সূরাঃ ৭৮/ আন-নাবা | An-Naba' | ٱلنَّبَ আয়াতঃ ৪০ মাক্কী
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭৮ : ১ عَمَّ یَتَسَآءَلُوۡنَ ۚ﴿۱﴾

কোন্ বিষয় সম্পর্কে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করছে ? আল-বায়ান

লোকেরা কোন বিষয়ে একে অন্যের কাছে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? তাইসিরুল

তারা পরস্পর কোন্ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? মুজিবুর রহমান

About what are they asking one another? Sahih International

১. তারা একে অন্যের কাছে কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১। তারা আপোসে কোন্ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে?[1]

[1] রসূল (সাঃ) যখন নবুঅতপ্রাপ্ত হলেন, তখন তিনি তাওহীদ, কিয়ামত ইত্যাদির কথা বয়ান করতে লাগলেন এবং কুরআন মাজীদ তিলাঅত করে শুনালেন, সেই সময় কাফের ও মুশরিকরা আপোসে জিজ্ঞাসা করতে লাগল যে, কিয়ামত কি সত্যিকারে ঘটবে -- যেমন এই লোকটি দাবী করছে? অথবা এই কুরআন কি সত্যিকারে আল্লাহর তরফ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছে -- যেমন মুহাম্মাদ বলছে? প্রশ্নবাচক শব্দ দ্বারা আল্লাহ প্রথমে সেই সমস্ত জিনিসের সেই মহত্ত্ব প্রকাশ করেছেন, যা তার আছে। অতঃপর তিনি নিজেই এর উত্তর দিয়েছেন যে,-------।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ২ عَنِ النَّبَاِ الۡعَظِیۡمِ ۙ﴿۲﴾

মহাসংবাদটি সম্পর্কে, আল-বায়ান

(ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার) সেই মহা সংবাদের বিষয়ে, তাইসিরুল

সেই মহান সংবাদ সম্বন্ধে – মুজিবুর রহমান

About the great news - Sahih International

২. মহাসংবাদটির বিষয়ে(১),

(১) অর্থাৎ তারা কি বিষয়ে পরস্পরে জিজ্ঞাসাবাদ করছে? অতঃপর আল্লাহ নিজেই উত্তর দিয়েছেন যে, মহাখবর সম্পর্কে। তাফসীরবিদ মুজাহিদ বলেন, এখানে মহাখবর বলে কুরআনকে উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। কাতাদাহ বলেন, এখানে মহাখবর বলে কেয়ামত বোঝানো হয়েছে। এখানে এটাই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২। সেই মহা সংবাদ বিষয়ে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৩ الَّذِیۡ هُمۡ فِیۡهِ مُخۡتَلِفُوۡنَ ؕ﴿۳﴾

যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে। আল-বায়ান

যে বিষয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য আছে। তাইসিরুল

যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করে থাকে! মুজিবুর রহমান

That over which they are in disagreement. Sahih International

৩. যে বিষয়ে তারা মতানৈক্য করছে।(১)

(১) আয়াতের আরেকটি অর্থ হচ্ছেঃ “এ ব্যাপারে তারা নানা ধরনের কথা বলছে ও ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে ফিরছে।” অন্য অর্থ এও হতে পারে, দুনিয়ার পরিণাম সম্পর্কে তারা নিজেরাও কোন একটি অভিন্ন আকীদা পোষণ করে না বরং “তাদের মধ্যে এ ব্যাপারে বিভিন্ন মত পাওয়া যায়।” কেউ কেউ আবার আখেরাত পুরোপুরি অস্বীকার করতো না, তবে তা ঘটতে পারে কিনা, এ ব্যাপারে তাদের সন্দেহ ছিল। কুরআন মজীদে এ ধরনের লোকদের এ উক্তি উদ্ধৃত করা হয়েছে, “আমরা তো মাত্র একটি ধারণাই পোষণ করি, আমাদের কোন নিশ্চিত বিশ্বাস নেই।” [সূরা আল-জাসিয়াহঃ ৩২] আবার কেউ কেউ একদম পরিষ্কার বলতে, “আমাদের এ দুনিয়ার জীবনটিই সবকিছু এবং মরার পর আমাদের আর কখনো দ্বিতীয়বার উঠানো হবে না।” [সূরা আল-আন’আম: ২৯]; “আমাদের এই দুনিয়ার জীবনটিই সব কিছু। এখানেই আমরা মরি, এখানেই জীবন লাভ করি এবং সময়ের চক্র ছাড়া আর কিছুই নেই যা আমাদের ধ্বংস করে।” [সূরা আল-জাসিয়াহ: ২৪] [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

