← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
মাকরুহ কি
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
"মাকরুহ" শব্দটি দ্বারা এমন কাজ বোঝানো হয় যা ইসলামী শরীয়তে অপছন্দনীয়। যদিও এটি হারাম বা নিষিদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না, তবে তা থেকে বিরত থাকাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। hadithbd.com-এ উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন কাজকে মাকরুহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীদের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে মাকরুহ কাজের উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন, এক হাদিসে এসেছে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরজায় করাঘাত করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, "কে?" জাবির (রাঃ) উত্তর দেন, "আমি"। উত্তরে নবী (ﷺ) বলেন, "আমি, আমি", যা থেকে বোঝা যায় তিনি এই উত্তরটি অপছন্দ করেছেন। এ থেকে অনুমতি চাওয়ার সময় নিজের পরিচয় না দিয়ে শুধু "আমি" বলাকে মাকরুহ হিসেবে গণ্য করা হয় — আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিস ১৩৯২ (সহীহ)।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাকরুহ কাজের কিছু উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
* নামাজের সময়: ফযরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত অন্য কোনো নফল নামায আদায় করা মাকরুহ — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১৮৩ (সহীহ)। সাহাবী ও তাবিঈগণ আসরের সালাত দেরি করে আদায় করাকেও মাকরুহ মনে করতেন — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ১৫৯ (সহীহ)।
* খুতবার সময়: জুমুআর দিনে ইমামের খুতবা চলাকালে কথা বলা মাকরুহ। এমনকি অন্যকে "চুপ কর" বলাও অকারণে কথা বলার শামিল — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৫১২ (সহীহ)।
* পবিত্রতা: কিছু ফিকহবিদ মহিলাদের ওযু বা গোসলের পর বেঁচে যাওয়া পানি পুরুষদের জন্য ব্যবহার করাকে মাকরুহ বলেছেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৬৩ (সহীহ)।
* হজ্জের সময়: জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপের সময় লোকদের মারপিট করা বা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া মাকরুহ — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৯০৫ (সহীহ)।
* সাদা চুল: মাথা ও দাড়ির সাদা চুল বা কেশ উপড়ে ফেলা মাকরুহ — সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫৮৬৮ (সহীহ)।
* সুগন্ধি: কেউ ফুল বা সুগন্ধি হাদিয়া দিলে তা প্রত্যাখ্যান করা মাকরুহ — সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস ৫৭৭৭ (সহীহ)।
* ঈদের মাঠে মহিলাদের যাওয়া: একদল বিদ্বান মহিলাদের ঈদের মাঠে যাওয়াকে মাকরুহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বলেছেন, যদি কোনো মহিলা যেতেই চায়, তবে তাকে পুরোনো কাপড়ে এবং সাজসজ্জা ছাড়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৫৪০ (সহীহ)।
* ব্যবসা-বাণিজ্য: কোনো জিনিস, বিশেষ করে খাদ্যশস্য, কিনে তা নিজের হস্তগত করার আগে পুনরায় বিক্রয় করাকে অধিকাংশ আলেম মাকরুহ বলেছেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১২৯১ (সহীহ)।
* গনীমতের মাল: গনীমতের মাল হিসেবে পাওয়া উট বা বকরী বণ্টনের আগে যবেহ করা মাকরুহ — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ২৮৫৮ (সহীহ)।
* সাক্ষ্যদান: অসিয়তনামায় কী লেখা আছে তা না জেনে তার সাক্ষী হওয়াকে হাসান ও আবু কিলাবা (রহঃ) মাকরুহ মনে করতেন, কারণ এতে কারো প্রতি অবিচার করা হতে পারে — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৬৬৭৬ (সহিহ)।
* জানাযা ও দাফন: ইবনু আব্বাস (রাঃ) কবরে লাশের নিচে কোনো কাপড় বিছিয়ে দেওয়াকে মাকরুহ মনে করতেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১০৪৮ (সহীহ)।
উল্লেখ্য, কিছু বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন, কিছু বিদ্বান নামাযের মধ্যে সাপ-বিছা মারাকে মাকরুহ বলেছেন, যদিও হাদিসে এর অনুমতি রয়েছে — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৩৯০ (সহীহ)।
