أُخِّرَ إِلَّا قَالَ افْعَلْ وَلَا حَرَجَ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ৮৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩০৬। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৭৭ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৫. যে ব্যক্তি তার হজ্জের কার্যসমূহের মধ্যে কোনো একটির পূর্বে অপরটি করে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৯৪৪. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (কোরবানীর দিন) লোকদের উদ্দেশ্যে দাঁড়ালেন। তখন এক ব্যক্তি বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি কোরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডন করেয়েছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।” (অপর এক ব্যক্তি) বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি না বুঝে কঙ্কর নিক্ষেপের পূর্বে কোরবানী করেছি। তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।”
সেদিন যেকোন কার্য কোন কার্যের আগে বা পরে সম্পন্ন করার ব্যাপারেই জিজ্ঞাসা করা হোক, তিনি বলেনঃ “কোন দোষ নেই।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন: আমি এ মত গ্রহণ করেছি। আর কুফাবাসীগণ (হানাফীগণ) এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন।
بَاب فِيمَنْ قَدَّمَ نُسُكَهُ شَيْئًا قَبْلَ شَيْءٍ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ عِيسَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَفَ لِلنَّاسِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ حَلَقْتُ قَبْلَ أَنْ أَذْبَحَ قَالَ لَا حَرَجَ قَالَ لَمْ أَشْعُرْ ذَبَحْتُ قَبْلَ أَنْ أَرْمِيَ قَالَ لَا حَرَجَ فَلَمْ يُسْأَلْ يَوْمَئِذٍ عَنْ شَيْءٍ قُدِّمَ أَوْ أُخِّرَ إِلَّا قَالَ لَا حَرَجَ قَالَ عَبْد اللَّهِ أَنَا أَقُولُ بِهَذَا وَأَهْلُ الْكُوفَةِ يُشَدِّدُونَ
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ২৫১; বুখারী, ইলম ৮৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩০৬। আর এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. যখন কুরবানীর পশু ক্লান্ত হয়ে চলার অযোগ্য হয়ে যায়, তখন তার ব্যাপারে সুন্নাত
১৯৪৫. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কুরবানীর পশু’র রক্ষণাবেক্ষণকারী, নাজিয়াহ আল আসলামী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম, যে সকল কুরবানীর পশু চলতে চলতে ক্লান্ত হয়ে চলার অযোগ্য হয়ে যায়, তখন তার ব্যাপারে আমরা কী করবো? তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “যে সকল কুরবানীর পশু চলতে চলতে অবসন্ন হয়ে চলার অযোগ্য হয়ে যায়, এমন প্রত্যেক পশুকে তোমরা যবেহ করো, এরপর এর (গলায় লটকানো) জুতাগুলি এর রক্তে রঞ্জিত করো, এরপর এগুলিকে লোকদের আহার করার জন্য রেখে যাও।”[1]
بَاب سُنَّةِ الْبَدَنَةِ إِذَا عَطِبَتْ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ نَاجِيَةَ الْأَسْلَمِيِّ صَاحِبِ هَدْيِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَيْفَ أَصْنَعُ بِمَا عَطِبَ مِنْ الْهَدْيِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَكُلُّ بَدَنَةٍ عَطِبَتْ فَانْحَرْهَا ثُمَّ أَلْقِ نَعْلَهَا فِي دَمِهَا ثُمَّ خَلِّ بَيْنَهَا وَبَيْنَ النَّاسِ فَلْيَأْكُلُوهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০২৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৭৬ এবং বিস্তারিতভাবে মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯০৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৬. যখন কুরবানীর পশু ক্লান্ত হয়ে চলার অযোগ্য হয়ে যায়, তখন তার ব্যাপারে সুন্নাত
১৯৪৬. উরওয়াহ’র পিতা (জুবাইর) রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর সনদে নাজিয়াহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনূরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب سُنَّةِ الْبَدَنَةِ إِذَا عَطِبَتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ نَاجِيَةَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৬৭. যিনি বলেন, হাদী বা কুরবানীর পশু হিসেবে একটি ছাগলই যথেষ্ট হবে
১৯৪৭. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার কুরবানীর পশু হিসেবে একটি ছাগল পাঠিয়েছিলেন।[1]
بَاب مَنْ قَالَ الشَّاةُ تُجْزِئُ فِي الْهَدْيِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ وَأَبُو نُعَيْمٍ قَالَا حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَهْدَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّةً غَنَمًا
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭০১; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২১ (৩৬৬, ৩৬৭)। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩৯৪, ৪৮৮৯ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ২১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৮. কুরবানীর পশুকে কুরবানী হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্যে জখম করা: কিভাবে জখম করা হবে
১৯৪৮. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, (একদা) রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যুল-হুলায়ফাতে যুহরের নামায আদায় করেন। এরপর তিনি তাঁর কুরবানীর একটি উট আনতে বলেন এবং এর কুঁজের ডানপাশ (ধারালো অস্ত্রের দ্বারা) ফুঁড়ে দেন। এরপর তিনি তার রক্তের চিহ্ন মুছে দেন এবং এর গলায় দুটি জুতার মালা পরিয়ে দেন। এরপর তিনি স্বীয় বাহনের নিকট যান। তিনি বায়দা নামক স্থানে পৌঁছে তালবীয়া পাঠ শুরু করেন।[1]
بَاب فِي الْإِشْعَارِ كَيْفَ يُشْعَرُ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حَسَّانَ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى الظُّهْرَ بِذِي الْحُلَيْفَةِ ثُمَّ دَعَا بِبَدَنَةٍ فَأَشْعَرَهَا مِنْ صَفْحَةِ سَنَامِهَا الْأَيْمَنِ ثُمَّ سَلَتَ الدَّمَ عَنْهَا وَقَلَّدَهَا نَعْلَيْنِ ثُمَّ أُتِيَ بِرَاحِلَتِهِ فَلَمَّا قَعَدَ عَلَيْهَا وَاسْتَوَتْ عَلَى الْبَيْدَاءِ أَهَلَّ بِالْحَجِّ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২৪৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০০০, ৪০০১, ৪০০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬৯. কুরবানীর পশুর উপর আরোহন করা সম্পর্কে
১৯৪৯. কাতাদাহ বলেন, আমি আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে বলতে শুনেছি, তিনি রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তি নিকট এলেন যে তার কুরবানীর উটকে হাঁকিয়ে নিচ্ছিলেন। তিনি বললেন: “তুমি এর পিঠে আরোহন কর।” সে বললো, এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন: “তুমি এর পিঠে আরোহন কর।” সে বললো, এটি তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন: “তুমি এর পিঠে আরোহন কর। তোমার জন্য আফসোস!”[1]
بَاب فِي رُكُوبِ الْبَدَنَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ قَتَادَةُ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا يُحَدِّثُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ انْتَهَى إِلَى رَجُلٍ يَسُوقُ بَدَنَتَهُ قَالَ ارْكَبْهَا فَقَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا وَيْحَكَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৯০; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৬৩, ২৮৬৯, ৩১০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭০. উটকে দণ্ডায়মান অবস্থায় নাহর (কুরবানী) করা প্রসঙ্গে
১৯৫০. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি এক ব্যক্তিকে দেখলেন, সে একটি উটকে (যবেহ করার উদ্দেশ্যে) বসিয়েছে। তখন তিনি বললেন, ’একে উঠিয়ে (পা) বেঁধে দাঁড় করিয়ে দাও (এবং নাহর করো)– এটাই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত।[1]
بَاب فِي نَحْرِ الْبُدْنِ قِيَامًا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ يُونُسَ بْنِ عُبَيْدٍ عَنْ زِيَادِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا قَدْ أَنَاخَ بَدَنَةً فَقَالَ ابْعَثْهَا قِيَامًا مُقَيَّدَةً سُنَّةَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭১৩; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২০। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯০৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭১. হজ্জের মৌসূমে (সময়ে) খুতবা দেওয়া
১৯৫১. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জি’রাণ নামক স্থান হতে উমরাহ করে ফিরে এসে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে হাজ্জের আমীর নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে আসলাম। যখন ’আরজ’- নামক স্থানে পৌছলেন তখন সকাল হলে তিনি তাকবীর বলার জন্য প্রস্তুত হলেন। এমন সময় তাঁর পেছনে উটের শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি তাকবীর না দিয়ে বললেনঃ এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উটনী জাদঃআর শব্দ। হয়তো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসেছেন, আমরা তার সঙ্গে সালাত আদায় করবো। হঠাৎ দেখা গেল এর আরোহী হলেন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু। আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে বললেনঃ আপনি কি আমীর হিসেবে এসেছেন, না সংবাদ বাহক হিসেবে। তিনি বললেনঃ আমি সংবাদ বাহক হিসেবে এসেছি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে সূরা বারাআত (বা তাওবা) সহ প্রেরণ করেছেন। আমি হজ্জের বিশিষ্ট স্হান সমুহে লোকদেরকে তা পাঠ করে শুনাব। আমরা মক্কায় আগমন করলাম। ’ইয়াওমুত তারবিয়া’ (যিলহাজ্জের ৮ তারিখ)-এর একদিন পূর্বে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের মাঝে দাড়িয়ে খুৎবা দিলেন এবং তাদের হাজ্জের আহকামসমূহ তাদের নিকট বর্ণনা করলেন। তিনি তাঁর খুতবা শেষ করলে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়ালেন এবং তিনি লোকদের মাঝে সূরা বারাআত শেষ পর্যন্ত পাঠ করে শুনালেন। এরপর আমরা তাঁর সঙ্গে বের হলাম।
যখন আরাফার দিন উপস্থিত হলো, তখন আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে খুৎবা দিলেন, তাদের কাছে হজ্জের আহকামসমূহ বর্ননা করলেন। যখন তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করলেন, তখন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে লোকদের মধ্যে সূবা বারাআত শেষ পর্যন্ত পাঠ করে শুনালেন। এরপর কুরবানীর দিন আসলে আমরা তাওয়াফে ইফাযা করলাম। আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ফিরে এসে লোকের মধ্যে খুতবা দিলেন। তাতে তিনি তাদের প্রত্যাবর্তন, কুরবানীর আহকাম এবং হজ্জের আহকাম বর্ণনা করলেন। তিনি যখন খুৎবা শেষ করলেন, তখন আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে লোকদের মধ্যে সুরা বারাআত শেষ পর্যন্ত শুনালেন। প্রখম নফরের দিন আসলে আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু লোকদের উদ্দেশ্যে খুৎবা দিলেন; কিরুপে নফর বা যাত্রা করতে হবে এবং রমী করতে হবে সে সমস্ত আহকাম তাদেরকে শিক্ষা দিলেন। তিনি খুৎবা শেষ করলে আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু দাঁড়িয়ে লোকদের মাঝে সূরা বারাআত পড়ে শুনালেন এবং তা শেষ পর্যন্ত পাঠ করলেন।[1]
بَاب فِي خُطْبَةِ الْمَوْسِمِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ قَرَأْتُ عَلَى أَبِي قُرَّةَ هُوَ مُوسَى بْنُ طَارِقٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ خُثَيْمٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ رَجَعَ مِنْ عُمْرَةِ الْجِعْرَانَةِ بَعَثَ أَبَا بَكْرٍ عَلَى الْحَجِّ فَأَقْبَلْنَا مَعَهُ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْعَرْجِ ثُوِّبَ بِالصُّبْحِ فَلَمَّا اسْتَوَى لِيُكَبِّرَ سَمِعَ الرَّغْوَةَ خَلْفَ ظَهْرِهِ فَوَقَفَ عَنْ التَّكْبِيرِ فَقَالَ هَذِهِ رَغْوَةُ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْجَدْعَاءِ لَقَدْ بَدَا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الْحَجِّ فَلَعَلَّهُ أَنْ يَكُونَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنُصَلِّيَ مَعَهُ فَإِذَا عَلِيٌّ عَلَيْهَا فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَمِيرٌ أَمْ رَسُولٌ قَالَ لَا بَلْ رَسُولٌ أَرْسَلَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِبَرَاءَةٌ أَقْرَؤُهَا عَلَى النَّاسِ فِي مَوَاقِفِ الْحَجِّ فَقَدِمْنَا مَكَّةَ فَلَمَّا كَانَ قَبْلَ التَّرْوِيَةِ بِيَوْمٍ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَدَّثَهُمْ عَنْ مَنَاسِكِهِمْ حَتَّى إِذَا فَرَغَ قَامَ عَلِيٌّ فَقَرَأَ عَلَى النَّاسِ بَرَاءَةٌ حَتَّى خَتَمَهَا ثُمَّ خَرَجْنَا مَعَهُ حَتَّى إِذَا كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَدَّثَهُمْ عَنْ مَنَاسِكِهِمْ حَتَّى إِذَا فَرَغَ قَامَ عَلِيٌّ فَقَرَأَ عَلَى النَّاسِ بَرَاءَةٌ حَتَّى خَتَمَهَا ثُمَّ كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَأَفَضْنَا فَلَمَّا رَجَعَ أَبُو بَكْرٍ خَطَبَ النَّاسَ فَحَدَّثَهُمْ عَنْ إِفَاضَتِهِمْ وَعَنْ نَحْرِهِمْ وَعَنْ مَنَاسِكِهِمْ فَلَمَّا فَرَغَ قَامَ عَلِيٌّ فَقَرَأَ عَلَى النَّاسِ بَرَاءَةٌ حَتَّى خَتَمَهَا فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ النَّفْرِ الْأَوَّلُ قَامَ أَبُو بَكْرٍ فَخَطَبَ النَّاسَ فَحَدَّثَهُمْ كَيْفَ يَنْفِرُونَ وَكَيْفَ يَرْمُونَ فَعَلَّمَهُمْ مَنَاسِكَهُمْ فَلَمَّا فَرَغَ قَامَ عَلِيٌّ فَقَرَأَ بَرَاءَةٌ عَلَى النَّاسِ حَتَّى خَتَمَهَا
তাখরীজ: নাসাঈ ৫/২৪৯ ইয়াওমুত তারবীয়ার একদিন পূর্বে খুতবা দান; জাওযাকানী, আবাতীল ওয়াল মানাকির নং ১২৯; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১১১; কুবরা নং ৩৯৮৪।
দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮২০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৪৭০, ১৯৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭২. ইয়ামুন নাহর (কুরবানীর দিন) খুতবা প্রদান প্রসঙ্গে
১৯৫২. আবূ বকরাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (বিদায় হাজ্জের) সেই দিন যখন এলো, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মিনায়) তাঁর উটের উপর উপবেশন করলেন। আমি জানি না, সেটি উট নাকি উটনী। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি তাঁর উটের লাগাম অথবা, রাশ ধরে রেখেছিল।
তথন তিনি বললেনঃ “এটা কোন্ দিন?”
তিনি বলেন, আমরা চুপ করে রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এ দিনটির আলাদা কোন নাম দিবেন।
তিনি বললেনঃ ’’এটা কি কুরবানীর দিন নয়?” আমরা বললাম, ’জি হ্যাঁ।’
তিনি জিজ্ঞেসঃ “এটা কোন্ মাস?”
আমরা নীরব রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এর আলাদা কোন নাম দিবেন।
তিনি বললেনঃ “এটা কি যিলহাজ্জ মাস নয়?”
আমরা বললাম, ’জী হ্যাঁ।’
তিনি জিজ্ঞেসঃ “এটা কোন্ শহর?”
আমরা নীরব রইলাম আর ধারণা করলাম যে, অচিরেই তিনি এর আলাদা কোন নাম দিবেন।
তিনি বললেনঃ “এটা কি সেই (পবিত্র) শহর নয়?”
আমরা বললাম, ’জী হ্যাঁ।’ তিনি বললেনঃ “তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন আজকের তোমাদের এ দিন, তোমাদের এ মাস, তোমাদের এ শহর মর্যাদা সম্পন্ন। তোমরা জেনে রাখো! উপস্থিত ব্যক্তিরা যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট (আমার এ বাণী) পৌঁছে দেয়। কারণ উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত এমন এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছাবে, যে এ বাণীকে তার চেয়ে অধিক আয়ত্তে রাখতে পারবে।”[1]
بَاب فِي الْخُطْبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو حَاتِمٍ أَشْهَلُ بْنُ حَاتِمٍ حَدَّثَنَا ابْنُ عَوْنٍ عَنْ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ لَمَّا كَانَ ذَلِكَ الْيَوْمُ قَعَدَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى بَعِيرٍ لَا أَدْرِي جَمَلٌ أَوْ نَاقَةٌ وَأَخَذَ إِنْسَانٌ بِخِطَامِهِ أَوْ قَالَ بِزِمَامِهِ فَقَالَ أَيُّ يَوْمٍ هَذَا قَالَ فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ شَهْرٍ هَذَا قَالَ فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ ذَا الْحِجَّةِ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَأَيُّ بَلَدٍ هَذَا قَالَ فَسَكَتْنَا حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ سِوَى اسْمِهِ فَقَالَ أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ قُلْنَا بَلَى قَالَ فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ بَيْنَكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا أَلَا لِيُبَلِّغْ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ فَإِنَّ الشَّاهِدَ عَسَى أَنْ يُبَلِّغَ مَنْ هُوَ أَوْعَى مِنْهُ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ৬৭; আযাহী ৫৫৫০; মুসলিম, কাসামাহ ১৬৭৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১১২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. যে মহিলা (তাওয়াফে) যিয়ারতের পরে হায়িযগ্রস্ত হয়ে পড়ে, (তার করণীয় কি)
১৯৫৩. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাফিয়্যাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর হায়িয আরম্ভ হলো। এরপর যখন প্রস্থানের রাত আগমণ করলো, তখন তিনি আপন ভাষায় বললেন, হায়, আমার ধ্বংস! হায়, আমার নিষ্ফলতা (শারীরিক অক্ষমতা)![1] তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তুমি কি ইয়ামুন নাহার বা কুরবানীর দিন তাওয়াফ (এ-যিয়ারত) কর নি? তিনি জবাব দিলেন, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ “তা হলে বের হয়ে পড়ো।”[2]
بَاب الْمَرْأَةِ تَحِيضُ بَعْدَ الزِّيَارَةِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ حَاضَتْ صَفِيَّةُ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ النَّفْرِ قَالَتْ أَيْ حَلْقَى أَيْ عَقْرَى بِلُغَةٍ لَهُمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلَسْتِ قَدْ طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَارْكَبِي
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হায়িয ৩২৮, হাজ্জ ১৭৫৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২১১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০৩; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৩. যে মহিলা (তাওয়াফে) যিয়ারতের পরে হায়িযগ্রস্ত হয়ে পড়ে, (তার করণীয় কি)
১৯৫৪. (অপর সনদে) আয়িশা (রাঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1]
بَاب الْمَرْأَةِ تَحِيضُ بَعْدَ الزِّيَارَةِ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ بِنَحْوِهِ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৭৪. উলঙ্গ অবস্থায় কেউ বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতে পারবে না
১৯৫৫. যাইদ ইবন উসাই (রহঃ) হতে বর্নিত আছে, তিনি বলেন, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে আমি প্রশ্ন করলাম, কি বিষয় সহকারে আপনাকে (নবম হিজরীতে মক্কায় ঘোষণা দিতে) পাঠানো হয়েছিলো? তিনি বললেন, চারটি বিষয় (ঘোষনা করার জন্য)। মুসলিম ছাড়া আর কোন লোক জান্নাতে যাবেনা, কোন লোক উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করতে পারবেনা, এইখানে (কা’বা শরীফে) মুসলিম ও মুশরিকগন এই বছরের পর একত্রে হাজ্জ করতে পারবেনা এবং যেসব লোকের সাথে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চুক্তি আছে সেসব লোকের চুক্তি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে, কিন্তু যেসব লোকের কোন চুক্তি নেই, সেসব লোকের মেয়াদ (আজ হতে) চার মাস পর্যন্ত।[1] তিনি বলতেন, ইয়াওমুন নাহার বা কুরবানীর দিনের পর যিলহাজ্জ মাসের বিশ তারিখ হতে এ মেয়াদ শুরু হবে। এর চারমাস পর তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে।
بَاب لَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْبَزَّازُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ زَيْدِ بْنِ يُثَيْعٍ قَالَ سَأَلْنَا عَلِيًّا بِأَيِّ شَيْءٍ بُعِثْتَ قَالَ بُعِثْتُ بِأَرْبَعٍ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا نَفْسٌ مُؤْمِنَةٌ وَلَا يَطُوفُ بِالْبَيْتِ عُرْيَانٌ وَلَا يَجْتَمِعُ مُسْلِمٌ وَكَافِرٌ فِي الْحَجِّ بَعْدَ عَامِهِمْ هَذَا وَمَنْ كَانَ بَيْنَهُ وَبَيْنَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَهْدٌ فَعَهْدُهُ إِلَى مُدَّتِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ عَهْدٌ فَهِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ يَقُولُ بَعْدَ يَوْمِ النَّحْرِ أَجَلُهُمْ عِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ فَاقْتُلُوهُمْ بَعْدَ الْأَرْبَعَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৮; মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫২ তে। ((তিরমিযী, হাজ্জ ৮৭১-অনুবাদক।))
পরিচ্ছেদঃ ৭৫. বাইতুল্লাহ দৃষ্টিগোচর হলে হাত তুলবে না
১৯৫৬. মুহাজির (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, বায়তুল্লাহ্ নিকটবর্তী (দৃষ্টিগোচর) হলে (দু’আয়) হাত উত্তোলন করা সম্পর্কে জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করা হয়। জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কেবল ইয়াহুদীরা এরূপ করতো। আমরা রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে হজ্জ করেছি, কিন্তু আমরা এরূপ করেছি কি?[1]
بَاب إِذَا وَدَّعَ الْبَيْتَ لَا يَرْفَعُ يَدَيْهِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي أَبُو قَزَعَةَ قَالَ سَمِعْتُ مُهَاجِرًا يَقُولُ سُئِلَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ رَفْعِ الْأَيْدِي عِنْدَ الْبَيْتِ فَقَالَ إِنَّمَا كَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ الْيَهُودُ حَجَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفَصَنَعْنَا ذَاكَ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, মানাসিক ১৮৭০; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/৭৩; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৫৫; নাসাঈ, মানাসিক ৫/২১২; ইবনু আব্বাস হতেও এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে যয়ীফ সনদে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ২৬১৭, ৫৫৩০ তে।…..।
পরিচ্ছেদঃ ৭৬. মুসলিমের মর্যাদা সম্পর্কে
১৯৫৭. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, বিদায় হাজ্জে রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “লোকদেরকে চুপ করাও।” অতঃপর তিনি বলেন: “আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান মেরে (হত্যা করে) কাফির হয়ে পিছনে ফিরে যেও না।”[1]
بَاب فِي حُرْمَةِ الْمُسْلِمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَحَجَّاجٌ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ مُدْرِكٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا زُرْعَةَ يُحَدِّثُ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ اسْتَنْصَتَ النَّاسَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ ثُمَّ قَالَ لَا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ
তাখরীজ: বুখারী, ইলম ১২১; মুসলিম, ঈমান ৬৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৪০ তে। এছাড়াও: আবূ আওয়ানাহ ১/২৫; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ ১৫৫; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ২৫৫০।
আবূ সাঈদ খুদরী, হুজাইর রা: এর হাদীসগুলোও দেখুন, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৭১৩, ৫৭০৫ তে।…
পরিচ্ছেদঃ ৭৭. সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সা’ঈ করা প্রসঙ্গে
১৯৫৮. ইবনু আবী আওফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা ও মারওয়ার মধ্যবর্তী স্থানে সা’ঈ করলেন, তখন মক্কাবাসীদের কেউ যাতে তাঁর উপর পাথর কিংবা (বর্শা) আকারের কিছু নিক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্য আমরা তাঁকে আড়াল করে রাখছিলাম।[1]
بَاب فِي السَّعْيِ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ
أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ قَالَ وَسَمِعْتُ ابْنَ أَبِي أَوْفَى يَقُولُ سَعَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَنَحْنُ نَسْتُرُهُ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ أَنْ يُصِيبَهُ أَحَدٌ بِحَجَرٍ أَوْ بِرَمْيَةٍ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬০০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৪৩ মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৩৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. কিরান হজ্জ সম্পর্কে
১৯৫৯. মারওয়ান ইবনুল হাকাম হতে বর্ণিত। তিনি মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী (’উসফান নামক) স্থানে ’আলী ও ’উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট উপস্থিত ছিলেন। উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হাজ্জে তামাত্তু’ করতে নিষেধ করতেন। এরপর যখন ’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ অবস্থা দেখলেন, তখন তিনি হাজ্জ ও ’উমরাহ উভয়ের ইহরাম বাঁধেন এবং তিনি (’আলী) বললেন, আমি উমরাহ ও হাজ্জের জন্য একত্রে তালবিয়া পাঠ করলাম। এরপর তিনি ’উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে লক্ষ্য করে বললেন, আপনাকে আমি তা হতে বারণ করতে দেখছি, অথচ আপনি সেই কাজ করেছেন। এরপর তিনি (আলী) বললেন, আমি কোনো মানুষের কথায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত পরিত্যাগ করতে পারি না।[1]
بَاب فِي الْقِرَانِ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ الْحَكَمِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحُسَيْنِ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ الْحَكَمِ أَنَّهُ شَهِدَ عَلِيًّا وَعُثْمَانَ بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ وَعُثْمَانُ يَنْهَى عَنْ الْمُتْعَةِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عَلِيٌّ أَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا فَقَالَ لَبَّيْكَ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ مَعًا فَقَالَ تَرَانِي أَنْهَى عَنْهُ وَتَفْعَلُهُ فَقَالَ لَمْ أَكُنْ لِأَدَعَ سُنَّةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِ أَحَدٍ مِنْ النَّاسِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৬৯; মুসলিম, হাজ্জ ১২২৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৪২, ৩৪৯, ৪৩৪, ৬০৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. কিরান হজ্জ সম্পর্কে
১৯৬০. আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন: “আমি হাজ্জ ও ’উমরাহ উভয়ের জন্য একত্রে তালবিয়া পাঠ করছি।”[1]
بَاب فِي الْقِرَانِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ أَنَّهُ سَمِعَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَبَّيْكَ بِعُمْرَةٍ وَحَجٍّ
তাখরীজ: বুখারী, তাক্বসীরুস সালাত ১০৮৯; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৬৯০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৭৯৪, ২৮১১, ২৮১২, ৩০২৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৪৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৮. কিরান হজ্জ সম্পর্কে
১৯৬১. বাকর ইবনু আব্দুল্লাহ রাহি. হতে বর্ণিত, আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (হাজ্জ ও ’উমরাহ) এ উভয়ের জন্য একত্রে ইহরাম বেধেছেন। এরপর আমি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে আনাস রা: এর বক্তব্য জানালাম। তখন তিনি বললেন: তিনি শুধুমাত্র হাজ্জের ইহরাম বেধে ছিলেন।’ এরপর আমি আনাস রা: এর নিকট ফিরে এসে তাকে ইবনু উমার রা: এর বক্তব্য জানালাম। তখন তিনি বললেন: তাঁরা সবসময় আমাদেরকে শিশু-ই মনে করেন।[1]
بَاب فِي الْقِرَانِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ حَبِيبِ بْنِ الشَّهِيدِ عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَهَلَّ بِهِمَا جَمِيعًا فَلَقِيتُ ابْنَ عُمَرَ فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ أَنَسٍ فَقَالَ إِنَّمَا أَهَلَّ بِالْحَجِّ فَرَجَعْتُ إِلَى أَنَسٍ فَأَخْبَرْتُهُ بِقَوْلِ ابْنِ عُمَرَ فَقَالَ مَا يَعُدُّونَا إِلَّا صِبْيَانًا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পুনরাবৃত্তি। মুসলিম, হাজ্জ ১২২৩; আগের হাদীসটিও দেখুন। এর পূর্ণ তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৩৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭৯. সালাতের ওয়াক্ত ব্যতীত অন্য সময়ে তাওয়াফ করা
১৯৬২. জুবাইর ইবন মুতইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “হে বনী আবদ মানাফ! তোমরা যদি এ কাজের (হাজ্জের) ওয়ালী বা দায়িত্বশীল হয়ে থাকো, তবে কোনো লোককে রাত ও দিনের যেকোন সময় ইচ্ছা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং সালাত আদায় করতে বাধা দিওনা।”[1]
بَاب الطَّوَافِ فِي غَيْرِ وَقْتِ الصَّلَاةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهُ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ إِنْ وَلِيتُمْ هَذَا الْأَمْرَ فَلَا تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ أَوْ صَلَّى أَيَّ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৯৬, ৭৪১৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৫৫২, ১৫৫৩, ১৫৫৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৬২৬, ৬২৭, ৬২৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৭১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮০. দিনের বেলায় বাইতুল্লাহতে প্রবেশ করা সম্পর্কে
১৯৬৩. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’যি-তুয়া’[1] নামক স্থানে রাত্রি যাপণ করেছিলেন। যখন সকাল হলো, তারপর তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন। আর ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-ও এরূপ করতেন।[2]
بَاب فِي دُخُولِ الْبَيْتِ نَهَارًا
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَاتَ بِذِي طُوًى حَتَّى أَصْبَحَ ثُمَّ دَخَلَ مَكَّةَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَفْعَلُهُ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। এটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৫৩, ১৫৭৩, ১৫৭৪; মুসলিম, হাজ্জ ১২৫৯; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯০৮ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮১. যে রাস্তা দিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবে, সেই সম্পর্কে
১৯৬৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় প্রবেশ করতেন উচ্চভূমি দিয়ে এবং বের হতেন নিম্নভূমি দিয়ে।[1]
بَاب فِي أَيِّ طَرِيقٍ يَدْخُلُ مَكَّةَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ حَدَّثَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْخُلُ مَكَّةَ مِنْ الثَّنِيَّةِ الْعُلْيَا وَيَخْرُجُ مِنْ الثَّنِيَّةِ السُّفْلَى
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৭৭; মুসলিম, হাজ্জ ১২৫৭; আগের টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮২. কোনো ব্যক্তি কখন তালবিয়া পাঠ করবে
১৯৬৫. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন স্বীয় পা বাহনের পা-দানিতে (রিকাবে) রাখতেন এবং তাঁর জন্তুযান তাঁকে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যেতো, তখন তিনি যুল-হুলায়ফার মসজিদ হতে ইহরাম বাঁধেন।[1]
بَاب مَتَى يُهِلُّ الرَّجُلُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ خَالِدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَدْخَلَ رِجْلَهُ فِي الْغَرْزِ وَاسْتَوَتْ بِهِ نَاقَتُهُ أَهَلَّ مِنْ مَسْجِدِ ذِي الْحُلَيْفَةِ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৮৬৫- এর মূল রয়েছে ওযু ১৬৬ তেও; মুসলিম, হাজ্জ ১১৮৭ (২৭); আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭৬৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৬৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৩. মুহরিম ব্যক্তি চোখে অসুখ হলে কি করবে
১৯৬৬. আবান ইবনু উছমান রাহি. তার পিতা উছমান ইবন আফফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চক্ষু রোগে আক্রান্ত মুহরিম ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন: “ঘৃতকুমারী দিয়ে সেই দু’টিতে পট্টি বেধে দাও।”[1]
بَاب مَا يَصْنَعُ الْمُحْرِمُ إِذَا اشْتَكَى عَيْنَيْهِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ أَبِي خَلَفٍ قَالَا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَيُّوبَ بْنِ مُوسَى عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ قَالَ فِي الْمُحْرِمِ إِذَا اشْتَكَى عَيْنَيْهِ يَضْمِدُهَا بِالصَّبِرِ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১২০৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. তাওয়াফের পর (তাওয়াফকারী) ব্যক্তি কোথায় সালাত আদায় করবে
১৯৬৭. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসে (সাতবার) বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করেছেন, মাকামে ইবরাহীমের কাছে দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছেন এরপর সাফা (সা’ঈ করার) উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেছেন।[1]
بَاب أَيْنَ يُصَلِّي الرَّجُلُ بَعْدَ الطَّوَافِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ يَقُولُ قَدِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَصَلَّى عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّفَا
তাখরীজ: বুখারী, সালাত ৩৯৫, ৩৯৬; মুসলিম, হাজ্জ ১২৩৪; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬২৭, ৫৬২৯, ৫৬৩৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮০৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৪. তাওয়াফের পর (তাওয়াফকারী) ব্যক্তি কোথায় সালাত আদায় করবে
১৯৬৮. আইয়্যুব বলেন, … (অপর সনদে) ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এটিই সুন্নাত।[1]
بَاب أَيْنَ يُصَلِّي الرَّجُلُ بَعْدَ الطَّوَافِ
قَالَ شُعْبَةُ فَحَدَّثَنِي أَيُّوبُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ هِيَ السُّنَّةُ
তাখরীজ: আহমাদ ২/৮৫; আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬২৯। তাবারানী আগের হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেন, গুণদার তার হাদীসে অতিরিক্ত বলেন… আইয়্যুব বলেছেন’- বলে এ হাদীসটি উল্লেখ করেন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. বিদায়ী তাওয়াফ প্রসঙ্গে
১৯৬৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা বিভিন্ন দিকে ফিরে যাচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (লোকেদের) বললেন: “তাদের শেষ দায়িত্ব যেন হয় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা। তা না করা পর্যন্ত তাদের কেউ যেন ফিরে না যায়।[1]
بَاب فِي طَوَافِ الْوَدَاعِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ ابْنِ عُيَيْنَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ الْأَحْوَلِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ كَانَ النَّاسُ يَنْصَرِفُونَ فِي كُلِّ وَجْهٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْفِرَنَّ أَحَدٌ حَتَّى يَكُونَ آخِرُ عَهْدِهِ بِالْبَيْتِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৫৫; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪০৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৯৭ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. বিদায়ী তাওয়াফ প্রসঙ্গে
১৯৭০. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ঋতুমতী মহিলাদের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে যে, তাওয়াফে ইফাযা করার পর তারা ফিরে যেতে পারবে।[1]
بَاب فِي طَوَافِ الْوَدَاعِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ حَدَّثَنَا ابْنُ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ رُخِّصَ لِلْحَائِضِ أَنْ تَنْفِرَ إِذَا أَفَاضَتْ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭৬০, ১৭৬১; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৯৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫১২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. বিদায়ী তাওয়াফ প্রসঙ্গে
১৯৭১. তিনি (বর্ণনাকারী তাউস) বলেন, আমি ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে প্রথম বছরে বলতে শুনেছিলাম যে, সে (ঋতুমতী মহিলা) ফিরে যেতে পারবে না।’ এরপর আমি তাকে বলতে শুনলাম যে, সে (ঋতুমতী মহিলা) ফিরে যেতে পারবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে (ঋতুমতী মহিলাদেরকে) এর অনুমতি দিয়েছেন।[1]
بَاب فِي طَوَافِ الْوَدَاعِ
قَالَ وَسَمِعْتُ ابْنَ عُمَرَ عَامَ الْأَوَّلِ أَنَّهَا لَا تَنْفِرُ ثُمَّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ تَنْفِرُ إِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَخَّصَ لَهُنَّ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৯৯ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৫. বিদায়ী তাওয়াফ প্রসঙ্গে
১৯৭২. তাউস আল ইয়ামানী রাহি. হতে বর্ণিত, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বলতে শুনেছেন, যে সকল মহিলাগণ প্রস্থানের পূর্বে ঋতুমতী হলো, কিন্তু সে ইয়াওমুন নাহর বা কুরবানীর দিবসে তাওয়াফে ইফাযা করে নিয়েছে, -এমন মহিলাদের বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করা হতে বিরত থাকা প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মহিলাদের জন্য (এ ব্যাপারে) অনুমতির কথা বণর্না করেছেন। আর এটি ছিল আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর মৃত্যুর এক বছর পূর্বের ঘটনা।[1]
بَاب فِي طَوَافِ الْوَدَاعِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ يَقُولُ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي طَاوُسٌ الْيَمَانِيُّ أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ وَهُوَ يُسْأَلُ عَنْ حَبْسِ النِّسَاءِ عَنْ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ إِذَا حِضْنَ قَبْلَ النَّفْرِ وَقَدْ أَفَضْنَ يَوْمَ النَّحْرِ فَقَالَ إِنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَذْكُرُ رُخْصَةً لِلنِّسَاءِ وَذَلِكَ قَبْلَ مَوْتِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ بِعَامٍ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/২৩৫; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৪১৯৮ সহীহ সনদে। দেখুন, আয়িশার হাদীস বিগত ১৯৫৩ নং এ।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যে ব্যক্তি তার নিজ শহরে অবস্থান করে, অথচ তার হাদী (কুরবাণীর জন্তু) পাঠিয়ে দেয়, তার সম্পর্কে
১৯৭৩. মাসরুক্ব (রাহি.) হতে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা-কে বলেন, হে উম্মুল মু’মিনীন! কোনো এক ব্যক্তি তাদের মধ্যকার অপর এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার হাদী (কুরবানীর জন্তু পাঠিয়ে দেয়, এবং বলে, তুমি যখন অমুক অমুক স্থানে পৌছবে, তখন একে ’কিলাদা (কুরবানীর জন্তু হিসেবে পরিচিতিমুলক রশি) গলায় ঝুলিয়ে দেবে। এরপর যখন সে সেই স্থানে পৌছে গেলো, সে তখনও মুহরিম অবস্থা পরিত্যাগ করেনি, এমনকি লোকেরা হালাল (ইহরামমুক্ত) হয়ে গেলো। তিনি বলেন, এরপর পর্দার আড়াল হতে তার হাত দিয়ে (রশি পাকানোর মতো) শব্দ আমি শুনতে পেলাম। আর তিনি বললেন: আমি নিজ হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি কা’বার উদ্দেশ্যে হাদী পাঠিয়ে দিতেন (অথচ তিনি পরিবারের মাঝে অবস্থান করতেন)। আর কোনো লোকের জন্য তার পরিবারের সাথে যা হালাল হয়ে থাকে, তিনি এমন কোন বিষয় নিজের উপর হারাম করতেন না, যতক্ষণ লোকেরা ফিরে না আসে।[1]
بَاب فِي الَّذِي يَبْعَثُ بِهَدْيِهِ وَهُوَ مُقِيمٌ فِي بَلَدِهِ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ يَعْنِي ابْنَ أَبِي خَالِدٍ عَنْ عَامِرٍ عَنْ مَسْرُوقٍ أَنَّهُ قَالَ لِعَائِشَةَ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ رِجَالًا يَبْعَثُ أَحَدُهُمْ بِالْهَدْيِ مَعَ الرَّجُلِ فَيَقُولُ إِذَا بَلَغْتَ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَقَلِّدْهُ فَإِذَا بَلَغَ ذَلِكَ الْمَكَانَ لَمْ يَزَلْ مُحْرِمًا حَتَّى يَحِلَّ النَّاسُ قَالَ فَسَمِعْتُ صَفْقَتَهَا بِيَدِهَا مِنْ وَرَاءِ الْحِجَابِ وَقَالَتْ لَقَدْ كُنْتُ أَفْتِلُ الْقَلَائِدَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْعَثُ بِالْهَدْيِ إِلَى الْكَعْبَةِ مَا يَحْرُمُ عَلَيْهِ شَيْءٌ مِمَّا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ مِنْ أَهْلِهِ حَتَّى يَرْجِعَ النَّاسُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৯৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৫৮, ৪৬৫৯, ৪৮৫২, ৪৮৫৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০০৯, ৪০১০, ৪০১১, ৪০১২, ৪০১৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৬. যে ব্যক্তি তার নিজ শহরে অবস্থান করে, অথচ তার হাদী (কুরবাণীর জন্তু) পাঠিয়ে দেয়, তার সম্পর্কে
১৯৭৪. ’আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কুরবানীর (হাদী) পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাঁর হাদী (কুরবানীর পশু) কে কিলাদা পরিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তিনি মদীনায় অবস্থান করেন। আর তাঁর কুরবানীর পশু যবেহ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো কিছু হতে বিরত হননি।’[1]
بَاب فِي الَّذِي يَبْعَثُ بِهَدْيِهِ وَهُوَ مُقِيمٌ فِي بَلَدِهِ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ وَعَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ كُنْتُ أَفْتِلُ قَلَائِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَبْعَثُ بِهَدْيِهِ مُقَلَّدَةً وَيُقِيمُ بِالْمَدِينَةِ وَلَا يَجْتَنِبُ شَيْئًا حَتَّى يُنْحَرَ هَدْيُهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের অংশবিশেষ। সেখানে এর তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৮৭. মিনায় কোনো কিছু নির্মাণ করা মাকরূহ (অপছন্দনীয়) হওয়া প্রসঙ্গে
১৯৭৫. ’আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আমরা মিনায় আপনার জন্য কি একটি ঘর বানিয়ে দেব না, যা আপনাকে ছায়া দান করবে? তিনি বললেন, না। যিনি মিনায় যে স্থানে আগে পৌঁছাবে সেটিই হবে তার অবস্থানস্থল।”[1]
بَاب كَرَاهِيَةِ الْبُنْيَانِ بِمِنًى
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُهَاجِرٍ عَنْ يُوسُفَ بْنِ مَاهَكَ عَنْ أُمِّهِ مُسَيْكَةَ وَأَثْنَى عَلَيْهَا خَيْرًا عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَا نَبْنِي لَكَ بِمِنًى بِنَاءً يُظِلُّكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا مِنًى مُنَاخُ مَنْ سَبَقَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫১৯ তে। ((আহমাদ ৬/২০৬-২০৭; তিরমিযী, হাজ্জ ৮৮১; ইবনু মাজাহ, মানাসিক ৩০০৬, ৩০০৭; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ ৪/২৮৪ নং ২৮৯১; আবূ দাউদ, মানাসিক ২০১৯; বাইহাকী, হাজ্জ ৫/১৩৯; হাকিম ১/৪৬৬-৪৬৭-৪৬৮। তিনি একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তাকে সমর্থন করেছেন। তবে তা মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ নয়। কারণ, বর্ণনাকারীনী মুসাইকাহ হতে মুসলিম কোনো হাদীস বর্ণনা করেননি।
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. হজ্জ বা উমরার ইহরাম ব্যতীতই মক্কায় প্রবেশ করা সম্পর্কে
১৯৭৬. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত যে, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লৌহ শিরস্ত্রাণ পরিহিত অবস্থায় (মক্কা) প্রবেশ করেছিলেন। যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিরস্ত্রাণটি মাথা হতে খুললেন, তখন এক ব্যক্তি এসে তাঁকে বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! এ হলো ইবনু খাতল, সে কা’বার গিলাফ ধরে আছে। তিনি বললেনঃ “তাকে তোমরা হত্যা কর।”[1]
আব্দুল্লাহ ইবনু খালিদ বলেন: মালিকের নিকট পাঠ করা হলো: তিনি বলেন: ইবনু শিহাব যুহুরী বলেছেন যে, আর সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম ছিলেন না।[2]
بَاب فِي دُخُولِ مَكَّةَ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ بِغَيْرِ حَجٍّ وَلَا عُمْرَةٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلَى رَأْسِهِ مِغْفَرٌ فَلَمَّا نَزَعَهُ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا ابْنُ خَطَلٍ مُتَعَلِّقٌ بِأَسْتَارِ الْكَعْبَةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اقْتُلُوهُ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ خَالِدٍ وَقُرِئَ عَلَى مَالِكٍ قَالَ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَلَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَئِذٍ مُحْرِمًا
তাখরীজ: মালিক, হাজ্জ ২৫৬; বুখারী, হাজ্জ ১৮৪৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৫৩৯, ৩৫৪০, ৩৫৪১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭১৯, ৩৭২১ তে।
[2] মালিকের মুয়াত্তায় পুর্বের হাদীসটি বর্ণনার পরে রয়েছে: মালিক বলেছেন, আর সেদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম ছিলেন না। আল্লাহই ভাল জানেন।’
পরিচ্ছেদঃ ৮৮. হজ্জ বা উমরার ইহরাম ব্যতীতই মক্কায় প্রবেশ করা সম্পর্কে
১৯৭৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের প্রাক্কালে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হাজ্জ বা উমরার) ইহরাম ব্যতীতই মক্কায় প্রবেশ করেন, তখন তাঁর মাথায় কালো রংয়ের শিরস্ত্রাণ ছিল।[1] ইসমাঈল বলেন, তিনি এটি আবী যুবাইর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে শুনেছেন। আর তিনি তার পিতার সাথে ছিলেন।
بَاب فِي دُخُولِ مَكَّةَ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ بِغَيْرِ حَجٍّ وَلَا عُمْرَةٍ
أَخْبَرَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمَّارٍ الدُّهْنِيُّ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ دَخَلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَكَّةَ حِينَ افْتَتَحَهَا وَعَلَيْهِ عِمَامَةٌ سَوْدَاءُ بِغَيْرِ إِحْرَامٍ قَالَ إِسْمَعِيلُ سَمِعَهُ مِنْ أَبِي الزُّبَيْرِ كَانَ مَعَ أَبِيهِ
তাখরীজ: মুসলিম, হাজ্জ ১৩৫৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১৪৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৭২২, ৫৪২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮৯. কুরবানীর পশুর গোশত হতে কসাইকে কোনো কিছুই প্রদান করা যাবে না
১৯৭৮. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নির্দেশ দেন তাঁর নিজের কুরবানীর জানোয়ারের পাশে দাঁড়াতে আর এগুলোর গোশ্ত, চামড়া এবং জিনসমূহ সহ সবকিছু বিতরণ করে দিতে এবং তা হতে কসাইকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছুই না দিতে।[1]
بَاب لَا يُعْطَى الْجَازِرُ مِنْ الْبُدْنِ شَيْئًا
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي الْحَسَنُ بْنُ مُسْلِمٍ وَعَبْدُ الْكَرِيمِ الْجَزَرِيُّ أَنَّ مُجَاهِدًا أَخْبَرَهُمَا أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ أَبِي لَيْلَى أَخْبَرَهُ أَنَّ عَلِيًّا أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَنْ يَقُومَ عَلَى بُدْنِهِ وَأَنْ يَقْسِمَ بُدْنَهُ كُلَّهَا لُحُومَهَا وَجُلُودَهَا وَجِلَالَهَا وَلَا يُعْطِيَ فِي جِزَارَتِهَا مِنْهَا شَيْئًا
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৭১৬; মুসলিম, হাজ্জ ১৩১৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৯, ২৯৮ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯০. (মুহরিম অবস্থায়) ‘যবুউ’ (বেজী বা খাটাশ জাতীয় একটি প্রাণী) শিকার করলে তার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে
১৯৭৯. জাবির ইবনু আবদিল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে ’যবুউ’ (বেজী বা খাটাশ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তিনি বলেনঃ এটা তো শিকার মাত্র। ইহরাম অবস্থায় থাকাকালে কেউ যদি একে শিকার করে, তবে এর বদলে একটি মেষ বা দুম্বা কুরবানী করতে হবে।”[1]
بَاب فِي جَزَاءِ الضَّبُعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ جَابِرٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الضَّبُعِ فَقَالَ هُوَ صَيْدٌ وَفِيهِ كَبْشٌ إِذَا أَصَابَهُ الْمُحْرِمُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২১২৭, ২১৫৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬৪, ৩৯৬৫ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন ৯৭৯, ১০৬৮ তে। ((আবূ দাউদ, আত’আমাহ ৩৮০১; তিরমিযী, আত’আমাহ ১৭৯২; নাসাঈ, সাইদ ৭/২০০- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৯৪১ এর টীকা দ্র:-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৯০. (মুহরিম অবস্থায়) ‘যবুউ’ (বেজী বা খাটাশ জাতীয় একটি প্রাণী) শিকার করলে তার ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে
১৯৮০. আব্দুর রহমান ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনু আবূ ’আম্মার রাহি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ’যবুউ’ (বেজী বা খাটাশ) খাওয়া সম্পর্কে যে, আমরা কি তা খাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, তা কি কোনো শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, আপনি কি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।[1] আবূ মুহাম্মদকে বলা হলো, ’যবউ’ খাওয়া সম্পর্কে আপনার মত কি? তিনি বললেন, আপনি তা খাওয়া অপছন্দ করি।
بَاب فِي جَزَاءِ الضَّبُعِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ الضَّبُعِ آكُلُهُ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ هُوَ صَيْدٌ قَالَ نَعَمْ قُلْتُ سَمِعْتَهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ نَعَمْ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ مَا تَقُولُ فِي الضَّبُعِ تَأْكُلُهُ قَالَ أَنَا أَكْرَهُ أَكْلَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৯৬৫ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন ১০৬৮ তে। এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
এছাড়াও: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/৩৭০, ৩৭১; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১৯২১৬; তিরমিযী বলেন, আমি এটি সম্পর্কে ইমাম বুখারী কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি একে সহীহ বলেছেন। বাইহাকী বলেন, এটি উত্তম (জাইয়্যেদ) হাদীস যার দ্বারা হুজ্জাত (দলীল) সাব্যস্ত হয়।’ আব্দুল হা্ক্ব ও একে সহীহ বলেছেন। দেখুন, মা’রিফাহ ১৪/৮৭-৮৮।...
পরিচ্ছেদঃ ৯১. যে ব্যক্তি ওযরের কারণে মিনায় অবস্থানকালীন রাতসমূহ মক্কায় কাটালো- তার সম্পর্কে
১৯৮১. ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’আব্বাস ইবনু ’আবদুল মুত্তালিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে মিনায় অবস্থানের রাতগুলো মক্কায় কাটানোর অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দেন।[1]
بَاب فِيمَنْ يَبِيتُ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ عِلَّةٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ الْعَّبَاسَ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ اسْتَأْذَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيَبِيتَ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ أَجْلِ سِقَايَتِهِ فَأَذِنَ لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৬৩৪, আংশিক ১৭৪৩, ১৭৪৪, ১৭৪৫; মুসলিম, হাজ্জ ১৩১৫; বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান নং ১০২৪৭; শাফিঈ, আল মুসনাদ পৃ: ৩৭৩। আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৮৮৯, ৩৮৯০, ৩৮৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯১. যে ব্যক্তি ওযরের কারণে মিনায় অবস্থানকালীন রাতসমূহ মক্কায় কাটালো- তার সম্পর্কে
১৯৮২. উবাইদুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِيمَنْ يَبِيتُ بِمَكَّةَ لَيَالِيَ مِنًى مِنْ عِلَّةٍ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الْمُغِيرَةِ عَنْ عِيسَى بْنِ يُونُسَ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।