৩। যে বিষয়ে তারা মতবিরোধী![1]

[1] অর্থাৎ, যে ‘মহা সংবাদ’ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে সেই বিষয়েই ঐ জিজ্ঞাসাবাদ। কারো কারো মতে এই ‘মহা সংবাদ’-এর উদ্দেশ্য হল, পবিত্র কুরআন। কেননা, কাফেররা এ ব্যাপারে বিভিন্ন মন্তব্য করত। কেউ তাকে যাদু, কেউ জ্যোতিষীর কথা, কেউ কবিদের কাব্য, কেউ বা আবার পূর্বযুগের উপাখ্যান বলে অভিহিত করত। অনেকের মতে এর উদ্দেশ্য হল, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং পুনর্বার জীবিত হওয়ার সংবাদ। কেননা, এ ব্যাপারেও তাদের মাঝে কিছু মতভেদ ছিল। কেউ তো একেবারেই তা অস্বীকার করত। আবার কেউ তাতে সন্দেহ পোষণ করত। কোন কোন আলেম বলেন, জিজ্ঞাসাকারী মু’মিন-কাফের উভয়ই ছিল। মু’মিনদের জিজ্ঞাসা তাদের ঈমান এবং অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ছিল। আর কাফেরদের জিজ্ঞাসা ছিল ঠাট্টা-ব্যঙ্গ ও উপহাসস্বরূপ।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৪ كَلَّا سَیَعۡلَمُوۡنَ ۙ﴿۴﴾

কখনো না, অচিরেই তারা জানতে পারবে। আল-বায়ান

কক্ষনো না, (তারা যা ধারণা করে তা একেবারে, অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। তাইসিরুল

কখনই না, তাদের ধারণা অবাস্তব, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। মুজিবুর রহমান

No! They are going to know. Sahih International

৪. কখনো না(১), তারা অচিরেই জানতে পারবে;

(১) অর্থাৎ আখেরাত সম্পর্কে যেসব কথা এরা বলে যাচ্ছে এগুলো সবই ভুল। এরা যা কিছু মনে করেছে ও বুঝেছে তা কোনক্রমেই সঠিক নয়। [মুয়াসসার]

তাফসীরে জাকারিয়া

৪। কখনই না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৫ ثُمَّ كَلَّا سَیَعۡلَمُوۡنَ ﴿۵﴾

তারপর কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে। আল-বায়ান

আবার বলছি, কক্ষনো না (তাদের ধারণা একেবারে অলীক ও অবাস্তব), তারা শীঘ্রই জানতে পারবে। তাইসিরুল

আবার বলি, কখনই না, তারা অচিরেই অবগত হবে। মুজিবুর রহমান

Then, no! They are going to know. Sahih International

৫. তারপর বলি কখনো না, তারা অচিরেই জানতে পারবে।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৫। আবার বলি, কখনই না, তারা শীঘ্রই জানতে পারবে।[1]

[1] এটা হল ধমক ও তিরস্কার যে, অতি সত্বর সব কিছু জানতে পারবে। আগামীতে আল্লাহ তাআলা স্বীয় কর্মকুশলতা এবং মহা কুদরতের কথা উল্লেখ করছেন; যাতে তাওহীদের প্রকৃতত্ব তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং আল্লাহর রসূল (সাঃ) তাদেরকে যে বিষয়ের প্রতি আহবান জানাচ্ছিলেন তার প্রতি ঈমান আনা সহজ হয়ে যায়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৬ اَلَمۡ نَجۡعَلِ الۡاَرۡضَ مِهٰدًا ۙ﴿۶﴾

আমি কি বানাইনি যমীনকে শয্যা? আল-বায়ান

(আমি যে সব কিছুকে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে সক্ষম তা তোমরা অস্বীকার করছ কীভাবে) আমি কি যমীনকে (তোমাদের জন্য) শয্যা বানাইনি? তাইসিরুল

