সূরাঃ ৭৭/ আল-মুরসালাত | Al-Mursalat | ٱلْمُرْسَلَات আয়াতঃ ৫০ মাক্কী
তাফসীরে জাকারিয়া

সূরা সম্পর্কেঃ

আবদুল্লাহ ইবনে-মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমরা এক গুহায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে উপস্থিত ছিলাম ইত্যবসরে সূরা মুরাসালাত অবতীর্ণ হল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরাটি আবৃত্তি করলেন আর আমি তা শুনে মুখস্থ করলাম। সূরার মিষ্টতায় তার মুখমন্ডল সতেজ দেখাচ্ছিল। হঠাৎ একটি সাপ আমাদের উপর আক্রমণোদ্যত হলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। আমরা সাপের দিকে অগ্রসর হলাম, কিন্তু তা পালিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা যেমন তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হয়েছ, তেমনি সেও তোমাদের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ হয়েছে। [বুখারী: ৩৩১৭, মুসলিম: ২২৩৪]

আহসানুল বায়ান

সূরা আল-মুরসালাত [1]

(মক্কায় অবতীর্ণ)
[1] এটি মাক্কী সূরা। যেমন, বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে; ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, আমরা নবী (সাঃ)-এর সাথে মিনায় একটি গুহায় ছিলাম। এ সময় রসূল (সাঃ)-এর উপর সূরা মুরসালাত অবতীর্ণ হয়। তিনি সূরাটি পাঠ করছিলেন আর আমি তাঁর কাছ থেকে তা গ্রহণ করছিলাম। হঠাৎ করে সেখানে একটি সাপ এসে গেল। তিনি বললেন, তোমরা ওকে মেরে ফেল। কিন্তু সে (সাপটি) দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেল। তিনি বললেন, ‘‘তোমরা তার অনিষ্ট থেকে এবং সে তোমাদের অনিষ্ট হতে বেঁচে গেল।’’ (বুখারীঃ সূরা মুরসালাত এর তফসীর, মুসলিমঃ সাপ প্রভৃতি মারার অধ্যায়।) নবী (সাঃ) কখনো কখনো মাগরিবের নামাযেও এই সূরা পাঠ করেছেন। (বুখারীঃ আযান অধ্যায়, মাগরিবে ক্বিরাআত পড়ার পরিচ্ছেদ, মুসলিমঃ নামায অধ্যায়, ফজরে ক্বিরাআত পাঠ করার পরিচ্ছেদ)

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
৭৭ : ১ وَ الۡمُرۡسَلٰتِ عُرۡفًا ۙ﴿۱﴾
و المرسلت عرفا ﴿۱﴾

কসম কল্যাণের উদ্দেশ্যে প্রেরিত বাতাসের, আল-বায়ান

পর পর পাঠানো বাতাসের শপথ যা উপকার সাধন করে, তাইসিরুল

শপথ কল্যাণ স্বরূপ প্রেরিত বায়ুর; মুজিবুর রহমান

By those [winds] sent forth in gusts Sahih International

১. শপথ কল্যাণস্বরূপ প্রেরিত বায়ুর,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১) শপথ কল্যাণ স্বরূপ প্রেরিত অবিরাম বায়ুর। [1]

[1] এই অর্থের দিক দিয়ে عُرْفًا এর মানে হবে অবিরাম। কেউ কেউ مُرْسَلاَتٌ থেকে ফিরিশতা অথবা আম্বিয়া অর্থ নিয়েছেন। এই ক্ষেত্রে عُرْفًا এর অর্থ হবে আল্লাহর অহী বা শরীয়তের বিধি-বিধান। আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী এটা হল ‘মাফউল লাহু’ অর্থাৎ, لأَجْلِ الْعُرْفِ অথবা ‘যের’ দানকারী হরফকে বাদ দেওয়ার কারণে তাতে ‘যবর’ হয়েছে; আসলে ছিল بِالْعُرْفِ

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ২ فَالۡعٰصِفٰتِ عَصۡفًا ۙ﴿۲﴾
فالعصفت عصفا ﴿۲﴾

