← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
ইসলাম মিলাদ কিয়াম এর ব্যাপারে কি বলে
২৭ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

অনুসন্ধান ফলাফল অনুসারে, ইসলামে মিলাদ বা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন পালন এবং এই উপলক্ষে কিয়াম করা একটি বিদআত (দ্বীনে নব উদ্ভাবন) এবং শরীয়ত বিরোধী কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর সপক্ষে কোনো শরয়ী প্রমাণ নেই এবং এটি রাসূল (ﷺ), তাঁর সাহাবী, তাবেয়ী বা শ্রেষ্ঠ যুগের আলেমদের দ্বারা পালিত হয়নি — ফির্‌কাহ নাজিয়া

এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. এটি একটি বিদআত (নব উদ্ভাবন)


মিলাদ পালনকে নিছক সাধারণ অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হয় না, বরং যারা এটি পালন করেন তারা এটিকে একটি "ধর্মীয় ঈদ বা উৎসব" মনে করেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তা পালন করে থাকেন — ইসলাম কিউ এ ফতোয়া সমগ্র। ইসলামী শরীয়তের একটি মূলনীতি হলো, ইবাদতের ক্ষেত্রে কোনো কিছু নতুন করে সংযোজন করা বিদআত। যদি মিলাদ উদযাপন করা দ্বীনের অংশ হতো, তবে নবী (ﷺ) নিজে তা করতেন বা তাঁর উম্মতকে করতে বলতেন এবং তা কুরআন বা হাদিসে সংরক্ষিত থাকত — ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর অনুসরণের বাইরে কোনো কাজে কল্যাণ আছে বলে বিশ্বাস করা ঈমান বিধ্বংসী হতে পারে। তাঁর শিক্ষার বাইরে বা অতিরিক্ত কোনো পদ্ধতিতে আল্লাহর ইবাদত করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না — কুরআন-সুন্নাহর আলোকে ইসলামী আকীদা

২. ঐতিহাসিক ভিত্তিহীনতা ও অন্যদের অনুকরণ


* জন্ম তারিখ নিয়ে মতভেদ: নবী (ﷺ)-এর সঠিক জন্ম তারিখ কোনটি, তা নিয়ে অকাট্য কোনো প্রমাণ নেই। একটি মতে, তিনি রবিউল আউয়াল মাসের ৯ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন, প্রচলিত ১২ তারিখে নয়। সুতরাং ১২ রবিউল আউয়াল তারিখকে কেন্দ্র করে এই উদযাপন ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকেও ভিত্তিহীন — ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
* খ্রিষ্টানদের অনুকরণ: রবীউল আউয়াল মাসে নবী (ﷺ)-এর জন্মদিবস উপলক্ষে মীলাদ মাহফিল উদযাপন করা মূলত অমুসলিম, বিশেষ করে খ্রিষ্টানদের অনুকরণ থেকে এসেছে। খ্রিষ্টানরা যেভাবে ঈসা (আঃ)-এর জন্মদিবস উদযাপন করে, তাদের অন্ধ অনুসরণ করেই মুসলিমদের মধ্যে এই প্রথা চালু হয়েছে — আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী

৩. শিরক ও অন্যান্য গর্হিত কাজ


মীলাদের অনুষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই বিভিন্ন প্রকার শিরক ও পাপাচার হয়ে থাকে।
* বাড়াবাড়ি ও শিরকি কবিতা: এসব অনুষ্ঠানে এমন কিছু কবিতা বা নাত আবৃত্তি করা হয়, যেখানে রাসূল (ﷺ)-এর প্রশংসায় এমন বাড়াবাড়ি করা হয় যা শিরকের পর্যায়ে চলে যায়। যেমন, আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দোয়া করা বা আশ্রয় প্রার্থনা করা — আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী
* শিরকের উদাহরণ: অনেক সময় মীলাদ অনুষ্ঠানে এমন কথা বলা হয়, যা শির্কে আকবর (বড় শিরক) হিসেবে গণ্য। যেমন:
> "হে আল্লাহর রসূল! মদদ ও সাহায্য।"
> "হে আল্লাহর রসূল! আপনার উপরেই আমার ভরসা।"
> "হে আল্লাহর রসূ! আমাদের সঙ্কট দূর করুন, সঙ্কট তো আপনাকে দেখলেই সরে পড়ে!!"
এগুলো শির্ক, কারণ সাহায্য, মদদ, ভরসা এবং সঙ্কট দূর করার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তাআলার — ফির্‌কাহ নাজিয়া

সুতরাং, অনুসন্ধান ফলাফল অনুযায়ী মিলাদ ও কিয়াম পালন করা ইসলামে অনুমোদিত নয়, বরং এটি একটি পরিত্যাজ্য বিদআত। যারা এই বিদআত পরিহার করে, তাদের উচিত অন্যদের কথায় ভ্রুক্ষেপ না করে ধৈর্যধারণ করা — ইসলাম কিউ এ ফতোয়া সমগ্র

আর সমস্ত বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই অধিক জ্ঞাত।
টাকনুর নিছে কাপড় পড়ার হাদিস মেয়েদের চুল টাক করার বিধান