আমি কি পৃথিবীকে শয্যা (রূপে) নির্মাণ করিনি? মুজিবুর রহমান

Have We not made the earth a resting place? Sahih International

৬. আমরা কি করিনি যমীনকে শয্যা

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৬। আমি কি পৃথিবীকে শয্যা (স্বরূপ) সৃষ্টি করিনি? [1]

[1] অর্থাৎ, বিছানার মত তোমরা ভূপৃষ্ঠের উপর চলা-ফেরা কর, উঠা-বসা কর, শয়ন কর এবং সমস্ত কাজ-কর্ম করে থাক। পৃথিবীকে তিনি বিক্ষিপ্তভাবে হেলা-দোলা থেকে রক্ষা করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৭ وَّ الۡجِبَالَ اَوۡتَادًا ﴿۪ۙ۷﴾

আর পর্বতসমূহকে পেরেক? আল-বায়ান

আর পর্বতগুলোকে কীলক (বানাইনি)? তাইসিরুল

এবং পর্বতসমূহকে কীলক রূপে নির্মাণ করিনি? মুজিবুর রহমান

And the mountains as stakes? Sahih International

৭. আর পর্বতসমূহকে পেরেক?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৭। এবং পর্বতসমূহকে পেরেক (স্বরূপ সৃষ্টি করিনি?)[1]

[1] أوتاد শব্দটি وتد-এর বহুবচন; আর তার অর্থ পেরেক। অর্থাৎ, পর্বতসমূহকে পৃথিবীর জন্য পেরেকস্বরূপ সৃষ্টি করেছেন; যাতে পৃথিবী স্থির থাকে এবং হেলা-দোলা না করে। কেননা, হেলা-দোলা ও বিক্ষিপ্ত অস্থিরতার অবস্থায় পৃথিবী বাসযোগ্য হতো না। (প্রকাশ থাকে যে, ভূগর্ভে কীলক বা পেরেকের মতই পর্বতমালার মূল বা শিকড় গাড়া আছে; যা ভূপৃষ্ঠের উচ্চতা থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ গুণ বেশী দীর্ঘ! -সম্পাদক)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৮ وَّ خَلَقۡنٰكُمۡ اَزۡوَاجًا ۙ﴿۸﴾

আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়। আল-বায়ান

আর আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়। তাইসিরুল

আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায়। মুজিবুর রহমান

And We created you in pairs Sahih International

৮. আর আমরা সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায়,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

৮। আমি সৃষ্টি করেছি তোমাদেরকে জোড়ায় জোড়ায়।[1]

[1] অর্থাৎ,পুরুষ ও স্ত্রী, নর ও নারী। অথবা أزواج -এর অর্থ হল নানা ধরন ও রঙ। অর্থাৎ, তিনি বিচিত্র ধরনের আকার-আকৃতি ও রঙে-বর্ণে সৃষ্টি করেছেন। সুশ্রী-কুশ্রী, লম্বা-বেঁটে, গৌরবর্ণ-কৃষ্ণবর্ণ ইত্যাদি বিভিন্ন বৈচিত্রে সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ৯ وَّ جَعَلۡنَا نَوۡمَكُمۡ سُبَاتًا ۙ﴿۹﴾

আর আমি তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রাম। আল-বায়ান

আর তোমাদের নিদ্রাকে করেছি বিশ্রামদায়ী। তাইসিরুল

তোমাদের জন্য নিদ্রাকে করে দিয়েছি বিশ্রাম, মুজিবুর রহমান

And made your sleep [a means for] rest Sahih International

৯. আর তোমাদের ঘুমকে করেছি বিশ্ৰাম(১),

(১) মানুষকে দুনিয়ায় কাজ করার যোগ্য করার জন্য মহান আল্লাহ অত্যন্ত কর্মকুশলতা সহকারে তার প্রকৃতিতে ঘুমের এক চাহিদা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কর্মের ক্লান্তির পর ঘুম তাকে স্বস্তি, আরাম ও শান্তি দান করে। [সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

৯। তোমাদের নিদ্রাকে করে দিয়েছি বিশ্রাম স্বরূপ। [1]

[1] سبات -এর অর্থ হল ছিন্ন করা বা কাটা। রাত্রি মানুষ ও পশু-পক্ষীর যাবতীয় বিচরণকে কেটে ক্ষান্ত করে দেয়। যাতে শান্তি ফিরে আসে এবং লোকে আরামের সাথে ঘুমাতে পারে। কিংবা এর ভাবার্থ হল এই যে, রাত্রি তোমাদের কাজকর্মকে কেটে ফেলে। অর্থাৎ, কাজের ধারাবাহিকতাকে ছিন্ন করে দেয়। আর কাজ শেষ হওয়া মানেই হল আরাম ও বিশ্রাম।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১০ وَّ جَعَلۡنَا الَّیۡلَ لِبَاسًا ﴿ۙ۱۰﴾

আর আমি রাতকে করেছি আবরণ। আল-বায়ান

রাতকে করেছি আবরণ, তাইসিরুল

করেছি রজনীকে আবরণ, মুজিবুর রহমান

And made the night as clothing Sahih International

১০. আর করেছি রাতকে আবরণ,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১০। রাত্রিকে করেছি আবরণ স্বরূপ। [1]

[1] অর্থাৎ, রাতের অন্ধকার এবং কালো বর্ণ প্রতিটি জিনিসকে নিজের আঁচলে আবৃত ও গোপন করে নেয়। যেমনভাবে, আবরণ বা পোষাক-পরিচ্ছদ মানুষের দেহকে আবৃত ও গোপন করে নেয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১১ وَّ جَعَلۡنَا النَّهَارَ مَعَاشًا ﴿۪۱۱﴾

আর আমি দিনকে করেছি জীবিকার্জনের সময়। আল-বায়ান

আর দিনকে করেছি জীবিকা সংগ্রহের মাধ্যম। তাইসিরুল

এবং করেছি দিনকে জীবিকা আহরণের জন্য (উপযোগী)। মুজিবুর রহমান

And made the day for livelihood Sahih International

১১. আর করেছি দিনকে জীবিকা আহরণের সময়,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১১। এবং দিবসকে করেছি জীবিকা অন্বেষণের উপযোগী। [1]

[1] উদ্দেশ্য হল যে, তিনি দিনকে উজ্জ্বলময় বানিয়েছেন; যাতে লোকেরা জীবিকা ও রুযী অন্বেষণের জন্য চেষ্টা ও পরিশ্রম করতে পারে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১২ وَّ بَنَیۡنَا فَوۡقَكُمۡ سَبۡعًا شِدَادًا ﴿ۙ۱۲﴾

আর আমি তোমাদের উপরে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ। আল-বায়ান

আর তোমাদের উর্ধ্বদেশে বানিয়েছি সাতটি সুদৃঢ় আকাশ। তাইসিরুল

আর নির্মাণ করেছি তোমাদের উর্ধ্বদেশে সুদৃঢ় সপ্ত আকাশ, মুজিবুর রহমান

And constructed above you seven strong [heavens] Sahih International

১২. আর আমরা নির্মাণ করেছি তোমাদের উপরে সুদৃঢ় সাত আকাশ(১)

(১) সুস্থিত ও মজবুত বলা হয়েছে এ অর্থে যে, আকাশ তৈরি হয়েছে অত্যন্ত দৃঢ়-সংঘবদ্ধভাবে, তার মধ্যে সামান্যতম পরিবর্তনও কখনো হয় না, ধ্বংস হয় না, ফেটে যায় না। [তাবারী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১২। আর নির্মাণ করেছি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশে সুদৃঢ় সপ্ত আকাশ।[1]

[1] এদের প্রতিটির মাঝে পাঁচ শত বছরের পথের দূরত্ব আছে। যা এসবের মজবুতি প্রমাণ করে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৩ وَّ جَعَلۡنَا سِرَاجًا وَّهَّاجًا ﴿۪ۙ۱۳﴾

আর আমি সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল একটি প্রদীপ। আল-বায়ান

এবং সৃষ্টি করেছি উজ্জ্বল প্রদীপ। তাইসিরুল

এবং সৃষ্টি করেছি একটি প্রদীপ্ত প্রদীপ। মুজিবুর রহমান

And made [therein] a burning lamp Sahih International

১৩. আর আমরা সৃষ্টি করেছি প্রোজ্জ্বল দীপ।(১)

(১) এখানে সূর্যকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যা সমগ্ৰ পৃথিবীর মানুষের জন্য প্রজ্জ্বলিত প্ৰদীপ। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৩। এবং সৃষ্টি করেছি একটি প্রদীপ্ত প্রদীপ (সূর্য)। [1]

[1] প্রদীপ্ত প্রদীপ বলে উদ্দেশ্য হল সূর্য। এখানে جعل অর্থ হল خلق। অর্থাৎ, তিনি সৃষ্টি করেছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৪ وَّ اَنۡزَلۡنَا مِنَ الۡمُعۡصِرٰتِ مَآءً ثَجَّاجًا ﴿ۙ۱۴﴾

আর আমি মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি বর্ষণ করেছি। আল-বায়ান

আর আমি বর্ষণ করি বৃষ্টিবাহী মেঘমালা থেকে প্রচুর পানি, তাইসিরুল

আর বর্ষণ করেছি মেঘ হতে প্রচুর বৃষ্টি। মুজিবুর রহমান

And sent down, from the rain clouds, pouring water Sahih International

১৪. আর আমরা বর্ষণ করেছি মেঘমালা হতে প্রচুর বারি(১),

(১) معصرات শব্দটি معصرة এর বহুবচন। এর অর্থ জলে পরিপূর্ণ মেঘমালা। [তাবারী]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৪। আর বর্ষণ করেছি পানিপূর্ণ মেঘমালা হতে প্রচুর পানি। [1]

[1] معصرات সেই মেঘসমূহ যা পানি দ্বারা পরিপূর্ণ থাকে, কিন্তু যা এখনো বর্ষণ করেনি। যেমন, المرأة المعتصرة সেই নারীকে বলা হয়, যার মাসিক (ঋতুর) সময় ঘনিয়ে এসেছে। ثجاجًا অর্থ হল অতিরিক্তভাবে প্রবাহিত হয়ে যায় এমন পানি।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৫ لِّنُخۡرِجَ بِهٖ حَبًّا وَّ نَبَاتًا ﴿ۙ۱۵﴾

যাতে তা দিয়ে আমি শস্য ও উদ্ভিদ উৎপন্ন করতে পারি। আল-বায়ান

যাতে আমি তা দিয়ে উৎপন্ন করি শস্য ও উদ্ভিদ, তাইসিরুল

তদ্বারা আমি উদ‌্গত করি শস্য ও উদ্ভিদ, মুজিবুর রহমান

That We may bring forth thereby grain and vegetation Sahih International

১৫. যাতে তা দ্বারা আমরা উৎপন্ন করি শস্য, উদ্ভিদ,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫। যাতে তা দিয়ে আমি উদ্‌গত করি শস্য ও উদ্ভিদ। [1]

[1] حب (শস্য) হল সেই সকল ফসল, যা খোরাকের জন্য গুদামজাত করে রাখা যায়; যেমন, গম, ধান, যব, ভুট্টা ইত্যাদি। আর نبات বা উদ্ভিদ হল শাক-সবজি এবং ঘাস-পাতা ইত্যাদি যা পশুতে ভক্ষণ করে থাকে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৬ وَّ جَنّٰتٍ اَلۡفَافًا ﴿ؕ۱۶﴾

আর ঘন উদ্যানসমূহ। আল-বায়ান

আর ঘন উদ্যান। তাইসিরুল

এবং বৃক্ষরাজি বিজড়িত উদ্যানসমূহ। মুজিবুর রহমান

And gardens of entwined growth. Sahih International

১৬. ও ঘন সন্নিবিষ্ট উদ্যান।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

১৬। এবং ঘন সন্নিবিষ্ট উদ্যানসমূহ। [1]

[1] ألفافًا অধিক ডাল-পালার কারণে এক অপরের সাথে মিলে যাওয়া গাছ-পালা অর্থাৎ, সঘন বাগান।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৭ اِنَّ یَوۡمَ الۡفَصۡلِ كَانَ مِیۡقَاتًا ﴿ۙ۱۷﴾

নিশ্চয় ফয়সালার দিন নির্ধারিত আছে। আল-বায়ান

নিশ্চয়ই নির্ধারিত আছে মীমাংসার দিন, তাইসিরুল

নিশ্চয়ই নির্ধারিত আছে মীমাংসা দিন। মুজিবুর রহমান

Indeed, the Day of Judgement is an appointed time - Sahih International

১৭. নিশ্চয় নির্ধারিত আছে বিচার দিন(১);