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।
"মাকরুহ" শব্দটি দ্বারা এমন কাজ বোঝানো হয় যা ইসলামী শরীয়তে অপছন্দনীয়। যদিও এটি হারাম বা নিষিদ্ধের পর্যায়ে পড়ে না, তবে তা থেকে বিরত থাকাকে উৎসাহিত করা হয়েছে। hadithbd.com-এ উপলব্ধ তথ্য অনুসারে, বিভিন্ন কাজকে মাকরুহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীদের বিভিন্ন বর্ণনা থেকে মাকরুহ কাজের উদাহরণ পাওয়া যায়। যেমন, এক হাদিসে এসেছে, জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরজায় করাঘাত করলে তিনি জিজ্ঞেস করেন, "কে?" জাবির (রাঃ) উত্তর দেন, "আমি"। উত্তরে নবী (ﷺ) বলেন, "আমি, আমি", যা থেকে বোঝা যায় তিনি এই উত্তরটি অপছন্দ করেছেন। এ থেকে অনুমতি চাওয়ার সময় নিজের পরিচয় না দিয়ে শুধু "আমি" বলাকে মাকরুহ হিসেবে গণ্য করা হয় — আল-লুলু ওয়াল মারজান, হাদিস ১৩৯২ (সহীহ)।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাকরুহ কাজের কিছু উদাহরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
ইবাদত সম্পর্কিত মাকরুহ কাজ
* নামাজের সময়: ফযরের নামাযের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের নামাযের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত অন্য কোনো নফল নামায আদায় করা মাকরুহ — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১৮৩ (সহীহ)। সাহাবী ও তাবিঈগণ আসরের সালাত দেরি করে আদায় করাকেও মাকরুহ মনে করতেন — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ১৫৯ (সহীহ)।
* খুতবার সময়: জুমুআর দিনে ইমামের খুতবা চলাকালে কথা বলা মাকরুহ। এমনকি অন্যকে "চুপ কর" বলাও অকারণে কথা বলার শামিল — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৫১২ (সহীহ)।
* পবিত্রতা: কিছু ফিকহবিদ মহিলাদের ওযু বা গোসলের পর বেঁচে যাওয়া পানি পুরুষদের জন্য ব্যবহার করাকে মাকরুহ বলেছেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৬৩ (সহীহ)।
* হজ্জের সময়: জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপের সময় লোকদের মারপিট করা বা ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া মাকরুহ — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৯০৫ (সহীহ)।
আচার-ব্যবহার ও সামাজিকতা
* সাদা চুল: মাথা ও দাড়ির সাদা চুল বা কেশ উপড়ে ফেলা মাকরুহ — সহীহ মুসলিম (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫৮৬৮ (সহীহ)।
* সুগন্ধি: কেউ ফুল বা সুগন্ধি হাদিয়া দিলে তা প্রত্যাখ্যান করা মাকরুহ — সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস ৫৭৭৭ (সহীহ)।
* ঈদের মাঠে মহিলাদের যাওয়া: একদল বিদ্বান মহিলাদের ঈদের মাঠে যাওয়াকে মাকরুহ বলেছেন। ইবনুল মুবারাক (রহঃ) বলেছেন, যদি কোনো মহিলা যেতেই চায়, তবে তাকে পুরোনো কাপড়ে এবং সাজসজ্জা ছাড়া যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৫৪০ (সহীহ)।
ক্রয়-বিক্রয় ও অন্যান্য বিষয়
* ব্যবসা-বাণিজ্য: কোনো জিনিস, বিশেষ করে খাদ্যশস্য, কিনে তা নিজের হস্তগত করার আগে পুনরায় বিক্রয় করাকে অধিকাংশ আলেম মাকরুহ বলেছেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১২৯১ (সহীহ)।
* গনীমতের মাল: গনীমতের মাল হিসেবে পাওয়া উট বা বকরী বণ্টনের আগে যবেহ করা মাকরুহ — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ২৮৫৮ (সহীহ)।
* সাক্ষ্যদান: অসিয়তনামায় কী লেখা আছে তা না জেনে তার সাক্ষী হওয়াকে হাসান ও আবু কিলাবা (রহঃ) মাকরুহ মনে করতেন, কারণ এতে কারো প্রতি অবিচার করা হতে পারে — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৬৬৭৬ (সহিহ)।
* জানাযা ও দাফন: ইবনু আব্বাস (রাঃ) কবরে লাশের নিচে কোনো কাপড় বিছিয়ে দেওয়াকে মাকরুহ মনে করতেন — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ১০৪৮ (সহীহ)।
উল্লেখ্য, কিছু বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। যেমন, কিছু বিদ্বান নামাযের মধ্যে সাপ-বিছা মারাকে মাকরুহ বলেছেন, যদিও হাদিসে এর অনুমতি রয়েছে — সুনান আত তিরমিজী (তাহকীককৃত), হাদিস ৩৯০ (সহীহ)।
আর সব বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন।