পরিচ্ছেদঃ ১. কুরবানী বিষয়ক সুন্নাত (পদ্ধতি)
১৯৮৩. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদা বর্ণের মধ্যে কিঞ্চিৎ কালো বর্ণ মিশ্রিত শিং ওয়ালা দুটি মেষ কুরবানী করেছেন। এ সময় তিনি বিসমিল্লাহ ও আল্লাহ আকবর বলেছেন। আমি তাঁকে নিজ হাতে সে দু’টি যবেহ করতে দেখেছি। সে সময় তিনি তাঁর পা পশু দু’টির পার্শ্বদেশে রেখেছিলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি তার কথা শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ।[1]
بَاب السُّنَّةِ فِي الْأُضْحِيَّةِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ أَمْلَحَيْنِ أَقْرَنَيْنِ وَيُسَمِّي وَيُكَبِّرُ لَقَدْ رَأَيْتُهُ يَذْبَحُهُمَا بِيَدِهِ وَاضِعًا عَلَى صِفَاحِهِمَا قَدَمَهُ قُلْتُ أَنْتَ سَمِعْتَهُ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৫১, আযাহী ৫৫৮; মুসলিম, আযাহী ১৯৬৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮০৬, ২৮৫৯, ২৮৭৭, ২৯৭৪, ৩০৭৬, ৩১৩৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯০০, ৫৯০১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১. কুরবানী বিষয়ক সুন্নাত (পদ্ধতি)
১৯৮৪. জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন দু’টি মেষ যবেহ করেন। তিনি পশু দু’টিকে কিবলামুখী করার সময় বলেনঃ ’’ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাযী ফাতারাস সামাওয়াতি ওয়াল-আরদা হানীফাঁও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না সালাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহইয়ায়া ও মামাতী লিল্লাহি রবিবল আলামীন। লা শারীকা লাহু ওয়া বিযালিকা উমিরতু ওয়া আনা আওওয়ালুল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা (হাযা) মিনকা ওয়া লাকা আন মুহাম্মাদিন ওয়া উম্মাতিহি।’’
’’আমি একনিষ্ঠভাবে তাঁর দিকে মুখ ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই (সূরা আনআমঃ ৭৯)। আমার নামায, আমার ইবাদত (কুরবানী), আমার জীবন, আমার মৃত্যু বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তাঁর কোন শরীক নাই এবং আমি তাই আদিষ্ট হয়েছি এবং আত্মসমপর্ণকারীদের মধ্যে আমিই প্রথম। (সূরা আনআমঃ ১৬২-৩)। হে আল্লাহ! তোমার নিকট থেকেই প্রাপ্ত এবং তোমার জন্যই উৎসগির্ত। অতএব তা মুহাম্মাদ ও তাঁর উম্মাতের পক্ষ থেকে কবুল করো।”এরপর তিনি আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ’) ও আল্লাহু আকবার বলে যবেহ করেন।[1]
بَاب السُّنَّةِ فِي الْأُضْحِيَّةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ أَبِي عَيَّاشٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ ضَحَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِكَبْشَيْنِ فِي يَوْمِ الْعِيدِ فَقَالَ حِينَ وَجَّهَهُمَا إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَا مِنْ الْمُشْرِكِينَ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ لَا شَرِيكَ لَهُ وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ اللَّهُمَّ إِنَّ هَذَا مِنْكَ وَلَكَ عَنْ مُحَمَّدٍ وَأُمَّتِهِ ثُمَّ سَمَّى اللَّهَ وَكَبَّرَ وَذَبَحَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও শাহিদ হাদীসসমূহ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৯২ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬০৪৭ তে। ((তিরমিযী ১৫২১, আবূ দাউদ ২৭৯৫, ২৮১০; ইবনু মাজাহ ৩১২১, আহমাদ ১৪৪২৩, ১৪৪৭৭, ১৪৬০৪ তে।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী নং ১৯৪৬ এর টীকা হতে। -অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২. নাবী (ﷺ) এর যে হাদীস হতে দলীল যে, কুরবানী করা ওয়াজিব নয়
১৯৮৫. উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এবং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে, যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশকে সে যেন তার নখ ও চুল থেকে কোনকিছুই না কাটে।”[1]
بَاب مَا يُسْتَدَلُّ مِنْ حَدِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الْأُضْحِيَّةَ لَيْسَ بِوَاجِبٍ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي خَالِدٌ يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ حَدَّثَنِي سَعِيدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي هِلَالٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ الْمُسَيَّبِ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ أَخْبَرَتْهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يُقَلِّمْ أَظْفَارَهُ وَلَا يَحْلِقْ شَيْئًا مِنْ شَعْرِهِ فِي الْعَشْرِ الْأُوَلِ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ
তাখরীজ: মুসলিম, আযাহী ১৯৭৭; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯১০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৯৭ এবং মুসনাদুল হুমাইদী ২৯৫ তে। পরের হাদীসটিও দেখুন। ((আবূ দাউদ, আযাহী ২৭৯১; তিরমিযী, আযাহী ১৫২৩; নাসাঈ, সাইদ ৭/২১১-২১২; ইবনু মাজাহ, আযাহী ৩১৪৯-৩১৫০।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৯৪৭ এর টীকা দ্র:-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২. নাবী (ﷺ) এর যে হাদীস হতে দলীল যে, কুরবানী করা ওয়াজিব নয়
১৯৮৬. (অপর সূত্রে) উম্মু সালামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশক শুরু হয় এবং তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা রাখে, সে যেন তার চুল ও শরীরের কোন অংশ স্পর্শ না করে (না কাটে)।”[1]
بَاب مَا يُسْتَدَلُّ مِنْ حَدِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّ الْأُضْحِيَّةَ لَيْسَ بِوَاجِبٍ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا دَخَلَتْ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلَا يَمَسَّ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا أَظْفَارِهِ شَيْئًا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কুরবানীতে যা জায়েয নয়
১৯৮৭. বারাআ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে ধরণের পশু কোরবানী করা পরিহারযোগ্য সেই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাস করা হলো। তিনি বললেন, (চার প্রকারের পশু কোরবানী করলে তা যথেষ্ট হবে না:) “এক চোখ অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার পঙ্গুত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন পশু যার রোগ সুস্পষ্ট, এবং কৃশকায় দুর্বল পশু, যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।”[1]
بَاب مَا لَا يَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا يُتَّقَى مِنْ الضَّحَايَا قَالَ الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْعَجْفَاءُ الَّتِي لَا تُنْقِي
তাখরীজ: মালিক, যাহাইয়া, ১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯১৯, ৫৯২০, ৫৯২২ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন ১০৪৬, ১০৪৭ তে। ((আবূ দাউদ, আযাহী ২৮০২; তিরমিযী, আযাহী ১৪৯৭; নাসাঈ, সাইদ ৭/২১৪-২১৫; ইবনু মাজাহ, আযাহী ৩১৪৪।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৯৪৯ এর টীকা দ্র:-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩. কুরবানীতে যা জায়েয নয়
১৯৮৮. উবাইদ ইবনে ফাইরূয রাহি. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে ধরনের পশু কোরবানী করতে নিষেধ করেছেন, আমি বারাআ ইবনু আযিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে সেই সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলেন: “চার প্রকারের পশু কোরবানী করলে তা যথেষ্ট হবে না। অন্ধ পশু যার অন্ধত্ব সুস্পষ্ট, খোঁড়া পশু যার পঙ্গুত্ব সুস্পষ্ট, রুগ্ন পশু যার রোগ সুস্পষ্ট এবং কৃশকায় দুর্বল পশু যার হাড়ের মজ্জা শুকিয়ে গেছে।” উবাইদ রাহি. বলেন, আমি দাঁত ভাঙা, ত্রুটিযুক্ত কানবিশিষ্ট ও শিং ভাঙা পশু কোরবানী করা অপছন্দ করি। বারাআ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যে ধরনের পশু তুমি নিজে অপছন্দ করো তা পরিহার করো, কিন্তু অন্যদের জন্য তা হারাম করো না।[1]
بَاب مَا لَا يَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ فَيْرُوزَ قَالَ سَأَلْتُ الْبَرَاءَ عَمَّا نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ الْأَضَاحِيِّ فَقَالَ أَرْبَعٌ لَا يُجْزِئْنَ الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا وَالْكَسِيرُ الَّتِي لَا تُنْقِي قَالَ قُلْتُ لِلْبَرَاءِ فَإِنِّي أَكْرَهُ أَنْ يَكُونَ فِي السِّنِّ نَقْصٌ وَفِي الْأُذُنِ نَقْصٌ وَفِي الْقَرْنِ نَقْصٌ قَالَ فَمَا كَرِهْتَ فَدَعْهُ وَلَا تُحَرِّمْهُ عَلَى أَحَدٍ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৩. কুরবানীতে যা জায়েয নয়
১৯৮৯. হুজাইয়া ইবনু আদী রাহি. বলেন, এক ব্যক্তি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করেন। লোকটি বলেন, হে আমীরুল মু’মিনীন! গরুর (ব্যাপারে আপনার মত কি)? তিনি বলেন, (গরু) সাতজনের পক্ষ হতে (কুরবানী করা যায়)। আমি বললাম, আর শিং (ভাঙা হলে)? আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আমি বললাম, আর খোঁড়া বা খঞ্জ (পশু হলে)? তিনি বললেন, যদি সেটি কুরবানীর স্থানে পৌঁছে যায় (তবে কুরবানী করে দেবে)। এরপর তিনি (’আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (কোরবানীর পশুর) চোখ ও কান উত্তমরূপে পরীক্ষা করে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
بَاب مَا لَا يَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ قَالَ سَمِعْتُ حُجَيَّةَ بْنَ عَدِيٍّ قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا وَسَأَلَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ الْبَقَرَةُ فَقَالَ عَنْ سَبْعَةٍ قُلْتُ الْقَرْنُ قَالَ لَا يَضُرُّكَ قَالَ قُلْتُ الْعَرَجُ قَالَ إِذَا بَلَغَتْ الْمَنْسَكَ ثُمَّ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদ হাদীসসমূহ উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৩৩, ৬১৫ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯২০, ...তে। ((তিরমিযী, আযাহী ১৪৯৮; নাসাঈ, আযাহী ২/২১৭; ইবনু মাজাহ, আযাহী ৩১৪৩; হাকিম, মুসতাদরাক ১/৪৬৮, ৪/২২৪-২২৫।- ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৯৫১ এর টীকা দ্র:-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩. কুরবানীতে যা জায়েয নয়
১৯৯০. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আদেশ করেছেন, আমরা যেন (কুরবানী পশুর) চোখ ও কান ভালরূপে দেখে নেই। আর আমরা যেন এমন পশু কুরবানী না করি যা কানা, যার কানের একদিক কাটা, যার কানের গোড়া কাটা এবং ফাঁড়া কান ওয়ালা এবং কান উৎপাটিত। আর ’মুকাবালা’ হল যে পশুর (সামনের দিকে) কানের এক পাশ কাটা, ’মুদাবারা’ হল যে পশুর (পিছনের দিকে) কানের এক পাশ কাটা, ’খারকা’ হল যে পশুর কানে ছিদ্র আছে, ’শারকা’ হল যে পশুর লম্বালম্বিভাবে কান ছেঁড়া।[1]
بَاب مَا لَا يَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ شُرَيْحِ بْنِ النُّعْمَانِ الصَّائِدِيِّ عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَسْتَشْرِفَ الْعَيْنَ وَالْأُذُنَ وَأَنْ لَا نُضَحِّيَ بِمُقَابَلَةٍ وَلَا مُدَابَرَةٍ وَلَا خَرْقَاءَ وَلَا شَرْقَاءَ فَالْمُقَابَلَةُ مَا قُطِعَ طَرَفُ أُذُنِهَا وَالْمُدَابَرَةُ مَا قُطِعَ مِنْ جَانِبِ الْأُذُنِ وَالْخَرْقَاءُ الْمَثْقُوبَةُ وَالشَّرْقَاءُ الْمَشْقُوقَةُ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসের পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৪. যে সকল পশু কুরবানী করা জায়িয
১৯৯১. উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের মধ্যে কয়েকটি কুরবানীর পশু বন্টন করেন। তখন আমার ভাগে একটি (সাত বা ছয় মাস বয়সী) বাচ্চা পড়লো। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার ভাগে একটি (সাত বা ছয় মাস বয়সী) বাচ্চা পড়েছে। তখন তিনি বললেন: “তুমি ওটাকে কুরবানী করে দাও।”[1]
بَاب مَا يُجْزِئُ مِنْ الضَّحَايَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ بَعْجَةَ الْجُهَنِيِّ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ الْجُهَنِيِّ قَالَ قَسَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحَايَا بَيْنَ أَصْحَابِهِ فَأَصَابَنِي جَذَعٌ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا صَارَتْ لِي جَذَعَةٌ فَقَالَ ضَحِّ بِهَا
তাখরীজ: বুখারী,ওয়াকালাহ ২৩০০,; মুসলিম, আযাহী ১৯৬৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৫৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪. যে সকল পশু কুরবানী করা জায়িয
১৯৯২. (অপর সনদে) উকবা ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের মধ্যে কুরবানীর উদ্দেশ্যে বন্টনের জন্য তাকে কিছু ছাগল দিয়েছিলেন। শেষে এগুলোর মধ্যে একটি ’আতুদ’ অবশিষ্ট রয়ে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এই কথা উল্লেখ করলে তিনি বললেন: এটিকে তুমিই কুরবানী দিয়ে দাও। [1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’আতুদ’ হলো ছাগলের (ছয়-সাত মাস বয়সী) বাচ্চা।
بَاب مَا يُجْزِئُ مِنْ الضَّحَايَا
أخبرنا أبو الوليد حدثنا الليث حدثني يزيد بن أبي حبيب عن أبي الخير عن عقبة بن عامر قال أعطاني رسول الله صلى الله عليه وسلم غنما أقسمها على أصحابه فقسمتها وبقي منها عتود فذكرت ذلك لرسول الله صلى الله عليه وسلم فقال ضح به قال أبو محمد العتود الجذع من المعز
তাখরীজ: বুখারী,ওয়াকালাহ ২৩০০। এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ৫. উট সাত জনের পক্ষ হতে এবং গরুও সাতজনের পক্ষ হতে (কুরবানী করা)
১৯৯৩. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা হুদাইবিয়ার (সন্ধির) বছর সত্তরটি উট কুরবানী করেছি। একটি উট সাতজনের পক্ষ হতে। তখন রাসূলূল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: তোমরা কুরবানীর পশুতে শরীক হও।[1]
بَاب الْبَدَنَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَالَ نَحَرْنَا يَوْمَ الْحُدَيْبِيَةِ سَبْعِينَ بَدَنَةً الْبَدَنَةُ عَنْ سَبْعَةٍ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اشْتَرِكُوا فِي الْهَدْيِ
তাখরীজ: মুসলিম, আযাহী ১৩১৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৩৪, ২১৫০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪০০৪, ৪০০৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. উট সাত জনের পক্ষ হতে এবং গরুও সাতজনের পক্ষ হতে (কুরবানী করা)
১৯৯৪. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাতজনের পক্ষ হতে একটি গরু কুরবানী করেছি।[1]
بَاب الْبَدَنَةُ عَنْ سَبْعَةٍ وَالْبَقَرَةُ عَنْ سَبْعَةٍ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَحَرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْبَقَرَةَ عَنْ سَبْعَةٍ
তাখরীজ: মালিক, যাহাইয়া (৯); মুসলিম, হাজ্জ ১৩১৮;
পূর্ণ তাখরীজের জন্য পূর্বের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কুরবানীর গোশত সম্পর্কে
১৯৯৫. ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (কুরবানীর) তিনদিনের পরে কুরবানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন অথবা, তিনি বলেছেন: তোমরা তিন দিনের পরে কুরবানীর মাংস খেও না।[1]
بَاب فِي لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ أَوْ قَالَ لَا تَأْكُلُوا لُحُومَ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَ ثَلَاثٍ
তাখরীজ: বুখারী, আযাহী ৫৫৭৪,; মুসলিম, আযাহী ১৯৭০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯২৩, ৫৯২৪, ৫৯২৭ তে। অতিরিক্ত সংযোজন: এছাড়াও ইবনু শাহিন, নাসিখ ওয়াল মানসূখ নং ৫২২, ৫২৩; ইবনু আবী শাইবা৪/৫৭; দেখুন, এর নিষেধাজ্ঞা ও এর খাওয়া মুবাহ হওয়ার বিষয়ে জানার জন্য আবী সাঈদ খুদরীর হাদীস যার উপর আমরা টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৯৭ তে। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি ও বাইহাকী, আল মা’রিফাহ ১৪/৫৪-৫৮।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কুরবানীর গোশত সম্পর্কে
১৯৯৬. নূবায়শা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ “আমি তিনদিনের বেশী কুরবানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছিলাম যাতে তোমাদের (রিযিকে) প্রশস্ততা লাভ করতে পারো। কিন্তু এখন তো আল্লাহ প্রশস্ততা দান করেছেন। অতএব এখন তোমরা খাও, জমা করে রাখ এবং দান কর।”[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’ওয়াত্তাজিরূ’ তথা ’(আল্লাহর উদ্দেশ্যে দানের মাধ্যমে) ব্যবসা কর’ অর্থ: ’এর মাধ্যমে তোমরা সাওয়াব অনুসন্ধান করো।’
بَاب فِي لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ عَنْ خَالِدٍ هُوَ ابْنُ عَبْدِ اللَّهِ الطَّحَّانُ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ نُبَيْشَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّا كُنَّا نَهَيْنَاكُمْ عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ أَنْ تَأْكُلُوهَا فَوْقَ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ كَيْ تَسَعَكُمْ فَقَدْ جَاءَ اللَّهُ بِالسَّعَةِ فَكُلُوا وَادَّخِرُوا وَاتَّجِرُوا قَالَ أَبُو مُحَمَّد اتَّجِرُوا اطْلُبُوا فِيهِ الْأَجْرَ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ৪/১৮৬; আহমাদ ৫/৭৬; নাসাঈ, কুবরা নং ৪৫৫৬; আবূ দাউদ, আযাহী ২৮১৩; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ৩/২১৬-২১৭; ইবনু মাজাহ, আযাহী ৩১৬০; ইবনু আবী আসিম, আল আহাদ ওয়াল মাছানী নং ১০৭১।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কুরবানীর গোশত সম্পর্কে
১৯৯৭. ’আইশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর মাংস তিন দিনের অধিক সময় (খেতে বা সঞ্চিত রাখতে) নিষেধ করেছিলেন। ’আইশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেনঃ এরপর পরবর্তী বছর এলে লোকেরা কুরবানী করতে লাগলো। তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! এ কুরবানীর (মাংসের) ব্যাপারে লোকদের সাথে যদি একটু কোমল আচরণ করা যেতো, তবে তারা এর মাংস এর মাংস ও চর্বি দ্বারা জমা করে রাখতে পারতো। তখন রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আজকে কোন্ জিনিস তাদেরকে এ কাজ থেকে বিরত রাখছে? আমি বললামঃ ইয়া নবীয়াল্লাহ! প্রথম বছরে কি আপনি তাদেরকে তিনদিনের বেশী কুরবানীর মাংস খেতে নিষেধ করেননি? তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ অমি তো বেদুঈনদের দুরবস্হা দেখে তোমাদেরকে নিষেধ করেছিলাম, যাতে এর মাংস তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়। কিন্তু এখন তোমরা খেতে পার, আবার জমাও করে রাখতে পার।”[1]
بَاب فِي لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرَّقَاشِيُّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ نَهَى عَنْ لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ بَعْدَ ثَلَاثٍ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْقَابِلُ وَضَحَّى النَّاسُ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنْ كَانَتْ هَذِهِ الْأَضَاحِيُّ لَتَرْفُقُ بِالنَّاسِ كَانُوا يَدَّخِرُونَ مِنْ لُحُومِهَا وَوَدَكِهَا قَالَ فَمَا يَمْنَعُهُمْ مِنْ ذَلِكَ الْيَوْمَ قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ أَوَ لَمْ تَنْهَهُمْ عَامَ أَوَّلَ عَنْ أَنْ يَأْكُلُوا لُحُومَهَا فَوْقَ ثَلَاثٍ فَقَالَ إِنَّمَا نَهَيْتُ عَنْ ذَلِكَ لِلْحَاضِرَةِ الَّتِي حَضَرَتْهُمْ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ لِيَنُثُّوا لُحُومَهَا فِيهِمْ فَأَمَّا الْآنَ فَلْيَأْكُلُوا وَلْيَدَّخِرُوا
তাখরীজ: বুখারী, আযাহী ৫৪২৩,; মুসলিম, আযাহী ১৯৭১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯২৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কুরবানীর গোশত সম্পর্কে
১৯৯৮. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুক্তদাস সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মিনায় থাকা অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ এ মাংস ভালভাবে সংরক্ষণ করে রাখো।” আমি তাঁর জন্য তা ভাল করে রেখে দিলাম। আমরা মদীনায় পৌছা পর্যন্ত তিনি এ মাংস খেতে থাকেন।[1]
بَاب فِي لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْوَلِيدِ الزَّبِيدِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ سَمِعَ ثَوْبَانَ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَنَحْنُ بِمِنًى أَصْلِحْ لَنَا مِنْ هَذَا اللَّحْمِ فَأَصْلَحْتُ لَهُ مِنْهُ فَلَمْ يَزَلْ يَأْكُلُ مِنْهُ حَتَّى بَلَغْنَا الْمَدِينَةَ
তাখরীজ: মুসলিম, আযাহী ১৯৭৫; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ৩/২১৮-২১৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৩২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬. কুরবানীর গোশত সম্পর্কে
১৯৯৯. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ, আমরা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে মক্কা হতে মদীনায় সফরে (কুরবানীর গোশত) পাথেয় হিসাবে ব্যবহার করতাম। আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: কুরবানীর মাংস।[1]
بَاب فِي لُحُومِ الْأَضَاحِيِّ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا يَقُولُ إِنْ كُنَّا لَنَتَزَوَّدُ مِنْ مَكَّةَ إِلَى الْمَدِينَةِ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي لُحُومَ الْأَضَاحِيِّ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৯৮০, হাজ্জ ১৭১৯; মুসলিম, আযাহী ১৯৭২ (৩৬);
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৩০, ৫৯৩১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৯৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. ইমামের পূর্বে যবেহ করা সম্পর্কে
২০০০. বারা’ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার নামীয় সালাত আদায়ের আগেই কুরবানী করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সালাত আদায় শেষে তাঁকে ডাকলেন, অতঃপর সে যা করেছে, সে সম্পর্কে তাঁকে জানালো। তখন তিনি বললেনঃ “তোমার ছাগল কেবল মাংস (খাওয়া)’এর ছাগল হল।” তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে একটি ঘরে পোষা ছাগলের বাচ্চা রয়েছে। সেটি আমার নিকট দু’টি ছাগলের চেয়েও প্রিয়। তখন তিনি বললেনঃ “সেটাকে কুরবানী করে নাও। তবে তা তোমার পরে তুমি ছাড়া অন্য কারো জন্য জায়িয হবে না।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, সুফিয়ান হতে মুহাম্মদের নিকট বর্ণনা করা হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইমামের সালাত শেষ হওয়ার পরে ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় কুরবানী যবেহ করলো, তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।’
بَاب فِي الذَّبْحِ قَبْلَ الْإِمَامِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ مَنْصُورٍ وَزُبَيْدٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ أَنَّ أَبَا بُرْدَةَ بْنَ نِيَارٍ ضَحَّى قَبْلَ أَنْ يُصَلِّيَ فَلَمَّا صَلَّى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَاهُ فَذَكَرَ لَهُ مَا فَعَلَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا شَاتُكَ شَاةُ لَحْمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدِي عَنَاقٌ لِي جَذَعَةٌ مِنْ الْمَعْزِ هِيَ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ شَاتَيْنِ قَالَ فَضَحِّ بِهَا وَلَا تُجْزِئُ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد قُرِئَ عَلَى مُحَمَّدٍ عَنْ سُفْيَانَ وَمَنْ ذَبَحَ بَعْدَ الصَّلَاةِ وَالْإِمَامُ يَخْطُبُ أَجْزَأَهُ
তাখরীজ: বুখারী, আযাহী, ৫৫৫৬, ঈদাইন ৯৫১; মুসলিম, আযাহী ১৯৬১ (৩৬);
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৯৩০, ৫৯৩১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৯৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. ইমামের পূর্বে যবেহ করা সম্পর্কে
২০০১. আবূ বুরদাহ ইবনু নিয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত শেষ করার আগেই এক ব্যক্তি কুরবানী করেছিলেন। তখন তিনি তাকে পুণরায় কুরবানী করার আদেশ দিলেন।
بَاب فِي الذَّبْحِ قَبْلَ الْإِمَامِ
حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيٍّ الْحَنَفِيُّ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ بْنِ نِيَارٍ أَنَّ رَجُلًا ذَبَحَ قَبْلَ أَنْ يَنْصَرِفَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُ أَنْ يُعِيدَ
পরিচ্ছেদঃ ৮. 'ফারাআ' বা 'আতীরা'
২০০২. আবূ হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(ইসলামে) ’ফারাআ’ বা ’আতীরা’ নেই।”[1]
بَاب فِي الْفَرَعِ وَالْعَتِيرَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا فَرَعَ وَلَا عَتِيرَةَ
তাখরীজ: বুখারী, আক্বীক্বাহ ৫৪৭৩; মুসলিম, আযাহী ১৯৭৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৮৭৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৯০; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১২৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. 'ফারাআ' বা 'আতীরা'
২০০৩. আবু রাযীন লাকীত ইবন আমির উকাইলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম: ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা (জাহিলী যুগে) রজব মাসে পশু যবাহ করতাম। এখন আপনি আমাদেরকে কী আদেশ করেন? তিনি বললেনঃ “এতে কোন ক্ষতি নেই।”[1] (বর্ণনাকারী) ওকী’ বলেনঃ আমি কখনোই তা পরিত্যাগ করবো না।
بَاب فِي الْفَرَعِ وَالْعَتِيرَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ عَنْ وَكِيعِ بْنِ حُدُسٍ عَنْ أَبِي رَزِينٍ الْعُقَيْلِيِّ لَقِيطِ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا كُنَّا نَذْبَحُ فِي رَجَبٍ فَمَا تَرَى قَالَ لَا بَأْسَ بِذَلِكَ قَالَ وَكِيعٌ لَا أَدَعُهُ أَبَدًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৬৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৯১ তে। আগের হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৯. আক্বীক্বার সুন্নাত (পদ্ধতি)
২০০৪. উম্মু কুরয রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীকা সম্পর্কে বলেছেন: ছেলের জন্য দুটো ছাগল যথেষ্ট হবে আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল।[1]
بَاب السُّنَّةِ فِي الْعَقِيقَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ عَنْ حَبِيبَةَ بِنْتِ مَيْسَرَةَ بْنِ أَبِي خُثَيْمٍ عَنْ أُمِّ كُرْزٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْعَقِيقَةِ عَنْ الْغُلَامِ شَاتَانِ مُكَافِئَتَانِ وَعَنْ الْجَارِيَةِ شَاةٌ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৬০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩১৩ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৪৯ তে। আরও দেখুন, আবী ইয়ালা, মু’জামুস শুয়ূখ নং ৪৯।
পরিচ্ছেদঃ ৯. আক্বীক্বার সুন্নাত (পদ্ধতি)
২০০৫. সালমান ইবনু ’আমির আয দব্বী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন যে, “সন্তানের সঙ্গে ’আক্বীক্বাহ সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (অর্থাৎ ’আক্বীক্বাহর জন্তু যবহ) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।”[1]
بَاب السُّنَّةِ فِي الْعَقِيقَةِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ عَنْ سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ الضَّبِّيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَعَ الْغُلَامِ عَقِيقَةٌ فَأَهْرِيقُوا عَنْهُ الدَّمَ وَأَمِيطُوا عَنْهُ الْأَذَى
তাখরীজ: ((বুখারী, কিতাবুল আক্বীক্বাহ, নং ৫৪৭১-৫৪৭২ - অনুবাদক)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৪২ তে। আরও দেখুন, নাইলুল আওতার ৫/২২২-২২৭।
পরিচ্ছেদঃ ৯. আক্বীক্বার সুন্নাত (পদ্ধতি)
২০০৬. উম্মু কুরয রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকীকা সম্পর্কে বলেছেন: “ছেলের জন্য সাদৃশ্যপূর্ণ দুটো ছাগল আর মেয়ের জন্য একটি ছাগল (যথেষ্ট হবে)।”[1]
بَاب السُّنَّةِ فِي الْعَقِيقَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ عَنْ سِبَاعِ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أُمِّ كُرْزٍ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْغُلَامِ شَاتَانِ مِثْلَانِ وَعَنْ الْجَارِيَةِ شَاةٌ
তাখরীজ: এটি পূর্বে গত হয়েছে (নং ২০০৪)।
পরিচ্ছেদঃ ৯. আক্বীক্বার সুন্নাত (পদ্ধতি)
২০০৭. সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ’’আকীকার সাথে প্রতিটি শিশু বন্ধক থাকে। তার পক্ষ থেকে সপ্তম দিনে পশু যবাহ করা হবে, আর তার মাথা মুন্ডন করা হবে এবং রক্ত (মাথায়) লাগানো হবে।”
অতঃপর কাতাদা (রাহি.) রক্ত লাগান সম্পর্কে বলতেনঃ যখন আক্বীক্বার পশু যবেহ করা হবে, তখন তার কিছু লোম নিয়ে পশুর কর্তিত শিরার সামনে রাখতে হবে এবং তা বাচ্চার মাথার উপর রাখতে হবে, এমনকি তা রশির মতো হয়ে (তাতে রক্ত) গড়িয়ে পড়বে। তার মাথা ধুয়ে ফেলে মাথা মুন্ডন করতে হবে।[1]
আফফান বলেন, আবান এ হাদীস বর্ণনার সময় বলেন, “এবং নাম রাখতে হবে।” আব্দুল্লাহ বলেন, আমি একে ওয়াজিব মনে করি না।
بَاب السُّنَّةِ فِي الْعَقِيقَةِ
أَخْبَرَنَا عَفَّانُ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ الْحَسَنِ عَنْ سَمُرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ غُلَامٍ رَهِينَةٌ بِعَقِيقَتِهِ يُذْبَحُ عَنْهُ يَوْمَ سَابِعِهِ وَيُحْلَقُ وَيُدَمَّى وَكَانَ قَتَادَةُ يَصِفُ الدَّمَ فَيَقُولُ إِذَا ذُبِحَتْ الْعَقِيقَةُ تُؤْخَذُ صُوفَةٌ فَيُسْتَقْبَلُ بِهَا أَوْدَاجُ الذَّبِيحَةِ ثُمَّ تُوضَعُ عَلَى يَافُوخِ الصَّبِيِّ حَتَّى إِذَا سَالَ شَبَهُ الْخَيْطِ غُسِلَ رَأْسُهُ ثُمَّ حُلِقَ بَعْدُ قَالَ عَفَّانُ حَدَّثَنَا أَبَانُ بِهَذَا الْحَدِيثِ قَالَ وَيُسَمَّى قَالَ عَبْد اللَّهِ وَلَا أُرَاهُ وَاجِبًا
তাখরীজ: আহমাদ ৫/১২, ১৭, ৬৬; আবূ দাউদ, আযাহী ২৮৩৭, ২৮৩৮; ইবনুল জারুদ নং ৯১০; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/৪৫৩; তিরমিযী, আযাহী ১৫২২; নাসাঈ, আক্বীক্বাহ ৭/১৬৬; ইবনু মাজাহ, যাবাইহ ৩১৬৫; তাবারাণী, আল কবীর ৭/২০১ নং ৬৮৩১,৬৮৩২; হাকিম ৪/২৩৭; বাইহাকী, যাহাইয়া ৯/২৯৯; তায়ালিসী ১/২৩১ নং ১১১৭; আবূ নুয়াইম, হিলইয়া ৬/১৯১।
কোনো কোনো হাদীসে ‘রক্ত লাগাতে হবে’ এর পরিবর্তে ‘নাম রাখতে হবে’ এসেছে।
((মুহাক্কিক্ব উভয় হাদীসের বর্ণনাসমূহ একত্রিত করে বিস্তারিত আলোচনার পর বলেন)) পূর্বের আলোচনার সারসংক্ষেপ হলো, এ উভয় বর্ণনাই সহীহ। এটি মানসূখ বা রহিত হওয়ার বিপরীতে বর্ণিত হাদীসের সংখ্যাই এর চেয়ে অধিক, যা বর্ণনা করেছেন, আবী ইয়ালা, আল মুসনাদ নং ৪৫২১; ইবনু হিব্বান নং ৫৩০৮; মাওয়ারিদ নং ১০৫৭, যার উভয়টি আমাদের তাহক্বীক্বকৃত। এর শব্দগুলি হলো: আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: জাহিলিয়াতের যুগে যখন তারা কোনো বাচ্চার পক্ষ হতে আক্বীক্বাহ করতো, তখন এক টুকরা সুতি কাপতে আক্বীক্বার জন্তুর রক্ত মাখাতো, এরপর সেটি বাচ্চার মাথায় রাখতো। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমরা রক্তের স্থানে জাফরান জাতীয় সুগন্ধি লাগাও।”
আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬২৭২ তেও এর তাখরীজ করেছি। দেখুন, নাইল ৫/২২৫-২২৬; মুশকিলিল আছার ১/৪৫৩-৪৫৬।
পরিচ্ছেদঃ ১০. উত্তমভাবে যবেহ করা প্রসঙ্গে
২০০৮. শাদ্দাদ ইবনু আউস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে দু’টো বিষয় মুখস্ত রেখেছি। তিনি বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা প্রতিটি জিনিসের প্রতি দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন করাকে ফরয করেছেন। অতএব তোমরা (কোন কিছু) হত্যা করলে উত্তম পন্থায় হত্যা করবে; আর (কোনোকিছু) যবেহ করলেও উত্তম পন্থায় যবেহ করবে। তোমাদের মধ্যে কেউ (যবেহ করলে) যেন তার ছুরিকে ভালভাবে ধারালো করে নেয় এবং যবেহ করার পশুটিকে আরাম দেয়।”[1]
بَاب فِي حُسْنِ الذَّبِيحَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ حَفِظْتُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اثْنَتَيْنِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ كَتَبَ الْإِحْسَانَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ فَإِذَا قَتَلْتُمْ فَأَحْسِنُوا الْقِتْلَةَ وَإِذَا ذَبَحْتُمْ فَأَحْسِنُوا الذَّبْحَ وَلْيُحِدَّ أَحَدُكُمْ شَفْرَتَهُ ثُمَّ لِيُرِحْ ذَبِيحَتَهُ
তাখরীজ: মুসলিম, সাইদ ১৯৫৫; ((আবূ দাউদ, আযাহী ২৮১৫; তিরমিযী, দিয়াত নং ১৪০৯; নাসাঈ, যাহাইয়া ৭/২২৭; ইবনু মাজাহ, যাবাইহ ৩১৭০-ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৯৭০ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৮৩-৫৮৮৪ তে।
এছাড়াও তাবারাণী, আওসাত ২/১০৫; তার সূত্রে খতীব বাগদাদী, তারীখ বাগদাদ ৫/২৭৮ ও সাহমী, তারীখ জুরজান পৃ: ৩৮৬ তে। আরও দেখুন, তালখীসুল হাবীর ৪/১৪৩ ও নাসবুর রায়াহ ৪/১৮৭-১৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ১১. যে সকল বস্তু দ্বারা যবেহ করা জায়েয
২০০৯. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, কা’ব ইবনু মালিক -এর একটি দাসী ’সালা’ পর্বতে তার বকরী চরাত। (একদা) তিনি এর মধ্যকার কোনো একটি বকরী মরে যাওয়ার আশংকা করলে একটি পাথর দ্বারা সেটিকে যবেহ করল। এ ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম –এর নিকট উপস্থাপন করলে তিনি তাদেরকে সেটি খাওয়ার নির্দেশ দেন।[1]
بَاب مَا يَجُوزُ بِهِ الذَّبْحُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ امْرَأَةً كَانَتْ تَرْعَى لِآلِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ غَنَمًا بِسَلْعٍ فَخَافَتْ عَلَى شَاةٍ مِنْهَا أَنْ تَمُوتَ فَأَخَذَتْ حَجَرًا فَذَبَحَتْهَا بِهِ وَإِنَّ ذَلِكَ ذُكِرَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَرَهُمْ بِأَكْلِهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৯২; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৭৫। ((বুখারী, যাবাইহ ৫৫০৫; মালিক, যাবাইহ ৪ ২/৪৮৯।
পরিচ্ছেদঃ ১২. কূপে পতিত পশু যবেহ করা সম্পর্কে
২০১০. আবূল উশারা (রহঃ) তার পিতা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ, কণ্ঠনালী এবং বুকের উপরিভাগ (এ আঘাত করা) ছাড়া কি যবেহ হয় না? তিনি বললেন,তুমি যদি তার উরুতেও আঘাত করতে পার তবে তা-ও তোমার জন্য যথেষ্ট হবে।”[1] হাম্মাদ বলেন: আমরা এটিকে কুপে পতিত পশু যবেহ’র ব্যাপারে আরোপ করি।
بَاب فِي ذَبِيحَةِ الْمُتَرَدِّي فِي الْبِئْرِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ وَعُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ وَعَفَّانُ عَنْ حَمَّادِ بْنِ سَلَمَةَ عَنْ أَبِي الْعُشَرَاءِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمَا تَكُونُ الذَّكَاةُ إِلَّا فِي الْحَلْقِ وَاللَّبَّةِ فَقَالَ لَوْ طَعَنْتَ فِي فَخِذِهَا لَأَجْزَأَ عَنْكَ قَالَ حَمَّادٌ حَمَلْنَاهُ عَلَى الْمُتَرَدِّي
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫০৩ তে। ((আবূ দাউদ, আযাহী ২৮১৫; তিরমিযী, দিয়াত নং ১৪০৯; নাসাঈ, যাহাইয়া ৭/২২৭; ইবনু মাজাহ, যাবাইহ ৩১৭০-ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৯৭০ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
এছাড়া, ইবনু আবী শাইবা ৫/৩৯৩-৩৯৪; বুখারী, কাবীর ২/২২; তাবারাণী, কাবীর ৭/১৬৭-১৬৮ নং ৬৭১৯, ৬৭২০, ৬৭২১; ইবনু আদী, আল কামিল ১/২০৯;
পরিচ্ছেদঃ ১৩. পশুর অঙ্গছেদনের নিষেধাজ্ঞা
২০১১. সা’ঈদ ইবনু যুবাইর হতে বর্ণিত। তিনি বললেনঃ আমি ইবনু ’উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সাথে মদীনার কোনো এক রাস্তায় বের হলাম। তথন একদল তরুণ একটি মুরগী বেঁধে তার দিকে তীর ছুঁড়ছিল। ইবনু ’উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেনঃ এ কাজ কে করেছে? তখন তারা তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন: যে ব্যক্তি জীব-জন্তুর অঙ্গহানি করে তাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা’নাত করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُثْلَةِ الْحَيَوَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي الْمِنْهَالُ بْنُ عَمْرٍو قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ يَقُولُ خَرَجْتُ مَعَ ابْنِ عُمَرَ فِي طَرِيقٍ مِنْ طُرُقِ الْمَدِينَةِ فَإِذَا غِلْمَةٌ يَرْمُونَ دَجَاجَةً فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ مَنْ فَعَلَ هَذَا فَتَفَرَّقُوا فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَعَنَ مَنْ يُمَثِّلُ بِالْحَيَوَانِ
তাখরীজ: বুখারী, যাবাইহ ওয়াস সাইদ ৫৫১৫; মুসলিম, সাইদ ওয়ায যাবাইহ ১৯৫৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৬৫২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬১৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. পশুর অঙ্গছেদনের নিষেধাজ্ঞা
২০১২. আবূ আয়্যূব আনসারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃরাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেঁধে রেখে পশুহত্যা করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আয়্যূব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, যদি একটি মুরগীও হয়,তবু তাকে আমি এভাবে হত্যা করব না।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُثْلَةِ الْحَيَوَانِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جَعْفَرٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ تِعْلَى عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صَبْرِ الدَّابَّةِ قَالَ أَبُو أَيُّوبَ لَوْ كَانَتْ دَجَاجَةً مَا صَبَرْتُهَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬০৯; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৭২।
এবং এর শাহিদ হলো আগের হাদীসটি। আর ইবনু আব্বাসের হাদীসটি যা আমরা তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৯৭ তে, যেটি পরবর্তী হাদীস।
এছাড়া আব্দুল্লাহ ইবনু জা’ফর এর হাদীসটিও এর শাহিদ যেটি আমরা তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৭৯০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. পশুর অঙ্গছেদনের নিষেধাজ্ঞা
২০১৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’মুজাসসামা’ (যে প্রাণীকে পাথর ইত্যাদি নিক্ষেপের দ্বারা হত্যা করা হয়)করতেনিষেধকরেছেন।[1] আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’মুজাসসামা’ (চাঁদমারি করা) অর্থ ’আল মাসবূরাহ’ (বেঁধে তীর/পাথর দ্বারা হত্যা করা)।
بَاب النَّهْيِ عَنْ مُثْلَةِ الْحَيَوَانِ
حَدَّثَنَا عَفَّانُ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ أَخْبَرَنَا قَتَادَةُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ نَهَى عَنْ الْمُجَثَّمَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد الْمُجَثَّمَةُ الْمَصْبُورَةُ
তাখরীজ: বুখারী, যাবাইহ ওয়াস সাইদ ৫৫১৫; মুসলিম, সাইদ ওয়ায যাবাইহ ১৯৫৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪৯৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬০৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. কিছু গোশত পাওয়া গেলো, তবে জানা নেই যে, তা যবেহের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে কিনা- (তা খাওয়া যাবে কি-না)
২০১৪. উম্মুল মু’মিনীন ’আয়িশাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত যে, কিছু সংখ্যক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বহু লোক আমাদের কাছে মাংস নিয়ে আসে, আমরা জানি না, তারা বিসমিল্লাহ পড়ে যবেহ করেছিল কিনা? তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,তোমরা এর উপর আল্লাহর নাম লও এবং তা খাও আর তারা জাহিলিয়্যার যুগের খুব নিকটবর্তী ছিল।[1]
بَاب اللَّحْمِ يُوجَدُ فَلَا يُدْرَى أَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَمْ لَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ هُوَ ابْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ أَنَّ قَوْمًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ قَوْمًا يَأْتُونَا بِاللَّحْمِ لَا نَدْرِي أَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ أَمْ لَا فَقَالَ سَمُّوا أَنْتُمْ وَكُلُوا وَكَانُوا حَدِيثَ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ
তাখরীজ: বুখারী, বুয়ূ’ ২০৫৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪৪৭; আরও দেখুন, রাযী, ইলালুল হাদীস ২/১৭ নং ১৫২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. কোন চতুষ্পদ জন্তু পালিয়ে গেলে
২০১৫. রাফি’ ইবনু খাদীজ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ এক সময় একটি উট পালিয়ে গেল। দলে অশ্বের সংখ্যা ছিল খুব কম (যাতে আরোহন করে তারা উটটি ধরতে পারে)। অবশেষে একটি লোক উটটির প্রতি তীর ছুঁড়ে উটটিকে থামিয়ে দিলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এ সকল চতুষ্পদ প্রাণীর মধ্যে বন্য জন্তুর মত পালিয়ে যাবার স্বভাব আছে। কাজেই যখন কোন প্রাণী তোমাদেরকে পরাভূত করবে (তোমাদের থেকে পালিয়ে যাবে), তখন তার সঙ্গে তোমরা এমন আচরণ করবে।[1]
بَاب فِي الْبَهِيمَةِ إِذَا نَدَّتْ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ عَنْ جَدِّهِ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ أَنَّ بَعِيرًا نَدَّ وَلَيْسَ فِي الْقَوْمِ إِلَّا خَيْلٌ يَسِيرَةٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَحَبَسَهُ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا
তাখরীজ: বুখারী, শিরকাহ, ২৪৮৮, (যাবাইহ ওয়াস সাইদ ৫৪৯৮); মুসলিম, আযাহী ১৯৬৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪১৪, ৪১৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৮৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. যে ব্যক্তি অযথা কোনো প্রাণীকে হত্যা করে
২০১৬. আব্দুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি চড়ূই না-হাক্কভাবে (অযথা) হত্যা করে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো ইয়া রাসুলুল্লাহ! এর হাক্ব কি? তিনি বললেনঃ“(এর হাক্ব এই যে) তুমি একে যবাহ করবে অতঃপর তা খাবে।”[1]
بَاب مَنْ قَتَلَ شَيْئًا مِنْ الدَّوَابِّ عَبَثًا
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ إِسْمَعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو هُوَ ابْنُ دِينَارٍ عَنْ صُهَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَامِرٍ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَتَلَ عُصْفُورًا بِغَيْرِ حَقِّهِ سَأَلَهُ اللَّهُ عَنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ قِيلَ وَمَا حَقُّهُ قَالَ أَنْ تَذْبَحَهُ فَتَأْكُلَهُ
তাখরীজ: ((নাসাঈ, সাইদ ৭/২৩৯; আহমাদ--ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৯৭৮ এর টীকা হতে।– অনুবাদক)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৭. পশুর গর্ভস্থ বাচ্চার মাতার যবেহ করাই তার যবেহ বলে গণ্য- এ সম্পর্কে
২০১৭. জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বাচ্চার মাতার যবেহই গর্ভস্থিত বাচ্চার যবেহ।[1] আবূ মুহাম্মদ-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তা কি খাওয়া যাবে? তিনি বললেন: হাঁ।
بَاب فِي ذَكَاةُ الْجَنِينِ ذَكَاةُ أُمِّهِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عَتَّابُ بْنُ بَشِيرٍ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَكَاةُ الْجَنِينِ ذَكَاةُ أُمِّهِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ يُؤْكَلُ قَالَ نَعَمْ
তাখরীজ: ((আবূ দাউদ, আযাহী নং ২৮২৭। --ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৯৭৯ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮০৮ ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬১২৪ তে।
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আবূ সাঈদ আল খুদরী (রা:) হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৯২, ১২০৬ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৮৮৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৭৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. যে সকল হিংস্র জন্তু খাওয়া যাবে না
২০১৮. আবূ সা’লাবা আল খুশানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতওয়ালা যাবতীয় হিংস্র জন্তু খেতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب مَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ السِّبَاعِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ السَّبُعِ
তাখরীজ: মালিক, সাইদ ১৩ সহীহ সনদে; বুখারী, সাইদ, ৫৫৩০; মুসলিম, সাইদ ১৯৩২;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৯৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৭৯ তে। এছাড়াও, বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ১৯১৯৮, ১৯১৯৯, ১৯২০১; তাবারাণী, আল কাবীর ২২/২০৮-২১৩।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. যে সকল হিংস্র জন্তু খাওয়া যাবে না
২০১৯. আবূ সা’লাবা আল খুশানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপহরণ করা, চাঁদমারি করা ও লুণ্ঠন করা থেকে এবং দাঁতওয়ালা যাবতীয় হিংস্র জন্তু খাওয়া থেকে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب مَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ السِّبَاعِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا أَبُو أُوَيْسٍ ابْنُ عَمِّ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلَانِيِّ عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْخَطْفَةِ وَالْمُجَثَّمَةِ وَالنُّهْبَةِ وَعَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ السِّبَاعِ
তাখরীজ: তাবারাণী, কাবীর ২২/২০৯ নং ৫৫১; বাইহাকী, যাহাইয়া ৯/৩৩৪; আগের হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. যে সকল হিংস্র জন্তু খাওয়া যাবে না
২০২০. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁতওয়ালা যাবতীয় হিংস্র জন্তুর মাংস খেতে এবং বড় নখর-বিশিষ্ট বা থাবাযুক্ত যাবতীয় পাখির মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب مَا لَا يُؤْكَلُ مِنْ السِّبَاعِ
أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ مَيْمُونِ بْنِ مِهْرَانَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْلِ كُلِّ ذِي نَابٍ مِنْ السِّبَاعِ وَكُلِّ ذِي مِخْلَبٍ مِنْ الطَّيْرِ
তাখরীজ: মুসলিম, সাইদ ১৯৩৪; ((আবূ দাউদ, আতআমাহ ৩৮০৩-৩৮০৫; নাসাঈ, সাইদ ৭/২০৬- ফাওয়ায আহমেদ, তাহক্বীক্ব দারেমী নং ১৯৮২।- অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪১৪, ২৪৯১, ২৬৯০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৮০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. হিংস্র জন্তুর চামড়া পরিধান করা নিষেধ
২০২১. আবীল মালিহ রাহি. তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিংস্র জন্তুর চামড়া বিছানা (ফারাশ) হিসেবে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ لُبْسِ جُلُودِ السِّبَاعِ
أَخْبَرَنَا يَعْمَرُ بْنُ بِشْرٍ عَنْ ابْنِ الْمُبَارَكِ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ جُلُودِ السِّبَاعِ أَنْ تُفْتَرَشَ
তাখরীজ: তিরমিযী, লিবাস ১৭৭১; আহমাদ ৫/৭৪, ৭৫; আবূ দাউদ, লিবাস ৪১৩২; নাসাঈ, ফারা’আ ওয়াল আতীরাহ ৭/১৭৬; ইবনু আব্দুল বারর, আত তামহীদ ১/১৬৪; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/২৬৪; হাকিম১/১৪৪, তিনি একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা সমর্থন করেছেন; ইবনু আবী শাইবা ১৪/২৪৯-২৫০ নং ১৮২৭০ মুরসাল হিসেবে; মুরসাল হিসেবে এটি আরও বর্ণনা করেছেন, তিরমিযী ১৭৭২, এবং তিনি বলেন, এটি অধিক সহীহ। তবে এর মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হওয়াটা এর কোনো ক্ষতি করে না; কারণ, এটি নির্ভরযোগ্য রাবী হতেই মারফু’ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং তাতে কিছু বাড়তি রয়েছে; আর বিশ্বস্ত রাবীর বাড়তি অংশও কবুলযোগ্য।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. হিংস্র জন্তুর চামড়া পরিধান করা নিষেধ
২০২২. (অপর সনদে) আবীল মালিহ রাহি. তার পিতা হতে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুরূপ বর্ণনা করেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ لُبْسِ جُلُودِ السِّبَاعِ
أَخْبَرَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, লিবাস ৪১৩২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মৃত জন্তুর চামড়া হতে উপকৃত হওয়া
২০২৩. আব্দুর রহমান্ ইবনু ওয়া’লা বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে (চামড়ার) মশক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি বলবো, আমি জানিনা, তবে আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “যে কোন চামড়াকে পাকা করা হলেই তা পবিত্র হয়ে যায়।”[1]
بَاب الِاسْتِمْتَاعِ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ الْأَسْقِيَةِ فَقَالَ مَا أَدْرِي مَا أَقُولُ لَكَ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَيُّمَا إِهَابٍ دُبِغَ فَقَدْ طَهُرَ
তাখরীজ: মুসলিম, হায়েয ৩৬৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৮৫; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৪৯২ তে। আর এটি সামনে ২৬১৩ নং এও বিস্তারিত আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মৃত জন্তুর চামড়া হতে উপকৃত হওয়া
২০২৪. আব্দুর রহমান্ ইবনু ওয়া’লা বলেন, আমি ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে মৃত জন্তুর চামড়া (ব্যবহার করা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “(চামড়া) পাকা করাই এর পবিত্র হওয়া।”[1] আবূ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ কে জিজ্ঞাসা করা হলো, এটি আপনার মত কি? তিনি বললেন: হাঁ, যখন এর মাংস খাওয়া হবে।
بَاب الِاسْتِمْتَاعِ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
حَدَّثَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ وَعْلَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ عَنْ جُلُودِ الْمَيْتَةِ فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دِبَاغُهَا طَهُورُهَا قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ تَقُولُ بِهَذَا قَالَ نَعَمْ إِذَا كَانَ يُؤْكَلُ لَحْمُهُ
তাখরীজ: ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ৪/১৭৪;
তবে হাদীসটি সহীহ। আর সেটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। আরও দেখুন, সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৯০ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৩।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মৃত জন্তুর চামড়া হতে উপকৃত হওয়া
২০২৫. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত জন্তুর দাবাগাত (পাকা) করা চামড়া হতে উপকৃত হতে নির্দেশ দিয়েছেন।[1]
بَاب الِاسْتِمْتَاعِ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ قُسَيْطٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ ثَوْبَانَ عَنْ أُمِّهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُسْتَمْتَعَ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
তাখরীজ: মালিক, সাইদ ১৮; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৮৬ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২২।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মৃত জন্তুর চামড়া হতে উপকৃত হওয়া
২০২৬. ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মায়মূনা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা এর একটি বকরী মারা গেল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ “যদি তোমরা এর চামড়া দিয়ে উপকৃত হতে!” তারা বললেনঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ! এটা তো মৃত। তিনি বললেন, “এ তো কেবল ভক্ষণ হারাম করা হয়েছে।”[1]
بَاب الِاسْتِمْتَاعِ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَاتَتْ شَاةٌ لِمَيْمُونَةَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ اسْتَمْتَعْتُمْ بِإِهَابِهَا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهَا مَيْتَةٌ قَالَ إِنَّمَا حُرِّمَ أَكْلُهَا
তাখরীজ: বুখারী, যাকাত, ১৪৯২; মুসলিম, হায়িয ৩৬৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১২৮৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৯৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. মৃত জন্তুর চামড়া হতে উপকৃত হওয়া
২০২৭. (অপর সনদে) ইবনু ’আব্বাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে এ হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত আছে।[1] আবূ মুহাম্মদকে বলা হলো, শৃগাল (এর পাকা করা চামড়া) সম্পর্কে আপনার মত কি? তিনি বললেন, আমি সেটি মাকরূহ মনে করি।
بَاب الِاسْتِمْتَاعِ بِجُلُودِ الْمَيْتَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُصَفَّى حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ عَنْ الزُّبَيْدِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَحْوَ هَذَا الْحَدِيثِ قِيلَ لِأَبِي مُحَمَّدٍ مَا تَقُولُ فِي الثَّعَالِبِ إِذَا دُبِغَتْ قَالَ أَكْرَهُهَا
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১. গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া সম্পর্কে
২০২৮. আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন মহিলাদের সাথে মুত’আহ (বিয়ে)[1] করা থেকে এবং গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন।[2]
بَاب فِي لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ
أَخْبَرَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ الْحَسَنِ وَعَبْدِ اللَّهِ ابْنَيْ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِمَا عَنْ عَلِيٍّ أَنَّ عَلِيًّا قَالَ لِابْنِ عَبَّاسٍ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ مُتْعَةِ النِّسَاءِ يَوْمَ خَيْبَرَ وَعَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْإِنْسِيَّةِ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। হাদীসটি বুখারী ও মুসিলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: মালিক, নিকাহ ৪১; বুখারী, মাগাযী ৪২১৬, যাবাইহ ওয়াস সাইদ ৫৫২৩; মুসলিম, নিকাহ ১৪০৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৭৬; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৪১৪০, ৪১৪৩, ৪১৪৫ তে। এটি ২২৪৩ নং এও রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. গৃহপালিত গাধার গোশত খাওয়া সম্পর্কে
২০২৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। খায়বার যুদ্ধের দিন একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলুল্লাহ! (গানীমাতের) গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে কিংবা নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে। এরপর লোকটি (দ্বিতীয়বার এসে) বলল, নিঃশেষ করে ফেলা হচ্ছে কিংবা গাধাগুলো খেয়ে ফেলা হচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন লোককে হুকুম দিলেন। সে লোকজনের সামনে গিয়ে ঘোষণা দিলঃ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমাদেরকে গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করছেন। কেননা, তা অপবিত্র।’’[1]
بَاب فِي لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ هِشَامٍ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَامَ رَجُلٌ يَوْمَ خَيْبَرَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُكِلَتْ الْحُمُرُ أَوْ أُفْنِيَتْ الْحُمُرُ ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُفْنِيَتْ الْحُمُرُ أَوْ أُكِلَتْ الْحُمُرُ فَأَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلًا فَنَادَى إِنَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يَنْهَيَانِكُمْ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ فَإِنَّهَا رِجْسٌ
তাখরীজ: বুখারী, জিহাদ ২৯৯১, সালাত ৩৭১; মুসলিম, সাইদ ১৯৪০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮২৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৭৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৩৪ তে। আরও দেখুন, জাবির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস যা সামনে ২০৩৬ (অনুবাদে ২০৪২) নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পর্কে
২০৩০. আসমা’ বিনতে আবী বাকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে মদীনায় আমরা ঘোড়ার মাংস খেয়েছি।[1]
بَاب فِي أَكْلِ لُحُومِ الْخَيْلِ
حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ أَكَلْنَا لَحْمَ فَرَسٍ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ
তাখরীজ: বুখারী, সাইদ ৫৫১০; মুসলিম, সাইদ ১৯৪২।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৭১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩২৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২২. ঘোড়ার গোশত খাওয়া সম্পর্কে
২০৩১. জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম খাইবার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার মাংস খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার মাংস খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।[1]
بَاب فِي أَكْلِ لُحُومِ الْخَيْلِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ الْأَهْلِيَّةِ وَأَذِنَ فِي لُحُومِ الْخَيْلِ
তাখরীজ: বুখারী, মাগাযী ৪২১৯,; মুসলিম, সাইদ ১৯৪১।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৭৮৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৬৮ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৯১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. লুটতরাজ করা নিষিদ্ধ
২০৩২. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আর লুটতরাজ ও ছিনতাইকারী যখন মূল্যবান সামগ্রী লুটতরাজ ও ছিনতাই করে এবং মু’মিনগণ সে দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে থাকে, তখন সে মুমিন থাকে না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النُّهْبَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَنْتَهِبُ نُهْبَةً ذَاتَ شَرَفٍ يَرْفَعُ الْمُؤْمِنُونَ فِيهَا أَبْصَارَهُمْ وَهُوَ حِينَ يَنْتَهِبُهَا مُؤْمِنٌ
তাখরীজ: বুখারী, মাযালিম ২৪৭৫; মুসলিম, ঈমান ৫৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৯৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৮৬ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ১১৬৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. লুটতরাজ করা নিষিদ্ধ
২০৩৩. আব্দুর রহমান ইবনু সামুরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিনতাই-লুটতরাজ করা হতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ النُّهْبَةِ
حَدَّثَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرِ بْنِ حَازِمٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ يَعْلَى بْنِ حَكِيمٍ عَنْ أَبِي لَبِيدٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَمُرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ النُّهْبَةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا فِي الْغَزْوِ إِذَا غَنِمُوا قَبْلَ أَنْ يُقْسَمَ
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/১৩০; ইবনু আবী শাইবা, ৭/৫৯ নং ২৩৬৯; আহমাদ ৫/৬২, ৬৩; আবূ দাউদ, জিহাদ ২৭০৩; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ ৬৪৫;
আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে ইমরাণ ইবনু হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে, আমরা যার তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩২৬৭, ৫১৭০ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১২৭০, ১৬৮০ তে। এছাড়া ছা’লাবা ইবনুল হাকাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতেও এর শাহিদ রয়েছে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫১৬৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৬৭৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. নিরূপায় ব্যক্তির জন্য মৃত জন্তুর গোশত খাওয়ার সম্পর্কে
২০৩৪. আবী ওয়াকিদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা এমন এক এলাকায় বাস করি যেখানে দুর্ভিক্ষ চলছে। এমতাবস্থায় আমাদের জন্য মৃত জন্তুর খাওয়া হালাল হবে কি? তিনি বললেন: “যদি তোমরা সকালে খাবার-পানিয় কিছুই না পাও, সন্ধ্যায়ও খাবার-পানিয় কিছু না পাও, আবার কোনো শাক-সবজিও তোলার মতো না পাও, তবে কেবল তোমার এমন অবস্থাতেই (মৃত জীব খাওয়ার অনুমতি রয়েছে)।”[1] তিনি বলেন, লোকেরা এটিকে ’حَ’ দ্বারা উচ্চারণ করে থাকে, কিন্তু আসলে এটি হবে ’خَ’ দ্বারা।
بَاب فِي أَكْلِ الْمَيْتَةِ لِلْمُضْطَرِّ
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي وَاقِدٍ قَالَ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضٍ تَكُونُ بِهَا الْمَخْمَصَةُ فَمَا يَحِلُّ لَنَا مِنْ الْمَيْتَةِ قَالَ إِذَا لَمْ تَصْطَبِحُوا وَلَمْ تَغْتَبِقُوا وَلَمْ تَخْتَفِئُوا بَقْلًا فَشَأْنُكُمْ بِهَا قَالَ النَّاسُ يَقُولُونَ بِالْحَاءِ وَهَذَا قَالَ بِالْخَاءِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/২১৮; তাবারাণী, কাবীর ৩/২৫১ নং ৩৩১৫, ৩৩১৬; বাইহাকী, যাহাইয়া ৯/৩৫৬; তবে কয়েকটি শাহিদ একে শক্তিশালী করে। আমরা মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৬৯১৮ তে এর বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ২৫. দুগ্ধদোহনকারী দুধ দোহনের জন্য কষ্টে পড়ে যায়, তার সম্পর্কে
২০৩৫. যিরার ইবনু আযওয়ার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে একটি গর্ভবতী (উট বা ছাগল) হাদীয়া দেওয়া হলো। তখন তিনি আমাকে আদেশ করলেন যে, আমি যেন এর দুগ্ধ দোহন করি। ফলে আমি সেটির দুগ্ধ দোহন করলাম এবং একে দোহন করতে গিয়ে বেশ কষ্টে পড়ে গেলাম। তখন তিনি বললেন: “দুধের উদ্দেশ্য ছাড়ো।”[1]
بَاب فِي الْحَالِبِ يَجْهَدُ الْحَلْبَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ يَعْقُوبَ بْنِ بَحِيرٍ عَنْ ضِرَارِ بْنِ الْأَزْوَرِ قَالَ أَهْدَيْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِقْحَةً فَأَمَرَنِي أَنْ أَحْلُبَهَا فَحَلَبْتُهَا فَجَهَدْتُ فِي حَلْبِهَا فَقَالَ دَعْ دَاعِيَ اللَّبَنِ
তাখরীজ: তাখরীজ আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫২৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৯৯৯ তে। এছাড়াও, ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ ৪৭০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. ব্যাঙ ও মৌমাছি হত্যা করা নিষেধ
২০৩৬. আব্দুর রহমান্ ইবনু উছমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যাঙহত্যা করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ الضِّفْدَعِ وَالنَّحْلَةِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ خَالِدٍ الْقَارِظِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ قَتْلِ الضِّفْدَعِ
তাখরীজ: আহমাদ ৫/৪৯৯; আবূ দাউদ, তিব্ব ৩৮৭১; ইবনুল কানি’, মু’জামুস সাহাবাহ, তরজমাহ ৬৩৬; হাকিম ৪/৪১১; নাসাঈ, সাইদ ওয়ায যাবাইহ ৭/২১০; হাকিম একে সহীহ বলেছেন এবং যাহাবী তা বজায় রেখেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. ব্যাঙ ও মৌমাছি হত্যা করা নিষেধ
২০৩৭. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম চারটি প্রাণী হত্যা করতে নিষেধ করেছেন: পিঁপড়া, মৌমাছি, হুদহুদ পাখি এবং সুরাদ পাখি (সাদা পেট, সবুজ পিঠ, বড় মাথা ও লম্বা ঠোটবিশিষ্ট এক প্রকার শিকারী পাখি)।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ قَتْلِ الضِّفْدَعِ وَالنَّحْلَةِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ قَتْلِ أَرْبَعَةٍ مِنْ الدَّوَابِّ النَّمْلَةِ وَالنَّحْلَةِ وَالْهُدْهُدِ وَالصُّرَدِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক, নং ৮৪১৫; আহমাদ ১/৩৩২; আবূ দাউদ, আদাব ৫২৬৭; ইবনু মাজাহ, সাইদ ৩২২৪।
আমরা এর তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৪৬ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১০৭৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. গিরগিটি জাতীয় প্রাণী হত্যা করা
২০৩৮. উম্মু শারীক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিরগিটি জাতীয় প্রাণী হত্যা করতে নির্দেশ করেছেন।[1]
بَاب فِي قَتْلِ الْوَزَغِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنْ أُمِّ شَرِيكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَ بِقَتْلِ الْأَوْزَاغِ
তাখরীজ: বুখারী, বাদউল খালক ৩৩০৭; মুসলিম, সালাম ২২৩৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬৩৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৫৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ‘জাল্লালাহ’ (নাপাকী দ্রব্য আহারকারী) প্রাণী ও এ সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা
২০৩৯. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়াসাল্লাম ’মুজাসসামা’ (যে প্রাণীকে পাথর ইত্যাদি নিক্ষেপের দ্বারা হত্যা করা হয়) খেতে এবং ’জাল্লালাহ’ (নাপাকী দ্রব্য আহারকারী)-এর দুধপান করতে এবং মশকের মুখ থেকে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন।[1]
بَاب فِي الْجَلَّالَةِ وَمَا جَاءَ فِيهِ مِنْ النَّهْيِ
حَدَّثَنَا أَبُو زَيْدٍ سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ الْمُجَثَّمَةِ وَعَنْ لَبَنِ الْجَلَّالَةِ وَأَنْ يُشْرَبَ مِنْ فِي السِّقَاءِ
তাখরীজ: তাখরীজ: আমরা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৩৯৯ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ১৩৬৩ তে। ((আবূ দাউদ, আত’আমাহ ৩৭৮৬; তিরমিযী, আত’আমাহ ১৮২৬; নাসাঈ, যাহাইয়া ৭/২৪০।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমীর হা/২০০১ এর টীকা হতে- অনুবাদক।))