(১) অর্থাৎ যে দিন মহান আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সৃষ্টির মাঝে বিচার-মীমাংসা করবেন সে দিন তথা কেয়ামত নির্দিষ্ট সময়েই আসবে। [মুয়াস্‌সার]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭। নিশ্চয়ই নির্ধারিত আছে ফায়সালার দিবস; [1]

[1] অর্থাৎ, পূর্বেকার এবং শেষকার সবারই জমা হবার এবং ওয়াদার দিন। তাকে ‘ফায়সালার দিবস’ এই জন্য বলা হয়েছে যে, সেই দিনে জমা হওয়ার উদ্দেশ্যই হল সমস্ত মানুষের আমলানুযায়ী ফায়সালা করা হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৮ یَّوۡمَ یُنۡفَخُ فِی الصُّوۡرِ فَتَاۡتُوۡنَ اَفۡوَاجًا ﴿ۙ۱۸﴾

সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন তোমরা দলে দলে আসবে। আল-বায়ান

সেদিন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, আর তোমরা দলে দলে আসবে, তাইসিরুল

সেদিন শিঙ্গায় ফুৎকার দেয়া হবে এবং তোমরা দলে দলে সমাগত হবে, মুজিবুর রহমান

The Day the Horn is blown and you will come forth in multitudes Sahih International

১৮. সেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে তখন তোমরা দলে দলে আসবে(১),

(১) অন্যান্য আয়াত থেকে জানা যায় যে, দু’বার শিংগায় ফুৎকার দেয়া হবে। প্রথম ফুৎকারের সাথে সাথে সমগ্ৰ বিশ্ব ধ্বংস প্রাপ্ত হবে এবং দ্বিতীয় ফুৎকারের সাথে সাথে পুনরায় জীবিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে। এ সময় বিশ্বের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব মনুষ দলে দলে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হবে। এ স্থানে শিংগার দ্বিতীয় ফুঁকের কথা বলা হয়েছে। এর আওয়াজ বুলন্দ হবার সাথে সাথেই প্রথম থেকে শেষ- সমস্ত মরা মানুষ অকস্মাৎ জেগে উঠবে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮। সে দিন শিংগায় ফুৎকার দেওয়া হবে অতঃপর তোমরা দলে দলে সমাগত হবে। [1]

[1] কেউ কেউ এর ভাবার্থ এটাও বলেছেন যে, প্রত্যেক উম্মত নিজের রসূলের সাথে কিয়ামতের দিন উপস্থিত হবে। এটা হবে দ্বিতীয় ফুৎকারের সময়, যখন সমস্ত মানুষ কবর থেকে জীবিত হয়ে বের হয়ে আসবে। আল্লাহ তাআলা আসমান হতে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। যাতে মানুষ উদ্ভিদের ন্যায় উদগত হবে। মানুষের মেরুদন্ডের (নিম্নভাগে) শেষাংশের হাড় ব্যতীত দেহের সব কিছু মাটিতে বিনষ্ট হয়ে যাবে। ঐ হাড় দ্বারা কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টিকে পুনর্বার গঠন করা হবে।

(সহীহ বুখারী সূরা নাবার ব্যাখ্যা পরিচ্ছেদ)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ১৯ وَّ فُتِحَتِ السَّمَآءُ فَكَانَتۡ اَبۡوَابًا ﴿ۙ۱۹﴾

আর আসমান খুলে দেয়া হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বারবিশিষ্ট। আল-বায়ান

আকাশ খুলে দেয়া হবে আর তাতে হবে অনেক দরজা। তাইসিরুল

আকাশকে উন্মুক্ত করা হবে, ফলে ওটা হয়ে যাবে বহু দ্বারবিশিষ্ট। মুজিবুর রহমান

And the heaven is opened and will become gateways Sahih International

১৯. আর আকাশ উন্মুক্ত করা হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বারবিশিষ্ট।(১)

