পরিচ্ছেদঃ ২৭২- যে কোন ব্যক্তি ভোরে উপনীত হয়ে যা বলবে।
৬০৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভোরে উপনীত হয়ে বলতেনঃ
“আমরা ভোরে উপনীত হয়েছি এবং আল্লাহর রাজত্ব (সৃষ্টিকুল) ভোরে উপনীত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, তার কোন শরীক নাই। আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই এবং পুনরুত্থান তার কাছে।
তিনি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে বলতেনঃ
“আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি। আল্লাহর রাজত্ব সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর এবং তার কোন শরীক নাই। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং তার কাছেই ফিরে যেতে হবে”।
(আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়া নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَصْبَحَ ، قَالَ : أَصْبَحْنَا وَأَصْبَحَ الْحَمْدُ كُلُّهُ لِلَّهِ ، لا شَرِيكَ لَهُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَإِلَيْهِ النُّشُورُ ، وَإِذَا أَمْسَى ، قَالَ : أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ ، وَالْحَمْدُ كُلُّهُ لِلَّهِ ، لا شَرِيكَ لَهُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৩- যে ব্যক্তি অপরের জন্য দোয়া করে।
৬০৯। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্র মর্যাদাবানের পুত্র ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (আঃ), যিনি বরকতময় মহান আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ইউসুফ (আঃ) যতো কাল কারাগারে ছিলেন আমি যদি ততো কাল কারাগারে থাকতাম এবং অতঃপর রাজদূত আমার নিকট এসে আহবান জানালে আমি (তার ডাকে) সাড়া দিতাম। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত পড়েন (অনুবাদঃ) “রাজদূত যখন তার নিকট উপস্থিত হলো তখন সে বললো, তুমি তোমার মনিবের নিকট ফিরে যাও এবং তাকে জিজ্ঞেস করো, যে নারীরা নিজেদের হাত কেটেছিলো তাদের অবস্থা কি” (সূরা ইউসুফঃ ৫০)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ লুত (আঃ) এর উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি মজবুত দুর্গে আশ্রয় গ্রহণের আকাঙ্খা করেছিলেন। তিনি তাঁর কাওমকে বললেন, “তোমাদের উপর যদি আমার জোর খাটতো অথবা যদি আমি কোন সুদৃঢ় দুর্গের আশ্রয় নিতে পারতাম” (সূরা হূদঃ ৮০)। তার পর থেকে আল্লাহ যে কোন জাতির মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর মধ্য থেকেই নবীগণকে পাঠিয়েছেন। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِنَّ الْكَرِيمَ ابْنَ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ابْنِ الْكَرِيمِ ، يُوسُفُ بْنُ يَعْقُوبَ بْنِ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَوْ لَبِثْتُ فِي السِّجْنِ مَا لَبِثَ يُوسُفُ ، ثُمَّ جَاءَنِي الدَّاعِي لأَجَبْتُ ، إِذْ جَاءَهُ الرَّسُولُ ، فَقَالَ : ارْجِعْ إِلَى رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللَّاتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ سورة يوسف آية 50 ، وَرَحْمَةُ اللَّهِ عَلَى لُوطٍ ، إِنْ كَانَ لَيَأْوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ ، إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ : لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَى رُكْنٍ شَدِيدٍ سورة هود آية 80 ، فَمَا بَعَثَ اللَّهُ بَعْدَهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلا فِي ثَرْوَةٍ مِنْ قَوْمِهِ ، قَالَ مُحَمَّدٌ : الثَّرْوَةُ : الْكَثْرَةُ وَالْمَنَعَةُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৪- অন্তর নিংড়ানো দোয়া।
৬১০। আবদুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, রবী (রহঃ) প্রতি জুমুআর দিন আলকামা (রহঃ)-এর নিকট আসতেন। আমি তথায় উপস্থিত না থাকলে তারা আমার জন্য লোক পাঠিয়ে দিতেন। একদা রবী (রহঃ) এলেন। কিন্তু আমি তথায় উপস্থিত ছিলাম না। তাই আলকামা (রহঃ) আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমাকে বলেন, তুমি কি দেখেছো রবী কি নিয়ে এসেছে? তিনি বলেন, আপনি কি লক্ষ্য করেন না, লোকে প্রচুর দোয়া করে কিন্তু তাদের দোয়া কতো কম কবুল হয়? তার কারণ এই যে, মহামহিম আল্লাহ অন্তর নিঃসৃত দোয়া ছাড়া কবুল করেন না। আমি বললাম, আবদুল্লাহ (রাঃ)-ও কি তাই বলেননি? তিনি জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহ এমন লোকের দোয়া কবুল করেন না, যে লোককে শুনাবার জন্য, প্রদর্শনীর জন্য এবং অভিনয়ের ভঙ্গিতে দোয়া করে। কিন্তু যে ব্যক্তি অন্তরের অন্তস্থল থেকে দোয়া করে তিনি তার দোয়া কবুল করেন। রবী বলেন, আলকামা (রহঃ)-এর স্মরণ হলে তিনি বলেন, হাঁ (তিনি তাই বলেছেন)।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ الْحَارِثِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ ، قَالَ : كَانَ الرَّبِيعُ يَأْتِي عَلْقَمَةَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فَإِذَا لَمْ أَكُنْ ثَمَّةَ أَرْسَلُوا إِلَيَّ ، فَجَاءَ مَرَّةً وَلَسْتُ ثَمَّةَ ، فَلَقِيَنِي عَلْقَمَةُ ، وَقَالَ لِي : " أَلَمْ تَرَ مَا جَاءَ بِهِ الرَّبِيعُ ؟ قَالَ : أَلَمْ تَرَ أَكْثَرَ مَا يَدْعُو النَّاسَ ، وَمَا أَقَلَّ إِجَابَتَهُمْ ؟ وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لا يَقْبَلُ إِلا النَّاخِلَةَ مِنَ الدُّعَاءِ ، قُلْتُ : أَوَ لَيْسَ قَدْ قَالَ ذَلِكَ عَبْدُ اللَّهِ ؟ قَالَ : وَمَا قَالَ ؟ قَالَ : قَالَ عَبْدُ اللَّهِ : لا يَسْمَعُ اللَّهُ مِنْ مُسْمِعٍ ، وَلا مُرَاءٍ ، وَلا لاعِبٍ ، إِلا دَاعٍ دَعَا يَثْبُتُ مِنْ قَلْبِهِ ، قَالَ : فَذَكَرَ عَلْقَمَةَ ؟ قَالَ : نَعَمْ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৫- প্রত্যয় সহকারে দোয়া করবে। কারণ আল্লাহর জন্য বাধ্যতামূলক করণীয় কিছু নাই।
৬১১। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেউ যখন দোয়া করে তখন সে যেন এরূপ না বলে, যদি তুমি চাও (তবে আমার দোয়া কবুল করো)। বরং সে যেন দৃঢ়তার সাথে এবং পরম আগ্রহভরে দোয়া করে। কেননা কিছু দান করা আল্লাহর কাছে বিরাট কিছু নয়। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ ، عَنِ الْعَلاءِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلا يَقُولُ : إِنْ شِئْتَ ، وَلْيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ ، وَلْيُعَظِّمِ الرَّغْبَةَ ، فَإِنَّ اللَّهَ لا يَعْظُمُ عَلَيْهِ شَيْءٌ أَعْطَاهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৫- প্রত্যয় সহকারে দোয়া করবে। কারণ আল্লাহর জন্য বাধ্যতামূলক করণীয় কিছু নাই।
৬১২। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ দোয়া করলে দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে করবে। দোয়ায় এরূপ বলবে না যে, হে আল্লাহ! যদি তুমি চাও তবে আমাকে দাও। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নাই। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, আহমাদ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا دَعَا أَحَدُكُمْ فَلْيَعْزِمْ فِي الدُّعَاءِ ، وَلا يَقُلِ : اللَّهُمَّ إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي ، فَإِنَّ اللَّهَ لا مُسْتَكْرِهَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৩। আবু নাঈম ওয়াহব (রহঃ) বলেন, আমি ইবনে উমার (রাঃ) ও ইবনুয যুবাইর (রাঃ)-কে দোয়া করে হাতের তালু মুখমণ্ডলে মলতে দেখেছি।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُلَيْحٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبِي ، عَنْ أَبِي نُعَيْمٍ وَهُوَ وَهْبٌ ، قَالَ : رَأَيْتُ ابْنَ عُمَرَ ، وَابْنَ الزُّبَيْرِ يَدْعُوَانِ ، يُدِيرَانِ بِالرَّاحَتَيْنِ عَلَى الْوَجْهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৪। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর দোয়ায় বলেনঃ “আমি একজন মানুষই। অতএব তুমি আমাকে শাস্তি দিও না। আমি যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি, তবে তুমি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিও না (মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، زَعَمَ أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهَا ، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ ، يَقُولُ : " إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَلا تُعَاقِبْنِي ، أَيُّمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ فَلا تُعَاقِبْنِي فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৫। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তুফাইল ইবনে আমর আদ-দাওসী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমতে হাযির হয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! দাওস গোত্র নাফরমান হয়েছে এবং ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অতএব আপনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে বদদোয়া করুন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিবলামুখী হয়ে তাঁর উভয় হাত উপরে তুললেন। লোকজন মনে করলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বদদোয়া করবেন। কিন্তু তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! দাওস গোত্রকে হেদায়াত দান করো এবং তাদেরকে মুসলিমদের সাথে মিলিয়ে দাও।--(বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ ، عَنِ الأَعْرَجِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " قَدِمَ الطُّفَيْلُ بْنُ عَمْرٍو الدَّوْسِيُّ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ دَوْسًا قَدْ عَصَتْ وَأَبَتْ ، فَادْعُ اللَّهَ عَلَيْهَا ، فَاسْتَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقِبْلَةَ وَرَفَعَ يَدَيْهِ ، فَظَنَّ النَّاسُ أَنَّهُ يَدْعُو عَلَيْهِمْ ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ اهْدِ دَوْسًا ، وَائْتِ بِهِمْ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৬। আনাস (রাঃ) বলেন, এক বছর অনাবৃষ্টি হলো। মুসলিমদের একজন জুমুআর দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে দাড়িয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! অনাবৃষ্টি চলছে, ভূমি শুষ্ক (চৌচির) হয়ে গেছে, সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দুই হাত উর্ধ্বে তুললেন। তখন আকাশে মেঘ ছিলো না। তিনি তাঁর দুই হাত এতো প্রসারিত করলেন যে, আমি তাঁর বগলদ্বয়ের শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করলেন। আমরা জুমুআর নামায শেষ না করতেই এমন বৃষ্টি হলো যে, নিকটস্থ বাড়ি-ঘরের যুবকরা ফিরে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলো। সপ্তাহ ধরে অবিরত বৃষ্টি হতে থাকলো। পরবর্তী জুমুআ উপস্থিত হলে লোকজন বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়ছে। কাফেলার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আদম সন্তানের এতো তাড়াতাড়ি বিরক্ত হয়ে যাওয়াতে মৃদু হাসলেন এবং হাত তুলে বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদের উপর আর নয়”। ফলে মদীনার আকাশ থেকে মেঘ চলে গেলো (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালিক)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " قَحَطَ الْمَطَرُ عَامًا ، فَقَامَ بَعْضُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَحَطَ الْمَطَرُ ، وَأَجْدَبَتِ الأَرْضُ ، وَهَلَكَ الْمَالُ ، فَرَفَعَ يَدَيْهِ ، وَمَا يُرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابَةٍ ، فَمَدَّ يَدَيْهِ حَتَّى رَأَيْتُ بَيَاضَ إِبْطَيْهِ يَسْتَسْقِي اللَّهَ ، فَمَا صَلَّيْنَا الْجُمُعَةَ حَتَّى أَهَمَّ الشَّابُّ الْقَرِيبُ الدَّارِ الرُّجُوعَ إِلَى أَهْلِهِ ، فَدَامَتْ جُمُعَةٌ ، فَلَمَّا كَانَتِ الْجُمُعَةُ الَّتِي تَلِيهَا ، فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، تَهَدَّمَتِ الْبُيُوتُ ، وَاحْتَبَسَ الرُّكْبَانُ ، فَتَبَسَّمَ لِسُرْعَةِ مَلالِ ابْنِ آدَمَ وَقَالَ بِيَدِهِ : اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا ، وَلا عَلَيْنَا ، فَتَكَشَّطَتْ عَنِ الْمَدِينَةِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৭। আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর দুই হাত তুলে দোয়া করতে দেখেছেন। তিনি তাঁর দোয়ায় বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি একজন মানুষই। অতএব তুমি আমাকে শাস্তি দিও না। আমি যদি কোন মুমিন ব্যক্তিকে কষ্ট দিয়ে থাকি বা গালি দিয়ে থাকি, তবে তুমি সেজন্য আমাকে শাস্তি দিও না” (মুসলিম, আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا الصَّلْتُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ ، عَنْ سِمَاكٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، أَنَّهُ سَمِعَهُ مِنْهَا ، أَنَّهَا رَأَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو رَافِعًا يَدَيْهِ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَلا تُعَاقِبْنِي ، أَيُّمَا رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ آذَيْتُهُ أَوْ شَتَمْتُهُ فَلا تُعَاقِبْنِي فِيهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৮। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তুফাইল ইবনে আমর (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আপনার কি দুর্গ ও প্রতিরক্ষার প্রয়োজন আছে? দাওস গোত্রের দুর্গ? রাবী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। এজন্য যে, আল্লাহ আনসারদের জন্যই তাঁর প্রতিরক্ষা (সংক্রান্ত) সওয়াবের ভাণ্ডার সংরক্ষিত করেছেন। অতঃপর তুফাইল (রাঃ) হিজরত করে চলে আসলেন। তার সাথে তার সগোত্রীয় এক ব্যক্তিও আসলো। লোকটি রোগাক্রান্ত হলো এবং (রোগ যাতনায়) জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে গেলো। তাই সে শিং-এর মধ্যে থেকে একটি ছুরি নিয়ে তার ঘাড়ের (দুই) দিকের রগ কেটে ফেললো। তাতে তার মৃত্যু হলো।
তুফাইল (রাঃ) তাকে স্বপ্নে দেখলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার সাথে কিরূপ আচরণ করা হলো। সে বললো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার হিজরত করার কারণে আমাকে ক্ষমা করা হয়েছে। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তোমার দুই হাতের অবস্থা কি? রাবী বলেন, বলা হলো, তোমার হাতের দ্বারা তুমি যা নষ্ট করেছে তা আমরা আর সংস্কার করবো না। রাবী বলেন, তুফাইল (রাঃ) স্বপ্নের কথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আল্লাহ! তার দুই হাতকে ক্ষমা করে দাও এবং (দোয়ায় ) তিনি তাঁর দুই হাত উঠালেন। (মুসলিম, আওয়ানা, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আহমাদ)
حَدَّثَنَا عَارِمٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ الصَّوَّافُ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، أَنَّ الطُّفَيْلَ بْنَ عَمْرٍو ، قَالَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " هَلْ لَكَ فِي حِصْنٍ وَمَنَعَةٍ ، حِصْنِ دَوْسٍ ؟ قَالَ : فَأَبَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، لِمَا ذَخَرَ اللَّهُ لِلأَنْصَارِ ، فَهَاجَرَ الطُّفَيْلُ ، وَهَاجَرَ مَعَهُ رَجُلٌ مِنْ قَوْمِهِ ، فَمَرِضَ الرَّجُلُ فَضَجَرَ ، أَوْ كَلِمَةٌ شَبِيهَةٌ بِهَا ، فَحَبَا إِلَى قَرْنٍ ، فَأَخَذَ مِشْقَصًا فَقَطَعَ وَدَجَيْهِ ، فَمَاتَ ، فَرَآهُ الطُّفَيْلُ فِي الْمَنَامِ قَالَ : مَا فُعِلَ بِكَ ؟ قَالَ : غُفِرَ لِي بِهِجْرَتِي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : مَا شَأْنُ يَدَيْكَ ؟ قَالَ : فَقِيلَ : إِنَّا لا نُصْلِحُ مِنْكَ مَا أَفْسَدْتَ مِنْ يَدَيْكَ ، قَالَ : فَقَصَّهَا الطُّفَيْلُ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ وَلِيَدَيْهِ فَاغْفِرْ ، وَرَفَعَ يَدَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬১৯। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করে বলতেনঃ হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা থেকে, আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই ভীরুতা থেকে, আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই কৃপণতা থেকে এবং বার্ধক্য থেকে -(বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَرَمِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৬- হাত তুলে দোয়া করা।
৬২০। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মহামহিম আল্লাহ বলেছেন, আমি আমার বান্দার জন্য সেইরূপ যেরূপ সে আমার সম্পর্কে ধারণা পোষণ করে। আমি তার সাথেই থাকি যখন সে আমাকে ডাকে -(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ بْنُ خَيَّاطٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا جَعْفَرٌ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الأَصَمِّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ : أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي ، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا دَعَانِي
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২১। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলোঃ
উচ্চারণ:“আল্লাহুম্মা আনতা রব্বী লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাক্কতানী ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহ্দিকা ওয়া ও’য়াদিকা মাসতাত’তু আ’উযুবিকা মিন শার্রি মা ছা’নাতু আবূউলাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা ওয়া আবূউ’ বিযানবী ফাগ্ফির্লী ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয্যুনূবা ইল্লা আনতা”
অর্থঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছে এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর। আমি তোমার দেয়া নিয়ামতের কথা স্বীকার করি এবং আমার পাপের কথাও তোমার কাছে স্বীকার করি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফকারী আর কেউ নাই। আমি আমার কৃতকর্মের অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই”। যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় উপনীত হয়ে এরূপ বলে (ঐ রাতে) মারা গেলে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে বা বেহেশতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর সে ভোরে উপনীত হয়ে ঐরুপ বললে এবং সেদিন মারা গেলে বেহেশতে প্রবেশ করবে বা বেহেশতীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ كَعْبٍ ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " سَيِّدُ الاسْتِغْفَارِ : اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ ، وَأَبُوءُ بِذَنْبِي ، فَاغْفِرْ لِي ، فَإِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ ، إِذَا قَالَ حِينَ يُمْسِي فَمَاتَ دَخَلَ الْجَنَّةَ ، أَوْ : كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ، وَإِذَا قَالَ حِينَ يُصْبِحُ فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ . . . " مِثْلَهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২২। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মজলিসে অবশ্যই গণনা করে দেখতাম যে, তিনি এক মজলিসে শতবার বলতেনঃ “প্ৰভু! আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার তওবা কবুল করো। নিশ্চয় তুমিই একমাত্র তওবা কবুলকারী, দয়াময়”। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ ، عَنِ ابْنِ سُوقَةَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : " إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّ فِي الْمَجْلِسِ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ، وَتُبْ عَلَيَّ ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ " مِائَةَ مَرَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২৩। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চাশতের নামায পড়লেন, অতঃপর বলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো এবং আমার তওবা কবুল করো। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী, দয়াময়”। এমনকি তিনি তা শতবার বললেন (নাসাঈ, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ حُصَيْنٍ ، عَنْ هِلالِ بْنِ يَسَافٍ ، عَنْ زَاذَانَ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الضُّحَى ، ثُمَّ قَالَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ، وَتُبْ عَلَيَّ ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ " ، حَتَّى قَالَهَا مِائَةَ مَرَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২৪। শাদ্দাদ ইবনে আওস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সায়্যিদুল ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া হলো, কারো এভাবে বলাঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক। তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছে এবং আমি তোমার বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার দেয়া ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর। আমি আমার কৃতকর্মের ক্ষতি থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি। আমি তোমার কাছে তোমার দেয়া নিয়ামতরাজির স্বীকারোক্তি করছি এবং আমি তোমার কাছে আমার গুনাহ স্বীকার করছি। অতএব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। কেননা তুমি ছাড়া গুনাহ মাফকারী আর কেউ নাই”।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন ব্যক্তি দৃঢ় প্রত্যয়সহ দিনের বেলা তা বললে এবং সেদিনই সন্ধ্যা হওয়ার পূর্বে মারা গেলে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর কোন ব্যক্তি দৃঢ় প্রত্যয়সহ তা রাতের বেলা বললে এবং ভোর হওয়ার পূর্বেই মারা গেলে সেও জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (বুখারী, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بُرَيْدَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي بُشَيْرُ بْنُ كَعْبٍ الْعَدَوِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي شَدَّادُ بْنُ أَوْسٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " سَيِّدُ الاسْتِغْفَارِ أَنْ يَقُولَ : اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ ، وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ ، أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ ، وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي ، فَاغْفِرْ لِي ، فَإِنَّهُ لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ ، قَالَ : مَنْ قَالَهَا مِنَ النَّهَارِ مُوقِنًا بِهَا ، فَمَاتَ مِنْ يَوْمِهِ قَبْلَ أَنْ يُمْسِيَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ ، وَمَنْ قَالَهَا مِنَ اللَّيْلِ وَهُوَ مُوقِنٌ بِهَا ، فَمَاتَ قَبْلَ أَنْ يُصْبِحَ فَهُوَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২৫। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা করো। আমি দৈনিক শতবার আল্লাহর কাছে তওবা করি।
حَدَّثَنَا حَفْصٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ ، سَمِعْتُ الأَغَرَّ ، رَجُلٌ مِنْ جُهَيْنَةَ ، يُحَدِّثُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " تُوبُوا إِلَى اللَّهِ ، فَإِنِّي أَتُوبُ إِلَيْهِ كُلَّ يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৭- সায়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া)
৬২৬। কাব ইবনে উজরা (রাঃ) বলেন, নামাযের পরে পড়ার কলেমা আছে, যেগুলোর পাঠকারী ক্ষতিগ্রস্থ হয় নাঃ “আল্লাহ মহাপবিত্র, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই। আল্লাহ মহান”। রাবী আবু উনাইস ও আমর ইবনে কায়েস (রহঃ) হাদীসটি মারফু সুত্রে বর্ণনা করেছেন। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ ، عَنِ الْحَكَمِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى ، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ ، قَالَ : " مُعَقِّبَاتٌ لا يَخِيبُ قَائِلُهُنَّ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ ، وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ ، مِائَةَ مَرَّةٍ " . رَفَعَهُ ابْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ , وَعَمْرُو بْنُ قَيْسٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮- ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬২৭। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সত্বর কবুল হওয়ার মতো দোয়া হলো এক অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্য অপর অনুপস্থিত ব্যক্তির দোয়া। (তিরমিযী, আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادٍ , قَالَ لِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " أَسْرَعُ الدُّعَاءِ إِجَابَةً دُعَاءُ غَائِبٍ لِغَائِبٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮- ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬২৮। আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর সন্তোষ লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ভাইয়ের দোয়া কবুল হয়।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَيْوَةُ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي شُرَحْبِيلُ بْنُ شَرِيكٍ الْمَعَافِرِيُّ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ ، أَنَّهُ سَمِعَ الصُّنَابِحِيَّ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : " إِنَّ دَعْوَةَ الأَخِ فِي اللَّهِ تُسْتَجَابُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮- ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬২৯। সাফওয়ান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে সাফওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত। আবু দারদা (রাঃ)-এর কন্যা দারদা তার স্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি সিরিয়ায় আমার শ্বশুরালয়ে আসলাম। আমি বাড়িতে দারদার মাকে (আমার শাশুড়ীকে) পেলাম, কিন্তু দারদার পিতাকে (আমার শ্বশুরকে) পেলাম না। শাশুড়ী বলেন, তুমি কি এ বছর হজ্জ করার ইচ্ছা করেছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তাহলে আমাদের কল্যাণের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য মুসলিমের দোয়া কবুল হয়ে থাকে। তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা মোতায়েন থাকেন। যখন সে তার কোন ভাইয়ের কল্যাণের জন্য দোয়া করে, তখন সেই ফেরেশতা বলেন, আমীন এবং তোমারও অনুরূপ কল্যাণ হোক”। রাবী বলেন, বাজারে আবু দারদা (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলে তিনিও অনুরূপ বললেন এবং তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বরাতে বললেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়া নাসাঈ)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي غَنِيَّةَ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ صَفْوَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ صَفْوَانَ ، وَكَانَتْ تَحْتَهُ الدَّرْدَاءُ بِنْتُ أَبِي الدَّرْدَاءِ ، قَالَ : " قَدِمْتُ عَلَيْهِمُ الشَّامَ ، فَوَجَدْتُ أُمَّ الدَّرْدَاءِ فِي الْبَيْتِ ، وَلَمْ أَجِدْ أَبَا الدَّرْدَاءِ ، قَالَتْ : أَتُرِيدُ الْحَجَّ الْعَامَ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ ، قَالَتْ : فَادْعُ اللَّهَ لَنَا بِخَيْرٍ ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، كَانَ يَقُولُ : إِنَّ دَعْوَةَ الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ مُسْتَجَابَةٌ لأَخِيهِ بِظَهْرِ الْغَيْبِ ، عِنْدَ رَأْسِهِ مَلَكٌ مُوَكَّلٌ ، كُلَّمَا دَعَا لأَخِيهِ بِخَيْرٍ قَالَ : آمِينَ ، وَلَكَ بِمِثْلٍ ، قَالَ : فَلَقِيتُ أَبَا الدَّرْدَاءِ فِي السُّوقِ ، فَقَالَ مِثْلَ ذَلِكَ ، يَأْثُرُ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮- ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬৩০। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহ! কেবল আমাকে ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ক্ষমা করুন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি অনেক লোককে দোয়া থেকে বঞ্চিত করলে (বুখারী, আহমাদ, ইবনে হিব্বান) ।
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ وَشِهَابٌ قَالا : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : قَالَ رَجُلٌ : " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَلِمُحَمَّدٍ وَحْدَنَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَقَدْ حَجَبْتَهَا عَنْ نَاسٍ كَثِيرٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৮- ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করা।
৬৩১। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এক মজলিসে আল্লাহর কাছে শতবার ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুনেছিঃ “হে প্ৰভু! আমাকে ক্ষমা করো, আমার তওবা কবুল করো এবং আমাকে অনুগ্রহ করো। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু” (নাসাঈ)।
حَدَّثَنَا جَنْدَلُ بْنُ وَالِقٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَعْلَى ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ ، عَنْ مُجَاهِدٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْمَجْلِسِ مِائَةَ مَرَّةٍ : رَبِّ اغْفِرْ لِي ، وَتُبْ عَلَيَّ ، وَارْحَمْنِي ، إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩২। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আমি আমার প্রতিটি ব্যাপারেই দোয়া করে থাকি, এমনকি আমার জন্তুযানকে দ্রুত গতিসম্পন্ন করে দেওয়ার জন্যও দোয়া করি। তাতে আমি আনন্দদায়ক ফলই লাভ করি।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ يَعِيشَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ ، عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ ، عَنْ نَافِعٍ ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ، قَالَ : " إِنِّي لأَدْعُو فِي كُلِّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِي حَتَّى أَنْ يُفْسِحَ اللَّهُ فِي مَشْيِ دَابَّتِي ، حَتَّى أَرَى مِنْ ذَلِكَ مَا يَسُرُّنِي
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৩। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তার দোয়াসমূহের মধ্যে একটি ছিলোঃ “হে আল্লাহ! সৎকর্মশীল লোকদের সাথে আমার মৃত্যু দান করো, নিকৃষ্ট লোকদের মধ্যে আমাকে জীবিত রেখো না এবং উত্তম লোকদের সাথে আমার মিলন ঘটাও”।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُهَاجِرٌ أَبُو الْحَسَنِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ ، عَنْ عُمَرَ ، أَنَّهُ كَانَ فِيمَا يَدْعُو : " اللَّهُمَّ تَوَفَّنِي مَعَ الأَبْرَارِ ، وَلا تُخَلِّفْنِي فِي الأَشْرَارِ ، وَأَلْحِقْنِي بِالأَخْيَارِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৪। শাকীক (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ (রাঃ) বেশীর ভাগ নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করতেনঃ “আমাদের প্রতিপালক! আমাদের মধ্যকার সম্পর্কের সংশোধন করে দাও, আমাদেরকে ইসলামের পথে পরিচালিত করো, আমাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে মুক্তি দাও, প্রকাশ্য ও গুপ্ত সকল প্রকার অশ্লীলতা থেকে আমাদের দূরে রাখো, আমাদের শ্রবণেন্দ্রীয়, অন্তরসমূহ ও আমাদের স্ত্রী-পুত্রদের মধ্যে বরকত দান করো এবং আমাদের তওবা কবুল করো। কেননা তুমিই তওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু। তুমি আমাদেরকে নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞ, এগুলোর প্রশংসাকারী ও আলোচনাকারী বানাও এবং তা আমাদেরকে পূর্ণরূপে দান করে”।-(আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তাবারানী)
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شَقِيقٌ ، قَالَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ ، يُكْثِرُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَؤُلاءِ الدَّعَوَاتِ : " رَبَّنَا أَصْلِحْ بَيْنَنَا ، وَاهْدِنَا سَبِيلَ الإِسْلامِ ، وَنَجِّنَا مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ ، وَاصْرِفْ عَنَّا الْفَوَاحِشَ مَا ظَهْرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ، وَبَارِكْ لَنَا فِي أَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُلُوبِنَا وَأَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا ، وَتُبْ عَلَيْنَا إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ ، وَاجْعَلْنَا شَاكِرِينَ لِنِعْمَتِكَ ، مُثْنِينَ بِهَا ، قَائِلِينَ بِهَا ، وَأَتْمِمْهَا عَلَيْنَا
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৫। সাবিত (রহঃ) বলেন, আনাস (রাঃ) তার ভাইয়ের জন্য দোয়া করার সময় বলতেন, “আল্লাহ তার প্রতি সৎকর্মপরায়ণ লোকদের দোয়া বর্ষণ করুন, যারা যালেম বা পাপাচারী নন, যারা রাত জেগে ইবাদত করেন এবং দিনের বেলা রোযা রাখেন”।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ الْمُغِيرَةِ ، عَنْ ثَابِتٍ ، قَالَ : كَانَ أَنَسٌ ، إِذَا دَعَا لأَخِيهِ ، يَقُولُ : " جَعَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ صَلاةَ قَوْمٍ إِبْرَارٍ لَيْسُوا بِظَلَمَةٍ وَلا فُجَّارٍ ، يَقُومُونَ اللَّيْلَ ، وَيَصُومُونَ النَّهَارَ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৬। আমর ইবনে হুরাইস (রাঃ) বলেন, আমার মা আমাকে নিয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গেলেন। তিনি আমার মাথা মলে দিলেন এবং আমার রিযিকের জন্য দোয়া করলেন। -(উসদুল গাবা)
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ الْيَمَانِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ حُرَيْثٍ ، يَقُولُ : " ذَهَبَتْ بِي أُمِّي إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي ، وَدَعَا لِي بِالرِّزْقِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৭। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন যে, তিনি যাবিয়ায় অবস্থানকালে তাকে বলা হলো, আপনার ভাই-বন্ধু তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দোয়া করানোর উদ্দেশ্যে বসরা থেকে আপনার নিকট এসেছে। তিনি বলেন, “হে আল্লাহ! আমাদের ক্ষমা করুন, আমাদের দয়া করুন, আমাদের দুনিয়ার কল্যাণ ও আখেরাতের কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে দোযখের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন”। তারা আরো অধিক দোয়ার আবেদন করলে তিনি পূর্বোক্ত দোয়া করেন। তিনি বলেন, তোমাদের যদি তা দান করা হয় তাহলে তোমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ দান করা হলো।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الرُّومِيُّ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي أَبِي ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : قِيلَ لَهُ : " إِنَّ إِخْوَانَكَ أَتَوْكَ مِنَ الْبَصْرَةِ وَهُوَ يَوْمَئِذٍ بِالزَّاوِيَةِ ، لِتَدْعُوَ اللَّهَ لَهُمْ ، قَالَ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا ، وَارْحَمْنَا ، وَآتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ، فَاسْتَزَادُوهُ ، فَقَالَ مِثْلَهَا ، فَقَالَ : إِنْ أُوتِيتُمْ هَذَا ، فَقَدْ أُوتِيتُمْ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৮। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গাছের ডাল ধরে নাড়া দিলেন কিন্তু পাতা ঝরলো না। তিনি পুনরায় তা ধরে নাড়া দিলেন কিন্তু এবারও পাতা ঝরলো না। তিনি পুনরায় ডাল ধরে নাড়া দিলে এবার পাতা ঝরলো। তিনি বলেনঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়ালহামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু” বাক্য গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন গাছ তার পাতাসমূহ ঝরিয়ে দেয় (তিরমিযী, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو رَبِيعَةَ سِنَانٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ، قَالَ : " أَخَذَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ غُصْنًا فَنَفَضَهُ فَلَمْ يَنْتَفِضْ ، ثُمَّ نَفَضَهُ فَلَمْ يَنْتَفِضْ ، ثُمَّ نَفَضَهُ فَانْتَفَضَ ، قَالَ : إِنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ ، وَالْحَمْدَ لِلَّهِ ، وَلا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ، يَنْفُضْنَ الْخَطَايَا كَمَا تَنْفُضُ الشَّجَرَةُ وَرَقَهَا
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৩৯। আনাস (রাঃ) বলেন, এক মহিলা তার কোন প্রয়োজন পূরণের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলো। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়েও উত্তম কিছু বলে দিবো না? তোমার শয়নকালে তুমি তেত্রিশবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”, তেত্রিশবার “সুবহানাল্লাহ” এবং চৌত্রিশবার “আলহামদু লিল্লাহ” বলবে, তাতে এক শতবার হবে এবং তা দুনিয়া ও তার মধ্যকার সব কিছুর চেয়ে উত্তম। (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَلَمَةُ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسًا ، يَقُولُ : " أَتَتِ امْرَأَةٌ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَشْكُو إِلَيْهِ الْحَاجَةَ ، أَوْ بَعْضَ الْحَاجَةِ ، فَقَالَ : أَلا أَدُلُّكَ عَلَى خَيْرٍ مِنْ ذَلِكَ ؟ تُهَلِّلِينَ اللَّهَ ثَلاثِينَ عِنْدَ مَنَامِكِ ، وَتُسَبِّحِينَ ثَلاثًا وَثَلاثِينَ ، وَتَحْمَدِينَ أَرْبَعًا وَثَلاثِينَ ، فَتِلْكَ مِائَةٌ خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৪০। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ যে ব্যক্তি এক শতবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এক শতবার সুবহানাল্লাহ এবং এক শতবার আল্লাহু আকবার বলবে তার জন্য তা দশটি গোলাম আযাদ করা এবং সাতটি উট কোরবানী করার চেয়ে উত্তম।
وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ هَلَّلَ مِائَةً ، وَسَبَّحَ مِائَةً ، وَكَبَّرَ مِائَةً ، خَيْرٌ لَهُ مِنْ عَشْرِ رِقَابٍ يُعْتِقُهَا ، وَسَبْعِ بَدَنَاتٍ يَنْحَرُهَا
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৪১। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কোন দোয়া সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। সে পরদিন সকালে তার নিকট এসে আবার বললো, হে আল্লাহর নবী! কোন দোয়া সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করো, সুখ-শান্তি প্রার্থনা করো। যদি তোমাকে দুনিয়া ও আখেরাতের স্বস্তি ও নিরাপত্তা দান করা হয় তবে তুমি সফলকাম হলে। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ ، فَقَالَ : " يَا رَسُولَ اللَّهِ ، أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، ثُمَّ أَتَاهُ الْغَدَ فَقَالَ : يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، أَيُّ الدُّعَاءِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : سَلِ اللَّهَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، فَإِذَا أُعْطِيتَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ فَقَدْ أَفْلَحْتَ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৪২। আবু যার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম কথা হচ্ছেঃ “সুবহানাল্লাহ লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদীর। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি” (আল্লাহ মহাপবিত্র, তাঁর কোন শরীক নাই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর এবং তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। মন্দকে রোধ করা এবং কল্যাণ হাসিল করার শক্তি আল্লাহ ব্যতীত কারো নাই। আল্লাহ মহাপবিত্র ও সকল প্রশংসা তাঁরই”) (মুসলিম)
حَدَّثَنَا آدَمُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ اللَّهِ الْجَسْرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " أَحَبُّ الْكَلامِ إِلَى اللَّهِ : سُبْحَانَ اللَّهِ لا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، لا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ ، سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৭৯- বিবিধ।
৬৪৩। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি নামায পড়ছিলাম। তার কি একটা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু আমি তাতে বিলম্ব করলাম। তিনি বলেনঃ হে আয়েশা! তুমি অবশ্যই সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপকার্থক দোয়া করবে। নামায শেষ করে আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপকার্থক দোয়া কি? তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিলম্বে ও অবিলম্বে, আমার জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সব রকম কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার নিকট বিলম্বে ও অবিলম্বে আমার জানা ও অজানা সব রকম ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। আমি তোমার নিকট বেহেশত এবং যে কথা ও কাজ বেহেশতের নিকটবর্তী করে দেয় তা প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট দোযখ থেকে এবং যে কথা ও কাজ দোযখের নিকটবর্তী করে দেয় তা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি তোমার নিকট সেই জিনিস প্রার্থনা করছি যা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার নিকট প্রার্থনা করেছেন। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি সেই জিনিস থেকে যা থেকে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আমার ব্যাপারে তুমি যে ফয়সালা করেছো পরিণামে তাকে (আমার) হেদায়াতের উপায় বানাও” (ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا الصَّلْتُ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ جَبْرِ بْنِ حَبِيبٍ ، عَنْ أُمِّ كُلْثُومِ ابْنَةِ أَبِي بَكْرٍ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " دَخَلَ عَلَيَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أُصَلِّي ، وَلَهُ حَاجَةٌ ، فَأَبْطَأْتُ عَلَيْهِ ، قَالَ : يَا عَائِشَةُ ، عَلَيْكِ بِجُمَلِ الدُّعَاءِ وَجَوَامِعِهِ ، فَلَمَّا انْصَرَفْتُ ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا جُمَلُ الدُّعَاءِ وَجَوَامِعُهُ ؟ قَالَ : قُولِي : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنَ الْخَيْرِ كُلِّهِ ، عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمْ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ كُلِّهِ عَاجِلِهِ وَآجِلِهِ ، مَا عَلِمْتُ مِنْهُ وَمَا لَمْ أَعْلَمُ ، وَأَسْأَلُكَ الْجَنَّةَ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ النَّارِ وَمَا قَرَّبَ إِلَيْهَا مِنْ قَوْلٍ أَوْ عَمَلٍ ، وَأَسْأَلُكَ مِمَّا سَأَلَكَ بِهِ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِمَّا تَعَوَّذَ مِنْهُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَمَا قَضَيْتَ لِي مِنْ قَضَاءٍ فَاجْعَلْ عَاقِبَتَهُ رُشْدًا
পরিচ্ছেদঃ ২৮০- মহানবী (সাঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ।
৬৪৪। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে মুসলিম ব্যক্তির দান-খয়রাত করার সামর্থ্য নাই, সে যেন তার দোয়ায় বলে, “আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া রাসূলিকা ওয়া সাল্লি আলাল-মুমিনীনা ওয়াল-মুমিনাত ওয়াল-মুসলিমীনা ওয়াল মুসলিমাত” (হে আল্লাহ! তোমার বান্দা ও রাসূল মুহাম্মাদকে দয়া করো এবং মুমিন নারী-পুরুষ ও মুসলিম নারী-পুরুষ সকলকে দয়া করো)। এটাই তার জন্য যাকাতস্বরূপ। (হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ وَهْبٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ ، عَنْ دَرَّاجٍ ، أَنَّ أَبَا الْهَيْثَمَ حَدَّثَهُ ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " أَيُّمَا رَجُلٌ مُسْلِمٌ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ صَدَقَةٌ ، فَلْيَقُلْ فِي دُعَائِهِ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ ، عَبْدِكَ وَرَسُولِكَ ، وَصَلِّ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ، وَالْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ ، فَإِنَّهَا لَهُ زَكَاةٌ
পরিচ্ছেদঃ ২৮০- মহানবী (সাঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ।
৬৪৫। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি বলবে, “হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের প্রতি অনুগ্রহ করো এবং তাঁর পরিবারবর্গের প্রতিও অনুগ্রহ করো, যেমন তুমি অনুগ্রহ করেছো ইবরাহীম (আঃ) কে, ইবরাহীমের পরিজনের প্রতি। আর তুমি বরকত দান করো মুহাম্মাদকে এবং তাঁর পরিবারবর্গকে, যেমন তুমি বরকত দান করেছো ইবরাহীমকে ও তাঁর পরিজনকে। আর তুমি রহমত বর্ষণ করো মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিজনদের উপর, যেমন তুমি রহমত বর্ষণ করেছে ইবরাহীমের উপর এবং তার পরিজনের উপর”। কিয়ামতের দিন আমি তার পক্ষে সাক্ষী দিবো এবং তার জন্য শাফাআত করবো (তাবারীর তাহযীব, ফাতহুল বারী)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاءِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ سُلَيْمَانَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، مَوْلَى سَعِيدِ بْنِ الْعَاصِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ عَلِيٍّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَنْ قَالَ : اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ، وَتَرَحَّمْ عَلَى مُحَمَّدٍ ، وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ ، كَمَا تَرَحَّمْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَآلِ إِبْرَاهِيمَ ، شَهِدْتُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِالشَّهَادَةِ ، وَشَفَعْتُ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৮০- মহানবী (সাঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ।
৬৪৬। আনাস (রাঃ) ও মালেক ইবনে আওস ইবনে হাদাসান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাকৃতিক প্রয়োজন সাড়তে বের হলেন, কিন্তু সাথে যাওয়ার মতো কাউকে পেলেন না। উমার (রাঃ) মাটির ঘড়া বা পানির পাত্র নিয়ে তাঁর পিছে পিছে গেলেন। তিনি তাঁকে একটি শুষ্ক পাহাড়ী নালার মধ্যে সিজদারত অবস্থায় পেলেন। তিনি সরে গিয়ে তাঁর পিছনে বসলেন। শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মাথা তুলে বলেনঃ হে উমার! তুমি আমাকে সিজদারত দেখে একপাশে সরে গিয়ে ভালোই করেছো। জিবরাঈল (আঃ) এসে আমাকে বলেন, যে ব্যক্তি আপনার প্রতি একবার দরূদ পড়ে, আল্লাহ তাঁর প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তার মর্যাদা দশ গুণ বাড়িয়ে দেন। (আহমাদ, মুসনাদে আবু ইয়ালা, সাখাবী)।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ وَرْدَانَ قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسًا ، وَمَالِكَ بْنَ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ ، " أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ يَتَبَرَّزُ ، فَلَمْ يَجِدْ أَحَدًا يَتْبَعُهُ ، فَخَرَجَ عُمَرُ فَاتَّبَعَهُ بِفَخَّارَةٍ أَوْ مِطْهَرَةٍ ، فَوَجَدَهُ سَاجِدًا فِي مِسْرَبٍ ، فَتَنَحَّى فَجَلَسَ وَرَاءَهُ ، حَتَّى رَفَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَأْسَهُ ، فَقَالَ : أَحْسَنْتَ يَا عُمَرُ ، حِينَ وَجَدْتَنِي سَاجِدًا فَتَنَحَّيْتَ عَنِّي ، إِنَّ جِبْرِيلَ جَاءَنِي ، فَقَالَ : مَنْ صَلَّى عَلَيْكَ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا ، وَرَفَعَ لَهُ عَشْرَ دَرَجَاتٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৮০- মহানবী (সাঃ)-এর উপর দুরূদ পাঠ।
৬৪৭। আনাস ইবনে মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পড়ে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন এবং তার দশটি গুনাহ মুছে দেন। (আহমাদ, মুসনাদ আবু নাঈম)
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ أَبِي مَرْيَمَ ، سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا ، وَحَطَّ عَنْهُ عَشْرَ خَطِيئَاتٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৮১- কারো উপস্থিতিতে মহানবী (সাঃ)-এর নামোল্লেখ হওয়া সত্বেও সে তাঁর প্রতি দুরূদ না পড়লে।
৬৪৮। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে উঠলেন। তিনি প্রথম সিঁড়িতে উঠে বলেনঃ আমীন। তিনি দ্বিতীয় সিঁড়িতে উঠেও বলেনঃ আমীন। তিনি তৃতীয় সিঁড়িতে উঠেও বলেনঃ আমীন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা আপনাকে তিনবার আমীন বলতে শুনলাম। তিনি বলেনঃ আমি প্রথম সিঁড়িতে উঠতেই জিবরাঈল (আঃ) এসে বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যে রমযান মাস পেলো এবং তা শেষ হয়ে যাওয়া সত্বেও তার গুনাহর ক্ষমা হলো না। আমি বললামঃ আমীন। অতঃপর দ্বিতীয় ধাপে উঠতেই তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যে নিজ পিতা-মাতা উভয়কে অথবা তাদের একজনকে বৃদ্ধাবস্থায় পেলো, অথচ তারা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করালো না। আমি বললামঃ আমীন। অতঃপর তৃতীয় ধাপে উঠতেই তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য সেই ব্যক্তির যার নিকট আপনার উল্লেখ হলো, অথচ সে আপনার প্রতি দুরূদ পড়েনি। আমি বললামঃ আমীন। (ইবনুস সুন্নী)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ شَيْبَةَ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نَافِعٍ الصَّائِغُ ، عَنْ عِصَامِ بْنِ زَيْدٍ ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ ابْنُ شَيْبَةَ خَيْرًا ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، " أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَقَى الْمِنْبَرَ ، فَلَمَّا رَقَى الدَّرَجَةَ الأُولَى ، قَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّانِيَةَ ، فَقَالَ : آمِينَ ، ثُمَّ رَقَى الثَّالِثَةَ ، فَقَالَ : آمِينَ ، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، سَمِعْنَاكَ تَقُولُ : آمِينَ ثَلاثَ مَرَّاتٍ ؟ قَالَ : لَمَّا رَقِيتُ الدَّرَجَةَ الأُولَى جَاءَنِي جِبْرِيلُ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ رَمَضَانَ ، فَانْسَلَخَ مِنْهُ وَلَمْ يُغْفَرْ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ ، ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ أَدْرَكَ وَالِدَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا فَلَمْ يُدْخِلاهُ الْجَنَّةَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ ، ثُمَّ قَالَ : شَقِيَ عَبْدٌ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ وَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮১- কারো উপস্থিতিতে মহানবী (সাঃ)-এর নামোল্লেখ হওয়া সত্বেও সে তাঁর প্রতি দুরূদ না পড়লে।
৬৪৯। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ কোন বাক্তি আমার প্রতি একবার দুরূদ পাঠ করলে আল্লাহ তার প্রতি দশবার রহমত বর্ষণ করেন। (মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, দারিমী, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي الْعَلاءُ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَنْ صَلَّى عَلَيَّ وَاحِدَةً صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ عَشْرًا
পরিচ্ছেদঃ ২৮১- কারো উপস্থিতিতে মহানবী (সাঃ)-এর নামোল্লেখ হওয়া সত্বেও সে তাঁর প্রতি দুরূদ না পড়লে।
৬৫০। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারে আরোহণ করে বলেনঃ আমীন আমীন, আমীন। তাঁকে বলা হলো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি তো কখনও এরূপ করেননি। তিনি বলেনঃ জিবরাল (আঃ) বলেন, যে ব্যক্তি তার পিতা-মাতাকে বা তাদের একজনকে জীবিত পেলো, অথচ তারা তার বেহেশতে প্রবেশের কারণ হলো না, সে অপমানিত হোক। আমি বললামঃ আমীন (তাই হোক)। অতঃপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি রমযান মাস পেলো, অথচ তার গুনাহ মাফ হলো না সে অপমানিত হোক। আমি বললামঃ আমীন। তিনি পুনরায় বলেন, যার সামনে আপনার প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলো, অথচ সে আপনার প্রতি দুরূদ পড়লো না সে অপমানিত হোক। আমি বললামঃ আমীন। (মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, ইবনে হিব্বান, ইবনে খুজাইমাহ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ كَثِيرٍ يَرْوِيهِ ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ رَبَاحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، " أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَقَى الْمِنْبَرَ ، فَقَالَ : آمِينَ ، آمِينَ ، آمِينَ " ، قِيلَ لَهُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، مَا كُنْتَ تَصْنَعُ هَذَا ؟ فَقَالَ : قَالَ لِي جِبْرِيلُ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ أَدْرَكَ أَبَوَيْهِ أَوْ أَحَدَهُمَا لَمْ يُدْخِلْهُ الْجَنَّةَ ، قُلْتُ : آمِينَ ، ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ عَبْدٍ دَخَلَ عَلَيْهِ رَمَضَانُ لَمْ يُغْفَرْ لَهُ ، فَقُلْتُ : آمِينَ ، ثُمَّ قَالَ : رَغِمَ أَنْفُ امْرِئٍ ذُكِرْتَ عِنْدَهُ فَلَمْ يُصَلِّ عَلَيْكَ ، فَقُلْتُ : آمِينَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮১- কারো উপস্থিতিতে মহানবী (সাঃ)-এর নামোল্লেখ হওয়া সত্বেও সে তাঁর প্রতি দুরূদ না পড়লে।
৬৫১। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে জুয়াইরিয়া (রাঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট থেকে বের হয়ে গেলেন। তার পূর্বনাম ছিল বাররা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন জুয়াইরিয়া। তিনি তার নিকট থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর তার নাম বাররা থাকা অবস্থায় তিনি ঘরে পুনরায় প্রবেশ করা পছন্দ করলেন না। অতঃপর দিনের বেশ সময় চলে গেলে তিনি ফিরে এলেন, অথচ জুয়াইরিয়া (রাঃ) তখনও সেই বসা অবস্থায় ছিলেন। তিনি বলেনঃ তুমি কি সেই এক নাগাড়ে বসে আছো? তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি বাক্য তিনবার করে বলেছি। যদি তোমার দোয়া-কালামের সাথে সেগুলো ওজন করা হয়, তবে আমার কথিত বাক্যগুলিই অধিক ভারী হবেঃ “আমি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসা করছি তাঁর অগণিত সৃষ্টির সমান ও তাঁর নিজের সস্তুষ্টি ও তাঁর আরশের ওজনের সমান এবং তাঁর কলেমাসমূহের সংখ্যার সমপরিমাণ” (মুসলিম)।
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ كُرَيْبًا أَبَا رِشْدِينَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ بْنِ أَبِي ضِرَارٍ ، " أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا ، وَكَانَ اسْمُهَا بَرَّةَ ، فَحَوَّلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْمَهَا ، فَسَمَّاهَا جُوَيْرِيَةَ ، فَخَرَجَ وَكَرِهَ أَنْ يَدْخُلَ وَاسْمُهَا بَرَّةُ ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهَا بَعْدَمَا تَعَالَى النَّهَارُ ، وَهِيَ فِي مَجْلِسِهَا ، فَقَالَ : مَا زِلْتِ فِي مَجْلِسِكِ ؟ لَقَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاثَ مَرَّاتٍ ، لَوْ وُزِنَتْ بِكَلِمَاتِكِ وَزَنَتْهُنَّ : سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ ، وَرِضَا نَفْسِهِ ، وَزِنَةَ عَرْشِهِ ، وَمِدَادَ أَوْ مَدَدَ كَلِمَاتِهِ " . قَالَ مُحَمَّدٌ : حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا بِهِ سُفْيَانُ غَيْرَ مَرَّةٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ ، عَنْ كُرَيْبٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَن ّالنَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ مِنْ عِنْدِ جُوَيْرِيَةَ ، وَلَمْ يَقُلْ : عَنْ جُوَيْرِيَةَ إِلا مَرَّةً
পরিচ্ছেদঃ ২৮১- কারো উপস্থিতিতে মহানবী (সাঃ)-এর নামোল্লেখ হওয়া সত্বেও সে তাঁর প্রতি দুরূদ না পড়লে।
৬৫২। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট দোযখ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করো। তোমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো কবরের আযাব থেকে। তোমরা মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। তোমরা জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো। (তিরমিযী,নাসাঈ, আহমাদ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا ابْنُ سَلامٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ جَهَنَّمَ ، اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮২- যালেমের বিরুদ্ধে মযলুমের বদদোয়া।
৬৫৩। জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ আমার শ্রবণশক্তি ও দর্শনশক্তি সংশোধন করো এবং এগুলোকে আমার মৃত্যু পর্যন্ত কার্যক্ষম রাখো। যে ব্যক্তি আমার উপর যুলুম করেছে তার বিরুদ্ধে তুমি আমাকে সাহায্য করো এবং তুমি তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমাকে দেখাও”। -(তাবারানীর মুজামুস সাগীর)
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ إِدْرِيسَ ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ مُحَارِبِ بْنِ دِثَارٍ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي سَمْعِي وَبَصَرِي ، وَاجْعَلْهُمَا الْوَارِثَيْنِ مِنِّي ، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ ظَلَمَنِي ، وَأَرِنِي مِنْهُ ثَأْرِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮২- যালেমের বিরুদ্ধে মযলুমের বদদোয়া।
৬৫৪। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার চোখ ও কানের দ্বারা উপকৃত করো এবং এগুলোকে আমার মৃত্যু পর্যন্ত সুস্থ রাখো, আমার শত্রুর বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো এবং তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করে আমাকে দেখাও”। (তিরমিযী, হাকিম, বাযযার)
حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرٍو ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ مَتِّعْنِي بِسَمْعِي وَبَصَرِي ، وَاجْعَلْهُمَا الْوَارِثَ مِنِّي ، وَانْصُرْنِي عَلَى عَدُوِّي ، وَأَرِنِي مِنْهُ ثَأْرِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮২- যালেমের বিরুদ্ধে মযলুমের বদদোয়া।
৬৫৫। সাদ ইবনে তারিক ইবনে আশয়াম আল-আশযাঈ (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আমরা প্রভাতকালে সকাল সকাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হতাম। কোন পুরুষ বা নারী উপস্থিত হয়ে বলতো, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আমি নামায পড়াকালে কিরূপ দোয়া করবো? তিনি বলতেনঃ তুমি বলবে, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে হেদায়াত করো এবং আমাকে রিযিক দান করো”। তা তোমার দুনিয়া ও আখেরাতকে একত্র করবে। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ طَارِقِ بْنِ أَشْيَمَ الأَشْجَعِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي ، قَالَ : " كُنَّا نَغْدُو إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَيَجِيءُ الرَّجُلُ وَتَجِيءُ الْمَرْأَةُ ، فَيَقُولُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، كَيْفَ أَقُولُ إِذَا صَلَّيْتُ ؟ فَيَقُولُ : قُلِ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي ، وَارْحَمْنِي ، وَاهْدِنِي ، وَارْزُقْنِي ، فَقَدْ جَمَعَتْ لَكَ دُنْيَاكَ وَآخِرَتَكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৩- যে ব্যক্তি দীর্ঘায়ু কামনা করে।
৬৫৬। উম্মু কায়েস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ উম্মু কায়েস যা বলেছে, সে দীর্ঘজীবি হোক। অধস্তন রাবী বলেন, আমার জানামতে তার মতো দীর্ঘায়ু আর কোন নারীর হয়নি। (নাসাঈ)
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ مَوْلَى أُمِّ قَيْسِ ابْنَةِ مِحْصَنٍ ، عَنْ أُمِّ قَيْسٍ ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ لَهَا : " مَا قَالَتْ : طَالَ عُمْرُهَا ؟ وَلا نَعْلَمُ امْرَأَةً عُمِّرَتْ مَا عُمِّرَتْ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৩- যে ব্যক্তি দীর্ঘায়ু কামনা করে।
৬৫৭। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের আহলে বাইতের এখানে আসতেন। একদিন তিনি এসে আমাদের জন্য দোয়া করলেন। উম্মু সুলাইম (রাঃ) বলেন, আপনার ছোট্ট খাদেমটি, আপনি তার জন্য কি দোয়া করবেন না? তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি তার সম্পদ ও তার সন্তান বৃদ্ধি করো, তাকে দীর্ঘজীবি করো এবং তাকে ক্ষমা করো”। আনাস (রাঃ) বলেন, তিনি আমার জন্য তিনটি দোয়া করেন। অতএব আমি এক শত তিনটি সন্তানকে দাফন করেছি, আমার বাগানে বছরে দুইবার ফল ধরে এবং আমার আয়ু এতো দীর্ঘ হয়েছে যে, অধিক বয়সের জন্য আমি লোকজনের সামনে লজ্জাবোধ করি। এখন আমি ক্ষমা আশা করছি। (মুসলিম)
حَدَّثَنَا عَارِمٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ سِنَانٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَنَسٌ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْخُلُ عَلَيْنَا ، أَهْلَ الْبَيْتِ ، فَدَخَلَ يَوْمًا ، فَدَعَا لَنَا ، فَقَالَتْ أُمُّ سُلَيْمٍ : خُوَيْدِمُكَ أَلا تَدْعُو لَهُ ؟ قَالَ : اللَّهُمَّ ، أَكْثِرْ مَالَهُ وَوَلَدَهُ ، وَأَطِلْ حَيَاتَهُ ، وَاغْفِرْ لَهُ ، فَدَعَا لِي بِثَلاثٍ ، فَدَفَنْتُ مِائَةً وَثَلاثَةً ، وَإِنَّ ثَمَرَتِي لَتُطْعِمُ فِي السَّنَةِ مَرَّتَيْنِ ، وَطَالَتْ حَيَاتِي حَتَّى اسْتَحْيَيْتُ مِنَ النَّاسِ ، وَأَرْجُو الْمَغْفِرَةَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪- যে ব্যক্তি বলে, তাড়াহুড়া না করলে বান্দার দোয়া কবুল হয়।
৬৫৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে। সে বলে, আমি দোয়া তো করলাম কিন্তু আমার দোয়া কবুল হলো না। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী,ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ ، عَنِ الزُّهْرِيِّ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ عُبَيْدٍ مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، وَكَانَ مِنَ الْقُرَّاءِ وَأَهْلِ الْفِقْهِ ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَعْجَلْ ، يَقُولُ : دَعَوْتُ فَلَمْ يُسْتَجَبْ لِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮৪- যে ব্যক্তি বলে, তাড়াহুড়া না করলে বান্দার দোয়া কবুল হয়।
৬৫৯। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের যে কোন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় যতক্ষণ না সে পাপাচারের বা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া করে এবং তাড়াহুড়া না করে। সে বলে, আমি দোয়া করলাম কিন্তু তা কবুল হয়েছে বলে মনে হয় না। তারপর সে দোয়া করা ত্যাগ করে। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ ، أَنَّ رَبِيعَةَ بْنَ يَزِيدَ حَدَّثَهُ ، عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " يُسْتَجَابُ لأَحَدِكُمْ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ ، أَوْ يَسْتَعْجِلَ ، فَيَقُولُ : دَعَوْتُ فَلا أَرَى يَسْتَجِيبُ لِي ، فَيَدَعُ الدُّعَاءَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫- যে ব্যক্তি অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়।
৬৬০। আমর ইবনে শুআইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্র বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই অলসতা ও ঋণের বোঝা থেকে, আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই মসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে, আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই দোযখের শাস্তি থেকে”।-(নাসাঈ, আহমাদ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي ابْنُ الْهَادِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَغْرَمِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৫- যে ব্যক্তি অলসতা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়।
৬৬১। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন “জীবন ও মৃত্যুর অনিষ্ট, কবরের শাস্তি ও মসীহ দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে” (মুসনাদ আহমাদ, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ ، وَشَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬- যে লোক আল্লাহর নিকট চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
৬৬২। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الْمَلِيحِ صُبَيْحٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَنْ لَمْ يَسْأَلِ اللَّهَ غَضِبَ اللَّهُ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬- যে লোক আল্লাহর নিকট চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
৬৬৩। আবু সালেহ আল-খাওযী (রহঃ) বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, হাকিম)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدِ اللَّهِ قَالَ : حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، عَنْ أَبِي الْمَلِيحِ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْخُوزِيِّ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ لَمْ يَسْأَلْهُ يَغْضَبْ عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬- যে লোক আল্লাহর নিকট চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
৬৬৪। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা দৃঢ় প্রত্যয় সহকারে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। তোমাদের কেউ যেনো এভাবে না বলে, যদি তুমি চাও তবে আমাকে দান করো। কেননা আল্লাহর জন্য কিছুই বাধ্যতামূলক নয় (বুখারী, মুসলিম)।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا دَعَوْتُمُ اللَّهَ فَاعْزِمُوا فِي الدُّعَاءِ ، وَلا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمْ : إِنْ شِئْتَ فَأَعْطِنِي ، فَإِنَّ اللَّهَ لا مُسْتَكْرِهَ لَهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৬- যে লোক আল্লাহর নিকট চায় না, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট হন।
৬৬৫। উসমান (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল-বিকাল নিম্নোক্ত দোয়া তিনবার করে পড়বে, কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে নাঃ “আল্লাহর নামে যার নামের বরকতে আসমান-জমিনের কিছুই ক্ষতি করতে পারে না এবং তিনি সবকিছু শুনেন ও জানেন”। হাদীসের রাবী আবান (রহঃ) পক্ষাঘাতগ্রস্থ ছিলেন। তাই রাবী আবু যিনাদ (রহঃ) তার দিকে তাকাতে থাকলেন। আবান (রহঃ) তা টের পেয়ে বলেন, হাদীস তো যথাস্থানে ঠিকই আছে, যা আমি তোমাদের নিকট বর্ণনা করলাম। কিন্তু যেদিন আমি পক্ষাঘাতগ্রস্থ হই সেদিন তা পড়িনি। তাই আল্লাহর লিখন (তাকদীর) কার্যকর হয়েছে (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান)।
دَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ ، قَالَ : سَمِعْتُ عُثْمَانَ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " مَنْ قَالَ صَبَاحَ كُلِّ يَوْمٍ ، وَمَسَاءَ كُلِّ لَيْلَةٍ ، ثَلاثًا ثَلاثًا : بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ ، وَكَانَ أَصَابَهُ طَرَفٌ مِنَ الْفَالِجِ ، فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَيْهِ ، فَفَطِنَ لَهُ ، فَقَالَ : إِنَّ الْحَدِيثَ كَمَا حَدَّثْتُكَ ، وَلَكِنِّي لَمْ أَقُلْهُ ذَلِكَ الْيَوْمَ ، لِيَمْضِيَ قَدَرُ اللَّهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৭- আল্লাহর পথে জিহাদে কাতারবাদী হয়ে দেয়া করা।
৬৬৬। সাহল ইবনে সাদ (রাঃ) বলেন, দুইটি মুহুর্তে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয়। তখন দোয়াকারীদের দোয়া খুব কমই প্রত্যাখ্যাত হয়। (১) আযানের সময় এবং (২) যখন (মুজাহিদগণ) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে কাতারবন্দী হয়।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ، قَالَ : " سَاعَتَانِ تُفْتَحُ لَهُمَا أَبْوَابُ السَّمَاءِ ، وَقَلَّ دَاعٍ تُرَدُّ عَلَيْهِ دَعْوَتُهُ : حِينَ يَحْضُرُ النِّدَاءُ ، وَالصَّفُّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৬৭। আবু সিরমা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট ঐশ্বর্য প্রার্থনা করি”। তাঁর প্রভু তাঁকে ঐশ্বর্য দান করেন (আবু দাউদ)।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي اللَّيْثُ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ يَحْيَى بْنِ حِبَّانَ ، عَنْ لُؤْلُؤَةَ ، عَنْ أَبِي صِرْمَةَ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ غِنَايَ وَغِنَى مَوْلايَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৬৮। শুতাইর ইবনে শাকল ইবনে হুমাইদ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা দ্বারা আমি উপকৃত হবো। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আমার কান, আমার চোখ, আমার যাবান, আমার অন্তর এবং অসৎ কামনার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখো”। রাবী ওয়াকী (রহঃ) বলেন, কামনা-বাসনার অনিষ্ট অর্থ ব্যভিচার ও পাপাচার। (আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, হাকিম)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ أَوْسٍ ، عَنْ بِلالِ بْنِ يَحْيَى ، عَنْ شُتَيْرِ بْنِ شَكَلِ بْنِ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : قُلْتُ : " يَا رَسُولَ اللَّهِ ، عَلِّمْنِي دُعَاءً أَنْتَفِعُ بِهِ ، قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ عَافِنِي مِنْ شَرِّ سَمْعِي ، وَبَصَرِي ، وَلِسَانِي ، وَقَلْبِي ، وَشَرِّ مَنِيِّي ، قَالَ وَكِيعٌ : مَنِيِّي يَعْنِي : الزِّنَا وَالْفُجُورَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৬৯। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে গোপনে সাহায্য করো, আমার বিরুদ্ধে (বিরোধীকে) সাহায্য করো না, আমাকে প্রকাশ্যে সাহায্য করো, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করো না এবং হেদায়াতের পথকে আমার জন্য সুগম করো”। (আবু দাউদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
دَّثَنَا قَبِيصَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنْ طَلِيقِ بْنِ قَيْسٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ أَعِنِّي وَلا تُعِنْ عَلَيَّ ، وَانْصُرْنِي وَلا تَنْصُرْ عَلَيَّ ، وَيَسِّرِ الْهُدَى لِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭০। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে দোয়া করতেনঃ “হে প্রভু! আমাকে সাহায্য করো এবং আমার বিরুদ্ধে (কাউকে) সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে সহযোগিতা করো না। আমার জন্য কৌশল এঁটে দাও এবং আমার বিরুদ্ধে কাউকে কৌশল এঁটে দিও না। আমার জন্য হেদায়াতের পথ সুগম করো এবং যে ব্যক্তি আমার উপর অত্যাচার ও সীমালংঘন করে তার বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। হে প্ৰভু! আমাকে তোমার জন্য কৃতজ্ঞ বান্দা বানাও, তোমার জন্য অনেক যিকিরকারী, তোমাকে অধিক ভয়কারী, তোমার অধিক আনুগত্যকারী, তোমার নিকট অনুনয়-বিনয়কারী ও তোমার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানাও। হে আমার রব! আমার তওবা কবুল করো, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়েমুছে সাফ করো, আমার যবানকে সোজা রাখো, আমার অন্তরকে হেদায়াত দান করো এবং আমার বক্ষ থেকে সমস্ত হিংসা দূরীভূত করো” (তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا أَبُو حَفْصٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، قَالَ : سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مُرَّةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الْحَارِثِ ، قَالَ : سَمِعْتُ طَلِيقَ بْنَ قَيْسٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَدْعُو بِهَذَا : " رَبِّ أَعِنِّي وَلا تُعِنْ عَلَيَّ ، وَانْصُرْنِي وَلا تَنْصُرْ عَلَيَّ ، وَامْكُرْ لِي وَلا تَمْكُرْ عَلَيَّ ، وَيَسِّرْ لِيَ الْهُدَى ، وَانْصُرْنِي عَلَى مَنْ بَغَى عَلَيَّ ، رَبِّ اجْعَلْنِي شَكَّارًا لَكَ ، ذَكَّارًا لَكَ ، رَاهِبًا لَكَ ، مِطْوَاعًا لَكَ ، مُخْبِتًا لَكَ ، أَوَّاهًا مُنِيبًا ، تَقَبَّلْ تَوْبَتِي ، وَاغْسِلْ حَوْبَتِي ، وَأَجِبْ دَعْوَتِي ، وَثَبِّتْ حُجَّتِي ، وَاهْدِ قَلْبِي ، وَسَدِّدْ لِسَانِي ، وَاسْلُلْ سَخِيمَةَ قَلْبِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭১। মুহাম্মাদ ইবনে কাব আল-কুরাযী (রহঃ) থেকে বর্ণিত। মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রাঃ) মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে বলেন, “প্ৰভু! তুমি যাকে দান করো তা প্রতিরোধ করার কেউ নাই। আর আল্লাহ যার প্রতিবন্ধক হন তাকে কেউ দান করতে পারে না। কারো বংশমর্যাদা বা সম্পদশালীর সম্পদ তার কাছে কোন উপকারে আসে না। আর আল্লাহ যার কল্যাণ সাধন করতে চান তাকে ধর্মের জ্ঞানে সমৃদ্ধ করেন”। অতঃপর তিনি বলেন, আমি এই কথাগুলি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মিম্বারের উপর বলতে শুনেছি -(মুয়াত্তা মালিক)।
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ زِيَادٍ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ ، قَالَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ، عَلَى الْمِنْبَرِ : " إِنَّهُ لا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، وَلا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعَ اللَّهُ ، وَلا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْهُ الْجَدُّ . وَمَنْ يُرِدِ اللَّهُ بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ " ، سَمِعْتُ هَؤُلاءِ الْكَلِمَاتِ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى هَذِهِ الأَعْوَادِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭২। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমার অতীব শক্তিশালী ও কার্যকর দোয়া হলো, তোমার এভাবে বলা, “হে আল্লাহ! তুমি আমার প্রতিপালক এবং আমি তোমার বান্দা। আমি আমার উপর যুলুম করেছি এবং আমার অপরাধ স্বীকার করি। তুমি ছাড়া অপরাধ ক্ষমা করার কেউ নাই। হে প্ৰভু! আমাকে ক্ষমা করো” (মুসলিম, মুসনাদ আহমাদ)।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ جَمِيلٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ ، عَنِ ابْنِ أَبِي حُسَيْنٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي سُفْيَانَ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " إِنَّ أَوْثَقَ الدُّعَاءِ أَنْ تَقُولَ : اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي ، وَأَنَا عَبْدُكَ ، ظَلَمْتُ نَفْسِي ، وَاعْتَرَفْتُ بِذَنْبِي ، لا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ ، رَبِّ اغْفِرْ لِي
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৩। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার দীনের ব্যাপারে আমাকে সংশোধন করে দাও, যা আমার সকল কাজের রক্ষাকবচ। তুমি আমার পার্থিব জীবনকে সংশোধন করে দাও, যেখানে রয়েছে আমার জীবন-জীবিকা এবং প্রতিটি অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য আমার মৃত্যুকে আমার জন্য রহমতের উৎস বানাও” (মুসলিম, আবু আওয়ানা, তাবারানী)।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بِشْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو قَطَنٍ ، عَنِ ابْنِ أَبِي سَلَمَةَ يَعْنِي عَبْدَ الْعَزِيزِ ، عَنْ قُدَامَةَ بْنِ مُوسَى ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو : اللَّهُمَّ أَصْلِحْ لِي دِينِي الَّذِي هُوَ عِصْمَةُ أَمْرِي ، وَأَصْلِحْ لِي دُنْيَايَ الَّتِي فِيهَا مَعَاشِي ، وَاجْعَلِ الْمَوْتَ رَحْمَةً لِي مِنْ كُلِّ سُوءٍ " أَوْ كَمَا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৪। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ কঠিন দুর্বিপাক থেকে, পাপের স্পর্শ থেকে, ভাগ্যবিড়ম্বনা থেকে এবং দুশমনের দুশমনি থেকে। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُمَيٌّ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ ، وَدَرْكِ الشَّقَاءِ ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৫। উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঁচটি জিনিস থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ অলসতা, কার্পণ্য, চরম বার্ধক্য, অন্তরের বিপর্যয় এবং কবরের আযাব থেকে। (আবু দাউদ, মুসলিম, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ ، عَنْ إِسْرَائِيلَ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ ، عَنْ عُمَرَ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَعَوَّذُ مِنَ الْخَمْسِ : مِنَ الْكَسَلِ ، وَالْبُخْلِ ، وَسُوءِ الْكِبَرِ ، وَفِتْنَةِ الصَّدْرِ ، وَعَذَابِ الْقَبْرِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৬। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি অপারগতা থেকে, ভীরুতা থেকে এবং বার্ধক্য থেকে। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে। আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের আযাব থেকে”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, তিরমিযি)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبِي ، قَالَ : سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ، يَقُولُ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ ، وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৭। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা, অপারগতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, ঋণের বোঝা ও লোকজনের দাপট থেকে”। (বুখারী, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِنْدَ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ ، وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ ، وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দোয়াসমূহের মধ্যে এটিও ছিলঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে ক্ষমা করো আমার পূর্বেকার সমস্ত গুনাহ, আমার গোপন প্রকাশ্য সকল পাপ এবং যে পাপ সম্পর্কে তুমি আমার চেয়ে অধিক জ্ঞাত। নিশ্চয় তুমি অগ্রসরকারী ও বিলম্বকারী। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, হাকিম)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمَسْعُودِيُّ ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ ، عَنْ أَبِي الرَّبِيعِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " كَانَ مِنْ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي ، إِنَّكَ أَنْتَ الْمُقَدَّمُ وَالْمُؤَخِّرُ ، لا إِلَهَ أَلا أَنْتَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৭৯। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট হেদায়াত, নিরাপত্তা ও ঐশ্বর্য প্রার্থনা করছি। উমার (রাঃ) এর বর্ণনায় তাকওয়া (আল্লাহভীতি) প্রার্থনার কথাও উল্লেখ আছে (মুসলিম, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى ، وَالْعَفَافَ ، وَالْغِنَى " . وَقَالَ أَصْحَابُنَا ، عَنْ عَمْرٍو : " وَالتُّقَى
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮০। ছুমামা ইবনে হাযন (রহঃ) বলেন, আমি এক প্রবীণ ব্যক্তিকে উচ্চস্বরে ডাক দিতে শুনলাম, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট অনিষ্ট থেকে এমন আশ্রয় প্রার্থনা করছি যার মধ্যে কোন কিছু হস্তক্ষেপ করতে পারে না”। রাবী বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, এই প্রবীণ শায়েখ কে? বলা হলো, আবু দারদা (রাঃ)।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا بَيَانٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَزِيدُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ ، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ حَزْنٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ شَيْخًا يُنَادِي بِأَعْلَى صَوْتِهِ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الشَّرِّ لا يَخْلِطُهُ شَيْءٌ ، قُلْتُ : مَنْ هَذَا الشَّيْخُ ؟ قِيلَ : أَبُو الدَّرْدَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮১। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র করো বরফ, শিশিরবিন্দু ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা, যেমন অপরিষ্কার কাপড়-চোপড় ময়লা থেকে পবিত্র করা হয়। হে আল্লাহ, আমাদের প্রতিপালক! তোমার জন্য সমস্ত প্রশংসা আসমান-যমীন ও এতোদুভয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে এবং তুমি যা চাও এসব পূর্ণ পরিমাণ”। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ ، عَنْ مَجْزَأَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، كَانَ يَقُولُ : " اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ ، كَمَا يُطَهَّرُ الثَّوْبُ الدَّنِسُ مِنَ الْوَسَخِ
اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاءِ وَمِلْءَ الأَرْضِ ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮২। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যাপ্ত পরিমাণে নিম্নোক্ত দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ। আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো, আখেরাতেও কল্যাণ দান করো এবং দোযখের শান্তি থেকে আমাদের রক্ষা করো”। আনাস (রাঃ)-ও এই দোয়া পড়তেন কিন্তু তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে সংশ্লিষ্ট করতেন না (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ)।
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ثَابِتٌ ، عَنْ أَنَسٍ ، " أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، كَانَ يُكْثِرُ أَنْ يَدْعُوَ بِهَذَا الدُّعَاءِ : اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ " ، قَالَ شُعْبَةُ : فَذَكَرْتُهُ لِقَتَادَةَ ، فَقَالَ : كَانَ أَنَسٌ يَدْعُو بِهِ ، وَلَمْ يَرْفَعْهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৩। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি দারিদ্র্য, দৈন্যদশা ও লাঞ্ছনা থেকে। আমি তোমার নিকট আরো আশ্রয় প্রার্থনা করি নির্যাতন করা ও নির্যাতিত হওয়া থেকে”। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادٌ ، يَعْنِي ابْنَ سَلَمَةَ ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْفَقْرِ وَالْقِلَّةِ وَالذِّلَّةِ ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَظْلِمَ أَوْ أُظْلَمَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৪। আবু উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তিনি অনেক দোয়া করলেন। কিন্তু আমরা তা স্মরণ রাখতে পারিনি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি অনেক দোয়া করেছেন কিন্তু আমরা তার কিছুই স্মরণ রাখতে পারিনি। তিনি বলেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে এমন কিছু বলে দিবো না, যা সেই সমস্ত দোয়ার সমষ্টি হবে? তোমরা বলো, “হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমরা তোমার নিকট সেই কল্যাণ কামনা করি, যা তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তোমার নিকট কামনা করেছেন এবং আমরা তোমার নিকট সেই অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি যে অনিষ্ট থেকে তোমার নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। তুমিই একমাত্র সাহায্যকারী এবং তুমিই কল্যাণে পৌঁছে দাও। আল্লাহ ভিন্ন ক্ষতি রোধ করার এবং কল্যাণ পৌছানোর আর কোন শক্তি নাই”। অথবা তিনি অনুরূপ কথা বলেছেন (তিরমিযী, তাবারানী)।
دَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُعْتَمِرٌ ، عَنْ لَيْثٍ ، عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلانَ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ، قَالَ : " كُنَّا عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَدَعَا بِدُعَاءٍ كَثِيرٍ لا نَحْفَظُهُ ، فَقُلْنَا : دَعَوْتَ بِدُعَاءٍ لا نَحْفَظُهُ ؟ فَقَالَ : سَأُنَبِّئُكُمْ بِشَيْءٍ يَجْمَعُ ذَلِكَ كُلَّهُ لَكُمْ : اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ مِمَّا سَأَلَكَ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَنَسْتَعِيذُكَ مِمَّا اسْتَعَاذَكَ مِنْهُ نَبِيُّكَ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، اللَّهُمَّ أَنْتَ الْمُسْتَعَانُ وَعَلَيْكَ الْبَلاغُ ، وَلا حَوْلَ وَلا قُوَّةَ إِلا بِاللَّهِ " ، أَوْ كَمَا قَالَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৫। আমর ইবনে শুআইৰ (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে এবং তোমার নিকট আরো আশ্রয় প্রার্থনা করছি দোযখ থেকে”।
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا اللَّيْثُ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ الْهَادِ ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ جَدِّهِ ، قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৬। সাঈদ (রহঃ) বলেন, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলতেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যে রিযিক দান করেছে তাতে সন্তুষ্ট থাকার তৌফিক দাও, আমাকে তাতে বরকত দাও এবং প্রতিটি অদৃশ্য বিষয়ে কল্যাণ সহকারে আমার হেফাযত করো”।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ ، عَنْ نُصَيْرِ بْنِ أَبِي الأَشْعَثِ ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ ، عَنْ سَعِيدٍ ، قَالَ : كَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ ، يَقُولُ : " اللَّهُمَّ قَنَّعْنِي بِمَا ، وَبَارِكْ لِي فِيهِ ، وَاخْلُفْ عَلَيَّ كُلَّ غَائِبَةٍ بِخَيْرٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৭। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রচুর পরিমাণে এই দোয়া পড়তেনঃ “আমাদের প্রভু! তুমি আমাদেরকে দুনিয়াতেও কল্যাণ দান করো এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করো এবং আমাদের জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর”।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " كَانَ أَكْثَرُ دُعَاءِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৮। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশী পরিমাণে বলতেনঃ “হে আল্লাহ, হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী। আমার অন্তরকে তোমার দীনের উপর অবিচল রাখো” (তিরমিযী,আহমাদ, হাকিম,ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الرَّبِيعِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ ، وَيَزِيدَ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ : اللَّهُمَّ يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ، ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৮৯। আবদুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা — আসমান ও যমীন পরিপূর্ণ এবং এরপর তুমি যা চাও তা পরিপূর্ণ। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র করো শিশির বিন্দু, বরফ ও শীতল পানি দ্বারা। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করো গুনাহ থেকে, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করা হয়” (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমাদ, আবু আওয়ানা, ইবনে হিব্বান)।
حَدَّثَنَا آدَمُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا رَجُلٌ مِنْ أَسْلَمَ ، يُقَالُ لَهُ : مَجْزَأَةُ ، قَالَ : سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو : " اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ مِلْءَ السَّمَاوَاتِ وَمِلْءَ الأَرْضِ ، وَمِلْءَ مَا شِئْتَ مِنْ شَيْءٍ بَعْدُ ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي بِالْبَرْدِ وَالثَّلْجِ وَالْمَاءِ الْبَارِدِ ، اللَّهُمَّ طَهِّرْنِي مِنَ الذُّنُوبِ ، وَنَقِّنِي كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৮- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯০। আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দোয়াসমূহের মধ্যে এই দোয়াও ছিলঃ “হে আল্লাহ। আমি তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি তোমার দেয়া নিয়ামতরাজি বিলুপ্ত হওয়া থেকে, তোমার দেয়া শান্তি ও নিরাপত্তা অন্তৰ্হিত হওয়া থেকে, তোমার আকস্মিক প্রতিশোধ গ্রহণ থেকে এবং তোমার সার্বিক অসন্তুষ্টি থেকে”। (আবু দাউদ, মুসলিম, নাসাঈ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْغَفَّارِ بْنُ دَاوُدَ قَالَ : حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ، قَالَ : " كَانَ مِنْ دُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ زَوَالِ نِعْمَتِكَ ، وَتَحَوُّلِ عَافِيَتِكَ ، وَفُجَأَةِ نِقْمَتِكَ ، وَجَمِيعِ سَخَطِكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৮৯- ঝড়-বৃষ্টির সময় দেয়া করা।
৬৯১। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আকাশে মেঘমালা দেখলে তার কাজকর্ম ত্যাগ করতেন, এমনকি তিনি নামাযে রত থাকলে তাও। অতঃপর তিনি মেঘমালার দিকে তাকাতেন। আল্লাহ মেঘমালা দূর করলে তিনি আল্লাহর প্রশংসা করতেন। আর মেঘ বৃষ্টি বর্ষণ করলে তিনি বলতেনঃ “হে আল্লাহ মুষলধারে কল্যাণকর বৃষ্টি দাও”। (বুখারী, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا خَلادُ بْنُ يَحْيَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا رَأَى نَاشِئًا فِي أُفُقٍ مِنْ آفَاقِ السَّمَاءِ ، تَرَكَ عَمَلَهُ ، وَإِنْ كَانَ فِي صَلاةٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْهِ ، فَإِنْ كَشَفَهُ اللَّهُ حَمِدَ اللَّهَ ، وَإِنْ مَطَرَتْ ، قَالَ : اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا
পরিচ্ছেদঃ ২৯০- মৃত্যু কামনা করে দোয়া করা নিষেধ।
৬৯২। কায়েস (রহঃ) বলেন, আমি অসুস্থ খাব্বাব (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি তার শরীরে গরম লোহার সাতটি সেঁক দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি মৃত্যু কামনা করতে আমাদেরকে নিষেধ না করতেন, তবে আমি অবশ্যই মৃত্যু কামনা করতাম। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يَحْيَى ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ قَالَ : حَدَّثَنِي قَيْسٌ ، قَالَ : " أَتَيْتُ خَبَّابًا ، وَقَدِ اكْتَوَى سَبْعًا ، وَقَالَ : لَوْلا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَانَا أَنْ نَدْعُوَ بِالْمَوْتِ لَدَعَوْتُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৩। আবু মূসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দোয়া পড়তেনঃ “হে প্ৰভু! আমার গুনাহ, অজ্ঞতা, আমার প্রতিটি কাজে আমার বাড়াবাড়ি এবং আমার চাইতে তুমিই আমার যে অপরাধসমূহ সম্পর্কে অধিক অবগত সেগুলি ক্ষমা করো। হে আল্লাহ। অছমার প্রতিটি গুনাহ, ইচ্ছাকৃত গুনাহ, অজ্ঞতা প্রসূত গুনাহ, ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সার্বিক গুনাহ ক্ষমা করে দাও। হে আল্লাহ! আমার পূর্বাপর গোপন-প্রকাশ্য সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও। তুমিই অগ্রসরকারী, তুমিই বিলম্বকারী এবং তুমি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান”। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الصَّبَّاحِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُوسَى ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو بِهَذَا الدُّعَاءِ : " رَبِّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي ، وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي كُلِّهِ ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطَئِي كُلَّهُ ، وَعَمْدِي وَجَهْلِي وَهَزْلِي ، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي . اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ ، وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৪। আবু মূসা আশআরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমায় ক্ষমা করো আমার গুনাহসমূহ, আমার মূর্খতা, আমার কাজকর্মে আমার বাড়াবাড়ি এবং তুমি আমার যেসব অপরাধ সম্পর্কে আমার চেয়ে অধিক অবগত। হে আল্লাহ! আমায় ক্ষমা করো আমার ঠাট্টাচ্ছলে কৃত গুনাহ, বাস্তবে কৃত গুনাহ, আমার সকল গুনাহ, আমার ইচ্ছাকৃত গুনাহ এবং আমার মধ্যকার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও”। (আবু দাউদ, নাসাঈ, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي مُوسَى ، عَنْ أَبِي مُوسَى الأَشْعَرِيِّ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، أَنَّهُ كَانَ يَدْعُو : " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي خَطِيئَتِي وَجَهْلِي وَإِسْرَافِي فِي أَمْرِي ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي هَزْلِي وَجَدِّي ، وَخَطَئِي وَعَمْدِي ، وَكُلُّ ذَلِكَ عِنْدِي
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৫। মুআয ইবনে জাবাল (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার হাত ধরে বললেনঃ হে মুআয! আমি বললাম, আমি আপনার নিকট হাযির। তিনি বলেনঃ আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি বললাম, আল্লাহর শপথ আমিও আপনাকে ভালোবাসি। তিনি বলেনঃ আমি কি তোমাকে কয়েকটি কালেমা শিখিয়ে দিবো না যা তুমি তোমার প্রত্যেক নামাযের পর বলবে? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সাহায্য করো তোমার যিকির করতে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ হতে এবং উত্তমরূপে তোমার ইবাদত করতে”। (আবু দাউদ, নাসাঈ, তাবারানী)
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ ، عَنْ حَيْوَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُقْبَةُ بْنُ مُسْلِمٍ ، سَمِعَ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيَّ ، عَنِ الصُّنَابِحِيِّ ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، قَالَ : " أَخَذَ بِيَدِي النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا مُعَاذُ ، قُلْتُ : لَبَّيْكَ ، قَالَ : إِنِّي أُحِبُّكَ ، قُلْتُ : وَأَنَا وَاللَّهِ أُحِبُّكَ ، قَالَ : أَلا أُعَلِّمُكَ كَلِمَاتٍ تَقُولُهَا فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاتِكَ ؟ قُلْتُ : نَعَمْ ، قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ ، وَشُكْرِكَ ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৬। আবু আইউব আনসারী (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনে বললো, “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর পর্যাপ্ত প্রশংসা পবিত্রতাপূর্ণ ও বরকতপূর্ণ”। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ এই শব্দগুলি কার? সে নীরব থাকলো। সে মনে করলো যে, সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে তাঁর অমনোপূত কথা বলেছে। তিনি পুনরায় বলেনঃ কে সে? সে তো যথার্থই বলেছে। এক ব্যক্তি বললো, আমি, এর দ্বারা আমি কল্যাণই আশা করছি। তিনি বলেনঃ সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি লক্ষ্য করেছি যে, তেরোজন ফেরেশতা এই শব্দগুলো মহামহিম আল্লাহর দরবারে পৌঁছাবার ব্যাপারে প্রতিযোগিতা করছে।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ وَخَلِيفَةُ ، قَالا : حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْجُرَيْرِيُّ ، عَنْ أَبِي الْوَرْدِ ، عَنْ أَبِي مُحَمَّدٍ الْحَضْرَمِيِّ ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ ، قَالَ : " قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ صَاحِبُ الْكَلِمَةِ ؟ فَسَكَتَ ، وَرَأَى أَنَّهُ هَجَمَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى شَيْءٍ كَرِهَهُ ، فَقَالَ : مَنْ هُوَ ؟ فَلَمْ يَقُلْ إِلا صَوَابًا ، فَقَالَ رَجُلٌ : أَنَا ، أَرْجُو بِهَا الْخَيْرَ ، فَقَالَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، رَأَيْتُ ثَلاثَةَ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَ أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا إِلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৭। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে নিকৃষ্ট (নারী ও পুরুষ) জিনের (অনিষ্ট) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি”। -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ زَيْدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ صُهَيْبٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَنَسٌ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَرَادَ أَنْ يَدْخُلَ الْخَلاءَ ، قَالَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৮। আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হবার সময় বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার নিকট ক্ষমা চাই”। (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, ইবনে খুজাইমাহ, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ ، عَنْ يُوسُفَ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاءِ ، قَالَ : غُفْرَانَكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৬৯৯। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে আমাদেরকে কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন তদ্রুপ (গুরুত্ব সহকারে) আমাদেরকে এই দোয়াও শিক্ষা দিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের শাস্তি থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের আযাব থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি মাসীহ দাজ্জালের বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি জীবন ও মৃত্যুর বিপর্যয় থেকে তোমার আশ্রয় চাই। আমি কবরের ভয়াবহ সংকট থেকে তোমার আশ্রয় চাই”। (মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুয়াত্তা মালিক, আহমাদ)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا بَكْرُ بْنُ سُلَيْمٍ الصَّوَّافُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي حُمَيْدُ بْنُ زِيَادٍ الْخَرَّاطُ ، عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُنَا السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ : أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৭০০। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার খালা মায়মূনা (রাঃ)-র ঘরে রাত কাটালাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঠে নিজের প্রাকৃতিক প্রয়োজন সমাধা করেন, তারপর নিজের হাত-মুখ ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পুনরায় উঠে তিনি পানির মশকের কাছে গিয়ে তার বন্ধন খুলেন। তারপর মোটামুটি উযু করলেন, তবে অতিরিক্ত কিছু না করলেও তিনি পূর্ণাঙ্গ উযু করলেন। তারপর দাঁড়িয়ে নামায শুরু করলেন। আমি জেগে গা মোড়ামুড়ি দিলাম। কারণ আমি যে তাঁর কার্যক্রম দেখেছি তা তিনি টের পান এটা আমি পছন্দ করিনি। এরপর আমি উযু করলাম। তিনি দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন। আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তিনি আমার হাত ধরে আমাকে ঘুরিয়ে তার ডানপাশে আনলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই রাতের (তাহাজ্জুদ) নামায তেরো রাকআত পূর্ণ হলো। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন এবং নাক ডাকতে লাগলেন।তিনি ঘুমালে তাঁর নাক ডাকতো।
বিলাল (রাঃ) এসে নামাযের কথা বললেন। তিনি উঠে পুনরায় উযু না করেই ফজরের (সুন্নাত) নামায পড়লেন। (এ রাতে) তার দোয়ার মধ্যে ছিলঃ “হে আল্লাহ! আমার কলবে নুর পয়দা করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণশক্তিতে নূর দান করুন, আমার ডান দিকে নূর, আমার বাম দিকে নূর, আমার উপরে নূর, আমার সামনে নূর, আমার পিছনে নূর এবং বিরাট নূর দান করুন”। ’রাবী ইয়াকুব (রহঃ) বলেন, আরও সাতটি বিষয় যা আমার অন্তরে রয়েছে।
সালামা ইবনে কুহায়ল (রহঃ) বলেন, এরপর আমি আব্বাস পরিবারের একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি ঐ বিষয়গুলো আমাকে বর্ণনা করলেন। আমার শিরায় আমার মাংসে, আমার রক্তে, আমার পশমে এবং আমার ত্বকে---- আরও দু’টি বিষয় বললেন। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ ، عَنْ سُفْيَانَ ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ ، عَنْ كُرَيْبٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " بِتُّ عِنْدَ مَيْمُونَةَ ، فَقَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَتَى حَاجَتَهُ ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ نَامَ ، ثُمَّ قَامَ فَأَتَى الْقِرْبَةَ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ، ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا بَيْنَ وُضُوءَيْنِ ، لَمْ يُكْثِرْ وَقَدْ أَبْلَغَ ، فَصَلَّى ، فَقُمْتُ فَتَمَطَّيْتُ كَرَاهِيَةَ أَنْ يَرَى أَنِّي كُنْتُ أَبْقِيهِ ، فَتَوَضَّأْتُ ، فَقَامَ يُصَلِّي ، فَقُمْتُ عِنْدَ يَسَارِهِ ، فَأَخَذَ بِأُذُنِي فَأَدَارَنِي عَنْ يَمِينِهِ ، فَتَتَامَّتْ صَلاتُهُ مِنَ اللَّيْلِ ثَلاثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ، ثُمَّ اضْطَجَعَ فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ ، وَكَانَ إِذَا نَامَ نَفَخَ ، فَآذَنَهُ بِلالٌ بِالصَّلاةِ ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ، وَكَانَ فِي دُعَائِهِ : اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا ، وَفِي سَمْعِي نُورًا ، وَعَنْ يَمِينِي نُورًا ، وَعَنْ يَسَارِي نُورًا ، وَفَوْقِي نُورًا ، وَتَحْتِي نُورًا ، وَأَمَامِي نُورًا ، وَخَلْفِي نُورًا ، وَأَعْظِمْ لِي نُورًا " ، قَالَ كُرَيْبٌ : وَسَبْع فِي التَّابُوتِ ، فَلَقِيتُ رَجُلا مِنْ وَلَدِ الْعَبَّاسِ ، فَحَدَّثَنِي بِهِنَّ ، فَذَكَرَ : عَصَبِي ، وَلَحْمِي ، وَدَمِي ، وَشَعْرِي ، وَبَشَرِي ، وَذَكَرَ خَصْلَتَيْنِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৭০১। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে ঘুম থেকে উঠলে নামায পড়তেন এবং নামাযান্তে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করতেন। অতঃপর তাঁর কথার শেষ অংশ এরূপ হতোঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরে নূর দান করো, আমার কানে নূর দান করো, আমার চোখে নূর দান করো, আমার সামনে নূর দান করো, আমার পিছনে নূর দান করো এবং আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও, আমার নূর বাড়িয়ে দাও”। (বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، عَنْ عَبْدِ الْمَجِيدِ بْنِ سُهَيْلِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادٍ أَبِي هُبَيْرَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ ، فَصَلَّى فَقَضَى صَلاتَهُ ، يُثْنِي عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ، ثُمَّ يَكُونُ فِي آخِرِ كَلامِهِ : اللَّهُمَّ اجْعَلْ لِي نُورًا فِي قَلْبِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا فِي سَمْعِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا فِي بَصَرِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا عَنْ يَمِينِي ، وَنُورًا عَنْ شِمَالِي ، وَاجْعَلْ لِي نُورًا مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ ، وَنُورًا مِنْ خَلْفِي ، وَزِدْنِي نُورًا ، وَزِدْنِي نُورًا ، وَزِدْنِي نُورًا
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৭০২। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝরাতে যখন নামাযে দাঁড়াতেন তখন বলতেনঃ “হে আল্লাহ! আপনারই জন্য যাবতীয় প্রশংসা, আপনিই আসমানসমূহ ও জমিনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যকার সকলের রক্ষক। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা। আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের এবং এতোদুভয়ের মধ্যে যা কিছু রয়েছে সে সবের রব। আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার সাক্ষাৎ অবধারিত সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ! আপনার কাছেই আত্মসমর্পণ করছি, আপনার উপরই ঈমান এনেছি। আপনারই উপর ভরসা করেছি, আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করেছি। আপনার জন্য যুক্তি-তর্কে লিপ্ত হয়েছি, আপনার কাছে ফয়সালা চেয়েছি। অতএব আমার পূর্বাপর এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করুন। আপনি আমার ইলাহ! আপনি ব্যতীত আমার কোন ইলাহ নেই”। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكٌ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ طَاوُسٍ الْيَمَانِيِّ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ : " كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ إِلَى الصَّلاةِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ ، قَالَ : اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ ، أَنْتَ نُورُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ ، وَلَكَ الْحَمْدُ ، أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ ، أَنْتَ الْحَقُّ ، وَوَعْدُكَ الْحَقُّ ، وَلِقَاؤُكَ الْحَقُّ ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ ، وَالنَّارُ حَقٌّ ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ ، اللَّهُمَّ لَكَ أَسْلَمْتُ ، وَبِكَ آمَنْتُ ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ ، وَإِلَيْكَ أَنَبْتُ ، وَبِكَ خَاصَمْتُ ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ ، فَاغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ ، أَنْتَ إِلَهِي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৭০৩। ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দোয়া করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুনিয়া ও আখেরাতের ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করি আমার দীন ও আমার পরিবার-পরিজনের নিরাপত্তা। তুমি আমার দোষ গোপন রাখো, আমার ভীত অবস্থায় আমাকে নিরাপত্তা দান করো এবং আমাকে সামনে-পিছনে, ডানে-বামে ও উপরের দিক থেকে হেফাযত করো। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করি আমার নিচের দিকে আমাকে ধ্বসিয়ে দেয়া থেকে”। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, বাযযার)
حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ ، عَنْ يُونُسَ بْنِ خَبَّابٍ ، عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَفْوَ وَالْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْعَافِيَةَ فِي دِينِي وَأَهْلِي ، وَاسْتُرْ عَوْرَتِي ، وَآمِنْ رَوْعَتِي ، وَاحْفَظْنِي مِنْ بَيْنَ يَدَيَّ ، وَمِنْ خَلْفِي ، وَعَنْ يَمِينِي ، وَعَنْ يَسَارِي ، وَمِنْ فَوْقِي ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أُغْتَالَ مِنْ تَحْتِي
পরিচ্ছেদঃ ২৯১- মহানবী (সাঃ)-এর দোয়াসমূহ।
৭০৪। উবাইদ ইবনে রিফাআ আয-যুরাকী (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন যখন মুশরিকরা ইতস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে চলে গেলো তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তোমরা সারিবদ্ধভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াও, যাতে আমি আমার মহামহিমান্বিত প্রতিপালকের প্রশংসা করতে পারি। অতএব সাহাবীগণ তাঁর পিছনে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে থাকলেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার জন্য সকল প্রশংসা। হে আল্লাহ! তুমি যা সম্প্রসারিত করো তা কেউ সংকুচিত করতে পারে না, তুমি যাকে দূরে ঠেলে দাও তাকে কেউ কাছে আনতে পারে না, তুমি যাকে কাছে টেনে নাও তাকে কেউ দূরে ঠেলে দিতে পারে না, তুমি যাকে না দাও তাকে কেউ দিতে পারে না এবং তুমি যাকে দান করো তাকে কেউ আটকে রাখতে পারে না। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর তোমার বরকত, তোমার রহমত, তোমার অনুগ্রহ এবং তোমার দেয়া রিযিক প্রসারিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট স্থায়ী নিয়ামত প্রার্থনা করি যা পরিবর্তন বা বিলীন হয় না।
হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট দুঃখের দিনে তোমার নিয়ামত ও যুদ্ধের দিনে তোমার নিরাপত্তা প্রার্থনা করি। হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দান করেছে তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। তুমি যা আমাকে দান করোনি তার অনিষ্ট থেকে আমাকে রক্ষা করো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় বানাও, আমাদের অন্তরকে সৌন্দর্যময় করো এবং কুফর, পাপাচার ও বিদ্রোহকে আমাদের নিকট ঘৃণিত বানাও। তুমি আমাদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করো। হে আল্লাহ! আমাদেরকে মুসলিমরূপে মৃত্যু দান করো, মুসলিমরূপে জীবিত রাখো এবং সৎকর্মশীল লোকদের সাথে মিলিত করো, অপমানিত ও বিপর্যস্তরূপে নয়। হে আল্লাহ! তুমি কাফেরদের ধ্বংস করো, যারা তোমার পথে বাধা সৃষ্টি করে। তোমার ক্রোধ ও আযাব তাদের উপর অবতীর্ণ করো। হে আল্লাহ! কিতাবপ্রাপ্ত কাফেরদের ধ্বংস করো। হে সত্য ইলাহ”। (নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ أَيْمَنَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ رِفَاعَةَ الزُّرَقِيُّ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : " لَمَّا كَانَ يَوْمُ أُحُدٍ وَانْكَفَأَ الْمُشْرِكُونَ ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " اسْتَوُوا حَتَّى أُثْنِيَ عَلَى رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ ، فَصَارُوا خَلْفَهُ صُفُوفًا ، فَقَالَ : اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ كُلُّهُ ، اللَّهُمَّ لا قَابِضَ لِمَا بَسَطْتَ ، وَلا مُقَرِّبَ لِمَا بَاعَدْتَ ، وَلا مُبَاعِدَ لِمَا قَرَّبْتَ ، وَلا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ ، وَلا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ ، اللَّهُمَّ ابْسُطْ عَلَيْنَا مِنْ بَرَكَاتِكَ وَرَحْمَتِكَ وَفَضْلِكَ وَرِزْقِكَ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ الْمُقِيمَ الَّذِي لا يَحُولُ وَلا يَزُولُ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ النَّعِيمَ يَوْمَ الْعَيْلَةِ ، وَالأَمْنَ يَوْمَ الْحَرْبِ ، اللَّهُمَّ عَائِذًا بِكَ مِنْ سُوءِ مَا أَعْطَيْتَنَا ، وَشَرِّ مَا مَنَعْتَ مِنَّا ، اللَّهُمَّ حَبِّبْ إِلَيْنَا الإِيمَانَ وَزَيِّنْهُ فِي قُلُوبِنَا ، وَكَرِّهْ إِلَيْنَا الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ ، وَاجْعَلْنَا مِنَ الرَّاشِدِينَ ، اللَّهُمَّ تَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ ، وَأَحْيِنَا مُسْلِمِينَ ، وَأَلْحِقْنَا بِالصَّالِحِينَ ، غَيْرَ خَزَايَا وَلا مَفْتُونِينَ ، اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِكَ ، وَيُكَذِّبُونَ رُسَلَكَ ، وَاجْعَلْ عَلَيْهِمْ رِجْزَكَ وَعَذَابَكَ ، اللَّهُمَّ قَاتِلِ الْكَفَرَةَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ ، إِلَهَ الْحَقِّ
পরিচ্ছেদঃ ২৯২- বিপদাপদের সময় দেয়া করা।
৭০৫। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন বিপদের সময় দোয়া করতেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল আযীমুল হালীম, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু রব্বুস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি রব্বুল আরশিল আযীম” (আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি অতি মহান, অতি সহনশীল, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি আকাশমণ্ডলী ও যমীনের রব এবং মহান আরশের মালিক”)। (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী,ইবনে মাজাহ, আহমাদ, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا مُسْلِمٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا هِشَامٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا قَتَادَةُ ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدْعُو عِنْدَ الْكَرْبِ : لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯২- বিপদাপদের সময় দেয়া করা।
৭০৬। আবদুর রহমান ইবনে আবু বাকরা (রহঃ) তার পিতাকে বলেন, হে পিতা! আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে এই দোয়া করতে শুনিঃ “হে আল্লাহ! তুমি আমার শরীর নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার কান নিরাপদ রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমার চোখ নিরাপদ রাখো। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার তা পড়েন। আপনি আরো বলেন, “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কুফর ও দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। আপনি বিকালে উপনীত হয়ে এগুলো তিনবার এবং সকালে উপনীত হয়ে তিনবার পড়েন।
তিনি বলেন, হাঁ, হে বৎস! আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই দোয়াগুলি বলতে শুনেছি এবং আমি তাঁর সুন্নাত অনুসরণ করতে ভালোবাসি। তিনি আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বিপদগ্ৰস্ত লোকের দোয়া হলোঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার রহমতের আশা করি। অতএব তুমি মুহুর্তের জন্যও আমাকে আমার নিজের উপর সোপর্দ করো না এবং আমার সার্বিক অবস্থা সংশোধন করে দাও। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। (আবু দাউদ, আহমাদ, বাযযার, তাবারানী, নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَلِيلِ ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مَيْمُونٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرَةَ ، أَنَّهُ قَالَ لأَبِيهِ : " يَا أَبَتِ ، إِنِّي أَسْمَعُكَ تَدْعُو كُلَّ غَدَاةٍ : اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي ، اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِينَ تُمْسِي ، وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاثًا ، وَتَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ ، اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، لا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، تُعِيدُهَا ثَلاثًا حِينَ تُمْسِي ، وَحِينَ تُصْبِحُ ثَلاثًا ، فَقَالَ : نَعَمْ ، يَا بُنَيَّ ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ بِهِنَّ ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَسْتَنَّ بِسُنَّتِهِ
قَالَ : قَالَ : وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " دَعَوَاتُ الْمَكْرُوبِ : اللَّهُمَّ رَحْمَتَكَ أَرْجُو ، وَلا تَكِلْنِي إِلَى نَفْسِي طَرْفَةَ عَيْنٍ ، وَأَصْلِحْ لِي شَأْنِي كُلَّهُ ، لا إِلَهَ أَلا أَنْتَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯২- বিপদাপদের সময় দেয়া করা।
৭০৭। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিপদকালে বলতেনঃ “আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই , যিনি মহান ও পরম সহিষ্ণু। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি মহান আরশের অধিপতি। আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই যিনি আকাশমণ্ডলীর প্রভু, পৃথিবীর প্রভু এবং সম্মানিত আরশের প্রতিপালক। হে আল্লাহ! তুমি এর অনিষ্ট দূর করে দাও”। (বুখারী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ الْخَطَّابِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي رَاشِدٌ أَبُو مُحَمَّدٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، قَالَ : سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ، يَقُولُ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ عِنْدَ الْكَرْبِ : لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَرَبُّ الأَرْضِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ، اللَّهُمَّ اصْرِفْ شَرَّهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৩- ইস্তিখারার দোয়া।
৭০৮। জাবের (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে যেমন কুরআনের সূরা শিক্ষা দিতেন, তেমনি সকল ব্যাপারে আমাদেরকে ইস্তিখারা করা শিক্ষা দিতেন। কেউ কোন কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করলে সে যেন দুই রাকআত নামায পড়ে এবং তারপর বলেঃ
উচ্চারনঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বিইলমিকা ওয়া আসতাকদিরুকা বিকুদরাতিকা ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল আযম। ফাইন্নাকা তাকদিরু ওয়ালা আকদিরু ওয়া তালামু ওয়ালা আলামু ওয়া আনতা আল্লামুল গুয়ুব। আল্লাহুম্মা ইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা খাইরুল্লী ফি দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরা আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাকদুরহু লী। ওয়াইন কুনতা তালামু আন্না হাযাল আমরা শাররুল্লী ফী দীনী ওয়া মাআশী ওয়া আকিবাতি আমরী আও ফী আজেলে আমরী ওয়া আজেলিহী ফাসরেফহু আন্নী ওয়াসরিফনী আনহু ওয়াকদুর লিয়াল খাইরা হাইছু কানা সুম্মা রাদ্দিনী বিহী
অর্থঃ “(হে আল্লাহ! আমি তোমার জ্ঞানের সাহায্যে তোমার কাছে কল্যাণ কামনা করছি। আমি তোমার শক্তির সাহায্যে শক্তি এবং তোমার মহান অনুগ্রহ কামনা করছি। কেননা তুমিই ক্ষমতাবান এবং আমি অক্ষম। তুমি জ্ঞানবান, আমি জ্ঞানহীন এবং তুমি অদৃশ্য বিষয় সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে এবং আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের জন্য কল্যাণকর হলে তুমি তা আমার জন্য নিধারিত করে দাও। আর যদি তোমার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দীন, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে অথবা বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে তুমি তা আমার থেকে ফিরিয়ে নাও এবং আমাকেও তা থেকে ফিরিয়ে রাখো। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করো এবং আমাকে তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দাও”। আর (আমার এ কাজ এর স্থলে) নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে। (বুখারী)
حَدَّثَنَا مُطَرِّفُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَبُو الْمُصْعَبِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الْمَوَالِ ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا الاسْتِخَارَةَ فِي الأُمُورِ كَالسُّورَةِ مِنَ الْقُرْآنِ : إِذَا هَمَّ بِالأَمْرِ فَلْيَرْكَعْ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْتَخِيرُكَ بِعِلْمِكَ ، وَأَسْتَقْدِرُكَ بِقُدْرَتِكَ ، وَأَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ الْعَظِيمِ ، فَإِنَّكَ تَقْدِرُ وَلا أَقْدِرُ ، وَتَعْلَمُ وَلا أَعْلَمُ ، وَأَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ خَيْرٌ لِي فِي دِينِي ، وَمَعَاشِي ، وَعَاقِبَةِ ، أَوْ قَالَ : فِي عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ فَاقْدُرْهُ لِي ، وَإِنْ كُنْتَ تَعْلَمُ أَنَّ هَذَا الأَمْرَ شَرٌّ لِي فِي دِينِي ، وَمَعَاشِي ، وَعَاقِبَةِ أَمْرِي ، أَوْ قَالَ : عَاجِلِ أَمْرِي وَآجِلِهِ ، فَاصْرِفْهُ عَنِّي وَاصْرِفْنِي عَنْهُ ، وَاقْدُرْ لِيَ الْخَيْرَ حَيْثُ كَانَ ، ثُمَّ رَضِّنِي ، وَيُسَمِّي حَاجَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৩- ইস্তিখারার দোয়া।
৭০৯। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই মসজিদে অর্থাৎ মসজিদুল ফাতহ (বিজয়ের মসজিদ) এ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার দোয়া করলেন এবং বুধবার নামাযের মধ্যবর্তী সময়ে তাঁর দোয়া কবুল হলো। জাবের (রাঃ) বলেন, যখনই আমার কোন গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন কাজ উপস্থিত হয়েছে তখনই আমি উক্ত সময়ে প্রার্থনার ইচ্ছা করেছি এবং বুধবার এই সময়ে দোয়া করেছি এবং তা যে কবুল হয়েছে তাও বুঝতে পেরেছি। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ حَمْزَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي كَثِيرُ بْنُ زَيْدٍ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، يَقُولُ : " دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي هَذَا الْمَسْجِدِ ، مَسْجِدِ الْفَتْحِ ، يَوْمَ الاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الثُّلاثَاءِ وَيَوْمَ الأَرْبِعَاءِ ، فَاسْتُجِيبَ لَهُ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ مِنْ يَوْمِ الأَرْبِعَاءِ ، قَالَ جَابِرٌ : وَلَمْ يَنْزِلْ بِي أَمْرٌ مُهِمٌّ غائِظٌ إِلا تَوَخَّيْتُ تِلْكَ السَّاعَةَ ، فَدَعَوْتُ اللَّهَ فِيهِ بَيْنَ الصَّلاتَيْنِ يَوْمَ الأَرْبِعَاءِ فِي تِلْكَ السَّاعَةِ ، إِلا عَرَفْتُ الإِجَابَةَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৩- ইস্তিখারার দোয়া।
৭১০। আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তার দোয়ায় বললো, “হে আসমানসমূহের সৃষ্টিকর্তা, হে চিরঞ্জীব, হে চিরস্থায়ী। আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সে কোন্ নামে (আল্লাহকে ডেকে) দোয়া করছে তা কি তোমরা জানো? সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ! সে আল্লাহর কাছে তাঁর এমন নামের উসীলায় দোয়া করেছে যে, সেই নামে কেউ তাকে ডাকলে তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (আবু দাউদ, তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ عَنْ خَلَفِ بْنِ خَلِيفَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي حَفْصُ ابْنُ أَخِي أَنَسٍ ، عَنْ أَنَسٍ : " كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَدَعَا رَجُلٌ ، فَقَالَ : يَا بَدِيعَ السَّمَاوَاتِ ، يَا حَيُّ يَا قَيُّومُ ، إِنِّي أَسْأَلُكَ ، فَقَالَ : أَتَدْرُونَ بِمَا دَعَا ؟ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، دَعَا اللَّهَ بِاسْمِهِ الَّذِي إِذَا دُعِيَ بِهِ أَجَابَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৩- ইস্তিখারার দোয়া।
৭১১। আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলেন, আমাকে একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যা আমি আমার নামাযে পড়তে পারি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এ দোয়া পড়বেঃ “আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাছীরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা আনতা ফাগফির লী মিন ইনদিকা মাগফিরাতান ওয়ারহামনী ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম” অর্থঃ (হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আমার নিজের উপর অনেক যুলুম করেছি। তুমি ছাড়া গুনাহ মাফ করার কেউ নাই। অতএব তুমি তোমার পক্ষ থেকে আমাকে মাফ করে দাও এবং আমার প্রতি অনুগ্রহ বর্ষণ করো। নিশ্চয় তুমি ক্ষমাকারী অতি দয়ালু)। (বুখারী)
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمَانَ قَالَ : حَدَّثَنَا ابْن وَهْبٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عَمْرٌو ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ ، أَنَّهُ سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو قَالَ : قَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ ، عَنْهُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " عَلِّمْنِي دُعَاءً أَدْعُو بِهِ فِي صَلاتِي ، قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي ظُلْمًا كَثِيرًا ، وَلا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلا أَنْتَ ، فَاغْفِرْ لِي مِنْ عِنْدِكَ مَغْفِرَةً ، إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৪- কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে।
৭১২। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, তোমাদের কেউ নিজের উপর তাদের শাসকের স্বৈরাচার বা অত্যাচারের আশংকা করলে সে যেন বলেঃ “হে আল্লাহ, সাত আসমানের প্রতিপালক, মহান আরশের অধিপতি! তুমি আমার প্রতিবেশী হও তোমার সৃষ্টিকুলের মধ্যকার অমুকের পুত্র অমুকের বিরুদ্ধে এবং তার বাহিনীর বিরুদ্ধে, যাতে তাদের কেউ আমার প্রতি বাড়াবাড়ি বা অবিচার করতে না পারে। তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার প্রশংসা মহিমামণ্ডিত এবং তুমি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই”। (তাবারানী, বাযযার)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ثُمَامَةُ بْنُ عُقْبَةَ ، قَالَ : سَمِعْتُ الْحَارِثَ بْنَ سُوَيْدٍ ، يَقُولُ : قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ : " إِذَا كَانَ عَلَى أَحَدِكُمْ إِمَامٌ يَخَافُ تَغَطْرُسَهُ أَوْ ظُلْمَهُ ، فَلْيَقُلِ : اللَّهُمَّ رَبَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، كُنْ لِي جَارًا مِنْ فُلانِ بْنِ فُلانٍ وَأَحْزَابِهِ مِنْ خَلائِقِكَ ، أَنْ يَفْرُطَ عَلَيَّ أَحَدٌ مِنْهُمْ أَوْ يَطْغَى ، عَزَّ جَارُكَ ، وَجَلَّ ثَنَاؤُكَ ، وَلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৪- কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে।
৭১৩। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, তুমি যদি স্বৈরাচারী শাসকের নিকট আসো যার কঠোরতায় তুমি শংকিত, তবে তুমি তিনবার বলবেঃ “আল্লাহ মহান, আল্লাহ তাঁর সমস্ত সৃষ্টিকুলের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান। আমি যার ভয়ে ভীত ও শংকিত আল্লাহ তার চেয়েও অধিক সম্মানিত। আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি যিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, যিনি সাত আসমানকে তার নির্দেশ ব্যতীত পৃথিবীর উপর পতিত হওয়া থেকে সুস্থির রেখেছেন, তাঁর অমুক বান্দার, জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তার বাহিনী, তার অনুসারী দলবল থেকে। হে আল্লাহ! তাদের অনিষ্টের মোকাবিলায় তুমি আমার প্রতিবেশী হও। তোমার প্রশংসা মহিমান্বিত, তোমার প্রতিবেশী মহিমান্বিত, তোমার নাম বরকতপূর্ণ এবং তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই”। (তাবারানী, ইবনু আবু শায়বাহ, ইবনু খুযাইমাহ)
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا يُونُسُ ، عَنْ المِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : " إِذَا أَتَيْتَ سُلْطَانًا مَهِيبًا ، تَخَافُ أَنْ يَسْطُوَ بِكَ ، فَقُلِ : اللَّهُ أَكْبَرُ ، اللَّهُ أَعَزُّ مِنْ خَلْقِهِ جَمِيعًا ، اللَّهُ أَعَزُّ مِمَّا أَخَافُ وَأَحْذَرُ ، وَأَعُوذُ بِاللَّهِ الَّذِي لا إِلَهَ إِلا هُوَ ، الْمُمْسِكُ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ أَنْ يَقَعْنَ عَلَى الأَرْضِ إِلا بِإِذْنِهِ ، مِنْ شَرِّ عَبْدِكَ فُلانٍ ، وَجُنُودِهِ وَأَتْبَاعِهِ وَأَشْيَاعِهِ مِنَ الْجِنِّ وَالإِنْسِ ، اللَّهُمَّ كُنْ لِي جَارًا مِنْ شَرِّهِمْ ، جَلَّ ثَنَاؤُكَ ، وَعَزَّ جَارُكَ ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ ، وَلا إِلَهَ غَيْرُكَ " ثَلاثَ مَرَّاتٍ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৪- কারো শাসকের যুলুমের ভয় হলে।
৭১৪। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি দুশ্চিন্তা, অস্থিরতা বা বিপদে পতিত হলে অথবা শাসকের অত্যাচারের ভয়ে শংকিত হলে সে যেন নিম্নোক্ত বাক্যে দোয়া করে, তার দোয়া কবুল হবেঃ “আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নাই। তুমি সাত আসমান ও মহান আরশের প্রভু। আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তুমিই সাত আসমান ও মহিমান্বিত আরশের প্রভু! আমি তোমার নিকট এই উসীলা দিয়ে প্রার্থনা করছি যে, তুমি ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং সাত আসমান, সাত যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তুমিই সেগুলোর রব। তুমিই সর্বশক্তিমান”। অতঃপর তুমি আল্লাহর কাছে তোমার প্রয়োজন পেশ করো।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا مُوسَى ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُكَيْنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ قَيْسٍ ، أَخْبَرَنِي أَبِي ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ حَدَّثَهُ ، قَالَ : " مَنْ نَزَلَ بِهِ هَمٌّ أَوْ غَمٌّ أَوْ كَرْبٌ أَوْ خَافَ مِنْ سُلْطَانٍ ، فَدَعَا بِهَؤُلاءِ اسْتُجِيبَ لَهُ : أَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ ، وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ ، رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ ، وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ ، وَأَسْأَلُكَ بِلا إِلَهَ إِلا أَنْتَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَالأَرَضِينَ السَّبْعِ وَمَا فِيهِنَّ ، إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ، ثُمَّ سَلِ اللَّهَ حَاجَتَكَ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৫- দোয়াকারীর জন্য যে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চিত করা হয়।
৭১৫। আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ যে কোন মুসলিম ব্যক্তি পাপাচার বা আত্মীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার দোয়া ব্যতীত যে কোন দোয়া করলে আল্লাহ তাকে তিনটি জিনিসের যে কোন একটি দান করেনঃ (১) হয় দ্রুত তার দোয়া কবুল করেন অথবা (২) তা তার পরকালের জন্য সঞ্চিত রাখেন অথবা (৩) অনুরূপ কোন ক্ষতি তার থেকে অপসারিত করেন। এক ব্যক্তি বললো, তাহলে সে তো অধিক পরিমাণে দোয়া করতে পারে। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তার চেয়েও অধিক কবুলকারী। (তিরমিযী,আহমাদ, হাকিম, তহাবী)
دَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ أُسَامَةَ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ عَلِيٍّ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا الْمُتَوَكِّلِ النَّاجِيَّ ، قَالَ : قَالَ أَبُو سَعِيدٍ الْخُدْرِيُّ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَدْعُو ، لَيْسَ بِإِثْمٍ وَلا بِقَطِيعَةِ رَحِمٍ ، إِلا أَعْطَاهُ إِحْدَى ثَلاثٍ : إِمَّا أَنْ يُعَجِّلَ لَهُ دَعْوَتَهُ ، وَإِمَّا أَنْ يَدَّخِرَهَا لَهُ فِي الآخِرَةِ ، وَإِمَّا أَنْ يَدْفَعَ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهَا ، قَالَ : إِذًا يكثرِ ، قَالَ : اللَّهُ أَكْثَرُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৫- দোয়াকারীর জন্য যে সওয়াব ও প্রতিদান সঞ্চিত করা হয়।
৭১৬। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন ব্যক্তি মাত্রই আল্লাহর দিকে মুখ করে তার কাছে কিছু প্রার্থনা করলে এবং (ফল লাভে) তাড়াহুড়া না করলে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করেন। হয় তা তিনি তাকে দুনিয়াতে অবিলম্বে দান করেন অথবা তার আখেরাতের জীবনের জন্য তা সঞ্চিত রাখেন। সাহাবীগণ বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তার তাড়াহুড়া কিরূপ? তিনি বলেনঃ সে বলে, আমি তো দোয়ার পর দোয়া করতে থাকলাম, কিন্তু তা কবুল হতে দেখছি না। (বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا ابْنُ شَيْبَةَ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي الْفُدَيْكِ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَوْهَبٍ ، عَنْ عَمِّهِ عُبَيْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " مَا مِنْ مُؤْمِنٍ يَنْصُبُ وَجْهَهُ إِلَى اللَّهِ يَسْأَلُهُ مَسْأَلَةً ، إِلا أَعْطَاهُ إِيَّاهَا ، إِمَّا عَجَّلَهَا لَهُ فِي الدُّنْيَا ، وَإِمَّا ذَخَرَهَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مَا لَمْ يَعْجَلْ ، قَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَمَا عَجَلَتُهُ ؟ قَالَ : يَقُولُ : دَعَوْتُ وَدَعَوْتُ ، وَلا أُرَاهُ يُسْتَجَابُ لِي
পরিচ্ছেদঃ ২৯৬- দোয়ার ফযীলাত।
৭১৭। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার কাছে দোয়ার চাইতে অধিক সম্মানিত কিছু নাই। (বুখারী, তিরমিযী, আহমাদ, ইবনে মাজাহ, হাকিম)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " لَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَمَ عَلَى اللَّهِ مِنَ الدُّعَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৬- দোয়ার ফযীলাত।
৭১৮। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দোয়া হলো সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত।
حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عِمْرَانُ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " أَشْرَفُ الْعِبَادَةِ الدُّعَاءُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৬- দোয়ার ফযীলাত।
৭১৯। নোমান ইবনে বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ দোয়াও একটি ইবাদত। তারপর তিনি পড়লেনঃ (তোমাদের রব বলেন), “তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো” (৪০ঃ ৬০)। (তিরমিযী)
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، عَنْ مَنْصُورٍ ، عَنْ ذَرٍّ ، عَنْ يُسَيْعَ ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " إِنَّ الدُّعَاءَ هُوَ الْعِبَادَةُ ، ثُمَّ قَرَأَ : ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৬- দোয়ার ফযীলাত।
৭২০। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট জিজ্ঞেস করা হলো, কোন ইবাদত সর্বোত্তম? তিনি বলেনঃ মানুষের নিজের জন্য কৃত দোয়া। (হাকিম)
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ ، عَنِ مُبَارَكِ بْنِ حَسَّانَ ، عَنْ عَطَاءٍ ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : " سُئِلَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَيُّ الْعِبَادَةِ أَفْضَلُ ؟ قَالَ : دُعَاءُ الْمَرْءِ لِنَفْسِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৬- দোয়ার ফযীলাত।
৭২১। মাকিল ইবনে ইয়াসার (রাঃ) বলেন, আমি আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) এর সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট গেলাম। তিনি বলেনঃ হে আবু বাকর! নিশ্চয় শিরক পিপীলিকার পদচারণা থেকেও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবু বাকর (রাঃ) বলেন, কারো আল্লাহর সাথে অপর কিছুকে ইলাহরূপে গণ্য করা ছাড়াও কি শিরক আছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! শিরক পিপীলিকার পদধ্বনির চেয়েও সূক্ষ্ম। আমি কি তোমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিবো না, তুমি যা বললে শিরকের অল্প ও বেশী সবই দূর হয়ে যাবে? তিনি বলেনঃ তুমি বলো, “হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে তোমার সাথে শিরক করা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজ্ঞাত তা থেকেও তোমার কাছে ক্ষমা চাই”। (ইবনুস সুন্নী)
حَدَّثَنَا عَبَّاسٌ النَّرْسِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ ، قَالَ : حَدَّثَنَا لَيْثٌ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي رَجُلٌ مِنْ أَهْلِ الْبَصْرَةِ ، قَالَ : سَمِعْتُ مَعْقِلَ بْنَ يَسَارٍ ، يَقُولُ : " انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : يَا أَبَا بَكْرٍ ، لَلشِّرْكُ فِيكُمْ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : وَهَلِ الشِّرْكُ إِلا مَنْ جَعَلَ مَعَ اللَّهِ إِلَهًا آخَرَ ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ ، لَلشِّرْكُ أَخْفَى مِنْ دَبِيبِ النَّمْلِ ، أَلا أَدُلُّكَ عَلَى شَيْءٍ إِذَا قُلْتَهُ ذَهَبَ عَنْكَ قَلِيلُهُ وَكَثِيرُهُ ؟ قَالَ : قُلِ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ ، وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৭- প্রবল বায়ু প্রবাহের সময় দোয়া করা।
৭২২। আনাস (রাঃ) বলেন, প্রবল বেগে বায়ু প্রবাহিত হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তুমি যে কল্যাণসহ তা পাঠিয়েছে, তা লাভের জন্য তোমার কাছে প্রার্থনা করি এবং যে অনিষ্টসহ তা পাঠিয়েছে সেই অনিষ্ট থেকে তোমার আশ্রয় চাই”। (আবু ইয়ালা, ইবনুস সুন্নী)
حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا ابْنُ مَهْدِيٍّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْمُثَنَّى ، هُوَ ابْنُ سَعِيدٍ ، عَنْ قَتَادَةَ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا هَاجَتْ رِيحٌ شَدِيدَةٌ ، قَالَ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرِ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৭- প্রবল বায়ু প্রবাহের সময় দোয়া করা।
৭২৩। সালামা (রাঃ) বলেন, জোরে হাওয়া প্রবাহিত হলে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলতেনঃ হে আল্লাহ! তাকে ফলবতী করো, বন্ধ্যা করো না। (তাবারানী, ইবনুস সুন্নী)।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُغِيرَةُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ، عَنْ يَزِيدَ ، عَنْ سَلَمَةَ ، قَالَ : " كَانَ إِذَا اشْتَدَّتِ الرِّيحُ ، يَقُولُ : اللَّهُمَّ لاقِحًا ، لا عَقِيمًا
পরিচ্ছেদঃ ২৯৮- তোমরা বাতাসকে গালি দিও না।
৭২৪। উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা বায়ুকে গালি দিও না। তোমরা তাতে অপছন্দনীয় কিছু দেখতে পেলে এই দোয়া পড়বে, “হে আল্লাহ! আমরা তোমার কাছে কামনা করি এ বায়ুর কল্যাণ, এর মধ্যে যে কল্যাণ নিহিত আছে তা এবং সে যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছে তার কল্যাণ। আমরা তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এ বায়ুর অনিষ্ট থেকে, এর মধ্যে নিহিত ক্ষতি থেকে এবং সে যে বিষয়ে আদিষ্ট হয়েছে তার অকল্যাণ থেকে”। (তিরমিযী, হাকিম)
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ ، عَنِ الأَعْمَشِ ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبْزَى ، عَنْ أَبِيهِ ، عَنْ أَبِي ، قَالَ : " لا تَسُبُّوا الرِّيحَ ، فَإِذَا رَأَيْتُمْ مِنْهَا مَا تَكْرَهُونَ فَقُولُوا : اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْأَلُكَ خَيْرَ هَذِهِ الرِّيحِ ، وَخَيْرَ مَا فِيهَا ، وَخَيْرَ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ ، وَنَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيحِ ، وَشَرِّ مَا فِيهَا ، وَشَرِّ مَا أُرْسِلَتْ بِهِ
পরিচ্ছেদঃ ২৯৮- তোমরা বাতাসকে গালি দিও না।
৭২৫। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বায়ু হলো আল্লাহর রহমতের অংশ। তা রহমত ও শাস্তি বয়ে আনে। অতএব তোমরা তাকে গালি দিও না। বরং তোমরা আল্লাহর কাছে তার মধ্যে নিহিত কল্যাণ প্রার্থনা করো এবং তার ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, হাকিম, ইবনে হিব্বান, আবু আওয়ানা)।
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، عَنْ يَحْيَى ، عَنِ الأَوْزَاعِيِّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي ثَابِتٌ الزُّرَقِيُّ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ، يَقُولُ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " الرِّيحُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ ، تَأْتِي بِالرَّحْمَةِ وَالْعَذَابِ ، فَلا تَسُبُّوهَا ، وَلَكِنْ سَلُوا اللَّهَ مِنْ خَيْرِهَا ، وَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ شَرِّهَا
পরিচ্ছেদঃ ২৯৯- বজ্রধ্বনির সময় দোয়া করা।
৭২৬। সালেম ইবনে আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার বজ্রপাত দ্বারা আমাদের হত্যা করো না, তোমার আযাব দ্বারা আমাদেরকে ধ্বংস করো না এবং তার আগেই আমাদের ক্ষমা করে দাও”। (তিরমিযী,নাসাঈ, আহমাদ, হাকিম)
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا الْحَجَّاجُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو مَطَرٍ ، أَنَّهُ سَمِعَ سَالِمَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ ، عَنْ أَبِيهِ ، قَالَ : " كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ وَالصَّوَاعِقَ ، قَالَ : اللَّهُمَّ لا تَقْتُلْنَا بِصَعْقِكَ ، وَلا تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ ، وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ ৩০০- কেউ বজ্রধ্বনি শুনলে।
৭২৭। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বজ্রধ্বনি শুনতে পেলে বলতেনঃ “মহাপবিত্র সেই সত্তা বজ্রধ্বনি যাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করলো”। তিনি বলেন, বজ্রধ্বনিকারী হলেন একজন ফেরেশতা। তিনি মেঘমালাকে হাঁকিয়ে নিয়ে যান, যেমন রাখাল তার মেষপালকে হাঁকিয়ে নিয়ে যায়।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا بِشْرٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ ، حَدَّثَنِي الْحَكَمُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي عِكْرِمَةُ ، أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ ، كَانَ إِذَا سَمِعَ صَوْتَ الرَّعْدِ ، قَالَ : " سبحَانَ الَّذِي سَبَّحْتَ لَهُ ، قَالَ : إِنَّ الرَّعْدَ مَلَكٌ يَنْعِقُ بِالْغَيْثِ ، كَمَا يَنْعِقُ الرَّاعِي بِغَنَمِهِ
পরিচ্ছেদঃ ৩০০- কেউ বজ্রধ্বনি শুনলে।
৭২৮। আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। বজ্রধ্বনি শুনতে পেলে আলাপ-আলোচনা বন্ধ করে দিয়ে বলতেনঃ “মহাপবিত্র সেই সত্তা বজ্রধ্বনি যাঁর প্রশংসাসহ পবিত্রতা ঘোষণা করে এবং ফেরেশতাকুল যার ভয়ে শংকিত” (সূরা রাদঃ ১৩)। অতঃপর তিনি বলতেন, এটা হলো জগতবাসীর জন্য চরম ভীতি প্রদর্শন বা হুমকি। (মুয়াত্তা মালিক)
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ ، عَنْ عَامِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ ، أَنَّهُ كَانَ إِذَا سَمِعَ الرَّعْدَ تَرَكَ الْحَدِيثَ ، وَقَالَ : " سُبْحَانَ الَّذِي يُسَبِّحُ الرَّعْدُ بِحَمْدِهِ وَالْمَلائِكَةُ مِنْ خِيفَتِهِ ، ثُمَّ يَقُولُ : إِنَّ هَذَا لَوَعِيدٌ شَدِيدٌ لأَهْلِ الأَرْضِ
পরিচ্ছেদঃ ৩০১- যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
৭২৯। আওসাত ইবনে ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, আমি আবু বাকর সিদ্দীক (রাঃ) কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইনতিকালের পর বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরতের প্রথম বছর আমার এই স্থানে দাঁড়ালেন। এ কথা বলে আবু বাকর (রাঃ) কাঁদলেন, অতঃপর বলেন, তোমরা অবশ্যই সত্যকে আকড়ে থাকবে। কেননা তা পুণ্যের সাথী এবং এই দু’টি জান্নাতে যাবে। তোমরা অবশ্যই মিথ্যা পরিহার করবে। কেননা তা পাপের সাথী এবং এই দু’টি দোযখে যাবে। তোমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা কামনা করো। কেননা নিরাপত্তা হচ্ছে ঈমানের পর সর্বাধিক কল্যাণবাহী! তোমরা সম্পর্কচ্ছেদ করো না, একে অপরের পিছনে দুর্নাম করো না, পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না। আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা ভাই ভাই হয়ে যাও। (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, আহমাদ, তহাকিম, ইবনে হিব্বান)
حَدَّثَنَا آدَمُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا شُعْبَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ حُجَيْرٍ ، قَالَ : سَمِعْتُ سُلَيْمَ بْنَ عَامِرٍ ، عَنْ أَوْسَطَ بْنِ إِسْمَاعِيلَ ، قَالَ : سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ بَعْدَ وَفَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَامَ أَوَّلَ مَقَامِي هَذَا ، ثُمَّ بَكَى أَبُو بَكْرٍ ، ثُمَّ قَالَ : " عَلَيْكُمْ بِالصِّدْقِ ، فَإِنَّهُ مَعَ الْبِرِّ ، وَهُمَا فِي الْجَنَّةِ ، وَإِيَّاكُمْ وَالْكَذِبَ ، فَإِنَّهُ مَعَ الْفُجُورِ ، وَهُمَا فِي النَّارِ ، وَسَلُوا اللَّهَ الْمُعَافَاةَ ، فَإِنَّهُ لَمْ يُؤْتَ بَعْدَ الْيَقِينِ خَيْرٌ مِنَ الْمُعَافَاةِ ، وَلا تَقَاطَعُوا ، وَلا تَدَابَرُوا ، وَلا تَحَاسَدُوا ، وَلا تَبَاغَضُوا ، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا
পরিচ্ছেদঃ ৩০১- যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
৭৩০। মুআয (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, সে তখন বলছিল, “হে আল্লাহ! আমি তোমার সমস্ত নিয়ামত কামনা করি”। তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি জানো, সমস্ত নিয়ামত কি? সে বললো, পূর্ণ নিয়ামত হচ্ছে বেহেশতে প্রবেশ লাভ এবং দোযখ থেকে মুক্তি লাভ। অতঃপর তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিলো, “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ধৈর্য প্রার্থনা করি”। তিনি বলেনঃ তুমি আমার প্রভুর কাছে বিপদ কামনা করলে। অতএব তুমি তার কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করো। তিনি আরেক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গেলেন। সে বলছিল, “হে গৌরব ও মহত্বের অধিকারী”। তিনি বলেনঃ তুমি এখনই তার কাছে কিছু প্রার্থনা করো। (তিরমিযী, আহমাদ)
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ ، عَنْ أَبِي الْوَرْدِ ، عَنِ اللَّجْلاجِ ، عَنْ مُعَاذٍ قَالَ : " مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ تَمَامَ النِّعْمَةِ ، قَالَ : هَلْ تَدْرِي مَا تَمَامُ النِّعْمَةِ ؟ قَالَ : تَمَامُ النِّعْمَةِ دُخُولُ الْجَنَّةِ ، وَالْفَوْزُ مِنَ النَّارِ ، ثُمَّ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ : اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الصَّبْرَ ، قَالَ : قَدْ سَأَلْتَ رَبَّكَ الْبَلاءَ ، فَسَلْهُ الْعَافِيَةَ ، وَمَرَّ عَلَى رَجُلٍ يَقُولُ : يَا ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ ، قَالَ : سَلْ
পরিচ্ছেদঃ ৩০১- যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করে।
৭৩১। আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারি। তিনি বলেনঃ আপনি আল্লাহর কাছে শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন। কিছু দিন গত হওয়ার পর আমি আবার গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে এমন কিছু শিখিয়ে দিন যা আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতে পারি। তিনি আমাকে বলেনঃ হে আব্বাস, হে আল্লাহর রাসূলের চাচা আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করুন। (তিরমিযী, তাবারানী)
حَدَّثَنَا فَرْوَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عُبَيْدَةُ ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي زِيَادٍ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنِ الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ ، قُلْتُ : " يَا رَسُولَ اللَّهِ ، عَلِّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللَّهَ بِهِ ، فَقَالَ : يَا عَبَّاسُ ، سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ ، ثُمَّ مَكَثْتُ ثَلاثًا ، ثُمَّ جِئْتُ ، فَقُلْتُ : عَلِّمْنِي شَيْئًا أَسْأَلُ اللَّهَ بِهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ ، فَقَالَ : يَا عَبَّاسُ ، يَا عَمَّ رَسُولِ اللَّهِ ، سَلِ اللَّهَ الْعَافِيَةَ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
পরিচ্ছেদঃ ৩০২- যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে।
৭৩২। আনাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপস্থিতিতে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সম্পদ দান করোনি যে, আমি তা দান-খয়রাত করবো। অতএব তুমি আমাকে এমন বিপদে নিক্ষেপ করো যাতে সওয়াব হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সুবহানাল্লাহ! তা তোমার সামর্থ্যের বাইরে। তুমি বলো না কেন, “হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং আমাদের দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো”।
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ ، عَنْ حُمَيْدٍ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " قَالَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : اللَّهُمَّ لَمْ تُعْطِنِي مَالا فَأَتَصَدَّقَ بِهِ ، فَابْتَلِنِي بِبَلاءٍ يَكُونُ ، أَوْ قَالَ : فِيهِ أَجْرٌ ، فَقَالَ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، لا تُطِيقُهُ ، أَلا قُلْتَ : اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
পরিচ্ছেদঃ ৩০২- যে ব্যক্তি বিপদ কামনা করে দোয়া করা অপছন্দ করে।
৭৩৩। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে দেখতে গেলেন। সে রোগ যাতনায় পালকছিন্ন মুরগীর বাচ্চাবৎ হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর কাছে কিছু প্রার্থনা করো। সে বললো, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখেরাতে যে শাস্তি দিবে তা এই দুনিয়াতে দাও। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলোঃ সুবহানাল্লাহ! তুমি তা সহ্য করতে পারবে না বা তা সহ্য করার সামর্থ্য তোমাদের নাই। তুমি কেন বলো না, হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে দুনিয়ার কল্যাণ দান করো, আখেরাতের কল্যাণ দান করো এবং দোযখের আযাব থেকে রক্ষা করো”। অতঃপর তিনি তার জন্য দোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাকে আরোগ্য দান করলেন। (মুসলিম, তিরমিযী, আহমাদ, তাহাবী)
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ ، عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : " دَخَلَ ، قُلْتُ لِحُمَيْدٍ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ؟ قَالَ : نَعَمْ ، دَخَلَ عَلَى رَجُلٍ قَدْ جَهِدَ مِنَ الْمَرَضِ ، فَكَأَنَّهُ فَرْخٌ مَنْتُوفٌ ، قَالَ : ادْعُ اللَّهَ بِشَيْءٍ أَوْ سَلْهُ ، فَجَعَلَ يَقُولُ : اللَّهُمَّ مَا أَنْتَ مُعَذِّبِي بِهِ فِي الآخِرَةِ ، فَعَجِّلْهُ فِي الدُّنْيَا ، قَالَ : سُبْحَانَ اللَّهِ ، لا تَسْتَطِيعُهُ ، أَوَ قَالَ : لا تَسْتَطِيعُوا ، أَلا قُلْتَ : اللَّهُمَّ آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ، وَفِي الآخِرَةِ حَسَنَةً ، وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ ؟ وَدَعَا لَهُ ، فَشَفَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৩- যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
৭৩৪। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রহঃ) বলেন, কোন ব্যক্তি বলে, হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট বিপদের কষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি, অতঃপর ক্ষান্ত দেয়। সে উক্তরূপ বললে অবশ্যই যেন আরো বলে, তবে যে বিপদে উন্নতি নিহিত আছে তা ব্যতীত।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبِي ، قَالَ : حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مُجَاهِدٌ ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ، قَالَ : يَقُولُ الرَّجُلُ : " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ ، ثُمَّ يَسْكُتُ ، فَإِذَا قَالَ ذَلِكَ ، فَلْيَقُلْ : إِلا بَلاءً فِيهِ عَلاءٌ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৩- যে ব্যক্তি কঠিন বিপদ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করে।
৭৩৫। আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠিন বিপদ, ধ্বংসের মুখোমুখি হওয়া, শত্রুর বিদ্বেষজাত আনন্দ ও দুর্ভাগ্য থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতেন। (বুখারী, মুসলিম)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلامٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ ، عَنْ سُمَيٍّ ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، " كَانَ يَتَعَوَّذُ مِنْ جَهْدِ الْبَلاءِ ، وَدَرْكِ الشَّقَاءِ ، وَشَمَاتَةِ الأَعْدَاءِ ، وَسُوءِ الْقَضَاءِ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৪- অসন্তোষের সময় যে ব্যক্তি কারো কথার পুনরাবৃত্তি করে।
৭৩৬। আবু নাওফাল ইবনে আবু আকরাব (রহঃ) থেকে বর্ণিত। তার পিতা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে রোযা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে একদিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। তিনি বলেনঃ আমাকে বাড়িয়ে দিন, আমাকে বাড়িয়ে দিন। যাও, মাসে দুই দিন রোযা রাখো। আমি বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক! আমাকে আরো বাড়িয়ে দিন। কেননা আমার সামর্থ্য আছে। তিনি বলেনঃ আমার শক্তি আছে, আমার শক্তি আছে। তিনি আমাকে চুপ করিয়ে দিলেন, শেষে ভাবলাম যে, তিনি বুঝি আমাকে আর অধিক রোযা রাখার অনুমতি দিবেন না। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি প্রতি মাসে তিনটি রোযা রাখো। (নাসাঈ)
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ ، وَمُسْلِمٌ نَحْوَهُ ، قَالا : حَدَّثَنَا الأَسْوَدُ بْنُ شَيْبَانَ ، عَنْ أَبِي نَوْفَلِ بْنِ أَبِي عَقْرَبَ ، أَنَّ أَبَاهُ سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، عَنِ الصَّوْمِ ، فَقَالَ : " صُمْ يَوْمًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، قُلْتُ : بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي ، زِدْنِي ، قَالَ : زِدْنِي ، زِدْنِي ، صُمْ يَوْمَيْنِ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، قُلْتُ : بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي ، زِدْنِي ، فَإِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا ، فَقَالَ : إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا ، إِنِّي أَجِدُنِي قَوِيًّا ، فَأَفْحَمَ ، حَتَّى ظَنَنْتُ أَنَّهُ لَنْ يَزِيدَنِي ، ثُمَّ قَالَ : صُمْ ثَلاثًا مِنْ كُلِّ شَهْرٍ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫- (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)।
৭৩৭। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তখন দুৰ্গন্ধময় দুষিত বায়ু প্রবাহিত হলে তিনি বলেনঃ তোমরা জানো, তা কি? এটা হলো মুমিন লোকদের গীবতকারীদের বায়ু। (আবু দাউদ)
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ ، عَنْ وَاصِلٍ مَوْلَى أَبِي عُيَيْنَةَ ، قَالَ : حَدَّثَنِي خَالِدُ بْنُ عُرْفُطَةَ ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ نَافِعٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : " كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَارْتَفَعَتْ رِيحٌ خَبِيثَةٌ مُنْتِنَةٌ ، فَقَالَ : أَتَدْرُونَ مَا هَذِهِ ؟ هَذِهِ رِيحُ الَّذِينَ يَغْتَابُونَ الْمُؤْمِنِينَ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫- (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)।
৭৩৮। জাবের (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে দুৰ্গন্ধযুক্ত বায়ু উত্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মোনাফিকদের মধ্যে কতক লোক মুমিনদের মধ্যকার কতক লোকের গীবত করেছে। তাই এই বায়ু প্রবাহিত হয়েছে। (আহমাদ, মুসনাদ আবু আওয়ানা)
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ ، قَالَ : حَدَّثَنَا فُضَيْلُ بْنُ عِيَاضٍ ، عَنْ سُلَيْمَانَ ، عَنْ أَبِي سُفْيَانَ ، عَنْ جَابِرٍ ، قَالَ : " هَاجَتْ رِيحٌ مُنْتِنَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِنَّ نَاسًا مِنَ الْمُنَافِقِينَ اغْتَابُوا أُنَاسًا مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، فَبُعِثَتْ هَذِهِ الرِّيحُ لِذَلِكَ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৫- (গীবতের দুর্গন্ধময় বায়ু)।
৭৩৯। ইবনে উম্মে আবদ (রাঃ) বলেন, কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার অনুপস্থিত মুমিনের সাহায্য করলে আল্লাহ তাকে এজন্য দুনিয়া ও আখেরাতে পুরস্কৃত করবেন। কারো উপস্থিতিতে কোন মুমিন ব্যক্তির গীবত করা হলে এবং সে তার সাহায্য না করলে আল্লাহ তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর মন্দ ফল (শাস্তি) ভোগ করবেন। মুমিন ব্যক্তির গীবতের চেয়ে মন্দ গ্রাস আর কেউ গ্রহণ করে না। সে যদি তার সম্পর্কে তার জ্ঞাত কথাই বলে তবে সে তার গীবতই করলো। আর সে যদি এমন কথা বলে যা সে জ্ঞাত নয়, তবে সে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ রটালো।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ صَالِحٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ الْحَارِثِ ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الشَّامِيِّ ، سَمِعْتُ ابْنَ أُمِّ عَبْدٍ ، تَقُولُ : " مَنِ اغْتِيبَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَنَصَرهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا خَيْرًا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ، وَمَنِ اغْتِيبَ عِنْدَهُ مُؤْمِنٌ فَلَمْ يَنْصُرْهُ جَزَاهُ اللَّهُ بِهَا فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ شَرًّا ، وَمَا الْتَقَمَ أَحَدٌ لُقْمَةً شَرًّا مِنَ اغْتِيَابِ مُؤْمِنٍ ، إِنْ قَالَ فِيهِ مَا يَعْلَمُ ، فَقَدِ اغْتَابَهُ ، وَإِنْ قَالَ فِيهِ بِمَا لا يَعْلَمُ فَقَدْ بَهَتَهُ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬- গীবত। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ “তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে” (৪৯ : ১২)।
৭৪০। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম। তিনি দুইটি কবরের নিকট পৌঁছলেন। কবরবাসীদ্বয়কে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল। তিনি বলেনঃ এই ব্যক্তিদ্বয়কে কোন গুরুতর অপরাধে শাস্তি দেয়া হচ্ছে না। হাঁ, তাদের একজন মানুষের গীবত করতো এবং অপরজন পেশাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করতো না। তিনি তাজা একটি খেজুর শাখা বা দুইটি খেজুর শাখা আনতে বললেন। তিনি তা দুই টুকরা করে ভাংলেন, অতঃপর তা দুই কবরের উপর গেড়ে দিতে নির্দেশ দিলেন এবং বললেনঃ যতক্ষণ এই ডাল দুইটি তাজা থাকবে অথবা শুকিয়ে না যাবে, ততক্ষণ এদের হাল্কা শাস্তি হবে। (আহমাদ, তাবারানী)
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ ، قَالَ : حَدَّثَنَا النَّضْرُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ رَبِيعٍ الْبَاهِلِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ مُحَمَّدٌ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : " كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَأَتَى عَلَى قَبْرَيْنِ يُعَذَّبُ صَاحِبَاهُمَا ، فَقَالَ : إِنَّهُمَا لا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ ، وَبَلَى ، أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَغْتَابُ النَّاسَ ، وَأَمَّا الآخَرُ فَكَانَ لا يَتَأَذَّى مِنَ الْبَوْلِ ، فَدَعَا بِجَرِيدَةٍ رَطْبَةٍ ، أَوْ بِجَرِيدَتَيْنِ ، فَكَسَرَهُمَا ، ثُمَّ أَمَرَ بِكُلِّ كِسْرَةٍ فَغُرِسَتْ عَلَى قَبْرٍ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : أَمَا إِنَّهُ سَيُهَوَّنُ مِنْ عَذَابِهِمَا مَا كَانَتَا رَطْبَتَيْنِ ، أَوْ : لَمْ تَيْبَسَا
পরিচ্ছেদঃ ৩০৬- গীবত। আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ “তোমাদের কেউ যেন অপরের গীবত না করে” (৪৯ : ১২)।
৭৪১। কায়েস (রহঃ) বলেন, আমর ইবনুল আস (রাঃ) তার কতক সঙ্গীসহ সফর করছিলেন। তিনি একটি মৃত খচ্চরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, যা ফুলে উঠেছিল। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! তোমাদের কেউ যদি তা পেট পুরে আহারও করে তবুও সেটা তার কোন মুসলিমের মাংস খাওয়ার চেয়ে উত্তম।
حَدَّثَنَا حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَبِي ، قَالَ : حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ، عَنْ قَيْسٍ ، قَالَ : كَانَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ ، يَسِيرُ مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَمَرَّ عَلَى بَغْلٍ مَيِّتٍ قَدِ انْتَفَخَ ، فَقَالَ : وَاللَّهِ ، لأَنْ يَأْكُلَ أَحَدُكُمْ هَذَا حَتَّى يَمْلأَ بَطْنَهُ ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ يَأْكُلَ لَحْمَ مُسْلِمٍ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৭- মৃত ব্যক্তির গীবত।
৭৪২। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, মায়েয ইবনে মালেক আল-আসলামী এসে চতুর্থবার (যেনার অপরাধের) স্বীকারোক্তি করলে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যার নির্দেশ দেন। পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কতক সহচরসহ তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তাদের মধ্যকার একজন বললো, এই বিশ্বাসঘাতক কয়েকবারই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলো এবং প্রতিবারই তিনি তাকে ফিরে যেতে বলেন। পরে তাকে কুকুরের ন্যায় হত্যা করা হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কথায় কোন মন্তব্য না করে নীরব থাকলেন, শেষে একটি মৃত গাধার নিকট এসে উপনীত হলেন, যার পাগুলো উপরের দিকে উত্থিত ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জনে এটা থেকে খাও। তারা উভয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মরা গাধার মাংস? তিনি বলেনঃ তোমরা দু’জনে এইমাত্র তোমাদের ভাইয়ের যে মানহানি করেছো তা এর তুলনায় অধিক গৰ্হিত। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! সে এখন বেহেশতের ঝর্ণাসমূহের মধ্যকার একটি ঝর্ণায় আনন্দে সাতার কাটছে। (আবু দাউদ, নাসাঈ, বুখারীর তারীখ)
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلَمَةَ ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحِيمِ ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْهَضْهَاضِ الدَّوْسِيِّ ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : " جَاءَ مَاعِزُ بْنُ مَالِكٍ الأَسْلَمِيُّ ، فَرَجَمَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِنْدَ الرَّابِعَةِ ، فَمَرَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعَهُ نَفَرٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ، فَقَالَ رَجُلانِ مِنْهُمْ : إِنَّ هَذَا الْخَائِنَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِرَارًا ، كُلُّ ذَلِكَ يَرُدُّهُ ، حَتَّى قُتِلَ كَمَا يُقْتَلُ الْكَلْبُ ، فَسَكَتَ عَنْهُمُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى مَرَّ بِجِيفَةِ حِمَارٍ شَائِلَةٌ رِجْلُهُ ، فَقَالَ : كُلا مِنْ هَذَا ، قَالا : مِنْ جِيفَةِ حِمَارٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : فَالَّذِي نِلْتُمَا مِنْ عِرْضِ أَخِيكُمَا آنِفًا أَكْثَرُ ، وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ ، فَإِنَّهُ فِي نَهْرٍ مِنْ أَنْهَارِ الْجَنَّةِ يَتَغَمَّسُ
পরিচ্ছেদঃ ৩০৮- যে ব্যক্তি পিতার সাথে উপস্থিত পুত্রের মাথায় হাত বুলায় এবং তার জন্য বরকতের দোয়া করে।
৭৪৩। উবাদা ইবনুস সামিত (রাঃ) এর পৌত্র উবাদা ইবনুল ওয়ালীদ (রহঃ) বলেন, আমি আমার পিতার সাথে বের হলাম। আমি তখন এক যুবা পুরুষ। আমরা এক প্রবীণ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করলাম। তার পরনে ছিল একটি কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল এবং তার গোলামের পরনেও ছিল অনুরূপ একখানা কারুকার্য খচিত চাদর ও একটি কম্বল। আমি বললাম, চাচাজান! আপনি তো আপনার কম্বলখানা আপনার গোলামকে দিয়ে তার এই চাদরখানাসহ দু’খানা চাদর পরতে পারতেন এবং তার পরনেও থাকতো কম্বল। এমনটি করতে আপনাকে কিসে বাধা দিলো? তিনি আমার পিতার মুখোমুখি হয়ে বলেন, এ বুঝি তোমার পুত্র? তিনি বলেন, হাঁ। তখন তিনি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, আল্লাহ তোমাকে তার মাধ্যমে বরকত দান করুন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছিঃ তোমরা যা আহার করবে, তাদেরকেও তাই আহার করাবে এবং তোমরা যা পরবে তাদেরকেও তাই পরাবে। হে ভাতিজা! দুনিয়ার সামগ্ৰী যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তবে তা আখেরাতের সম্পদ হাতছাড়া হওয়ার চেয়ে আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। আমি বললাম, আব্বাজান! ইনি কে? তিনি বলেন, আবুল য়ুসর কাব ইবনে আমর (রাঃ)। (মুসলিম, ইবনে মাজাহ)
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ ، قَالَ : أَخْبَرَنَا حَنْظَلَةُ بْنُ عَمْرٍو الزُّرَقِيُّ الْمَدَنِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنِي أَبُو حَزْرَةَ ، قَالَ : أَخْبَرَنِي عُبَادَةُ بْنُ الْوَلِيدِ بْنِ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ، قَالَ : " خَرَجْتُ مَعَ أَبِي وَأَنَا غُلامٌ شَابٌّ ، فَنَلْقَى شَيْخًا ، قُلْتُ : أَيْ عَمِّ ، مَا مَنَعَكَ أَنْ تُعْطِيَ غُلامَكَ هَذِهِ النَّمِرَةَ ، وَتَأْخُذَ الْبُرْدَةَ ، فَتَكُونُ عَلَيْكَ بُرْدَتَانِ ، وَعَلَيْهِ نَمِرَةٌ ؟ فَأَقْبَلَ عَلَى أَبِي ، فَقَالَ : ابْنُكَ هَذَا ؟ قَالَ : نَعَمْ ، قَالَ : فَمَسَحَ عَلَى رَأْسِي وَقَالَ : بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ ، أَشْهَدُ لَسَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : " أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ ، وَاكْسُوهُمْ مِمَّا تَكْتَسُونَ ، يَا ابْنَ أَخِي ، ذَهَابُ مَتَاعِ الدُّنْيَا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ مَتَاعِ الآخِرَةِ " ، قُلْتُ : أَيْ أَبَتَاهُ ، مَنْ هَذَا الرَّجُلُ ؟ قَالَ : أَبُو الْيَسَرِ بْنُ عَمْرٍو
পরিচ্ছেদঃ ৩০৯- মুসলিমদের খাদ্য-পানীয় ও তৈজসপত্র বিনা অনুমতিতে পরস্পরের ব্যবহার।
৭৪৪। মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ (রহঃ) বলেন, আমি আগেকার মহান ব্যক্তিদের (সাহাবীগণের) সাক্ষাৎ পেয়েছি। তারা একই বাড়িতে বেশ কয়েক পরিবার বাস করতেন। কখনো এমনও হতো যে, তাদের কোন পরিবারে মেহমান এসেছে এবং অপর পরিবারের চুলায় খাবার রান্না হচ্ছে। যে ঘরে মেহমান এসেছে সেই ঘরের মালিক তার মেহামানের জন্য চুলার উপর বসানো সেই খাবার নিয়ে যেতো। আর খাদ্যের মালিক পরিবার এসে দেখতো যে, তার রান্না করা খাদ্য পাতিলসহ উধাও। সে বলতো, পাতিল কে নিয়ে গেলো? মেহমান আপ্যায়নকারীগণ বলতো, আমরা আমাদের মেহমানের জন্য তা নিয়েছি। তখন পাতিল ভর্তি খাদ্যের মালিক বলতো, আল্লাহ তাতে তোমাদের বরকত দান করুন। রাবী বাকিয়্যা (রহঃ) বলেন, মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ (রহঃ) বলতেন, সদ্য প্রস্তুত রুটির ব্যাপারেও অনুরূপ ঘটনা ঘটতো। এই দুই পরিবারের মাঝখানে একটি নল-খাগড়ার বেড়া ছাড়া আর কিছুই ছিলো না। বাকিয়্যা (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ ও তার সাথীদের মধ্যেও এমন অবস্থা লক্ষ্য করেছি।
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ ، قَالَ : حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ ، قَالَ : " أَدْرَكْتُ السَّلَفَ ، وَإِنَّهُمْ لَيَكُونُونَ فِي الْمَنْزِلِ الْوَاحِدِ بِأَهَالِيهِمْ ، فَرُبَّمَا نَزَلَ عَلَى بَعْضِهُمُ الضَّيْفُ ، وَقِدْرُ أَحَدِهِمْ عَلَى النَّارِ ، فَيَأْخُذُهَا صَاحِبُ الضَّيْفِ لِضَيْفِهِ ، فَيَفْقِدُ الْقِدْرَ صَاحِبُهَا ، فَيَقُولُ : مَنْ أَخَذَ الْقِدْرَ ؟ فَيَقُولُ صَاحِبُ الضَّيْفِ : نَحْنُ أَخَذْنَاهَا لِضَيْفِنَا ، فَيَقُولُ صَاحِبُ الْقِدْرِ : بَارَكَ اللَّهُ لَكُمْ فِيهَا ، أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا ، قَالَ بَقِيَّةُ : وَقَالَ مُحَمَّدٌ : وَالْخُبْزُ إِذَا خَبَزُوا مِثْلُ ذَلِكَ ، وَلَيْسَ بَيْنَهُمْ إِلا جُدُرُ الْقَصَبِ ، قَالَ بَقِيَّةُ : وَأَدْرَكْتُ أَنَا ذَلِكَ : مُحَمَّدَ بْنَ زِيَادٍ وَأَصْحَابَهُ