পরিচ্ছেদঃ ১. সন্দেহযুক্ত দিবসে সিয়াম পালন নিষেধ
১৭১৯. সিলা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু- এর নিকট ছিলাম। সেখানে একটি ভুনা ছাগল পেশ করা হলে তিনি বললেন: তোমরা খাও। সেখানকার কোনো এক লোক (রোযা থাকার কারণে) তা খাওয়া হতে বিরত রইলো। সে বললো, আমি রোযাদার। তখন আম্মার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বললেন, যে ব্যক্তি এ সন্দেহপূর্ণ দিবসে রোযা রাখলো, সে তো আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নাফরমানী করেছে।[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الْأَحْمَرُ عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ قَالَ كُنَّا عِنْدَ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ فَأُتِيَ بِشَاةٍ مَصْلِيَّةٍ فَقَالَ كُلُوا فَتَنَحَّى بَعْضُ الْقَوْمِ فَقَالَ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ مَنْ صَامَ الْيَوْمَ الَّذِي يُشَكُّ فِيهِ فَقَدْ عَصَى أَبَا الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: ইবনু হিব্বান নং ৩৫৯৫; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮৫, ৩৫৯৫, ৩৫৯৬; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭৮ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৬৪৪ তে। (বুখারী, সিয়াম, তা’লিক হিসেবে বাব: ১১; আবূ দাউদ, সিয়াম ২৩৩৪; তিরমিযী, সওম, ৬৮৬; নাসাঈ, সওম বাব; ৩৭; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৪৫; দারুকুতনী, সিয়াম ৫।-- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮২ এর টীকা হতে।–অনুবাদক)
পরিচ্ছেদঃ ১. সন্দেহযুক্ত দিবসে সিয়াম পালন নিষেধ
১৭২০. সিমাক ইবনু হারব রাহি. বলেন, আমি একদিন সকালে (ঘুম থেকে) জেগে উঠার পর আমার সন্দেহ হলো সেদিনটি শাবান মাসের নাকি রমযান মাসের। ফলে সকালে উঠেই আমি সেদিন রোযা রাখলাম। এরপর আমি ইকরিমা রাহি. এর নিকট আসলাম, তখন তিনি রুটি ও সবজি খাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি আমাকে বললেন, এসো, সকালের নাস্তা কর।
তখন আমি বললাম, আমি রোযাদার। তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি, তুমি অবশ্যই রোযা ভঙ্গ করবে।’ এরপর আমি যখন দেখলাম, তিনি কসম করছেন, কিন্তু ’ইনশা আল্লাহ’ও বলছেন না, তখন আমি সামনে এগিয়ে গেলাম এবং (রোযা রাখার) অজুহাত পেশ করলাম; আর আমি তো এর কিছুক্ষণ পূর্বে সাহারী খেয়েছিলাম। অতঃপর তাঁকে বললাম: ’এখন আপনার নিকট এ বিষয়ে কী প্রমাণ আছে নিয়ে আসেন।’ তখন তিনি বললেন, ইবনুআব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “(রামাযানের)চাঁদ দেখেতোমরা রোযা রাখবে এবং(শাওয়ালের) চাঁদ দেখে রোযা ভঙ্গ করবে।আর যদি তোমাদের ও চাঁদের মাঝে মেঘ (প্রতিবন্ধকরূপে) থাকে, (অর্থাৎ এসময়মেঘের কারণে চাঁদ দেখতে না পাও), তবে ত্রিশ দিন মেয়াদ পূর্ণ করবে। (রমযান) মাস আসার পূর্বেই তোমরা একে স্বাগত জানাবে না (এগিয়ে আনবে না)।”[1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ يَوْمِ الشَّكِّ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ أَبِي صَغِيرَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ قَالَ أَصْبَحْتُ فِي يَوْمٍ قَدْ أُشْكِلَ عَلَيَّ مِنْ شَعْبَانَ أَوْ مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ فَأَصْبَحْتُ صَائِمًا فَأَتَيْتُ عِكْرِمَةَ فَإِذَا هُوَ يَأْكُلُ خُبْزًا وَبَقْلًا فَقَالَ هَلُمَّ إِلَى الْغَدَاءِ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ أُقْسِمُ بِاللَّهِ لَتُفْطِرَنَّ فَلَمَّا رَأَيْتُهُ حَلَفَ وَلَا يَسْتَثْنِي تَقَدَّمْتُ فَعَذَّرْتُ وَإِنَّمَا تَسَحَّرْتُ قُبَيْلَ ذَلِكَ ثُمَّ قُلْتُ هَاتِ الْآنَ مَا عِنْدَكَ فَقَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ حَالَ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُ سَحَابٌ فَكَمِّلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِينَ وَلَا تَسْتَقْبِلُوا الشَّهْرَ اسْتِقْبَالًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৩৫৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৯০, ৩৫৯৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭৩, ৮৭৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৩; এটি সামনে ১৭২৮ নং এ আসছে সহীহ সনদে।
((আবূ দাউদ, সাওম ২৩২৭; তিরমিযী, সাওম ৬৮৮, তিনি একে হাসান সহীহ বলেছেন; নাসাঈ, সাওম বাব (১৩); আলবানীও তার সহীহহুল জামি’ ৩/২৫১ তে একে সহীহ বলেছেন। ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২. চাঁদ দেখে রোযা রাখা
১৭২১. ইবন উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযানের আলোচনায় বলেছেনঃ “তোমরা চাঁদ না দেখে রোযা রাখবে না এবং চাঁদ (শাওয়ালের) না দেখে রোযা ভঙ্গ করবে না। আর তোমাদের আকাশ যদি মেঘাচ্ছন্ন থাকে, তবে তোমরা এর (ত্রিশ দিন) মেয়াদ পূর্ণ করবে।”[1]
بَاب الصَّوْمِ لِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَكَرَ رَمَضَانَ فَقَالَ لَا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْا الْهِلَالَ وَلَا تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯০৬; মুসলিম, সিয়াম ১০৮০; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৪৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৪১, ৩৪৪৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. চাঁদ দেখে রোযা রাখা
১৭২২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিংবা আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “(রামাযানের)চাঁদদেখেতোমরা রোযারাখবে এবং(শাওয়ালের)চাঁদদেখে রোযা ভঙ্গ করবে।আরযদি মাসজুড়ে মেঘাচ্ছন্ন থাকে (অর্থাৎ এসময়মেঘের কারণে চাঁদ দেখতে না পাও), তবেত্রিশ দিন মেয়াদপূর্ণকরবে।”[1]
بَاب الصَّوْمِ لِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ
حَدَّثَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَوْ قَالَ أَبُو الْقَاسِمِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صُومُوا لِرُؤْيَتِهِ وَأَفْطِرُوا لِرُؤْيَتِهِ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ الشَّهْرُ فَعُدُّوا ثَلَاثِينَ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯০৯; মুসলিম, সিয়াম ১০৮১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬৫২; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৪২, ৩৪৪৩, ৩৪৫৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২. চাঁদ দেখে রোযা রাখা
১৭২৩. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত যে, যারা মাসকে এগিয়ে নিয়ে আসে (রমযান মাস আসার পূর্বেই রোযা রাখা আরম্ভ করে), তাদের ব্যাপারে তিনি বিস্মিত হন এবং বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যখন তোমরা (রামাযানের) চাঁদ দেখতে পাবে, তখন রোযা রাখবে এবং যখন (শাওয়ালের) চাঁদ দেখতে পাবে, তখন রোযা ভঙ্গ করবে। আরযদি (আকাশ) মেঘাচ্ছন্ন থাকে (অর্থাৎ এসময় মেঘের কারণে চাঁদ দেখতে না পাও), তবে ত্রিশ দিন মেয়াদ পূর্ণ করবে।”[1]
بَاب الصَّوْمِ لِرُؤْيَةِ الْهِلَالِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ عَجِبَ مِمَّنْ يَتَقَدَّمُ الشَّهْرَ وَيَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَأَكْمِلُوا الْعِدَّةَ ثَلَاثِينَ
তাখরীজ: এর তাখরীজ ১৭২৫ (অনূবাদে ১৭২০) এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩. নতুন চাঁদ দেখে যা বলতে হয়
১৭২৪. ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে বলতেন: “আল্লাহু আকবার। আল্লাহুম্মা উহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান; ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম; ওয়াত তাওফীকি লিমা ইউহিব্বু রব্বুনা ওয়া ইয়ারদ্বা। রব্বানা ওয়া রব্বুকাল্লাহ্।”[1]
بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ رُؤْيَةِ الْهِلَالِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ أَبِيهِ وَعَمِّهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ وَالتَّوْفِيقِ لِمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضَى رَبُّنَا وَرَبُّكَ اللَّهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৮৮৮; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ২৩৭৪ তে। তবে এর পরের হাদসিটি একে শক্তিশালী করে। এছাড়া, ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইলাহ নং ৬৪০।
পরিচ্ছেদঃ ৩. নতুন চাঁদ দেখে যা বলতে হয়
১৭২৫. তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম নতুন চাঁদ দেখে বলতেন: “আল্লাহুম্মা উহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমান; ওয়াস সালামাতি ওয়াল ইসলাম; রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ্।”[1]
بَاب مَا يُقَالُ عِنْدَ رُؤْيَةِ الْهِلَالِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الرِّفَاعِيُّ وَإِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا الْعَقَدِيُّ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ سُفْيَانَ الْمَدَنِيُّ عَنْ بِلَالِ بْنِ يَحْيَى بْنِ طَلْحَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ طَلْحَةَ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى الْهِلَالَ قَالَ اللَّهُمَّ أَهِلَّهُ عَلَيْنَا بِالْأَمْنِ وَالْإِيمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالْإِسْلَامِ رَبِّي وَرَبُّكَ اللَّهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসানাদুল মাউসিলী নং ৬৬১, ৬৬২।
এছাড়া, ইবনুস সুন্নী, আমলুল ইয়ামি ওয়াল লাইলাহ নং ৬৪১; ইবনু আদী, আল কামিল ৩/১১২১;বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৩৩৫; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/৩২৪।
আমি বলছি: পূর্বের হাদীসটি এর শাহিদ এবং আবূ সাঈদ খুদরীর হাদীস রয়েছে ইবনুস সুন্নী নং ৬৪২; আনাস ইবনু মালিকের হাদীস রয়েছে তাবারাণী, আল আওসাত, যেমন মাজমাউল বাহরাইন নং ৪৫৯৫ ও মাজমাউয যাওয়াইদ ১০/১৩৯ তে হাইছামী উল্লেখ করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনু হিশামের হাদীস রয়েছে তাবারাণী, আওসাত নং ৬২৭৩ তে এবং রাফি’ ইবনু খাদিজ রা: এর হাদীস রয়েছে, তাবারাণী, আল কাবীর ৪/২৭৬ নং ৪৪০৯ তে; আয়িশা রা: এর হাদীসটিও রয়েছে ইবনুস সুন্নী, নং ৬৪৪ এবং মুয়াবিয়ার গোলাম বাশিরের হাদীসে বলা হয়েছে: ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দশজন সাহাবীকে বলতে শুনেছি...। হ্যাঁ, এ হাদীস গুলির প্রত্যেকের সনদই যয়ীফ। তবে একটি আরেকটির শাহিদ হয় এবং তা হাদীসটিকে শক্তিশালী করে। আল্লাহই ভাল জানেন।; আরো দেখুন, মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা১০/৩৯৮-৪০১; মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ৭৩৫০, ৭৩৫১, ৭৩৫২, ৭৩৫৩।
পরিচ্ছেদঃ ৪. চাঁদ দেখার পূর্বেই রোযাকে এগিয়ে নিয়ে আসা (আগেভাগে রোযা রাখা) নিষেধ
১৭২৬. আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “তোমরা রমজানের একদিন কিংবা দুই দিন আগে থেকে সাওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম করতে পারবে।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ التَّقَدُّمِ فِي الصِّيَامِ قَبْلَ الرُّؤْيَةِ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَقَدَّمُوا قَبْلَ رَمَضَانَ يَوْمًا وَلَا يَوْمَيْنِ إِلَّا أَنْ يَكُونَ رَجُلًا كَانَ يَصُومُ صَوْمًا فَلْيَصُمْهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯১৪; মুসলিম, সিয়াম ১০৮২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৯৯, ৬০৩০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮৬, ৩৫৯২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫. মাস ঊনত্রিশ দিনেও হয়
১৭২৭. ইবন ’উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্নিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ মাস ঊনত্রিশ দিন বিশিষ্ট হয়। তাই তোমরা চাঁদ না দেখে সাওম শুরু করবে না এবং চাঁদ না দেখে সাওম ভঙ্গ করবে না। যদি আকাশ মেঘাবৃত থাকে তাহলে তোমরা (ত্রিশ দিন) মেয়াদ পূর্ণ করবে।”[1]
بَاب الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا الشَّهْرُ تِسْعٌ وَعِشْرُونَ فَلَا تَصُومُوا حَتَّى تَرَوْهُ وَلَا تُفْطِرُوا حَتَّى تَرَوْهُ فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯০৬; মুসলিম, সিয়াম ১০৮০; এটি ১৭২৬ (অনূবাদে ১৭২) নং এ গত হয়েছে । আরও দেখুন, মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪৪৮।
পরিচ্ছেদঃ ৬. রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে সাক্ষ্য গ্রহণ
১৭২৮. ইবন ’উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, লোকেরা (রমযানের) নতুন চাঁদ দেখলো। তখন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে সংবাদ দিলাম যে, নিশ্চয়ই আমি তা (চাঁদ) দেখেছি। তখন তিনি নিজে সিয়াম পালন করলেন এবং লোকদেরকে সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন।”[1]
بَاب الشَّهَادَةِ عَلَى رُؤْيَةِ هِلَالِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ وَهْبٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَالِمٍ عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ نَافِعٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ تَرَاءَى النَّاسُ الْهِلَالَ فَأَخْبَرْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنِّي رَأَيْتُهُ فَصَامَ وَأَمَرَ النَّاسَ بِالصِّيَامِ
তাখরীজ: দারুকুতনীর সূত্রে বাইহাকী, মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার নং ৮৬১৩; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৬/২৩৬ তিনি বলেন: এ খবরটি সহীহ’। ((আবূ দাউদ, সওম ২৩৪২; দারুকুতনী, সিয়াম ২/১৫৬ নং ১ ও ২।--- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী নং ১৬৮৩ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৬. রমযানের চাঁদ দেখার ব্যাপারে সাক্ষ্য গ্রহণ
১৭২৯ ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক বেদুঈন নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলল, আমি (রামাযানের) চাঁদ দেখেছি, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “তুমি কি একথার সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নাই এবং নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল?” সে বলল, হ্যাঁ । তিনি বললেন: “হে বিলাল! লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিয়ে দাও, তারা যেন আগামী কাল সিয়াম পালন করে।”[1]
بَاب الشَّهَادَةِ عَلَى رُؤْيَةِ هِلَالِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنِي عِصْمَةُ بْنُ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ الْجُعْفِيُّ عَنْ زَائِدَةَ عَنْ سِمَاكٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِنِّي رَأَيْتُ الْهِلَالَ فَقَالَ أَتَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ يَا بِلَالُ نَادِ فِي النَّاسِ فَلْيَصُومُوا غَدًا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৩১; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৪৬ মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৭০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. রোযাদার কখন সেহরীতে পানাহার করা হতে বিরত হবে
১৭৩০. বারা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যখন তাঁদের কেউ সাওম পালনরত অবস্থায় ইফতারের সময় ইফতার না করে ঘুমিয়ে যেতো, তবে সে রাতে এবং পরের সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতে পারতেন না। কায়স ইবন সিরমা আনসারী (রা) সাওম পালন করেছিলেন। ইফতারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার নিকট কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু যোগাড় করতে পারি কিনা। তিনি দিনের বেলায় কর্মব্যস্ত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর চোখ বিভোর হয়ে গেল। এরপর স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন, হায়, তোমার জন্য আফসোস! পরদিন দুপুর হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট উল্লেখ করা হলো, তখন এ আয়াতটি নাযিল হয়ঃ “সিয়ামের রাত্রে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। ......... তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্টভাবে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।” (সূরা বাকারা: ১৮৭) এর মাধ্যমে সাহাবীগন খুবই আনন্দিত হলেন। ফলে তারা পানাহার করলেন, যতক্ষন রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্টভাবে তাঁদের নিকট প্রতিভাত না হলো।[1]
بَاب مَتَى يُمْسِكُ الْمُتَسَحِّرُ عَنْ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَقَ عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَائِمًا فَحَضَرَ الْإِفْطَارُ فَنَامَ قَبْلَ أَنْ يُفْطِرَ لَمْ يَأْكُلْ لَيْلَتَهُ وَلَا يَوْمَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنَّ قَيْسَ بْنَ صِرْمَةَ الْأَنْصَارِيَّ كَانَ صَائِمًا فَلَمَّا حَضَرَ الْإِفْطَارُ أَتَى امْرَأَتَهُ فَقَالَ عِنْدَكِ طَعَامٌ فَقَالَتْ لَا وَلَكِنْ أَنْطَلِقُ فَأَطْلُبُ لَكَ وَكَانَ يَوْمَهُ يَعْمَلُ فَغَلَبَتْهُ عَيْنُهُ وَجَاءَتْ امْرَأَتُهُ فَلَمَّا رَأَتْهُ قَالَتْ خَيْبَةً لَكَ فَلَمَّا انْتَصَفَ النَّهَارُ غُشِيَ عَلَيْهِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ فَفَرِحُوا بِهَا فَرَحًا شَدِيدًا وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنْ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম ১৯১৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৬০, ৩৪৬১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৭. রোযাদার কখন সেহরীতে পানাহার করা হতে বিরত হবে
১৭৩১. ’আদী ইবন হাতিম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, (বাকারা: ১৮৭ নং আয়াত নাযিল হলে) আমি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট গিয়ে এ বিষয়ে) বললাম। ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিয়ে আমার বালিশের নিচে রেখে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমার নিকট কোনো কিছুই (পার্থক্য) প্রকাশিত হল না। তিনি বললেনঃ “তোমার বালিশতো বেশ লম্বা-চওড়া! এ-তো দিনের (আলো) হতে রাতের (আধার)।” তা ছিল আল্লাহ তা’আলার এ বাণী সম্পর্কে: ’’তোমরা পানাহার কর, যতক্ষণ না ফজরের কাল রেখা সাদা রেখা স্পষ্ট রুপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়।”[1] (সুরা বাকারা: ১৮৭)
بَاب مَتَى يُمْسِكُ الْمُتَسَحِّرُ عَنْ الطَّعَامِ وَالشَّرَابِ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شَرِيكٌ عَنْ حُصَيْنٍ عَنْ الشَّعْبِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ جَعَلْتُ تَحْتَ وِسَادَتِي خَيْطًا أَبْيَضَ وَخَيْطًا أَسْوَدَ فَمَا تَبَيَّنَ لِي شَيْءٌ قَالَ إِنَّكَ لَعَرِيضُ الْوِسَادِ وَإِنَّمَا ذَلِكَ اللَّيْلُ مِنْ النَّهَارِ فِي قَوْلِهِ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنْ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنْ الْفَجْرِ
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম ১৯১৬; মুসলিম, সিয়াম ১০৯০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৬২, ৩৪৬৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৪১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৮. দেরীতে সাহারী খাওয়া মুস্তাহাব হওয়া সম্পর্কে
১৭৩২. যায়দ ইবন সাবিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটিকু ব্যবধান ছিল? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমান।[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ مِنْ تَأْخِيرِ السُّحُورِ
أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ قَالَ تَسَحَّرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الصَّلَاةِ قَالَ قُلْتُ كَمْ كَانَ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالسُّحُورِ قَالَ قَدْرُ قِرَاءَةِ خَمْسِينَ آيَةً
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম ১৯২১; মুসলিম, সিয়াম ১০৯৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৯৭ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৯৪৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. সাহরী খাওয়ার ফযীলত
১৭৩৩. আনাস ইবন মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা সাহ্রী খাও , কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ السُّحُورِ
أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম ১৯২৩; মুসলিম, সিয়াম ১০৯৫; এখানে সংযোজন করছি: বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৯০৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৬৬ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৪৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৯. সাহরী খাওয়ার ফযীলত
১৭৩৪. আমর ইবনুল’আসরাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র মুক্তদাস আবী কাইস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমর ইবনুল ’আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমাদেরকে তাঁর সাহারীর জন্য খাদ্য প্রস্তুত করতে বলতেন, কিন্তু তিনি এর বেশির ভাগই গ্রহণ করতেন না। তখন আমরা তাঁকে বললাম: আপনি আমাদেরকে তা (খাদ্য প্রস্তুত করতে) বলেন, কিন্তু এর বেশির ভাগই আপনি গ্রহণ করেন না (এর কারণ কী) ?