(১) “আকাশ খুলে দেয়া হবে” এর মানে এটাও হতে পারে যে, ঊর্ধ্বজগতে কোন বাধা ও বন্ধন থাকবে না। আসমানে বিভিন্ন দরজা তৈরি হয়ে সেগুলো হতে সবদিক থেকে ফেরেশতারা নেমে আসতে থাকবে। [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯। আকাশকে উন্মুক্ত করা হবে, ফলে তা হবে বহু দ্বার বিশিষ্ট।[1]

[1] অর্থাৎ, ফিরিশতাগণের জন্য অবতরণের পথ হয়ে যাবে। এবং তাঁরা পৃথিবীতে অবতরণ করবেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৮ : ২০ وَّ سُیِّرَتِ الۡجِبَالُ فَكَانَتۡ سَرَابًا ﴿ؕ۲۰﴾

আর পর্বতসমূহকে চলমান করা হবে, ফলে সেগুলো মরীচিকা হয়ে যাবে। আল-বায়ান

আর পর্বতগুলোকে করা হবে চলমান, ফলে তা নিছক মরীচিকায় পরিণত হবে। তাইসিরুল

এবং সঞ্চালিত করা হবে পর্বতসমূহকে, ফলে সেগুলি হয়ে যাবে মরীচিকা বৎ। মুজিবুর রহমান

And the mountains are removed and will be [but] a mirage. Sahih International

২০. আর চলমান করা হবে পর্বতসমূহকে, ফলে সেগুলো হয়ে যাবে মরীচিকা(১),

(১) পাহাড়ের চলার ও মরীচিকায় পরিণত হবার মানে হচ্ছে, দেখতে দেখতে মুহুর্তের মধ্যে পর্বতমালা স্থানচ্যুত হয়ে যাবে। তারপর ভেঙ্গে চুৰ্ণবিচূর্ণ হয়ে এমনভাবে মরীচিকার মতো ছড়িয়ে পড়বে যে, মনে হবে সেখানে কিছু আছে, কিন্তু কিছু নেই। এর পরই যেখানে একটু আগে বিশাল পর্বত ছিল সেখানে আর কিছুই থাকবে না। এ অবস্থাকে অন্যত্র বলা হয়েছেঃ “এরা আপনাকে জিজ্ঞেস করছে, সেদিন এ পাহাড় কোথায় চলে যাবে? এদের বলে দিন, আমার রব তাদেরকে ধূলোয় পরিণত করে বাতাসে উড়িয়ে দেবেন এবং যমীনকে এমন একটি সমতল প্রান্তরে পরিণত করে দেবেন যে, তার মধ্যে কোথাও একটুও অসমতল ও উঁচু-নীচু জায়গা এবং সামন্যতম ভাজও দেখতে পাবে না।” [সূরা ত্বা-হা: ১০৫–১০৭] [ইবন কাসীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

২০। এবং চালিত করা হবে পর্বতসমূহকে, ফলে তা মরীচিকায় পরিণত হবে। [1]

[1] سراب (মরীচিকা) সেই বালিরাশিকে বলা হয়, যা (রোদের তাপে) দূর হতে পানি মনে হয়। পাহাড়ও মরীচিকার মত কেবল দূর হতে দৃশ্যমান বস্তুতে পরিণত হয়ে যাবে। আর তারপরই তা একেবারেই নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। তার কোন চিহ্ন পর্যন্ত বাকী থাকবে না। কেউ কেউ বলেছেন যে, কুরআনে (কিয়ামতের দিন) পাহাড়ের নানান ধরণের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে, যাদের মাঝে সমন্বয়ের পথ হল এই যে, (১) প্রথমে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে। فدكتا دكة واحدة (সূরা হাক্ক্বাহ ১৪ আয়াত) (২) তারপর তা ধূনিত রঙ্গীন পশমের মত হয়ে যাবে। كالعهن المنفوش (সূরা ক্বারিআহ ৫ আয়াত) (৩) তারপর তা হবে উৎক্ষিপ্ত ধূলিকণার মত। فكانت هباء منبثا (ওয়াক্বিআহ ৬আয়াত) (৪) তারপর তা উড়িয়ে দেওয়া হবে। ينسفها ربي نسفًا (সূরা ত্বাহা ১০৫ আয়াত) আর পঞ্চম অবস্থায় তা سراب মরীচিকার মত অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে; যেমন এখানে বলা হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন