অভাবীদেরকে ঘৃণা করা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَلا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ

তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে (সূরা আন‘আম ৬:৫২)।

.....................................................

ব্যাখ্যা: এ বিষয়ের দৃষ্টান্ত পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। জাহিলরা রসূলগণের অনুসরণ পরিত্যাগ করে। তাদের ধারণা, অভাবীরাই রসূলগণের অনুসরণ করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

قَالُوا أَنُؤْمِنُ لَكَ وَاتَّبَعَكَ الْأَرْذَلُونَ

তারা বলল, ‘আমরা কি তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করব, অথচ নিম্নশ্রেণীর লোকেরা তোমাকে অনুসরণ করছে? (সূরা আশ-শু‘আরা ২৬:১১১)।

অভাবী ও সমাজে যাদের কোন মর্যাদা নেই তারাই কেবল রসূলের অনুসরণ করে। এরূপ ধারণা পোষণ করাই জাহিলী দীনের রীতি। জাহিলরা অহংকার বশতঃ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন জানায় যে, ঐসব অভাবীরা যেন তার মজলিশে না বসে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আয়াত নাযিল করে বলেন,

(وَلا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ) [الأنعام :52]

আর তুমি তাড়িয়ে দিয়ো না তাদেরকে, যারা নিজ রবকে সকাল সন্ধ্যায় ডাকে, তারা তার সন্তুষ্টি চায়। তাদের কোন হিসাব তোমার উপর নেই এবং তোমার কোন হিসাব তাদের উপর নেই, ফলে তুমি তাদেরকে তাড়িয়ে দিবে এবং তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে (সূরা আন‘আম ৬:৫২)।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দিতেন, তাহলে তিনি যালেমদের অন্তর্ভুক্ত হতেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

(وَكَذَلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُمْ بِبَعْضٍ لِيَقُولُو أَهَؤُلاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْنِنَا أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآياتِنَا فَقُلْ سَلامٌ عَلَيْكُمْ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَى نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءاً بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ) [الأنعام :53،54]

আর এভাবেই আমি এককে অপর দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা বলে, ‘এরাই কি, আমাদের মধ্য থেকে যাদের উপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন? আল্লাহ কি কৃতজ্ঞদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত নয়? আর যারা আমার আয়াতসমূহের উপর ঈমান আনে, যখন তারা তোমার কাছে আসে, তখন তুমি বল, ‘তোমাদের উপর সালাম। তোমাদের রব তাঁর নিজের উপর লিখে নিয়েছেন দয়া, নিশ্চয় যে তোমাদের মধ্য থেকে না জেনে খারাপ কাজ করে তারপর তাওবা করে এরপরে শুধরে নেয়, তবে তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু (সূরা আন‘আম ৬: ৫৩,৫৪)।

যে হকের অনুসরণ করে, অভাবী হলেও সে আল্লাহ তা‘আলার নিকট তিনি সম্মানিত। যে ভালকাজের উপযুক্ত তার জন্য মজলিশে জায়গা করে দিতে হবে। আর যে হক্ব থেকে বিমুখ ও অহংকারী সে এ সম্মানের উপযুক্ত নয়। কেননা, সে নিজেই নিজেকে অপমানিত করেছে। তাই সে দুরিভূত, বরখাস্ত ও পরিত্যাজ্য।