আর প্রচন্ড বেগে প্রবাহিত ঝঞ্ঝার। আল-বায়ান

অতঃপর তা প্রচন্ড ঝড়ের বেগে বইতে থাকে, তাইসিরুল

আর প্রলয়ঙ্করী ঝটিকার; মুজিবুর রহমান

And the winds that blow violently Sahih International

২. অতঃপর প্রলয়ংকরী ঝটিকার,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২) আর প্রলয়ঙ্করী ঝটিকার, [1]

[1] অথবা সেই ফিরিশতাদেরকে বুঝানো হয়েছে, যাদেরকে কোন কোন সময় ঝড়ের আযাবের সাথে প্রেরণ করা হয়।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৩ وَّ النّٰشِرٰتِ نَشۡرًا ۙ﴿۳﴾
و النشرت نشرا ﴿۳﴾

কসম মেঘমালা ও বৃষ্টি বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর, আল-বায়ান

শপথ সেই বায়ুর যা (মেঘমালাকে) ছড়িয়ে দেয় দূর দূরান্তে, তাইসিরুল

শপথ সঞ্চালনকারী বায়ুর; মুজিবুর রহমান

And [by] the winds that spread [clouds] Sahih International

৩. শপথ প্রচণ্ড সঞ্চালনকারীর,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৩) শপথ মেঘমালা-সঞ্চালনকারী বায়ুর। [1]

[1] অথবা সেই ফিরিশতাদের শপথ! যারা মেঘমালা বিস্তৃত করে কিংবা যারা মহাশূন্যে নিজেদের ডানা প্রসারিত করে। তবে ইমাম ইবনে কাসীর (রঃ) এবং ইমাম ত্বাবারী (রঃ) (المرسَلات، العاصِفَات، الناشِرات) এই তিন শব্দ থেকে হাওয়া অর্থ নেওয়াকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তরজমাতেও এই অর্থই করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৪ فَالۡفٰرِقٰتِ فَرۡقًا ۙ﴿۴﴾
فالفرقت فرقا ﴿۴﴾

আর সুস্পষ্টরূপে পার্থক্যকারীর (আল-কুরআনের আয়াতের)। আল-বায়ান

আর বিচ্ছিন্নকারী বাতাসের শপথ যা (মেঘমালাকে) বিচ্ছিন্ন করে, তাইসিরুল

আর মেঘপুঞ্জ বিচ্ছিন্নকারী বায়ুর। মুজিবুর রহমান

And those [angels] who bring criterion Sahih International

৪. অতঃপর সুস্পষ্টরূপে পার্থক্যকারীর,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৪) শপথ মেঘমালা-বিক্ষিপ্তকারী বায়ুর, [1]

[1] অথবা সেই ফিরিশতাদের কসম! যারা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যসূচক যাবতীয় বিধি-বিধান নিয়ে অবতরণ করে। অথবা উদ্দেশ্য কুরআনের আয়াতসমূহ; যার দ্বারা সত্য ও মিথ্যা এবং হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্য সূচিত হয়। কিংবা রসূল (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে, যিনি আল্লাহর অহীর মাধ্যমে হক ও বাতিলের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট করেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৫ فَالۡمُلۡقِیٰتِ ذِكۡرًا ۙ﴿۵﴾
فالملقیت ذكرا ﴿۵﴾

অতঃপর কসম, উপদেশগ্রন্থ আনয়নকারী (ফেরেশতাদের), আল-বায়ান

অতঃপর (মানুষের অন্তরে) পৌঁছে দেয় (আল্লাহর) স্মরণ, তাইসিরুল

এবং তার, যে মানুষের অন্তরে পৌঁছে দেয় উপদেশ – মুজিবুর রহমান

And those [angels] who deliver a message Sahih International

৫. অতঃপর তাদের, যারা মানুষের অন্তরে পৌছে দেয় উপদেশ—(১)

(১) এই সূরার প্রথমে আল্লাহ্ তা'আলা পাঁচটি বস্তুর শপথ করে কেয়ামতের নিশ্চিত আগমনের কথা ব্যক্ত করেছেন। যে পাঁচটি জিনিসের শপথ করা হয়েছে কুরআনুল কারাম সেগুলোকে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেনি, বরং সেগুলোর নামের পরিবর্তে পাঁচটি বিশেষণ উল্লেখ করেছে। যেমন বলা হয়েছে, (এক) একের পর এক প্রেরিত বা কল্যাণ হিসেবে প্রেরিত, (দুই) অত্যন্ত দ্রুত এবং প্রচন্ডবেগে প্রবাহিত, (তিন) ভালভাবে বিক্ষিপ্তকারী, (চার) ভালভাবে বিচ্ছিন্নকারী এবং (পাঁচ) স্মরণকে জাগ্রতকারী। লক্ষণীয় যে, এগুলো কোন প্ৰাণী বা বস্তুর বিশেষণ, নাম নয়। কিন্তু এগুলো কার বিশেষণ তা পুরোপুরি নির্দিষ্ট করা হয় নি। তাই এ সম্পর্কে বিভিন্নরূপে তাফসীর বর্ণিত আছে। এক দল বলেন, প্রথম তিনটি দ্বারা বাতাস এবং পরের দুটি দ্বারা ফেরেশতা বুঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর, ফাতহুল কাদীর] অপর এক দল বলেন, প্রথম দুটি দ্বারা বাতাস এবং পরের তিনটি দ্বারা ফেরেশতা বুঝানো হয়েছে। [মুয়াস্‌সার]

তৃতীয় এক দল বলেন, প্রথম তিনটি বিশেষণ দ্বারা বাতাস, চতুর্থটি দ্বারা কুরআন এবং পঞ্চমটি দ্বারা ফেরেশতা বুঝানো হয়েছে। [জালালাইন, আয়সারুত তাফসীর] কেউ কেউ বলেন যে প্রতিটি বিশেষণ দ্বারা ফেরেশতাদের বুঝানো হয়েছে। সম্ভবত ফেরেশতাগণের বিভিন্ন দল এসব বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষিত। [দেখুন: কুরতুবী] তবে ইমাম তাবারী বলেন, প্রথম আয়াত দ্বারা ফেরেশতা বা বাতাস- দুটিই উদ্দেশ্য হতে পারে। দ্বিতীয় আয়তটি দ্বারা প্রবাহিত বাতাস, আর তৃতীয় আয়াতটির মাধ্যমে বাতাস, বৃষ্টি বা ফেরেশতা সবই উদ্দেশ্য হতে পারে। চতুর্থটি দ্বারা যেকোনো সত্য-মিথ্যা পার্থক্যকারী উদ্দেশ্য হতে পারে, চাই তা ফেরেশতা হোক বা কুরআন হোক, বা অন্য কিছু হোক। আর পঞ্চমটির মাধ্যমে ফেরেশতাদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

(৫) শপথ তাদের যারা (মানুষের অন্তরে) উপদেশ পৌঁছিয়ে দেয়।[1]

[1] যাঁরা আল্লাহর কালাম পয়গম্বরদের কাছে পৌঁছান অথবা রসূল যিনি আল্লাহ কর্তৃক নাযিলকৃত অহী তাঁর উম্মতের কাছে পৌঁছিয়ে দেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৬ عُذۡرًا اَوۡ نُذۡرًا ۙ﴿۶﴾
عذرا او نذرا ﴿۶﴾

অজুহাত দূরকারী ও সতর্ককারী। আল-বায়ান

(বিশ্বাসী লোকদেরকে) ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ দেয়ার জন্য আর (কাফিরদেরকে) সতর্ক করার জন্য। তাইসিরুল

অনুশোচনা স্বরূপ অথবা সতর্কতা স্বরূপ। মুজিবুর রহমান

As justification or warning, Sahih International

৬. ওযর-আপত্তি রহিতকরণ ও সতর্ক করার জন্য(১),

(১) এ আয়াতটি আগের আয়াতের সাথে সম্পূক্ত। বলা হয়েছে, যে ফেরেশতারা যে উপদেশ ও ওহী নিয়ে আসে তার মাধ্যমে সৃষ্টির পক্ষ থেকে ওজর পেশ করার সুযোগ বন্ধ করা এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাবের ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্য থাকে। ফাররা বলেন, আল্লাহর পক্ষ থেকে যে উপদেশ-বাণী বা ওহী আসে তা মুমিনদের জন্যে ওযর-আপত্তি রহিত করার কারণ হয় এবং কাফেরদের জন্যে সতর্ককারী হয়ে যায়। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(৬) যা অনুশোচনা স্বরূপ বা সতর্কতা স্বরূপ। [1]

[1] উভয় শব্দই ‘মাফউল লাহু’ (কারণসূচক পদ) لأَجْلِ الإعْذَار والإِنْذارِ অর্থাৎ, ফিরিশতাগণ অহী নিয়ে আসেন যাতে লোকদের উপর হুজ্জত কায়েম হয়ে যায় এবং তারা যেন এই ওজর-আপত্তি করতে না পারে যে, আমাদের কাছে তো কেউ আল্লাহর বার্তা নিয়ে আসেনি। অথবা উদ্দেশ্য তাদেরকে ভয় দেখানো, যারা অস্বীকারকারী ও কাফের। অথবা অর্থ হল, মু’মিনদের জন্য সুসংবাদ, আর কাফেরদের জন্য সতর্ক। ইমাম শওকানী (রঃ) বলেন, مُرْسِلاَتٌ، عَاصِفَاتٌ এবং نَاشِرَاتٌ এর অর্থ বাতাস। আর فَارِقَاتٌ وَمُلْقِيَاتٌ এর অর্থ ফিরিশতা। এটাই প্রাধান্য প্রাপ্ত কথা।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৭ اِنَّمَا تُوۡعَدُوۡنَ لَوَاقِعٌ ؕ﴿۷﴾
انما توعدون لواقع ﴿۷﴾

তোমাদেরকে যা কিছুর ওয়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই ঘটবে। আল-বায়ান

তোমাদেরকে যার ও‘য়াদা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। তাইসিরুল

নিশ্চয়ই তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অবশ্যম্ভাবী। মুজিবুর রহমান

Indeed, what you are promised is to occur. Sahih International

৭. নিশ্চয় তোমাদেরকে যে প্ৰতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অবশ্যম্ভাবী।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৭) নিশ্চয়ই তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে তা অবশ্যম্ভাবী। [1]

[1] শপথ গ্রহণ করার অর্থ হল যে কথার জন্য শপথ গ্রহণ করা হয় সে কথার গুরুত্বকে শ্রোতাদের কাছে স্পষ্ট করা এবং তার সত্যতাকে প্রকাশ করা। এখানে যে কথার জন্য শপথ করা হয়েছে সে কথা (অথবা কসমের জওয়াব) হল, তোমাদের সাথে কিয়ামতের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে তা অবশ্যই সংঘটিত হবে। অর্থাৎ, এতে সন্দেহ করার কিছু নেই, বরং এর জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করার প্রয়োজন আছে। এই কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে পরের আয়াতগুলোতে তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৮ فَاِذَا النُّجُوۡمُ طُمِسَتۡ ۙ﴿۸﴾
فاذا النجوم طمست ﴿۸﴾

যখন তারকারাজি আলোহীন হবে, আল-বায়ান

যখন নক্ষত্ররাজির আলো বিলুপ্ত হবে, তাইসিরুল

যখন নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত হবে, মুজিবুর রহমান

So when the stars are obliterated Sahih International

৮. যখন নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৮) যখন নক্ষত্ররাজির আলো নির্বাপিত হবে। [1]

[1] طَمْسٌ এর অর্থ, মিটে যাওয়া এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া। অর্থাৎ, যখন তারকার জ্যোতি নিঃশেষ হয়ে যাবে; এমন কি তার কোন চিহ্ন পর্যন্ত থাকবে না।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ৯ وَ اِذَا السَّمَآءُ فُرِجَتۡ ۙ﴿۹﴾
و اذا السمآء فرجت ﴿۹﴾

আর আকাশ বিদীর্ণ হবে, আল-বায়ান

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, তাইসিরুল

যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে, মুজিবুর রহমান

And when the heaven is opened Sahih International

৯. আর যখন আকাশ বিদীর্ণ করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(৯) যখন আকাশ বিদীর্ণ হবে।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১০ وَ اِذَا الۡجِبَالُ نُسِفَتۡ ﴿ۙ۱۰﴾
و اذا الجبال نسفت ﴿۱۰﴾

আর যখন পাহাড়গুলি চূর্ণবিচূর্ণ হবে, আল-বায়ান

যখন পবর্তমালা ধুনিত হবে। তাইসিরুল

এবং যখন পর্বতমালা উম্মুলিত ও বিক্ষিপ্ত হবে, মুজিবুর রহমান

And when the mountains are blown away Sahih International

১০. আর যখন পর্বতমালা চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে,

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১০) যখন পর্বতমালা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে উড়িয়ে দেওয়া হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, সেগুলোকে যমীন থেকে উপড়িয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেওয়া হবে এবং তা একেবারে পরিষ্কার ও সমতল হয়ে যাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১১ وَ اِذَا الرُّسُلُ اُقِّتَتۡ ﴿ؕ۱۱﴾
و اذا الرسل اقتت ﴿۱۱﴾

আর যখন রাসূলদেরকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে; আল-বায়ান

যখন (হাশরের মাঠে) রসূলগণের একত্রিত হওয়ার সময় এসে পড়বে। তাইসিরুল

এবং রাসূলগণের নিরূপিত সময় উপস্থিত হবে। মুজিবুর রহমান

And when the messengers' time has come... Sahih International

১১. আর যখন রাসূলগনকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে(১),

(১) এখানে আল্লাহ্ তা'আলার ওয়াদা বা ভীতিপ্ৰদ বিষয়সমূহ বাস্তবায়ন মুহুর্তের কতিপয় ভয়ানক অবস্থা বর্ণনা করে বলেন যে, প্রথমে সব নক্ষত্র জ্যোতিহীন হয়ে যাবে এবং ঝরে যাবে। দ্বিতীয় অবস্থা এই যে, আকাশ বিদীর্ণ হয়ে যাবে। তৃতীয় অবস্থা এই যে, পর্বতসমূহ চুৰ্ণ হয়ে বিক্ষিপ্ত ধূলি-কণা হওয়ার পর নাই হয়ে যাবে। চতুর্থ অবস্থা হলো, নবী-রাসূলগণের জন্যে তাদের ও তাদের উম্মতের মাঝে বিচারের জন্য উপস্থিত হওয়ার যে সময় নিরূপিত হয়েছিল, তারা যখন সে সময়ে পৌছে যাবেন। এবং তাদেরকে জড়ো করা হবে। [মুয়াস্‌সার, সা'দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১১) এবং রসূলগণকে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত করা হবে। [1]

[1] অর্থাৎ, বিচার-ফায়সালার জন্য। তাঁদের বয়ানসমূহ শুনে তাঁদের সম্প্রদায়ের ব্যাপারে ফায়সালা করা হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১২ لِاَیِّ یَوۡمٍ اُجِّلَتۡ ﴿ؕ۱۲﴾
لای یوم اجلت ﴿۱۲﴾

কোন্ দিনের জন্য এসব স্থগিত করা হয়েছিল? আল-বায়ান

(এ সব বিষয়) কোন দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে? তাইসিরুল

এই সমূদয় স্থগিত রাখা হয়েছে কোন দিনের জন্য? মুজিবুর রহমান

For what Day was it postponed? Sahih International

১২. এ-সব স্থগিত রাখা হয়েছে কোন দিনের জন্য?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১২) এই সমুদয় বিলম্বিত করা হয়েছে কোন্ দিবসের জন্য? [1]

[1] এখানে জিজ্ঞাসা মাহাত্ম্য ও বিস্ময় প্রকাশের জন্য। অর্থাৎ, কি মহান দিনের জন্য, ঐ নবীদেরকে একত্রিত হওয়ার সময় বিলম্বিত করা হয়েছে; যেদিনের কঠিনতা এবং ভয়াবহতা মানুষের জন্য বড়ই বিস্ময়কর হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৩ لِیَوۡمِ الۡفَصۡلِ ﴿ۚ۱۳﴾
لیوم الفصل ﴿۱۳﴾

বিচার দিনের জন্য। আল-বায়ান

চূড়ান্ত ফয়সালার দিনের জন্য। তাইসিরুল

বিচার দিনের জন্য। মুজিবুর রহমান

For the Day of Judgement. Sahih International

১৩. বিচার দিনের জন্য।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৩) ফায়সালা দিবসের জন্য। [1]

[1] অর্থাৎ, যেদিন লোকদের মাঝে ফায়সালা করা হবে। সেদিন কেউ যাবে জান্নাতে, আর কেউ যাবে জাহান্নামে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৪ وَ مَاۤ اَدۡرٰىكَ مَا یَوۡمُ الۡفَصۡلِ ﴿ؕ۱۴﴾
و ما ادرىك ما یوم الفصل ﴿۱۴﴾

আর কিসে তোমাকে জানাবে বিচার দিবস কী? আল-বায়ান

সেই চূড়ান্ত ফয়সালার দিনটি কী তা তোমাকে কিসে জানাবে? তাইসিরুল

বিচার দিন সম্বন্ধে তুমি জান কি? মুজিবুর রহমান

And what can make you know what is the Day of Judgement? Sahih International

১৪. আর আপনাকে কিসে জানাবে বিচার দিন কী?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৪) কিসে তোমাকে জানাল, ফায়সালা দিবস কি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৫ وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُكَذِّبِیۡنَ ﴿۱۵﴾
ویل یومئذ للمكذبین ﴿۱۵﴾

মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের দুর্ভোগ! আল-বায়ান

সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য। তাইসিরুল

সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য। মুজিবুর রহমান

Woe, that Day, to the deniers. Sahih International

১৫. সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।(১)

(১) ويل দ্বারা উদ্দেশ্য ধ্বংস, দুর্ভোগ। অর্থাৎ কতই না দুর্ভোগ ও ধ্বংস রয়েছে সেসব লোকের জন্য, যারা সেদিনের আগমনের খবরকে মিথ্যা বলে মনে করেছিল। আল্লাহ তাদেরকে শপথ করে বলেছেন, কিন্তু তারা তা বিশ্বাস করে নি। ফলে তারা কঠোর ও কঠিন শাস্তির যোগ্য হয়ে উঠল। [সা’দী]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৫) সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য। [1]

[1] وَيْلٌ অর্থাৎ, দুর্ভোগ, ধ্বংস। কেউ কেউ বলেন, وَيْلٌ জাহান্নামের একটি উপত্যকার নাম। এই আয়াতটির এই সূরাতে বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। কারণ, প্রত্যেক মিথ্যাবাদীর অপরাধ একে অপর হতে ভিন্ন ধরনের হবে এবং এই হিসাবে আযাবের ধরনও ভিন্ন ভিন্ন হবে। কাজেই এই ‘ওয়াইল’-এরই বিভিন্ন ভাগ রয়েছে, যা ভিন্ন ভিন্ন মিথ্যাবাদীদের জন্য পৃথক পৃথকভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৬ اَلَمۡ نُهۡلِكِ الۡاَوَّلِیۡنَ ﴿ؕ۱۶﴾
الم نهلك الاولین ﴿۱۶﴾

আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি? আল-বায়ান

আমি কি আগেকার লোকেদেরকে ধ্বংস করে দেইনি? তাইসিরুল

আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি? মুজিবুর রহমান

Did We not destroy the former peoples? Sahih International

১৬. আমরা কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৬) আমি কি পূর্ববর্তীদেরকে ধ্বংস করিনি?

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৭ ثُمَّ نُتۡبِعُهُمُ الۡاٰخِرِیۡنَ ﴿۱۷﴾
ثم نتبعهم الاخرین ﴿۱۷﴾

তারপর পরবর্তীদেরকে তাদের অনুসারী বানাই। আল-বায়ান

অতঃপর পরবর্তী লোকেদেরকেও আমি তাদের অনুগামী করব। তাইসিরুল

অতঃপর আমি পরবর্তীদেরকে তাদের অনুগামী করব। মুজিবুর রহমান

Then We will follow them with the later ones. Sahih International

১৭. তারপর আমরা পরবর্তীদেরকে তাদের অনুগামী করব।(১)

(১) এটা আখেরাতের স্বপক্ষে ঐতিহাসিক প্রমাণ। এতে বর্তমান লোকদেরকে অতীত লোকদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্ৰহণ করতে বলা হয়েছে। আদ, সামুদ, কাওমে লুত, কাওমে-ফিরআউন ইত্যাদিকে আল্লাহ ধ্বংস করেছেন। সে ধারাবাহিকতায় মক্কার কাফেরদেরকেও তিনি ধ্বংস করবেন। [দেখুন: তাবারী; ফাতহুল কাদীর] এই আযাব বদর, ওহুদ প্রভৃতি যুদ্ধে তাদের উপর পতিত হয়েছে। আর যদি দুনিয়াতে সে আযাব নাও আসে, আখেরাতে তা অবশ্যই আসবে। [ফাতহুল কাদীর]

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৭) অতঃপর আমি পরবর্তীদেরকে তাদের অনুগামী করব। [1]

[1] অর্থাৎ, মক্কার কাফের এবং তাদের মত যারা রসূল (সাঃ)-কে অবিশ্বাস করেছে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৮ كَذٰلِكَ نَفۡعَلُ بِالۡمُجۡرِمِیۡنَ ﴿۱۸﴾
كذلك نفعل بالمجرمین ﴿۱۸﴾

অপরাধীদের সাথে আমি এমনই করে থাকি। আল-বায়ান

অপরাধীদের প্রতি আমি এরকমই করে থাকি। তাইসিরুল

অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। মুজিবুর রহমান

Thus do We deal with the criminals. Sahih International

১৮. অপরাধীদের প্রতি আমরা এরূপই করে থাকি।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৮) অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। [1]

[1] অর্থাৎ, শাস্তি দিই দুনিয়াতে অথবা আখেরাতে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ১৯ وَیۡلٌ یَّوۡمَئِذٍ لِّلۡمُكَذِّبِیۡنَ ﴿۱۹﴾
ویل یومئذ للمكذبین ﴿۱۹﴾

মিথ্যারোপকারীদের জন্য সেদিনের ধ্বংস! আল-বায়ান

সে দিন দুর্ভোগ সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের জন্য। তাইসিরুল

সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যা আরোপকারীদের জন্য। মুজিবুর রহমান

Woe, that Day, to the deniers. Sahih International

১৯. সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের জন্য।

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(১৯) সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যাজ্ঞানকারীদের জন্য।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
৭৭ : ২০ اَلَمۡ نَخۡلُقۡكُّمۡ مِّنۡ مَّآءٍ مَّهِیۡنٍ ﴿ۙ۲۰﴾
الم نخلقكم من مآء مهین ﴿۲۰﴾

আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি দিয়ে সৃষ্টি করিনি? আল-বায়ান

আমি কি নগণ্য পানি থেকে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিনি? তাইসিরুল

আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি হতে সৃষ্টি করিনি? মুজিবুর রহমান

Did We not create you from a liquid disdained? Sahih International

২০. আমরা কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি হতে সৃষ্টি করিনি?

-

তাফসীরে জাকারিয়া

(২০) আমি কি তোমাদেরকে তুচ্ছ পানি হতে সৃষ্টি করিনি।

-

তাফসীরে আহসানুল বায়ান
তাজউইদ কালার কোড
হামযা ওয়াসল মাদ্দে তাবিঈ ইখফা মাদ্দে ওয়াজিব গুন্নাহ মাদ্দে জায়েয নীরব ইদগাম (গুন্নাহ সহ) ক্বলক্বলাহ লাম শামসিয়্যাহ ইদগাম (গুন্নাহ ছাড়া) ইদগাম শাফাউই ইক্বলাব ইখফা শাফাউই মাদ্দে লাযিম ইদগাম মুতাক্বারিবাইন ইদগাম মুতাজানিসাইন