আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা‘আতের আকীদা তিনি ক্বাদীম বা প্রাচীন ইমাম আবু জা‘ফর আহমাদ আত-ত্বহাবী রহ. ১ টি
তিনি ক্বাদীম বা প্রাচীন, যার কোনো শুরু নেই

৫। তিনি ক্বাদীম[1] বা প্রাচীন, যার কোনো শুরু নেই। তিনি অনন্ত, যার কোনো অন্ত নেই।

[1] ‘ক্বাদীম’ বা ‘প্রাচীন’ শব্দটি লেখক আল্লাহর জন্য ব্যবহার করেছেন। অথচ এ নামটি মহান আল্লাহর নাম হিসেবে কুরআন ও সুন্নায় আসেনি। যেমনটি এ ভাষ্যের বিখ্যাত ব্যাখ্যাকার ইবন আবিল ইয আল-হানাফী এবং অন্যান্যগণ সতর্ক করে জানিয়েছেন। এটা তো কেবল কালাম শাস্ত্রবিদরা উল্লেখ করেছে; তারা এর দ্বার মহান আল্লাহর অস্তিত্বকে সবকিছুর পূর্বে সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্য নিয়েছিলেন। তবে এটা অবশ্যই জানা প্রয়োজন যে, মহান আল্লাহর নামসমূহ অহীর মাধ্যমে জানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তাই সেগুলোকে অবশ্যই কুরআন ও হাদীসের ভাষ্যের মাধ্যমেই সাব্যস্ত করা যাবে। অন্য কিছু দ্বারা সাব্যস্ত করা জায়েয নেই। কোনো প্রকার বিবেকের মত প্রদানের মাধ্যমে তা সাব্যস্ত করা বৈধ নয়, যেমনটি সালাফে সালেহীন তথা সঠিক পূর্বসুরী আলেমগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন।

তাছাড়া ‘কাদীম’ বা প্রাচীন শব্দটিকে কালাম শাস্ত্রবিদরা যে অর্থে ব্যবহার করেছে বাস্তবে সেটি উক্ত অর্থ প্রকাশ করে না। কারণ আরবী ভাষায় ‘কাদীম’ বলা হয় যা কোনো কিছুর পূর্বে হয়, যদিও পূর্বে তা অস্তিত্বহীন বিষয় হোক না কেন। যেমন, আল্লাহর বাণী:

﴿حَتَّىٰ عَادَ كَٱلۡعُرۡجُونِ ٱلۡقَدِيمِ﴾ [يس: ٣٩] 

“অবশেষে সে চাঁদ শুষ্ক বাঁকা, পুরোনো খেজুর শাখার আকারে ফিরে যায়।” [সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৩৯] তবে গ্রন্থকারের পরবর্তী কথা ‘যার কোনো শুরু নেই’ এর দ্বারা বিশুদ্ধ অর্থ নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে। তারপরও এটাকে আল্লাহর নাম হিসেব গণ্য করা যাবে না। কারণ, কুরআন বা হাদীসে সেটা নাম হিসেবে সাব্যস্ত হয়নি। তার বদলে আল্লাহর ‘আল-আউয়াল’ (সর্বপ্রথম) নামটিই যথেষ্ট। যেমন, মহান আল্লাহ বলেন,

﴿هُوَ ٱلۡأَوَّلُ وَٱلۡأٓخِرُ﴾ [الحديد: ٣] 

“তিনিই প্রথম আর তিনিই শেষ”। [সূরা আল-হাদীদ, আয়াত: ৩] আল্লাহই তাওফীকদাতা। [ই.বা.]

দেখানো হচ্ছেঃ থেকে ১ পর্যন্ত, সর্বমোট ১ টি রেকর্ডের মধ্য থেকে