তখন তিনি বলেন, আমি আমার ইচ্ছামত তোমাদেরকে একাজ করতে বলি না, বরং আমি রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: “আমাদের রোযার মধ্যে এবং আহলে কিতাবদের রোযার মধ্যে পার্থক্য হ’ল সাহরী খাওয়া।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ السُّحُورِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَيٍّ قَالَ سَمِعْتُ أَبِي يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي قَيْسٍ مَوْلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قَالَ كَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ يَأْمُرُنَا أَنْ نَصْنَعَ لَهُ الطَّعَامَ يَتَسَحَّرُ بِهِ فَلَا يُصِيبُ مِنْهُ كَثِيرًا فَقُلْنَا لَهُ تَأْمُرُنَا بِهِ وَلَا تُصِيبُ مِنْهُ كَثِيرًا قَالَ إِنِّي لَا آمُرُكُمْ بِهِ أَنِّي أَشْتَهِيهِ وَلَكِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১০৯৬
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৭৭ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৩৩৭ তে।;
এখানে সংযোজন করছি: ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ৬/২৪০; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ১/১৯৮-১৯৯; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৭/২৬৪।
পরিচ্ছেদঃ ১০. যে ব্যক্তি রাত থাকতেই সিয়ামের সংকল্প করেনি
১৭৩৫. হাফসা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ফজরের পূর্বেই যে ব্যক্তি সিয়ামের সিদ্ধান্ত না নেয় তার সিয়ামই নেই।”[1]
بَاب مَنْ لَمْ يُجْمِعْ الصِّيَامَ مِنْ اللَّيْلِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ شُرَحْبِيلَ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ لَمْ يُبَيِّتْ الصِّيَامَ قَبْلَ الْفَجْرِ فَلَا صِيَامَ لَهُ قَالَ عَبْد اللَّهِ فِي فَرْضِ الْوَاجِبِ أَقُولُ بِهِ
তাখরীজ: নাসাঈ, সিয়াম ৪/১৯৬; ইবনু আবী শাইবা ৩/৩১ শক্তিশালী সনদে; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭০০; দারুকুতনী ২/১৭২; তিরমিযী, সিয়াম ৭৩০; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২০২; ২২১; আবূ দাউদ, সওম ২৪৫৪; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১৯৩৩; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৩/৯২-৯৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৭৪৪;; আহমাদ ৬/২৮৭।… আরে দেখুন, তালখীসুল হাবীর ২/১৮৮-১৮৯; নাসবুর রায়াহ ২/৪৩৩-৪৩৪; মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আছার ৬/২২৭-২২৮; নাইলুল আওতার ৪/২৬৯-২৭০।
((এরপর মুহাক্বিক্ব এ সনদের রাবীদের সম্পর্কে বিভিন্ন মুহাদ্দিসের বক্তব্য ও মতভেদ উল্লেখ করেছেন এবং যারা বলেছেন এটি মাওকুফ (হাফসার বক্তব্য) হওয়া সহীহ, মারফু’ হিসেবে যয়ীফ, যেমন নাসাঈ, তিরমিযী, আবূ দাউদ, দারুকুতনী, আব্দুর রাযযাক প্রমুখ এবং যারা একে মারফু’ হিসেবে সহীহ বলেছেন যেমন ইবনু হাযম, বাইহাকী, খাত্তাবী প্রমুখ- এ উভয় দলের মতামত উল্লেখ করেছেন।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্রুত (ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে) ইফতার করা
১৭৩৬. সাহল ইবন সা’দ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: লোকেরা যতদিন যাবৎ আগেভাগে (ওয়াকত হওয়ামাত্র) ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের উপর থাকবে।”[1]
بَاب فِي تَعْجِيلِ الْإِفْطَارِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَزَالُ النَّاسُ بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৫৭; মুসলিম, সিয়াম ১০৯৮।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭৫১১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫০২, ৩৫০৬ তে।
‘আগে আগে ইফতার করা এবং দেরীতে সেহরী খাওয়া’ সংক্রান্ত হাদীসসমূহ সহীহ মুতাওয়াতির। ...
পরিচ্ছেদঃ ১১. দ্রুত (ওয়াক্ত হওয়ার সাথে সাথে) ইফতার করা
১৭৩৭. উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রাত্রি ঘনিয়ে আসে এবং দিন পশ্চাদপসরণ করে, আর সূর্য ডুবে যায়, তখন আমি ইফতার করি।”[1]
بَاب فِي تَعْجِيلِ الْإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَاصِمِ بْنِ عُمَرَ عَنْ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَقْبَلَ اللَّيْلُ وَأَدْبَرَ النَّهَارُ وَغَابَتْ الشَّمْسُ فَقَدْ أَفْطَرْتَ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৫৪; মুসলিম, সিয়াম ১১০০।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৪০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৩; মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১২. যা দিয়ে ইফতার করা মুস্তাহাব (পছন্দনীয়)
১৭৩৮. সালমান ইবন আমের রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। নবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমাদের কেউ রোযা রাখে, তখন সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। আর সে যদি খেজুর না পায়, তবে সে যেন পানি দ্বারা ইফতার করে, কেননা পানি পবিত্র।”[1]
بَاب مَا يُسْتَحَبُّ الْإِفْطَارُ عَلَيْهِ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا ثَابِتُ بْنُ يَزِيدَ حَدَّثَنَا عَاصِمٌ عَنْ حَفْصَةَ عَنْ الرَّبَابِ الضَّبِّيَّةِ عَنْ عَمِّهَا سَلْمَانَ بْنِ عَامِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا أَفْطَرَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى تَمْرٍ فَإِنْ لَمْ يَجِدْ فَلْيُفْطِرْ عَلَى مَاءٍ فَإِنَّ الْمَاءَ طَهُورٌ
তাখরীজ: ((আবূ দাউদ, সওম ২৩৫৫; তিরমিযী, সওম ৬৯৫, তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ “; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৯৯; আলবানী তার সহীহুল জামি’ ১/১৫৮ তে বলেন: সহীহ।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৭০১ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৯২, ৮৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৪, ৩৫১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৩. যে ব্যক্তি কোনো রোযাদারকে ইফতার করায়, তার ফযীলত
১৭৩৯. যায়িদ ইবন খালিদ জুহানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায়, তার জন্যও তার (রোযাদারের) সমপরিমাণ সাওয়াব হবে। কিন্তু এতে রোযাদার ব্যক্তির সাওয়াবে কোন ঘাটতি হবে না।”[1]
بَاب الْفَضْلِ لِمَنْ فَطَّرَ صَائِمًا
أَخْبَرَنَا يَعْلَى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ إِلَّا أَنَّهُ لَا يَنْقُصُ مِنْ أَجْرِ الصَّائِمِ
তাখরীজ: ((তিরমিযী, সওম ৮০৬, তিরমিযী বলেন: হাদীসটি হাসান সহীহ “; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৪৬; আলবানী তার সহীহুল জামি’ ৫/৩২৭ তে বলেন: সহীহ।’– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭০১ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৯২, ৮৯৩ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৪, ৩৫১৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সাওমে বিসাল (পানাহার না করে বিরতিহীনভাবে একটানা রোযা রাখা) নিষেধ
১৭৪০. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমরা (সাওমে) ’বিসাল’ (বিরতিহীন রোযা) থেকে বিরত থাক।”- (বাক্যটি তিনি) দু’বার বললেন। তাঁরা (সাহাবীগণ) তাঁকে বললেন, কিন্তু আপনি তো ’সাওমে বেসাল’ করেন। তিনি বললেন: “আমি তো তোমাদের মতো নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করিয়ে থাকেন।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْوِصَالِ فِي الصَّوْمِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِيَّاكُمْ وَالْوِصَالَ مَرَّتَيْنِ قَالُوا فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৬৫; মুসলিম, সিয়াম ১১০৩;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৮৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৭৫, ৩৫৭৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৩৯ তে। সামনে ১৭৪৮ নং এ আসছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সাওমে বিসাল (পানাহার না করে বিরতিহীনভাবে একটানা রোযা রাখা) নিষেধ
১৭৪১. আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা (সাওমে) বেসাল পালন করবে না।” তাঁকে বলা হলো, আপনি যে তা (সাওমে বেসাল) করেন? তিনি বললেন: “আমি তোমাদের কারো মত নই। আমাকে পানাহার করানো হয়।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْوِصَالِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تُوَاصِلُوا قِيلَ إِنَّكَ تَفْعَلُ ذَاكَ قَالَ إِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ إِنِّي أُطْعَمُ وَأُسْقَى
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৬১; মুসলিম, সিয়াম ১১০৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৮৭৪, ৩০৯৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৭৪, ৩৫৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সাওমে বিসাল (পানাহার না করে বিরতিহীনভাবে একটানা রোযা রাখা) নিষেধ
১৭৪২. আবূ সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু খেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছেন যে, “তোমরা ’সাওমে বেসাল’ করবে না। তোমাদের কউ যদি ’সাওমে বেসাল’ করতেই চায়, তবে যেন সাহরীর সময় পর্যন্ত করে। তাঁরা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো সাওমে বেসাল (বিরতিহীন রোযা) পালন করেন? তিনি বললেন: আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার জন্য একজন আহারদাতা রয়েছেন যিনি আমাকে আহার করান এবং আমাকে পান করান।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْوِصَالِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ خَبَّابٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ لَا تُوَاصِلُوا فَأَيُّكُمْ يُرِيدُ أَنْ يُوَاصِلَ فَلْيُوَاصِلْ إِلَى السَّحَرِ قَالُوا إِنَّكَ تُوَاصِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنِّي أَبِيتُ لِي مُطْعِمٌ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِي
তাখরীজ: বুখারী, সওম, ১৯৬৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাওসিলী নং ১১৩৩, ১৪০৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৭৭, ৩৫৭৮।
পরিচ্ছেদঃ ১৪. সাওমে বিসাল (পানাহার না করে বিরতিহীনভাবে একটানা রোযা রাখা) নিষেধ
১৭৪৩. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাওমে) ’বিসাল’ পালন করতে নিষেধ করেছেন। তখন একজন মুসলিম তাঁকে বললেন, ’কিন্তু আপনি তো ’সাওমে বেসাল’ (বিরতিহীন রোযা) রাখেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আমি তো তোমাদের মতো নই। আমি এভাবে রাত যাপন করি যে, আমার প্রতিপালক আমাকে পানাহার করিয়ে থাকেন।”কিন্তু তারা যখন বিরত থাকতে অস্বীকার করলেন, তখন তিনি তাদের সাথে একদিন, তারপর আর একদিন বিরতিহীন রোযা রাখলেন। তারপর তারা নতুন চাঁদ দেখতে পেলেন। তখন রাসূলূল্লাহ (সাঃ) বললেন: “যদি তা (চাঁদ) আরো দেরীতে উদিত হতো, তাহলে আমিও তোমাদের (বিরতিহীন রোযা) বাড়িয়ে দিতাম।” যেন তাদেরকে শাসাচ্ছিলেন যখন তারা বিরত থাকতে অস্বীকার করলেন।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الْوِصَالِ فِي الصَّوْمِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْوِصَالِ فَقَالَ لَهُ رِجَالٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَإِنَّكَ تُوَاصِلُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي لَسْتُ مِثْلَكُمْ إِنِّي أَبِيتُ يُطْعِمُنِي رَبِّي وَيَسْقِينِي فَلَمَّا أَبَوْا أَنْ يَنْتَهُوا عَنْ الْوِصَالِ وَاصَلَ بِهِمْ يَوْمًا ثُمَّ يَوْمًا ثُمَّ رَأَوْا الْهِلَالَ فَقَالَ لَوْ تَأَخَّرَ لَزِدْتُكُمْ كَالْمُنَكِّلِ لَهُمْ حِينَ أَبَوْا أَنْ يَنْتَهُوا
তাখরীজ: এটি ১৭৪৫ (অনূবাদে ১৭৪০) নং এ গত হয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সফরে রোযা রাখা
১৭৪৪. আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, হামযাহ ইবনু আমর আল আসলামী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট জানতে চাইলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি সফরে যেতে চাই। এখন (রোযা রাখার ব্যাপারে) আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তখন তিনি বললেন: “তুমি চাইলে রোযা রাখো, আবার চাইলে রোযা ভঙ্গ কর।”[1]
بَاب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الْأَسْلَمِيَّ سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أُرِيدُ السَّفَرَ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ إِنْ شِئْتَ فَصُمْ وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম, ১৯৪২, ১৯৪৩; মুসলিম, সিয়াম ১১২১।
আমরা এর পূর্ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৫০২, ৪৬৫৪, ৪৯১৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৬০, ৩৫৬৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০১।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সফরে রোযা রাখা
১৭৪৫. ইবন ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের বছরে মক্কার পথে যাত্রা করলেন। তিনি সিয়াম পালন করছিলেন এবং লোকেরাও তাঁর সাথে সিয়াম পালন করছিলেন। কাদীদ নামক স্থানে পৌছার পর তিনি সাওম ভঙ্গ করে ফেললে লোকেরা সকলেই সাওম ভঙ্গ করলেন। লোকেরা যে নতুন কাজটি অবলম্বন করতেন, তা তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমল থেকেই গ্রহণ করতেন।[1]
بَاب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ الْفَتْحِ فَصَامَ وَصَامَ النَّاسُ حَتَّى بَلَغَ الْكَدِيدَ ثُمَّ أَفْطَرَ فَأَفْطَرَ النَّاسُ فَكَانُوا يَأْخُذُونَ بِالْأَحْدَثِ فَالْأَحْدَثِ مِنْ فِعْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম, ১৯৪৪; মুসলিম, সিয়াম ১১১৩।
আমরা এর পূর্ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৫৫, ৩৫৬৩, ৩৫৬৪; মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৪।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সফরে রোযা রাখা
১৭৪৬. জাবির ইবন ’আবদুল্লাহ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে ছিলেন, হঠাৎ তিনি দেখলেন লোকজনের ভীড় এবং এক ব্যক্তিকে ছায়া দেয়া হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: “এর কী হয়েছে?” লোকেরা বলল, সে রোযাদার। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “সফরে রোযা পালন কোন নেকীর কাজ নয়।”[1]
بَاب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ وَأَبُو الْوَلِيدِ قَالَا حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ يُحَدِّثُ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّهُ ذَكَرَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ فِي سَفَرٍ فَرَأَى زِحَامًا وَرَجُلٌ قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ فَقَالَ مَا هَذَا قَالُوا هَذَا صَائِمٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ
তাখরীজ: বুখারী, সিয়াম, ১৯৪৬; মুসলিম, সিয়াম ১১১৫।
আমরা এর পূর্ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৮৮৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৫২, ৩৫৫৩, ৫২৫৪।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সফরে রোযা রাখা
১৭৪৭. কা’ব ইবনু আসিম আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ““সফরে রোযা পালন কোন নেকীর কাজ নয়।”[1]
بَاب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ الْأَشْعَرِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল হুমাইদী নং ৮৮৭। আরো দেখুন পরবর্তী ও পূর্ববর্তী হাদীস দু’টি।
পরিচ্ছেদঃ ১৫. সফরে রোযা রাখা
১৭৪৮. (অপর সনদে) কা’ব ইবনু আসিম আল আশ’আরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সফরে রোযা পালন কোন নেকীর কাজ নয়।”[1]
بَاب الصَّوْمِ فِي السَّفَرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ عَنْ كَعْبِ بْنِ عَاصِمٍ الْأَشْعَرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَيْسَ مِنْ الْبِرِّ الصِّيَامُ فِي السَّفَرِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পূনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ১৬. মুসাফিরের জন্য রোযা ভঙ্গ করার অনুমতি রয়েছে
১৭৪৯. আবী উমাইয়া আয যামরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক সফরে আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে সালাম দিলাম। আমি যখন বের হয়ে আসব, এমন সময় তিনি বললেন: “সকালের নাস্তার জন্য একটু অপেক্ষা করো।” আমি বললাম, ইয়া নবীয়াল্লাহ! আমি রোযাদার। তিনি বললেন : এসো, আমি তোমাকে মুসাফির সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছি। মহান আল্লাহ্ মুসাফিরকে অর্ধেক সালাত এবং রোযা হতে অব্যহতি দিয়েছেন।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ لِلْمُسَافِرِ فِي الْإِفْطَارِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْمُغِيرَةِ حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ عَنْ أَبِي الْمُهَاجِرِ عَنْ أَبِي أُمَيَّةَ الضَّمْرِيِّ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ سَفَرٍ فَسَلَّمْتُ عَلَيْهِ فَلَمَّا ذَهَبْتُ لِأَخْرُجَ قَالَ انْتَظِرْ الْغَدَاءَ يَا أَبَا أُمَيَّةَ قَالَ فَقُلْتُ إِنِّي صَائِمٌ يَا نَبِيَّ اللَّهِ فَقَالَ تَعَالَ أُخْبِرْكَ عَنْ الْمُسَافِرِ إِنَّ اللَّهَ وَضَعَ عَنْهُ الصِّيَامَ وَنِصْفَ الصَّلَاةِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد إِنْ شَاءَ صَامَ وَإِنْ شَاءَ أَفْطَرَ
তাখরীজ: নাসাঈ, সিয়াম ৪/১৭৯, ১৮০; সুনানুল কুবরা নং ২৫৭৬, ২৫৭৭ (সনদ সহীহ), ২৫৭৯, ২৫৮০. ২৫৮২; তাবারাণী, কাবীর ২২/৩৬১ নং ৯০৭; দাওলাবী, আল কুন্নী ১/১৪
পরিচ্ছেদঃ ১৭. কোনো লোক সফরের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কত দূর গিয়ে রোযা ভঙ্গ করতে পারবে:
১৭৫০. উবাইদ ইবনু জুবাইর রাহি. বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবী আবী বাসরাহ আল্-গিফারীর সাথে রামাযান মাসে ’ফুসতাত’ হতে আগমনকারী এক জাহাজে আরোহী ছিলাম। এরপর জাহাজছেড়ে দেয়ার পর তিনি সকালে নাশতা খেতে শুরু করেন। এরপরতিনি বললেন, এসো! আমাদের সাথে খাদ্য গ্রহণ করো। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, আপনি কি আপনার ঘরবাড়ী দেখছেন না? আবী বাসরাহ বলেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাত ত্যাগ করতে চাও?[1]
بَاب مَتَى يُفْطِرُ الرَّجُلُ إِذَا خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ يُرِيدُ السَّفَرَ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ الْمُقْرِئُ حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي أَيُّوبَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ كُلَيْبَ بْنَ ذُهْلٍ الْحَضْرَمِيَّ أَخْبَرَهُ عَنْ عُبَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ قَالَ رَكِبْتُ مَعَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيِّ سَفِينَةً مِنْ الْفُسْطَاطِ فِي رَمَضَانَ فَدَفَعَ فَقَرَّبَ غَدَاءَهُ ثُمَّ قَالَ اقْتَرِبْ فَقُلْتُ أَلَسْتَ تَرَى الْبُيُوتَ فَقَالَ أَبُو بَصْرَةَ أَرَغِبْتَ عَنْ سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৯৮; আবূ দাউদ ২৪১২; তাবারাণী, আল কাবীর ২/২৭৯-২৮০ নং ২১৬৯; ফাসাওয়ী, মা’রিফাতুত তারীখ ২/৪৯২।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে একদিনও রোযা ভঙ্গ করে
১৭৫১. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোনরূপ অনুমোদিত কারণ বা রোগ ব্যতিরেকে রামাযান মাসে একদিনও রোযা ভঙ্গ করে, তবে সে সারা জীবন রোযা রাখলেও তার কাযা আদায় (ক্ষতিপূরণ) হবে না।”[1]
بَاب مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مُتَعَمِّدًا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَارَةَ بْنَ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ ابْنِ الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ شَهْرِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلَا مَرَضٍ فَلَنْ يَقْضِيَهُ صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَلَوْ صَامَ الدَّهْرَ
তাখরীজ: তিরমিযী, সিয়াম ৭২৩; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩২৭৮, ৩২৭৯, ৩২৮০; দারুকুতনী ২/২১১; আহমাদ ২/৪৪২, ৪৭০; ইবনু আবী শাইবা ৩/১০৫; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৭২; আব্দুর রাযযাক নং ৭৪৭৫। পূর্ণ তাখরীজের জন্য পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৮. যে ব্যক্তি রমযান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে একদিনও রোযা ভঙ্গ করে
১৭৫২. (অপর সনদে) আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “কোনরূপ অনুমোদিত কারণ – যার অনুমতি আল্লাহ তাকে দিয়েছেন, সেইরুপ কারণ ব্যতিরেকে যে ব্যক্তি রামাযান মাসে একদিনও রোযা ভঙ্গ করে, তার সারা জীবনের রোযাও এর ক্ষতিপূরণ হবে না।”[1]
بَاب مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مُتَعَمِّدًا
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ أَخْبَرَنِي حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ قَالَ سَمِعْتُ عُمَارَةَ بْنَ عُمَيْرٍ يُحَدِّثُ عَنْ أَبِي الْمُطَوِّسِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ رَخَّصَهُ اللَّهُ لَهُ لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صِيَامُ الدَّهْرِ
তাখরীজ: আগের টীকাটি দেখুন। আবী দাউদ তায়ালিসী ১/১৮৪ নং ৮৭৬; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৬/১৮৩; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২২৮; (অন্য সনদে) আবী দাউদ ২৩৯৬, ২৩৯৭; বুখারী, তা’লিক হিসেবে, সওম; নাসাঈ, কুবরা নং ৩২৮১, ৩২৮২; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ১৯৮৭, ১৯৮৮; আহমাদ ২/৪৭০।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. যে ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী-সহবাস করে, তার সম্পর্কে
১৭৫৩. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো ধ্বংস হয়ে গিয়েছি! রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “কিসে তোমাকে ধ্বংস করলো?” সে বলল, আমি রমযান মাসে (রোযাদার অবস্থায়) আমার স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়েছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাহলে তুমি একটি ক্রীতদাস আযাদ করো। সে বলল, আমার নিকট তো (কোনো ক্রীতদাস) নেই । তিনি বললেন: “তাহলে তুমি একাধারে দু’মাস সাওম পালন করো।” সে বলল, তা করতেও আমি সক্ষম নই। তিনি বললেন: “তাহলে ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও? সে বলল, আমার কাছে (তাও) নেই। তিনি (রাবী) বলেন, এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে একটি ’আরাক’ (ঝুড়ি) পেশ করা হল যাতে খেজুর ছিল। তখন তিনি বললেন: “প্রশ্নকারী কোথায়? এগুলো নিয়ে সাদকা করে দাও।” তখন লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পরিবারের চাইতেও বেশী অভাবগ্রস্থকে (সাদাকা করব)? আল্লাহর শপথ, মদীনার উভয় ’লাবাত’ অর্থাৎ উভয় প্রান্তের মধ্যে আমাদের চাইতে অধিক অভাবগ্রস্থ কোনো পরিবার নেই। তখন রাসূলাল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তবে তোমরাই (এগুলো খাও)।” (একথা বলে) তিনি হেসে উঠলেন এমনকি তাঁর দাঁতসমূহ প্রকাশিত হয়ে পড়লো।[1]
بَاب فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ نَهَارًا
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْهَاشِمِيُّ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ فَقَالَ هَلَكْتُ فَقَالَ وَمَا أَهْلَكَكَ قَالَ وَاقَعْتُ امْرَأَتِي فِي شَهْرِ رَمَضَانَ قَالَ فَأَعْتِقْ رَقَبَةً قَالَ لَيْسَ عِنْدِي قَالَ فَصُمْ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لَا أَسْتَطِيعُ قَالَ فَأَطْعِمْ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لَا أَجِدُ قَالَ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ أَيْنَ السَّائِلُ تَصَدَّقْ بِهَذَا فَقَالَ أَعَلَى أَفْقَرَ مِنْ أَهْلِي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَاللَّهِ مَا بَيْنَ لَابَتَيْهَا أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرَ مِنَّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَنْتُمْ إِذًا وَضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৩৬; মুসলিম, সিয়াম ১১১১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৩৬৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫২৩-৩৫২৭; মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৩৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. যে ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী-সহবাস করে, তার সম্পর্কে
১৭৫৪. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রমযান মাসে রোযা ভঙ্গ করে ফেলে- অতঃপর তিনি পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করেন।[1]
بَاب فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ نَهَارًا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَجُلًا أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ
তাখরীজ: মালিক, সিয়াম ২৮; এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। তাই পূর্ণ তাখরীজের জন্য সেখানে দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ১৯. যে ব্যক্তি রমযান মাসে দিনের বেলায় স্ত্রী-সহবাস করে, তার সম্পর্কে
১৭৫৫. আব্বাদ ইবনু আব্দুল্লাহ ইবনুয যুবাইর রাহি. ’আয়িশা (রা) কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে কিছু (সাদাকা) চাইল। এরপর লোকটি বলল যে, সে তো জ্বলে-পুড়ে (ধ্বংস হয়ে) গেছে। তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন যে, তার কি হয়েছে? উত্তরে লোকটি বলল যে, সে রমযানে স্ত্রী-সহবাস করে ফেলেছে। এ সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে (খেজুর ভর্তি) একটি ঝুড়ি এল, যাকে ’আরাক (খেজুর পাতার তৈরী ঝুড়ি) বলা হয়। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “অগ্নিদগ্ধ লোকটি কোথায়?” লোকটি উঠে দাঁড়ালো। তখন তিনি বললেন: “এগুলো সাদকা করে দাও।”[1]
بَاب فِي الَّذِي يَقَعُ عَلَى امْرَأَتِهِ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ نَهَارًا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا يَحْيَى يَعْنِي ابْنَ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيَّ أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الْقَاسِمِ أَخْبَرَهُ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ جَعْفَرِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ سَمِعَ عَبَّادَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ أَنَّهُ سَمِعَ عَائِشَةَ تَقُولُ إِنَّ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ إِنَّهُ احْتَرَقَ فَسَأَلَهُ مَا لَهُ فَقَالَ أَصَابَ أَهْلَهُ فِي رَمَضَانَ فَأُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِكْتَلٍ يُدْعَى الْعَرَقَ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ أَيْنَ الْمُحْتَرِقُ فَقَامَ الرَّجُلُ فَقَالَ تَصَدَّقْ بِهَذَا
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৩৫; মুসলিম, সিয়াম ১১১২; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৬৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. কোনো মহিলার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৭৫৬. আবী সাঈদ আল খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো এক মহিলাকে বলেছিলেন: “তুমি তার (অর্থাৎ স্বামীর) অনুমতি ব্যতীত রোযা রাখবে না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ صَوْمِ الْمَرْأَةِ تَطَوُّعًا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ عَنْ الْأَعْمَشِ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِامْرَأَةٍ لَا تَصُومِي إِلَّا بِإِذْنِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ ও টীকা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১০৩৭, ১১৭৪; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৪৮৮ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৫৬তে।
((আবূ দাউদ, সওম ২৪৫৯; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৬২ আবী সাঈদ থেকে মাওকুফ হিসেবে; আহমাদ ৩/৮০-৮৪; আলবানী তার সহীহহুল জামি’ ৬/১৬১ তে একে সহীহ বলেছেন।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী হা/১৭১৯ এর টীকা থেকে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২০. কোনো মহিলার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৭৫৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো স্ত্রীলোক রমযান ব্যতীত অন্য সময়ে তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত একটি দিনও রোযা রাখবে না।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ صَوْمِ الْمَرْأَةِ تَطَوُّعًا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ يَوْمًا تَطَوُّعًا فِي غَيْرِ رَمَضَانَ وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ
তাখরীজ: বুখারী, নিকাহ ৫১৯২; মুসলিম, সিয়াম ১০২৬।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৭৩; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৭২, ৩৫৭৩ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২০. কোনো মহিলার স্বামীর অনুমতি ব্যতীত নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৭৫৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “কোনো স্ত্রীলোক রমযান ব্যতীত অন্য সময়ে তার স্বামীর উপস্থিতিতে তার অনুমতি ব্যতীত একটি দিনও রোযা রাখবে না।”[1]
তিনি বলেন: তবে, মানতের রোযা থাকলে সে তা পূর্ণ করবে।
بَاب النَّهْيِ عَنْ صَوْمِ الْمَرْأَةِ تَطَوُّعًا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ مُوسَى بْنِ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصُومُ الْمَرْأَةُ يَوْمًا وَزَوْجُهَا شَاهِدٌ إِلَّا بِإِذْنِهِ مَعْنَاهُ قَالَ فِي النُّذُورِ تَفِي بِهِ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। এছাড়া বর্ণনা করেছেন, হুমাইদী তার মুসনাদে নং ১০৪৬ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. রোযাদারের জন্য (স্ত্রীকে) চুম্বন করার অনুমতি রয়েছে
১৭৫৯. ’আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদার অবস্থায় চুম্বন করতেন।[1] এরপর উরওয়াহ (বর্ণনাকারী) বলেন, তবে সেটি (সবসময়) কল্যাণ বয়ে আনে না (অকল্যাণের কারণও হতে পারে)।
بَاب الرُّخْصَةِ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُقَبِّلُ وَهُوَ صَائِمٌ فَقَالَ عُرْوَةُ أَمَا إِنَّهَا لَا تَدْعُو إِلَى خَيْرٍ
তাখরীজ: এটি ৬৫৮ নং এ গত হয়েছে। আরো দেখুন, মুসনাদুল হুমাইদী নং ১৯৮, ১৯৯ ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪২৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২১. রোযাদারের জন্য (স্ত্রীকে) চুম্বন করার অনুমতি রয়েছে
১৭৬০. (অপর সনদে) ’আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদার অবস্থায় তাঁকে চুম্বন করতেন।[1]
بَاب الرُّخْصَةِ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
أَخْبَرَنَا سَعْدُ بْنُ حَفْصٍ الطَّلْحِيُّ حَدَّثَنَا شَيْبَانُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُقَبِّلُهَا وَهُوَ صَائِمٌ
তাখরীজ: এটি পূর্বের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২১. রোযাদারের জন্য (স্ত্রীকে) চুম্বন করার অনুমতি রয়েছে
১৭৬১. জাবির ইবন আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, একদা রোযাদার অবস্থায় আমি (আমার স্ত্রীর সাথে) আনন্দ করতে করতে চুম্বন করে ফেলি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আজ আমি একটি গুরুতর কাজ করে ফেলেছি - রোযাদার অবস্থায় আমি (আমার স্ত্রীকে) চুম্বন করে ফেলেছি।’ তিনি বলেন, “তুমি যদি (রোযাদার অবস্থায়) পানি দিয়ে কুলি করতে, তবে (সে ক্ষেত্রে) তোমার মতামত কি? আমি বলি, ’সেক্ষেত্রে তো কোন ক্ষতি হতো না।’ তিনি বললেন: “তদ্রূপ এতে আর কি?”[1] (কোনো ক্ষতি নেই)।
بَاب الرُّخْصَةِ فِي الْقُبْلَةِ لِلصَّائِمِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ حَدَّثَنَا لَيْثُ بْنُ سَعْدٍ عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَشَجِّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ هَشِشْتُ فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ فَجِئْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ إِنِّي صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا قَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ قَالَ أَرَأَيْتَ لَوْ مَضْمَضْتَ مِنْ الْمَاءِ قُلْتُ إِذًا لَا يَضِيرُ قَالَ فَفِيمَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৪৪ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৫ তে। এছাড়া ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ৬/২০৯ আবূ দাউদের সনদে। ((আবূ দাউদ ২৩৮৫-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২২. যে ব্যক্তি রোযা রাখার ইচ্ছা নিয়ে জুনুবী’ অবস্থায় ভোরে ওঠে, তার সম্পর্কে
১৭৬২. উম্মু সালামাহ ও আয়িশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা উভয়ে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিজনের সাথে (সহবাস জনিত) কারণে ’জুনুবী’ (অপবিত্র) অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন এবং এরপর রোযা রাখতেন।[1]
بَاب فِيمَنْ يُصْبِحُ جُنُبًا وَهُوَ يُرِيدُ الصَّوْمَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ يَعْنِي ابْنَ جُرَيْجٍ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ شِهَابٍ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ أَخْبَرَهُ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ أُمَّ سَلَمَةَ وَعَائِشَةَ أَخْبَرتَاهُ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصْبِحُ جُنُبًا مِنْ أَهْلِهِ ثُمَّ يَصُومُ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯২৬; মুসলিম, সিয়াম ১১০৯।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৮৭, ৩৪৮৯, ৩৪৯৬, ৩৪৯৮ তে। আর আয়িশা রা: এর একাকী বর্ণিত হাদীসটির তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৪২৭, ৪৫৫১, ৪৬৩৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৮৮, ৩৪৯০, ৩৪৯১ তে।
আর উম্মু সালামার হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৫৪৫, ৬৯৬২, ৬৯৯৯; ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫০০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যে (রোযাদার) ব্যক্তি ভুলে যাওয়ার কারণে (কোনো কিছু) খেয়ে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৭৬৩. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি সাওমরত অবস্থায় ভুলক্রমে আহার করে বা পান করে ফেলে, তবে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে আহার করিয়েছেন এবং তিনিই তাকে পান করিয়েছেন।”[1]
بَاب فِيمَنْ أَكَلَ نَاسِيًا
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৩৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৫৫।
রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬০৩৮, ৬০৫৮, ৬০৭১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৯, ৩৫২০, ৩৫২২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যে (রোযাদার) ব্যক্তি ভুলে যাওয়ার কারণে (কোনো কিছু) খেয়ে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৭৬৪. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমাদের মধ্যে কোনো ব্যক্তি সাওমরত অবস্থায় যদি ভুলক্রমে কিছু আহার করে বা পান করে ফেলে, এরপর তার (সিয়ামের কথা) স্মরণ হয়, তবে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে আহার করিয়েছেন এবং তিনিই তাকে পান করিয়েছেন।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন: হিজাযবাসী গণ বলেন, তাকে এ রোযার কাযা আদায় করতে হবে। তবে আমার মতে, এর কাযা আদায় করতে হবে না।
بَاب فِيمَنْ أَكَلَ نَاسِيًا
أَخْبَرَنَا أَبُو جَعْفَرٍ مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ الْجَمَّالُ حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَعِيلَ عَنْ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي ذُبَابٍ عَنْ عَمِّهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ أَوْ شَرِبَ نَاسِيًا وَهُوَ صَائِمٌ ثُمَّ ذَكَرَ فَلْيُتِمَّ صِيَامَهُ فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللَّهُ وَسَقَاهُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَهْلُ الْحِجَازِ يَقُولُونَ يَقْضِي وَأَنَا أَقُولُ لَا يَقْضِي
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি।
পরিচ্ছেদঃ ২৪. রোযাদারের বমি করা
১৭৬৫. মা’দান ইবনু তালহা (রাহি.) আবূ দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বমি করেন, এরপর রোযা ভঙ্গ করেন। তিনি বলেন, তারপর (একদা) দামেশকের এক মসজিদে আমার সাথে সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর দেখা হয়। আমি তাঁর নিকট এ (হাদীস)টি বর্ণনা করলে তিনি (সাওবান) বলেন, তিনি সত্য বলেছেন। আর ঐ সময় আমি তাঁকে ওযূর জন্য পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।[1] [আব্দুল্লাহ বলেন: যখন ইচ্ছাকৃত বমি করে।]
بَاب الْقَيْءِ لِلصَّائِمِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنِي أَبِي حَدَّثَنِي حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَاءَ فَأَفْطَرَ قَالَ فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ بِمَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ الْوَضُوءَ قَالَ عَبْد اللَّهِ إِذَا اسْتَقَاءَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ১১/৪৮৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১০৯৭ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৮ তে। সেখানে আমরা ছাওবান রা: এর হাদীসের তাখরীজ দিয়েছি এবং এর শাহিদ হাদীসসমূহও উল্লেখ করেছি।
((আবূ দাউদ, সিয়াম ২৩৮১; দারুকুতনী, সিয়াম ২/১৮১ নং ৫; আবূ তাইয়্যেব ‘হামিশ দারুকুতনী’ ২/১৮১ তে বলেন: ইবনু মানদাহ বলেন, এর সনদ সহীহ মুত্তাসিল।; তিরমিযী বলেন: ‘ জাওদাহ হুসাইন হলেন মুয়াল্লিম আর তিনি এ বাবের মধ্যে সবচেয়ে সহীহ।’ আহমাদ ও অনুরূপ বলেছেন। আর বাইহাকী বলেন: সঠিক কথা হলো, ইচ্ছাকৃত বমিকারী ব্যক্তির উপর (কাযার) দায়িত্ব রয়েছে।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭২৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৫. এ (বমি করার) ব্যাপারে অনুমতি
১৭৬৬. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি রোযা থাকাবস্থায় অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তার জন্য কাযা আদায় করা জরুরী নয়। অবশ্য যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে তবে তার জন্য কাযা আদায় জরুরী।”[1]
’ঈসা বলেন: বছরাবাসীর ধারণা, হিশাম এ ব্যাপারে ভূল করেছেন। আর এটি মতভেদেরই স্থান।
بَاب الرُّخْصَةِ فِيهِ
أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ عَنْ هِشَامِ بْنِ حَسَّانَ عَنْ ابْنِ سِيرِينَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا ذَرَعَ الصَّائِمَ الْقَيْءُ وَهُوَ لَا يُرِيدُهُ فَلَا قَضَاءَ عَلَيْهِ وَإِذَا اسْتَقَاءَ فَعَلَيْهِ الْقَضَاءُ قَالَ عِيسَى زَعَمَ أَهْلُ الْبَصْرَةِ أَنَّ هِشَامًا أَوْهَمَ فِيهِ فَمَوْضِعُ الْخِلَافِ هَا هُنَا
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও এর শাহিদ হাদীস হাদীস উল্লেখ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী ৬৬০৪ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫১৮ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০৭ তে। এছাড়াও, এখানে সংযোজন করছি: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৩৮৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৬/১৭৫।
((আবূ দাউদ, সওম ২৩৮০; তিরমিযী, সওম ৭২০; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৭৬; আহমাদ ২/৪৯৮; তায়ালিসী নং ৯৯৩; দারুকুতনী, সিয়াম ২১, ২২, ২৫।- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭২৯ তথা অত্র হাদীসের টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৬. হিজামাহ (শিঙা লাগানো) রোযাদারের রোযা ভেঙ্গে দেয়
১৭৬৭. শাদ্দাদ ইবনু আওস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে (বাকী নামক স্থানে) হাঁটছিলাম। তখন রমযান মাসের আঠার দিন গত হয়েছে। তিনি এক ব্যক্তিকে শিঙা লাগাতে (রক্তমোক্ষণ করতে) দেখলেন। তখন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ শিঙা যে লাগালো (রক্তমোক্ষণকারী) ও যাকে লাগিয়ে দেয়া হলো (যার রক্তমোক্ষণ করা হলো), তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।”[1]
بَاب الْحِجَامَةِ تُفْطِرُ الصَّائِمَ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا عَاصِمٌ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ أَبِي الْأَشْعَثِ الصَّنْعَانِيِّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ قَالَ مَرَرْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ثَمَانِ عَشْرَةَ خَلَتْ مِنْ رَمَضَانَ فَأَبْصَرَ رَجُلًا يَحْتَجِمُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী ১০/২৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩৩, ৩৫৩৪ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯০০, ৯০১ তে। পরবর্তী হাদীসটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ২৬. হিজামাহ (শিঙা লাগানো) রোযাদারের রোযা ভেঙ্গে দেয়
১৭৬৮. ছাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন যে, একদা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাকী নামক স্থানে হাঁটছিলেন। তখন এক ব্যক্তি শিঙা লাগাচ্ছিল (রক্তমোক্ষণ করছিল)। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “শিঙা যে লাগালো (রক্তমোক্ষণকারী) ও যাকে লাগিয়ে দেয়া হলো (যার রক্তমোক্ষণ করা হলো), তারা উভয়ে রোযা ভঙ্গ করেছে।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন: আমি রমযান মাসের রোযা রাখা অবস্থায় ’হিজামাহ’ (শিঙা লাগানো) থেকে বিরত থাকি।
بَاب الْحِجَامَةِ تُفْطِرُ الصَّائِمَ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ أَبِي قِلَابَةَ أَنَّ أَبَا أَسْمَاءَ الرَّحَبِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ ثَوْبَانَ حَدَّثَهُ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي بِالْبَقِيعِ فَإِذَا رَجُلٌ يَحْتَجِمُ فَقَالَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَنَا أَتَّقِي الْحِجَامَةَ فِي الصَّوْمِ فِي رَمَضَانَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী ১০/২৩১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩২ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৯৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ২৭. যে রোযাদার ব্যক্তি গীবত করে, তার সিয়াম (এর সাওয়াব) নষ্ট হয়ে যায়
১৭৬৯. আবু উবায়দা ইবনুল জাররাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন যে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি: “সাওম ঢালস্বরুপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ভেঙ্গে ফেলা না হয়।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: গীবতের দ্বারা (নষ্ট করা)।
بَاب الصَّائِمِ يَغْتَابُ فَيَخْرِقُ صَوْمَهُ
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ عَنْ بَشَّارِ بْنِ أَبِي سَيْفٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ عِيَاضِ بْنِ غُطَيْفٍ عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ الصَّوْمُ جُنَّةٌ مَا لَمْ يَخْرِقْهَا قَالَ أَبُو مُحَمَّد يَعْنِي بِالْغِيبَةِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৮৭৮ বিস্তারিতভাবে ও মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৩৮৩০ তে।
এছাড়া, বুখারী, আল কাবীর ৭/২১; ((নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৪৩। আলবানী যয়ীফুল জামি’ ১/২৮৯ তে একে যয়ীফ বলেছেন।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৩২ তথা অত্র হাদীসের টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ২৮. রোযাদার ব্যক্তির সুরমা ব্যবহার করা
১৭৭০. আবদুর রহমান ইবনু নু’মান আবী নু’মান আল আনসারী রাহি. তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর তার নিকট এসে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছেন এবং বলেছেন: “দিনের বেলায় রোযাদার অবস্থায় তুমি (চোখে) সুরমা ব্যবহার করবে না বরং রাতে সুরমা ব্যবহার করবে। কেননা, তা দৃষ্টিকে উজ্জ্বল ও স্পষ্ট করে এবং বোধ-বুদ্ধি উৎপন্ন করে।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, সুরমা লাগানোয় আমি কোনো দোষ দেখি না।
بَاب الْكُحْلِ لِلصَّائِمِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ النُّعْمَانِ أَبُو النُّعْمَانِ الْأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنِي أَبِي عَنْ جَدِّي وَكَانَ جَدِّي قَدْ أُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِهِ وَقَالَ لَا تَكْتَحِلْ بِالنَّهَارِ وَأَنْتَ صَائِمٌ اكْتَحِلْ لَيْلًا بِالْإِثْمِدِ فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ وَيُنْبِتُ الشَّعَرَ قَالَ أَبُو مُحَمَّد لَا أَرَى بِالْكُحْلِ بَأْسًا
তাখরীজ: বুখারী, আল কাবীর ৭/৩৯৮; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৬২; তাবারাণী, আল কাবীর ২০/৩৪১ নং ৮০২; আহমাদ ৩/৪৯৯-৫০০; আবূ দাউদ, সওম ২৩৭৭; ইবনুল আছীর, আসদুল গাবাহ ৫/২২৩; ইবনুল কানি’,মু’জামুস সাহাবাহ নং ১০৫৯; ইমাম আবূ দাঊদ (র) বলেন, আমাকে ইয়াহ্ইয়া ইবন মা‘ঈন বলেছেন, সুরমা ব্যবহার সংক্রান্ত এ হাদীসটি মুনকার (অস্বীকৃত তথা গ্রহণীয় নয়)।...
পরিচ্ছেদঃ ২৯. আল্লাহ তা’আলার বাণী: 'ফলে তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা রাখে' - এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে
১৭৭১. সালামা ইবনুল আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাযিল হয়ঃ (অর্থ:) ’’আর যারা এ ব্যাপারে (রোযা রাখতে) সক্ষম, তারা তারপরিবর্তে একজন মিসকীনকে খাদ্য দান করবে।” (সূরা বাক্বারা: ১৮৭) তিনি বলেন, তখন আমাদের মধ্যে যারা রোযা না রেখে ফিদিয়া (খাদ্য) দেওয়ার ইচ্ছা করতো, তারা তা করতো, যতক্ষণ না এর পরবর্তী আয়াতটি নাযিল হয়, যা পূরবর্তী আয়াতের হুকুম মানসূখ (রহিত) করে দেয়।[1]
بَاب فِي تَفْسِيرِ قَوْلِهِ تَعَالَى فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمْ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي بَكْرٌ هُوَ ابْنُ مُضَرَ عَنْ عَمْرِو بْنِ الْحَارِثِ عَنْ يَزِيدَ مَوْلَى سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ أَنَّهُ قَالَ لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ قَالَ كَانَ مَنْ أَرَادَ أَنْ يُفْطِرَ وَيَفْتَدِيَ فَعَلَ حَتَّى نَزَلَتْ الْآيَةُ الَّتِي بَعْدَهَا فَنَسَخَتْهَا
তাখরীজ: বুখারী, তাফসীর ৪৫০৬; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৫।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ এবং টীকা দিয়েছি ‘নাওয়াসিখুল কুরআন ওয়া মানসূখাহ- নাওয়াসিখুল কুরআন পৃ: ২০৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৭৮, ৩৪৮৯, ৩৬২৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি নফল রোযার নিয়াত করে সকালে (ঘুম থেকে) উঠে এরপর রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৭৭২. উম্মু হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, (একবার) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিকট প্রবেশ করলেন, আর তখন তিনি রোযাদার ছিলেন। এমতাবস্থায় তাঁর নিকট কিছু শরবত এল। এরপর তিনি এ থেকে পান করলেন, এরপর তাকে তা দিলেন। তিনিও তা থেকে কিছু পান করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তা যদি রমযানের রোযার কাযা আদায় করার জন্য হয়ে থাকে, তবে অন্য একদিন রোযা রাখবে। আর যদি তা নফল রোযা হয়ে থাকে, তবে তুমি চাইলে এর কাযা আদায় করবে, না চাইলে এর কাযা আদায় করবে না।”[1]
بَاب فِيمَنْ يُصْبِحُ صَائِمًا تَطَوُّعًا ثُمَّ يُفْطِرُ
أَخْبَرَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ عَنْ هَارُونَ ابْنِ ابْنَةِ أُمِّ هَانِئٍ أَوْ ابْنِ ابْنِ أُمِّ هَانِئٍ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا وَهِيَ صَائِمَةٌ فَأُتِيَ بِإِنَاءٍ فَشَرِبَ ثُمَّ نَاوَلَهَا فَشَرِبَتْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنْ كَانَ قَضَاءَ رَمَضَانَ فَصُومِي يَوْمًا آخَرَ وَإِنْ كَانَ تَطَوُّعًا فَإِنْ شِئْتِ فَاقْضِيهِ وَإِنْ شِئْتِ فَلَا تَقْضِيهِ
তাখরীজ: তায়ালিসী ১/১৯১ নং ৯১৬; বাইহাকী ৪/২৭৮; মা’রিফাহ নং ৮৯২০; আহমাদ ৬/৩৪৩; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/৪০৭ নং ৯৯০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩৩০৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/১০৭; দারুকুতনী, সুনান ২/১৭৪ নং ১২; তিরমিযী, সওম ৭৩১, ৭৩২; হাকিম ১/৪৩৯; পরবর্তী হাদীসটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩০. যে ব্যক্তি নফল রোযার নিয়াত করে সকালে (ঘুম থেকে) উঠে এরপর রোযা ভেঙ্গে ফেলে, তার সম্পর্কে
১৭৭৩. উম্মে হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন ফাতিমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আগমন করেন। এরপর তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বামদিকে উপবেশন করেন এবং উম্মে হানী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা ডানদিকে। তিনি (রাবী) বলেন, এ সময় জনৈক দাসী একটি পাত্রে কিছু পানীয় দ্রব্য এনে পেশ করলে তিনি তা পান করেন। এরপর তিনি তা (এর অবশিষ্টাংশ) উম্মে হানীকে পান করতে দেন। তিনি তা পান করে বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ্! আমি তো ইফতার করে ফেললাম, কিন্তু আমি যে রোযা ছিলাম। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন: “তুমি কি কোন (রোযার) কাযা আদায় করছিলে?” তিনি বলেন, না। তিনি বলেন: “যদি তা নফল রোযা হয়, তবে এতে তোমার কোন ক্ষতি হবে না।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন: এটিই আমার মত।
بَاب فِيمَنْ يُصْبِحُ صَائِمًا تَطَوُّعًا ثُمَّ يُفْطِرُ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ أُمِّ هَانِئٍ قَالَتْ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ جَاءَتْ فَاطِمَةُ فَجَلَسَتْ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُمُّ هَانِئٍ عَنْ يَمِينِهِ قَالَتْ فَجَاءَتْ الْوَلِيدَةُ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ فَنَاوَلَتْهُ فَشَرِبَ مِنْهُ ثُمَّ نَاوَلَهُ أُمَّ هَانِئٍ فَشَرِبَتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ أَفْطَرْتُ وَكُنْتُ صَائِمَةً فَقَالَ لَهَا أَكُنْتِ تَقْضِينَ شَيْئًا قَالَتْ لَا قَالَ فَلَا يَضُرُّكِ إِنْ كَانَ تَطَوُّعًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد أَقُولُ بِهِ
তাখরীজ: আবূ দাউদ, সওম ২৪৫৬; তার সূত্রে বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৭৭।
নাসাঈ বলেন: “এ হাদীসটি মুযতারিব (বিক্ষিপ্ত)।… আর জা’দাহ’র হাদীসের বিষয়টি হলো, তিনি উম্মু হানী থেকে কোনো কিছু শ্রবণ করেননি।”
তুর্কমানী ‘জাওহারুন নাক্বী হামিশ বাইহাকী ৪/২৭৮ তে বলেন: “এ হাদীসটি মতন ও সনদের দিক থেকে ‘ইযতিরাব’যুক্ত (বিক্ষিপ্ততা)।….
পরিচ্ছেদঃ ৩১. রোযাদারকে খাওয়ার জন্য আহবান করা হলে সে যেনো বলে 'আমি রোযাদার'
১৭৭৪. আবূ হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ রোযা রাখলে যদি তাকে খাওয়ার জন্য ডাকা হয়, তবে সে যেনো বলে, ’আমি রোযাদার’।[1]
بَاب مَنْ دُعِيَ إِلَى الطَّعَامِ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ
أَخْبَرَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ وَهُوَ صَائِمٌ فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৫০; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ৭/৩৩ ((আবূ দাউদ ২৪৬১, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ-অনুবাদক।)) আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২৮০ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৪২, ১০৪৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩২. রোযাদারের নিকট বসে খাওয়া হলে (রোযাদার যে ফযীলত লাভ করে), তা সম্পর্কে
১৭৭৫. উম্মু ’উমারা বিনতে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের এখানে আসলে আমরা তাঁর সামনে খাদ্যসামগ্রী পরিবেশন করলাম। তখন তিনি তাকে বলেনঃ “তুমি খাও।” তখন তিনি (উমারাহ) বলেন: ’আমি তো রোযাদার।’ তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যখন রোযাদারের সামনে আহার করা হয়, তখন ফেরেশতাগণ তার জন্য (আল্লাহর) অনুগ্রহ কামনা করতে থাকেন, যতক্ষণ তারা আহার করা হতে বিরত না হয়।” তিনি (বর্ণনাকারী) কখনো বলেন, “যতক্ষণ তারা তাদের আহার গ্রহণ শেষ না করে।”[1]
بَاب فِي الصَّائِمِ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ
أَخْبَرَنَا هَاشِمُ بْنُ الْقَاسِمِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ حَبِيبٍ الْأَنْصَارِيِّ قَالَ سَمِعْتُ مَوْلَاةً لَنَا يُقَالُ لَهَا لَيْلَى تُحَدِّثُ عَنْ جَدَّتِهَا أُمِّ عُمَارَةَ بِنْتِ كَعْبٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ عَلَيْهَا فَدَعَتْ لَهُ بِطَعَامٍ فَقَالَ لَهَا كُلِي فَقَالَتْ إِنِّي صَائِمَةٌ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ الصَّائِمَ إِذَا أُكِلَ عِنْدَهُ صَلَّتْ عَلَيْهِ الْمَلَائِكَةُ حَتَّى يَفْرُغُوا وَرُبَّمَا قَالَ حَتَّى يَقْضُوا أَكْلَهُمْ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি ও মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১৪৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩০ এবং মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৫৩ তে।
এছাড়া, নাসাঈ, আল কুবরা নং ৩২৬৭, ৩২৬৮। ((তিরমিযী, সওম ৭৮৫; তিনি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৪৮; আহমাদ ৬/৩৬৫, ৪৩৯; তায়ালিসী ১৬৬৬; আলবানী যয়ীফূল জামি’ ২/৫৪ তে বলেন: যয়ীফ’।– ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীর্ক্ককৃত দারেমী হা/১৭৩৮ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৩. শা’বান কে রমযানের সাথে সংযুক্ত করা
১৭৭৬. উম্মু সালামাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে শা’বান ব্যতীত আর কোন মাসে পুরা মাসব্যাপী সাওম পালন করতে দেখি নি। আর তিনি একে (শাবান মাসের রোযাকে) রমযানের সাথে মিলিয়ে দিতেন, যাতে একাধারে দু’মাস (সাওম পালন) হয়ে যায়। কোনো মাসে তিনি এমনভাবে (নফল) সাওম পালন করতে থাকতেন এমনকি আমরা বলতাম, তিনি হয়তো আর সাওম পালন পরিত্যাগই করবেন না।’ আবার (কখনো) এতদিন ধরে সাওম পালন পরিত্যাগ করতেন এমনকি আমরা বলতাম, ’তিনি (হয়তো আর) সাওমই পালন করবেন না।’[1]
بَاب فِي وِصَالِ شَعْبَانَ بِرَمَضَانَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ قَالَتْ مَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَامَ شَهْرًا تَامًّا إِلَّا شَعْبَانَ فَإِنَّهُ كَانَ يَصِلُهُ بِرَمَضَانَ لِيَكُونَا شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ وَكَانَ يَصُومُ مِنْ الشَّهْرِ حَتَّى نَقُولَ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ لَا يَصُومُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬৯৭০ তে। আর এর শাহিদ হাদীস রয়েছে আয়িশা রা: হতে বুখারী ও মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনায়। সেটির তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৩, ৪৭৫১ তে।
((আবূ দাউদ, সওম ২৩৩৬; তিরমিযী, সওম ৭৩৬ তিনি একে হাসান বলেছেন। নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৩৩, ৩৪, ৭০; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৪৮।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীর্ক্ককৃত দারেমী হা/১৭৩৯ এর টীকা হতে।–অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. শা’বান মাসের অর্ধেক অতিক্রান্ত হওয়ার পরে সিয়াম পালন করা নিষিদ্ধ
১৭৭৭. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যখন শা’বান মাসের অর্ধেক (১৫ তারিখ) অতিবাহিত হয়, তখন তোমরা সাওম পালন হতে বিরত হয়ে যাবে।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الصَّوْمِ بَعْدَ انْتِصَافِ شَعْبَانَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْحَنَفِيُّ يُقَالُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا كَانَ النِّصْفُ مِنْ شَعْبَانَ فَأَمْسِكُوا عَنْ الصَّوْمِ
তাখরীজ: তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/২৮; আহমাদ ২/৪৪২; ইবনু আবী শাইবা ৩/২১; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৯১১; আব্দুর রাযযাক নং ৭৩২৫; আবূ দাউদ, সওম ২৩৩৭; তিরমিযী, সওম ৭৩৮; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৬৫১; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২০৯; ইবনু হিব্বান, আস সহীহ নং ৩৫৮৯; মাওয়ারিদ নং ৮৭৬; খতীব, তারীখ বাগদাদ ৮/৪৮; আবূ নুয়াইম যিকরু আখবারু আসবাহান ১/২৮৩; ইবনু আদী আল কামিল ২/৪৭৬, ৪/১৬১৭।
পরিচ্ছেদঃ ৩৪. শা’বান মাসের অর্ধেক অতিক্রান্ত হওয়ার পরে সিয়াম পালন করা নিষিদ্ধ
১৭৭৮. (অপর সনদে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الصَّوْمِ بَعْدَ انْتِصَافِ شَعْبَانَ
أَخْبَرَنَا الْحَكَمُ بْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ الْعَلَاءِ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَ هَذَا
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। দেখুন, মাকাসিদুল হাসানাহ নং ৫৫, শাযারাহ নং ৫১; কাশফুল খফা’ নং ২০৯।
পরিচ্ছেদঃ ৩৫. মাসের শেষের দিকে রোযা রাখা
১৭৭৯. ইমরান ইবন হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করেন: “তুমি কি এ মাসের শেষে[1] রোযা রাখ?” সে বলে, না। তিনি বললেনঃ “যখন তুমি রামাযানের রোযা শেষ করবে, তখন দু’দিন রোযা রাখবে।”[2]আবূ মুহাম্মদ বলেন, ’سَرَرُهُ’ অর্থ: ’آخِرُهُ’ ’এর শেষাংশে’।
بَاب الصَّوْمِ مِنْ سَرَرِ الشَّهْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا الْجُرَيْرِيُّ عَنْ أَبِي الْعَلَاءِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ مُطَرِّفٍ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِرَجُلٍ هَلْ صُمْتَ مِنْ سَرَرِ هَذَا الشَّهْرِ فَقَالَ لَا قَالَ فَإِذَا أَفْطَرْتَ مِنْ رَمَضَانَ فَصُمْ يَوْمَيْنِ قَالَ أَبُو مُحَمَّد سَرَرُهُ آخِرُهُ
[2] তাহক্বীক্ব: এর সনদ সহীহ। আর হাদীসটি বুখারী মুসলিমের সম্মিলিত বর্ণনা।
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯৮৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৬১। এছাড়াও তাবারাণী, আল কাবীর ১৮/১১৪, ১১৫, ১১৬ নং ২১৯-২২৫; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আাছার ২/৮৪; বাইহাকী, মা’রিফাহ নং ৮৫৯৬; ইবনু হাযম আল মুহাল্লা ৭/২৪।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ এবং টীকা দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮৭, ৩৫৮৮ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৬. নাবী (ﷺ) এর সিয়াম সম্পর্কে
১৭৮০. ইবন ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমযান ব্যতীত কোন মাসে পুরা মাসব্যাপী সাওম পালন করেন নাই। তিনি (নফল) সাওম পালন করা শুরু করলে তা করতেই থাকতেন, এমনকি কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, ’আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন পরিত্যাগ করবেন না।’ আবার এমনভাবে (নফল) সাওম পরিত্যাগ করে চলতেন যে, কেউ বলতে চাইলে বলতে পারতো, ’আল্লাহর কসম! তিনি আর সাওম পালন করবেন না।’[1]
بَاب فِي صِيَامِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَا صَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ وَإِنْ كَانَ لَيَصُومُ إِذَا صَامَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لَا وَاللَّهِ لَا يُفْطِرُ وَيُفْطِرُ إِذَا أَفْطَرَ حَتَّى يَقُولَ الْقَائِلُ لَا وَاللَّهِ لَا يَصُومُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯৭১; মুসলিম, সিয়াম ১১৫৭।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৬০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৭. সারা বছর রোযা রাখা নিষেধ
১৭৮১. আব্দুল্লাহ ইবনু শিখখীর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এক ব্যক্তির কথা আলোচনা করা হলো যে সারা বছর সাওম পালন করে। তখন তিনি বললেন, “সে সাওমও পালন করেনি এবং ইফতারও করেনি।”[1] (তার এ দু’টির কোনোটিই গ্রহণযোগ্য হবে না।)
بَاب النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ عَنْ الْأَوْزَاعِيِّ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ ذُكِرَ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ يَصُومُ الدَّهْرَ فَقَالَ لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৮২, ৩৫৮৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৩৭, ৯৩৮ তে।
((মুসলিম, সিয়াম ১১৫৯; নাসাঈ, সিয়াম বাব: ৭২; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭০৫।– ফাওয়ায আহমেদের দারেমী’ নং ১৭৪৪ এর টীকা হতে।-অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখা প্রসঙ্গে
১৭৮২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার প্রিয়তম বন্ধু আমাকে তিনটি বিষয়ে ওয়াসীয়াত (নির্দেশ প্রদান) করেছেন, যেগুলি আমি (আমার মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত) পরিত্যাগ করবো না: আমি যেন ঘুমানোর পূর্বে বিতর আদায় করি, প্রত্যেক মাসে তিনদিন সিয়াম পালন করি এবং দু’হার (পূর্বাহ্নের) সময় দু’ রাকা’আত সালাত আমি যেন না ছাড়ি।[1]
بَاب فِي صَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا الْعَوَّامُ بْنُ حَوْشَبٍ قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ أَوْصَانِي خَلِيلِي بِثَلَاثٍ لَسْتُ بِتَارِكِهِنَّ أَنْ لَا أَنَامَ إِلَّا عَلَى وِتْرٍ وَأَنْ أَصُومَ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ وَأَنْ لَا أَدَعَ رَكْعَتَيْ الضُّحَى
তাখরীজ: বুখারী, তাহাজ্জুদ ১১৭৮; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭২১; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৬২২৬, ৬৩৬৯; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৩৬ যা সামনে ১৭৮৬ নং এ আসছে। এছাড়া, খতীব, আল মুত্তাফিক ওয়াল মুফতারিক্ব নং ৯৪৬; আহমাদ ২/২২৯, ২৩৩, ২৬০, ৩২৯, ৩৩১, ৭২-৪৭৩; তায়ালিসী ২/৫২ নং ২১৪০; নাসাঈ ৪/২১৮; তাবারাণী, আস সগীর ১/১৭৯; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান ৩৮৪৩; বুখারী, আল কাবীর ৪/১৫; ইবনু হাযম, আল মুহাল্লা ২/২৩২; আবু নুয়াইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া: (সেখানে) ‘সালাতুত দুহা’-র পরিবর্তে ‘জুম’আর দিনে গোসল করা’র কথা রয়েছে।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখা প্রসঙ্গে
১৭৮৩. (অপর সনদে) আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي صَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
أَخْبَرَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبَّاسٍ الْجُرَيْرِيِّ عَنْ أَبِي عُثْمَانَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ نَحْوَهُ
তাখরীজ: এটি আগের হাদীসটির পুনরাবৃত্তি। সেখানে পূর্ণ তাখরীজ দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৩৮. প্রতি মাসে তিনদিন রোযা রাখা প্রসঙ্গে
১৭৮৪. মু’আবিয়া ইবনু কুররাহ তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ’ইয়াও্মিল বীয’ শুক্লপক্ষের (অর্থাৎ চন্দ্র মাসের তেরো, চৌদ্দ ও পনের তারিখে) রোযা সমূহের মর্যাদা (ফযীলত) সারা বছর রোযা ও ইফতারের সমতুল্য।”[1]
بَاب فِي صَوْمِ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ قُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِيَامُ الْبِيضِ صِيَامُ الدَّهْرِ وَإِفْطَارُهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৫২, ৩৬৫৩ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৪৭, ৯৪৮; মাজমাউয যাওয়াইদ নং ৫২৫৮ তে। আর মুসনাদুল মাউসিলী নং ১৩/৪৯২, ৪৯৩ এর শাহিদসমূহ উল্লেখ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৩৯. জুম’আর দিবসে সিয়াম পালন নিষেধ
১৭৮৫. মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাদ ইবনু জা’ফর (রাহি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (আল্লাহর ঘর তাওয়াফকালে) জাবির ইবনু ’আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি জুমু’আহ’র দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন? তিনি বলেন, হাঁ, এই ঘরের প্রভুর শপথ![1]
بَاب فِي النَّهْيِ عَنْ الصِّيَامِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَبْدِ الْحَمِيدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ شَيْبَةَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبَّادِ بْنِ جَعْفَرٍ قَالَ قُلْتُ لِجَابِرٍ أَنَهَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَالَ نَعَمْ وَرَبِّ هَذَا الْبَيْتِ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৮৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৩; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩০১-৩০২; আল মারিফাহ নং ৯০৪০; আব্দুর রাযযাক নং ৭৮০৮; আহমাদ ৩/২৯৬; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৪; এর তাখরীজ আমি দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২২০৬ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১২৬০ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪০. শনিবার রোযা রাখা নিষেধ
১৭৮৬. আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর তার সাম্মাহ নামক এক বোন থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ফরয সিয়াম ব্যতীত তোমরা শনিবার সিয়াম পালন করবেনা। যদি তোমাদের কেউ এরূপ বা গাছের ডাল ছাড়া আর কিছুই না পায়, তবে সে যেন তা-ই চিবিয়ে নেয়।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ السَّبْتِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ثَوْرٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُسْرٍ عَنْ أُخْتِهِ يُقَالُ لَهَا الصَّمَّاءُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَصُومُوا يَوْمَ السَّبْتِ إِلَّا فِيمَا افْتُرِضَ عَلَيْكُمْ وَإِنْ لَمْ يَجِدْ أَحَدُكُمْ إِلَّا كَذَا أَوْ لِحَاءَ شَجَرَةٍ فَلْيَمْضَغْهُ
তাখরীজ: আহমাদ ৬/৩৬৮; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ২/৮০; তাবারাণী, আল কাবীর ২৪/৩২৫ নং ৮১৮; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২১৬৪, ২১৬৫; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩০২; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৭৬৪; আবূ দাউদ, সওম ২৪২১; তিরমিযী, সওম ৭৪৪; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ৬/৩৬১ নং ১৮০৬; হাকিম ১/৪৩৫।
আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু বুসরের হাদীসটির পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬১৫ ও মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯৪০ তে।...
পরিচ্ছেদঃ ৪১. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা প্রসঙ্গে
১৭৮৭. উসামা ইবন যায়দের আযাদকৃত গোলাম (মূসা ইবন ইসমাঈল) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি উসামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র সাথে কুরা নামক উপত্যকায় তাঁর মালের উদ্দেশ্যে আরোহী হয়ে গমন করেন। এ সফরে তিনি (উসামা) সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন। আমি তাঁকে বললাম, আপনি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন কেন অথচ আপনি অতি বৃদ্ধ ও দুর্বল- অথবা (রাবী বলেন), শীর্ণকায় হয়ে গেছেন। তখন তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। (এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হয়ে) তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ মানুষের আমলসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর সমীপে) পেশ করা হয়।[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ أَنَّ مَوْلَى قُدَامَةَ بْنِ مَظْعُونٍ حَدَّثَهُ أَنَّ مَوْلَى أُسَامَةَ حَدَّثَهُ قَالَ كَانَ أُسَامَةُ يَرْكَبُ إِلَى مَالٍ لَهُ بِوَادِي الْقُرَى فَيَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فِي الطَّرِيقِ فَقُلْتُ لَهُ لِمَ تَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ فِي السَّفَرِ وَقَدْ كَبِرْتَ وَضَعُفْتَ أَوْ رَقِقْتَ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسَ وَقَالَ إِنَّ أَعْمَالَ النَّاسِ تُعْرَضُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
তাখরীজ: ইবনে আবী শাইবা ৩/৪২-৪৩; আহমাদ ৫/২০৪-২০৫, ২০৮-২০৯; তায়ালিসী ১/১৯৩-১৯৪; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৩; আবূ দাউদ, সওম ২৪৩৬; তাবারাণী, আল কাবীর ১/১৬৭ নং ৪০৯; নাসাঈ, কুবরা নং ২৬৬৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪১. সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা প্রসঙ্গে
১৭৮৮. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন। (এ ব্যাপারে) আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ “আমলসমূহ সোমবার ও বৃহস্পতিবার (আল্লাহর সমীপে) পেশ করা হয়।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ رِفَاعَةَ عَنْ سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ فَسَأَلْتُهُ فَقَالَ إِنَّ الْأَعْمَالَ تُعْرَضُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَالْخَمِيسِ
তাখরীজ: তিরমিযী, সওম ৭৪৭ তিনি একে হাসান বলেছেন; শামাইল নং ২৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৭৯৯; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৪০; বুসীরী মিসবাহুজ যুজাজাহ ২/৩১ এ বলেন, এর সনদ সহীহ।; তায়ালিসী, মানিহাতুল মা’বূদ ২/৬২, ২০৭ নং ২১৯৪, ২৭৪৫ সহীহ সনদে; মুসলিম, বিরর ওয়াস সুলহ ২৫৬৫; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৬৬২৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৪৪;
এর শাহিদ রয়েছে উসামাহ ইবনু যাইদ হতে যেটি আবূ দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন; তালহা ইবনু উবাইদুল্লাহ হতে খতীব তারীখ বাগদাদ ৩/২৫ তে এবং ইবনু মাসউদ হতে ইবনু আদী, আল কামিল ৪/১৬৩২ এ বর্ণনা করেছেন।
পরিচ্ছেদঃ ৪২. দাউদ (আ.) এর রোযা
১৭৮৯. আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মারফু’ হিসেবে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে) বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা’র নিকট অধিক প্রিয় রোযা হল দাঊদ (আ.)-এর রোযা। তিনি একদিন রোযা রাখতেন এবং একদিন রোযা রাখা পরিত্যাগ করতেন (অর্থাৎ একদিন অন্তর রোযা রাখতেন)। আবার আল্লাহ্ আযযা ওয়া জাল্লা’র নিকট সবচেয়ে প্রিয় সালাত হল দাঊদ (আ.)-এর সালাত। তিনি অর্ধরাত পর্যন্ত সালাত আদায় করতেন এবং পরে এর এক তৃতীআংশ সময় ঘুমাতেন। আর (সব কাজ শেষে) তিনি এর এক ষষ্ঠাংশ সময় তাসবীহ পড়তেন।” [1]
بَاب فِي صَوْمِ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام
أَخْبَرَنَا عُثْمَانُ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ عَمْرٍو يَعْنِي ابْنَ دِينَارٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ أَوْسٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو يَرْفَعُهُ قَالَ أَحَبُّ الصِّيَامِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صِيَامُ دَاوُدَ كَانَ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا وَأَحَبُّ الصَّلَاةِ إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ صَلَاةُ دَاوُدَ كَانَ يُصَلِّي نِصْفًا وَيَنَامُ ثُلُثًا وَيُسَبِّحُ سُدُسًا قَالَ أَبُو مُحَمَّد هَذَا اللَّفْظُ الْأَخِيرُ غَلَطٌ أَوْ خَطَأٌ إِنَّمَا هُوَ أَنَّهُ كَانَ يَنَامُ نِصْفَ اللَّيْلِ وَيُصَلِّي ثُلُثَهُ وَيُسَبِّحُ تَسْبِيحَةً
তাখরীজ: বুখারী, তাহজ্জুদ ১১৩১; মুসলিম, সালাত ১১৫৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫২, ২৯৫০ মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬০০, ৬০১ তে ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৩. ইয়ামুল ফিতর ও ইয়ামুদ আযহা (দু’ঈদের দিন) রোযা রাখা নিষেধ
১৭৯০. আবী সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা দু’টি দিনে রোযা রাখবে না: ইয়ামুল ফিতর (রোযার ঈদের দিন) ও ইয়ামুদ নাহর (কুরবাণীর ঈদের দিন)।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ الصِّيَامِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الْأَضْحَى
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَامِرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ قَزَعَةَ مَوْلَى زِيَادٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا صَوْمَ يَوْمَيْنِ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ النَّحْرِ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযলুস সালাত বিমক্কা ১১৮৮; মুসলিম, হাজ্জ ৮২৭;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ১১৬০; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ১৬১৭, ২৬১৮, ২৭১৯, ৩৫৯৯ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৭৬৭ তে ।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা
১৭৯১. আবী আইয়্যুব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল এবং এরপরই শাওয়ালে ছয়টি রোযা রাখল, তবে তা পূর্ণ এক বছরের রোযা রাখার সমতুল্য (সাওয়াব) হলো।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ السِّتَّةِ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا نُعَيْمُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا صَفْوَانُ وسَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتَّةً مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৪;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৩৪ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৩৮৫, ৩৮৬ তে । আরো দেখুন, মাজমাউয যাওয়াইদ হাদীস ৫১৭৭ এবং এর টীকা।
পরিচ্ছেদঃ ৪৪. শাওয়াল মাসে ছয়টি রোযা রাখা
১৭৯২. সাওবান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “এক মাসের রোযা (রমযানের রোযা) দশমাসের রোযার সমতুল্য। এরপর আরও (শাওয়ালের) ছয়দিনের রোযা দুই মাসের সমতুল্য। এভাবে তা (সাওয়াবের দিক দিয়ে) পূর্ণ এক বছর এর সমতুল্য হলো।”[1]
আবূ মুহাম্মদ বলেন, এর অর্থ: রমযান মাস ও এর পরবর্তী (মাসের) ছয় দিনকে বুঝানো হয়েছে।
بَاب فِي صِيَامِ السِّتَّةِ مِنْ شَوَّالٍ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَمْزَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْحَارِثِ الذِّمَارِيُّ عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ عَنْ ثَوْبَانَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ صِيَامُ شَهْرٍ بِعَشَرَةِ أَشْهُرٍ وَسِتَّةِ أَيَّامٍ بَعْدَهُنَّ بِشَهْرَيْنِ فَذَلِكَ تَمَامُ سَنَةٍ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ وَسِتَّةَ أَيَّامٍ بَعْدَهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৩৫, মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৯২৮ তে এবং মাওয়ারিদ-এ এর শাহিদ হাদীসও উল্লেখ করেছি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. মুহাররম মাসের রোযা
১৭৯৩. নু’মান ইবনু সা’দ রাহি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার জনৈক ব্যক্তি আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর নিকট এসে তাঁকে রমযান মাসের পরে কোনো একটি মাসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করল, যে মাসে সে সিয়াম পালন করতে পারে। তখন আলী রা: তাকে বললেন, যেদিন আমি এক ব্যক্তিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এ বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুনেছি, তারপর থেকে এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আমাকে কেউ প্রশ্ন করেনি: (প্রশ্নটি ছিল,) সে রমযান ব্যতীত বছরের কোন্ মাসটিতে (নফল) সিয়াম পালন করবে? তখন তিনি তাকে মুহাররামের সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন: “নিশ্চয়ই এতে (এ মাসে) এমন একটি দিন আছে যে দিন আল্লাহ তায়ালা এক সম্প্রদায়ের তওবা কবুল করেছিলেন এবং আগামীতেও তিনি আরেক সম্প্রদায়ের তওবা এই দিনে কবুল করবেন।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ الْمُحَرَّمِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ النُّعْمَانِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى عَلِيٍّ فَسَأَلَهُ عَنْ شَهْرٍ يَصُومُهُ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ مَا سَأَلَنِي أَحَدٌ عَنْ هَذَا بَعْدَ إِذْ سَمِعْتُ رَجُلًا سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُّ شَهْرٍ يَصُومُهُ مِنْ السَّنَةِ فَأَمَرَهُ بِصِيَامِ الْمُحَرَّمِ وَقَالَ إِنَّ فِيهِ يَوْمًا تَابَ اللَّهُ عَلَى قَوْمٍ وَيَتُوبُ فِيهِ عَلَى قَوْمٍ
তাখরীজ: তিরমিযী, সওম ৭৪১; ইবনু আবী শাইবা ৩/৪১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, যাওয়াইদ আলাল মুসনাদ ১/১৫৫; আবূ ইয়ালা আল মাউসিলী নং ২৬৭; ইবনু আদী, আল কামিল৪/১৬১৪;
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. মুহাররম মাসের রোযা
১৭৯৪. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রামাযান মাসের সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হলো আল্লাহর মাসের সিয়াম, যাকে তোমরা ’মুহাররাম’ নামে ডাকো।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ الْمُحَرَّمِ
أَخْبَرَنَا زَيْدُ بْنُ عَوْفٍ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الَّذِي تَدْعُونَهُ الْمُحَرَّمَ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ২৫৬৩, ৩৬৩৬ তে। এছাড়া আরো বর্ণনা করেন: আহমাদ ২/৩০৩; তাহাবী, মুশকিলিল আছার ২/১০১; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯১; শুয়াবুল ঈমান নং ৩৭৭২, ৩৭৭৩, ৩৭৭৪; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯২৩, ১৭৮৮।
পরিচ্ছেদঃ ৪৫. মুহাররম মাসের রোযা
১৭৯৫. (অপর সূত্রে) আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “রামাযান মাসের সিয়ামের পরে সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ সিয়াম হলো মুহাররাম মাসের সিয়াম।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ الْمُحَرَّمِ
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ وَأَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُحَرَّمُ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৩ যা আমরা পূর্বের হাদীসটিত উল্লেখ করেছি। এছাড়া বাগাবী নং ১৭৮৮। পূর্ণ তাখরীজ দেখুন পূর্বের হাদীসটিতে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আশুরার রোযা সম্পর্কে
১৭৯৬. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হিজরত করে) মদীনায় উপনীত হলেন, সেই সময় ইয়াহুদীরা আশুরার দিন রোযা রাখত। তিনি তাদেরকে (এ ব্যাপারে) জিজ্ঞেস করলে তারা বললো, এ দিনে আল্লাহ্ মূসা (আঃ)-কে ফিরাউনের উপর বিজয় দান করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সাহাবীদেরকে লক্ষ্য করে) বলেন: “তোমরা মূসা (আঃ)-এর (অনুসরণের) ব্যাপারে তাদের চেয়ে) অধিক নিকটবর্তী। ফলে তোমরা এদিন রোযা পালন করো।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
أَخْبَرَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَالْيَهُودُ يَصُومُونَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ فَسَأَلَهُمْ فَقَالُوا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي ظَهَرَ فِيهِ مُوسَى عَلَى فِرْعَوْنَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْتُمْ أَوْلَى بِمُوسَى فَصُومُوهُ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ২০০৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৩০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২৫৬৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২৫ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ৫২৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আশুরার রোযা সম্পর্কে
১৭৯৭. ’আয়িশাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাথেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশূরার দিন রোযা রাখতেন এবং এ দিন রোযা রাখতে নির্দেশ দিতেন।[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
أَخْبَرَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَصُومُ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَيَأْمُرُنَا بِصِيَامِهِ
তাখরীজ: বুখারী, হাজ্জ ১৫৯২; মুসলিম, সিয়াম ১১২৫; বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ৮৯৮৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৬৩৮; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০২ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আশুরার রোযা সম্পর্কে
১৭৯৮. সালামা ইবন আকওয়া রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, ’আশূরার দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আসলাম গোত্রের এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন: “আজকের দিনটি হলো আশুরার দিন। ফলে যে ব্যক্তি খেয়েছিল, বা পান করেছিল, সে যেন দিনের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে। আর যে এখনো খায়নি বা পান করেনি, সে যেন সাওম পালন করে।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
أَخْبَرَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ رَجُلًا مِنْ أَسْلَمَ إِنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ كَانَ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيُتِمَّ بَقِيَّةَ يَوْمِهِ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ أَكَلَ أَوْ شَرِبَ فَلْيَصُمْهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৯২৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৩৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬১৯ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আশুরার রোযা সম্পর্কে
১৭৯৯. ’আবদুল্লাহ ইবনু ’উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট আশূরার দিন সম্পর্কে আলোচনা করা হলো। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “জাহিলী যুগে কুরাইশরা এ দিন রোযা রাখতো। অতএব তোমাদের কেউ এ দিন রোযা রাখতে আগ্রহী হলে সে রোযা রাখতে পারে এবং কেউ রোযা রাখতে অনাগ্রহী হলে নাও রাখতে পারে।”[1]
ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ দিন রোযা রাখতেন না তবে তার (অন্য কোনো) রোযার সাথে এটি একইদিনে পড়লে সেটি ভিন্ন কথা।
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
أَخْبَرَنَا يَعْلَى عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْحَقَ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا يَوْمُ عَاشُورَاءَ كَانَتْ قُرَيْشٌ تَصُومُهُ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يَتْرُكَهُ فَلْيَتْرُكْهُ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَصُومُهُ إِلَّا أَنْ يُوَافِقَ صِيَامَهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ১৮৯২; মুসলিম, সিয়াম ১১২৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২২, ৩৬২৩ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৪৬. আশুরার রোযা সম্পর্কে
১৮০০. আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আশূরা ছিল এমন একটি দিন যে দিন কুরাইশরা জাহেলী যুগেও সিয়াম পালন করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (হিজরতের করে) মদীনায় আসার পর তিনি এই দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং লোকদেরকেও সিয়াম পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর রামাযানের সিয়াম পালন ফরয হওয়ার পর রামাযানই ফরয হিসাবে রয়ে গেল আর আশূরার সিয়াম (ফরয হিসাবে) রইল না। ফলে যার ইচ্ছা এই দিনের সিয়াম পালন করে চললো আর যার ইচ্ছা তা ছেড়ে দিলো।[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَاشُورَاءَ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ سَعِيدٍ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ إِسْحَقَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ يَوْمًا تَصُومُهُ قُرَيْشٌ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ صَامَهُ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ حَتَّى إِذَا فُرِضَ رَمَضَانُ كَانَ رَمَضَانُ هُوَ الْفَرِيضَةُ وَتُرِكَ يَوْمُ عَاشُورَاءَ فَمَنْ شَاءَ صَامَهُ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَهُ
তাখরীজ: বুখারী, সাওম ২০০১, ২০০২; মুসলিম, সিয়াম ১১৩৫; এছাড়া, বাইহাকী, আল মা’রিফাহ নং ৮৯৮০; মালিক, সওম (৩৩)।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী ৪৬৩৮ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬২১ এবং মুসনাদুল হুমাইদী নং ২০২ তে। আরও দেখুন পূর্বের ১৮০০ (অনূবাদে ১৭৯৬) নং হাদীসটি।
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. আরাফার দিবসের সিয়াম
১৮০১. উক্ববা ইবনু আমির রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “আরাফার দিন এবং তাশরীকের দিনগুলো আমাদের মুসলিমদের জন্য ঈদ স্বরূপ। আর এই দিনগুলি পানাহারের জন্য নির্ধারিত।”[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ
أَخْبَرَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عُلَيٍّ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمُ عَرَفَةَ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الْإِسْلَامِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬০৩; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৫৯ তে।
((আবূ দাউদ, সওম ২৪১৯; তিরমিযী, সওম ৭৭৩; আলবানী সহীহুল জামি’ ৬/৩৬৬ তে বলেন: সহীহ।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৬৪ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৭. আরাফার দিবসের সিয়াম
১৮০২. আবূ নাজীহ (রহঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কে আরাফার দিনে সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে হজ্জ করেছি, তিনি এ দিন সিয়াম পালন করেননি; আবূ বকর (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ পালন করেছি। তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি; উমার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি; উসমান (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) এর সঙ্গেও হজ্জ করেছি। তিনিও এ দিন সিয়াম পালন করেননি। আমি নিজেও এই সিয়াম পালন করিনা এবং তা কাউকে পালন করতে বলিওনা এবং নিষেধও করিনা।[1]
بَاب فِي صِيَامِ يَوْمِ عَرَفَةَ
أَخْبَرَنَا الْمُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ سُئِلَ ابْنُ عُمَرَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ عَرَفَةَ فَقَالَ حَجَجْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ عُمَرَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَحَجَجْتُ مَعَ عُثْمَانَ فَلَمْ يَصُمْهُ وَأَنَا لَا أَصُومُهُ وَلَا آمُرُ بِهِ وَلَا أَنْهَى عَنْهُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৫৯৫; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬০৪; মাওয়ারিদুয যাম’আন নং ৮৩৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৯৮ তে।
(( তিরমিযী, সওম ৭৫১; তিনি বলেন: হাদীসটি হাসান।’- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৬৫ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. 'আইয়্যামুত তাশরীক' এ সিয়াম পালন নিষেধ
১৮০৩. বিশর ইবনু সুহাইম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ’আইয়্যামে তাশরীকে’ তাকে অথবা কোনো এক ব্যক্তিকে এ ঘোষণা দেওয়ার আদেশ দেন: “মুসলিম ব্যক্তি ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং এই দিনসমূহ হচ্ছে পানাহারের দিন।”[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ بِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمَرَهُ أَوْ أَمَرَ رَجُلًا يُنَادِي أَيَّامَ التَّشْرِيقِ أَنَّهُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلَّا مُؤْمِنٌ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ
তাখরীজ: আহমাদ ৩/৪১৫, ৪/৩৩৫; তাবারাণী, আল কাবীর ২/৩৭ নং ১২১৩; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২৯৬০; নাসাঈ, আল কুবরা নং ২৮৯৫, ২৮৯৬, ২৮৯৮; ইবনু আবী শাইবা, ঈমান নং ১২; ৪/২০-২১; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২০; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৮।
পরিচ্ছেদঃ ৪৮. 'আইয়্যামুত তাশরীক' এ সিয়াম পালন নিষেধ
১৮০৪. আকীলের আযাদকৃত গোলাম আবূ মু্র্রা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা তিনি এবং আবদুল্লাহ্ ইবন আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু আমর ইবনুল ’আস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর নিকট গমন করেন। ঘটনাটি ছিল ঈদুল আযহার পরের দিন কিংবা তার পরের দিন (তথা তাশরীকের দিনে)। আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু তাদের সম্মুখে কিছু খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসেন। তখন আবদুল্লাহ্ ইবন আমর বলেন, আমি তো রোযাদার। আমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তুমি রোযা ভেঙ্গে ফেলো, কেননা এসকল দিনগুলো সেই দিনসমূহের অন্তর্ভুক্ত যেই দিনগুলোতে রাসূলূল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ইফতার করতে নির্দেশ দিতেন এবং রোযা রাখতে নিষেধ করতেন। তখন আবদুল্লাহ্ রা: রোযা ভেঙ্গে ফেললেন এবং খাবার খেলেন আর আমিও তাঁর সঙ্গে খেলাম।[1]
بَاب النَّهْيِ عَنْ صِيَامِ أَيَّامِ التَّشْرِيقِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِي مُرَّةَ مَوْلَى عَقِيلٍ أَنَّهُ دَخَلَ هُوَ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو عَلَى عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَذَلِكَ الْغَدَ أَوْ بَعْدَ الْغَدِ مِنْ يَوْمِ الْأَضْحَى فَقَرَّبَ إِلَيْهِمْ عَمْرٌو طَعَامًا فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ إِنِّي صَائِمٌ فَقَالَ عَمْرٌو أَفْطِرْ فَإِنَّ هَذِهِ الْأَيَّامَ الَّتِي كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا بِفِطْرِهَا وَيَنْهَانَا عَنْ صِيَامِهَا فَأَفْطَرَ عَبْدُ اللَّهِ فَأَكَلَ وَأَكَلْتُ مَعَهُ
তাখরীজ: ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২১৪৯; মালিক, হাজ্জ্ব ১৩৮; আবূ দাউদ, সওম ২৪১৮; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৯৭।
পরিচ্ছেদঃ ৪৯. কোনো লোক মৃত্যুবরণ করলো কিন্তু তার উপর (ফরয কিংবা ওয়াজিব) রোযা রয়েছে
১৮০৫. ইবনু আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, একটি মহিলা রোযা মানত করার পরে মৃত্যু বরণ করলো। তখন তার ভাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম – এর নিকট এসে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ “দেখো, কোন ঋণ যদি তোমার বোনের উপর থাকত, তাহলে কি তুমি সেটা পরিশোধ করতে? সে বলল, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ তাহলে আল্লাহর ঋণ পরিশোধ করো। কেননা, আল্লাহ্ তা’আলার ঋণ সবচেয়ে অগ্রগণ্য। তুমি তার পক্ষ থেকে রোযা রাখো।”[1]
بَاب الرَّجُلِ يَمُوتُ وَعَلَيْهِ صَوْمٌ
حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ حَمَّادٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ امْرَأَةً نَذَرَتْ أَنْ تَحُجَّ فَمَاتَتْ فَجَاءَ أَخُوهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ كَانَ عَلَيْهَا دَيْنٌ أَكُنْتَ قَاضِيَهُ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَاقْضُوا اللَّهَ اللَّهُ أَحَقُّ بِالْوَفَاءِ قَالَ فَصَامَ عَنْهَا
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯৫৩; মুসলিম, সিয়াম ১১৪৮;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৩০, ৩৫৭০ তে।… এসম্পর্কিত দু’টি ঘটনা রয়েছে ‘একটি সিয়াম আদায়ের, অপরটি হাজ্জ আদায়ের। দেখুন, সুনানুল কুবরা, নাসাঈ হাদীস ২৯১২ হতে ২৯১৮ পর্যন্ত এবং সহীহ বুখারীও।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. সিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে
১৮০৬. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও অধিক উত্তম। আর সাওম পালনকারীর জন্য দু’টি আনন্দ। একটি আনন্দ হলো যখন সে ইফ্তার করে; আরেকটি হলো কিয়ামত দিবসে (যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে)।[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ وَلِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ وَفَرْحَةٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৫১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৪৭; সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪২২, ৩৪২৩, ৩৪২৪ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ১০৪০ তে। পরবর্তী টীকাটিও দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. সিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে
১৮০৭. আবূ হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্নিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহ তা’আলা বলেন, সাওম ব্যতীত আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তাঁর নিজের জন্য, আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশ থেকে সাতশ’ গুণ। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য, তাই আমি এর প্রতিদান দেব। সে আমার জন্য আহার ও কামাচার পরিত্যাগ করে এবং আমার জন্য পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। ফলে তা (সিয়াম) আমারই জন্য। তাই এর পুরষ্কার আমি নিজেই দান করব।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ فَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ إِلَّا الصِّيَامَ هُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ إِنَّهُ يَتْرُكُ الطَّعَامَ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي وَيَتْرُكُ الشَّرَابَ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي فَهُوَ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪১৬ তে। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
তাঁর বাণী: ‘রোযা আমারই জন্য’ …. অর্থ রোযা একমাত্র আমার জন্য, এতে সে কাউকে শরীক করেনি, আর সে আমার ব্যতীত আর কারো ইবাদত এর মাধ্যমে করেনি। ফলে আজ আমি তার আমার প্রতি ইখলাছ এর পরিমাণে তাকে পুরস্কৃত করব; নিজেই তার দিব….। দেখুন, জামিউল উসূল, ৯/৪৫৪; ফাতহুর বারী ৪/১০৭-১১০।
পরিচ্ছেদঃ ৫০. সিয়ামের ফযীলত সম্পর্কে
১৮০৮. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “সিয়াম হলো ঢাল স্বরূপ।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الصِّيَامِ
أَخْبَرَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا الْأَعْمَشُ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّوْمُ جُنَّةٌ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৪; মুসলিম, সিয়াম ১১৫১;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪২৭ তে। এটি আগের হাদীস দু’টির অংশ বিশেষ।
পরিচ্ছেদঃ ৫১. যার নিকট ইফতার করে, তার জন্য রোযাদারের দু’আ
১৮০৯. আনাস ইবনু মালিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন কোনো লোকের নিকট (বাড়িতে) ইফতার করতেন, তখন বলতেন: “রোযাদারগণ তোমাদের নিকট ইফতার করেছে, নেককার গণ তোমাদের খাবার খেয়েছে এবং ফিরিশতাগণ তোমাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে।”[1]
بَاب دُعَاءِ الصَّائِمِ لِمَنْ يُفْطِرُ عِنْدَهُ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا هِشَامٌ الدَّسْتَوَائِيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا أَفْطَرَ عِنْدَ أُنَاسٍ قَالَ أَفْطَرَ عِنْدَكُمْ الصَّائِمُونَ وَأَكَلَ طَعَامَكُمْ الْأَبْرَارُ وَتَنَزَّلَتْ عَلَيْكُمْ الْمَلَائِكَةُ
তাখরীজ: আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৪৩১৯ , ৪৩২০. ৪৩২১, ৪৩২২ তে।
এছাড়াও: ইবনু আবী শাইবা ৩/১০০। ((আহমাদ ৩/১৩৮ ও বাইহাকী ৭/২৮৭; আলবানী সহীহুল জামি’ ৪/২০৯ তে বলেন: সহীহ’-- ফাওয়ায আহমেদের তাহক্বীক্বকৃত দারেমী হা/১৭৭২ এর টীকা হতে।– অনুবাদক))
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (যিলহজ্জের প্রথম) দশদিনের আমলের ফযীলত
১৮১০. ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আল্লাহর নিকট যুলহিজ্জার দশ দিনের নেক আমলের চাইতে অধিক ফযীলতপূর্ণ আর কোনো দিনের নেক আমল নেই।” সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ্! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, কিন্তু যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে বের হয়, কিন্তু তার কোন কিছু নিয়েই আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ الْعَمَلِ فِي الْعَشْرِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ سُلَيْمَانَ قَالَ سَمِعْتُ مُسْلِمًا الْبَطِينَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا الْعَمَلُ فِي أَيَّامٍ أَفْضَلَ مِنْ الْعَمَلِ فِي عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ قِيلَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْجِعْ بِشَيْءٍ
তাখরীজ: বুখারী, ঈদাইন ৯৬৯; বাইহাকী, সিয়াম ৪/২৮৪; তা্য়ালিসী নং ২৬৩১; আহমাদ ১/৩৪৬; আবূ দাউদ, সওম ২৪৩৮; আব্দুর রাযযাক নং ৮১২১; তাবারাণী, আল কাবীর ২/১৩ নং ১২৩২৬; তিরমিযী, সওম ৭৫৭; বাগাব, শারহুস সুন্নাহ নং ১১২৫; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭২৭।
এর শাহিদ হাদীস জাবীর রা: হতে বর্ণিত হয়েছে যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ২০৯০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৫৬২৩, ৬০১১ তে।
এছাড়া, আব্দুল্লাহ ইবনু আমর, আব্দুল্লাহ্ ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস এর অপর বর্ণনা: এর শাহিদ হিসেবে বর্ণিত আছে, যার তাখরীজ আমরা দিয়েছি মাজামউয যাওয়াইদ নং ৬০০৭-৬০১০ তে। আরও দেখুন, পরবর্তী হাদীসটি এবং তারগীব ২/১৯৮-২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৫২. (যিলহজ্জের প্রথম) দশদিনের আমলের ফযীলত
১৮১১. (অপর সনদে) ইবনু ’আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আযহা’র (যুলহিজ্জার) দশ দিনে যে নেক আমল করা হয়, তার চাইতে আল্লাহর নিকট অধিক পবিত্র, অধিক সাওয়াবের আর কোনো নেক আমল নেই।” জিজ্ঞাসা করা হলো, আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বলেন, “আল্লাহর পথে জিহাদও নয়, তবে, যে ব্যক্তি তার জান-মালসহ আল্লাহর পথে (জিহাদে) বের হয়, কিন্তু এর কোন কিছু নিয়েই সে আর ফিরে আসে না (তার মর্যাদা অনেক)।” [1] তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন, সাঈদ ইবনু যুবাইর যখন (যুলহাজ্জের) প্রথম দশকে উপনীত হতেন, তখন তিনি তাঁর সাধ্যানুযায়ী সর্বাধিক কঠোর সাধনা করতেন।
بَاب فِي فَضْلِ الْعَمَلِ فِي الْعَشْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ أَخْبَرَنَا أَصْبَغُ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ أَبِي أَيُّوبَ عَنْ سَعِيدٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ عَمَلٍ أَزْكَى عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلَا أَعْظَمَ أَجْرًا مِنْ خَيْرٍ تَعْمَلُهُ فِي عَشْرِ الْأَضْحَى قِيلَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ قَالَ وَلَا الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذَلِكَ بِشَيْءٍ قَالَ وَكَانَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ إِذَا دَخَلَ أَيَّامُ الْعَشْرِ اجْتَهَدَ اجْتِهَادًا شَدِيدًا حَتَّى مَا يَكَادُ يَقْدِرُ عَلَيْهِ
তাখরীজ: তাহাবী, মুশকিলিল আছার ৪/১১৩-১১৪; বাইহাকী, শুয়াবুল ঈমান নং ৩৭৫২; পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৩. রমযান মাসের ফযীলত সম্পর্কে
১৮১২. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যখন রমযান মাস আগমন করে, তখন আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানদেরকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয়।”[1]
بَاب فِي فَضْلِ شَهْرِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ حَدَّثَنَا إِسْمَعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا أَبُو سُهَيْلٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ وَصُفِّدَتْ الشَّيَاطِينُ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৮৯৮; মুসলিম, সিয়াম ১০৭৯;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩৪, ৩৪৩৫ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. রমযানে মাসে রাত্রি জাগরণ (কিয়ামুল্লাইল)-এর ফযীলত
১৮১৩. আবী হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ “ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের প্রত্যাশায় যে লোক রামাযান মাসে (ইবাদাতের উদ্দেশ্যে) রাত্রি জাগরণ করলো, তার পূর্ববর্তী পাপগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হলো। আর ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের প্রত্যাশায় যে লোক লাইলাতুল ক্বদরে (ইবাদাতের জন্য) রাত্রি জাগরণ করলো, তারও পূর্ববর্তী পাপগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়।”[1]
بَاب فِي قِيَامِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا هِشَامٌ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
তাখরীজ: বুখারী, সওম ১৯০১; ঈমান ৩৫; মুসলিম, সালাতুল মুসাফিরীন ৭৬০;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৯৬০, ৫৯৯৭ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৮২ তে।
এর প্রথম অংশটি আরো তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৩০ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৪৩২ তে। আর দ্বিতীয় অংশের তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৩৬৩২। পূর্ণ তাখরীজের জন্য দেখুন, মুসনাদুল হুমাইদী নং ৯৮০, ১০৩৭ এবং ‘আল মা’রিফাহ নং ৯০৭৯।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. রমযানে মাসে রাত্রি জাগরণ (কিয়ামুল্লাইল)-এর ফযীলত
১৮১৪. আবী যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ’নবী সাল্লাল্লাহু ’আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সঙ্গে আমরা রমযান মাসের সিয়াম পালন করেছি।– তিনি বলেন, তিনি রামাযান মাসে আমাদের নিয়ে (নফল) সালাত আদায় করেননি। যখন সাত দিন অবশিষ্ট রইলো (তেইশ রমযানের রাতে) তিনি আমাদের নিয়ে সালাত দাড়ালেন।’ তিনি বলেন- ’এমনকি রাতের এক তৃতীয়াংশ এতে অতিবাহিত হয়ে গেল।’ তিনি বলেন, ’এরপর ষষ্ঠ রাতে আর আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন না। এরপর পঞ্চম রাত অবশিষ্ট থাকতে আবার আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। এমনকি এতে অর্ধেক রাত অতিবাহিত হয়ে গেল। আমরা তাঁকে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাদের অবশিষ্ট রাতটুকুও যদি নফল আদায় করে অতিবাহিত করে দিতেন।’ তিনি বললেন: “কেউ যদি ইমামের সঙ্গে সালাতে দাঁড়ায় এবং ইমামের সালাত শেষ করা পর্যন্ত তাঁর সাথে থাকে, তবে তার জন্য তা সারারাত সালাতে দাড়ানো বলে গণ্য হয়। এরপর চতুর্থ রাতে আমাদের নিয়ে আর সালাতে দাড়ালেন না। এরপর তৃতীয় (সাতাশে রমযানের) রাতে তিনি তাঁর পরিজন ও স্ত্রীগণকে ও লোকদেরকে একত্রিত করে আমাদের নিয়ে সালাতে দাড়ালেন। অনন্তর তিনি এত দীর্ঘক্ষণ সালাত আদায় করলেন যে আমরা আমাদের ’ফালাহ’ ছুটে যাওয়ার আশংকা করলাম।’ (রাবী বলেন) আমরা জিজ্ঞেস করলাম, ’ফালাহ’ কি? তিনি বললেন, ’সাহরী খাওয়া।’ তিনি বলেন, ’এরপর মাসের অবশিষ্ট (রাতসমূহ) আর সালাতের জন্য দাড়াননি।’[1]
بَاب فِي قِيَامِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ صُمْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَهْرَ رَمَضَانَ قَالَ فَلَمْ يَقُمْ بِنَا مِنْ الشَّهْرِ شَيْئًا حَتَّى بَقِيَ سَبْعٌ قَالَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ قَالَ فَلَمَّا كَانَتْ السَّادِسَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتْ الْخَامِسَةُ قَامَ بِنَا حَتَّى ذَهَبَ شَطْرُ اللَّيْلِ الْآخِرُ قُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوْ نَفَّلْتَنَا بَقِيَّةَ هَذِهِ اللَّيْلَةِ فَقَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا قَامَ مَعَ الْإِمَامِ حَتَّى يَنْصَرِفَ مِنْ صَلَاتِهِ حُسِبَ لَهُ قِيَامُ لَيْلَتِهِ فَلَمَّا كَانَتْ الرَّابِعَةُ لَمْ يَقُمْ بِنَا فَلَمَّا كَانَتْ الثَّالِثَةُ جَمَعَ أَهْلَهُ وَنِسَاءَهُ وَالنَّاسَ فَقَامَ بِنَا حَتَّى خَشِينَا أَنْ يَفُوتَنَا الْفَلَاحُ قُلْنَا وَمَا الْفَلَاحُ قَالَ السُّحُورُ قَالَ ثُمَّ لَمْ يَقُمْ بِنَا بَقِيَّةَ الشَّهْرِ
তাখরীজ: আব্দুর রাযযাক নং ৭৭০৬; আহমাদ ৫/১৫৯, ১৬০, ১৬৩; ইবনু আবী শাইবা ২/৩৯৪; আবূ দাউদ, সালাত ১৩৭৫; তিরমিযী, সালাত ৮০৬; নাসাঈ, কুবরা নং ১২৮৭; ইবনু মাজাহ, ইকামাতিস সালাত ১৩২৭; তাহাবী, শারহু মা’আনিল আছার ১/৩৪৯; ইবনু খুযাইমা, সহীহ নং ২২০৬; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ৯৯১; ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা নং ৪০৩।
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৫৪৭ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৪. রমযানে মাসে রাত্রি জাগরণ (কিয়ামুল্লাইল)-এর ফযীলত
১৮১৫. (অপর সনদে) আবী যার্র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।[1]
بَاب فِي قِيَامِ رَمَضَانَ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى عَنْ سُفْيَانَ عَنْ دَاوُدَ عَنْ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْجُرَشِيِّ عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ الْحَضْرَمِيِّ عَنْ أَبِي ذَرٍّ نَحْوَهُ
তাখরীজ: ইবনুল জারুদ, আল মুনতাকা। পূর্ণ তাখরীজের জন্য আগের টীকাটি দেখুন।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. নাবী (ﷺ) এর ই’তিকাফ
১৮১৬. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (প্রতি রমযান মাসে) শেষ দশ দিন ই’তিকাফে অতিবাহিত করতেন। কিন্তু যে বছর তাঁর ইন্তিকাল হয়, সে বছর তিনি বিশদিন ই’তিকাফ করেছিলেন।[1]
بَاب اعْتِكَافِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا عَاصِمُ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ أَبِي حَصِينٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الْأَوَاخِرَ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الَّذِي قُبِضَ فِيهِ اعْتَكَفَ عِشْرِينَ يَوْمًا
তাখরীজ: আহমাদ ২/৩৩৬, ৩৫৫; বুখারী, ই’তিকাফ ২০৪৪, ফাযাইলুল কুরআন ৪৯৯৮; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ নং ১৮৩৫; আবূ দাউদ, সওম ২৪৬৬; ইবনু মাজাহ, সিয়াম ১৭৬৯; ইবনু খুযাইমা, আস সহীহ নং ২২২১; খতীব, তারীখ বাগদাদ ১৪/১৭৬; বাইহাকী, সিয়াম ৪/৩১৪; দালাইলুল নবুওয়াত ৭/১৪৬; শুয়াবুল ঈমান নং ৩৯৬১। আরো দেখুন, মুছান্নাফ আব্দুর রাযযাক নং ৭৬৮২; সুনানে দারুকুতনী ২/২০১ নং ১০।
পরিচ্ছেদঃ ৫৫. নাবী (ﷺ) এর ই’তিকাফ
১৮১৭. সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত যে, তিনি একদা রমযান মাসের শেষ দশকে মাসজিদুল হারামে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে দেখা করতে আসেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে ই’তিকাফরত ছিলেন। তিনি কিছুক্ষণ তাঁর সাথে কথাবার্তা বলেন। এরপর তিনি (ফিরে যাওয়ার জন্য) উঠে দাড়ান।”[1]
بَاب اعْتِكَافِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ أَخْبَرَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ أَنَّ صَفِّيَةَ بِنْتَ حُيَيٍّ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا جَاءَتْ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَزُورُهُ فِي اعْتِكَافِهِ فِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ فَتَحَدَّثَتْ عِنْدَهُ سَاعَةً ثُمَّ قَامَتْ
তাখরীজ: বুখারী, ই’তিকাফ ২০৩৫; মুসলিম, সালাম ২১৭৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৭১২১ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭১ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে
১৮১৮. ’উবাদা ইবনুস সামিত রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে লাইলাতুল কাদরের (নির্দিষ্ট তারিখ) সম্পর্কে অবহিত করার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। তখন দুজন মুসলিম ঝগড়া করছিল। তখন (তা দেখে) তিনি বললেন: আমি তোমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদরের সংবাদ দিবার জন্য বের হয়েছিলাম, কিন্তু তখন অমুক অমুক ঝগড়া করছিল, ফলে তা (নির্দিষ্ট তারিখ) উঠিয়ে নেয়া হলো। সম্ভবত: এর মধ্যে তোমাদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে। তোমরা শেষ দশদিনের মধ্যকার পঞ্চম (তথা পঁচিশতম), সপ্তম (সাতাশতম) ও নবম (ঊনত্রিশতম) রাতে তা অনুসন্ধান কর।”[1]
بَاب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
أَخْبَرَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ عَنْ أَنَسٍ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يُرِيدُ أَنْ يُخْبِرَنَا بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ فَتَلَاحَى رَجُلَانِ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنِّي خَرَجْتُ إِلَيْكُمْ وَأَنَا أُرِيدُ أَنْ أُخْبِرَكُمْ بِلَيْلَةِ الْقَدْرِ وَكَانَ بَيْنَ فُلَانٍ وَفُلَانٍ لِحَاءٌ فَرُفِعَتْ وَعَسَى أَنْ يَكُونَ خَيْرًا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ فِي الْخَامِسَةِ وَالسَّابِعَةِ وَالتَّاسِعَةِ
তাখরীজ: বুখারী, ঈমান ৪৯, ই’তিকাফ ২০২৩; আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৯ তে।
আরো সংযোজনী: ইবনু আবী শাইবা ২/৫১৪; ইবনু আব্দুল বারর, তামহীদ ২/২০০।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে
১৮১৯. আবী হুরাইরাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “আমাকে (স্বপ্নযোগে) লাইলাতুল কাদর (-এর নির্দিষ্ট তারিখ) দেখানো হয়েছিল। এরপর আমার পরিবারের কেউ আমাকে জাগিয়ে দেয়। ফলে আমাকে তা ভূলিয়ে দেয়া হয়। এমতাবস্থায় তোমরা শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করো।”[1]
بَاب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ وَقَالَ أَبُو سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ ثُمَّ أَيْقَظَنِي بَعْضُ أَهْلِي فَنَسِيتُهَا فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الْغَوَابِرِ
তাখরীজ: মুসলিম, সিয়াম ১১৬৬;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৯৭২ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৮ তে।
এ অনুচ্ছেদে আনাস, ইবনু উমার, আবী সাঈদ খুদরী হতেও হাদীস বর্ণিত আছে, যা আমরা তাখরীজ করেছি মুসনাদুল মাউসিলী আউয়াল নং ৩৭১২, ৪০২১, ছানী নং ৫৪১৯, ৫৪৮৪, ৫৫৪২ ও ছালিছ নং ১০৭৬, ১২৮০, ১৩২৪ তে।
পরিচ্ছেদঃ ৫৬. লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে
১৮২০. আব্দুল্লাহ ইবনু উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “তোমরা শেষ (দশকের) সপ্তম দিনে তা অনুসন্ধান করো।”[1]
بَاب فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ
أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ الْتَمِسُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الْأَوَاخِرِ
তাখরীজ: বুখারী, ফাযলী লাইলাতুল ক্বদর, ২০১৫; মুসলিম, সিয়াম ১১৬৫;
আমরা এর পূর্ণ তাখরীজ দিয়েছি মুসনাদুল মাউসিলী নং ৫৪১৯ ও সহীহ ইবনু হিব্বান নং ৩৬৭৫, ৩৬৭৬, ৩৬৮১ ও মুসনাদুল হুমাইদী নং ৬৪৭ তে। এছাড়াও, ইবনুল জারুদ, আল মুনতাক্বা নং ৪০৫।